Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প2026 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পলাতক

    সকালবেলার ডাকে একটা পোস্টকার্ড পেলাম। প্রেরকের ঠিকানা নেই, নাম দস্তখত নেই, কেবল কয়েকটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম। নক্স ভমিকা, সাল্‌ফার, পালসেটিলা ইত্যাদি গোটা বারো ওষুধ।

    চিঠি কে লিখেছে আমি জানি; আমার বন্ধু কমলেশ। সে অজ্ঞাতবাস করছে, দু’তিন মাস অন্তর আমি তার কাছ থেকে এই ধরনের চিঠি পাই।

    চিঠি পাওয়ার আধ ঘণ্টা পরে কমলেশের শালা সৌরীন এল। বছর বত্রিশ বয়স, লম্বা মোটা দশাসই চেহারা, ভাঁটার মতো চোখ; সর্বদা কোট-প্যান্ট পরে থাকে। আমার দিকে চোখে পাকিয়ে মোটা গলায় বলল, ‘আপনি জানেন কমলেশ কোথায় লুকিয়ে আছে। ভাল চান তো বলুন, নইলে—’

    প্রশ্ন করলাম, ‘নইলে কী?’

    সৌরীন তার শরীরটা মুষ্টিযোদ্ধার ভঙ্গিতে টান করে দু’হাত মুঠি করে বলল, ‘দেখছেন চেহারাটা?’

    সৌরীনের চেহারা ইতিপূর্বে আরো কয়েকবার দেখেছি, মাঝে মাঝে এসে আমাকে হুমকি দিয়ে যায়। একবার বোনকেও সঙ্গে এনেছিল। সেদিন ভাল করে চিনতে পেরেছিলাম কমলেশের বউ কেমন মেয়ে। প্রথমে আমার গা ঘেঁষে বসে মিষ্টি মিষ্টি খোশামোদের কথা বলেছিল, তারপর উগ্রমূর্তি ধারণ করেছিল। ভদ্রঘরের মেয়ের মুখে এমন দেশি বিলিতি খিস্তি-খেউড় আগে কখনো শুনিনি। কিন্তু কোনওই ফল হয়নি। তারপর থেকে সৌরীন একাই আসে।

    সৌরীন বক্সারের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আমার দিকে চোখ পাকিয়ে আছে দেখে আজ আমার মেজাজটা হঠাৎ বিগড়ে গেল। অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। আমি উঠে বাঁ হাতে তার নেকটাই ধরে ডান হাতে তার গালে একটা চড় মারলাম। বললাম, ‘তুমি আমার বাড়িতে ট্রেসপাস করেছ। ভাল চাও তো এখনি বেরোও, নইলে লাথি মেরে প্যান্টুলুন ফাটিয়ে দেব।’

    সৌরীন হতবুদ্ধির মতো গালে হাত দিয়ে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল, তারপর নেড়ি কুত্তার মতো ল্যাজ গুটিয়ে পালাল। সৌরীনের যত বিক্রম মুখে। কাগজের বাঘ।

    কমলেশ আমার প্রাণের বন্ধু। তার বাবা বছর তিনেক আগে অনেক টাকাকড়ি এবং কলকাতায় একটি বসতবাড়ি রেখে মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু মরবার আগে তিনি একটি কুকার্য করেছিলেন, একমাত্র ছেলের সঙ্গে দেউলিয়া ব্যারিস্টার শৈলেন মজুমদারের মেয়ে মঞ্জরীর বিয়ে দিয়েছিলেন। শৈলেন ব্যারিস্টারের এক সময় খুব ভাল ক্রিমিনাল প্র্যাকটিস ছিল; কিন্তু তিনি নিজেও ছিলেন অমিতব্যয়ী এবং তাঁর স্ত্রী পুত্র কন্যাও তাঁর ধাত পেয়েছিল। ফলে তাঁর প্র্যাকটিস যখন হঠাৎ পড়ে গেল তখন তাঁর ভাঁড়ে মা ভবানী ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি কোনও মতে মেয়েকে পাত্রস্থ করে দায়মুক্ত হলেন এবং পুনর্মুষিকের মতো জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে লাগলেন।

    মঞ্জরী এসে কমলেশের সংসারে পাটরানী হয়ে বসল। বাড়িতে কেবল কমলেশ আর তার বাবা। বিয়ের তিন মাস পরে বাবাও গেলেন। রয়ে গেল শুধু কমলেশ।

    কমলেশ লাজুক এবং মুখচোরা স্বভাবের মানুষ। সুতরাং মঞ্জরীর পোয়া বারো। বিয়ের ছ’ মাস যেতে না যেতে সে একাধারে বাড়ির কর্তা এবং গিন্নী হয়ে দাঁড়াল। নিজের ইচ্ছেমতো সিনেমা দেখতে যায়, বন্ধুদের নিয়ে থিয়েটার দেখে, নিজের বাপের বাড়ির সকলকে নেমন্তন্ন করে খাওয়ায়, কমলেশের অনুমতি নেওয়া দূরের কথা, তাকে জানায় পর্যন্ত না। এক মাসের সংসার খরচ এক হপ্তায় শেষ করে দিয়ে কমলেশকে বলে, অত কম টাকায় ভদ্রলোকের সংসার চলে না, আরো টাকা বের করো।

    কমলেশ কোনও দিনই আমার কাছে কিছু লুকোয় না। বিয়ের পরেও আমি তার পারিবারিক জীবনের সব খবরই পেতাম। মঞ্জরী সুন্দরী না হলেও তার চটক আছে। কমলেশ প্রথম কিছু দিন মুগ্ধ হয়েছিল, তারপর নেশার ঘোর কেটে গেল। তখন আমার কাছে এসে কাঁদুনি গাইত আর বলত, খবরদার, তুই বিয়ে করিসনি। বিয়ে করেছিস কি মরেছিস।

    আমার অবশ্য বিয়ে করার ইচ্ছে কোনও দিনই ছিল না এবং কোনও কালে হবেও না। কিন্তু কমলেশের অবস্থা দেখে যেমন রাগ হতো তেমনি দুঃখও হতো।

    ক্রমে কমলেশের শালা সৌরীন তার বাড়িতে এসে আড্ডা গাড়ল। খায়-দায় ঘুমোয়, কমলেশের খরচে দামী সিগারেট টানে, বোনকে ক্রিকেট ম্যাচ টেনিস ম্যাচ দেখাতে নিয়ে যায়। কমলেশ একদিন তাকে বাজার থেকে কি জিনিস কিনে আনতে বলেছিল, সৌরীন এমন চোখ ঘোরাতে আরম্ভ করল যে, তারপর থেকে আর সে সৌরীনকে কোনও কথা বলেনি।

    বছরখানেক পর জানা গেল কমলেশের শ্বশুর-শাশুড়িও বাসা তুলে দিয়ে কমলেশের স্কন্ধে আরোহণের উদ্যোগ আয়োজন করছেন। তাঁদের আরো তিন-চারটি নাবালক পুত্র কন্যা আছে।

    কমলেশ একদিন এসে বলল, ‘আমি এবার পাগল হয়ে যাব। কি করি বল্‌ দেখি?’

    বললাম, ‘বৌকে ধরে বেদম ঠ্যাঙানি দে, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

    সে নিশ্বাস ফেলে বলল, ‘তা যদি পারতাম তাহলে কি আমার এ দুর্দশা হতো। তুই বুদ্ধি দিতে না পারিস আমি নিজেই একটা কিছু করব।. আমি মরীয়া হয়ে উঠছি।’

    ‘আর কী করবি? ডিভোর্স?’

    ‘না না, ডিভোর্সে অনেক হাঙ্গামা। অন্য কিছু।’

    কমলেশ চলে গেল। তারপর মাস দেড়েক তার আর দেখ নেই। আমি কয়েকবার তার বাড়িতে ফোন করে তাকে পেলাম না। সৌরীনের মোটা গলা পেলাম।

    ‘হ্যালো।’

    ‘কমলেশের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’

    ‘কমলেশ বাড়ি নেই।’

    ‘কোথায় গেছে?

    ‘কে জানে কোথায় গেছে!’

    ‘আপনি কে?’

    ‘সৌরীন মজুমদার। আপনি কে?’

    নাম বললাম। প্রশ্ন হলো, ‘কি দরকার?’

    ‘আপনার সঙ্গে কোনও দরকার নেই।’ এই বলে আমি ফোন রেখে দিলাম। তারপর যতবার ফোন করেছি ওই একই প্রশ্নোত্তর।

    দেড় মাস পরে একদিন সকালবেলা কমলেশ আমার বাড়িতে এল। হাতে একটি পুরুষ্ঠু ব্যাগ, ছিঁচকে চোরের মতো সতর্ক ভাবভঙ্গি। দেখেই সন্দেহ হয়। বললাম, ‘কি রে, বৌকে খুন করেছিস নাকি?’

    সে সন্তর্পণে ব্যাগটি কোলে নিয়ে আমার পাশে বসল। বলল, ‘উঁহু। তোর বাড়িতে আর কেউ আছে নাকি?’

    বললাম, ‘বৌও নেই শালাও নেই, আমার বাড়িতে আর কে থাকবে। চাকরটা বাজারে গেছে।’

    কমলেশ তখন অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়ে বলল, ‘আমার বাড়ি আর গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছি।’

    আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম, ‘বলিস কী। বাড়ি গাড়ি বিক্রি করতে গেলি কেন?’

    কমলেশ মুচকি হাসল, উত্তর দিল না। তারপর ব্যাগের ওপর আঙুলের টোকা দিয়ে বলল, ‘এর মধ্যে কী আছে জানিস? টাকা। ব্যাঙ্কে যত টাকা ছিল সব তুলে নিয়েছি। তার ওপর বাড়ি আর মোটর বিক্রির টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা এই ব্যাগের মধ্যে আছে।’

    আমি হতবুদ্ধি হয়ে বললাম, ‘কি সর্বনাশ, এত টাকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিস! কী মতলব তোর?’

    সে বলল, ‘দক্ষিণ কলকাতার একটা ব্যাঙ্কে ভল্ট আছে খবর নিয়েছি। সেখানে তোর নামে লকার ভাড়া নিয়ে টাকাগুলো রাখব।’

    আমার মাথা ঘুরে গেল, ‘তারপর?’

    ‘তারপর আমি হাওয়া হব।’

    ‘হাওয়া হবি!’

    ‘হ্যাঁ, একেবারে নিরুদ্দেশ। পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস।’

    মনটা খানিকক্ষণের জন্য অসাড় হয়ে রইল। স্ত্রী এবং শ্বশুর পরিবারের সম্পর্কে কমলেশের জীবন এতই দুর্বহ হয়েছে যে, সে সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে বৈরাগী হয়ে যেতে চায়। শেষ পর্যন্ত বললাম, ‘আমার নামে তোর যথাসর্বস্ব রাখতে চাস। তার দরকার কি? নিজের নামেই তো রাখতে পারিস?’

    সে বলল, ‘না রে, জানিস তো শ্বশুর ব্যারিস্টার। যদি খবর পায় আমি টাকা লকারে লুকিয়ে রেখেছি অমনি আইনের ফাঁদে ফেলে সব টাকা হজম করবে।’

    ‘আর আমি যদি টাকা হজম করি?’

    কমলেশ ব্যাগ হাতে উঠে দাঁড়াল, ‘তুই যদি হজম করিস বুঝব আমার টাকার সদ্‌গতি হলো। নে ওঠ, এখনি ব্যাঙ্কে যেতে হবে।’

    ট্যাক্সি চড়ে দক্ষিণ কলকাতার ব্যাঙ্কের দিকে যেতে যেতে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোথায় গিয়ে অজ্ঞাতবাস করবি কিছু ঠিক করেছিস?’

    ‘সব ঠিক করেছি। কিন্তু একথা কেবল তুই জানবি আর আমি জানব।’ কমলেশ তার অজ্ঞাতবাসের আস্তানা কোথায়, আমাকে বলল।

    চড় খেয়ে সৌরীন প্রস্থান করবার পর আমি বাজার করতে বেরুলাম। হোমিও দোকানে গিয়ে ওষুধ কিনলাম। আরো অনেক টুকিটাকি। কমলেশ যদিও কাপড়চোপড়ের কথা লেখেনি, তবু একজোড়া ধুতি আর তিনটে গেঞ্জি কিনে নিলাম। নিজের সম্বন্ধে তার বড় গাফিলতি।

    দিনটা নিঃসঙ্গ আলস্যে কাটল। সংসারে আমি একা; কেবল একটি তিনতলা বাড়ি আছে। নীচের তলায় আমি থাকি, উপরের দু’টো তলা ভাড়া দিয়েছি, সেই ভাড়া থেকে আমার জীবিকা নির্বাহ হয়।

    রাত্রি এগারোটার সময় স্টেশনে গিয়ে একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধরলাম। সারারাত গাড়ি থামতে থামতে চলল। তারপর ভোরবেলা একটি ছোট্ট স্টেশনে নেমে পড়লাম।

    রোদ উঠেছে, সোনালী কাঁচা রোদ। স্টেশনের বাইরে রেল কর্মচারীদের কোয়ার্টার এবং কয়েকটি টিনের ঘর। মুদির দোকানের ঝাঁপ সবে মাত্র উঠছে। আমি ব্যাগ হাতে গিয়ে দাঁড়ালাম, মুদি হেসে বলল, ‘আসুন কর্তা। চা তৈরি হচ্ছে। সাইকেল চাই তো?’

    বললাম, ‘সাইকেল চাই বৈকি। সাইকেল চালু অবস্থায় আছে তো?’

    ‘আজ্ঞে আছে। আসুন, ভেতরে এসে বসুন।’

    মুদির দোকানে মুড়িমুড়কি সহযোগে চা খেলাম, তারপর সাইকেলের পিছনে ব্যাগ বেঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সাইকেলের ভাড়া দৈনিক চার আনা; কাল সকালে এসে মুদিকে সাইকেল ফেরত দেব।

    মেটে রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে চলেছি। রাস্তায় লোকজন নেই, দু’পাশের দৃশ্য কখনো একটু শিলাকীর্ণ কখনো দূর্বাশ্যামল। মেটে রাস্তাটি দক্ষিণ দিকে বেঁকে গেছে, কোথাও সরু শান্ত একটি নদীর গা ঘেঁষে চলেছে। দূরে দূরে তালগাছ খেজুরগাছের গুচ্ছ।

    প্রায় তিন মাইল সাইকেল চালাবার পর সামনে একটি গ্রাম নজরে এল। বাঁশঝাড় ঘেরা আদিবাসীদের গ্রাম, আশেপাশে হাঁস মুরগী চরে বেড়াচ্ছে। আরো কাছে গিয়ে দেখলাম, গ্রামের কিনারায় পাকুড় গাছের তলায় একটি যুবতী মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, বোধ হয় আমাকে দেখতে পেয়েই ছুটে গ্রামের মধ্যে চলে গেল।

    পাকুড় তলায় সাইকেল থেকে নেমে আমি সজোরে কয়েকবার ঘন্টি বাজালাম। গ্রাম থেকে নয়া পয়সার মতো এক পাল ছেলেমেয়ে পিলপিল করে বেরিয়ে এল, তাদের পিছনে কমলেশ।

    কমলেশ হাসিমুখে বলল, ‘এলি? আয় আয়। তুই আসছিস আমি আগেই খবর পেয়েছি।’

    যে মেয়েটা পাকুড় তলায় দাঁড়িয়েছিল সেই নিশ্চয় ছুটে গিয়ে খবর দিয়েছিল। এবার লক্ষ্য করলাম কমলেশের বেশ ছিরি হয়েছে, গায়ে মাছি পিছলে পড়ে। তবু প্রশ্ন করলাম, ‘আছিস কেমন?’

    ‘খাসা আছি।’ সে যেন আরো কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল।

    কমলেশের কুটির গ্রামের অন্য প্রান্তে। আমরা মিছিল করে সেই দিকে চললাম। আগে আগে কমলেশ, তার পিছনে আমি, আমার পিছনে অর্ধনগ্ন ছেলেমেয়ের দল। গ্রামের মেয়ে-পুরুষ নিজের নিজের কুটির থেকে দাঁত বার করে আমাকে অভ্যর্থনা করল।

    কমলেশের কুটির দেখা গেল। সামনের রোয়াকে এক সারি লোক বসে আছে। তারা ওষুধ নিতে এসেছে। কমলেশ গ্রামের অবতৈনিক ডাক্তার।

    কুটিরে ফিরেই কমলেশ ডাক্তারি করতে বসে গেল। আমি ব্যাগের মধ্যে সেরখানেক লবঞ্চুষ এনেছিলাম, তাই শিশুদের মধ্যে বিতরণ করলাম। তারা লবঙুষ চুষতে চুষতে হর্ষকাকলি করতে করতে চলে গেল।

    কমলেশও চটপট রুগীদের ওষুধ দিয়ে বিদেয় করল। তারপর আমরা রোয়াকের ওপর মুখোমুখি বসলাম। কমলেশ মুচকি হেসে প্রশ্ন করল, ‘তারপর শত্রুপক্ষের খবর কি?’

    বললাম, ‘কাল শত্রুপক্ষের সেনাপতি এসেছিল, তার গালে একটা চড় মেরেছি।’

    কমলেশ হো হো করে হেসে উঠল, ‘সত্যি চড় মেরেছিস! আহা, আমি দেখতে পেলাম না।’

    বললাম, ‘যাকে বাড়ি বিক্রি করেছিলি সে এখন বাড়ি দখল করেছে, তোর শালা আর বৌ বাপের বাড়িতে ফিরে গেছে। তাদের আর সে জৌলুস নেই। থিয়েটার সিনেমা দেখা বন্ধ। পাগলের মতো তোকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।’

    এই সময় কুটিরের ভিতর থেকে একটি ষোল-সতেরো বছরের শ্যামাঙ্গী মেয়ে এসে আমার সামনে এক বাটি গরম দুধ এবং কিছু ক্ষীরের মণ্ড রাখল। মনে হলো এই মেয়েটাই আমার প্রতীক্ষা করছিল। দেখলাম তার মুখে একটু চাপা হাসি খেলা করছে, সে আমার প্রতি সকৌতুকে কটাক্ষপাত করে আবার ভিতরে চলে গেল।

    আগে যতবার এসেছি, কমলেশকে নিজেই নিজের রান্নাবান্না করতে দেখেছি। এ মেয়েটাকে বোধ হয় সম্প্রতি ঘরের কাজ করার জন্যে রেখেছে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘এ মেয়েটাকে কোথা থেকে জোগাড় করলি?’

    কমলেশ অপ্রস্তুতভাবে কিছুক্ষণ ঘাড় হেঁট করে রইল, তারপর মুখ নীচু করেই অস্পষ্ট, স্বরে বলল, ‘লখিয়া আমার বৌ।’

    আঁতকে উঠলাম, ‘অ্যাঁ! আবার বিয়ে করেছিস?’

    কমলেশ বলল, ‘কি করব ভাই। আমার উপায় ছিল না। গাঁয়ের মোড়লের আমাশা হয়েছিল, আমি ওষুধ দিয়ে সারিয়েছিলাম। সেরে উঠে মোড়ল বলল—তুমি মস্ত বড় ডাক্তার, গাঁয়ের অনেক উপকার করেছ, আমরা তোমার বিয়ে দেব, তুমি যদি একলা থাকো সেটা আমাদের ভারি লজ্জার কথা হবে।… আমি অনেক না না করলাম, কিন্তু ওরা শুনল না। লখিয়া হচ্ছে মোড়লের ভাগনী। একদিন লখিয়াকে এনে আমার সঙ্গে মালা বদল করিয়ে বিয়ে দিল। তারপর গাঁ-সুদ্ধ মেয়ে-মদ্দ মদ খেয়ে সারা রাত নাচল আর ঢোল মাদল বাজাল। এর পর আমি আর কি করতে পারি বল্‌।’

    আমি একটু মুহ্যমান হয়ে পড়লাম। পৃথিবীতে ভালমানুষ হয়ে লাভ নেই; ভালমানুষ পেলে সবাই জুলুম করে, এমন কি আদিবাসী পর্যন্ত। কমলেশ একটা বৌ নিয়েই নাকানি চোবানি খাচ্ছে, এখন তার দুটো বৌ হলো। শেষ পর্যন্ত হয়তো এ গ্রাম ছেড়ে পালাতে হবে।

    লখিয়া এসে দুধের বাটি আর রেকাব তুলে নিয়ে গেল, তারপর ফিরে এসে কমলেশের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে তার কানে কানে কি বলল; কমলেশ ঘাড় নেড়ে সায় দিল। তখন লখিয়া ছুটে বাইরে চলে গেল।

    কমলেশকে প্রশ্ন করলাম, ‘কতদিন বিয়ে হয়েছে?’

    সে বলল, ‘মাস দুই হলো। গতবার তুই এসেছিলি। তার দশ-বারো দিন পরে।’

    ‘দেখতে তো ভালই। স্বভাব-চরিত্র কেমন?’

    কমলেশ একটু চুপ করে রইল, তারপর সহজ মোহমুক্ত স্বরে বলল, ‘ভারি মিষ্টি স্বভাব। মঞ্জরীর মতো নয়। ও এসে অবধি আমাকে ঘরের কাজ আর কিছু করতে হয় না। শুধু ডাক্তারি করি।’

    ‘হুঁ। এখন তোর কানে কানে কথা বলে কোথায় গেল?’

    কমলেশ হাসল, ‘গাঁয়ের একটা বুড়োর গেঁটে বাত হয়েছিল, নড়তে পারত না, তাকে সারিয়েছিলাম। সে খুশি হয়ে আমাকে একটা মোরগ দেবে বলেছিল। আজ তুই এসেছিস তাই লখিয়া মোরগ আনতে গেল। আজ ফাউল কারি হবে।’

    দুপুরবেলা নদীতে স্নান করে এসে দু’জনে ফাউল কারি খেলাম। লখিয়া যদিও ছেলেমানুষ কিন্তু রাঁধে ভাল। অন্তত কমলেশের চেয়ে ভাল রাঁধে।

    তারপর ঘরের মেঝেয় মাদুর পেতে দুই বন্ধু পাশাপাশি শুলাম। সারা দিন গল্প হলো। বুঝলাম কমলেশ লখিয়াকে বিয়ে করে সুখশান্তির স্বাদ পেয়েছে। সে আর কোনও দিন সভ্য সমাজের কোলে ফিরে যেতে চাইবে না।।

    রাত্রিটাও দুই বন্ধু এক বিছানায় শুয়ে দুপুর রাত পর্যন্ত গল্প করে কাটালাম। লখিয়া বোধ হয় মামার বাড়ি গিয়ে রাত কাটাল।

    রাত্রে গল্প করতে করতে কমলেশ হঠাৎ বিছানায় উঠে বসল, ‘হ্যাঁরে, তুই বিয়ে করবি? ফুলিয়া নামে একটা মেয়ে আছে, লখিয়ার সখী। ভারি ভাল মেয়ে, ঠিক লখিয়ার মতো স্বভাব। দেখতেও ভাল! বিয়ে করিস তো বল্‌ সম্বন্ধ করি।’

    আমিও উঠে বসে বললাম, ‘খবরদার। তুই দুটো বিয়ে করেছিস, ইচ্ছে হয় আরো পাঁচটা বিয়ে কর। আমি ও-সবের মধ্যে নেই। সভ্য বৌ, জংলী বৌ কিছুই আমার চাই না। পৃথিবীতে একলা এসেছি একলা চলে যাব। অন্তত মেয়েমানুষকে কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছিনে।’

    কমলেশ বলল, ‘তুই কাপুরুষ। এখন ঘুমিয়ে পড়, কাল আবার ভোরবেলায় উঠতে হবে।’

    পরদিন ভোর না হতে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। পৌনে সাতটার সময় ট্রেন আছে, বিকেলবেলা কলকাতায় পৌঁছুবে।

    কমলেশ গ্রামের কিনারা পর্যন্ত আমার সঙ্গে এল। আমি যখন সাইকেলে চড়তে যাচ্ছি তখন সে বলল, ‘দ্যাখ, এবার যখন আসবি এক জোড়া লালপেড়ে শাড়ি আনিস। ওকে এখনো কিছু দিইনি। শৌখীন শাড়ি নয়, গড়গড়ে মোটা শাড়ি আনবি। নইলে গাঁয়ের অন্য মেয়েদের হিংসে হবে।’

    ‘আচ্ছা—বলে আমি বেরিয়ে পড়লাম।’

    যেতে যেতে নানান কথা মনে আসতে লাগল। শহরের সভ্য জীবন তো বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। শান্তি নেই, স্বচ্ছন্দতা নেই, আনন্দ নেই। কমলেশ বেশ আছে, জীবন যন্ত্রণার সমাধান করে নিয়েছে। আমিও যদি ওর সঙ্গে জুটে যাই—

    ১৮ জুলাই ১৯৬৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172 173 174 175 176 177 178 179 180 181 182 183 184 185 186 187 188 189 190
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলৌকিক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }