Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প2026 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বালখিল্য

    বালখিল্য

    ক্ষুদিরামবাবুর শৈশবকালে যিনি তাঁহার নামকরণ করিয়াছিলেন, তিনি ত্রিকালজ্ঞ পুরুষ ছিলেন এরূপ মনে করিবার কোনও কারণ নাই। কিন্তু ক্ষুদিরামবাবুর পঞ্চাশ বছর বয়সে তাঁহার জীবনে এমন একটি ঘটনা ঘটিল যাহার পর নামমাহাত্ম্য সম্বন্ধে নূতন করিয়া গবেষণা করিবার প্রয়োজন হইয়াছে। শেক্স্পীয়র বলিয়াছেন বটে—‘নামে কিবা করে? গোলাপ, যে নামে ডাকো, সৌরভ বিতরে।’ কিন্তু মহাকবির আপ্তবাক্য আর সর্বান্তঃকরণে গ্রহণ করিতে পারিতেছি না।

    ক্ষুদিরামবাবুর সহিত আমার অনেক দিনের ঘনিষ্ঠতা। বয়সে আমি প্রায় পনেরো বছরের কনিষ্ঠ, তবু আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বই ছিল বলিতে হইবে। কলিকাতার ভিন্ন পাড়ায় বাস করিলেও প্রায়ই তাঁহার বাড়িতে যাতায়াত করিতাম। তাঁহার দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। গৃহিণীটি কিছু অধিক মাত্রায় প্রখরা, ক্ষুদিরামবাবুও একগুঁয়ে লোক; দু’জনের মধ্যে প্রায়ই খিটিমিটি লাগিয়া থাকিত, কদাচিৎ ঝগড়ার ঝড় বাদলে ফাটিয়া পড়িত। সন্তানাদি না থাকায় তাঁহাদের প্রকৃতিগত দূরত্বের মাঝখানে সেতুবন্ধন রচিত হয় নাই।

    শহরের দক্ষিণ অংশে একটি ছোটখাটো দ্বিতল বাড়িতে এই প্রৌঢ়-দম্পতি বাস করিতেন। সংসারের যাবতীয় কাজ গৃহিণী করিতেন, ক্ষুদিরামবাবু কেবল তাঁহার লাইব্রেরি ঘরে বসিয়া বই পড়িতেন এবং অদ্ভুত যন্ত্রপাতি ও মালমশলা লইয়া বিষ-বৈদ্যের রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত থাকিতেন। তাঁহাদের অর্থের অভাব ছিল না, বাড়িটিও নিজস্ব।

    ক্ষুদিরামবাবু যে পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন তাহাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু তাঁহার পাণ্ডিত্যের কোনও ছিরিছাঁদ ছিল না। আধুনিক বিজ্ঞানের সহিত হঠযোগ ও তন্ত্রমন্ত্র মিশাইয়া তিনি তাঁহার মস্তিষ্কের মধ্যে এমন এক প্রকার খিচুড়ি তৈয়ার করিয়াছিলেন যাহা সাধারণ মানুষের পক্ষে একেবারেই দুষ্পাচ্য। অনেকে মনে করিত তাঁহার মাথায় ছিট আছে। অনুমানটা মিথ্যা না হইতেও পারে; কারণ এ সংসারে কাহার মাথায় ছিট আছে এবং কাহার মাথায় নাই তাহা নির্ণয় করিবার মতো প্রকৃতিস্থ ব্যক্তি পৃথিবীতে বিরল। তবে ক্ষুদিরামবাবুর কথাবার্তা চালচলন সাধারণ মানুষের মতো ছিল না তাহা স্বীকার করিতে হইবে। তিনি প্রায় সকল সময় গেরুয়া রঙে রঞ্জিত কোট-প্যান্টুলুন পরিয়া থাকিতেন; আমি একদিন প্রশ্ন করার তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরিয়া আমাকে বক্তৃতা শুনাইয়াছিলেন। সব যুক্তি তর্ক এখন মনে নাই, এইটুকু শুধু স্মরণ আছে যে গেরুয়া কোট প্যান্টুলুন পরিলে শরীরে বৈদ্যুতিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।

    ক্ষুদিরামবাবুর এত পরিচয় দিবার কারণ, এই কাহিনীটি তাঁহারই জীবনের শেষ অধ্যায়ের ইতিহাস। তিনি আমার শ্রদ্ধেয় বন্ধু ছিলেন, কয়েকটি কারণে আমি তাঁহার কাছে কৃতজ্ঞতার ঋণে আবদ্ধ হইয়া পড়িয়াছিলাম; সুতরাং তাঁহার সম্বন্ধে কোনও অতিরঞ্জিত উদ্ভট কাহিনীর অবতারণা করিতেছি এরূপ কেহ যেন মনে না করেন।

    শরীরটা কিছুদিন ভাল যাইতেছিল না, তাই ক্ষুদিরামবাবুর বাড়ি যাইতে পারি নাই। হঠাৎ একদিন খবর পাইলাম, তিনি নিরুদ্দেশ হইয়াছেন। খুবই আশ্চর্য হইলাম; ক্ষুদিরামবাবু তো সাধু সন্ন্যাসী হইবার লোক নয়। তবে কিছুই বলা যায় না; গৃহিণীর সহিত অন্তর্যুদ্ধ হয়তো ভিতরে ভিতরে চরমে উঠিয়াছিল। গৃহিণীর সহিত যেখানে মনের মিল নাই, সেখানে গৃহ ও অরণ্যে তফাৎ কোথায়?

    অসুস্থ শরীর লইয়াই অপরাহ্ণে বালিগঞ্জে গেলাম। দেখিলাম, সংবাদ মিথ্যা নয়। ক্ষুদি-গিন্নী অনেক বিলাপ করিলেন। বয়স চল্লিশের নিকটবর্তী হইলেও তাঁহার চালচলন একটু নবীনধর্মী। তাঁহার বিলাপের ভিতর দিয়া এই ইঙ্গিতটাই স্পষ্ট হইয়া উঠিতে লাগিল যে, পত্নীকে লোকসমাজে অপদস্থ করিবার জন্যই ক্ষুদিরামবাবু এমন রহস্যময়ভাবে অন্তর্ধান করিয়াছেন।

    বস্তুত ক্ষুদিরামবাবুর অন্তর্ধানকে ঘোরতর রহস্যময় বলা যাইতে পারে। গত রাত্রে আহারাদির পর তিনি তাঁহার লাইব্রেরি কক্ষে প্রবেশ করিয়া দরজা বন্ধ করিয়া দিয়াছিলেন। দুইদিন যাবৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাক্যালাপ বন্ধ ছিল, সুতরাং স্ত্রী রাত্রে স্বামীর কোনও খোঁজ খবর লন নাই। আজ সকালে উঠিয়া তিনি দেখিলেন, ক্ষুদিরামবাবু রাত্রে শয়ন করিতে আসেন নাই, লাইব্রেরি ঘরের দ্বার পূর্ববৎ বন্ধ আছে। ক্ষুদি-গিন্নী উদ্বিগ্ন হইয়া দরজায় ধাক্কা দিয়াছিলেন; দরজার ছিট্কিনি কিছু আল্‌গা ছিল, কিছুক্ষণ ঠেলাঠেলির পর খুলিয়া গেল। তখন ক্ষুদি-গিন্নী ঘরে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন, স্বামী নাই। তাঁহার গেরুয়া কোট প্যান্টুলুন চেয়ারের উপর পড়িয়া আছে কিন্তু তিনি অন্তর্হিত হইয়াছেন। দ্বিতলের এই ঘর হইতে বাহির হইবার অন্য কোনও পথ নাই; অবশ্য গরাদহীন একটা জানালা আছে, সেই পথ দিয়া অবতরণ করা কঠিন হইলেও একেবারে অসম্ভব নয়। ক্ষুদি-গিন্নী যথারীতি চেঁচামেচি করিয়াছিলেন কিন্তু স্বামীর সন্ধান পান নাই। শুধু তাই নয়, ক্ষুদিরামবাবুর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির পোষা বিড়ালটাও অদৃশ্য হইয়াছিল, তাহাকে আর খুঁজিয়া পাওয়া যাইতেছিল না।

    একি অসম্ভব ব্যাপার! ক্ষুদিরামবাবুর প্রাণে যদি বৈরাগ্যই জাগিয়াছিল তবে তিনি সম্পূর্ণ দিগম্বর বেশে কেবল একটি বিড়ালকে সঙ্গী লইয়া বিবাগী হইলেন কেন? ইহা তো সহজ মানুষের কাজ নয়। তবে কি কোনও কারণে তাঁহার মস্তিষ্ক-বিকার ঘটিয়াছে?

    ক্ষুদি-গিন্নী আমাকে লাইব্রেরি ঘরে লইয়া গেলেন। ঘরটি বেশ বড়, দেয়াল ঘিরিয়া বইয়ের আলমারি। মাঝখানে একটি দেরাজ-যুক্ত টেবিল, তাহার উপর বিবিধ আকৃতির বোতল খল্ নুড়ি প্রভৃতি অগোছালোভাবে ছড়ানো রহিয়াছে। এই ঘরে বসিয়া ক্ষুদিরামবাবুর কত আজগুবি গবেষণা শুনিয়াছি। দেখিলাম, তাঁহার চেয়ারের উপর গেরুয়া কোট প্যান্টুলুন পড়িয়া আছে; এমন কি আভ্যন্তরিক অঙ্গবাসও তিনি ফেলিয়া গিয়াছেন। ক্ষুদি-গিন্নী সখেদে টেবিল ও আলমারিগুলি দেখাইয়া বলিলেন, ‘এসব আর কিসের জন্যে ঠাকুরপো? তুমি তো অনেক জানো শোনো, এসব বিক্রি করে ফেলা যায় না?’

    আশ্চর্য হইয়া বলিলাম, ‘বলেন কি বৌদি? ক্ষুদিরামদা হয়তো কালই ফিরে আসবেন। যে-বেশে তিনি বেরিয়েছেন পুলিসের হাতে পড়াও অসম্ভব নয়। তাঁর এত আদরের জিনিসপত্র বিক্রি করে ফেলতে চান?’

    ক্ষুদি-গিন্নী আর কিছু বলিলেন না। স্বামীর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উপলব্ধি করিয়া তিনি প্রসন্ন হইলেন কিনা বুঝিতে পারিলাম না। জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘ক্ষুদিরামদা চিঠিপত্র কিছু রেখে গেছেন কিনা খুঁজে দেখেছেন?’

    ‘তুমিই খুঁজে দ্যাখো ভাই, আমি তো কিছু পাইনি।’ বলিয়া তিনি ঘর হইতে প্রস্থান করিলেন।

    অতঃপর টেবিল দেরাজ সবই হাঁট্কাইয়া দেখিলাম, কিন্তু চিঠিপত্র কিছু পাওয়া গেল না; ক্ষুদিরামদা কোনও কৈফিয়ত না দিয়া নিঃসাড়ে সংসার ত্যাগ করিয়াছেন। বিক্ষিপ্ত চিত্তে ঘরের এদিক ওদিক ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিলাম, ক্ষুদিরামদা কিরূপ মনোভাব লইয়া গৃহত্যাগী হইয়াছেন অনুমান করিবার চেষ্টা করিলাম কিন্তু চেষ্টা বিফল হইল। কোনও অবস্থাতেই তাঁহার নাগা সন্ন্যাসী হওয়া কল্পনা করিতে পারিলাম না।

    একটি আলমারিরর কবাট দুই ইঞ্চি ফাঁক হইয়া ছিল। মনে হইল কাল রাত্রে হয়তো এই আলমারি হইতে বই লইয়া ক্ষুদিরামদা পড়িয়াছিলেন। সংসার হইতে বিদায় লইবার প্রাক্কালে কিরূপ বই পড়িবার ইচ্ছা তাঁহার হইয়াছিল, জানিবার ঔৎসুক্য হইল। কাছে গিয়া কাচের ভিতর দিয়া দেখিলাম প্রেততত্ত্ব ঘটিত নানা জাতীয় পুস্তক। ইংরেজী বই আছে, বাংলা আছে।

    ‘ওহে বিকাশ—!’

    চমকিয়া উঠিলাম—কে ডাকিল? কণ্ঠস্বর চেনা চেনা, কিন্তু এত ক্ষীণ ও সুক্ষ্ম যে বিশ্বাস হয় না। রেডিও খুলিয়া দিবার পর প্রথমে যেরূপ বহু দূরাগত অস্ফুট আওয়াজ শোনা যায় এ যেন অনেকটা সেই রকম। কিন্তু কে আমাকে ডাকিল? ঘরের চারিদিকে সচকিত দৃষ্টিপাত করিলাম, কৈ কেহই তো নাই।

    ‘ওহে বিকাশ—!’

    এবার চিনিতে পারিলাম—ক্ষুদিরামদা’র গলা; এবং তাহা আসিতেছে আলমারির ভিতর হইতে! তবে কি ক্ষুদিরামদা কোনও অভাবনীয় উপায়ে প্রেতযোনি প্রাপ্ত হইয়াছেন?

    ‘শুনছ? আমি এখানে।’

    অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে আলমারির দরজা আর একটু খুলিলাম। অমনি নীচের থাকের পুস্তকশ্রেণীর পিছন হইতে তড়াক করিয়া একটি জীব বাহির হইয়া আসিল। আমিও তড়াক করিয়া দুই পা পিছাইয়া আসিলাম। জীবনে এত বিস্মিত কখনও হই নাই।

    ভূত-প্রেত নয়—জীবন্ত ক্ষুদিরামদা। সেই টাক মাথা; সেই নিকষ কৃষ্ণ বর্ণ, নাক মুখ চোখ সবই ঠিক তেমনি আছে—কিন্তু তাঁহার দৈহিক দৈর্ঘ্য স্রেফ্ ছয় ইঞ্চি হইয়া গিয়াছে। রুমালের মতো একটা ন্যাক্‌ড়া কৌপীনের আকারে কোমরে জড়াইয়া তিনি ঊর্ধ্বমুখ হইয়া দৃপ্ত-ভঙ্গিতে আমার পানে তাকাইয়া আছেন।

    আকস্মিক ধাক্কায় আমার বুদ্ধিসুদ্ধি প্রায় সবই দিশাহারা হইয়া গিয়াছিল, তবু উবু হইয়া বসিয়া তাঁহাকে ভাল করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। কেমন করিয়া সম্ভব হইল জানি না কিন্তু ইনি নিঃসংশয়ে ক্ষুদিরামদা’র অতি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। মাথাটি আমড়ার মতো এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সেই অনুপাতে। সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা ক্ষুদিরামদা কোন ইন্দ্রজাল প্রভাবে এমন একরত্তি হইয়া গেলেন ভাবিয়া পাইলাম না।

    আলোচালের মতো দাঁত বাহির করিয়া ক্ষুদিরামদা হাসিলেন, তাঁহার সূক্ষ্ম অথচ স্পষ্ট কণ্ঠস্বর শুনিতে পাইলাম, ‘চিনতে পেরেছ তাহলে? ভয় পেও না। আগে ঘরের দরজা চট্ করে বন্ধ করে দাও। নইলে গিন্নী দেখতে পেলেই সর্বনাশ।’

    তাড়াতাড়ি গিয়া দরজার ছিট্‌কিনি লাগাইলাম। ফিরিয়া আসিয়া দেখি ক্ষুদিরামদা কার্পেটের উপর পদ্মাসনে বসিয়াছেন; কৌপীন পরিহিত বেশে তাঁহাকে বালখিল্য মুনির মতো দেখাইতেছে। আমিও তাঁহার সম্মুখে উপবিষ্ট হইলাম।

    তিনি বলিলেন, ‘বড়ই বিপদে পড়েছি হে বিকাশ—’

    বলিলাম, ‘তাহলে সত্যিই আপনি ক্ষুদিরামদা?’

    তিনি চোখ পাকাইয়া তাকাইলেন। তাঁহার মেজাজ স্বভাবতই একটু তিরিক্ষি, তাই তাড়াতাড়ি বলিলাম, ‘না না, বুঝেছি আপনি ক্ষুদিরামদা। কিন্তু আপনার এ অবস্থা হল কি করে?’

    তিনি বলিলেন, ‘সে কথা পরে বলছি। ক্ষিদেয় নাড়ী জ্বলে যাচ্ছে, আগে খাবার ব্যবস্থা কর।’

    ‘খাবার ব্যবস্থা! কিন্তু বৌদির কাছে খাবার চাইতে গেলে—’

    ‘না না, ওদিকে যেও না। ঐ আলমারির মাথায় বিস্কুটের টিন আছে নামিয়ে নিয়ে এস।’

    বিস্কুটের টিন নামাইয়া কয়েকটি বিস্কুট ক্ষুদিরামদা’কে দিলাম; তিনি একটি বিস্কুট দুই হাতে ধরিয়া কুটুর কুটুর করিয়া খাইতে লাগিলেন।

    রলিলাম, ‘এবার বলুন কী করে এই অদ্ভুত রূপান্তর হল।’

    তিনি তখন বিস্কুট খাইতে খাইতে আরম্ভ করিলেন, আমি তাঁহার দিকে যতদূর সম্ভব ঝুঁকিয়া শুনিতে লাগিলাম— ‘আর বল কেন? বগুলাবাবার নাম শুনেছ তো? ব্যারাকপুরে এসে আছেন। কিছু দিন থেকে তাঁর কাছে যাতায়াত করছিলুম। —’

    বগলানন্দ বাবাজীর নাম অনেকেই জানেন, তিনি একজন উগ্র প্রকৃতির তান্ত্রিক সাধু। বেশীর ভাগ সময় পাহাড় পর্বতে থাকেন; মাঝে মাঝে কলিকাতার উপকণ্ঠে যখন দেখা দেন তখন তাঁহার কাছে লোক ভাঙিয়া পড়ে। বাবাজী নাকি সিদ্ধপুরুষ, অনেক অলৌকিক ক্ষমতা আছে।

    ক্ষুদিরামদা বলিয়া চলিলেন, ‘বাবা অষ্টসিদ্ধি লাভ করেছেন। অষ্টসিদ্ধি জানো তো? অণিমা লঘিমা—এই সব। ভাবলুম, দেখি তো সত্যিই অষ্টসিদ্ধি বলে কিছু আছে কিনা। জোঁকের মতন বাবার পেছনে লেগে গেলুম। বাবা প্রথমে কিছুতেই আমল দিতে চান না, কয়েকবার গালাগালি দিয়ে তাড়িয়ে দিলেন। শেষে কাল সকালবেলা নাছোড়বান্দা হয়ে বাবাকে ধরলুম। বললুম বাবা, আজকাল পৃথিবীর লোক কিছু বিশ্বাস করে না, বিজ্ঞান এসে মানুষের মাথা বিগড়ে দিয়েছে। এখন আপনি যদি অষ্টসিদ্ধি প্রমাণ করে দিতে পারেন তাহলে বিজ্ঞানের মুখে চুনকালি পড়বে, মানুষের ধর্মজ্ঞান ফিরে আসবে। শুনে বাবা বললেন, ঐসা বাৎ? আচ্ছা লেঃ! এই বলে ঝুলির ভেতর থেকে একটি পুরিয়া বার করে দিলেন। বললেন, এই পুরিয়ার মধ্যে মন্ত্রপূত গুঁড়ো আছে, মধু দিয়ে মেড়ে রাত্রে খাবি। জিজ্ঞেস করলুম, এতে কী হবে বাবা? বাবা হেসে বললেন, এখন বলব না; খেয়ে দ্যাখ্, বুঝতে পারবি।

    ‘পুরিয়া নিয়ে ফিরে এলুম। মনে কেমন ধোঁকা লাগল। সাধু সন্ন্যিসির মন বোঝা ভার, কি জানি বাবা যদি আমার হাত ছাড়াবার মতলবে বিষ-টিষ কিছু দিয়ে থাকেন? কিন্তু এদিকে পরীক্ষা না করলেও নয়। একবার ভাবলুম গিন্নীর ওপর পরখ করে দেখি—যায় শত্রু পরে পরে। কিন্তু তাঁকে খাওয়াব কি করে? বিশেষত এখন ঝগড়া চলছে। শেষে ভেবে চিন্তে ঠিক করলুম আমিই খাব, তবে সবটা খাব না; একটুখানি খেয়ে দেখব কোনও ফল হয় কিনা। ভাগ্যিস একটুখানি খেয়েছিলুম, নইলে, একেবারে ‘ভাইরাস’ হয়ে যেতুম, মাইক্রসকোপ দিয়েও আমাকে দেখতে পেতে না।

    ‘যাহোক, কাল রাত্রে খাওয়া-দাওয়ার পর এই ঘরে দোর বন্ধ করে বসলুম। পুরিয়া খুলে দেখি, হলদে রঙের একটুখানি গুঁড়ো। খল নুড়ি মধু জোগাড় করে রেখেছিলুম, গুঁড়ো খলে দিয়ে বেশ ভাল করে মধু দিয়ে মাড়লুম। মুখরোচক একটি সুগন্ধ বেরুতে লাগল।

    ‘মাড়া শেষ হলে নুড়ির মাথায় যতটুকু ওঠে ততটুকু ওষুধ বেটে নিলুম। তারপর খল নুড়ি সরিয়ে রেখে চেয়ারে বসলুম।

    ‘দু’ মিনিট যেতে না যেতেই বুঝলুম—ওষুধ ধরেছে। শরীরের ভেতর থেকে একটা ঝাঁঝ বেরুচ্ছে। জ্বালা নয়—তাপ। মনে হল আমার শরীরের যতকিছু পদার্থ সব আগুনের তাপে বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে। ক্রমে তাপ অসহ্য হয়ে উঠল, আমি অজ্ঞান হয়ে গেলুম—

    ‘যখন জ্ঞান হল রাত তখন দুটো। দেখি, চেয়ারের ওপর পড়ে আছি, চেয়ারটা মস্ত বড় দেখাচ্ছে। প্রথমটা কিছুই বুঝতে পারলুম না, আমার কাপড়-চোপড় এত বড় হয়ে গেছে কী করে? তারপর বুঝলুম, আমিই ছোট হয়ে গেছি! কোটের পকেট থেকে অনেক কষ্টে রুমাল বার করে পরে ফেললুম। লজ্জা নিবারণ করতে হবে তো!’

    এতক্ষণে ক্ষুদিরামদা’র অর্ধেক বিস্কুট খাওয়া হইয়াছে, তিনি পেটে হাত বুলাইয়া একটি উদ্‌গার তুলিলেন, বলিলেন, ‘একটু জল পেলে ভাল হত—কিন্তু জল আর কোথায় পাবে? মধু’র বোতলটা নিয়ে এস।’

    মধু’র বোতল টেবিলের উপর ছিল, আনিয়া দিলাম। ক্ষুদিরামদা দুই ফোঁটা মধু পান করিয়া তৃষ্ণা নিবারণ করিলেন।

    বলিলাম, ‘তারপর?’

    তিনি কহিলেন, ‘তারপর অনেক কায়দা করে চেয়ার থেকে নামলুম। কিন্তু দরজা খুল্ব কি করে, ছিট্‌কিনি তো নাগাল পাব না! ঘরময় ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে ভাবতে লাগলুম, এখন কী করি? ওষুধ খেয়ে যে এই অবস্থা হবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি। গিন্নী যদি জানতে পারেন আমি এতটুক হয়ে গেছি, তাঁর আনন্দের সীমা থাকবে না, বলবেন তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করার ফলেই আমার এই দশা হয়েছে। তার ওপর তাঁর যে রকম বিষয়-বুদ্ধি, হয়তো আমাকে সার্কাসে দেখিয়ে টাকা রোজগারের ফন্দি বার করবেন। সুতরাং আর যাই করি গিন্নীকে জানতে দেওয়া হবে না। তোমার ওপর আমার আদেশ রইল একথা কাউকে বলবে না।’ বলিয়া কটমট করিয়া আমার পানে তাকাইলেন।

    দেখিলাম, তাঁহার আকৃতি ছোট হইয়া গেলেও প্রকৃতি আগের মতোই আছে। এতটুকু মানুষের আজ্ঞা পালন করিতে হইবে, ইহাতে মনটা খুঁতখুঁত করিতে লাগিল। কিন্তু তবু অমান্য করিবার উপায় নাই, তিনি গুরুজন। আপাতত আদেশ শিরোধার্য করিয়া লইয়া প্রশ্ন করিলাম, ‘রাত্রে আর কিছু ঘটেনি?’

    তিনি চক্ষু ঘুরাইয়া বলিলেন, ‘ঘটেনি আবার? ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে হঠাৎ এক সময় দেখি, জানলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড বাঘ ঘরে ঢুকছে। তারপরই বুঝতে পারলুম, বাঘ নয় গিন্নীর পোষা বেড়ালটা; কার্নিশ দিয়ে এসে জানালা খোলা পেয়ে ঘরে ঢুকেছে।

    ‘বেড়ালটা আমাকে দেখতে পেয়ে কিছুক্ষণ ল্যাজ ফুলিয়ে চেয়ে রইল, তারপর দাঁত খিঁচিয়ে আমাকে ধরতে এল। আমার অবস্থা বুঝতে পারছ, বেড়ালের হাতেই বুঝি প্রাণটা যায়। ঘরময় ঘোড়দৌড় করে বেড়ালুম, পেছনে বেড়াল। ধরে আর কি। ভাগ্যে এই সময় চোখে পড়ল আলমারির দরজা একটু ফাঁক হয়ে আছে, সুট্‌ করে ঢুকে পড়লুম। আলমারির দরজা এত কম ফাঁক ছিল যে বেড়ালটা ঢুকতে পারল না।

    ‘যাক, এ দফা প্রাণটা তো বাঁচল। আলমারির মধ্যে বইয়ের মাথায় বসে কাচের ভেতর দিয়ে দেখতে লাগলুম, বেড়ালটা গর্‌ গর্ করতে করতে সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারপর যখন দেখলে আমাকে ধরবার কোনও আশা নেই তখন গিয়ে টেবিলের ওপর উঠল। খলের মধ্যে বাকি ওযুধটুকু ছিল, দেখি তাই চেটে চেটে খাচ্ছে।

    ‘তারপর পাঁচ মিনিটও কাটল না, দেখতে দেখতে বেড়ালটা ছোট হয়ে বেবাক অদৃশ্য হয়ে গেল, ফোলানো রবারের বেলুন হাওয়া বেরিয়ে গেলে যেমন কুঁচকে যায় ঠিক সেই রকম। সে হয়তো এখনও এই ঘরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু এত ছোট চোখে দেখতে পাবে না।’

    কাহিনী শেষ করিয়া ক্ষুদিরামদা বলিলেন, ‘একে বলে অষ্টসিদ্ধি। অষ্টসিদ্ধির প্রথম কিস্তি হচ্ছে অণিমা—অর্থাৎ অণুর মতো ছোট হতে পারা। বগুলাবাবা ঠক জোচ্চোর নয়, আসল সিদ্ধপুরুষ। হাতে হাতে প্রমাণ করে দিয়েছেন।’

    আমি আবেগভরে বলিলাম, ‘এই অদ্ভুত ব্যাপার যখন জগতে প্রচার হবে তখন পাশ্চাত্যের জড়বাদীরা বুঝবে, ভারতের আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যে কী জিনিস আছে—’

    ক্ষুদিরামদা অধীরভাবে মাথা নাড়িয়া বলিলেন, ‘ও সব পরের কথা। এখন আমাকে আবার স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে যেতে হবে—’

    বলিলাম, ‘কিন্তু সেটা কি ঠিক হবে? প্রত্যক্ষ প্রমাণ না দেখাতে পারলে পশ্চিমের নাস্তিকেরা—’

    ‘উচ্ছন্নে যাক পশ্চিমের নাস্তিকেরা। তাদের জন্য আমি ছ’ইঞ্চির মানুষ হয়ে জন্ম কাটাতে পারব না।’

    ‘তবে কি করবেন?’

    ‘শোনো, তোমাকেই এ কাজ করতে হবে। এখনি তুমি ব্যারাকপুরে বগুলাবাবার কাছে যাও; তাঁকে আমার সব কথা বলে তাঁর কাছ থেকে কাটান্-ওষুধ নিয়ে আসবে। বাবা একটু তেরিয়া মেজাজের লোক, কিন্তু তাঁর দাঁত খিঁচুনিতে ভয় পেয়ো না। লেগে থাকলেই বাবা প্রসন্ন হবেন। বুঝলে? এখনি বেরিয়ে পড়—’

    এই সময় দ্বারে করাঘাত হইল। ক্ষুদিরামদা কথা শেষ করিলেন না, বিদ্যুৎ বেগে গিয়া আলমারির মধ্যে লুকাইলেন। আমি গিয়া দরজা খুলিয়া দিলাম।

    বাহিরে ক্ষুদি-গিন্নী দাঁড়াইয়া আছেন, তাঁহার চোখে সন্দিগ্ধ দৃষ্টি। ঘরে প্রবেশ করিয়াই তিনি বলিলেন, ‘দোর বন্ধ করে কি হচ্ছিল?’ সঙ্গে সঙ্গে তাঁহার দৃষ্টি পড়িল বিস্কুটের বাক্স ও মধু’র বোতলের উপর। তিনি বিস্ফারিত নেত্রে চাহিয়া বলিলেন, ‘একি ঠাকুরপো, তুমি বিস্কুট খাচ্ছিলে! ক্ষিদে পেয়েছিল আমাকে বললেই হত, আমি জলখাবার আনিয়ে দিতুম।’

    লজ্জায় মাথা কাটা গেল। কিন্তু উপায় কি? ক্ষুদিরামদা’কে শত্রুহস্তে ধরাইয়া দিতে পারিলাম না, চুরি করিয়া খাওয়ার দায় ঘাড়ে লইয়া লজ্জিত মুখে বলিতে হইল, ‘না না বৌদি, আপনাকে এই অবস্থায় মিছে কষ্ট দেব না, তাই—। আচ্ছা, আজ আমি চলি, কাল সকালে আবার আসব। ক্ষুদিরামদা’র চিঠিপত্র কিছু পেলুম না, কাল আবার আলমারিগুলো ভাল করে খুঁজে দেখতে হবে। আপনি কিছু ভাববেন না, ইয়ে—ক্ষুদিরামদা নিশ্চয় ফিরে আসবেন।’

    নীরস কণ্ঠে ক্ষুদি-গিন্নী বলিলেন, ‘তাই বল ভাই।’

    সেখান হইতে বাহির হইয়া সটান ব্যারাকপুরে গেলাম। পৌঁছিতে রাত্রি হইয়া গেল। খোঁজ খবর লইয়া জানিলাম, বগুলাবাবা আজ সকালেই হরিদ্বার যাত্রা করিয়াছেন।

    খুব যে দুঃখিত হইলাম তা নয়। আশু বড় হইবার সম্ভাবনা নাই দেখিয়া ক্ষুদিরামদা হয়তো সাধারণে আত্মপ্রকাশ করিতে রাজী হইতে পারেন। পরদিন সকালবেলা ক্ষুদিরামদা’র জন্য কাগজে মুড়িয়া একটি সন্দেশ এবং হোমিওপ্যাথিক শিশিতে এক শিশি জল পকেটে লইয়া তাঁহার বাড়িতে উপস্থিত হইলাম।

    ক্ষুদি-গিন্নীর চেহারা দেখিয়া কিন্তু আশ্চর্য হইয়া গেলাম! কাল কান্নাকাটি সত্ত্বেও চেহারার এমন কিছু অবনতি লক্ষ্য করি নাই; আজ দেখিলাম তাঁহার চোখের কোলে কালি, মুখে একটা শঙ্কিত সচকিত ভাব। জিজ্ঞাসা করিলাম, কী হয়েছে বৌদি?

    তিনি শুষ্কমুখে বলিলেন, ‘কী জানি ভাই, কাল রাত্তির থেকে কেবলই ভয় পাচ্ছি। এ বাড়ির বোধ হয় কোনও দোষ হয়েছে।’

    ‘সে কি, ভূত-প্রেত কিছু দেখেছেন নাকি?’

    ‘না, দেখিনি কিছু—কিন্তু—’ তিনি ঢোক গিলিয়া অন্য কথা পাড়িলেন, ‘আমার আর এ বাড়িতে মন টিকছে না ঠাকুরপো। ভাবছি কিছুদিনের জন্যে রাণাঘাটে দিদির কাছে গিয়ে থাকি—’

    প্রস্তাবটা মন্দ লাগিল না। বলিলাম, ‘বেশ তো। এ বাড়িতে কাকে রেখে যাবেন?’

    ‘ভাবছি বাড়িতে তালা দিয়ে যাব।’

    এ আবার এক নূতন হাঙ্গামা। ক্ষুদিরামদা কি বাড়িতে বন্ধ থাকিয়া শেষে অনাহারে মারা পড়িবেন? জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘তা কবে যাচ্ছেন?’

    ‘আজ বিকেল সাড়ে তিনটের গাড়িতে।’

    সুতরাং একটা বিলিব্যবস্থা করিতে হইবে। তাঁহাকে বলিলাম, তাহলে ‘আপনি বাঁধা-ছাঁদা করুন গিয়ে, আমি আর একবার লাইব্রেরিটা দেখে নিই।’

    এই সময় ক্ষুদি-গিন্নীর কয়েকটি সহানুভূতিশীল বান্ধবী আসিয়া পড়িলেন। ভালই হইল, তিনি বান্ধবীদের লইয়া ব্যস্ত থাকিবেন, আমার কার্যকলাপের উপর নজর রাখিতে পারিবেন না। আমি লাইব্রেরিতে ঢুকিয়া দ্বার বন্ধ করিলাম।

    ক্ষুদিরামদা আলমারি হইতে বাহির হইলেন, তাঁহাকে সন্দেশ ও জল খাইতে দিলাম। বগুলাবাবা চলিয়া গিয়াছেন শুনিয়া তিনি অত্যন্ত বিমর্ষ হইলেন। তারপর যখন শুনিলেন যে আজই অপরাহ্ণে গৃহিণী বাড়িতে তালা লাগাইয়া রওনা দিতেছেন তখন তিনি মাথায় হাত দিয়া বসিলেন।

    বলিলেন, ‘দেখছ কী সাংঘাতিক মেয়েমানুষ!’

    আমি বলিলাম, ‘তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না। হাজার হোক মেয়েমানুষ, একলা রাড়িতে থাকতে ভয় করছে।’

    ক্ষুদিরামদা’র মুখে একটি বাঁকা হাসি দেখা দিল, ‘ভয় তো করবেই, আমি ভয় দেখিয়েছি।’

    ‘অ্যাঁ—সে কি?’

    অত্যন্ত পরিতৃপ্তির সহিত তিনি বলিলেন, ‘হুঁ। কাল রাত্তিরে দরজা খোলা ছিল, শোবার ঘরে ঢুকেছিলুম। গিন্নী ভারি আরামে ঘুমোচ্ছিলেন—হুঁ হুঁ—তাঁর চুল ধরে টেনেছি, পায়ে সুড়সুড়ি দিয়েছি, আলো নিভিয়ে দিয়ে অন্ধকারে খিক্ খিক্ করে হেসেছি। গিন্নীর অবস্থা যদি দেখতে—’ বলিয়া তিনি দুই হাতে পেট চাপিয়া খিক্ খিক্ করিয়া হাসিতে লাগিলেন।

    আমি বলিলাম, ‘ছি ক্ষুদিরামদা, এ আপনার উচিত হয়নি। অবলা ভদ্রমহিলা—তাঁকে ভূতের ভয় দেখানো—’

    তিনি বিদ্রোহীর মতো ঘাড় বাঁকাইয়া বলিলেন, ‘কেন ভয় দেখাব না? সারা জীবন জ্বালিয়েছে আমাকে। কিন্তু সে যাক, এখন আমার উপায় কি হবে বল।’

    পরামর্শ করিয়া উপায় স্থির হইল। আমি প্রস্তাব করিয়াছিলাম যে, তাঁহার গৃহিণীকে সব কথা বলিয়া তাহাকেও দলে লওয়া হোক, কিন্তু ক্ষুদিরামদা সতেজে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করিলেন। ছয় ইঞ্চি শরীর লইয়া কিছুতেই তিনি গৃহিণীকে দেখা দিবেন না। অগত্যা স্থির হইল, আমি তাঁহাকে লইয়া গিয়া নিজের কাছে রাখিব। আমি একলা মানুষ, আমার বাসায় থাকিলে সহজে ধরা পড়িবার ভয় নাই।

    পাঞ্জাবির পকেটে ক্ষুদিরামদা’কে পুরিয়া চাদরটা ভাল করিয়া গায়ে জড়াইয়া লইলাম। তারপর দূর হইতে বৌদির নিকট বিদায় লইলাম। তাঁহার বেশী কাছে যাইতে সাহস হইল না; তিনি যেরূপ সন্দিগ্ধ প্রকৃতির লোক, লাইব্রেরি হইতে কোনও মুল্যবান বস্তু চুরি করিয়া লইয়া পলাইতেছি মনে করিয়া খানাতল্লাসী আরম্ভ করিলেই বিপদ। যাহোক, তিনি বান্ধবীদের লইয়া ব্যস্ত ছিলেন, কোনও বিভ্রাট ঘটিল না।

    ক্ষুদিরামদা আমার বাসায় আসিয়া অধিষ্ঠিত হইলেন। অতঃপর তাঁহার কাহিনী যথাসম্ভব সংক্ষেপে শেষ করিব। ইহা যদি কাল্পনিক কাহিনী হইত তাহা হইলে বেশ একটা জোরালো উপসংহার উদ্ভাবন করিয়া পাঠককে চমৎকৃত করিবার চেষ্টা করিতাম। কিন্তু সত্য ঘটনা climax-এর ধার ধারে না, বরং anticlimax-এর দিকেই তাঁর ঝোঁক বেশী। ক্ষুদিরামদা’র কাহিনীর পরিসমাপ্তি পড়িয়া যদি কেহ নিরাশ হন আমার দায়-দোষ নাই, আমি নিছক সত্য কথা লিপিবদ্ধ করিয়া খালাস।

    আমার বাসায় আমার শয়ন ঘরে একটি ঝাঁপির মধ্যে তুলা বিছাইয়া ক্ষুদিরামদা’র বাসস্থান নির্দেশ করিলাম। নরম বিছানা পাইয়া প্রথমেই তিনি খুব খানিকটা ঘুমাইয়া লইলেন।

    তারপর তাঁহার নানাবিধ ফরমাস আরম্ভ হইল। বুরুশ দিয়া দাঁত মাজিবেন, দাড়ি কামাইবেন, রুমাল পরিয়া আর থাকিবেন না, ইত্যাদি। গেরুয়া কোট প্যান্টুলুন যদি একান্তই সম্ভব না হয়, অন্তত ধুতি পাঞ্জাবি তাঁহার চাইই। ধুতি সহজেই ন্যাকড়া ছিঁড়িয়া তৈয়ার হইল, কিন্তু পাঞ্জাবি লইয়া বিশেষ বেগ পাইতে হইল। অবেশেষে পুতুলের জামা তৈয়ার করাইতেছি এই ছল কবি এক দর্জিকে দিয়া পাঞ্জাবি তৈয়ার করাইয়া লইলাম। ধুতি পাঞ্জাবি পরিয়া ক্ষুদিরামদা ভারি খুশি হইলেন। কিন্তু তাঁহার মাপের জুতা কোনও মতেই জোগাড় করা গেল না। বুরুশ দিয়া দাঁত মাজা ও দাড়ি কামাইবার সাধও তাঁহার অপূর্ণ রহিয়া গেল।

    সর্বশেষে তিনি বায়না ধরিলেন, হরিদ্বারে গিয়া বগুলাবাবাকে পাকড়াও করিবেন। এ বায়না তাঁহার পক্ষে নেহাত অযৌক্তিক নয়। আমার ডাক্তারও কিছুদিন হইতে আমাকে হাওয়া বদল করিবার অনুজ্ঞা জানাইতেছিলেন, সুতরাং এক ঢিলে দুই পাখি মারার উদ্দেশ্যে হরিদ্বার যাওয়াই সাব্যস্ত হইল।

    ক্ষুদিরামদা’কে ঝাঁপিতে লইয়া হরিদ্বার রওনা হইলাম। পথে যেসব বিপদে আপদ ঘটিয়াছিল, ক্ষুদিরামদা ধরা পড়িতে পড়িতে কিরূপ বাঁচিয়া গিয়াছিলেন, বাহুল্য ভয়ে তাহা আর বর্ণনা করিলাম না।

    হরিদ্বারে এক ধর্মশালায় আশ্রয় লইলাম। বগুলাবাবার সন্ধান সহজেই মিলিল, তিনি শহরের বাহিরে এক নির্জন স্থানে বাস করিতেছেন। ঝাঁপি লইয়া তাঁহার কাছে উপস্থিত হইলাম।

    বাবা একাকী ছিলেন। উগ্রমূর্তি রক্তচক্ষু সন্ন্যাসী, আমাকে দেখিয়া কট্মট্ করিয়া তাকাইলেন। আমি তাড়াতাড়ি ক্ষুদিরামদা’কে ঝাঁপি হইতে বাহির করিয়া তাঁহার সম্মুখে ধরিয়া দিলাম। বাবা কিছুক্ষণ নিষ্পলক নেত্রে ক্ষুদিরামদা’কে নিরীক্ষণ করিলেন, তারপর তাঁহার জটিল দাড়ি গোঁফ উন্মথিত করিয়া ধমকে ধমকে হাসির লহর বাহির হইতে লাগিল। ক্ষুদিরামদা কাঁচুমাচু মুখ করিয়া হাসিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন।

    বাবার হাসি থামিতেই ক্ষুদিরামদা জোড়হস্তে বলিলেন, ‘বাবা, এ আমায় কী করে দিলে!’

    বাবা বলিলেন, ‘প্রমাণ চেয়েছিলি প্রমাণ পেয়েছিস। এখন দুনিয়ার লোককে দেখা।’

    ‘না বাবা, আমাকে ভাল করে দাও।’

    ‘ছোট হওয়া সহজ, বড় হওয়া অত সহজ নয়।’

    ‘তবে কি চিরকাল এমনি থেকে যাব বাবা?’

    ‘আগের মতো হতে তোর দশ বছর লাগবে—যদি বেঁচে থাকিস। একটু একটু করে বাড়বি। যা—আর আমাকে বিরক্ত করিস না।’ বলিয়া বাবা আকাশের দিকে চোখ তুলিয়া হাসিতে লাগিলেন।

    চলিয়া আসিলাম। ক্ষুদিরামদা’র মন তো খারাপ হইলই, আমারও বুক দমিয়া গেল। দশ বছর ধরিয়া ক্ষুদিরামদা’কে বহন করিয়া বেড়াইতে হইবে! দশ বছর না হোক, পাঁচ ছয় বছর তো বটেই। হিসাব করিয়া দেখিলাম, বছরে ক্ষুদিরামদা ছয় ইঞ্চি করিয়া বাড়িবেন। আগামী বছর তাঁর দৈর্ঘ্য হইবে এক ফুট, তার পরের বছর দেড় ফুট। এইভাবে কত দিন চালাইব? ক্ষুদিরামদা’কে আমি ভক্তি শ্রদ্ধা করি, কিন্তু বছরের পর বছর তাঁহাকে ঝাঁপিতে লইয়া বহিয়া বেড়াইতেছি কল্পনা করিতেই হাত-পা শিথিল হইয়া গেল। বিধাতা যে অন্তরীক্ষে থাকিয়া আমার আশু মুক্তির উপায় চিন্তা করিতেছেন তাহা তখন জানিতাম না।

    বগুলাবাবার আশ্রম হইতে শহর অনেকখানি পথ। মাঝামাঝি আসিয়া ক্লান্ত পদে পথের ধারে একটি পাথরের পাটার উপর বসিলাম। ক্ষুদিরামদা ভিতর হইতে ঝাঁপি আঁচড়াইতে লাগিলেন; স্থান নির্জন দেখিয়া তাঁহাকে খুলিয়া বাহির করিয়া দিলাম।

    দৃশ্যটি এখনও আমার চোখের উপর ভাসিতেছে। চারিদিকে উপলবন্ধুর ভূমি, ঊর্ধ্বে উজ্জ্বল নীল আকাশ। পথের ধারে চত্বরের মতো একটি শিলাপট্টের উপর আমি বসিয়া আছি, আর একটি ক্ষুদ্র মানবক দুই হাত আস্ফালন করিয়া পাটার উপর পায়চারি করিতেছে।

    ক্ষুদিরামদা ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলিতেছেন, ‘এ রকম হবে জান্লে কোন্ শা—। বগুলাবাবা আমার সঙ্গে বজ্জাতি করেছে। নইলে ওষুধ দিয়ে আমাকে ভাল করে দিতে পারত না? নিশ্চয় পারত।’

    ক্লান্ত স্বরে বলিলাম, ‘আপনি অষ্টসিদ্ধির প্রমাণ চেয়েছিলেন, এখন আর অনুযোগ করা সাজে না। বরং বাবা যা বলেছেন তাই করা উচিত, দুনিয়ার লোককে দেখানো উচিত যে ভারতের সাধনা মিথ্যে নয়। বিলেতের পণ্ডিতেরা—’

    মহা খাপ্পা হইয়া ক্ষুদিরামদা পদদাপ করিলেন, বলিলেন, ‘গোল্লায় যাক বিলেতের পণ্ডিতেরা। চিড়িয়াখানার জন্তুর মতো আমাকে সবাই দেখবে, গিন্নী মুখে আঁচল দিয়ে হাসবে—সে কিছুতেই হবে না।’

    ‘আমার কথা শুনুন—’

    ‘না না না—কখখনো না।’

    হঠাৎ মাথায় রাগ চড়িয়া গেল। বলিলাম, ‘আপনি বড় একগুঁয়ে। নিজে ইচ্ছেয় যদি রাজী না হন আমি জোর করে সকলের সামনে আপনাকে দেখাব। কি করতে পারেন আপনি?’

    সেদিন ধৈর্য হারাইয়া ফেলিয়াছিলাম বলিয়া আজ দুঃখ হয়। ক্ষুদিরামদা ক্রোধে অগ্নিশর্মা হইয়া হাত-পা ছুঁড়িতে লাগিলেন, চক্ষু ঘূর্ণিত করিতে করিতে বলিলেন, ‘কী—তোমার এতবড় আস্পর্ধা—’

    তাঁহার কথা শেষ হইতে পাইল না। সাঁই করিয়া একটা শব্দ হইল, পরমুহূর্তেই দেখিলাম একটা চিল ক্ষুদিরামদা’কে ছোঁ মারিয়া লইয়া উড়িয়া গেল। চিলের নখের মধ্যে আবদ্ধ হইয়া ক্ষুদিরামদা চিলের মতোই তীক্ষ্ণস্বরে চিৎকার করিতে লাগিলেন। আমি ক্ষণেক হতভম্ব থাকিয়া চিৎকার করিতে করিতে চিলের পিছনে ছুটিলাম। কিন্তু কোনও ফল হইল না, চিল অবলীলাক্রমে ক্ষুদিরামদা’কে বহন করিয়া দূর আকাশে বিলীন হইয়া গেল।

    মৃত্যু কখন কোন দিক দিয়া আসিবে বলা যায় না। একচক্ষু হরিণ অপ্রত্যাশিত দিক হইতে তীর খাইয়াছিল। ক্ষুদিরামদা’র জীবন যে অকস্মাৎ চিলের পেটে গিয়া পরিসমাপ্তি লাভ করিবে তাহা কে কল্পনা করিতে পারিত?

    অত্যন্ত ভারাক্রান্ত চিত্তে হরিদ্বার হইতে ফিরিয়া আসিয়াছি। সাধুরা সত্যই বলিয়াছেন, সিদ্ধাই ভাল নয়। ক্ষুদিরামদা’র পক্ষে তাহা কল্যাণকর হয় নাই। তবু দুঃখ হয়, আমি যাহা দেখিয়াছি তাহা আর কাহাকেও দেখাইতে পারিলাম না।

    ক্ষুদি-গিন্নীকে তাঁহার স্বামীর শোচনীয় পরিণামের কথা বলি নাই। তিনি মনে মনে এখনও আশঙ্কা করিতেছেন, হঠাৎ কোনদিন ক্ষুদিরামদা ফিরিয়া আসিবেন।

    মেয়েমানুষের মনে একটু ভয় থাকা ভাল।

    ৬ ভাদ্র ১৩৫৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172 173 174 175 176 177 178 179 180 181 182 183 184 185 186 187 188 189 190
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলৌকিক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }