Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চার্লসের স্বর্ণসম্পদ – অনিল ভৌমিক

    লেখক এক পাতা গল্প90 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চার্লসের স্বর্ণসম্পদ – ৫

    ৫

    তখন শেষ রাত। চাঁদের ম্লান আলোয় দেখা গেল একদল সৈন্য তীরের ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে এসে দাঁড়াল। তারপর পাতা কাঠের পাটাতন দিয়ে হেঁটে ফ্রান্সিসদের জাহাজের ডেক-এ উঠে এলো। কোনোরকম শব্দ না করে চারজন সৈন্য সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে অস্ত্রঘরের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল যাতে ভাইকিংরা কেউ অস্ত্র হাতে না পায়।

    এবার সৈন্যদের সর্দার ডেক-এ ঘুমিয়ে থাকা ভাইকিংদের ঘুম ভাঙাতে বলল। সৈন্যরা ভাইকিংদের একে একে তলোয়ারের খোঁচা দিয়ে জাগাতে লাগল। এই ভাইকিংদের মধ্যে শাঙ্কো ঘুমিয়ে ছিল। তরোয়ালের খোঁচায় ঘুম ভেঙে সৈন্যদের দেখল। সৈন্যদের মধ্যে সৈন্যদের সর্দারকেও দেখল। গালে চিবুকে সামান্য দাড়িওয়ালা সর্দারকে দেখেই চিনল। বুঝল এরা আনগেভিনের সৈন্য। এরাই যুদ্ধে হেরে এসে জঙ্গলের মধ্যে পাথরের বাড়িটায় আশ্রয় নিয়েছে।

    শাঙ্কো উঠে দাঁড়াল। সর্দারের কাছে গেল। বলল–তুমিই তো আলগেভিনের সৈন্যদের সর্দার?

    –তাহলে চিনতে পেরেছো। সদার হেসে বলল।

    –হ্যাঁ–কিন্তু আমাদের এভাবে বন্দি করা হচ্ছে কেন? শাঙ্কো জানতে চাইল।

    –কারণ আমরা তোমাদের সাহায্য চাই। সর্দার বলল।

    –একবার তো লড়াইয়ের সময় সাহায্য করেছি। আবার কীসের সাহায্য? শাঙ্কো বলল।

    –আমরা আমাদের জাহাজটা পিটারের সৈন্যদের হাত থেকে মুক্তি করে নিয়ে আসবো। সদার বলল।

    –আমরা আর তোমাদের সাহায্য করবো না। এসব তোমাদের সমস্যা। তোমরা নিজেরাই মিটিয়ে নাও। আমরা এখন দেশের দিকে জাহাজ চালাবো। শাঙ্কো ক্রুদ্ধস্বরে বলে উঠল।

    –না–আমাদের সঙ্গে যোগ দিন জাহাজ উদ্ধার করতে সাহায্য করতে। তারপর দেশে ফিরে যাবেন তার আগে নয়।

    –আমরা তোমাদের সাহায্য করবো না। শাঙ্কো বলল।

    –এটাই তোমাদের শেষ কথা? সর্দার বলল।

    –হ্যাঁ–শাঙ্কো বলল।

    –তাহলে তোমাদের বন্দি করে নিয়ে যাবো। আমাদের আস্তানায় তোমরা বন্দি থাকবে। সর্দার বলল।

    –ঠিক আছে–আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে নিই।

    বেশ। কথা বলো।

    ততক্ষণে যারা জাহাজের কেবিনঘরে ছিল তাদেরও বন্দি করে আনা হয়েছে। সবাই ডেক-এর ধারে ধারে দাঁড়িয়ে আছে। সর্দারের সৈন্যরা সবাইকে খোলা তলোয়ার হাতে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু মারিয়া একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

    শাঙ্কো বিস্কোকে ডাকল। বিস্কো কাছে এলো। শাঙ্কো সর্দারের সঙ্গে যা যা কথা হয়েছে সব বলল। তারপর বলল–এখন কী করা যায়?

    –আনগেভিনের জন্যে আমরা যুদ্ধ করতে যাবো কেন? বিস্কো বলল।

    –তাহলে কি আমরা বন্দি হয়েই থাকবো? শাঙ্কো বলল।

    –তাই থাকবো। বিস্কো বলল।

    শাঙ্কো সর্দারের কাছে ফিরে এলো। বলল–আমরা বন্দি থাকবো।

    –বেশ। সর্দার গলা চড়িয়ে বলল–সবাইকে হাত বেঁধে আমাদের আস্তানায় নিয়ে চলো।

    –সবাইকে নয়। আমাদের দেশের রাজকুমারীকে এই জাহাজেই রাখতে হবে। বিস্কো বলল।

    –না–সর্দার গলা চড়িয়ে বলল–সবাইকে আমাদের আস্তানায় বন্দি হয়ে থাকতে হবে।

    মারিয়া শাঙ্কোর কাছে এলো। বলল–আমাকে নিয়ে ভেবো না। আমি অনায়াসেই ওখানে থাকতে পারবো।

    –বেশ। শাঙ্কো বলল।

    তখন ভোর হয়েছে। জঙ্গলের পাখিগুলো ডাকতে শুরু করেছে। রোদ পড়ল সমুদ্রে জঙ্গলের মাথায়।

    সর্দারের সৈন্যরা ফ্রান্সিসদের জাহাজের মালখানা থেকে দড়ি জোগাড় করল। ছোটো ছোটো করে দড়ি কেটে নিয়ে ভাইকিংদের হাত বাঁধলো। শুধু মারিয়ার হাত বাঁধা হল না।

    সবাইকে তক্তার ওপর দিয়ে হাঁটিয়ে তীরে আনা হল। ঝোঁপজঙ্গলের মধ্যে দিয়ে সবাই চলল। সর্দারে সৈন্যরা খোলা তলোয়ার হাতে পাহারা দিয়ে ভাইকিংদের নিয়ে চলল।

    কিছুদূর এসে পায়েচলা পথটা দেখা গেল। সেই পথ দিয়ে উত্তরমুখে চলল সবাই।

    যেতে যেতে শাঙ্কো বলল–ঐ পাথরের বাড়িটায় দরজা জানালা নেই। ওদের হাত বেঁধে রাখা হবে। ভাববার কিছু নেই। ছোরা দিয়ে দড়ি কেটে মুক্ত হওয়া যাবে। তারপর ভাঙা দরজা দিয়ে পালানো যাবে। নিজেদের জাহাজে ফিরে আসা যাবে। কারণ তখন কোনো পাহারাদার থাকবে না। আনগেভিনের সব সৈন্যই জাহাজ তখল করতে যাবে।

    সবাই ভাঙা পাথরের বাড়ির সামনে এলো। বাড়িতে ঢুকল সবাই। শাঙ্কো তখন বুঝল ও বাড়িটা ছোটো ভেবেছিল। আসল বাড়িটা বেশ বড়ো।

    সর্দার শাঙ্কোদের নিয়ে এলো একটা বেশ বড়ো ঘরের কাছে। শাঙ্কো দেখল ঘরটার কাঠের দরজা অটুট আছে। সর্দার দরজাটা খুলে দিল। শাঙ্কোদের ঢোকানো হল সেই ঘরটায়।

    ঘরের ভেতর ঢুকে শাঙ্কো দেখল–ঘরটার কোনো জানালা নেই। ওপরে ঘুলঘুলিমতো। ওটা দিয়েই আলো হাওয়া আসছে।

    শাঙ্কো হতাশ হল। এখান থেকে কী করে পালাবো? শাঙ্কো এবার বুঝতে পারল ফ্রান্সিস আর হ্যারি কাছে না থাকলে ওরা কতটা অসহায়।

    বিছানা বলতে শুনো ঘাসপাতা মেঝেটায় বিছোনো। ভাইকিংরা কেউ বসল কেউ কেউ শুয়ে পড়ল। রাতের ঘুমটা হয় নি। এখন ঘুমোনো যাবে।

    কিছুক্ষণ পরে ঘরটার দরজা খুলে গেল। সর্দার ঢুকল। হেসে বলল–এখানকার এক মস্তবড়ো জমিদারের প্রাসাদ ছিল এটা। কোনো প্রজা জমিদারের বিরুদ্ধে গেলে খাজনা না দিতে পারলে এই ঘরে তাদের বন্দি করে রাখা হত। এটাকে কয়েদঘরও বলতে পারো।

    –এসব শুনে আমাদের লাভ? বিস্কো বলল।

    লাভ এই যে তোমরা এমন একটা ঘর থেকে কোনোদিনই পালাতে পারবে না–এটা জানানোর জন্যেই এত কথা বলা। সর্দার বলল।

    -ঠিক আছে। আমাদের সকালের খাবারের ব্যবস্থা করো। শাঙ্কো বলল।

    -হা-হা সকালের খাবার তৈরি হচ্ছে। তোমাদের জাহাজ থেকে আটা ময়দা এসব আনা হয়েছে। একটু পরেই খেতে দেওয়া হবে। সর্দার বলল।

    সর্দার এবার বলল–আমাদের জাহাজ উদ্ধারের কাজে তোমরা সাহায্য করতে পারতে। এই বন্দি দশা তোমরা ইচ্ছে করেই মেনে নিলে।

    –ঠিক তাই–তোমাদের আমরা কোনোমতেই সাহায্য করবো না। তোমাদের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে আমরা বন্ধুকে হারিয়েছি। আর না। শাঙ্কো বলল।

    সর্দার আর কোনো কথা না বলে চলে গেল।

    কিছুক্ষণ পরে সকালের খাবার দেওয়া হল। পোড়া পোড়া রুটি আর আনাজের ঝোল। শাঙ্কোরা তাই খেতে লাগল।

    দু’জন সৈন্য একটা জলের পীপে এনে ঘরের কোণায় রাখল। খাবার খেয়ে জল খেল সবাই। সৈন্যরা চলে গেল। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিল।

    মারিয়া ঘরের এক কোণে দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসেছিল। এবার একটু গলা চড়িয়ে ডাকশাঙ্কো।শাঙ্কো তাড়াতাড়ি মারিয়ার কাছে এলো। বলল রাজকুমারী আপনার কি কষ্ট হচ্ছে।

    না–আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না–মারিয়া বলল–আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ো না।

    –কিছু বলবেন? শাঙ্কো জিজ্ঞেস করল।

    –হ্যাঁ মারিয়া বলতে লাগল–এই আনগেভিনের সৈন্যদের সঙ্গে জাহাজ উদ্ধারে। সাহায্য করার জন্যে তুমি যেতে রাজি হলো না কেন?

    –এই সৈন্যদের সর্দারকে বিশ্বাস করলে আমাদের বিপদই বাড়তে শুধু। ওদের যুদ্ধ জাহাজ দখল হলে ওরা প্রথমেই আমাদের হত্যা করতো। কারণ ওদের কাছে তখন আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। শাঙ্কো বলল।

    –সেটা আমিও ভেবেছি। সেক্ষেত্রে লড়াই শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে তোমরা জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কেটে সমুদ্রের পারে উঠবে। তারপর হেঁটে আমাদের জাহাজে গিয়ে উঠবে।মারিয়া বলল। একটু ভেবে নিয়ে শাঙ্কো বলল–আমরা লড়াইয়ে নামলে আবার হয়তো বন্ধুদের কাউকে না কাউকে হারাবো।

    –জানি সেটা হতে পারে। কিন্তু যদি তোমরা আত্মরক্ষমূলক লড়াই করো তাহলে আহত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ওদিকে রাজা পিটারের পাহারাদার সৈন্য বেশি থাকবে না। জাহাজ পাহারার কাজে অল্প সৈন্যই থাকবে। তাদের হারিয়ে দেওয়া খুবই সহজ হবে। আনগেভিনের সৈন্যরা থাকবে তোমরা থাকবে লড়াইয়ে জেতা কঠিন হবে না। মারিয়া বলল।

    –তাহলে এখন আমরা কী করবো? বিস্কো বলল।

    –সর্দারকে ডেকে বল–আমরা তোমাদের সাহায্য করতে রাজি আছি।

    –ঠিক আছে। শাঙ্কো উঠে দাঁড়াল। একটু গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব– আনগেভিনের সর্দার আমাদের সাহায্য চেয়েছে–আমরা সর্দারকে সাহায্য করবো। ভাইকিংদের মধ্যে গুঞ্জন উঠল। একজন ভাইকিং বলল–শাঙ্কো হঠাৎ মত পাল্টালে কেন?

    –অনেক ভেবে চিন্তে দেখলাম–এখন এটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শাঙ্কো বলল।

    রাজকুমারী এই প্রস্তাবটা দিয়েছেন। বিস্কো বলল।

    গুঞ্জন থেমে গেল। রাজকুমারী বলেছেন। কাজেই মেনে নিতেই হবে। আর কেউ কোনো কথা বলল না।

    শাঙ্কো উঠে দরজার কাছে এলো। আঙ্গুল ঠুকে দরজায় শব্দ করল। শাঙ্কো বলল, তোমাদের সর্দারকে একবার আসতে বললো। খুব দরকার। দরজা বন্ধ হল।

    কিছুক্ষণ পরেই সর্দার দরজা দিয়ে ঢুকল। শাঙ্কোদের কাছে এসে দাঁড়াল। হেসে বলল তোমরা কী বলতে চাও?

    –আমরা আমাদের আগেকার মতো পাল্টেছি। আমরা জাহাজ উদ্ধারের কাজে তোমাদের সাহায্য করবো। শাঙ্কো বলল।

    –এই তো একটা কাজের মত কাজ। তোমরা দুঃসাহসী তোমরা সঙ্গে থাকলে আমরা লড়াইয়ে জিতবই। সর্দার বলল।

    কিন্তু শর্ত রইল লড়াই শেষ হলেই আমরা আমাদের জাহাজে ফিরে আসবো। শাঙ্কো বলল।

    –বেশ। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। সদার বলল।

    –তোমরা জাহাজ উদ্ধার করতে কবে যাবে? বিস্কো জানতে চাইল।

    –আজ রাতেই। সময়মতো তোমাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হবে।

    –কিন্তু আমাদের অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে আমাদের জাহাজে। শাঙ্কো বলল।

    “ঠিক আছে। তোমাদের মধ্যে কয়েকজন যাও। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসো।

    –তোমরা কীভাবে জাহাজ দখল করতে চাও? শাঙ্কো বলল।

    –তোমাদের জাহাজটা নিয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু ভেবে দেখলাম জাহাজ নিয়ে গেলে ওরা সাবধান হয়ে যাবে। আমরা সমুদ্রের জলে সাঁতার কেটে যাবো। সর্দার বলল।

    – তাহলে শিরস্ত্রাণ বর্ম পরে যাওয়া যাবে না। শাঙ্কো বলল।

    –কেন বলো তো? সর্দার বলল।

    –জলে অত ভারী জিনিস পরে সাঁতার কাটতে অসুবিধে হবে। অল্পক্ষণের মধ্যেই আমরা পরিশ্রান্ত হয় পড়বো।শত্রুপক্ষের জাহাজে উঠে লড়াই করবো কী করে? কাজেই শুধু তলোয়ার নিয়ে আমরা যাবো। শাঙ্কো বলল।

    –ঠিকই বলেছো। একটুক্ষণ ভেবে সর্দার বলল।

    –আমরা তৈরি থাকবো। তুমি ডাকলেই রওনা হবে। তার আগে আমাদের রাজকুমারীকে আমাদের জাহাজে পৌঁছে দাও। দু’জন বন্ধু সঙ্গে যাবে। তারা তিনজনেই আমাদের জাহাজে থাকবে। শাঙ্কো বলল।

    –বেশ। তাহলে তৈরি থেকো। সর্দার বলল। তারপর একজন পাহারাওয়ালাকে হাতের ইশারায় ডেকে বলল–এদের ভালো ঘরটায় নিয়ে যাও। তারপর রাজকুমারী আর দু’জন বন্ধুকে তাদের জাহাজে রেখে এসো।

    –বেশ। পাহারাদার শাঙ্কোদের দিকে এসে দাঁড়াল। গলা চড়িয়ে বলল–সবাই ওঠো। তোমাদের অন্য ঘরে যেতে হবে। সর্দার তখন চলে গেছে।

    ভাইকিংরা আস্তে আস্তে উঠেদাঁড়াল। পাহারাদার বলল-রাজকুমারী, এদিকে আসুন। মারিয়া এগিয়ে এলো। পাহারাদার বলল–যে দু’জন রাজকুমারীর সঙ্গে জাহাজে যাবে সেই দু’জনও এগিয়ে এসো। শাঙ্কো গলা চড়িয়ে বলল–বিস্কো আর পেড্রো এগিয়ে এসো।

    বিস্কো এগিয়ে এসে বলল–না শাঙ্কো–আমি লড়াইয়ে যাবো।

    –পাগলামি করো না বিস্কো। তুমি রাজকুমারীর কাছে আমাদের জাহাজে থাকলে আমি নিশ্চিন্ত মনে লড়াইয়ে যেতে পারবো। বিস্কো ভুলে যেও না আমরা এখনও বন্দি। বিস্কো আর কোনো কথা বলল না। পেড্রো এগিয়ে এলো। বিস্কোকে বলল–বিস্কো– রাজকুমারীকে ডাকো।

    মারিয়াকে আর ডাকতে হল না। মারিয়া বিস্কোর কাছে এসে বলল–চলো।

    বিস্কো মারিয়া আর পেড্রোকে নিয়ে কয়েদঘরের বাইরে এলো। সেই পাহারাদারটি দাঁড়িয়ে ছিল। পাহারাদার ওদের দেখে হাঁটতে শুরু করল। মারিয়া বিস্কো পেড্রো পাহারাদারদের পেছনে পেছনে চলল।

    তখন দুপুর হয়েছে। পাহারাদার মারিয়াদের নিয়ে পায়েচলা পথটা ধরল। গাছগাছালির মধ্যে দিয়ে চলল।

    একসময় পাহারাদার ডানদিকে ঘুরল। এখানে সেই পায়েচলা পথটা নেই। ঝোঁপঝাড় জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ওরা চলল।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা খাঁড়িটার সামনে এলো। দেখল ওদের জাহাজটা শান্ত ঢেউয়ের ধাক্কায় দুলছে।

    পাটাতন পাতাই ছিল। মারিয়ারা পাটাতনের ওপর দিয়ে গিয়ে জাহাজে উঠল। পাহারাদারটি চলে গেল। ঝোঁপঝাড় গাছের মধ্যে ওকে আর দেখা গেল না।

    মারিয়া জাহাজে উঠেই বলল–বিস্কো–আগে খাবারদাবারের ব্যবস্থা করো। খিদেয় পেট জ্বলছে। পেড্রো বলল–রাজকুমারী আপনি শুয়ে বসে বিশ্রাম করুন। আমিই রান্না চাপাচ্ছি।

    –তুমি পারবে? মারিয়া বলল।

    –আমার বেশিরভাগ সময়ই তো কাটে মাস্তুলের মাথায়। তবু একবার গন্ধ পেলে আমি ঠিক বলে দেব আজকে কী রান্না হচ্ছে। পেড্রো বলল।

    তাই নাকি? মারিয়া এত দুশ্চিন্তার মধ্যেও পেড্রোর এই গুণ শুনে হেসে ফেলল। পেড্রো হেসে বলল রাজকুমারী আপনি খুশির হাসি হাসলে আমরা যে কী খুশি হই তা বলে বোঝাতে পারবো না। কিন্তু আপনার বিষণ্ণ চিন্তাকুল মুখ দেখলে আমরা সবচেয়ে বেশি দুঃখ পাই। কথাটা শুনে মারিয়া আবার হাসল।

    –আপনি আপনার কেবিনঘরে গিয়ে বিশ্রাম করুন। কথাটা বলে পেড্রো চলল রসুইঘরের দিকে।

    ওদিকে ভালো ঘরটায় এসে শাঙ্কোরা দেখল ঘরে শুকনো ঘাসপাতা দড়ি দিয়ে নিপুণভাবে বেঁধে বিছানামতো করা হয়েছে। তাতেই সৈন্যরা শুয়ে বসে আছে। ঘরটা বেশ বড়ো। ওপরে ছাদটা এখনও ভেঙে পড়েনি। অনেক খোলামেলা ঘর।

    শাঙ্কোরা জায়গা করে নিয়ে বসল। কেউ কেউ শুয়ে পড়ল।

    এখন কিছুই করার নেই। শুধু রাতের জন্যে প্রতীক্ষা।

    রাত হল। রাতের খাওয়া তাড়াতাড়িই দেওয়া হল। এঘরে আসার সময় দু’জন পাহারাদার শাঙ্কোদের হাতে বাঁধা দড়ি কেটে দিয়েছিল। খোলা হাতেই শাঙ্কোরা রাতে খাবার খেয়ে নিল। তারপর বিছানায় শুয়ে পড়ল। সর্দারের সৈন্যরা শাঙ্কোরা সবাই একে একে শুয়ে পড়ল। কিন্তু ঘুমুলো না কেউ।

    রাত গম্ভীর হল।

    তখনই সর্দার এলো। সবাই উঠে দাঁড়াল। সবাই সর্দারের নির্দেশে অস্ত্রঘরে চলল। সবাই তলোয়ার নিয়ে কোমরে গুজল। কাউকে বর্ম শিরস্ত্রাণ পরতে দেওয়া হল না। পাথরের বাড়িটা থেকে বেরিয়ে এলো সবাই। পায়েচলা পথটা ধরে চলল।

    চাঁদের আলো উজ্জ্বল নয়। বনজঙ্গলের মাথার ফাঁক দিয়ে জোছনা পড়েছে এখানে ওখানে। সমুদ্রের দিক থেকে জোর হাওয়া আসছে। হাঁটতে হাঁটতে শাঙ্কো ওদের দেশীয় ভাষায় গলা চড়িয়ে বলল-এ লড়াই আমাদের লড়াই নয়। পাকেচক্রে এই লড়াইয়ে আমরা জড়িয়ে গেছি। আমরা কাউকে আগ বাড়িয়ে হত্যা করবো না। তবে জীবন বিপন্ন হলে আত্মরক্ষার জন্যে হত্যা করতেই হবে। আমরা যথাসাধ্য সাবধানে লড়াই করবো যাতে আমরা অক্ষত থাকতে পারি। অপরপক্ষ আমাদের শত্রু নয়। কাজেই জীবন বিপন্ন করে আমরা লড়তে যাবো কেন? আমাদের প্রথম এবং শেষ কথা আত্মরক্ষা। শাঙ্কোর কথা বুঝতে না পেরে সর্দার বলল তোমার বন্ধুদের কী বললে?

    –এই কীভাবে লড়তে হবে। শত্রুপক্ষ বর্ম শিরস্ত্রাণ পরে লড়াই করবে। কাজেই সাবধানে লড়াই করতে হবে। এসব শাঙ্কো বলল।

    –সে তো ঠিকই। সর্দার বলল।

    সর্দারের সঙ্গে কথা হল না আর। সবাই নিশ্চুপ হেঁটে চলেছে ঝোঁপঝাড় জঙ্গলের মধ্য দিয়ে।

    সমুদ্রের দিক থেকে জোর হাওয়া বইছে। সমুদ্রের শব্দ আস্তে আস্তে বাড়তে লাগল।

    একসময় সমুদ্রের তীরে পৌঁছল সবাই। অল্প জোছনায় দেখল আনগেভিনের জাহাজটা বেশ দূরে সমুদ্রের জলে ভাসছে। কখনও কখনও কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে জাহাজটা।

    সর্দার বলল–আমরা সমুদ্রের ধারে ধারে আরো কিছুদূর যাবো। যতটা সম্ভব জাহাজটার কাছাকাছি যাবো। তারপর জলে নেমে সাঁতরে গিয়ে জাহাজে উঠব।

    এখানে সমুদ্রের সৈকতে ছোটো মাপের বালিয়াড়ি অনেক দূর চলে গেছে। সবাই উঁচু তির থেকে বালিয়াড়িতে নেমে এলো। চলল বালিয়াড়ি দিয়ে।

    কারো মুখে কথা নেই। একটানা সমুদ্রের বাতাস শোঁ শোঁ শব্দ তুলে ছুটে আসছে।

    একসময় ওরা জাহাজটার কাছাকাছি এলো।–সাঁতরে গিয়ে জাহাজে উঠতে হবে। সর্দার বলল–কোনো শব্দ যেন না হয়।

    সর্দারের সৈন্যরা ভাইকিংরা জলে নামল। জলে কোনোরকম শব্দ না তুলে সবাই সাঁতরে চলল জাহাজটার দিকে।

    দূরত্বটা খুব কম নয়। সর্দারের সৈন্যরা হাঁপিয়ে গেল। ভাইকিংরা সমুদ্রের সঙ্গে আজন্ম পরিচিত। সমুদ্রের জলে সাঁতার কাটা ওদের ছোটোবেলা থেকে অভ্যেস।

    কয়েকটা নীলচে কুয়াশার আস্তরণ পার হয়ে শাঙ্কোরা সবার আগে জাহাজের কাছে পৌঁছল। দেখল–কেবিনে জানলার সিঁড়ির মাথায় একটা কাঁচে ঢাকা লণ্ঠন। জাহাজের আর কোথাও আলো নেই।

    এবার জাহাজে উঠল। শাঙ্কো জাহাজের হালের কাছে এলো। দেখল কিছু দড়িদড়া ঝুলছে। শাঙ্কো হালের খাঁজে পা রেখে উঠে পড়ল। অস্পষ্ট চাঁদের আলোয় শাঙ্কো হাত দিয়ে ঝুলন্ত দড়িদড়া দেখাল।

    এবার সবাই দড়ি ধরে ধরে জাহাজে উঠে পড়তে লাগল। হালের দিক থেকে সবাই ভেক-এর কাছে এলো। দেখল পনেরো কুড়িজন রাজা পিটারের সৈন্য ডেক-এ ঘুমিয়ে আছে।

    সর্দার দু’তিনজন সৈন্যকে কানের কাছে বলল–সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামো। অস্ত্রঘরের সামনে গিয়ে পাহারা দাও যাতে কেউ অস্ত্র আনতে না পারে। সৈন্য ক’জন চলে গেল।

    বোঝা গেল–এই জাহাজে বেশি পাহারাদার সৈন্য রাখা হয় নি।

    সর্দার হাঁপাতে হাঁপাতে চিৎকার করে বলে উঠল–সব কটাকে হত্যা করো। শাঙ্কো সঙ্গে সঙ্গে ওদের দেশীয় ভাষায় বলে উঠল-কাউকে হত্যা করো না। জলে ছুঁড়ে ফেল।

    রাজা পিটারের সৈন্যদের ঘুম ভেঙে গেল। ডেক-এ যারা ঘুমিয়েছিল তারা ঘুম ভেঙে উঠেদাঁড়াল। নিরস্ত্র তাদের ওপর সর্দারের সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ল। রাজা পিটারের নিরস্ত্র সৈন্যরা অসহায় অবস্থায় মারা যেতে লাগল। আর্ত চিৎকার গোঙানি শোনা যেতে লাগল।

    শাঙ্কোরা ধরে ধরে কয়েকজন সৈন্যকে জলে ছুঁড়ে ফেলল।

    রাজা পিটারের সৈন্যদের কয়েকজন সিঁড়ি বেয়ে অস্ত্রঘরের কাছে ছুটে এলো। দেখল সর্দারের সৈন্যরা অস্ত্রাগার পাহারা দিচ্ছে খোলা তলোয়ার হাতে। ওরা বুঝল যে প্রাণ সংশয়। তাড়াতাড়ি ওপরে ডেক-এ উঠে এলো। ততক্ষণে কেবিনঘর থেকে রাজা পিটারের সৈন্যরা ডেক-এ উঠে এলো। উঠেই পড়ল আক্রমণের মুখে। সর্দারের সৈন্যরা ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এলোপাথারি তলোয়ার চালাতে লাগল। রাজা পিটারের সৈন্যরা অসহায় অবস্থায় মারা যেতে লাগল।

    ওদিকে ভাইকিংরা রাজা পিটারের নিরস্ত্র সৈন্যদের ধরে ধরে জলে নিক্ষেপ করতে লাগল। যুদ্ধটা হল এক তরফা। নিরস্ত্র সৈন্যদের সঙ্গে সশস্ত্র সৈন্যদের লড়াই।

    অল্পক্ষণের মধ্যেই রাজা পিটারের সৈন্যরা হার স্বীকার করল। ওরা দু’হাত ওপরে তুলে ডেক-এর একপাশে দাঁড়াল।

    সর্দার চিৎকার করে বলে উঠল–এইক’টাকে হত্যা করো। রাজা পিটারের সৈন্যদের মুখ শুকিয়ে গেল। ওরা বুঝল–আর বাঁচার আশা নেই।

    তখনই শাঙ্কো এক লাফে রাজা পিটারের সৈন্যদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। সর্দারের দিকে তাকিয়ে বলল–তোমাদের নিষ্ঠুরতার নমুনা দেখেছি। এখন এই সৈন্যরা যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের হত্যা করতে চাও। আমরা তা হতে দেব না। যদি রাজা পিটারের নিরস্ত্র সৈন্যদের আক্রমণ করো তবে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবো। সাহস থাকে এগিয়ে এসো।

    সর্দার বুঝল–আবার এক লড়াইয়ে নামতে হবে। তাতে বিপদই বাড়বে। জাহাজ দখল করতেই ওরা এসেছিল সেটা তো হয়ে গেছে। সর্দার বলল ঠিক আছে এদের কয়েদঘরে নিয়ে রাখো।

    সর্দারের সৈন্যরা এগিয়ে এলো। রাজা পিটারের সৈন্যদের ঘিরে দাঁড়াল। তারপর নিয়ে চলল নীচে নামার সিঁড়ির দিকে। রাজা পিটারের যে সৈন্যরা বেঁচেছিল তাদের সবাইকে কয়েদঘরে বন্দি করে রাখা হল।

    এবার সর্দার আস্তে আস্তে শাঙ্কোদের কাছে এলো। দেখে বলল-তোমরা এই জাহাজেই থাকবে। আরো কিছু লোক জোগাড় করে সৈন্যসংখ্যা বাড়াবো। তারপর সেন্ট অ্যাঞ্জেলা দুর্গ অধিকার করবো। আনগেভিনকে মুক্ত করবো। তোমরা আমাদের হয়ে লড়াই করবে।

    –যদি লড়াই না করি? শাঙ্কো বলল।

    –তাহলে তোমাদের কয়েদঘরে আটকে রাখা হবে। সর্দার বলল।

    শাঙ্কো, সঙ্গে সঙ্গে গলা চড়িয়ে ওদের দেশের ভাষায় বলে উঠল–ভাইসব জলে ঝাঁপিয়ে পড়ো। জলদি।

    ভাইকিংরা সঙ্গে সঙ্গে কোমরে তলোয়ার খুঁজে রেলিঙ ডিঙিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল। সবশেষে দলে শাঙ্কো ছিল। সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    শাঙ্কো গলা চড়িয়ে বলল–তীরের দিকে চলল। জাহাজের সর্দার আর সৈন্যরা বোকার মতো তাকিয়ে রইল।

    শাঙ্কো সাঁতার কাটতে লাগল। তখনই সূর্য উঠল। গাঢ় কমলা রং সূর্যের। সমুদ্রের ঢেউ-ওঠা জলে সূর্য প্রথমেই সবটা উঠল না। নীচের দিকে একটা ফোঁটামতো জলের মধ্যে আটকে রইল। একটু পরে সেটা ওপরে উঠে সূর্যের সঙ্গে মিশে গেল।

    শাঙ্কোরা সাঁতারে চলল তীরের দিকে।

    সমুদ্রতীরে যখন শাঙ্কোরা পৌঁছল তখন সবাই হাঁপাচ্ছে। জল থেকে উঠে অপরিসর সৈকতে এসে দাঁড়াল। শাঙ্কো গলা চড়িয়ে বলল–এবার আমাদের জাহাজের দিকে চললো।

    অপরিসর সৈকতভূমি দিয়ে শাঙ্কোরা হেঁটে চলল। কিছুটা গেল। আর সৈকতভূমি নেই। শাঙ্কোরা তীরে উঠল। ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে ওরা ওদের জাহাজের দিকে লক্ষ্য রেখে চলল।

    একসময় শাঙ্কোরা ঝোঁপজঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে ওদের জাহাজের কাছে এল। পাতা পাটাতন দিয়ে হেঁটে গিয়ে জাহাজে উঠল।

    মারিয়া আর বিস্কো ছুটে এলো। পেছনে পেড্রো। সবাই ধ্বনি তুলল-ও-হো-হো।

    শাঙ্কোরা কেবিনঘরে চলে গেল। ভেজা পোশাক ছাড়তে।

    শুকনো পোশাক পরে শাঙ্কো ডেক-এ উঠে এলো। মারিয়া এগিয়ে এলো। বলল– এখন কী করবে?

    –আমরা জাহাজটা চালিয়ে খাঁড়ির আরো ভেতরে চলে যাব। জাহাজ লুকিয়ে রাখবো। তারপর ফ্রান্সিসদের জন্যে অপেক্ষা করবো।

    শাঙ্কো সবার দিকে তাকিয়ে গলা চড়িয়ে বলল–সবাই হাত লাগাও। পাল তুলে দাও দাঁড়ঘরে দাঁড় টানতে যাও আমরা এই খাঁড়ির আরো ভেতরে চলে যাবো যাতে আমাদের জাহাজ কারো নজরে না পড়ে।

    পাল তোলা হল। দাঁড় বাওয়া চলল। জাহাজ খাঁড়ির আরো ভেতরে ভেসে চলল।

    একসময় খাঁড়ির দু’ধারের গভীর বনের গাছপালা দু’পাশ থেকে ঝুঁকে পড়েছে দেখা গেল। শাঙ্কো গলা চড়িয়ে পেট্রোকে বলল-পেড্রো মাস্তুলে উঠে দেখো তো জাহাজটা বনজঙ্গলের আড়ালে পড়েছে কি না।

    পেড্রো দ্রুত মাস্তুল বেয়ে একেবারে মাথায় উঠে গেল। চারপাশ দেখে নেমে এলো। একটু হাঁপিয়ে বলল–আমাদের জাহাজটা দুপাশের জঙ্গলে একেবারে ঢাকা পড়ে গেছে কারো নজরে পড়বে না।

    জাহাজটা ওখানেই নোঙর ফেলল। এবার ফ্রান্সিসদের জন্যে প্রতীক্ষা।

    ফ্রান্সিস আর হ্যারি ফিরে এলেই জাহাজ ছাড়া হবে ওদের দেশের দিকে।

    এখন শুধুই প্রতীক্ষা। এখন আলগেভিন আর রাজা পিটারের সৈন্যরা ওদের খোঁজ পাবে না।

    .

    ওদিকে গীর্জাটা ভালো করে দেখে ফ্রান্সিস হ্যারি সাজ্জিও গীর্জার বাইরে এলো। সাজ্জিও বললেন–রাজা পিটার আমাদের চার্লসের প্রাসাদেই থাকবার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

    –ভালোই হয়েছে। এতে আমাদের খোঁজাখুঁজির কাজ ভালোভাবেই চলবে।ফ্রান্সিস বলল।

    তিনদিন কেটে গেল। ফ্রান্সিসরা চার্লসের প্রাসাদেই রইল। অঢেল সুস্বাদু খাবার। বড়ো পালকের শয্যায় শোয়া।ফ্রান্সিসদেরসময় ভালোভাবেই কাটতে লাগল। কিন্তু ফ্রান্সিসের নজর নেই এইসব বিলাসবহুল জীবনের প্রতি। ও সর্বক্ষণ নিজের চিন্তায় বিভোর। ওর দৃঢ় বিশ্বাস চার্লস কোথাও না কোথাও গুপ্ত ধনসম্পদের সূত্র রেখে গেছেন। ওরা সেই সূত্র খুঁজে পাচ্ছে না। ফ্রান্সিস প্রাসাদের সর্বত্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে। কিন্তু সূত্র হিসেবে কাজে লাগে এমন কিছুই খুঁজে পেল না।

    গ্রন্থাগারের প্রাচীন গ্রন্থগুলো শুধু–পাতা উল্টে-ই দেখল ফ্রান্সিস। গ্রীক আরবী ভাষায় লেখা সেসব গ্রন্থ ও কী বুঝবে। শুধু প্রাচীন গ্রীক ভাষায় লেখা বাইবেলটার পাতা উল্টে ভালো করে দেখেছে–অনেক জায়গায় দাগ দেওয়া। বোঝাই যাচ্ছে–চার্লস খুব মনোযোগ দিয়ে বাইবেল পড়েছেন। ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে অনেকে মনে শান্তি পান। হয়তো চার্লসও মনের শান্তি পেয়েছেন। সাজ্জিও চার্লসের শেষ দিককার জীবনের কথা বলেছেন। গীর্জায় প্রার্থনা করেই সময় কাটতো তার। নিশ্চয়ই যীশুর বাণীর মধ্যে তিনি সান্ত্বনা পেয়েছিলেন সন্দেহ নেই। পালিতা কন্যার মৃত্যুর পর তার মধ্যে বিরাট পরিবর্তন এসেছিল।

    গীর্জাটায় ফ্রান্সিস হ্যারি ঘুরে বেড়িয়ে দেখছিল। গীর্জাটার পাথুরে দেওয়ালে কোথাও কোথাও কুঁদে কুঁদে ফুল পাতা পাখির ছবি তোলা হয়েছে। সবচেয়ে জমকালো সুন্দর কাঠের বেদীটা। ঐ বেদীতেই বসানো যীশুর মূর্তি। বেদীতে সূক্ষ্ম নকশার কাজ।

    ফ্রান্সিস কাঠ কুঁদে তোলা বেদীর নক্‌শাগুলো ভালো করে দেখছিল। সাধারণ নশা যেমন হয়। ফুল পাতা পাখি লতাগাছ। দেখতে দেখতে সেই লেখাটায় চোখ পড়ল। বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি। সাজ্জিও পড়ে অর্থটা বলেছিলেন। বড়ো গভীর অর্থ উপদেশটির। ডানদিকেও আর একটি উদ্ধৃতি। উদ্ধৃতি দুটো দেখতে দেখতে হঠাৎ ফ্রান্সিসের মনে হল উদ্ধৃতি দু’টোর মাঝখানে লতাফুল পাতা দিয়ে যেন দুটো চোখ খোদাই করা হয়েছে। ফ্রান্সিস মাথা নিচু করে কাছে গিয়ে দেখল সত্যিই একজোড়া চোখ। ফ্রান্সিস আঙ্গুল দিয়ে জায়গাটা দেখাল। হ্যারিও মুখ নিচু করে কাছ থেকে ভালো করে দেখে বলল– ফ্রান্সিস তোমার অনুমান ঠিক। একজোড়া চোখ খোদাই করা হয়েছে। এমনিতে দেখলে ফুল লতাপাতা মনে হবে। ভালো করে দেখলে তবেই বোঝা যাবে।

    ফ্রান্সিস বলল-দাঁড়াও সাজ্জিওকে ডেকে আনি। ফ্রান্সিস চলে গেল। একটু পরে সাজ্জিওকে নিয়ে ফিরে এলো।

    সাজ্জিও বেদীর কাছে আসতে আসতে বলল–

    –আপনারা ভুল দেখেছেন। আমি অনেকদিন এইনকশাগুলো দেখেছি। একজোড়া চোখ আমি কোনোদিন দেখিনি।

    –তবু–আজকে এই জায়গাটা ভালো করে দেখুন। বলে ফ্রান্সিস আঙ্গুল দিয়ে সেই জায়গাটা দেখাল। সাজ্জিও খুব কাছে গিয়ে দেখতে দেখতে বলল–আশ্চর্য! সত্যিই একজোড়া চোখ খোদাই করা হয়েছে। কিন্তু এই চোখের সঙ্গে চার্লসের ধনসম্পদের কি সম্বন্ধ।

    –নিশ্চয়ই কোনো সম্বন্ধ আছে–ফ্রান্সিস বলল–এবার আপনি বলুন তো এই সব কিছুই কি চার্লসের নির্দেশেই তৈরি হয়েছে?

    –হ্যাঁ–চার্লসের তত্ত্বাবধানেই এই গীর্জার সব কিছু নির্মিত হয়েছে। সাজ্জিও বললেন। ফ্রান্সিস বলল–এবার বলুন তো এই চোখ জোড়াকে কেন্দ্র করে কি কোনো উদ্ধৃতি লেখা আছে। সাজ্জিও ভালো করে চোখ জোড়াটা দেখলেন। বললেন–না– কিছু লেখা নেই।

    –ঠিক আছে ফ্রান্সিস বলল–মানুষের চোখ নিয়ে বাইবেলে কোনো বাণী আছে?

    –থাকতে পারে বৈ কি। সাজ্জিও বললেন।

    –তেমন কোনো বাণী কি আপনার মনে আসছে? ফ্রান্সিস বলল। সাজ্জিও চোখ। ঝুঁজে কিছুক্ষণ চুপ করে বলে উঠলেন–একটি বাণী আছে।

    –সেটা কী? ফ্রান্সিস জানতে চাইল। সাজ্জিও বললেন–বাণীটির অর্থ হল– “তোমার চোখই হল অন্তর আত্মার প্রদীপ। তোমার চোখের দৃষ্টি যদি নির্মল হয় তবে তোমার সমস্ত সত্তা দীপ্তিময় হবে।” সাজ্জিওর কথাটা শেষ হতেই ফ্রান্সিস চিৎকার করে বলে উঠল–সাজ্জিও হ্যারি–এই বেদীর মধ্যেই আছে চার্লসের গুপ্ত ধনসম্পদ।

    সাজ্জিও বলে উঠলেন–এটা আপনার কেন মনে হল?

    –দেখুন সাজ্জিও ফ্রান্সিস বলতে লাগল–আমার প্রথম থেকেই নিশ্চিত ধারণা হয়েছিল–চার্স প্রতিষ্ঠিত এই গীর্জা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার্লস তার ধনসম্পদ গোপনে রেখেছেন। তিনি তার জন্যে এই গীর্জাকেই বেছে নিয়েছেন। সূত্র রেখেছেন বাইবেলের তৃতীয় উদ্ধৃতির মধ্যে। সেটা তিনি এখানে লেখান নি। যাঁরা প্রকৃত যীশুভক্ত তাদের কারো না কারো নজরে এই চোখ দুটো পড়বেই। সঙ্গে সঙ্গে যীশুর উপদেশবাণীও মনে পড়বে। খোদাই করা জোড়া চোখের গুরুত্ব তিনি বুঝতে পারবেন। এতদিন সেটা কেউ বোঝেন নি। আজ আমরা বুঝলাম।

    –তাহলে তো বেদী ভেঙে দেখতে হয়। সেটা সম্ভব নয়। রাজা পিটারও রাজি হবেন না। সাজ্জিও বললেন।

    –বেদি ভাঙা হোক এটা চার্লসও চান নি। কাজেই তিনি সহজ পথটাই রেখেছেন। –এই খোদাই করা চোখ জোড়া। ফ্রান্সিস বলল। তার পর দুটো আঙ্গুল চোখ জোড়ায় রেখে একটু চাপ দিল। চোখ জোড়া খসে পড়ল। ফ্রান্সিস সঙ্গে সঙ্গে ভাঙা চোখের ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকাল। অন্ধকার। কিছুই নজরে পড়ছে না।

    –কিছু দেখতে পাচ্ছেন? সাজ্জিও বললেন।

    –অন্ধকারটা একটু সয়ে আসার সময় দিন। ফ্রান্সিস বলল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরূপোর চাবি – অনিল ভৌমিক
    Next Article মাজোরকা দ্বীপে ফ্রান্সিস – অনিল ভৌমিক

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }