Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গান্ধর্বী – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প330 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গান্ধর্বী – ৫

    ৫

    সামনে ব্যাকেলাইটের হাতল-ওলা কফির পট। দুটো কাপে মাপমতো কফি এবং দুধ ঠিকঠাক ঢালতে ঢালতে দীপালি বলল—‘সোহম সত্যি তুমি এটা জানতে না? না ন্যাকা সাজছ?’

    —‘হোয়াট ডু ইউ মীন? ন্যাকা সাজছি মানে?’

    —‘সরি। কিন্তু আমার ধারণা বিশ্বশুদ্ধু লোক জানে।

    —‘অপালা জানে না।’

    —‘অপালার কথা ছেড়ে দাও। সে কারও কোনও ব্যক্তিগত ব্যাপারে থাকে না। একটা পুরোপুরি মানুষই না। কিরকম নন-হিউম্যান মেয়ে।’

    —‘আই অবজেক্ট দীপালি।’

    —‘আমি আসলে ঠিক তা বলতে চাইনি। ও আসলে নিজের গান নিয়ে এমন মশগুল থাকে যে অন্যসব ব্যাপার ওর নজর এড়িয়ে যায়। একেবারে ওয়ান-ট্র্যাক মাইন্ড। যাই হোক, টেক ইট ফ্রম মি। মাস্টারমশাইয়ের স্ত্রী। অথাৎ মিতুলের মা মাস্টারমশাইয়ের এক শিষ্যের সঙ্গে ইলোপ করেছিলেন। মিতুল তখন জাস্ট পাঁচ বছরের মেয়ে। এর চেয়েও ইন্টারেস্টিং গল্প আমার জানা আছে। মিতুলের মার এই ফার্স্ট ইলোপমেন্ট নয়। উনি প্রথমে ছিলেন মাস্টারমশাইয়ের গুরুজীর স্ত্রী। মিতুল তাঁরই মেয়ে। মাস্টারমশায়ের যখন ফর্ম পড়তে শুরু করেছে, তখনই উনি দ্বিতীয়বার ইলোপ করলেন এক উঠতি বাজিয়ের সঙ্গে। বেশ এলেমদার মহিলা।’

    —‘বলো কি?’ সোহম আত্মগত বলল, কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে।

    —‘মিতুল জানে?’

    দীপালি কাঁধ নাচাল। —‘কি করে জানবে বলো। ষোলো বছর বয়স তো হলই!’

    কানাঘুষোও তো শোনে! মিতুলের মায়ের ছবি কোথাও দেখেছ?’

    —‘না। তা অবশ্য দেখিনি।’

    আরও দেখুন
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বই ডাউনলোড
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    কৌতুক সংগ্রহ
    পিডিএফ
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    নতুন বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা বই

    —‘অস্বাভাবিক মনে হয় না?’

    —‘হয়নি কখনও। অনেকের থাকে মৃত স্ত্রীর ফটো দেখলে কষ্ট হয়। আমার বাবাই তো মায়ের ছবি নিজের ঘরে রাখেন না। আমার ঘরে টাঙানো আছে। দেখেছ তো?

    মাস্টারমশায়ের তো তবে খুব কষ্ট।’

    —‘দ্যাখ্‌ সোহম, কিছু মনে করিস না। গল্পের প্রথম অংশটা যদি সত্যি হয়, তাহলে উনি নিজের জালে নিজে জড়িয়েছেন। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। লোকে তো বলে ওঁর সেই রাইভ্যাল নাকি ওঁকে সিঁদুর খাইয়েছিল। তাইতেই ওঁর গলা নষ্ট হয়ে যায়।’

    —‘সিঁদুর?’

    —‘হ্যাঁ সিঁদুর। সিঁদুর বিষ। খেলে স্পেশ্যালি গলার বারোটা বেজে যায়।’

    আরও দেখুন
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    রেসিপি বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বইয়ের
    লাইব্রেরি
    বই ডাউনলোড
    অনলাইন বুকস্টোর
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন

    —‘এসব তুমি জানলে কোত্থেকে?’

    —‘আমাদের গানের বাড়ি। আমি গান শেখাচ্ছি পনের বছর বয়স থেকে। দিদিও নাচ নিয়ে আছে। গান-বাজনার লাইনের অনেক কেলেঙ্কারি, অনেক কেচ্ছাই আমার জানা। সামনে দেখছি, আহা কী গুণী, কী সাধুপুরুষ, শিবনেত্র হয়ে আছেন। দিলের সব দরদ মিশিয়ে ছাত্র-ছাত্রী গড়ছেন, ভেতরে ভেতরে দেখবে কে কবে কাকে ফুসলিয়ে এনেছেন। কে শিষ্যাদের কারো কারো ওপর কুনজর দিচ্ছেন, কিছু পাওয়া গেলে ভালো, না পাওয়া গেলে তুমিও আর কিছু পাচ্ছো না গুরুর কাছ থেকে।’

    সোহম ভীষণভাবে চমকে উঠল—‘কী বলছো? দীপালি? কী বলতে চাইছো?’

    —‘তোমরা আর কী বুঝবে? আমরা বুঝি। আমরা জানি। ইন ফ্যাক্ট, আমাকে উনি প্রায় কিছুই শেখান না। ব্যাক করেন না। রাগে। বোঝ না?’

    —‘উনি কি তোমাকে…’

    আরও দেখুন
    বইয়ের
    গ্রন্থাগার
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    লেখকের বই
    বই পড়ুন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

    দীপালি বাধা দিয়ে বলে উঠল—‘এসব কেউ সোজাসুজি বলে না সোহম, ঠারে-ঠোরে চায়। প্লীজ আমাকে এ নিয়ে ঘাঁটিও না। কী দরকার? আমি ফেড আপ হয়ে গেছি।’

    সোহম ইতস্তত করে বলল—‘তুমি কি বলতে চাও অপালা ওঁকে কোনভাবে খুশি করে?’

    —‘আমি কিছুই বলতে চাই না সোহম। শুধু আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে যতটুকু বুঝেছি বলছি। আর আমার অভিজ্ঞতাটা নেহাত ফ্যালনা নয়। অপালা আমার চেয়ে অনেক বেশি ট্যালেন্টেড—একথা আমি একশবার স্বীকার করছি। সেটা একবারও কোয়েশ্চন করছি না। কিন্তু এটা তো মানবে দ্যাট শী ইজ প্লেইন… লুকিং! আমার অভিজ্ঞতা আর ওর অভিজ্ঞতা এক হতে পারে না। মানো তো?’

    সোহম অন্যমনস্কভাবে কফির কাপটা নামিয়ে রাখল। অপালাকে দেখতে ভালো, কি ভালো নয় এ প্রশ্ন তার মনে কখনও ওঠেনি। অপালার সঙ্গে সে একসঙ্গে গান শিখছে রামেশ্বর ঠাকুরজীর কাছে তা প্রায় আট দশ বছর তো হবেই। শিখতে শিখতেই বালক-বালিকা থেকে তরুণ-তরুণী হয়ে উঠেছে। অত ছোট থেকে কোনও মেয়ের সঙ্গে মিশলে তার চেহারা সম্পর্কে ধারণা গড়ে ওঠা খুব শক্ত। তাদের সব সময়েই ভালো লাগে। সোহম তাই চোখের সামনে শূন্যের ওপর অপালাকে দেখবার চেষ্টা করল। ছোট কপাল। একপাশে সিঁথি কেটে একটা খুব লম্বা মোটা বেণী করে অপালা। ওর বাড়ি গেলে ওকে খোলা চুলে দেখা যায়। পুরো পিঠ জুড়ে বেশ কালো চুল। তাতে বোধহয় একটু বাদামির মিশ্রণ আছে। খুব লম্বা না হলেও অপালার চেহারাটা লম্বাটে। সেন্টিমিটারে কতটা আসবে, কল্পনার চোখে দেখে বলা যাচ্ছে না। কালো? হ্যাঁ সোহমের নিজের পরিবার, দীপালি, মিতুল, এদের সবার সঙ্গে তুলনায় অপালা বেশ কালো। কালো? তা সে যতই কালো হোক, অপালাকে কোনদিন খারাপ লাগেনি। সোহম হঠাৎ লজ্জিত হয়ে অনুভব করল সে অপালার শরীরের উচ্চাবচতা আবিষ্কার করবার চেষ্টা করছে। মাথাটা একটু নেড়ে নিজেকে নাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করে সে একটু ঝাঁঝাল গলায় বলল—‘ওসব বাদ দাও তো!’

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    লাইব্রেরি
    অনলাইনে বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    ডিজিটাল বই
    Books
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই

    —‘বাদ তো দেবই! আমার যে জিনিসটা খারাপ লাগে সেটা হল, মিতুল তো ওই মায়েরই মেয়ে! যে মা দু দুবার ইলোপ করেছে! দ্বিতীয়বার একটা পাঁচ বছরের মেয়ে ফেলে! মিতুল কিরকম চঞ্চল দেখেছো?— মাস্টারমশাইয়ের সব ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কিরকম ভাবে মেশে! এর গলা জড়িয়ে ধরছে। ওর চুল টেনে দিচ্ছে। তাকে ভেঙাচ্ছে!’

    সোহম দেখেছে। চাঞ্চল্যটা মিতুলের এক ধরনের আকর্ষণ! ভারী ছটফটে। ভারী ফাজিল।

    দীপালি বলল—‘ও আবার না মায়ের মতো পালায়! বাড়িতে তো বাবা ছাড়া কেউ নেই। বাবারা মেয়েদের কতটুকু বুঝতে পারে! দলে দলে ছাত্র আসছে যাচ্ছে। কত ছেলে বাপরে বাপ! দিলীপ সিন্‌হাকে দেখেছ? কনটেসা চড়ে আসে? ওদের এক্সপোর্টের ব্যবসা, অনেক বড়লোককে সেভর‍্যাল টাইমস্ কিনে নিতে পারে। সরোদিয়া। এদিকে মেকানিক্যাল এঞ্জিনিয়ার। ফার্স্টক্লাস পাচ্ছে। চেহারাও দারুণ। ছোট থেকে সিলভার-টনিক খাওয়ার চেহারাই আলাদা। ওর বাজনা শুনেছো? পুরো গোয়ালিয়রের ঘরের বাজনা। দা-রুণ। তবু মাস্টারমশায়ের কাছে আসছে। আরও ভ্যারাইটি, আরও ডিফারেন্ট গতের জন্য। শুনেছো ওর বাজনা?’

    আরও দেখুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বইয়ের
    নতুন বই
    গ্রন্থাগার

    —‘শুনেছি। ভালো বাজায়।’

    —‘মিতুল তো শুনছি ওর কাছে আজকাল তালিম নিচ্ছে। মাস্টারমশাই নাকি বলেছেন মিতুলের ভোক্যাল হবে না। ও যন্ত্র ধরুক। সরোদ—না সেতার ধরছে। তোমায় বলেনি? হয়ত ওর সঙ্গেই…’

    সোহম প্রশ্নটা এড়িয়ে গেল। সে আনমনে কফি ঢেলেই যাচ্ছে।

    দীপালি বলল—‘সোহম, আমরা টেবিলটা অনেকক্ষণ আটকে রেখেছি। বেয়ারাটা বড্ড ঘোরাফেরা করছে। চলো আমরা ময়দানের দিকে গিয়ে একটু বসি।’

    সোহম হঠাৎ একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভঙ্গিতে বলল—‘ময়দান-ফয়দান ভালো লাগছে না। ওঠা যাক।’

    দীপালি বলল—‘আমাদের বাড়ি যাবে? কিম্বা যদি বলো তোমাদের বাড়ি।’

    —‘বাড়ি? বাড়ি-টাড়ি নয়।’ সোহম মাথা নাড়ল, এত জোরে যে দীপালি একটু অবাকই হয়ে গেল।

    আরও দেখুন
    বই
    Books
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    লাইব্রেরি
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    অনলাইনে বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন

    সোহম হঠাৎ প্রায় লাফ দিয়ে উঠে কাউন্টারে গিয়ে বিলটা ঢুকিয়ে দিল। দীপালি পেছন পেছন আসছিল। তার দিকে সামান্য ফিরে সোহম বলল—‘আচ্ছা দীপু চলি। পরে দেখা হবে, একটু কাজ আছে।’ সে এমন হন হন করে এগিয়ে গেল যে দীপালি তাকে ধরবার চেষ্টাই করতে পারল না।

    গোধূলি শেষ হয়ে গেছে। প্রথম সন্ধের অন্ধকারে বিজ্ঞাপনের আলোগুলো জ্বলছে নিবছে। এই সময় থেকে আরম্ভ করে চৌরঙ্গি সুন্দরী হতে শুরু করে। পাশে একজন পুরুষ-বন্ধু নিয়ে এই সুন্দরী চৌরঙ্গির পেভমেন্ট দিয়ে পথ চলাও যে কী আরামের, কী তৃপ্তির, কত নবজীবনদায়ী হতে পারে! দীপালি কখনও অসহায় নয়। শৈশবে পিতৃহীন। তারা পাঁচ বোন এবং মা এই ছ’জন নারী মিলে তছনছ হয়ে-যাওয়া সংসার দাঁড় করিয়েছে। অসম সাহসে। বাবা এসরাজ বাজাতেন। মার্চেন্ট অফিসের কর্মী হলেও গান-বাজনার জগতের সঙ্গেই তাঁর দহরম-মহরম ছিল বেশি। সংসারে অনেক রকম উল্টোপাল্টা লোক এসেছে। বাবা মারা যাবার পর বহু লোক সুযোগ নিতে চেয়েছে। তারা বোনেরা মাকে রক্ষা করেছে, মা রক্ষা করেছে তাদের। কিন্তু রক্ষা-করার কাজটা ঠিক নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়। একেবারেই বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। দীপালি, ছাইয়ের মতো মুখ নিয়ে মনুমেন্টের দিকে তাকালো। শহীদ মিনার। চৌরঙ্গির যে কোনও কোণে দাঁড়িয়ে সামনে তাকালেই ওই শহীদ-মিনারের চুড়োটা চোখে পড়ে। এতো ভিড় তবু একলা। এতো মিছিল, এতে বক্তৃতা, তবু শান্ত। এই সগর্জন জীবন-মত্ততার ভেতরে শহীদ-মিনার নিশ্চুপ। সোহম কোনদিকে গেল? যদি দক্ষিণের বাসে উঠত তো অনায়াসেই তাকে সঙ্গে নিতে পারত, আর যদি উত্তরে কিম্বা পূর্বে কিম্বা পশ্চিমে যাওয়ার থাকত সে তো দীপালিকে বলে যেতে পারতো! দীপালির সঙ্গে তার যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা। এমন কী গোপন প্রয়োজন যে ওইরকম লাফ দিয়ে চলে যেতে হবে? দীপালির সঙ্গ কি তার সহ্য হচ্ছিল না? এত দিন তো বেশ সহ্য হচ্ছিল! দীপালির সঙ্গ পেলে অনেকেই তো কৃতার্থ হয়ে যায়! মিষ্টি গলা, কথা বলে সুন্দর, দেখতে নয়ন শোভন। পোশাক পরিচ্ছদ রুচিসম্মত, খবরাখবরও রাখে যথেষ্ট। আজকাল সে নাভির ঈষৎ নীচে নামিয়ে শাড়ি পরতে শুরু করেছে। কিন্তু বাইরে থেকে সেটা বোঝা যায় না। শাড়ি হাওয়ায় উড়লে, স্বচ্ছ আকাশে ত্রয়োদশীর চাঁদের মতো তার পরিষ্কার নাভিমণ্ডলী দেখা যায়। আর নাইলন ডেক্রন ইত্যাদি কৃত্রিম সুতোর কাপড় পরলে পাতলা মেঘের আস্তর-ঢাকা চাঁদের মতো দেখায়। নিজেদের আলমারির লম্বা আয়নায় শাড়ি পরবার সময়ে সে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই শোভা দেখে। সত্যি কথা বলতে কি নিজে নিজেই মস্ত্‌ হয়ে যায়। দীপালি চন্দন-আতর ব্যবহার করে খুব একটুখানি, দুই কবজির ওপর এবং তুলোয় একটু আতর ঢেলে বুকের খাঁজে রেখে দেয়। একদিন এভাবে রাখলে দুতিনদিন অনায়াসে চলে যায়। মৃদু চন্দনের সুগন্ধ তাকে সবসময়ে ঘিরে থাকে। দীপালির ভেতরে ভেতরে কান্না পাচ্ছিল। অপমানের কান্না। হতাশার কান্না। তার চেয়েও দুর্বোধ্য কিছু একটা তার বুকের ভেতর থেকে কান্নার আকারে ঠেলে ঠেলে উঠছিল। চন্দনের গন্ধটা তার এতো অসহ্য লাগছিল যে বুকের ভেতর থেকে তুলোর টুকরোটা বার করে সে মিউজিয়ামের এক পাশে পেভমেন্টের ওপর ফেলে দিল। কোথায় যাবে সে এখন? আজ, মাত্র আজ, এই শুক্রবার দিনটা তার পূর্ণ ছুটি। আজ সে যা খুশি করতে পারে। সোহমকে টেলিফোন করে আজকের পুরো সন্ধেটা তার সঙ্গে কাটাবার পরিকল্পনা করে সে এসেছিল। সে আজ পরিপূর্ণ গোলাপি। অনেক কিছু না পেয়ে পেয়ে এবং সম্পূর্ণ নিজের ক্ষমতায় অনেক কিছু করতে পেরে তার আত্মবিশ্বাস, দম্ভ, জেদ, উচ্চকাঙ্ক্ষা সবই এখন তুঙ্গে। তার মনে হল সোহমকে ঠিক এই মুহূর্তে আর একবার দেখতে না পেলে সে মরে যাবে, এখনই তার বুক ফেটে যাচ্ছে। এখন সে পরিষ্কার চিন্তাও করতে পারছে না। সোহমের চিবুকের ভাঁজটা, উঃ কেন ভগবান এরকম ভাঁজ তৈরি করেন, সোহম হাফ-হাতা শার্টও একটু গুটিয়ে পরে। বাইসেপ্‌স্ না ট্রাইসেপ্‌স্ সে সব বেশ ভালোভাবে দেখা যায়। সান্ধ্য চৌরঙ্গির সমস্ত বিজ্ঞাপনের আলো, ব্যানার, চলমান জনতা কিছু নেই, কিচ্ছু নেই, আছে খালি সোহমের গুটনো হাতার তলা থেকে দৃশ্যমান স্ফীত মাস্‌ল্‌। তার জামার ওপরের বোতাম খোলা, তার মধ্যে দিয়ে সরোদের জমজমার মতো রোম! একটা অন্ধ তাড়না ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে জোয়ারের স্রোতে তাকে যেন কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে।

    আরও দেখুন
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বইয়ের
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    নতুন বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    রেসিপি বই
    ডিজিটাল বই
    গল্প, কবিতা

    তবে কি অপালা? সোহম কি অপালার বাড়ি গেল? দীপালি রাস্তা পার হল। নর্থের বাসে তুমুল ভিড়। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে ডিপো থেকে একটা গ্যালিফ স্ট্রীটের ট্রাম ধরল। একটু ঘুরে ফিরে যাবে, তবু যাবে তো? আজকে রাত ঘন হবার পর সোহমকে তার একবার দেখাই চাই। তারপরে অনেক রাতে, নিজের ঘরে, বোনেদের সঙ্গে ভাগের বিছানায় সে ঘুমের ঘোরে সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে পিলু বারোঁয়া হয়ে যাবে। সোহম যখন তার ভরাট পুরুষালি গলায় গায়, দীপালি তার নিজের আসনে বসে মন্ত্রমুগ্ধ মৃগীর মতো নিস্পন্দ হয়ে থাকে। সোহম তার বিলম্বিত বিস্তার পেরিয়ে হঠাৎ বিনাভূমিকায় হলক তান আরম্ভ করে দেয়। অমনি দীপালির শিরা-উপশিরায় ঝলকে ঝলক নীল রক্ত ছুটতে শুরু করে হৃৎপিণ্ডের দিকে, সোহম অভিমুখে। সোহম যদি ঠুমরি বা গজল ধরে, দীপালি সেখান থেকে চলে যায়, কারণ প্রচণ্ড আবেগে তার কণ্ঠ রুদ্ধ, চোখের জলে তার মুখ প্লাবিত, ‘তোরে দেখনে কো জিয়া লাল চায় সজনোয়া!’ সে যে এত লোকের মাঝখানে সোহমের বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারছে না, সেই কারণে সমস্ত উপস্থিত জনমণ্ডলীকে তার স্লেটের ওপর স্পঞ্জের টুকরো দিয়ে মুছে ফেলতে ইচ্ছে করে। অর্থহীন, বিদ্যুৎ-হীন মুখ সব। অপ্রয়োজনীয়। কেন আছে ওরা? শুধু কতকগুলো নীরস পাথরের দেয়ালের মতো! যাতে সে এইসব বাধা পেরিয়ে সোহমের কাছে পৌঁছতে না পারে!

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা কৌতুক বই
    অনলাইনে বই
    বই ডাউনলোড
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    PDF
    ডিজিটাল বই
    PDF বই
    বুক শেল্ফ

    ট্রামে একেবারে কোণের দিকের লেডিজ সিটটা সে পেয়েছিল। ডান দিকে তাকালেই সেকেন্ড ক্লাসের যাত্রীদের দেখা যায়। দীপালি তার ব্যাগ খুলে গোগো সানগ্লাস পরে নিল, যদিও সূর্য নেই, রোদ নেই। গগল্‌সের তলায় সে রুমাল চেপে ধরল। গরম চোখের জল শুষে নিতে লাগল টার্কিস তোয়ালের টুকরো। তার মেজাজ এখন তার সপ্তকের ধৈবতে। আস্তে আস্তে নিখাদের দিকে উঠছে, তীব্র, তীব্রতর নিখাদ। যেখানে সোহম, তার সোহম। এতে তীব্র, তপ্ত, এতে ক্ষিপ্ত এ ছুট তান যে ট্রামের সিটে মাথা কুটতে চাওয়া শরীর মনটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীপালির সমস্ত দম ফুরিয়ে গেল। সে যখন অপালাদের কীর্তি মিত্র লেনের বাড়িতে পৌঁছলো তখন সে একটা মাঝদুপুরের ঝলসানো পাতা, কিম্বা সম্পূর্ণ নিংড়ে নেওয়া গামছা, শক্তিহীন, দীপ্তিহীন, অবসন্ন। সুজাতা তাকে এ সময়ে দেখে অবাক হয়ে বললেন ‘আরে! দীপালি। এতো রাতে? অপাই ছাতে আছে। খুব ভালো হয়েছে তুমি এসেছে। আজ কিন্তু খেয়ে যাবে।’

    অপুর মার আতিথ্য এইরকমের। সন্ধে পেরিয়ে গেছে, অতএব খেয়ে যাবে। আয়োজন হয়ত খুব সামান্যই। কিন্তু অসামান্য তাঁর হাতের গুণ আর আন্তরিকতা।

    দীপালি বলল—‘আর কেউ আসেনি?’

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    PDF
    ডিকশনারি
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা বই
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বই
    গল্প, কবিতা

    —‘কে আসবে আর? কেউ না।’ দীপালির মুখে যেটুকু আলো ছিল, এবার তা এক ফুৎকারে নিভে গেল। অপুদের বাড়ির ছাতে যাবার উৎসাহ আর বিন্দুমাত্রও অবশিষ্ট নেই। কিন্তু এখন তো আর পিছোনো যায় না। সে আস্তে আস্তে উঁচু উঁচু সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠল।

    ছাতের এক কোণে পাঁচিলের ওপর বসানো ফুলের টবের ওপর হাত রেখে অপালা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তার ঈষৎ ঢেউ খেলানো চুল আবাঁধা, পিঠের পেছনটা অন্ধকার। সামনেও অন্ধকার। তারার আলোয় শুধু মুখের আদলটুকু দেখা যায়।

    কাছে গিয়ে দীপালি বলল—‘এ কি রে অপু, তুই কাঁদছিস?’

    —‘না তো!’ অপালা মুখ ফেরালো। তারার আলো পড়ে তার গাল চকচক করছে, নাকের ডগাটাও। কিন্তু এখনও দীপালির মনে হল অপালা কাঁদছে। কান্না তো এক রকমের হয় না। মল্লার কত রকম আছে, সারং কত রকম আছে, কান্না কেন এক রকমের হবে! দীপালি নিজেও তো এখন কাঁদছে, গরম চোখের জলে তার আপাদমস্তক নোনা, অপু কি দেখতে পাচ্ছে? সোহম কি বুঝতে পারছে?

    আরও দেখুন
    ডিকশনারি
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    নতুন বই
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা অডিওবুক
    Books
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    ই-বই পড়ুন

    দীপালি বলল—‘কি খবর রে অপু? কবে যাবি ঠিক করলি?’

    —‘কোথায়?’ অপালা জিজ্ঞেস করল।

    —‘লখনৌ, আবার কোথায়? তুই না বললেও খবরটা আমাদের কানে এসেছে।’

    অপালা একটু চুপ করে থেকে বলল—‘যাবো। তবে লখনৌ নয়, হরিশ মুখার্জি রোডের কাছে একটা কি রাস্তা, বেণীনন্দন না কি, তোরা ভালো বলতে পারবি।’

    —‘কেন, সেখানে আবার কোন ওস্তাদ থাকেন? একজন নাম-করা সেতারী থাকেন। তুই কি তাঁর কাছে শিখবি? তুই নাজনীন বেগমের স্কলারশিপটা নিবি না?’

    —‘কোনও স্কলারশিপই নিচ্ছি না দীপুদি। ওই গলিটাতে আমার বিয়ে হচ্ছে।’

    —‘বিয়ে?’ দীপালি আকাশ থেকে পড়ল। ‘তোর বিয়ে? কোনদিন ভাঙিসনি তো?’

    আরও দেখুন
    বই
    নতুন বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    ই-বই পড়ুন
    লাইব্রেরি
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    ডিজিটাল বই
    লেখকের বই
    বই ডাউনলোড
    বুক শেল্ফ

    —‘আমি নিজে জানলে তো ভাঙব। জেঠু ঠিক করে ফেলেছেন। হঠাৎ। কে ভদ্রলোকের নাকি আমার গান শুনে খুব ভালো লেগেছে। জেঠু অ্যাডাম্যান্ট।’

    —‘এ তো খুব ভালো কথা রে অপু!’

    —‘তুইও এ কথা বলছিস দীপুদি?’

    দীপালি মৃদুস্বরে বলল—‘কি জানি, আমি তো বিয়ে হলে বেঁচে যাই।’ অপালা চুপ করে রইল।

    দীপালী বলল—‘বলছিস গান শুনে পছন্দ করেছে, সেখানে তোর গানের অসুবিধে তো হবে না! লখনৌ-এর অফারটা হয়ত অ্যাকসেপ্ট করতে পারবি না এখনই। কিছু মনে করিস না অপু, তোর মতো বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় সৌভাগ্য মেয়েদের আর হতে পারে না। সে স্কলার মেয়েই হোক আর সঙ্গীতপ্রভাকরই হোক।’

    অপালা যেন দীপালির কথাগুলো শুনেও শুনল না। আস্তে আস্তে বলল—‘একটাই আশা। ভদ্রলোকের মা বাবা নাকি বলেছেন বড্ড রোগা আর কালো।’

    দীপালি হেসে ফেলল, বলল—‘এটাকে একমাত্র আশা বলছিস?’

    অপালা দূরের দিকে তাকিয়ে বলল—‘নাজনীন বেগমের কাছে ঠুমরির তালিম নেওয়ার আশা বোধ হয় নেই। সে এ-বিয়ে না হলেও না।’

    দীপালি বলল—‘নাজনীন বেগমের কাছে তালিম না নিলেও তুই ঠুমরি খুব ভালো গাস। সুরলোক যদি ঠুমরির আইটেমটা রাখত, তোর ফার্স্টা প্লেস কেউ হাজার পলিটিক্স করেও আটকাতে পারত না। অত ভেঙে পড়ছিস কেন?’

    অপালা বলল—‘শুধু তো বেগমের কাছে তালিম না। দিবারাত্র একটা গানের আবহাওয়ার মধ্যে বাস করার অর্থ বুঝিস দীপুদি! শুধু ওঁর গান রোজ শুনতে পাবো তাই নয়, গানটা কি ভাবে তৈরি হয়ে উঠছে বুঝতে পারবো, ওঁর সাধনার সঙ্গে মিশে যাবো। আরো কত গুণী নিশ্চয়ই আসবেন, আসেন শুনেছি। তাঁদের গান টিকিট কেটে কনফারেন্সে শোনা যায় না। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও হয়ত কেউ অলৌকিক প্রতিভাধর থাকতে পারে যার সঙ্গে শিখে ধন্য হতে পারতুম। আচ্ছা দীপুদি, তওয়ায়েফ না তয়ফাওয়ালী কী রে?

    দীপালি বলল—‘তুই বড্ড ছেলেমানুষ অপু, অন্য কেউ হলে তোকে ন্যাকা বলত। তওয়ায়েফ আর কি, গানবাজনাই যাদের প্রফেশন, বড় বড় রাজবাড়িতে জমিদার বাড়িতে মুজরো নেয়। সর্ট অফ বাইজি আর কি! তবে সাধারণ বাইজিদের সঙ্গে এদের একটু তফাত আছে। এরা উচ্চ মানের গান নাচ করে। বড় বড় ওস্তাদদের সঙ্গে সমানে সমানে। তুই গহরজানের নাম শুনিসনি? গহরজান, মালকাজান। এরাও অন্য বাইজিদের মতো দুর্দান্ত ফ্লার্ট করতে পারে, কিন্তু যার তার কাছে পয়সার বদলে দেহ দেয় না।

    অপালা ভীষণ শিউরে উঠল, বলল—‘নাজনীন বেগম কি তাই ছিলেন?’

    —‘বোধ হয়। শুনেছি উনি যখন সবে আসরে বার হতে শুরু করলেন রূপে আর গানে তামাম হিন্দুস্তান লিটর‍্যালি পাগল হয়ে গিয়েছিল। তারপর বম্বের কোন ঘরোয়া উৎসবে গান করতে গিয়ে মধ্যপ্রদেশের কে এক রাজকুমারের সঙ্গে আলাপ হয়। বছর পাঁচেক ওঁর পেছনে লেগে থেকে থেকে ভদ্রলোক অবশেষে ওঁকে বিয়ে করেন। এর জন্য বোধ হয় ভদ্রলোককে ওঁর পরিবারের ত্যাজ্য-ট্যাজ্য হতে হয়েছে। খেতাবও ব্যবহার করেন না। এস্টেট না-ই রইল। বিজনেস ম্যাগনেট। টাকার পাহাড়ের উপর বসে আছেন। নাজনীনের কোনও সাধ নাকি অপূর্ণ রাখেননি। ইস্‌স্‌ অপু তোর আমার যদি এইরকম একটা বিয়ে হত! বছরে ছ মাস ইয়োরোপ, আমেরিকা, হংকং, সিঙ্গাপুর, আর ছ মাস নিজের মহালে বড় বড় গুণী ওস্তাদদের নিয়ে গান-বাজনা-নাচনা। তবে তোর আর তো গান শুনেই মুগ্ধ। তুই হয়ত ছোটখাটো নাজনীনই হতে চলেছিস!’

    অপালা হাসল, বলল—‘বেণীনন্দনের নাজনীন? ভালো বলেছিস!’

    —‘তবু তো কিছু একটা হচ্ছে। জীবনটা এগোচ্ছে। আমায় দ্যাখ। নাজনীন-টিনের মতো সুন্দরী না হলেও লোকে বলে আমার নাকি গ্ল্যামার আছে। কত ছেলে আমার পেছনে ল্যা-ল্যা করে ঘোরে, সে তো আমিও জানি। কিন্তু নোবডি ইজ এ রাজকুমার। নোবডি ইজ সিনসিয়ার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাচ-কে-ব্যাচ পার করে যাচ্ছি। গাধা পিটে পিটে ঘোড়া করার নিরর্থক চেষ্টায় দ্যাখ জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়টা কেটে গেল। এ যে কী শূন্যতা…নাঃ তুই বুঝবি না।’

    —‘কেন রে দীপুদি, মাস্টারমশাইও তো সব সময়ে শেখাচ্ছেন, ওই রকম ব্যাচ-কে-ব্যাচ। ওঁর তো ওরকম কিছু মনে হয় বলে বুঝি না!’

    —‘আরে উনি তো ছাত্র-ছাত্রী পাচ্ছেন অপালা মিত্র, দীপালি মিশ্র, সোহম চক্রবর্তী, দিলীপ সিনহা, সৌম্যকান্তি বিশ্বাস…এদের। আমার মতো গা টিপলে ধা বলে এমনি মাল নিয়ে কি ওনার কারবার?’

    সোহমের নামটা মুখে আনতে পেরে দীপালির বুকের ভেতরের আটকানো পাথরটা যেন ধস-এর মতো নেমে গেল। ভেতরটা তার থরথর করে কাঁপছে। এতক্ষণে ভালো করে চাঁদ উঠেছে। একটা বাড়ির চিলেকোঠার পেছন থেকে একটু তোবড়ানো ফুটবলের মতো গোলগাল চাঁদ। সেই আলোতে দুজনেই দুজনকে আরও স্পষ্ট করে দেখতে পাচ্ছে।

    অপালা বলল, ‘সেদিন তো আমি চলে এলুম, তুই কী গাইলি রে? আর সোহম?’

    —‘আমার কথা ছেড়ে দে। গাইলুম খম্বাজ। চার্মিং রাগ বলে। থেকে থেকেই তিলং এসে যাচ্ছিল। নিজেই বুঝতে পারছি বিস্তার করতে করতে ধা বাদ যাচ্ছে মধ্যমে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি সমানে। ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ইনট্রুড করছে থেকে থেকে। কেউ একটা প্রশ্ন করল না। গানের শেষে প্রথামাফিক হাততালি।’

    —‘তোর এতো আধুনিক আর নজরুলগীতি গেয়ে গেয়ে আর শিখিয়ে শিখিয়ে এই অবস্থা হয়েছে দীপুদি। তুই একটু রেওয়াজ করিস না, করিস?’

    —‘দ্যাখ, অপু, আর কেউ না জানুক, কিন্তু তুই ভালো করে জানিস এ ছাড়া আর আমার উপায় নেই। এসব ছেঁদো কথা বলে কি লাভ? আমার কথা বাদ দে। গেয়েছে সোহম। সাংঘাতিক! তুই থাকলে মূর্ছা যেতিস। শাংকরাই গাইল। ফৈয়জ খাঁ সাহেবকে আর একটু মোলায়েম করে নিলে সোহমকে পাওয়া যাবে। এতো ম্যাস্‌কুলিন। সাদিক যে ওর ওই কালারলেস ‘দেশ’ নিয়ে কি করে ফার্স্ট হয়ে গেল, হলের কেউ বুঝতে পারেনি। ‘দেশ’ তো গাইলেই ভালো লাগে ভাই। ঠিক মনে হল নোটেশন ফলো করে গাইছে। বিস্তার পর্যন্ত। তান না হয় তুই তৈরি গাইতে পারিস। কিন্তু বিস্তার এরকম সতর্ক, স্বরলিপি-ধরা হবে! কি জানি বাবা, নাকি ও-ই সবচেয়ে কারেক্ট গেয়েছে। এসব ভেতরের পলিটিক্স ছাড়া কি! সব্বাইকার মত ছিল তুই ফার্স্ট। সোহম সেকেন্ড। ফার্স্ট হলে মাসে দেড়শ টাকা করে স্কলারশিপ পেতিস পাঁচ বছর, তোর কত সুবিধে হত বল তো! আমার অবশ্য মত, সোহম প্রথম, তুই দ্বিতীয়। সোহমের গানের বলিষ্ঠতা আমাকে অ্যাপিল করে বেশি। তুই কিছু মনে করলি না তো?’

    —‘দূর মনে করব কি? আমার গাইতে ভালে লাগে গেয়ে যাই, কার থেকে ভালো গাইলুম অতশত বিচার করতে পারি না। আলাদা করে টেপ শুনলে হয়ত পারবো। পরে। কিন্তু সে সময়ে পারি না। সোহম একটা জিনিয়াস। ও তো প্রথম হতেই পারে।’

    —‘ছেলেটাকে তোর কেমন মনে হয় রে অপু, তুই তো অনেক দিন ধরে মিশছিস!’

    —‘আমার খুব ভালো লাগে। মহাপ্রাণ। সরল। কোনও ছোট জিনিস ওর মধ্যে নেই। ওর সঙ্গে যুগলবন্দী গাইতে আমার খুব ভালো লাগে। ওর সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা খুব ভালো হয় আমার।’

    —‘জীবনটাও ওর সঙ্গে যুগলবন্দী হলে ভালো হত, নারে অপু? আসলে ওকেই বোধ হয় তুই বিয়ে করতে চাইছিস, তাই এটাতে এতে আপত্তি, না?’

    অপালা অবাক হয়ে বলল—‘কে এসব বলল তোকে? ও আমার ভাইয়ের মতো বা বলতে পারিস দাদার মতো, এবং খুব ভালো বন্ধু। তা ছাড়া ও তো কবে থেকেই ঠিক করেছে মিতুলকে বিয়ে করবে।’

    দীপালি আস্তে আস্তে ছাতের ওপর বসে পড়ল। ভেতরে একটা আগ্নেয়গিরি ফেটে গেছে। মিতুলকে সোহমের ভালো লাগে এটা অনুমান করা যায়। কিন্তু মিতুল একটা ষোল বছরের স্কুলে-পড়া, ফ্রক পরা অতি-তরল স্বভাব, গাধার মত গলা-অলা মেয়ে আর সোহম তেইশ-চব্বিশ বছরের, রীতিমতো গুণী গাইয়ে, উচ্চ শিক্ষিত যুবক। সোহমের জীবনে অপালা, অতি সাধারণ দেখতে অপালা কিছু। তার গানের সাথী। মিতুল, অতি-তরল, খেয়ালী, বেয়াদব মিতুলও কিছু—তার ভালোবাসার পাত্রী। খালি দীপালি কেউ না। কিচ্ছু না। কেউ না। যদিও তার সঙ্গেই সবচেয়ে গল্প করে সোহম। কোনও মানে নেই তার। একেবারে অর্থহীন।

    অপালা বলল—‘দীপুদি, তুই ওরকম বসে পড়লি কেন? কি হল তোর? শরীর খারাপ লাগছে?’ অবরুদ্ধ কান্নায় দীপালি খালি বলতে পারল—‘অপু, অপু, কী হবে এখন? আমি…আমি সোহমকে ভালোবাসি। ওহ, আই লাভ হিম ম্যাডলি!’

    অপালার চোখে জল এসে গেছে। সে দীপালিকে প্রাণপণে তোলবার চেষ্টা করতে করতে বলল, ‘দীপুদি শোন, আমার কথা শোন। এমন করে ভেঙে পড়িসনি। চল ঘরে যাই আমরা।’

    দীপালির গোলাপি শাড়ি ছাতের ধুলোয় লুটোচ্ছে। কোথাও থেকে ঝলকে ঝলকে ভেসে আসা কোনও গন্ধপুষ্পের সৌরভের সঙ্গে মিশে তার চন্দন-আতরের গন্ধ কেমন গা-ছমছমে লাগছে। যেন শির ছিড়ে যায় যন্ত্রণায় এ এমন আকুল করা গন্ধ। দীপালি তেমনি দমচাপা গলায় বলতে লাগল—‘অপু তুই কিছু কর। কিছু কর প্লিজ। আমি পাগল হয়ে যাবো নইলে। মিতুল? হু ইজ মিতুল? একটা গুড়িয়া, মীনিংলেস, অপদার্থ। জাস্ট একটা পুতুল ছাড়া কী? সোহম কি করে ওকে অ্যাট অল…ওহ অপু তুই আমাকে বিষ দে…।’

    এই সময়ে প্রদ্যোৎ ছাতে উঠে আসছে দেখা গেল। একটু চেঁচিয়ে বলল—‘অপু, মা খেতে ডাকছে।’

    অপালা তাড়াতাড়ি বলল—‘দাদা, দীপুদির হঠাৎ বড্ড বুকে ব্যথা করছে, একটু দ্যাখ তো!’

    প্রদ্যোৎ ব্যস্ত হয়ে বলল—‘সে কি? আপনার কিছু গণ্ডগোল ছিল নাকি আগে?’ দীপালি কোনও উত্তর দিতে পারছে না।

    প্রদ্যোৎ বলল—‘অপু, পায়ের দিকটা ধরতে পারবি? আগে ঘরে নিয়ে যাওয়া দরকার।’ প্রদ্যোৎ বুকে পিঠে স্টেথো লাগালো। প্রেশার মাপলো। তারপর কান থেকে স্টেথোর নল নামিয়ে বলল—প্রেশারটা একটু হাই। হার্টবিটও একটু বেশি। কিন্তু একসাইটেড হলে ওরকম হতেই পারে।’ সে অপালার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো। অপালা খুব ছোট্ট করে ঘাড় নাড়লো। প্রদ্যোৎ বলল—‘আপনি দেখছি খুব কেঁদেছেন। নিশ্চয় কোনও কারণে মনে খুব ব্যথা পেয়েছেন। ঠিক বলেছি না? হাসুন। একটু হাসুন তো আগে! আচ্ছা এইবারে একটা ওষুধ দিয়ে দিচ্ছি, খেয়ে দেয়ে চুপটি করে শুয়ে থাকবেন। অপু, আর মিনিট দশেক পরে আমরা খেতে যাবো। তারপর আমরা দুজনে ওঁকে বাড়ি পৌঁছে দেব। কোনও ভাবনা নেই। আরে জীবনে কত দুঃখ যন্ত্রণা, ডিস্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, তাতে ভেঙে পড়লে চলবে?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু
    Next Article উজান-যাত্রা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }