Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গান্ধর্বী – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প330 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গান্ধর্বী – ২২

    ২২

    হল পরিপূর্ণ। তিলধারণোর স্থান নেই। চল্লিশের দশকের বিখ্যাত প্রডিজি গায়কবাদক রামেশ্বর ঠাকুরের দুই শ্রেষ্ঠ ছাত্র-ছাত্রী অপালা দত্তগুপ্ত এবং সোহম্ চক্রবর্তীর যুগলবন্দী। এরা দুজনেই আরও অনেক প্রতিভাবান গুরুর তালিম পেয়েছেন। এক এক করে সেই তালিকা পাঠ হল। আজ তাঁরা দ্বৈতভাবে পেশ করছেন প্রধানত তাঁদের প্রথম গুরু রামেশ্বরজীর তালিম।

    এই সঙ্গীতোৎসবে কলকাতার সঙ্গীতরসিকরা তো এসেছেনই। নিমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন বহু গুণী। মঞ্চের আজ বিশেষ সজ্জা। প্রধানত: এই দুই শিল্পীকে উপস্থিত করা হবে, কিন্তু অন্তত রাত আট সাড়ে আট না বাজলে তাঁদের গান আরম্ভ হয় কী করে? তাই ফাউ হিসেবে দর্শকরা দেখতে পেলেন নতুন দুই শিল্পীর উচ্চমার্গের কত্থক। এঁরা খুবই কৃতিত্বের সঙ্গে কালীয় দমন ও অহল্যা উদ্ধার দেখালেন। তারপর মঞ্চে আস্তে আস্তে এসে বসলেন যন্ত্রীরা, সারেঙ্গী, দুটি তানপুরা, দুটি হারমোনিয়াম, জোড়া তবলা। অপালা আজ চন্দন রঙের ওপর ঘন লাল পাড় কাঞ্জিভরম পরেছে। মাথায় ফুল। কপালে মেরুন টিপ। এই শাড়ি সোহমের উপহার। মাথার এই ফুলের সাজে তার প্রচণ্ড আপত্তি ছিল, এত বড় টিপও সে পরতে চায়নি। কিন্তু সোহম অনড়। সে পরেছে তসরের পাঞ্জাবি, তাতে বাদামী কাজ। পায়জামা মানানসই রঙের। তার ডান হাতের আঙুলে গোটা দুই পাথর চমকাচ্ছে।

    রামেশ্বরকে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশেষ আসনে। একটি নরম সোফায়। তাঁর দুই পাশে দুই শিষ্য। যদি কোনও অসুবিধে বা প্রয়োজন হয়। উদাত্ত খোলা গলায় আরম্ভ করল সোহম্‌। দরবারী। সে ফিরে গেছে বহুদিন আগে। গলায় সেই পুরুষালি বিক্রম। সুরকে যেন দু’ হাতে পাকড়ে ধরেছে। গজলিয়া সোহম নদীস্রোতের ওপর দিয়ে লহরীমালার মধ্যে দিয়ে ভেসে যায়। খেয়ালিয়া সোহম সমুদ্রের তলদেশে অবতরণ করছে। সুরের ডুবুরি। তার পরেই সোনার ঘণ্টার মতো অপালার গলা সুরের মুক্তাগুলি একেক করে তুলে আনল। আজ সবাই এসেছে। শিবনাথ নিজে, অপালার দুই মেয়ে, এমনকি তাদের ঠাকুমা পারুল দেবী এবং দিদিমা সুজাতা পর্যন্ত। খালি রণো বাদ। রণো নেই। ইদানীং রণো ভীষণ ভাবাচ্ছে। তার একটি বন্ধু অপালাকে বলে গেছে রণো নাকি একটি পাঞ্জাবী মেয়ের সঙ্গে খুব ‘উড়ছে’। মেয়েটি নাকি বিরাট ব্যবসায়ী পরিবারের। রণোর মতো ছেলেকে ওরা ‘চাকর’ রাখতে পারে। রণো মাঝে মাঝে খুব দেরিতে ফেরে, দাদু কৈফিয়ত চাইলে বিরক্ত হয়ে বলে কমপিটিটিভ পরীক্ষার জন্য তৈরি হওয়া মুখের কথা নয়। এর চেয়ে বেশি কথা জিজ্ঞাসা করবার সাহস কারো হয় না। কপালে তার প্রচণ্ড ভ্রূকুটি। অপালার আলাপের পরতে পরতে খুলে যায় গভীর আর্তি। ‘পট খো-ল’ বলে যে মিড় সে টানছে তার মধ্যে বুক ফাটা কান্না, রণো, রণো, তুই কোথায় যাচ্ছিস! যাদের সঙ্গে প্রথম যুগ থেকে তোর মেলা মেশা সেই তারাই যে তোর নামে যা-তা বলে গেল। রণো তুই এখন বন্ধুবিহীন একা। তার এই সুরের গলিতে অন্বেষণের ফাঁকে সোহম দুর্দান্ত তেজে একটা হলক তান দিল। সে কি মনে করিয়ে দিচ্ছে অপালাকে এবার লয়কারির সময় এসে গেছে! আর এখন এই টানা মিড়ের কাজ নয়! অপালা তখন বিভ্রান্তের মতো সুরগুলি নিয়ে ছোটাছুটি করতে লাগল— রণো তোর বাড়িতে এতজন শুভার্থী রয়েছে, কারুকে তুই কিছু বলতে পারিস না কেন? কাউকে কেন বিশ্বাস করতে পারিস না? শোন রণো, শোন, আমরা বুঝবো। আমি বুঝবো। আর কেউ না বোঝে আমি বুঝব। গলা ধরে গেল অপালার, তার চোখ ভরে উঠেছে। এই গলা ধরে যাওয়াও কী মধুর, ভাবল শ্রোতা! তারপরেই সোহম ধরে নিল দ্রুত বন্দিশ, গমকে গমকে ভরিয়ে দিচ্ছে সে কলামন্দিরের প্রতিটি কোণ, অপালার মধুক্ষরা কণ্ঠ— পরক্ষণেই ছুটে যায় সপাটে। কতক গুলি কূতানের চক্রে ঘুরে ঘুরে আবার দাঁডায় রেখাবে। সোহম এখন গরম হয়ে উঠছে। আবর্তনের পর আবর্তন ঘুরছে তার কণ্ঠ, বিশাল বিশাল তেহাই, সোহম যেটা করছে অপালা ঠিক সেই ভাবে আরম্ভ করে সুরগুলিকে সামান্য এদিক ওদিক করে অন্যরকম সৌন্দর্য সৃষ্টি করে যাচ্ছে। যেখানেই যাস রণো, তোকে আমি উদ্ধার করবোই। বলো বলো হে ঈশ্বর, কোন সে দায়িত্ব যা আমাকে দেওয়া হয়েছিল অথচ আমি পালন করিনি? আতিপাতি খুঁজে বেড়াচ্ছে অপালা তার ফিরৎগুলিতে কোথায় তার ভুল। কেমন করে সে ভুলের সংশোধন হবে! আমি কি ভালোবাসিনি ঠাকুর? রণোকে কি আমি ভালোবাসিনি? গানকে এভাবে ভালোবাসা কি স্বার্থপরতা? আমি বিবাহ চাইনি, স্বামী চাইনি, সন্তান চাইনি, পরিপূর্ণ ভালোবাসার স্বাদ, বাৎসল্যের স্বাদ, রতিসুখের স্বাদ আমি গানে পেয়েছি, গানে আমি পেয়েছি তোমাকে, পেয়েছি না, পাই, নতুন নতুন করে পাবো বলেই ক্ষণে ক্ষণে হারাই। সেই হারানোর বেদনা সে-ও কী মধুর! কিন্তু তুমি এই পার্থিব জগতের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ন্যূনতম জিনিসগুলি আমায় সবই দিলে, না চাইতেই দিলে, তার সঙ্গে দিলে অসংখ্য অজস্র জটিলতা, আমি আমার স্বামীকে বুঝতে পারি না, ছেলে মেয়েদের বুঝতে পারি না, বুঝি না কেন, বিশ্বনাথ অমন উদাসীন, জয়া কেন অমন নিরুত্তাপ। বুঝি না আমার প্রাণ নিংড়ে দেবার পরও কেন শশুর মশাই অত নিষ্ঠুর, শাশুড়ি অত একদেশদর্শী। বলো ঈশ্বর বলো আমার রণো কোথায় যাচ্ছে? যদি না-ই ভালোবাসি তো এতো যন্ত্রণা কেন? এবার ঠুমরি ধরেছে সোহম, নাজনীনের তালিমের ঠুমরি। ‘আজ মুরলি বজাই শুনাই রে। চলো সখি বৃন্দাবন যাই।’ তার গলা মোলায়েম হয়ে গেছে, নাজনীন স্টাইল ঠুমরি, প্রতিটি শ্রোতার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তার আবেদন। অপালাও যখন মাঝে মাঝে যোগ দিচ্ছে, সে এক একটা দুর্লভ গোধূলির আলো জ্বলা মুহূর্ত। ক্ষণমধুর। চিরকাল মাথায় রাখবার জন্য শ্রোতা আকুল। তারপর ভজন ধরল অপালা। ‘জাগিয়ে রঘুনাথ কুঁয়ার পন্‌ছি বন বোলে’, তোর জেগে ওঠার সময় হলো রণো, পাখি ডাকছে শুনতে পাচ্ছিস না! ঐ তামসী নিদ্রা ত্যাগ কর রণো। চন্দ কিরণ শীতল ভই, চাঁদের কিরণ, সে যে তোর মায়েরই ভালোবাসার কিরণ, বড় শীতল, তুই বুঝিস না? তুলসীদাস অতি আনন্দ, নিরখি কে মুখারবিন্দ। তুলসীদাস আনন্দে থাকতে পারেন তাঁর রঘুনাথ কুঁয়ার, এক আদর্শ বালক, আদর্শ পুরুষ, আদর্শ রাজা হবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। আমি যে আনন্দিত হতে পারছি না রণো। দীননাথ দেত দান ভূষণ বাহু মূলে। কি চাস রণো! ভুল জিনিস চাসনি রণো! আগুনে হাত দিসনি! জাগিয়ে রঘুনাথ কুয়ার পন্‌ছি বন বোলে।’

    অনুষ্ঠান শেষ। মনে হল সমস্ত হল সুরের স্থাপত্য হয়ে গেছে। তার থাম, তার সিলিং, মঞ্চ, বসবার আসন সব ভিন্ন ভিন্ন সুর শ্রুতি দিয়ে তৈরি। মানুষগুলিও যেন সারাক্ষণ বেজে বেজে বাদ্যযন্ত্র হয়ে গেছে। আর কোনও অনুরোধ করবার কথা শ্রোতার মনে এলো না। তার হৃদয়ের সমস্ত সুর, সমস্ত প্রার্থনা দিয়ে অপালা ভজনটি গেয়েছে। কোনও তৃষ্ণা বুঝি অপূর্ণ রাখে নি। এই গানের রেশ কানে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চায় সবাই। ‘পঞ্ছি বন্ বোলে।’

    রণো বলল— ‘সুমন, সুমি তুমি আমাকে এ ভাবে ট্যানট্যালাইজ করো না প্লীজ।’

    সুমি হেসে রণোর কাঁধের ওপর মাথা রাখল— একটা পাগল করা সুগন্ধ, মাতাল করা স্পর্শ—‘হোয়াট ডু য়ু মীন বাই ‘ট্যানটালাইজ?’ তুমি একটা থার্স্টি পার্টি, অ্যান্ড আই অ্যাম আ ম্যাজিক স্প্রিং! ইজ দ্যাট সো! তো ডিফাইন এগজ্যাক্টলি হোয়ট ইউ আর থার্স্টি ফর!’

    রণো সুমির মুখের ওপর মুখ নামাতে গেল। সুমি খিলখিল করে হাসতে হাসতে সরে গিয়ে বলল— ওহ, য়ু আর টিকলিং মি? হাউ মেনি ডেজ হ্যাভ্‌ন্‌ট্ ইউ শেভ্‌ড্?’

    রণো বলল, ‘আমি শেভ করতে আরম্ভই করি নি এখনও। খালি ট্রিম করি। সুমি ডোন্ট য়ু লাইক ইট? অনেকেই তো বলে আমায় ভালো দেখায়!

    সুমি আবার সেই কাচের চুড়ি ভাঙার হাসিতে ফেটে পড়ে—

    —কে বলেছে? সাম গার্ল ফ্রেন্ড? আই বেট দেয়ার্স নো আদার গার্ল ইন ইয়োর লাইফ বাট মি। ইউ আর সেয়িং দিস সিম্পলি টু মেক মি জেলাস।’

    রণো বলল—‘বাজে কথা ছাড়ো সুমি, তুমি শুধু একবার আমায় ইয়েস বলো, তারপর দেখো আমি কী করি?’

    —‘আমার ইয়েস’ বলাতে কী আসে যায়, আমার ড্যাড রয়েছে, আঙ্কল রয়েছে। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে তুমি কথা বলতে পারবে?’

    —‘হোয়াই নট? ইউ মে বী স্টিংকিং রিচ। কারণ তোমরা বিজনেস করো। বাট উই আর মোর কালচার্ড পিপল। আমার বাবা রেসপেকটেবল গভমেন্ট অফিসার, আমার মা এত বড় সিঙ্গার যে যে-কেউ নাম বললে চিনবে।’

    —‘আই নো, কিন্তু তুমি নিজে, তুমি কী! তোমার নিজের স্টেটাস কী?’

    —‘আরে আমি তো ডাবলু বি সি এস করছি, এম বি এ-র ডিপ্লোমা কোর্স করছি। একটা না একটা কিছু লেগে যাবেই। ইউ কান্ট এক্সপেক্ট এ ইয়ংম্যান অফ মাই এজ টু বি এ বিজনেস ম্যাগনেট! ক্যান ইউ!’

    সুমি বলল—‘আমার দাদা, দ্যাট ইজ মাই কাজিন ইজ ওয়ান। অ্যাট দি এজ অফ টোয়েন্টি ফোর আ ডিরেক্টর। গোজ অ্যারাউন্ড ইন অ্যান ইমপোর্টেড এয়ারকনডিশনড কার।’

    রণো বলল—সে তো তোমাদের বাবা, কাকা, এঁরা বিজনেসটাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন বলে। তোমার কাজিন একটা রেডিমেড কেরিয়ার পেয়েছে।’

    —‘আমার বাবা, ওই রকমই চান।’

    —‘তো তুমিও কি তাই-ই চাও? আমায় সিম্পলি বলে দাও তোমার মত কি? এতোদিন তো আমায় বুঝতে দিয়েছো আমিই তোমার চয়েস।…’

    সুমি আবার রণোর কাঁধে মাথা রাখল, হঠাৎ মুখটা তুলে তার নরম দাড়িঅলা গালে একটা সশব্দে চুমো খেলো। বলল—‘ওহ রণো, মাই রনি বয়, ইউ আর সো সুইট! দেয়ার্স এ ডিয়ার, এখানেই আমাকে নামিয়ে দাও প্লীজ। লাউডন এসে গেছে।’

    রণো এখন প্রায় কাঁপছে। ভেতরে ভেতরে কাঁদছে। কিন্তু রাগের কান্না ছাড়া অন্য কোনও রকম কান্না তো সে জীবনে কাঁদেনি! সে নিঃশব্দে তার কান্না গিলে নিয়ে বলল—‘আবার কবে দেখা হবে? কখন?’

    —‘থার্স ডে উইক, সেটাইম, সেম প্লেস’ ট্যাকসির দরজা খুলে সুমন নেমে গেল। রণো ট্যাকসিটাকে ঘুরিয়ে থিয়েটার রোডের মোড়ে ছেড়ে দিল। তারপর বাকি পথটা হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরতে লাগল। কারণ আর কোথাও যাবার নেই, কিচ্ছু করবার নেই। তার নিষ্ফল ক্রোধ, কান্না যতক্ষণ না প্রশমিত হচ্ছে তাকে এভাবে হেঁটে যেতে হবে। হয়ত পরের সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। মনের মধ্যে আর কোনও চিন্তা নেই, কথা নেই, শব্দ নেই, শুধু সুমির স্পর্শ, অদ্ভুত নরম ফুলের পাপড়ির মতো ভিজে ভিজে স্পর্শ। অদ্ভুত গন্ধ, চুলের, পোশাকের, দেহের। কি করে একটা মেয়ে এতো পেলব, এতো চিকন, এতো সুগন্ধ হতে পারে! রণো জানে না ওই ভিজে ভিজে স্পর্শ, ওই সৌরভ কোনটাই ঈশ্বরদত্ত নয়, সবই নামী দামী কোম্পানির প্রসাধনদ্রব্যের কেরামতি। সুমন কাপুর সুন্দর হতে পারে, কিন্তু তার জাদুর অনেকটাই রাসায়নিক। তার চুলের ওই গোল গোল গুচ্ছ যা অনবরতই রণোর গালে সুড়সুড়ি দিয়ে তাকে উত্তেজিত করে তোলে তাও বিউটি সেলুনের কারসাজি। রণো, আজ সুমিকে নিয়ে কলামন্দিরের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে, একবারও তার মনে হয়নি আজ এই উৎসবদীপ্ত পাবলিক হলের মধ্যে তার মা গাইছে, যে মার নাম সে নিয়েছিল সুমন কাপুরকে নিজেদের সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠতা দেখাতে। তার মা গাইছে হয়ত তার জীবনের শ্রেষ্ঠ গান, যা শুনতে কলকাতার বহু গুণী জন এসেছেন। তার বয়সের ছেলেমেয়েরাও আছে এই শ্রোতৃমণ্ডলীতে। যারা গান শোনে, ভালোবাসে। কিছু এসেছে হুজুগে। কিছু এসেছে বহু টাকা আছে তার কিছুটা অংশ এভাবে খরচ করে ফেলতে। কিন্তু বেশির ভাগই এসেছে পৃথিবী-বিখ্যাত সোহম চক্রবর্তী এবং ভারত-বিখ্যাত অপালা দত্তগুপ্তর যুগলবন্দী শুনতে। সাংস্কৃতিক জগতে এটা একটা লাখে এক ঘটনা বলে গণ্য হচ্ছে। এবং আজকের শ্রোতারা এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাবে।

    দরজা খুলে দিলো দাদু।—‘বড্ড দেরি করিস রণো!’

    —‘বাজে বকো না।’

    মনোহর ভুরু কুঁচকে বললেন—‘বাজে বকো না মানে? এখন সাড়ে দশটা বাজছে। তা জানো?’

    —‘বুড়ো আছো, বুড়োর মতো থাকো।’ বলতে বলতে রণো দু-তিন লাফে ওপরে পৌঁছে গেল। তারপর তিনতলায় নিজের নতুন ঘরে। বাড়িটা কেন আজ এত খালি খালি সে বুঝতে পারল না। সে সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে গেছে আজ সবাই তার ঠাকুমা-দিদিমা পর্যন্ত কলামন্দিরে। পেছন থেকে দাদু ডাকছেন।

    —‘খাবার ঢাকা আছে। খেয়ে যাও।’

    —‘টু হেল উইথ ইয়োর খাবার’ রণো ভয়াল মুখ করে ফিরে দাঁড়াল। সে মুখ দেখে মনোহরের মতো ব্যক্তিও ভয় পেয়ে গেলেন। তেতলার সিঁড়ির ধাপে দাঁড়িয়ে তিনি শুনতে পেলেন রণো অশ্রাব্য গালাগাল দিচ্ছে—সন অফ এ বিচ, ব্লাডি বাস্টার্ড,…মনোহর ভয়ে বিস্ময়ে প্রায় স্থাণু হয়ে ভাবতে লাগলেন এগুলো রণো কাকে বলছে, তাঁকেই নাকি? ওপরে কি একটা ছুঁড়ে ফেলার শব্দ হল। ভারী কিছু। তারপর সব চুপ। মনোহর প্রথমে নিজের ঘরে ঢুকে গেলেন, কিন্তু ভীষণ উৎকণ্ঠা হচ্ছে। কী পড়ল ওপরে? ছোট ছেলের ঘর থেকে মৃদুস্বরে কথাবার্তার আওয়াজ আসছে। বাইরে গিয়ে দাঁড়ালেন।

    —‘সাতশ টাকা স্কোয়ার ফিট টূ মাচ।’ বিশু বলছে।

    —‘আহা তোমার যেন নেই! দু’জনের কতটুকুই বা স্পেস লাগবে!’

    —‘একটা গেস্ট রুমও তো থাকবে রে বাবা!

    ‘—তা হোক, আমার ওটাই পছন্দ, প্লী-জ।’

    এই সব কথাবার্তার অর্থ মনোহর ভালো বুঝতে পারলেন না। ডাকলেন ‘বিশু’। ভেতরের কথাবার্তা দুম করে থেমে গেল।

    বিশু বেরিয়ে এলো। বিশুকে তিনি দুখানা ঘর দিয়েছেন। বউমার বাপের বাড়ি থেকে ঘর দুটি সাজিয়েও দিয়েছে। কিন্তু সেই বিয়ের দিনের পর থেকে তিনি আর কখনও ঘর দু’খানার চেহারা দেখেননি। ভারী ভারী পর্দা ঝোলে সব সময়ে। কাউকে ডাকলেই সে এসে বাইরে দাঁড়ায়। কখনও ভেতরে আসতে বলে না। দাঁড়ায় প্রায় দরজা আড়াল করে। বিশুর শ্বশুরবাড়ি থেকে যখন গাড়ি বোঝাই লোক আসে, তাঁর স্ত্রী পারুল খুব হাসিখুশি মুখ নিয়ে বলেন—‘ছোটবউমা ক’ কাপ চা হবে? চা না কফি?’ জয়া দরজার দু’পাশে হাত রেখে দাঁড়িয়ে বলে— ‘আপনি ভাববেন না মা। কিছু করতে হবে না। ও দোকানে যাবে, কিছু কিনে নিয়ে আসবে’খন।’

    —‘তা আনুক না। চা-কফিও কি কিনে আনবে নাকি?’ চাপাগলায় বলেন পারুল।

    —‘আ-চ্ছা করুন চা।’ বলতে বলতে জয়া ঘরের ভেতর থেকে একটি সুদৃশ্য কৌটো এনে একটা কাগজে মাপ করে চা ঢেলে দেয়। বলে—‘তিন মিনিটের বেশি ভেজাবেন না।’

    বিশু বেরিয়ে এসে বলল—‘কী বলছো বাবা?’

    —‘রণো কি রকম বিচ্ছিরি মেজাজ নিয়ে ফিরল। খেলো না। ওপরের ঘরে কি একটা ভারী জিনিস পড়বার শব্দ হল, একটু দেখবি?’

    বিশু বলল—‘যথেষ্ট বয়স হয়েছে, গোঁফ-দাড়ি গজিয়ে গেছে, এখন আর বাবা-বাছা করার দিন নেই। আদর দিয়ে মাথায় তুলেছ। এখন চোটপাট করলে সহ্য করো। আমাকে এর মধ্যে টানছো কেন?’

    —‘কিন্তু বিশ্রী একটা শব্দ হল, বিশু একবার যদি…’

    বিশু কাঁধটা একবার নাচাল। তারপর ওপরের সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগল। তেতলার ঘরটা ভালোই বানিয়েছে। অপালা দত্তগুপ্তকে যতটা ভালোমানুষ মনে হতো ততটা বোধ হয় নয়, নিজের ছেলের ঘরটা বেশ ভালোই সাজিয়ে দিয়েছে। ছোট ঘর, কিন্তু মেঝেতে মোজেইক, দেয়ালে প্লাস্টিক পেইন্ট, নতুন বক্সখাট, মাল্টিপারপাস ক্যাবিনেট একটা। রণো বাইরের জামাকাপড়, জুতো সবশুদ্ধু শুয়ে আছে। দরজার দিকে তার পা। জুতোর তলা দুটোই সবচেয়ে ভালো করে দেখতে পেল বিশ্বনাথ।

    কড়া স্বরে জিজ্ঞেস করল—‘রণো, কী পড়ল ঘরে? নিচ থেকে আওয়াজ পেলুম!’

    —‘দেখতেই তো পাচ্ছো!’

    —‘না পাচ্ছি না।’

    —‘জলের কুঁজো।’

    এতক্ষণে বিশ্বনাথ দেখতে পেলো ঘরময় নদী বইছে। টুকরো টুকরো হয়ে পুড়ে আছে মাটির কুঁজো, তার ওপরে ঢাকা দেওয়া কাচের গ্লাসটাশুদ্ধু টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।’

    —‘কি করে হলো?’

    —‘হয়েছে!’

    —‘এগুলো পরিষ্কার না করলে তো রাত্রে পা স্লিপ করবে। নিজেই আছাড় খাবে, পা কাটবে।’

    —‘খাই খাবো। নোবডি হ্যাজ টু বদার অ্যাবাউট মি অ্যান্ড মাই অ্যাফেয়ার্স।’ শুয়ে শুয়ে জবাব দিল রণো।

    চটির শব্দ তুলে নীচে নিমে এলো বিশ্বনাথ। মনোহর সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন—বলল—‘ও একটা বখে-যাওয়া অসভ্য ছেলে। কার সঙ্গে কিভাবে কথা বলতে হয় জানে না। ওর কাছে আমাকে আর কোনদিন পাঠাবে না।’ নিজের ঘরের দরজা শব্দ করে বন্ধ করে দিল বিশু। সে যে নিজেও বেশ ভদ্রলোক হয়ে গেছে। বাবার মুখের ওপর শব্দ করে দরজা বন্ধ করে দেওয়াটা যে তার পক্ষেও খুব সভ্যতা নয় সেটা তার মাথায় এলো না। এবার মনোহর আর সাড়াশব্দ করলেন না। খালি আরও মিনিট পঁয়তাল্লিশ পরে যখন কলামন্দির থেকে বাড়ির সবাই ফিরে এলো, তখন তাদের এতক্ষণ ধরে একটু একটু করে গড়ে ওঠা সুরেলা মেজাজ, অপার্থিব শান্তির আমেজ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।

    অপালা বলল—‘আমি একবার যাই। দেখে আসি।’

    বনি বলল—‘মা, মা, তুমি প্লিজ যেও না, দাদা তোমায় দু’চক্ষে দেখতে পারে না।’

    শিবনাথ বললেন—‘আমি যাচ্ছি।’ ওপরে গিয়ে দেখলেন দরজা বন্ধ। দরজার ফাঁক দিয়ে জল পড়ছে, —‘রণো রণো’ তিনি দরজায় টোকা মারলেন। কোনও সাড়াশব্দ এলো না। নীচে নেমে আসতে জল পড়ছে শুনে টিটু বলল—‘ও, তা হলে নিশ্চয়ই কুঁজো ভেঙেছে। তোমরা ওকে ওর মতো থাকতে দাও তো। আর এবার একটা প্ল্যাস্টিকের জাগে জল রাখবে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কুঁজো ভাঙল।’

    অপালা সহজে কাঁদে না। লোকের সামনে তো নয়ই। কিন্তু আজ কলামন্দিরের দর্শক দেখেছে গানের গভীর মূৰ্ছনায়, মিড়ে মিড়ে, তার চোখ ছলছলিয়ে উঠছে, রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে ভাবে, ভজনের সময়ে দু’চোখ দিয়ে জল ঝরে পড়েছে। তারা মনে করেছে সুর। সুরই এমন করে কাঁদাচ্ছে গায়িকাকে। এ এক অনন্যসাধারণ অভিজ্ঞতা। কলকাতার শ্রোতা বহুদিন এ গান ভুলবে না, বলবে, ‘সে এক শুনেছিলাম বটে সোহম চক্রবর্তী আর অপালা দত্তগুপ্তর যুগলবন্দী।’ ঠিক যেমন তার আগের প্রজন্ম বলে ‘বড়ে গোলাম আলি, আমীর খাঁর কথা। কিন্তু কেউ জানে না অপালার গানের প্রত্যেকটি ভাঁজে আজ শুধু নিবেদন ছিল একজনের জন্যে। রণজয়। তার নিভৃত ডাকের প্রথম সন্তান হিন্দোল। তার জন্য প্রচণ্ড মানসিক কষ্ট, মর্মবেদনা, উৎকণ্ঠা—তার প্রাণ-নিংড়োনো প্রার্থনায় এই-ই ঝরে পড়েছে সুর হয়ে, অশ্রু হয়ে। এখন নির্জন রাত্রে সে একা একা নিজের ঘরে ঢুকে যাচ্ছে, খোঁপায় গন্ধরাজের গুচ্ছ মনে হচ্ছে নির্মম ঠাট্টা। চন্দন রঙের শাড়ির ওপর ঘন লাল পাড় যেন এক অতিশয় অতিশয়োক্তি। দরবারীর পঞ্চমে স্থিত হবার বদলে এখন তার কানের পর্দায় আছড়ে পড়ছে একটা জলের কুঁজো ভাঙার আওয়াজ। আর কিছু প্রাণ বিদ্ধ করা শব্দযুথ—‘তুমি যেও না মা, দাদা তোমাকে দু’চক্ষে দেখতে পারে না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু
    Next Article উজান-যাত্রা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }