Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – অজেয় রায়

    লেখক এক পাতা গল্প994 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মধুর ভাগ

    মাটির ওপর ক্যানভাস বিছিয়ে পিঠোপিঠি বসেছিলেন প্রফেসর নবগোপাল ঘোষ এবং বিল। প্রফেসর ঘোষ একটি ক্যামেরা পরীক্ষা করছেন। বিলের পাশে শোয়ানো রয়েছে একটি রাইফেল ও একটি পিস্তল। আর একটা রাইফেলের কলকব্জায় বিল তেল লাগাচ্ছেন সযত্নে।

    মাথার ওপর ঝাঁকড়া গাছটার ডালপালার ফাঁকে ফাঁকে ভোরের সূর্যের আলো এসে পড়েছে মাটিতে। আলোছায়ার রকমারি নকশা বুনেছে।

    কিছু দূরে দুটো তাঁবু পড়েছে। অনেক লোক তাঁবুগুলির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে নানা কাজে। কয়েকজন মাটিতে বসে করছে গল্পগুজব। রাঁধুনি বিশালকায় জাম্বো— একা একটা গাছের তলায় বসে কুটছে একরাশ তরকারি।

    প্রায় একশো মিটার দূরে উত্তর দিকে শুরু হয়েছে জঙ্গল। ঘন নয়, পাতলা বনভূমি। একটি ক্ষীণকায়া নদী এসে ছোটো জলাভূমি তৈরি করেছে ওখানে, তারই আশেপাশে গাছপালা ঝোপঝাড় জন্মে ওই বনভূমির সৃষ্টি। তাঁবু পড়েছে যেখানে সেখানটা বেশ খোলামেলা, শুধু মাঝে মাঝে এক-একটা বড়ো ঝাঁকড়া গাছ। পিছনে দক্ষিণ দিকে দেখা যাচ্ছে খোলা প্রান্তর। সেখানে বড়ো গাছ খুব কম। আবহাওয়া গরম হলেও এখনও বৃষ্টি নামেনি, তাই খোলা মাঠ বেশ রুক্ষ, প্রায় তৃণহীন।

    এই জায়গাটা আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ অংশে বেচুয়ানাল্যান্ডের (অধুনা বতসোয়ানা) অন্তর্গত। প্রফেসর ঘোষ আফ্রিকায় সাফারিতে বেরিয়ে কয়েকদিন হল এখানে তাঁবু ফেলেছেন। শিকারি বিল তাঁর বন্ধু এবং এই অভিযানে পথপ্রদর্শক।

    কিচ কিচ কিচ! কোনো পাখির তীক্ষ্ণ গলা শুনে ঘোষ মাথা তুললেন। দেখলেন, জাম্বো যে গাছের নীচে বসেছে সেই গাছের ডালে বসে টুনটুনির মতো একটি ছোট্টপাখি। নাচানাচি করছে, ডানা ঝাপটাচ্ছে আর ডাকছে সমানে। পাখিটির পাখা ও মাথার রং কালচে, হলুদ রঙা ঠোঁট, পেট ধূসর বর্ণ।

    বিলও দেখছিলেন পাখিটাকে। বললেন, ‘এই পাখির নাম হনি গাইড (Honey Guide )।’

    প্রফেসর ঘোষ বললেন, ‘ও এই হচ্ছে হনি-গাইড। বাঃ! আফ্রিকার এই বিশেষ জাতের পাখির কথা আমি পড়েছি। বৈজ্ঞানিক নাম ইনডিকেটর জ্যানথোনোটাফ (Indicator Xanthonotuf)। এই পাখিরা নাকি মানুষকে বা ভালুককে ডেকে নিয়ে যায় কোনো লুকোনো মধুভরা মৌচাকের কাছে। ওরা কেউ সেই মৌচাক ভাঙলে একটু মধু আর মৌকীট ভাগ পাওয়ার আশায়।’

    তারপর নিজের মনেই বলেন, ‘তাহলে বাংলায় এদের নাম দেওয়া যায় মধুপ্ৰদৰ্শক।’

    বিল বললেন, ‘হুঁ তাই। আমি এই পাখি দেখেছি আগে। এদের এই গল্পও শুনেছি। এই অঞ্চলে যখন এসেছিলাম আগের বার। তবে এদের মৌচাকের হদিশ দেওয়ার ব্যাপারটা নিজের চোখে দেখার সুযোগ পাইনি।’

    প্রফেসর ঘোষ ক্যামেরা বাগিয়ে হনি-গাইড বা মধু-প্রদর্শক পাখির কয়েকটা ফোটো তুললেন।

    পাখিটা ডাকছিল, নাচানাচি করছিল ডালে-ডালে জাম্বোর ঠিক মাথার ওপর যেন সে জাম্বোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। জাম্বো আফ্রিকান উপজাতির লোক। এ পাখির স্বভাব নিশ্চয়ই জানে। কারণ জাম্বো বারবার মাথা তুলে আগ্রহভরে দেখছিল পাখিটাকে। মাঝেমাঝেই সে আড়চোখে নজর করছিল ঘোষ ও বিলকে। হয়তো তার পাখিটার পিছু পিছু মধুর লোভে যাওয়ার খুব ইচ্ছে। কর্তাদের সামনে কাজ ফেলে যাবে কিনা ভেবে ইতস্তত করছে।

    অবশেষে থাকতে না পেরে উঠে দাঁড়ায় জাম্বো। রান্নার কাজ রইল পড়ে। দলের আরও কয়েকজন মালবাহক উপজাতীয় মানুষ পাখিটার ডাকাডাকি শুনে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে তাকিয়েছিল ওই দিকে। জোজো নামে তাদেরই একজনকে কী জানি ইশারা করল জাম্বো। মনে হল যেন ওর সঙ্গে যেতে ডাকছে। জোজো কিন্তু ঘাড় নাড়ল। অর্থাৎ চায় না যেতে। জাম্বো একটু মুখভঙ্গি করে প্রফেসর ঘোষ ও বিলকে একবার টেরিয়ে দেখে নিয়ে পাখিটাকে অনুসরণ করতে শুরু করল।

    যেই জাম্বো পা চালিয়েছে, হনি-গাইড পাখিটার ফুর্তি যেন গেল বেড়ে। সে অমনি কাছে আর একটা গাছে উড়ে গিয়ে ডাকাডাকি লাফালাফি করতে থাকে। জাম্বো সেই গাছটার তলায় গিয়ে পাখিটার দিকে তাকাতেই পাখিটা খানিক তফাতে আর একটা গাছে উড়ে যায়। সে নাগাড়ে ডাকছে, নাচছে, ডানা ঝাপটাচ্ছে উত্তেজিত ভাবে। কিচ কিচ কিচ— মধু। মধু পাবে। এসো চটপট আমার সঙ্গে।

    পাখির হাবভাব বুঝতে অসুবিধা হয় না জাম্বোর। সে পাখিটার ওপর নজর রেখে পায়ে-পায়ে এগোয়। পাখিটি ক্রমেই জঙ্গলের কাছে টেনে নিয়ে যাচ্ছে জাম্বোকে। নিশ্চয়ই ওই বনের ভিতর কোথাও সে মৌচাকের সন্ধান পেয়েছে।

    —‘হুজুর, জাম্বোকে যেতে বারণ করুন পাখিটার সঙ্গে।’

    পিছনে টিকের গলা শুনে ঘোষ অবাক হয়ে ঘাড় ফিরিয়ে দেখে বলল— ‘কেন?’

    টিক আফ্রিকান উপজাতির লোক। এই অভিযাত্রী দলের সঙ্গে এসেছে কাজ করতে। টিক বলল— ‘হুজুর, ওই পাখি জাম্বোকে ঠিক বিপদে ফেলবে।’

    —‘বিপদে ফেলবে? কীভাবে?’

    —‘তা জানি না। তবে ফেলতে পারে কোনো বিপদে। কারণ ওই পাখিটা গতকাল জাম্বোকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বনের ভিতর গাছে একটা মৌচাক দেখিয়েছিল। লোভী জাম্বো পাখিকে ফাঁকি দিয়েছে। গোটা চাকটা ভেঙে নিয়ে চলে আসে। পাখিকে একটুও তার ভাগ দেয়নি।’

    —‘তাতে হয়েছেটা কী?’

    —‘হুজুর ওই পাখিরা ভীষণ চালাক। ওরা মধু খেতে খুব ভালোবাসে। নিজেরা মৌচাক থেকে মধু খেতে পারে না মৌমাছির ভয়ে। তাই ওরা কোনো মানুষকে কষ্ট করে ডেকে এনে দেখায় চাকটা। কিন্তু ওই মৌচাক ভেঙে মধুর ভাগ না দিলে বেজায় চটে যায়। তখন সেই মানুষকে বিপদে ফেলার ফন্দি করে। আমার খুড়ো একবার ওইরকম একটা পাখিকে ঠকিয়েছিল। ভাগ দেয়নি মৌচাকের মানে মধুর। পরদিন সেই পাখি খুড়োকে ডাকাডাকি করে নিয়ে গিয়ে সোজা হাজির করে এক সিংহর সামনে। ভাগ্যিস খুড়ো ছিল গাছে চড়তে ওস্তাদ। সিংহ আক্রমণ করার আগেই তরতর করে উঠে যায় কাছে একটা উঁচু গাছের মগডালে। ঘণ্টা দুই সেই গাছের নীচে ঘোরাফেরা করে সিংহটা চলে গেলে তবে নেমে পালায়। বরাতজোরে সেবার খুব বেঁচে গিয়েছিল খুড়ো। এমন ভুল সে আর করেনি। জাম্বো পুব দেশের লোক। এই জাতের পাখির হালচাল ঠিক জানে না। আমরা এই অঞ্চলের লোকরা জানি।’

    বিল মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, ‘হুঁ। এই ব্যাপারটা আমিও শুনেছি সেবার।’

    প্রফেসর ঘোষ বললেন, ‘জাম্বো যে পাখিটাকে ভাগ দেয়নি তুমি জানলে কী করে?’

    ‘হুজুর কাল নিজের চোখে দেখলাম দূর থেকে। জাম্বো একটা পাত্রে মৌচাকটা ভরে নিয়ে বন থেকে বেরিয়ে এলো। পাখিটা তার পেছন পেছন সমানে আসছিল উড়ে-উড়ে, ডাকতে-ডাকতে। ওই ডাকের ভাষা আমরা বুঝি একটু মধুর ভাগ চাইছে। জাম্বো ঢিল ছুড়ে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিল পাখিটাকে।’

    —‘তুমি তখন বললে না জাম্বোকে, পাখি কী চাইছে?’– বিল জানতে চাইলেন।

    —‘বলেছিলাম হুজুর। জাম্বো বিশ্বাস করল না। ভাবল মজা করছি। তাছাড়া পাখিটা ততক্ষণে চলে গেছে।’

    প্রফেসর ঘোষ একটু উদবিগ্ন ভাবে হনি-গাইডের পিছু পিছু জাম্বোর চলা দেখতে থাকেন। বিলও ভুরু কুঁচকে গুম মেরে রইলেন। টিক সরে গেল তফাতে।

    এই ফাঁকে প্রফেসর নবগোপাল ঘোষ এবং বিল-এর পরিচয়টা জানাই। ডক্টর নবগোপাল ঘোষ বিখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী। অধ্যাপক। বাঙালি। নিবাস কলকাতা শহরে। দেশে-বিদেশে প্রায়ই ঘোরেন গবেষণার উদ্দেশ্যে বা বক্তৃতা দিতে। বিল ইউরোপীয়। পুরো নাম উইলিয়াম হার্ডি। থাকেন পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়ায়। রোদে-জলে পোড় খাওয়া দীর্ঘ পাকা বাঁশের মতো কাঠামো। একদা দুর্ধর্ষ শিকারি এই ব্যক্তি সারা পূর্ব-আফ্রিকায় ডেয়ারিং বিল নামে খ্যাত। বহু বছর ধরে বাস করছেন আফ্রিকায়। তবে বিল এখন শিকার ছেড়ে দিয়েছেন। যারা আফ্রিকায় বেড়াতে আসে তাদের গাইডের কাজ করেন। প্রফেসর ঘোষ আগেও কয়েকবার এসেছেন আফ্রিকা মহাদেশে। বিলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়েছে তখন। ঘোষ ও বিল ছাড়া এই সাফারি পার্টির বাকিরা সবাই নানা কাজের জন্য ভাড়া করা উপজাতীয় লোক। বিল উপজাতিদের ভাষা দিব্যি জানেন। প্রফেসর ঘোষও শিখেছেন অল্পস্বল্প। দেশি লোকেরাও অল্পস্বল্প ইংরিজি বুঝতে ও বলতে পারে।

    বেচুয়ানাল্যান্ডে প্রফেসর ঘোষ আগে কখনো আসেননি। এবার তাঁর আফ্রিকা-ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য এই মহাদেশের কিছু অঞ্চলের জীবজন্তুর ফোটো তোলা এবং এখানকার কিছু দুর্লভ কীটপতঙ্গের স্পেসিমেন সংগ্রহ করা

    প্রফেসর ঘোষ ও বিল দুজনেরই বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। নবগোপাল ঘোষ মাঝারি উচ্চতা, মাঝারি স্বাস্থ্যের, নিরীহ অধ্যাপক সুলভ দেখতে। চেহারার অমিল থাকলেও স্বভাবে এক জায়গায় প্রফেসর ঘোষ এবং ডেয়ারিং বিলের বেজায় মিল। উভয়েই দুরন্ত অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় এবং প্রকৃতিপ্রেমী। দেখতে দেখতে হনি-গাইড পাখিটাকে অনুসরণ করে জাম্বো অদৃশ্য হয়ে গেল জঙ্গলের ভিতরে।

    বিল হঠাৎ উঠে দাঁড়ান। বলেন, ‘চলুন প্রফেসর, ব্যাপারটা দেখা যাক।’ কী ভেবে বিল তাঁর পিস্তলটাও তুলে নিলেন। ঘোষও উঠলেন। বনের দিকে রওনা দিলেন। কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে দলের কয়েকজন দেশি লোক ঘোষ ও বিল-এর পিছু নিল কৌতূহলে।

    বনের মধ্যে কোথায় রয়েছে জাম্বো বোঝা মুশকিল। এদিক-সেদিক ঘুরতে-ঘুরতে হঠাৎ হনি-গাইড পাখির তীক্ষ্ণ স্বরের ডাক কানে আসে। পাখির ডাক লক্ষ্য করে জংলা সরু পথ ধরে চলেন ঘোষ ও বিল। সহসা দেখা পেলেন জাম্বোর।

    চারপাশে মোটামুটি ঘন গাছপালার মাঝে খানিক ফাঁকা জায়গা। সেখানে অল্প কিছু বেঁটে-বেঁটে ঝোপ আর মধ্যিখানে এক বড়ো গাছ। গাছটার গুঁড়ি সোজা উঠে গেছে প্রায় দশ-বারো ফুট। তারপর ডাল বেরিয়েছে।

    হনি-গাইড সেই গাছটায় বসে ডাকছে। আর জাম্বো নীচে দাঁড়িয়ে দেখছে মাথা তুলে।

    পাখিটা এডালে-ওডালে বসছে উড়ে-উড়ে আর বারবার গাছের গুঁড়ি থেকে প্রথম যে ডালটা বেরিয়েছে সেই জোড়ের কাছে বসে ডাকছে জোরে জোরে এবং ডানা ঝাপটাচ্ছে।

    বিল নজর করেন যে ওই প্রথম ডাল বেরুনোর জোড়ের ঠিক ওপরে গুঁড়ির গায়ে একটা মাঝারি গর্তের বা ফোকরের মুখ। তিনি প্রফেসরকে দেখালেন ফোকরটা। পাখিটা যেন জাম্বোকে প্রাণপণে ওই ফোকরটা দেখাবার চেষ্টা করছে, আহ্বান জানাচ্ছে, আবার সরে যাচ্ছে অন্য ডালে।

    —‘ওই গর্তে কি মৌচাক আছে?’—বলেন প্রফেসর ঘোষ।

    —‘থাকতেও পারে। কী জানি?’

    ওই ফোকরটা জাম্বোর চোখেও ধরা পড়েছিল। পিছনে যে বিল ও ঘোষ এসে হাজির হয়েছেন তা সে টের পেয়েছে। মুখ ঘুরিয়ে দেখেছে একবার। মাথা ঝুঁকিয়ে নমস্কার জানিয়েছে হুজুরদের। তবে বিল ও ঘোষের দিকে আর সে দৃকপাত করেনি। আপাতত সে মধুর প্রলোভনেই মজে আছে।

    জাম্বো গাছটায় উঠতে লাগল। তার দেহ বিরাট এবং ভারী। তাই সে সাবধানে উঠল, গুঁড়ির খাঁজে-খাঁজে হাতে পায়ে আঁকড়ে প্রথম মোটা ডালটায় চড়ে বসল জাম্বো। তারপর ডাল পাকড়ে ফোকরের কাছে গিয়ে যেই উঁকি মারতে যাবে ভিতরে, মৌচাকটা দেখতে, বিল হেঁকে বললেন তাকে, ‘ওহে ওই গর্তে হাত ঢুকিয়ো না। বেশি কাছে গিয়ে উঁকি দিয়ো না। আগে একটা ডাল ভেঙে খানিক দূর থেকে ঢোকাও গর্তে।’

    —‘কেন হুজুর?’— জাম্বো অবাক, ‘ঠিক আছে, হাত ঢোকাচ্ছি না। আগে ভালো করে দেখে নিই মৌচাক আছে কিনা। তারপর ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে মৌচাক কেটে বের করব। এখন লাঠি দিয়ে খোঁচালে মৌমাছিরা যে রেগে গিয়ে কামড়াবে আমায়।’

    —‘যা বলছি করো।’— বিল কড়া সুরে বলেন।

    জাম্বো বিরক্ত মুখে একটু পিছিয়ে গিয়ে গাছে ঝুলে থাকা একটা সরু লম্বা ডাল ভেঙে আস্তে আস্তে ঢোকায় গর্তে।

    ফোঁস! একটা সাপের হাঁ করা মাথাসুদ্ধ শরীরের ফুটখানেক আবির্ভূত হয় গর্তের ভিতর থেকে। ফটাস। ছোবল পড়ে লাঠিতে অর্থাৎ ডালটায়।

    —‘বাপরে!’ আর্তনাদ করে জাম্বো ডালটা ফেলে দেয়। বিদ্যুৎ গতিতে একটা মোটা সাপ তেড়ে বেরিয়ে আসে। ফুট তিনেক লম্বা সাপ। রাগে ফুঁসছে। জাম্বো প্রাণভয়ে পেছোতে চেষ্টা করে ডাল বেয়ে। মাত্র কয়েক হাত দূরে সাপটা। জাম্বো নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার আগেই হয়তো ছোবল খাবে।

    দুম! বিলের পিস্তল গর্জে ওঠে। পিস্তলের গুলিতে সাপের মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। প্রাণহীন সরীসৃপের দেহটা মাটিতে আছড়ে পড়ে ধড়ফড় করতে করতে স্তব্ধ হয়।

    —‘প্যাফ অ্যাডার!’– পিস্তল পকেটে রেখে সাপের দেহটা দেখে মন্তব্য করেন বিল, ‘ভীষণ বিষাক্ত সাপ! এই ভয়টাই করছিলাম। গর্তে সাপ থাকতে পারে।’

    প্রফেসর ঘোষ সাপটা দেখতে দেখতে বলেন, ‘অ্যাডার। মানে ভাইপার অর্থাৎ বোড়া গোত্রের সাপ। চন্দ্রবোড়া জাতীয়। ওঃ দারুণ টিপ তোমার বিল! জাম্বো আজ খুব বেঁচে গেছে।’

    এবার জাম্বোর দিকে নজর ফেরে। সে তখন গাছের ডাল আঁকড়ে প্রায় ঝুলছে। চোখ বিস্ফারিত।

    —‘নেমে এসো।’— জাম্বোকে ডাকেন বিল।

    জাম্বো মাথা নাড়ে। মনে হল, গাছ বেয়ে নেমে আসার শক্তিটুকুও সে হারিয়ে ফেলেছে।

    —‘জাম্বোকে নামিয়ে আনো।’— পিছনে জড়ো হওয়া স্তম্ভিত লোকগুলিকে আদেশ দেন বিল।

    তারা গাছে উঠে দড়ির মই লাগিয়ে প্রায় ঘাড়ে করে নামিয়ে আনে জাম্বোকে। মাটিতে নেমেই ধপ করে বসে পড়ে জাম্বো। সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে তার মুখ তখনও ফ্যাকাশে। থরথর করে কাঁপছে শরীর। ধাতস্থ হতে তার মিনিট দশেক সময় লেগে যায়।

    ঘোষ এবার প্রশ্ন করলেন জাম্বোকে— ‘আচ্ছা জাম্বো, এই পাখি যে মৌচাকের সন্ধান দেয় তুমি আগে জানতে?

    —‘আজ্ঞে না। এখানে এসে শুনলাম।’

    —‘কার কাছে?’

    —‘জোজো। গতকাল এমনি একটা পাখি এসে ডাকাডাকি করছিল। তখন জোজো বলল আমায়।’

    —‘কাল নাকি এই পাখিটার দেখানো মৌচাক পেয়ে তুমি পাখিকে ভাগ দাওনি মধুর?’— জিগ্যেস করেন বিল।

    —‘এই পাখিটা?— কেমন ধাঁধায় পড়ে জাম্বো, কী জানি। তবে ঠিক এমনই দেখতে ছিল পাখিটা।

    —‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই সেই পাখিটাই এসেছিল আজ। তুমি কি কাল ভাগ দিয়েছিলে ওকে মৌচাকের? পাখির পাওনা মজুরি।’

    —‘না।’

    —‘কেন? জোজো বলেনি তোমায়? এই হনি-গাইড পাখিরা তাদের দেখানো মৌচাক থেকে মধুর ভাগ না পেলে খুব চটে যায়। শোধ নেওয়ার চেষ্টা করে। ফাঁদে ফেলে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়, যে ফাঁকি দিয়েছে তাকে।’

    —‘না, বলেনি তো!’

    —‘আশ্চর্য! জোজো এই অঞ্চলের লোক। হনি-গাইডের এই স্বভাব তার না জানার কথা নয়। জোজো কি কাল তোমার সঙ্গে গিয়েছিল জঙ্গলে মৌচাক ভাঙার সময়?’

    —‘হ্যাঁ গিয়েছিল।’

    —‘চাকটা কে ভেঙেছিল? তুমি না জোজো?’

    —‘আমি।’

    —‘চাক নিয়ে ফেরার সময় পাখি ওর ভাগ চায়নি? মানে, পিছন পিছন আসেনি ডাকতে-ডাকতে?’

    —‘হ্যাঁ, আসছিল। কিন্তু জোজো বলল, এই পাখিরা মৌমাছির শত্রু। চাক ভাঙতে মৌমাছিরা জব্দ হয়েছে, তাই ভারি খুশি হয়ে ডাকছে পাখিটা। ধন্যবাদ জানাচ্ছে আমাদের।’

    —‘জোজো কি ওই মৌচাকের মধু খেয়েছে?’

    —‘খেয়েছে। তবে তখন নয়। পরে রাতে। আমি তখুনি একটু মধু চেখে দেখলাম। জোজো খেল না। ও বলল, জরুরি কাজ আছে। তাই চলে গেল তখন। মৌচাক নিয়ে আমি একাই ফিরলাম। পাখিটা বড্ড জ্বালাচ্ছিল তাই তাড়িয়ে দিলাম।’

    বিল ঘোষকে বললেন, ‘বুঝেছেন প্রফেসর, জোজো ইচ্ছে করেই বিপদে ফেলতে চেয়েছিল জাম্বোকে। কিন্তু কেন?’

    এবার প্রফেসর ঘোষ প্রশ্ন করলেন জাম্বোকে, ‘আচ্ছা তোমার সঙ্গে কি জোজোর ঝগড়া হয়েছে কখনো?’

    —‘হ্যাঁ হুজুর, হয়েছে। একটু লজ্জিত ভাবে জানায় জাম্বো। ও বেশি মাংস খেতে চাইছিল অন্যদের চেয়ে। আমি দিইনি। জোজো রেগে খারাপ একটা গালি দিল আমায়। আমার মাথায় রক্ত চড়ে গেল। জোজোকে মারতে গেলাম। অন্যরা অনেক কষ্টে থামায় আমাকে। নইলে মোক্ষম দু-ঘা লাগাতাম জোজোকে। অন্যরা অবশ্য জোজোকে খুব দু-কথা শুনিয়ে দিয়েছিল। বলেছিল, ওরই দোষ। যা হোক পরে মিটে গেছিল ব্যাপারটা। পরে জোজো একা এসে আমার কাছে মাপ চেয়ে নেয়। আমিও রাগ পুষে রাখিনি আর।’

    প্রফেসর ঘোষ বললেন, ‘সেই ঝগড়া হয়েছিল কবে?’

    —‘এই পাখি মৌচাক দেখানোর দুদিন আগে।

    এবার প্রফেসর ঘোষ বিলকে বললেন, ‘আসল ব্যাপারটা বুঝছেন বিল? জাম্বোর সঙ্গে গায়ের জোরে পেরে উঠবে না তাই শয়তান জোজো এই মতলব করেছিল জাম্বোকে জব্দ করতে। প্রতিশোধ নিতে। জাম্বো রাগ পুষে রাখেনি বটে, কিন্তু জোজো রেখেছিল। ওঃ! ভাগ্যিস তুমি জাম্বোকে ফলো করলে।’

    ভয়ানক রেগে বিল হুংকার দিলেন, ‘জোজোকে ধরে আনো।’

    পিছনে দর্শক দেশি লোকরা ইতিউতি তাকিয়ে বলল, ‘আরে জোজো গেল কোথায়? এই তো একটু আগেই সে ছিল এখানে। আমাদের কাছে দাঁড়িয়ে দেখছিল।’

    তারা ছুটল তাঁবুর দিকে।

    কিন্তু জোজোর পাত্তা পাওয়া গেল না।

    কিছু লোক হইহই করে ছুটছিল জঙ্গল ছুঁড়ে জোজোকে ধরে আনতে। প্রফেসর ঘোষ তাদের বাধা দিলেন, ‘থাক ওর পেছনে আর সময় নষ্ট করার দরকার নেই। ও একা একাই ফিরুক ওর গ্রামে। এই মাসের মাইনেটা যে আর পেল না, এটাই ওর কাছে মস্ত লোকসান। ভালোরকম শাস্তি।’

    তারপর মুচকি হেসে বললেন, ‘সাবধান জাম্বো! ভবিষ্যতে আর কখনো এই হনি-গাইড পাখি মৌচাকের খোঁজ দিলে পাখিকে তার ভাগ দিতে ভুলো না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরহস্য সমগ্র – অজেয় রায়
    Next Article অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – অজেয় রায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }