Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প38 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আত্মজ – ১ম অংশ

    আত্মজ
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    মা আজ চলে গেল। একটু আগে বৈদ্যুতিক চুল্লির গহ্বরে ঢুকে গেছে মা। পুড়ছে। পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে দ্রুত।
    আমার যেন এখনো ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। সকালে যখন অফিসে বেরোই, তখনো তো সব ঠিকঠাক ছিল। যেমন থাকে।
    দিনটাও আজ শুরু হয়েছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই। মাঘের শুরুতে এবার শীতটা বেশ জাঁকিয়ে এসেছে, সকালে লেপ ছেড়ে বেরোতে ইচ্ছে করছিল না যথারীতি। শুয়ে শুয়েই শুনতে পাচ্ছিলাম সংসার নিয়ে হুড়দ্দুম ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সুপ্তি। দুধ খাওয়া নিয়ে রোজকার মতোই গাঁইগুঁই করছে মামপি গোগোল, জোর কিচিরমিচির জুড়েছে, সুপ্তি কষে ধমকাল ছেলেমেয়েকে, এক ফাঁকে চা দিয়ে গেল আমায়, মার আয়াকে ডেকে কী যেন নির্দেশ দিল। রুটিনমাফিক শব্দ বেজে চলেছে সংসারে। মার স্পঞ্জের জন্য জল গরম করছে আয়া, ঠিকে ঝিয়ের সঙ্গে কী যেন কথা চালাচালি হলো, সুপ্তি ছেলেমেয়ের টিফিন বানাচ্ছে …। দ্যাখ না দ্যাখ মামপি গোগোল স্কুলবাস এসে গেল, আমিও লাফ দিয়ে উঠে বাথরুমে ফিরেই ঝটপট দাড়ি কামানো, কনকনে জলে কাকস্নান…। ডাইনিং টেবিলে সুপ্তি একখানা লিস্ট ধরিয়ে দিল। পরশু মামপিদের স্কুলে স্পোর্টস, মেয়ের জন্য লাল বর্ডার দেওয়া এক জোড়া জুতা চাই। ওয়াটার ম্যাট্রেসে শুয়েও টুকটাক বেডশোর বেরোচ্ছে মার, শয্যাক্ষতর মলম আনতে হবে। মনে করে চা। অফিসপাড়ার দোকানটা থেকে। এরপর মিনিবাসে লাইন, কান ঘেঁষে লেট বাঁচিয়ে অফিসে প্রবেশ, বারতিনেক জিএমের আসা-যাওয়া, ফাইল কম্পিউটার আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে মৃদু আলাপচারিতা। তপন বাবু সাতচল্লিশ বছর বয়সে বিয়ে করেছে, তাকে আমরা উইগ্ প্রেজেন্ড করব, না ফলস টিথ তা নিয়েও হাসাহাসি হলো একচোট।
    সবই চলছিল গতানুগতিক ছন্দে কিংবা নিতান্তই ছন্দহীন।
    ছবিটা বদলে গেল দুপুরে। হঠাৎই।
    টিফিন আওয়ারে তখন একটু ক্যারাম পিটিয়ে নিচ্ছিলাম। আজকাল ছুটির পর আর রিক্রিয়েশান রুমে ঢোকার জো নেই, ফিরতে সামান্য দেরি হলেই যা খিটখিট করে সুপ্তি। আমি ঘরে বন্দি, আর তুমি ফুর্তি মেরে বেড়াচ্ছ …! সত্যি তো, বেচারা এখন একদমই ঘরে আটকা। একদিকে ছেলেমেয়ে, সংসার, অন্যদিকে অনন্তশয্যায় শুয়ে থাকা পক্ষাঘাতগ্রস্ত শাশুড়ি, সুপ্তির এখন একেবারে চিঁড়েচ্যাপটা দশা। এদিক-ওদিক ঘোরা, সিনেমা-থিয়েটার সবই তো গেছে, রুগ্ন শাশুড়ি ফেলে বাপের বাড়িই বা যেতে পারে কদিন। গেলেও প্রতি মুহূর্তে হানটান, এই ফিরতে হবে, এই ফিরতে হবে। অগত্যা গৃহশান্তি বজায় রাখতে আমাকেও গুহায় সেঁধতে হয় জলদি জলদি।
    তো আজ সবে দ্বিতীয় বোর্ড খেলছি, রবীনদার ডাক, অমিত, তোমার টেলিফোন।
    রেডটা পকেটের মুখে। ঝুলছে প্রায়। স্ট্রাইকার সেট করতে করতে বললাম, কার ফোন?
    —তোমার বাড়ি থেকে। মনে হলো তোমার গিন্নি।
    শুনেই কেমন খটকা লেগেছিল। সুপ্তি তো তেমন দরকার ছাড়া ফোন করে না? লাল ঘুঁটি রয়েই গেল। তাড়াতাড়ি এসে রিসিভার তুলেছি, হ্যালো, কী হলো?
    —অ্যাই শোনো, মা কেমন করছেন!
    —সে কী? কেন? কী হয়েছে?
    —ভয়ানক নিশ্বাসের কষ্ট… চোখটোখ কেমন উলটে যাচ্ছে।
    —সর্বনাশ, কখন থেকে?
    —এই তো … আমি একটু মণিকাদিদের ফ্ল্যাটে গেছিলাম, রমা ডেকে আনল। বলছে গলা ভাত খাওয়ানোর পর থেকেই নাকি কেমন কেমন করছিলেন।
    —কখন খাইয়েছে?
    —যেমন খাওয়ায়। বারোটা-সওয়া বারোটা।
    —সঙ্গে সঙ্গে বলেনি কেন?
    —অতটা নাকি বুঝতে পারেনি। … মার হাত-পাও কেমন ঠাণ্ডা মেরে যাচ্ছে!
    —ডাক্তার বাবুকে ডেকেছ?
    —এক্ষুনি আসবেন। … তুমি চটপট চলে এসো। আমার কিন্তু ভালো ঠেকছে না।
    তখনো চরম কিছু ঘটার কথাটা মাথায় আসেনি। ট্যাঙ্েিত আসতে আসতেও ভাবছিলাম এমন হলো কেন? লাঙ্ ইনফেকশন। ডাক্তার বাবু রুটিন চেকআপের সময়ে একদিন বলছিলেন, শুয়ে থাকতে-থাকতে এসব রোগীর পেশি নাকি আপনি শিথিল হয়ে আসে, তখন ফুসফুসে খাদ্যকণা ঢুকে যাওয়া অসম্ভব নয়। তার থেকেই সংক্রমণ! কী একটা যেন নামও বলেছিলেন রোগটার। কী এক নিউমোনিয়া। অবশ্য ঠাণ্ডাটাণ্ডা লেগেও …। কতদিন রাত্তিরে পেচ্ছাপ করে মা তার ওপরেই পড়ে থাকে, রমা ওঠেও না, ভোঁস ভোঁস করে ঘুমোয়। ক্যালাস মেয়েছেলে। আবার একটা আতান্তরে ফেলল। তেমন বাড়াবাড়ি হলে এক্ষুনি হয়তো নার্সিং হোমে রিমুভ করতে হবে। বাড়িতে কত টাকা আছে? আজ মাসের উনিশ, মেরেকেটে হাজার দুই। ওতে কি-ই হবে? ব্যাংক তো প্রায় ফরসা… আবার ধার করব? আবার? শালা ধারে ধারে এবার ন্যুব্জ হয়ে যাব। কার কাছে চাওয়া যায়? প্রবীরদা একবার গেয়েছিল, দরকার লাগলে বোলো। সুপ্তি অবশ্য ওর দাদার কাছে টাকা চাওয়াটা পছন্দ করে না। খুকুদিকেও অ্যাপ্রোচ করা যায়। বোনঝি হলেও খুকুদি তো মার মেয়েরই মতন। খুকুদির বিয়েতে মা নিজের একটা নেকলেস্ ভেঙে গয়না গড়িয়ে দিয়েছিল। খুকুদি হয়তো ফেরাবে না, কিন্তু আমি ফেরত দেব কোত্থেকে? ফের একটা পিএফ লোন? নাকি নার্সিং হোমে না নিয়ে গিয়ে হাসপাতাল …। খরচাটা তাও একটা মাপের মধ্যে থাকে।
    কিছুরই প্রয়োজন হলো না। বাড়ি এসে দেখি সব শেষ। আশপাশের ফ্ল্যাটের বেশ কয়েকজন ঘরে থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে, সুপ্তি মায়ের খাটের বাজু ধরে স্থির, রমা পায়ের কাছে, মামপি গোগোল তখনও স্কুল থেকে ফেরেনি।
    আমার কেমন ঘোর ঘোর লাগছিল। এক দীর্ঘ ক্লান্তিকর অধ্যায়ের এত আকস্মিক পরিসমাপ্তি?
    টানা দুই বছর মা শয্যাশায়ী। সেরিব্রাল অ্যাটাকের দিনটা থেকে ধরলে তারও বেশি। প্রায় পঁচিশ মাস। নিখুঁতভাবে গুনে গেঁথে দেখলে সাতশো চুয়ান্ন দিন। এর মধ্যে একটি দিনের তরেও উঠে বসা দূরে থাক, নিজে নিজে নড়াচড়াও করতে পারেনি মা, পাশটুকুও ফিরিয়ে দিতে হতো। এই পঁচিশ মাসে একটা শব্দ পর্যন্ত বেরোয়নি মার গলা থেকে, গোঙানির আওয়াজও না। আমিও ধরে নিয়েছিলাম মা এভাবেই পড়ে থাকবে। রোজই মনে হতো মা আজকের দিনটাও রয়ে গেল, কালকের দিনটাও থাকবে, তার পরের দিনটাও …
    কিংবা হয়তো আলাদা করে এত কথাও মনে হতো না। শুধু হৃদয়ের গভীরে গেঁথে গিয়েছিল একটা ধারণা—নিছক অস্তিত্ব হয়েই মা বুঝি কাটিয়ে দেবে অনন্তকাল। এর বাইরে অন্য কিছু ঘটা বুঝি সম্ভবই নয়।
    খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন আসছিল একে একে। সন্ধ্যে নাগাদ বাড়ি ভিড়ে ভিড়। অনেকটা সেই নার্সিং হোমে যেমন দল বেঁধে সবাই মাকে দেখতে যেত, সেরকম। কিংবা তার চেয়েও বেশি।
    এরকমই বুঝি হয়। মানুষের কাছে বিপন্নতার দাম আছে। মৃত্যুরও। মার মৃত্যু-সম্ভাবনাটা দড়কচা মেরে যাওয়ার পর উদ্বেগ ক্ষয়ে গিয়েছিল ধীরে ধীরে। আমাদের কাছেও। আত্মীয়দের কাছেও। শেষ দেড়টা বছরে কে কবার দেখতে এসেছে মাকে? ওই মাঝে মাঝে ফোনে খোঁজখবর নেওয়া, কালেভদ্রে হয়তো সশরীরে আগমন, ব্যাস ওইটুকুই। অথচ শ্মশানেও আজ আমার পাশে কত লোক। জাঠতুতো দাদারা, খুড়তুতো ভাই, মাসির ছেলে, পিসির ছেলে, শালা, ভায়রাভাই, বন্ধুবান্ধব …
    হিমেল রাতে মাকে যন্ত্র-চিতায় চড়িয়ে এখন সবাই দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক। প্রবীরদা হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে খুকুদির বরের সঙ্গে। কিশোর আর সমু পায়চারী করছে। পল্টুরা চা খেতে চলে গেল।
    ঠাণ্ডাটা আজ বেড়েছে। নাকি খোলা জায়গা বলে বেশি লাগছে কামড়টা? চারদিকে ধোঁয়াশার পাতলা আস্তরণ, হ্যালোজেন বাতিগুলোয় কেমন মরা মরা ভাব। রেলিংঘেরা জায়গাটায় মরশুমি ফুল ফুটে আছে কয়েকটা, ফুলেরাও যেন মলিন এখন। শ্মশান বলেই কি? গর্জন করতে করতে একটা ম্যাটাডোর হানা দিল চত্বরে, বিটকেল হরিধ্বনি সহকারে খাট নামাচ্ছে একপাল যুবক। কে যেন চেঁচিয়ে ডাকল কাকে। দূরে কোথাও ছররা চলছে হাসির। ভেতরের হলঘরে জোর একটা কান্নার রোল উঠল। থেমেও গেল।
    চন্দন আর রনিদা উঠে গিয়েছিল পাশ থেকে, ফিরেছে। সিগারেট টানছিল রনিদা, টোকা মেরে ফেলে দিল পোড়া টুকরোটা। কাঁধে আলগা হাত রেখে বলল, অ্যাই, এখানে ঠাণ্ডায় কাঁপছিস কেন? চল্, ভেতরে গিয়ে বসি।
    —না না, এখানেই ঠিক আছে। ভেতরে বিশ্রী গন্ধ, হইহট্টগোল, কান্নাকাটি … ওখানে দম বন্ধ হয়ে আসছিল।
    —তাহলে শালটা ভালো করে জড়িয়ে নে। কান ঢাক। এ সময়ে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়াটা মোটেই কাজের কথা নয়।
    —বলছি তো ঠিক আছি। তোমরা ব্যস্ত হয়ো না।
    রনিদা আর জোরাজুরি করল না। বসেছে পাশে, সিমেন্টের বেঞ্চিতে। চোখ তুলে আকাশ দেখল একটুক্ষণ। আবার সিগারেট ধরাল। লম্বা লম্বা টান দিচ্ছে।
    হঠাৎই বলল, পিসিকে আজ একেবারে অন্যরকম দেখাচ্ছিল, না রে বাবলু?
    ছোট্ট একটা শ্বাস পড়ল আমার। বললাম, হুঁ।
    —মুখে কণামাত্র রোগের চিহ্ন নেই … হুবহু সেই আগের রং ফিরে এসেছিল। মনে হচ্ছিল সেই পুরনো পিসিকে দেখছি।
    চন্দন বলে উঠল, কাকির মুখে কী রকম একটা হাসি লেগেছিল লক্ষ করেছ রনিদা?
    —হুম। কত কষ্টের অবসান হলো।
    —বটেই তো। কিছু বলতে পারে না, বোঝাতে পারে না, কী খারাপ যে লাগত! এবার পুজোর পর প্রণাম করতে গিয়ে মুখের দিকে তো তাকাতেই পারছিলাম না। কী মানুষ তার কী হাল!
    —অথচ দ্যাখো, পিসি কিন্তু কখনো কারো পাকা ধানে মই দেয়নি। মা তো সেদিনও বলছিল, ভগবান কিন্তু এটা ন্যায় করলেন না। এত ভালো মানুষ, তারই কি না এই দুর্দশা! … সারা জীবন কী স্ট্রাগলটাই না করেছে পিসি। অসুখ-বিসুখ কিছু নেই, দুম করে পিসে মশাই মারা গেল … বিনা মেঘে বজ্রপাত … বাবলু তো তখন হাফপ্যান্ট। অত বড়ো একটা ধাক্কা সামলেও তো পিসি মাথা উঁচু করে থেকেছে। চাকরি-বাকরি করে একাই মানুষ করেছে বাবলুকে। যখন নিজস্ব ঘরদোর হলো, নাতি-নাতনি নিয়ে একটু সুখের মুখ দেখছিল, তখনই ভগবান ডাণ্ডা মেরে দিল।
    —আমরা তো মনেপ্রাণে প্রার্থনা করতাম, কাকি চলে যাক, কাকি এবার চলে যাক।
    —রিয়েলি, ওরকম ভেজিটেবল বনে যাওয়াটা কি বেঁচে থাকা?
    —পুরো ভেজিটেবল কোথায়? কাকির তো সেন্স ছিল, ইভন্ ইন দ্যাট হ্যাপলেস সিচুয়েশান। সেটাই তো আরো প্যাথেটিক।
    আঃ, কী আরম্ভ করল এরা? এসব কি এখন আলোচনা করার সময়? মা কী ছিল আমার জন্য কত করেছে, সব তো অনেক পুরনো কথা। সবাই জানে। আমিও জানি। আমিও প্রাণপণ চেষ্টা করেছি মার সেই ঋণ শোধ করার। সাধ্যের অতিরিক্ত করেছি। মার যখন স্ট্রোকটা হলো খরচার পরোয়া না করে মাকে নিয়ে ছুটেছি বড় নার্সিং হোমে। সেখান থেকে মা ফিরল জড়বস্তু হয়ে, তবুও কি আমি হাল ছেড়েছিলাম? টানা ছয় মাস ফিজিওথেরাপি, প্রথমে তিনটা মাস তো সকাল-বিকেল। এর সঙ্গে ডাক্তার, নার্স ও আয়া …। মা সন্তানকে ভালোবাসবে, তার জন্য প্রাণপাত করবে এ তো স্বতঃসিদ্ধ, কিন্তু আমিও কি মাকে কম ভালোবাসতাম? আমার উদ্বেগ ছিল না? নার্সিং হোমে কত রাত জেগেছি পরপর, অমুক নিউরোলজিস্টের কাছে যাচ্ছি, তমুক নিউরোলজিস্টের কাছে যাচ্ছি, তমুক নিউরোলজিস্টের কাছে ছুটছি। বিরল ওষুধ খুঁজতে ঘুরে বেড়াচ্ছি শহরময়…। এর পরও যদি মা সুস্থ না হয় সেটা তো মার কপাল। তবু চেতনা যেটুকু ফিরেছিল সেও আমার চেষ্টার জোরেই। আশ্চর্য, আমার এই চেষ্টার দিকটা কেউ বলে না।
    নার্ভের মোটর সিস্টেম প্রায় অকেজো হয়ে গেলেও মার মস্তিষ্ক বেশ খানিকটা সচল হয়েছিল। ব্যাপারটা আমার নজরে আসে মাকে নার্সিং হোম থেকে ফিরিয়ে আনার মাস তিন-চার পর। চৈতন্য ফেরার প্রকাশ অবশ্য ছিল মাত্র একটাই। চোখে। আমাকে দেখলেই মার চোখ দুটো ঘুরতে থাকত। যেদিকেই যাই, ডাইনে-বাঁয়ে, জানালায়, দরজায়, মার চোখ অনুসরণ করছে আমাকে। হ্যাঁ, শুধু আমাকেই। সুপ্তি কত সেবা করেছে মার, গোগোল মামপি তো তাদের ঠাম্মার প্রাণ ছিল। অথচ ওদের দেখে মার দৃষ্টি কিন্তু ও রকম চঞ্চল হতো না।
    প্রথম প্রথম আমার গা শিরশির করত। কতদিন মার মাথার পাশে বসে প্রশ্ন করেছি, কী দেখছ মা? কিছু বলবে?
    মার দুই মণিতে অদ্ভুত এক কাঁপন জাগত তখন। যেন একটা ভাষা ফুটেও ফুটছে না। গোমরাচ্ছে।
    ক্রমেই ওই দৃষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। পরের দিকে তো দিব্যি একটা খেলায় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল ব্যাপারটা। মাকে কেউ দেখতে এলেই বলত, ওই আলমারিটার পাশে গিয়ে দাঁড়া তো বাবলু, দেখি এবার চোখ কোনদিকে যায়। … খাটের পেছনে চলে যা, এবার আর চোখ তোকে খুঁজে পাবে না। … ওমা দ্যাখো দ্যাখো, বাবলু বেরিয়ে যাচ্ছে অমনি রেণুদির দৃষ্টিও … আহা রে, একেই বলে চোখে হারানো!
    ইদানীং মার কাছে তেমন বসা হতো না। কী করব বসে থেকে? তা ছাড়া আমারও তো ছেলেমেয়ে বউ অফিস সংসার এসব আছে, না কী? তার মধ্যেও রুটিন করে যেতাম এক-দুবার। দাঁড়াতাম একটু, মার পালস দেখতাম, আয়ার কাছে হালহকিকত জেনে নিতাম। সম্প্রতি একটা প্রেসার মাপার যন্ত্রও কিনেছিলাম, নিজেই মেপে নিতাম, রক্তচাপ। কাঁহাতক আর ওইটুকুর জন্য রোজ রোজ দশ টাকা করে গোনা যায়! রমাটা একেবারে টিপিকাল আয়া, ওর শেখার ইচ্ছেও নেই, ওকে দিয়ে ওসব কাজ হয়ও না। অফিস বেরোনোর আগেও নিয়ম করে একবার উঁকি দিতাম মার দরজায়…
    আজ কি দাঁড়ানো হয়েছিল? মনে পড়ছে না। মোজা না রুমাল কী একটা যেন খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাড়াহুড়োয় বোধ হয় …। তুত, এত খুঁটিনাটি কি মনে রাখা সম্ভব? বিশেষ করে যে মানুষ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস একইভাবে টিকে আছে তার সম্পর্কে?
    আবার একটা ডেডবডি এলো। কাচের গাড়িতে। বয়স্ক মহিলা।
    রনিদা যান্ত্রিকভাবে কপালে হাত ছোঁয়াল। আলগাভাবে বলল, আমাদের কপালটা ভালো।
    ঘুরে তাকালাম, মানে?
    —পিসিকে একেবারে জাস্ট টাইমে আনা হয়েছে। দেকছিস না, তার পরই কেমন লাইন পড়ে গেল! আর দশটা মিনিট দেরি করলে তোকে তিন ঘণ্টা বসে থাকতে হতো।
    এমন একটা ভার মুহূর্তেও হাসি পেয়ে গেল। পঁচিশ মাস টানতে পারলাম আর তিন ঘণ্টায় কি-ই বা ফারাক হতো?
    সন্তুদা আর দুলু কথা বলতে বলতে আসছে। পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া সন্তুদার এক আশ্চর্য গুণ আছে, আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব কারও মৃত্যুর খবর পেলেই সন্তুদা যেখানে থাক হাজির। কাজকর্ম পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় সব দায়িত্ব তুলে নেবে কাঁধে। আজও টেলিফোন পেয়েই এসে পড়েছিল, বড় মাইমা আর রেখা বউদিকে সঙ্গে নিয়ে। এসেই ঝটপট সব বন্দোবস্ত করে ফেলল সন্তুদা। কাচের গাড়ি, ফুল-খই-ধুপ অগুরু …। মার বুকে গীতা রাখা হয়েছে কি না, খইয়ের ঠোঙায় খুচরো পয়সা দেওয়া হলো কি না, প্রতিটি খুঁটিনাটিতেই সন্তুদার খুব নজর। শ্মশানে পৌঁছেও চরকি খাচ্ছে অনবরত। করপোরেশনের ঘরে দৌড়াদৌড়ি, পুরুতের সঙ্গে দর কষাকষি …। আমি যখন আগুন হাতে মাকে প্রদক্ষিণ করছি তখনও সন্তুদা আমার পাশেপাশে।
    সন্তুদার হাতে একখানা প্লাস্টিকের প্যাকেট। প্রবীরদাকে প্যাকেটখানা ধরিয়ে এলো আমার কাছে, বাবলু, তোদের কাপড়-জামা কেনা কমপ্লিট। প্রবীর বাবুর কাছে রইল, চান করে পরে নিস।
    —এত ঠাণ্ডায় রাত্তিরে চান করবে কি? না না, একটু গঙ্গাজল ছিটিয়ে নিলেই হবে।
    —আহা, আমি কি গঙ্গায় ডুব দিতে বলছি? বাড়ি গিয়ে তো করবে। কী রে বাবলু, পিসির জন্য এইটুকু পারবি না?
    বটেই তো। এটুকুই তো করছি!
    আমার মুখের ভাঙচুর লক্ষ করেনি সন্তুদা। ফের বলল, পিসির ডেথ সার্টিফিকেটটা এখন আমার কাছেই রইল, বুঝলি। তিন কপি জেরঙ্ করে দিয়ে দেব, যত্ন করে রাখিস। হারালে কিন্তু পিসির কিছু পাবি না।
    হায় রে, পিসির যেন কত ধনদৌলত আছে! রিটায়ারমেন্টের সময়ে কুড়িয়ে-বাড়িয়ে যা পেয়েছিল তার সিংহভাগই তো গেছে ফ্ল্যাটে। বারণ করেছিলাম, শোনেনি। ও টাকা পুষে আমি কী করব রে বাবলু! বরং যতটা পারিস ক্যাশ দিয়ে দে, তোর ব্যাংক লোন তাহলে কম হবে! রাগ করিস কেন, তোর বাড়ি তো আমারও রে, তুই কি আর আমায় তাড়িয়ে দিবি! ব্যাস্, সঞ্চয় প্রায় সাফ। তাও যেটুকু তলানি পড়ে ছিল তাই দিয়ে নাতনির জন্য সোনার চেইন বানাচ্ছে, দুম করে গোগোলের নামে একটা ক্যাশ সার্টিফিকেট কিনে ফেলল …। ওসব না করে কিছু যদি রাখত, বিপদের সময়ে তাও কাজে আসত।
    পল্টু দিপুরা কখন যেন ফিরে হলঘরে ঢুকেছিল। বেরিয়ে ডাকছে, বাবলুকে নিয়ে চলে আসুন। আমাদেরটা হয়ে গেছে।
    সন্তুদা সঙ্গে সঙ্গে টানটান, আয় আয়। … বেশ তাড়াতাড়িই হয়ে গেল দেখছি।
    রনিদা একদিক থেকে ধরেছে, অন্যদিক থেকে প্রবীরদা। আমাকে নিয়ে চলেছে মার ভস্মাবশেষের দিকে। এত জোরে হাত চেপেছে কেন? ভাবছে আমি পড়ে যাব? ভেঙে পড়ব?
    হলঘর পেরিয়ে উঁচু জায়গাটায় উঠলাম। আগুনে যাওয়ার অপেক্ষায় চ্যাঙারিতে শায়িত পর পর চারটে মৃতদেহ, তাদের টপকে নামছি সিঁড়ি বেয়ে। চুল্লি থেকে বিকিরিত হচ্ছে তাপ। বিচিত্র এক ওমে শরীরটা উষ্ণ হয়ে যাচ্ছে আমার।
    উষ্ণ? না হালকা?
    আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article জরুরি কিছু লেখা – সুভাষচন্দ্র বসু

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    উড়ো মেঘ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }