Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গান্ধর্বী – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প330 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গান্ধর্বী – ১৫

    ১৫

    মিতশ্রীর বসবার ঘর। ঘরটি খুব বড় নয়। আসলে একটা বেশ বড় হলঘরকে ত্রিপুরী বাঁশের কারুকার্য করা জাফরি দিয়ে দুটো অসমান ভাগ করা হয়েছে। বড় অংশটিতে মিতশ্রীর নিজস্ব ভাষায় ‘সঙ্গীত-নাট্য-অ্যাকাডেমি’ আর দ্বিতীয় অংশটাকে সে বলে ‘ধান্দাবাজদের ওয়েটিংরুম।’ এই অপেক্ষাকৃত ছোট অংশটা অদ্ভুত সুন্দরভাবে সাজানো। বাঁশের জাফরির ভেতর দিয়ে চিত্রবিচিত্র আলোর আলিম্পন এসে ঘরটাকে অলৌকিক করে যায় যখন ওপাশে আলো জ্বলে, অথচ এপাশে জ্বলে না। আর এই অপরূপ পার্টিশনটার সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে এ অংশের যাবতীয় আসবাব। বেতের এ ধরনের কারুকার্য-করা আসবাব এখনও কলকাতায় পাওয়া যায় না। এ সব এসেছে বম্বে থেকে। বসবার গদি পেছনের বর্ণময় কুশন সবই অত্যন্ত বিশিষ্ট রুচিমাফিক বাছা হয়েছে। মোটা গাছের গুঁড়ির তলার চার ফুট মতো অংশ বার্নিশ করে নিয়ে তার ওপর বসানো আছে এক অসাধারণ নৃত্যশীল নটরাজ। এও কাঠের। শুধু কাঠের নয়, প্রাকৃতিক। একবার বম্বে রোড দিয়ে দীর্ঘ এক সফরের সময় সে গাছের ডালের বিন্যাসে এই নটরাজের আভাস আবিষ্কার করে। তক্ষুনি সেই অংশটিকে কাটিয়ে, এদিক-ওদিক একটু অদলবদল করে নিয়ে ভালো করে পালিশ করে হয়ে গেল তার নটরাজ। তিনি বসলেন তাঁর যোগ্য আসনে, কাঠের গুঁড়ির ওপর। দরজা দিয়ে ঢুকে প্রথম আসনটিতে, অথাৎ দরজার দিকে পেছন করে বসলে সামনে যে দেয়ালটি চোখে পড়ে, তাতে খুব হালকা বিস্কিটরঙের ক্যানভাসে শুদ্ধু বাদামী রেখার এক একটি বলিষ্ঠ আঁচড়ে আঁকা ঘোড়া ঘোড়া ঘোড়া। এদের চোখ নেই অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আলাদা করে ভালো বোঝা যায় না, আছে শুধু সেই তীব্ৰসুন্দর গতিবেগ যা একমাত্র ঘোড়াদেরই থাকে। ঘোড়া মিতশ্রীর প্রিয় পশু। সে বলে ‘আমি যদি দেবী হতাম তাহলে বাহন হিসেবে বেছে নিতুম ঘোড়াকে।’

    মিতশ্রী বসেছিল দরজার মুখোমুখি। আসল সোনালি মুগার একটি মেখলা পরে। তার সামনে দুই ভদ্রলোক। একজন অত্যন্ত মোটা। ঘাড় পর্যন্ত নেই। চিবুক দু তিন থাক। রং এত লালচে ফর্সা যে সেই গ্রাম্য বাংলা ছড়ার অংশ মনে পড়ে ‘রক্ত ফেটে পড়ে।’ অন্যজন স্বাভাবিক। বড় গম্ভীর, কিন্তু ক্ষিপ্র চোখ। মোটামুটি দীর্ঘকায়। বেশ পেশীবহুল, অতিরিক্ত মেদ বর্জিত চেহারা। দ্বিতীয় জন বললেন—‘মিতশ্রী দেবী, আপনি একটু কনসিডার করুন। বুঝতেই তো পারছেন এটা একটা এক্সপেরিমেন্ট।’

    মিতশ্রী বাঁ পায়ের ওপরে ডান পা তুলে বসেছিল, হেলান দিয়ে। তার দীর্ঘ পা বরাবর মেখলার একটি ভাঁজ। চিবুকের তলায় তিনটি লম্বা লম্বা আঙুল। সে পা বদলে, সামান্য ঝুঁকে বলল—‘কী বললেন? এক্সপেরিমেন্ট? জানেন কোন আসরে মিতশ্রী ঠাকুর আসছে শুনলেই সেখানে টিকিট ব্ল্যাক হয়! রিভলভার পকেটে বডিগার্ড ভাড়া করতে হয় আমাকে? শুধু মত্ত জনতার কাছ থেকে আমাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখবার জন্যে? জানেন আমার প্লে-ব্যাক করা ছবির গানের ক্যাসেট ছবি রিলিজ করার আগেই বিক্রি হয়ে যায়!’

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    অনলাইন বুকস্টোর
    Library
    বইয়ের
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা কৌতুক বই
    গ্রন্থাগার

    —‘সবই জানি। কিন্তু আমরা তো আপনাকে এই মিউজিক্যালটার হিরোইনের রোলে নামাতে চাইছি। হিন্দি ছবির দর্শক যা দেখতে অভ্যস্ত তার থেকে অন্য রকম কিছু করছি। সেই হিসেবে এটা এক্সপেরিমেন্ট বই কি!’

    মিতশ্রী একটু হাসল। তার বাঁ কপালে সামান্য একটু চেরা দাগ। ডান গালের চিবুকের কাছে একটা গোল বিন্দুর মতো আছে। তা সত্ত্বেও লোকে তার নামকরণ করেছে অমিতশ্রী। এরা বলছে কী?

    ভদ্রলোক তাড়াতাড়ি বললেন—‘অ্যাকচুয়ালি, আপনি আর্টিস্ট, গায়িকা, অভিনেত্রী তো নন। আপনার গান, আপনার অ্যাপিয়ারেন্স এসবের অ্যাক্সেপটিবিলিটির কথা আমরা একেবারেই ভাবছি না।’

    মিতশ্রী বলল—‘কিন্তু আমি তো অ্যাট অল অভিনয় করতে চাই বলে আপনাদের পায়ে ধরিনি। আপনারা আমাকে প্লে-ব্যাক করতে বলছেন। ও.কে.। তাতে আমি রাজি। অভিনয় আমি কোনদিন করিনি। কিরকম করব, গ্যারান্টি দিতেও পারছি না। তা ছাড়া আমাকে বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে পারফর্ম করতে হয়। কতটা সময়ই বা আমি আপনাদের শুটিং-এ দিতে পারবো!’

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    Library
    বইয়ের
    ডিকশনারি
    বাংলা অডিওবুক
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    ই-বই পড়ুন
    গল্প, কবিতা
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড

    এবার মোটা ভদ্রলোকটি বলে উঠলেন, ‘বিলিভ মি মিস ঠক্কর উই হ্যাভ সীন মেনি অফ ইয়োর ফোটোগ্রাফস। বাট আফটার মিটিং ইউ দ্যাট ইজ, সীইং ইয়োর ফুল পার্সন্যালিটি, উই আর কনভিনস্‌ড দ্যাট ইউ আর দা হিরোইন উই আর লুকিং ফর। হমাদের ওরিজিন্যাল প্ল্যানটা হপনাকে দেখে চেঞ্জ করে গেলো।

    অন্যজন বললেন—‘অল দ্য সেম। ইট রিমেনস অ্যান এক্সপেরিমেন্ট।’

    মিতশ্রী বলল—‘দেখুন, মিঃ সিন্‌হা আমার শেষ কথা আমি বলেই দিয়েছি। আমার ফিলমে নামার কোনও বাসনা নেই। আয়্যাম নট অ্যাট অল আফটার এ ফিল্ম কেরিয়ার। আমার টার্মস-এ যদি রাজি থাকেন হয়ত করব। পোপোজ্যালটা ইনটারেস্টিং। আমি ফিল্ম ওয়ার্ল্ডেও কিছু কিছু ঘোরাঘুরি করি, দরদাম সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা আছে। আচ্ছা এবার আপনারা আসুন।’

    সিন্‌হা কিছু বলবার আগেই অপরজন অর্থাৎ কেজরিওয়াল বলে উঠলেন—‘অলরাইট, অলরাইট মিস ঠক্কর, নেক্সট ডে উই আর কামিং ব্যাক উইথ দা কন্ট্র্যাক্ট ফর্ম। কাইন্ডলি ডেটগুলো আমাদের তাড়াতাড়ি দেবেন। কুইক শেষ করতে চাই।’

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বইয়ের
    PDF
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা বই
    গ্রন্থাগার
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স

    মিতশ্রী বলল—‘ঠক্কর নয়, ঠাকুর। শুনুন শীতকালে নভেম্বর টু মার্চ কোনও ডেট দিতে পারবো না। ওইটা হচ্ছে মাইকেল-সীজন। সামার, মনসুন-এর মধ্যে যা কিছু শেষ করতে হবে।’

    —‘ফর লোকেশন শুটিং উইন্টার-এ কুছু কুছু ডেট লাগতে পারে, প্লিজ ডোন্ট সে নো।’

    লম্বা দুগ্লাস সফ্‌ট ড্রিঙ্ক খেয়েছেন ভদ্রলোকদ্বয়। হয়ত আশা করেছিলেন হার্ড কিছু মিলবে এত নাম করা গায়িকার বাড়ি। মিতশ্রী সে ক্ষেত্রেও তাঁদের নিরাশ করেছে। শেষ কথাগুলো বলে সে তার পূর্ণ দৈর্ঘ্য মেলে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।

    —‘আচ্ছা, নমস্কার।’ ভদ্রলোক দুজন, একজন নাম-করা প্রোডিউসার, এবং অন্য জন উঠতি ডিরেক্টর, এঁদের সে দরজা অবধি এগিয়ে দেবার চেষ্টাও করল না। পার্টিশনের অপর দিকে তার ‘সঙ্গীত-নাটক-অ্যাকাডেমি’র দিকে চলে গেল।

    দরজা পেরিয়ে বাইরে ড্রাইভ-ওয়ে। তাঁদের বিশাল বম্বে-ফিল্ম-মার্কা গাড়িটার দিকে যেতে যেতে কেজরিওয়াল তাঁর গলকম্বলের ভেতর থেকে যথাসম্ভব খাদে বললেন—‘হোয়াট এ পার্সন্যালিটি? শী ওয়াকস লাইক এ লেপার্ড।’

    আরও দেখুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    গল্প, কবিতা
    বই পড়ুন
    লেখকের বই
    ডিকশনারি
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    Books
    অনলাইন বুকস্টোর

    সিনহা চিন্তিত স্বরে বললেন—‘আই সি, ইউ হ্যাভ ফলন ফর হার। বাট শী ইজ গোয়িং টু বী টাফ, রিয়্যাল টাফ।’

    ‘সে কথা যদি বোলেন—‘অল আর্টিস্টস আর ফুল অফ হুইমস্‌ অ্যান্ড ভ্যানিটি। তারা তো হমাদের ক্রিয়েটিভ কুছু দিচ্ছে, সো উই মাস্ট গিভ দেম অ্যালাউয়্যান্সেস।’

    গাড়িটা কখন নিঃশব্দে ছেড়ে গেল মিতশ্রী লক্ষও করল না। ভদ্রলোকদের এক কথায় বিদায় করে সে তার গানের গালচের ওপর বসল। জমাট রক্তের মতো লাল, তাতে হরিণ রঙের নকশা, মাঝে মাঝে গাঢ় সবুজের ছোঁয়া আছে। মেখলা গুটিয়ে নিয়ে তানপুরা সামনে নিয়ে সে বসেছে বটে। কিন্তু এখন তার গাইবার মেজাজ নেই। যদিও এটাই তার সান্ধ্য রেওয়াজের সময়। আসলে মিতুল খুব উত্তেজিত হয়ে আছে। যদিও সে কেজরিওয়াল এবং গৌরাঙ্গ সিনহাকে মুখে দেখিয়েছে ওদের প্রস্তাবে তার এমন কিছু উৎসাহ নেই। কিন্তু আসলে এই প্রস্তাবটাই এখন তাকে গোধূলি লগ্নের চঞ্চলগামিনী মারোয়ার মতো পুরোপুরি অধিকার করে আছে। মিতুল এখন ঠুমরি, দাদরা, গজল হিন্দি-উর্দু হোক বাংলা হোক গায়, সে গানের টুকরা, পকড়, পুকার ইত্যাদির সঙ্গে নানারকম মনোহরণ মুদ্রা করে, শরীর মোচড়ায়, মুখের হাসিতে চোখের চাহনিতে গানের নিবেদন ফুটিয়ে তোলবার একটা স্বাভাবিক প্রবণতা আছে তার। পায়ে অনেক সময়ে এক হারা নুপূর থাকে, পায়ের কাজও সে তবলার বোলের সঙ্গে করে থাকে। আসলে গানের চেয়েও বেশি প্রতিভা ছিল তার নাচে। অনিন্দ্য শরীর এবং মুখশ্রী তো ছিলই। কিন্তু বাবার সেই এক বুলি—‘উত্তম গানা, মধ্যম বাজনা, ঔর নিকৃষ্ট নাচনা।’

    আরও দেখুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা বই
    লাইব্রেরি
    PDF
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা সাহিত্য
    গ্রন্থাগার

    ছোট্টবেলা থেকে সে শুনে আসছে তার মা তার পাঁচ বছর বয়সের সময়ে হঠাৎ মারা গেছেন। কিন্তু সে অতি প্রখর বুদ্ধিমতী মেয়ে। মার অসুখ হল না, কিছু না। আগের দিন রাতে মা তাকে কত আদর করল। কী সুন্দর কত গয়না পরে, কালো ঢাকাই শাড়ি পরে সেজেছিল মা। বাবা সেদিন কোন সারা রাতের ফাংশানে গিয়েছিল। মিতুল বলল—‘মা তুমি এতো সেজেছো? কোথাও যাবে? মা বলেছিল—‘আজকে একটা বিশেষ দিন। সাজতে হয়।’

    —‘কি দিন মা? জন্মদিন? তোমার জন্মদিন?’

    —‘মৃত্যুদিনও তো হতে পারে?’

    —‘যাঃ!’

    মা তাকে আদর করতে করতে বলল—‘মিতুল তুই কাকে বেশি ভালোবাসিস রে?’

    মিতুল দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলেছিল—‘বাবাইকে।’

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা বই
    রেসিপি বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    ডিকশনারি
    PDF বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বইয়ের

    —‘কেন রে?’

    —‘বাবাই যে আমাকে কতো ভালোবাসে!’ এর চেয়ে বেশি যুক্তি তার মনে আসেনি।

    —‘তাহলে ধর আমি যদি মরে যাই। বাবার কাছে থাকতে পারবি তো?’ তখনই মিতুল মাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠেছিল—‘মা, না, না তুমি মরে যাবে না।’

    —‘এই তো বললি বাবাকে বেশি ভালোবাসিস!’ֹ

    পাঁচ বছরের মেয়ে কী করে বোঝায়, বাবাকে বেশি ভালোবাসা মানে মাকে কম ভালোবাসা না। মাতৃহীন জীবনের জন্য প্রস্তুতি থাকা না। মায়ের বুকের মধ্যে আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়েছিল মিতুল। পরদিন উঠেছিল অনেক বেলায়। এখন বড় হয়ে বোঝে মা তাকে দুধের সঙ্গে কিছু একটা ঘুমের ওষুধ কি কিছু খাইয়েছিল। সকালে উঠে দেখল পিসিমা তার বিছানার পাশে বসে রয়েছেন। বিষণ্ণ মুখ। এই পিসিমাও তার বাবার নিজের বোন নয়; গুরুভগিনী গোছের। বাবা দালানে পায়চারি করছে। মুখ বিষণ্ণ, শোকাহত, গম্ভীর। মিতুল প্রথমে শুনল তার মা কোথাও বেড়াতে গেছে, তারপর শুনল তার মা হঠাৎ মারা গেছে এবং তাকে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুটো গল্পতেই সে মিথ্যের গন্ধ পায়। সে ব্যাকুল হয়ে কাঁদতে থাকে। বাবা, বাবাই তখন তাকে বুকে তুলে নেয়। বাবা গল্প বলতো—মা কত সুখের দেশে গেছে। তাদের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছে। সেই সব গল্প এমন সুন্দর করে, বর্ণনা করে শোনাত, যে মিতুল আস্তে আস্তে মায়ের সেই মৃত্যুদিনের সাজ ভুলে গেল। তারপর একদিন যখন সে সুখে, চাপল্যে, বাবার আদরে, জীবনটাকে একটা চমৎকার চড়ুইভাতির মতো উপভোগ করছে, জীবনটা যখন তার কাছে একটা ‘সব পেয়েছির দেশ’, তখন সোহম চক্রবর্তী যে নাকি তাকে ভালবাসত, সে উন্মাদের মতো চোখ লাল করে এসে তাকে নানারকম কুৎসিত সন্দেহের কথা বলেছিল। সেগুলোর অন্যতম ছিল তার মায়ের এমদাদ খানের সঙ্গে পালিয়ে যাবার ইঙ্গিত। এক ঝলকে তার মনে পড়ে যায় সেই রাত্তির, সেই কালো ঢাকাই শাড়ি, গা-ভর্তি গয়না। মায়ের সেই অদ্ভুত সংলাপ। এবং সর্বোপরি সেই ওষুধ-মেশানো দুধ।

    আরও দেখুন
    গল্প, কবিতা
    ডিজিটাল বই
    লাইব্রেরি
    বাইশে শ্রাবণ
    Library
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    ডিকশনারি
    বই
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    অনলাইন বুকস্টোর

    এই মায়ের জন্য তার বিশেষ কোনও অনুভূতি নেই। কিন্তু কৌতূহল আছে। সে চুপিচুপি এদিক ওদিক থেকে যা খবর সংগ্রহ করেছে তার প্রথম অংশটা খুব আশাজনক, তার মায়ের পক্ষে, ইমদাদ গাইত, বাজাত। তার সঙ্গে নাকি তার মা ভদ্রমহিলা দুর্দান্ত নাচত। ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকায় তাদের জুটি প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়। তারপরকার খবর আর কেউ বলতে পারে না। ইমদাদ খান তো তার পঞ্চমতম পত্নীকে নিয়ে এখন বম্বেতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তার মা কোথায় গেল! বয়সও তো কম হল না। বাবার চেয়ে হয়তো সামান্যই ছোট হবে। হয়তো মারাই গেছে। তার ধারণা মা নটী ছিল বলেই বাবা তাকে নাচের দিকে যেতে প্রাণপণে বাধা দিয়েছে।

    যাইহোক তাতে তার কোনও ক্ষতি হয়নি। সে এখন নিজেকে নিয়ে, নিজের বর্তমান নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত। জীবন মৃত্যু পাপ পুণ্য কোনটা সম্পর্কেই তার চিন্তা করবার বিশেষ সময় নেই। সে খুব ভালো করে সার কথাটি বুঝেছে, সে একজন পারফর্মার। মানুষ হিসেবে আলাদা করে তার মূল্য কারো কাছে নেই। যতদিন সে সুন্দর, সে মোহন, যতদিন সে মানুষকে তাতাতে পারবে, ততদিনই তার দাম। তার চুম্বকী শক্তিটুকু দিয়েই তার বিচার হবে আমরণ। এই দেহসৌষ্ঠব যখন ঝরে যাবে, কণ্ঠলাবণ্য অন্তর্হিত হবে, এই ব্যাখ্যাতীত আকর্ষিকা শক্তি ফুরিয়ে যাবে, তখন আর তাকে কেউ পুঁছবে না। ইতিমধ্যে সে এই ‘শেষের সে ভয়ংকর দিন’-কে অবচেতনের একদম তলায় ডুবিয়ে রেখে জীবনকে দু’ হাতে লুঠ করে যাচ্ছে। এই জন্যই কেজরিওয়াল আর গৌরাঙ্গ সিনহার ফিলম্‌টাতে তার আকর্ষণ জেগেছে। সে কেমন, তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ে, তার নিজের সাঙ্গীতিক ব্যক্তিত্ব নিয়ে কেমন সেটা পূর্ণভাবে ধরে রাখবার সুযোগ রয়েছে ছবিটাতে।

    বাবা ছাড়া আর একটা মানুষকেও সে ভালোবাসে না। শ্রদ্ধার যোগ্য বলে মনে করে না। আজ পর্যন্ত সে যতজন ওস্তাদের কাছে গেছে তাঁরা প্রত্যেকে ঠারে ঠোরে কেউ সোজাসুজি তার কাছে দেহকামনা জানিয়েছেন। কোনও জলসায় মাইক্রোফোন হাতে সে যখন প্রচণ্ড দাপটে গায়, বেশির ভাগ সময়েই প্রাচ্য পাশ্চাত্য পাঞ্চ করা সুর, তখন সামনের বিশাল শ্ৰোতৃমণ্ডলীকে তার মনে হয় প্রকাণ্ড একটা বিষাক্ত সাপ। এখন সুরে আচ্ছন্ন তাই তালে তালে দুলছে। সুর সরে গেলেই ছোবল মারবে। এই মুণ্ডহীন জনতাকে সে মনে মনে ঘৃণা করে। তার দেহ-সৌন্দর্যের ওপরেও আছে তার এক ঘৃণামিশ্রিত ভালোবাসা। সোহম তার কাছে চিরকাল অস্পৃশ্য কারণ সে তার এই অতুলনীয় মুখশ্রীকে আঘাত করে ক্ষুণ্ণ করেছে। মিতশ্রী জানে না তার এই ছোট ছোট দুটো কাটা দাগ তার মুখে এমন এক ব্যক্তিত্ব দিয়েছে, যা তার দুর্মর সম্মোহনের অঙ্গ। সে নিজেকে নানাভাবে যত্ন করে সাজায়, শুধু নিজেকে নয়, নিজের পরিবেশকে, যা তার চালচিত্রের কাজ করে। তার বসবার ঘরে আছে বহুরকম আলো। নানান পয়েন্ট থেকে সে সুইচগুলো জ্বালে, নেভায়। কখনও বাঁ দিক থেকে আলো পড়ে তার বাঁ গাল নাকের খানিকটা অংশ, উজ্জ্বল একটি চোখ আলোকিত থাকে, ডানদিক থাকে অন্ধকারে। রহস্যময় সে অন্ধকার। শৈল্পিক আবেদনে পূর্ণ। কখনও একটা বিশেষ জায়গা থেকে তার মাথার একটি কৌণিক বিন্দুতে আলো পড়ে কাঁধে গলায় হাতের ওপর মুখের নানান জায়গায় ছিটকে যায়। এভাবেই তার কাছে আবেদক অতিথিরা তাকে দেখে, একটি অপূর্ব ছবি, কিংবা শিল্পসম্মত ফোটোগ্রাফ, কিংবা ভাস্কর্যের মতো।

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    ডিকশনারি
    বাংলা অডিওবুক
    বুক শেল্ফ
    PDF
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    অনলাইন বুকস্টোর
    Library

    বড় বড় কনফারেন্সে মিতুল তার অঙ্গভঙ্গির জন্য খানিকটা অমর্যাদা পায়। যদিও লঘু উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে তার অধিকার অবিসংবাদিত। তেমন খানদানী মার্গসঙ্গীতের আসরে তার ডাক পড়ে না। তার বাবা এ জন্য একটু ক্ষুণ্ণ। কিন্তু মিতুলের ভারী বয়েই গেল। বড় বড় জলসা মিতশ্রী ঠাকুর ছাড়া হয়ই না। নানান ক্লাবের শীতকালীন জলসাতেও সে যায়। তার মতো একাদিক্রমে দাদরা, গজল, চৈতী, পপ-সংগীত, নজরুল গাইবে কে? ইদানীং মিতুলের প্লে ব্যাক করা কয়েকটি ছবি হিট করার পর বম্বে থেকে তার ডাক আসছে। ওইসব খিচুড়ি গান গাইতে তার খুব একটা আপত্তিও নেই। কিন্তু বম্বের নাম-ডাক-অলা প্লে-ব্যাক সিঙ্গারদের থেকে এক পয়সাও সে কম নেবে না। এই শর্তে তাকে কেউ গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছে না। মিতুলেরও গরজ নেই। সে গাইতে ভালোবাসে। নাচও তার স্বভাবজ। নিজেকে নানাভাবে দেখতে সে ভালোবাসে। কিন্তু কোনক্রমেই নিজের অমর্যাদা করে নয়। নিজের যাবতীয় শখ মিটিয়ে সে তার বাড়ি বাগান গাড়ি করেছে। জীবনের একমাত্র প্রিয়জন বাবাকে বৃদ্ধ বয়সে সুখে রাখতে পেরেছে। ছোটবেলা থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস না পেয়ে তার উচ্চাকাঙক্ষা সীমিত। অন্তত উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে তাকে দৌড়তে হয়নি। যা পেয়েছে এতটাও সে আশা করেনি। এর থেকে বেশি নিয়ে সে কী করবে? তাকে সেক্রেটারি রাখতে হবে, ম্যানেজার রাখতে হবে। এত ব্যস্ত জীবন যাপন করতে হবে যে নিজের ইচ্ছেমতো কিছু করতে পারবে না। যা চায় তা-ই তো সে পায়, আর তার কিসের গরজ? খালি নিজের একটা প্রবৃত্তিকে মিতুল কিছুতেই দমন করতে পারে না। কোনও কোনও পুরুষ মানুষ কোনও কোনও মুহূর্তে হঠাৎ হঠাৎ তার মধ্যে এক লেলিহান আগুনের শিখা জ্বালিয়ে দেয়। তখন তাকে তার চাই-ই। যখন পায় না, কিছুতেই পায় না, তখন নিজের শোবার ঘরে বিশাল বিশাল আয়নার সামনে মিতুল নিজেকে কুটি কুটি করে ছিঁড়ে তছনছ করে ফেলে।

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    Books
    কৌতুক সংগ্রহ
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    অনলাইনে বই
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই

    আজকের প্রস্তাবটা নতুন ধরনের বলেই তার কৌতূহল। একটা সঙ্গীত-ভিত্তিক ছবি যাতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয়ও করবে সে আবার গাইবেও সে। টাকার অঙ্কটাকে অনেক উঁচুতে তুলে রেখেছে মিতুল। সে সস্তায় লভ্য নয়। বেশির ভাগ মানুষই যত পায়, তত চায়। মিতুল সেরকম না। খুবই আশ্চর্য কিন্তু সে একেবারেই সে রকম নয়। তার মনে আছে সে একটা ভ্ৰষ্টা মায়ের ফেলে যাওয়া পালক পিতার কন্যা। তার মনে আছে তার গলা আসলে ছিল কাকের মতো কর্কশ, এমনকি একসময়ে বাজখাঁই গলার পুরুষের মতো মোটা। সেই গলা তার বাবা সাধিয়ে সাধিয়ে, তাঁর নিজস্ব নানারকম জড়িবুটি করে এখন এক জোয়ারিদার, সমৃদ্ধ, সাধারণের থেকে একেবারে অন্যরকম কণ্ঠস্বর বার করেছেন। সে এ-ও জানে তার এতো মানসম্মান, অর্থ, সম্পদ কাজে-কাজেই তার বাবারই জন্য। সে সম্ভবত তার মায়ের মতো দেখতে। যিনি নর্তকী ছিলেন বলেই বাবা কিছুতেই তার স্বাভাবিক নাচের ক্ষমতাকে প্রশ্রয় দিলেন না। দেননি ভালোই করেছেন। তার শরীরে মায়ের চিহ্ন কোনগুলো সে যদি জানতে পারত, তা হলে সে সেগুলো মুছে ফেলত, মুছে ফেলবার জন্য প্লাস্টিক সার্জনের কাছে যেত। কিন্তু তার বাড়িতে তার মায়ের একটি ছবিও নেই। অনেক খুঁজেছে সে। ট্র্যাঙ্ক-বাক্স হাঁটকেছে। পুরনো বিদেশি পত্রিকা হাঁটকেছে কিন্তু পায়নি, কোনও বর্ণনাও শোনেনি। বাবার সঙ্গে মিল নেই দেখে লোকে স্বভাবতই বলে সে তার মায়ের মতো দেখতে। সে সেটাই সত্যি বলে ধরে নিয়েছে। মার কথাগুলো সব মনে আছে, তার শেষদিনের সাজ-সজ্জা মনে আছে, শুধু ঘন চুলের মাঝখানে মুখের জায়গাটা শূন্য, একেবারে শূন্য, অথচ পাঁচ বছরে স্মৃতি তো বেশ ভালোই গজিয়ে যায়। মায়ের অনেক চুল ছিল সেটা মিতুলের মনে আছে, তাই সে নিজের চুল ছোট করে কেটে ফেলেছে। হেয়ার স্টাইল পাল্টে পাল্টে সে তার মুখের আদল বারে বারে পাল্টাতে থাকে। যত রকমের আধুনিক সাজ-সজ্জা, গয়নাগাঁটি পরে নিজেকে সে সমস্ত ঐতিহ্যের থেকে আলাদা করে ফেলে তার ব্যক্তিগত ইতিহাসের প্রতি তীব্র ঘৃণায়।

    আরও দেখুন
    ডিকশনারি
    Books
    ই-বই পড়ুন
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    PDF
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ

    তার এখন যা টাকাকড়ি হয়েছে, বাড়ি-গাড়ি-বৈভব হয়েছে তা দিয়ে তার সব শখ মিটে যায়। আর কী চাই। পুরুষ মানুষ হলে মদ-মেয়েমানুষে উড়িয়ে দিত। যত পয়সা তত ফুর্তি। কিন্তু মিতুল মদ স্পর্শ করে না। এমনিতেই তার অনেকরকম শারীরিক, মানসিক মত্ততা আছে। কৃত্রিম মাদকতার দরকার হয় না। আর তার পছন্দসই পুরুষকে পাবার জন্য তাকে পয়সা খরচ করতে হয় না। যে তার ভেতরে সেই অপ্রমেয় বিদ্যুৎ জাগিয়ে দিতে পারে একমাত্র তাকেই সে গ্রহণ করে। অন্য সব আসঙ্গ-পিপাসুদের তার সুন্দর মুখের একটা দুর্বোধ্য হাসি নিয়ে ফিরে যেতে হয়। তার মা অনেক পুরুষ বিয়ে করেছে। মিতুল বিয়েই করবে না। তাই বলে প্রকৃতি তার শরীরে যে অপরিমিত আনন্দের ভাণ্ডার ভরে দিয়েছে, তাকে সে অস্বীকার করবে? এ হতে পারে না। টাকা পয়সা নামযশ—এসবের লোভ দেখিয়ে তাকে কেউ কাবু করতে পারবে না। কিন্তু তার বারবার মনে হচ্ছে আজকের প্রস্তাবটা গ্রহণ না করলে সে একটা বড় কিছু হারাবে। সে নিজে তার পূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিয়ে, তার চলন-বলন, নাচ, গান সমস্ত নিয়ে সেলুলয়েডে চিরদিন বেঁচে থাকবে। এটা এক নম্বর। দ্বিতীয় হচ্ছে যে প্রোডিউসার এবং ডিরেক্টরটি তার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন তার মধ্যে ডিরেক্টর অর্থাৎ গৌরাঙ্গ সিনহার সঙ্গে তার আগেই এক জলসায় দেখা হয়েছে, যেখানে তিনি প্রস্তাবটা প্রথম তাকে দ্যান। এই গৌরাঙ্গ সিন্‌হা হঠাৎ তার মধ্যে সেই অগ্নি সঞ্চার করেছেন যা সে কিছুতেই নিয়ন্ত্রিত করতে পারে না। কিন্তু মিতুল এসব কথা ভদ্রলোককে জানতে দেয়নি। একটি কটাক্ষ, একটি উত্তেজক হাসিও না। সে শুধু তার বসবার ঘরের আলোগুলোকে পছন্দমতো জ্বালিয়েছে। একটি মেখলা পরেছে, লম্বা একটি সোনার মফ-চেন ঝুলিয়ে দিয়েছে গলায়। কানে বীরবৌলি। লম্বা লম্বা আঙুলের নখগুলো লালচে গেরুয়া রঙে রঞ্জিত করেছে। হাতের সোনার চুড়ি এতো সরু যে মাঝে মাঝে তা শুধু ঝলকায়। আঙুলে কোও মহার্ঘ রত্ন নয়। একটা মস্ত বড় গোল্ড স্টোনের আংটি।

    জি সিনহা এবং কেজরিওয়াল তাঁদের বম্বে-ব্র্যান্ড গাড়িতে যেতে যেতে মিতশ্রীকে নিয়েই আলোচনা করছিলেন। কেজরিওয়াল সিটে হেলান দিয়ে বললেন, ‘উই মাস্ট হ্যাভ হার অ্যাট এনি কস্ট। ইট উইল ব্রেক রেকর্ডস। উই ওন্ট হ্যাভ টু টীচ হার এনিথিং। শী ইজ লাইক এ প্রিজ্‌ম, ফ্যাসিনেটিং ফ্রম এভরি অ্যাঙ্গল।’ সিনহা বললেন—‘ইয়া। শী নো’জ এ টু জেড অফ শোম্যানশিপ। ইউ আর রাইট। ওয়েল ইটস ইয়োর মানি, দা ডিসশন টু ইজ ইয়োর্স।’

    মিতুল অন্যমনস্কভাবে তানপুরার তারগুলিতে লঘুভাবে আঙুল চালাচ্ছিল। সুরের পরিমণ্ডল তৈরি হয়ে যাচ্ছিল ঘরময় কিন্তু তার সঙ্গে তার কণ্ঠ সংযোগ হচ্ছিল না। হঠাৎ সে শুনতে পেল রামেশ্বর ডাকছেন—‘মিতুল! মিতুল!’ সে তানপুরাটাকে কোলের কাছ থেকে সরিয়ে উঠে দাঁড়াল, সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে দেখল বাবা সিঁড়ি দিয়ে কেমন উদ্বিগ্ন হয়ে নেমে আসছেন।

    —‘ওরা কে এসেছিল? মিতুল? ওরা কে? দেখলুম একটা হুড খোলা বিরাট গাড়ি!’ রামেশ্বরের গলায় ভীষণ উৎকণ্ঠা। মিতুল তার আঙুলের আংটিটা ঘোরাতে ঘোরাতে বলল—‘ওরা বম্বের লোক। আমাকে ফিলমে নামতে বলছে।’

    —‘তুই রাজি হলি নাকি? নামবি ফিলমে?’

    ‘মিতুল বলল—‘এর আগে যে ফিলমের অফার আমার আসেনি, তা তো নয়! আমি কি নিয়েছি সেগুলো বাবা?’

    —‘না, তা নিসনি। এ লোকগুলো আরও পয়সাঅলা।’

    —‘তোমার ধারণা পয়সা বেশি দিলেই আমি সব করতে পারি! বাবাই, তোমার এ ধারণা কেন হল, আমায় বলবে?’

    মিতুল এখন সিঁড়ি অবধি চলে এসেছে। সিঁড়ির রেলিং-এর পেতলের মুণ্ডিটার ওপর তার হাত। তার বাবা সিঁড়ির শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে আছেন। ধপধপে ধুতি আর হাফ পাঞ্জাবি পরা।

    রামেশ্বর ইতস্তত করে বললেন—‘না, তা নয়।’

    —‘তোমার ভয়টা কিসের? আমি তোমায় ছেড়ে চলে যাবো? কারো সঙ্গে? যাবার হলে অনেক আগেই যেতাম। কথাটা কি জানো বাবাই, তোমাকে ছাড়া আর সব পুরুষ মানুষকে আমি ঘেন্না করি। —ঘেন্না! ঘেন্না করি।’

    রামেশ্বর কিরকম কাঁপছিলেন ভেতরের একটা আবেগে, কান্না চাপবার চেষ্টায়। এই বয়সে চট করেই আবেগ মানুষকে অধিকার করে নেয়।

    মিতুল বলল—‘বাবাই তবে একটা কথা। এরা আমাকে সাধারণ ফিলমের জন্য ডাকছে না। এরা একজন গায়িকার জীবন নিয়েই গল্পটা তৈরি করছে বাবাই। এই গায়িকার রোলটাই ওরা আমাকে দিতে চাইছে। ন্যাচার‍্যালি প্লে-ব্যাকও করব। যদি ওরা ঠিকঠাক মূল্য দেয় তো অফারটা আমি নেবো, টাকার জন্যে নয়। বাবাই সামহাউ আই ফীল স্টিম্যুলেটেড, ক্রিয়েটিভলি।’

    রামেশ্বর বললেন—‘মিতুল, লোকগুলো ভালো নয়। আমি বুঝতে পারি।’

    —‘ডোন্ট ওয়ারি বাবাই। ভালো নয়, খুব খারাপ এরকম অনেক লোকের সঙ্গেই আমি মোকাবিলা করেছি। করতে হয়। ইনক্লুডিং ইয়োর সোহম চক্রবর্তী।’

    রামেশ্বর হঠাৎ একেবারে চুপ হয়ে গেলেন। মিতুল প্রায় তাঁর হাত ধরে তাঁকে ওপরে নিয়ে গেল, যদিও তিনি ততটা বৃদ্ধ বা অক্ষম হননি। কিন্তু তিনি এখন ভেতরে ভেতরে কী ভীষণ বিচলিত হয়ে পড়েছেন মিতুল স্পষ্ট বুঝতে পারছে। এই একটা জায়গায় সে তার বাবাকে ইচ্ছে করে আঘাত করে। সম্পূর্ণ ইচ্ছে করে। তার প্রতি ওই অমানুষিক ব্যবহারের পরও বাবা সোহমকে পছন্দ তো করেনই, তাকে তার সঙ্গীত জীবনে চূড়ান্ত সাহায্য করেছেন, সম্ভবত তাকে ভীষণ ভালোও বাসেন। এটা সে কিছুতেই সহ্য করতে পারে না। সোহমের এখন প্রচণ্ড নাম-ডাক। খেয়াল থেকে সে এখন খানিকটা সরে গেছে। কিন্তু ঠুংরিতে তার মতো ওস্তাদ কমই আছে ভারতে। আর গজলে সে প্রায় একচ্ছত্র নায়ক এখন। বড় বড় খানদানী কনফারেন্সে সে বিশেষ করে ঠুমরীর জন্যেই ডাক পায়। কোনও কোনও গজলের মাইফেল বসে শুদ্ধু তাকে নিয়েই। আবার কিছু কিছু কনফারেন্স তাকে একেবারেই ডাকে না। যেহেতু সে আগে খেয়াল গেয়ে পরে ঠুম্‌রী-দাদরা ইত্যাদির দিকে যায় না। তবে সোহমের বেশির ভাগ প্রোগ্রামই এখনও পর্যন্ত কলকাতার বাইরে। দূরদর্শনের মাধ্যমে কিছু কিছু শোনা এবং দেখা গেছে। মুখোমুখি হওয়ার আজ পর্যন্ত সুযোগ হয়নি। সুযোগ না হলেই ভালো। সোহম এখন খুব সম্ভব লন্ডনে। খুব নাকি জমিয়েছে।

    বাবাকে নিয়ে দোতলায় ওঠবার পর মিতুল হঠাৎ দৃঢ়সঙ্কল্প হল। বলল —’সোহম আমাকে সেদিন কী বলেছিল জানো?’

    রামেশ্বর হাত নেড়ে উড়িয়ে দেবার একটা ভঙ্গি করলেন। ভাঙা ভাঙা স্বরে বললেন—‘সে তখন উন্মাদ মিতুল, মাথার ঠিক ছিল না।’

    —‘তাই বলে সে তোমাকে লম্পট বলবে? মাকে যা খুশি বলুক। যদিও বলবার কোনও অধিকার তার ছিল না। কিন্তু তুমি তার গুরু। তুমি দেবচরিত্র মানুষ! বাবা আমি আমার জীবনে অনেক গুরু, অনেক ওস্তাদ দেখেছি। আই নো দেম ইনসাইড আউট। তোমাকে অফ অল পার্সন্‌স্‌ সে এ কথা কি করে বলে? আর আমার ঘরে যখন এসেছিল তখন একটু উত্তেজিত ছিল ঠিকই, কিন্তু তখনও ও যাকে বলে উন্মাদ তা নয়। ছুরিটা যখন তুলে নিল, তখন না হয় অনেক ওকালতি করে শয়তানের বদলে ওকে উন্মাদ বলে চালাতে চেষ্টা করতে পারো।’

    রামেশ্বর প্রথম দিকের ‘লম্পট’ শব্দটা শোনবার পর আর কিছু শুনতে পাননি। ভোঁ ভোঁ করছে সব ইন্দ্রিয়গুলো। লম্পট! লম্পট! লম্পট! সোহম তাহলে তাঁর পূর্বাপর সব ইতিহাসই জানে। কখনও তাঁর কাছে প্রকাশ করেনি তো! মিতুল জানে না। মিতুল যদি জানতে পারে! মিতুল ছাড়া কেউ নেই তাঁর। তিনি তার কাছে মিথ্যাচার করেননি কোনদিন। শুধু সত্য গোপন করে গেছেন। তাঁর তো আর কেউ নেই! মিতুলের শ্রদ্ধা তিনি কি করে হারাবেন? তিনি সামান্য একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—‘মিতুল, মা, সোহম হয়ত ঠিকই বলেছিল। তবে মানুষ তো বদলায়!’

    মিতুল দেখল বাবার চোখে জল চিকচিক করছে। সে বলল—‘অ্যায়াম সরি বাবা। কিন্তু তোমার জানা দরকার কেন আমি সোহমের ওপর বীতশ্রদ্ধ। তা ছাড়া আমরা সবাই এখন গ্রোন-আপ, বাবাই। তিরিশ-পার হওয়া মেয়ের কাছ থেকে বাবা এসব শুনতেই পারে! লুকোচুরি করে কী লাভ!’

    লুকোচুরি! সত্যিই তো তিনি আজীবন মিতুলের সঙ্গে লুকোচুরি করে এসেছেন। নিজেকে বুঝিয়েছেন মিতুলেরই ভালোর জন্যে। কিন্তু তাঁর নিজের ভালোর জন্যেও কি নয়! মিতুলের যে সাফল্য, ঐশ্বর্য তিনি ভোগ করছেন এ তো ভোগ করবার কথা ছিল কাশীর সেই অখ্যাত গলির অখ্যাত পণ্ডিত কেদারনাথজীর। তিনি তো অনধিকারী। সবচেয়ে দুঃখের কথা তার মায়ের ভ্রষ্টতার কথা সে জেনে গেছে। কিন্তু তিনি নিজেও যে একই পাপে পাপী তা জানে না।

    হঠাৎ তিনি নিজেকে বলতে শুনলেন—‘মিতুল, আমি সত্যিই অপরাধী। তোর আসল বাবার কাছ থেকে তোর মায়ের সঙ্গে আমি তোকেও কেড়ে এনেছিলাম। শিষ্যের কাছ থেকে এ অপমান আমার পাওনা বাবা’, বলতে বলতে তিনি বারান্দার ইজিচেয়ারটায় বসে পড়লেন। তাঁর চোখে জল নেই, কিন্তু বুক হু হু করে জ্বলছে। তাঁর মুখ ঝুলে পড়েছে!

    মিতুল বাবাকে জড়িয়ে ধরে আস্তে বলল—‘জানি। কেঁদো না।’

    রামেশ্বর মিতুলের মুখের দিকে চাইতে পারছেন না, শুধু অবাক হয়ে বললেন —‘জানিস?’

    —‘আমি তোমার যত্ন করে লেখা ডায়েরিটা অনেক অনেকবার পড়েছি বাবাই।’ মিতুল বাবার কোলে মাথা রাখল। তারপর আস্তে আস্তে বলল—‘তুমিই আমার সত্যি বাবা। কে সেই পণ্ডিত যার ভীমরতি হয়েছিল বুড়ো বয়সে যুবতী বাইজি বিয়ে করবার আমি জানতে চাই না। তুমি জীবনে আর কখনও বলবে না তুমি আমার বাবা নও।’

    রামেশ্বর ফিকে হেসে বললেন—‘বাবার ডায়েরি পড়তে তোর একটুও বাধল না! মিতুল! তুই তো বড্ড দুষ্টু!’

    —‘এবং পাকা। ডায়েরিটা আমি বোধহয় আঠার-উনিশ বছর বয়সে প্রথম পড়ি।’

    —‘বলিস কি? এতদিন ধরে…মিতুল তখন…তখনও কি তোর কোনও…’

    —‘ইট ওয়জ এ জোল্ট। ডেফিনিটলি। বাবা যেদিন আমি জানলাম অন্য একটা লোক আমার বাবা সেদিন জানলার পাশে চুপ করে বসেছিলুম। দেখলুম তুমি দুটো ডাব নিয়ে বাড়ি ঢুকছো, তারপর কিছুক্ষণ পর তুমি ডাবে বরফের কুচি আর গোলাপ জল-টল দিয়ে কী একটা শরবত করতে, সেইটে এক গ্লাস নিয়ে ঘরে ঢুকলে, বললে ‘মিতুল, এটা খেয়ে নে তো! বড্ড গরম পড়েছে।’ বাবাই আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেল তুমি কিরকম রাতের পর রাত আমায় পিঠে ফেলে পায়চারি করতে করতে গান করতে, একদিন দু ঘণ্টা পরপর গল্প বলবার পরও যখন আমার আরও গল্পের আবদার থামল না, তুমি করুণ চোখে চেয়ে বললে—আর তো গল্প মনে পড়ছে না মিতুল, তখন আমি রেগে-মেগে তোমার প্রিয় এসরাজটা আছড়ে ভেঙে ফেলেছিলুম। তুমি ভাঙা এসরাজের টুকরোগুলো, ছেঁড়া তারগুলো সযত্নে কুড়িয়ে তুলছো এখনও আমি চোখ বুজলেই দেখতে পাই। সেই ভাঙা এসরাজ জোড়া যায় না। কিন্তু তুমি জুড়ে ফেলেছো সারা জীবন ধরে। তোমার কণ্ঠ ক্লান্ত করা পয়সা দিয়ে আমার কনভেন্টের ফীজ হত, পোশাক হত, খেলনা হতো, যার অনেক কিছু হয়তো না হলেও চলে যেত। বাবাই, নাউ আয়্যাম আ উওম্যান, আই ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড ইউ, আই ক্যান অলসো আন্ডারস্ট্যান্ড মাই মাদার। বেনারস ছেড়ে চলে আসবার জন্য মাকে আমি দোষ দিই না, দোষ দিই, তোমাকে ফেলে আমাকে ফেলে চলে যাবার জন্যে। বাবা তুমিও তো মানুষ, একটা অন্যায় হয়ত করে ফেলেছিলে কিন্তু সারা জীবন তার জন্য পৃথিবীর কাছে, আমার কাছে মাথা হেঁট করে আছো। বেনামে তুমি সেই কেদারনাথজীকে কত টাকা পাঠিয়েছো, তার হিসেবও আমি তোমার ডায়েরিতে দেখেছি। বাবাই আই ডোন্ট সি আ সিনার ইন ইউ।’

    রামেশ্বর কথা বলতে পারছেন না। সুরসরস্বতী তাঁকে শাস্তি দিয়েছেন, আকণ্ঠ শাস্তি। কিন্তু তিনি ক্ষমাও করতে জানেন। তাঁর শাস্তি কোথা দিয়ে আসবে যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনি অকল্পনীয় তাঁর ক্ষমার পথ!

    মিতুল অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,—‘বাবা, ডোন্ট মাইন্ড, তোমাকে আমি আর একটা কথা বলব। ঠিক বলব না। প্রশ্ন করব। উত্তর দেবে? সঠিক?’ রামেশ্বর ভয়ে ভয়ে মিতুলের দিকে তাকালেন শুধু। মিতুল বলল—‘তোমার মনে হয় না শিল্পীরা অন্য মানুষের থেকে একটু অন্যরকম!’

    —‘সে তাদের সৃজনী ক্ষমতায় তো বটেই’ রামেশ্বর বললেন, ‘নইলে তারাও ঠিক আর পাঁচটা মানুষের মতো। মা, বাবা, বধূ, ভগ্নী তফাত হবে কেন?’

    —‘না বাবা, যারা সব সময়ে শিল্পের মধ্যে ডুবে থাকে তোমার মতো, আমার মতো, তাদের চাহিদা, তাদের আবেগ একটু অন্যরকম। গানের চর্চা এইভাবে করতে করতে একটা শিল্পী একটা সূক্ষ্ম যন্ত্রের মতো হয়ে যায়। যদি কোনও কিছুর স্পর্শে, কোনও মানুষের সঙ্গে তার শরীর মনের সেই সূক্ষ্ম তারে ঝংকার ওঠে, সে গেয়ে উঠবে না? ঝংকৃত হবে না! বাবাই, অন্য নর্ম্যাল মানুষের ক্ষেত্রেও এটা হয়, তবে কম। কিন্তু শিল্পীর ক্ষেত্রে এটা অবশ্যম্ভাবী। তোমার ক্ষেত্রেও তা হয়েছিল। আমার ক্ষেত্রেও তা হবে। এটা তোমাকে এবার মেনে নিতে হবে বাবাই।’

    রামেশ্বরের ভিতরে আবার কাঁপুনি শুরু হল। ভয়ের কাঁপুনি। মিতুলের ক্ষমার মধ্যে কি তাহলে শর্ত আছে?

    মিতুল বলল—‘কি হল বাবাই, কথা বলছ না যে!’

    রামেশ্বর বললেন—‘তুই যে “নর্ম্যাল” কথাটা ব্যবহার করলি মিতুল! ওটার ওপর তোর যদি শ্রদ্ধা থাকে তাহলে শিল্পীদের আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে নর্ম্যাল হবার।’

    মিতুল এখন উঠে আধো-অন্ধকার-বারান্দাটায় আস্তে আস্তে পায়চারি করছে। সে বলল—‘ফ্রয়েড কিন্তু বলেন শিল্পী মাত্রেই খানিকটা অ্যবনর্ম্যাল। নর্ম্যাল হতে হলে তাকে তার শিল্প হারাতে হয়। অ্যাবনর্ম্যাল মানে পাগল-ছাগল নয়। অ্যাবনর্ম্যাল, মানে গতানুগতিক, একেবারে সেন্ট-পার্সেন্ট—যুক্তি বুদ্ধি খতিয়ে-দেখা মানুষ সে নয়। সেন্ট পার্সেন্ট সেন মানে একটা টেরিফিক বোর, বাবা, আমার মনে হয়, সে রকম মানুষ আমি এ যাবৎ সত্যি দেখিনি। এনিওয়ে, তোমার কী বলবার আছে বলো।’

    রামেশ্বর বললেন—‘মিতুল, তুই যদি উচ্ছৃঙ্খল হয়ে যাস, তো সমস্ত জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি যা পেয়েছি তা তো মিথ্যে হয়ে যাবে! তোকে যেমন সঙ্গীতের উত্তরাধিকার দিয়েছি, তেমনি জীবনের অভিজ্ঞতার সারবস্তুটুকুও যদি না দিয়ে যেতে পারি, তাহলে আমি যেখান থেকে আরম্ভ করেছিলুম, সেইখান থেকে আরম্ভ করে, আমি যেখানে শেষ করছি, সেই ভয়ংকরে তুই শেষ করবি মা। তোকে যদি আমার কাঁধে চড়িয়ে দিতে না পারি, আমার তো তাহলে কিছুই করা হল না। জীবনে করার মতো কাজ তো আর কিছুই করতে পারিনি।’

    মিতুল বলল—‘বাবাই তুমি উচ্ছঙ্খলতা বলতে যা মীন করছে, সেভাবে উচ্ছৃঙ্খল হওয়ার কথা আমি ভাবছি না। আসলে বাবাই তোমরা অন্য যুগের, আমরা তোমাদের মতো ইলোপ-টিলোপ করে চিরদিন পাপের ভয়ে জবুথবু হয়ে বসে থাকি না। যা ক্ষণিকের, যা পথের তাকে পথেই ফেলে আসতে পারি। আমরা জানি কাঞ্চনজঙ্ঘা খুব মহিমময়, তার সেই মহিমা এক দুর্লভ ক্ষণে উন্মোচিত হয়, আবার পরক্ষণেই মেঘে ঢেকে যায়। এই কাঞ্চনজঙ্ঘাকে আমরা তার দুর্লভতাসমেত উপভোগ করি। কাঞ্চনজঙ্ঘাকে, সকালের সূর্যের জাদুমাখা কাঞ্চনজঙ্ঘাকে যে বাড়িতে উঠিয়ে আনা যায় না, সব সময়ে তাকে দেখার আশাও যে দুরাশা এটা আমরা জানি। হোয়াট আই মীন ইজ বাবাই আমি যদি বাইশ শ্রুতিতে কিম্বা ধরো বাইশ ইনটু একশ ইকোয়ালস বাইশ শ’ শ্রুতিতে বাজতে পারি, তুমি তোমার ওল্ড ভ্যালুজ দিয়ে আমার নৈতিক বিচার করবে না। কখনও মনে করবে না তোমার মেয়ে তোমার কৃতকর্মের জন্য তোমার ওপর শোধ তুলছে। তোমাদের জেনারেশনের পক্ষে সেটা ভাবাই স্বাভাবিক। আই ওয়ান্ট টু বি আ ফ্রী বার্ড, অ্যাবসল্যুটলি ফ্রী, অ্যাজ আ বার্ড, আ মেল বার্ড, অ্যান্ড আই ক্যান নেভার ডেজার্ট য়ু। এ সব কথা তোমাকে কখনও বলতাম না। কিন্তু আজকাল তোমার মুখে খুব উদ্বেগ দেখি, দুশ্চিন্তায় কালো হয়ে থাকো। একেক সময়ে অনর্থক আমার ওপর রাগ করো। তাই বললাম। আমার মাথার ভেতরে, বুকের ভেতরে কোথাও একটা স্থির বিন্দু আছে বাবাই, আ স্টিল পয়েন্ট। গোলকধাঁধার মতো নানান পথ ঘুরে ঘুরে আমি সেই বিন্দুটাতে ঠিক পৌঁছে যাই।’

    রামেশ্বর সাগ্রহে বললেন—‘সেই বিন্দুটা। সেটাই আসল। মিতুল সেটা খুঁজে পেয়েছিস তাহলে। তুই তুলনা দিতে বাজনার সঙ্গে বাজার কথা বললি। বাজা অনেক লেভেলের হতে পারে মা। সে এক অদ্ভুত বাজা। ইন্দ্রিয়কে ভর করে ইন্দ্রিয়ের বাইরে চলে যাওয়া, আকাশের সঙ্গে, বিশ্বলোকের সঙ্গে মিশে যাওয়া, সেইরকম বাজা…

    মিতুল হেসে বলল—‘বাজি তো বাজব। বললাম তো বাবাই আই অ্যাম আ ফ্রী বার্ড। আমি জানি না শেষ পর্যন্ত কিসে পৌঁছবো, কোথায় পৌঁছবো, বাট আই কীপ মাইসেল্‌ফ ওপ্‌ন। লেট মি লিভ মাই লাইফ, প্লিজ।’

    বারান্দার গোল আলোর তলায় মেখলা পরা মিতুল দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখানে ওখানে চিকচিক করেছি সোনা। কানের বীরবৌলি দুলছে দুলছে। মিতুল তার অনেক দিনের বলতে চাওয়া কথাগুলো বাবাকে বলে ফেলতে পেরেছে, সে এখন তাই মগ্ন, মুক্ত, উর্বশী, কিন্তু অন্য উর্বশী। পুরুষ-বক্ষে রক্তধারা নাচাতে সে ব্যগ্র নয়। সে একদম মুক্ত, কারো নয়, অপ্সরা, জলকন্যা। সে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।

    রামেশ্বর বারান্দার ঠাণ্ডা অন্ধকারে বসে রইলেন। আজ প্রথম তিনি অনুভব করলেন মিতুল তার মায়ের মেয়ে নয়, পণ্ডিত কেদারনাথেরও মেয়ে নয়, তাঁর নিজের প্রিয়শিষ্যা ললিতে কলাবিধৌ—তা-ও নয়। সে বোধহয় সত্যি-সত্যিই তাঁদের তিনজনের কাঁধকে পর পর সিঁড়ির মতো ব্যবহার করে উঠে গেছে। দাঁড়িয়ে আছে অনেক উঁচুতে, স্বর্ণ ঈগল যেমন দাঁড়িয়ে থাকে, অনেক উঁচুতে, একা, আপন ইচ্ছায়। যে কোনও সময়ে সে তার সোনালি পাখা বিস্তার করে উড়ে যাবে, যখন উড়বে মনে হবে না সে এই পৃথিবীর, কিন্তু আবার একদিন এসে বসবে এই কাঁধের ওপর, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়। আবার উড়ে যাবে। যাক। যা মিতুল, যারে আমার আগুনের পাখি, তোর পা থেকে খুলে নিলুম ঘর-ঘরানা আর খানদানের ভারী ভারী শেকল। ওড়। উড়তে থাক।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু
    Next Article উজান-যাত্রা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }