Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা এক পাতা গল্প92 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বীর হাম্বীর

    ‘সাধকের কাছে, প্রথমেতে ভ্রান্তি আসে
    মনোহর মায়া-কায়া ধরি’; তার পরে
    সত্য দেখা দেয়, ভূষণ বিহীনরূপে
    আলো করি’ অন্তর বাহির!’

    —রবীন্দ্রনাথ

    এইবার রাজা বীর হাম্বীরের কথা বলতে যাচ্ছি। তিনি ছিলেন বর্তমান বাঁকুড়া জেলার অন্তঃপাতি বিষ্ণুপুরের রাজা। তার আগে তাঁদের বংশের বহু রাজা সুদীর্ঘকাল রাজত্ব করে, বিষ্ণুপুর রাজ্যকে সুপ্রসিদ্ধ করে গিয়েছিলেন। বীর হাম্বীর যখন রাজত্ব করছিলেন তখন ভারতবর্ষের সম্রাট ছিলেন মোগল কুলতিলক আকবর শাহ। সম্রাট আকবর শাহ ১৫৫৬ খৃষ্টাব্দে চৌদ্দ বৎসর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ ও ১৬০৫ খৃষ্টাব্দে ৪৯ বৎসর রাজত্ব করে ইহধাম ত্যাগ করেন: তাঁর সময়ই বার ভূঁইয়াদের অভ্যুদয় হয় ও তিনিই ভূঁইয়া বা ভৌমিকপ্রথা রহিত করে বঙ্গদেশে জমিদারি প্রথার প্রবর্তন করেন। ভূঁইয়াগণ স্বাধীনভাবে আপনাদের বাহুবলের পরিচয় দিয়ে বাঙ্গালীর ভীরুতা দুর্নামের অনেকটা অবসান ঘটিয়েছিলেন, ভূঁইয়াদের চেষ্টায় বাঙ্গালী সৈন্য গড়ে উঠেছিল, রণকৌশলে অভ্যস্ত হয়েছিলেন আর তাঁদের উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গেই বাঙ্গালী জাতির দুর্গতি, বাঙ্গালী জাতির কাপুরুষতা ও অস্ত্রজ্ঞানশূন্যতা ঘনীভূত হয়েছিল। আজ তারা আত্মরক্ষায়ও অক্ষম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বিষ্ণুপুরের রাজাদের সাধারণ উপাধি মল্ল, আর তাঁদের জ্যেষ্ঠ কুমারকে বলা হয়ে থাকে ‘ধারি’। মল্লরাজদের রাজত্বের স্থানকে মল্লভূমি বলা হতো। বাংলার অপরাপর প্রাচীন রাজবংশের ন্যায় এই রাজবংশেরও ইতিহাস নানা কিংবদন্তী ও ঘটনা এবং স্থাপত্য-শিল্পাদি হতে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। মল্লাব্দ বলে একটা অব্দ বা সালের প্রচলন আছে বিষ্ণুপুর রাজ্যে! এ অব্দটা আরম্ভ হয়েছে ৬৯৫ খৃষ্টাব্দ হতে। এতে করে আমরা অনুমান করে নিতে পারি যে এখন হতে ১২৪১ বছর আগে এ বংশের পতন হয়।

    রাজা আদি মল্ল এ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বৃন্দাবনের নিকটবর্তী জয়পুরের ক্ষত্রিয় রাজা।

    তা যা-ই হোক— রাজা বীর হাম্বীর আবির্ভূত হয়েছিলেন, মোগল সম্রাট আকবরের সমসময়ে অর্থাৎ ১৫৫৬ থেকে ১৬০৫ খৃষ্টাব্দের মধ্যে। পৈতৃক রাজধানী বিষ্ণুপুরই ছিল তাঁরও রাজধানী। ধলকিশোর নদীর তীরবর্তী এই বিখ্যাত নগরী ভরে ছিল তাঁর পূর্বপুরুষদের অগণিত কীর্ত্তিকাহিনীতে।

    ষোড়শ শতাব্দীর পূর্ব অবধি বিষ্ণুপুরের রাজারা প্রায় স্বাধীনই ছিলেন, কিন্তু এই শতাব্দীর প্রারম্ভে যিনি রাজা হন তাঁর নাম ‘ধারি মল্ল’ বলে ইতিহাসে বিখ্যাত। তিনি ঘটনাচক্রে বাংলার নবাবকে এক লাখ সাত হাজার টাকা খাজনা দিতে স্বীকৃত হন, কিন্তু এই অধীনতা অতি অল্প দিনের জন্যই তার ভাগ্যে ঘটেছিল। কিছুকাল পরেই আবার তিনি পূর্বভাব অবলম্বন করেন- ইচ্ছামতো কর দিতে আরম্ভ করেন। নবাবও তাঁর সঙ্গে মিত্রের মতো ব্যবহার করতে থাকেন।

    রাজা ধারি মল্ল ইহলোক ত্যাগ করলে তার পুত্র বীর হাম্বীর হন রাজা। তাঁর রাজ্য রক্ষার ব্যবস্থা, শাসন করবার প্রণালী এবং সৈন্যদল গঠনের কৌশল এবং অসাধারণ শারীরিক শক্তি ও সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং প্রত্যুৎপন্নমতি দেখে সকলেই বিস্মিত হয়ে গেলেন। রাজা হয়েই তিনি তাঁর দুর্গগুলিকে সুদৃঢ় করে, চতুঃপার্শ্ববর্তী শক্তিশালী রাজাদের সঙ্গে ভাব করে, তাঁর রাজ্যকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করে তুললেন। ইঙ্গিতমাত্র লক্ষ্য সৈন্য তাঁর জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত হলো। সামন্ত রাজগণের সঙ্গে একান্তভাব সখ্য সূত্রে আবদ্ধ হওয়ার বাইরের কোনো শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করতে হলে তারা তার নির্দেশমতো অর্থ ও সৈন্যাদি দ্বারা সাহায্য করতে বিন্দুমাত্র ইতস্তত করতেন না।

    রাজা বীর হাম্বীর নিজে বীর ছিলেন অন্যের বীরত্বেরও যথেষ্ট সমাদর করতেন। ফলে, তাঁর অধীন সামন্ত রাজগণকে তিনি নানাভাবে উৎসাহিত করে, তাঁদের প্রত্যেককে দিয়ে গড়ায়ে তুললেন তাঁর রাজ্যময় ভালো ভালো দুর্গ। উন্নতির আকাঙ্ক্ষায় তারা হয়ে উঠলেন উন্মত্ত। তাদের নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ শাসন প্রণালীতে তিনি কদাচ হস্তক্ষেপ করতেন না কারো স্বাধীনতা কোনো প্রকারে ক্ষুন্ন না করে নানাভাবে সদ্ব্যবহার ও সদ্ভাব প্রদর্শন করায় তারা উত্তরোত্তর রাজা বীর হাম্বীরের একান্ত বশীভূত ও অনুগত হয়ে পড়লেন। তাঁর সমসাময়িক সামন্ত রাজগণের মধ্যে জামকুঁড়ি, বগড়ি, মিশলাপাল, ইন্দ্রহাস, রাইপুর, ধারাপাট, মালিয়াড়া শূরভূম, ডুমনি, চন্দ্রকোণা, গড়বেতা, লোগা, বিহার প্রভৃতি প্রসিদ্ধ হয়ে উঠল।

    তিনি তাঁর নিজের গড় অর্থাৎ দুর্গকে সর্বতোভাবে দুর্ভেদ্য করবার জন্য তার চারদিকে খুব উঁচু করে মাটির স্তুপ গড়ে উঠালেন। পাহাড়ের মতো সেই উঁচু উঁচু জায়গায় স্থানে স্থানে বসানো হলো মজবুত সব কামান, আর স্থূপগুলোর বাইরে কাটানো হলো সুপ্রশস্ত সব খাল, বড় বড় বাঁধ দিয়ে ঘেরা হলো সারাটি রাজধানী। শত্রুর আক্রমণ হতে রাজধানীকে বাঁচাবার জন্য সবগুলো বাঁধকে সহজে যাতে এক এক করে দেওয়া যায় তার সুব্যবস্থা হলো, বাঁধগুলোর আয়তন করা হলো এক একটা প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড গ্রামের চেয়েও বড় বড়। এসব ছাড়াও রাজধানীর চারদিকে খোঁড়া হলো একটা মস্ত বড় খাল। কত জল তাতে! কে আসবে সে জল ডিঙ্গিয়ে সহজে? কামানগুলো যা বসানো হলো তার তুলনা মেলে না। আশ্চর্য লম্বা লম্বা সেগুলোর গঠনভঙ্গী আর পাল্লা। এখনো সেগুলোর নিদর্শন রয়েছে বিষ্ণুপুরে। বেশী না বলে, একটা কামানের কথাই বলছি, তার নাম ‘দলমাদল’। তেমন বড় কামান বড় দেখা যায় না। এখনো সেটি আছে। গভর্নমেন্টের প্রাচীন-স্মৃতি-রক্ষা আইন অনুসারে সেই কামানটাকে এখনো সযত্নে রাখা হয়েছে। এই কামান দলমাদলের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১২ ফিট, সাড়ে ৫ ইঞ্চি, পরিধি হচ্ছে সাড়ে ১১ ইঞ্চি। এত দিন গিয়েছে, এত রোদ-বাতাস লেগেছে, ধুলো-কাদা লেগেছে তার গায়ে তবু পড়েনি তাতে এতটুকুনও মরিচা! কত দামী, কেমন লোহা ছিল!

    রাজা বীর হাম্বীরের পূর্ববর্তী রাজগণ, মোগলদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করেই রাজ্য পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু রাজা বীর হাম্বীরের সময় নবাব সুলেমান, কর্ণাণীর ছেলে নবাব দাউদ খাঁ অসন্তুষ্ট হয়ে অকস্মাৎ তাঁর রাজধানী বিষ্ণুপুর করে বসলেন আক্রমণ। কিন্তু রাজা বীর হাম্বীর ভীত হওয়ার পাত্র ছিলেন না। যুদ্ধগুলোকে তিনি ছেলে খেলার মতোই মনে করতেন। অকুতোভয়ে, দুর্ধর্ষ সেই নবাবের বিপুল বাহিনীর সম্মুখীন হয়ে। তিনি অসীম পরাক্রম প্রদর্শন করে তাকে সম্পূর্ণ পরাজিত করলেন। নবাব দাউদ খাঁর অসংখ্য মহাবলপরাক্রান্ত সৈন্য এমন সাংঘাতিকভাবে আক্রান্ত ও নিহত হয়েছিল যে রাজা বীর হাম্বীরের দুর্গের পূর্ব দরজায় তাদের মুণ্ডে মুণ্ডময় ও শবে শবময় হয়ে গিয়েছিল, শত্রু নবাব পক্ষের সৈন্যগণের অগণিত মুণ্ড পতিত হয়েছিল বলে, সেই হতে সেই ঘাটেরই নাম হয়ে যায় মুণ্ডমালা ঘাট।

    নবাব দাউদ খাঁর সেনাপতি ছিলেন বিখ্যাত বীর কুতুব খাঁ। তিনি পশ্চিমবঙ্গ জয় করে বৃহৎ সৈন্যদলসহ রাজা বীর হাম্বীরের রাজধানী বিষ্ণুপুর হতে ২১ মাইল পূর্বে সেনানিবাস স্থাপন করলেন এবং সেই স্থানের নাম তাঁর নামানুসারে কোতুলপুর বলে অভিহিত করলেন, প্রাধান্য স্থাপনের জন্য তাঁর অদম্য স্পৃহা উত্তরোত্তর বাড়তে দেখে সম্রাট আকবর তাঁকে দমন করবার জন্য তাঁর বিখ্যাত সেনাপতি মানসিংহ ও তাঁর ছেলে জগৎসিংহকে পাঠিয়ে দিলেন। কতুল খাঁ যে সে বীর ছিলেন না- পাছে কোনো বিপদ হয় ভেবে পরম বুদ্ধিমান রাজা বীর হাম্বীর জগৎসিংহকে পূর্ব হতেই সাবধান করে দিলেন। কিন্তু জগৎসিংহ তাঁর সে সাবধান হওয়ার ইঙ্গিত না মেনে বিপন্ন হয়ে পড়লেন। ইলিয়ট সাহেবের ইতিহাস ও আকবরনামায় এসব কথা বেশ খুলে লেখা আছে। রাজা বীর হাম্বীর জগৎসিংহকে বিপন্ন দেখে তাঁর বিপদুদ্ধারের জন্য চেষ্টিত হলেন। তাঁকে কৌশলে তাঁর রাজধানী বিষ্ণুপুরে সরিয়ে নিয়ে নিরাপদ করলেন। এদিকে ঘোরতর যুদ্ধ বেঁধে উঠল। রাজা বীর হাম্বীরও নিশ্চিন্ত রইলেন না- মোগল সম্রাট, আকবর বাদশার সেনাপতি মানসিংহের সঙ্গে মিলে যথাসাধ্য চেষ্টা করে, কতুল খাঁকে পরাস্ত করলেন। তাঁর অসীম প্রতাপ নিয়ে তিনি যদি মানসিংহকে সাহায্য না করতেন তাহলে সেবারকার সেই কতুল খাঁর যুদ্ধে মোগল সেনাপতি রাজা মানসিংহ ও তাঁর ছেলে জগৎসিংহের যে কি দশা হতো কে জানে! রাজা বীর হাম্বীরের অসংখ্য সৈন্য ছিল। শোনা যায়, এমন কতকগুলো পালোয়ান ও শক্তিশালী লাঠিয়াল ছিল যে তিনি তাদের সাহায্যে করতেন লুটতরাজ। শুধু রাজা বীর হাম্বীর এ কাজ করতেন তা নয়— তখনকার অনেক রাজারাজড়াই এতে কোনো পাপ হয় বলে মনে করতেন। এ ছিল তাঁদের একটা উপরি পাওনা। কেন বলছি শোনো :

    রাজা বীর হাম্বীর রাজত্ব করছেন – দোর্দণ্ড তাঁর প্রতাপ। এমন সময় তাঁর রাজধানীর কাছ দিয়ে পরম বৈষ্ণব, শ্রীনিবাস আচার্য ও ঠাকুর নরোত্তম দাস, বৃন্দাবন হতে নানা বৈষ্ণবগ্রন্থে কয়েকটা গোরুর গাড়ি বোঝাই করে গৌড়ে যাচ্ছিলেন। বৃন্দাবন থেকে বিষ্ণুপুর এসে তারা বড় ক্লান্ত হয়ে পড়লেন, জায়গাটা ভালো দেখে তাঁরা সেইখানে গাড়িগুলো থামিয়ে বিশ্রাম করতে লাগলেন। গাড়োয়ানেরা আর ঠাকুর মশাইরা যখন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলেন তখন রাজা বীর হাম্বীরের লুটতরাজের লোকজনদের চোখে পড়ে গেল, তাঁদের গাড়িগুলো। সেগুলো ভর্তি ছিল মালপত্রে বেশ করে ছিল বাধা পুঁথিপত্র কি তৈজসপত্র, কি টাকা-পয়সা, না ধনদৌলৎ তারা তা ভালো করে বিবেচনা করবার সময় পেল না। তারা মনে করল, নিশ্চয়ই ও সব লুটের যোগ্য দামী দামী জিনিষ। হৈ হৈ, রৈ রৈ করে তারা লাঠি, সড়কী, বল্লম, ঢাল, তরোয়াল নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ল, সেই গাড়িগুলোর উপরে। মুহূর্তে সব লুট করে, তারা সেই বস্তাবন্দী মালপত্র নিয়ে সরে পড়ল রাজবাড়ীতে। তাদের ডাক হাঁকে, ঠক্ ঠক্‌, ঢক ঢক শব্দে আর কোলাহলে গাড়োয়ানদের ঠাকুর মশাইয়ের ঘুম ভেঙে গেল। চেয়ে দেখলেন সব পুঁথিপত্র লুট করে নিয়ে ডাকাতরা ছুটে চলেছে। কষ্টে অনুসন্ধান করে তাঁরা জানলেন— সে লোকগুলো সেখানকার রাজা বীর হাম্বীরের লোক।

    মহাপণ্ডিত- বৈরাগী বৈষ্ণব মানুষ। পুঁথিগুলোর দাম তাদের কাছে তাদের প্রাণের চেয়েও ছিল বেশি। কি করবেন তাঁরা অনেক ভেবেচিন্তে শ্রীশ্রীগৌরহরির নাম স্মরণ করে, তারা রাজা বীর হাম্বীরের রাজ সভায় গিয়ে উপস্থিত হলেন। কি সুন্দর সে রাজসভা- ঐশ্বর্য্যে ভরা বিচিত্র!

    সৌভাগ্যক্রমে তারা অর্থাৎ পরম পণ্ডিত ও বিশ্ববিখ্যাত বৈষ্ণবাচার্য্য শ্রীনিবাস এবং পরম ভাগবত শ্রীল শ্রীনরোত্তম ঠাকুর, যখন রাজা বীর হাম্বীরের রাজসভায় প্রবেশ করলেন, তখন রাজা বীর হাম্বীরের সভা-পণ্ডিত মশাই পাঠ করছিলেন ভাগবত। সভা নীরব-নিস্তব্ধ। কান পেতে সকলে শুনছিলেন সে পাঠ। এমন সময় ‘গৌর গৌর’ বলতে বলতে তাঁরা দুজন সেই সভায় উপস্থিত হয়ে ষাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ প্রণাম করলেন! সভার সকলে তাদের অপূর্ব দৈন্যময় বৈষ্ণবমূর্তি দেখে তাঁদের দিকে অবাক-বিস্ময়ে চেয়ে রইলেন। তাদের দেহড়ান্তিতে সভা ঝলমল করে উঠল। সকলেরই মনে কি যেন কিসের ঝড় বইতে লাগল। কপটী, পাষণ্ডের মনও এক নবভাবে আলোড়িত হতে থাকল। রাজা সসম্ভ্রমে জিজ্ঞাসা করলেন, কে আপনারা?

    কি দৈন্যে ভরা তাদের সে আত্মপরিচয়! শ্রদ্ধাবনত শিরে রাজা তাঁদের অভ্যর্থনা করে, বসতে দিলেন। সভাপণ্ডিত পাঠ করতে থাকলেন— ভাগবত। অবসর বুঝে, আচার্য শ্রীনিবাস ঠাকুরও ব্যাখ্যায় যোগ দিলেন। তাঁর সে সুধামাখা ব্যাখ্যায় রাজা বীর হাম্বীরের রাজসভায় জোয়ার বয়ে গেল। কবীন্দ্র রবীন্দ্রনাথ তাঁর মনোরম ভঙ্গীতে বলেছেন :

    ‘সাধকের কাছে, প্রথমেতে ভ্রান্তি আসে

    মনোহর মায়া-কায়া ধরি।’

    রাজা বীর হাম্বীরের কাছেও এসেছিল ভ্রান্তি, তাঁর মায়াময় কায়া নিয়ে রাজা সংসারে বদ্ধ হয়েছিলেন, লুটতরাজ করতেও ইতস্তত করছিলেন না; কিন্তু ভাগ্যবান তিনি পূর্বজন্মের সুকৃতির ফলে দেখা পেলেন এমন দুজনের- যাদের মুহূর্ত সংস্পর্শে জন্মজন্মান্তরের সব পাপ ঝড়ের মুখে তুলোর মতো উড়ে যায়।

    ‘সত্য দেখা দিল- ভূষণ বিহীনরূপে

    আলো করি, অন্তর বাহির।’

    রাজা বীর হাম্বীর আর সে রাজা বীর হাম্বীর রইলেন না; তাঁর অন্তর বাহির আলো করে দেখা দিলেন গৌরহরি, তাঁর সত্যিকার ভূষণবিহীন সরল, সহজ, মধুর, দিব্যকান্তি নিয়ে। রাজার বিষয়-বাসনা দূর হলো। জলের উপর তেল যেমন ভাসে তিনি তেমনই তার সংসারে ভাসতে লাগলেন। তাঁর রত্নখচিত মুকুট নুয়ে পড়ল বৈষ্ণবাচার্য্য শ্রীনিবাস ঠাকুরের অভয় পায়। তিনি তাঁর নিকট দীক্ষিত হলেন। মল্লভূমের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় দেখা দিল।

    অহর্নিশ বৈষ্ণব-সঙ্গে, হরিকথায় রাজা ডগমগ হয়ে উঠলেন। সর্বপ্রকার ঔদ্ধত্য দূর হয়ে রাজা আর তাঁর রাজবাড়ার সকলে হয়ে পড়লেন তৃণের চেয়েও সু-নীচ, কোথায় গেল সে অহঙ্কার-অভিমান, কোথায় গেল সে স্বার্থপরতা, সাধুসঙ্গের এমনই গুণ! সত্যি সত্যি সাধুসঙ্গ স্পর্শমণি। স্পর্শ করবামাত্র লোহা যায় হয়ে সোনা।

    শুনা যায়- রাজা বীর হাম্বীর বিষ্ণুপুরকে বৈষ্ণব রাজত্বে পরিণত ও পরিবর্তিত করেছিলেন। তাঁর ভক্তি-গঙ্গায় যে জোয়ার বয়েছিল তার অবিরাম কলোচ্ছাসে বিষ্ণুপুর রাজ্য এখনো মুখরিত হচ্ছে আমোদিত ও নন্দিত হচ্ছে।

    বৈষ্ণবের শ্রেষ্ঠ তীর্থ বৃন্দাবন ধামের দর্শন ভিখারী হয়ে হেঁটে চললেন সুদীনাত্মা রাজা বীর হাম্বীর। অপূর্ব উন্মাদনায় তিনি বিভোর হয়ে গেলেন। রাত-দিন অষ্টপ্রহর মুহুর্মুহু নামগান— বৈষ্ণব সঙ্গ— বৈষ্ণব সেবন করতে লাগলেন। তৃণাদপি সু-নীচ, তরুর মতো সহিষ্ণু, অমানী হয়ে মান দান ব্রতে তিনি উন্মাদ হয়ে উঠলেন। বৃন্দাবন হতে জাগ্রত বিগ্রহ মদনমোহনকে বহু যত্নে এনে তিনি তাঁর। রাজধানীতে সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন। সর্বস্ব ঢেলে তাঁকে সাজালেন। সাক্ষাৎ প্রাণের ঠাকুরের মতো পুজো-অর্চনা, ভোগরাগ, আরতির ব্যবস্থা করলেন।

    যে রাজা বীর হাম্বীর একান্ত সংসারাসক্ত, সংসারের জন্য হিতাহিত, কর্মাকর্ম, পুণ্যাপুণ্যবোধিবর্জিত হয়েছিলেন তাঁরই হলো এই দশা। কোথায় রইল তাঁর সেই অপূর্ব যুদ্ধকৌশল, কোথায় রইল তাঁর অপূর্ব শোভামগ্ন। নানা শিল্পকার্যবিমণ্ডিত রাজপ্রাসাদ রাজধানী, তিনি মজে গেলেন ভ্রমরের মতো শ্রীহরের পদারবিন্দ-সুধায়।

    বৃন্দাবন থেকে বহু কষ্টে শূন্য প্রাণে রাজধানীতে ফিরে এসে রাজা আকুল হয়ে রাতদিন চোখে পড়ে এমন সব জায়গায় নিজের মনের খোরাক ও প্রজাদের হিতকল্পে— ধর্মভাব বৃদ্ধির নিমিত্ত ‘যুমনা’, ‘কালিন্দী, ‘শ্যামকুণ্ড’, ‘রাধাকুণ্ড’ প্রভৃতি বাঁধ বেঁধে দিলেন। প্রিয়তম বৈষ্ণব ধর্মের সুপ্রচারের জন্য অষ্টপ্রহর নানাভাবে নানা প্রণালীতে চেষ্টা করতে থাকলেন। সর্বত্র, মৃদঙ্গ, করতালের ধ্বনি, নামকীর্ত্তন ও মহামহোৎসব হতে লাগল। নামে রুচির জন্য তাঁর অক্লান্ত চেষ্টায় বিষ্ণুপুর রাজ্য তরঙ্গায়িত হয়ে উঠল।

    তাঁর প্রতিষ্ঠিত জাগ্রৎ শ্রীশ্রীমদনমোহন মহাবিগ্রহ সুদীর্ঘকাল তাঁর রাজ্যকে নিরাপদ ও সর্ব সুখ-ঐশ্বর্য্যে পূর্ণ করে রাখলেন।

    তাঁর বিষ্ণুপুরের মন্দির এখনো চোখ জুড়িয়ে দেয়। ছাঁচে ঢালা ইটে খোদা, পাথরে গাঁথা সে সব মন্দির। পাথরগুলোর আকার এক এক বর্গ ইঞ্চি হতে এক এক বর্গ গজ। মন্দিরে মন্দিরে খোদা রয়েছে, দশ অবতারের কত মূর্তি- কৃষ্ণলীলা, রাসলীলা, ভাগবত, রামায়ণ, মহাভারতের কত সব লীলা! বিষ্ণুপুর সঙ্গীতে ভারতের সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেছিল। এখনো সেখানকার গাইয়ে, বাজাইয়ের তুলনা নেই। সে রাজ্য এখনো পরম বৈষ্ণব রাজা বীর হাম্বীরের অমর অবদানের কথা উদাত্ত সুরে ঘোষণা করছে।

    বৈষ্ণবোত্তম রাজা বীর হাম্বীর দেহ রক্ষা করবার পর যারা রাজা হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে রাজা দামোদর অবস্থা-বৈগুণ্যে তাদের পরমারাধ্য কুল-দেবতা মদনমোহন জীউকে পর্যন্ত বিক্রয় করতে বাধ্য হন। কলকাতার বাগবাজারের সুবিখ্যাত ধনী গোকুল মিত্র মশাই সেই বিগ্রহ তিন। লাখ টাকায় কিনে এনে কলকাতায় তাঁর বাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত করেন। সেই হতেই তাঁর সৌভাগ্যের সূত্রপাত হয়- বিষ্ণুপুরের হতে থাকে অধঃপতন। এখনো রাজা বীর হাম্বীরের সেই প্রাণের জাগ্রৎ ঠাকুর বাগবাজারে রয়েছেন।

    মল্লভূমের এই পরম বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ রাজা ভূঁইয়া-কুলোত্তম বীর হাম্বীরের কনিষ্ঠ পুত্র বন্ধু রায়ের নামানুসারেই বাঁকুড়া বা বাকুণ্ডা শহরের নাম হয়েছে। পরম বৈষ্ণব রাজা বীর হাম্বীরের সেই বৈষ্ণব রাজ্য বিষ্ণুপুর তাঁর অজস্র বৈষ্ণব স্মৃতি নিয়ে বাঙ্গালী বৈষ্ণবের চিত্ত জুড়াতে এখনো রয়েছে – সেই কেবল সেই পরম বৈষ্ণব রাজা বীর হাম্বীর!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী
    Next Article বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    সাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিদ্যাসাগর-জীবনচরিত – শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    পাকদণ্ডী – লীলা মজুমদার

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    কৃষ্ণসাধিকা মীরাবাঈ – পৃথ্বীরাজ সেন

    January 17, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Our Picks

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }