Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প2026 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রেম

    প্রেম

    মাত্র বারো ঘণ্টা তারা একসঙ্গে ছিল। অসিতা আর সুপর্ণ। সুপর্ণ অফিসের কাজে একদিনের জন্যে বোম্বাই থেকে কলকাতা যাচ্ছিল। আর অসিতা কলকাতা থেকে বোম্বাই এসেছিল তার দাদার কাছে। তার দাদা বোম্বাই-এ বড় চাকরি করেন, অসিতার একটি বিয়ের সম্বন্ধ করেছিলেন এবং পাত্রপাত্রীর দেখাশোনার জন্যে তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। পাত্রপাত্রী দু’জনেই দু’জনকে পছন্দ করেছে। তারপর সাতদিন বোম্বাই-এ কাটিয়ে অসিতা কলকাতায় ফিরে যাচ্ছে। এরপর অভিভাবকেরা যথাকৰ্তব্য করবেন।

    ভোরবেলা সান্টাক্রুজ বিমানবন্দর থেকে প্লেন ছাড়ল। ক্যারাভেল প্লেন, ঘণ্টা তিনের মধ্যে কলকাতা পৌঁছে যাবে।

    অসিতা আর সুপর্ণ পাশাপাশি সীট পেয়েছিল। প্লেন আকাশে উঠলে তারা অন্য যাত্রীদের লক্ষ্য করল, কিন্তু বাঙালী আর কেউ থাকলেও চেনা গেল না। পরিদর্শন শেষ করে তারা পাশের দিকে চোখ ফেরাল। সুপর্ণ দেখল, তার পাশে বসে আছে একটি ছোটখাটো সুশ্রী মেয়ে; তার সাজ-পোশাক শাড়ি পরার ভঙ্গি দেখে সন্দেহ থাকে না, সে বাঙালী মেয়ে। অসিতা দেখল, বিলিতি পোশাক-পরা সাতাশ-আটাশ বছরের সুদর্শন যুবা, বাঙালী কিনা চেনা যায় না।

    সুপর্ণর মুখে হাসি ফুটল, সে বলল—‘আমিও বাঙালী।’

    অসিতা লজ্জা-লজ্জা হাসল—‘আমি আন্দাজ করেছিলুম, কিন্তু—’

    সুপর্ণ বলল—‘কিন্তু বিজাতীয় পোশাক দেখে নিঃসন্দেহ হতে পারেননি। আপনি কি বম্বেতেই থাকেন?’

    ‘না, কলকাতায় থাকি। বম্বেতে আমার দাদা থাকেন।’

    ‘ও-বেড়াতে এসেছিলেন। আপনার দাদার নাম কি?’

    অসিতা নাম বলল। সুপর্ণ বলল—‘আমি চিনি না।’

    ‘আপনি বুঝি বম্বেতেই থাকেন?’

    ‘বছরখানেক আছি। তবে আমার বাউণ্ডুলে চাকরি, কবে কোথায় বদলি হয়ে যাব কিছু ঠিক নেই।’

    এয়ার হোস্টেস এসে সকলকে ব্রেকফাস্ট দিয়ে গেল। খেতে খেতে দু’জনে গল্প করতে লাগল। সহজ সরল গল্প; কার বাড়িতে কে কে আছে, কে কোন দেশে বেড়াতে গিয়েছে, কোন লেখক কার প্রিয়, এইসব। তারা যে দু’জনেই অবিবাহিত, প্রশ্ন না করেও তা জানতে পারল।

    হঠাৎ কো-পাইলট এসে যাত্রীদের সামনে দাঁড়াল, হাত তুলে বলল—‘একটি নিবেদন আছে। ভয় পাবেন না। ইঞ্জিন একটু গোলমাল করছে, আমাদের ঘণ্টাখানেকের জন্যে নাগপুরে নামতে হবে।’

    যাত্রীরা উদ্বিগ্ন মন নিয়ে বসে রইলেন। অসিতা আর সুপর্ণ পরস্পরের মুখের পানে চেয়ে হাসল। যেন ভারি সুখবর।।

    প্লেন নাগপুরে নামল। ইঞ্জিনের ত্রুটি কিন্তু সহজে মেরামত হলো না, প্রায় ন’ ঘণ্টা লেগে গেল। এই ন’ ঘণ্টা সুপর্ণ আর অসিতা একসঙ্গে রইল; এয়ারপোর্টের খাবার ঘরে একসঙ্গে লাঞ্চ খেল, একসঙ্গে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াল, পাশাপাশি বসে গল্প করল। তারপর যখন প্লেনে ওঠবার ডাক পড়ল, তখন দু’জনে উঠে পাশাপাশি বসল। প্লেন ছেড়ে দিল।

    প্লেন যখন দমদমে পৌঁছুল, তখন রাত্রি হয়ে গেছে। দু’জনে প্লেন থেকে নেমে বাইরের ভেস্টিব্যুলে এসে দাঁড়াল। সুপর্ণ বলল—‘দিনটা কোন্‌ দিক দিয়ে কেটে গেল জানতেই পারলাম না।’

    অসিতা একটু ফিকে হাসল, বলল—‘আমার দাদা গাড়ি এনেছেন। চলুন, আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি।’

    সুপর্ণ লোভ দমন করে বলল—‘আপনি যাবেন বারাকপুরে, আপনাদের কষ্ট দেব না। আমি স্টেশন ওয়াগনেই যাব।’ হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল—‘আচ্ছা।’

    অসিতা তার হাতে হাত মেলাল, বলল—‘আচ্ছা।’

    চার বছর কেটে গেছে।

    সুপর্ণ বিয়ে করেছে, একটি ছেলে হয়েছে। ছেলের বয়স যখন বছরখানেক, তখন সুপর্ণ বাঙ্গালোরে বদলি হলো। এর আগে সে বাঙ্গালোরে আসেনি, স্ত্রী-পুত্র নিয়ে এসে উপস্থিত হলো।

    বাঙ্গালোরে বাঙালী বাসিন্দার অভাব নেই, কিন্তু সুপর্ণ যে-পাড়ার বাসা পেয়েছিল, সে পাড়াটি উচ্চবর্গের হলেও সেখানে বাঙালীর সংখ্যা কম। তারা গোছগাছ করে বসবার পর একদিন বিকেলবেলা সুপর্ণর সদর দরজার ঘন্টি বেজে উঠল।

    সুপর্ণ এসে দরজা খুলে দেখল, সামনে দাঁড়িয়ে এক তরুণ বাঙালী মিথুন। যুবকটি অপরিচিত, কিন্তু যুবতীকে দেখেই সুপর্ণ চিনতে পারল—অসিতা। দু’জনেই চক্ষু বিস্ফারিত করে করে চাইল।

    যুবকটি একমুখ হেসে বলল—‘আমার নাম মন্মথ চৌধুরী, কাছেই থাকি। পাড়ায় বাঙালী এসেছেন শুনে এলাম। এ আমার স্ত্রী অসিতা।’

    ‘আসুন আসুন।’ সুপর্ণ তাদের লিভিং রুমে নিয়ে গিয়ে বসাল, নিজের স্ত্রী তৃপ্তিকে ডেকে পরিচয় করিয়ে দিল। তৃপ্তি মেয়েটি কান্তিময়ী হাস্যমুখী গৃহকর্মে নিপুণা। সে অসিতার সঙ্গে গল্প জুড়ে দিল, ছেলেকে এনে দেখাল। কথাবার্তায় জানা গেল অসিতার একটি মেয়ে হয়েছিল, আঁতুড় ঘরেই মারা যায়। তারপর আর হয়নি।

    ওদিকে মন্মথ আর সুপর্ণও খুব গল্প জমিয়েছিল। দু’জনে সমবয়স্ক, কর্মক্ষেত্রেও সমপদস্থ। ঘণ্টাখানেক পরে চা-টা খেয়ে মন্মথরা উঠল, বলল—‘এবার আপনাদের পালা। আমার বাসা কাছেই।’ সে নিজের ঠিকানা দিল। যাবার সময় অসিতা সুপর্ণর পানে চেয়ে একটু মুখ টিপে হাসল। কিন্তু তাদের পূর্ব পরিচয়ের কথা দু’জনেই চেপে গেল।

    পরদিন বিকেলবেলা সুপর্ণ তৃপ্তিকে বলল—‘চল ওদের বাড়ি যাই।’

    তৃপ্তি একটু ভুরু তুলে বলল—‘আজই?’

    ‘দোষ কি?’

    ‘বেশ চল।’

    দু’জনে মন্মথ চৌধুরীর বাড়ি গেল। সেখানে আদর-আপ্যায়ন খাওয়া-দাওয়া। তারা যখন বাড়ি ফেরবার জন্য উঠেছে তখন অসিতা সুপর্ণর দিকে চেয়ে মুখ টিপে হাসল।

    তারপর রোজই যাওয়া-আসা চলতে লাগল। এরা একদিন যায় তো ওরা একদিন আসে। গল্পসল্প হয়, অসিতা অন্য দু’জনের অলক্ষ্যে মুখ টিপে হাসে।

    মাসখানেক এইভাবে চলবার পর ক্রমে মন্মথ আর তৃপ্তি এই যাওয়া-আসার পালা থেকে খসে পড়ে। কেবল সুপর্ণ আর অসিতা আসে যায়। বিকেল হলেই তাদের মন অন্য বাড়ির দিকে টানতে থাকে।

    তিন মাস কেটে গেল। তাদের সম্বোধন ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে নেমে এল। একদিন সুপর্ণ অসিতাদের বাড়ি গিয়ে দেখল মন্মথ বেরুচ্ছে। মন্মথ বলল—‘আমাকে একবার বেরুতে হবে। তুমি বোসো ভাই, পালিও না! আধ ঘন্টার মধ্যেই আমি ফিরব।’

    মন্মথ চলে গেল। অসিতা আর সুপর্ণ টেবিলের দু’পাশে মুখোমুখি বসল। এই তাদের প্রথম জনান্তিকে দেখা। অসিতা মৃদু মৃদু হাসতে হাসতে বলল—‘আমাদের কী হয়েছে বলো দেখি?’

    সুপর্ণ তার পানে চেয়ে গম্ভীর গলায় বলল—‘তোমাকে রোজ একবার না দেখলে থাকতে পারি না।’

    অসিতা বলল—‘আমিও না।’

    ‘কিন্তু আমি তৃপ্তিকে ভালবাসি।—’

    ‘আমিও আমার স্বামীকে ভালবাসি।—তবে এটা কী?’

    রমণীর মন

    রমণীর মন

    কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি। দুপুর রাত্রে গাঁয়ের জমিদার বাড়িতে ডাকাত পড়ল। পঁচিশজন ঘোড়সওয়ার ডাকাত মশাল জ্বালিয়ে বাড়ি ঘেরাও করল।

    জমিদার অবনীধর রায় নিজের শয়নকক্ষে সস্ত্রীক ঘুমোচ্ছিলেন, বাইরে গণ্ডগোল শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। তিনি কড়া মেজাজের মানুষ, ভৃত্য পরিজনের বেয়াদপি সহ্য করেন না; ভাবলেন চাকর এবং দারোয়ানেরা মদ খেয়ে বাইরে হুল্লোড় করছে। তিনি ঘুমচোখে ঘরের দোর খুলে সদর বারান্দায় বেরিয়ে এলেন।

    ডাকাতের সর্দার এবং তার কয়েকজন সঙ্গী ওত পেতে ছিল, তারা একসঙ্গে তাঁর ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ল। অবনীধর ধরাশায়ী হলেন। ডাকাতেরা তাঁকে টেনে তুলে দালানের একটা থামে দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধিল। জমিদারবাবু চিৎকার করে চাকরদের নাম ধরে ডাকতে লাগলেন কিন্তু কেউ এল না। ডাকাতের সর্দার অট্টহাসি হেসে বলল—‘কাকে ডাকছ? কেউ নেই, সব পালিয়েছে।’ তারপর নিজের দলের লোকদের বলল—‘লুট আরম্ভ কর। টাকাকড়ি সোনাদানা সব নেবে, বাজে মাল নেবে না। যাও।’

    লুটপাট শুরু হয়ে গেল। ডাকাতের সর্দার জমিদারের শয়নকক্ষে প্রবেশ করল।

    শ’খানেক বছর আগেকার ঘটনা। সিপাহী যুদ্ধের আগুন নিভেছে কিন্তু ছাই ঠাণ্ডা হয়নি। যেসব সিপাহী ইংরেজের বিরুদ্ধে লড়েছিল তাদের মধ্যে অনেকেই শ্যাম-কুল দু’ই হারিয়েছে। বেশীর ভাগই যুদ্ধবৃত্তি ছেড়ে নিজের গাঁয়ে গিয়ে লুকিয়ে আছে, অল্পসংখ্যক সিপাহী ছোট ছোট দল তৈরি করে ডাকাতি করে বেড়াচ্ছে। তাদের মতলব লুটপাট করে কিছু অর্থ সংগ্রহ করবে, তারপর নতুন জায়গায় গিয়ে ভালমানুষ সেজে সংসার পেতে বসবে।

    পশ্চিম বাংলার রাইনগর গ্রামে এইরকম একদল ডাকাত হানা দিয়েছিল।

    রাইনগরের রায়েরা চার পুরুষে জমিদার। তাঁরা অপব্যয়ী ছিলেন না, চার পুরুষ ধরে অনেক ধনসঞ্চয় করেছিলেন; গ্রামে পাকা বাড়ি বাগান পুকুর দেবমন্দির করেছিলেন। অবনীধর রায় এই বংশের চতুর্থ পুরুষ; বয়স বেশী নয়, অনুমান পঁয়ত্রিশ বছর; যেমন তেজস্বী আকৃতি, তেমনি গম্ভীর রাশভারী প্রকৃতি। বাল্যকালে তাঁর একবার বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু কৈশোর অতিক্রম করবার আগেই সে-স্ত্রী মারা যায়; তারপর অনেকদিন বিয়ে করেননি। বছর পাঁচেক আগে দ্বিতীয়বার দার পরিগ্রহ করেছেন। নতুন স্ত্রী সরযূর বয়স এখন কুড়ি-একুশ। সন্তানাদি হয়নি। বেশ সুখে শান্তিতে দিন কাটছিল, হঠাৎ দুপুর রাত্রে ডাকাতদের আক্রমণ। যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত। মুহূর্তমধ্যে সব তচনচ হয়ে গেল।

    সরযূর ঘুম একটু দেরিতে ভেঙেছিল। সে আঁচল-খসা গায়ে বিছানায় উঠে বসে ব্যাকুল চোখে এদিক ওদিক চাইছিল। ঘরের কোণে ঘৃত-প্রদীপ জ্বলছিল; তারি মৃদুস্নিগ্ধ আলোয় সরযূকে দেখা যায়। গায়ের রঙ একটু চাপা, কিন্তু মুখ ও দেহের গড়ন অতুলনীয়। রজনীগন্ধার ছড়ের মতো কৃশাঙ্গী, কিন্তু সর্বাঙ্গে ভরা যৌবনের প্রাচুর্য। কাঁধে পিঠে চুলের ঢাল এলিয়ে পড়েছে।

    বাঁ হাতে মশাল, ডান হাতে প্রকাণ্ড কাটারি নিয়ে একটা দৈত্যের মতো লোক ঘরে ঢুকছে দেখে সরযূ ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠল—‘কে! কে তুমি! কি চাও?’

    ডাকাতের সর্দার উত্তর দিল না, রক্তাভ চোখ মেলে খাটের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। সরযূ গলার মধ্যে অব্যক্ত শব্দ করে আঁচলে মুখ ঢাকল। এই ভীষণাকৃতি লোকটার দিকে তাকাতেও ভয় করে।

    লোকটা খাটের পাশে এসে দাঁড়াল, কিছুক্ষণ সরযূর স্খলিত-বসন অর্ধনগ্ন দেহের পানে চেয়ে থেকে কর্কশ স্বরে বলল—‘মুখ খোলো, নইলে কাপড়ে আগুন লাগিয়ে দেব।’

    কাঁপতে কাঁপতে সরযূ মুখ খুলল, কিন্তু চোখ বুজে রইল। লোকটা মশাল তার মুখের কাছে এনে ভাল করে মুখখানা দেখল, তারপর আগের মতোই কঠিন স্বরে বলল—‘এস আমার সঙ্গে। আমরা লুট করতে এসেছি, তোমাকেও লুটে নিয়ে যাব। আজ থেকে তুমি আমার।’

    সরযূ বিভীষিকাপূর্ণ চোখ খুলে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। ডাকাত সর্দার অমনি কাটারি উঁচিয়ে তাকে মারবার উপক্রম করল। সরযূ আর সহ্য করতে পারল না, অজ্ঞান হয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল।

    ডাকাত সর্দার কাটারি কোমরে গুঁজে সরযূকে এক হাতে জড়িয়ে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে কাঁধে ফেলল, যেন তার দেহটা শিশুর দেহ। তারপর মশাল তুলে ধরে ঘরের বাইরে চলল।

    বাড়ির অন্য ঘরগুলাতে নানারকম শব্দ হচ্ছে, খটাখট ঝনঝন। তার সঙ্গে ডাকাতদের কর্কশ চিৎকার। তারা বাক্স-পেটরা সিন্দুক ভেঙে লুট করছে।

    এক ঘণ্টা পরে ডাকাতেরা পোঁটলা হাতে নিয়ে বেরিয়ে এল। তখন কৃষ্ণাষ্টমীর চাঁদ গাছের মাথা ছাড়িয়ে উঁচুতে উঠেছে। জমিদারবাবু থামে বাঁধা ছিলেন, সর্দার সরযূর সংজ্ঞাহীন দেহ কাঁধে নিয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়াল, অট্টহাসি হেসে বলল—‘আমরা চললাম জমিদারবাবু। তোমার বৌকেও নিয়ে চললাম। তুমি আবার বিয়ে কোরো।’

    তারপর ডাকাতেরা মশাল নিভিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসল, চাঁদের আলোয় ঘোড়া ছুটিয়ে দিল।

    গ্রামের উত্তর দিকে ক্রোশখানেক দূরে বন আরম্ভ হয়েছে। দশ ক্রোশ জুড়ে ঘন শাল-পিয়ালের বন। ডাকাতেরা বনের মধ্যে প্রবেশ করল।

    বনের মাঝখানে একটুখানি খোলা জায়গা। প্রকাণ্ড গাছগুলো যেন চারিদিক থেকে এগিয়ে আসতে আসতে মন্ত্রপূত গণ্ডীর বাইরে থেমে গেছে। ডাকাতেরা এইখানে এসে ঘোড়া থেকে নামল। চাঁদের আলো এখন বেশ উজ্জ্বল হয়েছে, মুখ চেনা যায়। ডাকাত সর্দার সরযূর অচৈতন্য দেহ এক পাশে ঘাসের উপর শুইয়ে দিয়ে অন্য ডাকাতদের বলল—‘ভাই সব, আজ আমাদের শেষ ডাকাতি। আজ আমরা যা লুট করেছি তাতে অনেকদিন চলবে। এস, লুটের মাল ভাগ করে নিই। তারপর যার যেদিকে ইচ্ছে চলে যাব, আর আমাদের দেখা-সাক্ষাৎ হবে না।’

    সকলে সায় দিল। তারপর লুটের সোনা রুপো গয়না টাকা মোহর সমান ভাগ করে যে-যার পুঁটলিতে বাঁধল, ঘোড়ায় চড়ে একে একে দু’য়ে দু’য়ে ভিন্ন ভিন্ন দিকে চলে গেল। রয়ে গেল কেবল সর্দার।

    সকলে অন্তর্হিত হবার পর সর্দার সরযূর পাশে ঘাসের ওপর গিয়ে বসল। সরযূর দেহ শিথিল, মুখে গভীর নিদ্রার ভাবহীনতা; এখনো তার জ্ঞান হয়নি। সর্দার তার মুখের কাছে মুখ ঝুঁকিয়ে দেখল, বুকের মাঝখানে হাত রেখে বুকের ধুকধুকুনি অনুভব করল। তারপর তার দেহের ঊর্ধ্বভাগ সবলে টেনে নিয়ে নিজের বুকে চেপে ধরল।

    এই সময় সরযূর জ্ঞান হলো। তার শরীরের স্নায়ুপেশী শক্ত হলো, সে চোখ খুলে চাইল, তারপর শিউরে উঠে চোখ বন্ধ করল। তার শরীর আবার শিথিল হয়ে এলিয়ে পড়ল।

    সর্দার সেই অবস্থাতেই সরযূকে পাঁজাকোলা করে তুলে উঠে দাঁড়াল, একবার চারদিকে ঘাড় ফেরাল। কেউ কোথাও নেই, কেবল ঘোড়াটা চাঁদের আলায় কিছু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। সর্দার তখন সরযূকে বুকের কাছে নিয়ে একটা গাছের অন্ধকার ছায়ার দিকে চলল।…

    রাত্রি শেষ হয়ে আসছে, চাঁদ পশ্চিম দিকে একটু ঢলেছে। বনের মধ্যে পাখিরা থেকে থেকে ডেকে উঠছে। সর্দার সরযূকে কাঁধে ফেলে গাছের ছায়া থেকে বেরিয়ে এল। ঘোড়ার কাছে এসে এক লাফে ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসল, তারপর উত্তর দিক লক্ষ্য করে ঘোড়া চালাল।

    জমিদার অবনীধর রায় সারা রাত্রি থামে বাঁধা রইলেন। তাঁর চাকর-বাকর ডাকাতদের সাড়া পেয়ে পালিয়েছিল, তারা আর ফিরে এল না। ডাকাতের হাতে যদি বা প্রাণ বেঁচেছে, ফিরে এলে মালিকের হাতে প্রাণ যাবে। তারা দেশান্তরী হলো।

    রাত্রে গ্রামবাসীরা সবাই জানতে পেরেছিল যে, জমিদারের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে, কিন্তু কেউ দোর খোলেনি। সুর্যোদয়ের পর যখন তারা নিঃসংশয়ে বুঝল যে, ডাকাতেরা চলে গেছে তখন গুটি গুটি এসে জমিদারের বাড়িতে উপস্থিত হলো। ডাকাত পড়েছিল শুনে তারা ঘোর বিস্ময় প্রকাশ করল, তারপর জমিদারবাবুর বন্ধন খুলে দিল। অবনীধর রায় গুরুতর আহত হননি বটে, কিন্তু তাঁর দেহ অক্ষত ছিল না। উপরন্তু তাঁর দেহের চেয়ে মনের ক্ষতই বেশী হয়েছিল। গ্রামবাসীরা যখন শুনল যে, ডাকাতেরা তাঁর স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে তখন তাদের বিস্ময় ও হাহুতাশ চতুর্গুণ বেড়ে গেল।

    একজন মাতব্বর লোক বলল—‘কালে কালে এসব হচ্ছে কি! আগেও ডাকাত পড়ত কিন্তু তারা মেয়েমানুষের গায়ে হাত দিত না। এরা নিশ্চয় বাংলা দেশের ডাকাত নয়, চাষাড়ে খোট্টা ডাকাত, তাই এত আস্পর্ধা।’

    জমিদারবাবু বললেন—‘ডাকাতের সর্দারকে আমি চিনতে পেরেছি।’

    ‘অ্যাঁ! চিনতে পেরেছেন! কে? কে?’

    ‘খগেশ্বর নন্দী।’

    ‘অ্যাঁ? খগা! খগা নন্দী! তার এই কাজ!’

    দশ বছর আগে খগা ওই গ্রামেরই ছেলে ছিল। জন্মাবধি দূরন্ত এবং দুঃশীল, যতই তার বয়স বাড়তে লাগল ততই সে অসহ্য রকম দুরাচার হয়ে উঠল। তারপর একদিন সে এমন একটা অকথ্য দুষ্কার্য করল যে, জমিদার অবনীধরবাবু তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিলেন। গ্রামে এক বুড়ি পিসী ছাড়া খগার কেউ ছিল না; সে গ্রাম ছেড়ে চেলে গেল, শহরে গিয়ে ইংরেজের সিপাহী দলে ভর্তি হলো। সেই থেকে গ্রামের লোক তার কোনও খবর রাখত না, এতদিন পরে আবার তার আবির্ভাব।

    হপ্তাখানেকের মধ্যে জমিদারবাবু সুস্থ হয়ে উঠলেন। কিন্তু তাঁর মনের মধ্যে আগুন জ্বলছে। চার পুরুষের সঞ্চিত টাকাকড়ি সোনাদানা গিয়েছে যাক; জমিদারী আছে, টাকা আবার হবে। কিন্তু ডাকাত তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে এই মর্মদাহ নিরন্তর তাঁকে দগ্ধ করছে। সতীসাধ্বী সরযূ অবশ্য আত্মহত্যা করেছে; কিন্তু খগা যতদিন বেঁচে আছে ততদিন তাঁর বুকের আগুন নিভবে না।

    অবনীধর রায় চারিদিকে গুপ্তচর পাঠালেন। অল্প দিনের মধ্যেই দু’তিন জন গুপ্তচর ফিরে এসে খবর দিল যে, ডাকাতের দল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে, যার যেদিকে খুশি চলে গেছে। অনেক টাকা পেয়েছে, তারা আর ডাকাতি করবে না।

    কিন্তু খগা নন্দী কোথায় গেছে কেউ খবর দিতে পারল না। জমিদার এক হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করলেন, তবু খগা নন্দীর পাত্তা পাওয়া গেল না।

    জমিদার স্থিরবুদ্ধি লোক। তিনি বাছা বাছা চারজন ভোজপুরী জোয়ান জোগাড় করলেন; তারা এমন লোক যে খুন-জখমে পিছপাও হবে না। তাদের কর্তব্যকর্ম বুঝিয়ে দিয়ে তাদের হাতে একখানি করে কাটারি দিলেন, নিজের কোমরে তলোয়ার বাঁধলেন; তারপর পাঁচজনে ঘোড়ায় চড়ে বেরিয়ে পড়লেন। ঘরে বসে খগা নন্দীকে ধরা যাবে না, গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে তাকে খুঁজে বেড়াতে হবে।

    মাস তিনেক জমিদারের বাড়ি বন্ধ রইল, তারপর তিনি সঙ্গীদের নিয়ে ফিরে এলেন। খগেশ্বরকে পাওয়া যায়নি। বাড়ি ফিরে এসে তিনি মাসখানেক বিশ্রাম করলেন, তারপর আবার বেরুলেন। এইভাবে চলতে লাগল। মাসের পর মাস কাটল, বছরের পর বছর ঘুরে গেল, কিন্তু খগার সন্ধান মিলল না।

    দেখতে দেখতে তিন বছর কেটে গেল।

    রাইনগর থেকে আন্দাজ চল্লিশ ক্রোশ উত্তরে গঙ্গার কূলে একটি গ্রাম। গ্রাম না বলে পল্লী বললেই ভাল হয়। কুড়ি পঁচিশটি মাটির কুটির ঘিরে ক্ষেত খামার। পিছনে জঙ্গল, সামনে গঙ্গা। এই পল্লীর পূর্বদিকে ক্রোশ দুই দূরে গঙ্গার ধারে একটি ছোট নগর আছে।

    পল্লীর অধিবাসীরা অর্ধসভ্য আদিম জাতির মানুষ। তারা চাষবাস করে, আবার তীরধনুক নিয়ে বনে শিকারও করে। কদাচিৎ গঙ্গায় তগি ফলে মাছ ধরে খায়; তাদের নৌকো নেই। কখনো বনের কাঠ কেটে নগরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। এইভাবে তাদের বৈচিত্র্যহীন সংকীর্ণ জীবনযাত্রা নির্বাহ হয়।

    খগেশ্বর কয়েক জায়গা ঘুরে শেষে সরযূকে নিয়ে এইখানে বাসা বেঁধেছিল। ঘন সন্নিবিষ্ট পল্লী থেকে একটু দূরে গঙ্গার পাড়ের ওপর কুটির তৈরি করেছিল। কুটির ঘিরে গঙ্গামাটির আল হাঁটু পর্যন্ত উঁচু, তার মধ্যে ছোট্ট একটুখানি শাকসজির বাগান।

    পল্লীবাসীরা প্রথমে তাদের দেখে বেশ কৌতুহলী হয়েছিল; খগেশ্বর ছদ্মনামে নিজের পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে ভাব জমিয়েছিল; গাঁয়ের লোককে বলেছিল—সরযূ তার বৌ, কোনও দুষ্ট জমিদার সরযূর প্রতি কুদৃষ্টি দিয়েছিল, তাই সে বৌ নিয়ে পালিয়ে এসেছে। সরল পল্লীবাসীরা তাই বুঝেছিল এবং সহৃদয়তার সঙ্গে তাদের আশ্রয় দিয়েছিল।

    জমিদারবাবুর অনুমান সত্য নয়, সরযূ আত্মহত্যা করেনি, বেঁচে আছে। কিন্তু তাকে দেখে মনে হয় সে অন্য মানুষ। আগে তার দেহ ছিল কোমল সুকুমার, এখন কঠিন হয়েছে; মুখে হাসি লেগে থাকত, এখন হাসি নেই, জীবনের কঠোর অভিজ্ঞতা মুখে ছাপ মেরে দিয়েছে। সে কোনোকালেই বেশী কথা বলত না, এখন একেবারেই কথা বলে না। তাকে দেখে মনে হয় কাঁচা মাটির পুতুলকে পুড়িয়ে শক্ত করা হয়েছে।

    দুর্দান্ত স্বভাবের খগেশ্বর যখন সরযূকে হরণ করে নিয়ে যায় তখন তার মনে ছিল প্রতিহিংসা আর নারীলিপ্সা; সরযূকে চিরজীবন আঁকড়ে থাকার সংকল্প তার ছিল না; ভেবেছিল দু’চার দিন পরে তাকে কোথাও ফেলে রেখে চলে যাবে। কিন্তু কিছুকাল একসঙ্গে থাকার পর তার মনের ভাব আস্তে আস্তে বদলাতে লাগল। সরযূর রূপ-যৌবনের মোহ তার কাটল না, সে প্রচণ্ড আগ্রহে প্রাণপণে সরযূকে আঁকড়ে রইল; অন্য স্ত্রীলোক সম্বন্ধে তার মন নির্বিকার হয়ে গেল।

    তাদের জীবনযাত্রা বড় বিচিত্র। এক পক্ষে দুর্মদ প্রমত্ততা, অন্য পক্ষে বাক্যহীন হাস্যহীন সমর্পণ। সরযূর যেন স্বাধীন ইচ্ছা নেই; খগেশ্বর যা বলে সে সজীব যন্ত্রের মতো তাই করে। খগেশ্বর তার দেহ দুই বাহুর মধ্যে নিয়ে নিষ্পেষিত করে, কিন্তু তার মনের মধ্যে কী হচ্ছে জানতে পারে না।—রমণীর মন।

    কিছুদিন গঙ্গাতীরের কুটিরে কাটাবার পর একদিন খগেশ্বর সরযূকে বলল—‘একটা মতলব ঠাউরেছি। আমি নগরে যাচ্ছি, ফিরতে বেলা গড়িয়ে যাবে। তুমি রেঁধে বেড়ে রেখো, এসে খাব।’

    সরযূ কোনও প্রশ্ন করল না, কেবল ঘাড় নাড়ল। খগেশ্বর টাকার গেঁজে কোমরে বাঁধল, কাঁধে চাদর ফেলে গঙ্গার ধার বেয়ে ভাটির মুখে চলল। এর আগে খগেশ্বর কখনো সরযূকে ছেড়ে বেশী দূর যায়নি। এখন সে বুঝেছে সরযূ তাকে ছেড়ে পালাতে পারবে না। কোথায় পালাবে?

    দুপুর পেরিয়ে যাবার পর সরযূ ঘরের কাজ সেরে গঙ্গার ধারে গিয়ে বসল। সূর্যের তাপ বেশী নয়, গঙ্গার জলছোঁয়া ঝিরি ঝিরি বাতাস বেশ ঠাণ্ডা। সরযূ দূরের দিকে চেয়ে বসে রইল। চুলে একটু জট পড়েছে, প্রসাধনের কোনও চেষ্টা নেই; তবু তাকে দেখতে ভাল লাগে।

    অনেকক্ষণ বসে থাকার পর সে দেখতে পেল, দূরে ভাটির দিকে গঙ্গার ধারা যেখানে বাঁক নিয়েছে সেইখানে একটি জেলে ডিঙি দেখা দিয়েছে। ডিঙিতে কেবল একটি মানুষ, সে দাঁড় টানছে; সরযূর দিক থেকে তার পিঠ দেখা যাচ্ছে, মুখ দেখা যাচ্ছে না। ডিঙি আরো কাছে এলে সরযূ চিনতে পারল, মানুষটা খগেশ্বর, তার ঘামে-ভেজা গায়ে সূর্যের আলো চকচক করছে, দুই বলিষ্ঠ বাহুতে দু’টি দাঁড় ধরে সে উজান বেয়ে এগিয়ে এসেছে। সরযূর কপালে বিস্ময়ের রেখা পড়ল; সে সেইদিকে চেয়ে রইল।

    প্রায় আধঘণ্টা পরে সরযূ যেখানে বসে ছিল সেইখানে খগেশ্বরের ডিঙি এসে লাগল। খগেশ্বর সরযূর দিকে ঘাড় ফিরিয়ে হা হা করে হেসে উঠল, তারপর বলল—‘এস এস, দাঁড়টা ধর।’ ডিঙির গলুই-এ বাঁধা একটা দড়ির প্রান্ত সরযূর দিকে ছুঁড়ে দিয়ে সে ডিঙি থেকে এক হাঁটু জলে নেমে পড়ল, তারপর ডাঙায় উঠে সরযূর হাত থেকে দড়ি নিয়ে ডিঙিটাকে টেনে বালির ওপর তুলল। সারাক্ষণ সে কথা বলে চলেছে—‘সাত টাকা দিয়ে ডিঙি কিনেছি। কেমন, সুন্দর নয়? ছোট বটে, কিন্তু নতুন; সোলার মতো হালকা, কিন্তু ভারি মজবুত। এই ডিঙিতে চড়ে গঙ্গায় মাছ ধরব। খেপলা জাল কিনেছি। মাছ ধরে নিজেরা খাব, গাঁয়ের লোকদের দেব; বেশী মাছ ধরলে নগরে বিক্রি করব। খুব ক্ষিদে পেয়েছে। নগরে একটা দোকানে জিলিপি আর কাঁচাগোল্লা খেয়েছিলাম, কিন্তু এতখানি দাঁড় টেনে সব হজম হয়ে গেছে। হা হা হা! তোমার জন্যেও মিষ্টি এনেছি, শাড়ি এনেছি, গামছা, আরো কত কী এনেছি—’

    এর পর থেকে ওদের জীবনযাত্রায় একটা নূতনত্ব এল। দুপুরবেলা খাওয়া-দাওয়া সেরে ওরা ডিঙিতে ওঠে, মাঝ গঙ্গায় গিয়ে মন্থর স্রোতের মুখে ডিঙি ভাসিয়ে দেয়। সরযূ ডিঙির গলুই-এ চুপ করে বসে থাকে, খগেশ্বর জাল হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। খেপলা জাল ফেলার কায়দা সে জানে; হাত ঘুরিয়ে জাল ছুঁড়ে দেয়, জাল চক্রাকার হয়ে জলে পড়ে। খগেশ্বর দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে থাকে, জাল ডুবে গেলে আস্তে আস্তে দড়ি টেনে ডিঙির পাশে আনে।

    জালে কখনো ছোট মাছ ওঠে : বাটা চেলা মৌরালা; কখনো বড় মাছ : রুই কাৎলা মৃগেল। বড় মাছ উঠলে খগেশ্বর আহ্লাদে আটখানা হয়ে যায়; সরযূর সাহায্যে মাছ জাল থেকে বের করে ডিঙির খোলের মধ্যে রেখে আবার জাল ফেলে।

    এইভাবে জাল ফেলতে ফেলতে তাদের ডিঙি বাঁকের দিকে ভেসে চলে। যেদিন খগেশ্বর বড় মাছ পায় সেদিন নগরের ঘাটে গিয়ে ডিঙি বাঁধে। সরযূ ডিঙিতেই মুখে ঘোমটা টেনে বসে থাকে, খগেশ্বর মাছ বিক্রি করে। নিজেদের জন্যে একটা মাছ রেখে বাকি মাছ বিক্রি করে। ঘাটেই সব মাছ বিক্রি হয়ে যায়। খগেশ্বর বিক্রির পয়সা সিকি আধুলি যা পায় তাই দিয়ে বাজারে সওদা করে, হাসতে হাসতে ডিঙিতে ফিরে আসে, দাঁড় টেনে ঘরে ফিরে যায়।

    যেদিন জালে চুনো মাছ ছাড়া আর কিছু ওঠে না সেদিন খগেশ্বর বাঁকের মুখ থেকেই ঘরে ফিরে আসে। নিজেদের জন্যে কিছু মাছ রেখে বাকি মাছ সরযূকে দিয়ে বলে, ‘যাও, গাঁয়ে বিলিয়ে এস।’

    সরযূ গামছায় মাছ বেঁধে গাঁয়ে যায়, সেখানে ঘরে ঘরে মাছ বিলোয়। গাঁয়ের মেয়েরা কলকলিয়ে তার সঙ্গে গল্প করে, তাকে কলাটা মূলোটা দেয়; তাই নিয়ে সরযূ ফিরে আসে।

    রাত্রির খাওয়া শেষ হলে সরযূ নদীতে গিয়ে বাসন মেজে আনে। তারপর তার রাত্রি কাটে খগেশ্বরের বাহুবন্ধনের মধ্যে।

    এইভাবে একটি একটি করে বছর কাটতে থাকে। খগেশ্বর মাছ ধরে, সরযূ গৃহকর্ম করে। যে মেয়ে আগে কখনো নিজের হাতে জল গড়িয়ে খায়নি, সে রাঁধে, ঘর ঝাঁট দেয়, কাপড় কাচে, বাসন মাজে। আগেকার কথা তার মনে পড়ে কিনা কে জানে।

    তিন বছর কেটে গেল।

    আষাঢ় মাস আরম্ভ হয়েছে। আকাশে নতুন মেঘ, বিলেকবেলার দিকে বৃষ্টি নামে। গঙ্গায় ইলিশ মাছ দেখা দিয়েছে।

    এইদিন ভোরবেলা খগেশ্বর সরযূকে নিয়ে মাছ ধরতে বেরুল। আকাশ মেঘে ঢাকা, ইলশে-গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। ইলিশ মাছ ধরার এই সময়।

    চার-পাঁচ বার জাল ফেলতেই গোটা পঁচিশ ইলিশ জালে উঠল। খগেশ্বর অট্টহাসি হেসে বলল—‘আজ কার মুখ দেখে উঠেছিলাম। চল ঘরে ফিরি। নগরে যাব না; গাঁয়ের লোকেরা আমাদের অনেক দেয় থোয়, আজ ওদের পেট ভরে ইলিশ মাছ খাওয়াব।’

    ঘরে ফিরে সরযূ একটা মাছ কুটে রাঁধতে বসল। রান্না হলে খগেশ্বর ইলিশ মাছের রাই-ঝাল খেয়ে বিছানায় লম্বা হলো। সরযূ নিজে খেয়ে নদীতে বাসন মাজল। ততক্ষণ বেলা প্রায় তিন প্রহর। সরযূ তখন একটা চুবড়িতে ইলিশ মাছগুলি নিয়ে চুবড়ি কাঁখে গাঁয়ে গেল।

    সরযূকে দেখে গাঁয়ের মেয়ের কলকোলাহল করে যে-যার ঘর থেকে বেরিয়ে এল। ইলিশ মাছ পেয়ে সবাই আনন্দে দিশেহারা। মাছ ভাগ করে নিয়ে তারা বকুল গাছের তলায় সরযূকে ঘিরে গল্প করতে বসল। হাসি-গল্পে ঘণ্টাখানেক কেটে গেল।

    কয়েকটি বালিকা গাঁয়ের দক্ষিণ প্রান্তের মাঠে খেলা করছিল। তারা হঠাৎ ছুটতে ছুটতে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—‘ঘোড়ায় চড়ে পাঁচজন লোক আসছে।’

    পাঁচজন ঘোড়সওয়ার! এমন অভাবনীয় ব্যাপার গাঁয়ে কখনো ঘটেনি। মেয়েরা বাঁধভাঙা জলের মতো সেইদিকে ছুটল। কেবল সরযূ একা বকুলতলায় বসে রইল।

    ‘ঘোড়সওয়ার’ শুনেই সরযূর মনে খটকা লেগেছিল। সে আস্তে আস্তে উঠে একটি কুটিরের পিছনে লুকিয়ে রইল।

    কিছুক্ষণ পরেই মেয়েদের কলকলানির সঙ্গে ঘোড়ার আওয়াজ শোনা গেল। সরযূ আড়াল থেকে কান পেতে শুনতে লাগল। তারপরই শুনতে পেলে একজন পুরুষের গম্ভীর গলা—‘এ গাঁয়ে খগেশ্বর নন্দী নামে কেউ থাকে?’

    অত্যন্ত পরিচিত গলা। সরযূ আর দাঁড়াল না, সকলের দৃষ্টি এড়িয়ে নিজের কুটিরের দিকে ছুটল।

    খগেশ্বর তখনো চিত হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমোচ্ছিল, সরযূ ছুটে এসে তার পাশে হাঁটু গেড়ে বসল, তার বুকের ওপর হাত রেখে ব্যগ্র চাপা গলায় বলল—‘শুনছ? ওঠো ওঠো, ওরা আমাদের ধরতে এসেছে।’

    খগেশ্বর তড়াক করে একেবারে উঠে দাঁড়াল। ঘুম-রাঙা চোখে চেয়ে বলল—‘কারা ধরতে এসেছে?’

    সরযূও উঠে দাঁড়াল, পাংশু মুখে বলল—‘ওরা রাইনগর থেকে।’

    ‘জমিদার!’ দেয়ালের গায়ে খাঁড়ার মতো কাটারিটা ঝুলছিল, খগেশ্বর এক লাফে গিয়ে সেটা হাতে নিল। সরযূ ভয়ার্ত স্বরে বলল—‘না না, ওরা পাঁচজন ঘোড়ায় চড়ে এসেছে। ওদের সঙ্গে তুমি একলা পারবে না। চল আমরা পালিয়ে যাই।’ সরযূ খগেশ্বরের খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াল।

    খগেশ্বর বলল—‘পালিয়ে যাব! কোথায় যাব?’

    সরযূ বলল—‘চল ডিঙিতে করে গঙ্গার ওপারে চলে যাই।’

    খগেশ্বরের মুখে আস্তে আস্তে একটা প্রকাণ্ড নিঃশব্দ হাসি ফুটে উঠল। সে এক খাবলায় সরযূকে শূন্যে তুলে নিয়ে নিজের বুকে চেপে ধরল, তারপর নামিয়ে দিয়ে বলল—‘চল পালাই।’

    টাকার গেঁজে কোমরে বেঁধে নিয়ে, এক হাতে কাটারি অন্য হাতে সরযূর হাত ধরে সে গঙ্গার ধারে গেল; ডিঙি জলে ঠেলে দিয়ে ডিঙিতে দু’জনে উঠে বসল। খগেশ্বর দু’ হাতে দাঁড় নিয়ে জলে ডোবাল; ডিঙি তীরের মতো পরপারের দিকে ছুটে চলল। দুস্তর গঙ্গা, এপার থেকে ওপার দেখা যায় না।

    জমিদার অবনীধর রায় গাঁয়ে খোঁজখবর নিয়ে খোলা তলোয়ার হাতে যখন গঙ্গার তীরে এলেন তখন ডিঙি অনেক দূর চলে গেছে। তার ওপর ছিপছিপ করে বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে। আবছা আলোয় ধূসর জলের ওপর কেবল একটি কালো বিন্দু দেখা যায়।

    ২২ জুন ১৯৬৭

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172 173 174 175 176 177 178 179 180 181 182 183 184 185 186 187 188 189 190
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলৌকিক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }