Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – অজেয় রায়

    লেখক এক পাতা গল্প994 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তীর্থযাত্রার চম্পূ

    ওরা কিছুতেই যাবে না এবং আমরা প্রবল চেঁচামেচি করছিলাম। দৃশ্য, যমুনার ঘাট। ওরা মানে মাঝিরা, প্রয়াগগামী নৌকার মাঝিরা। মাথায় ফেট্টিবাঁধা এবং না বাঁধা জোরালো চেহারার প্রচুর মাঝি। ভালো ছইওলা মজবুত নৌকাগুলো সাতশো আটশো দরও হাঁকছিল, অথচ গলা নিখাদে চড়িয়ে সুদেষ্ণা বলল, ও আর অঙ্কুর জাস্ট ছদিন আগেই … দুশো আরও কিছু উটকো যাত্রী অবশ্য ছিল, কিন্তু পঁয়তাল্লিশ দুগুণে নব্বইয়েই ঘুরে এসেছে। আসল কথা ওরাই এসেছে প্রথম। ওদেরই নেশা বেশি। পায়ের তলায় সরষে। এসেই সম্মেলনের ইকড়ি মিকড়ি না শুনে ওরা বেরিয়ে পড়েছে। সব সময়েই যেন পরস্পরের থেকে পালাতে চেয়ে ওরা দিগদর্শনে মাতোয়ারা হয়। কাঁধে ক্যামেরা, চোখে বাইনোকুলার। কোমরে জিনস। তখন ডিমান্ড ছিল কম। কিছু দেহাতি যাত্রী ছাড়া তেমন শাঁসালো কেউ ছিল না। এখন সম্মেলনও শেষ। হাজারখানেক অতিরিক্ত লোক এখন ওদের খদ্দের। এ দিকে মাঘী মেলার সময়ও হয়ে এল। এখানকার সবচেয়ে বড়ো মেলা। বিখ্যাত। যমুনার দিকে আসতে আসতে বিস্তীর্ণ সব জায়গায় তাঁবু খাটানো হচ্ছে

    আমরা দেখতে দেখতে এসেছি। শুনে এলাম কেমন সাজো সাজো রব চারদিকে। দেখলাম নানান পসরা সাজানো হচ্ছে অস্থায়ী দোকানঘরে। কাঠের জিনিস। পাথরের জিনিস। হাওয়ায় এখনও কেমন মোচ্ছবের গন্ধ।

    এই মেলাই তো ছ ছ বছর অন্তর অর্ধকুম্ভে দাঁড়ায়। আধ হাঁড়ি অমৃত। বারো বছর বাদ পূর্ণকুম্ভ। পুরো হাঁড়ি অমৃত। অমৃত লাভের জন্য কী হুড়োহুড়ি। তাই হাওয়ায় দুর্ঘটনার গন্ধও পেতে থাকি। কেমন একটা শীত-শীত। লক্ষ লক্ষ লোক মিলতে আসে, খুঁজতে আসে, পেতে আসে, নানা অর্থের অমৃত। তাই দিতেও হয়। ভাবলেই কেমন ছমছম করে ওঠে গা।

    আপাতত যমুনার জল ঠাসাঠাসি নৌকার গায়ে ছোটো ছোটো হাইফেন। ছলাত ছলাত। সবুজ জলীয় আঘ্রাণে মস্ত করে দিচ্ছিল আমাদের। অমৃত এবং মৃত্যুর কথা মনে থাকছিল না। রুক্ষ আকবর ফোর্ট আর টিপি-চাপা দেবতার দল। কড়ির সাজ পরানো রোগা গোরু, উঃ। তার পরেও আমরা রিলিফ চাইব না?

    আমরা মানে অঙ্কুর সরসীরঞ্জন।

    রমিতা সুদেষ্ণা।

    অনীশ মনামি। এবং আমি।

    সরসীরঞ্জন এক সময়ে আমাদের মাস্টারমশাই ছিলেন। বেশ উঁচুদরের। সুদেষ্ণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ফাটাফাটি প্রেম করে, হঠাৎ কীসের থেকে কী হল রোমিকে বিয়ে করলেন। আগে ওঁকে দুর্দান্ত কিছু ভাবতাম। কিন্তু সেই বিয়ের আসর থেকেই ওঁর মাস্টারমশাইত্ব বেমালুম গায়েব হল। জাত হারালেন, নেহাতই রাম-শ্যাম, যদু-মধু-হরি গোছের, নেহাতই গোলে হরি বোল, নেহাতই ফ্যালিবল মর্টাল বলে ওঁকে মেনে নিই আমরা সেই থেকেই। পাণ্ডিত্য, ফান্ডা ইত্যাদিকে পাত্তা না দিয়ে, অ্যাদ্দিনের অভ্যেস ছেড়ে, সরসী করে ডাকতে থাকি। সরসী! সরসী!

    সুদেষ্ণা অবশেষে মাকাল বলে ডাকলেও, হেলা-ফ্যালা করলেও অঙ্কুর চাইছিল বলে অঙ্কুরকেই। সেই সূত্রে ও মাকালী। আমরা মাকালী মাকালী করে খ্যাপাই। ও বেচারির দ্বিতীয় পছন্দ ছিল অনীশ। মুখে কেউ কাউকে না বললেও মনে মনে আমরা জানতাম অনীশ বরাবর মনামিতে আতত। ওর ধারণা মনামিও তাই। ওদের অন্তত মিউচুয়াল হয়েছে। কিন্তু মনামি আসলে অঙ্কুরকে চাইত। ছোটোবেলা থেকে ভাবের সূত্রে। কেমন যেন কাজিনও ওরা। কিন্তু ও তো মাকাল! মাকাল। মাকালকে আর কে শেষ পর্যন্ত চায়!

    আমাদের মেজাজ চড়ে যাচ্ছিল। বেলাও চড়ছিল। নেহাত শীত বলেই সইছিল। এ দিকে নৌকাঅলারাও গনগনে চোখে, ঝনঝন করে কথা বলছিল।

    থাক পুণ্য করে দরকার নেই—রোমি ঝাঁঝায়, আমাদের পুণ্য না হোক গে, তুমারি যমনামায়ি তুমলোগকো শাঁপ দেগা, শাঁপ। … তর্জনী নাচছিল রমিতার।

    তো আইয়ে না মেমসাব। পুন কি সওয়াল হ্যায় তো, পৈসা কি জরুরত নহি। আইয়ে, আপ সব কো মুফত হি ঘুমাউঙ্গা।

    মুফত হি, মুফত হি ঘুমা দুঙ্গা, কোরাস গেয়ে ওঠে সবাই। অবশেষে বালিতে বড়ো বড়ো ইয়েতি ছাপ ফেলে, বিশাল বপু আমাদের জেনারেল মানেকশ বঢ়োরস্ক বৃষস্কন্ধ অটোঅলা এগিয়ে আসতে থাকে। হাতের তিন আঙুল তুলে দাঁড়িয়ে থাকে ঘাটের কিনারায়। মুখে কথা নেই। ভিরকুটি। হিন্দুস্তানি চার্চিল আর কী! কেউ যেন বলল।

    আইয়ে আইয়ে—একজন সঙ্গে সঙ্গে রাজি। পুরো নৌকা তিনশোয়। মন্দ কী? ছিপছিপে গৌরাঙ্গর পেছন পেছন আমরা হুড়মুড় করে এ নৌকোর আগ-গলুই থেকে ও নৌকার পাছ-গলুই টপকে টপকে ভাসমান ছকে এ ক্কা দোক্কা, তে ক্কা চৌকোটাল খেতে খেতে গৌরাঙ্গ-নৌকার পাটাতনে পৌঁছে যাই।

    এইবার শুরু হয় আসল খেলা।

    বাঘের খেলা।

    কে কার পাশে বসবে না, সেই খেলা।

    পরস্পরের প্রতিমার খড় বেরিয়ে গেছে এখন। প্রেম-ট্রেম সব ভোঁতা। তবু… তবু খড়ের কাঠামো এক আদি-অন্তহীন রৌরব। ঘুরে ঘুরে হয়রান সবাই। বেরোতে পারছে না। ছিড়ছে, ভাঙছে, কাটছে। কিংবা কে জানে, এদের সবার বেরোবার ইচ্ছেটাই হয়তো মরে গেছে। ইচ্ছের পেছনে ইচ্ছে থাকে। তার পেছনে আরও ইচ্ছে। এ সব কথা কবুল করাটা দুঃসাহস! ইচ্ছের পেছনে দুঃসাহস থাকা চাই। এই টলোমলো নৌকায় তা আর কারই বা আছে।

    ফলত, প্রত্যেকে যেন প্রত্যেকের দিকে পেছন ফিরে বসতে চায়। সে এক অদ্ভুত নেগেটিভ হুড়োহুড়ি। শেষ পর্যন্ত উদ্যোগী হয়ে মুখোমুখি করে দিই ওদের।

    কেননা শেষ পর্যন্ত তো আমাদের বাস্তবের মুখোমুখি হতেই হয়।

    পউষের দুপুরের রোদে কুকরি ঝলসায়। তেরছা হয়ে রোদ এসে পড়ে একেবারে অঙ্কুরের মুখের ওপর। ও রোদ আড়াল করবার চেষ্টা করে না। ওকে দেখায় ঠিক দোলের দিনের লালচে মঠের মতো, অনেক ফুটকড়াই আর চিনির মুড়কির মাঝখানে লোভনীয়, রসালো, সলিড …।

    কিন্তু সুদেষ্ণা মুখ ঝামটে বলল, বাবারে বাবা, পুণ্য করতে যাচ্ছি। তখনও তুমি আমার সামনে বসবে?

    আমি কি তবে মূর্তিমান পাপ-টাপ নাকি?

    মুখটাকে একটু আড় করে অঙ্কুর ক্যামেরাটা রমিতার দিকে তাক করল। সরসী, এক্স-মাস্টারমশাই, সেই বিয়ের রাতে যাঁর জমানত জব্দ হয়ে গিয়েছিল, রমিতার সঙ্গে যুগদ্ধ ছবি, আগে নিশ্চয় অনেক তুলেছেন, আজ যেন আদপেই তুলতে চাইলেন না। অঙ্কুরের ক্যামেরার দিকে পেছন করে, তিনি জলের দিকে মুখ ফিরিয়ে ঝুঁকে বসে রইলেন। জিজ্ঞেস করাতে বললেন, চশমার কাছে বড্ড রোদ ঝলসায়।

    রমিতা আর মনামি দীর্ঘদিনের শত্রু বন্ধু পাশাপাশি হতে অথবা না হতে গিয়ে এবং অনীশ ওদের মুখোমুখি অথবা পিঠোপিঠি হতে গিয়ে নৌকা এমন হেলায়। বিপজ্জনক কৌণিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে সবাই একত্র হয়। হাঁ হাঁ করে ওঠে গৌরাঙ্গ, অ্যায়সা মত কিজিয়ে, মত কিজিয়ে অ্যায়সা।

    উরি বাবারে! রোমি চেঁচিয়ে ওঠে, এ ভাই হাম সবকো লওট দেগা তো?

    দেখিস বাবা পানি কি অন্দর গোর দিসনি—মনামি হাসবার চেষ্টা করে।

    মওত সে ডরনা মৎ—গৌরাঙ্গ গম্ভীর গলায় চাপা গর্জন করে। তার মানে কী? কী বলতে চায় লোকটা। এটা কি ওর ফিলজফি অফ লাইফ। না মৃত্যু সত্যি সত্যিই আশেপাশেই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য?

    আপাতত অথই জল। সবাই নীল বললেও আমরা দেখি সবুজ। একেবারে সবুজ। বঙ্গোপসাগরে এই সবুজ দেখা যায়। তার সঙ্গে নুন গন্ধ থাকে।

    যমুনা কখনও নিজে নিজে সাগরে পৌঁছতে পারেনি। তবু সাগরেরই রং মেখেছে। যতই এগোই, রোদ ততই ভিজে যায়, হাওয়া ততই জলে-ভেজা তালপাতার পাখার বীজন।

    জলের মাতোয়ালা রক্তের গলিতে ঢুকে যায়। জলের রঙিন পিচকিরি ছেটাতে থাকে, কেমন একটা উল্লাস উঠে আসে নাভিপদ্ম থেকে, সোজা উঠে লক লক করে উল্লাসটা, যার ঝোঁকেই হয়তো অনীশ কাব্যি করে বসে :

    হে দিন, সোনালি দিন,
    যার জন্যে গভীর দুপুর
    সোঁদা মাটি টুপুর-টাপুর
    যার জন্যে অছিন-অভিন
    তুমি কি দেখেছ সেই সোনার হরিণ?
    দেখেছ সে সোনার হরিণ?

    স্বর্ণমৃগী তোর সঙ্গে খেলতে চাইবে কেন? রমিতা জলের ওপর গলা তুলে বলল। অনীশ কিন্তু কবিতার শিখর থেকে নামতে পারছে না এখনও। দেখেছ কি, দেখেছ কি, করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে। এদিকে অদূর-নীলে সাদার ডট। ঘন ঘন সজল ডট। বুটিদার রেশমি শাড়ি নীল যমুনা। পাখি পাখি পাখি। কী বলে ওদের? মাঝি ভাই? পংখি! পংখি। যাযাবর ম্যাটাডর কনডর, কত দূরের শরীর সব, কত্ত দূরের মন, মেজাজ। শীতে আসে, গ্রীষ্মে যায়। কোথায় যায়? যেখানে তুষার গলে রিমঝিম তৃণ। বালিহাঁস হয়ে নামে আলিপুরে, প্রতি শীতে, ত্রয়োদশীর চাঁদ সাঁকোয়। মরাল হয়ে, শামুক খোল হয়ে ঝুপ ঝুপ, ঝুপল, ঝুমল—করে নামে, নামতে থাকে জলে—জলায়, বিলে-ঝিলে।

    শীতই ওদের বসন্ত।

    অনীশ এখন অচিন হরিণ থেকে অচিন পাখির প্রসঙ্গে এসে গেছে। সত্যিই সে স্বর্ণমৃগীর জন্য হন্যে না পাখির জন্যে নাকি দুটোই এক, এখন সম্পূর্ণ গুলিয়ে গেছে।

    অঙ্কুর বলে উঠল, সরসী! আপনার দিকের পাড়টা খানিকটা মরুভূমির মতো দেখেছেন? কমপ্লিট উইথ উট বালিয়াড়ি অ্যান্ড অল।

    সত্যিই পাড়টা দু-তিনটে টাল খেয়ে উঠে গেছে। ঝকঝকে ইস্পাত আকাশের কোলে একটি চিত্রার্পিত উট। লাগাম ধরে সামনে একজন পেছনে আরও তিন। বালির ভাঁজ স্পষ্ট। ভাঁজে পুতুলগাড়ির মতো একটা ল্যান্ডরোভার। চিক করে একটা শব্দ। অর্থাৎ অঙ্কুর ফটো তুলল।

    সুদেষ্ণা প্রায় ভেঙিয়ে বলল, তুমি কি কিছুই মনে রাখতে পার না? সবকিছুরই রেকর্ড…।

    —রাখতে না ব্রেক করতে? রমিতা চিৎকৃত হাসিতে বলল, ধিক্কার জানিয়ে বিকৃত গলায়।

    চিক—আরেকটা।

    আমি নড়ে গেছি, আমরা নড়ে… উঠবে না। উঠবে না।

    উঠবে, ভেংচি সমেত।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে উটটার সওয়ার নেই কেন?

    সত্যিই তো! সওয়ার নেই। গলায় ঝোলা বাইনোকুলারটা তুলে মনামি, সামনে পেছনে লোক, এ তো দেখছি গ্রিসিয়ান আর্ন!

    ওটা ইদের উট!

    তাই জল পড়ছে চোখ দিয়ে অঙ্কুর।

    সুদেষ্ণা ঝুঁকে উঠবে? চোখের জলটা উঠবে?

    উঠতে পারে—চোখের জলটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট, উটের চোখের…

    খোলাখুলি কমিট করতে চাইছে না অঙ্কুর। মনামির ছেলের ছবি তুলেছিল মুখের নালসুদ্ধ। কিন্তু… চোখের জল? উটের চোখের।

    পাশ দিয়ে ওদের দ্বিগুণ ভরতি একটা খোলা নৌকা। রোদে জ্বলছে দেহাতি মেয়ে পুরুষ। কেউ কেউ এ নৌকার যাত্রীদের দিকে চেয়ে দাঁত বার করে হাসছে।

    হাসিটার মানে কী?—সুদেষ্ণা বিরক্ত, উড়ন্ত ট্রেন দেখে যেমন দুরন্ত ছেলেরা হাত নাড়ে?

    শহুরেরা গাঁওয়ার দেখে হাসে। গাঁওয়াররা শহুরে দেখে।

    সত্যিকার নাগরিক হলে শহুরেরা হাসে না।

    মনে মনে হাসে। ভুরু কুঁচকোয়।

    আরও একটা নৌকা ভেসে যায়। ভর-ভরতি। নৌকাডুবি হল বলে। নারকোল, ফুল, ধূপ প্রায় প্রত্যেকের হাতে। ভাবছিল ডুববে না। কেননা ধূপ, ফুল…। এরাও হাসছিল। খুব।

    সরল-সরল চাকর-চাকর দেখতে। কে যেন বলল মেয়ে-গলায়। চা

    কর খাটতে গিয়ে এই লোকগুলোই গোড়ার দিকে সরল-সরল, খুব খাটে পেটে।

    … হাঁ-জি হাঁ-জি কথায় কথায়। উঠতে বসতে মাজি মাইজি। বিনয়ের অবতার একেবারে। কিছুদিন পরেই চুরিচামারি। ছিচকে ছিচকে, তারপরে শেয়ানা সিঁদেল, তারপর ডাকাত দলের দালালগিরি, ভেতর থেকে দরজা খুলে দেওয়া, সুলুক সন্ধান, চপার, হাতুড়ি, মায় ধর্ষণ-টর্ষণ পর্যন্ত…

    এখন দেখাচ্ছে খুব নিষ্পাপ।

    কে বলল?

    নিষ্পাপ না হাতিরমিতা, এসব হদ্দ বোকা, কিন্তু মিটমিটে।

    সুদেষ্ণার দিকে চেয়ে কীভাবে হাসছে! এরা চাউনি দিয়েই, হাসি দিয়েই … জঘন্য।

    ওদের দলে একটি বৃদ্ধ লোক, বুড়ো হনুমানজির মতো, কাঁধগুলো এখনও কী চওড়া! পাকা গোঁফদাড়িতে মুখ ঝুলে পড়েছে। কিন্তু হাতগুলো লোল নয়, জলের দিকে চেয়ে বিড়বিড় করে কী বকছিল, মনে হল বলছে, গঙ্গা বিটিয়া যমনা বিটিয়া গঙ্গা বিটিয়া যমনা বিটিয়া গঙ্গা যমনা গঙ্গা যমনা গঙ্গা যমনা।

    দেখতে দেখতে ঢেউয়ের দোলে হাজার হাঁস ভেসে আসে। খাদ্যসামগ্রী নিয়ে নৌকা যায়। পাঁপর, নিমকি, খাজা।

    তিলে খাজা আছে?—মনামি খাবে,

    তোর কি মাথা খারাপ?-অঙ্কুর। বইঠা হাতে মাঝি হাঁকে,

    পংখিকো খিলাইয়ে মেমসাব, খিলাইয়ে না!

    এঃ পাখির খাবার? মনামি হতাশ।

    কেন খা না। চিড়িয়াখানার গেটে বাঁদরের ছোলা-বাদাম কিনে তো নিজেই খাস।

    তোর বরাদ্দ আমি খেয়ে নিয়েছি? কখন?

    এঃ এসব পুরোনো জোক, এখন কেউ হাসবে না।

    অঙ্কুর হাঁসেদের দিকে ক্যামেরা তাক করছে। মনামি কিনেছে তিলে খাজা, সুদেষ্ণা পাঁপর টুকরো করে ছুড়ে দিচ্ছে শূন্যে। পাখিগুলো ঝাঁপ দিচ্ছে।

    রোমি চেঁচায়, আমাকে দে, আমাকে… আমিও খাওয়াব।

    ছাই রঙের সিল্ক লাগানো ডানায় ভরন্ত, নিটোল, কেমন একটা আভাযুক্ত সাদা যেন ফ্রস্টেড ঝালর একেকটা বড়ো বড়ো।

    মনামি বলল, উঃ আমারগুলো একেবারে খাচ্ছে না। রমিতা আমার থেকে ধার নিল, অথচ ওরগুলোই …

    বলতে বলতে সে বিপজ্জনক ঝুঁকে খোলামকুচি খেলার মতো খাজার টুকরো ছুড়ে দিল। ছুড়ে দেবার অভিঘাতে নৌকা হেলছে। প্রচণ্ড হেলছে। রোমিকে জড়িয়ে মনামি, মনামিটা… সরসী চেঁচাচ্ছে। আতঙ্কে সাদা হয়ে গেছে পণ্ডিতি চোখ।

    নৌকা সোজা হয়ে যায় আবার।

    গৌরাঙ্গ এখন মাঝদুপুরের রোদে সোনার গৌরাঙ্গ, এইসা মত করো মেমসাব এইসা মত।

    নারকোল বাড়িয়ে ধরে ভাসমান দোকান, নারিয়ল লে যাইয়ে মাজি, সঙ্গমপে পূজা চঢ়াইয়ে।

    গৌরাঙ্গ দু-হাতে বইঠা চালায়। দু-হাতের পেশি ফুলে ফুলে ওঠে আর তালে তালে সে বলে চলে, বিটিয়াকো কুছ দেনে পড়েগা মেমসাব, লিজিয়ে, নরিয়ল লিজিয়ে, মিঠাই লিজিয়ে মু মিঠা কর দিজিয়ে বিটিয়াকো। বিটিয়া দুবলি হো জায়েগি।

    সরসী চোখ থেকে চশমা নামিয়ে বলল, আরে বাবা, সব লোগ নারিয়ল, মিঠাই, রুপেয় পানি মে ডালেগা তো পানি বহোত গন্ধা হো যায়েগা। নদীকি তন্দুস্তিকে লিয়ে পূজা উজা চঢ়ানা বন্দ করো ভাই। নদীকো বুরা হোগা।

    চুপ করে বইঠা বায় মাঝি, মুখে প্রত্যাখ্যানের রেখাভঙ্গ। সরসীর কথাকে ও পাত্তা দেয় না আদৌ।

    ওই যে ওই যে দেখো সবাই… সংগম… সংগম… সংগম দেখি।

    যমুনার নীলচে সবুজ গঙ্গার গৈরিক ধারার পাশাপাশি চলেছে। নীল সোনালি।

    যমুনে! তুমি কি সেই যমুনে! অঙ্কুর হাঁকে।

    উতরোল কোলাহল জলে জলে, মানুষে মানুষে, কোমর জলে দাঁড়িয়ে মাথায় জল ঢালছে নারী-পুরুষ।

    পানি কমর তক হোগা, যাইয়ে না মেমসাব। আস্নান কিজিয়ে।

    সরসী নীচু হয়ে একমুঠো জল তুলে আমাদের মাথার ওপর ছিটিয়েছে।

    ওম শান্তিহি, শান্তিহি, শান্তিহি।

    সুদেষ্ণা গান ধরে :

    ওরে নীল যমুনার জল
    বল রে মোরে বল
    কোথায় ঘনশ্যাম…

    মাঝি গানে কান না দিয়ে বলে, সঙ্গম তিরথ হ্যায়, হঁহাপে আস্নান সে পুন হোগা, পুন। শান্তি মিলেগি।

    ওং শান্তিহি, শান্তিহি, শান্তিহি, অঙ্কুর নিবিষ্টচিত্তে ফোটো তুলে যাচ্ছে।

    দূরে মিলিয়ে গেছে ফ্রস্টেড পাখিদের ঝটাপটি। গঙ্গার দিকের পাড়ে একটা শাড়ি রোদে মেলে দু-কোণ থেকে দু-খুঁট ধরে চলেছে গোটা পরিবার। মা বাবা, ছাগলছানা, ছেলে, হাওয়ায় ফটাফট উড়ছে শাড়ি।

    আমার কৃষ্ণ ঘনো ও-ও শ শ্যাম
    ও পারে নিয়ে চলো না মাঝিভাই—

    রমিতা অনুনয় করে। গ্রাহ্য করে না মাঝি। কখন নৌকো ঘুরিয়েছে বুঝতেই পারিনি।

    সরসী সান্ত্বনা দেয়… তোমরা সংগম অব্দি আসবে বলেছ, তার বেশি ঘোরাতে ওর বয়েই গেছে, ঠিক যতটার কড়ার ততটাই… যে কোনো যাত্রাই কড়ার অনুযায়ী হয়।

    আহা হা হা, একটুও ফাউ পাওয়া যাবে না—এতই কৃপণ?

    কৃপণ বলো কৃপণ, কড়ার বলো কড়ার, প্রোগ্রামিংও বলতে পারো…

    অঙ্কুর বলল, পাওয়া কি আর যায়নি কিছু? সব আমার ক্যামেরার ধরা আছে।

    কী? সুদেষ্ণা জিজ্ঞেস করে, নীল? আর সিল্ক-মসৃণ? আর কলনা?

    তীরের কাছাকাছি দিয়ে চলেছে নৌকা, পাড়ের খাঁজে সাপের খোলস। চান করতে নেমেছে বেশ কিছু লোক। হঠাৎ দেখি জল নেই, চারদিকে খালি মোষ আর মোষ আর মোষ। মোষেদের পিঠের ওপর দিয়েই নৌকা চলেছে। এ আর জলের নদী নয়। মোষের নদী।

    এ কী? এ কী? মোষ অতি ভয়ঙ্কর জীব!

    এক্ষুনি নৌকা উলটে দেবে।

    তুমি গৌরাঙ্গ বাবাজি বেশ সাঁতরে পালাবে… না?

    চেনা লোককে মোষ তো কিছু বলবে না!

    আমাদের একেবারে কুঁড়ে ফেলবে।

    আমরা কেউই কি সাঁতার জানি না?

    জানি।

    কিন্তু সে শৌখিন সাঁতারে এ মোষসংকুল যমুনা পার হওয়া যায় না।

    বইঠা বাইতে বাইতে ক্লান্ত স্বরে সে বলল, মওত সে ডরো মত, ডরো মত।

    খোলা নদীতে এসে পড়েছে নৌকা। অদূরে ফেলে-আসা তীরভূমি। মানেকশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। সিগারেট খাওয়া বিপজ্জনক। মওত সে ডরো মত।

    সুদেষ্ণা জলের দিকে মুখ, মরিয়ার মতো বলে উঠল–

    মানুষের দলা তীর্থে তীর্থে। তার মধ্যে তোকে খুঁজে ফিরি রুপোর মানুষ।
    আনত মধ্যাহ্নে জলের মধ্যে দেখি তোর বিম্ব। কফিখানার খয়েরি ধোঁয়া
    থেকে চুল্লুর গেলাসে ফাটা বালব, রকবাজির গড়পার থেকে
    লোকনাথোৎসবের পঞ্চাননতলা। যুব-ক্রীড়ার তাতা বালি থেকে সেলিমপুরের
    ব্রিজ, গলি… সব ঘুরতে ঘুরতে—শেষ পর্যন্ত নীল গেরুয়ার সঙ্গমে, দূর থেকে
    তোকে দেখেও হারিয়ে ফেলেছি।

    এটা কি কবিতা? অনীশ বলল।

    আর কেউ কিছু বলল না।

    কিছু না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরহস্য সমগ্র – অজেয় রায়
    Next Article অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – অজেয় রায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }