Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গান্ধর্বী – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প330 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গান্ধর্বী – ১০

    ১০

    পরিবর্তনগুলো জীবনে আসে। আসবেই। কিন্তু আসে সবার অলক্ষ্যে। যার জীবনে এলো সে ধরতে পারে না, কবে সে বদলে গেল, তার জীবন বদলে গেল। দিনক্ষণ সব স্মৃতির অতলে চলে যায়। আগেকার সত্তাটার সঙ্গে একটু একটু করে পাল্টে যাওয়া নতুন সত্তাটাকে তুলনা করলে অনেক সময়ে মনে হয় এ কি সেই একই মানুষ! কখনই হতে পারে না। একি সেই একই মানুষের জীবন? কি করে এমন হল? সোহমের জীবনে পরিবর্তন এলো সচেতন ভাবে। কালবৈশাখীর মতো ঘনঘটায় চারদিক আচ্ছন্ন করে। তারপর দুমদাম শিলাবৃষ্টি, তাপমাত্রার হঠাৎ উঁচুতে উঠে যাওয়া আবার হঠাৎ অবিশ্বাস্য নীচে নেমে যাওয়া। তারপর নবাঙ্কুর ইক্ষুবনে এখনও ঝরিছে বৃষ্টি ধারা বিশ্রামবিহীন, মেঘের অন্তর পথে অন্ধকার হতে অন্ধকারে চলে গেল দিন। প্রথমটা এইরকমই মনে হয়েছিল। তমিস্রা থেকে ঘোরতর তমিস্রায়। অপালা বিয়ের দিন বলেছিল— ‘খেয়ে যাবি তো?’

    সোহম বলেছিল—‘নিশ্চয়ই। মেনু কি বল আগে?’

    —‘আমি জানি না রে। এরা কিসব মিষ্টি-টিস্টি খাইয়ে যাচ্ছে, স্বাদ গন্ধ কিছুই পাচ্ছি না।’

    বর এসেছে রব শুনে, মেয়েদের নিচ্ছিদ্র ভিড়ের মধ্যে থেকে সে একবার উঁকি মেরে দেখবার চেষ্টা করেছিল। অপালার বর? অপুর বর? কি রকম অদ্ভুত অবিশ্বাস্য লাগছিল তার। ভদ্রলোক টোপরটা হাতে করে খুলে নিতে সোহম দেখল ভদ্রলোক যেন সিনেমার বর। বেশ ধবধবে ফর্সা। স্বাস্থ্যবান। কেশবান। বেশ ভদ্র চোখ মুখের যুবক। অপুর সঙ্গে বয়সের ডিফারেন্সটা বোধহয় একটু বেশি। ততক্ষণে তার খাওয়া হয়ে গেছে। ভালো ভালো জিনিসই হয়েছিল। প্রদ্যোৎ যত্ন করে দাঁড়িয়ে খাওয়ালো। কিন্তু অপুরই মতন সোহমও কোনও কিছুরই স্বাদ-গন্ধ কিছুই পেলো না। পাশেই একটি যুবক চোদ্দটা ফিশফ্রাই এবং উনিশটা লেডিকেনি খেলো। সোহমের গা গুলোচ্ছিল। শেষ পদে পৌঁছবার আগেই সে আশপাশের লোকের কাছে মাফ চেয়ে উঠে পড়ল। বাবা তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, বরযাত্রীদের আসরের এক পাশে। তিনি কোথাও খান না। এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক হঠাৎ উঠে এসে বললেন— ‘আপনি সোহম চক্রবর্তী না?’

    —‘হ্যাঁ।’ সোহম হাত জোড় করে নমস্কার জানাল।

    —‘আমি শিবনাথ, মানে বরের জামাইবাবু। আপনার গান আমি কয়েক জায়গাতেই শুনেছি। বাঙলার সঙ্গীত-জগতে এখন আপনারাই আশা। ‘শিবনা—থ।’ তিনি গলা উঁচু করে ডাকলেন।

    সোহম বলল— ‘এখন ওঁকে বিরক্ত করবার দরকার নেই। এই গোলমালে আলাপও হবে না ভালো করে। আমি অপুর খুব বন্ধু। আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হওয়া শিবনাথদার ভবিতব্য। কেউ নিবারণ করতে পারবে না।’ সে আর দাঁড়াল না। বাড়িতে ফিরে এসে বাবা বললেন—‘খোকন, ওষুধগুলো খেয়ে নিও, আমি বনমালীকে দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আহা! অপু মেয়েটি বড় ভালো। তেমনি চমৎকার বর হয়েছে। এ. জি. বেঙ্গলে রয়েছে শুনলাম। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। খুব ভালো হয়েছে।’

    বাবা কেন হঠাৎ অত খরচ করে অপালাকে গয়না দিতে গেলেন সোহম বোঝেনি। বউদিরা বলছিল—আসল বসরাই মুক্তো সব। তার কানে এসেছে কথাটা। বাবার পয়সা অনেক। তার ওপর দাদারাও প্রত্যেকে কৃতী, প্রত্যেকে প্রতিষ্ঠিত। বাবা ইচ্ছে করলে অনেকই দিতে পারেন। কিন্তু হার্মোনিয়ামটা শ্রেষ্ঠ জাতের। সোহম যখন হার্মোনিয়ম উপহার দিতে চায় জানিয়েছিল বাবা তাকে নিজে সঙ্গে করে চিৎপুরের ভালো দোকানে নিয়ে গেলেন, বিনা প্রতিবাদে, যেন খুশি হয়ে কিনে দিলেন যন্ত্রটা। ওটাই যথেষ্ট ছিল। ওটাতে অত খরচ করবার পর নিজে আবার গয়না দিয়ে আশীর্বাদ করলেন? একটা আংটি বা একজোড়া দুল-টুল নয়। একেবারে পুরো সেট। এটা তার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয়েছে। অপু প্রদ্যোৎ দিনের পর দিন তার কাছে এসে তার সঙ্গে গল্প করেছে, সেবা করেছে, অপুর সঙ্গ এতো ভালো তার আগে কখনও লাগেনি। প্রদ্যোতের সঙ্গেও তার ভারী সুন্দর একটা সখ্য জন্মে গেছে। ডক্টর বিদ্যুৎ সরকারও চমৎকার বন্ধু। কিন্তু এখনও সে জানে না, এগুলো কাকতালীয় নয়, অপালা তাকে সারাবার জন্যে প্ল্যানমাফিক গান গেয়েছে, সঙ্গ দিয়েছে ওষুধের সঙ্গে পথ্য হিসেবে। তার অসুখের সময়কার মানসিক বিকারের কথা সে এখন অনেকটাই ভুলে গেছে। খালি একবার বিদ্যুচ্চমকের মতো মনে পড়েছিল কিছু দারুণ বিভ্রান্তিকর কথা। যখন সে খেয়ে বেরোচ্ছে, তখন উল্টো দিক থেকে মাস্টারমশাই ঢুকছিলেন, তাঁর পেছনে মিতুল। ডান ভুরুর ওপর আর বাঁ গালের নীচের দিকে চিবুক ঘেঁষে কাটা দাগ। কেন? কেন মিতুলের এরকম দাগ হল মুখে! সে হঠাৎ দেখল দারুণ জমকালো সাজগোজ করা দীপালি একরকম দৌড়ে একদিক থেকে আর এক দিকে চলে গেল। মিতুলকে খুব বিষণ্ণ দেখাচ্ছে। সে সোহমকে দেখতে পায়নি। কিন্তু মাস্টারমশাই পেয়েছিলেন। তিনি মিতুলকে একরকম আড়াল করে নিয়েই ভেতরে ঢুকে গেলেন। তার বাবাও যেন শশব্যস্ত হয়ে তাকে বরের ঘরের দিকে নিয়ে গেলেন। কারো সঙ্গেই প্রায় দেখা হল না, কথা হল না। তার বাবা তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গাড়িতে ঠেলে তুললেন। দীপালি…রামেশ্বর ঠাকুরজী…মিতুল…কাটা দাগ…সে আবছা আবছা মনে করতে পারছে। একটা তীব্র ঘৃণা…রাগ… কার ওপর সে জানে না। সে মিতুলের ঘরে ঢুকে গিয়েছিল। কিছু জিজ্ঞেস করেছিল। তাতে মিতুল দারুণ ক্ষেপে যায়, তাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে মুখের ওপর ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিতে যায়। সোহম তার কাঁধের চাড় দিয়ে দরজা খুলে ফেলে, টেবিলের ওপর একটা কি যেন পড়েছিল সে সেইটা নিয়ে মিতুলকে আক্রমণ করে। ইস্‌স্‌স্‌ সোহম অন্ধকারে দুহাতে মুখ ঢাকল। তার স্পষ্ট মনে পড়ছে সে অপুকে কিছু বলেছিল, তার হয়ে ওকালতি করতে বলেছিল মিতুলের কাছে। তার কি সত্যিই দরকার আছে! মিতুল অসম্ভব সুন্দর। কিন্তু একেবারে হৃদয়হীন, কোনও ডেপ্‌থ্‌ নেই। সে কী জিজ্ঞেস করেছিল? দিলীপ সিন্‌হার সঙ্গে তার সত্যিই ঘনিষ্ঠতা আছে কি না জানতে চেয়েছিল খুব সম্ভব, হয়ত একটু উত্তেজিত হয়েই জিজ্ঞেস করেছিল। কিন্তু তাইতেই মিতুল একটা পনের ষোল বছরের মেয়ে তাকে কি ভাবে অপমান করল ইতর, জানোয়ার, বাস্টার্ড। অথচ কে যে সত্যি বাস্টার্ড তা তো সোহম ভালো করেই জানে!

    হায় ঈশ্বর! সে কী করেছে! মিতুল কে! তার কেউ নয়। একটা লাভলি ডল, অসভ্য, বেয়াদব! কিন্তু মিতুলকে সে আঘাত করেছে। তার ক্ষতিপূরণস্বরূপ গুরুজি বা মিতুল যদি তাকে বিয়ে করতে বলে মিতুলকে? তাহলে সে কী করবে? মিতুল এমনিতে উচ্ছল স্বভাবের প্রাণবন্ত মেয়ে, ফাটা ফাটা ঘষা ঘষা খসখসে নানান রকম অদ্ভুত গলায় চমৎকার দাদরা, গজল, নজরুল গায়, পপ-সং-এ তো ফাটিয়ে দেয় কিন্তু তার ভেতরে প্রাণমন আছে কিনা সে নিশ্চিন্ত হতে পারছে না। সে এই ক বছরে মিতুলকে বহু ফুল, তাছাড়া ছোটখাটো শৌখিন উপহার দিয়েছে। সোজাসুজি না বললেও বুঝতে দিয়েছে সে তাকে ভালোবাসে। তার পরও মিতুল কি করে এরকম ব্যবহার করতে পারল?

    ঘরের মধ্যে আজকে অনেক ডবল রজনীগন্ধা। সুগন্ধে ঘর ভরে রয়েছে। রাস্তার দিকের জানলাগুলো খুলে দিল সোহম। সে শীতকালেও জানলা খুলে শোয়। জামাকাপড় বদলে, দাঁত ব্রাশ করে সে বিছানার ওপর বসে রইল। বনমালী ওষুধগুলো নিয়ে এসেছে। দুটো ছোট ছোট বড়ি। চটপট সেগুলো গিলে নিয়ে সে বনমালীকে বলল— ‘তুই শুতে যা।’ বিছানার ওপর টান-টান হয়ে শুয়ে পড়ল সোহম। তার হাত দুটো মাথার তলায়। ধবধবে বালিশের ঢাকা থেকে সুগন্ধ বেরোচ্ছে। পায়ের তলা থেকে হালকা লাল কম্বলটা সে গায়ের ওপর টেনে নিল। চোখ-জড়িয়ে আসতে লাগল আর অমনি আস্তে আস্তে ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে লাগল দরবারী কানাড়া। তার মস্তিষ্কের কোষ থেকে বাইরের পরিমণ্ডলে। কিম্বা এই ঘরের হাওয়া ধরে রেখেছিল সেই দরবারী। যা আজ রাতে তার মস্তিষ্ক সঠিক পিনটা সঠিক খুঁজে ঢুকিয়ে দেবার পর পরিস্ফুট হতে লাগল। প্রথমে সে শুনতে পাচ্ছিল বড়ে গোলাম আলি। যাঁর প্রতিটি কাজ, প্রতিটি খুঁটিনাটি সে শুনে শুনে রপ্ত করবার চেষ্টা করে। তারপর হঠাৎ সে শুনতে পায় মেয়েলি কণ্ঠের দরবারি—তার স্বাদ আলাদা। অপুর সুরবাহারের মতো গলা। ভরে যাচ্ছে ঘরের সমস্ত কোণ। সোহমের মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষ। শুনতে শুনতে সোহমের হঠাৎ মনে পড়ল অপালার মুখে কেমন শিশুর মতো দুধে-গন্ধ। অপু যখন গায় তখন সোহমের প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুরের বাঁকের সঙ্গে সঙ্গে, তালের সঙ্গে সঙ্গে বাঁক নেয়। তীব্র এক নৃত্যের আকাঙক্ষা অনুভব করে সে। অপুকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। তার নিজের শরীর মন আত্মার মধ্যে যা সঙ্গীতময় সেই অংশটুকু দিয়ে সম্পূর্ণভাবে অপুর সঙ্গে মিলিত হবার জন্য ব্যগ্রতা অনুভব করে সে। মিতুলের প্রতি তার যা মনোভাব তার থেকে কোথায় সূক্ষ্মভাবে একটা তফাত আছে এই অনুভবের। অপুর প্রতি তার অনুভূতি কী সুন্দর! মধু নক্তমুতোষসো মধুবৎ পার্থিবং রজঃ। তার দিবস রাত্রি, তার পৃথিবীর প্রতিটি ধুলিকণা যেন অপুর স্পর্শে মধুময়, মধুমাধবী হয়ে গেছে। এটাই কি আসল ভালোবাসা! অপুর বিয়ের খবর শোনার পর সে একটা ধাক্কা খেয়েছিল ঠিকই। কিন্তু দিলীপ সিনহার সঙ্গে মিতুলের ঘনিষ্ঠতার কথা শুনে, দিলীপ মিতুলকে আদর করছে এরকম একটা দৃশ্য কল্পনা করে তার মধ্যে যে একটা উন্মাদ ক্রোধ, জিঘাংসা জেগেছিল, অপু-শিবনাথ দত্তগুপ্তর হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে ঠিক সেইরকম মেজাজ তার হচ্ছে না। অপু তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল এ কথা তো মনে হচ্ছেই না। অপুর সঙ্গে তার সম্পর্ক যেখানে, সেখানে কোনও শিবনাথ দত্তগুপ্তর পৌঁছনোর প্রশ্ন নেই। সেতারী যখন ঝালা বাজায় তার বাঁ হাতের টিপে সমানে মিড় দিয়ে চলে। অথচ ডান হাতে চলে চিকারির কাজ। দ্রুত থেকে দ্রুততর। অপু তেমনি যুগপৎ বাজবে। অপুর শান্ত সমাহিত ধীর ব্যক্তিত্বের মধ্যে এই দুর্লক্ষ্য মাত্রাগুলো সে আবিষ্কার করেছে তার সূক্ষ্মতম অনুভূতি দিয়ে। কিন্তু অপুকে আদর করবার সময়ে, যা আসলে ছিল তার নিজেরই আত্মমোক্ষণ, সে মিতুলের নাম করেছে বারবার। কোনভাবে সে কলুষিত করেছে, অপমান করেছে অপুকে। কিভাবে সেই ক্ষতি সে পূরণ করতে পারে সোহম কিছুতেই ঠিক করতে পারল না। সে তো এক রকম করে ভাবছে। কিন্তু অপুর কিরকম লেগেছিল? অপু কী ভেবেছিল? তার মুখের সেই লালিমা যে গভীর অপমানের লালিমা নয় কে বলবে? অপু নিজে কোনদিন বলবে না। কোন দিন না। অপরের জন্যে সে প্রাণ দিয়ে করে। কিন্তু নিজের ব্যাপারে সে অন্যের জোর-জবরদস্তি শেষ পর্যন্ত মেনে নেয়। এগুলো কিসের লক্ষণ? এই মেনে নেওয়া, এই সরে যাওয়া, এই প্রতিবাদ না করা! অত স্পর্শাবিষ্ট কলাকার যে এই বয়সেই, নিজের বিয়ের মাত্র কদিন আগে রক্ষণশীল বাড়ির ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে যে অসুস্থ পুরুষ বন্ধুর কাছে এসে দিনের পর দিন নিজেকে উজাড় করে গান করতে পারে সে তো ব্যক্তিত্বহীন নয়! তাহলে? তাহলে কি অপু অভিমানী? এত অভিমানী যে অভিমান হয়েছে সেটা বুঝতে দিতেও তার অভিমান? এখন তার চোখের সামনে আর কিছু নেই শুধু রয়েছে অপালার সেই মহাশ্বেতারূপ। কাদম্বরীর মহাশ্বেতা ধবধবে ফর্সা। অপালা কালো। কিন্তু গুণী রসিক শিল্পী মানুষ ভাবগ্রাহী হন। সে দেখতে পাচ্ছে অপালা তার অজস্র ঢেউ খেলানো চুল আলুলায়িত করে, শুভ্র বেশে, হাতে বীণা নিয়ে এক অতীন্দ্রিয়লোকগ্রাহ্য অপরূপ গান গাইছে, তার চোখ টলটল করছে। অথচ অপালার ছিল বিবাহবেশ, চুল তার চিত্রবিচিত্র কবরীতে বদ্ধ। মুখে আলপনা। কত অলঙ্কার। হাতে উপহারের বাক্‌স।

    সোহম উঠে চালিয়ে দিল বড়ে গোলামের বাগেশ্রী। যা আবারও কোনও ঘরোয়া অনুষ্ঠান থেকে টেপ করা। গান শুনতে না পেলে তার ঘুম আসবে না এই শীতার্ত চাঁদনী রাতে। বনমালী টের পাবে। সে চুপিচুপি গিয়ে কর্তাবাবুকে অর্থাৎ বাবাকে তুলবে। এই বয়সে, একটা মানসিক ঝড় তাঁর ওপর দিয়ে চলে যাবার পর, তিনি আবারও ছোট ছেলের জন্য ঘুমোতে পারবেন না, এ হয় না। সোহম তাহলে অত্যন্ত লজ্জা পাবে, কষ্ট পাবে।

    খুব নিচু স্বরে চালিয়েছে সে টেপ। শুনতে শুনতে চোখ ঢুলে আসে। চেতনার মধ্যে কোথাও মিশে যেতে থাকে বাগেশ্রীর প্রাণ-নিংড়োনো পকড়, অপালার মুখের স্বাদ, আর চুলের গন্ধ, অপুর বরের মুখ, এবং ঘুম, কিরকম ছেঁড়া-ছেঁড়া অথচ আবিষ্ট, মধুর ঘুম। যা সে কোনকালে ঘুমোয়নি।

    ঘুমের মধ্যে অপালা এবং দরবারী কানাড়া তাকে সম্পূর্ণ অধিকার করে রাখে। কোনও স্পষ্ট রূপ, সঙ্গ বা সুর নয়, শুধু একটা ভাব। সে অপালার আপূর্যমান দরবারী কানাড়ার মধ্যে নিজের আত্মার সূক্ষ্ম অচলপ্রতিষ্ঠ সঙ্গীতাঙ্গকে প্রবিষ্ট করে দেয়। এক অদ্ভুত ছেদহীন, যতিহীন গান্ধর্বী রমণের অবর্ণনীয় উল্লাস তাকে রাতভর ঘুমভর আবিষ্ট করে রাখে।

    পরদিন খুব ভোরবেলায় তার ঘুম ভাঙল। সে চটপট করে তার প্রাতঃকৃত্য ও সাজপোশাক করে নিল, বনমালী বেচারি অঘোরে ঘুমোচ্ছিল তাকে সে ডেকে তুলল। বলল— ‘আমি একটু মর্নিংওয়াক-এ বেরোচ্ছি বনমালী বাবাকে বলে দিস।’

    বনমালী সন্ত্রস্ত হয়ে বলল— ‘সে কি খোকাবাবু, তোমার শরীর দুর্বল, একা একা, আমি সঙ্গে যাই।’

    —‘কি মুশকিল, আমি ইচ্ছে মতো ঘুরব, তুই ঘরটা গুছিয়েটুছিয়ে রাখিস। বেশ কিছু গোলাপ আর অ্যাসটার রাখিস তো ঘরে!’ শেষ কথাগুলো সে বনমালীকে নিশ্চিন্ত করার জন্য বলল।

    ‘তবে কিছু খাও। আমি নিয়ে আসি।’

    —‘কালকে প্রচুর নেমন্তন্ন খাওয়া হয়েছে। সকালটা কিছু খাবো না, ভাবিস না।’ সোহম আর দেরি করল না। তার গায়ে একটা কাশ্মীরি শাল। সে পুরো রাস্তাটা হাঁটতে হাঁটতে প্রেমচাঁদ-বড়াল স্ট্রীটের দিকে চলল। ভোরবেলায় কলকাতার দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে হাঁটতে ভালো লাগে। বিশেষ করে ওপরের দিকে দৃষ্টি রাখলে। কিভাবে আকাশ প্রকাশিত হচ্ছে, কিভাবে সূর্য নিজেকে ছড়াচ্ছে। কিন্তু আশপাশের দিকে নজর করলেই মুশকিল। গড়গড় শব্দ করে দোকানপাটের ঝাঁপ ওপরে উঠছে, ময়লা সংগ্রহ করতে করতে ময়লার গাড়ি চলেছে। ছোট বড় অনেক বয়সই। রাস্তার ধারে প্রাতঃকৃত্য করতে বসে গেছে। সুতরাং পুরো রাস্তাটা হাঁটবার সংকল্প বেশিক্ষণ রইল না। সে একটা ট্রামে উঠে পড়ল। একদম খালি। শুধু সে কনডাক্টর আর চালক। এই নির্জনতা, একলা থাকা, একলা একলা এই গতি সমস্তটাই সোহম উপভোগ করতে লাগল এত তীব্র এবং গভীরভাবে যেন সে আগে কখনও ভোরবেলা ওঠেনি। ট্রামে চড়েনি। ট্রামের ডিং ডিং ঘণ্টি শোনেনি। দেখেনি কিভাবে কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে শীতকাতুরে অঘ্রানের সূর্য ইতস্তত করতে করতে মুখ বাড়ায়।

    ভেতর থেকে এসরাজের আওয়াজ আসছে। কড়া নাড়ার শব্দে ভৈরবী বন্ধ হয়ে যায়। দরজা খুলেই একেবারে সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠেন রামেশ্বর ঠাকুর। সোহম হঠাৎ তাঁকে সেই টৌকাঠের ওপরেই প্রণাম করে উঠে দাঁড়ায়, নম্র গলায় বলে— ‘মাস্টারমশাই, ভালো আছেন? আপনাকে বড্ড ভাবিয়েছি, না!’ রামেশ্বর হঠাৎ দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গন করে ধরেন সোহমকে। দুজনে লম্বায় সমান, খালি একজন বয়স্ক, অন্যজন সদ্য যুবক।

    তিনি বললেন— ‘ভেতর এসো সোহম্‌। আজ যেটা বাজাচ্ছিলুম এসরাজে সেটা আনন্দ ভৈরবী। ভৈরবী বাজাতে বাজাতে সুরটা এসে গেল। নোটেশন করে নিয়েছি। দিবারাত্র ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলে তিনি হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে এইরকম কিছু দেন।’

    সোহম বলল— ‘আপনার কাছে আমার অনেক অপরাধ। ক্ষমা করুন।’

    মাস্টারমশাই ব্যস্ত হয়ে বললেন— ‘এই দ্যাখো, অসুস্থ অবস্থায় কি করেছো না করেছো ওসব ছেড়ে দাও। দোষ করোনি যে মাফ করবো।’

    সোহম অবাক হয়ে তাঁর দিকে তাকাল, একটু ইতস্তত করে বলল— ‘মিতুল, মিতুল কেমন আছে, মাস্টারমশাই?’

    —‘ভালো আছে, সেলাই কেটে দিয়েছে। আস্তে আস্তে দাগটা মিলোতে থাকবে। তবে পুরোপুরি মিলোবে না।’

    —‘মাস্টারমশার… আমি…আমি কীভাবে…আপনি যদি বলেন আমি এক্ষুনি মিতুলকে বিয়ে করতে রাজি আছি।’

    —‘র‍্যাশলি কিছু করো না সোহম। মিতুল তো একটা বাচ্চা মেয়ে। একেবারেই তৈরি হয়নি। তোমাকেও এখনও অনেক ওপরে উঠতে হবে। ওসব চিন্তা এখন ছাড়ো। মিতুলের কাছ থেকে আমি সব শুনেছি। ও নিজেও খুব অন্যায় করেছে। আসলে ও-ও বোধ হয় তোমার সম্পর্কে কিছু উল্টো-পাল্টা কথা শুনেছিল, এবং সেগুলো সত্যি বলে ভেবে নিয়েছিল। এসব তোমাদের বয়সে হয়ে থাকে। যাকগে ওসব কথা, তুমি ওপরে চলো। মিতুল কিন্তু নেই। সে অপালার বাসর জাগছে। বিকেলবেলা বর-কন্যা বিদায় হলে তবে আসবে।’

    মিতুল নেই শুনে সোহমের বুকের ভেতর থেকে যেন একটা ভার নেমে গেল। সে বলল— ‘এখানেই তো বেশ আছি। ওপরে কেন?’ আসলে রামেশ্বর ওপরে যাবার কথাটা বলেছিলেন একটা আবেগের মাথায়, সম্ভবত সোহমকে বোঝাতে যে তার এখানে ঠিক আগেকার মতোই অবারিত দ্বার। নয় তো তারা সাধারণত নীচের ঘরেই শেখে। খালি নিচু ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রী একগাদা এসে গেলে, রামেশ্বর তাদের একটা দুটো পাল্টা সাধতে দিয়ে, সোহম অপালা দীপালি এদের ওপরে নিয়ে যান। এদের মতো ছাত্র-ছাত্রী তাঁর আর নেই।

    একটু ইতস্তত করে সোহম বলল— ‘মাস্টারমশাই, মিতুলের চিকিৎসার খরচটা আমি…তা ছাড়া…’

    রামেশ্বর তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন— ‘তোমার বাবা দিতে চেয়েছিলেন। এমন কিছু হয়নি। আমি সামলে নিতে পেরেছি বাবা। তুমি ভেবো না… তোমাকে সোজাসুজি একটা প্রশ্ন করছি জবাব দেবে?’

    —‘বলুন।’ সোহম মুখ নিচু করেই বলল।

    —‘তুমি কি মিতুলকে ভালোবাসো? বিয়ে করার কথা তুললে তাই বলছি।’

    সোহম খুব আশ্চর্য হয়ে শুনল সে বলছে— ‘না। আমার অবিমৃশ্যকারিতার জন্যে মিতুলের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্যে আমি মিতুলকে বিয়ে করতে রাজি, এক্ষুনি। তাকে সুখী করারও প্রাণপণ চেষ্টা আমি করব।’

    মাস্টারমশাই স্নিগ্ধ গলায় বললেন— ‘সোহম, তুমি যে এতটা ভেবেছ, এতেই ক্ষতি যা হয়েছে তার পূরণ হয়ে গেছে। তোমার যা ক্ষতি হয়েছে তারও তো পূরণ করতে পারিনি বাবা। কিন্তু আর কারো হাত দিয়ে ঈশ্বর তা করিয়েছেন। মিতুলকে বিয়ে করার সংকল্প এখন থেকে তোমাকে করতে হবে না। শোনো, নাজনীন বেগম একটা স্কলারশিপ দেন প্রতি বছর, সারা ভারতের কিছু-কিছু ছেলে-মেয়ে তাঁর লখ্‌নৌ-এর বাড়িতে গিয়ে তালিম নেয়। তিনি চেয়েছিলেন অপালাকে। সুরলোকের ফাংশনে তিনি সবার অলক্ষ্যে উপস্থিত ছিলেন। সে সময়টা চন্দ্রকান্তজীর অতিথি হয়ে ছিলেন তো! যাই হোক। অপালা মার জীবনে সে সৌভাগ্য হল না। তুমি যদি চাও তো ওঁকে বলে আমি অপুর জায়গায় তোমার যাওয়ার ব্যবস্থা করি। তোমার গানও ওঁর খুব ভালো লেগেছে। বলো, রাজি আছো তো? তবে বুঝতেই পারছো উনি প্রধানত ঠুংরিরই তালিম দেবেন। বেনারসের চীজ।’

    সোহম বলল— ‘আমি যাবো মাস্টারমশাই। কলকাতা আমার একটুও ভালো লাগছে না। কিন্তু সেখানকার আবহাওয়া কি রকম—এটা আমার জানা দরকার। বাবা বোধ হয় খুব আপত্তি করবেন।’

    —‘সে ক্ষেত্রে যেও না। কিন্তু নাজনীনের ওখানে শুধু গান বাজনা ছাড়া আর কিছু হয় না। তিনি নিজেও ষাটের ওপরে গেছেন আমি তো বলি তিনি এখন সাধিকা। প্রত্যেক স্টুডেন্টের আলাদা ঘর। আলাদা যন্ত্র। হিন্দু হলে হিন্দু বামুনের রান্না। উনি ছাত্র-ছাত্রীদের লেভ্‌ল বুঝে, তার আসল প্রতিভা কোনদিকে বুঝে তালিম দেন। এদিক থেকে অসম্ভব ক্ষমতা ধরেন। বিশাল বিশাল বাগান, চত্বর আছে ওঁর প্রাসাদে, ইচ্ছেমতো ঘুরবে, ফিরবে। আর সবচেয়ে বড় কথা ভারতের সব বড় বড় ওস্তাদদের গান-বাজনা-নাচ দেখতে শুনতে পাবে। নাজনীনের এমন ইনফ্লুয়েন্স যে ইচ্ছে করলে উনি তোমার ক্ষমতার ধরন বুঝে অন্য কারো কাছেও ট্রান্সফার করে দিতে পারেন। কিছুদিনের জন্য কিছু চীজ শিখিয়ে নিতে পারেন।’

    সোহম বলল— ‘আগে বাবাকে জিজ্ঞেস করি।’

    আগে সে বাবার এতে বাধ্য ছেলে ছিল না। কিন্তু তার সাম্প্রতিক অসুস্থতার পর সে বাবার খুব কাছাকাছি এসে পড়েছে। বাবার ভেতরকার ব্যগ্র ভালোবাসার স্বাদ পেয়েছে। তার অসুখের আগে তাদের বাড়িটা ছিল খুব সুন্দরভাবে পরিচালিত একটি হোটেলের মতো। সবার ওপরে ম্যানেজার তার বাবা। কিন্তু কারুর সঙ্গে কারুর তেমন যোগাযোগ ছিল না। ভালোবাসার অভাব বা উদাসীনতা এর কারণ নয়। এর কারণ তথাকথিত আভিজাত্য কিছুটা, আর কিছুটা প্রাত্যাহিকতার নির্বেদ। কিন্তু তার অস্বাভাবিক অসুখে আভিজাত্যের সেই আপাত-উদাসীনতার নির্মোটা খানখান হয়ে ভেঙে গেছে। বউদিরা, বিশেষত মেজবউদি দুপুরে তাকে কাছে বসিয়ে খাওয়ায়। রাত্তিরে সকলে একসঙ্গে টেবিলে বসে। সবচেয়ে পরিবর্তন হয়েছে বাবার। তাঁর অফিস-ঘর নীচেই। আজকাল যে কোনও ছুতোয় তিনি হঠাৎ হঠাৎ ওপরে উঠে আসেন। ‘খোকন! খোকন!’

    —‘কি বাবা? সে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।

    —‘না মানে। বনমালীকে একটু দরকার ছিল। তুমি কি করছিলে?’

    —‘পড়ছিলুম বাবা।’

    —‘পড়ছিলে? আরে ঠিক আছে বনমালীকে আমি খুঁজে নিচ্ছি। তোমাকে ব্যস্ত হতে হবে না…।’

    সোহম বুঝতে পারে বনমালীকে বাবার মোটেই দরকার নেই। তিনি ছল করে সোহমের মুখটা দেখে গেলেন। ছোট ছেলের প্রকৃতিস্থ মুখ, যা তিনি হারাতে বসেছিলেন। তার হৃদয়ের ভেতরটা বাবার জন্য দ্রবীভূত হয়ে যায়।

    দুদিন পর বাবার কাছে কথাটা পাড়ল সে। রামেশ্বরের নাম করল না। স্কলারশিপটার কথা যেন সে অন্য কোনও উৎস থেকে শুনেছে এমনি একটা ভাব করল। বাবার মুখটা ভারী হয়ে গেল। বললেন— ‘তোমার এবার এম. এ. ফাইন্যাল ইয়ার!’

    —‘বাবা, আমি পরীক্ষাটা ঠিক সময় মতো দিয়ে যাবো। ওটা তো একটা হোস্টেলের মতো। প্রত্যেকের নিজস্ব ঘর-টর আছে।’

    —‘কিন্তু কে বেগম। স্ত্রীলোক গায়িকা, সে খোকন আমি…’

    —‘বাবা ওঁর ষাট বছর বয়স হয়ে গেছে। মাস্টার মশায়ের চেয়েও বড়। সাধিকা গোছের গায়িকা। মধ্যপ্রদেশের কোন এস্টেটের মহারানী। খুব ভালো লোক।’

    —‘চেঞ্জ তোমার পক্ষে ভালো। ডাক্তারও সে কথা বলছেন। কিন্তু একলা তোমাকে ওই গান-বাজনার ওয়ার্ল্ডে চলে যেতে দিতে আমার মন চাইছে না খোকন।’

    —‘বাবা, তোমার কথামতো আমি এম. এ করবো কথা দিচ্ছি। কিন্তু গান ছাড়া আমার সত্যি কিছু হবে না বিশ্বাস করো। আমি শুধু গান করবো, গান শিখব। একেবারে ডিভোটেড হয়ে। তোমার কোনও ভয় নেই।’

    প্রতাপবাবু বললেন —‘ঠিক আছে। আমাকে একটু ডাক্তারের পরামর্শ নিতে দাও।’

    অপালা যে সন্ধেবেলায় শাঁখে দীর্ঘ, দীর্ঘতর, দীর্ঘতম ফুঁ পেড়ে, পাড়া প্রতিবেশীর বিস্ময় উদ্রেক করে মাথায় আধ ঘোমটা দিয়ে শাশুড়ি আর পিসশাশুড়ির সঙ্গে সেদিনের বিকেলবেলার জলখাবার চল্লিশটা মটরশুঁটির কচুরি তৈরি করছিল, সেইদিন দুন এক্সপ্রেসে সোহম লখনৌ রওনা হয়ে গেল।

    পিসিমা বললেন—‘বউমা দুরকমের পুর হবে। একটা ঝুরো ঝুরো। আরেকটা মাখো মাখো, থসথসে। ঝুরো পুরটায় জিরে ভাজার গুঁড়ো দিও। তোমার শ্বশুর ওইরকম ভালোবাসেন।’

    সোহম তার তানপুরার বাক্‌টাকে সিটের তলায় রেখে স্বস্তি পাচ্ছিল না। সামনের ভদ্রলোক আলাপ করবার চেষ্টায় বললেন—‘কী আছে ওতে? সেতার?’

    ফার্স্টক্লাস কুপে। শুধু দুজন যাত্রী। সোহম বলল—না, তানপুরা।’

    —‘আপনি গাইয়ে নাকি? কী নাম বলুন তো? কনফারেন্সে যাচ্ছেন, না রেডিও প্রোগ্রাম?’

    —‘একটু আধটু গাই। নাম বললে চিনবেন না। লখনৌ যাচ্ছি। কাজে।’

    পিসিমা বললেন—‘বাকি পুরটা শুধু আদামৌরির হবে। ওটা বাকি সবার। ময়দাতে একটু লেবুর রস দাও মা। মচমচে হবে। শিখে নাও। শিখতে তো হবে সবই। গেরস্থ ঘরের বউ যখন। ময়ান ছাড়াও একটু পাতি লেবুর রস দিতে হয়।’

    ভদ্রলোক সুটকেসের গায়ে লেখা নামটা পড়ে বললেন— ‘সোহম চক্রবর্তী। সোহম চক্রবর্তী! কেমন চেনা-চেনা মনে হচ্ছে! কিছু মনে করবেন না, আপনি আমার চেয়ে অনেক ছোট। আমি যাচ্ছি দেরাদুন। কর্মস্থল। নিজের দেশের লোক, ভাষা, গান সব ছেড়েই থাকতে হয়। একটু বেশি কথা বলি!’

    সোহম বলল—‘তাতে কী হয়েছে? আপনি কথা বলুন না।’

    —‘গান যখন করেন তখন যাত্রাপথে শুনতে পাবো নিশ্চয়ই!’

    —‘সোহম জানলার কাচটা টেনে নামিয়ে দিল। বড্ড হাওয়া আসছে। তার গলায় একটা সুদৃশ্য কাশ্মীরি কমফর্টার। সে হঠাৎ বিনা ভূমিকায় গেয়ে উঠল—‘যে যাতনা যতনে/আমার মনে মনে মন জানে/পাছে লোকে হাসে শুনে/আমি লাজে প্রকাশ করি নে।’

    শাশুড়ি বললেন—‘এইবার ঘিয়ে ধোঁয়া উঠেছে, ছাড়ো কচুরিগুলো এক এক করে ছাড়ো। অভ্যেস আছে তো! পাশ থেকে। হ্যাঁ এই তো বেশ ফুলছে!’

    ভদ্রলোক বললেন— ‘আমার নাম বিশ্বরূপ দে। মিলিটারি অ্যাকাউন্টস-এ আছি। আপাতত দেরাদুন। গান শুনতে চেয়ে এমন গান শুনতে পাবো, আমি স্বপ্নেও আশা করিনি। ক্ল্যাসিক্যাল—বেস আছে গলার। আমারও এককালে শখ-টখ ছিল।’

    ‘সোহমের এখন মুড এসে গেছে। সে হাতে তাল দিয়েই গাইতে লাগল ‘কানহা রে, নন্দ নন্দন/পরম নিরঞ্জন হে দুখভঞ্জন।’ রাগ কেদারা, তিনতাল। ভদ্রলোক মুগ্ধ হয়ে শুনতে লাগলেন।

    খেতে খেতে শ্বশুরমশাই বললেন—‘কচুরিগুলো ফুলেছে বটে, কিন্তু তেমন কামড় হয় নি।’

    শাশুড়ি বললেন— ‘ছেলেমানুষ, নতুন শিখছে। ওই যে পাতে দিতে পেরেছে, ওই ঢের। তোমাদের বাড়ি-বগ্গে অভ্যেস কি হল জানো? বসতে পেলে শুতে চাও।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু
    Next Article উজান-যাত্রা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }