Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খেলাঘরের ডাকে – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প385 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মধুবালার সমর্পণ

    চিত্তহরণ যখন শশাঙ্ক নারায়ণ রায়চৌধুরীর জমিদার বাড়ি থেকে নিজের গৃহে ফিরে এলেন মধুবালা তখন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলো। ওঁকে দেখেই চোখে জলের ঝাপটা দিয়ে সোজা হয়ে বসলো। জমিদার বাড়ি থেকে আনা শাড়িখানির ওপরে মধুবালার ভারী লোভ। জমিদার গিন্নির বড় প্রশস্ত মন। বারো হাত চওড়া পাড়ের শাড়ি দেন। রংখানাও থাকে চমৎকার। বাবার থলি থেকে চাল, ফলের সঙ্গেই বেরিয়ে এলো একটা রক্তজবা রঙের শাড়ি। আঁচলে দুটো ছুটন্ত ঘোড়া। ঘোড়া দুটোর দিকে তাকিয়ে একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়লো মধুবালা। ঠিক যেন বৈকালে নয়না নদীর তীরে তার দেখা ওই ঘোড়া দুটোর মত। মনের পথে উঁকি দিলো বিদেশি ওই চিকিৎসকের মুখ। যে ফিরে যাওয়ার সময় কথা দিয়েছিলেন আবার আসবেন। আজ থেকেই যেন পথ চেয়ে বসে আছে মধুবালা। ঠিক যেমন তার স্বপ্নে এক বিদেশি রাজপুত্র এসে দাঁড়ায় তেমনই। ওইরকম নীল চোখ যেন এক সমুদ্র ঢেউ।

    কারণবিহীন লজ্জায় আরক্ত হলো মধুবালা। নীলকণ্ঠের কাছে কৈফিয়ৎ চাইবে, কেন এমন স্বপ্ন দেখে ও। আর কেনই বা স্বপ্নের ওই মানুষটাকে আজকে ওর সম্মুখে পাঠালেন স্বয়ং নীলকণ্ঠ!

    চিত্তহরণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, মধুমা, তোমার সহিত আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আছে। রাতের আহার সমাপ্ত হলে আমরা সে আলোচনায় বসবো।

    বুকের ভিতরটা কেঁদে উঠলো চিত্তহরণের। এমন মোমপুতুলিকে প্রাণে ধরে কি করে অর্পণ করবেন জন্ম থেকেই বাকহারা ওই ছেলের হাতে! শশাঙ্ক নারায়ণের গৃহে মধুবালা হয়তো রাজেন্দ্রাণীর মতই বসবাস করবে। কিন্তু স্বামী সুখে বঞ্চিত হবে সে। নিজের অন্তরের গোপন ব্যথা কার কাছে প্রকাশ করবে মধুবালা? শশাঙ্ক নারায়ণের কনিষ্ঠ পুত্র যে কোনোদিন মনের ভাবই প্রকাশ করতে পারবে না মধুবালার কাছে।

    চিত্তহরণের মত জমিদারের দেবোত্তর সম্পত্তিতে বাস করে প্রতিবাদ করা চলে না জমিদারের বিরুদ্ধে। তাছাড়া সহায়সম্বলহীন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার পছন্দ-অপছন্দের ভেদাভেদ হতে নেই।

    যৎসামান্য আহার সারলেন চিত্তহরণ। মনকে প্রস্তুত করলেন। মধুবালা শশাঙ্ক নারায়ণের কনিষ্ঠ পুত্রকে বিলক্ষণ চেনে। প্রতি বছর নীলকণ্ঠের মন্দিরে গাজন উৎসবের সময়ে সে দণ্ডী কাটে। তার জিভে চরণামৃত দেওয়া হয়। তারপর শশাঙ্ক নারায়ণের নির্দেশে গলার মধ্যে আঙুল প্রবেশ করিয়ে তাকে দিয়ে গোঙানির স্বরে জোর করে বাবা ডাকানো হয়। একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো সুশান্ত। এক ফিরিঙ্গি হাকিম এসে সে যাত্রা বাঁচিয়ে দিয়েছিলো তাকে। তাই সুশান্ত সম্পর্কে মধুবালাকে নতুন করে পরিচিত করানোর অবকাশ নেই চিত্তহরণের।

    চিত্তহরণ পুলকিত মুখে বললেন, মধুমা রায়চৌধুরী বাড়ির কাপড়খানা তোমার পছন্দ হয়েছে?

    মধুবালা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললো, হ্যাঁ, খুব পছন্দ হয়েছে। চিত্তহরণ দীর্ঘশ্বাস গোপন করে হাসি মুখে বললেন, তুমি ভাগ্যবতী মা। তুমি পরম ভাগ্যবতী। জমিদার শশাঙ্ক নারায়ণ স্বয়ং তোমায় নির্বাচন করেছেন তার পুত্রবধূ রূপে। তুমি খুব শীঘ্রই জমিদার গিন্নি হয়ে এ বিষপুরের মস্তকে থাকবে।

    মধুবালা বিস্মিত নেত্রে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো পিতার দিকে। তারপর ধীরে কণ্ঠে বললো, উনি কি আমায় ওনার কনিষ্ঠ পুত্রবধূ রূপে বরণ করতে চান?

    চিত্তহরণ ইতস্তত করে বললেন, সুশান্ত বড় শান্ত প্রকৃতির ছেলে। ভদ্র, সুসভ্য, চমৎকার তার ব্যবহার।

    মধুবালা আকস্মিক চমকে উঠে বললো, কিন্তু তিনি তো বোবা। মুখে যে তাঁর ভাষা নেই। তিনি আমার সাথে কথা বলবেন কি করে বাবা?

    চিত্তহরণ কন্যার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে চোখের অবাধ্য অশ্রুকণাকে সম্বরণ করে বললেন, ইশারায় সে সব কথা বলতে পারে মধুমা।

    মধুবালা আর বাক্যব্যয় না করে নিজের ঘরে প্রবেশ করলো ধীরে ধীরে।

    মধুবালার চলে যাওয়ার ছন্দেই পরিষ্কার হলো এ সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। পিতার মান রাখতে হয়তো বিবাহমণ্ডপে বসবে ও কিন্তু সেই চিন্ময়ী প্রতিমা প্রাণবিহীন হবে।

    নিরুপায় চিত্তহরণ। শশাঙ্ক নারায়ণের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে যে বিষপুরও তাঁকে পরিত্যাগ করতে হবে। অগত্যা সুশান্ত নারায়ণের ঘরণী হবে মধুবালা, এ স্বয়ং নীলকণ্ঠের নির্ধারিত। নীলকণ্ঠের কোলেই মানুষ হয়েছে মধুবালা। স্ত্রী বিয়োগের পরে যজমান বাড়িতে পৌরহিত্য করতে যাবার পূর্বে পিতার ধুতির একপ্রান্ত আকর্ষণ করে মধুবালা বলতো, আমার ভয় করছে বাবা। চিত্তহরণ নিশ্চিন্তে মেয়েকে নীলকণ্ঠের জিম্মায় রেখে বেরিয়ে যেতেন। তাঁর দৃঢ় ধারণা ছিল মধুবালার কোনো বিপদ নীলকণ্ঠ হতে দেবেন না। কবে থেকে যেন সাজি ভরে নীলকণ্ঠের জন্য পুষ্পচয়ন করায় অভ্যস্ত হয়ে উঠলো। এমনকি রক্তকরবীর মালাটা ও গেঁথে দিতো নিজের হাতে। নীলকণ্ঠকে সাজানো, তার সম্মুখে সংগীত পরিবেশন করা এসবকে কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে শৈশবকে অতিক্রম করে যৌবনে পা রেখেছিলো মধুবালা। নীলকণ্ঠই তার ইষ্টদেবতা হয়ে গিয়েছিলেন।

    চিত্তহরণও কন্যার বিবাহ নিয়ে উদগ্রীব হননি। ভেবেছিলেন বিষপুরের যে নীলকণ্ঠের দুয়ারে সবাই জীবনের বিচার চাইতে আসেন সেই নীলকণ্ঠই মধুবালার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। তাই কন্যার বিবাহ প্রসঙ্গে তাকে উতলা হতে কেউ দেখেনি। কিন্তু আজ তিনি বড়ই চঞ্চল। মধুবালার স্বহস্তে গোছানো নিপুণ বিছানাতে শুয়েও নিদ্রা ধরা দিলো না।

    চিত্তহরণ বাড়ির দরজা খুলে নিস্তব্ধে বেরিয়ে গেলেন। বাইরে বেরোতেই নয়না নদীর শীতল বাতাস তার শরীরের উত্তেজনা প্রশমিত করলো। নয়নার তীরে বসে রইলেন আনমনে। মধুবালার শৈশবে ডুব দিলেন।

    একটু দূরেই সেনাদের ছাউনিতে মশাল জ্বলছে। বল্লভপুরের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে চলেছে রুদ্রনগরের বাদশাহ। বিষপুর রুদ্রনগরের অধীনে। তাই বিষপুরের অনেক মানুষই চান রুদ্রনগরের জয় হোক। চিত্তহরণ চান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ হোক। সাম্রাজ্য দখলের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপন্ন। বিষপুরের বাজারে সব খাদ্যদ্রব্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেনাবাহিনীর জন্য খাদ্য সংগ্রহের কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

    .

    কখন যে ভাবনার অতল গহ্বরে প্রবেশ করেছিলেন চিত্তহরণ মনে নেই। আচমকা ঘোড়ার খুরের আওয়াজ কানের খুব কাছে বাজতে চমক ভাঙলো। সেনাবাহিনী বল্লভপুরের দিকে এগোতে শুরু করেছে। পূবাকাশ কখন যে রক্তবর্ণ ধারণ করেছে তা খেয়াল করেননি চিত্তহরণ।

    জঙ্গলের মধ্যে দিয়েই গাছ কেটে প্রশস্ত পথ নির্মিত হয়েছে। সেই পথ দিয়েই চলেছে যুদ্ধবাহিনী। হাতির পিঠের হাওদাতে রয়েছে তাঁবু, খাদ্য, অস্ত্র। আর পদাতিক বাহিনী চলেছে সম্মুখে। পিছনে ঘোড়সওয়ারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

    নিজের দৃষ্টির ওপরে চিত্তহরণের বিশ্বাস অবিচল এখনও পর্যন্ত। ভুল তিনি দেখতে পারেন না বলেই তার অটুট বিশ্বাস। অথচ এই মুহূর্তের তিনি দেখলেন একজন ঘোড়াসওয়ার দলছুট হয়ে তীব্র বেগে এদিকেই যেন ছুটে আসছে। চমকিত হয়েই একটা বড় গাছের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন চিত্তহরণ। নেহাত বিশ্বাস নেই, ব্রাহ্মণের হাতে তলোয়ার ধরিয়ে হয়তো নির্দেশ জারি করা হবে, যুদ্ধে যেতে হবে। চিত্তহরণ শুনেছেন যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্য অপ্রতুল হলে গ্রামের নিরীহ চাষীদের হাতে পর্যন্ত তলোয়ার ধরিয়ে দেয় ওরা। এই বয়সে হাতে রক্ত মাখার ইচ্ছে একেবারেই নেই চিত্তহরণের। সৈন্যবাহিনী চলে গেলে তবেই তিনি বাড়ির পথ ধরবেন এই চিন্তা করেই গাছের গুঁড়ির পিছনে বসে পড়লেন।

    দূর থেকেই লক্ষ্য করছিলেন চিত্তহরণ। ওই অশ্বারোহী সৈনিকের প্রস্থানের অপেক্ষায় রইলেন তবে হঠাৎই মনে হলো ওই দলছুট সৈনিক ওঁর গৃহের অভিমুখেই গেলো। সদ্য পূব আকাশ আবির রং ধারণ করেছে। গাছগাছালির মধ্যে দিয়ে আবছা অন্ধকার তখনও ঘিরে রয়েছে বিষপুরের মাটিকে। তাই স্পষ্ট দেখতে পেলেন না চিত্তহরণ।

    .

    ভোর ভোর ঘুম থেকে ওঠা চিরকালের অভ্যেস। নয়না নদীতে স্নান করে ভিজে কাপড়ে নীলকণ্ঠের গর্ভগৃহ ধোয়া মধুবালার নিত্যদিনের প্রথম কাজ। আজও তার ব্যতিক্রম হবে না। পিতা তাকে একজন মূক পাত্রের সঙ্গে জীবন কাটানোর আদেশ দিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘরাত্রি নির্ঘুম কাটিয়েছে মধুবালা। ক্ষণে ক্ষণে দু-চোখ প্লাবিত হয়েছে অশ্রু বিন্দুতে।

    তবুও নীলকণ্ঠের দুয়ারে বিশ্রাম নেই। নেই কর্তব্য ফাঁকি দেওয়ার কোনো রীতি। নীলকণ্ঠ নিষ্ঠুরের মত অপেক্ষা করে আছেন রাজকীয় পুজো পাবার আশায়। আজ মধুবালা নীলকণ্ঠকে কৈফিয়ৎ চাইবে কেন তিনি ওর ভাগ্যরেখাতে এমন একজনের নাম লিখে দিলেন যে কোনোদিন মধুবালা শব্দটাই উচ্চারণ করতে পারবে না। বাবা ছোট থেকেই বলতো, নীলকণ্ঠ নাকি ওর আরেক পিতা। জন্মদাতা নয় রক্ষাকর্তা। বিষপুরের জাগ্রত নীলকণ্ঠের মন্দিরে প্রত্যহ দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে জমায়েত হন। তাদের সকলের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন স্বয়ং নীলকণ্ঠ। আর নিত্যদিন তাঁর যে পরিচর্যা করে তার কোনো খেয়াল রাখলেন না তিনি। অভিমানে বুজে এলো মধুবালার গলা।

    পিতলের ঘড়া নিয়ে নয়না নদীর উদ্দেশ্যে দুয়ার অতিক্রম করলো। সামনেই যুদ্ধের বেশে দাঁড়িয়ে আছেন এক সৈনিক। মাথায় বর্ম, কোমরে তলোয়ার, পরণে যুদ্ধের বেশ। আচমকা ভীত হয়ে পড়লো মধুবালা। দুয়ারের সম্মুখে এই প্রাতঃকালে সশস্ত্র সৈন্যের উপস্থিতি তার মনে স্বাভাবিকভাবেই ভয়ের সঞ্চার করেছে। মধুবালা ভীত স্বরে বললো, কে আপনি রাজন? কি আমার অপরাধ?

    সৈনিক ঘোড়া থেকে মাটিতে লাফিয়ে নামলো। মাথা থেকে লৌহের শিরস্থান খুলে বললো, অপরাধ আপনার অনেক অপরূপা। আপনি যে বিদেশির ক্ষুধানিদ্রা কেড়েছেন। এ চিকিৎসক এখন নিজেই একজন রোগী। কিন্তু এ রোগের ঔষধ আমার কাছে নেই মধুবালা। আপনি আমায় এ অসুখের ঔষধ প্রদান করুন, সুস্থ করে তুলুন আমায়। বল্লভপুরের যুদ্ধক্ষেত্রে চলেছি। যুদ্ধক্ষেত্র প্রাণ দেবো কিনা জানি না, তবে একটা কথা বলতে এলাম, এ নারীতে আমি নিজেকে হারিয়েছি। নিজেকে উদ্ধারের উপায় কি মধুবালা? আপনার কি জানা আছে?

    সেই স্বপ্নে দেখা নীল চোখ। সেই সোনালী চুলের দীর্ঘদেহী বিদেশি মানুষটা দাঁড়িয়ে আছেন সামনে।

    মধুবালার মনটা গতকাল রাত থেকেই উথালপাতাল। তাই আবেগ প্রশমিত করতে না পেরেই ও বললো, ভিনদেশী রাজপুত্রকে একটা বিশেষ সংবাদ দিতে চাই। আপনি যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিতে চলেছেন আমিও তেমন অপছন্দের জীবনসঙ্গীকে সঙ্গী করে জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে চলেছি। প্রতিমুহূর্তে জীবনটাকে ক্ষয় হতে দেখবো।

    প্যাট্রিক না বুঝেই জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাচ্ছ মধুবালা?

    আপনি সম্বোধনে আর মধুবালাকে ডাকা সম্ভব হলো না।

    মধুবালার দু-চোখে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। ভগ্ন কণ্ঠে বললো, আমার বিবাহ নির্ধারণ করেছেন আমার পিতা। বিষপুরের জমিদার শশাঙ্ক নারায়ণ রায়চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তানের সহিত। এ বিবাহ স্থগিত করার ক্ষমতা সম্বলহীন ব্রাহ্মণের নেই।

    প্যাট্রিক স্মৃতির অতলে ডুব দিয়ে বললেন, শশাঙ্ক নারায়ণের কনিষ্ঠ পুত্রের চিকিৎসা করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল এই নীলকণ্ঠের মন্দিরেই। উনি জন্ম মূক, বাকশক্তিহীন একজন মানুষ। হয়তো মানুষ হিসাবে অত্যন্ত সজ্জন। কিন্তু মধুবালা সে যে তোমার সঙ্গে কখনও বাক্যালাপ করতে পারবে না। কখনও বলতে পারবে না তোমার ওই চোখ নয়নার জোয়ারের ঢেউকেও হার মানায়।

    মধুবালা ঈষৎ বিস্মিত হয়ে বললো, আপনি তাকে বিলক্ষণ চেনেন দেখছি। তার মানে গাজনের মেলাতে সে যখন এই মন্দিরে জ্ঞান হারিয়েছিলো তখন এক ফিরিঙ্গি হাকিম তাকে প্রাণদান করেছিলো বলেই শুনেছিলাম পিতার কাছে। সে হাকিম তবে আপনি?

    প্যাট্রিক মাথাটা নিচু করে ডান হাতটা বুকে ঠেকিয়ে বললেন, তখন কেন তোমার দর্শন পাইনি জানি না।

    মধুবালা এ বিবাহে তুমি রাজি হয়ো না। আমি তোমাকে ভিক্ষে করে আনবো শশাঙ্ক নারায়ণের পুত্রের কাছ থেকে।

    মধুবালা হাসিতে শ্লেষ মিশিয়ে বললো, তারপর? আমায় ঘোড়ায় চাপিয়ে নিয়ে যাবেন রুদ্রনগরের বাদশাহের দরবারে? কাঞ্চনী হয়ে সেখানে আমি নৃত্য পরিবেশন করবো? এই কি আপনার অন্তরের ইচ্ছে? প্যাট্রিক কুঞ্চিত হয়ে বললেন, কখনোই নয়। সে সত্যি হতে পারে না। তুমি কাঞ্চনী হতে পারো না। তোমার গলার সুর, তোমার পায়ের ছন্দে শুধু আমার অধিকার।

    মধুবালা শিহরিত হলো। থমকে গেলো। তারপরেই সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বললো, কিন্তু আমি যে অন্যের বাগদত্তা। মধুবালার হাতটা নিজের হাতের মাঝে টেনে নিলেন প্যাট্রিক। পিতলের ঘড়া মাটিতে পড়ে ঝনঝন শব্দ তুলে নিজের পতনের প্রতিবাদ জানালো। মধুবালার হাতটা থরথর করে কাঁপছে।

    প্যাট্রিক বললেন, যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সময় আমায় দাও মধুবালা। আমি ফিরেই তোমায় আমার গৃহে নিয়ে যাবো। মধুবালা বিশ্বাস করলো। দু-চোখে জল ভরে এলো। মধুবালা তো এটাই চেয়েছিলো অন্তর থেকে, এমন একজন পুরুষ আসুক তার জীবনে যার প্রেমিকা হয়ে বাঁচবে ও। যার ঘরণী হয়ে বাঁচবে ও। যার সঙ্গে সহমরণে বলি দেবে নিজের এই তুচ্ছ প্রাণটুকু। সুশান্ত সে মানুষ নয়। তার অন্তরাত্মা বিদ্রোহী হয়ে জানিয়েছে সুশান্ত নারায়ণ সে মানুষ নয়।

    প্যাট্রিক নিজের শিরস্থান পুনরায় পরিধান করলেন। নিজের কনিষ্ঠা থেকে একটা রক্তবর্ণ রুবির অঙ্গুরীয় খুলে মধুবালার অনামিকায় পরিয়ে দিয়ে বললেন, এই মুহূর্ত থেকে তোমার ওপরে শুধু আমার অধিকার জন্মালো। ওই পূবের উদীয়মান সূর্যকে সাক্ষী মানলাম। ঘোড়ায় চেপে আবার ওই পথেই চলে গেলেন প্যাট্রিক। পিছনেই আসছে রুদ্রনগরের যুদ্ধবাহিনী। ওই দলে মিশে যেতে হবে। সুজান খান বা বাদশাহ মুসাফিরের নজর এড়িয়ে মিশতে হবে। কারোর যেন কোনো সন্দেহের অবকাশ তৈরি না হয়। মুসাফিরের বলা কথাটা কানে ভাসছে প্যাট্রিকের। এই নারীকে আমি রুদ্রনগরের কাঞ্চনী রূপে দেখতে চাই প্যাট্রিক। তোমাকেই পৌঁছে দিতে হবে একে আমার মহলে।

    প্যাট্রিক উপলব্ধি করলেন, মধুবালাকে তিনি ভালোবাসেন। অন্তর দিয়ে ভালোবাসেন। মধুবালারও তাঁকে গ্রহণ করতে কোনো সমস্যা নেই। বরং সে চায় তার স্বপ্নে দেখা বিদেশি আসুক তার জীবনে মহাসমারোহে।

    সৈন্যদলে মিশে গেলেন প্যাট্রিক। কোনো বিরতি নেই, সোজা বল্লভপুর আক্রমণ করবে রুদ্রনগর। বল্লভরাজকে হত্যা করাই এ যুদ্ধের একমাত্র লক্ষ্য। বাদশাহ মিজানুরের আকস্মিক হত্যার প্রতিবাদ। বল্লভপুর রাজ্যকে নিজের রাজ্যের সীমারেখার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিলো না। তবে সব যুদ্ধের উদ্দেশ্যই যুদ্ধ শেষে বদলে যেতে পারে। তাই যদি রুদ্রনগরের জয় হয়, তবে বল্লভপুর রুদ্রনগরের অধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য থাকবে বলেই ঘোষণা করেছেন বাদশাহ মুসাফির।

    সুজান খান এগিয়ে চলেছেন বীরদর্পে।

    বল্লভপুরের সীমানায় আসতেই ঝাঁক ঝাঁক তীর হাওয়ার বেগে ছুটে এলো রুদ্রনগরের সৈন্যবাহিনীর দিকে। কামানে গোলা ভরা হলো, কামানের বারুদে ছত্রভঙ্গ হলো তীরন্দাজ বাহিনী।

    এগিয়ে চললো রুদ্রনগরের সেনাবাহিনী। বল্লভপুর ছোট রাজ্য। রুদ্রনগরের সুশিক্ষিত সৈনিকদের সম্মুখে দাঁড়াবার ক্ষমতা তাদের নেই। তাই তারা যে স্বচ্ছ যুদ্ধপদ্ধতি গ্রহণ করবে না এমন ধারণা সুজান খানের আছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কয়েক গজ দূরে তাঁবু খাটানো হলো। পদাতিকবাহিনী পৌঁছে গেছে যুদ্ধক্ষেত্রে। তার পশ্চাতেই আছে অশ্ববাহিনী।

    .

    মুসাফিরের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ সুস্পষ্ট। প্যাট্রিক তাঁবুতে বসে আছেন বাদশাহ মুসাফিরের সামনেই।

    মুসাফির বললেন, প্যাট্রিক এ ছদ্মবেশ কি আমায় ধারণ করতেই হতো?

    প্যাট্রিক বললেন, হুজুর, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা আছে বলেই এ ছদ্মবেশ আপনার প্রয়োজন। বল্লভরাজ শঠতার আশ্রয় নিয়েই হত্যা করেছিলেন বাদশাহ মিজানুরকে। এবারেও তার উদ্দেশ্য হবে রুদ্রনগরের সিংহাসনকে অভিভাবক শূন্য করে দিশেহারা করে দেওয়া।

    মুসাফির নিজের সফেদ গোঁফে হাত বুলিয়ে বললেন, এই শয্যাশায়ী বৃদ্ধ যুদ্ধপ্রাঙ্গণে কি করছে এই সন্দেহও তো দানা বাঁধতে পারে অপরপক্ষের মনে। মুসাফির এই মুহূর্তে এক আশি বৎসরের বৃদ্ধের সজ্জায় সজ্জিত। দেখে বোঝার উপায় নেই সে একজন যুবা পুরুষ।

    প্যাট্রিকের কাছে খবর এলো তিনজন সৈন্য গুরুতর অসুস্থ। প্যাট্রিক তার চিকিৎসার সরঞ্জাম নিয়ে এগিয়ে চললেন সৈন্যদের ছাউনির দিকে।

    .

    মুসাফির কোন তাঁবুতে আছেন তা রুদ্রনগরের সৈন্যরাও জানে না। তাই বাইরে কোনো দেহরক্ষীর দেখা পেলো না প্যাট্রিক। মুসাফির তার মানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তাঁবুতে প্যাট্রিক আর মুসাফির দুজনে এতক্ষণ উপস্থিত ছিলেন। এখন মুসাফির একা। এভাবে বল্লভপুর প্রান্তে বাদশাহকে একা তাঁবুতে রাখাটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। বাদশাহ ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন ঠিকই কিন্তু যে কোনো মুহূর্তে অতর্কিত আক্রমণ হতেই পারে।

    তিনজন সৈন্যের শুশ্রূসা করে তাদের ঔষধ প্রদান করেই প্যাট্রিক তাড়াতাড়ি ঘোড়া চালনা করলেন বাদশাহের তাঁবুর দিকে।

    তাঁবুর সামনে পৌঁছেই বুঝতে পারলেন বড় কোনো গোলযোগ উপস্থিত হয়েছে। প্যাট্রিক খবর পেয়েছেন রুদ্রনগরের সৈনিকরা বল্লভপুরের প্রাসাদের দিকে এগিয়ে চলেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে বল্লভরাজের সৈন্যবাহিনী নির্মমভাবে পরাজিত হচ্ছে রুদ্রনগরের কাছে। এমতাবস্থায় মুসাফিরের তাঁবুর সম্মুখে ভিড় দেখে চমকে উঠেছেন প্যাট্রিক। দ্রুত ঘোড়া থেকে অবতরণ করে ছুটলেন তাঁবুর প্রান্তে।

    .

    তাঁবুর সামনে একজন দীর্ঘদেহী পুরুষের দ্বিখণ্ডিত মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। তাকে ঘিরেই কোলাহল করছে রুদ্রনগরের সৈনিকরা। এই অপরিচিত ব্যক্তিটি কে সেই নিয়েই চলছে জল্পনা।

    সুজান খান যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। সেনাপতিও উপস্থিত নেই। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন এ ব্যক্তিটি কি কারণে প্রবেশ করেছিল রুদ্রনগরের সেনা ছাউনিতে? আর একে হত্যাই বা কে করলো?

    চিন্তিতভাবেই মুসাফিরের তাঁবুতে প্রবেশ করলেন প্যাট্রিক। একমাত্র তাঁরই অবাধ প্রবেশ হুজুরের দরবারে। মুসাফির একমুখ সাদা দাড়ির জঙ্গল সরিয়ে বললেন, এতক্ষণ কোথায় ছিলে প্যাট্রিক। এদিকে তো হুলুস্থুল হয়ে গেলো।

    প্যাট্রিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে বললেন, আপনাকে কি কেউ অতর্কিতে আক্রমণ করতে এসেছিল হুজুর?

    মুসাফির চিন্তিত কণ্ঠে বললেন, এই ছদ্মবেশের অভ্যন্তরে যে রুদ্রনগরের বাদশাহ আত্মগোপন করেছে এ কথা ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিটি কিভাবে জানলো? আমি তাঁবুতে বসেছিলাম। প্রাচীন ভারতের আয়ুর্বেদ চর্চার একটি নিদর্শন এসে পৌঁছেছে আমার কাছে। ওই পুঁথিটিই মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করছিলাম। আচমকা আমার সম্মুখে দেখলাম ওই মৃত ব্যক্তি ও আরেকজন ব্যক্তির সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেছে। বিস্মিত আমি অপলক তাকিয়ে দেখলাম, একজন ব্যক্তি অতর্কিতে তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো ওই মৃত ব্যক্তির ওপরে। মৃত ব্যক্তির হাত থেকে মাটিতে পড়ে গেলো উদ্ধত তলোয়ার। আমার অচেনা দেহরক্ষী ওকে দ্বিখণ্ডিত করে টেনে ফেলে দিলো বাইরে। আমার সামনে মাথা নিচু করে বেরিয়ে গেল। আমি এখনও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে আছি প্যাট্রিক। কে ওই রক্ষাকর্তা? সে কেন আমার প্রাণ রক্ষা করতে উপস্থিত হয়েছিল? কেন সে কোনো পুরস্কার দাবি না করেই হারিয়ে গেলো? কে ওই মানুষটি? যে নিজের প্রাণের বাজি রেখে আমায় রক্ষা করল, সে কে প্যাট্রিক? আমার রুদ্রনগরের সেনাবাহিনীর কেউ? নাকি অপরিচিত কেউ? সংবাদ চাই প্যাট্রিক। আর এ সংবাদ কিভাবে পৌঁছালো বল্লভপুরে যে আমি ছদ্মবেশে আছি। এ তো শুধু তিনজন জানে। সুজান খান, তুমি আর রুকসানা। এ পরিকল্পনা অবশ্য রুকসানার। সেই আমাকে বলেছিলো, আমি যেন ছদ্মবেশে উপস্থিত থাকি যুদ্ধক্ষেত্রে।

    .

    প্যাট্রিকের দিকে তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুসাফির বললেন, তোমাকে অবিশ্বাস করতে সায় দিচ্ছে না। সুজান খানকে অবিশ্বাস করলে এ যুদ্ধ ভিত্তিহীন। সুজান ছিল আমার পিতার বফাদার। রুদ্রনগরের বর্তমান মন্ত্রী। তার ওপরে রুদ্রনগরের সিংহাসন অনেকাংশে নির্ভরশীল। রুকসানা বেগম প্রাণ থাকতে এ কথা আর কাউকে বলবে না। তাহলে আমার সন্দেহ কোন দিকে ধাবিত করবো প্যাট্রিক?

    প্যাট্রিক একটু অভিমানী গলায় বললেন, হুজুরের আঙুল কি আমার দিকে নির্দেশ করছে? আমার আপত্তি নেই। প্রাণদণ্ড মঞ্জুর হোক।

    মুসাফির বললেন, প্যাট্রিক এ কি রহস্য করার সময়! আমি চিন্তিত। যতক্ষণ না গোপন শত্রুকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত রুদ্রনগর সুরক্ষিত নয়।

    তাঁবুর সামনে আবারও হইহট্টগোল শুনে বাইরে বেরিয়ে এলেন প্যাট্রিক। সঙ্গে মুসাফির তাঁর ছদ্মবেশ সামলে তাঁবুর বাইরে এসে দাঁড়ালেন।

    সুজান খান ফিরেছেন যুদ্ধ থেকে। বল্লভপুরের প্রাসাদ দখল করে বীরবিক্রমে ফিরেছেন। সঙ্গে বল্লভরাজকে বন্দি করেও এনেছেন।

    উল্লাস চলছে সৈন্য শিবিরে।

    এদিকে রক্ষী একজন সৈনিককে আটক করেছে। এর সন্দেহজনক উপস্থিতির জন্যই রক্ষী আটক করেছে। সুজান খান নির্দেশ দিলেন, তল্লাশি করা হোক। বাদশাহ স্বয়ং বললেন, শান্ত হও। এই সৈনিকই আমার জীবন রক্ষা করেছে আজ। প্রাণদণ্ড এর শাস্তি নয়।

    সেই মুহূর্তেই সৈনিক নিজের পোশাকের ভিতর থেকে বের করে আনলো বেগমমহলের সীলমোহর।

    সুজান খান মাথা নিচু করে সম্মান জানালেন।

    প্যাট্রিক দেখলেন ছদ্মবেশী রুকসানা বেগম দৃঢ় পদক্ষেপে প্রবেশ করলেন বাদশাহের তাঁবুতে।

    বাদশাহ স্থবিরের মত দাঁড়িয়ে বললেন, বেগম তুমি? আমি পত্র পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে তোমায় অনুপস্থিত থাকতে বলেছিলাম। রুকসানা একটানে খুলে ফেললেন নকল দাড়ি গোঁফ। বললেন, ক্ষমা করবেন হুজুর। আপনি শুধু রুদ্রনগরের বাদশাহ নন। আমার আমানত। তাই তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমার।

    মুসাফির বয়স্কব্যক্তির পোশাক পরিত্যাগ করে বললেন, কিন্তু তুমি চিনলে কি করে আমায়? আর ওই গোপন শত্রুটি কে?

    রুকসানা বললেন, বাদশাহ ও এখন বল্লভপুরের গুপ্তচর। নাম রাজ্জাক আলী। আগে আমাদের রুদ্রনগরের বফাদার সৈনিক ছিল। সেনাপতি হবার গোপনবাসনা থেকেই ওর মধ্যে লোভের জন্ম নেয়। রুদ্রনগরের সেনাবাহিনী ওকে বহিষ্কার করে। সেই থেকেই ও বন্ধুত্ব জমিয়েছে বল্লভপুরের সঙ্গে। যেহেতু রুদ্রনগরের নাড়িনক্ষত্র জানে তাই বল্লভরাজ ওকে গুপ্তচরের পদে আসীন করেছে। অসিচালনায় রাজ্জাক যথেষ্ট পারদর্শী। তাই আপনাকে হত্যা করতে এসেছিলো ও। আমি যেমন আপনার কনিষ্ঠার গাঢ় সবুজ বিরল সিংহলী পান্নাটা দেখে আপনাকে সনাক্ত করতে পেরেছি, রাজ্জাকও বহুদিন রুদ্রনগরে থাকার ফলে সম্ভবত ঐটা দেখেই শনাক্ত করেছে আপনাকে।

    মুসাফির বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন, বেগম আমার ওপরে এমন আক্রমণ আসতে পারে জেনেও তুমি আমায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছিলে? আবার আমায় রক্ষা করতেও যুদ্ধক্ষেত্রে এসেছো, এ কাজের কি বিচার হয় বেগম! আর রুদ্রনগরের হারেমের নিয়মভঙ্গের শাস্তিই বা কি হবে?

    রুকসানা নির্ভীক চিত্তে বললেন, বাদশাহ আপনি রুদ্রনগরের রক্ষাকর্তা। যে বল্লভপুর পূর্বে রুদ্রনগরের ক্ষতিসাধন করেছে, তাকে দমন করা আপনার কর্তব্য। আপনিই আপনার প্রজাদের আল্লাহ। তাই আপনাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছিলাম। আপনি উপস্থিত থাকলে সমগ্র সেনাবাহিনী উজ্জীবিত হবে। আপনার ওপরে প্রাণঘাতী আক্রমণ হতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই গতকাল থেকে আমি ছদ্মবেশে আপনাকে অনুসরণ করে চলেছি।

    আর হারেমের নিয়মশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করার শাস্তিস্বরূপ আপনি নিজে হাতে আমায় হত্যা করুন। আপনার তলোয়ার স্নান করুক রুদ্রনগরের ছোটি বেগমের রুধির ধারায়।

    মুসাফির রুকসানাকে আলিঙ্গন করে বললেন, রুদ্রনগরের বাদশাহ অভিযুক্তকে এক অভিনব শাস্তি দিতে প্রস্তুত। অভিযুক্ত কি সে শাস্তি মস্তকে ধারণ করতে প্রস্তুত?

    রুকসানা অভিমানী স্বরে বললেন, বেগম তার প্রাণ বাজি রাখতে প্রস্তুত প্রাণাধিকের প্রাণরক্ষার কারণে।

    মুসাফির বললেন, তবে আজ থেকে রুদ্রনগরের হারেমের সব ভার তোমার রুকসানা। তুমি তাদের উন্মুক্ত করতে পারো, চালনা করতে পারো। আজ থেকে হারেমের মুক্ত বেগম তুমি।

    রুকসানা আপ্লুত হয়ে দেখছিলেন বাদশাহকে। এমন নিয়মভঙ্গ হয়তো রুদ্রনগরের প্রজারা মেনে নেবে না প্রথমে। কিন্তু বাদশাহের অনুমতি থাকলে ইতিহাস রুকসানা বেগমকে মনে রাখবে আজীবন। হারেমের অন্ধকারময় জীবনে এই প্রথম কোনো আলোকবর্তিকা প্রবেশ করাতে পারবেন রুকসানা। এ নজীরবিহীন ঘটনা বোধহয় এই প্রথম।

    রুকসানা বাদশাহকে আলিঙ্গন করে বললেন, আর আমাদের জাহাজ মহল? সেটা কবে হবে বাদশাহ?

    মুসাফির বললেন, এবারে হবে। কুয়ামু পর্বতের মাথায় জাহাজের আকারে সে মহল আমি গড়ে দেবো তোমায় রুকসানা।

    রুকসানা বললেন, আমি ওখানে দাঁড়িয়ে চাঁদ ধরবো নিজের মুঠোয়।

    .

    তাঁবুর বাইরে সুজান খান অপেক্ষারত। নিজেকে রুকসানার বাহুডোর থেকে উন্মুক্ত করে বাইরে বেরিয়ে এলেন মুসাফির। বল্লভরাজ বন্দি হয়েছে রুদ্রনগরের সেনাপতির হাতে। তাকে এই মুহূর্তে হত্যা করে পিতৃঋণ পরিশোধ করতে পারেন মুসাফির। পিতার হত্যাকারী এখন তাদের দখলে। মুসাফির রক্ত ঝরানোর শাসনব্যবস্থা চান না। তাই নির্দেশ দিলেন বল্লভপুরের বাদশাহকে বন্দি করে রাখা হোক রুদ্রনগরের কারাগারে। রুকসানা তাঁবুর ভিতরে বসেই শুনলেন বাদশাহের নির্দেশ। বুঝলেন মুসাফিরের মধ্যে কবির ভাগ বেশি, বাদশাহের ভাগ কম। তাই তিনি নৃশংস খুনি হতে পারেন না। নতুন নিয়ম কায়েম হোক রুদ্রনগরের শাসনব্যবস্থায়। হারেমে প্রবেশ করুক মুক্ত বাতাস। রাজ্যের মানুষের মুখে ঘুরুক রুকসানা আর মুসাফিরের প্রেমকাহিনী।

    মুসাফিরের নির্দেশে হাতির মাথায় রাজকীয় হাওদা বাঁধা হলো, তাতে করেই রাজ্যে ফিরবেন ছোটি বেগম। ইতিমধ্যেই তাঁর বীরত্বের কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছে বল্লভপুর সীমান্ত পেরিয়ে বিষপুর থেকে রুদ্রনগরের পথে। এমনকি ধবলগড়েতেও পৌঁছে গেছে তাদের কন্যার বীরত্বের কাহিনী।

    বল্লভপুর জয় করে সদর্পে এগিয়ে চলেছে সেনাবাহিনী। প্যাট্রিকের মন উচাটন। বেশ কয়েকদিন হয়ে গেলো এই যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে আছেন। মধুবালাকে কথা দিয়েছিলেন ফেরার পথে সাক্ষাৎ করবেন। মধুবালা হয়তো পথ চেয়ে বসে আছে। প্যাট্রিকের দ্রুত অশ্বচালনা লক্ষ্য করেই বাদশাহ মুসাফির বললেন, হাকিম আজ বড়ই উতলা যেন। বাদশাহের যুদ্ধ জয়ের আনন্দে তুমি কি উপহার হিসেবে দেবে আমায়? প্যাট্রিক বিচলিত হয়ে বললেন, হুজুরকে অদেয় কিছুই নেই। কিন্তু হুজুরকে উপহার দেবার ধৃষ্টতা কি আমার আছে!

    মুসাফির বিষপুরে প্রবেশের আগেই মধ্যাহ্নভোজনে বসে প্যাট্রিককে বললেন, নীলকণ্ঠ মন্দিরের সেই কাঞ্চনীকে তুমি নিশ্চয়ই বিস্মৃত হওনি হাকিম? ওকেই পুরস্কার হিসেবে আমার চাই প্যাট্রিক। এ দায়িত্ব তোমায় অর্পণ করলাম। প্যাট্রিক বললেন, কিন্তু মধুবালা তো কাঞ্চনী নয়। সে তো ব্রাহ্মণ কন্যা হুজুর! তাকে অপহরণ করা কি সম্ভব?

    বাদশাহ মুচকি হেসে বললেন, ব্রাহ্মণ কন্যা কখনও গান-নাচ করে না বাইজিদের মত। ও নির্ঘাত কাঞ্চনী। হিরে জহরতের লোভে নিজেকে বিক্রয় করবেই। তোমার এ উপহার আমার আর রুকসানার পদ্মমহলে শোভা পাবে। আমার একান্ত সম্পত্তি করে রাখবো একে। তুমি জানো আমি সঙ্গীত পিপাসু সঙ্গে রূপেরও পিপাসু। রুকসানা বেগমের সম্মুখে কোরান ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি অন্য নারীতে আসক্ত হবো না। তাই এই কাঞ্চনীকে আমি স্পর্শ করবো না। শুধু তার কণ্ঠের সুরে, ঘুঙুরের বোলে আর রূপের ছটায় আমি মোহিত হতে চাই। দর্শন সুখকে আমরা কবিরা কাব্যে বড় উচ্চাসনে বসিয়েছি প্যাট্রিক। দেহজ সুখ নয়, এ শুধু আঁখির তৃপ্তি, মনের আরাম।

    .

    অজান্তেই প্যাট্রিকের মুষ্টিবন্ধ হয়ে গেল। চোখের সামনে কল্পনা করলেন, কাঞ্চনীর পোশাক পরে বাদশাহের সম্মুখে তার মন বহলাতে নৃত্য পরিবেশন করছে মধুবালা। তার আঙুলে প্যাট্রিকের রক্তাম্বর চুনি। চোখটা বন্ধ করে নিলেন প্যাট্রিক। অমোঘ নির্দেশ দিলেন বাদশাহ, আজ রাত্রেই অপহরণ করে নিয়ে এসো ওই কাঞ্চনীকে। রুদ্রনগরের এখন উৎসবের বাতাবরণ। আমরাও উপভোগ করতে চাই নৃত্যগীতের মাধ্যমে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচেনা অচেনার ভিড়ে – অর্পিতা সরকার
    Next Article অনুভবে তুমি – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }