Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – প্রমথ চৌধুরী

    প্রমথ চৌধুরী এক পাতা গল্প460 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভাববার কথা

    কথারম্ভ

    শ্রীকণ্ঠবাবু সেদিন তাঁর বৈঠকখানায় একা বসে গালে হাত দিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন ছিলেন, এমন সময়ে তাঁর বহুকালের অন্তরঙ্গ বন্ধু আনন্দগোপালবাবু হঠাৎ সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। শ্রীকণ্ঠবাবু ঘরের ভিতর জুতার শব্দ শুনে চমকে উঠে সুমুখে আনন্দগোপালবাবুকে দেখে হাসিমুখে তাঁকে সম্বোধন করে বললেন, “কে, আনন্দগোপাল? কলকাতায় কবে এলে? আমি ভেবেছিলুম কে না কে। এসো বোসো— খবর কি?”

    “ভালো। তোমার খবর কি?”

    “ভালো।”

    “আমি ভেবেছিলুম, তেমন ভালো নয়।”

    “কিসের জন্য?”

    “তোমার মুখ দেখে। গালে হাত দিয়ে কি ভাবছিলে?”

    “কিছুই ভাবছিলুম না, শুধু অবাক হয়ে বসে ছিলুম।”

    “কিসে অবাক হলে?”

    “আমার ছেলেটার কথাবার্তা শুনে, তার ভবিষ্যৎ ভেবে।”

    “কোন্ ছেলেটির?”

    “যে ছেলেটা এবার বি. এল. পাস করেছে।”

    “সে তো তোমার রত্ন ছেলে। দেহ-মনে ঠিক ফুলের মতো ফুটে উঠেছে। মনে আছে আমরা যখন কলেজে পড়তুম তখন একটা ল্যাটিন বুলি শিখি— Mens sana in corpore sano। সেকালে আমাদের ধারণা ছিল, একাধারে অন্তত এ দেশে ও-দুই গুণের সাক্ষাৎ পাওয়া অসম্ভব। কলেজে তোমার ছিল mens sana আর আমার corpore sano- তাই তো আমাদের দুজনের এত বন্ধুত্ব হল। তখন মনে হত, আমার দেহে যদি তোমার মন থাকত তা হলে পৃথিবীর কোনো নায়িকাই আমাকে দেখে স্থির থাকতে পারত না। এমন-কি, স্বয়ং ক্লিওপেট্রাও যদি আমাকে রাস্তায় দেখতে পেত তা হলে সেও তার প্রাসাদশিখর থেকে নক্ষত্রের মতো খসে এসে আমার বুকে সংলগ্ন হয়ে Star of India র মতো জ্বলজ্বল করত। কিন্তু আমার সেই যৌবনস্বপ্ন সাকার হয়েছে তোমার মধ্যমকুমার প্রফুল্লপ্রসূনে। তুমি যা সৃষ্টি করেছ তা একখানি মহাকাব্য; তোমার এ কুমার—নবকুমারসম্ভব। আমি মনে করতুম, এ যুগে ওরকম সৃষ্টি অসম্ভব।”

    “দেখো আনন্দ, তোমার এ-সব রসিকতা আজ ভালো লাগছে না।”

    “আমি যে-সব কথা বলছি, তার ভাষা ইষৎ রসিকতা-ঘেঁষা হলেও, আসলে সত্য কথা; প্রফুল্ল যে এক পদাঘাতে বিলেতি চামড়ার ফুটবল বিলেতি সাহেবদের মাথার উপর দিয়ে পাখির মতো উড়িয়ে দেয়, এ কথা কে না জানে। তারপর ইউনিভারসিটির ভেতর যতগুলি বেড়া আছে, সবগুলোই সে টপ্ টপ্ করে ডিঙিয়ে গেল। এগজামিনেশনের এতাদৃশ hurdle jump বাঙলার কটি ফুটবল-খেলিয়ে করতে পারে? শুধু তাই নয়, সে কবিতাও লেখে চমৎকার। সেদিন কল্লোল, কি কালিকলম, কি বেণু কি বীণা, এই রকম একটা কাগজে প্রফুল্লর লেখা ‘আকাঙ্ক্ষা-প্রসূন’ বলে একটি কবিতা পড়লুম।”

    “তুমি ও-সব ছাইপাঁশও পড় নাকি?”

    “পড়তে বাধ্য হই। থাকি পাড়াগাঁয়ে; করি জমিদারি; হাতে কাজ নেই আছে সময়। সেই সময় কাটাবার জন্যে ছেলেরা যত বই কেনে কিন্তু পড়ে না, সে সবই আমি পড়ি, নচেৎ টাকাগুলো যে মাঠে মারা যায়। দেখো, এই সূত্রে আমি একটা জিনিস আবিষ্কার করেছি। এ যুগে ইংরেজিতে যারা বই লেখে তারা একজনও ইংরেজ নয়, সব নরওয়ে সুইডেন ফিল্যাণ্ড ও আইল্যাণ্ডের লোক–আর সবাই জাতে বদ্যি, তাদের সবারই উপাধি সেন। যথা—ইবসেন, হামসেন, বিয়র্নসেন ইত্যাদি। সে যাই হোক, তোমার ছেলেরা সে কবিতা পড়ে আমারও মনে আকাঙ্ক্ষার ফুল ফুটে উঠল। এ ফুলের স্পষ্ট কোনো রূপ নেই, আছে শুধু বর্ণ আর গন্ধ। আর সে গন্ধ এমনি নতুন যে, তা বুকের নাকে ঢুকলে নেশা হয়। সে গন্ধ ক্লোরোফরমের দাদা। ঘুম-পাড়ানি মাসিপিসির চাইতে তা নিদ্রাকর্ষক। ও কবিতা দু-চার ছত্র পড়তে-না-পড়তে যে ঘুমিয়ে না পড়ে সে মানুষ নয়, দেবতা। আর ‘সবুজ পত্রে’ প্রফুল্লর লেখা একটা ছোটো গল্পও পড়েছি। এ গল্প আগাগোড়া আর্ট। সে তো গল্প নয়, নায়ক-নায়িকার হৃৎপিণ্ড নিয়ে অপূর্ব পিংপং- খেলা। সে হৃৎপিণ্ড দুটি এক মুহূর্তের জন্যও পৃথিবী স্পর্শ করে নি, বরাবর শূন্যেই ঝুলে ছিল—সূর্য চন্দ্র যেমন আকাশে ঝুলে থাকে, পরস্পরের প্রেমের টানে। শেষটায় এ প্রেমের খেলার ফল হল draw.”

    “দেখো আনন্দ, তোমার বয়েস হয়েছে, কিন্তু বাজে বকবার অভ্যাস আজও গেল না। বরং তোমার যত বয়েস বাড়ছে তত বেশি বাচাল হচ্ছ।”

    “তোমার ছেলের প্রশংসা শুনলে তুমি খুশি হবে মনে করেই এত কথা বললুম। কোনো বাপ যে ছেলের গুণগান শুনে এলে যেতে পারে এ জ্ঞান আমার ছিল না। আমার ছেলে যখন হারমোনিয়মে প্যাঁ পোঁ শুরু করে, তখন যদি কেউ বলে, ‘কেয়া মীড়’ তা হলে তো আমি হাতে স্বর্গ পাই এই ভেবে যে, আমি তানসেনের বাবা।”

    “তুমি যাকে প্রশংসা বলছ, তার বাঙলা নাম হচ্ছে ঠাট্টা। আর এ ঠাট্টার মানে হচ্ছে, প্রফুল্ল যে কি চীজ হয়েছে তা আমি বুঝি আর না বুঝি, তুমি ঠিক বুঝেছ। তোমার এ-সব রসিকতা আমার গায়ে বেশি করে বিঁধছে এই জন্যে যে, আমি সত্যিই ভেবে পাচ্ছি নে—প্রফুল্ল fool না genius!”

    “এ বড়ো কঠিন সমস্যা। Genius এর সঙ্গে fool এর একটা মস্ত মিল আছে; উভয়েই born, not made। এ উভয়ের প্রভেদ ধরা বড়ো শক্ত। তাই সাহিত্য- সমালোচকেরা নিত্য genius কে fool বলে ভুল করে, আর fool কে genius বলে।”

    “Genius এর সঙ্গে insanityর সম্বন্ধ কি সে মহাসমস্যা নিয়ে মাথা বকাচ্ছিলুম না।”

    “তবে কিসের ভাবনা ভাবছিল? দেখো, লোকে যাকে বলে ভাবনা, সেটা হচ্ছে আসলে ভাষার অভাব। Freud প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, repressed speech থেকেই মানুষের মনে যে রোগ জন্মায় তারই নাম চিন্তা। মন খুলে সব কথা বলে ফেলো—তা হলেই ভাবনার হাত থেকে অব্যাহতি পাবে।”

    “আমি ভাবছিলুম, আমার পুত্ররত্ন যা বললেন তা শুধু তাঁরই মুখের কথা, না, এ যুগের যুবক মাত্রেরই মনের কথা।”

    “প্রফুল্ল কি বললে শোনা যাক; তা হলেই বুঝতে পারব, তা Vox dei কি vox populi.”

    “ব্যাপার কি হয়েছে বলছি, শোনো। আজ সকালে গীতা পড়ছিলুম; একটা জায়গায় খটকা লাগল, তাই প্রফুল্লকে ডেকে পাঠালুম শ্লোকটার ঠিক মানে বুঝিয়ে দিতে।”

    “গীতার অনেক কথায় মনে খটকা লাগে, কিন্তু সে-সব কথার তত্ত্ব অপরের মুখে শুনে বোঝবার জো নেই; অপরের কাজ দেখে হৃদয়ঙ্গম করতে হয়। যেমন আমি গীতার একটা বচনের হদিস পেয়েছি রায় ধর্মদাস ঘোষ বাহাদুরের জীবন পর্যালোচনা করে।”

    “সে ভদ্রলোকটি কে?

    “তিনি, যিনি পাটের ভিতর-বাজারে ফকা খেলে ধনকুবের হয়েছেন।”তিনি কি একজন গীতাপন্থী?”

    “যা বলছি তা শুনলেই বুঝতে পারবে।”

    “কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন—এ বচনটা আমার বরাবরই রসিকতা বলে মনে হত। কুলিগিরি করব, কিন্তু মজুরি পাব না—আমাদের ইংরেজি-শিক্ষিত মন এ কথায় সায় দেয় না; বরং আমরা চাই, মজুরি কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেব, কিন্তু বসতে পেলে দাঁড়াব না, শুতে পেলে বসব না। কিন্তু ঘোষ বাহাদুর এই হিসেবে চলেছেন যে, অহর্নিশি দৌড়াদৌড়ি করে পয়সা কামাব, অথচ তার এক পয়সাও খরচ করব না; অর্থাৎ টাকা করবার তাঁর অধিকার আছে—মা ফলেষু কদাচন।”

    “তোমার রসিকতা দেখছি আজ বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে।”

    “রসিকতা আমি করছি, না, তুমি করছ? তুমি ফিলজফিতে এম.এ. আর প্রফুল্ল বটানিতে। গীতা তুমি বুঝতে পার না, আর প্রফুল্ল শুধু বুঝবে না— উপরন্তু বোঝাবে! লোকে যে বলে—মোগল পাঠান হদ্দ হল ফার্সি পড়ে তাঁতি—সে কথাটা রসিকতা, না, আর-কিছু?”

    “দেখো, আমরা যেকালে কলেজে পড়তুম, সেকালে গীতার রেওয়াজ ছিল না। আমরা বিলেতি দর্শন পড়েই মানুষ হয়েছি, তাই তার অনেক কথায় খটকা লাগে। আর গীতা আজকাল সবাই পড়ছে; সাহেবরা পড়ছে, বাঙালি সাহেবরা পড়ছে, মেয়েরা পড়ছে, মাড়োয়ারিরা পড়ছে। ও-দর্শন এখন হাওয়ায় ভাসছে। এর থেকে অনুমান করেছিলুম যে, আমার ছেলে ও-দর্শনের ভিতর আমার চাইতে বেশি প্রবেশ করেছে—বিশেষত সে যখন গীতার বিষয় মিটিংয়ে বক্তৃতা করে।”

    “কি বললে! প্রফুল্ল বাবাজি কি আবার ধর্মপ্রচার শুরু করেছে না কি? আমি তো জানি সে এম. এ. বি. এল, তার উপরে সে sportsman, কবি, গল্পলেখক, পলিটিশিয়ান। উপরন্তু সে যে আবার বুদ্ধদেব ও যীশুখৃস্টের ব্যবসা ধরেছে, তা তো জানতুম না। আজকালকার ছেলেরা কি চৌকোস, আর তাদের কি wide culture! এরা প্রতিজনে একাধারে খেলায় ইংরেজ, পড়ায় জর্মান, বুদ্ধিতে ফরাসী, প্রেমে ইটালিয়ান, পলিটিক্সে রাশিয়ান। ইংরেজরা আমাদের স্বরাজ দিলে, তা নেবে কে—এই ভাবনায় আমার রাত্রিতে ঘুম হত না। এখন সে দুশ্চিন্তা গেল। আজ থেকে ঘুমিয়ে বাঁচব।”

    কথা-মধ্য

    “দেখো স্বরাজ আমার নিদ্রার ব্যাঘাত করে না বরং আমি ঘুমিয়ে পড়লেই স্বরাজ আমার কাছে আসে। কিন্তু প্রফুল্লর কথা ভেবে বোধ হয় আমার insomnia হবে। সে তোমার চাইতেও অদ্ভুত কথা বলে।”

    “এটা অবশ্য ভয়ের কথা।”

    “তুমি বল অদ্ভুত বাজে কথা, প্রফুল্ল বলে অদ্ভুত কাজের কথা।”

    “তার কথা তবে শোনবার মতন।”

    “তুমি তো কারো কথা শুনবে না, শুধু নিজে বকবে।”

    “তুমি তোমাদের পরস্পরের কথোপকথন রিপোর্ট কর, আমি তা নীরবে শুনে যাব— যেমন নীরবে আমি খবরের কাগজের রিপোর্ট পড়ি।”

    -আমি যখন তাকে শ্লোকটার অর্থ আমাকে বুঝিয়ে দিতে বললেম, তখন সে অম্লান বদনে বললে, ‘আমি গীতার এক বর্ণও পড়ি নি।” আমি জিজ্ঞেস করলুম, “তা হলে তুমি সেদিন মিটিংয়ে গীতা সম্বন্ধে অমন চমৎকার বক্তৃতা করলে কি করে—যার রিপোর্ট আমি কাগজে পড়লুম।’ প্রফুল্ল উত্তর করলে, ‘গীতার প্রতি আমার অগাধ ভক্তি আছে বলে।’ ‘যার বিন্দুবিসর্গ জান না, তার উপর তোমার অগাধ ভক্তি!’ সে উত্তর করলে, ‘ভক্তি জিনিসটা অজানার প্রতিই হয়।’

    ‘কিরকম?’

    ‘আপনি দেশের যত লোককে বড়োলোক বলে ভক্তি করেন, আপনি কি তাঁদের সবাইকে জানেন? আমি জানি আপনি তাঁদের কখনো চোখে দেখেন নি।’

    ‘হাঁ, তা ঠিক; কিন্তু আমি তাঁদের বিষয় খবরের কাগজে পড়েছি, লোকের মুখে শুনেছি।’

    ‘আমিও গীতার বিষয় কাগজে পড়েছি ও লোকের মুখে শুনেছি।’

    ‘তা হলে তোমার বক্তৃতা শুনে ও কাগজে তার রিপোর্ট পড়ে আর-পাঁচজন অজ্ঞ লোকের গীতার উপরে ভক্তি বাড়বে?’

    ‘অবশ্য। সেই উদ্দেশ্যেই তো বক্তৃতা করা।’

    ‘লোকের মনে ভক্তির এরকম মূলহীন ফুল ফোটাবার সার্থকতা কি?’

    ‘ও হচ্ছে nation-bulding এর একটা পরীক্ষোত্তীর্ণ উপায়।’

    ‘কি হেসেবে?”

    ‘General Bernhardi বলেছেন যে, জর্মানীর গত যুদ্ধের মূলে ছিল জর্মান ন্যাশনালাজিম, আর সে ন্যাশনালাজিমের মূলে আছে কাণ্ট ও গেটে। আপনি কি বলতে চান কাণ্ট ও গেটের সঙ্গে বার্হার্ডির বিশেষ পরিচয় ছিল?”

    ‘না। তিনি যখন বলেছেন যে, গত যুদ্ধের জন্য দায়ী কাণ্ট এবং গেটে তখন যে তাঁর ও-দুটি ভদ্রলোকের সঙ্গে কোনোরূপ পরিচয় নেই, তা নিঃসন্দেহ।’

    ‘তা হলেও তিনি কান্টের দর্শনের ও গেটের কবিতার সারমর্ম বুঝেছিলেন। কাণ্টের সারকথা হচ্ছে agnosticism, আর গেটেরও তাই—গীতারও তাই।’

    ‘মানছি যে agnosticismই হচ্ছে nation-building এর ভিত। কিন্তু গীতার ধর্ম যে agnosticism, এ কথা তোমাকে কে বললে?’

    ‘এ যুগে যারা গীতা গুলে খেয়েছে, সেই-সব expert-রা এ বিষয়ে একমত যে, গীতার প্রথম অংশে আছে utilitarianism, শেষ অংশে agnosticism, আর তার মধ্যভাগ প্রক্ষিপ্ত।’

    ‘তোমার expert বন্ধুরা যে গীতা গুলে খেয়েছেন সে বিষয়ে আর সন্দেহ নেই। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে একাধারে মিল্ এবং স্পেন্সর—এ একটা নূতন আবিষ্কার বটে। তোমার expert গুরুরা আর-একটি সত্য আবিষ্কার করতে ভুলে গিয়েছেন, সেটি হচ্ছে, যাঁর নাম বুদ্ধদেব তাঁর নামই বার্টাণ্ড রসেল। যাক ও-সব কথা। এখন দেখছি তোমাদের কালিদাসকেও প্রচার করতে হবে।’

    ‘অবশ্য। আমি আসছে হপ্তায় কালিদাস সম্বন্ধে একটি বক্তৃতা করব।’

    ‘কোথায়?’

    ‘Youngman’s Hindu Association এ।’

    ‘অনুমান করছি, গীতার সঙ্গে তোমার পরিচয় যদ্রূপ, শকুন্তলার সঙ্গেও তোমার পরিচয় তদ্রূপ।’

    আগেই তো বলেছি যে, সংস্কৃত সাহিত্য আমরা জানি নে বলেই তার প্রতি আমাদের ভক্তি আছে, জানলে তার প্রতি আমাদের অভক্তি হত।’

    “নিশ্চয়ই তাই হত। কারণ, তখন বুঝতে পারতে যে, মিল্ ও স্পেন্সর শ্রীকৃষ্ণের অবতার নন~ন চ পূর্ণো ন চাংশকঃ; এবং কিপলিং কালিদাসের প্রপৌত্র নন। এখন আমি জানতে চাই যে, পূর্বপুরুষের নামের দোহাই দিয়ে নতুন নেশান কি করে গড়বে; ও উপায়ে পুরোনোকেই আর টিকিয়ে রাখা দুষ্কর।

    ‘অর্থাৎ আমাদের নূতন সাহিত্য গড়তে হবে। এ জ্ঞান আমাদের সম্পূর্ণ আছে। আমরা নূতন সাহিত্যই গড়ছি।’

    ‘কি সাহিত্য তোমরা গড়ছ?’ ‘কাব্যসাহিত্য।’

    ‘বুঝেছি, তোমরা আগে নব-গেটে হয়ে পরে নব-কাণ্ট হবে। পারস্পর্যের ধারাই এই—আগে কালিদাস পরে শংকর। তবে আমার ভয় এই যে, জ্ঞানের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে বড়ো কবি কি হতে পারবে?’

    ‘দেখুন, জ্ঞান মানে তো যা অতীতে হয়ে গিয়েছে, তারই জ্ঞান। অতীতের দিকে পিঠ না ফেরালে আমরা ভবিষ্যৎ গড়তে পারব না।’

    ‘আচ্ছা, ধরে নেওয়া যাক যে, কাব্যের সঙ্গে সরস্বতীর মুখ-দেখাদেখি নেই। কিন্তু তোমরা তো পলিটিক্স জিনিসটাকেও ঠেলে তুলতে চাও? আর তুমি কি বলতে চাও যে, জ্ঞানশূন্য না হলে পলিটিশিয়ান হওয়া যায় না?’

    ‘কোন্ জ্ঞান পলিটিক্সের কাজে লাগে?’

    ‘কিঞ্চিৎ হিস্টরির আর কিঞ্চিৎ ইকনমিকসের, অর্থাৎ ইংরেজরা যাকে বলে factsএর।

    ‘আমরা যখন নতুন হিস্টরি ও নতুন ইকনমিক্‌স গড়তে চাচ্ছি, তখন পুরোনো হিস্টরি ও পুরানো ইকনমিক্সের জ্ঞান আমাদের উন্নতির পথে শুধু বাধাস্বরূপ। আর facts এর জ্ঞান যে idealism এর প্রধান শত্রু, তা তো আপনি মানেন? আমরা এ ক্ষেত্রে করতে চাই শুধু idealism এর চর্চা—’

    Idealism জিনিসটে যে মস্ত জিনিস, তা আমিও স্বীকার করি; কিন্তু শুধু ততক্ষণ— যতক্ষণ তা কথামাত্র থাকে। তাকে কাজে খাটাতে গেলেই তার মানে ধরা পড়ে।’

    ‘আচ্ছা, একটা কাজের কথাই বলা যাক। রামকে কাউন্সিলে পাঠাতে হবে কিম্বা শ্যামকে, হিস্টরির জ্ঞান তার কি সাহায্য করবে? যার মনে idealism আছে, সেই শুধু রামের বদলে শ্যামের জন্য খাটতে প্ৰস্তুত।’

    ‘এই ভোট জোগাড় করার ব্যাপারটার নাম idealism?’

    ‘অবশ্য। এ কাজ করবার জন্য আহার-নিদ্রা বাদ দিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে শরীর ভাঙতে হয়; Vote for শ্যাম বলে চিৎকার করে গলা ভাঙতে হয়। আর যে কাজ করবার জন্য চাই মন্ত্রের সাধন কিম্বা শরীরপাতন, তারই নাম তো idealism।’

    ‘ধর্ম কাব্য পলিটিক্‌স সম্বন্ধে তোমার জ্ঞান যে সমান সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এখন জিজ্ঞাসা করি, তোমার আইনের জ্ঞানও কি সমান?’

    ‘আপনি কি জিজ্ঞাসা করছেন বুঝতে পারছি নে।’

    ‘আমি জানতে চাই, আইন কিছু জান—কি জান না?”

    ‘আইনের কতকগুলো কথা জানি, তার বেশি কিছু জানি নে।’

    ‘তবে বি. এল. পাস করলে কি করে?’

    ‘নোট মুখস্থ করে। বই পড়লে ফেল হতুম।’

    ‘আইন কিছু না জেনে universityর পরীক্ষা তো পাস করলে; কিন্তু ঐ বিদ্যে নিয়ে আদালতের পরীক্ষা পাস করবে কি করে?’

    ‘আদালতে পরীক্ষা করবে কে?’

    ‘জজ-সাহেবরা।’

    ‘আপনি বলতে চান, যারা জজ হয়, তারা সবাই আইন জানে? একালে যার পেটে বিদ্যে আছে, সে তো জজ হতে পারে না। সুতরাং একেলে জজের কাছে প্র্যাকটিস্ করতে বিদ্যের দরকার নেই। পলিটিক্স ঠিক থাকলেই প্র্যাকটিস ঠিক হবে।’

    ‘কিরকম?’

    ‘জজিয়তি লাভ করবার জন্য চাই নরম পলিটিক্স, আর প্র্যাকটিস করবার জন্য গরম।’

    ‘আর যার পলিটিক্স নরমও নয় গরমও নয়, তার কি হবে?’

    ‘তার ইতোনষ্টস্ততোভ্ৰষ্টঃ।’

    কথা-শেষ

    শ্রীকণ্ঠবাবু অতঃপর বললেন যে, “এই-সব সদালাপের পর আমি প্রফুল্লকে বললুম, ‘এখন এসো’। এ কথা শুনে আনন্দগোপাল হেসে বললেন, “তার পরেই বুঝি তুমি দমে গেলে। আমি হলে তো উৎফুল্ল হয়ে উঠতুম।”

    “কেন?”

    “তোমার ছেলে genius।”

    “কিসে বুঝলে?”

    “তার মতামত শুনে।”

    “এ-সব মতামতের ভিতর কি পেলে?”

    “প্রথমত নূতনত্ব, দ্বিতীয়ত বিশ্বাস।”

    “বিশ্বাস! কিসের উপর?”

    “নিজের উপর।”

    “নিজের উপর অগাধ এবং অটল বিশ্বাস তো প্রতি fool এরই আছে।”

    “কিন্তু সে বিশ্বাস শুধু একের এবং সে এক হচ্ছে স্বয়ং fool, কিন্তু যার আত্মবিশ্বাসের নীচে জনগণ ঢেরা-সই দেয় সেই তো superman।”

    “তবে তুমি ভাব যে প্রফুল্লর মতামত শুধু একা তার নয়, যুবকমাত্রেরই?”

    “বহুর মনে যা অস্পষ্টভাবে থাকে, তাই যার মনে স্পষ্ট আকার ধারণ করে সেই তো যুগধর্মের অবতার। জ্ঞান ভক্তির বিরোধী—এই তো পুরোনো কথা। আর, তা যে কর্মেরও প্রতিবন্ধক, এই হচ্ছে নবযুগবাণী। এ বাণীর জোর প্রচারক হবে তোমার মধ্যম-কুমার।”

    “কি কর্ম এরা করতে চায়?”

    “একসঙ্গে সরস্বতী ও ইলেকশানের বেগার খাটতে।”

    “তাতে দেশের কি লাভ?”

    “কোনো লোকসান নেই।”

    “মূর্খতার চর্চায় কোনো লোকসান নেই?”

    “যেমন তোমার-আমার মতো পাণ্ডিত্যের চর্চায় দেশের কোনো উপকারও হয় নি, তেমন এদের তার অ-চর্চায় কোনো অপকার হবে না।

    “তা হলে দেশের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে তুমি নিশ্চন্ত?”

    “দেখো, তোমার-আমার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে কোনো কথা বলবার অধিকার নেই। তুমি-আমি যথাসাধ্য যথাশক্তি জ্ঞানের চর্চা করেছি, অর্থাৎ বই পড়েছি। আর প্রফুল্ল তো বলেই দিয়েছে যে জ্ঞান মানে হচ্ছে অতীতের জ্ঞান। অতএব আমাদের মুখে শোভা পায় শুধু অতীতের কথা।”

    “তুমি দেখছি প্রফুল্লর একজন শিষ্য হয়ে উঠলে!”

    “তার কারণ আমি মডার্ন।”

    “এর অর্থ?”

    “আমি অতীতেরও ধার ধারি নে, ভবিষ্যতেরও তোয়াক্কা রাখি নে। মনোজগতে দিন আনি, দিন খাই—অর্থাৎ যা পেটে পুরি; আমার পেটে সব যায়—প্রফুল্লরও কথা, গীতারও কথা।”

    “তুমি দেখছি একজন মুক্তপুরুষ। শাস্ত্রে বলে, যে ব্যক্তি পরলোকে স্বৰ্গ চায় না, সেই মুক্ত। তুমি দেখছি ইহলোকেও স্বর্গরাজ্য চাও না। অতএব পুরো মুক্ত।”

    “দেখো শ্রীকণ্ঠ, ভবিষ্যতের আলোচনা করতে করতে কলকেটা নিজের ধোঁয়া নিয়ে ফুঁকেই নির্বাণপ্রাপ্ত হল। অতএব ভবিষ্যতের কথা এখন মুলতবি থাক। বর্তমানে আর- এক ছিলেম তামাক ডাকো।”

    এ কথা শুনে শ্রীকণ্ঠ বাবু ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে চাকরকে শিগগির তামাক দিতে বললেন। চাকরও ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে শিগগির কলকে বদলাতে গিয়ে সেটা উল্টে ফেললে, অমনি ফরাসে আগুন ধরে গেল। ধূম যে না-বলা কওয়া অগ্নিতে পরিণত হবে, এ কথা কেউ ভাবে নি। তাই দুই বন্ধুকে ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে গাত্রোত্থান করলে, আর তাঁদের আলোচনা বন্ধ হল।

    শ্রাবণ ১৩৩৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোয়েন্দা কৃষ্ণা – প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    Next Article প্রবন্ধ সংগ্রহ – প্রমথ চৌধুরী

    Related Articles

    প্রমথ চৌধুরী

    চার-ইয়ারী কথা – প্রমথ চৌধুরী

    September 22, 2025
    প্রমথ চৌধুরী

    সনেট-পঞ্চাশৎ – প্রমথ চৌধুরী

    September 22, 2025
    প্রমথ চৌধুরী

    বীরবলের হালখাতা – প্রমথ চৌধুরী

    September 22, 2025
    প্রমথ চৌধুরী

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – প্রমথ চৌধুরী

    September 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }