Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – প্রমথ চৌধুরী

    প্রমথ চৌধুরী এক পাতা গল্প460 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্ল্যানচেট

    প্ল্যানচেট

    একটা মস্ত সাদা কাগজের মাঝখানে বাটি রেখে বৃত্ত আঁকা পেনসিলে। বৃত্তের ধার দিয়ে গোল করে লেখা এ বি সি ডি ই এফ জি এইচ…একস ওয়াই জেড। সেই বড়ো গোলের মধ্যিখানে একটা ছোট্ট বাটি ফেলে, তাতে তর্জনী ঠেকিয়ে, চোখ বুজে আপন মনে অমল ক্রমান্বয়ে প্রশ্ন করে চলেছে, বউদি, তুমি এসেছ? এলে ইয়েস লিখে বলো তুমি এসেছ।

    শীতের সকালের মিঠে রোদ খেলছে সারাছাদে। চিলেকোঠার দরজা আঁট করে টানা। চারটে জানলার তিনটেই ভেজানো। শুধু একটা জানলা দিয়ে তেরছাভাবে পাতলা, জলের মতো রোদ এসে পড়ছে ফর্সা কাগজটার ওপর। কাঁসার বাটিটার গায়ে মাঝ মাঝে ঝিলিক। দিচ্ছে রোদ। পাড়ার রোয়াকে রোয়াকে মজলিশ। অমলদের ছড়ানো-বিছোনো ছাদটা নিস্তব্ধ, খাঁ খাঁ। চিলেকোঠার পায়রাগুলোও চরতে বেরিয়েছে, দূর থেকে একবার শুধু ফটিকের চিৎকার ভেসে এল–ভোকাট্টা-আ-আ-আ-আ

    অমলের কিন্তু প্ল্যানচেটে ছেদ পড়ার কথা নয়। সে একমনে ডেকে যাচ্ছে, বউদি তুমি এসেছ? এসে থাকলে একবার ওয়াই, একবার ই, আর একবার এস-এ যাও। তাহলে বুঝব এসেছ।

    একতলার নিজের ঘরে দোর এঁটে বসে নির্মল ভাবছে, কুন্তলা এটা করতে গেল কেন? আগের রাতেও যে গলা জড়িয়ে বলতে পারে তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই বাপী, গালে ঠোঁট ঘষতে ঘষতে বার বার বলে আমার নিজের থেকেও তোমাকে ভালোবাসি বাপি, সে হঠাৎ করে সকালে চা দিতে দিতে কে বলে? অমলের খেয়াল রেখো, বাপী, তারপর অমল স্নান করতে গেলে দিব্যি শাড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে বসল। মরা কি এত সহজ জিনিস? জীবন, সংসার, ভালোবাসা—এসবের কোনো পিছুটান নেই? পায়ে ধরে কেউ কাউকে বাঁচিয়ে রাখে নাকি পৃথিবীতে? সবাই-ই তো নিজের টানে বাঁচে। নিজের নিজের জেদে মরে। তোমার হঠাৎ মরার জেদ হল কেন, কুন্তলা? আগের রাতের ভালোবাসাও হেরে গেল, এমন জেদ কোথায় লুকিয়ে ছিল তোমার? বিয়ের ছ-ছটা মাস পেরোল না, অথচ এভাবে লোক হাসিয়ে গেলে?

    হাসপাতাল থেকে লজ্জায় মুখ ঢেকে পালিয়ে এসেছে পৃথা আর স্বাতী। পাড়ার ছেলে মেয়েরা ভিড় করে দেখতে গেছে আগুনে পোড়া সুন্দরী কুন্তলাকে। আগুনের মতো রং ছিল নতুন বউটার। এখন পুড়ে, ফোসকায় ফোসকায় মুখ ভরে, কালো কয়লা হয়ে শুয়ে আছে হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে। পৃথা, স্বাতীকে দেখে, কী হল ব্যাপারটা? হঠাৎ এমন অ্যাক্সিডেন্ট? কী করে লাগল?—এইসব বুক জ্বালানো, অবান্তর প্রশ্ন নিয়ে ছুটে এল সবাই। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে ওরা কুন্তলার মার কান্না আর চিৎকার শুনেছে, আমার সোনার প্রতিমা এভাবে বিসর্জন হল শেষে? পই পই করে সেদিন বলেছিলাম, মামণি, ওই থামওলা বাড়ির ভেতরটা ঠন ঠন। সব গেছে দেনার দায়ে। আর কার্তিকঠাকুর চেহারা দেখে ভুললি। ও তোর নখের যোগ্য নয় মা। ছ-মাসও গেল না, জানোয়ারটা আমার মেয়েটাকে পুড়িয়ে মারলে!’

    সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বারান্দায় এই কান্না শুনে আর ওপরে ওঠার সাহস হয়নি দুই বোনের। কিছুক্ষণ থরথর করে কেঁপেছে সিঁড়ির এক কোণে, তারপর পায়ের চটি হাতে নিয়ে খালি পায়ে দুদ্দাড় করে ছুটে এসেছে বাড়ি।

    কিন্তু ঠাকুরঘরে গিয়ে মাকে কিছু জানানো হয়নি। মা কালীর ফটোর সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে মা। একটু আগে পুলিশ এসে জেরা করে গেছে। বউটাকে কেমন ঠেকত, মৃন্ময়ী দেবী? বরের সঙ্গে বনিবনার গরমিল দেখতেন কি? কোথায় ছিলেন ছেলে যখন আগুন আগুন করে চেঁচাল, বউ কি আপনাদের পছন্দের ছিল? নাকের হীরেটা তো আপনারই দেওয়া তাই না? সম্মান-টম্মান কি করত বউ? অসবর্ণ বিয়ে বলে, লাভ ম্যারেজ বলে খেদ ছিল না আপনার?—একটা ঘোরের মাথায় হ্যাঁ না বলে কোনোক্রমে উত্তর করে গেছেন মৃন্ময়ী। ভেতরে ভেতরে লজ্জার আগুনে দগ্ধ হচ্ছিলেন। এ বাড়ির ফরাসে বসে এমন প্রশ্ন কেউ কোনোদিন করতে পারেনি তাকে। কুন্তলার গায়ের আগুন এখন মৃন্ময়ীর সারাশরীরে মনে। কথা শেষ করে ঠাকুরঘরে ঢুকতেই পুরোনো ফিটের রোগটা ফিরে এল সাত বছর পরে।

    কাছেপিঠে অমলও নেই যে নাকে ন্যাকড়া পোড়া ধরে জ্ঞান ফেরাবে। ছাদের ঘরে অমলের আঙুলের ডগায় এখন বাঁই বাঁই করে ঘুরছে পেতলের বাটি। একবার ওয়াই একবার ই একবার এস, অর্থাৎ বউদি এসেছে। অমল বলল, বউদি তুমি এসেছ? বাটি ঘুরে ঘুরে ইয়েস লিখল। অমল জিজ্ঞেস করল, তুমি গায়ে আগুন দিলে কেন? বাটি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল এক জায়গায়। অমল ভাবল বউদি ভাবছে কেন? উৎকণ্ঠার সঙ্গে অমল বাটিতে ঠেকিয়ে, চোখ বুজে বসে রইল সকালের রোদে চিলেকোঠার অন্ধকারে।

    মায়ের সংবিত ফিরল পৃথা যখন সলতে পাকিয়ে কাপড় পোড়ার গন্ধ দিল নাকে। মৃন্ময়ী প্রথমে কথা বললেন, হ্যাঁ রে, ওরা কি নিমুকে ধরে নিয়ে গেল? পৃথা ঝাঁঝ করে বলল, কেন? দাদা কী করেছেন? দাদা কি বউদির গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন নাকি? কথা নেই, বার্তা নেই, ধরে নিয়ে গেলেই হল? মৃন্ময়ী একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, ওরা তো তাই করে। স্বাতী এসে শুয়ে থাকা মায়ের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে বলল, তুমি ওসব নিয়ে মাথা ঘামিও না তো বাপু। যা হবার হবে, তোমার ওই শরীরে কে কী করছে, বা করল ভেবে কাজ নেই। মৃন্ময়ীর সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল অমলের কথা, জিজ্ঞেস করলেন, অমুটাও নিশ্চয়ই কিছু খায়নি সকাল থেকে। ও কোথায়? স্বাতী বলল, কাল রাতেও খেয়েছে কিনা ভগবান জানে। ঝটিদা বলল, ওর কালকের রাতের থালা যেমনকে তেমন পড়ে আছে।

    মৃন্ময়ীর মাথায় রক্ত চেপে গেল—আর তোরা ধেই ধেই করে হাসপাতাল চলে গেলি। দেখলি না বাচ্চাটা খেল কি খেল না?

    স্বাতী পরিস্থিতি সামলে দিতে বলল, অমু তোমার বাচ্চা? ও চৌবাচ্চা। দেখোনি বউদির সঙ্গে কী গলায় গলায় পিরিত। দাদা তাও ঠিক আছে, উনি মুহ্যমান। যেন ওরই বউ গেল।

    মা ধমকে উঠলেন, চুপ। যা তা বকিস না। বউমাকে তো ওকেই কেবল ভালোবাসতে দেখলাম। কষ্ট হবে না? পৃথা মার হাত ধরে বলল, তুমি ওঠো, চান করে নাও। দেখো আবার কে কখন তদন্তে আসে। উঠতে উঠতেও মৃন্ময়ী আবার ধপ করে বসে পড়লেন—সত্যি! কপালে কত দুঃখ যে আছে আমার। শেষে বউয়ের গায়ে আগুনও দেখতে হল! আমায় কেন তুলে নেন না ঠাকুর। মা ডুকরে কাঁদছে দেখে কথা ঘোরাতে পৃথা বলল, বউদির মা এক হাট। লোকের সামনে চিৎকার করে বলছিল আমরা নাকি পুড়িয়ে মেরেছি ওর সোনার প্রতিমাকে।

    মৃন্ময়ী এবার কাপড়ের খুঁটে চোখ মুছতে মুছতে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, বিয়েও আমরা দিইনি, অযত্নও করিনি কোনোদিন। জলজ্যান্ত বাড়ির বউকে পুড়িয়ে মারতে যাব কোন দুঃখে? আর কী বলল?

    পৃথা বলল, বাড়ির থাম দেখে বিয়ে করে বউদি মরল। থামের আড়ালে সব নাকি ঠন ঠন।

    ব্যথায় নিভে এল মৃন্ময়ীর ধবধবে সাদা মুখের রং। কপালে এও শোনার ছিল হতভাগা নিমুর দোহাইয়ে। দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, পিতু এসব রুচির ব্যাপার, শিক্ষার বিষয়। যা প্রাণে চায় বলুক। তোরা কিছু বলিসনি তো উত্তরে। সঙ্গে সঙ্গে স্বাতী বলে উঠল, আমরা? আমরা বলে পালিয়ে বাঁচি! বউদিকে তো একবার চোখের দেখাও দেখতে পেলাম না গতকাল থেকে।

    মৃন্ময়ী একটু চুপ করে রইলেন। মেয়েরাও চুপ করে গেল। মৃন্ময়ী শাড়ির কোঁচড় থেকে একটা আধুলি বার করে পৃথার হাতে দিয়ে বললেন, বলাইয়ের দোকান থেকে চাট্টি মুড়ি কিনে দিয়ে আয় অমুকে। কিছু না খেয়ে পিত্তি পড়বে ছেলের।

    পৃথা পয়সাটা নিতে নিতে বলল, কিন্তু বাবুটিকে পাব কোথায়? মৃন্ময়ী সংক্ষেপে উত্তর দিলেন, ছাদে। অমনি নাকি সুরে কেঁদে উঠল স্বাতী, কেন আমাদের খিদে পায় না বুঝি? যত খিদে তোমার ওই কোলের ছেলের! মৃন্ময়ী বললেন, তা খাবি তো খাস। আমি কি না করেছি। ছেলেটা তো কালকেও কিছু মুখে দেয়নি। আর ঝটিদাকে বলিস আলু, কপি দিয়ে

    একটা তরকারি বানিয়ে রাখতে। মাছ করতে বারণ করিস।

    স্বাতী মুড়ি কিনতে চলে গেলে মৃন্ময়ী পৃথাকে জিজ্ঞেস করলেন, নিমু কিছু বলল, বউমা এটা করতে গেল কেন? পৃথা জোরে জোরে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, দাদা তো কিছুই বুঝতে পারছে না। বলল আগের রাতেও বউদি দিব্যি আনন্দে ছিল। জানলে তো তোমার ওই ছোটোটাই জানবে, রাতদিন বউদির সঙ্গে গুজুর গুজুর, ফুসুর ফুসুর। কিন্তু সেই তো এখন ঘাপটি মেরে বসে আছে ছাদে।

    -কেন, কী করছে?

    –কী আবার? চোখের জল ফেলছে নয়তো, শরৎচন্দ্র পড়ছে।

    –একটু দেখে আসবি?

    —স্বাতী মুড়িটা আনুক, তারপর যাব।

    পৃথা আর স্বাতী চিলেকোঠার বন্ধ দরজায় কান পেতে তাজ্জব বনে গেল। আপন মনে কী বকে যাচ্ছে অমু। শেষে বিরক্ত হয়ে জোরে জোরে ছিটকিনি নাড়ল। ভেতর থেকে অমুরও বিরক্ত গলা ভেসে এল, তোমরা যাও। আমি এখন নামব না। পৃথা আওয়াজ করে মুড়ির ঠোঙা দরজার গোড়ায় রেখে বলল, এই রইল মুড়ি। খাবার হলে খেয়ো, নয়তো গোল্লায় যাও। আমরা গেলাম।

    মুড়ির নামে একটু খিদে খিদে ভাব হয়েছিল অমলের, ও আরেকটু সবুর করে দরজা খুলে মুড়ির ঠোঙাটি ঢুকিয়ে নেওয়ার তাল করল। আর তক্ষুণি ফতফত ফতফত করে ডানা ঝাপটে ঘরের মধ্যে ঢুকে এল গোলা পায়রা ঘণ্টা। অমল অবাক নেত্রে দেখল ঘণ্টার পায়ে সুতো দিয়ে আবার কী একটা বাঁধা। অমল ঘণ্টাকে দেওয়ালের সঙ্গে ঠেসে ধরে পায়ের কাগজটা খুলতে লাগল। তারপর একহাতে মুখে মুড়ি চুসতে চুসতে আর এক হাতে ধরে পড়তে লাগল ঘণ্টার পা থেকে খোলা কাগজটা।

    কাগজটা চিঠি। দাদাকে লেখা পাশের রাস্তার সুন্দরী বৃন্দার। বৃন্দাদি মেজদি পৃথার সঙ্গে কনভেন্টে পড়ে। দারুণ স্মার্ট, পড়াশুনায় ভালো, দাদাকে ভারি পছন্দ ছিল। সবাই বলত দাদার সঙ্গে মানায় ভালো। বৃন্দাদিকে খুব মনে ধরেছিল অমলেরও। বাগড়া যা দেবার দিয়েছে। বৃন্দাদির বাবা, বলেছে, নিমুর সঙ্গে কী বিয়ে দেব মেয়ের। কিস্যু করে-টরে না। চেহারা আর বাড়ির থাম দেখে কি বিয়ে হয়। দাদা এসব শুনে রাগ করেই নাকি প্রেম করতে শুরু করে বউদির সঙ্গে। আর তারপর…

    অমল পড়তে লাগল চিঠিটা—প্রিয়তম…কী যে অসুস্থ লাগছে। ভেবেছিলাম তোমাদের ওখানে যাব একবার। পরে ভাবলাম, কী দরকার অযথা কষ্ট বাড়িয়ে তোমার? অথচ কিছু একটা না লিখেও থাকতে পারছিলাম না। তুমি হয়তো গত আটমাস আমায় ভুলে গিয়ে থাকবে, কিন্তু তোমার ঘণ্টা এখনও আমায় ভোলেনি। রোজ সকালে একবার করে আসে এখানে। এখন অবিশ্যি ওর পায়ে তোমার লেখা কোনো চিঠি থাকে না। কত কতবার ইচ্ছে হয়েছে ওর পায়ে একটা চিঠি বেঁধে দিই। কিন্তু দিইনি, তোমার সুখের জীবনের আঁচড় কাটতে চাইনি, সামলে নিয়েছি নিজেকে।

    কিন্তু আজ আর পারলাম না। কী হল কুন্তলার সত্যি করে বলো লক্ষ্মীটি। তোমার মতো কাউকে পেয়েও এত দুঃখ কেন? গায়ে আগুন দেওয়ার কথা তো ওর নয়। অন্য কারুর। কিন্তু সে তো দিব্যি আছে চিঠি লিখছে, বাবার দেখা পাত্রদের ফেরত পাঠাচ্ছে। পারলে চিঠি দিও, না দিলেও দোষ দেব না। ইতি তোমার…

    বৃন্দাদির এই চিঠি কত চেনা অমলের। ঘণ্টার পায়ে চিঠি এলে ওই তো আগে একদফা পড়ে নিত। তারপর ঠিকঠাক করে বেঁধে রাখত যথাস্থানে। আজ কিন্তু চিঠিটা পকেটে পুরল ও। বুকে একটা দুপদুপানি শুরু হয়েছে। মাথার মধ্যে খেলছে একবার বউদির মুখ একবার বৃন্দাদির। কী যে সমস্যায় ফেলল দাদাটি।

    আর প্ল্যানচেটে বসতে পারছে না অমল। ও কাগজপত্র জায়গামতো রেখে হাতে মুড়ি নিয়ে নেমে এল চিলেকোঠা থেকে। গলি দিয়ে যেতে যেতে জানলার ফাঁক দিয়ে দাদার ঘরে উঁকি মারল। দাদা-বউদির বিয়ের ছবি কোলে নিয়ে বাবার মতো বসে আছে।

    নির্মল এখনও একটা সামান্য আঁচ পেল না কুন্তলা এটা করতে গেল কেন। বড়োলোক মা বাবার গঞ্জনা তো বিয়ের দিন থেকে লেগে ছিল। শ্বশুরবাড়িতে একটি কটু কথাও শুনতে হয়নি। যা শোনার সবতো নির্মলই শোনে। মা তো বউমাকে না খাইয়ে একবেলাও খায়নি কখনো। পৃথা স্বাতীর পছন্দ বৃন্দাকে, কিন্তু ওরাও তো সেটা বউদিকে জানতে দেওয়ার পাত্রী নয়। শ্বশুরের পয়সায় ব্যাবসা করব না, এই অহংকার যদি থেকেই থাকে নির্মলের তাতে কুন্তলার তো গর্ব হওয়ারই কথা। যেটুকু যা সন্দেহ ছিল বৃন্দার ব্যাপারে তাও নিতান্তই সন্দেহ। আর সন্দেহ যদি থেকেও থাকে তার সমাধান গায়ে আগুন!

    ভেতরে ভেতরে শিউরে উঠল নির্মল। মনে পড়ল গতকাল বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখা ওই দৃশ্য। অগ্নিপরীক্ষার সীতার মতো আগুনে ঘেরা কুন্তলা। কী যেন বলতে চাইল ওর কোলে আছড়ে পড়তে পড়তে। ও কী বলতে চেয়েছিল, আমি মরতে চাইনি লক্ষ্মীটি? না হলে ওভাবে বার বার মাথা দোলাল কেন? ও কি বলতে চেয়েছিল, আমি বাঁচতে চাই না লক্ষ্মীটি? তাই বা কী করে হয়। নিজেই আগুন আগুন বলে চেঁচাল কেন? কেন ঝাঁপ দিয়ে এল নির্মলের বুকে? কেন পেঁয়াজের খোসার মতো ছাড়াচ্ছিল শরীর থেকে শাড়ি? কেন পড়ে যাওয়ার আগে দু-হাতে চেপে ধরল নির্মলের হাত।

    দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে সন্ধ্যে হতে চলেছে। সবাই গেছে হাসপাতালে। বাড়িতে শুধু মা আর অমল। অমল গুটি গুটি হাটা দিল পাশের রাস্তায় বৃন্দাদের বাড়ির দিকে। বাড়ির বাগানে দোলনায় মুখ নীচু করে বসেছিল বৃন্দা। অমল পাশে গিয়ে আস্তে করে ডাকল, বৃন্দাদি।

    চমকে যেন চটকা ভাঙল বৃন্দার।—এ কী তুমি, অমু! বউদি কেমন আছে? অমলের মুখ দিয়ে কথা সরল না। চোখ দিয়ে টপটপ করে জল গড়াতে লাগল। বৃন্দা ঝট করে ওর মাথাটা বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে কেঁদে উঠল, অমু এ কী হল আমাদের? আমাদের সব সুখ নষ্ট হয়ে গেল।

    বৃন্দা কাঁদছে, ওর বুকের মধ্যে মাথা রেখে অমলও কাঁদছে। দু-জনেই কত কথা বলছে। কাঁদতে কাঁদতে, কিন্তু কেউ কারোরটা শুনতে পাচ্ছে না। অথচ নিয়ম করে বাগানে সন্ধ্যে নামছে।

    শেষে মাথা সরিয়ে নিয়ে এসে অমল বলল, তুমি দাদাকে চিঠি লিখলে কেন, বৃন্দাদি?

    কেন অমু? জানতে হবে না কেন, কী হল?

    হঠাৎ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অমল বলল, তোমার জন্যই তো। তোমাকেই তো দাদা ভালোবাসে। তাই তো…

    বৃন্দা উৎকণ্ঠার সঙ্গে হাত দিয়ে মুখ চাপা দিল অমলের, ছিঃ। অমন কথা বলতে নেই অমু। কুন্তলা তোমার বউদি, দাদা তাকেই ভালোবাসে। আমার সঙ্গে দাদার তো আর কিছু নেই, কিছু নেই

    কথা শেষ করতে পারল না বৃন্দা। বিকট কান্নায় ভেঙে পড়ে দোলনা থেকে খসে পড়ল মাটিতে। অমল, বৃন্দাদি কেঁদো না, বৃন্দাদি কেঁদো না, বলে জড়িয়ে ধরল ওকে। বৃন্দা ওর হাত ছাড়িয়ে দিয়ে বলল, তুই চলে যা, অমু। তুই চলে যা—আমায় একলা থাকতে দে।

    বাড়ি ফিরে ওর মনে হল শহরে বোধ হয় রায়ট বেঁধেছে। সব ঘর শুনশান, অন্ধকার। শুধু পুজোর ঘরে দোর ভেজিয়ে মা চোখ বুজে বসে। ঘরের চেহারা দেখেই মনে হচ্ছে হাসপাতালে বুঝি বা খারাপ কিছু ঘটে গেছে। অমল নিঃশব্দে ফের চিলেকোঠার ঘরে গিয়ে প্ল্যানচেট-এ বসল। একটু পর বাটি চলতে শুরু করলে জিজ্ঞেস করল, বউদি, তুমি এসেছ?

    পিছন থেকে স্পষ্ট উত্তর এল, হ্যাঁ, এই তো আমি। অমল চকিতে মাথা ঘুরিয়ে দেখল দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে এসেছে বউদি। লাল পাড়, বেগুনি রঙের শাড়ি। গায়ে অনেক গয়না। কপালে সিঁথিতে সিঁদুর, বউদি হাসছে।

    অমল বলল, তুমি গায়ে আগুন দিলে বউদি? বউদি থামল। কোথায় দিলাম? লেগে গেল।

    —ছাই লেগেছে। তুমি মরবে বলে দিয়েছ।

    —কেউ কি মরতে চায়?

    –কেন, তুমিই তো চাইলে?

    –মোটেও নয়। তোমার দাদা আমায় ভালোবাসে না, তাই মরলাম।

    –কে বলেছে তোমার দাদা ভালোবাসে না?

    –তুমি জানো না।

    –না, জানি না।

    —তাহলে তুমি কিছুই জানো না। তোমার দাদা ভালোবাসে বৃন্দাকে।

    —তোমায় বলেছে। বৃন্দাদি দাদাকে ভালোবাসে, দাদা তোমাকে।

    বউদি কাঠের মেঝেতে গুছিয়ে বসে চুপ করে রইল। কিছুক্ষণ পর বলল, তোমার কি মনে। হয় আমি দাদাকে ভালোবাসতাম?

    —ভালোবাসতাম কেন? এখন বাসো না?

    থমথমে হয়ে গেল বউদির মুখটা। তারপর আস্তে আস্তে অমলের কাছে সরে এসে বলল, একটা কথা দাদাকে বলতে পারবে, অমু?

    -কী কথা?

    —যে, আমি ভীষণ ভালোবেসেছি ওকে।

    —বলার দরকার নেই, দাদা জানে।

    -তাহলেও বলো।

    —তার আগে বলো, কেন গায়ে আগুন দিলে?

    বউদি আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে বলল, পকেটে ওটা কার চিঠি?

    অমল দৃপ্ত গলায় বলল, বৃন্দাদির।

    —দেখলে তো, বিয়ের এত পরেও কত টান?

    —বাজে কথা। বৃন্দাদির বিয়ের পর দাদাকে কখনো চিঠি দেয়নি। এই প্রথম। তুমি পড়ো।

    —তাহলে এগুলো কি?

    —বলে একগুচ্ছ চিঠি অমলের সামনে ছড়িয়ে দিল বউদি। অমল বিস্ফারিত চোখে দেখল সত্যিই এক রাশ চিঠি, সব বৃন্দাদির হাতের লেখায়। বউদি বলল, অবশ্য এসব বিয়ের আগে লেখা।

    অমল বলল, তাহলে?

    —তাহলে এই চিঠিটা পড়ো… অমল চিঠিটা নিয়ে পড়তে শুরু করল, এই ভালোবাসা তোমায় কেউ দেবে না জেনো। কেউ দিলে আমি গায়ে আগুন দিয়ে মরব। অমল আর পড়তে পারছে না। কিছু বুঝতে পারছে না। ফ্যালফ্যাল করে খানিক চেয়ে থেকে বলল, এসব আজেবাজে কথা সবাই লিখতে পারে, তাতে কি কেউ বিশ্বাস করে?

    বউদি বলল, তোমার বোকা বুদ্ধ দাদাটা করে। ও ভাবে যা লেখা যায় তাই করা যায়।

    —আর তুমি?

    —আমি আর এক বুদ্ধ। ভেবেছিলাম গায়ে একটু আগুন ছুঁইয়ে চমকে দেব দাদাকে। কিন্তু ও দেরি করল বাথরুম থেকে বেরোতে। আমি ভাবতেও পারিনি শাড়িতে আগুন এত তাড়াতাড়ি ছড়ায়। ওকে শিক্ষা দিতে আমি…।

    —আর দাদা তোমায় বাঁচাতে পারল না, বউদি? বউদির মুখ যেন পাথর হয়ে এল, ও বাথরুম থেকে সমানে হাসছিল আমি যখন ‘আগুন আগুন’ করে চেঁচালাম। ভাবছিল আমি ইয়ার্কি করছি। কিংবা ভাবছিল আমি বৃন্দার ঢং ধরেছি। ও দরজা খুলে যখন প্রথমে দেখল আমায় ও তখনও বোঝেনি কী দেখছি। আর

    তখনই আমার বাঁচার সব ইচ্ছে চলে গেল।

    -কেন?

    –বুঝলাম ও কেবল বৃন্দাকে শিক্ষা দেবে বলে আমায় বিয়ে করেছিল। ভালোবাসেনি।

    —আর তুমি?

    —আমি? আমি বিয়ের পর প্রতিদিন বুঝেছি ও বৃন্দার শূন্যস্থানে আমাকে বসিয়েছে। এত ভালোবাসা ও কখনোই আমাকে বাসতে পারে না। ও চিনত আমায় কতটুকু?

    -তাই বলে তুমি গায়ে আগুন দেবে?

    -কে বলেছে আমি আমার গায়ে আগুন দিয়েছি? আমি বৃন্দার প্রক্সির গায়ে আগুন দিয়েছি। আসল আমিটা তো এই তোমার সামনে বসে।

    হঠাৎ নীচে থেকে মেজদির ডাক, অমু, অমু। এক্ষুণি নীচে আয়।

    অমল বউদিকে বলল, তুমি দু-মিনিট বসো। আমি ঘুরে আসছি।

    অমলকে দেখেই মেজদি ভেউ ভেউ করে কেঁদে উঠল-বউদি নেই রে অমু। মর্গে নেবার আগে একবার দেখবি চল।

    কী হল ভগবানই জানেন, অমলের কিছুতেই আর কান্না পাচ্ছে না। পকেটে হাত দিয়ে দেখল চিঠিটা ঠিকই আছে। দিতে হবে দাদাকে। দাদার বিয়ের পর বৃন্দাদির প্রথম চিঠি। বউদি কিছুই বোঝেনি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোয়েন্দা কৃষ্ণা – প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    Next Article প্রবন্ধ সংগ্রহ – প্রমথ চৌধুরী

    Related Articles

    প্রমথ চৌধুরী

    চার-ইয়ারী কথা – প্রমথ চৌধুরী

    September 22, 2025
    প্রমথ চৌধুরী

    সনেট-পঞ্চাশৎ – প্রমথ চৌধুরী

    September 22, 2025
    প্রমথ চৌধুরী

    বীরবলের হালখাতা – প্রমথ চৌধুরী

    September 22, 2025
    প্রমথ চৌধুরী

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – প্রমথ চৌধুরী

    September 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }