Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা এক পাতা গল্প92 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজা চাঁদ রায় ও কেদার রায়

    ‘ভিনত্তি নিত্যং কবিরাজ কুম্ভং
    বিভর্ত্তি বেগং পবনাতিরেকং
    করোতি বাসং গিরিরাজ শৃঙ্গে
    তথাপি সিংহঃ পশুরেব নান্যঃ॥’
    নিয়ত হস্তীর মুণ্ড করে বিদারণ।
    বায়ু অপেক্ষা বেশি বেগ করয়ে ধারণ॥
    পর্বতের উচ্চ শৃঙ্গে করে অবস্থান।
    তথাপি সে সিংহ পশু ভিন্ন নহে আন॥
    ভেবে দেখ এ শৃঙ্খল কার পায় সাজে।
    তরবারি লইলাম লাগাইব কাজে॥

    যার ছিন্ন মস্তক ভূপতিত হয়েও গদগদ ভাষায় বলেছিল ‘ছিন্নমস্তে নমস্তে’, সেই বাঙ্গালীর পরম ভক্ত, শক্তিসাধক মহাবীর, বার ভূঁইয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভূঁইয়া কেদার রায়ের পুণ্য নাম স্মরণ ও অক্ষয় কীর্ত্তিরাশি কীর্ত্তন করবার প্রারম্ভে তাঁকে একান্ত ভক্তি সহকারে প্রণাম করছি। ধন্য বঙ্গদেশ যে এমন সন্তান, এমন ভৌমিক তার কোলে খেলে বেড়িয়েছিলেন। তাঁর মতো বীরই সগর্বে বলতে পারে আমেরের (অম্বর) রাজা মানসিংহকে, ‘সিংহ পশুর রাজা হলেও পশু ছাড়া আর কিছুই নয়; ভাঙ্গুক, সে বড় বড় হাতির মাথা, হোক তার পবনের চেয়েও বেশি গতি, বাস করুক না সে বড় বড় পাহাড়ের সকলের উপরকার চূড়ায়।’

    রাজা মানসিংহের অহঙ্কার পূর্ণ, আত্মশ্লাঘা পূর্ণ:

    ‘ত্রিপুর মগ বাঙ্গালী, কাক কুলি চাকালি
    সকল পুরুষমেতৎ ভাগি যাও পালায়ী
    হয়-গজ-নর-নৌকা কম্পিতা বঙ্গভূমি,
    বিষম সমর সিংহহা মানসিংহশ্চায়াতি।’

    উক্তির উত্তর ‘তথাপি পশু ভিন্ন সে আর কিছুই নয়’ এক মহাবীর, কায়স্থ-কুল-ভূষণ কেদার রায়েরই দেওয়া সম্ভবপর। কে আর এমন মুখে উত্তর দিতে পারে বল?

    মোগল সম্রাট আকবরের রাজত্বের প্রায় দেড়শ বছর আগে কর্ণাট হতে নিমু বলে একজন উন্নতিপ্রয়াসী ঘূতকৌশিক গোত্রীয়, দেব উপাধিধারী কায়স্থ বাংলা দেশে আগমন করেন। তখন সেনবংশীয় রাজারা বাংলার রাজা। অনেক পরিশ্রম ও বহু আশা করে তিনি এসেছিলেন বাংলা দেশে চাকরি করবেন বলে। চাকরি তাঁর জুটে গেল। নিমু দেব মশাই সেনরাজাদের দপ্তরে মুহুরিগিরি চাকরি পেলেন।

    কিন্তু মুহুরিগিরি করে জীবন কাটাবার লোক তো তিনি ছিলেন না। আশার- উচ্চাকাঙ্ক্ষার তাঁর ছিল না অবধি। সাধু যাঁর ইচ্ছা ঈশ্বর তাঁর সহায়। ভগবান নিজেও ইচ্ছাময়। কারও আকুল আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রাখেন না তিনি।

    সুযোগ এসে ধরা দিল নিমু দেব মশাইয়ের সামনে অপূর্ব রূপ নিয়ে। একটা রাষ্ট্রে বিপ্লব উপস্থিত হলো। হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেন রাজ্যচ্যুত হলেন। পাঠানেরা এলেন জোয়ারের জলের মতো। সারা বাংলা প্লাবিত করে ফেললেন। বুদ্ধিমান, একান্ত উন্নতিলিপ্সু নিমু দেব মশাই দেখলেন এই তো তাঁর পূর্ণ সুযোগ, আকাঙ্ক্ষা পরিপূর্ণ করবার মাহেন্দ্রক্ষণ সমুপস্থিত হয়েছে। তিনি মুহূর্ত বিলম্ব না করে পাঠানের পক্ষ নিলেন। পাঠানেরা তাঁর কৃতিত্বে খুশী হয়ে তাঁকে বকসিস দিলেন বিক্রমপুর পরগণা। ভিখারী নিমু, কেরানী নিমু- হলেন রাজা। বিক্রমপুরের ফুলবাড়ীয়ায় বাস করতে লাগলেন। রাজা হয়ে হলো তার উপাধি ‘রায়’। নির্বিঘ্নে দীর্ঘদিন চলল রাজত্ব।

    এক দুই করতে করতে এল পঞ্চদশ শতাব্দী শেষ হয়ে। তখন পাঠানদের রাজ্যের অবসান হয়েছে, পাঠানেরা তাদের তল্পীতল্পা গুটিয়ে ঢুকে পড়ছেন। হিন্দুদের মধ্যে; বাদশা হয়েছেন মোগলেরা। মোগলদের মাথায় লম্বা লম্বা তাজ, হাতে বাঁকানো তরোয়াল, ঘোড়ায় চড়ে তারা করছেন দেশকে শাসন। পাঠানদের ধরে মারে, হিন্দুদের মেরে বন্দী করে রাখে তাদের কোতোয়ালিতে।

    এমন সময় এই নিমু রায়ের দুজন বংশধর একজনের নাম চাঁদ অন্য জনের নাম কেদার, রামায়ণের রাম লক্ষ্মণের মতো বীরত্বে, রূপে, নানা গুণে দেশ উজ্জ্বল করে পদ্মফুল দুটির মতো ফুটে উঠলেন। মোগলদের অত্যাচার, উপদ্রব্যের কথা শুনে বললেন, ‘আচ্ছা, রসো, এতো অহঙ্কার! বটে!’

    এ হচ্ছে তিন, চার শ’বছর আগেকার কথা, তখনকার বাঙ্গালী এখনকার মতো ছিল না। বাঙ্গালী শিল্পীরা দেখতে দেখতে গড়ে উঠাতেন প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড গড়, লোহা গালিয়ে গড়তেন মস্ত মস্ত কামান, তাঁদের গোলন্দাজদের গোলার আগুন উড়ে বিপক্ষেরা বলত, হ্যাঁ এঁরা বীর বটে।

    আগেই বলেছি, রাজা চাঁদ রায় আর রাজা কেদার রায় দুভাই। দুটো দেহ কিন্তু আত্মা যেন অভেদ- আত্মা যেন এক, ভাই বলতে অজ্ঞান দুজনেরই একবুদ্ধি, এক কাজ। যেন হরি আর হর— রাম আর লক্ষ্মণ।

    তাঁরা বাছা বাছা লোক আনালেন, লস্কর আনালেন, সিপাই এল, শান্ত্রী এল, রাস্তায় ঘাটে গজ গজ করতে লাগল। মস্তবড় ছিল মাঠ, কোদাল দিয়ে কেটে হলো খাল। প্রকাণ্ড দুর্গ গড়ে উঠল সে খালের পাড়ে। পৎ পৎ করে উড়তে লাগল নিশান, নানা দেশ থেকে এল নানা মিস্ত্রি, রাজাদের হুকুমে স্তূপাকার সব লোহা গালিয়ে গড়ল হাজার হাজার কামান, বন্দুক, তরোয়াল, বর্শা, আর যত সব যুদ্ধের আয়োজন উপকরণ, অস্ত্রশস্ত্র।

    রাজ্য রক্ষার জন্য যেমন দুর্গ ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি হলো তেমনই প্রজার মঙ্গলের জন্য রাজারা দুভাই প্রাণপণ চেষ্টা করতে লাগলেন। অনেক বড় বড় পুকুর কাটালেন, ভালো ভালো পথ তৈরি করালেন, পথের পাশে পাশে দিলেন উত্তম উত্তম গাছ লাগিয়ে, বিচার-আচার এমনই সুন্দর আর নিরপেক্ষভাবে করতে লাগলেন যে সকলে ধন্য ধন্য করতে লাগল। চোর, ডাকাত আর উপদ্রব করে না, রাতে দোর খুলে শুয়ে থাকলেও কেউ ঘরে ঢুকে চুরি করতে সাহস পায় না- পাকা পাহারার বন্দোবস্ত, কড়া আইন। রাজধানী হলো ‘শ্রীপুরে’। শ্রীপুর হচ্ছে, বিক্রমপুরে বর্তমান তারপাশা ষ্টেশনের কাছে পদ্মা নদীর তীরে।

    রাজারা সব বন্দোবস্তই ভালো করে উঠালেন, কিন্তু, মস্তবড় দুটো ফ্যাসাদ ছিল, সে ফ্যাসাদ দুটো কেউই দূর করতে পারেননি। দেশের লোক ছিল শায়েস্তা, দেশের লোকের চরিত্রও ভালো ছিল সত্য কিন্তু বিদেশ পর্তুগাল থেকে একদল লোক এসে ভারী জ্বালাতন করতে শুরু করেছিল, আর আরাকানের একদল লোক, নাম তাদের মগ, তারা এসে বেজায় গোল বাধিয়ে দিয়েছিল; এই মগদের রাজা ছিল আরাকানের রাজা মেংরাজগী সেলিম সা। পর্তুগাল থেকে পর্তুগিজেরা এসে বাংলায় বাণিজ্য করত, তারা গোয়া, কোচিন, মলাক্কা, সিংহল প্রভৃতি স্থানে বাস করত, আর ব্যবসায় বাণিজ্য করে দেশে চলে যেত, অবশ্য সবাই যে খারাপ লোক ছিল তা নয় কিন্তু তাদের মধ্যে কতকগুলো লোক এত বেশি খারাপ ছিল যে, তারা তাদের নিজেদের সমাজে পর্যন্ত স্থান পেত না। তারা আরাকানের লোকদের সঙ্গে ভাব করে, আরকানেই করলে প্রধান আড্ডা, এদিকে আরাকানের রাজারও ছিল মহা মুস্কিল, মোগলেরা তাঁকে করত ভারী জ্বালাতন, কি করেন তিনি? অগত্যা জলদস্যু পর্তুগিজদেরই নিজ রাজ্যে স্থান দিয়ে খানিকটা প্রতিকার হবে ভেবে নিশ্চিন্ত রইলেন। তারা শুধু সেখানে বন্ধ না থেকে সমুদ্রের তীরে, চাটগাঁয়ের বন্দরের আশ্রয় নিলে। এদের মতো নিষ্ঠুর, দয়ামায়াহীন ডাকাতের কথা বড় শোনা যায় না। নৌকোয় চড়ে, জাহাজে চড়ে, নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে, রাত-দিন চুরি-ডাকাতি করত, গ্রামে গ্রামে আগুন লাগিয় দিয়ে, পুড়িয়ে যে সর্বনাশ করে, অসহায় গ্রামবাসীদের সব কিছু লুটপাট করে যাচ্ছেতাই করত। বঙ্গোপসাগরে, মেঘনায়, গঙ্গায় যারা নৌকো নিয়ে যাতায়াত করত, ব্যবসা-বাণিজ্য করত, তারা বিপদের আশঙ্কায় সর্বদা অস্থির হয়ে উঠেছিল। স্বয়ং মোগল সম্রাটও কিছু করতে পারেননি। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য, ভূষণার রাজা মুকুন্দরাম রায়, খিজিরপুরের নবাব ঈশা খাঁও এদের দমন করতে পারেননি, কৌশলে দমন করেছিলেন এই চাঁদ রায় আর কেদার রায় পর্তুগিজদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, তাদের বার বার পরাস্ত করেও যখন তাদের দমন করা সম্ভব হলো না, তখন তাঁরা বুদ্ধি খাটিয়ে পর্তুগিজদের সঙ্গে করলেন সদ্ভাব। তারা তাদের বশ হলো। কাঁটা দিয়ে যেমন কাঁটা তোলে তেমনি করে তাঁরা পর্তুগিজদের দিয়ে মগদের করলেন দমন, পর্তুগিজেরাও ক্রমে শায়েস্তা হয়ে এল। ততটা বাড়াবাড়ি আর রইল না, শেষে এমন হলো যে তারা চুরি-ডাকাতি ছেড়ে রাজাদের সম্পূর্ণ বশ হয়ে পড়ল। এতে তাঁদের রাজ্যে বেশ একটা শান্তির ছায়া দেখা দিল।

    তার পর কি হলো শোনো। একদিন রাজা কেদার রায় তার দাদা চাঁদ রায়কে বললেন- “দাদা! সব তো হলো- কিন্তু আমরা কি এমনই অধীন হয়ে চিরটা কাল দুঃখ ভোগই করব? শুয়ে, খেয়ে, বসে পাচ্ছি না এতটুকুনও শান্তি, যারা পরের অধীন, তাদের আবার সুখ কোথায়? আপনি তো জানেন:

    ‘সর্ব আত্মবশং সুখম্‌,
    সর্বং পরবশং দুঃখম্‌’

    চাঁদ রায়, ভাইয়ের কথা শুনে, বললেন, তাহলে তোমার যা ভালো লাগে কর।

    দুভাইয়ের মন্ত্রণা হলো। বাইরে এসে তারা হুকুম দিলেন, সব রাজাকে নিমন্ত্রণ করে আনতে! রাজাদের আদেশে ছুটে চলল দূতেরা, কেউ চলল ঘোড়ায়, কেউ চলল ছিপে চেপে, কেউ ছুটল হেঁটে।

    রাজধানী শ্রীপুরের চার দিকে ছিল মাঠ, শস্যের ক্ষেত, সেই বিরাট, বিপুল, মাঠে, শস্যের ক্ষেত্রগুলো সমান করে, খাটানো হলো তাঁবু, তাঁবুর উপরে পৎ পৎ করে উড়তে লাগল সব নানা রঙ্গের নিশান। প্রকাণ্ড সভামণ্ডপ গড়ে উঠল।

    বড় বড় সোনারূপোর কাজ করা সিংহাসন পাতা হলো। বাংলার সব রাজারা এসে সভা আলো করে বসলেন।

    কথা উঠল, সকলে একবাক্যে নিজেদের ত্রুটি- সংঘবদ্ধ না হওয়ার কথা স্বীকার করলেন। সকলেই বললেন, ‘আসুন আমরা এক হই, বুঝিনি এত দিন, তাই ভাই ভাই ঠাই ঠাই হয়েছিলেম।’ সকলে মিলে স্বাধীনতার জন্য চেষ্টিত হলেন। দেশের অবস্থা আশাজনক হয়ে উঠল। রাজা চাঁদ, রাজা কেদারের মুখে নিশ্চিন্ততার হাসি দেখা দিল।

    সব হলো- হতে চলল কিন্তু একটা জিনিস এতক্ষণ বলা হয়নি সেইটেই ছিল এ রাজাদের মস্তবড় মনোকষ্টের কারণ, তাদের ছিল না ছেলেপেলে, তাঁরা ছিলেন নিঃসন্তান।

    ভাবতে ভাবতে রাজা চাঁদ রায় একদিন রাতে ঘুমোলেন। ঘুমোতে ঘুমোতে স্বপ্ন দেখলেন, কোনো এক দেবতা তাকে বলছেন! রাজা, তুমি যদি কোটীশ্বরের মন্দিরের পূজারী দেবল ব্রাহ্মণকে তোমার গুরু কর, তবেই দেখতে পাবে সন্তানের মুখ। শ্রীমন্ত খাঁ ছিলেন তাঁদের গুরু। তাকে ছেড়ে নূতন গুরু করতে হবে কিন্তু ঠাকুর যে অভিশাপ করবেন।

    দাদার কথা, রাজা কেদার রায় ফেলতে পারলেন না, রাজা কেদার রায় গিয়ে দেবল ঠাকুরকে নিয়ে এলেন কেদার রায়ের মন্দির থেকে, শ্রীমন্ত ঠাকুরের বড্ড রাগ হলো।

    স্বপ্ন সত্যি হলো। রাজা চাঁদ রায়ের এক মেয়ে হলো। মেয়ের নাম হলো স্বর্ণময়ী। মেয়ে বড় হলো। চন্দ্রদ্বীপের যুবরাজের সঙ্গে হলো তার বিয়ে।

    কিন্তু স্বর্ণময়ী হলেন বিধবা। তিন দিনের জ্বরে যুবরাজ মারা গেলেন, মেয়েকে এনে রাজা আর রাণী রাখলেন নিজেদের কাছে। যুবতী মেয়ে অত রূপ, বিধবা হয়ে কি করে থাকবে সেখানে, মেয়ে তো এসে রইল বাপের বাড়ী, এদিকে কি হলো শোনো:

    আগেই বলেছি। হিন্দু রাজারা সব এক হয়েছেন, হিন্দু ছাড়া মোসলমান ভূম্যধিকারীও যাঁরা একটু ক্ষমতা রাখতেন তাঁরা হিন্দুদের সঙ্গে মিশলেন, একে একে বাংলার অসীম প্রতাপশালী বার ভূঁইয়ার অভূত্থান হলো। ভারী বুদ্ধিমান, আর কৌশলী তাঁরা, প্রথমে বুদ্ধি করে দিল্লীর বাদশার কর বন্ধ না করে শক্তি সঞ্চয় করতে লাগলেন। বাদশা কর পেলেই খুশি। দিল্লী অনেক দূর। বাংলায় কি হতো না হতো তত খবর নেবার দরকারও বোধ করতেন না। প্রতিনিধি রেখে দিয়েছিলেন, তিনিই বাংলার রাজাদের তত্ত্বাবধান করতেন। বাংলার রাজারাও যে যখন পারতেন ছলে, বলে, কৌশলে জায়গা, জমি, রাজ্য দখল করে ভোগ করতেন, দিল্লীতে একটা কর দিলেই সব মিটে যেত। যিনি দিল্লীর প্রতিনিধি থাকতেন তিনি রাজ্যের ভেতরের ব্যাপারে হাত দিতে পারতেন না, দিতেনও না। এইভাবে যশোর থেকে উঠলেন, প্রতাপাদিত্য, তা আগে বলেছি। সুবর্ণগ্রাম থেকে উঠলেন ঈশা খাঁ, আর শ্রীপুর থেকে উঠলেন আমাদের এই চাঁদ রায় আর কেদার রায়। সকলেরই মনে একভাব— স্বাধীন হবেন, মোগলের অত্যাচার, অধীনতা আর সইবেন না, বার ভূঁইয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভূঁইয়া ঈশা খাঁ, মোসলমান হয়েও মিশতে চাচ্ছিলেন রাজা চাঁদ রায়, কেদার রায়ের সাথে, দেখা-সাক্ষাতের প্রয়োজন— যুক্তি পরামর্শ করা চাই ত।

    সংবাদ দিয়ে, খুব ঘটা করে, রাজার হালে ভূঁইয়া ঈশা খাঁ চললেন শ্রীপুরে। কি করা যায় ঠিক করবেন, সঙ্গে তেমন লোকজন নিলেন না, গেল কেবল রাজার ঠাট বজায় রাখতে, যে সব লোকের দরকার তারাই।

    ঈশা খাঁ শ্রীপুরে উপস্থিত হলে রাজারা যত দূর সম্ভব তাঁর অভ্যর্থনা করলেন। তিনি জনে নির্জনে আগুন সাক্ষী করে মিত্রতা করলেন, আমোদ উৎসবও খুব হলো।

    দৈবের নির্বন্ধ। খণ্ডন করবে কে? ঈশা খাঁর খেয়াল হলো তিনি গোপনে, ছদ্মবেশে শ্রীপুর নগর পাঁতি পাঁতি করে দেখবেন।

    চাঁদ রায়, কেদার রায়ের বাড়ী— শ্রীপুর শহর— কি বিরাট, কি চমৎকার! মহলের পর মহল, আঙ্গিনার পর আঙ্গিনা রাস্তা, ঘাট, গাড়ি, ঘোড়া, দেখতে দেখতে ঈশা খাঁ চলেছেন।

    দেখলেন ছাদের উপর এক সুন্দরী মেয়ে বসে আছেন, পরনে তাঁর ধবধবে ধুতি। চুলগুলো তাঁর মেঘের মতো, কাঁধে, পিঠে, বুকে, মুখে এলিয়ে পড়েছে, কি সুন্দর তার মুখ পৃথিবীর সব সৌন্দর্য ছেনে বুঝি বিধাতা গড়েছেন তাঁকে, ঈশা খাঁ কেমন যেন হয়ে গেলেন। শুনলেন তিনি আর কেউ নন, চাঁদ রায়ের ষোড়শী, বিধবা মেয়ে স্বর্ণময়ী বা সোনামণি। ঈশা খাঁ সব ছেড়েছুড়ে পাগলের মতো তাঁর বাড়ী এলেন, বাড়ী ছেড়ে তাঁর ত্রিবেণী দুর্গে আস্তানা গাড়লেন, কারও সাথে নেই কথা— রাত-দিন ভাবছেন।

    একদিন হঠাৎ ডাকলেন- ‘কোন হ্যায়?’ এনায়েৎ খাঁর প্রহরী এসে, কুর্নিস করে বলল, “হুজুর!” ঈশা খাঁ তাঁর হাতে একখানা চিঠি দিয়ে বললেন, ‘এই চিঠি নিয়ে এক্ষুণি ছুটে যাও শ্রীপুরে, যে কদমে যাবে, সেই কদমে আসবে কিন্তু। রাজার উত্তর নিয়ে আসা চাই, বুঝলে, খুব হুঁসিয়ার।’

    এনায়েৎ খাঁ মস্ত ঘোড়সোয়ার। ছুটে চলে গেল শ্রীপুরে। ভেতরে খবর গেল— ঈশা খাঁর দূত এসেছে। দেখা করতে রাজা চাঁদ রায় এলেন না— এলেন রাজার ভাই, রাজা কেদার রায়।

    রাজা কেদার রায় ঈশা খাঁর কৌটো খুলে, আতরে মাখা চিঠি পড়লেন। পড়ে, থরথর করে কাপতে লাগলেন। বললেন, ‘দূত! তুমি অবধ্য, কি আর বলব তোমায়? তোমার মুনিবকে বলো, এ আস্পর্ধা সইব না। চিঠির উত্তর সে পাবে তরোয়ালের মুখে।’ এই বলে চিঠিখানাকে ডেলা পাকিয়ে ফেলে দিলেন।

    রাজা কেদার রায় ক্রোধে আগুন হয়ে সব কথা গিয়ে দাদাকে বললেন, ঈশা খাঁ সোনামণিকে বিয়ে করতে চায়, আমাদের বিধবা মেয়ে আমরা হিন্দু, সে মোসলমান, জেনেশুনেও তার এত আস্পর্ধা। দুভায়ে, হাজার সৈন্য নিয়ে চললেন, স্থলপথে চলল গোলন্দাজ, অশ্বারোহী, পদাতিক; জলপথে চলল, জাহাজে জাহাজে যত সব জল যোদ্ধারা, বাছা বাছা সব লোক, অহঙ্কার চূর্ণ করতে হবে লোভী ঈশা খাঁর।

    দেওয়ান রঘুনন্দনের উপর রইল রাজ্যের ভার রাজবাড়ীর ভার, রাণীদের ভার, রাজকন্যা স্বর্ণময়ীর ভার। রাজারা কোটীশ্বরকে প্রণাম করে রথে চড়ে ছুটে চললেন। ব্রহ্মপুত্র, বলেশ্বরী ও লক্ষ্যা নদী যেখানে মিশেছে, সেইখানে ছিল ঈশা খাঁর ত্রিবেণী দুর্গ, সে দুর্গ ছিল সুদৃঢ়। তারই কিছু পশ্চিমে আবার লক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীর সঙ্গমস্থলে ছিল কলাগাছিয়া দুর্গরাজারা দুভাইয়ে সে দুর্গ ধূলিস্যাৎ করলেন, ত্রিবেণী দুর্গ দখল করতে হবে। রাজা কেদার রায়ের সঙ্গে চলল নৌসেনা। রাজা চাঁদ রায় ঈশা খাঁর রাজধানী খিজিরপুর আক্রমণ করে, তাঁর সমস্ত ধন-ভাণ্ডার লুঠ করলেন, ঈশা খাঁ গেলেন তার সবচেয়ে দৃঢ় দুর্গ ত্রিবেণীতে, রাজা কেদার রায় যে সেখানেও গেলেন তা তো আগেই বলেছি। রাজা কেদার রায় ছিলেন জলযুদ্ধে অদ্বিতীয়। তাঁর জলযুদ্ধের সৈন্যেরাও অত্যন্ত বিখ্যাত ছিল। নিজেরাই ছিপ চালাত, বন্দুক মারত, অব্যর্থ তীর ছুড়ত। বাঙ্গালীর সে নৌসেনা আর নেই সে অসীম বীরত্বে ভরা প্রাণ, কৌশলী যোদ্ধা রাজা কেদার রায়ও নেই। রাজা কেদার রায়ের সেই দেড়শ ছিপ, আর হাজার সৈন্য ত্রিবেণী দুর্গ ছেয়ে ফেললে।

    এদিকে এক কাণ্ড হলো। রাজাদের গুরু, শ্রীমন্ত খাঁর কথা আগে বলেছি। তিনি তাদের ব্যবহারে ভারী রুষ্ট হয়েছিলেন, প্রতিহিংসার জন্য করছিলেন প্রতীক্ষা। এইবার তাঁর বহু আকাঙ্ক্ষিত পূর্ণ সুযোগ উপস্থিত হলো। তিনি এসে যোগ দিলেন ঈশা খাঁর সাথে।

    এসে দেখলেন ঈশা খাঁ মনে মনে একান্তভাবে চাচ্ছেন সোনামণিকে। কিন্তু কোনো উপায় করতে পারছেন না, বললেন, ‘খাঁ সাহেব, তুমি সেই সোনার বরণ কন্যা, সেই মেঘ বরণ চুল, হাসতে যার মুক্তা ঝরে, তাকে চাও? যদি এনে দিতে পারি, কি দেবে বলো ত?’

    ঈশা খাঁ আশ্চর্য হয়ে গেলেন। বললেন, যদি সত্যি পার, তুমি কেন, তোমার ছেলে, তার ছেলে যাতে পায়ের উপর পা রেখে খেতে পারে, তার ব্যবস্থা আমি করে দেব এখন। ঈশা খাঁ জিজ্ঞাসা করলেন ‘পারবে ঠাকুর?’ শ্রীমন্ত ঠাকুর বললেন, “নিশ্চয়’– ঈশা খাঁ উঠে, এক ঘড়া সোনার মোহর এনে দিলেন আগাম। বললেন, ‘আজ এই নিয়ে যাও ঠাকুর, কাজ শেষ করে এই সোনার গায়ে সোনামণিকে নিয়ে এস, যা আমার মনে আছে দোব, এই নাও আমার আংটি, এর জোরে এ রাজ্যে হবে তোমার অবাধ গতি।’ এক ঘড়া সোনার মোহর নিয়ে, আর ঈশা খাঁর আংটি নিয়ে শ্রীমন্ত ঠাকুর চললেন বাড়ীতে। গিয়ে, গোপনে গর্ত খুঁড়ে খুঁড়ে, ঘড়া রেখে মাটি চাপা দিয়ে খানিকটা নিশ্চিন্ত হয়ে, চুলগুলোকে উসকো খুসকো করে, পাগলের মতো হয়ে, শ্রীমন্ত ঠাকুর চললেন শ্রীপুরের পথ দিয়ে, রাস্তায় ভিড় হতে লাগল। কারও সাথে একটা কথাও না বলে শ্রীমন্ত ঠাকুর একেবারে হাজির হলেন রাজবাড়ীর দোরে। ঠাকুর ভেতরে ঢুকে রাণীর মহলে গিয়ে, স্বামীর মঙ্গলের জন্য পূজারতা রাণীকে বললেন, রাণীমা! রাণীমা! সর্বনাশ হয়েছে, রাণী চমকে উঠে বললেন- ‘সে কি ঠাকুর?’

    শ্রীমন্ত ঠাকুর কান্নার ভাণ করে বললেন, ‘রাজারা বন্দী হয়েছেন, সৈন্য সব বিশৃঙ্খল, শত্রুসৈন্য তাদের তাড়া করেছে, শ্রীপুরের দিকেই তারা আসছে— আসছে কি, এল বলে।’

    রাণী বললেন, ‘আসুক।’

    শ্রীমন্ত বললেন, ‘সে কি মা? তারা কি আর কিছু রাখবে? তারা যে আসছে, সোনামণিকে নিতে! আপনি শ্রীপুর ছেড়ে চলে যান সোনামণিকে লুকাবার চেষ্টা করুন।’

    রাণীর চোখ দুটো বাঘিনীর মতো জ্বলে উঠল, রাণী বললেন- ‘চাঁদ রাজার রাণী যাবে পালিয়ে? তাও কি কখনও হয়? যা তো একজন দেওয়ানজীকে ডেকে নিয়ে আয়।’

    দেওয়ান রঘুনন্দন এলেন, বললেন, ‘না, না পালাবেন কেন মা? প্রাণ দিয়ে রঘুনন্দন আপনাদের বাঁচাবে।’

    রাণী আশ্বস্তা হলেন, কিন্তু শ্রীমন্তের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় না। শ্রীমন্ত বললেন, ‘দেওয়ানজী, এ বুদ্ধি ভালো হচ্ছে না, কি সে কি হয় কে জানে, সাবধানের মা’র নেই, সোনামণিকেই তো তারা নিতে আসছে। তা ওকে চন্দ্রদ্বীপে পাঠিয়ে দিন না। দেওয়ানের কথা রাণী এইবার শুনলেন না। তিনি সোনামণির জন্য ব্যাকুল হয়ে শ্রীমন্ত ঠাকুরের পরামর্শে তার সঙ্গে সোনামণিকে তার শ্বশুরবাড়ী চন্দ্রদ্বীপে পাঠিয়ে দিলেন। শ্রীমন্তের মনোবাসনা এইরূপে পূর্ণ হলো।

    দেওয়ান রঘুনন্দন, চর পাঠিয়ে জানলেন সবই মিথ্যা। খিজিরপুরে যে চর গিয়েছিল সে গিয়ে রাজা চাঁদ রায়ের কাছে সোনামণিকে তার শ্বশুরবাড়ী পাঠাবার খবর, শ্রীমন্তের যুদ্ধে পরাজয় ও রাজাদের বন্দী হওয়ার খবর সব বলল। রাজা তো শুনে একেবারে আকাশ থেকে পড়ে গেলেন। তাড়াতাড়ি শ্রীপুরে গিয়ে দেখলেন শ্রীমন্ত সোনামণিকে নিয়ে সত্যিই পালিয়েছে। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। সোনামণিকে নিয়ে শ্রীমন্ত ঠাকুর ঈশা খাঁর রাজধানীতে, ঈশা খাঁর অন্দরমহলে ঢুকে পড়ল।

    সোনামণির ভালো জ্ঞান ছিল না— যখন জ্ঞান হলো তখন তিনি চেয়ে দেখলেন, এক সুন্দর সাজানো ঘরে শুয়ে আছেন। ক্রমে সব প্রকাশ হলো।

    স্বর্ণময়ী সোনামণি বা সোনা বিবি নাম নিয়ে ঈশা খাঁর রাণী হলেন। রাজা চাঁদ রায় অভিমানী রাজা ছিলেন এই দারুণ অপমানে একেবারে মুসড়ে গেলেন।

    বেশিদিন সইতে হলো না তার এ অপমান; একদিন ভোরবেলায় তিনি তার আরাধ্য দেবতা কোটীশ্বরের নাম জপতে জপতে চোখ বুজলেন।

    রইলেন, একা রাজা কেদার রায়।

    এক হাতে চোখের জল মুছে আর এক হাতে রাজকার্য চালিয়ে তিনি প্রতিশোধের চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করলেন।

    দাদা তো গেলেনই— প্রজারা রয়েছে, তাদের যাতে ভালো হয় সেই সব করতে যত দূর সাধ্য রাজা কেদার রায় উঠে পড়ে লাগলেন। তাঁর রাজ্যে যাতায়াতের ভালো রাস্তা ছিল না। যাতায়াত কষ্টের মতো কষ্ট আর নেই— তিনি বহু অর্থব্যয়ে সেই কষ্ট দূর করে দিলেন। জলের কষ্টে প্রজারা কষ্ট পাচ্ছিল, পুকুর কাটিয়ে, দীঘি কাটিয়ে, খাল কাটিয়ে, নালা কাটিয়ে প্রজাদের সেসব কষ্ট নিবারণ করলেন, ছেলেরা পড়াশোনা করতে পারত না – ভালো পাঠশালা, মক্তব, কিছু ছিল না বললেই হয়, লেখাপড়া না শিখলে, প্রজাদের জ্ঞান না হলে নানা অসুবিধা হয়, তিনি ভালো ভালো পাঠশালা, মক্তব, টোল করে দিলেন। পুজো অর্চনার জন্য, ধর্মভাব বৃদ্ধির জন্য গড়ালেন মন্দির, মঠ ও মসজিদ। লোকে ধন্য ধন্য করতে লাগল। বলতে শুরু করল, ‘এত দিনে রাজার মতো রাজা হয়েছেন।’

    তিনি সুন্দর সুন্দর সেনানিবাস, বিচারালয়, কারাগার, কোষাগার প্রভৃতি স্থাপন করে কুলদেবতা কোটীশ্বরের মন্দির গড়ে, কাঁচকীর দরজা গড়ে, দক্ষিণ বিক্রমপুরে কেদার-বাড়ী তৈরি করে, উত্তর বিক্রমপুরে রাজবাড়ীর মঠ নির্মাণ করায়ে, ঢোল সমুদ্র ও কেশার মার দীঘি কাটায়ে দেশে এক নবযুগের সৃষ্টি করলেন।

    মোগলগণ পর্তুগিজদের সঙ্গে যুদ্ধ আরম্ভ করলে, কেদার রায় দেখলেন, পর্তুগিজেরা জাহাজ পরিচালনায় সকলের চেয়ে পটু, জল-যুদ্ধে ভারী ওস্তাদ, তাদের পক্ষে নিলে মোগল সম্রাটকে ও আরাকানের রাজাকে শায়েস্তা করা যাবে। এই ভেবে তিনি পর্তুগিজদের পক্ষ নিলেন ও মোগলদের সঙ্গে যুদ্ধ করে সন্দ্বীপ কেড়ে নিলেন, কেড়ে নিয়ে সেখানে পর্তুগিজদের বসিয়ে দিলেন, আর তাদের সেনাপতি কার্ভোলিয়াসকে করলেন সন্দ্বীপের শাসনকর্তা, এইভাবে পর্তুগিজেরা হলো তাঁর পক্ষ। আরাকানের রাজা, রাজা কেদার রায়ের প্রতি বিরক্ত হয়ে ১৫০ রণতরী নিয়ে যুদ্ধ আরম্ভ করলেন, কিন্তু জলযুদ্ধে তার সঙ্গে পারে কে? তিনি ১০০ রণতরী নিয়ে কামানের ধূয়ায় মেঘনার বুক আঁধার করে ফেললেন। সে যুদ্ধের কথা অনেকে অনেকভাবে বলেছেন। তেমন যুদ্ধ বাঙ্গালী আর করেনি, বোধ হয় করবেও না।

    সকালবেলা হলো সে যুদ্ধের শুরু। সারাদিন চলল সে যুদ্ধ- সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। সন্ধ্যা-সূর্যের লোহিত কিরণে নীল আকাশের পশ্চিম প্রান্ত হয়ে উঠল রঙ্গীন, নিচে সৈন্যগণের লোহিত দেহ-শোণিতে নীল সমুদ্রের পূর্বপ্রান্ত হয়ে উঠল লালে লাল।

    রাজা কেদার রায় ভীষণ হতে ভীষণতর বেগে আরাকানের রাজার রণতরী আক্রমণ করলেন, ১৪০ খানা রণতরী রাজা কেদার রায়ের বাহুবলে তাঁর অধীন হলো, সমস্ত সৈন্য বন্দী করে রাজা কেদার রায় তাদেরকে নিয়ে এলেন রাজধানী শ্রীপুরে, আরাকান রাজ পরাজিত হলেন। পরাজয়ের সংবাদ শুনে, আরাকান রাজ ক্রোধে দিশেহারা হয়ে উঠলেন। বহু অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করে হাজার রণতরী পাঠালেন, কিন্তু রাজা কেদার রায় ভয় পাওয়ার লোক ছিলেন না। কামানের আগুনে সব পুড়িয়ে, ডুবিয়ে দিলেন। আরাকান রাজ ভাবতে লাগলেন কি করা যায়।

    এদিকে রাজা কেদার রায়ের মহাবীর পর্তুগিজ সেনাপতি কার্ভোলিয়াস রণতরীর সংস্কার ও পুর্নগঠনের জন্য এবং উত্তম নৌবহর গঠন করতে শ্রীপুরে এলেন।

    শ্রীপুর, বাকলা ও সাগরদ্বীপে রণতরীর আবশ্যকানুরূপ সংস্কারাদি হতে থাকল, সেনাপতি কার্ভোলিয়াস এই সমস্ত নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন। সন্দ্বীপ ছেড়ে এলেন। এই অনুপস্থিতির সুযোগে আরাকানপতি সন্দ্বীপ অধিকার করলেন।

    মোগল সেনাপতি ছিলেন রাজা মানসিংহ, তিনি এই সময়ই রাজা কেদার রায়কে আক্রমণ করা যুক্তিযুক্ত বোধ করে কোষা নামক ১০০ রণতরী রাজা কেদার রায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠিয়ে দিলেন, যুদ্ধে ক্লান্ত রাজা কেদার রায়কে এই সময়ে আক্রমণ করলেই হয়তো রাজা পরাস্ত হবেন এই ছিল তার ধারণা, তিনি বিক্রমপুরের প্রসিদ্ধ জলযোদ্ধা মন্দ রায়কে তাঁর প্রেরিত নৌ-বাহিনীর সেনাপতি করলেন।

    কিন্তু এই এত বড় সেনাপতি মন্দা রায় বা মধু রায়ও দীর্ঘকাল যুদ্ধ করে অবশেষে রাজা কেদার রায়ের নিকট পরাজিত ও নিহত হলেন। পর্তুগিজ বীর কার্ভোলিয়াস, এই যুদ্ধে রাজা কেদার রায়ের নৌ-বাহিনী পরিচালনা করেছিলেন। সেনাপতি কার্ভোলিয়াস অতঃপর মোগলগণের সকল জায়গা অধিকার করে, সুদূর হুগলী দুর্গ অবধি জয় করে ফেললেন।

    দেখে শুনে আরাকান-পতি রাজা কেদার রায়ের সঙ্গে সখ্য স্থাপন করে, তাকে প্রচুর সৈন্য ও অর্থদ্বারা সাহায্য করতে লাগলেন।

    রাজা কেদার রায়ও এতে সমধিক উৎসাহিত হয়ে সোনারগাঁ, বিক্রমপুর প্রভৃতি অঞ্চল হতে বহু সৈন্য সংগ্রহ করে প্রস্তুত হতে লাগলেন। মোগলের চিরশত্রু পাঠানবীর আহাম্মদ খাঁ রাজা কেদার রায়ের সঙ্গে মিশলেন। মোগল শাসনকর্তা ছিলেন, সুলতান কুলী খাঁ, তিনি এই সম্মিলিত শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ করতে সাহসী না হয়ে কোনোক্রমে আত্মরক্ষা করতে থাকলেন, কিন্তু রাজা কেদার রায় তাঁর রাজধানী আক্রমণ করে বসলেন। সুলতান কি করেন? – অগত্যা এই ঘোর বিপদের সংবাদ রাজা মানসিংহকে জানালেন। রাজা মানসিংহ অত্যন্ত চতুর ছিলেন। তিনি সম্মিলিত ত্রিশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধোদ্যত কুলীকে সাহায্য করবার জন্য পাঠালেন সেনানায়ক আৎকার, দলপৎ রায় ও রঘুসাদকে।

    ঘটনাক্রমে আরাকান রাজের সঙ্গে হঠাৎ আবার রাজা কেদার রায়ের হলো মনোমালিন্য, ফলে একাকী যুদ্ধ করে আরাকান রাজ মানসিংহের নিকট পরাজিত হলেন।

    রাজা কেদার রায় পরাক্রান্ত মোগল সেনাপতি মন্দা রায়কে যুদ্ধে নিহত করলেন, এতে মোগল প্রতিনিধি রাজা মানসিংহের ভারী রাগ হলো; তিনি মাত্রা হারিয়ে ফেললেন যখন শুনলেন যে মোগল সেনাপতি কিলমকও রাজা কেদার রায় কর্তৃক বন্দী হয়ে তাঁর রাজধানীতে আছে।

    তিনি বাংলায় এসে রাজা কেদার রায়কে চিরাচরিত প্রথামত তাঁর শৃঙ্খল ও তরবারি পাঠালেন।

    রাজা কেদার রায় অবজ্ঞা ভরে শৃঙ্খটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে তরবারি নিয়ে মানসিংহকে সম্মুখ যুদ্ধে আহ্বান করলেন।

    তারপর তিনি স্বয়ং যুদ্ধে চললেন, চতুর্দিকে রণভেরী বেজে উঠল। তাঁর বৃহৎ বৃহৎ ৫০০ কোষা নামক রণতরী নিয়ে তিনি অগ্রসর হলেন, যুদ্ধে রাজা মানসিংহ পরাজিত হলেন। রাজা কেদার রায়ের জয়ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস প্রতিধ্বনি হয়ে উঠল।

    কিন্তু দুঃসময় যখন আসে তখন এমনই করে আসে যে কেউ তার গতি রোধ করতে পারে না।

    একদিন, রাজা কেদার রায় একান্তভাবে করছিলেন তাঁর আরাধ্যা। দেবীর ধ্যান— দেবীর মন্দিরে, দেবীর সামনে চোখ বুজে। এমন সময় রাজা মানসিংহ একজন গুপ্তঘাতক পাঠিয়ে ধ্যানস্থ মহাবীর রাজা কেদার রায়ের মস্তক ছেদন করে ফেললেন।

    এই সুযোগের সংবাদ দিয়েছিল, সেই গৃহশত্রু, বিশ্বাসঘাতক শ্রীমন্ত খাঁ। ভক্তবীর রাজার মস্তক ভূপতিত হতে হতেও ‘ছিন্নমস্তে নমস্তে, ছিন্নমস্তে নমস্তে’ বলতে বলতে ইষ্ট নাম জপ করছিল।

    এইরূপে বাংলার এই স্বাধীন হিন্দুরাজা কেদার রায়ের দেহাবসান ঘটে।

    রাজার মৃত্যুতে তার সৈন্যগণ হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল। মন্ত্রী রঘুনন্দন চৌধুরী ও সেনাপতি রঘুনন্দন রায় অনেক যুদ্ধ করলেন, সেনাপতি কালিদাস ঢালী, রামরাজা সর্দার, পর্তুগিজ ফ্রান্সিস, শেখ কালু প্রভৃতিও অনেক যুদ্ধ করলেন। কিন্তু বাঙ্গালীর ভাগ্য ছিল না ভালো। অধপতন অনিবার্য হয়ে উঠল। ফ্রান্সিস, সাহেব ও শেখ কালুকে অর্থের প্রলোভনে বশ করে এবং রঘুনন্দনকে যুদ্ধে ক্ষান্ত দিয়ে নামে মাত্র মোগলের আনুগত্য স্বীকার করতে অনুরোধ করে বাধ্য করলেন। কিছুদিন রাণীই রাজ্য চালালেন।

    তারপর মোগল প্রতিনিধি এসে, ব্যবস্থা করে মন্ত্রী রঘুনন্দনকে দিলেন বিক্রমপুর পরগণা, সেনাপতি রঘুনন্দনকে দিলেন ইদিলপুর, শেখ কালুকে দিলেন কার্তিকপুর, কালিদাস ঢালী পেলেন দেওভোগ আর রামরাজা সর্দার পেলেন মূলপাড়া তালুক।

    হিন্দুর শেষ মহিমা স্তম্ভ রাজা কেদার রায় নেই – রয়েছে তাঁর অগণিত কীর্তি। সেসব কীর্তির কথা আগেই বলেছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী
    Next Article বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    সাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিদ্যাসাগর-জীবনচরিত – শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    পাকদণ্ডী – লীলা মজুমদার

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    কৃষ্ণসাধিকা মীরাবাঈ – পৃথ্বীরাজ সেন

    January 17, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Our Picks

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }