Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প36 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. এই যে দেখছ পথটা

    এই যে দেখছ পথটা, এটা ক্রমশ ওপর দিকে উঠে গেছে। আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। বড় ছোট পাথরের স্থূপ। মাঝে মাঝে জল চলে আসছে অদৃশ্য সব উৎস থেকে। এটা তীর্থযাত্রীদের পথ নয়, সাধুদের পথ। এইটা পেরোতে পারলেই অদ্ভুত এক চাতাল। সেখান থেকে মাথা তুলেছে ওই বিরাট পাহাড়টা। উঁচু, কত উঁচু, যেন আকাশে ঠেকে গেছে। ওই পাহাড়ে একটা বড় গুহা আছে। সেই গুহায় ধ্যানস্থ এক সাধু। তাঁর পার্থিব শরীর কতটা প্রাচীন, কেউ বলতে পারবে না।

    আপনি আগে গেছেন?

    অনেকবার।

    কথা হয়েছে?

    না, একবার শুধু তাকিয়েছিলেন। সে দৃষ্টি আমি সহ্য করতে পারিনি। অন্তর্ভেদী।

    আমি কি উঠতে পারব? এ তো দুর্গম!

    আমি পারলে, তুমিও পারবে। শরীরটা হালকা করে নাও।

    কি করব? হালকা? কেমন করে করব?

    শ্বাস নিয়ে ধরে রাখো, কুম্ভক। দেখবে শরীর হালকা হয়ে গেছে। আগেই ভাববে না, পারব না। ভাববে, এ আমার পক্ষে কিছুই নয়। সামনের দিকে একটু ঝুঁকে থাকবে। এপাশে ওপাশে গাছের শেকড় ঝুলে আছে। সাহায্য নিতে পারো। কখনও পাহাড়ে উঠেছ?

    না।

    এই তোমার প্রথম। আমি তোমার পেছনেই আছি। আজকের দিনটা খুব সুন্দর। রোদ ঝলমলে। দূরের পাহাড় সব ঝকঝক করছে; যেন এক-একজন দেবতা। শিব শিব বলতে বলতে ওঠো। হিমালয় হল শিবভূমি। পৃথিবীতে অনেক বড় বড় পাহাড় আছে, পাহাড় দেবতা কোথাও নেই। এ হল ঋষিদের অবদান। দেবতারা এখানে মানুষকে কৃপা করে আসতে দেন। সাহায্য করেন। সে-ই আসতে পারে যার সংসার বন্ধন ঘুচে গেছে। এ-পথ গাড়ি-ঘোড়ার পথ নয়, পায়ের পথ। এই দেখ, তুমি কত সহজে উঠে এলে। কিছু বুঝতে পারলে?

    আমি উঠিনি। উঠেছেন আপনি।

    আমিও উঠিনি। উঠেছেন তিনি।

    তিনি? তিনি কে?

    যে যেমন বোঝে। শক্তি, শক্তি। মা আর বাবার একত্র শক্তি। জগতের আড়ালে কেমন বসে

    আছেন। পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় আলোর খেলা খেলছেন। মুঠো মুঠো ছুঁড়ে দিচ্ছেন মহাকাশে, গ্রহ, চন্দ্র, তারা। ওই দেখ, দেখ। তোমার কী ভাগ্য! গুহার বাইরে তিন দেবশিশু। আজ এসেছে, আজ এসেছে।

    আশ্চর্য!

    তুমি দেখতে পাচ্ছ তো?

    ওই তো। কোথা থেকে এল?

    গুহার ভেতরে বসে আছেন যে সাধক, তাঁর শরীর থেকে বেরিয়ে এসেছে তিনটি কাল–

    অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ। তিনটিই শিশু। দেহ দিয়ে আমরা কাল মাপি–আমার শৈশব, যৌবন, বার্ধক্য। আসলে এসব কিছুই নেই। স্তব্ধ বিশাল মহাকাল। তিনি চিরকিশোর। ওই দেখ, তিনজনে কেমন বিশাল চাতালে মহানন্দে ছোটাছুটি করছে!

    এ কি সম্ভব?

    অবিশ্বাস, অবিশ্বাস! সঙ্কারে বহু জন্মের সংসারী মানুষের প্যাঁচ। ভেতরটা জট পাকিয়ে আছে। এসো তোমাকে আমি এই পাহাড়ের ওপর থেকে নীচে ঠেলে ফেলে দি। আমি খুনি। এখানে কেউ নেই। ওই দেখ, তোমার মুখটা ভয়ে কেমন যেন হয়ে গেল। শোনো, যে মানুষ সত্যকে জেনেছে সে খুন হয়ে গেছে। তার আর কোনও বোধ থাকে না, মরে গেছে, না বেঁচে আছে! কী চাও তুমি? আমার সন্ধান তোমাকে কে দিয়েছে?

    এই প্রশ্ন আপনার কাছ থেকে আশা করিনি। সন্ধান দিয়েছেন ভগবান। আপনার বিশ্বাস এখনও পাকা হয়নি। কিছু অলৌকিক শক্তি পেয়েছেন, এই মাত্র।

    হ্যাঁ, তুমি ঠিক বলেছ। একেবারে ঠিক। তুমিই তাহলে আমার গুরু।

    আবার ভুল করলেন। একমাত্র গুরু ভগবান, সচ্চিদানন্দ। কেউ কারও গুরু নয়। তিনি যাকে কৃপা করবেন, যখন করবেন।

    বাঃ, বাঃ, এই তো, এই তো, আমার সন্দেহে তোমার বিশ্বাস বেশ পাকা হয়েছে। তুমি এই জ্ঞান পেলে কার কাছ থেকে? তুমি আলোকিত হয়েছ। তিনি একই সঙ্গে জ্ঞানী ও ভক্ত। তিনি বেলুড় মঠের প্রবীণ সন্ন্যাসী। তিনিই আমাকে শ্রীরামকৃষ্ণের জগতে নিয়ে গেছেন। তিনি কত সহজ, কত উদার! আমি ওই মহাপুরুষের আশ্রয়ে বেশ কিছুদিন ছিলুম। সন্ন্যাসী হতে চেয়েছিলুম। তিনি এক কথায় বলে দিলেন, শান্ত, সুন্দর, পবিত্র গৃহী হও। ঠাকুর চলে যাওয়ার পর গৃহীর বড় অভাব। শ্রীহীন পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। সমাজ দূষিত হচ্ছে। জানি না, তিনি আমার স্বভাবে, সংস্কারে কি দেখেছিলেন। তবে এ-ও ঠিক, আপনি একেবারে অন্যরকম রহস্যময়। আপনার আসল দিকটা ধরা যাচ্ছে না।

    আরে আমিই কি জানি কি হয়েছে আমার? আমার তো জেলে থাকার কথা। আমি তো আসামি! এই দেখ তোমার মুখের চেহারা বদলে গেল। ঘৃণার ভাব।

    ভুল করলেন। আপনার পড়াটা ঠিক হল না। আমি খুনিদের ডেরা থেকে পালিয়ে এসেছি। মিথ্যা অপরাধে আমাকেও ফাঁসানো হত। সে খবরও আমি পেয়েছি। ওই সব বলে আমাকে আর পরীক্ষা করবেন না। একটু আগে পাহাড়ে ওঠার সময় আমি অনুভব করেছি আমি উঠছি না, অদৃশ্য শক্তি আমাকে নিমেষে এই পাথরের চাতালে তুলে দিল। আপনি কোথায় কোন শ্মশানে, কোন গুহায় সাধনা করেছিলেন?

    তুমি একটি আধুনিক ছেলে, কি সাধনা, সাধনা করছ। ভোগের দুনিয়ায় চুটিয়ে ভোগ করো, বুড়ো হয়ে মরে যাও। আমিও মরে গিয়েছিলুম, এটি একই শরীরে দ্বিতীয় জীবন। ভাবছ গাঁজাখুরি গল্প! তা ভাবতে পারো। বিশ্বাস তো মনেরই একটা স্তর।

    ওই যে বললুম, আপনি এক রহস্য। আমরা গুহায় ঢুকে মহাপুরুষকে দেখব না?

    এমন কিছু ঘটবে, যাতে তুমি ভীষণ ভয় পাবে। তুমি তাঁর বালক রূপ দেখলে। তিনি কৃপা করে দেখালেন। আজ এই পর্যন্ত থাক। আচ্ছা, এমনও তো হতে পারে, তিনি ওই গুহায় নেই, বসে আছেন তোমার পাশে! না, না, ভয় পেয়ো না, আশ্চর্য হয়ো না। হতে পারে, এমন হতে পারে। তুমিও তো একদিন বালক ছিলে, সেই বালকটা কোথায় গেল? তুমি খুন করেছ? এই, এই, দেখেছ আমরা সবাই খুনি। অদৃশ্য খুনি। বিচার হবে না কোনও আদালতে।

    আপনি আমার মাথাটা খারাপ করে দেবেন। এইবার আমার সত্যি সত্যি ভয় করছে।

    ভয় নেই। তুমি নিরাপদ। এসো, বসা যাক।

    আমরা গুহার ভেতরে যাব না?

    ভেতরে যাব কেন? ওই তো তিনি এখন পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন, দেখতে পাচ্ছ না?

    অনেকটা উঁচুতে, ছোট্ট একটা বিন্দুর মতো। ওখানে কেন? ওখানে নয় কেন?

    ঠিক ঠিক। বোকার মতো প্রশ্ন করে ফেলেছি।

    আমরা যে স্তরের মানুষ, সেই স্তরে শুধুই কার্য-কারণ। কারণ ছাড়া কাজ অকাজ। উনি ভগবানের মতো নিঃসঙ্গ। সেইটাই উপভোগ করছেন। কেউ কোথাও নেই শুধু আমি আছি। উরেব্বাপরে! ভাবা যায়! পাগল হয়ে যাবে, আত্মহত্যা করে ফেলবে। ভগবানের মন আর। মানুষের মনে অনেক তফাত। তাঁর ভেতর থেকে হু-হুঁ করে কত কি বেরিয়ে আসছে। ওই দেখ, দু-হাত মেলে বুক চওড়া করে কেমন দাঁড়িয়ে আছেন। বড় বড় সাদা চুল, দাড়ি। বাতাসে বুকের ওপর লুটোপুটি খাচ্ছে। দেহ নেই, তাই মৃত্যুভয় নেই।

    ওটা তাহলে কী?

    আকার।

    তার মানে বাষ্প, ধোঁয়া?

    আলো হতে পারে, ছায়াও হতে পারে। জড়িয়ে ধরলে দেখা যাবে কিছুই নেই।

    মরীচিকা?

    তাও হতে পারে। যোগীরা কখন কী করে বসবেন কে বলতে পারে? ওই গুহায় খবরদার ঢুকো না। ওখানে মাঝে মাঝে একটা বাতাস আসে, অজগরের শ্বাস। তোমাকে টেনে নেবে। ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। একদিন আমাকে এই পাথরের ওপর বসে থাকতে বলে আমার গুরুদেব ওই গুহায় প্রবেশ করলেন, আর বেরুলেন না। আমি বসেই রইলুম। তিনটে দিন কীভাবে কেটে গেল। একদিন শেষ রাতে একটা কঠিন আদেশকানে এল, বসে আছিস কেন?যা দেওয়ার দিয়েছি, এবার নিজের পথে এগিয়ে যা। আমার ওই কুঠিয়ায় থাকবি। একদিন ওটাও থাকবে না। তখন পথই বলে দেবে পথ। কালের চিন্তা কালই করবে। আমাদের পথে ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই। সময়ের বাইরে যাওয়াই আমাদের সাধনা। আমি তো সেই জায়গাটায় যেতে পারিনি। ও কি সহজ নাকি? দেহ আছে মৃত্যু নেই, জন্ম নেই। এই শরীরটাও তো একদিন জন্মেছিল, একটু একটু করে বেড়েছে। সবকটা ইন্দ্রিয়ের তোড় সহ্য করছে, তাহলে?

    আশ্চর্য! আপনি আমাকে প্রশ্ন করছেন? আমার কাছে সব কিছুই তো দুর্বোধ্য। আমি জানি, আমি মরার জন্যে জন্মেছি। যে জগতে সবাই বেঁচে আছে, সেই জগতেই আমিও আছি। দিন আর রাত ঘুরে ঘুরে আসছে। বয়েস বাড়ছে।

    সে ঠিক আছে; কিন্তু, তুমিই বা এখানে কেন? আমিই বা এখানে কেন? ওই হরিদ্বারের গঙ্গার ধার। সম্পূর্ণ অচেনা একজন। ওঠো, চলো আমার সঙ্গে। এ-পথে অনেকে গেছে। তুমিও চলো। এ কোনও মন্দিরে যাওয়া নয়। জগতের এক স্তর থেকে আর-এক স্তরে যাওয়া। যেমন ফলের পোকা! ক্রমশ ঢুকছে। গভীরে, আরও গভীরে। হরিদ্বার যেন উঠান। হাজার মানুষের মিলন। কোনও ভয় নেই। যে মানুষ এসেছিল, সেই মানুষই ফিরে চলল। কিন্তু, ওখানে ফাঁদ পাতা আছে। সেই ফাঁদে পড়লে তোমার মুখ ঘুরে যাবে। জগতের সব শাস্ত্র সেখানে অচল। পৃথিবীর কোনও ঘড়িতে সেখানকার সময় ধরা যাবে না। সবাই চলছে, যাচ্ছে না কোথাও। দেখলে না, গুহা থেকে তিনটি বালক বেরিয়ে এসেছিল।

    সব, সব আমি শুনছি। কয়েকদিন ধরে শুনছি, আর আপনাকে দেখছি। আপনি খাবো বলে খাচ্ছেন না, ঘুমোব বলে ঘুমোচ্ছেন না, অথচ কী সুন্দর আছেন! এই অদ্ভুত অবস্থায় এলেন কী করে? এই স্বাধীনতা! এ তো শুনে বা পড়ে হয় না।

    তা হলে স্থির হয়ে বসে শোনো কী হয়েছিল? আমি শহর কলকাতার মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। জ্ঞান হওয়া থেকেই শুনছি–লেখা, পড়া, পরীক্ষা, পাশ, চাকরি, টাকা, বিয়ে, ছেলেপুলে, সংসার। এর বাইরে বিশেষ কিছু নেই। দম দেওয়া কলের পুতুল। দম দিয়ে ওই পেটাই করা লম্বা রাস্তায় ছেড়ে দাও। গড়গড় করে চলবে। দম হল টাকা। পালিশ হল গোটাকতক ডিগ্রি। বা, বা, বেশ যাচ্ছে, বেশ যাচ্ছে। তালি বাজাও, তালি বাজাও। গুড বয়, স্বার্থপর বয়, শয়তান বয়। আদর্শ বলে কিছু আছে কি? আদর্শ আবার কী? মেয়ে ধরে, খামচাখামচি করে বেঁচে থাকো। দরকার হলে মিথ্যে কথা বলো, ক্ষমতাশালীকে তেল দাও। মোসায়েবি করো। কাজ আদায় হয়ে গেলে স্রেফ ভুলে যাও। এইভাবেই বেশ চলছিল। হঠাৎ একদিন বাস থেকে নামতে গিয়ে মুখ থুবড়ে রাস্তায় পড়ে গেলুম। কেউ আমাকে পেছন থেকে জোরে ধাক্কা মেরেছিল। তারপরে কী হল আমি জানি না। ব্রেক কষার বিকট শব্দ। কিছু চিৎকার। এর পর যখন জ্ঞান হল, দেখলুম, পথের ধারে একটা ঝুপড়িতে চিৎ হয়ে শুয়ে আছি। একটি মেয়ের মুখ আমার মুখের ওপর ঝুঁকে। আমার ঠোঁটের ওপর ঠোঁট রেখে হাওয়া পুরে দিচ্ছে। চোখ চাইতে দেখে বলল, বেঁচে গেছে, বেঁচে গেছে। সুন্দর ধারালো মুখ, পাতলা খাড়া নাক, পাতলা ঠোঁট, এলো চুল আমার মুখের ওপর ঝুলে আছে। যুবতী। আমার মাথাটা তার কোলে।

    আমার নাকি প্রাণ ছিল না। পেছনের একটা গাড়ি আর একটু হলেই আমাকে শেষ করে দিত। সবাই মিলে ধরাধরি করে আমাকে তুলে এনেছে। মেয়েটার মধ্যে অলৌকিক একটা শক্তি ছিল। শিবের ভক্ত। প্রত্যেক বছর বাঁক নিয়ে তারকেশ্বরে যায়। তার শক্তির কথা। সকলেই জানে। সবাই সমীহ করে। যে-কোনও বিপদে মানুষ তার কাছে আসে। ঝকঝকে দুটো চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ। বেশ বুঝতে পারলুম, আমার ভেতরে কিছু আসছে। তার শ্বাসে ছিল কর্পূরের গন্ধ। আমার মনে হল, এই মেয়েটিকে ছেড়ে আমি কোথাও যেতে পারব না। আমার নতুন জন্ম হয়েছে। দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে আছি। আমাদের মধ্যে কিছু একটা হচ্ছে। আদানপ্রদান। কোনও কথা বলতে পারছি না। শব্দ বেরোচ্ছে না। তাকিয়ে আছি সেই রমণীর দিকে। জ্যান্ত মা দুর্গা। সাদা কাঁচুলি। হালকা নীলরঙের পাতলা শাড়ি। সাজিয়ে দিলে সিংহাসনে মহারানি। কালো কুচকুচে চুল পিঠ ছাপিয়ে কোমর পেরিয়ে গেছে। ধীরে ধীরে উঠে বসলুম। মাথা ঘুরছে। মালভরতি একটা বড় বস্তায় ঠেসান দিয়ে বসলুম। সারা শরীরে ব্যথা। হাঁটু দুটোয় বেশি লেগেছে। হাতের তালু দুটো জখম। দুজনে মুখোমুখি বসে আছি। দেখছি, শুধু দেখছি। সে জিগ্যেস করলে, কোথায় থাকো?

    কী আশ্চর্য! আমি সব ভুলে গেছি। অতীত মনে পড়ছে না। নাম ভুলে গেছি। জিগ্যেস করলুম, কী হয়েছে আমার?

    তুমি মরে বেঁচ্ছে। তোমার নাম কী?

    এইবার ভীষণ ভয় পেয়ে গেলুম। নাম মনে পড়ছে না। সর্বনাশ! ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঘুসের টাকার পাহাড়। কাগজপত্তর। পকেটে অনেক টাকা। সঙ্গে এমন কোনও কাগজ নেই, যা দেখে বলতে পারি, নামধাম ঠিকানা। মেয়েটি খিলখিল করে হাসছে আর বলছে, সাধে লোকে আমাকে নাগিনী বলে। আমার ছোবলে বিষ আছে। আমার লালার রং নীল। মুখে ঢুকলে ঘোর হয়। ভর হয়। আমি কী করব? আমার কী করার আছে? সব বাবার কৃপা। সেই বললে কি হয়েছিল আমার। এই মেয়েটি সেই সময় রাস্তা পার হচ্ছিল। যে গাড়িটা আমাকে পিষে দিতে পারত, সেটার টায়ার ফেটে গেল। আমাকে ধরাধরি করে এখানে তুলে আনা হয়েছে। বললে, কোথায় আর যাবে! আমার সঙ্গে নিমতলার শ্মশানেই চলল, এখন। সেখানেই আমি থাকব কিছুদিন। তোমার একটা লক্ষণ আমার ভালো লেগেছে, যা খুব কম। মানুষেই থাকে। তোমার জিভের ডগাটা চেরা। তুমি যদি কারোকে কামড়াও সে মরে যাবে। আমি অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলুম। সে বললে, তোমার পূর্বজন্মের কোনও একটি তোমার ভেতর এসেছে। যেটা ছিল সেটা তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে।

    ঝুপড়িতে কেউ নেই। সে আর আমি বসে আছি। পেছন দিকে অনেকটা জংলা জায়গা তারপর এক জোড়া রেললাইন। তারপর জমিটা ঢালু হয়ে গেছে একটা জলায়। একটা ভয়ের জায়গা। তাকালেই মৃত্যুর চিন্তা আসবে। প্রেত-পিশাচে গলা টিপে ধরছে। রক্তচোষা বাদুড় এসে গলায় দাঁত ফুটিয়ে রক্ত শুষে নিচ্ছে। মেয়েটি আমার খুব কাছে সরে এসে বললে, আমার সঙ্গে যাবে? তোমার খোঁজ তো ওরা করবেই, তোমার বাড়ির লোক। হাসপাতালে যাবে, থানায় যাবে, কাগজে কাগজে ছবি ছাপবে। তখন তো তুমি ধরা পড়ে যাবে। তা হলে?

    নিজেকে কেমন শিশুর মতো অসহায় মনে হল। পূর্বস্মতি একেবারে মুছে গেছে। অন্য স্মৃতি জাগছে। পরিষ্কার ধুতি, গোল গলা ফতুয়া পাঞ্জাবি, কাঁধে পাট করা সাদা চাদর, পায়ে চটি, আমি সেরেস্তা থেকে ফিরছি একটা ফিটনে চেপে। একটা নাম বারে বারে মনে পড়ছে সুধা। সুধা কে?নদীর ধারে বাগানঘেরা বাড়ি। পাশেই কালীমন্দির। ঘোরটা কেটে যেতেই বললুম, আমি তোমার। এমন জায়গায় নিয়ে চলো যেখানে আমাকে কেউই খুঁজে পাবে না। কিন্তু তোমাকেও যদি ভুলে যাই?

    তা ভুলবে না। জ্ঞান ফিরে আসার পর থেকে এইবার যা-যা হবে সব মনে থাকবে।

    নাম কি হবে? ঠিকানা কি হবে?

    সন্ন্যাসীর ওসব থাকে না।

    আমি তো সন্ন্যাসী হইনি।

    হবে।

    যে বস্তাটায় ঠেসান দিয়ে বসেছিলুম তার মধ্যে তুলো আর কাপড় দিয়ে জড়ানো ছিল মড়ার মাথা, হাড়গোড়। পঞ্চমুন্ডি আসনের জিনিসপত্র। সেইটা তুলে নিয়ে বললে, চলল। হাঁটতে পারবে? নিমতলা শ্মশানের উত্তর পাশে একেবারে গঙ্গার ধারে একসার কাঠের গুমটি ঘর। তারপরই যত কাঠ আর বাঁশগোলা। জায়গাটা খুবই অপরিষ্কার। বেশি আলোও নেই, অন্ধকার, অন্ধকার। বাতাসে চিতার গন্ধ, ফুলের গন্ধ, দিশি মদের গন্ধ। ভালোই লাগছে। মনে হচ্ছিল, অনেকদিনের পরিচিত জায়গা। সব যেন চেনা চেনা। মাথাটা ভারী হয়ে আছে। নাকটা থেবড়ে গিয়েছিল। মনে হয় ফুলে গেছে। জোর করে টেনে টেনে শ্বাস নিতে হচ্ছে। অদ্ভুত লাগছিল, আমি কে জানি না। অথচ হাঁটছি, কথা বলছি, গা ছমছম করছে, আবার মেয়েটির খুব কাছে থাকতে ভীষণ ভালো লাগছে। দরজাটা ঠেলতেই খুলে গেল। আলো জ্বলল। ঘরে কিছুই নেই। কাঠের মেঝের ওপর একটা মাদুর পাতা। গঙ্গায় জলের শব্দ। শ্মশানের দিকে বহু মানুষের কলরব। হরিধ্বনি। চিতায় চিতায় কাঁচা কাঠ। ভল ভল করে ধোঁয়া উঠছে। আলো পড়েছে। মহাদেবের জটার কুণ্ডলী। খুব ক্লান্ত লাগছিল। মাদুরে শুয়ে পড়লুম। মেয়েটি দরজা বন্ধ করে, আলো নিবিয়ে আমার পাশে শুয়ে পড়ল। নিচু গলায় আদেশ করলে, কেউ আসবে না, জামা-টামা সব খুলে ফেলল। রাস্তার ধুলো, ময়লা, রক্ত, জল সব লেগে আছে। আমিও সব খুলে ফেলছি। তোমাকে অনেকটাই বলে ফেললুম, আর না। এইবার নামার চেষ্টা। ওপর পাহাড়ে মেঘ জমেছে। জোর বৃষ্টি হবে, তখন এই চাতালের ওপর দিয়ে এত বেগে জল ছুটবে, আমরা ভেসে যাব। পাহাড়ে খুব সাবধানে, হিসেব করে। চলতে হয়। পদে পদে মৃত্যু। তুমি আগে নামো, আমি পেছনে আছি। ঝুঁকে নামবে না। পেছন দিকে শরীরটাকে টেনে রাখো, একটুও ভয় পাবে না। আমি আছি।

    গুহার ভেতরে শব্দ হচ্ছে।

    ভেতরে নয়, জল নামছে। নামো নামো। কুইক, কুইক।

    হড়কে, হড়কে প্রায় ধপাস করে নীচে। কিন্তু প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, কোমরে অদৃশ্য একটা দড়ি বাঁধা রয়েছে। রাস্তা ঢালু হয়ে কিছুটা নামার পর আবার ওপর দিকে ঠেলে উঠছে। একেবারে উঁচুতে আমাদের সেই খাবার জায়গা। আকাশ আজ তেমন পরিষ্কার নয়। দূরে। গভীর খাদ কুয়াশায় চাপা পড়ে গেছে। ওপরের আলো সব নীচে নেমে এসেছে। পথটা তাই ভীষণ স্পষ্ট। বড়-ছোট পাথরগুলোকে ভারি সুন্দর দেখাচ্ছে। ঠান্ডাও খুব। যে কথা বলছে, তারই মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরুচ্ছে। পাশ দিয়ে কে একজন ঘোড়ায় চেপে ওপর দিকে চলে। গেল। ধাবার মেয়েদের আজ যেন আরও ফর্সা দেখাচ্ছে। গালগুলো সব টাটকা আপেলের মতো লাল। মেয়েরা সব অপ্সরী। সেই তুলনায় পুরুষরা সব কাঠখোট্টা। মুখগুলো ফাটা ফাটা। কপালে বয়েসের ভাঁজ। মেয়েরা সব দশভুজা। খাটুনির শেষ নেই। নীচের নদীটা আজ রহস্যের আড়ালে। জলের শব্দ বেড়েছে। এক ধরনের সাদা ফুলে কিছু কিছু গাছ ছেয়ে গেছে। একেই বোধহয় বলে মন্দার। কয়েকটা পাখি উঁচু ডালে বসে বিষণ্ণ ডাক ডাকছে।

    আপনি তখন থেকে একেবারে চুপ। কি ভাবছেন?

    বুঝলে, আমি শেষ আদেশের অপেক্ষায় আছি।

    সে আদেশ আসবে কোথা থেকে?

    আসবে, আসবে। ঘড়ির মতো নিষ্ঠাবান, মনোযোগী হতে হবে। এক মুহূর্তের জন্যেও টিক টিক ছাড়ে না। কোনও ফাঁক নেই। সরু একটি সুতোও গলাতে পারবে না। খড়খড়ে কাঠের বেঞ্চি। কাঠ খুব পবিত্র। সব কাঠেই আগুন আছে। সবই জলেই স্নিগ্ধতা। আবার বিদ্যুৎও আছে। কিশোরী মেয়েটি দু-গেলাস চা দিয়ে গেছে। রান্নার জায়গায় কর্মযজ্ঞ চলছে। হিমালয়ের মশলায় অন্যরকম সুগন্ধ।

    আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে। আপনি অনেক অতীতের কথা বলেছেন, আপনার সম্পর্কে লোকের ধারণার কথা বলেছেন, জীবিকার কথা বলেছেন। সেও সবই আপনার প্রথম আমি। তারপর বিস্মৃতি। দ্বিতীয় আমির শুরু। ওই স্মৃতি তো মুছে যাওয়ার কথা। মৃত্যুর পর কিছু মনে থাকে না। থাকে জাতিস্মরদের। তা হলে?

    ঠিক। এ প্রশ্ন তুমি অবশ্যই করতে পারো। উত্তরও পাবে, তবে তার আগে আমার কাহিনি আরও কিছুটা বাকি আছে। এখন আমরা দুপুরের খাওয়াটা গরম গরম খেয়েনি। আজ আর বেশিক্ষণ বাইরে থাকা যাবে না।

    জীবনে এক একটা সময় আসে যে সময় খাবার ঝোঁকটা অনেক কমে যায়। কনখলের বটতলায় নিরঞ্জনী সাধুদের আখড়ার পাশে এই উদাস মানুষটির সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর থেকে জীবনটা ক্রমশই পালটে যাচ্ছে। আত্মীয়-স্বজন সকলের কথাই ভুলতে বসেছি। এখন একমাত্র তুলসীই স্পষ্ট। তাও এক তরফা। তুলসী আমাকে মনে রাখবে কেন? ঠিক সময়ে পণ্ডিতমশাই তার বিবাহ দেবেন। পণ্ডিতমশাইয়ের বয়েস হচ্ছে। সংস্কৃত আর কেউ তেমন শিখবে না। টোল উঠে যাবে। জমিদারিও গুটিয়ে আসছে। জমিদারবাড়িটা খুব সুন্দর ছিল। খিলানের পর খিলান। ঘরের পর ঘর। বড় বড় দালান। লম্বা লম্বা বারান্দা। জাফরি। রোদ পড়লে জাফরি মেঝেতে নকশার ছায়া ফেলত। ঘরে ঘরে দামি আসবাবপত্র। সব মেঝেই মার্বেল পাথরের। এক-একটা অংশ এতটাই নির্জন, দিনের বেলাতেও ভয় করত। সুন্দর। গোপাল-মন্দির, শিবমন্দির, রাধামাধব। বাড়িটা কিন্তু পাপে ভরা। গণিকারাও বেশি রাতে আসত কারও কারও লালসা মেটাতে। বেশিরভাগ মানুষ কামুক। ভোলা মালি নয়, ভোলা ভয়ংকর। ফুলের বাগানে রক্তমাখা ছুরি হাতে ঘোরে। ছোটবাবুর যত অপকর্মের সহকারী। মস্ত বড় একটা মিনার্ভা গাড়ি সদরে। সেই গাড়িতে চেপে নায়িকারা আসে। এই ভোলাই হয় তো একদিন তুলসীকে তুলে আনবে, আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। একটা ঘর আছে, মদের ঘর। সেই ঘরের মেঝেতে দুপুরবেলায় আমি মাতাল সুন্দরীকে পড়ে থাকতে দেখেছি। মাইনে করা ফটোগ্রাফার ছবি তুলছে। শরীরের বিশেষ বিশেষ অংশ অনাবৃত করে। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছি। মেঝেতে আমার পা আটকে গেছে। পরে নিজের দুঃসাহসকে তিরস্কার করেছি। ধরা পড়লেই জ্যান্ত কবর। প্রশ্ন করেছি, তোর এত কৌতূহল কেন? উপন্যাস লিখবি?

    হঠাৎ এক ঝলক রোদ? চারপাশ যেন খলখল করে হেসে উঠল। কুয়াশা পালাবার পথ পাচ্ছে না। দূরে অন্নপূর্ণা রেঞ্জ। এভারেস্টের চূড়া দেখা যাচ্ছে। পেছন থেকে মাথা তুলে আছে। এ ডাকছে কুংকু, ও ডাকছে কুংকু। হলুদ পোশাক পরা মেয়েটি চরকিপাক খাচ্ছে। এতটুকু বিরক্তি নেই তার। সব সময় একটা সুর গুনগুন করছে। এরই ফাঁকে আমাকে একটা সাদা। ফুল উপহার দিয়ে গেল। কাজ করতে করতে দূর থেকে দেখছে। ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি। কিছু বলতে চায় ফোঁটা ফুলের ভাষায়। আমি বিদেশি হলেও ফুলের ভাষা সর্বত্র এক।

    কুংকু তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছে। কদিন থেকে দেখছি। ষোলো থেকে কুড়ি বসন্তকাল। তিরিশের পর পাতা ঝরা। তারপর বরফ। শ্বেত ভল্লুক। ঝাঁপসা কুয়াশা। সব পাতা ঝরে। গেছে। আঁকাবাঁকা সরু সরু ডাল। তখন অন্য ভাষা, ভিন্ন সুর। ওকে নিয়ে একদিন বেড়াতে যাবে ওই ওপরে, চমৎকার একটা জায়গা আছে পাথরের আড়ালে, একেবারে আকাশের গায়ে। হৃদয়ে হৃদয় ঠেকিয়ে নারীর বুকের ভাষা শুনবে। সেই একই কথা আদি থেকে অন্তে।

    আপনি কবিতা লিখতেন?

    না, কখনই না। ভীষণ বিষয়ী, স্বার্থপর, ভোগী।

    যাক, নিজেকে চিনতে পেরেছেন! কজন পারে!

    কুংকুই খাবার নিয়ে এল। গরম ধোঁয়া ছাড়ছে। আজ তার সাহস বেড়েছে। যাওয়ার সময় এমন ভাবে ঘুরল, যাতে তার পেছনটা আমার কাঁধে ঠেকে যায়। এ আমার কি নিয়তি! জমিদারবাড়ির মন্দিরে রোজ সন্ধ্যারতির সময় ইচ্ছে করে আমার পা মাড়িয়ে দিত। একদিন আমার জামার পকেটে অজ্ঞাতে একটা কাগজের টুকরো ঢুকিয়ে দিয়েছিল। লেখা ছিল বোকচন্দর। আমার মা নেই। থাকলে জিগ্যেস করতুম, মা, ওরা কেন এমন করে!

    কুংকু গরম ডাল এনেছে। আকুল করা গন্ধ। যাবার সময় আরও সাংঘাতিক কাণ্ড করে গেল। একটা চামচে ইচ্ছে করে মেঝেতে ফেলল, তারপর তোলার সময় হাঁটুতে হাতটা রেখে ঝট করে তুলে নিল। কীসের ইঙ্গিত! এত বড় একটা পৃথিবীতে ছোট্ট এতটুকু একটা ঘটনা। পৃথিবীতে কত বড় বড় শব্দ; তার মধ্যে ছোট্ট টুনটুনির এতটুকু ঠোঁটের টুইট টুইট শব্দ কান কেড়ে নেয়।

    ঝলমলে রোদই যখন উঠল, আমরা তখন একটু নীচের দিকে নামতে পারি তো?

    সবই আপনার ইচ্ছে। আমার ইচ্ছে বলে কিছু নেই।

    যথেষ্ট ভেবেচিন্তে বলছ তো?

    একেবারে।

    নীচে ছোট্ট সুন্দর একটা বাজার আছে। পাহাড়ের ওপর থেকে দুধের ধারার মতো ওই যে ঝরনাটা নামছে, ওখানে ভারি সুন্দর ছোট্ট একটা নদী হয়েছে। সেই নদীর ধারে একটা। পাহাড়ি গ্রাম। মানুষগুলো খুব ভালো। কতরকমের সুন্দর সুন্দর জিনিস তৈরি করে। হাতের কাজ। এখানে মানুষের খারাপ হওয়ার উপায় নেই, উপাদান নেই। কিছু নেশা-ভাঙ আছে। তা থাক। মহাদেবের দান। জায়গাটা আমার ভালো লাগে। ওখানে তন্ত্র আছে। পার্বতীরা আছেন। তাঁদেরই আধিপত্য, শাসন। ভৈরবদের হম্বি-তম্বি করার উপায় নেই। মা কালীর তারার রূপ। শিবের বুকে চড়ে বসে আছেন। বড় রহস্যময় জায়গা। গেলেই বুঝতে পারবে। মহাভারতের যুগে ওখানে কি হত কে জানে!

    প্রায় আধঘণ্টার উতরাই পথ। সত্যই সুন্দর। তাসের ঘর-বাড়ি। সুন্দর সুন্দর রং। সরু সরু পথ ভেতর দিকে, নদীটার দিকে চলে গেছে। কলকল, খলখল শব্দ। ছোট ছোট তাঁতে স্কার্ফ বোনা হচ্ছে। অপূর্ব রঙের বাহার। পুরুষের দেখা নেই। মেয়েদের রাজত্ব। চতুর্দিকে শক্তির খেলা।

    এসো, খুব ভালো দেখে একটা স্কার্ফ কিনি।

    কার জন্যে?

    তোমার জন্যে।

    আমি কী করব?

    দেবে। একজনকে উপহার দেবে। তোমার প্রেমিকাকে।

    আমার প্রেমিকা? সে কে?

    তুমি অন্ধ নাকি? দেখতে পাও না! তার নাম কুংকু।

    কি বলছেন আপনি।

    একটু আগে কি বললে? আমি যেমন চালাব। কুংকুর সঙ্গে তোমার বিবাহ দেব।

    এ আপনি কি বলছেন? এদের সমাজ, ভাষা, সংস্কৃতি সব আলাদা। এরা আমাকে গ্রহণ করবে কেন?

    প্রেমের একটিই ভাষা, একটাই জাত, একটাই বিধান, অভিধান, একটিই কথা, ভালোবাসি। আবির্ভাব মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায় নয়, মানুষের অন্তরে, নদীর গর্জন নয়, ছোট ছোট তরঙ্গ, বিরাট বিরাট পাথর, ছোট ছোট রং-বেরঙের নুড়ি। ঝড় নয় পাতা কাঁপানো ছোট ছোট বাতাস, তোমার, আমার শ্বাসের মতো। ঘাড় ছুঁয়ে যায়, গলার কাছে খেলা করে। পাতলা দুটো ঠোঁটের তুলি-স্পর্শ, মৃদু দংশন। শরীরে কদম্বের জাগরণ। অত বড় নারায়ণ ছোট্ট একটি শালগ্রাম। মানুষের ভালোবাসায়, কুরুক্ষেত্রের গোপাল, যোদ্ধা শ্রীকৃষ্ণ, গৃহমাতার কোলে, চুকচুক করে দুধ খাচ্ছেন। ওহো! অধিক উচ্ছ্বাস ভালো নয়। দেখো, এই শালটা কি তোমার পছন্দ?

    খুব সুন্দর।

    আর তোমার জন্যে এই টুপিটা?

    অপূর্ব! আর আপনার জন্যে এই সুন্দর চাদরটা?

    পকেটে হাত ঢুকিও না। তোমার সঙ্গে আমার একটা অদ্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যদিও আমি তোমার নাম জানি না, তুমিও আমার নাম জানো না।

    আপনার নাম সম্ভবত আমি জানি, প্রবোধ।

    আশ্চর্য! কি করে জানলে?

    গভীর রাতে আপনার কাছে অনেকে আসেন। মজলিশ বসে যায়। সে এক অন্য জগতের ব্যাপার। আপনাকে প্রবোধবাবু, প্রবোধবাবু বলে ডাকেন।

    তুমি শুনতে পাও?

    স্পষ্ট।

    সে কী? তাহলে তুমি অনেকটা এগিয়ে আছে।

    বিয়ে করা কি উচিত হবে!

    আমি করেছি–পার্বতী আমার গুরু, আমার সহধর্মিণী। আমাকে সে গিলে ফেলে উগরে দিয়েছে। যেমন পার্বতী মহাদেবকে করেছিলেন।

    আমার ভয় করছে। প্রথম কথা আমি আপনাকে ছেড়ে থাকতে পারব না। দ্বিতীয় কথা, আমার তো কোনও রোজগার নেই।

    তোমরা আমার কাছেই থাকবে। তোমরা নীচে, আমি ওপরে। আর রোজগার? ওই দোকানের তুমিও একজন অংশীদার, কর্মী হবে। কত টাকা চাই? একবস্তা, দু-বস্তা। শঙ্কর! মেয়েটা দেবী। পরে বুঝবে।

    আপনি আমার নাম জেনে ফেলেছেন?

    এ আশ্চর্যের কিছু নয়। একদিন তুমিও পারবে।

    আমাকে তো কিছুই করালেন না!

    আমি তো তোমাকে দিয়ে যাব। তোমার কিছু করার দরকার নেই। আমার মতো জীবন-মরণ কষ্ট তোমাকে করতে হবে না। তুমি ভালোবাসো। ওর চেয়ে শ্রেষ্ঠ সাধনা আর নেই। আজ পূর্ণিমা। ওই জায়গাটার মাথার ওপর থালার মতো চাঁদ। রুপোলি আলোর বন্যা। সেই আলোয় সবাই চকচক করছে। রং-বেরঙের পোশাক। গরম গরম খাবার ধোঁয়া ছাড়ছে। মশলার গন্ধ। চাঁদের পাশ দিয়ে সাদা পক্ষীরাজের মতো ভেসে যাচ্ছে হালকা একখণ্ড মেঘ। তোমাদের নিয়ে আজ আমরা খুব আনন্দ করব। মানুষই হাসে, মানুষই কাঁদে। ভগবানের সুখ-দুঃখ নেই, তাই তাঁর কিছু নেই। সাক্ষী পুরুষ। তুমিই মরবে, তুমিই বাঁচবে, তুমিই কাঁদবে, তুমিই হাসবে। প্রেমও তোমার, ঘৃণাও তোমার। তোমারই রোগ, তোমারই আরোগ্য। পাহাড় ঘেরা মধ্যপ্রদেশের ভীষণ অরণ্যে পার্বতী আমাকে বারোটা বছর সাধন করিয়েছে। তিন-তিনবার আমাকে সাপে কামড়েছে, তিনবারই পার্বতী আমার বিষ তুলে নিয়েছে। কাঁপালিকরা মহাকালের কাছে আমাকে বলি দিতে চেয়েছে। পার্বতী রক্ষা করেছে। অঘোরীরা আমার দেহ খণ্ড খণ্ড করতে চেয়েছে। পার্বতী চামুণ্ডা মূর্তি ধরে আমাকে রক্ষা করেছে। প্রেত পিশাচের দুনিয়ায় কুণ্ডলিনীর শক্তি ছাড়া তুমি এগোবে কি করে! সব শেষে এই হিমালয়।

    তখন আর দেহ নয়, মন। পার্বতী কামরূপ-কামাখ্যার বজ্রযোগিনী। বৌদ্ধ-তন্ত্রে সিদ্ধা। মারণ, উচাটন-বশীকরণ, কামকলা তার আয়ত্তে। তার বশীকরণ শক্তিতে আমার স্মৃতি যেমন লোপ পেয়েছিল, আবার ফিরে এল শুধু এক জন্মের নয়, জন্ম-জন্মান্তরের স্মৃতি নিয়ে। কাল কী হয়েছিল এটা মনে রাখা অতীত জ্ঞান নয়। পূর্বজন্মই অতীত, পরজন্মই ভবিষ্যৎ। পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকারকে টেনে বের করে আনাই ডাকিনী বিদ্যা। তোমাকে বলিনি আগে, আজ বলছি, আমি হাততালি দিলে, যে শুনবে সে-ই সম্মোহিত হবে। সব ভুলে যাবে। যেটুকু মনে করাব, সেইটুকুই মনে পড়বে। দশমহাবিদ্যার সমস্ত রূপ পার্বতী আমাকে দেখিয়েছে। ক্ষুদ্র, সঙ্কীর্ণ সংসারে আমার স্থান হল না। আমার শেষ গতি ওই গুহায়। তোমাকে কেন যেতে দিইনি জানো, ঢুকলে আর বেরোতে পারবে না। তুমি এখনও যুক্তিবাদী, প্রচলিত বিজ্ঞানেই বিশ্বাসী। স্বাভাবিক। এখনও জীবনের অনেকটাই তোমার দেখা বাকি। যে-অরণ্যে আমাদের বারোটা ভয়ংকর বছর কেটেছে, সেখানেই মহাভারতের কালে মহামুনি বশিষ্ঠদেবের আশ্রম ছিল। শঙ্করাচার্য সাধনা করেছিলেন। এইখানেই অঘোরীরা তারা দেবীর শিলায় তাঁকে বলি দিতে গিয়েছিল। শঙ্কারাচার্যের অতি প্রিয়, অনুগত শিষ্য পদ্মপাদ তাঁকে রক্ষা করেন। পদ্মপাদনৃসিংহের উপাসক ও সিদ্ধ ছিলেন। তিনি নৃসিংহ মূর্তি ধারণ করে অঘোরীদের চক্র তছনছ করে দিয়েছিলেন। বর্তমান মুছে যায়, অতীত মোছেনা। বর্তমান অতীতে স্থায়ী হয়, তখন গল্প নয়, কল্পনয়, ইতিহাস। এত বড় ভূমিকার পর সেই অবিশ্বাস্য কথাটা বলি, ওই গুহার মধ্যে বুদ্ধদেবের আসন। অমিতাভ বুদ্ধ। তিনি আসেন, আবার চলে যান, আবার আসেন। কেউ জানেই না, ওখানে একটা গুহা আছে। কেউই আমাদের ছেড়ে চলে যাননি, বুদ্ধদেব, যিশু, মহাপ্রভু, পরমহংসদেব, স্বামীজি, সারদা মা, সিস্টার নিবেদিতা। আমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছেন। ডাকলেই দেখা দেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article পালামৌ – সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    লোটাকম্বল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }