Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গাঞ্জে ফেরেশতে (চলচ্চিত্র ইতিহাসের দলিলগ্রন্থ) – সাদত হাসান মান্টো

    মোস্তফা হারুন এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. সম্পাদক বাবুরাও প্যাটেল

    ১০. সম্পাদক বাবুরাও প্যাটেল

    সম্ভবত আটত্রিশ সালে বাবুরাও প্যাটেলের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটে। আমি তখন ‘সাপ্তাহিক মুসাওয়ার’ সম্পাদনা করতাম। সর্বমোট বেতন পেতাম চল্লিশ টাকা। ‘মুসাওয়ার’-এর মালিক নজির লুধিয়ানভির ইচ্ছা আমার আরও কিছু বেশি উপার্জন হোক, এজন্যে তিনি আমাকে বাবুরাও প্যাটেলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন।

    বাবুরাও প্যাটেলের সঙ্গে আমার সাক্ষাতের বর্ণনা দেবার পূর্বে ফিল্ম ইন্ডিয়া কীভাবে ভারতের আনাচে-কানাচে প্রসিদ্ধি অর্জন করল সে সম্পর্কে কিছু বলে নিই। আপনারা বেশ জানেন, এমন এক কাল ছিল যখন পুনার ‘প্রভাত ফিল্ম কোম্পানি’র নামে ছিল জয়জয়কার। ‘অমৃতমন্থন’ ও ‘অমর জাবতী’ নামক দু-খানি অমর ছবি নির্মাণ করে সারা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এ সংস্থা শেষাবধি একটা বিরাট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে প্রভাত নগরে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রভাত নগরের প্রতিটি কর্মীর মনে ছিল অপরিসীম কর্মপ্রেরণা ও উদ্যোগ। শান্তারাম, সৈয়দ ফতেলাল, ধাইবর– সবাই প্রভাত নগরের অমিত তেজীয়ান প্রতিভাধর শিল্পী হিসেবে পরিচিত।

    ঠিক এমন দিনে প্রভাত নগর তিনটি সন্তানের জন্ম দিল :

    ১। ফেমাস পিকচার্স–প্রভাত নগরের ছবির একমাত্র পরিবেশক। এর মালিক ছিলেন বাবুরাও প্যাটেল।

    ২। বিজ্ঞাপন কোম্পানি বি পি সামন্ত অ্যান্ড কোম্পানি–প্রভাতের সকল ছবির প্রচারণা কার্যে নিয়োজিত ছিল।

    ৩। নিউজেক প্রিন্টিং প্রেস– প্রভাতের সকল পোস্টার-পত্র ইত্যাদি ছাপার কাজে নিয়োজিত ছিল।

    ফিল্ম ইন্ডিয়া এই নিউজেক প্রিন্টিং-এর সন্তান। প্রেসের মালিক পার্কার, বাবু প্যাটেলের বিশেষ বন্ধু ছিলেন। পড়ালেখা মামুলি জানতেন। দুজন মিলে পরিকল্পনা নিলেন ফিল্ম ইন্ডিয়া বের করার। প্রেস তো রয়েছেই। বি.পি. সামন্ত কোম্পানির মাধ্যমে প্রভাত কোম্পানির ছবির বিজ্ঞাপন ছাড়াও অন্যান্য ছবির বিজ্ঞাপনও সহজে পাওয়া যাবে। মোট কথা, সকল উপাদান হাতের কাছেই। বাবুরাও খুবই পরিশ্রমী ছিলেন, রসবোধও ছিল প্রচুর। তিনি স্বপ্ন দেখার লোক ছিলেন না। সঠিক জায়গায় আঘাত হেনে কাজ হাসিল করার লোক ছিলেন তিনি। অতএব ফিল্ম ইন্ডিয়ার প্রথম সংখ্যা ছাপা হবার পর ভারতীয় চিত্র-সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হল।

    বাবুরাও-এর লেখায় পাণ্ডিত্য ছিল, রস ছিল এবং বখাটে ছোকরাদের মনের মতো করে টিপ্পনী কাটতেও পারতেন বেশ। তাঁর লেখনীতে চুলচেরা সমালোচনা এবং প্রচ্ছন্ন আঘাত হানারও ক্ষমতা ছিল প্রচুর। মোট কথা, আমি তার লেখায় যা দেখেছি, ভারতের আর কোনো ইংরেজি লিখিয়ে সাংবাদিকদের কলমে তা দেখিনি।

    বাবুরাও-এর লেখায় যে দিকটি সবাইকে চমৎকৃত এবং মুগ্ধ করেছে তা হল তার ধারালো অথবা প্রচ্ছন্ন টিপ্পনী। টিপ্পনীর জগতে তিনি এমন সব আঙ্গিক ও কৌশল আবিষ্কার করেছেন যে সম্পর্কে ভারতীয় পাঠকরা সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিল। বাবুরাও-এর লেখা পাঠকদের মাঝে চাটনির স্বাদ পরিবেশন করত।

    বাবুরাও বড়ো জাঁকজমকপ্রিয় লোক ছিলেন। এপলো স্ট্রিটের মোবারক বিল্ডিং-এর এক প্রশস্ত কামরায় তিনি ফিল্ম ইন্ডিয়ার অফিস স্থাপন করেন। এবং তাকে খুব আকর্ষণীয় করে সাজিয়েছিলেন।

    এই সুসজ্জিত অফিস-কামরাতেই বাবুরাও-এর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তখন ফিল্ম ইন্ডিয়ার সবেমাত্র সাত-আট সংখ্যা বেরিয়েছে। মুসাওয়ারের দফতরে আমি তার প্রত্যেকটি কপি দেখেছি এবং চমৎকৃত হয়েছি।

    আমার ধারণা ছিল, এমন ঝরঝরে ইংরেজি লিখিয়ে অবিশ্যি পাতলা ছিপছিপে ধরনের লোক হবেন। কিন্তু আমি যখন তাকে এক জাহাজের টেবিলে ইয়াবড়া চেয়ারে বসে থাকতে দেখলাম, আমি নিরাশ হলাম। তার চেহারার কোনো অভিব্যক্তিই, কোনো হাবভাবই তার ধারালো লেখার সঙ্গে সুসামঞ্জস নয়। চোখ দুটো ছোটো ছোটো। চওড়া কপাল, মোটা নাক, মোটা এবড়ো থেবড়ো ঠোঁট আর বিটকেলে দাঁত। তবে কপালটা ছিল চওড়া।

    তিনি যখন আমার সঙ্গে হাত মেলাবার জন্যে দাঁড়ালেন, দেখলাম তিনি আমার চেয়ে লম্বা– খুবই লম্বা। দশাসই দেহ আবেষ্টনী, কিন্তু করমর্দনের বাঁধনটা খুবই ঢিলা মনে হল। এরপর তিনি যখন আমার সঙ্গে উর্দুতে কথা বলতে শুরু করলেন, আমি আরও নিরাশ হলাম। গোঁয়ার লম্পটদের মতো স্বর– কথায় কথায় বোম্বের অসভ্য সম্প্রদায়ের মতো ‘শালা বাঞ্চোত’ বলে গালাগাল দেন।

    আমি মনে করলাম উর্দুটা ভালোভাবে তার রপ্ত নেই বলেই এমনটা হচ্ছে। কিন্তু পরমুহূর্তেই তিনি যখন টেলিফোনে অন্য একজনের সঙ্গে ইংরেজিতেই কথা বললেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস হল এ লোকটি কোনোদিনই ফিল্ম ইন্ডিয়ার সেই ধারালো ও জোরালো সম্পাদকীয় লিখতে পারেন না, ইংরেজিতেও তিনি প্রতি ফুলস্টপের পর একবার করে শালা বললেন।

    আমি মনে মনে বললাম, এই শালা যদি বাবুরাও প্যাটেল হয়ে থাকে তাহলে আমি শালা সাদাত হাসান মান্টো।

    কথাবার্তা অল্প কিছুক্ষণ হল। নজির লুধিয়ানভি আমার খুব প্রশংসা করলেন। এরপর বাবুরাও বললেন, হা হা আমি জানি। এই শালা আবেদ গুল প্রতি সপ্তাহে আমাকে মুসাওয়ার পড়ে শোনায়। এরপর তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, এই শালার মান্টোটা আবার কী?

    আমি তাকে মান্টো অর্থ বুঝিয়ে দিলাম।

    আসল ব্যাপার ছিল প্রভাতের একটি ছবির যে কাহিনি বাবুরাও লিখেছিলেন আমি তার উর্দু তর্জমা করব। আমি তার সেই কাহিনিটা নিয়ে ঝটপট অল্পদিনের মধ্যে অনুবাদ করে লুধিয়ানভির মাধ্যমে তার কাছে পাঠিয়ে দিলাম। তিনি বেশ পছন্দ করলেন আমার অনুবাদ।

    এরপর অনেকদিন তার সঙ্গে আমার দেখাসাক্ষাৎ হয়নি। আমি অফিস থেকে খুবই কম বের হতাম। ফিল্ম কোম্পানিতে চাকরি নেয়ার জন্যে দ্বারে দ্বারে ধনা দেওয়া আমার নীতিবিরুদ্ধ ছিল।

    শান্তারাম যাতে করে একটি মাসিক পত্রিকা বের করেন এ জন্যে বাবুরাও তাকে রাজি করালেন। এ পত্রিকার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন ভঙ্গিতে এই ফিল্ম কোম্পানির প্রচারণা করা যাবে। শান্তারাম যদিও পড়ালেখা জানতেন না, কিন্তু জাতে ছিলেন শিল্পী। বাবুরাও এর কথায় সহজেই মেনে গেলেন। এবং অল্পদিনের মধ্যেই ‘প্রভাত’ বের হল। বাবুরাও সত্যিই অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে শান্তারামের ফিল্ম কোম্পানির পাবলিসিটি করালেন।

    নজির লুধিয়ানভি খুবই সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বাবুরাও-এর কাছে গিয়ে পৌঁছলেন এবং তাকে রাজি করালেন যাতে করে প্রভাতের বিভিন্ন প্রবন্ধাবলি। ‘মুসাওয়ার’-এ ছাপানো যায়।

    আমি এখানে একটা কথা বলে নিতে চাই, বাবুরাও নিজে জীবনে বহু দুঃখ-কষ্ট করেছেন। এজন্যে অভাবী মানুষের প্রতি সব সময়েই তিনি সদয় ছিলেন। তিনি জানতেন লুধিয়ানভির অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। এজন্যে তিনি যা কিছু ইংরেজিতে লিখেছেন তা উর্দুতে ভাষান্তরিত হতে পারবে না। কিন্তু নজির লুধিয়ানভি যখন আমার নাম নিলেন, তিনি কিছুটা আশ্বস্ত হলেন।

    কসম করে বলছি, ইংরেজিতে আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। বাবুরাও যা কিছু লিখেছেন, তা যে আমার বোধগম্যের বাইরে এমনও নয়। তবে হুবহু অনুবাদ কিছুটা কষ্টসাধ্য বই কি। বাবুরাও-এর প্রকাশভঙ্গির একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য ছিল। শব্দ চয়নের মধ্যে অভিনবত্ব ছিল। লেখায় ব্রিটেন এবং আমেরিকান উভয় প্রবাদাবলির অনুসরণ ছিল। কোনো শব্দ তিনি এমন খেলোভাবে প্রয়োগ করেছেন যে, তার পরিভাষা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বহু চিন্তাভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিলাম, লেখা সামনে রেখে যা কিছু বুঝে আসে তারই ভাব রক্ষা করে অনুবাদ করে যাব। শেষ পর্যন্ত করলামও তাই।

    যখন এ অনুবাদ ছাপা হল নজির লুধিয়ানভি সেগুলো নিয়ে বাবুরাও-এর কাছে গেল। আমিও তার সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে দেখেই বলে উঠলেন,

    শালা তুমিও বাবুরাও হবার চেষ্টা করছ দেখছি।

    আমি তাকে আগাগোড়া সবকিছু ধীরেসুস্থে বুঝিয়ে বললাম।

    আমি যেভাবে অনুবাদ করেছি এভাবে ছাড়া আপনার লেখা ভাষান্তর করার আর কোনো উপায় নেই। অতএব আমি যা করেছি, ঠিকই করেছি।

    ডানহাতের শেষ আঙুলে সিগারেট চেপে ধরে ঠায় গেঁয়ো গোঁয়ারদের মতো লম্বা করে কেশে নিয়ে বলতে লাগলেন, শালা আমি আবেগুলের কাছে সব শুনেছি, শুনে বেশ মজা পেলাম। আমি তাকে বললাম (গালি) ও তো বলছিল তুই নাকি উর্দুর মস্ত বড়ো রাইটার।

    এ ধারা স্বীকৃতি শুনে আমি মনে মনে কষ্ট পেলাম। এরপর ঠিক হল আমি নিয়মিত এভাবে অনুবাদ করব। কিন্তু মাত্র দু-সপ্তাহ পরই প্রভাত কোম্পানির এই মাসিক বন্ধ হয়ে গেল, কেননা দু-সংখ্যাতেই কোম্পানির বিস্তর পয়সা নেমে গেছে।

    যাক আমি বেশি বিস্তারিত বর্ণনায় যেতে চাই না। কেননা ধান ভানতে শিবের গীত গাইতে হবে তাহলে। আসলে আমার উদ্দেশ্য হল বাবুরাও প্যাটেল সম্পর্কে আমার মতামত ব্যক্ত করা।

    এমন কতকগুলো ঘটনা হল, যার দরুন নজিরের সঙ্গে আমার… না না সেগুলো পরে বলব জী হাঁ, যা বলছিলাম, আমি বিয়ে করা মনস্থ করলাম। এ সময় আমি ইম্পেরিয়াল ফিল্ম কোম্পানিতে আশি টাকা বেতনে একটা চাকরি নিলাম। এখানে এক বছর চাকরি করলাম। কিন্তু বেতন পেয়েছিলাম মাত্র আট মাসের। চার মাসের বেতন না পেতেই কোম্পানি লালবাতি জ্বালিয়ে দিল।

    এখান থেকে আমি সরোজ ফিল্ম কোম্পানিতে চলে গেলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে মনে হল আমি কোম্পানিতে ঢুকবার পূর্বেই কোম্পানি পাততাড়ি গুটাতে শুরু করেছে। কিন্তু সহজে দমবার পাত্র ছিলাম না। এই কোম্পানির শেঠজি কোম্পানি উঠে যাবার পর সেই চারদেয়ালির মাঝেই অন্য একটি ছোটোখাটো কোম্পানির পত্তন করলেন। আমি এখানে একশো টাকার চাকরি নিলাম। একটা চমৎকার কাহিনি লিখলাম। এর তিন চতুর্থাংশ চিত্রায়িতও হল। ইতিমধ্যে আমার বিয়েও হয়ে গেল। এখন কনে তুলে আনবার পালা। এজন্যে আমার যথেষ্ট টাকার প্রয়োজন ছিল। একটা মামুলি বাসা ভাড়া নিয়ে তাতে বউকে তুলতে হবে। কিন্তু যখন টাকা চাইলাম শেঠ নানুভাই সোজা হাত উলটে দিলেন এবং বললেন, আমার অবস্থা কাহিল। তার অবস্থা কতটুকু খারাপ ছিল সেটা আমি জানতাম। কিন্তু আমার অবস্থাটা চিন্তা করে দেখুন। আমি শেঠকে সবকিছু খুলে বললাম। কিন্তু তার কোনো প্রতিক্রিয়াই তার মনে পড়ল না। বিগড়ে গেলাম। পরিস্থিতি কিছু হাতাহাতির পর্যায়ে উপনীত হলে শেঠ আমাকে দফতর থেকে বের করে দিলেন। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম কোম্পানির দ্বারে বসে অনশন ধর্মঘট করব। এখান থেকে এক পাও নড়ব না।

    আমার এই অবস্থার খবর কীভাবে যেন বাবুরাও-এর কান অবধি পৌঁছল। তিনি প্রথমে নানুভাই দেশাইকে টেলিফোনে এক চোট নিলেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হল না দেখে তিনি নিজেই নানুভাইয়ের অফিসে এলেন। বারোশো টাকা পাওনা ছিল। বাবোশোর স্থলে আটশো টাকায় তিনি মীমাংসা করে দিলেন। আমি মনে মনে বললাম, নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। আমার জাতকুল রক্ষা হল।

    আমার ইজ্জতটা কোনোমতে বেঁচে গেল। হ্যাঁ আর একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। আমি যখন ইম্পেরিয়াল ফিল্ম কোম্পানিতে কাজ করতাম তখন সেখানে নেহাতই ভদ্র স্বভাবের এক চিত্রাভিনেত্রীর সঙ্গে আমি পরিচয় লাভ করি, তার নাম পদ্মদেবী। আমার প্রথম ছবি ‘কিষণ কন্যা’তে তাকেই নায়িকা বানিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে তার খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে তার সঙ্গে সত্যিকারভাবে দৈহিক সম্পর্ক ছিল বাবুরাও প্যাটেলের। বাবুরাও সবসময় তার প্রতি কড়া নজর রাখতেন।

    এটাও এখানে বলে নেওয়া ভালো যে, বাবুরাও-এর এ সময় দুজন স্ত্রী ছিলেন। দুই স্ত্রীর একজনকে আমি দেখেছিলাম, তিনি ছিলেন ডাক্তারনি।

    সে যাই হোক এর মধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটে গেল যে, আমার অক্লান্ত সেবা এবং পরিশ্রমকে অস্বীকার করে তিনি আমার সঙ্গে অসহযোগিতা প্রদর্শন করলেন। আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। অবশ্য এজন্যে আমার কোনো দুঃখ ছিল না। তার কাছ থেকে কীই। বা পেতাম– তা ছাড়া আমার বাড়িভাড়া পঁচিশ টাকা– তাও চুকিয়ে দিত সে। এ সময় থেকে আমি রেডিয়োতে লিখতে শুরু করলাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি এখন আর একা ছিলাম না। এ জন্যে ভাবলাম, বাবুরাও-এর সঙ্গে দেখা করা দরকার। আরে দাঁড়ান, আমি হঠাৎ করে এগিয়ে এলাম, মাঝখানে আরও অনেক কথা রয়ে গেছে…।

    অত্যন্ত আজব পরিস্থিতির মধ্যে আমার বিয়েটা হয়েছিল। সংক্ষেপে বলতে গেলে বলতে হয়, বাড়িতে আমার মা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। চিত্রশিল্পের লোকজনরা আসা-যাওয়া করত। তাদের মেহমানদারি কে করত? মার দ্বারা কি এসব সম্ভব ছিল?

    বাবুরাও জানতে পারলেন মান্টো খুবই অসুবিধার মধ্যে আছে। তিনি পদ্মাদেবীকে পাঠিয়ে বললেন, যাও মান্টোর মাকে গিয়ে একটু সাহায্য করে। আমার বেশ মনে আছে। পদ্মদেবী বিয়ের সময় আমার স্ত্রীকে গহনাপত্র ইত্যাদি দিয়েছিলেন।

    বলুন, এবার চলি। জী হাঁ, আমি বাবুরাও-এর কাছে যেয়ে পৌঁছলাম। কেননা তিনি কারওয়া’ নামে একটি উর্দু পত্রিকাও বের করতেন। ইচ্ছা ছিল আবেদ গুলরেজ-এর একটা উপায় হয়ে যাক। আবেদগুল ছিল আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু কবি গুলের মেজাজটা ছিল অন্য ধরনের। খবরের কাগজের কাজ ছেড়ে দিয়ে সে সংলাপ, গীত ও চিত্র নির্মাণের ধান্দায় নেমে পড়েছিল।

    আমি বাবুরাওকে নজিরের লিখিত বরখাস্তনামা দেখালাম। সেটা দেখে বাবুরাও মুহূর্তের জন্যে প্রমাদ গুণলেন। তারপর অত্যন্ত ভারী একটা গালি ঝেড়ে বললেন, তাহলে এই ব্যাপার? তাহলে শালা তুই আমার এখানে কেন চলে আসতে চাস না? আমার ‘কারওয়া’ আছে। দুই কথা বলবে এমন শালা কে আছে?

    আমি জানালাম, আপনি যদি বলেন তাহলে আমি রাজি আছি।

    বাবুরাও জোরে ডাকলেন ‘রিটা।

    দরজা খুলে সটান দেহবল্লরীসম্পন্না জনৈকা ক্রিশ্চান মেয়ে প্রবেশ করল। বাবুরাও তার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দিলেন এবং বললেন, কাছে এসো।

    মেয়েটি আসনের কাছে ঘেঁষে বসল। বাবুরাও আবার বললেন, মুখটা এদিকে করো।

    মেয়েটি তার হুকুম তামিল করল। বাবুরাও এরপর তার নিতম্বে এমন একটা চপেটাঘাত করলেন, মনে হল, সেখানকার মাংস একেবারে আলাদা হয়ে গেছে। তারপর বললেন, যাও কাগজ পেনসিল নিয়ে এসো।

    মেয়েটির নাম ছিল রিটা কারলাইল। সেক্রেটারি, স্টেনো ও প্রেমিকা–সবকিছুই ছিল সে বাবুরাও-এর। সে শর্ট হ্যান্ড-এর খাতা আর পেনসিল নিয়ে হাজির হল। বাবুরাও আমার নামে নিয়োগপত্র লিখতে শুরু করলেন। লিখতে গিয়ে বেতনের কাছে পৌঁছতেই বাবুরাও বললেন, ‘মান্টো কত হলে চলবে?’ তারপর নিজেই বললেন। একশো পঞ্চাশ হলে ঠিক হবে তো?

    আমি বললাম, না।

    বাবুরাও অনেকটা অনুনয়ের সুরে বললেন, দ্যাখো মান্টো, এর বেশি দেওয়া যায় না।

    আমি বললাম, আমি দেড়শো টাকার বেশি চাই না। আমি বরং কম চাচ্ছি। আমি মাত্র ৬০ টাকা নেব, এর বেশিও নয় কমও নয়।

    বাবুরাও মনে করেছেন, আমি তার সঙ্গে ঠাট্টা করছি। কিন্তু আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম, আমি ষাট টাকাই নেব। তিনি আমাকে বললেন, তুমি দেখছি আস্ত গাধা। আমি বললাম, গাধা বলুন আর যা-ই বলুন, আমি ষাট টাকার বেশি চাই না। এবং এজন্যে চাই না যাতে স্বাধীনভাবে আসতে যেতে পারি, কোনো রকম টাইমটেবিল আমি মানব না, যখন ইচ্ছা আসব যখন ইচ্ছা যাব। কিন্তু পত্রিকা ঠিকমতোই বের হবে।

    কথাবার্তা পাকাপাকি হয়ে গেল।

    আমি বাবুরাও-এর অফিসে সম্ভবত ছ-সাত মাস কাজ করেছিলাম। এ সময়ে আমি তার আজব ব্যক্তিত্বের বহু খুঁটিনাটি জানতে পেরেছি।

    রিটাকে তিনি খুবই ভালোবাসতেন। তার মতে রিটার মতো সুন্দরী মেয়ে দ্বিতীয় কেউ নেই। অন্যান্য ক্রিশ্চান মেয়েদের মতো রিটার দিব্যি চলে যাচ্ছিল তাদের নিয়মমাফিক। কিন্তু বাবুরাও-এর কারণে রিটার দামটা বেড়ে গেল।

    আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত, রিটা যদি এক-আধটু উর্দু বলতে পারত তাহলে, বাবুরাও তাকে অল্প কদিনেই খ্যাতির শীর্ষে তুলে দিতেন।

    পদ্মাদেবীকে কেউ জানত না। কিন্তু যখন বাবুরাও-এর সংস্পর্শে এল, বাবুরাও তাকে কালার কুইন’ বানিয়ে দিলেন। ফিল্ম ইন্ডিয়ার প্রত্যেক সংখ্যায় তার ডজন ডজন ছবি থাকত। ছবির নীচে বাবুরাও চমৎকার ক্যাপশন দিতেন।

    বাবুরাও সম্পূর্ণভাবে স্বয়ম্ভু। নিজেকে বানিয়ে নিয়েছেন। যৌবনেই বাবার সঙ্গে তার অ-বনিবনা হয়ে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাবুরাও-এর কাছে যখনই বুড়ো প্যাটেলের কথা শুনতাম, বলতেন, ও শালা একটা আস্ত হারামি।

    জানি না এ দুজনের মধ্যে আসলে হারামি কে ছিলেন। বুড়ো প্যাটেল যদি সত্যিই হারামি থেকে থাকেন, তাহলে এই বাবুরাও হারামিপনায় তার চেয়ে কয়েক পা অগ্রসর ছিলেন।

    বাবুরাও-এর কলমের ক্ষুরধার তেজ তার মানসিকতারই ফসল। এবং এই মানসিকতার কারণ রয়েছে। তিনি সুলতান মাহমুদ হয়ে মন্দিরের মূর্তিগুলোকে খণ্ড বিখণ্ড করতে চাইতেন। কেননা ছোটোবেলায় তার বাবা তার স্বাভাবিক মননশীলতাকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছেন। বাবা তাঁকে জোর করে বিয়ে করিয়েছিলেন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় বিয়ে নিজে করছেন নিজের ইচ্ছায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিনি ধোঁকা খেয়ে নিজের ওপর নিজে চটে গেছেন এবং প্রত্যেকের ওপর সে চটার বিকার প্রতিফলিত হয়েছে।

    বাবুরাও-এর সামনে কোনো লোক একটু ওপরে বসবে এটা তিনি সহ্য করতে পারতেন না। তবে যে লোক ভূলণ্ঠিত হয়ে পড়ত তাকে টেনে তুলবার জন্যে কয়েক ক্রোশ পায়ে হেঁটে আসতেন, তাকে ওপরে তুলবার জন্যে তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করতেন। তবে লোকটি তার চেষ্টায় ওপরে উঠে গেলে বাবুরাও পুনরায় তাকে নীচে নামাবার জন্যে উঠে পড়ে লাগতেন।

    বাবুরাও সম্পূর্ণ স্ববিরোধী পুরুষ ছিলেন।

    এমন এককাল ছিল যখন তিনি শান্তারামকে মনে করতেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফিল্ম ডাইরেক্টর। কিন্তু পরে এমন সময়ও এল, শান্তারামের ছবি, এমনকি স্বয়ং শান্তারামের ব্যক্তিগত ক্রিয়াকর্মেও কালি ঢালতে শুরু করেন তিনি। কারদারকে তিনি দু চোক্ষে দেখতে পারতেন না। কিন্তু কিছুকাল পর বাবুরাও তাকে আবার পছন্দ করতে লাগলেন। দেশ ভাগাভাগির পর আরেকবার তিনি কারদারের বিরোধিতা করতে শুরু করলেন এবং তার স্টুডিও এবং বিষয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছিলেন, কিন্তু কারদারের কপাল ভালো, কোনোমতে বেঁচে গেলেন।

    মাঝখানে একবার এমন সময় এল যখন তিনি একেবারে খোলাখুলি ঘোষণা করলেন যে, একমাত্র মিয়াঁ ভাইরাই (মুসলমান) ছবি তৈরি করতে জানেন। মুসলমান চিত্র পরিচালকদের মধ্যে যে শিল্পগুণ ও সৃষ্টিধর্মী প্রবণতা আছে হিন্দুদের মধ্যে তার লেশমাত্রও নেই। এমন এক সময় ছিল যখন তিনি পৃথ্বীরাজকে মানুষ বলেও গণ্য করতেন না। আবার এমন সময়ও আমরা দেখেছি, যখন কিশোর শাহুর মতো শিল্পী আর হয় না।

    সময় সময় বাবুরাও-এর ওপর ভাবাবেগের প্রবাহ চলত। মনস্তত্ত্বের দিক থেকে তার মানসিক অবস্থা মোটেই সুস্থ ছিল না। একটা ভবঘুরে প্রাণাবেগ অহরহ তার ধমনীর মধ্যে চলাফেরা করে। এই অন্ধ ভাবাবেগে কখনও তিনি নিজেই নিজেকে নানাভাবে আঘাত করে বসতেন। তিনি এমন একজন শিল্পমনা পুরুষ, যিনি ভাবাবেগের তেপান্তরে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন।

    আমি যদ্দিন ‘কারাভাঁ’তে ছিলাম, ফিল্ম ইন্ডিয়াতে আমার পাণ্ডিত্য ও যোগ্যতার বেশ ঢাকঢোল পেটানো হত। কিন্তু সেখান থেকে সম্পর্কচ্যুত হতেই এই মান্টোটা আবার কে এই ধরনের মন্তব্যের সম্মুখীন হলাম আমি। কিন্তু এর কিছুদিন পর যখন আমার ছবি ‘আট দিন’ মুক্তি পেল, ফিল্ম ইন্ডিয়া মাথার টুপি অবনত করে আমাকে অভিনন্দন জানাল। বলা হল, মান্টো এদেশের একজন অনন্যসাধারণ প্রতিভাধর কাহিনিকার।

    বাবুরাও যখন প্রভাত ফিল্ম কোম্পানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তখন শান্তা আপ্তে (১২) ভারতের একজন প্রথম শ্রেণির নায়িকা হিসাবে আখ্যায়িত হন। কিন্তু সেখান থেকে সম্পর্কচ্যুত হবার পর শান্তা আপ্তের মতো বদসুরত নায়িকা আর হয় না বলে বেড়াতে লাগলেন। শান্তা আপ্তেকে নিয়ে তিনি ফিল্ম ইন্ডিয়াতে বহু বিষোঙ্গর করেন। কিন্তু শান্তা আপ্তে ছিল জাত মারাঠার মেয়ে। একবার অতর্কিতে বাবুরাও-এর অফিসে ঢুকে পড়ল এবং হান্টার দিয়ে লাগিয়ে দিল কয়েক ঘা।

    একটা প্রবাদ আছে, উটের দেহের কোনো অঙ্গই নাকি সোজা নয়। এ ব্যাপারে উটের পরেই বাবুরাও প্যাটেলের স্থান। বেশ কিছুকাল আগে বোম্বের ইংরেজি সাংবাদিক জগতের জনক মি. বি. জি. হানিম্যান একবার ‘বোম্বে সেন্টিনাল’ পত্রিকায় বাবুরাও সম্পর্কে দু-চারটে নিযাস মন্তব্য করেছিলেন। বাবুরাও বেকায়দায় পড়ে গেলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে দিলেন। আশি বছরের ঝানু হানিম্যান তা শুনে খুব হাসলেন এবং এক বন্ধুর মারফতে একজনকে বলে পাঠালেন যে, তুমি যদি চাও আমি তোমার সঙ্গে লড়ব, তাহলে আমি প্রস্তুত, আর যদি তুমি ভালো চাও তাহলে। অনতিবিলম্বে আমাকে হাজার দুয়েক টাকা পাঠিয়ে দাও। তাহলে আমি চুপচাপ থাকব।

    বাবুরাও আর একবার খেপে গেলেন। কিন্তু বৃদ্ধ হানিম্যানের অতীত কার্যকলাপ যখন শান্ত মনে চিন্তা করলেন তখন বাধ্য হয়ে তাঁর নামে দু-হাজার টাকা নজরানা পাঠালেন।

    বাবুরাও ছিলেন বোকার হদ্দ। এত বড়ো বোকা আর হয় না। তার মনে মানব হিতৈষণার পুরোপুরি আবেগ বিদ্যমান ছিল না। আমার বেশ মনে আছে, একবার তিনি একটা মানবতাবিরোধী কাজে হইচই করে আকাশ-পাতাল একত্রিত করেছিলেন।

    তখন সবে বোম্বের বড়ো বড়ো বাড়িতে লিফট বসানো হয়েছে। যে বাড়িতে লিফট আছে তাতে সিঁড়িও আছে। কিন্তু বেচারি ডাক-হরকরাদের জন্যে এই লিফট ব্যবহার করার অডার ছিল না। কোনো বাড়ির পাঁচতলার একটা চিঠির জন্যে পুরো বাড়ির সিঁড়ি ভেঙে পাঁচতলায় উঠতে হত। বাবুরাও এই নির্মমতার বিরুদ্ধে খুব লাগলেন। এবং বহু বাদ-প্রতিবাদের পর শেষাবধি এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করিয়ে ছাড়েন।

    পাক-ভারতীয় চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নের জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেন। বিদেশি চলচ্চিত্রকাররা যারা পাক-ভারতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে হাসিঠাট্টা করতেন তাঁদের তিনি দাঁতভাঙা জবাব দেন। তিনি ইউরোপ পরিভ্রমণ করেন এবং ব্রিটেনের চলচ্চিত্রকারদের বোকামিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন।

    বাবুরাও-এর সন্তান-সন্ততি অনেক। ডজন খানেক না হলেও ডজনের কাছাকাছি। একদিন বাবুরাও-এর সঙ্গে তার বাড়িতে গেলাম। বাবুরাও সব বাচ্চাকে ‘কিউ’ দিয়ে দাঁড়াবার জন্যে অর্ডার দিলেন। বাবুরাও এসব সন্তানদের একজন স্নেহময় পিতা, কিন্তু….।

    যাক কিন্তু। কেন-না এ কিন্তুর পরই বাবুরাও-এর আরম্ভ।

    মাহমুদ গজনভীর মতো মূর্তি ধ্বংস করার যেটুকু প্রবণতা তার মধ্যে ছিল এবারে তা নগ্নভাবে আত্মপ্রকাশ করল।

    ইতিমধ্যে জওহরলাল নেহরুর জনপ্রিয়তা ও খ্যাতির ওপর খেপে গিয়ে একবার তিনি তাঁকে গান্ধিজির পথের কাঁটা এবং জনগণের মাথাব্যথার কারণ বলে মন্তব্য করেছিলেন। পরবর্তীকালে তা পাকিস্তানবিরোধী সংবাদে রূপান্তরিত হয়। কেন-না এতদিনে পাকিস্তান হয়ে গেছে। বিশ্বের মানচিত্রে পাকিস্তান নিজের জন্যে একটা আলাদা। স্থান করে নিয়েছে। এবং পাকিস্তানের অবস্থিতিটা এখন তার সম্পূর্ণ মত-বিরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ‘ফিল্ম ইন্ডিয়া’র নাম শুনেই মনে হয় এতে চলচ্চিত্র সম্পর্কিত ব্যাপার থাকবে। অবশ্য থাকতও তাই। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখা গেল তাতে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। শেষকালে এমনও দেখা গেল চলচ্চিত্র, রাজনীতি এবং যৌনশাস্ত্র ইত্যাদি এ পত্রিকায় একটি বৈশিষ্ট্য স্থাপন করে বসেছে। এগুলো পড়লে বাবুরাও-এর চেহারাই ভেসে উঠত, তাতে পাকিস্তান সমাচার, মোরারজি দেশাই এবং মেয়েদের ঋতুস্রাব ইত্যাদির আলাপ আলোচনাও বাদ যেত না।

    রাজনীতিতে পা দিয়ে বাবুরাও এটাকেও রিটা, সুশীলা বা পদ্ম মনে করেছিলেন। মনে করেছিলেন দু-হাতে এদেরকে দিয়ে ডুগডুগি বাজাবেন আর নিজে তামাশা দেখবেন। অথচ তিনি নিজেই জানতেন চলচ্চিত্র ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এক্ষেত্রেও তেমন সুবিধা করতে পারবেন না। তা সত্ত্বেও একটা হইচই ও কাদা ছোঁড়াছুড়ি ছিল তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য।

    আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন তাহলে আমি বলব পাকিস্তান, হিন্দুস্থান কোনোটাই বাবুরাও-এর মাথাব্যথার কারণ ছিল না। আসলে তিনি সব রকম ভাড়ামির দুশমন ছিলেন। তিনি ওমর পার্কের কাছে বেশ পয়সা খরচ করে যে বাংলা নিয়েছেন তা নিয়ে বেশ সুখী ছিলেন। প্রাইভেট সেক্রেটারি সুশীলা রানিকে নিয়েও তিনি সুখী ছিলেন। সুশীলাকে আকাশে তুলবার জন্যে দু-বছর যাবৎ ফিল্ম ইন্ডিয়াকে নিয়োজিত করেছিলেন। সুশীলাকে তিনি একটা ছবিতেও পেশ করেছিলেন। পাছে আবার অন্য লোক সুশীলাকে স্পর্শ করবে এজন্যে তিনি নিজেই সে ছবিটি পরিচালনা করেন। কিন্তু সবই বিফল।

    বাবুরাও-এর দুনিয়াতে কোন কিছুর পরোয়া ছিল না। তার কাছে রানি ছিল রেসের ঘোড়া। জমজমাট দফতর ছিল। তার পেটে রয়েছে গ্যাস্ট্রিক। কিন্তু তার ট্রেজারিতে যে পরিমাণ অর্থ রয়েছে তা দিয়ে স্বচ্ছন্দে আমেরিকা গিয়ে তার চিকিৎসা করাতে পারেন। কিন্তু এতৎসত্ত্বেও তার একটা মস্ত বড়ো দুঃখ রয়েছে মনে।

    তার সে দুঃখটা কী জানেন? দুঃখটা হল মুসলমানরা এত বেইমান কেন? আমি কসম করে বলছি, তার বহু মুসলমান বন্ধু তাঁর সঙ্গে বহু রকম বেইমানি করেছে। হিন্দুরাও যে বেইমানি না করেছে এমন নয়। তবে তিনি মুসলমান বন্ধুদেরকেই বেশি ভালোবাসতেন। মুসলমানদের কথাবার্তা, চালচলন, চেহারা তার বেশ পছন্দ ছিল। তিনি মুসলমানদের খাবার সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন।

    মতবাদের দিক থেকে বাবুরাও বেশ উদারমনা ছিলেন। তার এক মেয়ে প্রেসের এক মুসলমান কর্মচারীকে ভালোবেসে ফেলে। কর্মচারীটি প্রায় নিরক্ষর ছিল। অথচ বাবুরাও তনয়া ছিল শিক্ষিতা। কিন্তু প্রেম শিক্ষা-অশিক্ষা চায় না। একদিন তারা দুজনে পালিয়ে গেল।

    বাবুরাও দুজনকে পাকড়াও করে নিয়ে এলেন। বাবুরাও প্রথমত মেয়েকে খুব বকলেন। কিন্তু পরে যখন দেখলেন মেয়ে ছেলেটিকে খুবই ভালোবাসে তখন তাদের বিয়ে করিয়ে দিলেন।

    কিছুদিন পর বাবুরাও-এর সঙ্গে আমার দেখা হলে তিনি অশ্রুসজল চোখে বললেন, তোমরা মুসলমান শালারা কী ধরনের? একজন আমার কাছ থেকে মেয়ে নিয়ে আমার কাছ থেকে আবার খোরপোষও চায়।

    এরপরই বাবুরাও মুসলমানদের ওপর খেপে গেলেন। কিন্তু এটা কোন ধরনের বোকামি, একজন কিংবা দুজনের প্রতিশোধ তিনি পুরো জাতির ওপর থেকে তুলতে শুরু করলেন। বাবুরাও ছিলেন একজন শিল্পী। হিংসা এবং জিঘাংসা তাকেও একজন সাধারণ মানুষ বানিয়েছিল। ফিল্ম ইন্ডিয়ার প্রতি লাইনে তা বিম্বিত করেছেন তিনি।

    খোদার কসম করে বলছি, এ সময় ফি ইন্ডিয়ার ক-টি সংখ্যা দেখে আমার প্রাণভরে ঘৃণা হল। শিল্পী ও সাংবাদিক বাবুরাও যেন বহু আগেই মারা গেছেন এমন মনে হল।

    ——-
    ১২। শান্তা আপ্তে। মারাঠি গায়িকা ও নায়িকা। প্লেব্যাক আসার আগে ছবিতে নিজের গলায় গান গাইতেন। বাংলার কাননদেবীর মতো। জন্ম ১৯১৬। মৃত্যু ১৯৬৪।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি গাধা বলছি – কৃষণ চন্দর
    Next Article নতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র

    Related Articles

    মোস্তফা হারুন

    আমি গাধা বলছি – কৃষণ চন্দর

    November 13, 2025
    মোস্তফা হারুন

    ভগবানের সাথে কিছুক্ষণ – কৃষণ চন্দর

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }