Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পগুচ্ছ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প1541 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চোরাই ধন

    মহাকাব্যের যুগে স্ত্রীকে পেতে হত পৌরুষের জোরে ; যে অধিকারী সেই লাভ করত রমণীরত্ন । আমি লাভ করেছি কাপুরুষতা দিয়ে , সে কথা আমার স্ত্রীর জানতে বিলম্ব ঘটেছিল । কিন্তু , সাধনা করেছি বিবাহের পরে, যাকে ফাঁকি দিয়ে চুরি করে পেয়েছি তার মূল্য দিয়েছি দিনে দিনে ।

    দাম্পত্যের স্বত্ব সাব্যস্ত করতে হয় প্রতিদিনই নতুন করে , অধিকাংশ পুরুষ ভুলে থাকে এই কথাটা । তারা গোড়াতেই কাস্টম্‌ হৌসে মাল খালাস করে নিয়েছে সমাজের ছাড়চিঠি দেখিয়ে , তার পর থেকে আছে বেপরোয়া । যেন পেয়েছে পাহারাওয়ালার সরকারি প্রতাপ উপরওয়ালার দেওয়া তকমার জোরে ; উর্দিটা খুলে নিলেই অতি অভাজন তারা ।

    বিবাহটা চিরজীবনের পালাগান ; তার ধুয়ো একটামাত্র , কিন্তু সংগীতের বিস্তার প্রতিদিনের নব নব পর্যায়ে । এই কথাটা ভালোরকম করে বুঝেছি সুনেত্রার কাছ থেকেই । ওর মধ্যে আছে ভালোবাসার ঐশ্বর্য , ফুরোতে চায় না তার সমারোহ ; দেউড়িতে চার-প্রহর বাজে তার সাহানা রাগিণী । আপিস থেকে ফিরে এসে একদিন দেখি আমার জন্যে সাজানো আছে বরফ-দেওয়া ফল্‌সার শরবত , রঙ দেখেই মনটা চমকে ওঠে ; তার পাশেই ছোটো রুপোর থালায় গোড়ে মালা , ঘরে ঢোকবার আগেই গন্ধ আসে এগিয়ে । আবার কোনোদিন দেখি আইসক্রীমের যন্ত্রে জমানো শাঁসে রসে মেশানো , তালশাঁস এক-পেয়ালা , আর পিরিচে একটিমাত্র সূর্যমুখী । ব্যাপারটা শুনতে বেশি কিছু নয় কিন্তু বোঝা যায় , দিনে দিনে নতুন করে সে অনুভব করেছে আমার অস্তিত্ব । এই পুরোনোকে নতুন করে অনুভব করার শক্তি আর্টিস্টের । আর ইতরে জনাঃ প্রতিদিন চলে দস্তুরের দাগা বুলিয়ে । ভালোবাসার প্রতিভা সুনেত্রার নবনবোন্মেষশালিনী সেবা । আজ আমার মেয়ে অরুণার বয়স সতেরো , অর্থাৎ ঠিক যে বয়সে বিয়ে হয়েছিল সুনেত্রার । ওর নিজের বয়স আটত্রিশ , কিন্তু সযত্নে সাজসজ্জা করাটাকে ও জানে প্রতিদিন পুজোর নৈবেদ্য-সাজানো , আপনাকে উৎসর্গ করবার আহ্নিক অনুষ্ঠান ।

    সুনেত্রা ভালোবাসে শান্তিপুরে সাদা শাড়ি কালো পাড়ওয়ালা । খদ্দর-প্রচারকদের ধিক্কারকে বিনা প্রতিবাদে স্বীকার করে নিয়েছে; কিছুতেই স্বীকার করে নি খদ্দরকে । ও বলে, ‘ দিশি তাঁতির হাত , দিশি তাঁতির তাঁত , এই আমার আদরের । তারা শিল্পী , তাদেরই পছন্দে সুতো , আমার পছন্দ সমস্ত কাপড়টা নিয়ে । আসল কথা , সুনেত্রা বোঝে হালকা সাদা রঙের শাড়িতে সকল রঙেরই ইশারা খাটে সহজে । ও সেই কাপড়ে নূতনত্ব দেয় নানা আভাসে , মনে হয় না সেজেছে । ও বোঝে , আমার অবচেতন মনের দিগন্ত উদ্ভাসিত হয় ওর সাজে — আমি খুশি হই , জানি নে কেন খুশি হয়েছি ।

    প্রত্যেক মানুষেই আছে একজন আমি , সেই অপরিমেয় রহস্যের অসীম মূল্য জোগায় ভালোবাসায় । অহংকারের মেকি পয়সা তুচ্ছ হয়ে যায় এর কাছে । সুনেত্রা আপন মনপ্রাণ দিয়ে এই পরম মূল্য দিয়ে এসেছে আমাকে , আজ একুশ বছর ধরে । ওর শুভ্র ললাটে কুঙ্কুমবিন্দুর মধ্যে প্রতিদিন লেখা হয় অক্লান্ত বিস্ময়ের বাণী । ওর নিখিল জগতের মর্মস্থান অধিকার করে আছি আমি , সেজন্যে আমাকে আর-কিছু হতে হয় নি সাধারণ জগতের যে-কেউ হওয়া ছাড়া । সাধারণকেই অসাধারণ করে আবিষ্কার করে ভালোবাসা । শাস্ত্রে বলে , আপনাকে জানো । আনন্দে আপনাকেই জানি আর-একজন যখন প্রেমে জেনেছে আমার আপনকে ।

    ২

    বাবা ছিলেন, কোনো নামজাদা ব্যাঙ্কের অন্যতম অধিনায়ক , তারই একজন অংশিদার হলেম আমি । যাকে বলে ঘুমিয়ে-পড়া অংশিদার একেবারেই তা নয় । আষ্টেপৃষ্ঠে লাগাম দিয়ে জুতে দিলে আমাকে আপিসের কাজে । আমার শরীর-মনের সঙ্গে এই কাজটা মানানসই নয় । ইচ্ছা ছিল , ফরেস্ট্‌ বিভাগে কোথাও পরিদর্শকের পদ দখল করে বসি , খোলা হাওয়ায় দৌড়ধাপ করি , শিকারের শখ নিই মিটিয়ে । বাবা তাকালেন প্রতিপত্তির দিকে ; বললেন , ‘ যে কাজ পাচ্ছ সেটা সহজে জোটে না বাঙালির ভাগ্যে । হার মানতে হল । তা ছাড়া মনে হয় , পুরুষের প্রতিপত্তি জিনিসটা মেয়েদের কাছে দামী । সুনেত্রার ভগ্নীপতি অধ্যাপক ; ইম্পীরিএল সার্ভিস তার , সেটাতে ওদের মেয়েমহলের মাথা উপরে তুলে রাখে । যদি জংলি ‘ নিস্‌পেকেট্টর সাহেব ‘ হয়ে সোলার হ্যাট প ‘ রে বাঘ-ভালুকের চামড়ায় মেঝে দিতুম ঢেকে , তাতে আমার দেহের গুরুত্ব কমিয়ে রাখত , সেই সঙ্গে কমাত আমার পদের গৌরব আর-পাঁচজন পদস্থ প্রতিবেশীর তুলনায় । কী জানি এই লাঘবতায় মেয়েদের আত্মাভিমান বুঝি কিছু ক্ষুণ্ন করে ।

    এ দিকে ডেস্কে-বাঁধা স্থাবরত্বের চাপে দেখতে দেখতে আমার যৌবনের ধারা আসছে ভোঁতা হয়ে । অন্য কোনো পুরুষ হলে সে কথাটা নিশ্চিন্ত মনে ভুলে গিয়ে পেটের পরিধিবিস্তারকে দুর্বিপাক বলে গণ্য করত না । আমি তা পারি নে । আমি জানি , সুনেত্রা মুগ্ধ হয়েছিল শুধু আমার গুণে নয় , আমার দেহসৌষ্ঠবে । বিধাতার স্বরচিত যে বরমাল্য অঙ্গে নিয়ে একদিন তাকে বরণ করেছি নিশ্চিত তার প্রয়োজন আছে প্রতিদিনের অভ্যর্থনায় । আশ্চর্য এই যে , সুনেত্রার যৌবন আজও রইল অক্ষুণ্ন , দেখতে দেখতে আমিই চলেছি ভাঁটার মুখে — শুধু ব্যাঙ্কে জমছে টাকা ।

    আমাদের মিলনের প্রথম অভ্যুদয়কে আর-একবার প্রত্যক্ষ চোখের সামনে আনল আমার মেয়ে অরুণা । আমাদের জীবনের সেই উষারুণরাগ দেখা দিয়েছে ওদের তারুণ্যের নবপ্রভাতে । দেখে পুলকিত হয়ে ওঠে আমার সমস্ত মন । শৈলেনের দিকে চেয়ে দেখি , আমার সেদিনকার বয়স ওর দেহে আবির্ভূত । যৌবনের সেই ক্ষিপ্রশক্তি , সেই অজস্র প্রফুল্লতা , আবার ক্ষণে ক্ষণে প্রতিহত দুরাশায় ম্লানায়মান উৎসাহের উৎকণ্ঠা । সেই দিন আমি যে পথে চলতেম সেই পথ ওরও সামনে , তেমনি করেই অরুণার মায়ের মন বশ করবার নানা উপলক্ষ ও সৃষ্টি করছে , কেবল যথেষ্ট লক্ষগোচর নই আমিই । অপর পক্ষে অরুণা জানে মনে মনে , তার বাবা বোঝে মেয়ের দরদ । এক-একদিন কী জানি কেন দুই চক্ষে অদৃশ্য অশ্রুর করুণা নিয়ে চুপ ক ‘ রে এসে বসে আমার পায়ের কাছের মোড়ায় । ওর মা নিষ্ঠুর হতে পারে , আমি পারি নে ।

    অরুণার মনের কথা ওর মা যে বোঝে না তা নয় ; কিন্তু তার বিশ্বাস , এ-সমস্তই ‘ প্রভাতে মেঘডম্বরম্‌ ‘, বেলা হলেই যাবে মিলিয়ে । ঐখানেই সুনেত্রার সঙ্গে আমার মতের অনৈক্য । খিদে মিটতে না দিয়ে খিদে মেরে দেওয়া যায় না তা নয় , কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন পাত পড়বে তখন হৃদয়ের রসনায় নবীন ভালোবাসার স্বাদ যাবে মরে । মধ্যাহ্নে ভোরের সুর লাগাতে গেলে আর লাগে না । অভিভাবক বলেন , বিবেচনা করবার বয়েস হোক আগে , তার পরে, ইত্যাদি । হায় রে , বিবেচনা করবার বয়েস ভালোবাসার বয়েসের উলটো পিঠে ।

    কয়েকদিন আগেই এসেছিল ‘ ভরা বাদর মাহ ভাদর ‘ । ঘনবর্ষণের আড়ালে কলকাতার ইটকাঠের বাড়িগুলো এল মোলায়েম হয়ে , শহরের প্রখর মুখরতা অশ্রুগদ্‌গদ কণ্ঠস্বরের মতো হল বাষ্পাকুল । ওর মা জানত অরুণা আমার লাইব্রেরি ঘরে পরীক্ষার পড়ায় প্রবৃত্ত । একখানা বই আনতে গিয়ে দেখি , মেঘাচ্ছন্ন দিনান্তের সজল ছায়ায় জানলার সামনে সে চুপ করে বসে; তখনো চুল বাঁধে নি , পুবে হাওয়ায় বৃষ্টির ছাঁট এসে লাগছে তার এলোচুলে ।

    সুনেত্রাকে কিছু বললেম না । তখনি শৈলেনকে লিখে দিলেম চায়ের নিমন্ত্রণ-চিঠি । পাঠিয়ে দিলেম আমার মোটরগাড়ি ওদের বাড়িতে । শৈলেন এল , তার অকস্মাৎ আবির্ভাব সুনেত্রার পছন্দ নয় , সেটা বোঝা কঠিন ছিল না । আমি শৈলেনকে বললেম , “ গণিতে আমার যেটুকু দখল তাতে হাল আমলের ফিজিক্সের তল পাই নে , তাই তোমাকে ডেকে পাঠানো ; কোয়ান্টম থিওরিটা যথাসাধ্য বুঝে নিতে চাই , আমার সেকেলে বিদ্যেসাধ্যি অত্যন্ত বেশি অথর্ব হয়ে পড়েছে । ”

    বলা বাহুল্য , বিদ্যাচর্চা বেশিদূর এগোয় নি । আমার নিশ্চিত বিশ্বাস অরুণা তার বাবার চাতুরি স্পষ্টই ধরেছে আর মনে মনে বলেছে , এমন আদর্শ বাবা অন্য কোনো পরিবারে আজ পর্যন্ত অবতীর্ণ হয় নি ।

    কোয়ান্টম থিওরির ঠিক শুরুতেই বাজল টেলিফোনের ঘন্টা — ধড়ফড়িয়ে উঠে বললেম , “ জরুরি কাজের ডাক । তোমরা এক কাজ করো , ততক্ষণ পার্লার টেনিস খেলো , ছুটি পেলেই আবার আসব ফিরে । ”

    টেলিফোনে আওয়াজ এল , “ হ্যালো , এটা কি বারোশো অমুক নম্বর । ”

    আমি বললেম , “ না , এখানকার নম্বর সাতশো অমুক । ”

    পরক্ষণেই নিচের ঘরে গিয়ে একখানা বাসি খবরের কাগজ তুলে নিয়ে পড়তে শুরু করলেম , অন্ধকার হয়ে এল , দিলেম বাতি জ্বেলে ।

    সুনেত্রা এল ঘরে । অত্যন্ত গম্ভীর মুখ । আমি হেসে বললেম , “ মিটিয়রলজিস্ট্‌ তোমার মুখ দেখলে ঝড়ের সিগ্ নাল দিত । ”

    ঠাট্টায় যোগ না দিয়ে সুনেত্রা বললে , “ কেন তুমি শৈলেনকে অমন করে প্রশ্রয় দাও বারে বারে । ”

    আমি বললেম , “ প্রশ্রয় দেবার লোক অদৃশ্যে আছে ওর অন্তরাত্মায় । ”

    “ ওদের দেখাশোনাটা কিছুদিন বন্ধ রাখতে পারলে এই ছেলেমানুষিটা কেটে যেত আপনা হতেই । ”

    “ ছেলেমানুষির কসাইগিরি করতে যাবই বা কেন । দিন যাবে , বয়স বাড়বে , এমন ছেলেমানুষি আর তো ফিরে পাবে না কোনো কালে । ”

    “ তুমি গ্রহনক্ষত্র মান ‘ না , আমি মানি । ওরা মিলতে পারে না । ”

    “ গ্রহনক্ষত্র কোথায় কী ভাবে মিলেছে চোখে পড়ে না , কিন্তু ওরা দুজনে যে মিলেছে অন্তরে অন্তরে সেটা দেখা যাচ্ছে খুব স্পষ্ট করেই । ”

    “ তুমি বুঝবে না আমার কথা । যখনি আমরা জন্মাই তখনি আমাদের যথার্থ দোসর ঠিক হয়ে থাকে । মোহের ছলনায় আর-কাউকে যদি স্বীকার করে নিই তবে তাতেই ঘটে অজ্ঞাত অসতীত্ব । নানা দুঃখে বিপদে তার শাস্তি । ”

    “ যথার্থ দোসর চিনব কী করে । ”

    “ নক্ষত্রের স্বহস্তে স্বাক্ষর-করা দলিল আছে । ”

    ৩

    আর লুকোনো চলল না ।

    আমার শ্বশুর অজিতকুমার ভট্টাচার্য । বনেদি পণ্ডিত-বংশে তাঁর জন্ম । বাল্যকাল কেটেছে চতুষ্পাঠীর আবহাওয়ায় । পরে কলকাতায় এসে কলেজে নিয়েছেন এম. এ. ডিগ্রি গণিতে । ফলিত জ্যোতিষে তাঁর যেমন বিশ্বাস ছিল তেমনি ব্যুৎপত্তি । তাঁর বাবা ছিলেন পাকা নৈয়ায়িক, ঈশ্বর তাঁর মতে অসিদ্ধ ; আমার শ্বশুরও দেবদেবী কিছুই মানতেন না তার প্রমাণ পেয়েছি । তাঁর সমস্ত বেকার বিশ্বাস ভিড় করে এসে পড়েছিল গ্রহনক্ষত্রের উপর , একরকম গোঁড়ামি বললেই হয় । এই ঘরে জন্মেছে সুনেত্রা ; বাল্যকাল থেকে তার চার দিকে গ্রহনক্ষত্রের কড়া পাহারা ।

    আমি ছিলুম অধ্যাপকের প্রিয় ছাত্র , সুনেত্রাকেও তার পিতা দিতেন শিক্ষা । পরস্পর মেলবার সুযোগ হয়েছিল বার বার । সুযোগটা যে ব্যর্থ হয় নি সে খবরটা বেতার বিদ্যুদ্‌বার্তায় আমার কাছে ব্যক্ত হয়েছে । আমার শাশুড়ির নাম বিভাবতী । সাবেক কালের আওতার মধ্যে তাঁর জন্ম বটে , কিন্তু স্বামীর সংসর্গে তাঁর মন ছিল সংস্কারমুক্ত , স্বচ্ছ । স্বামীর সঙ্গে প্রভেদ এই , গ্রহনক্ষত্র তিনি একেবারেই মানতেন না , মানতেন আপন ইষ্টদেবতাকে । এ নিয়ে স্বামী একদিন ঠাট্টা করাতে বলেছিলেন , “ ভয়ে ভয়ে তুমি পেয়েদাগুলোর কাছে সেলাম ঠুকে বেড়াও , আমি মানি স্বয়ং রাজাকে । ”

    স্বামী বললেন , “ ঠকবে । রাজা থাকলেও যা না থাকলেও তা, লাঠি-ঘাড়ে নিশ্চিত আছে পেয়াদার দল । ”

    শাশুড়ি ঠাকরুন বললেন , “ ঠকব সেও ভালো । তাই বলে দেউড়ির দরবারে গিয়ে নাগরা জুতোর কাছে মাথা হেঁট করতে পারব না । ”

    আমার শাশুড়ি আমাকে বড়ো স্নেহ করতেন । তাঁর কাছে আমার মনের কথা ছিল অবারিত । অবকাশ বুঝে একদিন তাঁকে বললেম , “ মা , তোমার নেই ছেলে আমার নেই মা । মেয়ে দিয়ে আমাকে দাও তোমার ছেলের জায়গাটি । তোমার সম্মতি পেলে তার পরে পায়ে ধরব অধ্যাপকের । ”

    তিনি বললেন , “ অধ্যাপকের কথা পরে হবে বাছা , আগে তোমার ঠিকুজি এনে দাও আমার কাছে । ”

    দিলেম এনে । তিনি বললেন , “ হবার নয় । অধ্যাপকের মত হবে না । অধ্যাপকের মেয়েটিও তার বাপেরই শিষ্যা । ”

    আমি জিজ্ঞাসা করলুম , “ মেয়ের মা ? ”

    বললেন , “ আমার কথা বোলো না । আমি তোমাকে জানি , আমার মেয়ের মনও জানি , তার বেশি জানবার জন্যে নক্ষত্রলোকে ছোটবার শখ নেই আমার । ”

    আমার মন উঠল বিদ্রোহী হয়ে । বললেম , এমনতরো অবাস্তব বাধা মানাই অন্যায় । কিন্তু , যা অবাস্তব তার গায়ে ঘা বসে না । তার সঙ্গে লড়াই করব কী দিয়ে ।

    এদিকে মেয়ের সম্বন্ধের কথা আসতে লাগল নানা দিক থেকে । গ্রহতারকার অসম্মতি নেই এমন প্রস্তাবও ছিল তার মধ্যে । মেয়ে জিদ করে বলে বসল , সে চিরকাল কুমারী থাকবে , বিদ্যার সাধনাতেই যাবে তার দিন ।

    বাপ মানে বুঝলেন না , তাঁর মনে পড়ল লীলাবতীর কথা । মা বুঝলেন , গোপনে জল পড়তে লাগল তাঁর চোখ দিয়ে । অবশেষে একদিন মা আমার হাতে একখানি কাগজ দিয়ে বললেন , “ সুনেত্রার ঠিকুজি । এই দেখিয়ে তোমার জন্মপত্রী সংশোধন করিয়ে নিয়ে এসো । আমার মেয়ের অকারণ দুঃখ সইতে পারব না । ”

    পরে কী হল বলতে হবে না । ঠিকুজির অঙ্কজাল থেকে সুনেত্রাকে উদ্ধার করে আনলেম । চোখের জল মুছতে মুছতে মা বললেন , “ পুণ্যকর্ম করেছ , বাছা । ” তার পরে গেছে একুশ বছর কেটে ।

    ৪

    হাওয়ার বেগ বাড়তে চলল , বৃষ্টির বিরাম নেই । সুনেত্রাকে বললেম , “ আলোটা লাগছে চোখে , নিবিয়ে দিই । ” নিবিয়ে দিলেম ।

    বৃষ্টিধারার মধ্যে দিয়ে রাস্তার ল্যাম্পের ঝাপসা আভা এল অন্ধকার ঘরে । সোফার উপরে সুনেত্রাকে বসালেম আমার পাশে । বললেম , “ সুনি , আমাকে তোমার যথার্থ দোসর বলে মান তুমি ? ”

    “ এ আবার কী প্রশ্ন হল তোমার । উত্তর দিতে হবে নাকি । ”

    “ তোমার গ্রহতারা যদি না মানে ? ”

    “ নিশ্চয় মানে , আমি বুঝি জানি নে ? ”

    “ এতদিন তো একত্রে কাটল আমাদের , কোনো সংশয় কি কোনোদিন উঠেছে তোমার মনে । ”

    “ অমন সব বাজে কথা জিজ্ঞাসা কর যদি রাগ করব । ”

    “ সুনি , দুজনে মিলে দুঃখ পেয়েছি অনেকবার । আমাদের প্রথম ছেলেটি মারা গেছে আট-মাসে । টাইফয়েডে আমি যখন মরণাপন্ন , বাবার হল মৃত্যু । শেষে দেখি উইল জাল করে দাদা নিয়েছেন সমস্ত সম্পত্তি । আজ চাকরিই আমার একমাত্র ভরসা । তোমার মায়ের স্নেহ ছিল আমার জীবনের ধ্রুবতারা । পুজোর ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পথে নৌকোডুবি হয়ে স্বামীর সঙ্গে মারা গেলেন মেঘনা নদীর গর্ভে । দেখলেন , বিষয়বুদ্ধিহীন অধ্যাপক ঋণ রেখে গেছেন মোটা অঙ্কের ; সেই ঋণ স্বীকার করে নিলেম । কেমন করে জানব এই-সমস্ত বিপত্তি ঘটায় নি আমারই দুষ্টগ্রহ ? আগে থাকতে যদি জানতে আমাকে তো বিয়ে করতে না ? ”

    সুনেত্রা কোনো উত্তর না করে আমাকে জড়িয়ে ধরলে ।

    আমি বললেম , “ সব দুঃখ-দুর্লক্ষণের চেয়ে ভালোবাসাই যে বড়ো , আমাদের জীবনে তার কী প্রমাণ হয় নি । ”

    “ নিশ্চয় , নিশ্চয় হয়েছে । ”

    “ মনে করো , যদি গ্রহের অনুগ্রহে তোমার আগেই আমার মৃত্যু হয় , সেই ক্ষতি কি বেঁচে থাকতেই আমি পূরণ করতে পারি নি । ”

    “ থাক্‌ থাক্‌ , আর বলতে হবে না । ”

    “ সাবিত্রীর কাছে সত্যবানের সঙ্গে একদিনের মিলনও যে চিরবিচ্ছেদের চেয়ে বড়ো ছিল , তিনি তো ভয় করেন নি মৃত্যুগ্রহকে । ”

    চুপ করে রইল সুনেত্রা । আমি বললেম , “ তোমার অরুণা ভালোবেসেছে শৈলেনকে , এইটুকু জানা যথেষ্ট ; বাকি সমস্তই থাক্‌ অজানা , কী বল , সুনি । ”

    সুনেত্রা কোনো উত্তর করলে না ।

    “ তোমাকে যখন প্রথম ভালোবেসেছিলুম , বাধা পেয়েছি । আমি সংসারে দ্বিতীয়বার সেই নিষ্ঠুর দুঃখ আসতে দেব না কোনো গ্রহেরই মন্ত্রণায় । ওদের দুজনের ঠিকুজির অঙ্ক মিলিয়ে সংশয় ঘটতে দেব না কিছুতেই । ”

    ঠিক সেই সময়েই সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শোনা গেল । শৈলেন নেমে চলে যাচ্ছে । সুনেত্রা তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে বললে , “ কী বাবা শৈলেন। এখুনি তুমি যাচ্ছ না কি। ”

    শৈলেন ভয়ে ভয়ে বললে , “ কিছু দেরি হয়েই গেছে , ঘড়ি ছিল না , বুঝতে পারি নি । ”

    সুনেত্রা বললে , “ না , কিছু দেরি হয় নি । আজ রাত্রে তোমাকে এখানেই খেয়ে যেতে হবে । ”

    একেই তো বলে প্রশ্রয় ।

    সেই রাত্রে আমার ঠিকুজি-সংশোধনের সমস্ত বিবরণ সুনেত্রাকে শোনালেম । সে বলে উঠল , “ না বললেই ভালো করতে । ”

    “ কেন । ”

    “ এখন থেকে কেবলই ভয়ে ভয়ে থাকতে হবে । ”

    “ কিসের ভয় । বৈধব্যযোগের ? ”

    অনেকক্ষণ চুপ করে রইল সুনি । তার পরে বললে , “ না , করব না ভয় । আমি যদি তোমাকে ফেলে আগে চলে যাই তা হলে আমার মৃত্যু হবে দ্বিগুণ মৃত্যু । ”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅনুবাদকের নিবেদন : সাধনা প্রসঙ্গে
    Next Article গীতালি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Related Articles

    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }