শপিং মলে ধাক্কা
শপিং মল থেকে বেরোনোর মুখেই সজোরে ধাক্কা মারলো লগ্নজিতা একজন মহিলাকে। মহিলা রীতিমত রেগে বললো, বিচ।
লগ্নজিতা একটুও উত্তেজিত না হয়ে বললো, কিন্তু ম্যাডাম, আপনার হাতটা তুলোর তৈরি আর আমারটা পাথরের এই ধারণা আপনার কোথা থেকে হলো? মানে ধাক্কায় দুজনেরই সমান লেগেছে। মহিলা বিরক্ত হয়ে বললো, ওই জন্যই অন্ধের মত হাঁটাচলা না করে দেখেশুনে হাঁটুন। তাহলে আর আপনারও আঘাত লাগবে না কোথাও। জাস্ট ডিসগাস্টিং।
লগ্নজিতা ফিসফিস করে বললো, এই জন্যই স্বর্ণদীপ বলছিলো, ওই মেয়ের সঙ্গে কেউ সংসার করতে পারলে তাকে লাখ টাকা মুফতে দেব।
মহিলা ঘুরে দাঁড়িয়ে বেশ গলা উঁচিয়ে বললো, এই যে হ্যালো…আপনি আমায় চেনেন? স্বর্ণদীপ আপনার কে হয়? আপনি ওর গার্লফ্রেন্ড? বর্ণিতার ভূত মাথা থেকে নেমেছে যাহোক।
লগ্নজিতা এ সুযোগ হাতছাড়া না করে বললো, বর্ণিতা? সেটা কে? ও মাই গড। আমি তো জানতাম ওর এক্স ওয়াইফের নাম মনীষা। আর সেটা আপনি। আমি ওর বাড়িতে আপনার ছবি দেখেছি।
মনীষা ভনিতা না করেই বললো, আসুন। এককাপ কফি খাবেন আমার সঙ্গে। আর নিজের ভবিষ্যৎটাও জেনে নেবেন। একটু ইতস্তত ভঙ্গিমায় লগ্নজিতা বললো, প্লিজ, স্বর্ণদীপের সম্পর্কে নেগেটিভ কিছু বলবেন না। আমার কষ্ট হবে।
মনীষা মুচকি হেসে বললো, আপনার ফিঁয়াসের টপ টু বটম পজেটিভে মোড়া। নেগেটিভ বলে কিছু নেই ওর চরিত্রে। আসুন আসুন।
লগ্নজিতা মলের আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নিলো। ঠোঁটের পিঙ্ক লিপস্টিকটাতে ওকে বেশ নেকুপুশু প্রেমিকা লাগছে। লিপস্টিকটা বহুদিন ব্যবহারই করা হয়নি। ইয়েলো টপ আর ব্লু জিন্সে ও এখন মনীষার মনে হিংসা ধরাতে সক্ষম।
কফির কাপে চুমুক দেবার আগে পর্যন্ত মনীষা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো লগ্নজিতার দিকে।
কোনো কথা না বলে মাপছিলো ওকে। নিজের মোবাইলটা ঘাঁটতে ঘাঁটতেও ওর সিক্সথ সেন্স জানান দিচ্ছিলো, মনীষা এখন দুলছে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলনায়।
কফিতে অল্প সুগার মিশিয়ে কপার কালারের লিপস্টিকরঞ্জিত ঠোঁটে ঠেকালো মনীষা। তারপর কাপটা টেবিলে নামিয়ে রেখে বললো, আপনার নামটা যেন কি?
লগ্নজিতা ইচ্ছে করেই নিজের নামটা আড়ালে রেখে বললো, ঝিনুক।
মনীষা মুচকি হেসে বললো, আপনার বয়ফ্রেন্ড আপনাকে আদর করার সময় বর্নি বলে চেঁচায়?
মানে ধরুন নীলাভ আলোয় আলোকিত ঘর। খুব কাছাকাছি আপনারা, তখন আপনার স্বর্ণদীপ আপনাকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে ওঠে, বর্নি লাভ ইউ। অথবা বর্ণিতার সঙ্গে দেখা হওয়ার মুহূর্তে আপনাকে অবজ্ঞায় পিছনে ফেলে এগিয়ে যায় মোহাবিষ্ট হয়ে?
লগ্নজিতা কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো, সেকি এমন করে নাকি ও!
মনীষা মুচকি হেসে বললো, আমি মিস্টার অব্যয় বিশ্বাসের দুটো ছবি কিনে একবার দেওয়ালে টাঙিয়ে ছিলাম। ওরই বন্ধু গুঞ্জার বুটিক থেকে কিনে এনেছিলাম। গুঞ্জা বলেছিলো, ওদের ব্যাচের সব থেকে ভালো শিল্পী হলো অব্যয়। গোটা চারেক ছবি নাকি অব্যয় ওকে বাজার মূল্য যাচাই করার জন্যই দিয়ে গিয়েছিলো। সেই ছবি দুটো টাঙিয়েছিলাম ড্রয়িংয়ে। আপনার প্রেমিক যেমনি শুনেছিলো ওটা প্রফেসর অব্যয় বিশ্বাসের আঁকা অমনি সেগুলোকে অসহ্য আক্রোশে মাটিতে ফেলে ফ্রেম ভেঙে দিয়েছিলো। কারণটা আমি জানতাম না। শেষে ওদের ব্যাচের কুণালই আমায় বলেছিলো, বর্ণিতা নাকি অব্যয়কে পাগলের মত ভালোবাসে, তাই স্বর্ণদীপের মারাত্মক রাগ ওর ওপরে। আসলে কি জানেন মিস ঝিনুক, স্বর্ণদীপ বর্ণিতাকে পাওয়ার জন্য সব করতে পারে। অব্যয়কে খুন করতেও ওর হাত কাঁপবে না। আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন তাহলে আমি কি করে ওর বিবাহিতা স্ত্রী হয়েছিলাম অথবা আপনিই বা কি করে ওর বর্তমান প্রেমিকা হলেন তাই তো? লগ্নজিতা ঘাড় নেড়ে বললো, হ্যাঁ সেটাই। তাহলে ও কেন বর্ণিতাকে প্রোপোজ করলো না? কেন আমি?
মনীষা উদাস চোখে বললো, বর্ণিতা ওর হবে না এটা ও জানতো। তাই একাকিত্বের শিকার যাতে না হয় সেই জন্যই আমি এসেছিলাম ওর জীবনে। কিন্তু যখনই উপলব্ধি করলাম, ও আমার মধ্যে বর্ণিতাকে খুঁজছে তখন নিজেকে ভীষণ রকমের অবহেলিত, অপমানিত মনে হয়েছিলো। তাই বাধ্য হয়েছিলাম ডিভোর্স করতে। সবকিছুর তো আর ভাগ চলে না বলুন! মনীষার গলায় হালকা আক্ষেপের সুর। লগ্নজিতা বললো, তার মানে আপনি বলতে চাইছেন, বর্ণিতার চোখে যদি অব্যয় ছোট হয়ে যায় তাহলে লাভ স্বর্ণদীপের। তাই তো?
মনীষা বললো, হ্যাঁ সে তো লাভই। তাহলে ও বর্ণিতাকে আপন করে নিতে পারবে। তবে অব্যয়ের যা পার্সোনালিটি অন্তত আমি যেটুকু দেখেছি সে জায়গায় স্বর্ণদীপ কিছুই না। তাই বর্ণিতার চোখে অব্যয়ের ছোট হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া অব্যয় যে রংতুলির প্রেমে পাগল এটাও বর্ণিতা জানে। তারপরেও যখন এতো বছর ওকে ভালোবেসে গেছে তখন এই পরিণত বয়সে এসে অব্যয়কে খারাপ ভাববে এমন কোনো ঘটনা ঘটবে না বলেই আমার বিশ্বাস। তবে আমি আপনাকে একটা দিনের কথা বলতে পারি।
আমাদের বিয়ের মাসখানেক পরের ঘটনা। বন্ধুদের নিয়ে একটা গেট টুগেদার করার প্ল্যান করেছিলো গুঞ্জা। গুঞ্জা মেয়েটা বোধহয় একটু হুল্লোড়ে। তাই আমাদের সকলকে ও ইনভাইট করেছিলো ওদের অ্যানিভার্সারি উপলক্ষ্যে। সেখানে অব্যয় আর বর্ণিতাও উপস্থিত ছিলো। স্বর্ণদীপ চোখের পলক না ফেলে দেখে যাচ্ছিলো বর্ণিতাকে। হঠাৎই অব্যয় এসে ওর কানের কাছে বলেছিলো, পাশে তোর সুন্দরী বিবাহিতা স্ত্রী। এবার তো বর্নিকে নির্লজ্জের মত দেখা ছাড়। স্বর্ণদীপ দাঁতে দাঁত চেপে বলেছিলো, তোর উড়ে উড়ে মধু খাওয়ার স্বভাবটা যেদিন বর্নি বুঝবে সেদিন সব থেকে ঘৃণা তোকেই করবে।
অব্যয় বলেছিলো, সেদিন বর্ণিতা কি করবে রে, তোর কাছে চলে যাবে? আর গেলেই বা তোর কি বস, তুই তো বিবাহিত। স্বর্ণদীপ চোখ লাল করে বলেছিলো, যদি কোনোদিন বর্নি আমার সামনে এসে দাঁড়ায় সেদিন আমি আমার পৃথিবী ছেড়ে দেবে।
বিশ্বাস করুন, ওই পার্টিতে আমি আর স্বাভাবিক হতে পারিনি কারোর সঙ্গে। বুকের মধ্যে অপমানবোধ ক্রমাগত রক্তক্ষরণ করেই চলছিলো। অব্যয় বোধহয় কিছু বুঝতে পেরেছিলো। তাই আচমকা বলেছিলো, স্বর্ণদীপটা আর মানুষ হলো না, বুনো ষাঁড়ের মত এক দিকে ছুটে গেলো জীবনটায়। এবারে যদি মনীষার মত একজনকে পেয়ে একটু পাল্টায়। আমি অব্যয়ের দিকে তাকিয়ে চুপিচুপি বলেছিলাম, বর্ণিতা এখনও অবিবাহিত বলেই বোধহয় এ সমস্যার সূত্রপাত হচ্ছে, তাই না অব্যয়দা? অব্যয় হেসে বলেছিলো, মনের দোরগোড়ায় চাবি দেওয়া যায় না বলেই এ সমস্যা চিরকালীন।
লগ্নজিতার খুব ইচ্ছে করছিলো এই অব্যয় নামক লোকটির সঙ্গে পরিচিত হতে। এর মধ্যে কি এমন আছে যে মেয়েরা এর পার্সোনালিটিতে আকৃষ্ট হয়ে যায়। জেমস বন্ড যে নয় সেটা ওর ছবি দেখে আন্দাজ করে নিয়েছে লগ্নজিতা। তাহলে রহস্যটা কোথায় লুকিয়ে আছে!
মনীষা আলতো গলায় বললো, স্বর্ণদীপের মধ্যে নেগেটিভ পয়েন্ট একটাই আছে। ও জানতো ও বর্ণিতাকে ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসতে পারবে না। তারপরেও অকারণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাকি মানুষ হিসাবে স্বর্ণদীপ খারাপ নয়। কফির বিলটা টেবিলের ওপর রেখে উঠে দাঁড়ালো মনীষা। লগ্নজিতা বললো, আপনি আজ আমার যা উপকার করলেন আমি কৃতজ্ঞ থাকবো। মনীষা বললো, শুধু স্বর্ণদীপ নয় আমিও চ্যালেঞ্জ করলাম, বর্ণিতা ছাড়া অন্য কারোর সঙ্গে যদি ও হ্যাপি ফ্যামিলি লাইফ কাটায় তাহলে আমিও তাকে মুফতে একলাখ দেবো। মুচকি হেসে এগিয়ে গেলো মনীষা।
লগ্নজিতা নিজের মনেই বললো, তার মানে লাবণ্য খুনের পিছনে স্বচ্ছন্দে স্বর্ণদীপের নাম উঠে আসতেই পারে। তার একমাত্র কারণ বর্ণিতার চোখে অব্যয়কে খুনি, চরিত্রহীন প্রমাণ করে দেওয়া।
.
হ্যাঁ মিস বর্ণিতা আমি প্রায় এসে গেছি, আপনি আর দু-মিনিট ওয়েট করুন আমি ঢুকছি।
ফোনটা কেটে দিয়ে গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিলো ও।
বর্ণিতার সঙ্গে ওর সন্ধেতে মিটিং আছে সেটা মাথায় রেখেই মনীষার সঙ্গে আলোচনা শেষ করেছিলো ও। শপিং মলে মনীষার সঙ্গে ধাক্কাটা যে আচমকা বা আকস্মিক ছিলো না সেটা শুধু লগ্নজিতাই জানে।
.
কাঁচের ভিতর দিয়েই দেখতে পেলো বর্ণিতা একটা টেবিলে বসে রয়েছে অন্যমনস্ক ভাবে।
লগ্নজিতাকে দেখেই বললো, আজকে ইউনিফর্ম পরেননি? যাক বেঁচে গেছি। নাহলে লোকজন ভাবতো পুলিশের সঙ্গে ক্যাফেতে বসে কি করছি?
জোর করে হাসার চেষ্টা করলো বর্ণিতা। কিছু একটা লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ও। আলতো করে বললো, অফিসার আপনাকে কিন্তু দেখতেও বেশ মিষ্টি। লগ্নজিতা মুচকি হেসে বললো, আমার মাও বলে। তাই তাড়াতাড়ি বিয়েও দিয়ে দিতে চায়।
বর্ণিতা হেসে বললো, তো করছেন না?
লগ্নজিতা ওয়েটারকে ডেকে স্ন্যাক্স আর কফির অর্ডার দিয়ে বললো, না কারোর জন্য তপস্যায় বসিনি। আমার সে ধৈর্য্যও নেই, আর অন্যকে এতোটা গুরুত্ব দেবার ইচ্ছেও নেই। আমি শুধু ভালোবাসা শব্দটাকে আর বিশ্বাস করতে পারি না। তাই আপাতত মাকে ঠেকিয়ে রেখেছি।
নিজের ঢাউস ব্যাগ থেকে লাবণ্যের আঁকা কয়েকটা ছবি বের করে টেবিলে নামাতেই বর্ণিতা ঝুঁকে পড়লো, ফিসফিস করে বললো, এগুলো লাবণ্যের আঁকা, আপনি শিওর?
লগ্নজিতা দৃঢ়তার সঙ্গে বললো, নিজের কাজের ওপরে আমার এটুকু বিশ্বাস আছে ম্যাডাম। লাবণ্যের নিজস্ব ফাইল থেকে এনেছি এগুলো, ওর আঁকা। ও বাড়ির গোপালদাও বললো, লাবণ্য নাকি দারুণ আঁকতো। শিল্পী রাধারমণ মুখুজ্জের কাছে আঁকা শিখতেও যেত নিয়মিত।
বর্ণিতা চমকে উঠে বললো, কার কাছে?
লগ্নজিতা রিপিট করলো খুব ধীরে ধীরে, ভদ্রলোকও রানীভবনের ভাড়াটে। লাবণ্য এনার মডেল ছিলো। ভদ্রলোক জাত শিল্পী। এর কাছেই লাবণ্য আঁকা শিখতো।
বর্ণিতা বললো, ইনি ভালো চারকোলের কাজ করেন। একেই হন্যে হয়ে খুঁজছিলো অব্যয়। একদিন এরই সঙ্গে দেখা হয়ে গিয়েছিলো ওর। সেদিন আমায় মেসেজ করেছিলো, বর্ণিতা, আজ এক স্বপ্নপূরণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলাম। রাধারমণ মুখুজ্জের কাছে চারকোল দিয়ে আঁকার কায়দা রপ্ত করবো আজ থেকে। ওকে খুঁজে পেয়ে গেছি।
কথাটা বলেই বর্ণিতা মুখ নিচু করলো। নরম গলায় বললো, আসলে অব্যয়ের মেসেজগুলো আমি বারংবার পড়ি তো, তাই মুখস্ত হয়ে গেছে। তার মানে এই আর্টিস্টের খোঁজেই অব্যয় প্রথম রানীভবনে ঢুকেছিলো। তারপর হয়তো লাবণ্যের সঙ্গে পরিচয় হয়। লাবণ্য ভালো ছবি আঁকতে পারে, তাই অব্যয়ের সঙ্গে ওর বন্ধুত্ব হয়। খুব সিম্পল, অফিসার। আপনারা অকারণেই বিষয়টিকে জটিল করছেন।
লগ্নজিতা বললো, ম্যাডাম বিষয়টা জটিলই। অব্যয়কে খুঁজে পেলে লাবণ্যর সম্পর্কে আরেকটু জানা সম্ভব, আর তখনই বুঝতে পারবো পোস্টমর্টেম রিপোর্টের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাবার বিষয়টা খুন না আত্মহত্যা! বর্ণিতা আবারও খুঁটিয়ে দেখলো ছবিগুলো। তারপর বললো, লাবণ্য সত্যিই জাত শিল্পী, নাহলে অব্যয়ের চোখ আটকে যেত না।
লগ্নজিতা চিকেন নাগেটসে কামড় দিয়ে বললো, আজ দুপুরে তো অব্যয় আপনাকে মেসেজ করেছে তাই না? কোথায় আছে এখন?
বর্ণিতা লগ্নজিতার দিকে তাকিয়ে বললো, আপনি কি করে জানলেন?
লগ্নজিতা আলতো গলায় বললো, কফিটা খান, ঠান্ডা হয়ে যাবে।
একটা কথা বলবো মিস বর্ণিতা? এই লাবণ্য মার্ডার কেসে আমি যতজনের সঙ্গে মিট করেছি আমার সব থেকে ভালো লেগেছে আপনাকে।
কেন জানেন? কারণ আপনি অন্যদের মত মিথ্যে বলতে অভ্যস্ত নন। অথচ অব্যয়ের যাতে বিপদ না হয় তাই বেশ কিছু সত্যিকে কষ্ট করে চেপে রাখছেন। আপনার এই মুহূর্তে ইচ্ছে করছে সবটুকু সত্যি উজাড় করে দিতে কিন্তু ভাবছেন, আপনার দ্বারা অব্যয়ের কোনো ক্ষতি হবে না তো! যদি নিজের অজান্তেই অব্যয়ের কোনো ক্ষতি করে ফেলেন তাহলে নিজেকেই ক্ষমা করা মুস্কিল হয়ে যাবে। কি করে পারেন মিস বর্ণিতা, এভাবে একজনকে ভালোবাসতে? এতগুলো বছর ধরে! বিশেষ করে ও তরফ থেকে যখন আপনাদের সম্পর্কের বরফে সামান্য উষ্ণতাও পৌঁছায়নি।
বর্ণিতা কোনো ভনিতা না করেই বললো, অব্যয় বনপলাশীর ‘জংলী’ রিসর্টে আছে। ও খুব ভীত এখন। ও জানে আপনি ওকে খুঁজছেন। ওরও কিছু কথা বলার আছে আপনাকে। কিন্তু সম্মুখীন হতে ভয় পাচ্ছে। লগ্নজিতা একটু ভেবে বললো, বর্ণিতা চলুন কাল ভোরে আমরা রওনা হই বনপলাশীতে। কোনো পুলিশ ফোর্স নিয়ে নয়। আমি আর আপনি ঘুরতে যাচ্ছি। যাবেন?
বর্ণিতা কৃতজ্ঞতার স্বরে বললো, আরেকটা কথা বলার আছে আপনাকে।
লগ্নজিতা ঘাড় নেড়ে বললো, নিশ্চিন্তে বলুন। আপনার অব্যয় যদি সত্যিই কোনো দোষ না করে ওর কোনো ক্ষতি হোক আমি চাইবো না। আমি শুধু সত্য উৎঘাটন করি বর্ণিতা। মিথ্যে করে একজন কাউকে ফাঁসিয়ে দিয়ে খুনি সাব্যস্ত করে বাহবা কুড়াই না। এটা আমার কাজের টেকনিক নয়।
.
বর্ণিতা যেটা বললো, সেটা শুনে আবারও নতুন করে ভাবতে বসতে হচ্ছে লগ্নজিতাকে। আর বনপলাশী যাওয়াটা ভীষণ রকমের জরুরি হয়ে পড়েছে।
বর্ণিতার চোখে মুখে দুশ্চিন্তা। বললো, এটা আমার বন্ধুরা কেউ জানে না। ইনফ্যাক্ট অব্যয় কেন এটা করলো আমিও সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছি। যে যাই বলুক, অব্যয় যে সৎ সেটা আমি পরখ করেছি বারবার। তারপরেও কেন যে…..
.
