Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প2026 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উল্কার আলো

    উল্কার আলো

    এ গল্পের নামকরণ ভুল হইয়াছে। শেষ পর্যন্ত পড়িবার ধৈর্য যাঁহার আছে, তিনিই একথা বুঝিতে পারিবেন। যাঁহার সে ধৈর্য নাই, তাঁহাকে গোড়াতেই জানাইয়া দেওয়া প্রয়োজন যে ইহার নাম হওয়া উচিত ছিল—‘স্ত্রিয়াশ্চরিত্রং’; কিংবা ‘পুরুষস্য ভাগ্যং’; অথবা ‘দেবা ন জানন্তি’—। বম্বে ফিল্মের মতো শুনাইতেছে, কি করিব, আমি নাচার।

    গল্পের শীর্ষদেশে একটা নাম জুড়িয়া দিবার প্রথা কোন্‌ অর্বাচীন আবিষ্কার করিয়াছিল? গল্পের আখ্যানবস্তুর সহিত ঐ শিরোনামার একটা অর্থগত সংযোগ থাকিবারই বা আবশ্যকতা কি? ‘শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী’র পরিবর্তে বইখানার নাম ‘বিরূপাক্ষের বীরত্ব’ হইলেই বা পৃথিবীর কি অনিষ্ট হইত? ‘যোগাযোগ’ যদি ‘তিন পুরুষ’ই থাকিত, তাহা হইলে কি সৃষ্টি রসাতলে যাইত? বর্তমান লেখকের একটা নাম আছে কিন্তু নামের সঙ্গে মানুষটার একটুও সাদৃশ্য নাই। তাহাতে কি ক্ষতি হইয়াছে? What’s in a name?

    এ সকল গুরুতর প্রশ্নের উত্তর আপনারা দিতে পারিবেন না, অতএব সেজন্য অপেক্ষা করিয়া আপনাদের অপ্রতিভ করিব না। তৎপরিবর্তে যে নিদারুণ সংবাদটি দিয়া আপনাদিগকে সচকিত করিয়া তুলিবার অভিলাষ করিয়াছি, তাহা এই—সুনীলা ওরফে বিল্লুর বয়স এখন সতেরো বৎসর; এবং তাহার মতো ফাজিল, চপল ও হৃদয়হীনা যুবতী আমি আজ পর্যন্ত দেখি নাই। অনুরূপকে সে—

    কিন্তু সব কথাই শুরু হইতে বলা কর্তব্য। কবিবর বলিয়াছেন, আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালার আগে সকালবেলায় সলতে পাকানো—অর্থাৎ বাবারও বাবা আছে; অন্তত থাকিলে ভাল হয়।

    এই বিল্লুর বয়স যখন আট বৎসর ছিল তখন তাহার কাঁচা রকম একটা বিবাহের সম্বন্ধ হইয়াছিল। নিতান্তই হাসিঠাট্টার মধ্যে জন্মগ্রহণ করিয়া এই সম্বন্ধ ভ্রূণ অবস্থাতেই বিনষ্ট হইয়া যায়। বিল্লুর বাবা প্রথম শ্রেণীর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বেহারীবাবু সদরে বদলী হইয়া আসিয়াছিলেন এবং তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র পঞ্চদশ বর্ষীয় বিজয়লালের সহিত স্থানীয় বড় উকিল নিমাইবাবুর পুত্র অনুরূপচন্দ্রের বেজায় বন্ধুত্ব জন্মিয়া গিয়াছিল। এইসূত্রে অনুরূপ প্রায়ই বিল্লুদের বাড়ি যাইত। এমন কি শেষ পর্যন্ত বন্ধুত্ব এমনই গাঢ় হইয়া উঠিয়াছিল যে স্কুলে এবং স্কুলের বাহিরে এই দুটিকে কদাপি পৃথক অবস্থায় দেখা যাইত না। বিজয়কে বাড়িতে না পাইলে সকলে বুঝিত, সে অনুরূপের বাড়িতে আছে এবং অনুরূপকে বাড়িতে না পাওয়া গেলেও—তথৈবচ।

    হুঁ। পাঠক ভাবিতেছেন—কিন্তু তাহা ভুল। বরঞ্চ ঠিক তাহার উল্টা। বন্ধু-ভগিনীর অত্যাচারে অনুরূপের জীবন দুর্বহ হইয়া উঠিয়াছিল। পাতলা মুখের উপর বড় বড় বিস্ফারিত দুইটি চোখ, লাল টুকটুকে দুইখানি ঠোঁট-বিল্লুকে দেখিয়া সহসা কেহ কল্পনাও করিতে পারিত না যে, তাহার ঐ আট বছরের ক্ষুদ্র মস্তকের মধ্যে এতপ্রকার দুষ্ট বুদ্ধি সঞ্চিত হইয়া আছে, বয়োজ্যেষ্ঠদেরও তাহাকে আঁটিয়া উঠিবার জো নাই। অনুরূপ এক সময় উদ্‌ভ্রান্ত হইয়া ভাবিত, জ্বালাতন করিবার এমন অপরিসীম শক্তি এই ক্ষুদে মেয়েটা কোথা হইতে লাভ করিল? নেহাৎ বন্ধু-ভাগিনী বলিয়াই সে নীরবে সহ্য করিয়া যাইত, নচেৎ-—

    কাল্পনিক প্রতিহিংসা-বিলাসে দাঁত কড়মড় করিয়াই তাহাকে নিবৃত্ত হইতে হইত।

    প্রথম দিন বন্ধুর গৃহে পদার্পণ করিবামাত্রই বিল্লু কর্তৃক অনুরূপের নির্যাতন আরম্ভ হইয়া গিয়াছিল। বড় বড় চোখে কিছুক্ষণ তাহাকে নিরীক্ষণ করিয়া বিল্লু গম্ভীরভাবে তাহার সম্মুখে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, ‘তুমি বুঝি দাদার একটা বন্ধু? দাদা সব জায়গায় তোমার মতো একটা বন্ধু করে। তোমার নাম কি?’

    অনুরূপ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া নিজের ডাকনামটা বলিয়া ফেলিয়াছিল।

    নাম শুনিয়া বিল্লু নাক সিঁটকাইয়া বলিয়াছিল, ‘নাকু? এ রাম! বিচ্ছিরি নাম। আমার নাম বিল্লু—ভাল নাম সুনীলা। তোমার চুল অমন খোঁচা-খোঁচা কেন?’

    প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি হইতেছে দেখিয়া বিল্লু অন্য প্রসঙ্গ উত্থাপন করিল, ‘তুমি কান নাড়তে পারো—না? হাঁ পারো। অত বড় বড় কান নাড়তে পারো না? নিশ্চয় পারো। একটু নাড়ো না দেখি।’ বলিয়া ঘাড় হেলাইয়া স্থিরদৃষ্টিতে তাহার কানের দিকে তাকাইয়াছিল।

    অনুরূপ কান নাড়িতে পারে নাই, কেবল উদ্দিষ্ট ইন্দ্রিয় দু’টা অতিরিক্ত মাত্রায় লাল হইয়া উঠিয়াছিল।

    এইভাবে আরম্ভ হইয়া চক্রবৃদ্ধি হারে বিল্লুর অমানুষিক উৎপীড়ন বাড়িয়া চলিয়াছিল। ইহার আনুপূর্বিক ইতিহাস লিখিয়া পৃথিবীর দুঃখভার আর বাড়াইব না, দুই একটা ছোটখাটো উদাহরণ দিয়া এই নৃশংসতার চিত্রের উপর যবনিকা টানিয়া দিব।

    বিজয় ও অনুরূপ দুই বন্ধুতে মিলিয়া একত্র একটা ফটোগ্রাফ তোলাইয়াছিল। ছবিটি বিজয়ের পড়িবার টেবিলের উপর সযত্নে সাজানো ছিল। একদিন স্কুল হইতে ফিরিয়া বিজয় দেখিল, ছবি হইতে অনুরূপের মুণ্ডটি কে সাবধানে কাঁচি দিয়া কাটিয়া লইয়াছে এবং তৎপরিবর্তে সচিত্র রামায়ণ হইতে হনুমানের মাথাটি কর্তিত করিয়া সেই স্থানে জুড়িয়া দিয়াছে। এ কাহার কার্য, তাহা বুঝিতে বিজয়ের বিলম্ব হইল না। বন্ধুর প্রতি এই অপমানে সে ভীষণ ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিল। বিল্লুর চুলের বিনুনি ধরিয়া টানিয়া আনিয়া ছবির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া সগর্জনে কহিল, ‘এ কি করেছিস?’

    বিল্লু ঘাড় বাঁকাইয়া বলিল, ‘আমি জানি না!’

    ‘জানি না? রাক্ষুসী কোথাকার! শিগ্‌গির আসল মুণ্ডটা দে।’

    ‘আমি জানি না! আসল মুণ্ডই তো রয়েছে—’ বলিয়া বিল্লু খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। ইহা হইতে প্রতীয়মান হইবে যে, এই আট বৎসর বয়সেই বিল্লু মেয়েটি কিরূপ পরিপক্ক ও ফাজিল হইয়া উঠিয়াছে।

    বিজয় তর্জন করিয়া বলিল, ‘দিবিনে আসল মুণ্ড? দে বল্‌ছি—’

    ‘দেব না, যাও।’

    এমন সময় অনুরূপ আসিয়া উপস্থিত হইল। ছবিতে নিজের মুখাবয়বের শোচনীয় পরিবর্তন দেখিয়া সেও নিরতিশর ক্রুদ্ধ ও মর্মাহত হইল; কিন্তু অনেক ধস্তাধস্তি করিয়াও দুই বন্ধুতে বিল্লুর নিকট হইতে অনুরূপের আসল মুণ্ড আদায় করিতে পারিল না। শেষ পর্যন্ত অত আদরের ছবিটা ফেলিয়া দিতে হইল।

    বলা বাহুল্য, সে মুণ্ড আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। পাঠক জিজ্ঞাসা করিতে পারেন, বিল্লু সে মুণ্ড লইয়া কি করিল? এ প্রশ্নের উত্তর আছে—পাঠক খুঁজিয়া দেখুন।

    দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটিয়াছিল আর একদিন সকালবেলা। অনুরূপ বিজয়ের পড়িবার ঘরে একাকী বসিয়া অঙ্ক কষিতেছিল এমন সময় বিল্লু আসিয়া পিছন হইতে তাহার গলা জড়াইয়া ধরিয়া আদরের সুরে বলিল, ‘নাকুদা—’

    নিরুৎসুকভাবে নিজের কণ্ঠ বাহুমুক্ত করিয়া লইয়া অনুরূপ বলিল, ‘কি?’

    বিল্লু ভাসা ভাসা ডাগর চোখ দু’টি তুলিয়া বলিল, ‘আমায় দুটো ফুল পেড়ে দেবে ভাই?’

    সন্দিগ্ধভাবে অনুরূপ বলিল, ‘কি ফুল?’

    ‘চাঁপা ফুল। ফটকের পাশে ঐ বড় গাছটায় অনেক ফুটেছে। পেড়ে দাও না—খেলাঘরের শিবপূজা করব।’

    ‘আমি এখন পারব না—অঙ্ক কষছি। মালীকে বলগে যাও।’

    ‘মালী দিচ্ছে না। —তুমি চল না, নাকুদা, লক্ষ্মীটি। তুমি খুব গাছে চড়তে পার—তোমার মতো কেউ পারে না।’

    অনুরূপের সন্দেহ দূর হইল না; কিন্তু এতখানি কৈতববাদ প্রতিরোধ করিবার ক্ষমতাও তাহার ছিল না। সে বলিল, ‘আচ্ছা, চল।’

    গাছের কাছে উপস্থিত হইয়া সে একবার ভাল করিয়া চারিদিক দেখিয়া লইল, কোথাও বিপদের আশঙ্কা আছে কিনা। তারপর গাছে চড়িতে প্রবৃত্ত হইল।

    বিল্লু গাছের শীর্ষদেশ অঙ্গুলি দিয়া দেখাইয়া বলিল, ‘ঐখানে অনেক ফুল আছে, নাকুদা,—একেবারে আগায়।’

    গাছের ডগা পর্যন্ত অসন্দিগ্ধ-চিত্তে উঠিয়া হঠাৎ অনুরূপ বুঝিতে পারিল কি সাংঘাতিক ফাঁদে সে পা দিয়াছে। সে একটি চিৎকার ছাড়িয়া যথাসম্ভব দ্রুত নামিতে নামিতে বলিতে লাগিল, ‘পোড়ারমুখী বাঁদরী, দাঁড়া, আজ তোকে মজা দেখাচ্ছি।’ গাছের অর্ধেক নামিয়া সেখান হইতেই সে মাটিতে লাফাইয়া পড়িল। কিন্তু বিল্লু তখন উচ্চকণ্ঠে হাসিতে হাসিতে গ্রীবাভঙ্গে পিছু ফিরিয়া চাহিতে চাহিতে হরিণশিশুর মতো ছুটিয়া অদৃশ্য হইয়াছে।

    অনুরূপ সেখানেই বসিয়া পড়িয়া দুই হাতে সর্বাঙ্গ চুলকাইতে লাগিল। কিন্তু তখন শত শত মধুপিঙ্গলবর্ণ বিষধর কাঠ-পিঁপড়া তাহার সারাদেহে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। অনুরূপ তাহার গায়ের জামাটা টানিয়া খুলিয়া ফেলিল, কিন্তু কেবল জামা খুলিলে কি হইবে? একটু ইতস্তত করিয়া, শেষে গায়ের জ্বালায় অস্থির হইয়া সে একটা যুঁই ফুলের ঝোপের মধ্যে ঢুকিয়া পড়িল এবং সেখানে বসিয়া নগ্নদেহে বিষাক্ত অন্তঃকরণে প্রাণপণে গা চুলকাইতে লাগিল।

    বন্ধু বিজয় আসিয়া যখন তাহাকে উদ্ধার করিল, তখন তাহার সবঙ্গ ফুলিয়া রাঙ্গা হইয়া উঠিয়াছে। নূতন কাপড় পরিতে পরিতে অনুরূপ হঠাৎ কাঁদিয়া ফেলিয়া বলিল, ‘আর কখখনো তোদের বাড়ি আসব না, বিজয়। ঐ বিল্লুটা যতদিন—’ বলিয়া চোখ মুছিতে মুছিতে হনহন করিয়া বাড়ি চলিয়া গেল। বিল্লুর দুষ্কৃতির কথা জানিতে কাহারও বাকী রহিল না। সে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করিয়া বলিল, ‘গাছে পিঁপড়ে ছিল, আমি কি করে জান্‌ব?’ কিন্তু তাহার এ কৈফিয়ত ধোপে টিকিল না, মালীর নিকট হইতে প্রকাশ পাইল যে, বিল্লু দিদি তাহাকেই প্রথমে গাছে চড়িয়া ফুল পাড়িতে অনুরোধ করিয়াছিল; কিন্তু গাছে ভয়ানক কাঠ-পিঁপড়া আছে বলিয়া মালী রাজী হয় নাই। ইহার পর—

    ফলে বিল্লু মা বাবার কাছে বিস্তর তিরস্কার ও বিজয়ের কাছে একটা কিল ও দুইটা চড় খাইল। বিল্লু রাত্রিতে তাহার বিবাহিতা দিদি অনিলার কাছে শয়ন করিত। অনিলা শুইতে গিয়া বিল্লুকে বলিল, ‘তুই যে নাকুর ওপর অত উৎপাত করিস, ওর সঙ্গে আমরা তোর বিয়ের সম্বন্ধ করেছি, তা জানিস? ও যখন উল্টে তোর ওপর শোধ তুলবে, তখন কি করবি?’

    বিল্লু ঘৃণাভরে দুই আঙ্গুল দিয়া নাক টিপিয়া ধরিয়া বলিল, ‘এ রাম—ওকে আমি বিয়ে করব না। খরগোসের মতো কান, চুল খোঁচা-খোঁচা—ওরকম বর আমি চাই না।’

    ‘চাই না বললেই তো আর হবে না—ওকেই বিয়ে করতে হবে। নইলে তুই জব্দ হবি না-ও প্রত্যেকবার ক্লাসে ফার্স্ট হয় জানিস?’

    ‘হোগগে। ঐটুকু ছেলেকে আমি বিয়ে করব না।’

    ‘আ গেল। তোর কি এক্ষুনি বিয়ে হচ্ছে নাকি? তোরা বড় হবি, তখন বিয়ে হবে।’

    বিল্লু দৃঢ়ভাবে ঘাড় নাড়িয়া বলিল, ‘ওকে আমি বড় হয়েও বিয়ে করব না। ওরকম বর আমার একটুও পছন্দ হয় না।

    বিল্লুর পাকা কথায় সকলেই অভ্যস্ত ছিল, অনিলা জিজ্ঞাসা করিল, ‘তবে তোমার কি রকম পছন্দ শুনি?’

    বিল্লু তৎক্ষণাৎ বলিল, ‘কেন, জামাইবাবুর মতো—ঐরকম লম্বা ফর্সা—চোখে চশমা।’

    তাহার পিঠে একটা চড় মারিয়া অনিলা বলিল, ‘ও! লোকটিকে বড্ডই মনে ধরেছে দেখছি! আচ্ছা দাঁড়াও, তাঁকে চিঠি লিখে দিচ্ছি, তিনি এসে তোমাকে নিয়ে যান,—তুমিই গিয়ে তাঁর কাছে থাকো। আমি না হয় এখানেই পড়ে থাকব। সতীনের ঘর করা আমার পোষাবে না। তাও যেমন তেমন সতীন নয়—তোমার মতো সতীন—”

    পরিহাসচ্ছলে উক্ত হইলেও আসলে অনিলার কথাটা সত্য। সুন্দরী কন্যা দেখিলেই পুত্রবতী বাঙালী-গৃহিণীর তাহাকে পুত্রবধূ করিবার ইচ্ছা হয়—অনুরূপের মাতারও তাহা হইয়াছিল। দুই পরিবারে বেশ ঘনিষ্ঠতা হইয়া যাইবার পর অনুরূপের মা বিল্লুদের বাড়ি বেড়াইতে গিয়া একদিন বলিয়াছিলেন, ‘বিল্লুর মতো একটি মেয়ে পাই—আমার বৌ করি।’

    বিল্লুর মা উত্তরে বলিয়াছিলেন, ‘বিল্লুর মতো দরকার কি ভাই,—বিল্লুকেই নাও না!’

    সেই অবধি দুই গৃহিণীর মধ্যে বেয়ান সম্পর্ক পাতানো হইয়া গিয়াছিল; যদিও কর্তারা এই মেয়েলি ব্যাপার শুনিয়া নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করিয়া বলিয়াছিলেন, একেই বলে গাছে কাঁঠাল গোঁপে তেল! মেয়ের বয়স আট বছর, ছেলের পনেরো—এরি মধ্যে বিয়ের কথা! আরে, বড় হোক, বেঁচে থাক, তারপর দেখা যাবে। সাধে কি আর মেয়েদের দশহাত কাপড়ে—’

    অনুরূপও হাসিঠাট্টার সূত্রে বৌদিদিদের কাছে কথাটা শুনিয়াছিল। উত্তরে সে মনে মনে প্রকাণ্ড একটা ‘হুঁ’ বলিয়াছিল। বিল্লুকে বিবাহ করার চেয়ে এক লক্ষ মাছি, মশা, বোলতা ও কাঠ-পিঁপড়াকে বিবাহ করা যে ঢের বেশী বুদ্ধিমানের কাজ একথা সে প্রকাশ করিয়া না বলিলেও তাহার মনের ভাব কাহারও নিকট অগোচর ছিল না।

    তারপর একদিন হঠাৎ কি কারণে বেহারীবাবু বদলী হইয়া অন্য জেলায় চলিয়া গেলেন। বিজয় ও অনুরূপ কিছুদিন সজোরে পত্রবিনিময় চালাইল। কিন্তু দূরত্বের প্রভাবে ক্রমশ অনুরাগের বন্ধন শিথিল হইয়া গেল। উভয় পরিবারও ক্রমে পরস্পরকে প্রায় ভুলিয়া গেলেন। সে আজ প্রায় নয়-দশ বৎসরের কথা।

    এই নয়-দশ বৎসরে বহু পরিবর্তন হইয়া গিয়াছে। এই প্রাচীনা পৃথিবীর বয়স আরও নয়-দশ বৎসর বাড়িয়াছে। যাহারা কিশোর ছিল তাহারা যুবক হইয়া পড়িয়াছে, অনেক বৃদ্ধ বৈকুণ্ঠ লাভ করিয়াছে; ততোধিক শিশু জন্মগ্রহণ করিয়াছে,—এবং আরও অনেক প্রকার বিচিত্র দার্শনিক ব্যাপার সংঘটিত হইয়া গিয়াছে।

    বেহারীবাবু জেলার ম্যাজিস্ট্রেট হইয়া পুরাতন শহরে ফিরিয়া আসিয়াছেন। অনুরূপ এখানকার পড়া শেষ করিয়া বিলাত গিয়াছিল, সেখান হইতে কি একটা পাস করিয়া রেলের কভেনান্টেড চাকরি লইয়া দেশে ফিরিয়াছে। উপস্থিত বাড়িতেই আছে, মাসখানেকের মধ্যে টুণ্ডলার অফিসে যোগ দিতে হইবে। তাহার চুল এখনও খোঁচা-খোঁচাই আছে বটে, কিন্তু ততটা নহে; কান দুইটিও বোধ করি শরীরের অনুপাতে বাড়ে নাই বলিয়া এখন আর তত বড় দেখায় না। ওদিকে সুনীলা ওরফে বিল্লুর বয়স এখন সতেরো বৎসর এবং তাহার মতো ফাজিল, চপল, হৃদয়হীনা যুবতী—

    সর্বাপেক্ষা বেশী পরিবর্তন ঘটিয়াছে কিন্তু বেহারীবাবুর পারিবারিক জীবনে। যত দিন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন ততদিন তিনি সাধারণ বাঙালী ভদ্রলোকের মতোই পুরাতন প্রথায় জীবন কাটাইতেছিলেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট হইয়াই হঠাৎ পুরাদস্তুর সাহেব বনিয়া গিয়াছেন। আগে কেবল তাঁহার অফিস-রুম ছিল, এখন উপরন্তু ড্রয়িং-রুম হইয়াছে। মৈথিলী পাচক নির্বাসিত হইয়া বাবুর্চি নিযুক্ত হইয়াছে—টেবিলে বসিয়া সপরিবারে খানা ভোজন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট-গৃহিণী বেড়াইতে বাহির হইলে কোঁচানো শাড়ি ও হাই-হিল জুতা পরেন। পর্দা একেবারে উঠিয়া গিয়াছে। কন্যা বিল্লু ম্যাট্রিক পাস করিয়া উপস্থিত টেনিস ও বৃজ্‌ খেলিতেছে। বিজয় একটি ব্রাহ্ম মেয়েকে বিবাহ করিয়া বাপের সহিত পৃথক হইয়া স্বাধীনভাবে পুরুলিয়ায় ওকালতি করিতেছে। ছুটিছাটায় সস্ত্রীক বাপের কাছে আসে, দুই-চার দিন থাকিয়া আবার সস্ত্রীক চলিয়া যায়।

    অনুরূপ বিলাত হইতে বাড়ি ফিরিবার দিন পাঁচ-ছয় পরে তাহার মা বলিলেন, ‘ওরে, বেহারীবাবুকে মনে আছে তো?—তোর বন্ধু বিজয়ের বাবা? তিনি যে জেলার কর্তা হয়ে বসেছেন।’

    তিন বৎসর পরে বাড়ি ফিরিয়া এ কয়দিন অনুরূপ পারিবারিক চক্রের বাহিরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিবার অবকাশ পায় নাই, কৌতূহলী হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “তাই নাকি? কদ্দিন এসেছেন?’

    ‘এই তো মাস দুই হবে।’

    ‘তোমাদের সঙ্গে দেখাশুনা হয়েছে?’

    ‘হাঁ, আমরা একদিন গিয়েছিলুম। যদিও এখন ওঁরা পুরোপুরি সাহেব হয়ে গেছেন, তবু আমাদের খুব আদর-যত্ন করলেন। এখনও আগেকার কথা ভোলেননি—তোর একবার যাওয়া উচিত।’

    ‘বেশ তো, যাব। বিজয় কোথায়? এখানেই আছে নাকি?’

    ‘না, সে তো পুরুলিয়ায় ওকালতি করছে।’

    অনুরূপ হঠাৎ হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ‘আর বিল্লু? তার বোধ হয় বিয়ে হয়ে গেছে—না?’

    ‘কই আর হয়েছে। এখন কি আর তাঁরা তার বিয়ে দেবেন? মেয়ের যে মোটে সতেরো বছর বয়স।’ বলিয়া মা-ও মুখ টিপিয়া হাসিলেন।

    সেই দিনই বৈকালে অনুরূপ ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের বাংলায় দেখা করিতে গেল। বাংলার সামনে একটা শান্-বাঁধানো চাতাল ছিল, সেখানে বসিয়া বেহারীবাবু সস্ত্রীক সকন্যা চা-পান করিতেছিলেন। অনুরূপ সেখানে গিয়া হাত তুলিয়া নমস্কার করিয়া স্মিতমুখে দাঁড়াইল।

    বেহারীবাবু আরাম-কেদারায় অঙ্গ প্রসারিত করিয়া শুইয়াছিলেন, বিস্মিতভাবে ঈষৎ ভ্রূকুটি করিয়া তাহার দিকে চাহিলেন। গৃহিণী অপরিচিত ব্যক্তি দেখিয়া কাপড়টা মাথায় তুলিয়া দিবার চেষ্টা করিলেন; বিল্লু বিস্ফারিত-দৃষ্টিতে মুহূর্তকাল চাহিয়া থাকিয়া উচ্চকণ্ঠে হাসিয়া উঠিল, ‘নাকুদা! মা, চিনতে পারছ না? দাদার বন্ধু, নাকুদা—মনে নেই?’ বলিয়া আবার সেই নিতান্ত পরিচিত, কৈশোরের বহু নির্যাতনের স্মৃতি-অনুবিদ্ধ হাসি হাসিল।

    ‘ওমা, তাই তো! চিনতে পারিনি—কতদিন পরে দেখলুম! এস বাবা। এই সেদিন বিজয় তোমার কথা বলছিল। —’

    ‘By Jove! Young man, you have grown out of all recognition! Well! Well! Very glad to see you. Sit down. Sit down.’

    অনুরূপ একটি চেয়ার টানিয়া বসিল। বিল্লু এক পেয়ালা চা ঢালিয়া তাহার দিকে অগ্রসর করিয়া দিয়া বলিল, ‘নাকুদা, চা খাও।’ তাহার ঠোঁটের কোণে একটু চাপা হাসি। অনুরূপ সচকিত হইয়া ভাবিল, সে কি এখানে আসিয়াই হাস্যকর কিছু করিয়া ফেলিয়াছে? নিজের কথাবাতার উপর একটা কড়া পাহারা বসিয়া গেল।

    নানা রকম কথা হইতে লাগিল; অনুরূপ বিলাতে গিয়া কোথায় ছিল, কি পাস করিয়াছে, কোথায় চাকরি পাইল; বেহারীবাবু কতদিন ম্যাজিস্ট্রেট হইয়াছেন, কোন্ কোন্ জেলা ঘুরিয়াছেন, কমিশনার সাহেব তাঁহার নামে সরকারের কাছে কি কি প্রশংসাসূচক ডি. ও. দিয়াছেন,—এই সব আলোচনার মধ্যে অনুরূপের মনটা কিন্তু বিল্লুর দিকেই সতর্ক হইয়া রহিল। দুই একবার বিল্লুর মুখের উপর চোখ পড়াতে দেখিল, সে তাহারি দিকে তাকাইয়া আছে ও পূর্ববৎ মুখ টিপিয়া টিপিয়া আসিতেছে। যেন সে একটা ভারী হাস্যোদ্দীপক জীব,—তাহাকে দেখিলে কিছুতেই না হাসিয়া থাকা যায় না।

    অনুরূপ উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিতে লাগিল।

    হঠাৎ এক সময় অন্য কথার মাঝখানে বিল্লু বলিয়া উঠিল, ‘মা, দেখেছ, নাকুদার চুল আর আগেকার মতো খাড়া-খাড়া নেই—একটু নরম হয়েছে। আচ্ছা, নাকুদা, তুমি ছেলেবেলার মতো এখনও তেমনিই বোকা আছ? না বুদ্ধি বেড়েছে?’

    অনুরূপ হাসিবার মতো মুখ করিয়া বলিল, ‘কি জানি। তোমার কি মনে হয়?’

    ‘এখনই কি বলা যায়? আরও দু’দিন দেখি।’

    ‘তুই চুপ কর, বিল্লু। আমাদের কি কথা হচ্ছিল।’ এইভাবে কন্যাকে মৃদু তিরস্কার করিয়া গৃহিণী আবার ব্যাহত প্রসঙ্গ আরম্ভ করিলেন।

    ঘণ্টা দেড়েক পরে অনুরূপ যখন বিদায় লইয়া উঠিয়া দাঁড়াইল, তখন বিল্লু ঠোঁটের একটা সহাস্য ভঙ্গিমা করিয়া বলিল, ‘নাকুদা, কাল আবার আসবে তো?’

    অনুরূপ তাহার দিকে ফিরিয়া কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসুভাবে তাকাইয়া রহিল, কথাটার মধ্যে কোনও প্রচ্ছন্ন পরিহাস আছে কিনা, তাহাই যেন নিরূপণ করিবার চেষ্টা করিল; তারপর বলিল, ‘আসব বৈ কি! যে ক’দিন আছি, রোজই আসব।’

    অনুরূপ বাড়ি ফিরিবার পথে ভাবিতে লাগিল, তাহার প্রতি বিল্লুর মনের ভাবটা কি?—বিদ্রুপ? উপহাস? তাচ্ছিল্য?

    কিন্তু কেন? ছেলেবেলায় বিল্লু তাহাকেই বিশেষ করিয়া নিজের উৎপাত ও নিষ্ঠুরতার লক্ষ্যবস্তু করিয়া লইয়াছিল,—এখনও কি তাহার সে ভাব যায় নাই? কিংবা সকলের সঙ্গেই সে এইরূপ ব্যবহার করিয়া থাকে?

    সবচেয়ে অনুরূপকে বিঁধিয়াছিল বারবার ঐ ‘নাকুদা’ সম্বোধনটা; যেন ঐ নামটা কিরূপ হাস্যকর তাহাই বিল্লু পুনঃ পুনঃ খোঁচা দিয়া দেখাইয়া দিবার চেষ্টা করিয়াছিল। সত্য বটে, নামটি শ্রুতিসুখকর নয়, কিন্তু তাই বলিয়া সেও কি উপহাসের পাত্র?

    অনুরূপ ঈষৎ তিক্ত-মনে ভাবিল, আমাদের মেয়েরা একটু লেখাপড়া শিখিলেই মনে করে, কেহ তাহাদের সহিত কথা কহিবার সমকক্ষ নহে।

    কিন্তু—বিল্লু কি অপরূপ সুন্দরী হইয়া দাঁড়াইয়াছে, তাহার দিকে বেশীক্ষণ তাকাইতে যেন ভয় করে!–অথচ ইহাকেই সে একদিন কিল মারিয়াছে, চড় মারিয়াছে, কান ধরিয়া টানিয়া দিয়াছে, বাঁদরী, পোড়ারমুখী বলিয়াছে—

    পাঠক নিশ্চয় এইখানে বিল্লুর একটি রূপ বর্ণনার জন্য উন্মুখ হইয়া আছেন, কিন্তু তাঁহাকে নিরাশ হইতে হইবে। আমি ধর্মভীরু লোক, রূপ বর্ণনা দিব না, পরের ভাল জিনিসের প্রতি লুব্ধতা সঞ্চার করিয়া নরকে যাইতে পারিব না। আমি শুধু দু’ছত্রে তাহার আজিকার বেশভূষার একটি অসম্পূর্ণ তালিকা দিব, তাহাতেই সন্তুষ্ট থাকিতে হইবে। গায়ে তাহার ছিল গাঢ় সবুজ রঙের হাতকাটা ব্লাউজ, পরিধানে ছিল ঐ রঙেরই সিল্কের শাড়ি, পায়ে ছিল লাল বনাতের স্লিপার, চুলগুলি কিভাবে জড়ানো ছিল তাহার শিল্পরহস্য আমি ভেদ করিতে পারি নাই; সুতরাং বলিতে পারিলাম না। অলঙ্কার তাহার গায়ে ছিল না বলিলেই হয়—কেবল দু’গাছি সরু সোনার রুলি সুগোল হাতে যেন চাপিয়া বসিয়া গিয়াছিল, আর গলায় ক্ষীণ একটি হার—তাহার নিম্নপ্রান্তে একটি হীরার লকেট—

    আর এই সব বেশভূষা যে তরুণ তনুটিকে আশ্রয় করিয়া ছিল—

    ঐ রে! আর একটু হইলেই আরম্ভ করিয়া দিয়াছিলাম আর কি!

    সে রাত্রিতে বেহারীবাবু ও তাঁহার স্ত্রীর মধ্যে কথা হইল। গৃহিণী বলিলেন, ‘অনুরূপের সঙ্গে বিল্লুর বিয়ে হলে মন্দ হয় না। আগেও তো একবার সম্বন্ধ হয়েছিল।’

    কর্তা বলিলেন, ‘বেশ তো, ওরা আসুক না আমার কাছে, প্রস্তাব করুক—’

    ‘কিন্তু তা কি ওরা করবে! হাজার হোক, ওরা বর পক্ষ। আমাদের দেশে যে উল্‌টো নিয়ম, মেয়ের বাপকেই ছুটোছুটি করতে হয়।’

    ‘কিন্তু তাই বলে আমি তো আর উপযাচক হয়ে যেতে পারি না। বুঝলে না?’

    গৃহিণী বুঝিলেন, হাকিমি মর্যাদায় বাধে। কিছুক্ষণ চিন্তা করিয়া বলিলেন, ‘দেখা যাক, আরও দু’দিন আসা যাওয়া করুক। শেষ পর্যন্ত হয়তো নিজেই—বিলেত ফেরত তো।’

    কর্তা বলিলেন, ‘সে হলে তো কোনও গোলই থাকে না। তার উপর আর একটা কথা আছে। বিল্লুর পছন্দ অপছন্দ জানা দরকার। ও আবার যে রকম মেয়ে! মনে আছে তো, হাজারিবাগের সেই মুনসেফ ছোকরা! তাকে তো হেসেই উড়িয়ে দিলে, যেন সে মানুষের মধ্যেই গণ্য নয়। The heartles little minx!’ বলিয়া সস্নেহে হাসিতে লাগিলেন।

    পরদিন সন্ধ্যাবেলা অনুরূপ ম্যাজিস্ট্রেটের কুঠিতে উপস্থিত হইয়া শুনিল—সাহেব ও মেমসাহেব একটা পার্টিতে গিয়াছেন,—কেবল মিসিবাবা বাড়িতে আছেন, উপস্থিত বাগানে বেড়াইতেছেন। অনুরূপ মিসিবাবার সন্ধানে প্রবেশ করিল।

    একটা লোহার বেঞ্চির উপর বিল্লু পিছন ফিরিয়া বসিয়াছিল, তাহার বসিবার ভঙ্গি দেখিয়া অনুরূপের মনে হইল, সে কোলের উপর বই রাখিয়া পড়িতেছে। ছাঁটা ঘাসে ঢাকা লনের উপর দিয়া অনুরূপ নিঃশব্দে তাহার দিকে অগ্রসর হইল।

    বেঞ্চির কাছে পৌঁছিতে যখন আর হাত ছয়-সাত বাকী আছে, তখন বিল্লু হস্তস্থিত জিনিসটা মুখের কাছে তুলিয়া চুম্বন করিল, তারপর সচকিতে কিছুক্ষণ ফিরিয়া চাহিয়াই অনুরূপকে দেখিয়া তড়িদ্বেগে উঠিয়া দাঁড়াইল।

    এইরূপ অবস্থায় যে ধরা পড়ে, তাহার যেমন লজ্জার অবধি থাকে না, যে ধরিয়া ফেলে, সেও কম লজ্জা পায় না। অনুরূপ আরক্ত-মুখে আড়ষ্ট হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল।

    যে লকেটে বিল্লু চুম্বন করিয়াছিল, তাহা তখনও তাহার হাতে ধরা ছিল, সেটা বন্ধ করিয়া বুকের কাপড়ের তলায় চাপা দিয়া বিল্লু শুষ্ক হাসিল, বলিল, ‘চুপি চুপি একেবারে পেছনে এসে দাঁড়িয়েছ যে!’ তাহার কণ্ঠস্বরে বিরক্তি ও অসন্তোষ সুস্পষ্ট।

    অনুরূপ চুপি চুপি আসে নাই, পায়ের তলায় ঘাস ছিল বলিয়াই বিল্লু তাহার পদশব্দ শুনিতে পায় নাই। কিন্তু সে কৈফিয়ত দিতে যাওয়া বৃথা। হয়তো তাহার গলা-ঝাড়া দিয়া আগমন-বার্তা ঘোষণা করা উচিত ছিল। সে চুপ করিয়া রহিল।

    বিল্লু বলিল, ‘এখানেই বসবে, না, ভেতরে যাবে? মা-বাবা পার্টিতে গেছেন।’

    অনুরূপ চেষ্টা করিয়া বলিল, ‘যেখানে হয়—এখানেই বোসো।’

    দুইজনে বেঞ্চিতে বসিল।

    কিছুক্ষণ অস্বচ্ছন্দভাবে দুই একটা কথা হইল, তাহার পর বিল্লুর মুখের অপ্রসন্নতা কাটিয়া গেল। সে হাসিয়া বলিল, ‘আচ্ছা নাকুদা, বিলেতে থাকতে তুমি ইংরেজ মেয়েদের সঙ্গে মিশতে?’

    অনুরূপ সাবধানে বলিল, ‘কিছু কিছু মিশেছি।’

    বিল্লু জিজ্ঞাসা করিল, ‘তারা তোমায় দেখে হাসত না?’

    অধর দংশন করিয়া অনুরূপ বলিল, ‘না। হাসবে কেন?’

    ‘অমনি’ বলিয়া বিল্লু নিজেই জোরে হাসিয়া উঠিল।

    ক্ষুব্ধভাবে কিয়ৎকাল চুপ করিয়া থাকিয়া অনুরূপ বলিল, ‘আমাকে দেখলেই তোমার হাসি পায়—না?’

    ‘হ্যাঁ—বড্ড।’ —বলিয়া হাসির বেগ রোধ করিতে না পারিয়া বিল্লু মুখে রুমাল চাপিয়া ধরিল।

    ধীরভাবে অনুরূপ জিজ্ঞাসা করিল, ‘কেন বলতো?’

    ‘কি জানি—তোমাকে দেখলেই—’ কথাটা বিল্লু শেষ করিতে পারিল না।

    মিনিট দুই শক্তভাবে বসিয়া থাকিয়া অনুরূপ হঠাৎ উঠিয়া দাঁড়াইল, বলিল, ‘আচ্ছা, চললুম!’

    রুমাল হইতে মুখ তুলিয়া বিল্লু বলিল, ‘রাগ হল নাকি?’

    ‘না।’

    কয়েক পা যাইবার পর বিল্লু তাহাকে ফিরিয়া ডাকিল, ‘নাকুদা, তুমি বৃজ্‌ খেলতে জান?’

    ‘ন যযৌ ন তস্থৌ’ ভাবে দাঁড়াইয়া অনুরূপ বলিল, ‘জানি সামান্য।’

    বিল্লু বলিল, ‘গোড়ায় সবাই ঐ কথাই বলে; তোমারও আবার বিনয় হচ্ছে নাকি?’—কাল সন্ধ্যের পর আমাদের বাড়িতে একটা বৃজ্‌ পার্টি বসবার কথা আছে। খেলতে জানে এমন দু’জন লোক পাওয়া গেছে—কেবল একজনের অভাব হচ্ছে। তুমি আসতে পারবে?

    উদাসভাবে অনুরূপ বলিল, “যদি অভাব হয়—আসতে পারি। কিন্তু আমি ভাল খেলতে জানি না—’

    হাসি গোপন করিয়া বিল্লু বলিল, ‘এসো তাহলে। ঠিক সাতটার সময়!’

    রাত্রিতে ঘুমাইয়া অনুরূপ স্বপ্ন দেখিল,—বিল্লু পিছন হইতে তাহার গলা জড়াইয়া ধরিয়া আবদারের সুরে বলিতেছে, ‘নাকুদা, আমায় দুটো ফুল তুলে দেবে ভাই?’

    অনুরূপ ঘাড় ফিরাইয়া দেখিল—আট বছরের বিল্লু নহে, সতেরো বছরের বিল্লু। ধড়মড় করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইতেই—ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল।

    এমন বিশ্রীভাবে ঘুম ভাঙ্গিয়া যায় কেন, কেহ বলিতে পারেন?

    পরদিন সন্ধ্যায় অনুরূপ যথাসময়ে উপস্থিত হইয়া দেখিল, দুইজন ভদ্রলোক হাজির আছেন। তাঁহাদের সহিত পরিচয় হইল, দুইজনেই ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, বয়সে তরুণ, বেশ সুপুরুষ। একজনের নাম সমরেশ, অন্যের নাম সুধাংশু। বিন্দু পরিচয় করিয়া দিতে গিয়া বলিল, “ইনি আমার দাদার ছেলেবেলার বন্ধু—অনুরূপবাবু,—ওঁর একটা ডাকনাম আছে, কিন্তু সে নামটা আর শুনে কাজ নেই।’ বলিয়া হাসিয়া ফেলিল।

    অনুরূপ লক্ষ্য করিল, এই দুইজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বিল্লুর ব্যবহার সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকারের। তাহাদের দেখিয়া সে হাসিতেছে না, কথার মধ্যে তীক্ষ কাঁটার খোঁচা নাই। বেশ সহজ সমপূর্ণ বন্ধুত্বের ভাব।

    তাস খেলিতে বসিয়া বিল্লু অনুরূপের খেঁড়ী হইল। কিন্তু তবু খেলা জমিল না। খেলিতে খেলিতে অনুরূপ কেবলই ভাবিতে লাগিল, এই দুইজনের মধ্যে কাহার ছবি বিল্লুর বুকের মধ্যে লকেটের ভিতর লুকানো আছে? কে তিনি? সুধাংশু না সমরেশ?

    এইরূপ প্রশ্নসঙ্কুল মন লইয়া ভাল বৃজ্‌ খেলা চলে না। আধ ঘণ্টা পরে বিল্লু তাস ফেলিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল; বলিল, ‘নাঃ নাকুদা, তুমি একেবারে কিছু খেলতে জান না। —আসুন, তার চেয়ে অন্য কিছু করা যাক।’

    অনুরূপ আরক্ত-কর্ণমূলে বলিল, ‘আমি তো বলেছিলুম, আমি ভাল জানি না—’

    তাহার কথার উত্তর না দিয়া বিষ্ণু বলিল, ‘সুধাংশুবাবু, আপনি তো চমৎকার গাইতে পারেন। চলুন, ও ঘরে অর্গান আছে।’

    রসশাস্ত্রের বড় বড় পণ্ডিতরা বলিয়াছেন, করুণ রস বেশী ফেনাইতে নাই; নিতান্তই যদি জবাই করিবার দরকার হয়, তবে চটপট সে কাজ সারিয়া ফেলাই বিধি। সুতরাং এই পতঙ্গ ও দীপশিখার উপাখ্যান টানিয়া দীর্ঘ করিয়া আর শাস্ত্রবিধি লঙঘন করিব না।

    মোট কথা, অগ্নিশিখার সংস্পর্শে পতঙ্গের পাখা পুড়িয়া গেল, গায়েও সর্বত্র ফোস্কা পড়িল। কিন্তু তবু সে পলাইতে পারিল না এবং মুখ ফুটিয়া বলিতেও পারিল না—‘ওগো দীপ্তিময়ী শিখা, আমি তোমাকে চাই, তুমি আমাকে নিঃশেষে পুড়াইয়া ছাই করিয়া দাও।’ সে প্রত্যহ সন্ধ্যায় নিয়মিত শিখার কাছে আসিতে লাগিল এবং নীরবে পাখার খানিকটা পুড়াইয়া দহনক্লিষ্ট-দেহে ফিরিয়া যাইতে লাগিল।

    এইভাবে একমাস কাটিয়া গেল। অনুরূপের টুণ্ডলায় গিয়া অফিসে যোগ দিবার সময় উপস্থিত হইল।

    বিদেশে যাত্রার আগের রাত্রিতে বেহারীবাবুর বাংলায় অনুরূপের নিমন্ত্রণ হইল—বিদায়-ভোজ। নিতান্তই ঘরোয়া ব্যাপার—আর কেহ নিমন্ত্রিত হয় নাই, শুধু অনুরূপ!

    সন্ধ্যার পর হইতে ড্রয়িং-রুমে বসিয়া চারিজনে অলসভাবে গল্প করিয়া শেষে আহার করিতে গেলেন। তারপর প্রায় নীরবে ডিনার শেষ করিয়া ড্রয়িং-রুমে আসিয়া বসিলেন। অনুষ্ঠানটার গোড়া হইতে শেষ পর্যন্ত কেমন যেন প্রাণসঞ্চার হইল না, কোন্ অজ্ঞাত কারণে উহা কুণ্ঠিত ও কৃত্রিম হইয়া রহিল।

    আহারাদি শেষ হইবার পরই বিল্লু উঠিয়া গিয়াছিল, অনুরূপকে একটা বিদায়-সম্ভাষণ করিয়া যাওয়াও প্রয়োজন মনে করে নাই। তাহার এই অবহেলা তাহার মা বাবাও লক্ষ্য করিয়াছিলেন, তাই রাত্রি দশটার সময় অনুরূপ যখন তাঁহাদের পদধূলি লইয়া বিদায় চাহিল, তখন তাহাকে যথারীতি আশীর্বাদ করিয়া গৃহিণী একটু অপ্রস্তুত ভাবে বলিলেন, ‘বিল্লুর আজ শরীরটা ভাল নেই, সকাল থেকেই বলছিল। বোধ হয় শুয়ে পড়েছে।’

    ‘থাক, তাকে বিরক্ত করে কাজ নেই।’

    অনুরূপ বাহির হইয়া পড়িল। চন্দ্রহীন রাত্রি—বোধ হয় অমাবস্যা। বাড়ির সদর হইতে কম্পাউন্ডের ফটক প্রায় একশ’ গজ দূরে। অন্ধকারে পরিচিত পথ ধরিয়া যাইতে যাইতে অনুরূপ ভাবিতে লাগিল—এই একমাস ধরিয়া কি উৎকট পাগলামিই না সে করিয়াছে! বিল্লু আর কাহাকেও ভালবাসে (বোধ হয় তিনি সুধাংশুবাবু), তাহা স্পষ্ট বুঝিয়াও নিজেকে এমন ভাবে খেলো করিবার কি দরকার ছিল? উঠিতে বসিতে বিল্লু তাহাকে বিদ্রুপ করিয়াছে, অন্যের সম্মুখে হাস্যাস্পদ করিয়াছে, সে যে অতিশয় কৃপার পাত্র, তাহা বুঝাইয়া দিতে ত্রুটি করে নাই। তবু সে নির্লজ্জ মূঢ়ের মতো লাগিয়াছিল কোন্ দুর্দৈবের প্ররোচনায়? ভাগ্যে তাহার মনের কথা প্রকাশ হইয়া পড়ে নাই, নহিলে আরও কত বিড়ম্বনা সহ্য করিতে হইত, কে জানে? কিন্তু যাক, আজ এই হাস্যকর অভিনয়ের সমাপ্তি হইয়াছে, প্রহসনের শেষ দৃশ্যে যবনিকা পড়িয়া গিয়াছে। অভিনয়কালে দর্শকরা আসিয়াছিল বটে, কিন্তু অভিনেতার মনে সুখ ছিল না। এখন সুখ না হোক অন্তত সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিয়া বাঁচিবে।

    ফটক খুলিবার জন্য হাত বাড়াইতেই কাহার হাত হাতে ঠেকিয়া গেল, অনুরূপ চমকিয়া উঠিয়া বলিল, ‘কে?’

    ‘নাকুদা নাকি? যাচ্ছ?’—বিল্লুর কণ্ঠস্বর।

    অনুরূপ হঠাৎ হাসিয়া উঠিল। তাহার মনের মধ্যে একটা আশ্চর্য পরিবর্তন ঘটিয়া গেল। এতটা স্বচ্ছন্দ বেপরোয়া ভাব সে অনেক দিন অনুভব করে নাই, যেন মস্ত একটা সংশয়ের বোঝা বুক হইতে নামিয়া গিয়াছে, এমনি ভাবে বলিল, ‘হ্যাঁ ভাই, চললুম। কাল বিকেলেই রওনা হতে হবে, কাজেই এ-যাত্রা আর বোধহয় তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে না। ভালই হল, আমি তো ভেবেছিলুম, তুমি শুয়ে পড়েছ—’

    ‘না—আমি রোজ এই সময় একটু বেড়াই।’

    এতক্ষণে অনুরূপের ঠাহর হইল যে বিল্লু ফটকে ভর দিয়া দাঁড়াইয়া কথা কহিতেছে, —অন্ধকারে কৃষ্ণতর একটা ছায়ামাত্র, মুখ চোখ কিছুই দেখা গেল না।

    সে বলিল, ‘কিন্তু আর বাইরে থাকা বোধ হয় ঠিক হবে না। রাত কম হয়নি। এ সময় একটু হিমও পড়ে!’

    সে কথার উত্তর না দিয়া বিল্লু জিজ্ঞাসা করিল, ‘তোমার কর্মস্থল কোথায় বলছিলে? কানপুরে?’

    অন্ধকারে অনুরূপ হাসিল, ‘না—তবে কাছাকাছি বটে। টুণ্ডলায়।’

    ‘ও’—কিয়ৎকাল দুইজনেই নীরব।

    সহসা অনুরূপ তরল কণ্ঠে বলিল, ‘আমি চলে গেলে কিছুদিন তোমার ভারী কষ্ট হবে—না?’

    ‘কষ্ট হবে? কেন?’—তাহার উত্থিতভ্রূ ঈষৎ বিস্ময়ের ভঙ্গি দেখা না গেলেও বুঝা গেল।

    ‘এমন একটা target— একটা সঙ—আর কি সহজে খুঁজে পাবে? যাকে দেখলেই হাসি পায়, এমন লোক তো পৃথিবীতে বেশী নেই কি না, তাই ভাবছি প্রথম প্রথম হয়তো একটু কষ্ট হবে। তাহার কণ্ঠস্বরে গ্লানির লেশমাত্র নাই।

    কিছুক্ষণ বিল্লু জবাব দিল না, তারপর বলিল, ‘তোমাকে আজ ভারী খুশি মনে হচ্ছে।’

    ‘খুশি?’ অনুরূপ অল্পকাল আত্মানুসন্ধান করিয়া বলিল, ‘না, ঠিক খুশি নয়—তবে মনটা একটু হাল্কা বোধ হচ্ছে—কাজকর্ম নেই চুপ করে বসে থাকতে আর ভাল লাগছিল না—সেই জন্যই বোধ হয়—’

    বিল্লুর হাসি শুনা গেল, ‘তুমি আজকাল ভারী কাজের লোক হয়ে উঠেছ—না?’

    ‘হইনি এখনও—তবে পাকে-চক্রে পড়ে হয়তো শেষ পর্যন্ত হয়ে পড়তে পারি।’

    ‘তুমি কোনও কালে কাজের লোক হতে পারবে না।’

    ‘পারব না? কেন বল দেখি?’

    ‘তুমি একেবারে—একেবারে অপদার্থ।’—সঙ্গে সঙ্গে চাপা হাসির শব্দ।

    কিছুক্ষণ সমস্ত নিস্তব্ধ,—যেন অন্ধকারে দুইজন মুখোমুখি দাঁড়াইয়া নাই। পাঁচ মিনিট কাটিয়া গেল।

    অন্ধকারে একটা গভীর নিশ্বাস পড়িল। অনুরূপ বলিল, ‘তোমার সঙ্গে আবার কবে দেখা হবে, কে জানে! হয়তো আর কখনও—আচ্ছা বিল্লু, একটা কথা জিজ্ঞাসা করব? কিছু মনে করো না, আমি রাগ বা অভিমান করে বলছি না, শুধু একটা কৌতূহল হচ্ছে। তুমি যে আমাকে কথায় কথায় ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে, লোকের কাছে হাস্যাস্পদ করতে—আমার কি সত্যিই কোনও দোষ ছিল? আমি নিজে অনেক চেষ্টা করেও বুঝতে পারিনি, তাই জান্‌তে চাইছি। কি জানি, হয়তো না জেনে প্রতিপদেই এমন নির্বুদ্ধিতা কিংবা অসভ্যতা করে ফেলেছি—’

    বিল্লু আবার হাসিয়া উঠিল, তাহার চাপা অথচ দুর্নিবার হাসির ঢেউ অনুরূপের কথাগুলি ভাসাইয়া লইয়া গেল।

    অত্যন্ত আহতস্বরে অনুরূপ বলিল, ‘বিল্লু! হাসি নয়। সত্যি বল আমি কী অন্যায় করেছিলুম—’

    ‘চুপ কর। আমি আর পারছি না—তোমার মতো বোকা—’

    ‘বোকা! তাই হবে বোধ হয়। আর একটা নিশ্বাস পড়িল, ‘আচ্ছা চললুম।’

    অনুরূপ ফটক খুলিল।

    ‘যাচ্ছ?’

    ‘হ্যাঁ’—অনুরূপ ফটকের বাহির হইল।

    ‘—আচ্ছা—এস’—আবার সেই হাসি।

    ঠিক এই সময়—উস্কার আলো!

    অন্ধকার আকাশের একপ্রান্ত হইতে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত আলোর দাগ কাটিয়া একটা উল্কাপিণ্ড ফাটিয়া পড়িল। কয়েক মুহূর্তের জন্য তাহারই উজ্জ্বল নীল প্রভায় অনুরূপ দেখিল, বিল্লুর চোখের জলে মুখ ভিজিয়া গিয়াছে এবং সে দু’হাতে বুক চাপিয়া ধরিয়া—

    যাহা অনুরূপ চাপা হাসি বলিয়া ভুল করিয়াছিল, তাহা অদম্য রোদনের উচ্ছ্বাস!

    আবার অন্ধকার।

    ‘বিল্লু!’

    ‘কি?’—স্বর ক্ষুদ্র ও ক্ষীণ।

    ‘আমি বুঝতে পারিনি। আমি ভেবেছিলুম—তুমি আর কাউকে’— বিল্লুর নিকট হইতে কোনও জবাব আসিল না।

    ‘তোমার লকেটে—’ অনুরূপের এ কথাটাও অসমাপ্ত রহিয়া গেল।

    কিয়ৎকাল পরে বিল্লুর হাত অনুরূপের হাতে ঠেকিল, বিল্লু একটা ঈষদুষ্ণ ক্ষুদ্র বস্তু তাহার করতলে রাখিয়া হাত টানিয়া লইল। অনুরূপ অনুভব করিয়া বুঝিল—লকেট।

    বলিল, ‘এ কি হবে?’

    ‘নাও। ওর মধ্যে একটা মুণ্ডু আছে, চিনতে পার কি না দেখো।’

    ‘বিল্লু!’

    উত্তর নাই। অনুরূপ আবার ডাকিল, ‘বিল্লু!’

    বিল্লুর সাড়া পাওয়া গেল না। সে বোধ হয় পা টিপিয়া চলিয়া গিয়াছে।

    প্রশ্ন হইতে পারে, বিন্দুর মনে যদি ইহাই ছিল, তবে সে এমন ব্যবহার করিল কেন? ইহার উত্তর বোধ করি বিল্লু নিজেও দিতে পারিবে না। তাই গোড়ায় বলিয়াছিলাম, এ গল্পের নাম হওয়া উচিত ছিল—স্ত্রিয়াশ্চরিত্রং—কিংবা—

    ২৩ চৈত্র ১৩৩৯

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142 143 144 145 146 147 148 149 150 151 152 153 154 155 156 157 158 159 160 161 162 163 164 165 166 167 168 169 170 171 172 173 174 175 176 177 178 179 180 181 182 183 184 185 186 187 188 189 190
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅলৌকিক গল্পসমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }