Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প2026 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সন্ধি-বিগ্রহ

    সন্ধি-বিগ্রহ

    ঘোড়সোয়ারের মতো মোটা ডালের দু’পাশে পা ঝুলাইয়া বসিয়া নিতাইবাবু গভীরভাবে চিন্তা করিতেছিলেন। ঝোঁকের মাথায় যা-হোক একটা কিছু করিয়া ফেলিবার বয়স আর তাঁহার নাই; প্রবীণ সেনাপতির মতো সব দিক দেখিয়া-শুনিয়া অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করিয়া কাজ করিতে হইবে। বিশেষত আজ ব্যাপারটা সত্যই অতিশয় ঘোরালো হইয়া উঠিয়াছে।

    বহু নিম্নে বৃদ্ধ বটগাছের নিচ্ছিদ্র ছায়া মূলের চারি পাশের স্থানটিকে অন্ধকার করিয়া রাখিয়াছে, গাছের ঝুরিগুলা সারি সারি দড়ির মতো ঝুলিতেছে। বেলা মধ্যাহ্ন। নিতাইবাবু উদরের মধ্যে বৃশ্চিক দংশনের মতো একটা জ্বালা অনুভব করিলেন, বুঝিলেন তাঁহার ক্ষুধার উদ্রেক হইয়াছে। তিনি কামিজের পকেট দু’টা আর একবার ভাল করিয়া অনুসন্ধান করিলেন, কিন্তু কিছুই পাইলেন না। তুঁত ফল ও পেয়ারা যে কটা পকেটে ছিল তাহা বহু পূর্বেই নিঃশেষ হইয়া গিয়াছে। চিন্তিতভাবে নিতাইবাবু উপরের দিকে চোখ তুলিয়া চাহিলেন। এতক্ষণ একটা একটানা গুঞ্জন ধ্বনি তাঁহার কর্ণে আসিতেছিল, কিন্তু মানসিক দুশ্চিন্তা হেতু তাহার কারণ তদারক করা হয় নাই। এখন দেখিলেন, তাঁহার মাথায় প্রায় দশ-বার হাত ঊর্ধ্বে একটা মোটা ডাল হইতে প্রকাণ্ড অর্ধচন্দ্রাকৃতি মৌমাছির চাক ঝুলিয়া আছে। নিতাইবাবু তাঁহার ক্ষুধার জ্বালা ও বর্তমান সমস্যা ভুলিয়া কৌতূহলীভাবে কিছুক্ষণ মৌমাছিপূর্ণ চাকটার দিকে চাহিয়া রহিলেন; তারপর অতি সন্তর্পণে দু’টা ডাল নামিয়া বসিলেন। মৌচাকের সান্নিধ্য যে নিরাপদ নয় নিতাইবাবু তাহা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার দ্বারা ভালরূপ জ্ঞাত ছিলেন।

    অতঃপর শাখারূঢ় নিতাইবাবু আবার গালে হাত দিয়া ভাবিতে লাগিলেন। বটগাছের পাশ দিয়া পাকা রাস্তা গিয়াছে, রাস্তার অপর পারে ঠিক বটগাছের সম্মুখেই প্রকাণ্ড হাতা-যুক্ত বাড়ির লোহার ফটক, ফটকের পাশে দরোয়ানের দেউড়ি। নিতাইবাবু যেখানে গাছের উচ্চশাখায় বসিয়া আছেন সেখান হইতে বাড়িখানা ও চতুষ্পার্শ্বের পাঁচিল-ঘেরা ভূভাগ পরিষ্কার দেখা যায়। এমন কি বাড়ি হইতে উঁচু গলায় কথা কহিলে শোনা পর্যন্ত যায়। বাড়ির মধ্যে কাহারা যাতায়াত করিতেছে তাহা পর্যবেক্ষণ করিবারও কোন অসুবিধা নাই।

    কিন্তু প্রধান অসুবিধা—নিতাইবাবুর পক্ষে—এই বাড়িতে প্রবেশ করা। প্রথমত, সদরে দরোয়ান আছে, সুতরাং সেদিক দিয়া প্রবেশ করা চলিবে না। পিছনের দেওয়াল ডিঙাইয়া বাগানে ঢোকা যাইতে পারে, কিন্তু তার পর? বাড়ির ভিতর মাথা গলাইবার উপায় কি? সেখানে বিন্দি আছে, দেখিলেই ধরাইয়া দিবে, দয়ামায়া করিবে না। তা ছাড়া নিতাইবাবুর খুড়ামহাশয় স্বয়ং একটা চাবুক হাতে লইয়া বাড়িময় ঘুরিয়া বেড়াইতেছেন এবং মাঝে মাঝে গর্জন ছাড়িতেছেন। তাঁহার চক্ষুকে ফাঁকি দেওয়া সহজ হইবে না। অবশ্য, কোনও রকমে একবার ঠাকুরমার কাছে গিয়া পৌঁছিতে পারিলে—

    কিন্তু একটা কথা এখনো বলা হয় নাই—নিতাইবাবুর বয়ঃক্রম পূর্ণ নয় বৎসর।

    অদ্য প্রাতঃকালে তিনি একটি গুরুতর দুষ্কার্য করিয়া বাড়ি হইতে প্রস্থান করিয়াছিলেন। কাল সন্ধ্যাবেলা জ্যেষ্ঠা ভগিনী একাদশবর্ষীয়া বিন্দুর সহিত তাঁহার ঝগড়া হইয়াছিল। ফলে, চিরকাল যাহা হইয়া আসিয়াছে, বিন্দি কাকা ও বাবাকে সালিশ মানিয়া মোকদ্দমা জিতিয়া গেল। ক্রুদ্ধ নিতাইবাবু তখন চুপ করিয়া রহিলেন, কিন্তু আজ সকালে শয্যা হইতে উঠিয়াই সে-পরাজয়ের ভীষণ প্রতিশোধ লইলেন। নিতাইবাবু বিন্দির সহিত এক শয্যায় শয়ন করিতেন। প্রভাতে বিন্দি ঘুম ভাঙিয়া দেখিল তাহার মাথায় খোঁপা নাই। বিহ্বলভাবে এদিক-ওদিক চাহিতে দৃষ্টি পড়িল খোঁপাটি অবিকৃত অবস্থায় সম্মুখের দেয়ালে ঘুঁটের মতো আটকাইয়া রহিয়াছে।

    নিতাইবাবু নিজের কার্যের ফলাফল জানিবার জন্য আনাচে কানাচে বেড়াইতেছিলেন, বিন্দির চিল-চিৎকার কর্ণে প্রবেশ করিবামাত্র তিনি বুঝিলেন কাজটা ভাল হয় নাই, একটু বাড়াবাড়ি হইয়া গিয়াছে। তিনি নিঃশব্দে গৃহত্যাগ করিলেন।

    তারপর পাড়ার এদিক-ওদিক বেড়াইয়া, জনৈক প্রতিবেশীর বাগান হইতে কিছু তুঁত ও পেয়ারা সংগ্রহ করিয়া বেলা দশটা আন্দাজ যখন দেখিলেন যে বাড়ির চাকর-বাকর তাঁহাকে খুঁজিতে বাহির হইয়াছে তখন তিনি গোপনে এই বটগাছের শাখায় আশ্রয় লইয়াছেন এবং নিজে অলক্ষ্যে থাকিয়া প্রতিপক্ষের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করিতেছেন।

    কিন্তু বিপদের কথা এই যে, রসদ একেবারে ফুরাইয়া গিয়াছে। খালি পেটে যুদ্ধ কতক্ষণ সম্ভব? নিতাইবাবু কল্পনার চক্ষে দেখিতে পাইলেন এই সময় কি কি খাদ্য বাড়িতে তৈয়ার হইয়াছে; তাঁহার মুখ লালসার প্রাবল্যে শীর্ণভাব ধারণ করিল। কিন্তু তিনি কোমরের কসি শক্ত করিয়া বাঁধিয়া পা দুলাইতে লাগিলেন। কারণ, কল্পনার চক্ষে ভোজ্য বস্তুর সঙ্গে সঙ্গে আর একটি জিনিস তিনি দেখিতে পাইয়াছিলেন—সেটি কাকার হাতের লিক্‌লিকে সরু চাবুকটি।

    অবশ্য প্রহার বস্তুটি নিতাইবাবুর জীবনে নূতন নয়। সামান্য কিলটা চড়টার কথা ছাড়িয়া দিই, সে তো নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা, কিন্তু যাহাকে ‘সাতচোরের মার’ বলে সেইরূপ দুর্জয় প্রহারও তাঁহার ভাগ্যে বিরল নয়—প্রায়ই ঘটিয়া থাকে। বাড়ির লোকের কেমন একটা অভ্যাস হইয়া গিয়াছে, পাড়ার চতুঃসীমায় কোথাও কোনও দুর্ঘটনা ঘটিলেই সকলের সন্দেহ নিতাইবাবুর উপর আসিয়া পড়ে এবং সন্দেহটা যথার্থ কি অলীক তাহা নিরাকরণ হইবার পূর্বেই তাঁহার পৃষ্ঠে ও মস্তকে নানাপ্রকার অপ্রীতিকর বস্তু বর্ষিত হইতে থাকে। এই তো সেদিন, নিতান্ত অকারণেই নিতাইবাবুকে অশেষ লাঞ্ছনা নির্যাতন সহ্য করিতে হইয়াছে।

    এ ব্যাপারে তাঁহার বিন্দুমাত্র দোষ ছিল না; এমন কি, কেমন করিয়া কি হইল, সে বিষয়ে একটা ধোঁকার ভাব তাঁহার মনে রহিয়া গিয়াছিল। বিন্দু ছাদের উপর খেলাঘর পাতিয়াছিল, সেদিন তাহার খেলাঘরে চড়ুইভাতি ছিল। বিন্দু ব্যস্তসমস্তভাবে রান্নার যোগাড় করিতে করিতে গলার হারছড়া ছাদে ফেলিয়াই নীচে নামিয়া গিয়াছিল। এই সুযোগে নিতাইবাবু নেহাৎ পরিহাসচ্ছলেই হারটা গুড়ের বাটিতে ডুবাইয়া আবার যথাস্থানে রাখিয়া দিয়া প্রস্থান করিয়াছিলেন। তাঁহার মনে কোনও দুরভিসন্ধি ছিল না; কেবল ইহাই উদ্দেশ্য ছিল যে, গুড়ের লোভে হারে পিঁপড়া লাগিবে এবং তারপর বিন্দু যখন না দেখিয়া আবার সেটা গলায় দিবে তখন একটা বিশেষ উল্লেখযোগ্য অভিনয় ঘটিয়া যাইবে।

    অভিনয় কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত রকমের হইল। কিয়ৎকাল পরে বিন্দু চিৎকার করিতে করিতে নামিয়া আসিয়া খবর দিল যে, নিতাই তাহার হার লইয়া পলাইয়াছে। নিতাইবাবুকে ধরিয়া আনা হইল, কিন্তু তিনি সবেগে মাথা নাড়িয়া অভিযোগ অস্বীকার করিলেন। গুড়মাখানোর কথাটাও অবস্থাগতিক দেখিয়া চাপিয়া যাইতে হইল। কিন্তু তাঁহার কথা কেহই বিশ্বাস করিল না। কাকা কর্ণে প্যাঁচ দিয়া বলিলেন, ‘কোথায় রেখেছিস নিয়ে আয়, তাহলে কিছু বলব না।’

    কিন্তু যে-জিনিসের সন্ধান জানা নাই তাহা কি করিয়া আনা যাইতে পারে। নিতাইবাবু হার আনিতে পারিলেন না। কানুটি চড়ে উঠিল। তথাপি হার বাহির হইল না। তখন কাকা বেত আনিয়া নিতাইবাবুর পৃষ্ঠ ও নিকটবর্তী আর একটা স্থান রক্তবর্ণ করিয়া দিলেন। নিতাইবাবুর মনে হইতে লাগিল যে ইন্দ্রজাল-প্রভাবে যদি একটা সোনার হার তৈয়ার করিয়া আনিয়া দিতে পারিতেন তাহা হইলে দ্বিরুক্তি না করিয়া তাহাই করিতেন। কিন্তু ভোজবিদ্যায় পারদর্শিতা না থাকায় তাঁহাকে কেবল পড়িয়া পড়িয়া মার খাইতে হইল।

    কাকা অবশেষে ক্লান্ত হইয়া ছাড়িয়া দিয়া বলিলেন, ‘বড় হয়ে এটা দাগী চোর হবে—একেবারে সি ক্লাস। নিয়ে যা আমার সুমুখ থেকে।’

    ইহা দশ-বার দিন আগের ঘটনা। তারপর বিন্দু তাঁহাকে অনেক খোসামোদ করিয়াছে, কিন্তু অত মার খাইবার পর যে সকল নষ্টের গোড়া তাহার সহিত এক কথায় সদ্ভাব স্থাপন করা চলে না; নিতাইবাবু গর্বিতভাবে বিন্দুর সন্ধির প্রয়াস প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন এবং হার সম্বন্ধে একটা গভীর রহস্যময় নীরবতা অবলম্বন করিতেছেন। ইহার কয়েক দিন পরেই সামান্য বিষয় লইয়া কাল রাত্রে আবার বিন্দুর সহিত ঝগড়া বাধিয়া গেল। নিতাইবাবু তাঁহার সঞ্চিত ক্রোধ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করিয়া কাঁচির সাহায্যে বিন্দুর খোঁপা নির্মূল করিয়া দিলেন।

    গাছের ডালে ঠেসান দিয়া বসিয়া পা দুলাইতে দুলাইতে বিন্দুর লুপ্তবেণী মস্তকটির কথা স্মরণ হইতেই নিতাইবাবুর শুষ্ক মুখে একটু হাসি দেখা দিল। আর যাহাই হোক, বিন্দুকে দস্তুরমত জব্দ করা হইয়াছে, তাহাতে সন্দেহ নাই। এখন অন্তত ছয় মাসের জন্য নিশ্চিন্ত—বিন্দু খোঁপা বাঁধিতে পারিবে না। নাঃ—বেড়া বিনুনিও নয়। খোঁপার জায়গাটায় মাংস বাহির হইয়া গিয়াছে।

    কিন্তু এই আনন্দ অধিকক্ষণ স্থায়ী হইল না, জঠরের বৃশ্চিকদংশন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। নিতাইবাবু ভ্রূ কুঞ্চিত করিয়া চারিদিকে দৃষ্টিপাত করিতে লাগিলেন। একটা কাঠবেড়ালী অনেকক্ষণ হইতে পাশের একটা ডাল দিয়া ওঠানামা করিতেছিল, চোখে পড়িলেও নিতাইবাবু ভাল করিয়া লক্ষ্য করেন নাই। কাঠবিড়ালীটা দ্রুতপদে যাতায়াত করিতে করিতে তাঁহার কাছাকাছি আসিয়া থমকিয়া দাঁড়াইয়া পড়িতেছিল, কালো কালো পেঁপের বিচির মতো চোখ দিয়া তাঁহাকে নিরীক্ষণ করিয়া কিচিমিচি শব্দে মন্তব্য প্রকাশ করিতে করিতে চলিয়া যাইতেছিল। নিতাইবাবু এখন তাহার গতিবিধি চক্ষু দ্বারা অনুসরণ করিতে লাগিলেন। তিনি দেখিলেন, কাঠবিড়ালী প্রত্যেক বার নীচে হইতে উপরে আসিবার সময় একটি ছোট্ট ফল মুখে করিয়া আনিতেছে এবং সেটিকে একটি কোটরের মধ্যে রাখিয়া আবার ফিরিয়া যাইতেছে।

    ক্ষুধার সহিত কৌতুহল যোগ দিয়া নিতাইবাবুকে স্থির থাকিতে দিল না। তিনি ধীরে ধীরে নিজের শাখা হইতে নামিয়া আসিয়া যে-শাখায় কাঠবিড়ালীর কোটর ছিল সেই শাখায় উঠিতে আরম্ভ করিলেন। তিনি কোটরের কাছাকাছি পৌঁছিতে না পৌছিতে কাঠবিড়ালী তাঁহাকে দেখিতে পাইয়া উত্তেজিতভাবে কিচিমিচি করিয়া উঠিল; নিতাইবাবু তবু উঠিতে লাগিলেন। কাঠবিড়ালী তখন বেগতিক দেখিয়া কোটর ছাড়িয়া পলায়ন করিল এবং বহু ঊর্ধ্বে একটা সরু ডালে বসিয়া অবিশ্রাম নিতাইবাবুকে গালাগালি দিতে লাগিল।

    নিতাইবাবু তাহার সমস্ত তিরস্কার অগ্রাহ্য করিয়া কোটরের সম্মুখে শাখার দুই দিকে পা ঝুলাইয়া বসিলেন, কোটরে উঁকি মারিয়া দেখিলেন অন্ধকার, কিছু দেখিতে পাইলেন না। মারের ভয় ছাড়া অন্য কোনও ভয় নিতাইবাবুর শরীরে ছিল না, তিনি স্বচ্ছন্দে সেই অন্ধকার গর্তের মধ্যে হাত ঢুকাইয়া দিলেন। উপরে কাঠবিড়ালীর চেঁচামেচি ও গালিগালাজ আরও তীব্র হইয়া উঠিল।

    কনুই পর্যন্ত হাত প্রবিষ্ট করাইয়া দিয়া নিতাইবাবু অনুভব করিলেন যে, তিনি কাঠবিড়ালীর বাসায় পৌঁছিয়াছেন, তুলার মতো নরম তুলতুলে একটি স্থান তাঁহার হাতে ঠেকিল। হাতড়াইতে হাতড়াইতে তিনি দেখিলেন, সেই নরম স্থানটিতে কাঠবিড়ালী তাহার রসদ সঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছে। তিনি আর দ্বিধা না করিয়া এক খাম্‌চায় যতখানি পারিলেন সেই রসদ বাহির করিয়া আনিলেন।

    কাঠবিড়ালী অতিশয় হিসাবী জন্তু। সন্তানসন্ততি এখনও জন্মগ্রহণ করে নাই, বর্ষাকাল আসিতেও অনেক দেরি আছে, ইহারই মধ্যে সে ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবিয়া অনাগত দুর্দিনের জন্য সঞ্চয় করিতে আরম্ভ করিয়াছে। নিতাইবাবু কোলের কাপড়ের উপর শুষ্ক ফলগুলি ঢালিয়া একে একে পরীক্ষা করিতে লাগিলেন। বেশীর ভাগই ছোট ছোট শুকনা ডুমুর, করমচা ও আরও কয়েক প্রকারের নামগোত্রহীন জংলী ফল। তাছাড়া কয়েকটা চীনাবাদাম, ছোলা ও কড়াইয়ের দানা পাওয়া গেল। সেগুলি নিতাইবাবু প্রাপ্তিমাত্র উদরসাৎ করিলেন। দু-তিনটা পুরাতন কাঁঠালবিচি ও হরীতকী ছিল, সেগুলি নিতাইবাবু একবার কামড়াইয়া থু থু করিয়া ফেলিয়া দিলেন। অখাদ্য।

    কোটর হইতে আর এক খাব্‌লা বাহির করিয়া তিনি ক্ষুধিতভাবে পরীক্ষা করিলেন, কিন্তু আর চীনাবাদাম কিংবা ছোলা পাওয়া গেল না। তাহার পরিবর্তে তিনি একটি হারানো জিনিস ফিরিয়া পাইলেন। কয়েকদিন পূর্বে তাঁহার একটি কাচের রঙ্‌চঙা মার্বেল হারাইয়া গিয়াছিল, সেটি রহিয়াছে দেখিলেন। নিতাইবাবু সেটি সযত্নে পকেটে পুরিলেন।

    কাঠবিড়ালীটা তখনও উর্ধ্বে থাকিয়া তর্জন-গর্জন ও লাফালাফি করিতেছিল, একটা কাঁঠালবিচি তাহার উদ্দেশ্যে ছুঁড়িয়া মারিয়া নিতাইবাবু বলিলেন, ‘চোর কোথাকার।’ শব্দভেদী যুদ্ধে ক্রমশ অস্ত্রশস্ত্রের আমদানী হইতেছে দেখিয়া কাঠবিড়ালী রণে ভঙ্গ দিয়া পলায়ন করিল।

    বিমর্ষভাবে আবার নিতাইবাবু স্বস্থানে ফিরিয়া আসিয়া বসিলেন। অপ্রচুর ইন্ধনে তাঁহার জঠরের অগ্নি আবার দ্বিগুণ বেগে জ্বলিয়া উঠিয়াছিল। তিনি শাখায় হেলান দিয়া ঊর্ধ্বমুখে ভাবিতে লাগিলেন, এখন আত্মসমর্পণ করিলে মারের মাত্রা কিছু কমিবে কি-না? বেলা দুইটা বাজিয়া গিয়াছে, সূর্যদেব মাথার উপর হইতে পাশে ঢলিয়া পড়িয়াছেন; গাছের ছায়া বৃক্ষতল ছাড়িয়া সরিতে আরম্ভ করিয়াছে। নিতাইবাবু বিবেচনা করিয়া দেখিলেন, এখন বাড়ি ফিরিলে হয়তো অল্পের উপর দিয়া ফাঁড়াটা কাটিয়া যাইতে পারে। এত বেলা পর্যন্ত অভুক্ত থাকার পর মা ও ঠাকুরমা নিশ্চয় তাঁহাকে রক্ষা করিবেন, হয়তো প্রত্যাবর্তনের সংবাদ কাকার কানে না-উঠিতেও পারে। কিন্তু ওদিকে প্রতিহিংসাপরায়ণা বিন্দি আছে—সে ছাড়িবে না, নিশ্চয় কাকাকে খবর দিবে। তখন কি হইবে?

    নিতাইবাবু গভীর নিশ্বাস মোচন করিলেন। এ অবস্থায় কি করা যায়।

    হঠাৎ বাড়ি হইতে উচ্চ কণ্ঠস্বর শুনিয়া নিতাইবাবু ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিলেন। কান খাড়া করিয়া শুনিলেন দরোয়ান গাড়িবারান্দার তলায় দাঁড়াইয়া বলিতেছে, ‘ক্যঁহি নহি মিলা হুজুর। খোকাবাবু বিলকুল লা-পতা হো গয়ে।’

    কাকাকে দেখা গেল না, কিন্তু তাঁহার ভারী গলার আওয়াজ শোনা গেল, ‘ক্যা বেওকুফ্‌কা মাফিক বোল্‌তা হ্যয়। লা-পতা হোকে কাঁহা যায়েঙ্গে? জরুর কঁহি ছিপে হয়ে হ্যঁয়। মহল্লামে দেখা?’

    ‘জী হুজুর।’

    ‘যাও, ফির্‌ আচ্ছি তরহসে খোজো।’

    গাছের উপর নিতাইবাবু নিজমনে দাঁত খিঁচাইয়া হাসিলেন। এই দুপুর রৌদ্রে দরোয়ানটা তাঁহাকে মিছামিছি চারিদিক খুঁজিয়া বেড়াইতেছে অথচ তিনি হাতের কাছেই রহিয়াছেন, ভাবিতে বড় মধুর লাগিল। তিনি দেখিলেন, বিষন্ন ও বিরক্ত দরোয়ান আবার লাঠি হাতে বাহির হইতেছে।

    বাড়ির ফটক হইতে বাহির হইয়া দরোয়ান নিতাইবাবুর গাছের ছায়ায় আসিয়া দাঁড়াইল। নাগরা জুতা খুলিয়া ভিতরের ধূলা ঝাড়িয়া আবার পরিধান করিল, পাগড়ির পুচ্ছ দিয়া মুখের ঘাম মুছিল, তারপর অর্ধস্ফুট স্বরে কি বলিতে বলিতে প্রস্থান করিল।

    নিতাইবাবুর একবার ইচ্ছা হইল, দরোয়ানের মাথায় একটা কাঁঠালবিচি কিংবা ঐ প্রকার কোনও দ্রব্য ফেলিয়া নিজের স্থিতিস্থান প্রকাশ করিয়া দেন। কিন্তু তিনি সে লোভ সংবরণ করিলেন। এত শীঘ্র আত্মপ্রকাশ করিলে চলিবে না। যদিও পেটের মধ্যে নেংটি ইঁদুর সবেগে ডন্‌ ফেলিতেছে, তথাপি ধৈর্য ধারণ করিতে হইবে। এখনও সময় উপস্থিত হয় নাই।

    দরোয়ান চলিয়া যাইবার কিয়ৎকাল পরে নিতাইবাবু দেখিলেন, ঠাকুরমা বাড়ির ছাদের উপর উঠিয়া আলিসার ধারে দাঁড়াইয়া উৎকণ্ঠিত দৃষ্টিতে এদিক-ওদিক চাহিতেছেন। নিতাইবাবুর মুখ উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল, উৎসাহে তাঁহার মুখ দিয়া প্রায় বাহির হইয়া গেল—‘ঠাকুমা, এই যে আমি এখানে।’ কিন্তু ‘ঠা—’ পর্যন্ত বাহির হইতে-না-হইতে তিনি সবলে দাঁত দিয়া জিব কাটিয়া ধরিলেন। সর্বনাশ! আর একটু হইলেই সব ফাঁস হইয়া গিয়াছিল!

    ঠাকুরমা কিছুক্ষণ নিতাইবাবুর দর্শনাশায় ছাদের এদিক-ওদিক হইতে ব্যাকুলভাবে উকি মারিয়া অবশেষে নীচে নামিয়া গেলেন। যতক্ষণ দেখা গেল, নিতাইবাবু সতৃষ্ণনয়নে সেইদিকে তাকাইয়া রহিলেন। তারপর আবার ধীরে ধীরে ঠেসান দিয়া শুইলেন।

    বাড়িতে যে বেশ একটা সাড়া পড়িয়া গিয়াছে তাহার নিদর্শন মাঝে মাঝে পাওয়া যাইতেছিল। ঝি-চাকরগুলা অনবরত ভিতর-বার করিতেছিল। কাকা জলদগম্ভীর স্বরে মধ্যে মধ্যে তাহাদের ধমকাইতেছিলেন; একবার ঠাকুরমার সঙ্গে কাকার কথা-কাটাকাটি হইল—সে আওয়াজও অস্পষ্টভাবে নিতাইবাবুর কানে পৌঁছিল। শেষে বেলা চারটা বাজিয়া গেল তখন কাকা স্বয়ং খোঁজ করিতে বাহির হইলেন। নিতাইবাবু উপর হইতে গলা বাড়াইয়া তাঁহার ভ্রূকুঞ্চিত উদ্বিগ্ন মুখ দেখিয়া মনে মনে বেশ তৃপ্তি অনুভব করিলেন, আশা হইল আরও কিছুক্ষণ এইভাবে অজ্ঞাতবাস চালাইতে পারিলে হয়তো প্রহারের পালাটা একেবারে বাদ পড়িতেও পারে।

    তিনি পুনশ্চ কোমরের কসি টান করিয়া দিয়া, চক্ষু মুদিয়া পা দুলাইতে লাগিলেন। শরীর কিছু নির্জীব হইয়া পড়িয়াছিল, মাথার উপর মৌচাক হইতে মৌমাছিদের একটানা গুঞ্জন শুনিতে শুনিতে ক্রমে তাঁহার ঈষৎ তন্দ্রাকর্ষণ হইল।

    তন্দ্রার ঘোরে তিনি দেখিতেছিলেন, কোনও অভাবনীয় উপায়ে একটা জীবন্ত কাঠবিড়ালী তিনি গলাধঃকরণ করিয়া ফেলিয়াছেন, সেটা পেটের মধ্যে গিয়া নখ দিয়া তাঁহার অভ্যন্তরভাগ আঁচড়াইতেছে ও তাঁহাকে বাপান্ত করিতেছে। এইরূপ বিপন্ন অবস্থায় নিতাইবাবু ছুটিতে ছুটিতে ঠাকুরমার কাছে গিয়া বলিয়া উঠিলেন, ‘ঠাক্‌মা, বড্ড খিদে পেয়েছে!’ ঠাকুরমা তাঁহাকে কোলে লইয়া বসিতেই কাঠবিড়ালীটা তাঁহার দক্ষিণ কর্ণের ছিদ্রপথ দিয়া বাহির হইয়া গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে অন্নব্যঞ্জনপূর্ণ থালা কোথা হইতে সম্মুখে উপস্থিত হইল। নিতাইবাবু ভারী আনন্দিত হইলেন। শত্রুপক্ষ কেহ কাছে নাই; ঠাকুরমা সযত্নে অন্নব্যঞ্জন মাখিয়া নিতাইবাবুর ব্যাদিত মুখে গ্রাস দিতে যাইতেছেন এমন সময় নীচে হইতে কর্কশ গলার আওয়াজে তাঁহার চেতনা ফিরিয়া আসিল।

    নিতাইবাবু চক্ষু মেলিয়া দেখিলেন, সূর্য একেবারে পশ্চিম দিগন্তরেখা স্পর্শ করিয়াছে এবং তাহার তির্যক্‌ রশ্মিতে যে ডালে তিনি ছিলেন তাহা আগাগোড়া আলোকিত হইয়াছে।

    নীচে দৃষ্টিপাত করিলেন, দরোয়ান ও বাড়ির একটা ঝি দাঁড়াইয়া কথা কহিতেছে দৃষ্টিগোচর হইল।

    দরোয়ান বলিল, ‘ঐসা বিচ্ছু লড়কা কভি নেই দেখা। দেখো তো, সবেরে উঠ্‌কে ভাগা আভিতক্‌ পতা নই! খোজ্‌তে খোজ্‌তে হামরা নাকমে দম আ গিয়া, দিনভর খানা পিনা কুছ নহি—’

    ঝি বলিল, ‘সত্যি বাপু, অমন ছেলেও দেখিনি কখনও—গিন্নিমা সমস্ত দিন মুখে জল পর্যন্ত দেননি,—বিন্দুদিদি তো কেঁদেকেটে শুয়ে আছে। আচ্ছা, কি বজ্জাত ছেলে বল দিকিন্‌ দরোয়ানজী, খোঁপাটি মুড়িয়ে কেটে দিলে গা? একটু মায়া হল না? না বাপু, ও ছেলের রকম-সকম মোটে ভাল নয়, যত বয়স বাড়ছে ততই যেন—’

    দরোয়ান তিক্ত স্বরে বলিল, ‘আরে দাই, হম্ বোল্‌তে হেঁ, তুম খেয়াল রাখনা, ই লড়কা বড়া হোকে ডাকু বনেগা—বম্‌ গোলা ছোড়েগা! ইয়াদ হ্যয়? উস্‌-দিন রাত আঠ বজে চারপাই পর শো কর হমারা থোড়া নিদ্‌ আ গিয়া থা। লোণ্ডা কিয়া কা—চুপসে হমারা টিক্‌মে ডোরি বাহ্ন্‌কে চারপাইকা পায়াসে বাহ্ন্‌ দিয়া। উস্‌কো বাদ ছোটে ভইয়াকো যাকে খবর দে দিয়া। ব্যস, ছোটে ভইয়া জোরসে ফুকারিন, হম্‌ভি হড়বড়াকে উঠা—’

    সহানুভূতিপূর্ণ স্বরে ঝি বলিল, ‘আহা মরে যাই। হেঁচকি লেগে টিকি তো তোমার সেদিন প্রায় উপড়ে গিয়েছিল। তারপর ছোটবাবু কত মারলেন, মার তো লেগেই আছে—কিন্তু তবু কি বজ্জাতি কমে—’

    দরোয়ান বলিল, ‘লড়কা না লড়কেকা দুম্‌! ছোটে ভইয়াকা মার সে কুছ নেহি হোগা, হমকে একদফি সরকারসে হুকুম মিল যায়, হম্‌ ডান্ডাসে লৌণ্ডেকা বদমাসি নিকাল দেঁ—’

    লৌণ্ডা! লড়কেকা দুম্! এ পর্যন্ত নিতাইবাবু কোনও রকমে সহ্য করিয়া ছিলেন, কিন্তু আর পারিলেন না। সক্রোধে পকেট হইতে সেই পুনঃপ্রাপ্ত মার্বেলটা বাহির করিয়া দরোয়ানের মাথা লক্ষ্য করিয়া ছুঁড়িয়া মারিলেন।

    নিতাইবাবুর লক্ষ্য ব্যর্থ হইবার নয়, মার্বেল দরোয়ানের পাগড়ির মধ্যস্থিত মুক্ত স্থানটিতে আসিয়া লাগিল, খট্‌ করিয়া একটি শব্দ হইল। দরোয়ান শুন্যে প্রায় চার হাত লাফাইয়া উঠিয়া বলিল, ‘বাপ রে! জান গিয়া!’ তারপর উর্ধ্বে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া উত্তেজিত রাসভের মতো চিৎকার করিতে লাগিল, ‘উয়হ্‌ বৈঠা! পকড়া হ্যায়! ছোটে ভৈয়া জলদি আইয়ে, খোখাবাবু পেঁড় পর বৈঠা হ্যায়! হমারা শির ফোড় দিয়া! জল্‌দি আইয়ে—পকড়া হ্যায়!’

    ঝি বৃক্ষাসীন নিতাইবাবুর হিংস্র মূর্তি দেখিয়াই জিব কাটিয়া ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়ন করিল।

    দেখিতে দেখিতে চক্ষের নিমেষে বাড়িতে যে যেখানে ছিল আসিয়া বৃক্ষতলে জমা হইল, বাবা কাকা হইতে আরম্ভ করিয়া বাড়ির দেড় বছরের ছেলেটা পর্যন্ত কেহই বাদ গেল না। নিতাইবাবু দেখিলেন, মুহূর্তের অবিমৃষ্যকারিতার ফলে তাঁহার পলায়নের পথ একেবারে বন্ধ হইয়া গিয়াছে। তিনি ডালের উপর আর এক ধাপ উঠিয়া বসিলেন।

    কাকা হাতের চাবুক আস্ফালন করিয়া বলিলেন, ‘নেমে আয়।’

    নিতাইবাবু মাথা নাড়িয়া বলিলেন, ‘নামব না।’

    কাকা রুদ্র কণ্ঠে কহিলেন, ‘শিগ্‌গির নেমে আয় বলছি হনুমানের বা—’ বলিয়াই থামিয়া গেলেন। বাবা মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিলেন।

    নিতাইবাবু বলিলেন, ‘আগে বল মারবে না, তবে নামব।’

    ‘মারব না? তোকে আজ জ্যান্ত মাটিতে পুঁতব। নাম্‌ শিগ্‌গির।’

    ‘তবে নামব না।’

    ‘নাম্‌বি না? আচ্ছা, দাঁড়া তবে। এই বুদ্ধু সিং, গাছ পর চহ্‌ড়ো, কান পকড়কে উস্‌কো উতার লে আও!’

    নিতাইবাবুর কান পাকড়িয়া নামাইয়া আনিবার প্রস্তাবটা খুব মুখরোচক হইলেও বুদ্ধু সিং দরোয়ানের তাদৃশ উৎসাহ দেখা গেল না। তাহার মস্তকের কেশবিরল মধ্যস্থলটি সুপারির মতো ফুলিয়া উঠিয়াছিল, সে উর্ধ্বে একটি বক্র দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া ক্ষীণভাবে বলিল, ‘জী হুজুর।’

    নাগরা ও পাগড়ি খুলিয়া রাখিয়া দরোয়ান গাছে চড়িতে প্রবৃত্ত হইল। নিতাইবাবু প্রমাদ গণিলেন। এবার তো আর রক্ষা নাই।

    হঠাৎ তাঁহার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলিয়া গেল। তিনি উপর দিকে উঠিতে উঠিতে বলিলেন, ‘বুদ্ধু সিং, হামারা পাস আওগে ত হাম্‌ভি এই চাক্‌মে খোঁচা দেঙ্গে। তুম্‌ হাম্‌কো লৌণ্ডা বোল্‌কে গালি দিয়া থা—হাম্‌ভি তুমকো মজা দেখাবেঙ্গে।’—বলিয়া মাথার ইঙ্গিতে প্রকাণ্ড চাকটা দেখাইলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজেই বিস্ময়ে নির্বাক হইয়া গেলেন।

    দরোয়ান খানিকটা দূর উঠিয়াছিল, পিছলাইয়া নামিয়া আসিল; বলিল, ‘হম্‌সে নেহি হোগা হুজুর! মধ্‌মচ্ছিকা খোঁতা হ্যায়—জান্‌ চলা যাগা।’

    এই ক্ষুদ্র বালকের কূটবুদ্ধি দেখিয়া সকলে স্তম্ভিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া রহিলেন।

    ওদিকে নিতাইবাবুও স্তম্ভিত হইয়া মৌচাকের দিকে তাকাইয়া ছিলেন। এমন অভাবনীয় ব্যাপার যে ঘটিতে পারে তাহা কল্পনা করাও দুষ্কর। অস্তমান সূর্যের আলো পাতার ফাঁক দিয়া মৌচাকের উপর পড়িয়াছিল, মক্ষিকাপূর্ণ চাকটা অভ্রের মতো আলোক প্রতিফলিত করিতেছিল। নিতাইবাবু বিস্ময়বিস্ফারিত নেত্রে দেখিলেন, ঠিক তাহারই এক হাত দূরে স্কুল শাখার রুক্ষ গায়ে আটকাইয়া ঝুলিতেছে—বিন্দুর সেই হারানো সোনার হার! সোনার উপর সূর্যকিরণ পড়িয়া চিক্‌চিক্ করিতেছে, চিনিতে নিতাইবাবুর এক মুহূর্তও বিলম্ব হইল না। ইহা সেই হার যাহা তিনি কয়েকদিন পূর্বে গুড়ের বাটিতে ডুবাইয়া মাধুর্যমণ্ডিত করিয়া দিয়াছিলেন। এতক্ষণ কেবল ওই স্থানটা অন্ধকার ছিল বলিয়াই উহা চোখে পড়ে নাই।

    কাঠবিড়ালী, কাক, পিপীলিকা প্রভৃতি ইতরপ্রাণীর আচার-ব্যবহার সম্বন্ধে নিতাইবাবুর প্রগাঢ় অভিজ্ঞতা ছিল, সুতরাং কি করিয়া হারছড়া বৃক্ষের উচ্চ শাখায় আসিয়া দোদুল্যমান হইল তাহা অনুমান করিতে তাঁহার কষ্ট হইল না। তিনি বুঝিলেন মিষ্টান্নলুব্ধ কোনও ইতরপ্রাণীই এই কুকার্য করিয়াছে।

    বিস্ময়ের প্রথম ধাক্কাটা সামলাইয়া লইয়া নিতাইবাবু বিজয়োল্লাসে হাস্য করিলেন; আজিকার যুদ্ধে এরূপভাবে ঘেরাও হইয়াও অবশ্যম্ভাবী পরাজয়কে তিনি যে অচিরাৎ সম্মানসূচক সন্ধিতে পরিণত করিতে পারিবেন তাহাতে আর সংশয় রহিল না।

    নিম্নাভিমুখে তাকাইয়া তিনি বলিলেন, ‘একটা জিনিস পেয়েছি, বল্‌ব না।’

    কাকা কথায় ভুলিবার লোক নয়, তিনি বলিলেন, ‘বটে? জিনিস পেয়েছ! আচ্ছা, আগে গাছ থেকে নেমে এস তো দেখি।’

    ‘আগে বল মারবে না।’

    বাবা জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘কি জিনিস পেয়েছিস?’

    একটু ইতস্তত করিয়া নিতাইবাবু বলিলেন, ‘বিন্দির হার।’

    বিন্দু উপস্থিত ছিল, শুনিবামাত্র সে চিৎকার করিয়া উঠিল, ‘আমার হার! ও কাকা, শিগ্‌গির আমার হার দিতে বল।’

    কাকা প্রশ্ন করিলেন, ‘হার কোথায় পেলি?’

    ‘বল্‌ব না। আগে বল মারবে না।’

    কাকা বিবেচনা করিয়া বলিলেন, ‘আচ্ছা, কম মারব। তুই হার নিয়ে নেমে আয়।’

    ‘তবে নামব না। হারও দোব না।’

    বিন্দু বলিল, ‘ও কাকা—’

    কাকা ও বাবা নিম্নস্বরে পরামর্শ করিলেন, তারপর কাকা দুঃখিতভাবে বলিলেন, ‘আচ্ছা আয়, মারব না।’

    নিতাইবাবুর সন্দেহ হইল ইহার মধ্যে আইনের ফাঁকি আছে, তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘থাপ্‌পড়?’

    ‘না-থাপ্‌পড়ও মারব না।’

    ‘কানমলা?’

    ‘না।’

    ‘আচ্ছা, তবে যাচ্ছি।’

    ‘হার নিয়ে আস্‌বি, তা না হলে—’

    সন্ধির শর্ত রীতিমত পাকা করিয়া লইয়া নিতাইবাবু হারটি উদ্ধারের চেষ্টায় যত্নবান হইলেন। সূর্যাস্ত হইয়া গিয়াছিল, অতএব মৌমাছির দিক হইতে আশঙ্কার বিশেষ কারণ ছিল না। নিতাইবাবু গুটি গুটি অতি সাবধানে মৌচাকের নিকটবর্তী হইলেন। মৌমাছি জাতিটা অতিশয় স্নায়ুপ্রধান, একটুতেই চটিয়া যায়, ইহা নিতাইবাবুর জানা ছিল; তিনি একটি চক্ষু চাকের উপর নিবদ্ধ রাখিয়া হারের দিকে অগ্রসর হইলেন। নীচে যাহারা ছিল তাহারা বিশ হাত ঊর্ধ্বে হারটি দেখিতে পায় নাই, কেবল এই দুঃসাহসিক বালকের গতিবিধির দিকে চাহিয়া নিস্পন্দ হইয়া রহিল।

    চাক নিস্তব্ধ, মৌমাছিদের বোধ করি তন্দ্রা আসিয়াছে। নিতাইবাবু হারের নাগালে আসিয়া আস্তে আস্তে হাত বাড়াইলেন। ভোঁ—! একটা ক্রুদ্ধ গুঞ্জন উঠিল। কয়েকটা মৌমাছি চাক হইতে উড়িয়া একবার পরিক্রম করিয়া আবার চাকে গিয়া বসিল। নিতাইবাবু বিদ্যুদ্বেগে হাত টানিয়া লইয়াছিলেন, কিছুক্ষণ নিশ্চল মূর্তির মতো বসিয়া রহিলেন।

    আবার চাক নিস্তব্ধ—মৌমাছিরা নিশ্চয় নিদ্রালু। নিতাইবাবু পুনরায় ধীরে ধীরে হাত বাড়াইলেন। হারটা গাছের কর্কশ ত্বক হইতে ছাড়াইতে একটু শব্দ হইল—অমনি ভন্‌ন! তিনটা মৌমাছি তাঁহাকে আক্রমণ করিল। একটা ঠিক নাকের ডগায় হুল ফুটাইয়া দিল, অন্য দু’টা দুই গণ্ডে দংশন করিয়া আবার ফিরিয়া গিয়া চাকে বসিল।

    নিতাইবাবুর নাসিকা ও গণ্ডদ্বয় আগুনের মতো জ্বলিয়া উঠিল, কিন্তু তিনি নিবাত নিষ্কম্প দীপশিখার মতো বসিয়া রহিলেন। একটু নড়িলে যে আত্মরক্ষার আর কোন উপায় থাকিবে না, চাক হইতে কোটি কোটি অর্বুদ অর্বুদ মৌমাছি আসিয়া তাঁহাকে গ্রাস করিয়া ফেলিবে, তাহাতে সন্দেহ নাই। নেহাৎ সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছে বলিয়াই ইহারা সদলবলে বাহির হইতেছে না কিন্তু আর বেশি ঘাটাইলে সন্ধ্যার দোহাই মানিবে না। তখন তাদের হুলের জ্বালায় না হোক এই বিশ হাত উচ্চ হইতে মাটিতে পড়িলে মৃত্যু অনিবার্য। অপরিসীম সহিষ্ণুতা সহকারে নিতাইবাবু আরও দু’ মিনিট সেইভাবে বসিয়া রহিলেন। তারপর চাক যখন একেবারে নিঃশব্দ হইয়া গেল তখন তিল তিল করিয়া পিছু হটিয়া নামিতে আরম্ভ করিলেন।

    পাঁচ মিনিট পরে, অন্ধকারপ্রায় বৃক্ষতলে নিতাইবাবু যখন নামিয়া আসিয়া দাঁড়াইলেন, তখন তাঁহার মুখ দেখিয়া বাবা এবং কাকা চমকিয়া একসঙ্গে বলিয়া উঠিলেন, ‘এ কি! এ আবার কে?’

    নিতাইবাবুর নাসিকা ও গলা দু’টি এরূপ বিপর্যয় ফুলিয়া উঠিয়াছিল যে, উপস্থিত কেহই তাঁহাকে চিনিতে পারিল না।

    রাত্রে বিছানায় শয়ন করিয়া দুই ভাইবোনে কিছুক্ষণ নীরব হইয়া রহিল, তারপর বিন্দু আস্তে আস্তে বলিল, ‘নিতাই, বড্ড ব্যথা করছে—না রে?’

    নিতাইবাবু বলিলেন, ‘হুঁ।’

    বিন্দুর মনে আর রাগ ছিল না, সে বিগলিত স্বরে জিজ্ঞাসা করিল, ‘নাকে একটু হাত বুলিয়ে দেব ভাই?’

    নিতাইবাবুর নাকটি মাঝারি-গোছের শাঁকআলুর আকার ধারণ করিয়াছিল, গণ্ডের স্ফীতিবশত চোখ দু’টিও প্রায় বুজিয়া গিয়াছিল; তিনি ক্রন্দনের প্রবল আবেগে ঢোক গিলিয়া বলিলেন, ‘হুঁ।’

    বিন্দু তাঁহাকে জড়াইয়া লইয়া সযত্নে নাকে হাত বুলাইয়া দিতে দিতে বলিল, ‘কেন ভাই, তুই আমার চুল কেটে নিলি? তাই তো ভগবান রাগ করে তোর নাক অমন করে দিলেন।’

    অনুতপ্তভাবে নিতাইবাবু বলিলেন, ‘আর করব না।’

    মানুষকে বুদ্ধিবলে পরাস্ত করিলেও দৈবী প্রতিহিংসার হাত হইতে নিস্তার পাওয়া যে অসম্ভব তাহা নিতাইবাবুর হৃদয়ঙ্গম হইয়াছিল।

    বিন্দু সস্নেহে তাঁহার স্ফীত রক্তিম গণ্ডে একটি চুম্বন করিয়া বলিল, ‘লক্ষ্মী ভাই, আর কখ্‌খনো করিসনি।’

    কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া নিতাইবাবু বলিলেন, ‘দিদি, তোর চুল আবার গজাবে।’

    চুলের কথা নূতন করিয়া স্মরণ হইতেই দিদির দুই চোখ অশ্রুপূর্ণ হইয়া উঠিল, কিন্তু সে উদ্গত অশ্রু গিলিয়া ফেলিয়া বলিল, ‘হ্যাঁ। তোর নাকও আবার ঠিক হয়ে যাবে, এবার ঘুমো।’

    তারপর দুই ভ্রাতা-ভগিনী নিবিড়ভাবে পরস্পরের গলা জড়াইয়া ঘুমাইয়া পড়িল।

    ১২ চৈত্র ১৩৩৯

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172 173 174 175 176 177 178 179 180 181 182 183 184 185 186 187 188 189 190
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলৌকিক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }