Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প2026 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুই দিক

    দুই দিক্

    তিন বন্ধুতে রাত্রির আহার শেষ করিয়া বৈঠকখানায় ফরাসের উপর গড়াইতেছিলেন। মস্ত ধুনুচির মতো একটা কলিকায় সুগন্ধি খাম্বিরা তামাক বাতাসকে সুরভিত করিয়া তুলিতেছিল। যদিও তিন বন্ধুর মধ্যে দুইজন কায়স্থ এবং একজন ব্রাহ্মণ, তবু একই গড়গড়ায় সকলের ধূমপান চলিতেছিল।

    তিনজনেরই বয়স হইয়াছে—চল্লিশের কাছাকাছি। সকলেই কলিকাতার বাসিন্দা। বিনোদ একজন বড় ডাক্তার—গত দশ বৎসরে বেশ পসার জমাইয়া তুলিয়াছেন। অতুল ও শরৎ উকিল; অতুল আলিপুরে এবং শরৎ হাইকোর্টে প্র্যাক্‌টিস করেন। ইহারাও স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে বেশ নাম করিয়াছেন। যে যাঁহার কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকেন, তাই কাছাকাছি থাকিয়াও সচরাচর দেখাসাক্ষাৎ ঘটিয়া উঠে না। আজ স্ত্রীর কি একটা ব্রত উদ্‌যাপন উপলক্ষে শরৎ দুই বন্ধুকে নিমন্ত্রণ করিয়াছেন। দিনের বেলা আসিবার সুবিধা হয় নাই বলিয়া দুইজনেই সন্ধ্যার পর অবসরমত আসিয়া জুটিয়াছেন।

    নানারকম কথাবার্তার ভিতর দিয়া নিজ নিজ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা অজ্ঞাতসারে উঠিয়া পড়িয়াছিল। অতুল তাকিয়ার উপর কনুইটা ভাল করিয়া স্থাপন করিয়া মুদ্রিত-নেত্রে গড়গড়ার নলে লম্বা একটা টান দিয়া বলিলেন, “যতই এই পেশার ভেতর ঢুকছি, ততই যেন মনে হচ্ছে, দয়া মায়া ধর্ম—এ সব পৃথিবী থেকে লোপ পেয়ে গেছে। শুধু কাড়াকাড়ি ছেঁড়াছেঁড়ি। বেশী দিন এ পথে থাকলে বোধ হয় অন্যায়-ন্যায়ের প্রভেদটাও মন থেকে মুছে যায়। খালি কি করে মকদ্দমা জিতব, সেই চিন্তাই সব চেয়ে বড় হয়ে ওঠে।”

    শরৎ ভাবিতে ভাবিতে বলিলেন, “তা ঠিক, আদালতে মনুষ্য-প্রকৃতির মন্দ দিকটাই বেশী চোখে পড়ে। ভাল যে থাকতে পারে, এ বিশ্বাসটা ভালর অসাক্ষাতে কমজোর হয়ে আসে। মনে হয় ঠগ বাছতে বুঝি গাঁ উজাড় হয়ে যাবে।”

    অতুল বলিলেন, “শুধু মনে হওয়া নয়, সত্যিই তাই। তোমাদের কি ধারণা জানি না, আমার তো বিশ্বাস, কৃতজ্ঞতা বলে যে একটা সদ্‌গুণের কথা কাব্যে-উপন্যাসে পড়া যায়, সেটা পৃথিবী থেকে বেবাক্‌ লুপ্ত হয়ে গেছে।”

    বিনোদ হাসিতে হাসিতে বলিলেন, “তোমরা সব বেজায় সিনিক হয়ে পড়েছ, ওটা ঠিক নয়। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো ভাল নয়, তাতে নিজেরই বেশী লোকসান।”

    অতুল বলিলেন, “লাভ-লোকসান বুঝি না ভাই—যা দেখেছি, তাই বল্লুম। কৃতজ্ঞতা পাই না বলে আজকাল আর রাগও হয় না। ম্যামথ হাতির জাত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে যেমন শোক করা বৃথা, এও তাই। সত্যটাকে সহজভাবে স্বীকার করে নেওয়া মাত্র—”

    শরৎ হঠাৎ বলিলেন, “একটা গল্প মনে পড়ল। এমন তো কতবারই হয়েছে, যার উপকার করেছি, সে জবাবে বেশ একটু খোঁচা দিয়ে গেছে। কিন্তু এই ঘটনাটা কি জানি কেন প্রাণের মধ্যে বিঁধে আছে।”

    কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া বলিলেন, “মাঝে আমার চরিত্র খারাপ হয়েছিল, জানো বোধ হয়?”

    অতুল বলিলেন, “হুঁ, শুনেছিলাম বটে। কে যেন বল্লে—আজকাল শরৎবাবু যে খুব উড়ছেন। আমি বল্লুম, আজকাল তো ওড়ারই যুগ, শরৎ অন্যায় কি করেছে? তোমার পয়সা থাকে, তুমি ওড়ো।”

    বিনোদ হাসিয়া বলিলেন, “আমার কানেও এসেছিল কথাটা। নাম করব না, কিন্তু এমন পরিপাটী বর্ণনাটি দিলে যে, বিশ্বাস না করা কঠিন। নেহাত আমি বলেই—”

    শরৎ বলিলেন, “তোমরা দু’জন আর আমার স্ত্রী ছাড়া বোধ হয় এমন আর কেউ নেই যে কথাটা ধ্রুবজ্ঞান করেনি; এমন কি, অনেক পেশাদার ইয়ারও স্ফূর্তির লোভে আমার দলে ভিড়ে যাবার মতলবে ছিল। ভাবলে, একটা শাঁসালো নতুন কাপ্তেন পাক্‌ড়েছি।”

    অতুল জিজ্ঞাসা করিলেন, “হয়েছিল কি?”

    শরৎ একটু হাসিয়া বলিলেন, “একজনের উপকার করেছিলুম। ব্যাপারটা খুবই তুচ্ছ—শুনে হয়তো হাসবে।

    “অতুল, তুমি নিতাইকে চেন। আলিপুরে বারে প্র্যাক্‌টিস করে—জুনিয়ার উকিল। নেহাত জুনিয়ারও বলা চলে না, বছর দশ-বারো ধরে প্র্যাক্‌টিস করছে। নিতাই আমার দূরসম্পর্কে আত্মীয় হয়।

    “নিতাইদের অবস্থা আগে ভালই ছিল—তার বাপ মোটা মাইনের চাকরি করতেন। কিন্তু তিনি মারা যাবার পর থেকেই ওদের দৈন্যের দশা ধরল। সংসারে উপার্জনক্ষম লোকের মধ্যে ঐ এক নিতাই—সে সবে ওকালতিতে ঢুকেছে। কাজেই আর্থিক অবস্থাটা যে কি রকম দাঁড়াল, তা না বল্লেও বুঝতে পারছ।

    “আত্মীয়তা থাকলেও ওদের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠতা বেশী ছিল না, ক্কচিৎ কখনো বিয়ে-পৈতেয় দেখাশুনো হত, এই পর্যন্ত। বছর তিনেক আগে আমার বোন শান্তার ছেলের অন্নপ্রাশনে শালকেয় গিয়েছিলুম, সেখানে নিতাইয়ের সঙ্গে দেখা হল। অনেক দিন দেখিনি, হঠাৎ দেখে যেন চমকে উঠলুম। নিতাইয়ের মুখে দারিদ্র্যের একটা ছাপ পড়ে গেছে। ছোকরা দেখতে বেশ সুপুরুষ, রং ফরসা—কিন্তু দারুণ অর্থের অনটন যেন তার মুখময় কাল আঁচড় টেনে দিয়েছে। চোখে সর্বদাই একটা ত্রস্ত সঙ্কোচের ভাব—লজ্জাকর কোনও কথা যেন লোকের কাছ থেকে লুকোতে চায়।

    “আমাকে এসে প্রণাম করলে। জিজ্ঞেস করলুম, ‘কি রে, কেমন আছিস?’ বল্লে, ‘ভাল আছি।’ আমি বল্লুম, ‘ওকালতি চলছে কেমন—’ সে চুপ করে রইল।

    “মনে বড় অনুশোচনা হল। সম্পর্ক যতই দূর হোক, নিতাই আমার আত্মীয় তো বটে। চেষ্টা করলে তার কিছু উপকার কি করতে পারতুম না? এই ছেলেটা সংসার-যুদ্ধে অভিমন্যুর মতো একলা লড়াই করে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে, আর আমি নিজের কাজে এতই মত্ত যে, তার দিকে একবার ফিরে তাকাবার ফুরসৎ নেই?

    “মনে মনে ঠিক করলুম, নিতাইয়ের জন্যে একটা কিছু করতে হবে। কিন্তু তার আগে কোথায় তার সব চেয়ে বেশী ব্যথা, সেটা জানা দরকার। ফস্‌ করে উপকার করতে গেলেই তো আর হবে না। মান-সম্ভ্রম বজায় রেখে যাতে তার সত্যিকারের সাহায্য হয়, এমন কাজ করা চাই।

    “সেখানে আর কেউ ছিল না; কৌশলে নিতাইকে জেরা করতে আরম্ভ করলুম। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দু’চারটে কথা জিজ্ঞেস করতে না করতে নিতাই তার অভাব-অনটনের সব কথা প্রকাশ করে ফেললে। খুব জোর করে চেপে রাখতে চেয়েছিল বলেই বোধ হয় হঠাৎ ফেটে বেরিয়ে পড়ল।

    “শেযে বল্লে, আর কিছু নয় শরৎদা—মক্কেলও মাঝে মাঝে আসে, কাজও যে নেহাৎ মন্দ করি, তা নয়। কিন্তু একটা জিনিসের অভাবে সব নষ্ট হয়ে যায়। বই নেই! তুমিই বল, নিজের বই না থাক্‌লে কি ওকালতি করা চলে? প্রত্যেক রুলিং-এর জন্যে যদি বার-লাইব্রেরিতে দৌড়ুতে হয়, তাহলে ওকালতি করা বিড়ম্বনা নয় কি? যে মক্কেল একবার আসে, আমার অবস্থা দেখে আর দ্বিতীয়বার আসে না। বেশি আর কি বলব তোমাকে, একখানা ভাল সিভিল প্রসিডিওর যে কিনব, সে ক্ষমতা নেই—এক দমে ৩০/৩৫ টাকা কোত্থেকে খরচ করব? পেটে খেতে হবে তো!’

    “আমি বল্লুম, ‘বই পেলেই তুই চালিয়ে নিতে পারবি?’

    “উৎসুক হয়ে সে বল্লে, ‘মনে তো হয় পারব, তবে বলতে পারি না, আমার যা পাথর-চাপা কপাল।’

    “আমি বল্লুম, ‘আচ্ছা, কি কি বই তোর চাই, একটা লিস্ট করে দিস, আমি পাঠিয়ে দেব।’

    “তার চোখে জল এসে পড়ল, কাঁদো কাঁদো হয়ে বল্লে, ‘শরৎদা, এ উপকার যদি তুমি কর—কখনো ভুলব না।’

    “সেদিন ঐ পর্যন্ত হয়ে রইল।

    “পরদিন নিতাইয়ের কাছ থেকে মস্ত এক বই-এর তালিকা এসে হাজির। Eastern Law House-এর দোকানে লিস্টখানা পাঠিয়ে দিলুম, আর উপদেশ দিয়ে দিলুম, বইগুলো নিতাইয়ের নামে পাঠিয়ে দিয়ে আমার নামে বিল করতে। প্রায় আটশ’ টাকার বিল হল।

    “তারপর কাজের ঠেলায় নিতাইয়ের কথা একদম ভুলে গেছি। হঠাৎ দিন পনেরো পরে একদিন মনে পড়ল, কৈ, নিতাইয়ের কাছ থেকে বইগুলোর প্রাপ্তিসংবাদ তো পাইনি। Eastern Law House-কে ফোন করলুম—তাঁরা উত্তরে জানালেন যে, বই অনেক দিন আগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে—নিতাইবাবু তার রসিদ পর্যন্ত দিয়েছেন। আধঘণ্টা পরেই দোকানের চাকর এসে নিতাইয়ের রসিদ দেখিয়ে গেল।

    “ভাবলুম কি হল! নিতাই নিশ্চয়ই চিঠি দিয়েছে—তবে কি চিঠি ডাকে আসতে মারা গেল? যা হোক, নিতাই যখন বই পেয়েছে, তখন ও নিয়ে আর বেশী মাথা ঘামালুম না!

    “এর মাস দুই পর থেকে নানা রকম কানাঘুষা বাঁকা-ইসারা আমার কানে আসতে লাগল। প্রথমটা গ্রাহ্য করিনি, কিন্তু ক্রমে আন্দোলনের মাত্রাটা এতই বেড়ে উঠল যে, আমার স্ত্রী একদিন হাসতে হাসতে আমায় বল্লেন—‘হ্যাঁগো, এ সব কি শুনছি—তুমি নাকি বুড়ো বয়সে বাগানবাড়ি যেতে আরম্ভ করেছ?’

    “—‘তুমি কোত্থেকে শুনলে?’

    “—‘আজ সন্ধ্যেবেলা হীরালালবাবুর স্ত্রী বেড়াতে এসেছিলেন; কত সহানুভূতি জানিয়ে গেলেন।’

    “স্থির করলুম, আর উপেক্ষা করা নয়, কোথা থেকে এই কুৎসার উৎপত্তি তার সন্ধান নিতে হবে। মনে মনে ভারি একটা বিতৃষ্ণা অনুভব করতে লাগলুম। আমি তো কারুর সাতেও নেই পাঁচেও নেই, জ্ঞানত কারুর ইষ্ট বৈ অনিষ্ট করিনি, তবে আমার নামে এই সব মিথ্যে কলঙ্ক রটিয়ে লোকের লাভ কি?

    “পরদিন বিকেলবেলা ঘটনাচক্রে নিতাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। সেই শালকেয় শান্তার বাড়ির পর আর তাকে দেখিনি। ফুটপাথ দিয়ে যাচ্ছিল, আমাকে সামনে দেখে যেন ভূত দেখার মতো চমকে উঠল। তারপর আমি কোন কথা বলবার আগেই হঠাৎ পিছু ফিরে যেন আমার সামনে থেকে ছুটে পালিয়ে গেল।

    “কিছুই বুঝতে বাকি রইল না। বুকের ভেতরটা যেন বিষিয়ে উঠল। বাড়ি ফিরে এলুম।

    “কি মজা দেখ! যতদিন নিতাইয়ের কোন উপকার করিনি, ততদিন সে আমার সম্বন্ধে ভাল-মন্দ কোন কথাই বলেনি, আমার সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন নির্লিপ্ত ছিল, কিন্তু যেই আমি তার এতটুকু উপকার করেছি, অমনি সে আমার নামে কলঙ্ক রটাতে শুরু করেছে।

    “সে যাক। নিতাই যে এ কাজ করেছে, তাতে আর সন্দেহ ছিল না, কিন্তু তবু সাক্ষাৎ প্রমাণ না নিয়ে শুধু তার ডিমিনারের ওপর নির্ভর করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা চলে না। আমি রীতিমত অনুসন্ধান আরম্ভ করলুম।

    “জানতে পারলুম, এই রটনা সম্বন্ধে একজন ছোকরা-উকিলের উৎসাহ সব চেয়ে বেশী—তার নাম কেশব মিত্তির। কেশবকে একদিন বার-লাইব্রেরিতে ধরলুম। আরো অনেকেই সেখানে ছিল, আমি বল্লুম, ‘কি হে, কাজটা কি ভাল হচ্ছে? ওকালতি করতে ঢুকেছ, পেনাল কোডের শেষের দিকে পাতা ক’টা উল্টে দেখনি?’

    “কেশব ফ্যাকাসে মুখ করে বল্লে, ‘কি….কি বলছেন?’

    আমি বল্লুম, ‘বলছি আমার নামে যে কুৎসা করে বেড়াচ্ছ, এর পরিণাম কি হতে পারে, তা কি ভেবে দেখনি?’

    “কেশব রীতিমত ভয় পেয়ে বল্লে, ‘তা আমি কি করব? আপনার নিজের আত্মীয় যদি বলে, আমার কি দোষ? আমি তো নিজের চোখে কিছু দেখিনি।’

    “আমি তাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলুম, ‘নিতাই বলেছে?’

    “সে বল্লে, ‘হ্যাঁ।’

    “—‘শুধু শুধু বল্লে, না কোনও উপলক্ষ হয়েছিল?’

    “কেশব বল্লে, ‘নিতাই আমার বন্ধু। সেদিন তার বাড়ি গিয়ে দেখলুম, আপনি কতকগুলো বই তাকে উপহার দিয়েছেন। আমার সামনেই বইগুলো দোকান থেকে এলো। নিতাই হেসে বল্লে, ‘বইগুলো ঘুষ।’ সে না কি আপনাকে কোথায় যেতে দেখেছে, তাই আপনি তার মুখ বন্ধ করবার জন্যে—’

    “এই তো ব্যপার! কেশবকে আর কিছু বলতে পারলুম না। আমি শুধু নিতাইয়ের কথা ভাবতে ভাবতে ফিরে এলুম।”

    অনেকক্ষণ তিনজনেই চুপ করিয়া রহিলেন।

    শেষে বিনোদ একটা নিশ্বাস ছাড়িয়া বলিলেন, “হুঁ! দুনিয়ায় কত রকম বিচিত্র জীবই আছে! আমি একটা ঘটনা বলি শোন। অনেক দিনের কথা, তখন সবে ডাক্তারি আরম্ভ করেছি।

    “মেছোবাজার আর বাদুড়বাগানের মোড়ে একটা ছোট ডিস্‌পেন্সারী খুলেছিলুম, নীচের তলায় ডিস্‌পেন্সারী আর উপরে দুটো ঘর নিয়ে আমি থাকি। তখনও বিয়ে করিনি। সমস্ত দুনিয়াটা পায়ের কাছে পড়ে আছে। আমি যেন রূপকথার এক রাজপুত্র, কোথাকার ঘুমনগরীর রাজপ্রাসাদে ঢুকে কোন্ রাজকন্যাকে বুকে তুলে নেব কে জানে? অজানা ভবিষ্যের কুয়াশায় ঢাকা একটা মনোহর রহস্য যেন কৌতুকবশেই ধরা দিচ্ছে না! ছলনাময়ী তরুণী প্রিয়ার মতো ধরতে গেলেই হেসে পালিয়ে যাচ্ছে। সে এক দিন ছিল, কি বল অতুল—অ্যাঁ?

    “সে যা হোক। দিনগুলো দিব্যি কেটে যাচ্ছে। ডিস্‌পেন্সারী ও মন্দ চলছে না, এমন সময় একদিন মাড়োয়ারীদের সঙ্গে মুসলমানদের দাঙ্গা বেধে গেল। বলা নেই কওয়া নেই, হিন্দু-মুসলমান একদিন সকালবেলা উঠে পরস্পরের গলা কাটতে শুরু করে দিল।

    “সে বীভৎসতার সবিস্তার বর্ণনা করবার কোনও দরকার দেখি না, তোমরাও তো সে সময় কলকাতায় ছিলে, অল্প-বিস্তর দেখেছ। আমার ডিস্‌পেন্সারীর সামনে গোটা তিনেক খুন হয়ে গেল, চোখে চেয়ে দেখলুম, কিন্তু কিছু করতে পারলুম না। মুসলমানের পাড়া—আমি হিন্দু; এ রকম অবস্থায় নিজের হিন্দুত্বকে যথাসাধ্য অস্পষ্ট করে ফেলাই একমাত্র নিরাপদ পন্থা।

    “আমি তবু ডাক্তারখানা খুলে রেখে হিন্দু-মুসলমান-নির্বিশেষে ওষুদ-বিষুদ দিয়ে কিছু সাহস দেখিয়েছিলুম। নইলে নিজের কাছে নিজে মুখ দেখাতে পারতুম না।

    “ঐ পাড়ার একটা গুণ্ডা ছিল, তার নাম নূর মিঞা। পুলিস থেকে আরম্ভ করে পাড়ার কুকুর-বেড়াল পর্যন্ত তাকে জানত, এত বড় দুর্ধর্ষ গুণ্ডা বোধ হয় কলকাতা শহরে আর দুটো ছিল না। তার গোটাতিনেক উপপত্নী ছিল—সব কটাই গেরস্তর ঘর থেকে কেড়ে আনা। প্রকাশ্যভাবে কোকেনের ব্যবসা করত, কিন্তু কারো সাহস ছিল না যে নূর মিঞাকে ধরিয়ে দেয়।

    “দাঙ্গার সময় নূর মিঞা আমার ডাক্তারখানার কাছাকাছি একটা গলির মধ্যে লুকিয়ে বসে থাকত। রাস্তা নির্জন দেখে কোন হিন্দু একলা সে পথ দিয়ে গেলেই নূর মিঞা দেড় ফুট লম্বা ছুরি নিয়ে নিঃশব্দে এসে তার পিঠে কিংবা পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিত। ছুরি মেরেই নুর মিঞা অদৃশ্য। তারপর কিছুক্ষণ চেঁচামেচি, হাঁকাহাঁকি, পুলিসের হুইসল, অ্যাম্বুলেন্স গাড়ির শব্দ। আবার আহত ব্যক্তি স্থানান্তরিত হবার পর—সব চুপচাপ।

    “এইরকম গোটাকয়েক অতর্কিত খুন হবার পর ওপথে লোক-চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। নূর মিঞা তার গলির মধ্যে ওৎ পেতে বসে আছে, কিন্তু শিকার আসে না। যখন আসে, তখন লাঠি-তলোয়ার নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে শিকারী সেজে আসে। কাজেই সে-সময় নূর মিঞা ও তার স্বধর্মীরা যে-যার কোটরে প্রবেশ করে। তারা চলে গেলে আবার গর্ত থেকে বার হয়।

    “এমনিভাবে দুটো দিন গেল। দাঙ্গা সমভাবে চলছে, দূর থেকে তার হৈ হৈ সোরগোল শুনতে পাচ্ছি, কিন্তু আমাদের পাড়া চুপচাপ। নূর মিঞার হাতে একেবারে কাজ নেই। আমিও সেদিন ভর সন্ধ্যাবেলা ঘরের জানলার কাছে চুপটি করে বসে আছি, এমন সময় বাইরে ফুটপাথের ওপর খট্‌ খট্‌ শব্দ শুনে গলা বাড়িয়ে দেখি, ভারী নাগরা পায়ে দিয়ে এক পশ্চিমী খোট্টা হন্‌ হন্‌ করে আসছে। তার গায়ে দোলাই-এর মতো কি জড়ানো, ন্যাড়া মাথার উপর প্রকাণ্ড টিকি—যেন পতাকার মতো পতপত করে উড়ছে। দেখেই তো আমার প্রাণ উড়ে গেল। এই রে! এল বুঝি নূর মিঞা তার দেড় ফুট লম্বা ছুরি নিয়ে!

    “হলও তাই। লোকটা আমার বাড়ির সামনে পর্যন্ত আসতে না আসতে নুর মিঞা পিছন থেকে নেকড়ে বাঘের মতো এসে তার ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ল। তারপর মুহূর্তের মধ্যে কি যেন একটা কাণ্ড হয়ে গেল। টিকিধারী খোট্টা হঠাৎ ফিরে দাঁড়িয়ে দোলাই-এর ভেতর থেকে দুটো হাত বার করলে-দু’হাতে দুটো ছুরি! নূর মিঞার হাতের ছুরি হাতেই রইল—খোট্টা বিদ্যুদ্বেগে একখানা ছোরা তার বুকে আর একখানা তার পেটে বসিয়ে দিলে। তারপর যেমন এসেছিল, সেই ভাবে হাত ঢেকে বেরিয়ে গেল।

    “নূর মিঞা ফুটপাথের উপর পড়ে গোঙাতে লাগল। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে নিজেকে টান্‌তে টান্‌তে আমার দরজা পর্যন্ত এসে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল। রক্তে কাদায় দরজার চৌকাঠ মাখামাখি হয়ে গেল।

    “আমি আর আমার কম্পাউন্ডার ধরাধরি করে তাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে এলুম। মনে হচ্ছিল, ঐখানে পড়ে মরে থাকুক ব্যাটা—যেমন কর্ম, তেমনি ফল! ঐ কাদার মধ্যে মুখ গুঁজে পড়ে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করুক!—কিন্তু ডাক্তার হয়ে সেটা আর কিছুতেই পারলুম না।

    “ক্ষত পরীক্ষা করে দেখলুম, বুকের জখম তত ভয়ানক নয়, কিন্তু পেটের আঘাত সাংঘাতিক। যা হোক, তখনকার মতো ফার্স্ট্‌ এড্‌ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে ফোন করতে যাচ্ছি, নূর মিঞা চোখ চেয়ে ভাঙ্গা গলায় বল্লে, ‘ডাগদর সাহেব!’

    “তার কাছে যেতেই বল্লে, ‘জান্‌ বচা দিজিয়ে, আপকো লাখ রূপা দুঙ্গা।’

    “বিরক্ত হয়ে বল্লুম, ‘সেই চেষ্টাই তো করছি রে বাপু! মেডিকেল কলেজে যাও—দেখ যদি বাঁচাতে পারে।’

    “নূর মিঞা মিনতি করে বল্লে, ‘মিটিয়া কলেজ মৎ ভেজিয়ে বাবু, হিন্দু ডাগদর লোগ জহর পিলাকে মার ডালেগা।’

    “আমি বিদ্রুপ করে বল্লুম, ‘তা তো বটেই। মিটিয়া কলেজের ডাক্তাররা সব তোমার মতো কি না। কিন্তু আমিই কি তোমাকে জহর খাইয়ে মেরে ফেলে দিতে পারি না? আমিও তো হিন্দু!’

    “—‘আপ্‌ অ্যায়সা কাম নহি কিজিয়ে গা’—বলে নূর মিঞা অজ্ঞান হয়ে পড়ল। এত বেশী রক্তক্ষয় হয়েছিল যে, আর কথা কইবার সামর্থ্য রইল না।

    “আমিও ভেবে দেখলুম, নাড়াচাড়া করবার চেষ্টা করলে হয়তো রাস্তাতেই মরে যাবে। নিরুপায় হয়ে, হাসপাতালে খবর পাঠিয়ে দিয়ে, তাকে নিজের বাড়িতেই রাখলুম।

    “মানুষের মনের মতো এমন আশ্চর্য জিনিস বোধ হয় দুনিয়ায় আর নেই। যে লোকটার ওপর আমার ঘৃণা আর বিদ্বেষের অন্ত ছিল না, যাকে আমি নিজের চোখে তিন-চারটে খুন করতে দেখেছি, তাকেই যে কেন রাত্রি-দিন নিজের কাছে রেখে চিকিৎসা করে সারিয়ে তুললুম, তা আজও আমি জানি না। আমার মন যখন তাকে বিষ খাওয়াতে চেয়েছে, তখন আমি তাকে বেদানার রস খাইয়েছি। পূর্ণ বিকারের ঝোঁকে যখন সে ‘মারো মারো হিন্দু মারো!’ বলে চেঁচিয়েছে, আমি তখন তার মাথায় আইসব্যাগ ধরেছি। মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে তোমরা ঘাঁটাঘাঁটি কর, হয়তো এর একটা সদুত্তর দিতে পারবে; স্থূল শরীরটা নিয়ে আমার কারবার, তাই আমার কাছে এ একটা অদ্ভুত প্রহেলিকাই রয়ে গেছে।

    “যেদিন তার প্রথম জ্বর ছাড়ল, সেদিন সে বিছানায় উঠে বসে প্রথম কথা কইলে, ‘আমাকে একটু কোকেন দিন।’

    “তারপর থেকে প্রত্যহ কোকেন নিয়ে ঝুলোঝুলি আরম্ভ হল, আমিও দেব না, সেও ছাড়বে না।

    “একদিন সে বল্লে, ‘ডাগদর সাহেব, দশ হাজার রূপা দুঙ্গা, এক পুরিয়া কোকেন দিজিয়ে।”

    “আমি বল্লুম, ‘তা তো দেব, কিন্তু টাকাটা তোমার দেখি আগে!’

    “সে বল্লে, ‘ইমান্‌ কস্‌ম, ভেজ্‌ দুঙ্গা।’

    “আমি বল্লুম, ‘ঢের হয়েছে আর রসিকতা করতে হবে না। জেনে রাখ যে, এক রতি কোকেন একলাখ টাকার বদলেও তোমাকে দেব না।’

    “আর একদিন এমনি কোকেনের জন্য খাই-খাই করছে, আমি তাকে বল্লুম, ‘আচ্ছা নূর মিঞা, আমি তো স্বচক্ষে তোমায় তিনটে খুন করতে দেখেছি, এখন যদি তোমাকে পুলিসে ধরিয়ে দিই?’

    “সে মুখ সিঁটকে বল্লে, ‘কুছ নেহি হোগা। আমার সাবুদ তৈরি আছে। মাঝ থেকে আপনি ফেঁসে যাবেন।’

    “আমি বল্লুম, ‘কি রকম?’

    “সে বল্লে, ‘দাঙ্গার সময় আমি হাজতে ছিলুম। বিশ্বাস না হয় থানায় গিয়ে দেখে আসতে পারেন, সেখানে আমার টিপ সই পর্যন্ত মজুত আছে।’

    “লোকটার শয়তানী দেখে নতুন করে অবাক হয়ে গেলুম। নিজের অকাট্য অ্যালিবাই তৈরি করে—আটঘাট বেঁধে দাঙ্গা করতে নেমেছিল।

    “তারপর একদিন, তখনো তার গায়ে ভাল জোর হয়নি, চেহারা প্রেতের মতো, আমি তাকে বল্লুম, ‘তোমার ঘা সেরে গেছে, ইচ্ছে কর তো তুমি এখন যেতে পার।’

    “সে কোন কথা না বলে বিছানা থেকে উঠে টলতে টলতে বেরিয়ে গেল। যাবার সময় নিচু হয়ে আমাকে একটা সেলাম করে গেল।

    “প্রায় তিন মাস আর নূর মিঞার দেখা নেই। একদিন আমার কম্পাউন্ডারকে বল্লুম, ‘ওহে, সে লোকটা তো আর এলো না।’

    “কম্পাউন্ডারটি তোমাদের মতো একজন সিনিক। সে বল্লে, ‘আবার কি করতে আসবে? আপনি কি ভেবেছেন, সে লাখ টাকা নিয়ে আপনাকে দিতে আসবে? মনেও করবেন না। বরং সুবিধে পেলে আপনার গলায় ছুরি বসিয়ে দিতে পারে বটে।’

    “কথাটা নেহাত অসঙ্গত মনে হল না। নরহন্তা গুণ্ডাটার প্রাণ বাঁচানর জন্য নতুন করে অনুতাপ হতে লাগল।

    “সেই দিন দুপুরবেলা একলা বসে আছি, হঠাৎ নূর মিঞা এসে হাজির। রুগ্‌ণভাব আর নেই, প্রকাণ্ড যণ্ডা, লম্বা এক সেলাম করে বল্লে, ‘হুজুর!’

    “আমি বল্লুম, ‘কি নূর মিঞা, কি মনে করে? তোমার লাখ রূপেয়া নিয়ে এলে নাকি?”

    “সে লুঙ্গির ভেতরে থেকে পুরুষ্ট একটি নোটের তাড়া বার করে বল্লে, ‘মালিক, লাখ রূপা দেবার আমার ওকাত নেই, কিন্তু পাঁচ হাজার টাকা এনেছি—এই নিয়ে আমাকে ঋণমুক্ত করুন।’

    “আমি অবাক হয়ে বল্লুম, ‘পাঁচ হাজার টাকা কি হবে?’

    “সে বল্লে, ‘হুজুর, এ টাকা আমার নজরানা। ইমানসে বলছি, এর বেশী দেবার এখন আমার ক্ষমতা নেই।’

    “আমি হেসে বল্লুম, ‘নূর মিঞা, তুমি কি ভেবেছ, তোমার টাকার লোভে আমি তোমার প্রাণ বাঁচিয়েছিলুম?’

    “নূর মিঞা চুপ করে রইল।

    “আমি আবার বল্লুম, ‘তোমার কোকেন-বেচা মানুষের রক্ত-শোষা টাকা তুমি নিয়ে যাও, ও আমার দরকার নেই। তোমার মতো লোকের প্রাণ বাঁচিয়ে যে পাপ করেছি, ভগবান আমাকে তার শাস্তি দেবেন।’

    “টাকা গছাবার জন্য সে ধস্তাধস্তি করতে লাগল। আমি নিলুম না। সে অনেক কাকুতি-মিনতি করলে, কিন্তু আমি অটল হয়ে রইলুম। তখন সে নোটের তাড়াটা তুলে নিয়ে এক রকম রাগ করেই উঠে চলে গেল।

    “সাতদিন পরে নূর মিঞা আবার ফিরে এসে বল্লে, ‘মালিক, আপনি হিন্দু হয়ে জেনে শুনে আমার মতো দুশমনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, একথা আমি কিছুতেই ভুলতে পারছি না। বেশ, টাকা না হয় নেবেন না, আমাকে আপনার গোলাম করে রাখুন। যা হুকুম করবেন, তাই করব।’

    “আমার মাথার মধ্যে একটা আইডিয়া খেলে গেল। বল্লুম, ‘যা হুকুম করব, তাই করবে? ঠিক বল্‌ছ?’

    “সে বল্লে, ‘জান কবুল, ইমান কবুল—তাই করব।’

    “আমি আবার বল্লুম, নূর মিঞা, ঠিক করে ভেবে বল, ঝোঁকের মাথায় দিব্যি গেলে বস না।’

    “সে থমকে গিয়ে বল্লে, ‘ধর্ম ছাড়তে পারব না। আর যা বলবেন তাই করব। খোদা কসম।’

    “আমি বল্লুম, ‘না, ধর্ম তোমাকে ছাড়তে বলব না। কিন্তু এ তার চেয়েও শক্ত কাজ নূর মিঞা।’

    “সে বল্লে, ‘তা হোক, হুকুম করুন।’

    “আমি বল্লুম, ‘বেশ, আমি হুকুম করছি, তোমাকে কোকেন ছাড়তে হবে, কোকেনের ব্যবসা ছাড়তে হবে, আর গুণ্ডামি ছাড়তে হবে। কেমন পারবে?’

    “নূর মিঞা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তারপর আস্তে আস্তে চেয়ারে বসে পড়ল। অনেকক্ষণ মাথায় হাত দিয়ে কি যে ভাবলে, সেই জানে। শেষে প্রকাণ্ড একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বল্লে, ‘বাবুজী, আমার দুনিয়া আপনি কেড়ে নিলেন। বহুত আচ্ছা, তাই হবে। কোকেন ছাড়বো, গুণ্ডামিও ছাড়বো। কিন্তু এতে আপনার কি নফা হল, মালিক?’

    “আমি তার কাঁধে হাত রেখে বলুম, ‘যদি সত্যই ছাড়তে পার নূর মিঞা, তাহলে আমার কি লাভ হল, তা আর একদিন তোমাকে বল্‌ব।’

    “গুণ্ডামি নূর মিঞা সহজে ছেড়ে দিলে। কিন্তু কোকেন ছাড়া নিয়ে যে কি কাণ্ড করতে লাগল তা বর্ণনা করা অসম্ভব। প্রথম প্রথম সন্ধ্যাবেলা এসে আমার পায়ে মাথা কুট্‌তে আরম্ভ করলে। কোকেনের ক্ষুধা যে কি পৈশাচিক ক্ষুধা, তা যে কোকেন খায়নি তাকে বোঝান যায় না। প্রত্যহ আমার পায়ে মুখ ঘষতে ঘষতে বল্‌ত, ‘মালিক, একবার হুকুম দাও, একটিবার। ছুঁচের আগায় যতটুকু ওঠে, ততটুকু খাব, বেশী নয়।’

    “এক এক সময় আমারই মায়া হত, জোর করে নিজেকে শক্ত করে রাখতুম।

    “কিন্তু আশ্চর্য মনের বল ঐ গুণ্ডার। আর কেউ হলে কোন্‌কালে প্রতিজ্ঞা উড়িয়ে দিয়ে বসে থাকত। নূর মিঞা বুলডগের মতো প্রতিজ্ঞা কামড়ে পড়ে রইল।

    “পুরো এক বছর লাগল তার কোকেনের ক্ষুধা জয় করতে। বছরের শেষে একদিন সে আমার পা দুটো জড়িয়ে ধরলে! বল্লে, ‘মালিক, আজ বুঝেছি, কেন আমাকে কোকেন ছাড়তে বলেছিলে। তুমি মানুষ নয়, তুমি পীর নবী।’

    “নূর মিঞা এখন বিড়ি-তামাকের দোকান করেছে।

    “ভোরবেলা আমার ডিসপেন্সারীতে কখনো যদি যাও, দেখবে নূর মিঞা সর্বপ্রথম এসে আমাকে সেলাম করে যায়।”

    ১৩৩৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172 173 174 175 176 177 178 179 180 181 182 183 184 185 186 187 188 189 190
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলৌকিক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }