Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গান্ধর্বী – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প330 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গান্ধর্বী – ৮

    ৮

    সকাল সাড়ে নটা নাগাদ প্রতাপবাবুর টেলিফোনটা ঝনঝন করে বেজে উঠল। কটা দিন তিনি প্রায় সারাক্ষণই বাড়িতে আছেন।

    —‘প্রতাপ চক্রবর্তী বলছি।’

    —‘আমি প্রদ্যোৎ। অপালার দাদা।’

    —‘ও আচ্ছা, আচ্ছা, বলো!’

    —‘সোহম কেমন আছে?’

    —‘সিডেশনে আছে তো! ঘোরটা কাটলেই আর বাড়ির কাউকে সহ্য করতে পারছে না। কাউকে না। খাওয়াতেও সেই একই অসুবিধে। তবে ভায়োলেন্সটা অনেক কমে গেছে।’

    —‘আপনি ভয় পাবেন না কাকাবাবু। আমার যে সারকে নিয়ে গিয়েছিলাম তাঁর ডায়গনোসিস ভীষণ ভালো। তিনি বলছেন এটা একটা নার্ভাস ব্রেক ডাউন জাতীয় ব্যাপার। খুব শিগগিরই সেরে যাবে। ওকে থাকতে দিতে হবে নিশ্চিন্তে, ওর যেরকম আবহাওয়া পছন্দ তার মধ্যে। ডক্টর বিদ্যুৎ সরকারের সাজেশন, আমার বোনেরও ইচ্ছে ও রোজ একটা সময়ে আপনাদের বাড়ি গিয়ে ওকে গান শোনাবে। কী শুনলে ওর ভালো লাগবে সে সব অপুই ভালো জানে।’

    —‘সে কি? কদিন পরেই তো ওর বিয়ে?’

    —‘দরকার হলে বিয়ের আগের দিন পর্যন্ত ও যাবে, তারপর সাত-আট দিন বাদ দিয়ে আবার যাবে। কিন্তু প্রতিদিন ওকে নিয়ে যাওয়া-আসা করার ব্যবস্থাটা আপনাকে করতে হবে কাকাবাবু!’

    —‘সেটা কোনও প্রবলেম না। ওয়ান অফ মাই কারস উইল অলওয়েজ বি অ্যাট ইয়োর সার্ভিস। কিন্তু…. তুমি কি সত্যিই বলছো এতে ওর উপকার হবে?’

    —‘আমাদের সেটাই আশা। লেটস ট্রাই অ্যাট লস্ট।’

    —‘আমি সকালে কলেজ যাবার পথে সোহমকে খাইয়ে আসব। আর অপু যাবে সন্ধেবেলা।’

    —‘অল রাইট, মাই বয়, আই ডোন্ট নো হাউ আই কান থ্যাঙ্ক ইউ।’

    বিদ্যুৎদা বললেন— ‘নার্ভের ওপর সঙ্গীতের প্রভাব নিয়ে প্রচুর গবেষণা চলছে। বিদেশে। বিশেষত রাশিয়ায়। ওরা স্কাইজোফ্রেনিয়া পর্যন্ত ট্রীট করছে মিউজিকের সাহায্যে। তোমার বোন সাজেশনটা খারাপ দেয়নি। কিন্তু অপালার দুর্দান্ত সাহস এটা মানতেই হবে প্রথম দু চার দিন আমি আর তুমি হাতের কাছে থাকবো। রি-অ্যাকশনটা দেখা দরকার।’

    প্রথম যেদিন প্রতাপবাবুর নীল অ্যাম্বাসাডরটা সন্ধেবেলায় কীর্তি মিত্রর গলিতে এসে দাঁড়াল এবং অপালা নীল শাড়ি পরে দাদার সঙ্গে গিয়ে গাড়িতে উঠল, সেদিন জেঠুর মুখ অসন্তোষে কুঁচকে উঠেছিল। তিনি শুধু এইটুকু জানেন— সোহমের খুব শরীর খারাপ, সে যাকে বলে বেড-রিড্‌ন্‌। কী হয়েছে নাকি এখনও ধরা যাচ্ছে না। অপাই রোজ তাকে দেখতে যাবে, বেশ কিছুক্ষণ থাকবে— এতো বড় একটা সিদ্ধান্ত এরা তাঁকে না জানিয়েই নিয়ে ফেলেছে— এতে তিনি শুধু বিরক্ত নন, বিস্মিত। ব্যাপারটা তিনি তিনটে কারণে পছন্দ করছেন না। প্রথমত সোহম ছেলেটির কোনও ছোঁয়াচে রোগ হয়ে থাকতে পারে, সে-ক্ষেত্রে বিয়ের আগে অপালার সেখানে রোজ যাওয়াটা খুবই ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। দ্বিতীয়ত, কথাটা যদি হবু-কুটুমদের কানে যায়? তাদের বাড়ির হবু-বউ রোজ সন্ধেয় একটি ছেলে-বন্ধুকে সাহচর্য দিতে যাচ্ছে যেহেতু সে শয্যাবন্দী? কিভাবে জিনিসটা তাঁরা নেবেন ভেবে কূল পাচ্ছেন না তিনি। তৃতীয় কারণটা একেবারে ব্যক্তিগত, তাঁর নিজস্ব অনমনীয় অহং সম্পর্কিত। ‘তাঁকে’ না জিজ্ঞেস করে, তাঁকে ‘না জিজ্ঞেস’ করে এরা দু ভাই বোন কি করে এটা করতে পারল? এসব ব্যাপারে তাঁর একমাত্র ভরসা বউমা। গাড়িটা বেরিয়ে গেলে তিনি বউমাকে ডেকে বললেন— ‘বউমা ওরা না হয় ছেলেমানুষ। সব জিনিসের কার্যকারণ বোঝবার অভিজ্ঞতা নেই। তুমি এটা কী করে অ্যালাউ করলে মা? ওদের তো আমি বুঝতে পারিই না। এখন দেখছি তোমাকে চিনতেও আমার অনেক বাকি ছিল।’

    ভাসুরের সামনে তর্কাতর্কি করবার অভ্যাস সুজাতা দেবীর কোনকালেই নেই। তিনি ঘোমটাটা আরেকটু টেনে নিয়ে বললেন— ‘দাদা, মেয়েটা তো বিয়ে করতেই চাইছিল না, অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছি, আপনি তো জানেন। একটা আবদার ধরেছে, ধরুন আইবুড়ো বেলার এই শেষ আবদার,’ বলতে বলতে তাঁর গলা ধরে এলো।

    বউমার চোখের জলের সামনে রসময়বাবু একদম নিরুপায়। তিনি বললেন— ‘যা ভালো বোঝো করো। আমি আর কী বলব। ভালোর জন্যেই বলি। বুড়ো মানুষ। বাতিলের দলে।’

    এ কথার কী উত্তর দেবেন বউমা। রসময় যে এ সংসারে এখনও সর্বময়, তা তাঁর থেকে বেশি আর কে জানে। কিছুক্ষণ ঘোমটা মাথায়, চুপ করে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে থেকে থেকে তিনি চলে এলেন। অ্যামবাসাডরটা তখন হুহু করে ছুটে চলেছে।

    নির্জীবের মতো শুয়ে ছিল সোহম। অপালাকে দেখে দুর্বল গলায় বলল —‘অপু এসেছিস? এরা আমায় মেরে ফেলতে চাইছে, মাই ওন পীপল, চিন্তা কর, ঘুমোচ্ছি, খালি ঘুমোচ্ছি, এইবার একদিন আর জাগব না।’

    প্রদ্যোৎ বলল— ‘তোমার বাঁচতে ইচ্ছে করে তো সোহম?’

    —‘করে বই কি? আমার তো এখনও কিছুই করা হল না। লাইফ হ্যাজ জাস্ট স্টার্টেড। হেগেলের অ্যাবসলট আইডিয়ালিজ্‌ম্‌ আর হংসকিংকিণীর রাগ-পরিচয় মাথার মধ্যে খিচুড়ি পাকিয়ে যাচ্ছে। আই কান্ট থিংক ক্লিয়ারলি।’

    প্রদ্যোৎ বলল— ‘এই আমার সার, ডক্টর বিদ্যুৎ সরকার, এঁর ওপর আমাদের সবাইকার দারুণ কনফিডেন্স সোহম। ইনি বলছেন তুমি আর দিন সাতেকের মধ্যে দাঁড়িয়ে উঠতে পারবে। সব কিছু করতে পারবে। কোনও ভয় নেই। সার হলেও উনি আমার খুব বন্ধু। উনি তোমাকে ঘুমের ওষুধ দিতে বারণ করে যাচ্ছেন। নো মোর ইনজেকশনস। তা অপুর কি যেন একটা আবদার আছে তোমার কাছে।’

    অপালা সোহমের বিছানার কাছে চেয়ার টেনে বসল, বলল— ‘জানিস তো সোহম, আমার নিজস্ব একটা হারমোনিয়াম নেই ভালো। এদিকে একটা অডিশন রয়েছে রেডিওয়। তোরটা যদি ধার দিস। আমি কদিন একটু রেওয়াজ করতে পারি।’

    —‘নে না, নিয়ে যা না। নিয়ে যা বরাবরের মতো। আমি তো আর গাইতে পারব না।’

    তার শেষ কথাটাকে অগ্রাহ্য করে অপালা বলল— ‘দূর, আমাদের বাড়িতে তোর ভালো হার্মোনিয়ম নিয়ে যাই আর ইঁদুরে কেটে দিক। তার চেয়ে আমিই রোজ এখানে এসে রেওয়াজ করে যাবো। তোর কোনও অসুবিধে হবে না তো! ধর, পাশের ঘরেও গাইতে পারি।’

    —‘পাশের ঘরে কেন, এ ঘরেই গা না। গা!’

    —‘কী গাইব সোহম?’

    —‘তোর যা ইচ্ছে। তোর অডিশন। তুই ঠিক কর।’

    —‘তুই ঠিক করে দিলে আমার ভালো লাগবে।’

    —‘দরবারী গা তবে, দরবারী কানাড়া।’

    —‘ঠিক আছে।’

    বিদ্যুৎ সরকার আর প্রদ্যোৎ সোহমের মাথার দিকে বসে রইল। সোহম তাদের দেখতে পাচ্ছে না। সে অবসন্নভাবে বিছানায় শুয়ে। মেঝেতে কার্পেট বিছিয়ে হারমোনিয়ম তানপুরা সবই দিয়ে গেল বনমালী।

    বেশ কিছুক্ষণ ধরে তার বেঁধে তানপুরা কোলেই দরবারীর আলাপ ধরল অপালা। এক ঘণ্টা প্রায় পার হতে চলল। মধ্য সপ্তকের বড় কোমল ধৈবতে অপালার কণ্ঠস্বর হালকা মালতী ফুলের মালার মতো দুলছে। বিদ্যুৎ সরকারের ইঙ্গিতে বনমালী এক বাটি স্যুপ হাজির করল। তার মধ্যে নানারকম আনাজের কুচি। চিকেনের ফালি, নুড্‌ল্‌স্‌, এবং সস দেওয়া। প্রদ্যোৎ বাটিটা হাতে করে সোহমের গলায় তোয়ালে বেঁধে আস্তে আস্তে খাইয়ে দিতে লাগল। আলাপেই গান শেষ করল অপালা। তারপর বড়ে গোলাম আলির দরবারীর একটা ক্যাসেট চাপিয়ে দিল টেপে। এইসব টেপ, ক্যাসেট সবই বিদেশী। এখানে পাওয়া যায় না অত সহজে। কোনও কনফারেন্সে সোহম চুপিচুপি এই তরানা রেকর্ড করেছে। বড়ে গোলামের কণ্ঠের খেয়াল তরানা, তার সঙ্গে প্রাণভরে গাওয়া হরি ওম্‌ তৎ সৎ। আস্তে চালিয়ে দিয়ে ওরা ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। সোহম এখন ঘুমের ঘোরে। বনমালীর ওপর ভার রইল সে সময় বুঝে ক্যাসেট বন্ধ করবে। বাইরে সোহমের দুই বউদি, এক দাদা, এবং বাবা। প্রতাপবাবু বললেন, —‘খেলো ঘুমোতলাও, কিন্তু ঘুমের ওষুধ দেওয়া হল না, ও যদি মাঝ রাত্তিরে উঠে গোলমাল করে?’

    বিদ্যুৎ বললেন— ‘আমি মাইন্ড একটা ট্রাংকুলাইজার ওর জলের গ্লাসে গুলে রেখে এসেছি। যদি ঘুম ভাঙে ও জলটা খাবে, হয়ত সামান্য তেতো লাগবে। কিন্তু খেয়ে নেবে। তাতেই আবার ঘুম এসে যাবে। নইলে স্ট্রং সিডেটিভ রাখছি। প্রদ্যোৎ থাকতে পারে, যদি বলেন। তবে আমার মনে হয় স্ট্রং কিছু দরকার হবে না।’

    —‘সেই ভালো বাবা, প্রদ্যোৎ যদি থাকে… প্রদ্যোতের হাতে ছাড়া তো ও খাচ্ছেও না।’

    অপালা চাইল দাদার দিকে। প্রদ্যোৎ বলল— ‘অল রাইট। আমি কাল সকালে ওকে খাইয়ে তারপরে যাবো। বিকেলে কি সন্ধের দিকে অপু আসবে।’

    সাত দিনের দিন বিদ্যুৎ বললেন—‘এতো ভালো ফল যে হতে পারে গানে তা তিনি নিজেও ভাবেননি।’ খুব সামান্য ট্রাংকুলাইজার দরকার হচ্ছে সোহমের। প্রদ্যোৎ এবং অপালা ছাড়াও বনমালীর হাতে সে খাচ্ছে। হিংস্র ভাবটা একেবারে চলে গেছে। কিন্তু এখনও সে বিভ্রান্ত। মনে হচ্ছে আগেকার কথা কিছু মনে নেই। অপালার গান ছাড়াও অন্যান্য গানের রেকর্ড তার ঘরে, কিংবা পাশের ঘরে মৃদু স্বরে চাপানো থাকে। খালি একদিন সরোদ চাপাতে সে রাগে কি কষ্টে কে জানে গোঁ গোঁ করতে থাকে। রেকর্ডটা চাপিয়েছিল প্রদ্যোৎ। অপালা তাড়াতাড়ি এসে সেটা তুলে নেয়, নইলে কি হত বলা যায় না।

    এখন অপালার বিয়ের আর তিনদিন বাকি। বিদ্যুৎ এবং অপালার দাদার আর প্রতিদিন আসার প্রয়োজন হয় না। অপালা এসে গান ছাড়াও অনেক ক্ষণ গল্প করে। তার বিয়ের বাজার করছে প্রধানত দীপালি আর জেঠু। মা ঘর-ভর্তি আত্মীয়-স্বজনকে সামলাচ্ছেন। সোহম বলল— অপু, ওই তিলং ঠুংরিটা জানিস? ‘তোরে দেখনে কো জিয়া লাল চায়…’

    অপালা বলল— ‘শুনবি?’

    —‘শোনা। প্লীজ!’

    মৃদু আলো জ্বলছে ঘরে। বনমালী অপুদিদি আসায় নিশ্চিন্তে আড্ডা দিতে গেছে। বউদিরা কেউ পারতপক্ষে এ ঘর মাড়ায় না। সোহমের বাবাও এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত। নিজের এতদিনের কাজকর্ম পড়েছিল, তাই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

    অপালা গান ধরেছে, মিড়ে মিড়ে, ছোট ছোট মুরকির কাজে ভর্তি তার আস্থায়ী। হঠাৎ অন্তরায় আসতে সে দেখল সোহম উঠে এসেছে। তার গলায় গানের কলি। সেই আগকার গলা, আগেকার সুর, খালি আরও অনেক নম্র, ব্যাকুল, মিনতিতে যেন পূর্ণ। সে হারমোনিয়মটা টেনে নিল। হঠাৎ সে গাইতে গাইতে প্রাণপণে অপালাকে জড়িয়ে ধরল। তানপুরা কেড়ে শুইয়ে রাখল কার্পেটের ওপর। হারমোনিয়ামের বেলো খোলা রইল। তারপর সে একটা পুতুলের মতো অপালাকে তুলে নিয়ে গেল তার বিছানায়। উন্মাদের মতো চুমু খেতে খেতে বলতে লাগল —‘মিতুল, ওহ্ মাই মিতুল, আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ। তুমি জানো না তুমি আমার কী? তুমি আমার পরজের পঞ্চম। তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারি না।’

    সোহমের চুমোয় অপালার মুখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, জিভে লোনা স্বাদ, তার বুক পিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মথিত হচ্ছে সমস্ত শরীর। অপালা শুধু প্রাণপণে বলতে লাগল— ‘সোহম, সোহম, আমি মিতুল নই, আমি অপু। আমায় ছাড় সোহম, ছাড় প্লীজ।’ অপালাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে সোহম, কিন্তু অসীম মমতায়, আদরে। অপালার শরীর মন বিহ্বল হয়ে যাচ্ছে। এখনও সোহম তার পূর্ণ শক্তি ফিরে পায়নি, তাই অপালা অনেক চেষ্টায় নিজেকে মুক্ত করতে পারে। সে আশ্চর্য হয়ে যায় তার একটুও ভয় করছে না। সোহম মুখ নিচু করে আছে। অপালার গালে রক্ত ছোটাছুটি করছে। হঠাৎ সোহম মুখ তুলে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক গলায় বলল— ‘অপু, তুই মিতুল নোস। মিতুল যদি তুই হতো! তুই একটু মিতুলকে বোঝবি আমার হয়ে?’

    অপালার ভেতরটা এখনও শীত লাগার মতো কাঁপছে। সে বলল— ‘আমাকে বোঝাতে হবে কেন সোহম, যদি বোঝবার হয় মিতুল আপনি বুঝবে।’

    —‘কিন্তু ও যে দিলীপ সিনহার মোহে পড়ে যাচ্ছে!’

    —‘বাজে কথা। এক্কেবারে বাজে কথা। ওসব গুজবে কান দিস না। তবে একটা কথা বলি সোহম— যে ভালোবাসা তোকে এমনি যন্ত্রণার মধ্যে, নিষ্ঠুরতার মধ্যে, অসংযমের মধ্যে ঠেলে দেয় তুই সেটাকে ধ্রুব করে রাখিসনি জীবনে। ভালোবাসার চেয়েও বড় কিছু তুই পেয়েছিস। ভালোবাসা হয়ত একদিন ফুরিয়ে যাবে সোহম, গান ফুরোবে না। মিতুলকে যদি না-ও পাস, আর কাউকে নিশ্চয় পাবি, যে সাড়া দেবে তোর ডাকে। তাকে দিয়ে তুই তোর ভালোবাসার সাধ মিটিয়ে নিস। কিন্তু গানকে ছাড়িস না কখনও। ভালোবাসার জন্যই গানকে ছাড়িস না।’

    —‘গান যদি বিট্রে করে?’ সোহম এখন আবার মুখ অন্য দিকে ফিরিয়ে ফেলেছে। অপালার দিকে সোজাসুজি চাইতে পারছে না।

    —‘গান বিট্রে করবে না। যদি না তুই আজে-বাজে চিন্তা করে, অশুচি আবর্তে পড়ে তাকে বিট্রে করিস।’

    —‘আমি অশুচি, অপবিত্র হয়ে গেছি, না রে অপু!’

    —‘না, আমি একেবারেই তা বলছি না। তুই খারাপ কিছু করে ফেলেছিস অসুস্থ হয়ে পড়েছিলি বলে। তুই সেটা কাটিয়ে উঠেছিস।’

    সোহম ধরা-ধরা গলায় বলল—থ্রু ইয়োর মিউজিক, অপু অ্যান্ড থ্রু ইয়োর কিসেস।’ অপালার মুখ চকচক করছে লালিমায়।

    সোহম বলল— ‘তুই রাগ করেছিস?’

    অপালা বলল— ‘না।’ সে বেরিয়ে যাবার জন্য পা বাড়িয়েছে। সোহম হঠাৎ এগিয়ে এসে তাকে পরম আদরে জড়িয়ে ধরে বললে— অপু আমাকে গান গাইতে দে। অদ্ভুত ছোট্ট একটা ফিরৎ। আমার সমস্ত রক্ত গান চাইছে। অপু আমরা ছোট্ট থেকে এক সঙ্গে গান করছি। আমরা বোধহয় তানপুরোর জুড়ির তার। বোধ হয় আমরা অর্ধনারীশ্বর। অপু প্লীজ। কিস মি বাট ওয়ান্‌স।’

    অপালা কি করবে? সে দিশেহারার মত সোহমের এলোমেলো চুলে ভর্তি ফর্সা দেবতার মতো কপালে তার পাতলা ছোট্ট ঠোঁট ঠেকালো। তারপর একটু দ্রুতই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। শুনতে পেল সোহম আকুল হয়ে বলছে— ‘অপু আর আসবি না?’ অপালা চলতে চলতে বলল—‘আসব। আসর। খালি তুই যন্তরটা তুলে নে সোহম। তুই গা। পরদিন এসে যেন দেখি তুই গাইছিস।’

    ঘটনাটা কাউকে বলতে পারছে না অপালা। দাদাকে না। দীপালিকে না। এ কথা কাউকে বলা কি সহজ? অথচ না বলতে পারলে তার বুকের ভেতরটা কেমন করছে। অনেক প্রশ্ন তার, অনেক জটিল প্রশ্ন ও সমস্যা মনের মধ্যে জাগছে যার উত্তর পাওয়া দরকার। উনিশ পেরিয়ে কুড়িতে পড়লেও বিবাহের অর্থ সে ভাসা-ভাসা বোঝে। পুরোপুরি এখনও বোঝে না। দীপালি তাকে একটু অবহিত করবার চেষ্টা করছে অবশ্য। কিন্তু সে মাঝে মাঝেই এমন এক একটা প্রশ্ন করে ফেলছে যে দীপুদি বলছে— ‘উঃ অপু, তোকে নিয়ে আর পারি না। বাকিটা তোর বর বোঝাবে। আমার দ্বারায় হবে না।’ দীপালির অনেক কাজও। সে নিজের গানের ক্লাস সামলে অপালার সমস্ত শাড়ি, গয়না, ব্লাউজ, পেটিকোট, জুতো ইত্যাদি প্রত্যেকটি নিজে পছন্দ করে করে কিনেছে। বরের জামা-কাপড়-জুতো, তা-ও। এবং সেইসঙ্গে প্রসাধনদ্রব্য। এতে অনেক সময় যায়। অপালা দুরু দুরু বুকে ভাবছে সোহম তার সঙ্গে ওভাবে ব্যবহার করার পর এই শরীর নিয়ে সেই রাজপুত্রের মতো সুন্দর, পবিত্র, দরদী ভদ্রলোকটির কাছে সে কী করে যাবে? তিনি তো জানবেন না! অপালা তো তাহলে তাঁকে ঠকাচ্ছে। একেই তো সে বলেই দিয়েছে গানের চেয়ে বেশি সে কাউকে কিছুকে ভালোবাসতে পারবে না। তার ওপর এই। কিন্তু সোহম কি তার প্রেমিক? না না। সোহম তার শরীরের মিতুলকে প্রেমনিবেদন করছিল। সে মুখ ফুটে বলেওছে— মিতুলকে যেন সে বোঝায়। সোহম অদ্ভুত জটিল মানুষ। অপালার সব কিছু সোজা, সরল। সবচেয়ে ভয়ের কথা সোহম তাকে অশুচি করেছে বলে একবারও মনে হচ্ছে না, উপরন্তু সোহমের স্পর্শে তার শরীরে যে শিহরণ জেগেছিল তার স্বাদ সে এখনও তার ওষ্ঠাধরে, জিভে, স্তনবৃন্তে পাচ্ছে, পাচ্ছে তার চোখের পাতার কোমল নীল শিরা-উপশিরায়, মনে হচ্ছে এই অনাস্বাদিতপূর্ব স্বর্গীয় অনুভূতি সে আরও অনেক দিন ধরে পেয়ে যাবে। বিবাহের কেন্দ্রে যদি এই স্বাদ এই আনন্দ থাকে তাহলে তো বিবাহ খুব সুন্দর জিনিস। গানের সঙ্গে তার খুব সামান্যই তফাত। কিন্তু ওই কেন্দ্রে তো সোহম নেই! কেমন লাগবে? ওঁকে ওই ভদ্রলোক যদি এভাবে…কেমন লাগবে? অপালা এমন জটিলতার মধ্যে পড়েনি আগে। এখন ঘটনাস্রোত তার হাতের বাইরে চলে গেছে। তত্ত্বর জন্য জিনিস গোছগাছ হচ্ছে। এয়োডালা, নমস্কারী সাঁইত্রিশখানা, বরণডালার জিনিস, ছাঁদনাতলার জিনিস, নান্দীমুখের হাজারখানা টুকিটাকি। ফর্দ মিলিয়ে দেখছেন তার মা আর মাসিমা, বাড়ি আত্মীয়-কুটুম্বে গমগম করছে। সকালবেলায় ওঁরা সোনার মফচেন দিয়ে আশীর্বাদ করে গেলেন। ফুলের অর্ডার যাচ্ছে। ইলেকট্রিকের লোক, ডেকোরেটরের লোক, হালুইকর বামুন। বাড়িতে এখনই যজ্ঞি শুরু হয়ে গেছে। কাছাকাছি একটি বাড়ি বিয়ের দিনের জন্যে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। যদিও সামনেই, ফড়িয়াপুকুরের ওপর। তবু দুজায়গায় বলে—খুব ছরকট হচ্ছে। এই রাজসূয় আয়োজনের মধ্যে অপালা বসে আছে তার শিহরিত, বিভ্রান্ত শরীর মন নিয়ে। একেবারে স্থাণু।

    কী কাজে প্রদ্যোৎ সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। সে ক্ষীণ কণ্ঠে ডাকল— ‘দাদা!’ প্রথমটা প্রদ্যোৎ শুনতে পায়নি। দ্বিতীয়বার ডাকতে সাড়া দিয়ে বলল— ‘কিরে? আরে তুই এরকম ফ্যাকাশে হয়ে গেছিস কেন? বিয়েটা এমন কিছু ভয়ের ব্যাপার নয়! টেক ইট ফ্রম মি।’

    অপালা বলল— ‘না, সোহমের খবর কি?’

    —‘অনেক ভালো। প্রায় নর্ম্যাল। ওষুধপত্রের জন্যেই যা কমজোরি হয়ে রয়েছে। বই পত্র টেনে পড়াশোনা আরম্ভ করে দিয়েছে দেখলুম। কদিন যাবো না বলেই এসেছি। তোর বউভাতের পরদিনই যাবো।’

    —‘দাদা, ও যদি জানতে পারে আমার বিয়ে?’

    —‘তো কি?’

    —‘যদি রি-অ্যাকশন হয় কোনও? এতো কষ্টে ভালো করে তোলা হল!’

    —‘ঘাবড়াসনি। ও জানে।’

    চমকে উঠল অপালা। —‘জানে? কখন? কিভাবে?’

    —‘কাল যখন বললুম দিন তিনেক আসছি না, অপুও হয়তো বেশ কিছুদিন আসতে পারবে না তখন আমাকে জিজ্ঞেস করল কেন। বলে দিলুম।’

    —‘অমনি বলে দিলি! ও অবাক হল না?’

    —‘অবাক হল বই কি! কেন নেমন্তন্ন করিনি জানতে চাইল। বললুম করা হয়েছে। ওর যদি আসার মতো শারীরিক শক্তি থাকে নিশ্চয় আসবে, হাজারবার আসবে।’

    —‘কেন বললি? ভয় হল না? যদি কিছু হয়?’

    —‘কিস্যু হবে না। সাময়িক একটা চাপে জিনিসটা হয়েছিল। সে শকের সঙ্গে তোর কোনও সম্পর্ক নেই। ওষুধে…মানে বিদ্যুৎদা আর তোর ওষুধে ও ঠিক হয়ে গেছে। সত্য জানতে দেওয়া ভালো। ও যদি তোর ওষুধের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে সেটা কি খুব ভালো হবে?’

    অপালা নিশ্চল হয়ে রইল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু
    Next Article উজান-যাত্রা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }