Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খেলার নাম খুন – সৈকত মুখোপাধ্যায়

    সৈকত মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প175 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছক্কা পুট – সৈকত মুখোপাধ্যায়

    ছক্কা পুট

    রিটায়ার্ড অ্যাডিশনাল এসপি উমাশঙ্কর চৌবে বিকেলবেলায় তাঁর বাড়ির ছাদের ফুলগাছগুলোতে ঝারি করে জল দিচ্ছিলেন। পরনে সাদা-কালো স্ট্রাইপ দেওয়া পোলো নেক গেঞ্জি আর নেভি-ব্লু টেনিস শর্টস। চার বছর হল চৌবেসাহেব পুলিশ-সার্ভিস থেকে রিটায়ার করেছেন। তার মানে ওঁর বয়স এখন চৌষট্টি। কিন্তু সাদা চুলগুলো ছাড়া আর কোথাও বয়সের ছাপ পড়েনি। চৌবেসাহেবের চেহারা এখনো বেতের মতন ছিপছিপে, চোখের মণি ষোল বছরের কিশোরের চোখের মতন উজ্জ্বল।

    জল দেওয়ার কাজটা চৌবেসাহেব মন দিয়েই করছিলেন, তবে তার মধ্যেও একটা ফোন-কলের জন্যে নিশ্চয় তাঁর প্রতীক্ষা ছিল। না হলে হাতের কাছে সিমেন্টের ছোট বেদিটায় মোবাইল-ফোনটা রাখা থাকবে কেন? সেই কল অবশেষে এলো। রিং হতেই তিনি তাড়াতাড়ি একটা ছোট তোয়ালেতে হাতের জলটা মুছে নিয়ে কল রিসিভ করলেন। বললেন, হ্যাঁ, বিনায়ক বলো। আমি তো দুপুর থেকেই ভাবছি তোমার কাছ থেকে একটা খবর পাব। এত দেরি হল যে?

    গতকাল দুপুরেই বিনায়ক এক সমস্যা নিয়ে চৌবেসাহেবের বাড়ি এসেছিল। পরনে ছিল পুরোদস্তুর পুলিশ-ইউনিফর্ম, তবে ঘামে আর ময়লায় সেই ইউনিফর্ম বেশ বিধ্বস্ত। বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল ইউনিফর্মের মালিককেও। চিন্তাক্লিষ্ট মুখ। মাথার টুপিটা টি-টেবলের ওপর আছড়ে ফেলে বিনায়ক হতাশ গলায় বলেছিল, যত ঝামেলার কেস আমার ঘাড়েই এসে পড়ে কেন বলুন তো?

    চৌবেসাহেব মুচকি হেসে বলেছিলেন, তোমার ঘাড়টা শক্ত বলে। আগে আরাম করে বসো। তারপর বলো, কী হয়েছে।

    বিনায়কের মুখে পুরো ব্যাপারটা শুনে চৌবেসাহেব বুঝেছিলেন, এবারের ব্যাপারটা খুন-জখম কিংবা টেররিজমের মতন অত ভয়ঙ্কর কিছু নয়। তবে তা না হলেও বিনায়কের পক্ষে খুব চ্যালেঞ্জিং। একটা হিরে চুরির কেস। এই কেসটাকে পেটি-কেস হিসেবেই দেখা যেত, যদি না হিরেটা হত ভুটানের রাজার এক রিলেটিভের। এই জন্যেই কেসটা চ্যালেঞ্জিং। হিরেটা উদ্ধার না করতে পারলে প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রের কাছে মুখ থাকবে না। জেলা পুলিশের বড়কর্তারা বিনায়ককে বলে দিয়েছেন আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে যে করে হোক হিরেটা খুঁজে বার করে রাজার আত্মীয়ের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। তা না হলে তার প্রোমোশন টোমোশন আটকে যেতে পারে।

    ঘটনাটা এই রকম। ভুটানের রাজার এক খুড়তুতো ভাই সপরিবারে বেড়াতে এসেছেন ডুয়ার্সের এক ফরেস্ট বাংলোয়। ওই জায়গাটা চৌবেসাহেব খুব ভালো করে চেনেন। বাংলোটা রায়ডাক নদীর ধারে। চারিদিকে ঘন বন আর সীমাহীন নির্জনতা, অথচ বাংলোর ভেতরে চমৎকার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। সেই জন্যেই রায়ডাকের এই বাংলোটা দেশ বিদেশের ভিআইপিদের কাছে চিরকালই ছুটি কাটানোর খুব প্রিয় জায়গা। চৌবেসাহেব নিজে যখন সার্ভিসে ছিলেন, তখন তাঁকেও অনেকবার ওই বাংলোয় ভিআইপিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। সেই জন্যেই বাংলোটা তাঁর চেনা।

    যাই হোক, এখন ওই বাংলোয় যিনি অতিথি, ভুটানরাজের সেই ভাই থাকেন ভুটান-ইন্ডিয়া বর্ডারের কাছেই ফুন্টশোলিং শহরে। সেখানেই তাঁর প্রাসাদের মতন বড় বাড়ি। রাজার ভাইয়ের আসল নামটা মস্ত বড়। সবাই তাকে ছোট করে জিমি সাহেব বলে ডাকে।

    জিমি সাহেবের রাজকীয় উত্তরাধিকার যা আছে তা তো আছেই। তা ছাড়াও রয়েছে বিশাল পারিবারিক ব্যবসা। তাঁর মধ্যে ফ্রুট-জুস তৈরির কারখানা, প্লাইউডের মিল, তিন তারা হোটেল, বিদেশি গাড়ির এজেন্সি কী নেই? এই সব কিছুর মালিক জিমি, যদিও তাঁর বয়স এখনো চল্লিশ ছোঁয়নি।

    তবে এত ক্ষমতা আর অর্থ থাকা সত্ত্বেও জিমি মানুষটি ভীষণই ভদ্র। চুরির খবর পেয়ে যখন বিনায়ক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গিয়েছিল তখনও তিনি বিনায়কের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছিলেন। এমনকী তার জন্যেই যে বিনায়ককে আলিপুরদুয়ার থেকে অত সকালে রায়ডাক ছুটে আসতে হয়েছিল এর জন্যে তিনি খুবই সঙ্কুচিত বোধ করছেন বলে জানিয়েছিলেন।

    জিমি সাহেবের স্ত্রী মন্দিরাও ভীষণ সাদামাটা এবং ভদ্র মহিলা, যদিও পরে বিনায়ক জানতে পেরেছে মন্দিরা লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সের গ্র্যাজুয়েট। হাবেভাবে, আচার-আচরণে জিমি বা মন্দিরা কারুরই কোনো সাহেবিয়ানা নেই। বিনায়ক আর তার অ্যাসিস্ট্যান্টদের ব্রেকফাস্ট না করিয়ে ওরা কিছুতেই ফিরতে দেননি। পুলিশের চাকরিতে ঢোকার পর থেকে বিনায়ক কোনো ভিআইপির কাছ থেকে প্রথমবার এমন মানবিক ব্যবহার পেল।

    জিমি সাহেব আর তার স্ত্রী মন্দিরার সঙ্গে রয়েছে তাদের একমাত্র ছেলে বীজেশ। বীজেশের বয়স দশ। ওই বয়সের একটা ছেলে যেরকম হয়, বীজেশও ঠিক সেই রকম। একটু গুন্ডা। কিন্তু দারুণ ইনটেলিজেন্ট। গাছে চড়ছে, খেলনার তির ছুঁড়ছে। আবার মুহূর্তের মধ্যে রুবিক-কিউবের রং মিলিয়ে দিচ্ছে। হ্যাঁ, যে কোনো দশ বছরের ছেলের মতনই বীজেশও প্রথমটায় পুলিশ দেখে ভীষণ ভয় পাচ্ছিল, তবে আধঘণ্টার মধ্যেই বিনায়ক তার বন্ধু হয়ে গিয়েছিল।

    আগের দিন বিনায়ক একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা কনস্টেবলকে নিয়ে যখন রায়ডাক বাংলোয় পৌঁছেছিল তখন সকাল ন’টা। তার আগে সকাল সাতটায় ঘুম থেকে উঠে জিমি আবিষ্কার করেছেন তাঁর ডান হাতের অনামিকার আংটিটা রয়েছে, কিন্তু আংটিতে গাঁথা পদ্মরাগ হিরেটা নেই।

    এর একটাই ব্যাখ্যা হতে পারে। আগের রাতে জিমি সাহেব একবার বাথরুম যাবার জন্যে উঠেছিলেন। বাথরুম থেকে বেরিয়ে তিনি ডাইনিং- স্পেসের বেসিনে মুখ-হাত ধুয়েছিলেন, তারপর আবার বেডরুমে ঢুকে শুয়ে পড়েছিলেন। বেসিনে হাত-মুখ ধোয়ার সময়েই নিশ্চয় আংটি থেকে আলগা হয়ে পাথরটা বেসিনের মধ্যে খসে পড়েছিল। রায়ডাক বাংলোয় এখনো বিদ্যুতের আলো নেই। জিমি যখন বাথরুমে গিয়েছিলেন তখন বারান্দার এক কোণে একটা দেওয়ালগিরি তেল ফুরিয়ে টিমটিম করে জ্বলছিল। সেই দেওয়ালগিরির আবছা আলোয় ঘুমজড়ানো চোখে জিমি বুঝতেও পারেননি কখন পাথরটা খসে পড়ল।

    .

    দুই

    সকালে যখন জিমি দেখেন আংটির পাথরটা নেই তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডেকে তোলেন। তিনি এবং মন্দিরা বেডরুম থেকে বেরিয়ে প্রথমে বেসিন, তারপর ডাইনিং স্পেস এবং তারপর নিজেদের বেডরুম তন্ন তন্ন করে খুঁজেছেন। পদ্মরাগ হিরেটা তারা খুঁজে পাননি। তখন জিমি বাংলোর কেয়ারটেকারের মাধ্যমে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যাপারটা জানান। তারপরেই বিনায়ক তার সহকারীদের নিয়ে রায়ডাক বাংলোয় পৌঁছে যায়।

    ওখানে পৌঁছে বিনায়ক জানতে পারে, ডাইনিং স্পেসের দরজা রাতে ভেতর থেকে বন্ধ করা হয় না। ডাইনিং স্পেসের দু’ দিকে দুটো বেডরুম। তার মধ্যে যেটা বড়, সেটায় স্ত্রী এবং ছেলেকে নিয়ে শুয়েছিলেন জিমি ওয়াংচুক। অন্যটায় বীজেশের গভর্নেস মার্থা গোমেজ। দুটো বেডরুমের দরজাই ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।

    ওই সকালে খোলা ডাইনিং স্পেসে ঢোকার এবং বেসিনে পড়ে থাকা হিরেটা দেখার সম্ভাবনা ছিল মাত্র তিনজনের। এক, বাংলোর খানসামা রামরতন। সে সকাল সাড়ে ছ’ টায় রোজকার মতন ডাইনিং-স্পেসের টেবিল থেকে রাতের খাওয়ার বাসনপত্র সরিয়ে নিয়ে নতুন টেবিল ক্লথ পেতে দিয়ে গিয়েছিল। কারণ, ওই টেবিলেই সাড়ে সাতটার সময় অতিথিদের চায়ের পট সাজিয়ে দিতে হয়।

    দুই, জিমি ওয়াংচুকের নিজস্ব ড্রাইভার পাশাং নোরবু। নোর এমনিতে বাংলোর আউট হাউসে আস্তানা গেড়েছে। তবে সকালে ঘুরতে ঘুরতে খোলা ডাইনিং স্পেসে ঢুকে পড়াটা তার কাছে অসম্ভব কিছুই নয়।

    তিন, মার্থা গোমেজ। বীজেশের গভর্নেস। বীজেশের স্নান, খাওয়া, পড়াশোনা, খেলাধুলো সবকিছুর দায়িত্ব বছর চল্লিশের ওই গোয়ানিজ ভদ্রমহিলার হাতে। আগেই বিনায়ক বলেছে, দুটো বেডরুমের মধ্যে ছোটটায় শুয়েছিল মার্থা। রাত সাড়ে তিনটের পরে কখনো নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে ডাইনিং স্পেসের বেসিনের কাছে গেলেই মার্থা হিরেটাকে দেখে ফেলতে পারে। তারপর সেটাকে সরিয়ে ফেলতেই বা কতক্ষণ?

    তিনজনেরই বডি এবং ঘর সার্চ করা হয়ে গেছে। বলেছিল বিনায়ক। হিরেটা পাওয়া যায়নি।

    এই অবধি শোনার পর উমাশঙ্কর চৌবে প্রশ্ন করেছিলেন, হিরেটার সাইজ কেমন?

    বিনায়ক উত্তর দিয়েছিল, বেশি বড় নয়, একটা মটরশুটির দানার মতন। তবে জিমিসাহেব বললেন, পদ্মরাগ হিরে খুব রেয়ার। তার ওপরে এই হিরেটার কোয়ালিটি এবং কাট্ ছিল আনপ্যারালাল। এখনকার বাজারে ওটার দাম কম করেও কুড়ি থেকে পঁচিশ লাখ টাকা হবে

    উমাশঙ্কর চৌবে কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে চিন্তা করলেন। তারপর বললেন, এ তো খড়ের গাদা থেকে সুচ খোঁজার চেয়েও শক্ত কাজ বিনায়ক। ধরো ওই খানসামা রামরতন। সে যদি হিরেটা পেয়ে থাকে তাহলে নিজের ঘরে বা শরীরের কোথাও লুকিয়ে রাখতে যাবে কেন? বাংলোর বাইরে অত বড় জঙ্গলটার যে কোনো গাছের কোটরে লুকিয়ে রাখতে পারে। পরে সবকিছু থিতিয়ে গেলে সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে বেচে দেবে।

    বিনায়ক একটু কিন্তু কিন্তু করে বলল, হ্যাঁ, তা পারে। তবে কী জানেন স্যার, রামরতনের পাস্ট রেকর্ড যা দেখেছি তাতে ওকে চোর বলে ভাবতে একটু কষ্ট হচ্ছে। ও গত তিরিশ বছর ধরে ওই বাংলোয় খানসামার কাজ করছে। ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার রজত গুপ্ত আমাকে বললেন, এর আগে বহুবার ও অমন দামি দামি জিনিস পড়ে থাকতে দেখে সেগুলো মালিকের হাতে ফেরত দিয়ে দিয়েছে। লোকটার এই সংসারে আর কেউ নেই। ফলে টাকার লোভও নেই। তাছাড়া একটা চোরাই হিরে বিক্রি করতে যাওয়ার যে বিপদ সেটা কি ও জানে না? রামরতনকে যখন ইন্টারোগেট করেছি তখনও ও এই কথাই বলেছিল আমাদের। কার জন্যে চুরি করব স্যার? আমার পয়সায় খাবে কে?

    বেশ! বললেন চৌবেসাহেব। এবার এসো ড্রাইভার পাশাং নোরবুর কথায়। ঘরে বা নিজের শরীরে না লুকিয়ে সে যদি হিরেটাকে জিমিসাহেবের গাড়ির কোনো এক খাঁজে লুকিয়ে রাখে?

    বিনায়ক বলল, প্রথমেই সেই সম্ভাবনার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু কাল বিকেলে জিমিসাহেব নিজেই গাড়িটা ড্রাইভ করে জঙ্গলের রাস্তায় ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। বাংলোয় ফিরে এসে গাড়ি লক করে চাবিও উনি নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন। তাছাড়া রজত গুপ্ত যেমন রামরতনের সততা নিয়ে নিঃসন্দেহ, তেমনি জিমি সাহেব তার ড্রাইভারের সততা নিয়ে। পাশাং না কি কদিন আগেই গাড়ির সিটে পড়ে থাকা হিরের ব্রোচ মন্দিরা ম্যাডামকে ফেরত দিয়ে দিয়েছে। জিমি সাহেব বার বার আমাদের বলেছেন, পাশাং-কে যেন হ্যারাস্ করা না হয়।

    চৌবেসাহেব বাঁকা হেসে বললেন মানুষের চরিত্র সম্বন্ধে যদিও নিঃসন্দেহ হয়ে কখনোই কিছু বলা যায় না, তবু আপাতত তৃতীয় জনের কথাই ভাবা যাক। কী যেন নামটা বললে? মার্থা না?

    হ্যাঁ, মার্থা গোমেজ। মহিলা গোয়ার এক কনভেন্টের টিচার ছিলেন। কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে বীজেশের গভর্নেসের চাকরির জন্যে অ্যাপ্লাই করেন। জিমি এবং মন্দিরা বলছেন ওঁর কাগজপত্র সবই ওকে। ওঁর ঘর এবং বডি মহিলা কনস্টেবলকে দিয়ে সার্চ করিয়েছি। কিছু পাওয়া যায়নি। ওঁর ক্ষেত্রে অবশ্য হিরেটা বাইরে কোথাও সরিয়ে ফেলার সুযোগ সবচেয়ে কম। উনি সারাদিনই মন্দিরাদেবীর চোখে চোখে থাকেন। কাজেই ওঁর কাছে হিরেটা নেই মানে উনি ওটা নেননি বলেই ধরে নেওয়া যায়।

    চৌবেসাহেব সবটাই শুনলেন, কিন্তু কোনো মন্তব্য করলেন না। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বিনায়ক অধৈর্য হয়ে বলল, স্যার, এখন কী করব? কিছু তো বলুন।

    চৌবেসাহেব বললেন, বিনায়ক, তুমি কি জিমি সাহেবের বেডরুম সার্চ করতে পারবে?

    প্রস্তাবটা শুনেই বিনায়ক শিউরে উঠল। বলল, কী বলছেন স্যার? চাকরিটা খোয়াব? তাছাড়া ওখানে কেউ হিরেটাকে রাখবেই বা কেন? চোর তো চাইবে ওটাকে জিমি সাহেবের থেকে যতটা পারা যায় দূরে নিয়ে চলে যেতে।

    উঁহু। ঠান্ডা মাথায় ভাবলে দেখবে, যেই হিরেটা চুরি করে থাকুক, তার পক্ষে সেটাকে লুকিয়ে রাখার সবচেয়ে ভালো জায়গা কিন্তু জিমি সাহেবের ঘর। কারণ ওখানে কেউ হিরেটাকে খোঁজার কথা ভাববেই না।

    বিনায়ককে আইডিয়াটা হজম করার জন্যে প্রয়োজনীয় সময়টা দিয়ে চৌবেসাহেব বললেন, তুমি কাল আরেকবার রায়ডাক বাংলোয় যাও বিনায়ক। একাই যাও।

    তারপর?

    তারপর ওঁদের সঙ্গে মিশে যাও। ওঁদের সঙ্গেই বাংলোর আশেপাশে ঘুরে বেড়াও। গল্প করো। ওঁরা যেরকম সজ্জন, তাতে আপত্তি করবেন বলে তো মনে হয় না।

    তারপর?

    এই সবের মধ্যেই চোখ রাখো বাংলোর প্রত্যেকটা লোকের গতিবিধির ওপর। কে কী করছে? কোনদিকে তাকাচ্ছে? কোনো ছোটোখাটো অস্বাভাবিকতাকেও হিসেবের বাইরে রেখো না। দ্যাখো, আমার মনে হয় এভাবেই হিরের খোঁজ পেয়ে যাবে।

    চৌবেসাহেবের সামনের চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বিনায়ক কুণ্ঠিত স্বরে ডাকল— স্যার!

    কী হল?

    আপনি যা বললেন আমি তাই করব। কাল একাই আবার যাব রায়ডাক বাংলোয়। শুধু মাঝখানে একবার আপনাকে ফোন করব। কে কী করছে না করছে ফোনেই আপনাকে জানাব। আপনি বলে দেবেন কোনটা স্বাভাবিক আর কোনটা অস্বাভাবিক।

    চৌবেসাহেব হেসে ফেললেন। বললেন, আচ্ছা আচ্ছা। তাতে অসুবিধে নেই। চলো, বেস্ট অফ লাক।

    .

    তিন

    সেই ফোন এল এই একটু আগে, যখন চৌবেসাহেব ঝারি করে তাঁর ছাদের বাগানের গাছে জল দিচ্ছিলেন। চৌবেসাহেব জিজ্ঞেস করলেন, বলো বিনায়ক, কী খবর?

    স্যার, জিমি ওয়াংচুক আর ওঁর মিসেস একটু অসন্তুষ্ট।

    কেন?

    আমি স্যার কাল থেকেই বাংলোর গেটে পুলিশ পোস্টিং করে দিয়েছিলাম, যাতে রামরতন, পাশাং নোরবু কিংবা মার্থা গোমেজ বাংলো থেকে বেরোতে না পারে। গাড়িটাকেও বাংলোর চৌহদ্দির মধ্যে আটকে রেখেছি। জিমি সাহেবকে আমি রিকোয়েস্ট করেছি আজকের দিনটুকু এই অসুবিধেগুলো একটু সহ্য করে নিতে। এমনিতেই কালকে ওঁরা ভুটানে ফিরে যাচ্ছেন। সেরকমই ওঁদের প্রোগ্রাম ছিল। তার মানে আজ রাতটুকুই আমি সুযোগ পাচ্ছি।

    বাকিদের খবর কী?

    রামরতন তার কাজ করে যাচ্ছে। মুখটুখ কালো। সেটা ভয়েও হতে পারে আবার অপমানেও হতে পারে। আসলে দুয়েকজন কর্মচারী যারা ওর রান্নার জিনিসপত্র নিয়ে বাংলোয় ঢুকেছিল, বেরোনোর সময় তাদের প্রত্যেকের থরো বডি-সার্চ করে তবেই বেরোতে দেওয়া হয়েছে। সেটাতে বোধহয় রামরতনের অপমান হয়েছে।

    তা আর কী করা যাবে? তোমার কাজ তো তোমাকে করতেই হবে। পাশাং নোরবু কী করছে?

    সারাদিন আউট হাউসে বসে ড্রিঙ্ক করে যাচ্ছে আর আমার দিকে আগুন চোখে তাকাচ্ছে।

    ম্যাডাম মার্থা?

    সে-ও সমান বিষণ্ণ। প্রায় সারাটা দিনই নিজের ঘরে বসে ছুরি, কাঁচি, পিজবোর্ড আর অ্যাডহেসিভ নিয়ে বীজেশের স্কুলের প্রোজেক্ট বানাচ্ছে। মন্দিরা দেবীর সঙ্গে গল্প করতে করতে জানলাম, বীজেশের স্কুলের ভেকেশন পরশুই না কি শেষ হচ্ছে, আর তখনই ওই সব মডেল-টডেল জমা দিতে হবে। স্যার মডেলগুলো আমি একফাঁকে চেক করে দেখেছি। ওখানে হিরে নেই।

    না দেখলেও পারতে। লুকোনোর জায়গা হিসেবে ওটা বড্ড অবভিয়াস। বীজেশের খবর কী?

    ওরই অবস্থা সবথেকে শোচনীয়। ওইটুকু বাচ্চা গৃহবন্দি হয়ে থাকতে চায় কি? মন্দিরা আর মার্থার পক্ষে ওকে সামলে রাখাই দায় হয়ে যাচ্ছে। শেষমেষ আমাকেও মাঠে নামতে হল।

    বটে! কী করলে?

    লুডো খেলছিলাম স্যার। পুলিশ আংকল, পুলিশ আংকল বলে ডেকে বাচ্চাটা আমাকেই হাত ধরে টেনে লুডো খেলতে বসিয়ে দিল। আমিও দেখলাম ভালোই হল। এই সুযোগে একটু আপনি যেমন বলেছিলেন, ওঁদের বেডরুমের ভেতরটা নজর রাখা গেল। ওই জন্যেই আপনাকে ফোন করতে দেরি হয়ে গেল স্যার।

    লুডোখেলায় কে জিতল বিনায়ক? হালকা চালেই জিজ্ঞেস করলেন উমাশঙ্কর চৌবে।

    একটু অপ্রস্তুত গলায় বিনায়ক বলল, হেঁ হেঁ… ওই ইয়ে আর কি। কী বলব স্যার, ওইটুকু বাচ্চা বলে বলে ছক্কা ফেলছে। শেষকালে আমি যখন হেরে গোভূত হয়ে উঠে আসছি, তখন আমাকে কায়দাটা শিখিয়ে দিল। বলল, পুলিশ-আংকল, ছক্কা যদি ফেলতে চাও তাহলে ছক্কার উলটোদিকটা, এই যে দ্যাখো, এই চারটে ফোঁটা যেদিকটায় আছে সেই দিকটাকে ওপরে রেখে ঘুঁটি চালবে, বুঝলে? তাহলেই ছক্কা পড়বে।

    আবার বলো বিনায়ক। হঠাৎই চৌবেসাহেবের গলা ভীষণ গম্ভীর শোনালো। আবার বলো, বাচ্চাটা কী বলল?

    আমতা আমতা করে বিনায়ক বলল, স্যার, ও বলল, ছক্কার ছ’ টা ফোঁটা যেদিকটায় আঁকা আছে, তার উলটোদিকটা, মানে যেদিকে চারটে ফোঁটা আঁকা আছে সেদিকটাকে ওপরে রেখে…।

    বিনায়ক, তুমি কি নিজের চোখে দেখেছ, ছটা ফোঁটা যেদিকে আঁকা আছে, তার উলটো পিঠে চারটে ফোঁটা?

    হ্যাঁ স্যার।

    তুমি হিরে পেয়ে গেছ বিনায়ক।

    .

    জিমি ওয়াংচুকের হাতে তার হারিয়ে যাওয়া পদ্মরাগ হিরে তুলে দিয়ে বিনায়কের কাজ শেষ হল না। এমনকী মার্থাকে হাজতে ঢুকিয়েও নয়। অত রাতে আলিপুরদুয়ার থেকে সার্ভিস জিপে চড়ে বিনায়ককে কুচবিহার এয়ারপোর্টের পাশের রাস্তায় সেই বাড়িটার যেতে হল, যে বাড়িটার ছাদে চমৎকার ফুলের বাগান। চৌবেসাহেব ছাদের এক কোণে গার্ডেন-চেয়ারে বসে মন দিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পড়ছিলেন। বিনায়ক সরাসরি সেইখানে উপস্থিত হয়ে বিনা ভূমিকায় বলল, আপনাকে বলতেই হবে স্যার, কেমন করে বুঝলেন মাথা লুডোর ছক্কার মধ্যে হিরে লুকিয়ে রেখেছে।

    ও হো, এ তো খুবই সহজ। লুডোর ছক্কা দেখেছ কখনো?

    হাজার বার দেখেছি। আজকেই দুপুর থেকে ওই ছক্কাটা কিছু না হলে একশোবার হাতে নিয়েছি।

    উঁহু, মন দিয়ে দ্যাখোনি। দেখলে জানতে পারতে, পৃথিবীর সমস্ত চৌকোনা লুডোর ছকে ফোঁটা কাটার একটাই নিয়ম মানা হয়। মুখোমুখি দুটো পিঠের ফোঁটার যোগফল সবসময়েই হবে সাত। কী, বুঝতে পারলে না?

    ধরো, চারটে ফোঁটা যে পিঠে আছে, তার উলটো পিঠে থাকবে তিন ফোঁটা। চার আর তিন যোগ দিলে কত হয়? সাত। দুটো ফোঁটা যেদিকে আছে তার উলটো পিঠে থাকবে পাঁচ ফোঁটা। পাঁচ আর দুইয়ের যোগফল? সাত। ছ’ টা ফোঁটা যে পিঠে আছে তার উলটো পিঠে থাকবে…।

    চৌবেসাহেবের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বিনায়ক বলল, পুট।

    ব্যস, এটা জানলে আর কী বাকি রইল? তুমি তো আগেই বলেছ, মার্থার ঘরে ছিল, ছুরি আর অ্যাডহেসিভ। রাত্তিরে ওই মেয়েটা ডাইনিং স্পেসে বেরিয়েছিল। দেখেছিল বেসিনের মধ্যে পড়ে আছে পদ্মরাগ হিরে। লোভ সামলাতে না পেরে সেই হিরে নিয়ে এসে কোথায় লুকোবে, কোথায় লুকোবে ভাবতে ভাবতে দেখল, ঘরের কোনায় পড়ে আছে বীজেশের লুডোর বোর্ড। ব্যাস, তখনই ছক্কার ছ’ টা সাইড খুলে ফেলে, মটরদানার মতন হিরেটাকে তার ভেতরে ভালো করে আঠা দিয়ে লাগিয়ে আবার ছ’ টা সাইড এঁটে দিল।

    এরই মধ্যে ধর্মের কল বাতাসে একটু নড়ে গেল। ছক্কার হিসেবটা মার্থার জানা ছিল না বলে সে ছ’ ফোঁটার উলটোদিকে লাগিয়ে দিল চার ফোঁটা। আর তুমিও অমনি খপ করে ধরে ফেললে, হিরেটা কোথায় লুকোনো আছে।

    স্যার, আর লজ্জা দেবেন না। বিনায়ক নীচু হয়ে চৌবেসাহেবকে প্রণাম করতে যেতেই চৌবেসাহেব তাকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার
    Next Article সন্ধ্যা নামে ধীরে – কোয়েল তালুকদার

    Related Articles

    সৈকত মুখোপাধ্যায়

    ১৬ আনা ভয় – সম্পাদনা : সৈকত মুখোপাধ্যায়

    January 6, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }