Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা এক পাতা গল্প92 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঈষা খাঁ

    ‘দৈবায়ত্ত কুলে জন্মঃ
    মমায়ত্তং হি পৌরুষম্‌’

    অযোধ্যা বা আউধ হতে বাংলা দেশে ব্যবসা করতে এলেন কালিদাস গজদানী নামে একজন ক্ষত্রিয় রাজপুত ব্যবসায় বাণিজ্য করতেন বলে অনেকে তাঁকে বৈশ্য বলে বলেছেন। যা হোক কি হবে জাত বিচার দিয়ে?

    সত্যি, বড় কুলে ভালো বংশে জন্মানো বিধাতার হাত। কিন্তু মানুষ চেষ্টা করলে বড় হতে পারে, বীর হতে পারে, ধনী হতে পারে এ কথা অস্বীকার করা যায় না। দৈববাদীরা এতেও অবশ্য দৈবের হাত দেখাতে ছাড়বেন না কিন্তু মোটামুটি মীমাংসা হচ্ছে দৈব ও পুরুষকার দুইয়েরই দরকার, ঘুমন্ত সিংহের মুখে আপনি এসে হরিণ ঝাঁপিয়ে পড়ে না পড়লেও সে হচ্ছে একটা ব্যতিক্রম। যাঁরা অজগরের মতো হাঁ করে পড়ে থেকে জীবিকা নির্বাহ করতে সাহস পান তাঁদের সঙ্গে একমত হওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়।

    কালিদাস গজদানী মহাশয় সুদূর অযোধ্যা দেশ থেকে, সেই রেল ষ্টীমার, মোটর, লরী, লঞ্চ শূন্য দিনে বহুকষ্টে ঢাকা অঞ্চলে গিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করলেন, অসাধারণ উন্নতির আকাক্ষা না থাকলে, আমাদের ন্যায় বাড়ীমুখো বাঙ্গালীর মতো হলে হয়তো তিনি দেশে ‘আঁটার রুটি আর ঘিউ খেয়েই’ জীবন কাটাতেন। তিনি যে সে প্রকৃতির ছিলেন না— এ তাঁর এই সুদূর অভিযানেই সুস্পষ্ট উপলব্ধি হয়। বর্তমান নারায়ণগঞ্জের প্রায় এক মাইল উত্তরে ছিল খিজিরপুর বলে একখানি গ্রাম, এখানে এসে ব্যবসায়ী কালিদাস গজদানী মহাশয় তার ব্যবসায় আরম্ভ করেন। ব্যবসায়ে চলছিলও মন্দ নয় কিন্তু তিনি দেখলেন বাংলার উর্বরা ভূমিও বাণিজ্যের চেয়ে কম লাভজনক নয়।

    তখন দেশে চোর-ডাকাতের তত ভয় ছিল না, রাজধানী দিল্লীও বহুদূরে। রাজার উপদ্রবও তত বেশি নেই। তাই তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে সোনারগাঁয়ের কাছে সামান্য কিছু জমি কিনলেন— কিনে তাতে স্বাধীনভাবে বসবাস শুরু করে দিলেন, তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন সোনার হাতী দান করতেন বলে গজদানী নামে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেন।

    যে জমি কিনলেন, তা অনেক নয় কিন্তু তাঁর হৃদয় ছিল মস্ত বড় বহু আশায় ভরা। স্বাধীনভাবে থাকবেন এই ছিল তার আকাঙ্ক্ষা, জমিগুলি ছিল খাজনা করা কিন্তু খাজনা দেওয়ার মতো মনোবৃত্তি তাঁর ছিল না। তিনি ‘আবার খাজনা দেব কাকে?’ এমনই একটা দুর্ধর্ষভাব মনে মনে পোষণ করতেন। সে কি চলে?

    কিন্তু এক এক সময়ে এক একটা লোক, এক এক জায়গায় জন্মে যারা অসম্ভব সম্ভব করে তোলেন দম্ভভরে বলেন- ‘অসম্ভব কথাটা অভিধান হতে উঠিয়ে দেও— সে কি গো? মানুষের কাছে আবার অসম্ভব কি?’

    এমন লোকের কথা, অনেক ইতিহাস খুঁজে দেখেছি, ঐতিহাসিকগণ উল্লেখও করেননি করবেনই বা কেন? তারা উল্লেখ করেন, যারা গতানুগতিক, প্রকারান্তরে কাপুরুষ রাজভক্ত বলে আত্মপ্রকাশ করেন, তাঁদের কথা। বাঙ্গালীর লিখিত কোনো ইতিহাসে কালিদাস গজদানীর তেমন উল্লেখ নেই। এমনকি তার ছেলে মহাবীর ঈশা খাঁর কথাও নয়।

    সুলতানের লোক খাজনা চাইতে এলে তিনি তাঁদের বার বার হাঁকিয়ে দিতেন। ক্রমে এক, দুই করে বহুবার তিনি তাঁদের এইভাবে অপমানিত করলেন, খাজনাও বাকি হলো অনেক। হিসাবের সময় কথাটা শাহানশাহের কানে বেশ অতিরঞ্জিত হয়েই উঠল।

    শাহানশাহ চটে লাল হলেন। তিনি হুকুম দিলেন – সেনাপতিকে!

    সেনাপতি বেছে বেছে তাঁর সহকারীদের সৈন্যসামন্ত দিয়ে পাঠালেন। দু-চারবার যুদ্ধ হলো। বাদশাহর সৈন্যরা পরাস্ত হয়ে ফিরে গেল।

    দরবারে যুক্তি করে, ঠিক করা হলো, বিরাট আয়োজন করো, যত সৈন্য, যত গোলা, যত বারুদ লাগে নিয়ে গিয়ে বেটাকে এখুনি জাহান্নামে দাও।

    একে একে বড় বড় সেনাপতি সোলেম খাঁ, তাজ খাঁ, দুবিবার খা সোনারগাঁয়ে গেলেন। কিন্তু কি আশ্চর্য্য গজদানী পরাস্ত হলেন না, শেষে সন্ধি করতে হলো।

    কিন্তু সন্ধি তো একটা কৌশল মাত্র। গজদানী সন্ধি মানবার পাত্র ছিলেন না। হঠাৎ একদিন প্রভাতে অরুণোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সন্ধি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।

    সংবাদ পহুঁছিতে বিলম্ব হলো না গজদানী আবার বিদ্রোহী হয়েছেন। এবার গজদানী বেশ ভালোভাবেই বিদ্রোহ শুরু করলেন। দূরদেশে থাকেন সুলতান- তিনি তাঁর কি করবেন এই হলো তার দৃঢ় বিশ্বাস।

    কিন্তু সুলতানের তা সহ্য করবার মতো হৃদয় ছিল না। শত্রুকে তিনি মোটেই উপেক্ষা করতেন না।

    অসংখ্য সৈন্য পাঠিয়ে গজদানীর সর্বনাশ করতে তিনি উদ্যত হলেন। প্রবল পরাক্রান্ত সেনাপতি এবার নির্দয়ভাবে গজদানীকে আক্রমণ করলেন। সে আক্রমণ গজদানী সহ্য করতে পারলেন না, সুলতানের হুকুম ছিল— জন বাচ্চা শুদ্ধ গজদানীকে একেবারে উৎসন্ন করার, তাই হলো, গজদানীকে যুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করে তাঁকে নির্মমভাবে তীক্ষ অসির আঘাতে নিহত করা হলো।

    শুধু তা-ই নয়। তাঁর বংশের কেউ যদি বাংলায় থাকে তাহলে হয়তো সে প্রতিশোধ নিতে চেষ্টা করবে। এইজন্য তাঁর ছেলে ঈশা খাঁ ও ইসমাইল খাঁকে প্রাণে না মেরে, ভারতের বাইরের তুরাণ দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করে ফেলা হলো। সুলতান ভাবলেন বিষবৃক্ষের মূলোচ্ছেদ হলো! কিন্তু বিধাতা একটা মায়ার খেলা খেললেন। স্বাধীন রাজার ছেলেরা হলেন যে কিছুতেই যেন তারা বাংলা দেশে না আসতে পারে।

    রাজার ছেলে ক্রীতদাস হয়ে দেশ ছেড়ে, মা ছেড়ে, বাড়ীঘর, খেলার সঙ্গী, সব ছেড়ে তুরাণদের গৃহে অতি কষ্টে দিন কাটাতে লাগলেন। সবই ভগবানের ইচ্ছা। বিপদ, সম্পদের অগ্রদূত এও তো ঠিক।

    তাঁদের সহায় হলেন তাঁদের স্নেহময়, সদাশয় পিতব্যদের কুতব খাঁ।

    বলতে একটু গোল হয়েছে। কালিদাস গজদানী মহাশয়, কেন তা জানা যায়নি, স্বধর্ম ছেড়ে, মোসলমান হয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিবারের সকলেই যে মোসলমান হয়েছিলেন তা বলাই বাহুল্য। জমিদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এ কর্ম করেছিলেন, মোসলমান হয়ে তাঁর নাম হয়েছিল সুলেমান। কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেছেন, কালিদাস গজদানী বা সুলেমান সাহেব যখন বারংবার খাজনা বন্ধ করে বিদ্রোহী হচ্ছিলেন তখন দিল্লীর সুলতান ছিলেন সুলতান শের শার পুত্র ইসলাম শা। ইনি ছিলেন পাঠান। এঁর সৈন্যরাই সুলেমানকে পরাজিত, বন্দী ও নিহত করে এবং তাঁর ছেলে ঈশা খাঁ ও ইসমাইল খাঁকে বিক্রয় করে ফেলেন।

    এই সময়ে সুলেমানের ভ্রাতা কুতব খাঁ নানা কৌশলে ভাইয়ের রাজত্ব রক্ষা করছিলেন। শাসনকর্তা ছিলেন সেলিম খাঁ বলে একজন। তিনি বড় নির্মম ছিলেন। তাঁর আমলে কুতব খাঁর ভ্রাতৃম্পুত্রদের জন্য কোনো চেষ্টাই সফল হয়নি। তাঁর মৃত্যুর পর তাজ খাঁ বলে একজন শাসনকর্তা বাংলায় এলেন। ইনি এসে দেখলেন, সুলেমানের মতো কুতব খাঁ বিদ্রোহভাবাপন্ন নন। দেশে নানা সৎকাজ করেছেন, তার সদ্ব্যবহারে সকল লোকই তার উপর ভারী খুশি। অযথা হাঙ্গামায় ফল নেই। ভেবে তাজ খাঁ তাঁর সঙ্গে কোনো অসদ্ব্যবহার করা সঙ্গত বোধ করলেন না, বরং মিত্রভাবে, সন্তুষ্ট চিত্তে তাঁর কথামতোই চলতে লাগলেন।

    কুতব সাহেবের কোনো সন্তান ছিল না। ভাইয়ের ছেলেদের উপর ভারী টান ছিল। তিনি অনেক বলে কয়ে বহু চেষ্টায় নিজের দায়িত্বে তাঁর ভ্রাতুস্পুত্রগণকে ফিরিয়ে আনলেন। বহুদিনে, বহুকষ্টে তার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলো।

    ঈশা খাঁ ও ইসমাইল খাঁ পুনরায় সোনারগাঁয় আনীত হলেন। পিতৃব্য ও ভ্রাতপুত্রদ্বয়ের আনন্দের আর সীমা রইল না।

    ঈশা খাঁ তখন বড় হয়েছেন। বেশ শান্তশিষ্ট ও বুদ্ধিমান হয়েছেন। দুঃখে যাদের গড়ে উঠে জীবন, অনেক সময় দেখা যায় তারাই বড় মানুষ হন।

    অল্প দিনের মধ্যে ঈশা খাঁর গুণে সকলে মুগ্ধ হলেন। তাঁর পিতৃব্য কুবত খাঁরও তখন বয়স হয়েছিল। তিনি উপযুক্ত ভ্রাতুস্পুত্রের হাতে রাজ্য সঁপে দিয়ে নিশ্চিন্তে খোদার নাম করতে লাগলেন।

    কত দিন বেশ চলল। যুদ্ধ নেই, বিগ্রহ নেই, খান, দান, ভয় নেই, ভাবনা নেই। কিন্তু ঈশা খাঁ তো অমন থাকতে পারেন না!

    ‘কে বাদশা? – তাকে কেন আবার খাজনা দিতে হবে?’ এমনই এক বংশানুক্রমিকভাবে তিনি উন্মনা হয়ে উঠলেন। না— না, এতগুলো টাকা খাজনা দিতে যাব কেন। দেখাই যাক না, না দিলে কি হয় এইভাবে তিনি বিব্রত বিভোর হলেন। খাজনা দেওয়া বন্ধ হলো। বাদশার সৈন্য এল, ঈশা খা তাদের তাড়িয়ে দিলেন। একবার নয়, দুবার নয়— বহুবার হলো এ কাণ্ড! ঈশা খাঁর পরাজয়, সে তো একটা মজার কথা- সন্ধি করে বাদশার অধীনতা স্বীকার করে, তাকে আর তার সেনাপতি ও লোকজন, সৈন্যসামন্তকে খুসী করে, তিনি খাজনা দিয়ে দিতেন, আবার সুযোগ পেলেই বন্ধ করতেন। যখন যেভাবে চলে- তাই। আর যেবার তিনি জয়লাভ করতেন, সেবার যে কি হতো তা তো সহজেই বোঝা যায়— বাদশার কর্মচারীরা যে খালি হাতেই ফিরে যেতেন তাতে আর সন্দেহ নেই।

    রাজনৈতিক চাল- ঈশা খাঁ বেশ ভালো করেই চালাতেন। দেখতে তিনি অতি সুপুরুষ ছিলেন, বীরত্বের চিহ্ন তার দেহে ফুটে বের হতো। তিনি বহুগুণে গুণবানও ছিলেন! কাহারও কাহারও মতে বারজন ভৌমিকের মধ্যেই তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ ভৌমিক।

    কয়েকজন ঐতিহাসিক বলেছেন : ঈশা খাঁ প্রথমে বাংলার স্বাধীন সুলতান দাউদ শার সেনাপতি হয়েছিলেন। দাউদ শার পর নিজ বাহুবলে ও বুদ্ধি কৌশলে বাংলার একজন পরাক্রান্ত জমিদার বা ভৌমিক হয়ে উঠেন। ক্রমশ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ত্রিপুরা অঞ্চলে জমিদারী বাড়িয়ে, ফৌজ ও রণপোত গড়ায়ে, নারায়ণগঞ্জের নিকট সোনারগাঁ পরগণার খিজিরপুরে দুর্গ ও রাজধানী সংস্থাপন করে স্বাধীন রাজার ন্যায় রাজত্ব করতে থাকেন। দিল্লীর বাদশাকে খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেন।

    সে যা হোক, ঈশা খাঁর বুদ্ধি ও বল প্রভাবে বাদশাকে যে অত্যন্ত বিভ্রাটে পড়তে হয়েছিল তাতে আর সন্দেহ নেই। ঈশা খাঁর পুনঃপুন অবাধ্যতায় বাদশা অধীর হয়ে উঠলেন। বাদশার সেনাপতিদের মধ্যে সাহাবাজ খাঁ ছিলেন অত্যন্ত তেজস্বী ও বুদ্ধিমান। এবার তাকেই ঈশা খাঁকে দমন করতে পাঠানো হলো। বিপুল সৈন্য নিয়ে সাহাবাজ খাঁ সহসা ঈশা খাঁকে আক্রমণ করলেন। ঈশা খাঁ এমন সাংঘাতিক আক্রমণের প্রত্যাশা করেননি। প্রতিরোধ করবার কোনো উপায় না পেয়ে, তিনি সন্ধির প্রস্তাব করে পাঠালেন। কিন্তু সাহাবাজ খাঁও ঈশা খাঁর চেয়ে কম ধূর্ত ছিলেন না— তিনি তাঁর মতলব বুঝতে পারলেন। তিনি তাঁর প্রস্তাব অগ্রাহ্য করার সঙ্গে সঙ্গেই খিজিরপুর আক্রমণ করলেন। ঈশা খাঁ ভাবছিলেন, অন্যান্যবারের মতো এবারও বুঝি কর্তৃপক্ষ টক করে তার সন্ধির প্রস্তাবে বাধ্য হবেন, কিন্তু তা হলো না। সাহাবাজ খাঁর অতর্কিত প্রবলাক্রমণে ঈশা খাঁ একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়লেন। পলায়ন ভিন্ন আর গত্যন্তর রইল না।

    মোগল সেনাপতি সাহাবাজ খাঁ অনায়াসে খিজিরপুর দুর্গ অধিকার করলেন। দুর্গ অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে ঈশা খাঁর অধীন, খিজিরপুরের নিকটবর্তী পম্পা নদীর পরপারের বর্তমান তপ্পা নামক পরগণা, যা তখন বাজুহারের অন্তর্গত ছিল, সেখানকার অস্ত্রাগার ও মস্বাদি গ্রামের ধনাগার ও রসদাগার অধিকার করলেন।

    ঈশা খাঁর এ অত্যাচার সহ্য হলো না। তিনি বাংলায় নিশ্চিন্ত থাকলেন না। অনেক সৈন্য, অস্ত্র ও রসদ গোপনে গোপনে সংগ্রহ করলেন।

    সেনাপতি সাহাবাজ খাঁর কানে এ সংবাদ গেল, তিনি ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী সুপ্রসিদ্ধ ‘তোটক’ নগরে দুর্গ নির্মাণ করে তার শত্রুদের গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকলেন; কুমার সনন্দের পরপারে ছিল এ স্থান।

    সাহাবাজ খাঁর অধীনে তারসুন বলে একজন অত্যন্ত সাহসী সেনাপতি ছিলেন, তিনি তাঁকে ভাওয়ালের পথে তোটক হতে বজরাপুর পাঠালেন। বজরাপুরে ঈশা খাঁর সৈন্যরা তাঁর বন্ধু মাসুম কাবুলীর নেতৃত্বে একত্র হয়েছিলেন।

    তারসুন মহাবীরের মতো যুদ্ধ করলেও পরাস্ত হয়ে বন্দী হলেন, তাঁকে বধ করা হলো।

    সেনাপতি তারসুনের অলৌকিক বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও প্রভুভক্তির কথা সাহাবাজ খাঁর কর্ণগোচর হইবা মাত্র তিনি মাসুম কাবুলীর এই অত্যাচারের প্রতিশোধ নেবার জন্য ব্রহ্মপুত্রের শাখা পণার নদীর তীরে হতে ছুটে চললেন।

    বর্ষার জল কম ছিল, মোগলদের সুবিধা হলো, তারা নদীর ধারে বাসের সুযোগ পেল।

    ঈশা খাঁ সব শুনলেন। তাঁর চতুরতার সীমা ছিল না। তিনি তাঁর অদ্ভুত বুদ্ধি প্রয়োগ করলেন, তাঁর পাঠানো সৈন্যগণ ব্রহ্মপুত্র হতে ১৫টি খাল কেটে বর্ষার জল সেই সকল খাল দিয়ে দিয়ে মোগল শিবিরের দিকে চালিয়ে দিল। জল ছুটে চলল কল কল করে।

    ঈশা খাঁ সম্মুখযুদ্ধে এলেন না। নদী-নালার গোলক ধাঁধায় মোগল সৈন্য ও সেনাপতিকে হতবুদ্ধি করে তুললেন। খালগুলো এমন চমৎকার কৌশলে কাটা হয়েছিল যে সেগুলো দিয়ে নদীর বাণের জল চালিয়ে সব ভাসিয়ে দিতে লাগলেন। মোগল সৈন্য সে জলে হাবুডুবু খেতে লাগল। প্রবল জলস্রোতে মোগলের তাঁবু ডুবে গেল রসদ ভিজে গেল, বন্দুক, তলোয়ার সব ভেসে গেল, তারপর পাঠালেন সেই জল-প্লাবনের মতোই পাঠান সৈন্যের প্লাবন। মোগলেরা বড় বিপদে পড়লেন।

    এমন সময়, হরিণগুলো যেমন শিকারীর ভয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে যখন আর পথ পায় না – ফিরে দাঁড়ায় ঘেরুয়া হয়ে শিকারীকে প্রাণপণ আক্রমণ করে তেমনই মোগল সৈন্যদের আর প্রাণের আশা নেই ভেবে একজন সুদক্ষ গোলন্দাজ তাঁর হাতের বন্দুকটি তুলে ধরে পাঠান সেনাপতির মস্তক লক্ষ্য করে অতি কষ্টে নিক্ষেপ করলেন। অব্যর্থ সে লক্ষ্য, পাঠান সেনাপতি সেই গুলির আঘাতে বিদ্ধ হয়ে পড়ে গেলেন।

    নায়ক নেই— ছত্রভঙ্গ পাঠান সৈন্য চারদিকে পালাতে লাগল। যদি না পালাত তাহলে বোধ হয় মোগলদের এক প্রাণীও রক্ষা পেত না।

    কৃত্রিম জল শুকিয়ে উঠল। সে আবার এক বিপদ। জলাভাব দেখা দিল, একদল মাত্র সৈন্য নিয়ে যা কিছু যুদ্ধ করছিলেন ঢাকার মোগলদের দারোগা সায়দ মোহাম্মদ সাহেব। কিন্তু তিনিও বন্দী হলেন; মোগলদের বিপদের সংবাদ শুনে ঢাকা হতে কতকগুলো রণতরী ও সৈন্য এল বটে কিন্তু তাদের আসবার আগেই তাদের থানাদার বন্দী হলেন। কোনো উপায় রইল না।

    তখন মোগলদের দুর্ধর্ষ সেনাপতি সাহাবাজ খাঁ ঈশা খাঁর সঙ্গে সন্ধি করতে সম্মত হলেন, দারোগা সায়দ মোহাম্মদ ঈশা খাঁর বন্দী ছিলেন, তাঁকে দিয়েই ঈশা খাঁর কথা সাহাবাজ খাঁকে ঈশা খাঁ বলাতে লাগলেন।

    সন্ধির শর্ত হলো- মাসুম কাবুলী বঙ্গদেশ ছেড়ে যুদ্ধবিগ্রহ ছেড়েছুড়ে একেবারে মক্কায় চলে যাবেন। সোনারগাঁয়ে বাদশার থানাদার থাকবেন। ঈশা খাঁ যথারীতি বাদশাকে খাজনা দেবেন। ঈশা খাঁ সাহাবাজ খাঁর এসব শর্তেই রাজি হলেন, কিন্তু মনের সঙ্গে নয়।

    সাহাবাজ খাঁ ঈশা খাঁকে বিশ্বাস না করে সসৈন্যে সেখানে এক বছর তাঁর গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকলেন। ঈশা খাঁর মনের কথা অতি অল্প দিনের মধ্যে ফুটে বের হলো। তিনি কূটনীতি অবলম্বন করলেন। অনেক আমীর দিগকে বড় বড় ভেট দিতে লাগলেন। অনেক আমীর সেনাপতি সাহাবাজ খাঁকে ছেড়ে, সোনারগাঁ ছেড়ে চলে যেতে লাগলেন। তাঁদের ঘুষ দিয়ে, বাধ্য করে তাড়িয়ে ঈশা খাঁ আবার স্বমূর্তি ধারণ করলেন। সাহাবাজ খাঁ ধূর্তের ধূর্ততা টের পেলেন কিন্তু যুদ্ধ ভিন্ন উপায় কি? যুদ্ধ করবেন কাদের নিয়ে? সকলেই ক্লান্ত, সকলেই বিরক্ত। এদিকে সাহাবাজ খাঁর কড়া শাসনে সকলেই মনে মনে অসন্তুষ্ট, যুদ্ধ করলেও তা সহজে মিটবার নয়, বাংলার বার ভূঁইয়া তখনো দুরন্ত। দীর্ঘকাল যুদ্ধ করলে যদি কিছু হয়, আমীরেরা বললেন— বার ভূঁইয়াদের নামে মাত্র সম্রাটের অধীন বলে স্বীকার করায়ে ছেড়ে দেওয়া হোক, কিন্তু সেনাপতি সাহাবাজ খাঁর ইচ্ছা তাঁরা সম্রাটের একবারে পদানত হয়ে থাকুক।

    মতভেদে আত্মকলহ শুরু হলো। মহিব আলি খাঁ ছিলেন সাহাবাজ খাঁর দক্ষিণ হস্ত। তিনি সাহাবাজ খাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন, ক্রমে অধিকাংশ সেনাপতিই তাঁর পথ অনুসরণ করলেন, বাকি রইলেন শুধু সেনাপতি কাবুলী খাঁ। তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করলেন- সৈন্যেরা তাঁর কথা শুনল না। ভাওয়ালে এক যুদ্ধ হলো, সেই যুদ্ধে কাবুলী খাঁ আহত হলেন। ভাওয়াল ছেড়ে যাওয়া ভিন্ন গতি রইল না।

    তিনি চলে গেলে সেনাপতি সাহাবাজ খাঁ সকলকে একত্র করবার জন্য শেষ চেষ্টা করলেন, কোনো ফল হলো না। একা তিনি কি করবেন? অগত্যা, যুদ্ধের সব ফেলে তিনি প্রাণ নিয়ে তাণ্ডার দিকে পালিয়ে গেলেন। এবার মোগলদের মীর আদনের পুত্রগণ ও অপরাপর বহু সৈন্য বন্দী হলো।

    মোহাম্মদ শা গজনভী বলে যিনি সাহসী সেনানায়ক ছিলেন তিনি কয়েকজন লোকের সঙ্গে সহসা জলে ডুবে মরলেন। জন কয়েক মাত্র সঙ্গী নিয়ে সেনাপতি সাহাবাজ খাঁ আট দিন পর সেরপুরে গিয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন।

    তিনি উপায়ান্তর না দেখে বাদশাকে খুলে লিখলেন। বাদশা বহু সৈন্য সঙ্গে দিয়ে তাঁর বিচক্ষণ সেনাপতি উজীর খাঁকে পাঠিয়ে দিলেন, দুজনের চেষ্টায় পাঠানগণ কতকটা শান্ত হলো, বাদশা সাহাবাজ খাঁর স্থানে উজীর খাকে বাংলার সুবেদার করে সাহাবাজ খাঁকে দেশে ফিরে যেতে আদেশ দিলেন। উজীর খাঁ অল্পদিন বাংলা শাসন করেই পরলোক গমন করলেন। বাংলা দেশ নিয়ে বাদশার বড় চিন্তা হলো। তিনি অনেক ভেবেচিন্তে সর্বাপেক্ষা বিচক্ষণ শাসনকর্তা, অম্বরাধিপতি মানসিংহকে বাংলা দেশ শাসন করতে পাঠালেন। মানসিংহ যেমন যোদ্ধা, তেমনই রাজভক্ত, তেমনই কূটনীতিক বিশারদ ছিলেন।

    মানসিংহ সুকৌশলে বিহার ও উড়িষ্যার বিদ্রোহ দমন করে, এলেন বাংলা দেশে। বাংলা দেশের বার ভূঁইয়াদের যন্ত্রণায় সকলে ছটফট করছিলেন। প্রধান শত্রু ছিলেন ঈশা খাঁ আর তাঁর সঙ্গী মাসুম কাবুলী। এদের সঙ্গে উড়িষ্যার ও বিহারের বিদ্রোহীদেরও যোগ ছিল।

    মানসিংহ ঈশা খাঁর রাজধানী খিজিরপুর অবরোধ করলেন। ঈশা খাঁর দল তখন মহাপরাক্রান্ত। যত সব বিদ্রোহী তাঁর দলে। প্রথম যুদ্ধে মানসিংহ ঈশা খাঁর কিছুই করতে পারলেন না, বরং মানসিংহের এক জামাতাই নিহত হলেন। কেমন করে নিহত হলেন সে এক বড় মজার কথা।

    এ হচ্ছে, ১৫৯৫ খৃষ্টাব্দের কথা, ক্ষত্রিয় বীর রাজা মানসিংহ ঈশা খাঁর এগারো সিন্ধু দুর্গ অবরোধ করলেন। ঈশা খাঁ তখন সেখানে ছিলেন না। দুর্গাবরোধ সংবাদ শুনে তিনি সৈন্য নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। ঈশা খাঁর সৈন্যগণ তার অবাধ্য হলো। যুদ্ধ করতে সম্মত হলো না, কিন্তু ঈশা খাঁ কাপুরুষ ছিলেন না, তিনি রাজা মানসিংহকে অগত্যা দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করে বললেন এই যুদ্ধে যিনি জীবিত থাকবেন তিনিই বাংলা একাকী ভোগ করবেন।

    রাজা মানসিংহ ঈশা খাঁর এ প্রস্তাবে সম্মত হলেন। ঈশা খাঁ ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধস্থলে এসে উপস্থিত হলেন, দেখলেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী একজন তরুণ যুবক, রাজা মানসিংহ আসেননি, এসেছেন তাঁর জামাতা। ঈশা খাঁ তাঁরই সঙ্গে যুদ্ধ করলেন। তিনি ঈশা খাঁর হাতে নিহত হলেন। ঈশা খাঁ রাজা মানসিংহকে ভীরু বলে ভৎসনা করে নিজের শিবিরে চলে গেলেন। কিন্তু ঈশা খাঁ শিবিরে প্রবেশ করতে না করতেই সংবাদ এল যে রাজা মানসিংহ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। ঈশা খাঁও পশ্চাৎপদ হওয়ার লোক নন। তিনি অশ্বারোহণে, তড়িৎ গতিতে যুদ্ধভূমিতে।

    উপনীত হলেন, এসে বললেন- ‘যাবৎ তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে রাজা মানসিংহ বলে চিনতে না পারবেন, তাবৎ যুদ্ধে প্রবৃত্ত হবেন না। কিন্তু ঈশা খার রাজা মানসিংহকে চিনতে বিলম্ব হলো না। প্রথম আক্রমণেই মানসিংহের তরবারি ভেঙ্গে গেল। ঈশা খাঁ আপনার তরবারি রাজাকে দিলেন। কিন্তু রাজা তা না নিয়ে ঘোড়া হতে নেমে পড়লেন। ঈশা খাঁও নামলেন, নিরস্ত্র রাজার সঙ্গে মল্লযুদ্ধে উদ্যত হলেন।

    মানসিংহ যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলেন না, প্রতিদ্বন্দ্বী ঈশা খাঁর উদারতা, সাহস ও বীরত্বে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বন্ধু বলে আলিঙ্গন করলেন এবং তাঁকে আপ্যায়িত করে, উপহারাদি দানে সন্তুষ্ট করে বিদায় দিলেন।

    কোনো কোনো ঐতিহাসিক আবার লিখেছেন :- মানসিংহ অনেক দিন ধরে চেষ্টা করেও যখন ঈশা খাঁকে দমন করতে পারলেন না তখন কূটবুদ্ধির আশ্রয় নিলেন। তিনি ঈশা খাঁকে বুঝালেন, কেন মিছামিছি লোকক্ষয় করেছেন। এতে আমিও সুখে নেই আপনার প্রজাদেরও সুখ নেই, আমরাও হয়রানি হচ্ছি। মোগলের শক্তি অফুরন্ত তা তো আপনি জানেনই— যত দিন বশ্যতা স্বীকার না করবেন, তত দিন আপনার নিস্তার নেই। বাদশার নাম মাত্র অধীনতা স্বীকার করুন, কেবল বার্ষিক একটা রাজস্ব দেওয়া ছাড়া তো আর কোনো অধীনতা নেই, আপনি আপনার রাজ্যে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবেন। ঈশা খাঁ অনবরত যুদ্ধে বিরক্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বিচক্ষণ রাজা মানসিংহের যুক্তি তাঁর মন্দ লাগল না। তিনি সন্ধি করে, বশ্যতা স্বীকার করলেন! মানসিংহ ঈশা খাঁকে মসনদ-ই-আলি’ অর্থাৎ ঈশ্বরের সিংহাসন উপাধি ভূষণে সম্মানিত করে দিল্লী ফিরে গেলেন।

    অন্য একজন বলেছেন :- ‘ঈশা খাঁ এর পর রাজা মানসিংহের সঙ্গে আগ্রায় সম্রাট আকবরের নিকট উপস্থিত হলেন। তাঁকে কারারুদ্ধ করা হলো। শেষে সম্রাট যখন তাঁর এগারো সিন্ধুর দ্বন্দ্বযুদ্ধের বিবরণ শুনলেন, তখন তাকে অবিলম্বে কারামুক্ত করে, দেওয়ান ও মসনদ-ই-আলি উপাধি এবং বাংলার অনেক পরগণার শাসনভার দিয়ে সম্মানিত করলেন। বাইশটি পরগণাও দিয়েছিলেন বলে এই ঐতিহাসিক বলেছেন।

    ঈশা খাঁ আধিপত্য করতেন সুবর্ণগ্রামে। সমগ্র পূর্ববাংলা তাঁর অধীন ছিল। তিনি আসামের অন্তর্গত রাঙ্গামাটিতে, নারায়ণগঞ্জের অপর তীরবর্তী ত্রিবেণীতে, যে স্থানে লক্ষ্যা নদী ব্রহ্মপুত্র হতে বের হয়েছে সেই স্থানের নিকটবর্তী এগারো সিন্ধুতে দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। ময়মনসিংহের জঙ্গলবাড়ীতে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। শেরপুর দশকাহনিয়ায়ও দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন।

    ১৫৮৩ খৃষ্টাব্দের রালফ ফিচ নামক একজন প্রসিদ্ধ ভ্রমণকারীর ভ্রমণবৃত্তান্তে ঈশা খাঁর কথা পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন : এই সমস্ত দেশের প্রধান রাজার নাম ঈশা খাঁ। তিনি অন্যান্য অধিপতিদিগের মধ্যে প্রধান এবং খৃষ্টানদের পরম বন্ধু।

    ঈশা খাঁ বাঙ্গালী ছিলেন, অথচ তেমন বীরের কথা বাংলার ঐতিহাসিকগণ লিখেননি। এই বাঙ্গালী বীর জলে-স্থলে সমান বিক্রমে মোগল সেনাপতিদের সঙ্গে সুদীর্ঘকাল যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি যুদ্ধে সিদ্ধহস্ত ছিলেন, তাঁর অসংখ্য রণ-তরী ছিল! পূর্ববঙ্গের বড় বড় নদী ছিল তাঁর আত্মরক্ষার উপায়স্বরূপ।

    কামরূপ যখন কোচবিহারের অধীন ছিল, ঈশা খাঁ তখন কোচবিহারের রাজাকে জয় করেছিলেন।

    ঈশা খাঁ প্রজার সুখ ও সচ্ছলতার জন্য সর্বদা চেষ্টা করতেন। তিনি রাজ্য মধ্যে বহু খাল ও পুকুর কাটায়ে তার রাজ্যময় জলের সুব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

    তাঁর রাজত্ব সময়ে সোনারগাঁয়ে টাকায় (৪) চার মণ চাল বিক্রয় হতো, শস্য বেশ জন্মাত, খাজনাও খুব অল্প ছিল। বিদেশে তিনি দেশের মাল রপ্তানি করতে দিতেন না। কাজেই প্রজার সুখের আর সীমা ছিল না। ঈশা খাঁর জয়-পতাকা সমুদ্রতট অবধি উড়েছিল। ময়মনসিংহের অন্তর্গত সুসঙ্গের রাজ্যের সীমা অবধি ঈশা খাঁর রাজ্যের সীমা ছিল।

    ১৫৯৮ খৃষ্টাব্দের শেষাংশে বা ১৫৯৯ খৃষ্টাব্দে বীরোত্তম ঈশা খাঁর দেহান্তর ঘটে।

    তাঁর দুই ছেলে ছিলেন। একজনের নাম ছিল মুসা খাঁ ও অন্যটির নাম ছিল মোহাম্মদ খাঁ। তারা কখনো মোগল বাদশার সঙ্গে শত্রুতা করেননি। মোগল সম্রাটের প্রতিনিধি এসে ১৬৩২ খৃষ্টাব্দে হুগলি অবরোধ করেন, তখন মুসা খাঁর ছেলে মাসুম খাঁ মোগল জাহাজের অধ্যক্ষ ছিলেন। বাদশার আসাম আক্রমণকালে তিনি ২৫ খানা কোষা নৌকা দিয়ে বাদশাকে সাহায্য করেছিলেন বলে জানা যায়।

    ঈশা খাঁকে বাঙ্গালীর ভুলবার উপায় নেই। তাঁর কীর্তিতে বাংলা দেশ ভরে রয়েছে। এখনো তাঁর অসীম বীরত্বের নিদর্শন সুদৃঢ়, সুদৃশ্য কামান এখানে সেখানে পাওয়া যাচ্ছে। বেশি দিনের কথা নয়— এই সাঁইত্রিশ বছর আগেও একজন কৃষক ক্ষেত চাষ করবার সময় একে একে ঈশা খাঁর সাত সাতটি কামান পেয়েছিল। তখনকার ডিরেক্টর অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন অফ বেঙ্গল- এইচ, ই, ষ্টেপলটন সাহেব ঐ কামানগুলির সময় নির্ণয় করতে চেষ্টা করেন, পিস্তল নির্মিত এই কামানগুলিতে ছিল ১০০২। উহা কি কামানের নম্বর, না কোনো সন বা তারিখ তা নির্ণয় করা দুরূহ হয়েছে।

    কারো কারো মতে, বাংলার ভৌমিকশ্রেষ্ঠ ঈশা খাঁ যাবজ্জীবন মোগলের বশ্যতাই স্বীকার করেননি। একজন বাঙ্গালীর পক্ষে এমন সাহস, এমন দুর্ধর্ষতা— এমন বীরত্ব যে কত গৌরবের, তা ভাবলেও শরীর পুলকিত হয়ে উঠে। বাল্যে তিনি বিক্রিত হয়ে ক্রীতদাস রূপে সুদূর তুরাণে বিতাড়িত হয়েছিলেন, তাঁর জীবনের শেষাংশের এতাদৃশ মহনীয় বীরত্ব কাহিনী, এতাদৃশ অবদান পরম্পরা কার না চিত্তে সম্ভ্রমের উদ্রেক করে? – ঈশা খাঁর অনেক কথা বলা হলো এবার আর একটি কথা বলব তা চাঁদ রায় ও কেদার রায়ের গল্পে বলা হয়েছে। তাহাই আবার বলিতেছি।

    বার ভূঁইয়ার অন্যতম দুই ভূঁইয়া ছিলেন চাঁদ রায় ও কেদার রায়, তাঁদের কথা আগেই বলেছি, তাদের রাজধানী ছিল শ্রীপুরে।

    ঈশা খাঁর সঙ্গে এঁদের খুব ভাব ছিল, রাজ্যের নানা পরামর্শের জন্য ঈশা খাঁ এলেন— শ্রীপুরে। সেখানে তাঁর যথেষ্ট সংবর্ধনা করা হলো।

    দৈবের নির্বন্ধ! ঈশা খাঁ ছদ্মবেশে শ্রীনগরের শোভা ও সৌন্দর্য দেখতে বের হলেন। সঙ্গে সৈন্যসামন্ত কিছু রইল না চললেন একাকী।

    ঈশা খাঁ দেখলেন- শ্রীনগরে কত বড় বড় বাড়ী, বাড়ীতে বাড়ীতে উড়ছে নিশান রাস্তায় রাস্তায় গাড়ী, ঘোড়ার অবধি নেই। দেখতে দেখতে এলেন রাজবাড়ীর সামনে। সে কি প্রকাণ্ড অট্টালিকা! মহলের পর তার মহল। চলেছে, আঙ্গিনার পর তার আঙ্গিনা!

    তখন সন্ধ্যা কাল! হাজার প্রদীপ জ্বলে উঠল— দেয়ালের গায়ের নকশায় নকশায় আলো ঠিকরে পড়ল। ঈশা খাঁ চেয়ে দেখলেন, ছাদের উপর একটি সুন্দরী মেয়ে বসে আছে। পরনে তাঁর শাদা ধবধবে শাড়ী, চুলগুলো তার মেঘের বরণ, কাঁধে, চোখে, মুখে পড়েছে এলিয়ে। মুখখানা যেন পৃথিবীর সকল সৌন্দর্য্য ছেনে কে গড়েছে!

    দেখে ঈশা খাঁর চোখের পলক আর পড়ল না— তাঁর চোখের মণি যেন আর নড়ল না- এমন মেয়েও আছে? ঈশা খাঁ ভাবলেন, এঁকে যেমন করে হোক পাওয়াই চাই। খেয়াল নেই। কিন্তু যে তা কি করে হবে? তিনি যে মোসলমান।

    ঈশা খাঁ পাগলের মতো হয়ে ফিরলেন সোনারগাঁয়ে তাঁর বাড়ীতে। অনেক ভেবেচিন্তে তিনি দূত এনায়েত খাঁকে দিয়ে চিঠি লিখে পাঠালেন চাঁদ রায়ের কাছে।

    দূত গিয়ে চিঠি দিল। কেদার রায় কৌটা খুলে আতরমাখা সেই চিঠি পড়ে- ক্রোধে অধীর হয়ে বললেন, যাও, তোমার মণিবকে বলো- এ চিঠির উত্তর তরোয়ালের মুখে দেওয়া হবে।’

    কলাগাছিয়ায় ঈশা খাঁ, চাঁদ-কেদারের কাছে হেরে গেলেন, কেদারের কামানে কলাগাছিয়ার দুর্গ মাটির সঙ্গে মিশে গেল। যেখানে ব্রহ্মপুত্র, ধলেশ্বরী ও গঙ্গা এসে মিশেছে, সেইখানে ছিল ঈশা খাঁর ত্রিবেণী-দুর্গ। ঈশা খাঁ আশ্রয় নিলেন সেই ত্রিবেণীতে। কেদার রায় তাঁর নৌসেনার শুধু দেড়শ ছিপ নিয়ে নদী বেয়ে চললেন। ছিপের হাজার সৈন্য নিয়ে নিজে কেদার রায় ত্রিবেণীর নিকটে এসে পড়লেন। কিন্তু শ্রীমন্ত ঠাকুর বলে একজন ষড়যন্ত্রকারী ব্রাহ্মণের চেষ্টায় চাঁদরায়ের মেয়ে স্বর্ণময়ী বা সোনামণি যাকে দেখে ঈশা খাঁ পাগল হয়েছিলেন, তিনি ঈশা খাঁর হস্তগত হলেন। এই অপমানে রাজা চাঁদ রায় জীবন ত্যাগ করলেন।

    তারপর—দিন গেল, মাস গেল— স্বর্ণময়ী ঈশা খাঁ সাহেবের অঙ্কলক্ষ্মী হলেন।

    কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে ঈশা খাঁ মরে গেলে, মোগলেরা নাকি, সোনারগাঁও আক্রমণ করেছিলেন,

    দশ দিন দশ রাত্রি ঈশা খাঁর বেগম স্বর্ণময়ী বা সোনাবিবি সোনারগাঁওকে মোগলের হাত থেকে রক্ষা করে অবশেষে চিতা জ্বেলে পুড়ে মরেছিলেন।

    ঈশা খাঁর জীবনে এটি কু কি সু কাজ তার বিচার করবার অবসর আমাদের নেই দরকারও নেই।

    আমরা শুধু ভাবি, যদি এ ঘটনা না ঘটত, তাহলে চাঁদ রায় ও কেদার রায়ের সঙ্গে ঈশা খাঁর সম্মেলনে যে অদ্ভুত শক্তির উদ্ভব হতো, তাতে হয়তো আমাদের মাতৃভূমি বাংলা দেশের রূপ অন্য আকার ধারণ করত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী
    Next Article বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    সাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিদ্যাসাগর-জীবনচরিত – শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    পাকদণ্ডী – লীলা মজুমদার

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    কৃষ্ণসাধিকা মীরাবাঈ – পৃথ্বীরাজ সেন

    January 17, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Our Picks

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }