Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গাঞ্জে ফেরেশতে (চলচ্চিত্র ইতিহাসের দলিলগ্রন্থ) – সাদত হাসান মান্টো

    মোস্তফা হারুন এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. আগা হাশর

    ০৮. আগা হাশর

    সন তারিখ মনে নেই। মনে থাকে না বলেই লেখার সময় যত বিতিকিচ্ছিরি লাগে। আমার বয়েসটা কত তাও মনে নেই। তবে এতটুকু মনে আছে বহু চেষ্টা চরিত্রের পর এনট্রেন্সটা পাশ করে দু-দুবার এফ এ ফেল করার পর পড়াশোনার ওপর মনটা একেবারে উঠে গিয়েছিল। আজমল সিং কাটাবার ফজলু কুমারের দোকানের ওপরে একটা আড্ডা জমে উঠেছিল, সেখানে দিনরাত জুয়া চলত। ফ্লাস চলত। প্রথম দিকে এ আজব খেলাটা আমার মোটেই বোধগম্য হচ্ছিল না। কিন্তু যখন শিখে নিলাম তখন একেবারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। রাতের বেলা শোবার টাইম পেতাম না বললেই চলে। যেটুকু পেতাম স্বপ্নের মধ্যেও হরতন রুহিতনের ধান্ধা করতাম।

    প্রায় বছর খানেক পর জুয়া থেকেও আস্তে আস্তে মনটা উঠে যাচ্ছিল। কিন্তু অন্য একটা কিছু তো করতে হবে?

    জুয়ার আড্ডায় ইব্রাহিম (সে অমৃতসর মিউনিসিপ্যালিটি টাঙা সমিতির দারোগা ছিল) কথায় কথায় একদিন আগা হাশর-এর কথা তুলল। সে জানাল, আগা হাশর নাকি অমৃতসরে আসছেন। এ কথা শুনেই আমার স্কুলজীবনের কথা মনে পড়ে গেল। স্কুলে কতিপয় ছেলে ছোকরাকে নিয়ে একবার একটা ড্রামাটিক ক্লাব খুলে আগা হাশর-এর একটা নাটক মঞ্চস্থ করার আয়োজন করেছিলাম। একদিন বাবা কেমন করে টের পেয়ে গেলেন এবং অতর্কিতে এসে আমাদের হারমোনিয়াম, তবলা ইত্যাদি ভেঙেচুরে লন্ডভন্ড করে দিলেন। বলতে গেলে মাত্র বিশ দিন পরই এ ক্লাব ভেঙে যায়।

    ইব্রাহিম দারোগা যখন আগা হাশর-এর কথা পাড়ল আগা হাশরের সেই নাটকের একটা বিরাট সংলাপ আমার তখনও মুখস্থ ছিল। এতএব আগা হাশরের কথা পাড়তেই আমার মনে একটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হল। জেনে খুশি হলাম যে, আগা হাশর অমৃতসরে আসছেন।

    আগা হাশর-এর কোনো নাটকই দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। কারণ, সেকালে রাতের বেলা ঘর থেকে বের হবার অনুমতি ছিল না। তার নাটক আমি পড়েও দেখিনি। কেন-না, মিস্ট্রেস অব কোর্ট অব লন্ডন-এর তীর্থরাম ফিরোজ পুরীর অনূদিত ইংরেজি গোয়েন্দা সিরিজ পড়ার বেজায় শখ ছিল আমার। তারপরই কেন জানি আমি আগা হাশরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লাম।

    জানতে পারলাম আগা হাশর মস্তবড়ড়া মানুষ। কাশ্মীরি মুসলমান। আমিও কাশ্মীরি। তারপর শুনলাম আমাদের গলিতেই নাকি তাঁর আদি নিবাস। আমাদের গলিতেই নাকি তার ছোটোবেলা কেটেছে ইত্যাদি।

    ইব্রাহিমের কাছ থেকে যা কিছু শুনলাম, ইতিপূর্বেও আমি তা বহুবার শুনেছি। আগা হাশরের মতো কড়া নোক নাকি আর হয় না। দিন-রাত মদ নিয়ে পড়ে থাকেন এবং যতসব অকাজ কুকাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। যখন তার মুখ থেকে গালির তুড়ি ছুটতে থাকে তখন মনে হয় এর মতো গালিবাজ আর কেউ নেই। বড়ো বড়ো লোক পর্যন্ত তার গাল থেকে রেহাই পায়নি। কোম্পানির অমুক শেঠরা যখন তার কাছ থেকে নাটকের ফরমাশ করল তাদেরকে এমন গালি দিলেন তিনি একেবারে বাপ-দাদার নাম ভুলিয়ে দিলেন। বাপের জন্মে তারা আর আগা হাশরের মুখোমুখি হয়নি।

    একবার রিহার্সাল হচ্ছিল। গরমের দরুন নায়িকা বারবার কপালের ঘাম মুছে নিচ্ছিল। আগা সাহেব চোখ পাকিয়ে বলে উঠলেন:

    আবরু না সেনওয়ারা করো
    কাট জায়েগী অংলী
    নাদান হো তলওয়ার সে
    খেলা নেহি করতে।

    একবার এক নায়িকার মুখ দিয়ে ‘ফাস্ত’ শব্দ উচ্চারণ হচ্ছিল না। আগা হাশরের মাথায় রক্ত চড়ে গেল। তিনি এমন এক ধমক দিলেন যে, পর মুহূর্তে নায়িকা সঠিকভাবে শব্দটি উচ্চারণ করে নিল।

    একবার আগা হাশরের কানে একটা খবর এসে পৌঁছোল যে, কতিপয় দুষ্ট প্রকৃতির লোক প্রপাগান্ডা করে বেড়াচ্ছে যে, হিন্দিতে যে ড্রামা আগা হাশরের নামে চলছে আসলে তা নাকি আগা হাশরের রচনা নয়। আগা হাশর হিন্দি জানেন না। আগা হাশর রেগেমেগে নাটক শুরু হবার অনেক পূর্বেই এসে হাজির হলেন এবং মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন, শুনলাম কারা নাকি রটনা করেছে এ নাটক ভাড়া করে হিন্দি পণ্ডিতদের দিয়ে লিখিয়ে এনেছি। আমি সত্যিকার হিন্দি জানি কি না আপনারা পরীক্ষা নিতে চান? আসুন আমি শুদ্ধ হিন্দিতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, বলেই তিনি খাসা হিন্দিতে ঘণ্টা দুয়েক বক্তৃতা দিলেন। আগাগোড়া একবর্ণও উর্দু বা ফারসি শব্দ মেশানো হয়নি এতে।

    আরও শুনেছি, আগা সাহেব যে নায়িকার দিকে দৃকপাত করতেন তখনই তাকে আগা হাশরের আহ্বানে গোপন কামরায় চলে যেতে হত।

    আগা সাহেব মুন্সিদেরকে (সেক্রেটারি) হুকুম দিতেন, হ্যাঁ- তৈয়ার হয়ে যাও।

    বলেই তিনি একই সঙ্গে যুগপৎ কমেডি এবং ট্র্যাজেডি রচনায় লেগে যেতেন। বলাবাহুল্য তখন তিনি মদমত্ত থাকতেন।

    আগা সাহেব কোনোদিন কোনো মেয়েকে ভালোবাসেননি। কিন্তু ইব্রাহিম দারোগা আমাকে জানাল একথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আগা হাশর নাকি অমৃতসরের বিখ্যাত গণিকা মোখতার-এর প্রেমে নিমজ্জিত। ‘আওরত কা পেয়ার’ ছবিতে যে মোখতার নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছিল।

    মোখতারকে আমি জানতাম। হল বাজারের আনোয়ার পেইন্টার-এর দোকানে বসে থেকে প্রায় প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে নিত্য-নতুন সাজে অন্যান্য গণিকাদের সঙ্গে তাকে খালি পায়ে দরগার দিকে যেতে দেখতাম।

    আগা হাশর দেখতে কেমন ছিলেন আমি তা জানতাম না, তবে খবরের কাগজে দু একবার তাঁর ছবি পেয়েছি। কিন্তু তা দেখে তার আসল ছবি কল্পনা করা অসম্ভব। বয়েস সম্পর্কে শুধু এতটুকু জানতাম, তিনি বেশ বুড়িয়ে গেছেন। এই শেষ বয়সে মোখতারের সঙ্গে তার কেমন করে প্রেম হল আমরা তা নিয়ে ফজলুর দোতলার জুয়ার আড্ডায় আলোচনা করতে গিয়ে বেশ একদিন রীতিমতো বিস্মিত হলাম। আমার বেশ মনে আছে ফজলুকুমার গাঁট থেকে পয়সা বের করতে করতে একটা নিতান্ত দার্শনিক ভঙ্গিতে বলেছিল, বৃদ্ধ বয়েসের প্রেমের জ্বালা বড়ো কড়া হয়রে ভাই।

    কবে কোন সময় হঠাৎ কী প্রসঙ্গে আগা হাশরের আলোচনা উঠেছিল তা মনে নেই। তবে হররোজ আগা হাশরকে নিয়ে আলোচনা করা আমাদের একটা বাতিক হয়ে গিয়েছিল। আমাদের মধ্যে ইব্রাহিম দারোগাই আগাসাহেব সম্পর্কে বিশেষভাবে জানত। একদিন কথায় কথায় সে বলে ফেলল, গত রাতে আমরা মোখতারের ওখানে ছিলাম। আগা সাহেব হাত-পা ছড়িয়ে বসেছিলেন। আমরা বহু অনুনয় বিনয় করে বললাম আপনার ‘রুস্তম সোহরাব’ নাটকের কাহিনি যদি দয়া করে আমাদের শোনান। কিন্তু তিনি রাজি হলেন না। আমরা নিরাশ হলাম। আমাদের একজন এ ব্যাপারে মোখতারের সাহায্য প্রার্থনা করল। মুহূর্তে মোখতার আগাসাহেবের কাছে ঘেঁষে বসল এবং বলল, আগা সাহেব আমার হুকুম–রোস্তম সোহরাবের কাহিনি শোনাতে হবে আপনাকে।

    বাধ্য হয়ে আগাসাহেব একটু মুচকি হাসলেন এবং গুরুগম্ভীর কণ্ঠে রুস্তম সোহরাবের ডায়ালগ বলতে লাগলেন পর্যায়ক্রমে। মনে হচ্ছিল একটি দ্রুতগামী নদী খরতর বেগে বয়ে চলেছে। ওরে বাবা তার কণ্ঠের সে কী গর্জন!

    একদিন ইব্রাহিম জানাল, আগাসাহেব নাকি মদ ছেড়ে দিয়েছেন। যারা আগা হাশরকে জানতেন তাঁদের পক্ষে এটা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য। ইব্রাহিম জানাল, এই অল্প কদিন হল তিনি মদ ছেড়েছেন। মোখতারের প্রেমে পড়েই তাঁকে মদ ছাড়তে হয়েছে। ছিঃ! এ আবার কেমন প্রেম–আবার তাও মদ ছেড়ে দিতে হচ্ছে। আমাদের মন্তব্য শেষ হতে না হতেই ফজলুকুমার একগাদা নোটে তাঁর টাকা ভরে নিতে নিতে বলল, হায় ভাই বুড়াকালের প্রেমের মতো প্রেম আর হয় না।

    এ সময় বারিসাহেব এবং হাজি লকলক-এর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। দৈনিক মাসাওয়াত সম্পাদনার ব্যাপারে সম্প্রতি তারা অমৃতসরে এসেছেন। সিরাজ হোটেলে দুজনে চা পান করতে আসতেন। সাহিত্য এবং রাজনীতি নিয়ে দেদার আলোচনা হত। বারিসাহেবকে আমার বেশ পছন্দ হল। হোটেলের মালিক জিজু ইতিমধ্যে আবার আখতার শিরানিকেও আমন্ত্রণ জানালেন। দিনরাত পানীয়ের ছড়াছড়ি চলতে লাগল। শিল্প সাহিত্যের প্রতি আমিও একটু ঝুঁকে পড়লাম। যে সময়গুলো আমার জুয়ায় আচ্ছায় কাটত এখন তা ‘মাসাওয়াত’-এর সম্পাদকীয় অফিসে কাটে। বারি সাহেব কখনো কখনো দু-একটা খবর অনুবাদ করার জন্যে এগিয়ে দিতেন কাঁচা হাতে কোনোমতে তা অনুবাদ করে দিতাম। কিছুদিন পর পত্রিকাতে একটা সিনেমা বিভাগ খুলে আমি তা পরিচালনা করতে লাগলাম। বন্ধুরা বলত, কিছুই হয় না। বারিসাহেব বলতেন ওসব শুনতে যেও না চুপচাপ লিখে যাও। মৌলিক রচনা লিখতে চেষ্টা করো।

    কিন্তু মৌলিক লেখা আমার হাতে আসছিল না। একজন ফারসি লেখকের ‘লাস্ট ডেজ অব কনডেন্ড’ আমার আলমারিতে পড়েছিল। একদিন বারিসাহেব সেটা তুলে নিয়ে গেলেন। পরদিন যখন দুপুর নাগাদ অফিসে গেলাম কাতিবরা জানাল যে, বারিসাহেব সেই সাত-সকাল থেকে উচ্চস্বরে কী একটা বই পড়ছেন। কিছুক্ষণ পরপরই বাইরে আসেন এবং এক ঘটি ঠান্ডা পানি মাথায় ঢেলে আবার ভেতরে গিয়ে পড়তে বসে যান। আমি গিয়ে দেখলাম দরজা বন্ধ। কড়া নাড়ালাম। তখনও তিনি উচ্চস্বরে ইংরেজি পড়ছেন। দরজা খুলে গেল। বারিসাহেব জামা-পায়জামা ছাড়াই বেরিয়ে এলেন, হাতে ভিক্টর হুগোর বই। সেটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে খাসা ইংরেজিতে বললেন, ইট ইজ এ ভেরি হট বুক। তারপর আমাকে পরামর্শ দিয়ে বললেন, তাড়াতাড়ি বইটার অনুবাদ করে ফেল।

    আমি বইটি পড়লাম। রচনাধারা অত্যন্ত সাবলীল। কিন্তু ভাষা বড়ো শক্ত। চোখের সামনে অক্ষরগুলো কিলবিল করে উঠল। আঙিনায় খাঁটিয়া বিছিয়ে নিয়ে হুঁকোর নল টানতে টানতে বোনকে অনুবাদ শেখাবার ছলে তাকে দিয়ে চেষ্টা করলাম। কিন্তু তাতেও কোনো কিছু হল না, অবশেষে আমি কঠোর পণ নিয়ে একটা অভিধান ঘেঁটে ঘেঁটে এক পক্ষকালের মধ্যে অনুবাদ করে ফেললাম। বারি সাহেব খুব বাহবা দিলেন। নিজে একটু আধটু সংশোধন করে দিয়ে উর্দু বুকস্টলের কাছে পাণ্ডুলিপিটা ত্রিশ টাকায় বিক্রি করে দিলেন। ইউসুফ হাসান অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেটা ছেপে বাজারে ছাড়লেন। ব্যস, আমি একজন লেখক হয়ে গেলাম।

    ‘মাসাওয়াত’ বন্ধ হয়ে গেল। বারিসাহেব অন্য এক পত্রিকায় কাজ নিয়ে লাহোর চলে গেলেন। জিজুর হোটেলের সেই জমজমাট আড্ডা ভেঙে গেল। এতদিনে আমার লেখায় হাত এসে গেছে। কিন্তু বন্ধুদের কাছে এর কোনো দাম ছিল না বলে লেখাজোখা অবশেষে ছেড়ে দিলাম। আবার ফজলুকুমারের আড্ডায় গিয়ে হাজির হলাম। আবার জুয়া চলল। কিন্তু আগের মতো সেই মন আর নেশা ছিল না।

    একদিন দারোগা ইব্রাহিম ফ্লাস খেলতে গিয়ে বলল, এবার কিন্তু আগা হাশর এসে মোখতারের কুঠিতে উঠেছেন।

    আমি তাকে বললাম, আমাকে একদিন নিয়ে চলো সেখানে।

    ইব্রাহিম নিয়ে যাবে বলে কথা দিল। কিন্তু আজ যাব কাল যাব করে আর গেল না। অবশেষে আমি একদিন চেপে ধরলাম। পরে সে জানাল–আগা হাশর তো লাহোর চলে গেছেন।

    হরি সিং বলে আমার এক বন্ধু ছিল। আল্লা তাকে বাঁচিয়ে রাখুন। পাঁচ-পাঁচটা বাড়ি বিক্রি করে পুরো ইউরোপ ঘুরে এসেছে একবার। ষষ্ঠ বাড়িটিও বিক্রি করে বসে বসে খাবার জোগাড়ে ছিল। ফ্রান্সে মাত্র ছমাস ছিল সে। কিন্তু ফরাসিতে কথা বলতে তার একটুও অসুবিধা হয় না। দেখতে খুবই হালকা পাতলা লিকলিকে। কিন্তু জবান ছিল বড়ো ক্ষুরধার। চোখ দুটো ছিল কোটরাগত।

    একদিন আমি তার কাছে আগা হাশরের কথা পাড়লাম। সে বলল, তো তুমি কি তার সাথে দেখা করতে চাও?

    আমি বললাম, আলবত। আমি দু-চোখে একবার তাকে দেখতে চাই।

    সে বলল, ওমা, তা আর কী এমন কঠিন কাজ? অমৃতসরে এসে তিনি পণ্ডিত মোহসিন-এর ওখানে উঠেছেন–আমার সাথে প্রায় প্রত্যেক দিনই কথাবার্তা হয়।

    আমি একেবারে অধীর হয়ে উঠলাম এবং তাকে ধরে বললাম, তাহলে কালকেই আমাকে তার কাছে নিয়ে চলো।

    পরদিন হরি সিং আমাকে হাশর কাশ্মীরির কাছে নিয়ে উপস্থিত হল। পণ্ডিত মোহসিনের নাম শুনেই মনে হল কাশ্মীরের লোক। তার আসল নামটা হয়তো অন্য কিছু। এটা ছিল তার উপনাম। বিভিন্ন মোশায়েরায় সেকেলে কাব্যকর্মের কিছু নমুনা পেশ করতেন। ঘনিয়া কাটরার অমৃত সিনেমার সঙ্গে তার কাজকারবার ছিল।

    আগাসাহেবের সঙ্গে পণ্ডিতজির বন্ধুত্ব কাব্যচর্চার মাধ্যমেই হয়েছিল। এমনও হতে পারে অমৃত সিনেমার সামনে মোখতারের কুটির সেই সুবাদেও হতে পারে। কারণ। যা-ই থাকুক বর্তমানে আগা সাহেব পণ্ডিতজির ওখানেই উঠেছিলেন। দুজনের কথাবার্তা শুনে মনে হল দুজনের মধ্যে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব।

    পণ্ডিত মোহসিনের দফতর ঘনিয়া কাটরার কাছাকাছি পশমের বাজারের একটু আগে তরিতরকারির দোকানের পাশে একটা বিরাট দেউড়ির ওপারে। হরি সিং আগে আগে চলছিল। দেউড়ির সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে আমার বুক দুরুদুরু করছিল।

    বাইরে আঙিনায় চেয়ার পেতে কিছু লোক বসে ছিল। এককোণে পণ্ডিতজি গড়গড়া টানছিলেন। প্রথমেই একজন বিরাট দশাসই বিচিত্র পোশাক-আশাকে সজ্জিত মানুষের সঙ্গে আমার চোখাচোখি হয়ে গেল। গাঢ় লাল চমকদার সার্টিনের গলাবন্ধ, মোটা কলারের সাদা কামিজ, কোমরে গাঢ় নীল রঙের বন্ধনী আর বড়ো জবাফুলের মতো দুটো চোখ। আমি ভেবেছিলাম এখানকার কোনো পিরসাহেব হবেন হয়তো। কিন্তু একটু পরেই দেখলাম সবাই তাকে আগাসাহেব বলে সম্বোধন করছে। আমি একটা হোঁচট খেলাম।

    হরি সিং এগিয়ে গিয়ে এই আজব লোকটির সঙ্গে করমর্দন করল এবং আমাকে দেখিয়ে বলল, আমার বন্ধু সাদত হাসান মান্টো, আপনার সাথে পরিচয় করতে চায়।

    আগা সাহেব তার চোখ দুটো বিস্ফারিত করে একটু মুচকি হেসে বললেন, লর্ড মিল্টোর সাথে তোমার কী সম্পর্ক?

    আমার মুখে কোনো উত্তর জোগাল না। কিন্তু হরি সিং বলল, মিন্টো নয়, ওর নাম মান্টো। জাতে কাশ্মীরি।

    আগাসাহেব একথা শুনে একটু ‘হুঁহ’ শব্দ করে পণ্ডিতজির সঙ্গে কাশ্মীরিদের বংশগৌরব নিয়ে আলোচনায় মত্ত হলেন। আমি কাছেই একটা বেঞ্চিতে বসে পড়লাম। আগাসাহেবের আলোচনায় মোটেই মন ছিল না পণ্ডিতজির। কারণ, মাঝখানে ফাঁক পেলেই তিনি বারবার বলতে শুরু করেন, আগাসাহেব ওসব রেখে দিন, দুটো রিল কৌতুক নাটক লিখতে কবে নাগাদ আপনি হাত দিচ্ছেন সেইটে বলুন।

    আগাসাহেবেরও কৌতুক নাটকের আলোচনায় তেমন মন ছিল না। কারণ, তিনি তো কাশ্মীরিদের বংশগৌরবের আলোচনায় মত্ত। আসলে ওই আলোচনায়ও তার মন ছিল না, মাঝে-মাঝে কী যেন ভাবছিলেন তিনি এবং চাকর ছোকরাকে উদ্দেশ্য করে বার কয়েক গালি দিলেন। চাকর ছোকরাটা এখনও কেন আসছে না।

    আগা যখন থামলেন পণ্ডিতজি বললেন, আগা সাহেব, এসময় আপনার মুড ভালো আছে। আমি কাগজকলম আনিয়ে নিচ্ছি। আপনি সেই কমেডিটা লিখে ফেলুন।

    আগা হাশর মুহূর্তে চোখ পাকিয়ে বলে উঠলেন, আরে চুপ করো। আগা হাশরের মুড সব সময়ই ঠিক থাকে।

    পণ্ডিতজি চুপসে গেলেন। এবং নিজের গড়গড়ার নল টেনে নিলেন। চোখে সরষে ফুল দেখছিলাম যেন। কোনদিক থেকে যেন একটা সুবাস আসছিল। চেয়ে দেখলাম আগা সাহেবের দুকানে আতর মাখানো তুলা রয়েছে। মনে হল মাথার চুলেও আতর রয়েছে।

    হঠাৎ বাইরের দিকে শোরগোল শোনা গেল। কে একজন এসে আগাসাহেবকে বলল, আগাসাহেব বাইরে মহরমের মিছিল আসছে। আসুন, দেখুন।

    আগাসাহেব বললেন, রাখো ওসব বকবাজি। বলেই তিনি কারবালা-কাহিনি সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় অবতীর্ণ হলেন। আলোচনা করতে গিয়ে এমন সব তথ্য আবিষ্কার করে ফেললেন যে, শুনে সবাই হতবাক। তিনি নাটকীয় কায়দায় বললেন, ফোরাতের মুখ ছিল বন্ধ। ফোরাতে আদৌ পানিই ছিল না। আগা হাশর কোনো কথা…।

    এখানে আসতেই একজন লোক মহফিল ছেড়ে উঠে গেল। সম্ভবত লোকটি শিয়া। আগাসাহেবের আলোচনার মোড় ঘুরে গেল।

    পণ্ডিতজি ফাঁক পেয়ে গেলেন। আবার বলে ফেললেন–একটা কমেডি আপনাকে যে ভাবে হোক লিখতেই হবে।

    আগাসাহেব এবারে একটা মোটা গালি দিয়ে বললেন–এখানে হচ্ছে ট্র্যাজেডির কথা আর তুমি কিনা নিয়ে এসেছ কমেডি।

    একথা বলেই আবারও তিনি কারবালার বিষাদ গাথার সুক্ষ্ম আলোচনায় নিমগ্ন হলেন। বেশ অনেকক্ষণ বকবক করার পর হঠাৎ তিনি প্রসঙ্গান্তরে চলে গিয়ে চাকর ছোকরাকে গালি দিতে শুরু করলেন এবং বললেন- হতভাগা এখনও কোথায় বসে মরছে।

    কিছুক্ষণ পর এদিক-সেদিকের কথাবার্তার পর কে একজন মাওলানা আবুল কালাম আজাদের পাণ্ডিত্য সম্পর্কে কথা পাড়ল, আগা সাহেব বলে উঠলেন, ও–মহিউদ্দিনের কথা বলছ? আমরা দুজনেই তো খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রচারণার মুণ্ডপাত করেছি। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বক্তৃতা দিয়ে যেতাম–কী ছিল সে দিনগুলো।

    একথা বলেই তিনি অতীতের সেই মধুময় দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থনে হারিয়ে গেলেন। অতীত দিনের কথা ভাবতে গিয়ে তার চোখদুটো বুজে এল। অনেকক্ষণ পর যখন চোখ খুললেন, মনে হল বহু বছরের নেশা থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন তিনি।

    আগাসাহেব আবার বললেন, তখনকার দিনগুলোই ছিল অন্য রকমের। আজাদের কাদা ছোঁড়াছুড়ির অভ্যেস ছিল আর আমার ছিল অত্যন্ত সন্তর্পণে প্যাঁচ কষার। যেখানে হাত দিয়েছি সেখানেই শত্রুরা কুপোকাত হয়েছে। একবার আজাদ (মাওলানা আজাদ) বিশ্রীভাবে চিৎপটাং হয়ে পড়ল। চারজন খ্রিস্টান মিশনারির সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলছিল। যথাসময়ে আমি গিয়ে উপস্থিত হলাম। আমাকে দেখে আজাদের দেহে প্রাণ ফিরে এল। সে ত্বরিত পরিস্থিতিটা আমার হাতে ন্যস্ত করল। আমি দু-তিনটা প্যাঁচ কষে তাদেরকে ধরাশায়ী করে ফেললাম। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আমার আয়ত্তাধীনে। কিন্তু ওদিকে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। মসজিদে বেজায় গরম। দম বন্ধ করে আসছিল। আমি আজাদকে বললাম, বোতলটা কোথায়? আজাদ বলল, এই তো আমার পকেটে। আমি বললাম, দোহাই–একটুও দেরি না করে চলো। আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। বেশি দূরে গেলাম না। মসজিদের গোসলখানাতে ঢুকেই গলাধঃকরণ শুরু করলাম।

    এমন সময় আগাসাহেবের চাকর এসে উপস্থিত হল। আগাসাহেব তার স্বভাবসিদ্ধ কায়দায় তাকে কিছুক্ষণ গালি দিলেন এবং দেরি হবার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। বুঝা গেল, গালি শোনা তার নিত্যকার অভ্যাস। এত গালি তার গায়েই যেন লাগল না। স্বচ্ছন্দে সে কাগজে মোড়ানো একটা পুঁটলি তার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলল, দেখুন, আপনার জন্যে কী নিয়ে এসেছি। আপনি খুশি না হয়ে পারবেন না।

    আগাসাহেব পুটলি খুললেন। তাতে রং-বেরঙের চারটি শেলোয়ার রয়েছে। আগা সাহেব খুশি হবার বদলে রক্তচক্ষু পাকিয়ে গর্জন করে বললেন, বেশ করেছ বাঞ্চোত–এমন আজগুবি কাপড় তো এই শহরের আজেবাজে মানুষেও পরে না।

    একথা বলেই তিনি সেগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে দিলেন। এরপর আরও কিছুক্ষণ গালাগাল দিয়ে পকেট থেকে দু-তিন হাজার টাকার একটা বান্ডিল বের করে বললেন।

    যা পান নিয়ে আয়।

    পণ্ডিতজি গড়গড়া একদিকে সরিয়ে রেখে বললেন, রাখুন আগা সাহেব, আমিই আনাচ্ছি পান।

    আগাসাহেব নোটের বান্ডিলটা পকেটে পুরতে পুরতে বললেন, যা, তোর কাছে ভাংতি আছে। তা থেকে নিয়ে আয়।

    চাকর যেতে উদ্যত হলেই তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, শোন–ও এখনও কেন এল না সে খবরও নিয়ে আসবি কিন্তু।

    চাকর চলে গেল। কিছুক্ষণ পর সিঁড়ির কাছে কাঁকনের টুংটাং শোনা গেল। ঘরময় ভুরভুর সুগন্ধী ছড়িয়ে গেল। আগাসাহেবের চক্ষু চড়কগাছ। মোখতার পায়ে পায়ে কামরায় ঢুকে পড়ল। তার বিন্দুমাত্র সৌন্দর্য বলতে কিছু ছিল না। পরনে দামি পরিচ্ছদ। আগাসাহেব এবং উপস্থিত লোকদের উদ্দেশ্যে সালাম আদাব জানিয়ে ভেতরের খাস কামরায় চলে গেল। আগাসাহেবের দৃষ্টি তাকে অনুসরণ করে সে কামরা অবধি গেল।

    ইতিমধ্যে পান এসে গেল। খবরের কাগজে মোড়ানো এক বান্ডিল পান। চাকর ভেতরে চলে যাচ্ছিল। আগাসাহেব তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, কাগজ ফেলে দিসনে। যত্ন করে রেখে দে।

    আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এ টুকরো কাগজটুকু দিয়ে কী করবেন আগাসাহেব?

    আগাসাহেব বললেন, তা জানো না? এটা পড়ব। ছাপানো কোনো কাগজই আমি পড়ে ছাড়ি না। জীবনে আমি যত টুকরো কাগজ পেয়েছি সবই পড়েছি। একথা বলেই তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, ক্ষমা করবেন, ভেতরে এক প্রেমিকা আমার জন্যে অপেক্ষা করছে।

    পণ্ডিতজি আবার গড়াগড়া তুলে টানতে লাগলেন আর আমি এবং হরি সিং কিছুক্ষণ বসে থেকে চলে এলাম।

    আমি ক-দিন ধরে এই সাক্ষাৎকার সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা করতে লাগলাম। আগাসাহেব আজব চরিত্রের লোক। হাজার বাহু বিস্তত তাঁর ব্যক্তিত্ব। আমি ইতিমধ্যে তার কটি নাটক পড়ে ফেললাম। ভাষায় অজস্র ভুল। বাজে কাগজে ছাপানো। নাটকের দৃশ্যগুলোতে অত্যন্ত জমকালো সংলাপ। মিলনান্তক দৃশ্য গোঁজামিলে পরিপূর্ণ। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, তার সব নাটকই গণিকাদের নিয়ে। জীবনের শেষ মুহূর্তে মদ ছেড়ে তিনি এক গণিকার প্রেমে নিমজ্জিত হয়েছেন। পণ্ডিত মহসিনের সঙ্গে একবার দেখা হয়েছিল। তিনি বললেন, ওসব প্রেমট্রেম সম্পর্কে আমার জানা নাই। তবে মদ ছেড়ে তিনি ভুল করেছেন। খুব অল্পদিনের মধ্যেই তিনি মারা পড়বেন।

    আমি এখন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখতে শুরু করেছি। মাস কয়েক পর লোকমুখে শুনতে পেলাম, আগা হাশর ‘রুস্তম সোহরাব’ নাম দিয়ে ছবি করছেন। এ ব্যাপারে পানির মতো টাকাপয়সা ছিটানো হচ্ছে। বলা বাহুল্য, এ ছবির নায়িকা মোখতার।

    অমৃতসর থেকে লাহোর মাত্র এক ঘণ্টার পথ। আগাসাহেবের সঙ্গে আবার দেখা করার জন্য মন আঁকুপাঁকু করছিল। কিন্তু আজ কাল করে আর লাহোর যাওয়া হয়ে উঠল না।

    অনেকদিন পর বারিসাহেব আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি লাহারে গেলাম। তারপর নানা কার্যকারণে এমন ব্যস্ত হয়ে পড়লাম যে, আগাসাহেবের কথা ভুলেই বসেছিলাম। একদিন সন্ধ্যার দিকে ভাবলাম, উর্দু বুকস্টলের দিকে যাওয়া যাক। আমি ও বারিসাহেব আরব হোটেল থেকে চা পান করে সেদিকে রওয়ানা দিলাম। উর্দু বুকস্টলে পৌঁছে দেখি আগা হাশর– একটা টেবিলের সামনে চেয়ার নিয়ে বসে আছেন। আমি বারিসাহেবকে ইশারা করে বললাম, ইনিই হলেন আগা হাশর। বারিসাহেব চোখ ছানাবড়া করে তার দিকে একবার চেয়ে নিয়ে বললেন, ওমা, এই নাকি আগা হাশর?

    আগাসাহেবের পোশাক-আশাক আগের মতোই। বসে-বসে একটা বইয়ের পাতা ওলটাচ্ছিলেন। কাছে পৌঁছেই আমার বুক দুরুদুরু করে উঠল। আগাসাহেবের হাতে আমারই অনূদিত ‘ছারগুজান্তে আশির’ বইটি।

    দোকানি ইউসুব আমার সঙ্গে আগাসাহেবের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, ইনিই হলেন মান্টো। ইনি এটা অনুবাদ করেছেন।

    আগাসাহেব ভারী চোখ দুটো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখলেন। আমি মনে করেছিলাম, তিনি হয়তো আমাকে চিনে নেবেন। কিন্তু তিনি আমাকে দেখে নিয়ে বইখানা আবার ওলটাতে শুরু করলেন। এবং বললেন, ভিক্টর হুগো লোকটি কেমন লিখতেন?

    বারিসাহেব বললেন, ফরাসি সাহিত্যে ভিক্টর হুগোর স্থান খুব উঁচুতে।

    আগাসাহেব পাতা ওলটাতে ওলটাতে বললেন, নাট্যকার ছিলেন নাকি?

    জী, নাট্যকার।

    আগাসাহেব বললেন, তার মানে?

    বারিসাহেব বললেন, আসলে তিনি ফরাসি সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন। নাটক-উপন্যাসও লিখেছেন। বিপদগ্রস্ত’ নামের একখানি উপন্যাস তার এতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, লোকেরা তাঁর কবিপ্রতিভার কথা ভুলে যায়। পরে একজন ঔপন্যাসিক হিসেবেই তিনি পরিগণিত হন।

    আগাসাহেব এসব খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। শেষে তিনি দোকান থেকে আমার আমার বইটিও কিনবেন বলে জানালেন। তা শুনে আমি খুব খুশি হলাম।

    বারিসাহেব কথা বলতে বলতে ভেতরে শোরুমের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার অনুরোধক্রমে বেশ ক-খানা বই কিনলেন। কথায় কথায় বারিসাহেব বললেন, আগা সাহেব, আপনি কেন পাক-ভারতের নাটকের ইতিহাস লিখছেন না, লিখলে কিন্তু একখানা। মূল্যবান বই হয়।

    আগাসাহেব বললেন, এমন একখানা বই আগা হাশরই লিখতে পারে।

    লেখার ইচ্ছাও ছিল। কিন্তু হতভাগা আজকাল কবরে পা দিয়ে বসেছে, তার দ্বারে এসে মৃত্যু করাঘাত হানছে। আমি কথার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আগাসাহেব, সেসব নাটক আজকাল বাজারে চলছে…।

    আমি কথা শেষ না করতেই তিনি বললেন, তওবা তওবা … লাহাওলা অলা–হারামজাদারা এখান থেকে ওখান থেকে নিয়ে আগা হাশরের নামে ছাপিয়ে দিয়ে পয়সা কামিয়ে নিচ্ছে। আগা হাশর এসব আজে বাজে……

    বলেই তিনি এসব বইয়ের প্রকাশকদেরকে বেশ কষে গালি দিলেন একচোট। আমি বললাম, আপনি ওদের বিরুদ্ধে মামলা করছেন না কেন?

    –তিনি বললেন, কী করবো এসব চুনোপুটি মেরে।

    কথাটা সত্যি বলেছেন। আমি চুপসে গেলাম।

    আগা হাশর শোরুমের বাইরে এসে ইউসুবের কাছে বিল চাইলেন এবং বাজিকরের ভঙ্গিতে পকেট থেকে দশ ও পাঁচ টাকার নোটে তিন হাজার টাকা বের করলেন। তখন এক ধরনের নূতন নোট বেরিয়েছে। আগেকার নোটের চেয়ে এগুলো অনেক ছোটো এবং দেখতে সুন্দর ছিল।

    আগা হাশর বললেন, চেক ক্যাশ করাবার জন্যে যখন ব্যাঙ্কে গেলাম, ক্লার্ক বলল, সময় শেষ হয়ে গেছে। আমি বললাম, আগা হাশরের জন্যে এখনও ঢের সময় আছে। আমার নাম শুনতেই ক্লার্ক দৌড়ে ম্যানেজারের কামরায় গেল। আর ম্যানেজার আমাকে সসম্মানে ডেকে পাঠাল, আর নতুন নোটগুলো আমাকে দিয়ে বলল, আপনার তো আর কোনো খেদমত করতে পারব না। এই নতুন ধরনের নোটগুলো আজকেই এসেছে। আপনাকেই প্রথম এইগুলো দিলাম।

    বারিসাহেব সেখান থেকে একটা নোট নিয়ে নেড়েচেড়ে বললেন, আকারে বেশ ছোটো–একেবারে আমাদের সরকারের মতো।

    কথাটা শুনে আগাসাহেব বারিসাহেবের পিঠ চাপড়ে ধন্যবাদ দিলেন এবং বললেন, তোমার একথা আমি যে-কোনো নাটকে ঢুকিয়ে দেব।

    বারিসাহেব বেশ খুশি হলেন। ইতিমধ্যে সেদিনের সেই চাকরটি এসে উপস্থিত হল। এবারে তার হাতে গোটা চারেক কান্দাহারের আনারস। আগাসাহেব সেগুলো নাকের কাছে নিয়ে ভ্র কুঞ্চিত করে বললেন, এমন আজেবাজে আনারস কোনো ভদ্রলোকে খায়?

    চাকর বলল, তাহলে ফিরিয়ে দিয়ে আসব?

    আগাসাহেব বললেন, কুত্তা, দরকার নেই বরং–তুই খেয়ে নিস। বলেই তিনি একটা ভারী গালি ছুড়লেন তার দিকে।

    আগাসাহেব যেতে উদ্যত হতেই আমি অটোগ্রাফ বুক এগিয়ে দিয়ে তার স্বাক্ষর নিলাম। আগাসাহেব কাঁপা কাঁপা হাতে স্বাক্ষর দিতে দিতে বললেন, বহুকাল পরে মাত্র এই কটা অক্ষর লিখলাম।

    আমি অমৃতসরে ফিরে এলাম, কিছুদিন পর লাহোর থেকে খবর এল সামান্য অসুখে ভুগে আগা হাশর ইন্তেকাল করেছেন। তার জানাজায় অল্প কজন লোক উপস্থিত হয়েছিল।

    ফজলুকুমারের জুয়ার আড্ডায় যখন আগা হাশরের মৃত্যুর খবর নিয়ে আলোচনা উঠল, ফজলুকুমার তার স্বভাবসিদ্ধ কায়দায় পয়সা কুড়িয়ে ট্যাকে ভরতে ভরতে একজন পাকাপোক্ত দার্শনিকের মতো আমতা আমতা করে বলল, হায়, বুড়াকালের প্রেমের মতো প্রেম আর হয় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি গাধা বলছি – কৃষণ চন্দর
    Next Article নতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র

    Related Articles

    মোস্তফা হারুন

    আমি গাধা বলছি – কৃষণ চন্দর

    November 13, 2025
    মোস্তফা হারুন

    ভগবানের সাথে কিছুক্ষণ – কৃষণ চন্দর

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }