Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঘোরানো সিঁড়ি – মহাশ্বেতা দেবী

    মহাশ্বেতা দেবী এক পাতা গল্প109 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঘোরানো সিঁড়ি – ৫

    পাঁচ – আমি আর বউদি

    ওই হাঁপানিই দাদাকে নিয়ে গেল পনেরো বছর আগে। খুব, খুব কষ্ট পাচ্ছিল দাদা। সুভাষ কলকাতা থেকে গাড়ি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং তা দেবার লোক নিয়ে আসে।

    খুব কাজ হয়নি।

    বউদির ছেলেমেয়ের মধ্যে যতিনাথ ও সুলতা আগেই এসেছিল। মাধবী ও সবুজ তো আমেরিকায়। ওদের আসার কথা ওঠেইনি। স্বাধীন আগে, তপা পরে আসে। সুভাষ আগে আসে, বিনি পরে এল।

    এই যে ছেলেমেয়েরা যে—যার ইচ্ছায় বিয়ে করে, দাদা খুব মর্মাহত হয়েছিল। তার ধারণাতেই ছিল না, যতিনাথ বাবা—মাকে কিছুই না বলে রেজেস্ট্রি বিয়ে করবে।

    দাদা বলল, আমারে বললে আমি কী করতাম? বাধা দিতাম, আমি কি দেখি না, পোলা মাইয়া সব স্বেচ্ছায় বিয়া করে?

    আমি ব্যাপারটা হালকা করতে চাইলাম। বললাম, দাদা! ওরা কেও এহানে থাকত না।

    —কলকাতা টাইনা নিতেছে অগো।

    —আমরা তো থাকলাম।

    —যতি আছিল নেরু (নিরীহ) পোলা। হে এট্টা মেয়েরে বিয়া বসল, যে নিজেও পরায়। দুজনেই কাজে যাইব, সংসার দেখব কেডা?

    বউদির ঈশ্বর বিশ্বাস খুব গভীর। তিনি বললেন, শিক্ষিৎ মাইয়া খারাপ হইব না। যতি তো তুমি নয় গো! মায়ের কথায় কাঙালিনীর মাইয়া লইলা। মা গো! তহনে ”মৃণাল” লেখতে ”ম্রিনাল’ লেখি।

    —তোমার লগে তার তুলনা?

    বউদি লিখলেন, তোমরা আসিবে। এখানে ছোট করিয়া পাকস্পর্শ হইবে। তোমরা কলকাতায় থাক। আমরা পল্লীসমাজে থাকি। তোমার বাবার দেহ ভাল যায় না। একুশা আষাঢ় শুভদিন। তোমরা আসিবে।

    মজার বাপার, সুলতা এতে খুব খুশি হয়। হলে বা যতির সতীর্থ, সমবয়সী,—চেহারাটা কচি কচি, মুখ চোখে আলগা শ্রী আছে। সে সারাদিন গৌরাঙ্গদের বাড়িতে থাকল। সন্ধ্যায় ভাড়া করা মোটরে এ বাড়ি এল। বধূবরণ করে গালচেতে বসিয়ে বউদি তাকে একজোড়া রুলি, একটি ঢাকাই শাড়ি দিলেন।

    শতখানেক নিমন্ত্রিত ছিল। খরচপাতি আমিই করলাম। বিয়েতে ওরা বই, শাড়ি ও টি—সেট পায়। মা—বাবার ছবিতে প্রণাম করালেন বউদি। হাসনুহানা, দোলনচাঁপা, রজনীগন্ধা, সবই ছিল বাগানের ফুল।

    সুলতা বাড়ি দেখে মুগ্ধ। বলে, চেঞ্জে যাব না কোনদিন, এখানেই আসব।

    সুলতার মামা দাদার সহকর্মী ছিলেন। ফলে সুলতা দাদার সঙ্গেও কথাবার্তা বলল খুব।

    ওরা চলে গেলে দাদা বলল, স্বজাতি নয়। কী করা যাইব? অহন তো এ বিয়া আইনসিদ্ধ। আমার দুঃখ, যতিনাথ ডবলিউ—বি সি এসে বসব না। কলেজে পরাইব।

    সরকারি সার্ভিসের মর্ম এরা বুঝল না।

    আমি বললাম, মন্দ কী? মাইনে তো বাড়বে। শুরুতেই আটশো দাদা!

    —দেখ, ভাল হইলেই ভাল।

    সবুজ ও মাধবীর প্রেম, বিবাহ, বিদেশগমন, সবই সাইক্লোন গতিতে হয়ে যায়। মাধবী ও সবুজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিলই। কিন্তু সবুজের দিদির স্পনসরশিপের জোরে সবুজ সবুজ কার্ড পায়। এই টাউন,—কলকাতা, —বন্ধুদের সঙ্গে কিছু ঘোরা,—একবার সেমিনারে দিল্লি যাওয়া, এটুকু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মাধবী চলে গেল আমেরিকা।

    ও একা এসে বাবা—মা—আমাকে দেখে গিয়েছিল। আমেরিকা থেকে লিখেছিল, দু’বছর বাদে ও নিজে টাকা দিয়ে মা—বাবাকে নিয়ে যাবে। বাবার চিকিৎসা করাবে।

    দাদা আস্তে বলল, কবিরাজী ত্যালটা ন্যালার মা ভাল মালিশ করে।

    তারপর বলল, মনটা নির্লিপ্ত করতে চেষ্টা করতে আছি মিরনাল! সহজ নয়, তবু পারুম।

    আমি বললাম, তুই বিয়া দিলেও তারা যাইতে পারত, অহন তো যায়। ও নিজে বিয়া কইরা গিছে। ভাল মনে ল’ ব্যাপারটা।

    —হ! কিছু পাইতে গিছে, পাউক।

    স্বাধীনকে কেন তপার বাবা নির্বাচন করেন, তা বোঝা খুব সহজ। স্বাধীন হাই—ফাই কাজই করছিল ওঁর চা—রপ্তানির অফিসে। ওঁর তিন মেয়ে, তপা—দীপা—রূপা। ওঁর তিন মেয়ের তিনটি বাড়ি সলট লেকে এ—ই সেকটরে। ওঁর দরকার ছিল ঘরজামাই।

    অবশ্য আনুষ্ঠানিকতা বজায় রেখেছিলেন। গাড়ি নিয়ে প্রস্তাব করতে আসেন। স্বজাতি, স্বঘর, বৈভব দেখে পাত্রপক্ষ আসে। স্বাধীন সে গোত্রের নয়। সে বলছে, মা—বাবা—কাকাকে বলুন।

    বউদি বলেছে, দেখলেন তো অর বাবারে! অহন আমরা তো কিছু পারতাম না।

    —অনুমতি করেন, সব করে দেব। তপা আমার অফিসও দেখে! ওরা দু’জনে দেখবে। নয়, রিসপশানে যাবেন?

    —কেমুন কইরা? আমার কর্তব্য ইয়ার সেবা করা। আমি যাইতে পারি?

    —কাকা?

    —ইনিই তো ধইরা আছেন সংসার।

    —এই তো! এমন না হলে পরিবার? এমন না হলে স্বাধীনের মতো ছেলে হয়? কিন্তু এখানে এমন…..

    বউদি যেন অনেক দূর থেকে বললেন, বউ নিয়া আইব স্বাধীন! আশীর্বাদ লইয়া যাইব। কাছ থিকা হউক, দূর থিকা হউক,—আশীর্বাদ তো অর দাদা আর দিদিরেও করছি! স্বাধীনরে কইয়েন, বাপরে য্যান দেইখা যায় একবার!

    তপার বাবা বললেন, সে কী বলছেন! বাবাকে গাড়ি এনে নিয়ে চলুক কলকাতা! ভাল ডাক্তার……… ভাল নার্সিং হোম………

    —আর লাগত না। একবার য্যান দেইখা যায়। ঠাকুরপো বরো পোলা আর সুভাষরে লেইখা দিবেন, তারাই য্যান দারাইয়া শুভকার্য সম্পন্ন করে। ইনির দ্যাখেন, বুরাবয়সে হাপানি ধইরা দ্যাহ ভাঙল। কলকাতায় লইয়া চিকিৎসা তো ঠাকুরপো করাইছে। আমার মন এহানে, …. কী বা করতাম? আর অবস্থাও দ্যাখলেন। আমরা চলছি আমাগো মাপে।

    —তাতেই তো এমন সব সন্তান হয়েছে! সুসন্তান দিয়ে দেশকে আপনারা এনরিচ করেছেন।

    উনি সঙ্গে অনেক মিষ্টি এনেছিলেন। সম্ভবত ওঁর অফিসের একটি ছেলে ও ড্রাইভার সঙ্গে ছিল। বউদি আমাকে বললেন, অগো খাইয়া যাইতে বলেন।

    তপার বাবা হাত জোড় করলেন। বলেন, ভাত তো চলবে না বেহান। মেয়ের বিয়ে দিতে এসে….

    —কিছু হইত না। আর…… ইনি কারেও না খাওয়াইরা ছারে নাই। স্বাধীনরা ফুটবল খেইলা ফিরতে দেরি করছে, তো রাত দশটায় ওদের সগলটিরে পাক কইরা খাওয়াইছি।

    —বেয়াইয়ের কথা যখন বললেন……. খেয়ে যাব। তবে বেশি কিছু নয়। সন্ধ্যাতেই ফিরব।

    —না, রাতে যেয়েন না। পথঘাট….. শুভ কার্যের আগে কুনঅ বিপদ হইতে পারে….

    আমি মাছ আনলাম। বউদি ডাল, পাঁচ রকম ভাজা, টাটকা রুই মাছের ঝোল, ঘরে পাতা দই, টাটকা রসগোল্লা পরিবেশন করলেন বড় বড় খাগড়াই কাঁসার থালা—বাটিতে।

    তপার বাবা মুগ্ধ হয়ে বললেন, দেশে গেলে ঠাকুমা রাঁধতেন। সেই কথা মনে পড়ছে।

    —আপনাগো দ্যাশ?

    —নদীয়া—মেহেরপুর!

    —সে তো দ্যাশ ভাগে গিছে।

    —হ্যাঁ….. ওই পুজোতে যাওয়া হ’ত! বাড়িতে মা কষে রাঁধতেন, ভুলে গেছি। আমার স্ত্রী তো…

    —ব্যস্ত থাকেন!

    —খুব, খুব। মা…. মেয়েরা…

    —আরেকটা মাছ নেন!

    খুব তৃপ্তি করে খেলেন ভদ্রলোক। বাগানে গিয়ে গাছ দেখতে দেখতে আমাকে বললেন, আমার মেয়ের সৌভাগ্য যে এমন পরিবারে বিয়ে করছে।

    —দেরি করবেন না….দাদার শরীর ভাল যায় না….

    যতিনাথ, সুলতা, সুভাষ ওদের বন্ধু বান্ধবই স্বাধীনের বিয়েতে যায়। শুনলাম সে খুব আলিশান বিবাহ। বউদিকে ওরা অতীব দামি এক লালপেড়ে গরদ দেয়।

    বিয়ের পর যতিনাথ, সুলতা, সুভাষ সকলেই আসে ওদের নিয়ে। সদর শহরে সার্কিটহাউসে উঠে স্নান করে তাজা হয়ে তবে এল নববধূ।

    তপার বিষয়ে বলব, ও যা, তা তাই। কোন ভানভনিতা নেই। কাঠ কাঠ চেহারা, স্বল্পভাষী, মেপে হাসে, প্রণাম করল আলতো ছুঁয়ে।

    বউদি ওকে একটি মুর্শিদাবাদী সিল্ক ও আংটি দেন। দিনে খেয়ে বিকেলে ওরা সার্কিটহাউসে ফিরে যায়। স্বাধীন কাতর কণ্ঠে বলে, ওর বাবার বন্দোবস্ত…. আমরা দার্জিলিং যাব…. চা—বাগানে…… ফিরে এসেই বাবাকে দেখতে আসব।

    —আসিস। ভাল থাকিস। সাবধানে থাকিস।

    তপাকে বললেন, স্বাধীন আমার শান্ত পোলা। অরে দেইখো। জ্বর হইলে কাতরায় নাই, পা ভাঙলে উঃ করে নাই……… তুমি বুদ্ধিমতী………. শিক্ষিত….. ভাল থাইকো মা…. আমরা পয়সা চিনি নাই… পোলাগো মানুষ করতে চেষ্টা করছি…..

    তপা ওঁর হাতে সামান্য চাপ দিয়েছিল। সেটাই যেন আশ্বাস দিল।

    ওরা চলে গেলে বউদির ঠোঁট কেঁপেছিল, চোখ সজল হয়েছিল।

    দাদা বলল, কাইন্দনা মিরনাল!

    —স্বাধীনরে অরা গ্রাস করবে।

    —ক্যান মিরনাল, এ কথা বলো ক্যান?

    —তার চক্ষু ধাধাইছে গো! কৎ বরো বারি দিছে শ্বশুর! গারি দিছে অগো! বারির সগল জিনিস না কি বিদ্যাশের! সুলতারে কইতে আছিল। দার্জিলিংয়ে বরো হোটেলে থাকব!

    —ঠিকোই আছে। কালের গতি! তুমি আমি কী করতাম?

    কী করতাম? কী করেছিলাম? কোনদিন বিদেশী কাপড় পুড়িয়েছিল এ দেশ? কত বিপ্লব, কত সংগ্রাম,—স্বাধীনতার আগে এবং আজও কত আন্দোলন।

    দেশের জন্যই তো সব! সে যে পার্টিই করুক। দেশ দেশের মতোই থাকল। বিদেশী আক্রমণ এখন পোশাকে, প্রসাধনে, ওষুধে, গৃহসজ্জায়, সর্বত্র!

    আদিনাথ আর মৃণালের তিন ছেলে, এক মেয়ে। নাতি নাতনি চারটি।

    স্বাধীন ও তপা এখন এন. আর. আই। নন রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান। রাজর্ষি বা রাজ্যশ্রী হয়ে গেছে রাজ ও রিচা। ওরা বাংলা জানে না। রুমা তো থাকলই না।

    মাধবীর এন. আর. আই. ছেলেরা অরু ও বীরু আমেরিকাতেই বড় হ’ল। বাংলা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য প্রবাসী বাঙালিরা যেসব অনুষ্ঠান করেন, তাতেও ওরা যেতে চান না,—একদা মাধবী লিখেছিল। ‘আ মরি বাংলা ভাষা”র দেশে মফঃস্বলে, সমৃদ্ধ গ্রামেও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ভাইরাস ব্যাপক ছড়িয়েছে।

    আমরা তিনজন যেন নটাকোলেই ফিরে গেলাম।

    সুভাষের বিয়েও ধর তক্তা মার পেরেক গোছের। বিনিকে ও প্রায় কিডন্যাপ করে বিয়ে করে। বিয়ে করেই চলে এসেছিল এখানে। বলল, রেজেস্ট্রি সেরেই আসছি মা! বরণ করো, আমি সিঁদুর পরাই।

    বিনিই অনুষ্ঠান অভাবে খুব দুঃখ পায়। বউদিকে বলল, আমার কবে থেকে ইচ্ছা, হোমযজ্ঞ করে বিয়ে হবে! আমার বাড়ি বলতে তো মাসির বাড়ি। আপনাদের জানালে হয়তো হ’ত।

    —না রে মা! অর বাবা যে কষ্ট পাইত্যাছে। কে হোম যগ্য বেবস্থা করে, বলো?

    বিনি বুঝেছিল। বিনি তপার চেয়ে অনেক ইংরেজিনবিশ, অনেক শিক্ষিত। আবার ওর মধ্যে একটি খাঁটি মানুষ আছে।

    বউদির একমাত্র ঢাকাই শাড়ি পরিয়ে দেন বউদি। একমাত্র রুপোর সিঁদুর কৌটো থেকে ওর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে কৌটোটি দেন। বলেন, এর বেশি পারলাম না রে মা!

    সুভাষ বাড়ির বাতাসে মৃত্যুর আগমনবার্তা শুনেছিল? জানি না।

    কিন্তু ওই গিয়ে মাছ কিনে আনল। ন্যালার মাকে বলল, জমিয়ে রাঁধো। আমরা খেলেই হ’ল।

    জিগ্যেস করলাম, তোরাও কি হনিমুনে যাবি?

    —কিসের? ব্যস্ত, ব্যস্ত এখন কাকা! ফিরে যাব।

    বিনি আমাদের অবাক করে বলল, আমি ক’দিন থেকে যাব। তুমিই বা কী? এখানে এমন অবস্থা দেখে ফিরে যাবার কথা বলছ?

    —মিটিং, মিটিং, অ্যাপয়েন্টমেন্ট….

    —তুমি যাও, আমি দু’দিন বাদে যাব।

    বউদি বললেন, বলছ, এই যথেষ্ট রে মা! থাকতে লাগব না।

    —আমি তো আমার মা—বাবার জন্য কিছু করতে পারিনি….

    সুভাষ বলল, প্লেন দুর্ঘটনায় মারা গেল সকলে…. তুমি কী করতে?

    —থাক।

    সুভাষ চলে যায়, বিনি সত্যিই দিন তিনেক থাকল। সুভাষ বহির্মুখী স্বভাবের, বিনি অন্তর্মুখী। বিনি সে সময়ে দাদার বুকে মালিশ করেছে, পাখার বাতাস দিয়ে দুধ জুড়িয়ে দিয়েছে, দাদা কাস ফেললে পিকদানি ধরেছে।

    আনাড়ি হাত, কিন্তু আন্তরিকতা আছে।

    বিনিই আমাকে জিগ্যেস করেছে জেল—জীবনের কথা। বলেছে, আপনাদের খুব ভাল লেগেছে আমার।

    —তুমি কী পাশ করেছ মা?

    বিনি মুখ নামিয়ে বলেছে, ফিজিকসে এম. এস. সি. করেছিলাম। রিসার্চও করছিলাম। বাড়ির অ্যাকসিডেন্টের পর…. কী যে খেয়াল হ’ল….. একটা বিজ্ঞাপনের অপিসে ঢুকলাম … তারপর একটা আর্কিটেকটের অফিসে …. সেখানেই সুভাষের সঙ্গে আলাপ…..

    —শুনলেও ভাল লাগে।

    —সুভাষ খুব উদ্যোগী। ও অনেক দূর যাবে।

    হ্যাঁ, এটাই এ শহরের কাছে, আমাদের কাছে ব্যাখ্যাতীত হয়ে রইল। কেন দাদার ছেলেমেয়েরা এমন অত্যুজ্জ্বল হ’ল? কেন তারা সকলেই এমন বিয়ে করল, যা গতানুগতিক নিয়মের বাইরে?

    বিনি চলে যাবার পর বউদি সদুঃখে বললেন, ঠাকুরপো! টাউনে এরাদের ছুটকাল হইতে দেখতেয়াছে। কিন্তুক অহনে সগলে এমুন ভাব দেখায়, জানি আমাগো মধ্যে কী বা রহস্য আছে। কয়, আপনেরা তো কীর্তিমান পোলাগো মা—বাপ! কলকাতায় বারি কিনা চইলা যান! মটর কিনেন! নয় দশটা চাকর দাসী রাখেন!

    —ঈর্ষা করে। মানুষের যা ধর্ম!

    —আমারই কি মন পুরায় না? সাদাসিধা হইত তো একোজন কাছে থাকত!

    দাদা বললেন, কলকাতাই অদেরে খাইল!

    সুভাষের বিয়ের পর দাদা বেশি দিন বাঁচেনি। হাঁপানিগ্রস্ত মানুষ নাকি দীর্ঘজীবী হয়। দাদা তো উপর্যুপরি আক্রমণে দুর্বল হয়ে পড়ছিল।

    যাবার আগে কয়েকদিন বড়ই কষ্ট পায়। সুভাষ অক্সিজেন সিলিন্ডার ও তা দেবার লোক নিয়ে আসে। রাত জেগে জেগে বউদির অবস্থাও কাহিল। ছেলেরা বউরা আগে পরে এল।

    বৃহস্পতিবার বউদি ও ঘর ছেড়ে বাগানের দিকে বারান্দায় চলে গেলেন।

    বিনি ভয়ে ভয়ে বলল, মা কথা বলছেন কার সঙ্গে। বুঝতে পারছি না।

    যতিনাথ বলল, আমি দেখছি।

    দাদার সামনে বসেও আমি বুঝতে পারছিলাম, বউদি কী বলছেন!

    বলছেন, ভগমান অরে নিক, অরে নিক! এই কষ্ট আর দেখা যায় না! অরে আর কষ্ট দিয়েন না ঠাকুর।

    গৌরাঙ্গ সহসা বলল, যতিকে ডাকুন।

    যতি ঢুকতেই বলল, জল দাও বাবাকে।

    বউদি মেঝেতে বসে পড়লেন দেয়ালে হেলান দিয়ে। আমি ঘর ছেড়ে চলে গেলাম। নটাকোলে শৈশব থেকে কৈশোর, অনেক স্মৃতির চলমান মিছিল। মনে যেন নদীর ধস নামছিল। আমিই তো চলে যাই, দাদা তো থাকে? দাদা কেন চলে যাচ্ছে? ও ঘরে পড়শী, চেনাজানাদের ভিড়। কে যেন বলল, যতি! আর জল দিও না।

    আমি বউদিকে ছুঁই না। স্বাধীনভাবে বললাম, মা’রে ধরো। উনি বেচেতন হইয়া গিছেন।

    এমনি করেই আদিনাথ নেউগী আমাকে বউদির জন্য, বউদিকে আমার জন্য রেখে চলে গেল।

    দাদা বউদিকে পুরী দেখিয়ে এনেছিলাম। হঠাৎ মনে হ’ল দাদা বলেছিল, তুই আমার কুনো সাধই অপূর্ণ রাখলি না সইতা।

    ঘোরানো সিঁড়িটা নিয়ে দাদার যে সাধ, তা তো অপূর্ণ থেকে গেল।

    .

    .

    দাদার কৃতী ছেলেরা দাদার কাজ খুব সাড়ম্বরে করে। যতিনাথ ও স্বাধীনকে দেখে সুভাষও মাথা কামায়।

    যতিনাথ, সুলতা ও বিনি ছাড়া কেউই টানা থাকতে পারেনি। স্বাধীন, সুভাষ ও তপা ফিরে গেল, আবার এল ছেলেরা। তপার আসা ঠিক হবে না, স্বাধীন বলল, ও খুব ভেঙে পড়েছে। তবে সব নিয়মই অবজার্ভ করছে।

    বউদি নিজেকে গুটিয়েই নিলেন। বললেন, অরাই করুক। এ করা বেশি করা নয়। অদের বাপ নিজের বাপ—মার লিগ্যা অনেক করছে। তখন তো সংসারের পালে বরো বরো ছিদ্দির।

    আমাকে বললেন, আপনেও করেন। সকল দুর্দিনে সে আপনের নাম করছে। যমক ভাই, নাড়ী কাটলেও বান্ধা থাকে।

    আদিনাথ নেউগীর শ্রাদ্ধ, টাউনে এক গল্প কথাই হয়ে দাঁড়ায়।

    সব মিটে গেলে আমরা বৈঠকে বসলাম। নিয়মভঙ্গে মাছের সমারোহ হবে কাল। বউদিকে যে যা বলে, উনি বলেন, তোমরাই করো।

    সুভাষ বলল, এখন কী হবে? মাকে নিয়ে যাই কলকাতা?

    যতিনাথ বলল, কোথায়?

    —আমার ওখানেই? বিনিও তো…..

    বউদি মাথা নাড়লেন। বললেন, কুন বাল্য বয়সে বিয়া! এক দিনের লিগ্যাও ছাইরা থাকি নাই। আমারে বারবার বলছে, বারি ছাইরা থাইক না মিরনাল! অহন…আমি এহানেই থাকুম!

    —বাবার পেনশান তো পাবে?

    —ঠাকুরপো আছেন! কী পামু, সেসব কথা ভাবিও নাই। চিন্তা করিস না, হইয়া যাইব। আর দরকারে তোরা তো আছস।

    এবার বিনি কয়েকদিন থেকে গেল। কয়েক মাস সন্তানসম্ভবা, সুভাষ রাজি হচ্ছিল না। বিনি বলল, ক’দিনে কিছু হবে না। তুমি যাও।

    খুব সাধারণ আশা আকাঙ্ক্ষার সামান্য একটি মানুষের কৃতী ছেলেরা একে একে চলে গেল।

    বিনি বলল, বাবার ঘর যেমন আছে, তেমনি থাকুক মা?

    —হ বিনি। অহন আমি ওখানে থাকব, ন্যালার মা মাটিতে শুইব। ন্যালা থাকব ঠাকুরপোর কাছে, আর কী!

    —আমি যদি পারতাম…

    —না রে মা! আর মায়া কাইড় না। কলকাতা গিয়া সাবধানে থাকবা, ডাক্তারের নিয়মে চলবা। আমাগো কালে এত সুবেবস্থা আছিল না গো! কষ্ট পাইছি অনেক।

    বিনি চলে যেতে বউদি বলেছিলেন, দু’জনের স্বভাবে এমুন তফাৎ! মাইয়াটা কষ্ট না পায়।

    তারপর প্রত্যহের মতোই দরজা জানলা বন্ধ আছে কি না দেখলেন। ন্যালার মাকে বললেন, তারাতারি খাইয়া শো’রে মা! কতদিন ঘুমাস না।

    বনমালীর বউ ও বোন, ন্যালার পিসি সিদ্ধেশ্বরী, বা ঘনার মা, এরা এ কয়দিন এখানেই। ওরা এ রাতটাও রইল।

    বউদি বললেন, পোলারা যে খরচ এই কাজে করল ঠাকুরপো! যদি তারে দিত…

    —দোতলায় একখান ঘর উঠত…..ঘুরাইন্যা সিঁড়ি বসত, এই তো!

    —তাই! যাক, ছিরা কথা ভাইবা লাভ নাই। অহন থাকলাম আমি আর আপনে।

    —হ বউদি। দাদায় সেই ভরসা লইয়া গেছে।

    —আমি আর আপনে।

    —ন্যালা আর ন্যালার মা’রে ভুলবেন না।

    —তাই পারি?

    ন্যালা এসে বলল, আমিও কত্তা মা’র ঘরে ঘুমাব।

    রাতে বউদির বিনবিন কান্নার গুঞ্জন শুনেছিলাম। যেন কোনও স্থায়ী আবহসংগীতের মতো কিছুকাল রাতে শোনা যেত, কথা বলে বলে কাঁদতেন বউদি। কথা বোঝা যেত না।

    একদিন কান্না থেমে যায়।

    বেলায় ঘুম থেকে উঠলেন বউদি। বললেন, কাল খুব ঘুমাইছি ঠাকুরপো!

    আর শুনিনি কান্না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছিন্ন পাতার ভেলা – মহাশ্বেতা দেবী
    Next Article কেয়ারটেকার – মহাশ্বেতা দেবী

    Related Articles

    মহাশ্বেতা দেবী

    হাজার চুরাশির মা – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মিলুর জন্য – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রস্থানপর্ব – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    আই. পি. সি. ৩৭৫ – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রতি চুয়ান্ন মিনিটে – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    পারিবারিক – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }