Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প2026 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিষ্পত্তি

    নিষ্পত্তি

    শহর হইতে মাইল তিনেক দূরে গঙ্গার তীরে একটি পাথরের টিলা আছে। মাটির দিক হইতে টিলাটি ধীরে ধীরে উঁচু হইয়াছে, কিন্তু গঙ্গার মুখোমুখি পৌঁছিয়া একেবারে হঠাৎ খাড়া নীচে নামিয়া গিয়াছে; মনে হয় গঙ্গাদেবী তাঁহার ক্ষুরধার স্রোতের দ্বারা টিলাটির অর্ধেকটা কাটিয়া লইয়া গিয়াছেন। দূর প্রসারিত সমতলভূমির প্রান্তে নদীর কিনারে এই টিলা অনেক দূর হইতে দৃষ্টি আকর্ষণ করে; কিন্তু স্থানটি নির্জন, লোকজন বড় কেহ এদিকে আসে না। শোনা যায়, পুরাকালে কোন্ এক মুদ্‌গল মুনি এখানে বসিয়া তপস্যা করিতেন।

    শরৎকালের এক স্বচ্ছ অপরাহ্ণে পরমেশবাবু গঙ্গার ধার দিয়া টিলার পানে চলিয়াছিলেন। সূর্য পশ্চিমে ঢলিয়া পড়িয়াছে, কিন্তু পশ্চিম দিগ্বধূর বর্ণ-প্রসাধন এখনও আরম্ভ হয় নাই। গঙ্গার পালিশ করা সুচিক্কণ বুকে জলের গতি আছে, কিন্তু চঞ্চলতা নাই। পরমেশবাবুও চলিয়াছিলেন তৃপ্তি মন্থর চরণে; তাঁহার গতির একটা লক্ষ্য ছিল বটে, কিন্তু ত্বরা ছিল না।

    পরমেশ কিছুদিন হইতে মনে একটা অচঞ্চল শান্তি অনুভব করিতেছিলেন। তাঁহার বয়স এখন পঞ্চাশোর্ধে; সম্প্রতি মোটা পেন্সন লইয়া চাকরি হইতে অবসর গ্রহণ করিয়াছেন। তাঁহার গোলগাল শরীরটি এখনও বেশ নিরেট ও নিরাময় আছে। তিনি নিঃসন্তান; কয়েক বৎসর পূর্বে পত্নীও গত হইয়াছেন। এইরূপ সর্বাঙ্গীণ অনুকূল অবস্থার মধ্যে পড়িয়া তাঁহার মনটি স্বভাবতই প্রসন্ন শান্তিতে পূর্ণ হইয়া উঠিয়াছিল।

    চারিদিকে মুগ্ধ দৃষ্টিপাত করিতে করিতে তিনি চলিয়াছিলেন, মনে মনে বলিতেছিলেন, ‘আহা, মধু মধু—মধু বাতা ঋতায়তে—’

    টিলার কাছাকাছি পৌঁছিয়া পরমেশের মনে পড়িল কেন তিনি বহুবর্ষ পরে এদিকে আসিয়াছেন। ছেলেবেলার স্কুলে-কলেজে পড়ার সময় তিনি প্রায়ই এই টিলায় আসিয়া বসিতেন; কারণ তখন হইতেই তাঁহার মন ভাবপ্রবণ। কিন্তু গত ত্রিশ বৎসরের মধ্যে আর এদিকে আসা হয় নাই। পরমেশ সস্নেহ দৃষ্টিতে টিলা নিরীক্ষণ করিলেন; টিলা ঠিক তেমনই আছে। ত্রিশ বৎসরে কিছুমাত্র বদলায় নাই। ক্ষণেকের জন্য তাঁহার মনে হইল, ত্রিশ বৎসর বুঝি কাটে নাই, পৃথিবী যেমন ছিল তেমনি আছে। কিন্তু পরক্ষণে তাঁহার স্মরণ হইল, আজ সকালে তিনি একটি চিঠি পাইয়াছেন এবং তাহারই ফলে আজ এখানে আসিয়াছেন। তাঁহার মনের উপর একটি ছায়া পড়িল।

    সকালবেলা তিনি যে চিঠি পাইয়াছেন তাহাতে এই কথাগুলি লেখা ছিল—

    ভাই পরমেশ, আমাকে নিশ্চয় ভোলোনি। ইস্কুলে কলেজে একসঙ্গে পড়েছি; সর্বদা আমরা একসঙ্গে থাকতাম, প্রায় সন্ধ্যেবেলা সেই মুদ্‌গল মুনির পাহাড়ে গিয়ে বসতাম। লোকে বলত মাণিকজোড়। আমি সেই খোদন।

    ছেলেবেলায় তুমিই ছিলে আমার প্রাণের বন্ধু—friend, philosopher and guide. তারপর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল, সে আজ কতদিনের কথা! তিরিশ বছরের কম নয়। সেই থেকে আর আমাদের দেখা হয়নি। কিন্তু তোমার কথা প্রত্যহ মনে পড়ে। অনেকবার মনে হয়েছে তোমাকে চিঠি লিখি, কিন্তু সংসারের নানা ঝঞ্ঝাটে লেখা হয়নি। তবে তুমি পেন্সন নিয়ে বাড়িতে আছ সে খবর পেয়েছি। আমারও তো পেন্সন নেবার সময় হল, কিন্তু—

    ভাই, আমি বড় বিপদে পড়েছি। কী বিপদ তা চিঠিতে লেখা যাবে না। তোমার সঙ্গে দেখা করা দরকার কিন্তু তোমার বাড়িতে যাবার সাহস নেই। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যার সময় তুমি যদি মুদ্‌গল মুনির টিলাতে যাও তাহলে আমার সঙ্গে দেখা হবে, তখন সব কথা বলব। ভাই, আমাকে উদ্ধার করতেই হবে; তুমি ছাড়া আর কেউ তা পারবে না। একলা এসো কেউ যেন জানতে না পারে। —তোমারই খোদন।

    পুনঃ—পঞ্চাশটি টাকা সঙ্গে এনো; আমি তোমার কাছে ভিক্ষে চাইছি। যদি নিতান্তই না পারো অন্তত পঁচিশ টাকা এনো।

    এতক্ষণে পরমেশ টিলার পাদমূলে আসিয়া পৌঁছিয়াছেন; একটি নিশ্বাস ফেলিয়া তিনি উপরে উঠিতে লাগিলেন। উঠিবার পথ চারিদিকে বড় বড় পাথরে আকীর্ণ সংসার পথের মতই দুর্গম। পরমেশের মনে পড়িল ছেলেবেলার খোদনের মুখ; সংসার-চিন্তাহীন কচি কিশোর মুখ। এখন তাহার চেহারা কেমন হইয়াছে কে জানে! পরমেশ একটু লজ্জিত হইয়া ভাবিলেন, গত ত্রিশ বছরের মধ্যে খোদনের স্মৃতি বোধ করি পাঁচ বারও তাঁহার মনে উদয় হয় নাই। অথচ একদিন সত্যই তাঁহারা অভিন্নহৃদয় বন্ধু ছিলেন। কে জানে খোদনের কী বিপদ হইয়াছে।

    টিলার ডগায় উঠিয়া তিনি কিন্তু খোদনের কথা ভুলিয়া গেলেন; চারিদিকের অপরূপ সৌন্দর্যে তাঁহার মন ভরিয়া গেল। আকাশে কাশপুষ্প উড়িতেছে, সম্মুখে সুদূর বিস্তার গঙ্গা। টিলাটি যেন একটি প্রকাণ্ড সিংহাসন, গঙ্গার দিকে মুখ করিয়া বসানো হইয়াছে। পঞ্চাশ হাত নীচে তাহার প্রস্তরময় চরণ জলের মধ্যে প্রবেশ করিয়াছে। টিলার পাদমূলে গঙ্গার জল চঞ্চল, মজ্জিত পাথরে উপহত হইয়া কল কল শব্দে বহিয়া যাইতেছে।

    পরমেশ হৃষ্টমনে উপবেশন করিলেন। কুলুঙ্গির মতো বসিবার স্থান, পাথরের মেঝের উপর সবুজ মখমলের মতো শ্যাওলার নরম আস্তরণ বিছানো রহিয়াছে। এখানে বসিলে পাশে বা পিছনে কিছু দেখা যায় না—কেবল পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত নদী ও বালুচর চোখের সম্মুখে বিস্তৃত হইয়া থাকে। এখানে জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধান বড় কম, শরীরের ভারকেন্দ্র একটু বিচলিত হইলে পঞ্চাশ হাত নীচে পড়িয়া দেহত্যাগ অবশ্যম্ভাবী তো বটেই, সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গালাভ। মুদ্‌গল মুনি বাছিয়া বাছিয়া তপস্যা করিবার স্থানটি ভালই আবিষ্কার করিয়াছিলেন।

    জলকণাস্নিগ্ধ বায়ু পরমেশের ললাট স্পর্শ করিল। সূর্য প্রতীচীর দিকে আর একটু ঢলিয়াছে; নদীর বুকে রৌদ্রের প্রতিফলন কাঁসার বর্ণ ধারণ করিয়াছে। ওপারে চরের উপরে কাশবনে কয়েকটি গরু চরিতেছে। পরমেশ মনে মনে বলিলেন,—‘আহা—মাধ্বীর্গাবো—’

    এই রমণীয় নিসর্গ শোভা হইতে দৃষ্টি ফিরাইয়া পরমেশ সহসা চমকিয়া উঠিলেন; দেখিলেন পাশের দিকে হাত পাঁচ ছয় দূরে পাথরের চ্যাঙড়ের ওপারে একটি উট গলা বাড়াইয়া তাঁহার পানে চাহিয়া আছে। তিনি কেবল উটের মুখ হইতে গলা পর্যন্ত দেখিতে পাইলেন। উটের বোধ হয় কিছুদিন পূর্বে বসন্ত হইয়াছিল, কারণ তাহার মুখময় কালো কালো দাগ। তা ছাড়া, উট অন্তত দুই হপ্তা দাড়ি কামায় নাই, থলথলে অথচ শীর্ণ গালে রাশি রাশি কাঁচা-পাকা লোম গজাইয়াছে। রম্য পরিবেশের মাঝখানে এই বেখাপ্পা মূর্তি দেখিয়া পরমেশ স্তম্ভিত হইয়া রহিলেন।

    উট তখন লম্বা লম্বা হলুদবর্ণ দাঁত বাহির করিয়া হাসিয়া বলিল, ‘চিনতে পারলে না—আমি খোদন। তোমাকে কিন্তু দেখেই চিনেছি।’

    খোদন আসিয়া পরমেশের পাশে বসিল। বোতামহীন কামিজ ও ছেঁড়া ধুতির নোংরা মলিনতা অবর্ণনীয়; শরীরটা বোধ করি ততোধিক নোংরা। একটা দূষিত গন্ধ আসিয়া পরমেশের নাকে লাগিল। এই খোদন! দেখিলেও প্রত্যয় হয় না। কিন্তু পরমেশ লক্ষ্য করিলেন, এই ব্যক্তির নাকের ডগায় পরম পরিচিত একটি জটুল রহিয়াছে। সুতরাং চেহারার যত বদলই হোক, খোদনই বটে। কিন্তু খোদন এমন হইয়া গেল কি করিয়া!

    পরমেশ গলাটা একবার ঝাড়িয়া প্রশ্ন করিলেন, ‘কি হয়েছে তোমার?’

    প্রশ্নটা একটু নীরস শুনাইল। এতদিন পরে বাল্যবন্ধুর সহিত সাক্ষাৎ, কিন্তু চেষ্টা করিয়াও তিনি কণ্ঠস্বরে সহৃদয়তা আনিতে পারিলেন না।

    খোদন ধূর্ততাভরা চক্ষুতে অনেকখানি করুণ রস সঞ্চারিত করিয়া হাত কচ্‌লাইতে লাগিল। তাহার শুধু চেহারার পরিবর্তন হয় নাই, মনের পরিবর্তন হইয়াছে। সে দমকা একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, ‘আরে ভাই, কথায় বলে দশচক্রে ভগবান ভূত। নইলে, ভাল চাকরি করছিলুম, ওপরওয়ালার সুনজরে ছিলুম, স্ত্রীপুত্র নিয়ে ঘর-সংসার করছিলুম—আমার আজ এ দশা হবে কেন?’ এই পর্যন্ত বলিয়া হঠাৎ ব্যগ্রভাবে বলিয়া উঠিল, ‘টাকাটা এনেছ তো ভাই?’

    পরমেশ নিঃশব্দে পকেট হইতে পঞ্চাশ টাকার নোট বাহির করিয়া দিলেন। লুব্ধ ব্যগ্রতায় নোটগুলি ছোঁ মারিয়া লইয়া খোদন সেগুলি ক্ষিপ্রহস্তে গণিয়া দেখিল, তারপর অতি যত্নে কোমরে গুঁজিয়া রাখিতে রাখিতে বলিল, ‘বাঁচালে। কিছুদিন এতেই চলবে।’ তাহার ধূর্ত চক্ষু একবার পরমেশ্বরকে তীক্ষ্ণভাবে নিরীক্ষণ করিয়া লইল; যে লোক এককথায় পঞ্চাশ টাকা বাহির করিয়া দিতে পারে, তোয়াজ করিলে তাহার নিকট হইতে আরও অনেক টাকা দোহন করা যাইতে পারে, এই কথাটাই তাহার ধূর্ত দৃষ্টির আড়াল হইতে উঁকি মারিল। সে কণ্ঠস্বরে অনেকখানি চাটুতার রস নিঙড়াইয়া দিয়া বলিল, ‘মহাপ্রাণ লোক ভাই তুমি। অনেক পুণ্যে তোমার মতো বন্ধু পাওয়া যায়। ঠিক ছেলেবেলায় যেমনটি ছিলে এখনও তেমনি আছ। আর চেহারাও কি তোমার অতটুকু বদলায় নি! মনে হয় না যে বয়স হয়েছে।’

    প্রৌঢ়ত্বের সীমায় পৌছিয়া এমন কথা শুনিলে মনে আনন্দ হইবার কথা। কিন্তু পরমেশ আনন্দ অনুভব করিলেন না; বরং তাঁহার মনটা কেমন ভারী হইয়া উঠিল। পশ্চিম দিকপ্রান্তে তখন দিনান্তের হোলিখেলা আরম্ভ হইয়াছে। শরতের দিনগুলি এমনি বর্ণগরিমায় আরম্ভ হয়, আবার এমনি প্রসন্ন লীলাবিলাসে সমাপ্ত হয়; তারপর ধীরে ধীরে চাঁদ উঠিয়া আসে। দিন ও রাত্রি, সীমা ও অসীম ওতপ্রোত একাকার হইয়া যায়—মহাকালের স্তিমিত নয়ন স্বপ্নাতুর হইয়া ওঠে—

    পরমেশ ঈষৎ উদাসকণ্ঠে বলিলেন, ‘তোমার এমন অবস্থা হল কি করে? কী করেছিলে?’

    খোদন একটু চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, ‘ভাই, তোমার কাছে লুকিয়ে লাভ নেই—আমি পুলিসের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

    পরমেশের মনটা আরও ভারী হইয়া উঠিল। জীবনের অসংখ্য জটিলতা যেন আবার তাঁহাকে জড়াইয়া ধরিতেছে। পুলিস! পুলিস নামক এক জাতীয় জীব যে পৃথিবীতে বাস করে একথা কিছুদিন যাবৎ তিনি ভুলিয়া ছিলেন।

    ‘কেন? কি হয়েছিল?’

    খোদন এবার সবিস্ময়ে নিজের জীবন কাহিনী বলিতে আরম্ভ করিল। এই ধরনের আত্মকথা মাঝে মাঝে পুস্তকাকারে প্রকাশ হয়; বক্তা অনুতাপচ্ছলে নিজের দুষ্কৃতির লোভনীয় ইতিহাস বর্ণনা করিয়া আনন্দ পায়। কণ্ডূয়ন প্রবৃত্তিই ওই শ্রেণীর চরিত কথার মূল উৎস।

    খোদন ভাল চাকরি পাইয়াছিল, বিবাহাদি করিয়া সংসারও পাতিয়াছিল; কিন্তু জীবনের সদ্‌ব্যবহার সে করে নাই। হয়তো সংসর্গদোষেই সে বিগ্‌ড়াইয়া গিয়াছিল। ক্রমে যোষিৎ আনন্দই তাহার বাঁচিয়া থাকার প্রধান লক্ষ্য হইয়া দাঁড়াইয়াছিল।

    পরমেশের মতো সচ্চরিত্র বন্ধুর সৎসঙ্গের অভাবেই যে তাহার এমন অবনতি ঘটিয়াছিল তাহাতে খোদনের সন্দেহ নাই। কিন্তু সকলই গ্রহের ফের, অদৃষ্টের লিখন খণ্ডাইবে কে? নহিলে আজ তাহার কিসের অভাব। সে তিন শত টাকা পর্যন্ত মাহিনা পাইয়াছে, তা ছাড়া উপরিও যথেষ্ট ছিল। তবু শেষ বয়সে তাহার সর্বনাশ হইয়া গেল। দুর্দৈব আর কাহাকে বলে?

    স্ত্রীজাতি অতি ভয়ঙ্কর জাতি। সারা জীবন ধরিয়া নাড়াচাড়া করিয়াও সে স্ত্রীজাতির নারকীয় চাতুরী চিনিতে পারিল না। শেষ বয়সে এক সর্বনাশী কুহকিনীর খপ্পরে পড়িল। খোদনের কোনই দোষ ছিল না, স্ত্রীলোকই তাহাকে প্রলুব্ধ করিয়া মোহের নাগপাশে বাঁধিয়া ফেলিল—

    তারপর দোহন আরম্ভ হইল। টাকা চাই, সিল্কের শাড়ি চাই, জড়োয়া গহনা চাই। কী করিবে বেচারা খোদন? শেষ পর্যন্ত দায়ে পড়িয়া সে গভর্নমেন্টের টাকা চুরি করিল। চুরি অবশ্য সে করে নাই, ধার বলিয়া লইয়াছিল; কিন্তু গভর্নমেন্ট তাহা বুঝিল না, তাহার নামে ওয়ারেন্ট জারি করিল। নিরুপায় দেখিয়া খোদন ফেরার হইয়াছে।

    বরবর্ণিনী দিগ্বধূর জলক্রীড়া দেখিতে দেখিতে কতকটা অন্য মনেই পরমেশ বসিয়া ছিলেন; কথাগুলা কানে যাইতেছিল। শুনিতে শুনিতে তাহার মনে হইতেছিল, সূর্যে গ্রহণ লাগিয়াছে, বাতাস দুর্গন্ধ অশুচি ধুমে আবিল হইয়া উঠিয়াছে; তাঁহার অন্তর্লোকে প্রসন্নতার যে শুভ্রজ্যোতি কিছুদিন ধরিয়া নিষ্কম্প শিখায় জ্বলিতেছিল তাহা নিভিয়া গিয়াছে।

    চরিতামৃত শেষ করিয়া খোদন বলিল, ‘কপালে লিখিতং ঝ্যাঁটা কোন্ শালা কিং করিষ্যতি। নইলে কত লোক কত কি করে তাদের কিছু হয় না, চোর-দায়ে ধরা পড়লুম আমি। মাঝে মাঝে মনে হয়—দুত্তোর, সন্ন্যেসী হয়ে যাই; কিন্তু ভাই, সংসার ছাড়তে মন সরে না। হাজার হোক, আমি সংসারী মানুষ,; বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়াতে কি ভাল লাগে? তার ওপর শরীরের একটি পাজি রোগ ঢুকেছে—’

    পরমেশ খোদনের কৃষ্ণবিন্দু চিহ্নিত মুখের পানে চাহিলেন—‘কি রোগ?’

    খোদন কহিল, ‘বললুম না ধরা পড়েছে রাধা। সবাই ফুর্তি করে, রোগ হবার বেলা আমি। চিকিচ্ছে করবারও সময় পেলুম না, পালাতে হল। এখন তুমিই ভরসা তুমিই মরণ-বাঁচন। ছেলেবেলায় তোমার পরামর্শ শুনেই চলতুম, এখন তুমিই একটা বুদ্ধি দাও ভাই, যাতে এ বিপদ থেকে উদ্ধার পাই। এ কষ্ট আর সহ্য হয় না।’

    পরমেশের মনের ভিতরটা অন্ধকার হইয়া গেল—গাঢ় অন্ধকার—কিছু দেখা যায় না। তারপর ধীরে ধীরে রাহুগ্রস্ত সূর্য গ্রহণমুক্ত হইয়া বাহির হইয়া আসিল। সেই নবোন্মেষিত উগ্র আলোকে পরমেশ খোদনের মুক্তি-পথ দেখিতে পাইলেন। একমাত্র মুক্তি-পথ।

    তিনি খোদনের দিকে ফিরিয়া সাগ্রহে বলিলেন, ‘উদ্ধার পেতে চাও? একটা রাস্তা আছে—’

    ‘কী—কী রাস্তা?’

    ‘এই যে—’ বলিয়া পরমেশ দুই হাতে সজোরে খোদনকে ঠেলিয়া দিলেন। খোদন কিছু বুঝিতে পারিবার আগেই শূন্যে একটা ডিগ্‌বাজি খাইয়া নীচে পড়িতে লাগিল।

    পঞ্চাশ হাত নীচে গঙ্গার শিলা কণ্টকিত জলে ছপাৎ করিয়া শব্দ হইল।

    পরমেশ টিলা হইতে নামিয়া আসিলেন।

    সূর্য অস্ত গিয়াছে। সন্ধ্যা কিরণের সুবর্ণ মদিরা ভাগীরথীর স্ফটিক পাত্রে টলমল করিতেছে। মুদিত আলোর কমল কলিকাটি কোন্‌ কনকচ্ছটা বিচ্ছুরিত নব-প্রভাতের অভিমুখে ভাসিয়া চলিয়াছে কে জানে।

    খোদন বলিয়া কি কেহ ছিল? অথবা পরমেশের অবচেতনার নক্রসঙ্কুল সমুদ্র হইতে তাহার বিকলাঙ্গ বীভৎস স্মৃতি বাহির হইয়া আসিয়াছিল? ভয়ের মুখোস—? কষ্টের বিকৃত ভান—?

    গঙ্গার তীরে দাঁড়াইয়া পরমেশ চারিদিকে দৃষ্টি ফিরাইলেন। কোথাও জনমানব নাই। তিনি তখন জামা-কাপড় খুলিয়া রাখিয়া গঙ্গার জলে অবতরণ করিলেন। শরীর শীতল হইল। আহা, মধু ক্ষরন্তি সিন্ধবঃ—

    স্নান শেষ করিয়া পরমেশ আবার বস্ত্রাদি পরিধান করিলেন। দূরে গঙ্গার ওপারে চরের উপর পাখি ডাকিল—টিট্টি-টিট্টিহি—

    পরম পরিতৃপ্তির একটি নিশ্বাস ফেলিয়া পরমেশ অস্ফুট কণ্ঠে বলিলেন, ‘আহা, মধু মধু—’

    ৩০ আষাঢ় ১৩৫৩

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172 173 174 175 176 177 178 179 180 181 182 183 184 185 186 187 188 189 190
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলৌকিক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }