Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গড় শ্রীখণ্ড – অমিয়ভূষণ মজুমদার

    লেখক এক পাতা গল্প670 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২২. এরফানের শালা এসেছে

    এরফানের শালা এসেছে। তার সঙ্গে গত সন্ধ্যার আলাপের মুলতবী অংশটুকু শেষ করে নিতে অতি প্রত্যুষে আলেফ সেখ ছোটোভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলো। এরফানের শালা আল মাহমুদ অনেক জানে-শোনে। তার কাছেই আলেফ জানতে পেরেছে তার মতো গ্রাম্য লোকদের ছেলেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয়রা চিন্তা করছেন। পুত্রের ভবিষ্যতের কল্পনায় সুখী হয় না এমন পিতা পৃথিবীতে কে আছে?

    কিন্তু তার স্বভাবসিদ্ধ প্রথায় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আলেফ বিব্রত বোধ করলো। গত সন্ধ্যায় যে-সব আলাপ হয়েছিলো তার মধ্যে ধর্ম সম্বন্ধেও অনেক কথা ছিলো। এ বিষয়ে বয়োবৃদ্ধ আলেফের তুলনায় এরফানের যুবক শ্যালক আল মাহমুদ বেশি উৎসাহ প্রকাশ করেছিলো। পরে কুটুম্বের চোখে হীন প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে ধর্ম সম্বন্ধে বেশ খানিকটা ঝোঁক দিয়েই কথা বলেছিলো আলেফ। নমাজ না করে এত সকালে আসা ভালো হয়নি।

    আল মাহমুদ বেরিয়ে এলো।

    সে কিছু বলার আগেই আলেফ বলে উঠলো, আজ বড়ো কাহিল লাগলো ভাই, নমাজ পড়া হলো না।

    আল মাহমুদ শহরের ছেলে, যুদ্ধে গিয়েছিলো, কিছু লেখাপড়া শিখেছে। মোটরগাড়ির কাজে আছে; উচ্চাভিলাষ আছে কালক্রমে নিজে গাড়ি কিনে ভাড়া খাটাবে। সে কৌশল করে বললো, আমিও গেলাম না মসজিদে। গোসল না করে নমাজে বসতি ভালো ঠেকে না। এখানকার জলে গোসলের সাহস হলো না।

    আলেফ স্বস্তি পেলো।আল মাহমুদের চায়ের বন্দোবস্ত ছিলো। চা-তামাকের সঙ্গে গল্প জমে উঠলো।

    গত সন্ধ্যার আলাপের একটা বিষয়ের জের টেনে এনে আলেফ বললো, তা তোমার শহরের ফুড় কমিটির সেক্রেটারি তুমি হইছো?

    শহরের না, পাড়ার কমিটির। লোকজনের দরখাস্ত নিতি হয়, পাস করতি হয়। যে যত বড়োই হোক কমিটির কাছে না আসে তেল চিনি কাপড় পাওয়ার উপায় নাই। হেঁদু পূজা করবি, তাও আমার কাছে আসতি হয়।

    তুমি ভালোই করছে, আল্লা তোমার উন্নতি করবি।

    আপনার গাঁয়েও তো কমিটি হবি।

    কই? শুনি নাই তো।

    তখন আল মাহমুদ ব্যাপারটা আর একটু খুলে বললো। সাপ্লাইয়ের এক অফিসার এসে এ বিষয়ে এরফানের সঙ্গে আলাপ করেছিলো। আল মাহমুদ নিজে এবং তার বোন অর্থাৎ এরফানের দ্বিতীয় স্ত্রী এরফানকে কমিটিতে থাকতে অনুরোধ করেছিলো, কিন্তু এরফান তাদের কথা হেসে উড়িয়ে দেয়নি শুধু বলেছে, চাষার ছেলে চাকরি করছি সেই অনেক। আলেফ বললো, তোবা, তোবা, ওর আর বুদ্ধি হবি নে। নিজের বাপ বড়োবাপকে গাল দেওয়া হয়, তা বোঝে না। কও, মামুদ।

    তাছাড়া কী। হলাম বা চাষা। তা বলে কি চেরকালই চাষা। ইংরেজ আসার আগে আমরা ছিলাম ভদ্দরলোক আর হেঁদুরা ছিলো চাষা। তারা লেখাপড়া শিখলো, ইংরেজের চাকরি পালো, ভদ্দরলোক হলো, আর আমরা চাষা হলাম। এখন যদি সব চাকরি আমরা পাই, তাইলে?

    কথাটা মনে লাগলো আলেফের। চৌকিতে তিনটি টোকা দিয়ে সে বললো, খুব কইছো।

    আলেফ ফুর্সিতে গভীর মনঃসংযোগ করলো। চিন্তার রেখা পড়লো তার কপালে। তাজ্জব! এমন খবরটাও এরফান তার কাছে লুকিয়েছে। এরফান নিজে সেক্রেটারি হতে চায় এমন ধরনের কথা তার সম্বন্ধে আর ভাবা যায় না। একগাল ধোঁয়া ছেড়ে আলেফ বললো, আমার কি মনে হয় জানো, এরফান গোল বাধাবি। সারাজীবন সেকয়ে আসছে–ছাড়ো, ছাড়ো, কাম নি। এতেও তাই কবি।

    তা হবি কে? ধরেন যে, গাঁয়ের মধ্যি আপনের ছাওয়ালের মতো ছাওয়াল কার! সে কি চাষার ঘরে মানায়?

    আলেফের মনে গত রাত্রিতে কিছুটা উত্তেজনা সঞ্চারিত হয়েছিলো। আজ সকালেই সে দ্বিপ্রহরের মতো উত্তেজনায় পূর্ণ হয়ে উঠলো। ফুর্সিতে ঘনঘন টান দিয়ে সে বললো, তুমি এক কাম করবা ভাই, সে সময়ে আসবা।

    সন্ধ্যার পর আলেফ আবার এরফানের বাড়িতে গেলো।

    আল মামুদ, আছো না?

    না, সে এসফন্দিয়ার গেছে তার গাড়ি চালাতি। এরফান বললো। এটা ব্যঙ্গ, তবে এরফানের বিদ্রুপে সহসা রাগ করা যায় না। আরো মসৃণ হয়েছে তার গলার স্বর, অধিকতর শান্ত হয়েছে। দৃষ্টি। সামান্য কয়েক দিনের নমাজেই এগুলি সে অর্জন করেছে।

    আলেফ বললো, ঠাট্টা করে না, কুটুমকে অমন কয়ো না।

    এরফান নিঃশব্দে হাসলো কিন্তু মনে মনে বললো, যদি জানতে সে আর তার ভগ্নী কেমন করে মানুষের জীবনের শান্তি ব্যাহত করতে পারে তাদের নিজেদের অন্তরের অসন্তোষ উৰ্গীৰ্ণ করে, তাহলে আমার এই বিদ্রূপকে তোমার প্রশ্রয় বলেই বোধ হতো।

    আলেফ বললো, একটা কামে আলাম। খবর শুনছো না?

    রোজই শুনতিছি, কোনটা কও?

    কমিটি নাকি কী হবি?

    হবি তো এই মাসেই।

    তাইলে সেক্রেটারি কে হয়?

    এরফান সহসা হো হো করে হেসে উঠলো।

    যেন কিছুই হয়নি, যেন কিছুমাত্র বিচলিত হয়নি সে, এমনি মুখ করে ফুর্সিটা ঘুরিয়ে নিয়ে নিবিষ্টভাবে ধূম্রজাল রচনা করতে লাগলো আলেফ। এরফানের হাসি থামলে অবশেষে সে বললো, একটা কথা আজ কবো তোমাক। ছাওয়ালের কথা ভাবো? কি বলো ভাবো না?

    তা ভাবি, বংশের তো ঐ একই ছাওয়াল। কিন্তুক এ কথা আজ হঠাৎ তোলো কে?

    না, তুলি না। ভাবে দেখো, তাই কই। শহর কৈলকাতায় পড়ে তোমার ছাওয়াল। তাক হাকিম-হেকিম করবের চাও। আমার কী দুঃখ যদি বাপ বলে না মানে। কিন্তুক তোমাকেও যদি চাচা গণ্য না করে?

    কও কী? এরফান মৃদুমন্দ হাসতে লাগলো।

    আলেফ বুঝতে পারলো যুক্তিটা বানচাল হয়ে গেলো।

    সে এবার সোজাসুজি কথাটার অবতারণা করলো, তাইলে তুমি সেক্রেটারি হও।

    না, ঝামেলা।

    তাইলে আমাক হতি হয়।

    সে তো মামুদের কথাতে বুঝছি। কিন্তুক গাঁয়ের লোক তোমাক সেক্রেটারি করে কেন?

    আলেফ খুব তাড়াতাড়ি একটা প্রত্যুত্তর দিতে গিয়ে থেমে গেলো। ভাবলো, তাই তো, কী জন্য গ্রামের লোকরা বিশেষ একজনকে মনোনীত করে ঠাহর হচ্ছে না। সে করুণ করে বললো, তুমি আমি দুজনে চেষ্টা করলি চরনকাশির ভোট তো পাবোই। আল মাহমুদ আসবি, সেও চেষ্টা করবি। যদি কও, ছাওয়ালেক ডাকি, সেও দু’চার কথা কবের পারবি। কেন্ এরফান, চেষ্টা করবা না?

    একটা দীর্ঘনিশ্বাস পড়লো এরফানের। ভাইয়ের জন্য দুঃখ বোধ হলো। এত বয়েস হয়েছে তবু প্রাণের ভিতরটা অল্পবয়সের গরম রক্তে পুড়ে যাচ্ছে। ক্লান্ত সুরে সে বললো, করবো।

    আলেফের দাড়িটাকা প্রকাণ্ড মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।

    গ্রামের সাধারণ লোক যত বিস্মিতই হোক, তবু খানিকটা আগ্রহ নিয়ে শুনলো, মাতব্বরস্থানীয়েরা কথাটা তাচ্ছিল্যভরে উড়িয়ে দিয়ে বললো, তা লিবেন ভোট। অন্য কেউ হলে এতে খুশি হয়ে উঠতো কিন্তু আলেফ এদের সরলতায় বিশ্বাস করতে পারলো না। তার ধারণা হলো, এটা গ্রামবাসীদের একটা কূটকৌশল, তাকে তার উদ্যম থেকে নিরস্ত করে প্রস্তুতি থেকে দূরে রাখার। তাহলেও সেটা নিজের গ্রাম। আসল যুদ্ধক্ষেত্র চিকন্দি। সেখানে লোকসংখ্যাও বেশি। সেখানে দুধের ছেলেরাও টক্ট করে কথা বলে।

    চিকন্দির প্রবেশপথে আলেফের দেখা হলো ছিদামের সঙ্গে।

    আলেফ বললো, কোন গাঁয়ে থাকা হয়?

    চিকন্দি।

    হয়? আমার কোন গাঁয়ে থাকা হয় জানো?

    জানি, চরনকাশির পাকামজিদ আপনের।

    খুশি খুশি মুখে গদগদ স্বরে আলেফ বললো, চেনো তাইলে। তা তুমি কার ছাওয়াল?

    শ্রীকৃষ্টদাস।

    সে তো বন্ধুলোক আমার। ভালোই হইছে তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে। তোমার বাড়ি যাতেছি।

    কেষ্টদাসের বাড়িতে কেষ্টদাস ছিলো, রামচন্দ্র ছিলো। আর আলেফ ঢুকতে ঢুকতে শুনতে পেলো তাদের কথা হচ্ছে কমিটি নিয়ে।

    রামচন্দ্র বলছিলো, যে ছাওয়াল, সে হয়তো আবার গান বাঁধবি।

    শ্রীকৃষ্ট বললো, তা গান বাঁধলি কী হবি, সব তো চ্যাংড়ামো কথা না। চৈতন্য সা ছাড়া আর কার দোকান আছে সরকারের চোখে পড়ার মতো, কও?

    তা হোক আর না হোক। যদি সেসব হয়ই চৈতন্য সাক একটু সাহায্য করা লাগবি। ধরো যে তার তো অন্যায় করছি একদিন, একটু উপকার করা লাগবি। রামচন্দ্র বললো।

    ঠিক এই সময়ে মঞ্চাবতরণ করলো আলেফ।

    আসেন, আসেন।

    আলাম বেড়াতি বেড়াতি। কী দিনকাল হলো কন্?

    কথাটা আলেফের মুখে মানায় না। রামচন্দ্র হাসিমুখে গোঁফ চারিয়ে দিয়ে বললো, আপনের তো ভালোই হইছে জোলার ধান।

    হইছে, না? কথাটা আলেফ অনুভব করলো, কিন্তু এক মুহূর্তমাত্র। নিজের চিন্তার একপ্রান্তে ধানের রং লাগতে লাগতে আত্মসংবরণ করলো সে। নিঃসংশয়ে কমিটির কথাটা চাপা দেওয়ার কৌশল এটা। আলেফ তাড়াতাড়ি কমিটির প্রান্ত চেপে ধরে বলে উঠলো, আল্লা, আল্লা! দিনকালের কথা কয়েন না, মণ্ডল। জোলাই-বা কি, দোলাইবা কি। ধানপানে আর মন দেওয়া নাই। কমিটির কথা কী কতিছিলেন, কন্ শুনি। বাজে বাজে কথা ক, কাজের কথায় প্রাণের কষ্ট বাড়ে।

    রামচন্দ্র বললো, তা কমিটি করতিছে সরকার। সস্তায় নাকি কাপড় দিবি, তেল চিনি দিবি। সোবানাল্লা! সরকার ফেল পড়বি নে? তা পড়ে না বোধায়। সরকার দোকান করবি, সেই দোকানটা পাতে চায় চৈতন সা।

    আচ্ছা মজা হইছে। আলেফ যেন পরম কৌতুকে হেসে উঠলো। বাঁচে থাকলে আরও কত দেখবো। কমিটিও কি তাই হবি নাকি, মণ্ডল?

    তাই তো শুনি।

    আলেফ বারদুয়েক দাড়িতে হাত বুলিয়ে যেন চূড়ান্ত কৌতুকে হা হা করে হেসে উঠলো, তাইলে বুঝলা না, মণ্ডল, আমাকেই আপনেরা দশজন কমিটির হেড করে দেন। হাজিসাহেব রাগ করবি নে বোধায়। তার চায়ে দশ শালের ছোটো হলেও হবের পারি, কিন্তুক দাড়ি আমার বেশি পাকা, কী কন্ গোঁসাই?

    শ্রীকৃষ্ট বললো, তা হন, আপনেই হন। একজন হলিই হলো।

    রামচন্দ্র, কী কন্?

    রামচন্দ্র শ্রীকৃষ্টর মতো লঘুস্বরে বললো, হন না, আপনেই হন।

    আলেফ এবার আর হাসলো না। শ্রীকৃষ্ট রামচন্দ্রর মুখ থেকে প্রগর্ভ হাসি যে কথা টেনে বার করেছে কৌতুক করলে সেটা লঘু হয়ে যাবে। আলেফ অনুভব করলো, তার একমাত্র করণীয় হচ্ছে কথাটার চারিদিকে গম্ভীর আলাপের ঠাসা বুনুনি বোনা। ক্রমশ আলাপটাকে টাকার লেনদেনের মতো কঠিন করে তুলতে হবে। গম্ভীর কথাবার্তার মাঝখানে পড়ে দানা বাঁধতে থাকবে কথাটা, অবশেষে প্রতিশ্রুতির মতো নিরেট হয়ে উঠবে।

    আলেফ বললো, তামাক খাওয়াবেন না, কেন্ গোঁসাই?

    নেচ্চায়। শ্রীকৃষ্ট তামাকের জোগাড়ে গেলো।

    আলেফ আবার বললো, কী কথাই শোনালেন আজ, মণ্ডল। কমিটি। তা সত্যি হবি? তা ধরেন যে বুড়া হলাম, ধৰ্ম্মকম্ম করা লাগে, দানধ্যান করা লাগে। গরিব তো। পরের ট্যাকায় যদি খোদার খেদমত হয়ে যায় মন্দ কী। গজবের কালে ইস্রাফিল কবি- আলেফ থামলো, গজবের সময়ে ইস্রাফিল কী বলে সেটা চট করে খুঁজে পেলো না। শ্রীকৃষ্টর হাত থেকে তামাক নিয়ে জোরে জোরে কয়েকটা টান দিয়ে সেবললো, বুঝলেন না, আমি আজ ঢোল দিয়ে বেড়াবো গাঁয়ে গাঁয়ে, রাম-চন্দ্র-শ্রীকৃষ্টরা কইছেন আমাকে কমিটির সেক্রেটারি করবি।

    ‘তা কন্।

    কিন্তু ছিদাম এদের থেকে খানিকটা দূরে উবু হয়ে বসে মাটিতে আঁকিজুকি কাটছিলো। সে মাথা নিচু করে অন্যমনস্ক হওয়ার ভঙ্গিতে বসলেও কান দুটি সজাগ রেখেছিলো। সে বললো, দশজনে মানবি কে আপনেক, আপনি দশজনের কী করছেন?

    জ্যাঠা ছেলেটির কথায় ক্রোধের উদ্রেক হয়েছিলো আলেফের। কিন্তু ক্রোধের সময় নয়। এটা। আলেফ যে-সে করে একটা হাসি টেনে আনলো মুখে, বললো, কেন্ করি নাই? শোনো নাই আমার মজিদের কথা? কেন, মক্তবটা দ্যাখো নাই?

    বাপ-জ্যাঠার সম্মুখে ছিদাম চুপ করে গেলেও আলেফের বুকের পাশে সে নিয়ত খচখচ করতে থাকলো। ছিদাম যা বলেছে সেটা বোঝার বয়স আলেফের হয়েছে বৈকি।

    এরফানকে বলতে ভরসা হয় না। সে হয়তো হাসতে হাসতে বলবে, কে, বড়োভাই,ব্যালে কামড় বসাইছো?

    দুতিনদিন চিন্তা করে আলেফ আল মাহমুদকে চিঠি লিখলো : অপর এথা সকল মঙ্গল জানিবা। পরে সমাচার এই, তুমি খৎ পাইয়াই চলিয়া আসিবা। কমিটি এ মাহিনাতেই হইবে। তুমি না আসা ত আমার কোনো গতি নাই।

    আল মাহমুদ যে এসব ব্যাপারে অত্যন্ত উৎসাহী সেটা বোঝা গেলো। চিঠি পাওয়ার দুদিন পরেই নিজের কাজকর্ম ফেলে সে চরনকাশিতে এলো। প্রথম দিনটা সে এবাড়ি ও বাড়ি ঘুরে বেড়ালো, দ্বিতীয় দিনের প্রত্যুষে সে আলেফের মসজিদে জমায়েত ডাকলো।

    জন পঞ্চাশ লোক এসেছে। কৌতুকপ্রবণ চাষীদের গালগল্পের মাঝখানে দাঁড়িয়ে উঠে আল মাহমুদ বললো, ভাইসব, আপনাদেক একটা কথা কবো। এই সুরে বাংলার মালেক হতেছি আমরা মোসলমানরা। ইংরেজ আমাদেক দাবানের জন্য রাজ্য কাড়ে নিয়ে হেঁদুকে বড়ো করছিলো। এতদিনে ইংরেজরা বুঝছে সরকার চালাবের ক্ষমতা হেঁদুর নাই। তাই এখন আমাদের ডাকে নিয়ে রাজ্য চালাবের কইছে। আপনেরা গৈগাঁয়ে থাকে খবর পান না, কৈলকাতা নামে এক শহরে আমরা হেঁদুদেক দাবায়ে দিছি। আমাদের মোসলমান উজির আপনাদেক ত্যাল, কাপড়, চিনি পরাবি। তা কন, মাঝখানে হেঁদুক আসবের দেওয়া কেন্? আমাদের সেখসাহেব এই মজিদ করছে। তার মতো বড়ো মোসলমান কে আছে? মোসলমানদের মধ্যি তার বড়ো কে? তাই কই, চিরকাল ঘেঁদুর দাবে না থাকে, ভাইসব, মাথা উঁচু করে ওঠেন। সেখসাহেবেক কমিটির সেক্রটারি বানান।

    শ্রোতাদের মধ্যে গুঞ্জন উঠলো। অধিকাংশই পরস্পরের কাছে আল মাহমুদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলো।

    ফিরতি পথে তাদের কেউ কেউ আলোচনা করলো, তাইলে কমিটি তোমার হেলাফেলার না।

    না বোধায়।

    ভাবেচিন্তে কাম করা লাগে, মামু। কইছিলাম সেখসাহেবেক সেক্রেটারি করবো। সে কথাও আবার ভাবে দেখা লাগে।

    কিন্তু আল মাহমুদ চালে একটা ভুল করে বসলো। তার জমায়েতের কথা যখন তিনখানি গ্রামে আলোচ্য হয়ে উঠেছে, যখন আলেফ সেখের নাম লোকের মুখে মুখে ফিরছে, বোড়ের কিস্তি দিয়ে বসলো সে তেরচামুখো ঘোড়ার পথে লক্ষ্য না রেখে। হাজিসাহেবের নাকের নিচে সানিকদিয়ারে তার বাড়ির লাগোয়া মসজিদে নমাজের পরে এক জমায়েত ডেকে বসলো সে।

    জমায়েত ভাঙলে হাজিসাহেব আলেফ সেখকে কাছে ডাকলেন।

    ছাওয়ালডা কে?

    আলেফের মনে খুশি ছিলো। বিগলিত স্বরে সে বললো, জে, আমার ভাই এরফানের কুটুম। উয়ের শহরে ও কমিটির সেক্রেটারি হইছে।

    ভালো, ভালো।

    আলেফ উৎসাহিত হয়ে বললো, ও খুব ধরছে আমাকে, কয় যে, আপনেও সেক্রেটারি হন গাঁয়ের।

    ভালো। কিন্তুক একটা কথা ও চ্যাংড়ামানুষ বুঝবের পারে নাই, তুমি ওক বোঝাও নাই কে? গাঁয়ে সেক্রেটারি হবা ভালো, কিন্তু বাইরের লোক আসে কে? আর কৈলকাতা খেস্টান শহরের কথা এখানে কে?

    আলেফের মুখ বিবর্ণ হয়ে গেলো। সে আশেপাশে চেয়ে দেখলো বহু কান উৎকর্ণ হয়ে, শুনছে হাজিসাহেবের কথা, বহু দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়ে আছে হাজিসাহেবের উন্নীত তর্জনীর দিকে।

    হাজিসাহেব বললেন, সবার মালিক সিরাজদেল্লার কথা কলো। কও, সে বিপদ তো অন্য দেশের লোক আসে। কয় যে তোমরা পাঁচ হাজার কয় শ আর হেঁদুরা চার হাজার কয়শ। তা হউক, হেঁদুক দাবাবা কে? আর তারা কী দাববি? হেঁদুর ছাওয়াল ইংরেজেক দাবায়। তোমার ঐ পাঁচে আর চারে নয় হাজারে দাঙ্গায় যদি ইংরেজ-দাবানো হেঁদুর ছাওয়াল ভেড়ে, তবে তোমার এক হাজার বেশি কী করে? তোবা! তুমি সেক্রেটারি হবা কিন্তু আদমজাদেক পয়মাল করবা কে?

    বাড়িতে ফিরে আলেফ গুম হয়ে বসে রইলো।

    পরদিন আলেফ আল মাহমুদকে বললো, দ্যাখো, ভাইসাহেব, ও কাম কোরো না।

    বিস্মিত ব্যথিত আল মাহমুদ বললো, কন্কী, কেন্? ঘাটে ভিড়ানো নৌকা ডুবায়ে সাঁতার পানি?

    গাঁয়ের লোক বুঝবের পারে না।

    ইন্‌সে আল্লা। বোঝাবো, বুঝায়ে আমি ছাড়বো। আমি লীগের কাম করি।

    আল মাহমুদের বেরুবার পোশাক পরাই ছিলো, সে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, এখন আপনার সাথে মেলা কথা কবার টাইম নাই।

    যাও কোথায়?

    চিকন্দিতে জমায়েত হবি। সান্যালগরে বাড়ির গেটে খানটুক্ জমি আছে সেখানে হবি।

    আহা, করো কি?

    আপনে না চাইলেও আমার কাম চলবি, এ লীগের কাম।

    সে চলে যেতে বিতৃষ্ণায় আলেফ কালো হয়ে উঠলো। সময়ের সঙ্গে দুর্ভাবনা এলো। কিছুটা সময় ধরে আল মাহমুদের রক্তাক্ত আহত দেহ তার কল্পনায় ভাসতে লাগলো।শহরের ভদ্রব্যক্তি বলতে যে নির্জীব শ্রেণীকে বোঝায় তেমন নয় সান্যালরা।

    দুপুরের রোদ পড়ে গেলে আলেফ তার মসজিদের সম্মুখে এক টুকরো ছায়াশীতল মাটিতে বসে তার ভাগ্যের কথা ভাবছিলো। কী আশ্চর্য, সবই কি, সকলেই কি তার বিরুদ্ধে যাবে? এই দ্যাখো আল মাহমুদকে সে ডেকে নিয়ে এলো, এখন সে-ই হলো পরম শত্রু। জ্যামুক্ত শরের মতো, সামুদ্রিক কলসের দৈত্যের মতো তাকেও আর বশে আনা যাবে না। এইটাই বাকি ছিলো-সান্যালমশাইয়ের সঙ্গে অকারণ প্রাণক্ষয়ী বিবাদ খুঁজে বার করা।

    নির্বাক নিস্তব্ধ মসজিদের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে আলেফের প্রাণ ব্যাকুল হয়ে উঠলো। প্রাণের সবটুকু বেদনা কারো কাছে বলার ইচ্ছা হলো তার। পায়ে-পায়ে এগিয়ে গিয়ে সে প্রথমে মসজিদের বাঁধানো চত্বরে উঠে দাঁড়ালো, তারপর ধূলিভরা পায়ে মসজিদের দরজার সম্মুখে গিয়ে দাঁড়ালো। অশুচি অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করতে দ্বিধা হলো, কিন্তু নিজে যে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সেখানে প্রবেশ করার দ্বিধা সহজেই সে জয় করতে পারলো। মসজিদের দূরতম কোণটি প্রায় অন্ধকার। সেদিকে চেয়ে থাকতে থাকতে তার দীর্ঘনিশ্বাস পড়লো। তারপর তার বেদনা ভাষা পেলো। বললো সে, খোদা, আমি কী অন্যাই করছি, কও? কমিটির সেক্রেটারি হবের চাই, তা কি গুনাহ্? এই দ্যাখো, আল মাহমুদ কী বিপদে ফেলালো আমাকে। বুক ভাঙে যাতেছে আমার। আর কেউ না বুঝুক, তুমি তো বোঝো? খোদা রহমান, আমার জন্যি কি কমিটির সেক্রেটারি নাজেল-মঞ্জুর করবা না? আর তা যদি না করো তবে আমি যে তোমার কাছে এত কথা কলাম সে যেন কেউ না জানে। আর আল মামুদ যেসব কথা কতিছে সেসব লোকের। প্রাণের থিকে মুছে দেও।

    আলেফ সেখের গাল বেয়ে অশ্রু নেমে এলো।

    সম্ভবত খোদা রহমান আলেফকে তার প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন।

    ঘটনাটা এইভাবে ঘটলো :

    এক বিকেলে এরফান সান্যালমশাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলো। সে দূর থেকেই দেখতে পেলো ঘরের মধ্যে সান্যালমশাইকে ঘিরে চারদিকের গ্রামের কয়েকজন ভদ্র ও অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন ব্যক্তি বসে আছে।

    চৈতন্য সাহা দরজার কাছে থেকে বললো, আসেন সেখসাহেব। আপনেদের দুই ভাইকে ডাকার জন্যি লোক পাঠানো হইছে। ফুডের নিসপেক্টার কাল সাঁঝে হঠাৎ আসে উপস্থিত। আজই কমিটি হবি। আমার দোকান থিকে সব বেচা হবি। এখন পারমেট দেওয়ার জন্যি একজন সেক্রেটারি চাই।

    চৈতন্য সাহা থামলো। এরফানের বলার কথা অনেক ছিলো, বস্তুত যা বলতে সে এসেছে। সেটা আপনা থেকে উঠে পড়ায় তার সুবিধাই হয়েছে, কিন্তু তিন গ্রামের মুরুব্বিস্থানীয়দের সম্মুখে খপ করে কিছু বলতে তার সৌজন্যবোধে আটকালো।

    এই সভায় সানিকদিয়ারের হাজিসাহেব ছিলেন। ইতিমধ্যে তার জন্যে একটি ফুর্সি এসে গেছে। চৈতন্য সাহার চাপা গলার কথা থামলেই তাঁর ফুর্সির মৃদু শব্দটায় আবার সকলের মনোযোগ তার দিকে আকৃষ্ট হলো। অনেক দিনের অনেক হেরফের দেখা মানুষ, তাড়াতাড়ি করে এগোনোর পক্ষপাতী নন তিনি।

    তিনি বললেন, ধান কেমন হলো, ও রামচন্দ্র?

    ভালোই হবি মনে কয়।

    তা আজকাল তোবড়ো বার হই নে। আসতে আসতে দেখলাম রামচন্দ্রর পাড়ায় গোরুবাছুর মানুষজন বেশ মোটা মোটা হইছে।

    এরফান বললো, হয়, ওদের দিকে আগুই হইছে।

    তা আগুই হলেও যা, নাব্‌লাও তাই। সে গল্প জানো নাকি, মুকুন্দবাবু? হাজিসাহেব হেসে বললেন।

    গল্পটা এই : কৃষক বিদেশে গিয়েছিলো, তার বউ বড়ো একলা পড়েছিলো। চাষীবউ ধান ঠেকায়, না অন্য কিছু। এরকম বউ-ঝি গ্রামে থাকলে সেকালে দেওর-সম্পর্কে ছোটো ছেলেরা বড়ো উৎপাত করতো। পাখপাখালির মতো হাসাহাসি বলাবলি করতো। বউ ভাবে ধান যদি আগুই হতো কৃষক তাহলে বোধহয় ঘরে আসে। তার কথা শুনে ধান হঠাৎ আগুই হলো। কৃষক দূর থেকে ধানের গন্ধ পেয়ে আ-আ-হৈ করে দৌড়তে দৌড়তে এসে ধান কাটতে বসে গেলো। ধানই কাটে, ধানই কাটে। একদিন চাষী বউ আবার বললো, হা ঈশ্বর, ধান যদি একটু নাব্‌লা হতো দু’একটা কথা বলা যেতে চাষীর সঙ্গে। সেই থেকে বিরক্ত হয়ে ধান আর কথা শোনে না।

    গল্পটা সকলেই উপভোগ করলো।

    মুকুন্দ রায় বললো, এখন ধানের আগুই নাব্‌লার খোঁজ নেয় শুধু চৈতন্য।

    এই কথাতেই হাজিসাহেব গল্প শুরু করলেন, সেই যে কে সাজিমশাইকে ফোঁটাতিলক সরাতে কইছিলো, তা জানো?

    রেবতী চক্রবর্তী বললো, গল্প নাকি?

    হাজিসাহেবের দ্বিতীয় গল্প এইরকম : এক সাজিমশাইয়ের কাছে কৃষকরা খুচরো ধান পাঠাতো বিক্রি করতে, অল্প ধান, ছোটো ছেলেমেয়েরাই আনতো। দাম নিয়ে খুব কষাকষি করতো। সাজিমশাই। তা করুক। আরো একটা কৌশল ছিলো তার। দামে না বলেও ধান মাপতো সে, তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে বলতো, আরে এতে চার সেরও নাই, পাঁচ সের কি বলিস। যা, যা, এরকম করে ঠকাতে আসিস নে। কৃষকরা বুঝতো কাঠায় করে মেপে দেওয়া ধান লোহার। বাটখারার ওজনে চড়ে বিরক্তিতে কমে যায়। কিন্তু এক ছিলো কৃষক যে বাড়ি থেকে বাটখারায় মেপে ধান পাঠালো সাজির কাছে। তবু তার ছেলে ফিরে এসে বললো, ধান মাপে সেরকে আধপোয়া কম।কৃষক ছুটলো সাজিমশাইয়ের বাড়িতে। সাজিমশা, বাড়িতে? আসো, আসো। সাজিমশাই ঘর থেকে বেরুলো, কপালে মস্ত গোপীচন্দনের তিলক। পরনে লাল পাটকাপড়। সাজসজ্জা দেখে কৃষকের মন গেলো দমে। দম নিয়ে সে বললো, এক কাম করেন সাজিমশায়। উই তিলকডা সরান। কেন্‌? নাইলে ওখানে পা বসানো যায় না।

    একটা চাপা হাসি এ-মুখ থেকে ও-মুখে ছড়িয়ে পড়লো। চৈতন্য সাহা অকারণে হেঁ-হেঁ করতে লাগলো। সান্যালমশাই সকার আড়ালে গাম্ভীর্য বজায় রাখলেন।

    অন্য সকলের হাসাহাসির সময়ে হাজিসাহেব তার ফুর্সিতে অত্যন্ত নিবিষ্ট হয়ে রইলেন। হাসাহাসি থামলে তিনি আবার কথা বললেন। বললেন, কবে আছি, কবে নাই। এমন চাঁদের হাটে আর বসা হবি নে। শেষবার বসে গেলাম। চোখ বোজার কালে তোমাদের সকলের মুখ চোখে যেন ভাসে। কও, সান্যালমশাই, তোমার মনে নাই সেকালে আমি বুড়া ছিলাম না। তখন তোমার বিলমহল শাসন করতাম, চর দখল করে দিতাম।

    মনে আছে বৈকি। সবই মনে আছে।

    এইটুক্‌, এইটুক্‌। এখন সভার কথা বলা কওয়া হোক, কাজের কথা হোক।

    সভার কাজ যখন শুরু হলো তখন এরফান তার দ্রুতগতিতে বিস্মিত হলো। সান্যালমশাই বললেন, এই ভদ্রলোক দিঘা থেকে এসেছেন। যেসব জিনিসের দাম ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে এবং সাধারণের দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে সেগুলি একটা নির্দিষ্ট দামে, নির্দিষ্ট পরিমাণে, সরবরাহ করা হবে।সরবরাহটা যাতে যথাসম্ভব সকলকে উপকৃত করে সেইজন্যে কমিটি। এরফান, চরনকাশির মত তুমি নিশ্চয়ই জানো, না তোমার দাদার জন্য অপেক্ষা করা হবে?

    এরফান কিছু বলার আগেই হাজিসাহেবের ছেলে ছমিরুদ্দিন বললো, আলেফ সেখ নিজেই সেক্রেটারি হবে চায়?

    তাই চায় নাকি? সান্যালমশাই যেন আগ্রহে সোজা হয়ে বসলেন, এটা ভালো সংবাদ। তাহলে সেই সম্পাদক হবে। যে উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে আসে তাকে সুযোগ দিতে হয়।

    ছমিরুদ্দিনের মুখে বিড়ম্বনার চিহ্ন ফুটে উঠলো। যেটাকে সে বিদ্রূপ হিসাবে ব্যবহার করেছিলো সেটা সান্যালমশাইয়ের কাছে সুসংবাদ হয়ে উঠবে ভাবতে পারেনি সে। কিন্তু তার। বিবর্ণ মুখ সান্যালমশাইয়ের দৃষ্টি এড়ায়নি। তার দৃষ্টিতে কৌতুক চকচক করে উঠলো। তিনি বললেন, ছমির, এ-সব কাজে বরাবরই তোমার উৎসাহ আছে। ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। হয়েছো তুমি, এটারও হও। তুমি আর আলেফ দুজনে মিলে দ্যাখো গরিব দুঃখীদের উপকার করতে পারো কিনা। তোমাদের কমিটিতে মুকুন্দবাবুকে নিয়ে, রেবতী আর রামচন্দ্রকে নিয়ো। হাজিসাহেব না থাকলে তো কঠিন ব্যাপারে সব সেরা বুদ্ধি তোমরা পাবে না।

    প্যান্টকোট-পরা লোকটি বললো, তাহলে এখানকার কমিটি তৈরি হলো?

    সভা সমস্বরে জানালো, তা হয়েছে।

    এরফানের সঙ্গে আলেফের দেখা হলো পথে।

    এরফান প্রশ্ন করলো, দমদম করে যাও কতি?

    আলেফ ব্যস্তসমস্ত হয়ে বললো, সান্যালমশাই ডাকে পাঠাইছে। তুমি চলে আসলা যে?

    থাকে আর করবো কী?

    আলেফের মুখ রক্তহীন হয়ে গেলো, তাইলে আমি আর যাই না। মনে কয়, আল মামুদের বক্তৃতার কথা হইছে।

    দুজনে বাড়ির পথ ধরলো।

    পথ চলতে চলতে এরফান বললো, কেন্ ভাই, সেক্রেটারি হবের চাও?

    আলেফ একটা কটু কথা বলতে গিয়ে থামলো৷ তিরস্কার ও অভিমানপূর্ণ দৃষ্টিতে সে ছোটো ভাইয়ের মুখের দিকে খানিকটা সময় চেয়ে রইলো।

    এরফান হেসে বললো, হবা তো হও।

    তার মানি?

    সান্যালমশাই তোমাকে সেক্রেটারি করছে।

    আল্লা রসুল!

    নীরবে কিন্তু অস্থিরভাবে খানিকটা পথ চলে অবশেষে আলেফ ভাবলো, আল মামুদেক হৈচৈ করবের মানা করো। সে যে না কয় তার বক্তৃতায় কাম হইছে। সান্যালমশাই শুনলে ভাবে কী?

    হয়! এরফান বিস্ময়ের ভান করলো, যেন আল মাহমুদের কথা এই প্রথম শুনলো সে।

    ওর আর এ-গাঁয়ে থাকে কাম নি, চালান করে দেও।

    তিন-চারদিন মোহাচ্ছন্ন অবস্থায় কেটে গেলো আলেফের। পঞ্চম দিনে চৈতন্য সাহা এসে কিছু ছাপানো কাগজপত্র, কিছু বইখাতা দিয়ে গেলো।

    চৈতন্য সাহা চলে গেলে ছেলেকে সুখবরটা দেওয়ার জন্য পত্র লিখতে বসলো আলেফ। সুসংবাদটা ফলাও করে বর্ণনা করে অবশেষে সে যা লিখলো তার মর্মার্থ এইরকম :

    তুমি একবার এসে দেখে যেয়ো। আর আসবার সময়ে আমার জন্যে একটা টুপি এনো। লাল ফেজ না। কালো লোমলোম একরকম টুপির কথা গতবার বলেছিলে, সেইরকম এনো। আর-এক কাজ করবা, কলকাতায় পাঠান যদি থাকে খোঁজ করবা তারা কাবুলি-পাগড়ি বাঁধে, টুপি পরে। মনে রাখবা আমরা পাঠানবংশের।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাজনগর – অমিয়ভূষণ মজুমদার
    Next Article প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }