Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খেলাঘরের ডাকে – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প385 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বেগম সাহেবা রুকসানার আগমন

    মুসাফির যখন সিংহাসনে আরোহণ করেননি তখনই বাদশাহ মিজানুরের ইচ্ছেতেই মুসাফিরের দু দুবার নিকাহ সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের রাজকুমারীর সঙ্গে। মুসাফির নিজে তৃতীয়বার শাদি করলেন ধবলগড়ের বাদশাহ কন্যা রুকসানাকে। রুকসানা অসম্ভব সুন্দরী। সঙ্গে তলোয়ার বিদ্যায় পারদর্শী। রুকসানার সঙ্গে মুসাফিরের পরিচয় নেহাতই কাকতলীয়ভাবে।

    সেদিন পশ্চিমীঝঞ্ঝায় আকাশের রং ঘন ধূসর বর্ণ ধারণ করেছিলো। জঙ্গলের পথ দিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে ফিরছিলেন মুসাফির। বাদশাহ মিজানুরের গোপন সংবাদ নিয়ে গিয়েছিলেন ধবলগড় রাজ্যে। তিনটি রাজ্যের মধ্যে মিত্রতার চুক্তি স্বাক্ষরিত করাই উদ্দেশ্য ছিলো। ধবলগড়ের পাশের রাজ্যের হিন্দু রাজা জয়দেব তখন অভিসন্ধি করে অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। গুপ্তচরের খবর অনুযায়ী ওই অশ্বমেধের ঘোড়া ছেড়ে দেওয়া হবে ধবলগড়, রুদ্রনগর, আর ছত্রিনগরের ওপর দিয়ে। যজ্ঞের নিয়ম অনুযায়ী ওই অশ্বমেধ ঘোড়া যে যে রাজ্যের ওপর দিয়ে বিনা বাধায় পার হবে সেই সেই রাজ্য দখল করবেন রাজা জয়দেব। অশ্বমেধ ঘোড়ার পথ আটক যে রাজ্য করবে সেই রাজা জয়দেবের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হবেন। রাজ্যের পরিধি বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই অভিসন্ধি বলে ধারণা করা হচ্ছিলো।

    এমন সংবাদের পরেই বাদশাহ মিজানুর মিত্রতার বার্তা পাঠিয়েছেন পার্শ্ববর্তী দুই রাজ্যের কাছে। এই বিশেষ কাজের জন্য তিনি অন্য কাউকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেননি, নিজের রক্তকেই বিশ্বাস করেছেন।

    সেই মিত্রতার কাজ সম্পন্ন করে ধবলগড় থেকে রুদ্রনগরের পথ ধরেছিলেন মুসাফির। মুসাফিরের সঙ্গে ছিল গোটা পাঁচেক সৈন্য। সকলেই ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। আচমকা জঙ্গলের মধ্যে একটি নারীকণ্ঠের আর্তনাদ শুনে থমকে দাঁড়িয়েছিলেন মুসাফির সফেদ আরবি ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে। নারীকণ্ঠের উৎস খুঁজে বের করতে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন। সৈন্যরা উত্তেজিত হয়ে বলেছিলো, শাহজাদা এ স্থান সুরক্ষিত নয়। বজ্র-বিদ্যুৎ সহযোগে ঝড়ের তীব্র সম্ভবনা আছে। কিন্তু মুসাফির চিরকালই নিজের মনের কথা শুনেছেন। বাড়তি পরামর্শকে মন থেকে পৃথক করে দিয়ে নিজের পথেই সচল থেকেছেন। তাই সৈন্যদের পরামর্শকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে মুসাফির মশাল প্রজ্জ্বলিত করলেন। মশাল ধরে দুপা এগোতেই দেখলেন হাতে তলোয়ার, পরনে বীরের পোশাক, মাথায় পাগড়ি, অথচ হরিণ কালো দুটো চোখ যন্ত্রণাক্লিষ্ট। মশালের আলো তার মুখে ফেলতেই একটু যেন কেঁপে উঠলেন বীরাঙ্গনা। মুসাফিরের দিকে তাকিয়ে তেজী গলায় বললেন, হত্যা করুন আমায়। তবুও ধবলগড়ের গোপন পথ আমি কোনো কিছুর বিনিময়েও জানাবো না।

    মুসাফির দেখলেন বীরাঙ্গনার হাত দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। হাতের মশালটা সৈন্যদের হাতে সমর্পণ করে বীরাঙ্গনার পাগড়িটা ঝটিকে খুলে নিয়ে লালচে গোলাপি রঙের কাপড় দিয়ে হাতের ক্ষতস্থান বেঁধে দিয়ে বললেন, আপনি কে? আকাশের রং ধূসর থেকে দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে ঘন কালোর দিকে চলছে। এখুনি ঝড় উঠবে। সকলকে এই জঙ্গলে গাছ চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে। তার আগে জানান আপনি কে, আপনাকে গৃহে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা আমি স্বয়ং করছি।

    বীরাঙ্গনা সন্দেহপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, আপনি কি রাজা জয়দেবের গুপ্তচর? মুসাফির স্মিত হেসে বললেন, আমি কে তা বলে আপনার সন্দেহের অবসান করতে না পারায় আমি অত্যন্ত দুঃখিত। তবে এটুকু আমি নিশ্চিতরূপে আশ্বস্ত করতে পারি যে আমার দ্বারা নারী জাতির কোনো ক্ষতিসাধন সম্ভব নয়।

    বীরাঙ্গনা আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন, শীঘ্রই বাম দিকে ঘোড়া চালনা করুন। সামনেই কৃষকদের গ্রাম আছে। একটা আস্তানা জুটে যাবে। ঝড় আসছে তীব্র গতিতে। মুসাফির জানেন না এই একঢাল কেশরাজির অধিকারিণী, চকিত হরিণনয়না কোনো মায়াবিনী কিনা! তবুও ভরসা করতে অন্তর সায় দিলো। বীরাঙ্গনা নিজেই বললেন, দুজন গুপ্ত শত্রুর পশ্চাৎ ধাবন করেই এই জঙ্গলে এসে পৌঁছেছেন তিনি। তাদের তলোয়ারের আঘাতেই হাতের ক্ষত। নিজের ঘোড়াটিকে বেশ কয়েকবার ডাকলেন বীরাঙ্গনা। ঘোড়াটির ডাক দূরে শুনতে পাওয়া গেলেও তার দর্শন পাওয়া গেলো না। অবশেষে মুসাফিরের ঘোড়ায় চড়ে বসলেন বীরাঙ্গনা। মুসাফিরকে নির্দেশের ঢঙে বললেন, বাম দিকে অগ্রসর হন। মুসাফির বিনা বাক্যব্যায়ে মায়াবিনী নারীর দেখানো পথ অনুসরণ করলেন।

    কৃষকদের গ্রামের সীমানায় একটি আশ্রয়খানার সামনে ঘোড়া থেকে নেমে মুসাফিরকে বললেন, আসুন। ভিতরে বিশ্রামের বন্দোবস্ত আছে। বীরাঙ্গনার কথা শেষ হবার আগেই মুঠো মুঠো ধুলো উড়তে লাগলো বাতাসে। সৈন্যসহ মুসাফির দ্রুত আশ্রয়খানায় প্রবেশ করলেন।

    ভিতরের মশালের আলোয় মুসাফির স্পষ্ট দেখতে পেলেন বীরাঙ্গনার ক্ষতস্থান দিয়ে পাগড়ির কাপড় ভেদ করে রক্ত বিন্দু চুঁইয়ে পড়ছে। মুসাফির অপলক তাকিয়ে দেখছিলেন, মেয়েটার গোটা অঙ্গে অলঙ্কারের কোনো লক্ষণ নেই। নিরালঙ্কার কোনো নারী যে এতটা অপরূপা হতে পারে এ যেন চিন্তার অতীত। বেগমমহলের সকলেই সারাবছর প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণালংকার পরিধান করে থাকে। মুসাফিরের দুই বেগমও স্বর্ণখচিত পোশাক ও হিরের অলংকারে ভূষিত থাকে। তাই এমন নিরালঙ্কার নারীকে দেখার সুযোগ মুসাফিরের তেমন হয়নি। বীরাঙ্গনা নিজের তলোয়ারটা কোমরে গুঁজে নিয়ে পাশের কক্ষে গেলেন। বেশ কিছুক্ষণ পরে কিছু খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা করে ফিরে এলেন। মুসাফিরের ক্লান্ত শরীর আকস্মিক জানান দিলো সে সত্যিই ক্ষুদার্থ। সৈন্যরাও ওই খাদ্য গ্রহণ করলো।

    মুসাফির ধীর কণ্ঠে বললেন, আমি একজন চিকিৎসক। আমার কাছে চিকিৎসার সরঞ্জাম বর্তমান। আপনার হাতের ক্ষতটি একবার পরীক্ষা করে দেখতে চাই।

    নিজের কোমর থেকে চামড়ার ঝোলাটা বের করলেন মুসাফির। চিকিৎসার এই প্রাথমিক সরঞ্জাম তাঁর সঙ্গে থাকে সর্বদা। বীরাঙ্গনা নিজেই ক্ষতস্থানের বাঁধা কাপড়টি খুলতে উদ্যত হলে মুসাফির তাকে থামিয়ে দিয়ে বীরাঙ্গনার আহত হাতটি নিজের দিকে টেনে নিলেন।

    ঠোঁটের কোণে স্মিত হাসির রেখা। ক্ষতস্থান থেকে যথেষ্ট রক্তপাত হয়েছে। মুসাফির নিজের ঝোলা থেকে ঔষধের সরঞ্জাম বের করে ঔষধ তৈরি করে লাগিয়ে দিলেন ক্ষতস্থানে। বীরাঙ্গনা এতক্ষণে বললেন, আমার নাম রুকসানা। আপনি একজন চিকিৎসক জেনে খুশি হলাম। মুসাফির জানতে চেয়েছিলেন রুকসানার বাকি পরিচয়। কিন্তু আর কিছুই বলেননি রুকসানা।

    মধ্যরাতের পর ঝড় থেমেছিলো। মুসাফির দেখেছিলেন ঘরের কোণে জড়সড় হয়ে শুয়ে আছে রুকসানা। সম্ভবত ঘুমে অচেতন। বেশ কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নেশা ধরে গিয়েছিল রক্তে। সুডোল দুটো হাত, উদ্ধত স্তন, চিকন লালচে ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে নিজেকে সংযত করে রাখতে পারেননি মুসাফির। একপা দুপা করে এগিয়ে গিয়েছিলেন রুকসানার দিকে।

    কিন্তু ওকে স্পর্শ করার আগের মুহূর্তেই গর্জে উঠেছিলেন রুকসানা। বলে উঠেছিলেন, আর অগ্রসর হবেন না, ধবলগড়ের অতিথিকে আঘাত করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই। নারীর আব্রুকে বেআব্রু করার শাস্তি ধবলগড়ের বাদশাহ একটু জাঁকজমক করেই দিয়ে থাকেন। খ্যাপা ষাঁড় আর বদ্ধভূমিতে নিজেকে আচমকাই আবিষ্কার করেন দোষী।

    মুসাফির চমকে গিয়েছিলেন তেজস্বিনী নারীকে দেখে। মশালের আলোর আভায় তাঁর চোখ দুটো জ্বলছিল। সেখানে একরাশ ঘৃণার প্রতিচ্ছবি দেখে হতোদ্যম হয়েই বসে পড়েছিলেন মুসাফির। বুঝেছিলেন, রুকসানা আর পাঁচজন নারীর মত নয়। সে বৃক্ষকে অবলম্বন করে লতার মত বৃদ্ধি পেতে চায় না।

    রুকসানা আর বিন্দুমাত্র কালক্ষেপ না করেই রাত্রির তৃতীয় যামে আশ্রয়খানা ত্যাগ করেছিলেন। যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিলেন, নারীর অন্তরকে স্পর্শ করুন, শরীর তো বাহ্যিক দুয়ার মাত্র। মুসাফির দেখেছিলেন, রুকসানার চোখের চাহনিতে তখন হারানোর যন্ত্রণা। আর কিছু বোঝার আগেই আশ্রয়খানা ত্যাগ করেছিলেন রুকসানা। বিমর্ষ মুসাফির ফিরে এসেছিলেন রুদ্রনগর রাজ্যে।

    .

    তারপর থেকে মুসাফিরকে মন খারাপ নামক এক অতি কঠিন ব্যাধিতে ধরেছিলো। মুসাফির নিজেও চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে যথেষ্ট পড়াশোনা করেছিলেন। চিকিৎসা মন্দ করেন না। তারপরেও নিজের এই অদ্ভুত ব্যাধি সম্পর্কে কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। মুসাফিরের সব থেকে প্রিয় স্থান তাঁর মহলের ভিতরের পদ্মসায়র। সেখানে বসে কাব্য রচনা করলে তাঁর মন উৎফুল্ল হয়ে যায়। ইদানীংকালে সেই পদ্মসায়রের গোলাপি পদ্মফুলগুলো যেন চক্ষুশূল হয়ে গেছে।

    বাদশাহ মিজানুরের আদেশে ভোজনশালায় রন্ধন হচ্ছে মুসাফিরের পছন্দের খাদ্য। মুসাফিরের দুই স্ত্রী নিয়ম করে স্বামীর মনোরঞ্জনের চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন। এছাড়াও রাজ্যের বিখ্যাত কাঞ্চনীরা এসেছিলেন মুসাফিরের সম্মুখে নৃত্যগীত পরিবেশন করতে। তারাও ব্যর্থ মনোরথে ফিরে গেছেন। শেষ পর্যন্ত বাদশাহ মিজানুর ডক্টর প্যাট্রিককে ডাকেন রাজসভায়। প্যাট্রিক মুসাফিরের বন্ধুস্থানীয়। তাই তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্যাট্রিক জানান মুসাফিরের শরীরে কোনো ব্যাধির জন্ম হয়নি। হয়েছে মনে। এ অসুখ বড় জটিল। এর কোনো প্রকার ঔষধ নেই। এদিকে মুসাফিরের স্বাস্থ্য ভাঙতে বসেছে। তার চোখে উদাসীন দৃষ্টি। জগৎসংসারের কোনো পার্থিব বস্তুতে যেন তার মন নেই। তিনি কেবল নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকেন দক্ষিণের অলিন্দের সম্মুখে। যেখান থেকে দেখা যায় ধবলগড়ের রাজপ্রাসাদের উঁচু চূড়াটা। প্যাট্রিক নিভৃতে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনার এমন অসুখের কারণটা কি?

    মুসাফির ক্লান্ত কণ্ঠে উত্তর দিয়েছেন, নারীকে যোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা একান্ত কর্তব্য প্যাট্রিক। তাকে লালসা করে নয় তাকে সম্মান প্রদান করে বেঁধে রাখা উচিত। বিশেষ করে সে যখন একজন বীরাঙ্গনা হন। প্যাট্রিক বুঝেছিলেন, এ কোনো ভিনদেশী নারীর কেরামতি। কিন্তু কিভাবে তাকে খোঁজা সম্ভব সেটা বোঝেননি উনি। এর কোনো উপায় না পেয়ে বাদশাহ তাঁর একমাত্র উত্তরাধিকারীকে রক্ষা করতে রাজ্যে রাজ্যে খবর পাঠালেন। যে বৈদ্য মুসাফিরের রোগের নিরাময় করতে সফল হবে তাকে রাজবৈদ্যর পদে আসীন করা হবে।

    বিভিন্ন রাজ্য থেকে দলে দলে বৈদ্যরা এলেন তাদের চিকিৎসাবিদ্যা সঙ্গে নিয়ে। নানারকমের ঔষধ প্রয়োগ করা হলো মুসাফিরের শরীরে, কিন্তু হিতে বিপরীত হলো। মুসাফির রোগমুক্ত না হয়ে আরও বিরক্ত হয়ে উঠলেন। কথায় কথায় মেজাজ হারাচ্ছিলেন। রাজবৈদ্য না হতে পারে ব্যর্থ মনোরথে সকলে নিজের রাজ্যে ফিরে গেলেন।

    .

    হঠাৎই মধ্যরাতে দুজন মানুষ সৈন্যদের চোখ বাঁচিয়ে প্রবেশ করলেন নিদ্রিত মুসাফিরের কক্ষে।

    মুসাফির এখন বেগমখানায় রাত্রিযাপন বন্ধ করেছেন। নিভৃত কক্ষই তাকে আরাম দেয় বেশি। তাই রাতের নিস্তব্ধ কক্ষে মুসাফির একাই নিদ্রিত ছিলেন। একজন মানুষ নিদ্রিত মুসাফিরের মস্তকে হাত রাখলেন। ধীর স্বরে বললেন, কেমন ছিল সেই নারী? সেকি কোনো শাহজাদী না মায়াবিনী? মুসাফির অর্ধ জাগ্রত অবস্থায় বলতে শুরু করলেন সেই মৃগনয়না নারীর কথা।

    আরেকজন মানুষ মশালের আলোয় সাদা কাগজের ওপরে আঁকিবুকি কাটতে শুরু করলো। কাজ শেষ হতে সময় লাগলো প্রায় ঘণ্টা তিনেক।

    তখন পুব আকাশে লালচে রং ধরছে। রুদ্রনগরের বড় মসজিদ থেকে ভেসে এলো ভোরের নামাজের সুর। খাতার আঁকিবুকি ছেড়ে মাটিতেই উবু হয়ে বসে ফজরের নামাজ পড়তে শুরু করলেন মানুষটি। অন্য মানুষটি তখন অর্ধ ঘুমে রাখতে চান মুসাফিরকে। জাগ্রত অবস্থায় একটা শব্দও উচ্চারণ করছেন না শাহজাদা মুসাফির। তাই তাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন রাখতে পারলেই লাভ।

    খাতার আঁকিবুকি যখন শেষ হলো তখন দেখা গেল বীরের পোশাক পরিহিতা এক অপরূপ সুন্দরী নারী। যার কেশরাশিতে নয়নার কালো জলের গভীরতা। যার অধরে সহস্র পদ্ম নতজানু। শিল্পীর আঁকা সে ছবির দিকে মশালের আলোয় অপলক তাকিয়ে থাকলেন অপর মানুষটি। ছবির নারীর অঙ্গে বীরাঙ্গনার পোশাক। নারীর চিরাচরিত লজ্জাভূষন পরিহিত নয় সে। সে নারী যেন বুঝিয়ে দিতে চায় তার উপস্থিতিতে চন্দ্রালোক ম্রিয়মাণ।

    শিল্পী ভীত কণ্ঠে বলে উঠলো, সাহেব ভোরের আলো দেখা যায়। নামাজ শেষের পথে…প্রাসাদের প্রহরীরা এবারে জেগে উঠবে একে একে। চলুন শীঘ্রই আমাদের প্রাসাদের বাইরে বেরোতে হবে।

    ওপর মানুষটি সচকিত হয়ে তাকিয়ে দেখলেন, মুসাফির গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়েছেন আবার।

    খুব সন্তপর্নে কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে ওরা দুজন আবারও প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এলেন গোপন দরজা দিয়ে।

    .

    পরদিন প্রাতে বাদশাহ বসেছিলেন সভাকক্ষে।

    বাদশাহ মিজানুরের ঘন গোঁফের ভাঁজে দুশ্চিন্তার রেখা সুস্পষ্ট। রুদ্রনগর তো কোনো ছোট পরগনা নয়। ক্রমাগত যুদ্ধ জয়ের ফলে রুদ্রনগরের সীমানা এখন বেশ কয়েকটি রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত। তাই তার দরবারে যে প্রচুর মানুষের ভিড় থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে বাদশাহকে মানুষ প্রজাবৎসল বলেই মানেন। স্থানীয় বাজারে শুল্কের হার বেড়ে গেছে বলেই একদল বণিক এসে দাঁড়িয়েছে তাদের সমস্যা নিয়ে। বাদশাহ মিজানুর আজ যেন একটু অন্যমনস্ক। পুত্রকে নিয়ে দুশ্চিন্তাটা কিছুতেই মন থেকে দূর করতে পারছেন না।

    কিন্তু বাদশাহ তো আর সাধারণ গৃহস্থ নন। তাঁর ওপরে গোটা রাজ্যের ভার। সমস্ত প্রজারা তার সন্তানতুল্য। তাই কর্মবিরতি হয় না তাঁর দিনলিপিতে। প্রজারা এসে দাঁড়াচ্ছেন, জানাচ্ছেন তাদের সমস্যা বা আর্জির কথা। বাদশাহ শুনে তার বিধান দিচ্ছেন। সময় এগিয়ে চলেছে দ্রুতগামী নদীর মতই। সভাকক্ষে মৃদু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

    মন্ত্রী সুজান খান জানালেন, বাদশাহ দ্বিপ্রহরের আহারে যাবেন। তাই আজ আর বাইরের অতিথির প্রবেশ নিষেধ। সভামধ্যে যারা রয়েছেন তারাই তাদের আর্জি জানাতে পারবেন। এমন সময় মন্ত্রী সুজান খানের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে ফরাসি ডাক্তার প্যাট্রিক ঢুকলেন সভাকক্ষে।

    সুজান খান তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে তাকালেন। ওনার কথার এমন অবাধ্য হওয়ার সাহস স্বয়ং সেনাপতি বা নগরপালেরও নেই। সেখানে এক ভিনদেশী চিকিৎসকের এত সাহস! নেহাত বেগমমহলের আশীর্বাদের হাত ওনার মাথার ওপরে আছে তাই, নাহলে সুজান খানের তীক্ষ্ন তলোয়ার ধর থেকে মুন্ডুটা পৃথক করতে সময় নিতো না। প্যাট্রিক সুজান খানের দিকে দৃষ্টিপাত না করেই প্রায় ছুটে গেলেন বাদশাহের কাছে। সভাকক্ষে এ আচরণ অবশ্যই দণ্ডনীয় অপরাধ।

    বাদশাহ স্বয়ং বিরক্ত হয়ে বললেন, বিদেশি বলে কি কোনোদিনই সহবত শিখবে না হাকিম? মন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার দুঃসাহস তোমায় কে দিলো? মনে রেখো বাদশাহ মিজানুর কিন্তু বেগমখানার পরামর্শে চলা শিরদাঁড়াহীন মরদ নয়। তাই রুদ্রনগরে অন্য প্রজাদের যেমন খাতির বেগমখানার চিকিৎসকেরও তেমন খাতির। প্যাট্রিক সাহেব এতটুকু ভীত না হয়েই বললেন, বাদশাহ আমায় আমার কর্মের জন্য সঠিক শাস্তি প্রদান করুন। কিন্তু রুদ্রনগরের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী এই মুহূর্তে সংকটজনক শারীরিক অবস্থায় আছেন। তাঁর অসুখ নিরাময়ের ঔষধ নিয়েই আমি আপনার দরবারে হাজির হয়েছি। এই ঔষধটি আনিয়ে দিতে হবে বাদশাহকে। আমি রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দিতে পারবো বলেই আশা রাখি।

    সভার মধ্যে বাদশাহ সামান্য উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। গতকালই রাজবৈদ্য জানিয়ে গিয়েছেন, মুসাফিরের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। সঠিক খাদ্য ও ঘুমের অভাবে সে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মাত্র একমাসের মধ্যে মুসাফিরের শরীরের এই অবনতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না বাদশাহ। তাই তার জীবনদায়ী ঔষধের কথা শুনে সামান্য বিচলিত হয়ে বললেন, বলো হে বিদেশি হাকিম কি সেই ঔষধের নাম। আমার একমাত্র পুত্রের জন্য আমার কলিজা হাজির। তবে হ্যাঁ, একটি শর্ত আছে। যিনি মুসাফিরকে আরোগ্য দান করতে পারবেন তাকে রুদ্রনগর রাজ্যের রাজবৈদ্যর পদে আসীন করা হবে। আর যিনি নিরাময়ের আশ্বাস দিয়ে ব্যর্থ হবেন তাকে হত্যা করা হবে রুদ্রনগরের গুমঘরে। কি সাহেব শর্তে রাজি তো?

    প্যাট্রিক এদেশের অনেক নিয়মের সঙ্গেই পরিচিত এখন। আইন কানুন যে খুব বেশি কাজ করে না রাজা-বাদশাহের নিয়মে সেটা ও জানে। প্রাণদণ্ডের ভয় পেলেও সাহসে ভর করে শিল্পীর আঁকা ছবিটা বাদশাহের হাতে তুলে দিয়ে বললেন, রাজি। তবে হজুর আমার কিন্তু সঠিক ঔষধটাই চাই।

    বাদশাহ গোটানো কাগজ খুলে দেখলেন, সেখানে এক বীরাঙ্গনা নারীর ছবি। আকস্মিক চমক সম্বরণ করে মিজানুর বললেন, এমন রসিকতার হেতু কি সাহেব?

    প্যাট্রিক হাত জোড় করে বললেন, রসিকতা নয় হুজুর। এই নারীই ছোট নবাবের আরোগ্য এনে দেবে। সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকালেও বাদশাহ আর একটি বাক্যও উচ্চারণ না করে রাজসভা ত্যাগ করলেন।

    .

    আশেপাশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে গুপ্তচর পাঠানো হলো। প্রত্যেকের উদ্দেশ্য একই। ওই নারীর বাসস্থান ও জন্মবৃত্তান্ত খুঁজে আনা। প্যাট্রিকও দিন গুনছেন। ওদিকে মুসাফিরের দেহের অবনতি হচ্ছে ক্রমশ। দুই বেগম চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না। কিন্তু মুসাফিরের ওই একই বক্তব্য, ঘৃণা ঘৃণা….তার চোখে আমি ঘৃণা দেখেছি।

    ঠিক কি কারণে এমন উদ্ভ্রান্তের মত ব্যবহার করছেন একজন সুস্থ স্বাভাবিক বুদ্ধিমান মানুষ সেটাই বিস্মিত করছে সমগ্র প্রাসাদের মানুষকে। বেগম, বাদশাহ থেকে শুরু করে প্রহরীগুলোর পর্যন্ত মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ সুস্পষ্ট। কি হলো শাহজাদার?

    .

    রুদ্রনগরের গুপ্তচর সংবাদ আনলেন, ছবির নারী একজন বাদশাহ কন্যা। নাম রুকসানা বেগম। ধবলগড়ের শাহজাদী। তলোয়ার চালনায় পারদর্শী। তীরও চালান বাতাসের বেগে।

    .

    ধবলগড়ের বাদশাহের সঙ্গে কয়েকদিন আগেই মিত্রতার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন উনি। একে অপরকে যে কোনো সমস্যায় সাহায্য করবার প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হয়েছেন। রুকসানা বেগম যদি ধবল কন্যা হয় তাহলে বৈবাহিক বার্তা পাঠানো অতি সহজ। তাতে রাজনৈতিক ভাবেও পুষ্ট হবে রুদ্রনগর। দক্ষিণ দিক নিয়ে আর ভাবিত হতে হবে না রুদ্রনগরকে। তখন বরং বল্লভপুর নিয়ে ভাবলেই চলবে। বল্লভপুরের রাজার সঙ্গে যুদ্ধংদেহী মনোভাব মিজানুরের বহু বছর ধরে। শুধু মাঝের বিষপুরের মানুষদের কথা ভেবেই যুদ্ধ থেকে বিরত থেকেছেন মিজানুর। বিষপুর হিন্দু প্রধান স্থান। বিষপুরের প্রান্তে অবস্থিত বল্লভপুরের সঙ্গে যুদ্ধ উপস্থিত হলে বিষপুরের সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা। তখন হিন্দু জমিন্দাররা জোটবদ্ধ হবে মিজানুরের বিরুদ্ধে। মুসলমান রাজা তাদের স্বার্থ চিন্তা করেননি বলে রব তুলবে। মিজানুর অকারণ যুদ্ধনীতিতে বিশ্বাসী নন। বরং তীক্ষ্ন ক্ষুরধার বুদ্ধির মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রেই সন্ধিনীতিতে আস্থা রাখেন। তাই বল্লভরাজের ওপরে ক্ষোভ থাকলেও এখনও যুদ্ধে অবতীর্ণ হননি। তবে খুব শীঘ্রই বল্লভপুর আক্রমণ করতে হবে বলে খবর এনেছেন মন্ত্রী সুজান খান। বল্লভপুরের রাজা নাকি তেমনই চক্রান্ত রচনা করেছেন রুদ্রনগরকে নিয়ে। তাই দক্ষিণের ধবলগড়কে আত্মীয়ের বন্ধনে বেঁধে রাখলে সময়ে উপকারে আসবে। আর দেরি না করে শাহজাদী রুকসানার সঙ্গে রুদ্রনগরের একমাত্র উত্তরাধিকারীর বিবাহ প্রস্তাবের বার্তা পাঠালেন মূল্যবান উপহার সহযোগে। ধবলগড়ের বাদশাহ প্রত্যুত্তরে সম্মতি জানালেন। তার কন্যা রুকসানার সঙ্গে নিকাহ দিতে প্রস্তুত হলেন।

    .

    বাদশাহ মিজানুর প্যাট্রিককে ডেকে হুমকি দিলেন, এ ঔষধ যদি মুসাফিরকে আরোগ্য দান করতে না পারে তবে সাহেবের মৃত্যুদণ্ড অবশ্যম্ভাবী। দিল্লির সুলতান এসেও রক্ষা করতে পারবে না ফরাসি ডাক্তারকে। প্যাট্রিক নির্ভীক চিত্তে বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড শিরধার্য। এদিকে মুসাফির বিবাহে অনাগ্রহী।

    মুসাফিরের দুই বেগম খালেদা ও রোকেয়া সোহরকে সুস্থ করতে ব্যর্থ হয়ে বেগম জাহানারার ভর্ৎসনা সহ্য করেছে। তাই মুসাফিরের তৃতীয় বিবাহে তাদের বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই। বেগমমহলে আরেকজনের আধিপত্য বাড়বে কল্পনায় বরং বিরক্ত।

    বাদশাহ মিজানুরের একটাই উদ্দেশ্য, রুদ্রনগরের সিংহাসনের ভাবী বাদশাহকে সুস্থ করে তোলা।

    মুসাফিরের অনিচ্ছাতেই তার তৃতীয় নিকাহের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

    বিবাহবাসরে জমকালো পোশাকের আড়ালে হয়তো রুকসানাকে ঠিকমত চিনতে পারেননি মুসাফির। অথবা তার অন্যমনস্কতাই এর কারণ। কিন্তু রাজকীয় সজ্জায় সজ্জিত পালংকে বসে প্রথম যখন রুকসানার অবয়বের আবরণ উন্মোচন করলেন মুসাফির তখন আকস্মিকতায় চমকে উঠলেন। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে অপলক তাকিয়ে ছিলেন রুকসানার দিকে। রুকসানা মৃদু হেসে বলেছিলেন, আপনার কামনা বড়ই শক্তিশালী। তাই ধবলগড়ের শাহজাদী সে ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য হলো।

    বেশ কয়েকমাস পরে বাদশাহ মিজানুর তার সন্তানের অধরে স্বতঃস্ফূর্ত হাসি দেখলেন। শরীরের প্রতি অবহেলায় চোখের নিচে যে অন্ধকার জমেছিল তা নিমেষে যেন মুছে গেলো।

    প্যাট্রিককে ডাকা হলো ভর্তি সভায়। আজ তার বিচার হবে। মিজানুরের সঙ্গে আজ মুসাফিরও রয়েছেন উপস্থিত। প্যাট্রিক তার বন্ধু স্থানীয়। তাই হুজুর যখন তাকে কাঠগড়ায় চড়াতে চাইছেন, তার প্রতিবাদে দু-একশব্দ বলার অভিপ্রায়েই আজ তাঁর এই উপস্থিতি। নচেৎ বাদশাহের এই বিচারসভার প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই মুসাফিরের। তিনি তাঁর কাব্য আর চিকিৎসা নিয়েই বেশ আছেন।

    গত তিনদিন অবশ্য তিনি এক নতুন খেলায় মাতোয়ারা। রুকসানা বেগমের রহস্য উন্মোচনে। রুকসানাকে তিনি এখনও স্পর্শ করে উঠতে পারেননি। রুকসানা শর্ত আরোপ করেছেন, তিনি বাদশাহ কন্যা। তাঁর ধমনীতে বইছে সুলতানি রক্ত। তাই তিনি সম্মান করবেন সেই শাহজাদাকে, যার হাতে তলোয়ার বশ্যতাস্বীকার করে। যার রক্ত মাটিতে পড়লে জন্ম নেবে আরেকটা যুদ্ধের।

    রুকসানা সত্যিই সুলতান কন্যা। বিয়ের মেহেন্দি হাতে নিয়েই সে বেগমমহলের নিজস্ব কক্ষে তলোয়ার চালনা করে নিজের দৈনন্দিন অনুশীলন বজায় রেখেছেন। প্রহরী থেকে বাঁদীরা নাকি চমকে দেখেছে রুকসানার অসি চালনা। এমন তলোয়ার চালনা নাকি যুদ্ধে পারদর্শী কোনো সৈনিকের পক্ষেই সম্ভব। রুকসানার আচার-আচরণ, বাচনভঙ্গিমা কোনোটাই রুদ্রনগরের বেগমমহলের মত নয়। তাই স্বয়ং জাহানারা বেগম মুসাফিরের প্রথমা পত্নী খালেদার ওপরে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন রুকসানাকে রুদ্রনগরের সহবত শেখানোর জন্য।

    যদিও রুকসানা বশ্যতা স্বীকার করে নেওয়ার মেয়ে নন। তাঁর মধ্যে জন্মগত এক স্বাধীন সত্ত্বা আছে। যেটা তাঁকে আর পাঁচজন বিবি-বেগমের থেকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করে। রুকসানার চলার ছন্দে নূপুরের রিনিঝিনি নেই। নেই মণিমাণিক্যের প্রতি কোনোরূপ অগ্রহ। বরং রাজ্যের প্রজারা কেমন আছেন সেদিকে তাঁর নজর বেশি। মুসাফিরের সঙ্গে একান্তে পদ্মসায়রের ধারের সাজানো বেদীতে বসে আলাপচারিতার সময়েও রুকসানা জিজ্ঞেস করেছেন, আপনাদের এ রাজ্যের সীমানায় অবস্থিত বিষপুরের মানুষরা জঙ্গলের বুনোহাতির ভয়ে শঙ্কিত থাকে কেন? বিষপুরে তো আপনাদের আদেশ জারি আছে। তবে কেন আপনারা এর সমাধানে অগ্রসর হননি?

    মুসাফির জীবনে এই প্রথমবার শুনলেন, বিষপুরের জঙ্গলে জংলী হাতির বাস। তারা রাত্রি হলেই ওই অঞ্চলের মানুষের ক্ষয়ক্ষতি করে! মুসাফিরের দৃষ্টি অনুসরণ করেই রুকসানা বলেছিলেন, হুজুর দায়িত্ব থেকে দূরে সরে গিয়ে কাব্যচর্চা হয় না। কাব্যে আপনি জীবনের ছবি আঁকুন। যেখানে প্রজারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বাস করেন, আপনি তাদের ক্রন্দনরত অবয়বের কাব্য লিখুন। পদ্মসায়রের গোলাপী পদ্ম আর বেগমের অধরের লালিমায় অবশ্যই আপনার একাধিপত্য থাকবে।

    রুকসানার চোখে নিজেকে এমন অপদার্থের রূপে দেখে নিজের প্রতি একটা বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছিল মুসাফিরের। তাই সদ্য বিবাহিত শাহজাদা এখন রাজসভায় বসেন।

    .

    প্যাট্রিকের সোনালী দাড়িতে সামান্য দুশ্চিন্তার ভাবও নেই। রুদ্রনগরের গুমঘরে গিয়েও তিনি মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা করবেন এমন অভিপ্রায়েই বসে আছেন দোষীর আসনে।

    রুদ্রনগরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রহিম খান দাঁড়িয়ে আছেন একেবারে শেষ প্রান্তে। বাদশাহের বিচারের পরে রহিম খানের ওপরেই দায়িত্ব পড়ে অভিযুক্তদের ভিন দেশে ছেড়ে দিয়ে আসা হবে নাকি রুদ্রনগরের গুমঘরে বন্দি করা হবে!

    ঢং করে ঘণ্টা বাজতেই সচকিত হলেন সকলে।

    বাদশাহ মিজানুর তার সভায় আদালত বসালেন। একে একে অভিযুক্তদের ডাকা হচ্ছে, বিচার হচ্ছে সকলের। কেউ কেউ বিনাশর্তে মুক্তিও পেয়ে যাচ্ছে।

    সভার সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান ফরাসী চিকিৎসক প্যাট্রিকের বিচার শোনার জন্য। বেগমমহলে যার অবাধ যাতায়াত। রুদ্রনগরের ভবিষ্যৎ বাদশাহ যার বন্ধুস্থানীয়। স্বয়ং জাহানারা বেগম যাকে স্নেহের দৃষ্টিতে দেখেন তার অপরাধটাই বা ঠিক কি! উৎসুক চোখগুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন বাদশাহ। মুসাফির পিতার সিংহাসনের পাশেই বসে আছেন। মুখে দুশ্চিন্তার ছায়া। প্যাট্রিকের অপরাধটা তার কাছেও বড়ই ধোঁয়াশা।

    একমাত্র নির্লিপ্ত চাহনিতে বাদশাহের দিকে তাকিয়ে বসে আছেন ধন্বন্তরী চিকিৎসক প্যাট্রিক।

    মিজানুর গম্ভীর গলায় বললেন, একজন বিদেশিকে আমরা কতটা বিশ্বাস করতে পারি মহামন্ত্রী সুজান খান?

    সুজান খান একটু হকচকিয়ে গিয়ে বললেন, আজ্ঞে হুজুর বিদেশিরা আমাদের শত্রু, তাদের নিপাত করাই কর্তব্য। বিশ্বাস করা নেহাত অনুচিত। সভায় উপস্থিত সিংহভাগ রাজকর্মীরা সুজান খানের সমর্থনেই হাত তুললেন। বাদশাহ মিজানুর বললেন, এক্ষেত্রে বড়ই বিচিত্র অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত হলাম আমি।

    আমার সমগ্র রুদ্রনগরের বৈদ্য, হাকিমরা যখন পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছিলো যে তারা মুসাফিরকে রোগমুক্ত করতে পারবে না, তখন আমি ঘোষণা করেছিলাম, যে মুসাফিরকে সুস্থতা প্রদান করতে সক্ষম হবে তাকেই রুদ্রনগরের রাজবৈদ্যর পদে আসীন করা হবে। এই পরীক্ষায় একমাত্র উত্তীর্ণ হয়েছেন, বিদেশি হাকিম প্যাট্রিক। এক বিচিত্র উপায়ে তিনি জানতে পেরেছিলেন, রুকসানা বেগমই হলেন মুসাফিরের রোগমুক্তির একমাত্র ঠিকানা। মৃত্যুদণ্ড শিয়রে অপেক্ষমান জেনেও প্যাট্রিক মুসাফিরকে ফিরিয়ে দিয়েছে স্বাভাবিক জীবনে।

    তাই আমার বিচারে আজ থেকে রুদ্রনগরের রাজবৈদ্য নিযুক্ত হলেন একজন ভিনদেশী চিকিৎসক প্যাট্রিক। যিনি এ স্থানকে ভালোবাসেন।

    .

    বিচারকক্ষে উপস্থিত অনেকেরই যে এ বিচার পছন্দ হয়নি সেটা তাদের মুখভঙ্গিমায় সুস্পষ্ট হলো। বাদশাহ অবশ্য সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করেই কাছে ডাকলেন প্যাট্রিককে। প্যাট্রিক ইতস্তত করে বললেন, হুজুরের করুণায় রুদ্রনগরে বড়ই সুখে আছেন তিনি। তার মনে গভীর প্রশান্তি বিরাজমান। কিন্তু বন্ধুস্থানীয় মুসাফিরকে সুস্থ করার বিনিময়ে কোনো পুরস্কারের দাবি তিনি করতে পারেন না। এ তার চিকিৎসা ধর্মের অবমাননা করা হয়। মানুষের জীবন দান তার অবশ্য কর্তব্য।

    .

    রুদ্রনগরের মন্ত্রীসভার অনেকেই বিস্মিত হলেন। এমন সুখের, ঐশ্বর্যের পদ কেউ বিনাশর্তে পরিত্যাগ করতে পারে এমন কষ্টকল্পনায় তারা অভ্যস্ত নন। মুসাফিরের ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা। প্যাট্রিককে চিনতে তাঁর ভুল হয়নি। সে প্রকৃত বন্ধু। সভাকক্ষের অনেকেই ভাবছেন— বেগমমহলের স্নেহভাজন চিকিৎসকের কি আর মণি মুক্ত, জহরতের অভাব হবে! হারেমে যার অবাধ যাতায়াত সেই বিদেশিকে অনেকেই নেকনজরে দেখেন না। আজ আবার স্বয়ং বাদশাহের বিচারে তিনি রাজবৈদ্যের পদ পাওয়ার পরে মৃদু অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে রুদ্রনগরের মন্ত্রীমহলে।

    প্যাট্রিক নির্লোভ কণ্ঠে বললেন, আমি এই রুদ্রনগরের জন্য প্রাণ ত্যাগ করতে রাজি। যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে প্রস্তুত। হুজুরের সমস্ত রকম হুকুম মানতে বাধ্য থাকবো, কিন্তু এ রাজপদে বসে অর্থ সঞ্চয় করতে পারবো না।

    উপস্থিত সকলে স্তম্ভিত হলেন! বাদশাহ মিজানুরের দেওয়া পদকে অস্বীকার করার ক্ষমতা দেখে। একটু ভীত স্বয়ং মুসাফিরও। সভা কাঁপিয়ে হেসে উঠলেন বাদশাহ মিজানুর। বললেন, এমন নির্লোভ মানুষ এ রাজ্যে বিরল। তাই রাজবৈদ্য পদে আসীন না হলেও প্যাট্রিক বাদশাহ পরিবারভুক্ত মানুষ হলেন আজ থেকে।

    বিদেশীর ভাগ্যলিখন দেখে ঈর্ষান্বিত হলেন অনেকেই। মিজানুর বললেন, একটা পুরস্কার প্রাপ্য রইলো প্যাট্রিকের। তিনি যখন চাইবেন রুদ্রনগর দিতে বাধ্য থাকবে। সেদিনের মত সভা ভঙ্গ হলো।

    .

    সেদিন থেকে প্যাট্রিক মুসাফিরের আরও কাছের মানুষ হয়ে গিয়েছিলেন।

    .

    উন্মুক্ত বাতায়নে দাঁড়িয়ে মুসাফির জিজ্ঞেস করেছিলেন, বলো হে প্যাট্রিক, নারীর মন জয় করার কি বিশেষ চিকিৎসা তোমার জানা আছে? গজদন্তের গহনা, হিরের ফুলদানি, বহুমূল্যের বস্ত্র সকলে পরাজিত হয়েছে। রুকসানা বেগমের কঠিন হৃদয়ের তল খুঁজে চলেছি, জয় করতে চাই। প্যাট্রিক নিজের কোমরবন্ধনী থেকে এক ঝটকায় তলোয়ারটা খুলে নিয়ে মুসাফিরের হাতে দিয়ে বলেছিলেন, একমাত্র অসি চালনায় পারদর্শী হয়ে রুকসানাকে পরাজিত করতে পারলে তবেই এ হৃদয়ের ওপরে সাম্রাজ্য বিস্তার করতে পারবেন আপনি। নচেৎ নয়। এ হৃদয়ের ঔষধ পৃথক। মূল্যবান গহনাতে এ হৃদয় বশ্যতা স্বীকার করবে না হুজুর।

    .

    প্যাট্রিকের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশংসার চাহনিতে মুসাফির বললেন, ধন্য তোমার চিকিৎসা জ্ঞান। তুমিই সঠিক নির্ণয় করেছো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচেনা অচেনার ভিড়ে – অর্পিতা সরকার
    Next Article অনুভবে তুমি – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }