Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খেলার নাম খুন – সৈকত মুখোপাধ্যায়

    সৈকত মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প175 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রুপোর কাঠি – সৈকত মুখোপাধ্যায়

    রুপোর কাঠি

    ভেবে দেখতে গেলে, খড়ের গাদা থেকে ছুঁচ খোঁজার কাজটা এমন কিছু কঠিন নয়। বললেন চৌবেসাহেব, মানে রিটায়ার্ড অ্যাডিশনাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ, উমাশঙ্কর চৌবে। যাকে বললেন, তার নাম বিনায়ক বসু, আলিপুরদুয়ার থানার ওসি। দুজনের সম্পর্কটা গুরু-শিষ্যের। গত পাঁচ-বছরে বিনায়কের হেফাজতে থাকা পাঁচটা জটিল কেস চৌবেসাহেব মাথা খাটিয়ে সলভ্ করে দিয়েছেন।

    যতদিন চাকরির মধ্যে ছিলেন ততদিন ইনভেস্টিগেটিং অফিসার হিসেবে ওই মাথা খাটানোটাই ছিল চৌবেসাহেবের বিশেষত্ব। কোনোদিনই তিনি অত পোস্ট-মর্টেম, ফরেনসিক, জুতোর দাগ, রক্তের ছোপের ধার ধারতেন না। এখনো মাঝেমধ্যেই বিনায়ককে বলেন, অপরাধীর মনের মধ্যে ঢুকে পড়ো বিনায়ক! ইনভেস্টিগেশনের সময় নিজেই মনে মনে ক্রিমিনাল হয়ে যাও। ভাবো, ওই সময়ে তুমি হলে কী করতে।

    বিনায়ক শ্রদ্ধা নিয়ে চৌবেসাহেবের কথা শোনে। চেষ্টা করে, ওঁর মতনই তথ্যের ফাঁক-ফোঁকরগুলো কল্পনা দিয়ে ভরাট করতে। কিন্তু পেরে ওঠে না। সবাই তো আর উমাশঙ্কর চৌবে নন।

    তবে হ্যাঁ, বিনায়ক নামে এই যুবক অফিসারের মধ্যেও এমন কিছু গুণ রয়েছে যেগুলোর মর্ম উমাশঙ্কর চৌবে বোঝেন এবং অ্যাপ্রিশিয়েট করেন। যেমন, সততা, পরিশ্রম করার ক্ষমতা আর সর্বোপরি একটা নাছোড় মনোভাব। বিনায়ক বসু যে-কেসের পেছনে পড়ে, তার শেষ না দেখে ছাড়ে না। যেখানে নিজের ক্ষমতায় শেষ অবধি এগোতে পারে না, সেখানেই বিনায়ক উমাশঙ্কর চৌবেকে এসে ধরে। এই আজকেই যেমন এসেছে।

    রিটায়ার করার পর চৌবেসাহেব কুচবিহারের এয়ারপোর্টের লাগোয়া একটা জমিতে সুন্দর দোতলা বাড়ি বানিয়ে বাস করছেন—উনি আর ওঁর স্ত্রী। ছেলে বিদেশে। বাড়ির ছাদে চৌবেসাহেবের নিজের হাতে তৈরি টবের ফুলবাগান রয়েছে। এখন শীতকাল, তাই সেই বাগান আলো হয়ে রয়েছে নানান রঙের ডালিয়া আর চন্দ্রমল্লিকায়। ছাদেরই একপাশে দুটো গার্ডেন চেয়ারে শীতের রোদে পিঠ দিয়ে বসেছিলেন চৌবেসাহেব আর বিনায়ক বসু। এয়ারপোর্টের শেষপ্রান্তে টকটকে নীল আকাশের গায়ে চারকোলে আঁকা ভুটান পাহাড় যেন যেন কোনো শিশুর ড্রইং-খাতা।

    চৌবেসাহেবের বয়স পঁয়ষট্টি ছাড়িয়েছে, কিন্তু মাথায় কালোর মধ্যে মিশে থাকা অল্প কিছু সাদা চুল আর দু’ চোখের কোনায় দুটো শালিখ-পাখির পায়ের ছাপ ছাড়া তাঁর বাকি শরীরে বয়সের আর কোনো চিহ্ন নেই। ছিপছিপে শরীর, উজ্জ্বল চোখ। বিনায়ক তাঁর বাড়িতে আসার অল্প কিছু আগেই তিনি মর্নিং-ওয়াক সেরে ফিরেছেন। এখনো তাঁর পরনে তাই ট্রাকস্যুট আর হালকা একটা উইন্ড-চিটার।

    বিনায়ক আগেই চৌবেসাহেবকে ফোন করে জানিয়ে রেখেছিল যে সে আসছে। ও যখন চৌবেসাহেবের বাড়িতে ঢুকল তখন সাতটা বাজে। বিনায়ক যখনই আসে, তখনই এইরকম সাতসকালে আসে। তার কারণ, বিনায়ক আবার ঘড়ি ধরে নটায় তার নিজের অফিসে ঢুকে পড়তে চায়। এ ব্যাপারে ও ভীষণ ডিসিপ্লিনড। আর সেটা করতে গেলে, তাকে কুচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ারের দিকে রওনা হতে হয় অন্তত সোয়া আটটার মধ্যে। তার আগে কথাবার্তা সারার সময় চাই তো।

    সময় কম বলেই বিনায়ক বোধহয় সরাসরি কাজের কথায় চলে এলো। চায়ের কাপটায় শেষ একটা চুমুক দিয়ে, সেটাকে সেন্টার টেবলে নামিয়ে রেখে বলল, স্যার, একটা সমস্যায় পড়েছি। খুনজখমের মামলা নয়। একটা জিনিস হারিয়েছে… মানে চুরি গিয়েছে… যেটা একইসঙ্গে অত্যন্ত দামি আর সেনসিটিভ। রিপোর্টাররা খবর পেলে এক্ষুনি কাগজের হেডলাইন হয়ে যাবে। এদিকে আবার ব্যাপারটার মধ্যে দু-একজন ভিআইপি জড়িত রয়েছেন। কাজেই আমাদের যে চালু প্রসেসগুলো রয়েছে সেগুলোও অ্যাপ্লাই করতে পারছি না।

    চৌবেসাহেব দিব্যি হাতের মুঠোর ওপরে চিবুক রেখে, মন দিয়ে বিনায়কের কথাগুলো শুনছিলেন। হঠাৎ মুখটুখ কুঁচকে বললেন, তোমাদের চালু প্রসেস মানে ওই থানায় তুলে এনে থার্ড ডিগ্রি দিয়ে পেট থেকে কথা বার করা? নো নো নো। আই অলওয়েজ ডিসলাইকড দ্যাট প্রিমিটিভ মোড অফ ইনভেস্টিগেশন।

    বিনায়ক মাথা চুলকে বলল, আপনার কথা আলাদা স্যার। আপনি ক্রিমিনালদের মন পড়তে পারেন। আমরা তো তা পারি না। আমাদের তাই একটু আধটু ওসব লাগে। যাই হোক, তারপর বলি?

    বলো! জিনিসটা কী? গম্ভীরমুখে জানতে চাইলেন চৌবেসাহেব।

    জিনিসটা স্যার একটা ছুঁচ।

    চৌবেসাহেব একটু চিন্তিতমুখে বিনায়কের মুখের দিকে তাকালেন। ছেলেটার মধ্যে যে অনেক গুণ রয়েছে তা তিনি জানেন; কিন্তু রসিকতা করার ক্ষমতাটা তার মধ্যে পড়ে না। সত্যি কথা বলতে কি, বিনায়ক কথায়-বার্তায় আচার-আচরণে একটু কাঠখোট্টাই আছে। তাহলে? আজ হঠাৎ হলো কী?

    চৌবেসাহেবের চোখের দৃষ্টির মানে বুঝতে পেরেই বিনায়ক হাত তুলে হাঁউমাঁউ করে উঠল—না, স্যার! সত্যি কথাই বলছি। একটা ছুঁচই চুরি গেছে। আ নিডল, আ পোলোনিয়াম নিডল।

    মাই গুডনেস! চৌবেসাহেব শরীরের ওপরের অংশটা ঝুঁকিয়ে নিয়ে এলেন বিনায়কের কাছাকাছি। তারপর ফিসফিস করে বললেন, তুমি কি সত্যিই পোলোনিয়াম নিডল বললে? নাকি আমি ভুল শুনলাম?

    বিনায়ক এর আগে তার গুরুকে কখনো নার্ভাস হতে দ্যাখেনি। এই প্রথম চৌবেসাহেবের মুখে উদ্‌বেগের ছাপ দেখে সেও ভয় পেয়ে গেল। ভয়- পাওয়া গলাতেই বলল, না স্যার, ভুল শোনেননি। সত্যিই হাসিমারা এয়ার- বেসের রিসার্চ-ল্যাবরেটরি থেকে কাল সকালে একটা পোলোনিয়াম নিডল চুরি হয়েছে। জিনিসটার দাম কয়েক কোটি টাকা। সেটা বড় কথা নয়। যেহেতু জিনিসটা প্রচণ্ড রেডিও-অ্যাকটিভ, তাই ও জিনিস যেখানে থাকবে সেখানেই মারাত্মক রেডিয়েশন ছড়াবে। তার মানে ইনজুরিয়াস টু পাবলিক হেলথ। তার মানে…

    বিনায়কের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে চৌবেসাহেব বললেন… তার মানে চ্যানেলে চ্যানেলে ব্রেকিং-নিউজ আর কাগজে কাগজে কুড়ি পয়েন্টের হেডলাইন। বুঝলাম। এবার একটু ডিটেইলসে বলো।

    সবটা আমিও বলতে পারব না স্যার। সিকিওরিটির প্রশ্ন জড়িত রয়েছে বলে আমাকেও আর্মির অফিসারেরা সব কথা খুলে বলেননি। যেমন, নিডলটা ওঁরা কোথা থেকে এনেছিলেন, কোন ধরনের রিসার্চে ওটা কাজে লাগতো, এইসব আর কি!

    চৌবেসাহেব হাত দিয়ে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গি করে বললেন, বাদ দাও। রেডিও-অ্যাকটিভ এলিমেন্ট নিয়ে মিলিটারি আর নতুন কী করবে? মানুষ মারার নতুন কল বানাবে, তা ছাড়া আর কি? আর তোমার ইনভেস্টিগেশনের কাজে জিনিসটা ‘কোথা থেকে এসেছিল’ সেটা জরুরি নয়। জরুরি হল, ‘জিনিসটা কোথায় গেছে’ সেইটা জানা।

    এগজ্যাক্টলি স্যার।

    চৌবেসাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে ডালিয়াগাছের একটা টবকে ছায়া থেকে রোদ্দুরে টেনে আনলেন। তারপর আবার নিজের চেয়ারে এসে বসলেন। বললেন, তোমাকে যতটা চিনি বিনায়ক, তাতে এটা বলতে পারি, খবরটা পাওয়ার পরে গত চব্বিশ ঘণ্টা তুমি চুপ করে বসে থাকোনি। কী কী করলে, কী দেখলে, সব খুলে বলো।

    দেখলাম অনেক কিছুই স্যার। জানলামও প্রায় সবকিছু। তাতেই মাথাটা আরো গুবলেট হয়ে গেল। এ তো আক্ষরিক অর্থে খড়ের গাদা থেকে ছুঁচ খোঁজার কাজ।

    তখনই চৌবেসাহেব ওই কমেন্টটা করলেন। ঘাড়ের পেছনে দুটো হাতের পাতা জড়ো করে তার ওপরে মাথাটা হেলিয়ে দিয়ে, আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন–ভেবে দেখতে গেলে, খড়ের গাদা থেকে ছুঁচ খোজার কাজটা এমন কিছু কঠিন নয়। কারণ, ছুঁচের চেহারার সঙ্গে খড়ের চেহারার কোনো মিল নেই। কাজটা সত্যিই কঠিন হত যদি তোমাকে ছুঁচের বান্ডিল থেকে একটা বিশেষ ছুঁচ-কে খুঁজে বার করতে হত, কিংবা খড়ের গাদা থেকে একটা বিশেষ খড়ের ডগাকে।

    বিনায়ক কিছুক্ষণ চৌবেসাহেবের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। সেই রিল্যাক্সড মুখটার দিকে তাকিয়ে সে কী বুঝল কে জানে, কিন্তু তার নিজের মুখ থেকে এতক্ষণের নৈরাশ্যের ছায়া খুব দ্রুত সরে গেল এবং সে বেশ ফূর্তির সঙ্গেই এর পর পনেরো-মিনিট ধরে কেসের খুঁটিনাটি বর্ণনা করে গেল।

    .

    দুই

    হাসিমারা এয়ার-বেস এমনিতেই সুরক্ষিত এলাকা। বাইরের কোনো লোকের পক্ষে অনুমতি ছাড়া গেট টপকানো না-মুমকিন। তার ওপরে রিসার্চ- ল্যাবরেটরির চারিপাশে তো একেবারে জেড টু দি পাওয়ার এন টাইপের সুরক্ষা বলয়। ওই তিনতলা বাড়িটারই দোতলার একটা ঘরে পোলোনিয়াম নিডলটা রাখা ছিল।

    ঘরটায় জানলা নেই। একটাই মাত্র ছ’ ইঞ্চি পুরু লোহার দরজা, যার গায়ে কম্বিনেশন লক লাগানো রয়েছে। ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস ডিপার্টমেন্ট’-এর ভারপ্রাপ্ত অফিসার, উইং-কম্যান্ডার প্রদীপ সাকসেনা ছাড়া, সেই নাম্বার কম্বিনেশন জানেন শুধু এয়ার-বেসের বড়কর্তা এয়ার-কমোডোর বাসুদেব গায়কোয়াড়। ওঁদের দুজনকে যে-কোনো-রকমের সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখা যায় শুধু এই কারণেই যে, পোলোনিয়াম নিডলটা খুঁজে না পাওয়া গেলে ওঁরা দুজনেই সবার আগে কোর্ট মার্শালের মুখে পড়বেন।

    আমি জানতাম না যে, বেশিরভাগ রেডিও-অ্যাকটিভ মেটিরিয়ালকে ছোট ছুঁচের আকারেই বানানো হয় এবং সেই জন্যেই তাদের নিডল বলে। থোরিয়াম নিডল, রেডিয়াম নিডল, পোলোনিয়াম নিডল এটসেটরা। এই নিডলটাকে আনা হয়েছিল সবে এক সপ্তাহ আগে। তারপর গত এক সপ্তাহ ধরে ওই ল্যাবরেটরির সায়েন্টিস্টরা নিডল নিয়ে তাদের রিসার্চের কাজ করেছেন।

    রেডিও-অ্যাকটিভ এলিমেন্টস নিয়ে যেখানে কাজ করা হয় সেখানে কিছু প্রোটোকল মেনে চলতে হয়। প্রথমত ঘরের দরজায় বড় করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে রাখতে হয় যে, সেখানে অমন তেজস্ক্রিয় বস্তু রাখা আছে। দ্বিতীয়ত, উপযুক্ত পোশাকআশাক এবং মাস্ক ছাড়া ও-ঘরে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয় না। তৃতীয়ত, নিয়মিত ওই ঘরের তেজস্ক্রিয়তা মাপতে হয় শুধু এইটা দেখার জন্যে যে, তেজস্ক্রিয়তা অসাবধানে বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে কিনা। ওই ল্যাবরেটরিতে এইসব প্রিকশনই নেওয়া হয়েছিল।

    এয়ার-মার্শাল প্রদীপ সাকসেনা গতকাল নিজে আমাকে স্পেসাল জ্যাকেট, মাস্ক এইসব পরিয়ে ওই ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন। দেখিয়েছিলেন, ঠিক কোন তাকের ওপরে, কেমনভাবে নিডলটা রাখা ছিল। যা দেখলাম তাতে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গেল। ইচ্ছে থাকলে যে কারুর পক্ষেই নিডলটাকে পকেটে পুরে ঘর থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন ছিল না। নিডল যে চুরি হয়েছে সেটা বুঝতে সময় লাগত এবং তাই লেগেছে। বজ্র আঁটুনিই হয়ে দাঁড়িয়েছে ফস্কা গেরো। যে জিঙ্কের কন্টেনারের মধ্যে পোলোনিয়াম নিডল রাখা ছিল সেই কন্টেনারটাই বুঝতে দেয়নি যে ভেতরের জিনিসটা হাওয়া হয়ে গেছে। কন্টেনারটা কাচের হলে এই অসুবিধে হত না। কিন্তু রেডিও-অ্যাকটিভ এলিমেন্টকে সব সময়েই জিঙ্কের কন্টেনারের মধ্যেই রাখতে হয়। জিঙ্ক অর্থাৎ দস্তা রেডিয়েশনকে আটকে দেয় কিনা, তাই

    এখন আপনি বলবেন, এমন দুঃসাহসী চোর কে আছে, যে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নিডল চুরি করবে? ওই জিনিস সামান্য সময়ের জন্যেও খালি হাতে নাড়াচাড়া করার অর্থ তো ক্যানসারের বিষ-কে শরীরের মধ্যে ডেকে আনা।

    ঠিক তাই। তার মানে, যে চুরি করেছে. তার শরীরে প্রোটেকটিভ গিয়ার ছিল। ছিল জ্যাকেট, মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি এবং সর্বোপরি, তার ওই ঘরে ঢোকার অনুমতি ছিল।

    প্রদীপ সাকসেনা এবং তার বস বাসুদেব গায়কোয়াড়কে বাদ দিলে ওই ঘরে ঢোকার পারমিশন ছিল সায়েন্টিস্টদের। কিন্তু কাল যেহেতু ছিল রবিবার, তাই সায়েন্টিস্টরা কেউই কাজে আসেননি। এ কথা সাকসেনাসাহেব নিজেই স্বীকার করছেন। করিডরের সি.সি. টিভির ফুটেজ চেক করে দেখেছি, ওঁর কথা ঠিক।

    হাসিমারা এয়ার-বেসের নিজস্ব সায়েন্টিস্টরা গতকাল আসেননি। কিন্তু দিল্লি থেকে এসেছিলেন অন্য দুজন সায়েন্টিস্ট। ওঁরা দুজনেই ইন্ডিয়ান আর্মির বিরাট উচ্চপদে আসীন। এতটাই উচ্চপদে যে, সায়েন্টিস্ট হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের দুজনকে সায়েন্স নিয়ে আর কোনো কাজ করতেই হয় না। তারা এখন সারা ভারতে ছড়িয়ে থাকা আর্মির বিভিন্ন ল্যাবরেটরি আর ওয়ার্কশপ পরিদর্শন-টরিদর্শন করেন। তাঁদের দেওয়া সার্টিফিকেটের জোরে ল্যাবরেটরি আর ওয়ার্কশপগুলো কোটি কোটি টাকার ‘গ্র্যান্ট’ মানে যাকে বাংলায় বলে অনুদান তাই পায়। অনুদান পেলে তবেই তাদের রিসার্চের কাজ চালু থাকে।

    অতএব বুঝতেই পারছেন, ওঁদের দুজনের কেমন খাতির। সেই জন্যেই ওঁদের ভিজিটের আয়োজন করা হয়েছিল রবিবার, যাতে জুনিয়ার সায়েন্টিস্টরা কোনোরকম বিজ্ঞান-বিষয়ক প্রশ্ন করে ওঁদের বিরক্ত করতে না পারে।

    তাছাড়া ওঁরা যাতে পরিদর্শনের মতো পরিশ্রমসাধ্য কাজ সেরে, ভুটানের দিকে একটু বেরিয়ে আসতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করে রেখেছিলেন উইং-কম্যান্ডার সাকসেনা। তিনি দেখেছেন, এর আগে যতবার এরকম কোনো কাজে কোনো বড়সাহেব হাসিমারায় এসেছেন, তাঁরা ভুটানে বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহ দেখিয়েছেন।

    এবারেও তাই সাকসেনা সাহেব ওই দুই বড়কর্তাকে সকাল-সকাল ল্যাবরেটরিতে একবার ঘুরিয়ে এনে ভুটানের দিকে রওনা করিয়ে দিয়েছিলেন। আর্মির হাড়সার গাড়ির বদলে বিলাসবহুল বিদেশি গাড়ি, শিলিগুড়ির তিনতারা হোটেলের লাঞ্চ এবং পানীয় সবকিছু সঙ্গে দিয়েই ওঁদের ভুটানের রাস্তায় রওনা করে দিয়েছিলেন সাকসেনা সাহেব। ওঁর ব্যবস্থাপনায় খুশি হয়ে দুই বড়কর্তাই কথা দিয়েছিলেন, সামনের বারে যাতে ল্যাবরেটরির গ্র্যান্ট আরো কয়েক লক্ষ টাকা বাড়ে সেটা ওঁরা নিশ্চয় দেখবেন।

    ওঁরা রওনা হয়ে যাওয়ার পরেই ল্যাবরেটরি থেকে সাকসেনাসাহেবের কাছে জরুরি কল আসে।

    দিল্লির সাহেবরা ল্যাবরেটরি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরে দুজন জুনিয়র-স্টাফ সাকসেনা সাহেবের নির্দেশেই ল্যাবরেটরিতে ঢোকে, তেজস্ক্রিয়তা মাপতে। এই কাজটা প্রোটোকলের মধ্যেই পড়ে, এড়ানো যায় না। তারা কিছুক্ষণের মধ্যেই আবিষ্কার করেন যে পোলোনিয়াম নিডল হাওয়া এবং পড়িমরি করে ওই ল্যাবরেটরি থেকেই সাকসেনা সাহেবকে ফোন করেন। ফোন পেয়েই গেটের কাছ থেকে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে এসেছিলেন প্রদীপ সাকসেনা। একা আসেননি, সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন ইনস্টিটিউটের নিজস্ব একজন বৈজ্ঞানিককে। তারা প্রথমেই ওই দুজন জুনিয়র-স্টাফের বডি সার্চ করেন। তারপর ল্যাবরেটরির প্রতিটি কোনা তন্ন তন্ন করে খোঁজেন। ছুঁচ যে চুরি গেছে সেটা বুঝতে বেশি সময় লাগে না। আধঘণ্টার মধ্যে এয়ার কমোডর বাসুদেব গায়কোয়াড়েরে পারমিশন নিয়ে সাকসেনা আমাকে ফোন করেন। আমি ওখানে পৌঁছই আরো পঁয়তাল্লিশ মিনিট বাদে। তার মানে, দিল্লির সায়েন্টিস্টরা ল্যাবরেটরি ছাড়ার ম্যাক্সিমাম দেড়ঘণ্টার মধ্যে আমি ওখানে পৌঁছিয়ে গিয়েছিলাম।

    ইয়েস স্যার। আপনার সঙ্গে আমি একমত। সারকামস্টেনসিয়াল এভিডেন্স বলছে, ওই দুই বিজ্ঞানীর মধ্যেই একজন কেউ পোলোনিয়াম নিডল হাতসাফাই করে পালিয়েছেন। এই সাদা কথাটা আমরা তখনই বুঝতে পেরেছিলাম।

    প্রবলেমটা অন্য জায়গায়। সরাসরি তো ওঁদের গিয়ে বলা যায় না যে চোরাই মালটা ফেরত দিন। যে ওই কথা সাহস করে বলবে, পাঁচ মিনিটের মধ্যে তার চাকরি যাবে; যদি না সে একদম কংক্রিট এভিডেন্স দিতে পারে যে, নিডলটা ওঁদের মধ্যেই কারুর কাছে আছে।

    দেন অ্যান্ড দেয়ার আমি একটা ডিসিশন নিলাম স্যার। আমি ঠিক করলাম, এয়ার বেসের গেস্টহাউসে ওই দুই বৈজ্ঞানিকের ঘরদুটো সার্চ করব। অবশ্যই এমনভাবে, যাতে ওঁরা ফিরে আসার পরে কিছু বুঝতে না পারেন।

    .

    তিন

    কিছু পেলে না তো? এতক্ষণ বাদে মুখ খুললেন চৌবেসাহেব।

    বিনায়ক বেশ আহত স্বরে বলল, পাব না সেটাই আশা করছিলেন? কেন? আমার স্টেপটা ভুল ছিল?

    আহা, সেন্টিমেন্টাল হয়ো না বিনায়ক। ভেবে দেখো, ওঁদের দুজনের যা সামাজিক অবস্থান, তাতে ঘরে বা পকেটে ওরকম একটা চোরাই মাল বেশিক্ষণ বয়ে নিয়ে বেড়াবার রিস্ক কি নেবেন? ধরা পড়লে তো যা-তা কাণ্ড হয়ে যাবে। আর অন্য রিস্কটার কথাও ভুলে যেও না। ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে আসার পরেই নিশ্চয় ওঁদের স্পেসাল জ্যাকেট, মাস্ক, গ্লাভস সবকিছুই খুলে ফেলতে হয়েছিল। তারপরেও কি ওঁরা পোলোনিয়াম-নিডল নিয়ে ঘোরাফেরা করবেন? প্রাণের মায়া তো সকলেরই থাকে। এই ধরনের বদমাইশদের বোধহয় একটু বেশিই থাকে।

    বিনায়ক বলল, তাহলে?

    রোদ বাড়ছিল। চৌবেসাহেব গায়ের উইন্ড-চিটারটা খুলে চেয়ারের পেছনে ঝুলিয়ে রাখতে রাখতে বললেন, তাহলে ভেবে দেখো, জিনিসটা কারুর কাছে গচ্ছিত রেখে গেছেন কিনা।

    মানে? ওঁরা তো সাকসেনা সাহেবের সঙ্গেই এয়ার-বেস থেকে বেরিয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠেছেন। একা তো কখনো হননি।

    হননি? তাই কি? হবার কথা কিন্তু। রেডিয়েশন-প্রুফ জ্যাকেট, ওভারঅল এগুলো তো পাবলিকলি চেঞ্জ করা যায় না। কোনো চেঞ্জ-রুম…

    চৌবেসাহেবের মুখের কথা শেষ হওয়ার আগেই বিনায়ক চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠে প্রায় চিৎকার করে উঠল—ওহ মাই গড। ওহ মাই গড। সত্যিই তো। ওই ফ্লোরে, ল্যাবরেটরি রুমের ঠিক বাইরেই তো আলাদা আলাদা দুটো কিউবিকল রয়েছে। দুটো চেঞ্জ-রুম। কেন আমার এতক্ষণ মনে পড়েনি?

    দাঁড়াও দাঁড়াও। এখনই অত উত্তেজিত হয়ো না বিনায়ক। আরো কিছু প্রশ্ন রয়েছে। ধরো ওঁদের মধ্যে একজন চেঞ্জ-রুমে জ্যাকেট-টা রেখে বেরিয়ে এলেন। সেই জ্যাকেটের পকেটে রইল পোলোনিয়াম নিডল। তারপর? তারপর থেকে তো ওঁরা সবার চোখের সামনেই রইলেন। ইন ফ্যাক্ট, ওই মাপের ভি.আই.পি-রা কখনোই একা হন না। ওঁরা আর চেঞ্জ-রুমে ফিরলেনও না; আজ সকালের ফ্লাইটে দিল্লি চলে গেলেন। তাহলে নিডলটা সরিয়ে কী লাভ হল?

    বিনায়ক উত্তেজিত গলায় বলল, অ্যাকমপ্লিসের কথা বলছেন বুঝতে পারছি। দুষ্কর্মের সঙ্গী; যে পরে গিয়ে ওই নিডল নিয়ে বাইরে পাচার করেছে। কিন্তু সে কে হতে পারে?

    সেটা তো এই মুহূর্তে বলতে পারব না বিনায়ক। তবে আমি যদি ওই অসৎ বৈজ্ঞানিক হতাম, তাহলে কাকে ওই কাজের জন্যে প্রথম অ্যাপ্রোচ করতাম জানো? রেডিয়েশন-প্রুফ জ্যাকেট-ট্যাকেটগুলো গুছিয়ে তুলে রাখার দায়িত্ব যে ছেলেটির, তাকে। কেন জানো? তাহলে প্রতিদিন যে ছন্দে ওই ল্যাবরেটরিতে কাজ চলে, সেই ছন্দের এতটুকুও পতন ঘটত না। অথচ চোরাই মাল বাইরে চলে যেত।

    আর একটা সম্ভাবনার কথা মাথায় আসছে। এটা একটা অনুমান বলতে পারো। হয়তো খোঁজ নিয়ে দেখবে, ওই যে ছেলেটা চেঞ্জ-রুমের দায়িত্বে রয়েছে, তার সঙ্গে আবার কোনো না কোনোভাবে কোনো বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিরও যোগাযোগ রয়েছে।

    কেন স্যার?

    আমার চাকরির অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এই ধরনের রেডিও-অ্যাক্টিভ নিডল শেষ অবধি কালোবাজারে ওদের হাতেই পৌঁছয়। সাদা-বাজারে পোলোনিয়াম কিনে, তাই দিয়ে ক্যানসারের ওষুধ বানিয়ে ওরা যতটা লাভ করে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভ করে এরকম চোরাই নিডল থেকে।

    চৌবেসাহেবের মুখের দিকে কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে, বিনায়ক হঠাৎই উঠে পড়ল। মিনিট তিনেক বাদেই চৌবেসাহেবের বাড়ির গেটের সামনে থেকে স্টার্ট নিয়ে আলিপুরদুয়ার থানার জিপটা তিরবেগে ছুটে গেল হাসিমারার রাস্তায়

    চৌবেসাহেব ভেতরের ঘরের দিকে মুখ ফিরিয়ে গলা তুলে বললেন, ওগো শুনছ? আমাকে এখন আর কর্নফ্লেক্স দিও না। বরং চট করে একটু ভাতে ভাত বসিয়ে দাও। চান করতে যাচ্ছি। বাথরুম থেকে বেরিয়েই খেতে বসব।

    চৌবেসাহেবের স্ত্রী ঘর থেকে লাগোয়া টেরাসে বেরিয়ে এসে অবাক গলায় জিগ্যেস করলেন এত সকালে চান-খাওয়া সেরে কোথায় বেরোবে?

    বিনায়কের কাছে যাব।

    তার মানে! বিনায়ক তো এই ঘুরে গেল।

    তাতে কী হয়েছে? আবার আমাকে দেখতে ইচ্ছে করতে পারে না? চৌবেসাহেবের স্ত্রী মুখ বাঁকিয়ে বললেন, হুঁঃ, কি আমার উত্তমকুমার এলেন রে। তাকে নাকি ঘড়ি ঘড়ি দেখতে ইচ্ছে করছে লোকের। ঠিক আছে, তাই দিচ্ছি।

    .

    দু’ ঘণ্টা নয়, ঠিক একঘণ্টা সাঁইত্রিশ মিনিটের মাথায় চৌবেসাহেবকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে আবার আলিপুরদুয়ার থানার গাড়ি তাঁর বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ালো।

    ইতিমধ্যে ফোনে ফোনেই চৌবেসাহেব বিনায়কের কাছ থেকে যা- শোনার শুনে নিয়েছেন।

    চেঞ্জ-রুমের দায়িত্বে যে ছিল সে ছেলে নয়, মেয়ে। পঁচিশ-বছরের একটি মেয়ে। নাম আয়ূষী কর্মকার। মেয়েটির নিজের বাড়ি এদিকেই- ধূপগুড়িতে। একবছর আগে ওর বিয়ে হয়েছে। বর থাকে কলকাতার বেলঘরিয়ায়।

    বিয়ের পর থেকেই আয়ূষী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল কলকাতার কোথাও একটা চাকরি জোগাড় করার। কদিন আগেই সেই চেষ্টার ফল মিলেছে। কলকাতার একটা কলেজে চাকরি পেয়ে গেছে আয়ূষী। সামনের মাসেই সে এয়ার-বেসের এই চাকরিটা ছেড়ে দেবে।

    আয়ূষী এখন হাসিমারা গুরুদোয়ারার পেছনে একটা মেয়েদের পিজি- তে থাকে। মাসে একবার করে কলকাতায় যায়। কালকেই উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসে ওর কলকাতা যাওয়ার টিকিট কাটা রয়েছে।

    যে ছেলেটির সঙ্গে আয়ূষীর বিয়ে হয়েছে তার নাম বরুণ দাশ। বরুণ গেটওয়েল ফার্মা নামে একটা কোম্পানির সেলস এগজিকিউটিভ। বিনায়ক নেট সার্চ করে দেখেছে, সস্তায় ক্যানসারের চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বানানোয় গেটওয়েল ফার্মার বিশেষ সুনাম রয়েছে। এই শেষ তথ্যটা চৌবেসাহেবকে বলার সময় বিনায়কের গলাটা শোনাচ্ছিল সেই ক্লাস ফাইভের বাচ্চাটার মতন, যার ইউনিফর্মের পকেটের ভেতর থেকে ম্যাজিসিয়ান সবেমাত্র একটা জ্যান্ত পায়রা বার করেছেন।

    সব শুনেটুনে চৌবেসাহেব বলেছিলেন, তাহলে আবার আমাকে নিয়ে টানাটানি করছ কেন? আয়ূষীর কাছ থেকে নিডলটা উদ্ধার করতে পারছ না?

    তিতিবিরক্ত গলায় বিনায়ক উত্তর দিয়েছিল, না স্যার। মেয়েটা অত্যন্ত কঠিন ধাতুতে তৈরি। ইন্টারোগেশনের সময় এমন হাবভাব করছে যেন পোলোনিয়াম নিডল বলে কোনো জিনিসের কথা জীবনে প্রথম শুনল।

    ওর ঘর সার্চ করেছ?

    করেছি। ইনস্টিটিউট থেকে গাইগার মুলার কাউন্টার অবধি নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুই পাইনি।

    বড়ি সার্চ করা হয়েছে?

    ইয়েস স্যার। আমি থানা থেকে লেডি অফিসার নিয়েই গিয়েছিলাম।

    তাহলে তো একবার গিয়ে দেখতেই হচ্ছে।

    .

    চার

    চৌবেসাহেব, বিনায়ক, হাসিমারা এয়ার-বেসের একজন সায়েন্টিস্ট আর একজন লেডি পুলিশ-ইনস্পেক্টর একসঙ্গেই আয়ূষীর ঘরে ঢুকলেন। আয়ূষী নিজেই দরজা খুলে দিয়ে ওদের ভেতরে ডাকল— আসুন। এই স্যার আমার ঘরের যা হাল করে দিয়ে গেছেন, কোথায় বসতে বলব বুঝতে পারছি না। আয়ূষী ইঙ্গিতে বিনায়কের দিকে দ্যাখালো। কিন্তু ওর বলার মধ্যে কোনো রাগ কিংবা উত্তেজনার চিহ্ন ছিল না।

    সত্যিই, বিনায়ক অ্যান্ড কোম্পানির সার্চিং-এর ঠেলায় ঘরটা তখনো লন্ডভন্ড হয়ে রয়েছে। আয়ূষী কিছুটা গুছিয়ে তুলেছে, সবটা পারেনি।

    বিনায়ক বলল, স্যরি। কিন্তু আমার কিছু করার নেই। প্রয়োজন মনে করলে আরো দশবার আপনার ঘর সার্চ করবো।

    ছোটোখাটো চেহারার মেয়েটার মুখে এবারেও নতুন কোনো অনুভূতির চিহ্ন ফুটল না। ভাবলেশহীন মুখে বলল, বুঝতে পারছি স্যার। কী করবেন? আপনিও তো ডিউটি-বাউন্ড।

    চৌবেসাহেব মনে মনে বললেন, হার্ড নাট টু ক্র্যাক।

    আয়ূষী দুটো মোড়া আর একটা চেয়ারে পুরুষ-অতিথিদের বসিয়ে, লেডি-ইনস্পেক্টরের সঙ্গে ছোট চৌকিটার একপাশে বসল। বলল, যা করবেন যদি একটু তাড়াতাড়ি করেন। আমাকে বেরোতে হবে।

    চৌবেসাহেব বললেন, কোথায় যাবে মা? ও, দেখেছ! নিজের পরিচয়টাই দিইনি। আমার নাম উমাশঙ্কর চৌবে। এই বোস সাহেবের বন্ধু বলতে পারো। কোথায় যাবে বললে না তো।

    একবার স্টেশনে যাব। কাল আমার কলকাতায় ফেরার টিকিট কাটা ছিল। এখন আমার এমপ্লয়াররা বলছেন, যাওয়া হবে না। টিকিট-টা ক্যানসেল করাবো।

    আয়ূষীর বাড়িতে কে কে রয়েছেন, তার ভাই কোন কলেজে পড়ে, হাসিমারায় এবারে ভালো কমলালেবু পাওয়া যাচ্ছে কিনা ইত্যাদি অবান্তর কথা বলতে বলতে চৌবেসাহেব ছোট ঘরটার এদিক থেকে ওদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। হাতে তুলে দেখছিলেন এটা সেটা। মনে মনে বলছিলেন, আয়ূষী এমন কোথাও নিডলটা লুকিয়ে রাখবে, যেটা ওর প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, যতই রেডিয়েশন-প্রুফ পাত্রে রাখুক, কোনো মানুষই চাইবে না পোলোনিয়াম নিডল নিয়ে অহেতুক বেশি নাড়াচাড়া করতে।

    এখন সেটাই খুঁজে বার করার। এই ঘরে এমন কী রয়েছে, যেটা আয়ূষী ব্যবহার করে না?

    আধঘণ্টা কেটে গেল, চৌবেসাহেব তেমন কিছুই খুঁজে পেলেন না। বিদেশে থাকতে গেলে যেমন সামান্য কিছু জিনিস নিয়ে মানুষ দিন কাটায়, আয়ূষীও মনে হল সেইভাবেই দিন কাটাচ্ছে। অল্প কিছু জামাকাপড়, দু’ জোড়া মাত্র স্লিপার, খান পাঁচেক গল্পের বই। ড্রেসিং-টেবিলের বদলে দেওয়ালে একটা তাক লাগানো আয়না ঝুলছে। সেই তাকে একটা সুর্মাদানি, নাইট-ক্রিম, ক্লিনজার আর ময়েশ্চারাইজার ছাড়া আর কিছুই নেই।

    চৌবেসাহেব ভালো করে আয়ূষীর মুখের দিকে তাকালেন। ও বেরোবার জন্যে তৈরি হয়েছে। কিন্তু সাজগোজ বলতে গেলে কিছুই করেনি। হয়তো ওই ময়েশ্চরাইজারটাই একটু মুখে মেখেছে। আর কিছু না। লিপস্টিক, নেল-এনামেলের তো প্রশ্নই নেই, এমনকী কপালে একটা টিপ অবধি নেই।

    কোথায় যেন একটা অসঙ্গতি রয়েছে। ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে গিয়েও চৌবেসাহেব আবার ফিরে এসে আয়ূষীর দেওয়াল-আয়নাটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।

    আচ্ছা, সুর্মা জিনিসটা এখনো চালু আছে? সুমার বদলে এখন মেয়েরা আই-শ্যাডো, আই-লাইনার এইসব কী যেন ইউজ করে না? তাছাড়া যে মেয়ের কসমেটিক্সের তাকে লিপস্টিক নেই, নেল-এনামেল নেই, তার কাছে সুর্মা রয়েছে—এটাই তো অসঙ্গতি।

    চৌবেসাহেব খুব সাবধানে সুর্মাদানিটা হাতে তুলে নিলেন। ছোট্ট একটা রুপোর কলসির মতন পাত্র। কলসির মুখে ময়ূরপুচ্ছের মতন ফিলিগ্রির কাজ করা ঢাকনা। চৌবেসাহেবের মনে পড়ল, তাঁর স্ত্রীয়েরও এরকম একটা সুমাদানি ছিল। ওই পেখমের মতন ঢাকনাটাকে প্যাঁচ দিয়ে খুলে ফেললে দেখা যাবে ভেতরে একটা রুপোর কাঠি লাগানো রয়েছে। রুপোর কাঠিটা কলসির সুর্মার মধ্যে ডুবে থাকে। কোথাও বেরোতে হলে, অন্য সব সাজগোজের শেষে ওই কাঠির গায়ে লেগে-থাকা সুর্মা হালকা করে চোখের পাতায় টেনে দিত পারমিতা, তাঁর স্ত্রী।

    এই সুর্মাদানিটাও ঠিক পারমিতার সুমাদানিটার মতনই, কিন্তু অনেক বেশি ভারী। দস্তা ধাতুটার ওজন খুব বেশি। ওপরে রুপোর মতন পালিশ করে রাখলেও ওজনকে লুকোনো যায় না।

    সুমাদানিটা হাতে নিয়ে চৌবেসাহেব আবার আয়ূষীর চোখের দিকে তাকালেন। ওই সপ্রতিভ চোখ দুটোতে এখন স্পষ্ট ভয়। কিন্তু চৌবেসাহেব ভয় খুঁজছিলেন না। তিনি খুঁজছিলেন, সুর্মার চিহ্ন। না, নেই। তিনি নিশ্চিত, আয়ূষী কোনোদিনই চোখের পাতায় কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করেনি। সুমা তো অনেক দূরের কথা।

    চৌবেসাহেব চোখের ইশারায় হাসিমারা এয়ার-বেসের সায়েন্টিস্টকে গাইগার মুলার কাউন্টারটা অন করতে বলে সুর্মাদানির ভেতর থেকে রুপোর কাঠিটা বার করে আনলেন। পাগলা ঘণ্টির মতন বেজে উঠল কাউন্টারের বিপদসঙ্কেত।

    চৌবেসাহেব বেশ জোরেই হেসে উঠলেন। রুপো নয়। পোলোনিয়াম। কাঠি নয়, নিডল। পুলিশের জিপে উঠতে উঠতে আয়ূষী একবার ঘাড় ঘুরিয়ে উমাশঙ্কর চৌবের দিকে তাকাল।

    কিছু বলবে? চৌবেসাহেব ওর দিকে দু’ পা এগিয়ে গেলেন।

    নাঃ। শুধু ভাবছিলাম, কদিন আগে থেকে যদি চোখে একটু সুমা মাখতাম। যদি আরো কিছু কসমেটিক্স কিনে ওই আয়নার সামনে রেখে দিতাম। তাহলেও কি আপনি ধরতে পারতেন?

    চৌবেসাহেব বললেন, না। পারতাম না।

    বিনায়ক পাশ থেকে খুব কঠিন গলায় বলে উঠল, আপনি উমাশঙ্কর চৌবেকে চেনেন না আয়ূষী। উনি তখনো পারতেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার
    Next Article সন্ধ্যা নামে ধীরে – কোয়েল তালুকদার

    Related Articles

    সৈকত মুখোপাধ্যায়

    ১৬ আনা ভয় – সম্পাদনা : সৈকত মুখোপাধ্যায়

    January 6, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }