Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প2026 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চলচ্চিত্র প্রবেশিকা

    চলচ্চিত্র প্রবেশিকা

    দুর্গা বলে বেরিয়ে পড়লাম। আমি, আমার স্ত্রী, বড় শ্যালক নন্দু এবং ভৃত্য মহাবীর। নন্দু আর ইহজগতে নেই; সেদিন আমাদের অনিশ্চিত বিদেশ যাত্রার আরম্ভে সে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। তাকে কৃতজ্ঞ অন্তরে স্মরণ করছি।

    যাত্রাপথটি কম নয়, মুঙ্গের থেকে বোম্বাই—১১০০ মাইল। আমাদের স্থির হয়েছিল, থামতে থামতে যাব। এক দৌড়ে বোম্বাই যাওয়া কিছু নয়, তাজা অবস্থায় বোম্বাই পৌঁছুতে হবে।

    দিনটা ছিল ২৪শে জুলাই ১৯৩৮। বিকেলবেলা বাবা এসে জামালপুর স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে গেলেন। কয়েকজন বন্ধুও এসেছিলেন বিদায় দিতে। আমাদের যাত্রা হল শুরু।

    আমার জীবনে একটা বৈচিত্র্য আছে; আমি জন্মেছি উত্তর প্রদেশের জৌনপুর শহরে, বড় হয়েছি বেহারের মুঙ্গের শহরে, লেখাপড়া করেছি কলকাতায়, কাজ করেছি বম্বেতে, এবং বাণপ্রস্থ অবলম্বন করেছি পুণায়। নিখিল-ভারতীয় বাঙালী যদি কেউ থাকে সে আমি।

    রাত্রিটা ট্রেনে কাটিয়ে পরদিন সকালবেলা এলাহাবাদে নামলাম। এলাহাবাদে আমার মামার বাড়ি। সেদিনটা এখানে বিশ্রাম করে রাত্রি দশটার সময় আবার ট্রেন ধরলাম। ইন্টার ক্লাসে যাচ্ছি, কিন্তু তখন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে ইন্টার ক্লাসেও ভিড় থাকত না। দিব্যি ঘুমোতে ঘুমোতে চলেছি।

    পরদিন সকালে আবার জব্বলপুরে নেমে পড়লাম। এখানে সারাদিন কাটিয়ে বিকেলবেলা বোম্বাই রওনা হব। জব্বলপুরে চেনাশোনা কেউ নেই। স্টেশনের ওয়েটিং রুমে রইলাম; দুপুরবেলা কেল্‌নারে খেলাম। মেঘলা আকাশ, মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামছে। ইচ্ছে ছিল মর্মর-পাহাড় দেখে আসব, কিন্তু যাওয়া হল না।

    বিকেল চারটের সময় বম্বে মেল এল। আমরা চড়ে বসলাম। এর পর আর কোথাও থামব না, পরদিন বেলা দশটার সময় একেবারে ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস।

    বম্বে মেল গম্‌গম্‌ করে ছুটেছে। অপরাহ্নের আকাশে শ্রাবণের মেঘাড়ম্বর। বম্বে যতই এগিয়ে আসছে আমার মনও ততই উদ্বিগ্ন হচ্ছে। কোথায় যাচ্ছি? বম্বে শহরের কাউকে চিনি না। যারা চাকরি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা কেমন লোক? তাদের সঙ্গে বনিবনাও হবে তো? জীবনে এই প্রথম চাকরি করছি, চাকরি করার ভাবভঙ্গি কিছুই জানি না। পারব তো?

    বম্বের সিনেমা-কোম্পানীতে আমার চাকরি পাওয়া এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ১৯২৯ সালে সাহিত্য-সেবা আরম্ভ করি। তারপর আট-নয় বছর কেটে গেছে, কয়েকখানা বই বেরিয়েছে; মুঙ্গেরেই আছি। হঠাৎ সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত মশায়ের কাছে থেকে এক চিঠি পেলাম। দাশগুপ্ত মশায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না; তিনি লিখেছেন তাঁর শ্যালক হিমাংশু রায় বম্বে টকীজ নামক ফিল্ম-প্রতিষ্ঠানের কর্তা, তিনি একজন গল্প-লেখক চান। দাশগুপ্ত মশায় জানতে চেয়েছেন আমি বম্বে গিয়ে ফিল্ম-কোম্পানীতে গল্প-লেখকের চাকরি নিতে রাজী আছি কিনা।

    ফেরত ডাকে উত্তর দিলাম, আমি রাজী। তারপর দাশগুপ্ত মশায়ের দ্বিতীয় চিঠি পেলাম, আমি কলকাতায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারব কিনা। খুব পারব। দু’দিন বাদেই কলকাতা রওনা হলাম।

    সংস্কৃত কলেজে গিয়ে দাশগুপ্ত মশায়ের সঙ্গে দেখা করলাম। প্রবীণ মোটাসোটা মানুষ, ক্রমাগত সিগারেট খান। প্রকাণ্ড টেবিলের দু’পাশে বসে অনেকক্ষণ কথাবার্তা হল। পরে জানতে পেরেছিলাম, দাশগুপ্ত মশায় আরো দু’জন লেখককে ডেকেছিলেন। কিন্তু সে-কথা থাক।

    যথাসময় খবর পাব এই আশ্বাস নিয়ে মুঙ্গেরে ফিরে এলাম। কয়েকদিন পরে বম্বে থেকে চিঠি এল, হিমাংশুবাবু লিখেছেন—আপনাকে কোম্পানীর গল্প-লেখক নিযুক্ত করা হল, যত শীঘ্র পারেন চলে আসুন।

    সুতরাং দুর্গা বলে বেরিয়ে পড়লাম।

    ২৭শে জুলাই বেলা দশটার সময় যখন ভি টি পৌঁছুলাম তখন অবিশ্রাম বৃষ্টি পড়ছে। বোম্বাই বৃষ্টির এই প্রথম নমুনা। স্টেশনের বাইরে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেল বম্বে টকীজের স্টেশন-ওয়াগন আসেনি।

    খাস বোম্বাই থেকে ১৮/১৯ মাইল উত্তরে মালাড্‌ নামক স্থান, সেখানে বম্বে টকীজের আস্তানা। চিঠি-পত্রে ব্যবস্থা হয়েছিল, স্টুডিওর গাড়ি এসে আমাদের স্টেশন থেকে তুলে নিয়ে যাবে। গাড়ি আসেনি দেখে দমে গেলাম। বম্বে থেকে মালাডে যাবার মোটর রোড আছে, আবার লোকাল ট্রেনও পাওয়া যায়। কিন্তু এত খবর তখন জানা ছিল না।

    অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে স্টুডিওতে ফোন করলাম। হিমাংশু রায়ের সেক্রেটারি ফোন ধরল। আমি পৌঁছে গেছি শুনে সে বলল, ‘মালাড্‌ স্টেশনে গাড়ি পাঠান হয়েছে; যাহোক, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ভি টি-তে গাড়ি যাচ্ছে, আপনারা অপেক্ষা করুন।’

    অনেকটা নিশ্চিন্ত হলাম। ওয়েটিং রুমে স্নান সেরে স্টেশনের তেতলার হোটেলে গিয়ে খেয়ে নিলাম। কখন মালাডে পৌঁছুব ঠিক নেই।

    যথাসময় স্টেশন-ওয়াগন এল। আমরা লটবহর নিয়ে উঠে বসলাম। স্টেশন-ওয়াগন ফিরে চলল। এই আমার দূর যাত্রার শেষ ধাপ।

    মালাড্‌ জায়গাটাকে তখন বড় গ্রাম কিংবা ছোট শহর বলা চলত। একটি মাত্র বড় রাস্তা, আর সব শাখা-প্রশাখা। বেশ নির্জন। আমাদের গাড়ি বৃষ্টি-ভেজা রাস্তা দিয়ে বম্বে টকীজের পাঁচিল-ঘেরা হাতায় প্রবেশ করল। চারিদিকে গাছপালা ফুলের বাগান, মাঝখানে দোতলা অফিস-বাড়ি। তার পাশে কিছু দূরে করোগেট্‌ দেওয়া প্রকাণ্ড গুদাম-ঘরের মতো স্টুডিও। এই গুদাম-ঘর থেকে ‘অছুৎকন্যা,’ ‘জীবনপ্রভাত’ প্রভৃতি ছবি বেরিয়েছে।

    লোকজন কিন্তু বেশী নেই। অফিসের সামনে গাড়ি থেকে নেমে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি, দেখি স্টুডিওর দিক থেকে প্ল্যান্টুলুন ও শার্ট পরা একটি ভদ্রলোক আসছেন। চেহারা অতি সুন্দর, বয়স আন্দাজ পঁয়তাল্লিশ। কাছে এসে হাসিমুখে নিজের পরিচয় দিলেন—হিমাংশু রায়।

    এই পরম প্রাণবন্ত মানুষটিকে দেখে ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারলাম না যে, এঁর আয়ু ফুরিয়ে এসেছে। আর দু’-বছরও বাঁচবেন না।

    সমাদর করে নিজের অফিস-ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালেন। ভারি চমৎকার কথা বলেন। আমাদের জন্যে কয়েকটি বাড়ি দেখে রেখেছেন, আমাদের যেটাতে ইচ্ছা থাকব। আমরা বেশীক্ষণ বসলাম না, বাড়ি দেখার জন্যে উঠে পড়লাম, কারণ কাজের কথা পরেও হতে পারবে, সর্বাগ্রে একটা আস্তানা চাই। হিমাংশুবাবু বললেন, ‘আজ আমাদের রাত্তিরে শুটিং; ন’টা থেকে আরম্ভ হবে। আপনারা বাসা ঠিক করে বসুন, সন্ধ্যের পর যদি ইচ্ছে হয় স্টুডিওতে আসবেন। শুটিং দেখাব।’

    বম্বে টকীজে তখন ‘বচন’ নামে একটি ফিল্মের শুটিং চলছিল। কিন্তু তার কথা পরে হবে।

    যে গাড়িতে এসেছিলাম সেই গাড়িতে চড়ে বাড়ি দেখতে বেরুলাম। সঙ্গে চলল হিমাংশুবাবুর সেক্রেটারি পেরেরা। গোয়ানিজ ক্রিশ্চান, বছর পঁচিশেক বয়স হবে, ভারি কাজের ছেলে।

    প্রথম যে বাড়িটা দেখলাম সেটা পছন্দ হল না। ভিত নীচু, মেঝে স্যাঁৎসেঁতে, মাত্র দুটি ঘর। পেরেরাকে বললাম, ‘এর চেয়ে ভাল যদি কিছু থাকে, দেখাও।’

    পেরেরা এবার আমাদের যে বাড়িতে নিয়ে গেল, সেটি একটি ছোটখাটো প্রাসাদ। বাড়ির মালিক বিখ্যাত ব্যারিস্টার মিস্টার দপ্তরী আগে এখানে থাকতেন, এখন খাস বম্বেতে উঠে গেছেন। আসবাব দিয়ে সাজানো বাড়ি, গোটা পাঁচেক ঘর, রান্নাঘর, চাকরের ঘর; বাগান দিয়ে ঘেরা বাড়ি। দেখেই লোভে পড়ে গেলাম। ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করলাম, ‘ভাড়া কত?’

    পেরেরা বলল, ‘পঞ্চাশ টাকা।’

    আর দ্বিরুক্তি করলাম না, মোটঘাট নামিয়ে বাড়ি দখল করে বসলাম। পেরেরা চলে গেল, আধ ঘণ্টা পরে চাল ডাল ময়দা মাছ মাংস তরকারি নিয়ে এল। বলল, ‘মিস্টার রায় পাঠালেন, আপনাদের কাল দুপুর পর্যন্ত চলে যাবে। তারপর আপনারা নিজের ব্যবস্থা করে নেবেন। আজ রাত্রে শুটিং দেখতে যাবেন কি? যদি যান গাড়ি পাঠাব।’

    বললাম, ‘যাব। আটটার সময় গাড়ি পাঠিও।’

    পেরেরা চলে গেল। বেলা তখন চারটে, সারাদিন পরে বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে। গৃহিণী মহাবীরের সঙ্গে সংসার পাততে লেগে গেলেন। আমি আর নন্দু মুখোমুখি বসে সিগারেট টানতে লাগলাম। চাকরি করতে এসেছি, সুদূর বিদেশে পদার্পণ করেই এমন আদর-যত্ন পাব কল্পনা করিনি। হিমাংশুবাবুর প্রতি মনটা কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠল; তিনি শুধু খ্যাতিমান চিত্র-প্রণেতা নন, অতি হৃদয়বান ব্যক্তি।

    নন্দু আমার মনের কথার প্রতিধ্বনি করে বলল, ‘আমাদের যাত্রাটা ভালই হয়েছে মনে হয়।’

    আটটার সময় গাড়ি এল। আমরা খেয়ে-দেয়ে তৈরি ছিলাম, পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে পড়লাম। বাড়ি থেকে স্টুডিও আন্দাজ আধ মাইল দূরে। যেতে যেতে মনটা বেশ উৎসুক হয়ে উঠল। সিনেমার শুটিং আগে কখনো দেখিনি।

    স্টুডিওর হাতার মধ্যে চারিদিকে বড় বড় আলো জ্বলছে, অনেক লোক রঙবেরঙের কাপড় পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা গাড়ি থেকে নামতেই পেরেরা এসে দাঁড়াল, বলল, ‘মিস্টার রায় মিউজিক-রুমে আছেন, চলুন আপনাকে নিয়ে যাই।’

    অফিস-বাড়ি থেকে মিউজিক রুম খানিকটা দূরে, হাতার এক কোণে। এখানকার অধিষ্ঠাত্রী হচ্ছেন মিউজিক-ডিরেক্টর সরস্বতী দেবী। তিনি জাতে পার্সী ছিলেন, সিনেমার খাতিরে হিন্দু নাম নিয়েছিলেন। সে-রাত্রে তাঁকে দেখিনি, পরে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল।

    মিউজিক-রুমে আজ মিউজিক নেই; হিমাংশু রায় টেবিল পেতে সস্ত্রীক খেতে বসেছিলেন, আমাদের দেখে তাড়াতাড়ি উঠে এলেন। মহিলাটির পরিচয় দিলেন, ‘ইনি আমার স্ত্রী—দেবিকারাণী।’

    দেবিকারাণীকে আগে কয়েকবার চলচ্চিত্রে দেখেছি, এখন সশরীরে দেখলাম। তখনকার দিনের ভারতীয় সিনেমা-রাজ্যের একচ্ছত্রী সম্রাজ্ঞী। ছোটখাটো মানুষটি, মুখে-চোখে সাবলীল লাবণ্য, বাংলা কথা একটু থেমে থেমে বলেন। ইনি বাংলাদেশের বিখ্যাত চৌধুরী পরিবারের মেয়ে, প্রমথ চৌধুরী এঁর সাক্ষাৎ কাকা ছিলেন। এঁর শৈশবকাল বিলেতে কেটেছিল। তবু বাংলা মন্দ বলেন না, হিন্দীও শিখেছেন। হিন্দী-বাংলা-ইংরেজী মিশিয়ে বেশ কাজ চালিয়ে নেন।

    আমার গৃহিণীর সঙ্গে অবিলম্বে দেবিকারাণীর ভাব হয়ে গেল। সে ভাব এখনও অটুট আছে। দু’জনের বয়স প্রায় সমান। তারপর ছাব্বিশ বছর কেটে গেছে, দেবিকারাণীর জীবনে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, এঁদের মধ্যে দেখাসাক্ষাৎ আর হয় না। তবু আমার গৃহিণী দেবিকারাণীর প্রতি তেমনি প্রীতিমতী। অন্য পক্ষের কথা জানি না।

    স্টুডিও থেকে ডাক এল—সেট তৈরি। হিমাংশুবাবু আমাদের নিয়ে স্টুডিওর বিরাট ছাউনির দিকে চললেন। আমি জীবনে প্রথম সিনেমা-স্টুডিওর আলোকোজ্জ্বল গহ্বরে প্রবেশ করলাম।

    সামনেই বিরাট একটি দুর্গ।

    ‘বচন’ ছবির কাহিনী সেকালের রাজপুতদের নিয়ে। এই দুর্গটি গল্পের নায়কের দুর্গ, শত্রুপক্ষ এসে দুর্গের সিংহদ্বার ভেঙে ফেলবার চেষ্টা করছে—আজ সেই দৃশ্য তোলা হবে।

    নকল কেল্লা বটে কিন্তু চোখে দেখে নকল বোঝা যায় না, আঙুল দিয়ে টিপলে বোঝা যায় পাথর নয়, ক্যাম্বিসের ওপর রঙ চড়ানো।

    স্টুডিওর মধ্যে আরও কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হল। ফ্রান্‌জ্‌ অস্টেন নামে একজন জার্মান ছিলেন বম্বে টকীজের চিত্র-পরিচালক, কোম্পানীর গোড়াপত্তন থেকে ইনিই সব ছবি পরিচালনা করেছিলেন। বেঁটে গোলগাল বয়স্থ লোক, ভাল ইংরেজি বলতে পারতেন না, বুঝতেন আরও কম। কিন্তু অতি উচ্চাঙ্গের চিত্র-পরিচালক ছিলেন। তিনি প্রবল বেগে আমার সঙ্গে শেকহ্যান্ড করে জার্মান সুরে গলার মধ্যে ঘড়ঘড় করে যা বললেন তার অধিকাংশই ধরতে পারলাম না। সৌজন্য দেখিয়ে বললাম, ‘প্লিজড্‌ টু মীট ইউ।’

    আরও দু’জন জার্মান তখন বম্বে টকীজে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজনের নাম ছিল উইরশিঙ। ইনি ছিলেন স্টুডিওর সর্দার ক্যামেরাম্যান। হিমাংশু রায় তাঁকে বীর সিং বলে ডাকতেন। অন্য লোকটির নাম ভুলে গেছি, কারণ আমি যাবার কিছুদিন পরেই তিনি কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে যান।

    বম্বে টকীজে হিমাংশু রায় ও দেবিকারাণী ছাড়া অন্য বাঙালীও আছে দেখে চমৎকৃত হলাম। সে-রাত্রে একজনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তার নাম অশোককুমার। অশোক যে বাঙালী তা তখনও জানি না। সে রাজপুত যুবকের সাজপোশাক পরে সামনে এসে দাঁড়াল, হিমাংশু রায় পরিচয় করিয়ে দিলেন। ছিপছিপে গড়ন, সুন্দর মুখ। ক্রমশ জানতে পেরেছিলাম তার স্বভাবটি চেহারার মতোই মধুর।

    ন’টা বাজল। শুটিং আরম্ভ হল। সারারাত চলবে। সিনেমার দিবারাত্রি নেই, কৃত্রিম আলোতে ছবি তোলা হয়, একসঙ্গে দেড়শো-দুশো কিলোওয়াটের আলো জ্বলে, রাতকে দিন করে তোলে। আমরা সাড়ে দশটা পর্যন্ত শুটিং দেখে বাড়ি ফিরে এলাম।

    দিন দশেক পরে নন্দু আমাদের ঘর-বসত করে দিয়ে মুঙ্গেরে ফিরে গেল। বিরাট বাড়িতে রয়ে গেলাম আমি, গৃহিণী এবং মহাবীর।

    মহাবীর আমাদের মুঙ্গেরের বাড়ির পুরনো চাকর। বাবা তাকে মোটা চাকর বলতেন, অর্থাৎ মোটা কাজের চাকর। বাড়িতে সে গরুর জাবনা কাটত, ঘুঁটে দিত, শিলে মশলা বাটত। এখানে এসে সে একাধারে সরু-মোটা চাকর হয়ে দাঁড়াল; বাড়ির যাবতীয় কাজ সে-ই করে, জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ। গিন্নী কেবল রান্না করেন।

    একদিন মহাবীরের একটি নতুন প্রতিভার পরিচয় পেয়ে চম্‌কে উঠলাম। বিকেলবেলা বেড়াতে বেরিয়েছিলাম, সন্ধ্যের পর ফিরে এসে দেখি রান্নাঘরে গিন্নী রান্না করছেন, আর মহাবীর দোরগোড়ায় বসে তাঁকে রূপকথা শোনাচ্ছে। মহাবীরের গল্প বলার ভঙ্গি ভাল, স্টাইল আছে। মনে মনে শঙ্কিত হলাম। একই বাড়িতে একজন গল্প-লেখক এবং একজন গল্প-কথকের সহাবস্থান শান্তিপ্রদ না হতে পারে। কোন্‌ দিন হয়তো মহাবীর আমার গল্পের ভুল ধরতে আরম্ভ করে দেবে।

    ইতিমধ্যে আরো অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। বম্বে টকীজ তখন ছিল সর্বজাতির জগন্নাথ-ক্ষেত্র; ইংরেজ-জার্মান-বাঙালী মাদ্রাজী-গুজরাতী-মারাঠী-পাঞ্জাবী-পার্সী, কেউ বাদ পড়েনি। ইংরেজ ছিলেন স্যর রিচার্ড টেম্পল্‌, ইনি বম্বে টকীজ কোম্পানীর বোর্ড অফ্‌ ডিরেক্টর্সের একজন সদস্য, স্টুডিওর অফিস-বাড়ির দোতলায় থাকতেন। আমি যখন তাঁকে দেখলাম তখন তাঁর বয়স ষাটের ওপর। এঁর বাবা এক সময় বাংলাদেশের লেফটেনান্ট্‌ গভর্নর ছিলেন। কিন্তু স্যর রিচার্ডের মেজাজ মোটেই ব্যুরোক্র্যাটের মতো নয়, অত্যন্ত সরল সাদাসিদে প্রকৃতির মানুষ। একেবারে মাটির মানুষ। সম্প্রতি কাগজে দেখলাম, বিলেতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আমার প্রতি এবং আমার স্ত্রীর প্রতি তিনি অত্যন্ত স্নেহশীল হয়েছিলেন, প্রায়ই আমাদের বাড়িতে গল্প করতে আসতেন। মনে হচ্ছে যেন সেদিনের কথা।

    আরো কয়েকজন বাঙালীর সঙ্গে পরিচয় হল, সকলেই বম্বে টকীজে কাজ করে। শশধর মুখুজ্জে ছিল স্টডিওর দু’-নম্বর সাউন্ড-রেকর্ডিস্ট, সে আবার অশোকের ভগিনীপতি। জ্ঞান মুখুজ্জে কাজ করত ল্যাবরেটরিতে। পরবর্তীকালে যখন হিমাংশু রায়ের মৃত্যুর পর বম্বে টকীজে ভাঙল ধরল, তখন তারা দু’জনেই চিত্র-পরিচালক হয়েছিল। এই ভাঙা-গড়ার ইতিহাস বড় পঙ্কিল, তাই বাদ দিয়ে গেলাম।

    একটি মেয়ের সঙ্গে জানাশোনা হল; হিমাংশুবাবুর ছোট বোন, নাম লীলু। অবিবাহিতা মেয়ে, বম্বের আর্ট স্কুলে পড়ে; বাংলা সাহিত্যের খবর রাখে। হিমাংশুবাবু এবং দেবিকারাণী বাংলা সাহিত্যের খবর রাখতেন না, লীলুই যোগাযোগ ঘটিয়েছিল। মেয়েটি একটু ভাবপ্রবণ, সাহিত্য ও শিল্পকলা নিয়ে মেতে থাকত।

    হিমাংশুবাবু আমাকে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন, নিয়মিত অফিসে আসবার দরকার নেই, যখন ইচ্ছা আসব। বাড়িতেই কাজ করব, স্টুডিওর গণ্ডগোল থেকে দূরে থাকলেই মাথার কাজ ভাল হবে।

    তবু রোজ সকালের দিকে একবার স্টুডিও যাই। হিমাংশুবাবুর অফিসে বসে গল্প করি, শুটিং থাকলে শুটিং দেখি। দেখে দেখে চিত্রের মাধ্যমে কাহিনী বলার শৈলী অনেকটা আয়ত্ত করলাম। বন্ধুবর বীরেন ভদ্র চিত্রনাট্য রচনা সম্বন্ধে একটি ইংরেজি বই দিয়েছিলেন—দি ঘোস্ট গোজ ওয়েস্ট; বইখানি আমার খুব কাজে লেগেছিল, তা থেকে অনেক কিছু শিখেছিলাম।

    যাহোক, চিত্র-কাহিনী রচনার কৌশল তো মোটামুটি আয়ত্ত করলাম, এখন ভাবনা হল গল্প লিখব কোন্‌ ভাষায়। বাংলা লিখলে এখানে কেউ বুঝবে না, অন্য লোক তো দূরের কথা, বাঙালীদের কাছেও বাংলাভাষা মাতৃভাষা নয়, বিমাতৃভাষা। হিন্দীতে লেখা আমার সাধ্যাতীত। একমাত্র উপায় ইংরেজি। যদিও ইংরেজি ভাষায় আমি মহাপণ্ডিত নই, তবু মনের কথা যোগেযাগে প্রকাশ করতে পারব। হাজার হোক, অজস্র ইংরেজি গল্পের বই পড়েছি। গল্প লেখার ভঙ্গিটাও রপ্ত আছে। ভাষা যদি উৎকৃষ্ট নাও হয়, কাজ চালিয়ে নেব। যারা পড়বে তারাও তো ইংরেজিতে আমার মতোই পণ্ডিত।

    হিমাংশুবাবুর অফিসে গিয়ে বললাম, ‘ইংরেজিতে গল্প লিখব ঠিক করেছি।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তো ভালই হয়। নিরঞ্জন পালও ইংরেজিতে লিখতেন।’

    নিরঞ্জন পাল ছিলেন বম্বে টকীজের সাবেক গল্প-লেখক, অছুৎকন্যা জীবনপ্রভাত প্রভৃতি তাঁরই লেখা। হিমাংশু রায়ের সঙ্গে মতান্তর হওয়ায় তিনি বম্বে টকীজের কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি কিছুদিন আগে মারা গেছেন, তাঁর ছেলে কলিন পাল এখনো সিনেমার সঙ্গে জড়িত আছে।

    আমি মিঃ রায়কে বললাম, ‘আমি চিত্রনাট্য লেখার জন্যে তৈরি হয়েছি, কী গল্প লিখব বলুন।’

    নিজের ইচ্ছামত গল্প লিখলে চলবে না। যিনি ছবি করবেন তাঁর মনের মতো হওয়া চাই।

    মিঃ রায় বললেন, ‘‘বচন’ শেষ হতে মাসখানেক দেরি আছে। এর মধ্যে আপনি গল্প শেষ করতে পারবেন?’

    বললাম, ‘পারব। কিন্তু কোন ধরনের গল্প আপনি চান সেটা জানা দরকার।’

    তিনি বললেন, ‘আপনি দু’চারটে গল্প আমাকে শোনান, তার মধ্যে যেটা পছন্দ হবে আমি বেছে নেব।’

    বললাম, ‘বেশ। কাল আমি আপনাকে কয়েকটা গল্পের আইডিয়া শোনাব।’

    সেদিন বিকেলবেলা লীলু আমাদের বাড়িতে এল। বলল, ‘দাদার কাছে শুনলাম, আপনি গল্প লেখার জন্যে তৈরি হয়েছেন। তা ‘বিষের ধোঁয়া’র গল্পটাকে চিত্রনাট্য করুন না।’

    আমি অবাক হয়ে বললাম, “বিষের ধোঁয়া”! কিন্তু তাতে তো ছুরি-ছোরা-গোলা-গুলি-নারীহরণ এসব কিছুই নেই।’

    লীলু বলল, ‘তা হোক। আপনি লিখুন। নতুন জিনিস হবে। আমি দাদাকে গল্প শুনিয়েছি। তাঁর ভালই লেগেছে।’

    লীলুর দেখলাম খুবই উৎসাহ, কিন্তু আমার মনটা সংশয়াচ্ছন্ন হয়ে রইল। নিরামিষ গার্হস্থ্য উপন্যাস কি অ-বাঙালীদের ভাল লাগবে?

    পরদিন অফিসে মিঃ রায়কে আমার সংশয়ের কথা বললাম। তিনি বেশী উৎসাহ দেখালেন না। নিরুৎসাহও করলেন না, বললেন, ‘আপনি লিখতে আরম্ভ করে দিন, তারপর দেখা যাবে।’

    বিকেলবেলা পেরেরা একটা টাইপ-রাইটার, রাশীকৃত ছাপার কাগজ ও কার্বন পেপার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গেল।

    সুতরাং তোড়জোড় করে লেখা আরম্ভ করে দিলাম, একেবারে ছাপার অক্ষরে, টাইপ-রাইটার চালানোর অভ্যাস আগে থাকতেই ছিল। মনে মনে হিসেব করে নিলাম, রোজ যদি তিন পাতা লিখি তাহলে এক মাসে সীনেরিও শেষ করতে পারব।

    এক মাসের মাথায় সীনেরিও শেষ হল। ওদিকে ‘বচন’-এর শুটিংও শেষ হয়েছে, শিগ্‌গিরই রিলিজ হবে। মিঃ রায় তাই নিয়ে খুব ব্যস্ত। আমি তাঁকে বললাম, ‘লেখা শেষ করেছি। কবে শুনবেন বলুন?’

    তিনি বললেন, ‘এখন নানা ঝামেলার মধ্যে রয়েছি, একটু ফুরসৎ পেলেই আপনাকে খবর দেব।’

    পরদিন দুপুরবেলা পেরেরা এসে খবর দিয়ে গেল, মিঃ রায় তিনটের সময় গল্প শুনতে বসবেন, আমি যেন ঠিক সময় স্টুডিওতে যাই। পৌনে তিনটের সময় গাড়ি আসবে।

    যথাসময়ে গল্পের ফাইল নিয়ে উপস্থিত হলাম। দেখলাম, শ্রোতা শুধু মিঃ রায় নন, সেই সঙ্গে আর একজন আছেন—যমুনাস্বরূপ কশ্যপ।

    যমুনাস্বরূপ কশ্যপের নাম সম্প্রতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, বিলিতি ছবি নাইন আওয়ারস টু রাম-এ মহাত্মা গান্ধীর চরিত্র অভিনয় করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেছেন। তখন তিনি ছিলেন বম্বে টকীজের হিন্দী সংলাপ-লেখক ও গীতকার। কশ্যপ অদ্ভুত সংলাপ লিখতে পারতেন। কিন্তু একবার লিখতে আরম্ভ করলে সহজে থামতে পারতেন না, অতি কষ্টে তাঁকে সংযত করে রাখতে হতে। পরম হাস্যরসিক এই মানুষটিকে অনেক দিন পরে সেদিন দেখলাম। বুড়ো হয়েছেন বটে, কিন্তু মনের রস এখনো অক্ষুন্ন আছে।

    যাহোক, একটি নিভৃত কক্ষে আমরা তিনজনে বসলাম। গল্প পড়া আরম্ভ হল। কেউ অবান্তর কথা বললেন না, নিবিষ্ট মনে শুনলেন। মাঝে মাঝে চা-কফি-বিস্কুট আসতে লাগল। ঘণ্টা তিনেক পরে গল্প পড়া শেষ হল।

    ঘর তখন অন্ধকার হয়ে এসেছে। তিনজনে চুপ করে বসে আছি, কারুর মুখে কথা নেই। শেষে আমিই প্রশ্ন করলাম, ‘কেমন শুনলেন?’

    কশ্যপ গলার মধ্যে পাঁচমিশেলি আওয়াজ করলেন, তারপর ‘কাল সকালে কথা হবে’ বলে চলে গেলেন। তিন মাটুঙ্গায় থাকেন। ট্রেন ধরতে হবে।

    দু’জনে মুখোমুখি বসে আছি। আমার রসনা তিন ঘণ্টা সচল থাকার পর একটু ক্লান্ত। মিঃ রায় কী ভাবছেন তিনিই জানেন। এক মাসের পরিশ্রম নষ্ট হল এই ভেবে আমার মনটা দমে যাচ্ছে।

    বললাম, ‘কি ভাবছেন?’

    মিঃ রায় নিশ্বাস ফেলে বললেন, ‘অস্টেনকে গল্পটা বোঝাতে হবে। কিন্তু সে তো ভাল ইংরেজি জানে না। তাই ভাবছি কি করা যায়।’

    বুঝলাম, নিজের অভিমত প্রকাশ করার আগে তিনি চিত্র-পরিচালক অস্টেন সাহবের মতামত জানতে চান। খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু গল্প এবং অস্টেন সাহবেরে মাঝখানে ভাষার দুর্লঙ্ঘ্য ব্যবধান। আমি একটু চিন্তা করে সঙ্কুচিতভাবে বললাম, ‘গল্প যদি জার্মান ভাষায় অনুবাদ করানো যায়, অবশ্য তাতে খরচ অনেক—’

    মিঃ রায় চকিত হয়ে আমার মুখের পানে চাইলেন, খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বললেন, ‘মন্দ কথা নয়। একটি জার্মান মেয়ে আছে, অবস্থা ভাল নয়, কিন্তু ভাল ইংরেজি জানে। দু’তিনশো টাকা পেলে সে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে দেবে।’

    মিঃ রায় পেরেরাকে ডাকলেন। আমি কতকটা আশ্বস্ত হয়ে ফিরে এলাম।

    তারপর দিন কয়েক ‘বচন’-এর রিলিজ নিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে কেটে গেল। বম্বের ‘রক্‌সি’ সিনেমায় ‘বচন’-এর উদ্বোধন হল। আমরা স্টুডিওসুদ্ধ লোক উদ্বোধনে উপস্থিত। লোকে লোকারণ্য, ছবি দেখানোর অনেক আগেই টিকিট-বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে; বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে—হাউস ফুল!

    ছবি কিন্তু বেশী দিন চলল না।

    হিমাংশু রায় যখন বুঝতে পারলেন যে ছবিটা দীর্ঘায়ু হবে না, তখন তিনি যত শীঘ্র সম্ভব নতুন ছবি তৈরি করার জন্যে প্রস্তুত হলেন। পর পর তিনটি ছবি মার খেয়েছে, এবার ভাল ছবি তৈরি না হলে বম্বে টকীজ ডুববে।

    হিমাংশু রায় বোধহয় মনে মনে ‘বিষের ধোঁয়া’র গল্প পছন্দ করেননি। কিন্তু পর পর তিনবার মার খেয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস অনেকখানি কমে গিয়েছিল; বিশেষত তখন ‘বিষের ধোঁয়া’ ছাড়া অন্য কোনও গল্প তাঁর হাতে ছিল না। তাই লীলুর সনির্বন্ধ প্ররোচনায় তিনি ‘বিষের ধোঁয়া’ তুলে নিলেন। আমার চিত্রনাট্য থেকে শুটিং স্ক্রীপ্ট লিখতে শুরু করে দিলেন।

    বম্বে টকীজের ছবি তৈরি করার পদ্ধতি ছিল এই রকম : মূল লেখক গল্প ও সীনেরিও লিখবে, সংলাপ-লেখক হিন্দীতে সংলাপ লিখবে, হিমাংশু রায় শুটিং স্ক্রীপ্ট লিখবেন, সেই স্ক্রীপ্ট সামনে রেখে ফ্রান্‌জ্‌ অস্টেন ছবি তুলবেন। এই চারজনের মধ্যে হিমাংশু রায়ের ভূমিকাই প্রধান। গল্প যেমনই হোক, হিমাংশু রায় যে স্ক্রীপ্ট লিখবেন তাই হবে চরম, অর্থাৎ ফাইনাল। তিনিই ছবির স্রস্টা, অন্য সবাই তাঁর সহযোগী মাত্র।

    একদিন ফ্রান্‌জ্‌ অস্টেন আমাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে বললেন, ‘আপনার গল্পের অনুবাদ আমি পড়েছি। আমার খুব ভাল লেগেছে। যদি রায় ভাল স্ক্রীপ্ট লিখতে পারে, ভাল ছবি হবে।’

    মন উল্লসিত হয়ে উঠল।

    কিন্তু মনের উল্লাস বেশীক্ষণ স্থায়ী হল না। মিঃ রায়ের অফিস-ঘরে গিয়ে দেখলাম একটি যুবক তাঁর সঙ্গে বসে গল্প করছে। বেশ চটপটে স্মার্ট পাঞ্জাবী যুবক। মিঃ রায় পরিচয় করিয়ে দিলেন, ‘ইনি মিঃ বেরী। পাঞ্জাবে একটি ইংরেজি সিনেমা-পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, এখন বম্বে টকীজের পাবলিসিটি ডিপার্টমেন্টে ওঁকে নিয়োগ করেছি।’

    মিঃ বেরীর সঙ্গে শেকহ্যান্ড করলাম।

    মিঃ রায় একটু অপ্রস্তুতভাবে বললেন, ‘মিঃ বেরীকে ‘বিষের ধোঁয়া’র চিত্রনাট্য পড়তে দিয়েছিলাম।

    মিঃ বেরী বললেন, ‘আমি পড়েছি। গল্প ভালই, তবে কি জানেন, গল্পের মধ্যে সিনেমা মীট নেই।’ তাঁর কণ্ঠস্বরে মুরুব্বিয়ানার আমেজ।

    মিঃ রায়ের দিকে তাকালাম, ‘সিনেমা মীট কী বস্তু?’

    মিঃ বেরীই উত্তর দিলেন, ‘সিনেমা মীট বুঝলেন না? প্যাশন, টেনসন, রোমান্স, ডেরিং-ডু—এই সব। আপনার গল্পে এসব কিছু নেই। আমার বিশ্বাস এ গল্প সিনেমায় চলবে না।’

    মিঃ রায়কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনারও কি তাই মত?’

    মিঃ রায় উদ্বিগ্নভাবে সিগারেট টানতে টানতে বললেন, ‘এখন তো আর অন্য গল্প ধরবার সময় নেই, কাজ আরম্ভ করে দিয়েছি। ‘বচন’ চলল না। সাত দিনের মধ্যে নতুন ছবির শুটিং শুরু করতে হবে।’

    সাত দিনের মধ্যে শুটিং শুরু হবে, অতএব ছবির পাত্র-পাত্রী স্থির করা দরকার। মিঃ রায় বললেন, ‘দেবিকা আর অশোক ক্রমাগত ছবির পর ছবি প্লে করে যাচ্ছে, ওদের এবার বিশ্রাম দরকার। নতুন আর্টিস্ট দিয়ে ছবি করব।’

    সুতরাং প্রোডাকশন ম্যানেজার মিঃ আচারিয়া আর্টিস্টের খোঁজে বেরুলেন। বম্বে টকীজে অবশ্য মাইনে-করা বাঁধা আর্টিস্ট আছে, হিরো-হিরোইন অশোক ও দেবিকা ছাড়াও গৌণ চরিত্রাভিনেতা পিঠাওয়ালা, মমতাজ আলি, মায়া, মীরা, সরোজ বোরকর ইত্যাদি। তাদের দিয়েই মোটামুটি কাজ চলে যেত। কিন্তু এখন নতুন হিরো-হিরোইন চাই, গৌণ চরিত্রের জন্যেও আরো লোক দরকার। ‘বিষের ধোঁয়া’য় কিশোর, সুহাসিনী, বিনয়বাবু, দীনবন্ধু, অনুপম, করবী, হেমাঙ্গিনী—অনেকগুলি বড় বড় চরিত্র আছে।

    কাতারে কাতারে আর্টিস্ট আসতে লাগল। মিঃ রায় তাদের সঙ্গে কথা বলতেন, আমি বসে বসে শুনতাম। তখনকর দিনে বম্বে টকীজের প্রচণ্ড নাম-ডাক, তার পতাকাতলে অভিনয় করবার জন্যে সকলেই উৎসুক।

    হিরোর ভূমিকায় অভিনয় করার জন্যে একটি যুবককে মিঃ রায় নির্বাচন করলেন, তার নাম জয়রাজ। মুখশ্রী এমন কিছু আহা-মরি নয়, দৃঢ় স্বাস্থ্যের লাবণ্যে আপাদমস্তক ভরপুর। সে অনেক স্টান্ট ছবিতে হিরোর পার্ট করেছে, অনেক মারামারি কাটাকাটি করেছে, কিন্তু ভদ্র ছবিতে কখনও অভিনয় করেনি। বম্বে টকীজের ছবিতে হিরোর পার্ট পেয়ে সে কৃতার্থ হয়ে গেল।

    একে একে সব ভূমিকার জন্যে আর্টিস্ট জোগাড় হল। হিরোইন হবেন রেণুকা দেবী, করবী—মীরা, বিমলা—মায়া, দীনবন্ধু—পিঠাওয়ালা। কেবল বিনয়বাবুর ভূমিকার জন্যে মনের মতো লোক পাওয়া গেল না। বিনয়বাবুর মতো সরল পণ্ডিত পাগলাটে প্রফেসরের ভূমিকায় অভিনয় করা যার-তার কাজ নয়। একাধারে হাস্যরসিক এবং অভিনেতা হওয়া চাই।

    আমার মনে শান্তি নেই। আমার প্রথম ছবি হবে, তার প্রধান ভূমিকাগুলিতে নতুন লোক। ওরা কি পারবে? যদি না পারে, যদি ছবি ফ্লপ করে, সবাই গল্পের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেবে। আমি মারা পড়ব।

    অস্থির মন নিয়ে সেদিন বিকেলবেলা স্টুডিওতে গেলাম। মিঃ রায় আমাকে ডেকে পাঠালেন। তাঁর অফিস-ঘরে গিয়ে দেখলাম তিনি একলা বসে সিগারেট টানছেন। আমাকে দেখে বললেন, ‘বসুন। আপনি ঘাবড়ে গেছেন মনে হচ্ছে। ভয় পাবেন না। আমি আর অস্টেন চিরকাল নতুন আর্টিস্ট নিয়ে কাজ করেছি, আর্টিস্ট তৈরি করেছি। অশোক আর দেবিকাও একদিন নতুন আর্টিস্ট ছিল।— যাই হোক, একজন আনকোরা নতুন আর্টিস্ট জোগাড় করেছি। তাকে দেখবেন?’

    ‘দেখব। কোন্ ভূমিকার জন্যে?’

    ‘আগে দেখুন তো।’

    মিঃ রায় পেরেরাকে ডেকে বললেন, ‘দেশাইকে পাঠিয়ে দাও।’

    অল্পক্ষণ পরে একটি মূর্তি এসে আমাদের সামনে দাঁড়াল। দোহারা বেঁটে-খাটো চেহারা। ধবধবে ফরসা রঙ, গোল মুখের ওপর গোল চশমা। পিট্‌-পিট্‌ করে আমার দিকে তাকিয়ে ভাঙা-ভাঙা গলায় বলল, ‘নমস্তে।’

    আমি হেসে উঠলাম, ‘আরে, এ তো বিনয়বাবু।’

    হিমাংশুবাবুও মুচকি হাসলেন, ‘হ্যাঁ, ওকে বিনয়বাবুর পার্ট করবার জন্যে নিয়েছি। এই প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবে। কেমন মনে হচ্ছে?’

    ‘ভাল। চেহারায় অবিকল বিনয়বাবু। যদি অভিনয় করতে পারে—’

    ‘অস্টেন আছে, অভিনয় করিয়ে নেবে।’

    সেদিন প্রফুল্লমনে বাড়ি ফিরলাম। মনে হল দৈব অনুকুল, নইলে দেশাইয়ের মতো একটা জলজ্যান্ত বিনয়বাবু কোথা থেকে এসে জুটল?

    সাত দিন পরে শুভদিনে মহরৎ করে শুটিং আরম্ভ হয়ে গেল।

    যদিও আমার কাজ ছিল কেবল গল্প লেখা, ছবি তৈরি করার কোনও ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার অধিকার ছিল না, তবু একটা বিষয়ে আমি জোর করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, চরিত্রগুলিকে বাঙালী সাজপোশাক পরাতে হবে; অর্থাৎ ধুতি-পাঞ্জাবি। সেখালে বিলিতি সাজপোশাক পরার রীতি বম্বে টকীজে চালু ছিল। মিঃ রায় প্রথমে নানারকম আপত্তি তুলেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজী হয়ে গেলেন।

    ছবির নাম হল—ভাবী। অর্থাৎ, বউদি। কশ্যপ নাম রেখেছিলেন। খুব লাগসই নাম হয়েছিল।

    শুটিং চলতে লাগল। আমি মাঝে মাঝে সেটে গিয়ে বসি, ফ্রান্‌জ্‌ অস্টেনের পরিচালনা দেখি। লোকটির পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা অদ্ভুত। বাঙালী মেয়েরা কি ভাবে শাড়ি পরে তা তিনি জানেন, তারা কেমন করে পান সেজে পানু মুখে দেয়, তাও তাঁর অজানা নয়। প্রত্যেক আর্টিস্টের কাছ থেকে ষোল আনা কাজ তিনি আদায় করে নিতে পারনে, যতক্ষণ না ষোল আনা কাজ আদায় হয় ততক্ষণ আর্টিস্টের নিষ্কৃতি নেই। একবার একটি ভারি মজার ব্যাপার দেখেছিলাম।

    যে মেয়েটি বিমলার ভূমিকা করছে তার নাম মায়া; একটি দৃশ্যে তাকে কাঁদতে হবে। তাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করানো হল; মিঃ অস্টেন তাকে কান্নার ভঙ্গিটা অভিনয় করে দেখিয়ে দিলেন। মায়া কান্নার ভঙ্গিটা ঠিকই করল, কিন্তু তার চোখ দিয়ে জল বেরুল না। অস্টেন সাহেবের হুকুম চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া চাই। মায়ার চোখে জল নেই দেখে তিনি খুব খানিকটা তর্জন-গর্জন করলেন, কিন্তু কোনও ফল হল না; তখন তিনি দুই হাত উর্ধ্বে আস্ফালন করে জার্মান ভাষায় গালমন্দ দিলেন; তবু মায়ার চোখ দিয়ে একফোঁটা জল বেরুল না। অস্টেন মোটা একটা লাঠি এনে তার মাথার ওপর ঘোরাতে লাগলেন, কিন্তু মায়ার চোখ মরুভূমি। অস্টেন লাঠি ফেলে দিয়ে হুঙ্কার ছাড়লেন, ‘কাঁদবে না? আচ্ছা মজা দেখাচ্ছি। তুমি এইখানে দাঁড়িয়ে থাক, তোমার মুখের ওপর ক্যামেরা চালু করলাম যতক্ষণ না চোখ দিয়ে জল বেরোয় ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাক।—চালাও ক্যামেরা।’

    ক্যামেরা চলল। এক মিনিট, দু’মিনিট; প্রতি মিনিটে নব্বই ফুট ফিল্ম খরচ হয়ে যাচ্ছে। আমরা স্টুডিওসুদ্ধ লোক একদৃষ্টে মায়ার মুখের দিকে চেয়ে আছি। পাঁচ মিনিট পরে মায়ার চোখ দুটি একটু ঝাপ্‌সা হয়ে গেল। তারপর দরদর ধারায় চোখের কোণ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।

    আমরা সমস্বরে জয়ধ্বনি করে উঠলাম।

    ১৯৬৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172 173 174 175 176 177 178 179 180 181 182 183 184 185 186 187 188 189 190
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলৌকিক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }