Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চিত্রা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প213 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অন্যায় যখন প্রতিপক্ষ

    এক

    মাঝে-মাঝে পরিবারের ভুল সিদ্ধান্তগুলো মেনে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবু সামাজিক জীব হিসাবে একজন মানুষকে অনেক কিছুই মেনে নিতে হয়। রনির একমাত্র ছোট বোন হীরা। রনির আব্বা আব্দুর রশিদ হুট করেই হীরার বিয়ে ঠিক করেছেন। বিয়ের বিষয়ে রনির মতামত জানারও প্রয়োজন বোধ করেননি। সব ঠিকঠাক করে আব্দুর রশিদ সেদিন ফোন করে রনিকে বললেন, ‘রনি, হীরার জন্য ভাল একটা পাত্র পেয়েছি। ফুলমণি গ্রামের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান।’ একটু থেমে বললেন, ‘ছেলে ইণ্টার পর্যন্ত পড়েছে। গঞ্জে নিজের চারটা দোকান আছে, বাবার জায়গা-জমিও আছে বিস্তর। দুই-দুইটা পাকা দালান আছে তাদের। গ্রামেও খুব নাম-ডাক, সিদ্দিকুরের পরিবারকে সবাই এক নামে চেনে।’

    রনি বলল, ‘হীরার এমন কী বয়স হয়েছে? বিয়ে নিয়ে এত তাড়াহুড়ো করছেন কেন?’

    ‘গত বছর যে মেয়ে ইন্টার পাশ করেছে, তার বিয়ে নিয়ে মা-বাবা চিন্তা করবে না?’ বিস্মিত গলায় আব্দুর রশিদ বললেন।

    ‘হীরার তো আরও পড়াশুনা করার ইচ্ছা। আমি চাই সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুক,’ পাল্টা জবাব দিল রনি।

    আব্দুর রশিদ ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, ‘মেয়েমানুষ অনেক পড়াশুনা করেছে। আর দরকার নেই। আমার মেয়ে শহরে গিয়ে মডার্ন মেয়ে হয়ে ঘুরবে, এটা আমি মেনে নিতে পারব না।’

    ‘আব্বা, ছেলেও তো তেমন ভাল না। পড়াশুনা তেমন করেনি, শুধু টাকা- পয়সা দেখেই রাজি হলেন?’

    আব্দুর রশিদ রেগে গেলেন। থমথমে গলায় বললেন, ‘তোমার মতামত চাওয়ার জন্য আমি ফোন করিনি। আমার মেয়ের জন্য কোনটা ভাল, মন্দ, আমি বুঝব। তোমার এত মাথা ঘামাতে হবে না।’

    ‘ঠিক আছে, আব্বা।’

    ‘আগামী মাসের দুই তারিখে হীরার গায়ে হলুদ। তিন তারিখ বিয়ে। তুমি অবশ্যই আগে-ভাগে চলে আসবে।’

    ‘বড় ভাই হিসেবে আমার মতামতের যখন কোনও গুরুত্ব নেই, তখন আমি না আসলে কি কোনও ক্ষতি হবে?’

    ‘লাভ-ক্ষতির হিসাব আমাকে বোঝাবে না। আসবে কি আসবে না তোমার বিবেচনা।’

    আব্দুর রশিদ ফোন রেখে দিলেন। পুরো বিষয়টা এখনও ঠিকমত মনের ভিতর সাজাতে পারেনি রনি। ঠিক সেই মুহূর্তে হীরা ফোন করল।

    রনি ‘হ্যালো’ বলতেই ওপাশ থেকে হীরার কান্নার শব্দ শুনতে পেল।

    রনি চমকে উঠে বলল, ‘কী হয়েছে, হীরা?’

    ‘আব্বা আমার বিয়ে ঠিক করেছে, শুনেছ?’

    ‘হ্যাঁ, শুনেছি।’

    ‘আমি এখন বিয়ে করব না, ভাইয়া।’

    রনি কী বলবে বুঝতে পারছে না। তার মতামতের কোনও গুরুত্ব পরিবারে নেই। সান্ত্বনার ভঙ্গিতে বলল, ‘কাঁদিস না। কেঁদে কোনও লাভ নেই।’

    ‘ভাইয়া, ভাইয়া, আমাকে বাঁচাও। আমি আরও পড়ালেখা করব।’

    ‘ধুর, বোকা। বিয়ে নিয়ে এত ভয় পাওয়ার কী আছে?’

    ‘আমি পড়ালেখা করতে চাই।’

    দেখবি তোর বরই তোকে পড়ালেখা করাবে।’

    ‘না, করাবে না। লোকটা আমার চেয়ে বারো-তেরো বছরের বড়। তার বাবা বলেছে, আমার বউ না, একটা কাজের মেয়ে দরকার। ঘরের সবকিছু বাড়ির বউকেই সামলাতে হবে।’

    ‘এরপরেও আব্বা এই বিয়েতে রাজি হলেন?’

    ‘হ্যাঁ। আব্বারও মেয়েদের নিয়ে একই ধারণা। এ ছাড়া তিনি আমাকে একটা শিক্ষা দিতে চান। ‘

    ‘মানে? কী শিক্ষা?’

    ‘তুমি তো আনিস ভাইয়ার ব্যাপারটা জানতে। আব্বা আনিস ভাইয়ার ব্যাপারটা জানার পর তড়িঘড়ি করে বিয়ে ঠিক করেছেন।’

    রনির মনে পড়ল। আনিস তাদের গ্রামেরই ছেলে। ওর চেয়ে কয়েক বছরের ছোট। এখন ঢাকা কলেজে মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে। অনেক আগে থেকেই আনিস হীরাকে পছন্দ করে। হীরারও তার প্রতি আগ্রহ আছে। আনিস বলেছে একটা চাকরি জোগাড় করে হীরার বাসায় প্রস্তাব পাঠাবে। কিন্তু আব্দুর রশিদ এই বিষয়টা জানতে পেরে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন। তাঁর মেয়ের নিজ পছন্দে বিয়ে হবে, এটা তিনি চিন্তাও করতে পারেন না। ছেলে রাজপুত্র হলেও সেই বিয়ে তিনি মানবেন না।

    ভাবলেশহীন গলায় রনি বলল, ‘আব্বার বিষয়ে কী আর বলব! তুই একটা ছেলেকে পছন্দ করিস তাতেই আব্বা এমন করছে। আর যদি প্রেম করতি, তা হলে মনে হয় মেরেই ফেলত।’

    হীরা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলল, ‘ভাইয়া, আমি এখন কী করব?’

    ‘সাহস থাকলে পালিয়ে যা।’

    ‘সাহস নেই। আর পালিয়ে কোথায় যাব?’

    ‘আনিস কী বলে?’

    ‘তিনি তো খুব আঘাত পেয়েছেন। তাঁর বাবাকে দিয়ে আব্বার সাথে কথা রলানোর চেষ্টা করেছিলেন। আব্বা তাঁর সাথে ঠিকমত কথা তো বলেনইনি, উল্টো খুব অপমান করেছেন।’

    ‘আচ্ছা, দেখি আমি কী করতে পারি।’

    ‘তুমি দ্রুত বাসায় চলে এসো, ভাইয়া।’

    ‘আচ্ছা, আসব।’

    ‘আমার মন বলছে তুমি এলে কিছু একটা ব্যবস্থা হবে।’

    দুই

    দেরি করতে ইচ্ছে হলো না রনির। হীরার ফোন পাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই অফিস থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করল। বোনের এই সমস্যায় হাত গুটিয়ে বসে থাকা যায় না। রনি গ্রামে যাওয়ার পর আব্বার হাসিমুখ দেখতে পেল। রনিকে দেখে তিনি বললেন, ‘ভাল সময়ে এসেছ। কাল সিদ্দিকদের বাসায় যাওয়ার কথা আছে। তোমাকে নিয়ে যাব।’

    সিদ্দিকের সঙ্গে হীরার বিয়ে হতে যাচ্ছে।

    রনি বলল, ‘আব্বা, আমি যাব না।’

    মুহূর্তেই আব্দুর রশিদের মুখ কালো হয়ে গেল। বললেন, ‘কেন যাবে না?’

    ‘আব্বা, ছেলের বয়স তো অনেক বেশি। আমার চেয়েও চার-পাঁচ বছরের বড়।’

    ‘বয়সে বড় ছেলেই সংসার করার জন্য ভাল। এরা আবেগে চলে না। বুঝে- শুনে সিদ্ধান্ত নেয়।

    ‘কিন্তু হীরার তো এই বিয়েতে মত নেই।

    ‘হীরার যদি মত না থাকে সেটা আমার সামনে এসে বলতে বলো। দেখি কত সাহস!’ আব্দুর রশিদের হাত মুষ্টিবদ্ধ। তিনি যখন খুব বেশি রেগে যান, হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাখেন। রনির দিকে সোজাসুজি তাকিয়ে বললেন, ‘তোমার সাথে এই বিষয়ে আমি আর কোনও কথা বলতে চাই না। কাল তুমি আমার সাথে সিদ্দিকদের বাসায় যাবে, এটাই শেষ কথা। আর আমার সাথে কখনওই এমন উঁচু স্বরে কথা বলবে না।’

    রনির ভিতরটা কেঁপে উঠল। আব্বার কথার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস তার কখনওই ছিল না। কিন্তু আদরের বোনটার এই সমস্যা রনিকে কেমন যেন বদলে দিয়েছে। আব্বা যখন বলছেন তখন কাল সিদ্দিকুরদের বাসায় যাবে রনি। ছেলে কেমন এটাও তার জানা দরকার, আব্বার কথার উপর কোনও ভরসা নেই।

    .

    হীরার হবু বরের পুরো নাম সিদ্দিকুর রহমান। তার বাবার ভালই টাকা-পয়সা আছে বোঝা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিশাল দুটো দোতলা বাড়ি। এই গ্রামে এমন আর একটাও বাড়ি আছে কি না সন্দেহ। রনিদের যে ঘরটাতে বসতে দেয়া হয়েছে তার সাজসজ্জা চোখে পড়ার মত। ঘরের মেঝেতে কার্পেট, দেয়ালে কিছু মহামানবের ছবি, শৌখিন সোফা আর ৩১ ইঞ্চি বিশাল এলইডি টিভি। দেখে কেউ বুঝতে পারবে না এটা গ্রামের কোনও বাড়ি। আব্দুর রশিদের মুখে বিজয়ীর হাসি। সম্ভবত তিনি ছেলেকে বোঝাতে চাইছেন, দেখো, কত বড় ঘরে হীরার বিয়ে ঠিক করেছি।

    পাত্রপক্ষ যত্নের চূড়ান্ত করলেন। সিদ্দিকুর রহমান রনির চেয়ে বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও তাকে ভাইয়া ডাকছে। রনি এতে কিছুটা বিব্রত বোধ করছে। সিদ্দিকুর রহমান মাথা নিচু করে বললেন, ‘আমার বউয়ের বড় ভাই মানে আমার বড় ভাই। এখানে বয়স কোনও বিষয় না। আমি বড় ভাইকে অবশ্যই সম্মান করব।’

    সিদ্দিকুরের বাবাও বেশ কিছু কথা বললেন। বেশ অপরাধী মুখ করে বললেন, ‘এর আগের দিন আপনাদের একটা অন্যায় কথা বলেছিলাম।’

    আব্দুর রশিদ বললেন, ‘কী কথা?’

    ‘বলেছিলাম, আমাদের একটা কাজের লোকের মত বউ দরকার। আমি অশোভন কথা বলেছিলাম। ক্ষমাপ্রার্থী। আসলে আমি খারাপ অর্থে কথাটা বলিনি। বুঝাতে চেয়েছি আমার ঘরের সব দায়িত্ব বউমার উপরেই থাকবে।’

    আব্দুর রশিদ মাথা নেড়ে বললেন, ‘আমি কি এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ করেছি, বেয়াই সাব?’

    ‘নাহ, আপনি কোনও অভিযোগ করেননি। তবে সিদ্দিকের মা সেদিন কথাটা শুনে খুব রাগ করেছিল। পরে আমারও মনে হয়েছে ভুল বলেছি।’

    ‘মেয়েদের বিয়ের পর অবশ্যই সংসারের কাজকর্ম করতে হবে। এটা তো চিরন্তন সত্য। আমার মেয়েও আলহামদুলিল্লাহ লক্ষ্মী। সে সব সামলে নিতে পারবে।’

    ‘আর আমাদের কোনও দাবি-দাওয়া নেই। এমনকী মেয়েকে গয়না না দিলেও সমস্যা নেই। আমরাই সব দিয়ে মেয়ে সাজিয়ে আনব।’

    ‘এ তো আপনাদের মহত্ত্ব। তবে আমার একটা মাত্র মেয়ে। আমি সাধ্যমত মেয়েকে সবকিছুই দেব।’

    ‘ঠিক আছে। মেয়ের বাবার মনে আমরা কষ্ট দিতে চাই না। আর দেনমোহর আপনি যা ঠিক করবেন তাই। আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’

    আব্দুর রশিদ ছেলের কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বললেন, ‘এরা কত বড় বাড়ির মানুষ বুঝতে পেরেছ? পারলে এদের একবার সালাম করে দোয়া নিয়ো, জীবনে কাজে লাগবে।’

    কথাবার্তা চলছে। হঠাৎ রনি বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করল। সিদ্দিকুর নীচে গিয়েছে। সিদ্দিকুরের বাবা বাথরুমের কথা শুনে বললেন, ‘ভিতরে গিয়ে ডানদিকের মাথায় বাথরুম। নতুন টাইলস লাগিয়েছি। যাও।’

    .

    রনি ডানদিকে হাঁটতে লাগল। মনে হচ্ছে দোতলাতে তেমন কেউ থাকে না। বড়- বড় অনেকগুলো রুম। কিন্তু বেশিরভাগই তালাবদ্ধ। ঠিক বাথরুমের পাশের রুমটার সামনে গিয়ে রনি থমকে দাঁড়াল। রুমের দরজায় একটা বড় তালা ঝুলছে। কিন্তু মনে হচ্ছে ভিতর থেকে কারও কথার শব্দ শোনা যাচ্ছে। কেমন যেন কৌতূহল হতে লাগল রনির। রুমের জানালাটা আলতো করে ধাক্কা দিল খুলে গেল সেটা। ভিতরটায় ঈষৎ অন্ধকার। বোঝা যাচ্ছে অনেক বড় একটা রুম। ভিতরে কোনও আসবাবপত্র নেই এবং মনে হচ্ছে রুমের মধ্যে কয়েকজন হাঁটাহাঁটি করছে।

    হঠাৎ রনিকে চমকে দিয়ে একটা মেয়ে জানালার সামনে এসে দাঁড়াল। পরনে লাল রঙের শাড়ি। বড় আঁচল দিয়ে মুখটা ঢাকা। রনির মনের মধ্যে অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে, মনে হচ্ছে কিছু একটা ঠিক নেই।

    মেয়েটা বলল, ‘বোনের বিয়ে দিতে এসেছেন?’

    ‘জি।’

    ‘মিষ্টি এনেছেন তো?’

    ‘জি, এনেছি। আপনি কে?’

    মেয়েটা হেসে উঠল। রনির মনে হচ্ছে আঁচলের ওপাশে একটা কিশোরী মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    ‘হাসছেন কেন?’

    ‘বিয়ে বাড়ি তো হাসিরই জায়গা।’

    ‘আপনি কে বললেন না তো।’

    ‘বলব না।’

    ‘ঘরের দরজায় তালা দেয়া কেন?’

    ‘আমি পাগল তো তাই আটকে রেখেছে।’ আবার হাসি

    ‘ওহ।’ রনি জানালা থেকে একটু দূরে সরে গেল। এতক্ষণে আসল ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে। মেয়েটা সিদ্দিকুর রহমানের কোনও আত্মীয়। সম্ভবত মানসিক ভারসাম্যহীন তাই ঘরে আটকে রাখা হয়েছে।

    রনি বাথরুমের দিকে যাচ্ছিল। মেয়েটা আবার ডেকে বলল, ‘যাবেন না। আপনার সাথে আরও কথা আছে।’

    রনি মেয়েটার সঙ্গে কথা বলার তেমন কোনও আগ্রহ বোধ করছে না। পাগল মানুষ কখন কী করে, ঠিক নেই। মেয়েটা গলা নামিয়ে বলল, ‘সিদ্দিকের সাথে আপনার বোনের বিয়ে দেবেন না।’

    ‘কী বলছেন এসব? কেন?’

    ‘সিদ্দিকের সাথে বিয়ে না দিয়ে বোনকে পুড়িয়ে মেরে ফেলুন।’

    মেয়েটা আসলেই পাগল, বোঝা যাচ্ছে। তার কথা জড়িয়ে যাচ্ছে।

    ‘আপনি কে?’ পুরানো প্রশ্নটা আবার করল রনি।

    ‘আমি আমেনা।’

    ‘ওহ।’

    ‘আমি সিদ্দিকের প্রথম বউ।’ আমেনার গলায় নিস্পৃহ ভাব।

    ‘অ্যা! সিদ্দিকুরের আগের বউ আছে? এটা তো জানতাম না। আপনি কি সত্যি বলছেন?’ নিজের বিস্ময়টা লুকাতে পারল না রনি।

    ‘হা-হা। আরও অনেক কিছুই আপনারা জানেন না।’

    ঠিক সেই মুহূর্তে আরও একটা মেয়ে জানালার সামনে দাঁড়াল। এর পরনেও লাল রঙের শাড়ি। আগের মেয়েটার মত সে-ও আঁচল সামনের দিকে টেনে রেখেছে।

    এই মেয়েটা নিজ থেকেই বলল, ‘আমি জমিলা। সিদ্দিকের দ্বিতীয় বউ।’

    রনির মাথা ঘুরে উঠল। কী দেখছে এসব। সিদ্দিকের আগের বউ আছে। দু’জনেই পাগল? এটা কীভাবে হয়? নাকি এই মেয়ে দুটো মিথ্যা বলছে?

    কিন্তু তাদের কণ্ঠস্বরের মধ্যে এক ধরনের বেদনার ছাপ রয়েছে, গভীর বেদনা নিয়ে মিথ্যা বলাটা কঠিন।

    আমেনা বলল, ‘আমি সিদ্দিকের সাথে দুই বছর সংসার করেছিলাম। সিদ্দিকের মা-বাবা আর সিদ্দিক দিনরাত আমার উপর নির্যাতন করত। এরপর একদিন…’

    ‘একদিন কী?’

    ‘সিদ্দিক আর তার বাবা আমার সারা শরীরে অ্যাসিড ঢেলে দেয়। তারপর আমাকে এই রুমে ফেলে রাখে।’

    রনি আঁতকে উঠল। ‘অ্যাসিড!!!’

    ‘হ্যাঁ। এদের গোপন কয়েকটা কারখানা আছে। সেখানে অ্যাসিড মজুত করে রাখা আছে। কাউকে শায়েস্তা করার দরকার হলেই এরা অ্যাসিডকে কাজে লাগায়।’

    আমেনাকে থামিয়ে দিয়ে জমিলা বলল, ‘আমার দুই বছর সংসার করার সৌভাগ্য হয়নি। আমাকে গোপনে বিয়ে করে এনেছিল সিদ্দিক। বিয়ের তিন দিনের মাথায় বদমাশটা আমার শরীরে অ্যাসিড ঢেলে দেয়। আমাকেও এই রুমে ফেলে রেখেছিল। এমনভাবে লুকিয়ে রেখেছিল যে, গ্রামের লোকজনও সিদ্দিকের দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানে না।’

    ‘আপনারা কী পাগলের মত কথা বলছেন? আপনারা বলছেন সারা শরীরে অ্যাসিড মেরে এখানে ফেলে রেখেছিল। তা হলে চিকিৎসা ছাড়া আপনারা বেঁচে আছেন কীভাবে?’

    দু’জনেই ভয়ঙ্করভাবে হেসে উঠল। রনির হাতে-পায়ে শীতল ভাব ছড়িয়ে পড়ল। মনে হচ্ছে বহুদূর থেকে হাসির শব্দ ভেসে আসছে। জানালার সামনে থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে রনি। তবে অদ্ভুত কোনও আকর্ষণ তাকে সেখানে আটকে রেখেছে। কিছু একটা রনি দেখতে চায় না, কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে দেখতেই হবে।

    ঘটনাটা ঘটল খুব দ্রুত। আমেনা এবং জমিলা এক ঝটকায় মুখের উপর থেকে আঁচল সরিয়ে নিল। রনির মুখ দিয়ে মৃদু আর্তচিৎকার বেরিয়ে এল। রনি পিছনের দেয়ালের সঙ্গে মিশে দাঁড়াল। বুঝতে পারছে তার শরীর কাঁপতে শুরু করেছে, ঘামে ভিজে গেছে শরীরের অনেকটা অংশ। এ ভয়ঙ্কর দৃশ্য রনি দেখতে চায় না। সে চোখ বন্ধ করল। মনে হলো, চোখ খুললেই দেখবে সামনের সবকিছু অদৃশ্য হয়ে গেছে। কিন্তু তা হলো না। সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যটা রনিকে বারবার দেখতে হলো।

    রনি দেখল আমেনা এবং জমিলার মুখ, গলা, হাত ঝলসে গেছে। মুখমণ্ডলে চোখের কোনও অস্তিত্ব নেই, নাক এবং ঠোঁট যেন একসঙ্গে মিশে গেছে, কোথাও- কোথাও মাংস খসে পড়েছে, মাথায় চুল নেই একটাও।

    জমিলা হেসে বলল, ‘বিশ্বাস হয়েছে আমাদের কথা? শরীরের সব জায়গায়ই এই অবস্থা। সব আপনাকে দেখাতে পারব না।’

    রনি শক্ত করে দেয়াল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে যে কোনও সময় মাথা ঘুরে পড়ে যাবে।

    জমিলা বলল, ‘নিজের বোনের যদি এমন অবস্থা দেখতে চান, তবে অবশ্যই সিদ্দিকের সাথে বিয়ে দেবেন। তখন এই ঘরে আমরা তিনজন থাকব। মাঝে- মাঝে আমাদের তিনজনকে দেখে যাবেন।’

    আমেনা গলা নামিয়ে বলল, ‘আমাদের কাছেও অ্যাসিড আছে। একদিন আমরাও সিদ্দিক আর ওর মা-বাবার উপর অ্যাসিড ঢেলে দেব।’

    রনি আর দাঁড়াতে পারল না। বাথরুম সেরে দৌড়ে বসার রুমে ফিরে গেল। আব্দুর রশিদ রনির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কী হয়েছে? এভাবে ঘেমেছ কেন?’

    রনি ঠিকভাবে বসতে পারছে না। তার মুখের মধ্যে শুকনো খটখটে হয়ে আছে। মনে হচ্ছে কথা বলার শক্তিও যেন হারিয়ে ফেলেছে।

    ‘চলো, আজ তা হলে উঠি,’ আব্দুর রশিদ রনির দিকে তাকিয়ে বললেন। রনি নিশ্চুপ। সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো লাগছে।

    সিদ্দিকুর রহমান আব্দুর রশিদের পা ছুঁয়ে সালাম করল। আব্দুর রশিদ চাপা গলায় বললেন, ‘দেখেছ কেমন ভদ্র ছেলে! মাশা’আল্লাহ।’

    রনি দুর্বলভাবে মাথা নাড়ল।

    ফুলমণি গ্রাম থেকে রনিদের গ্রাম আশামণির দূরত্ব খুব বেশি নয়। ভ্যানে বা রিকশায় করে সবাই যাতায়াত করে। রনি আব্বাকে ভ্যানে তুলে দিয়ে বলল, ‘আব্বা, আপনি বাড়ি চলে যান। আমি একটু পর আসছি।’

    ‘কোথায় যাচ্ছিস?’

    ‘এই গ্রামে আমার একটা বন্ধু আছে। তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।’

    ‘আচ্ছা, যা। রাতে তুই বাসায় ফিরলে বিস্তারিত কথা বলব।’

    তিন

    অনেকদিন সেলিমদের বাসায় যায়নি রনি। পুরানো বন্ধুর সঙ্গে বহু বছর পর দেখা হলেও কোনও সমস্যা হয় না, আন্তরিকতায় এতটুকু খাদ থাকে না। সেলিম রনিকে দেখে আনন্দে জড়িয়ে ধরল। ওর মা-বাবার মুখেও হাসি ফুটল। রনি অনেকবার বলার চেষ্টা করল, ‘একটু পরেই চলে যাব।’ সেলিম কঠিন গলায় উত্তর দিল, ‘আজ যেতে পারবি না। পুকুরে জাল ফেলা হয়েছে। আর আব্বা মোরগ জবাই করবে। আজ রাতে তোকে ছাড়ছি না, আজ একসাথে খাওয়া-দাওয়া করব আর সারারাত পুকুর পাড়ে বসে গল্প করব।’

    রনি রাজি হলো, মানে হতেই হলো। এরকম অকৃত্রিম ভালবাসাকে অগ্রাহ্য করা খুব কঠিন।

    রাতের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন দেখে রনি হতবাক হয়ে গেল। বড় রুই মাছ, দেশি কই, চিংড়ি, মোরগের মাংস, শিম ভর্তা, মসুরের ডাল, আচার এবং দই। এত অল্প সময়ে এত আয়োজন! শহরে কোনও আত্মীয়ের বাসায় এই ভালবাসার এক ভাগও কল্পনা করা যায় না। ‘আহা! গ্রামে যদি ফিরে আসতে পারতাম। পুরনো কত স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে।’ রনির মনের মধ্যে ঘুরতে লাগল কথাগুলো।

    প্রিয় পুকুর ঘাটে অনেকদিন পরে বসেছে রনি আর সেলিম। হাতে পাতার বিড়ি। পাতার বিড়ি খাওয়ার মাধ্যমে তাদের পুরানো আনন্দ যেন আবার ফিরে এসেছে। সুন্দর বাতাসে শরীর জুড়িয়ে যাচ্ছে। আর আকাশে চাঁদও রয়েছে। এত সুন্দর পরিবেশ যে তাদের মনে হচ্ছে অনন্তকাল এখানে বসে থাকে। নতুন- পুরানো নানা গল্প চলল দুই বন্ধুর। রনির কথা কতটা মনে পড়ে সেটাও জানিয়ে দিল সেলিম। কথায়-কথায় হীরার বিয়ের প্রসঙ্গটা তুলল রনি। প্রথমে বেশ আগ্রহ দেখালেও সিদ্দিকুর রহমানের কথা শুনে সেলিমের উৎসাহটা মিইয়ে গেল।

    রনির দিকে না তাকিয়ে শুধু বলল, ‘তা হলে তোর বোনের সাথেই সিদ্দিক ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে?’

    ‘তুই বিয়ের বিষয়ে আগেই জেনেছিলি?’

    ‘হ্যাঁ, শুনেছিলাম সিদ্দিক ভাই বিয়ে করতে যাচ্ছে। কিন্তু মেয়েটা যে আমাদের হীরা তা জানতাম না।’

    ‘হুম।’ আড়চোখে সেলিমের দিকে তাকিয়ে রনি বলল, ‘সিদ্দিকুর রহমান লোক কেমন?’

    সেলিম রনির দিকে একনজর তাকাল। তারপরেই চোখ নামিয়ে নিল। মিনমিন করে বলল, ‘হ্যাঁ, ভালই তো।’

    রনি সেলিমের কাঁধ ধরে বলল, ‘দেখ, সেলিম, এটা আমার বোনের জীবনের প্রশ্ন। তুই সিদ্দিকুর সম্পর্কে খারাপ, ভাল যা-ই জানিস, আমাকে বল। কিছু লুকাবি না।’

    ‘মানুষটা ভাল না রে,’ সরাসরি বলে বসল সেলিম। ‘যেহেতু বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, তাই কিছু বলতে চাইছিলাম না।’

    সেলিমের কথায় মনের মধ্যে ধাক্কা লাগলেও স্বাভাবিক গলায় রনি বলল, ‘বিয়ে শুধু ঠিক হয়েছে, হয়ে তো যায়নি। আমাকে সব খুলে বল।’

    ‘খুলে বলার খুব বেশি কিছু নেই। সিদ্দিকুর রহমানের বাবা খিজির রহমান গ্রামের প্রভাবশালী মানুষ। বহু মানুষের জমা-জমি দখল করে অনেক সম্পত্তির মালিক হয়েছে। সিদ্দিকুর রহমানও বাবার ধারা অব্যাহত রেখেছে। গ্রামের মানুষ এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ।’

    ‘হুম।’

    ‘আর একটা বড় ব্যাপার হচ্ছে সিদ্দিকুরের চরিত্রও তেমন ভাল না। গ্রামের বহু মেয়ের দিকে সে নজর দিয়েছে। তার জন্য অনেক মেয়েকে গ্রামছাড়া হতে হয়েছে। তুই কি জানিস সিদ্দিকুরের আগের একটা বিয়ে আছে?’

    ‘বলিস কী!’

    ‘হ্যাঁ, আমেনা নামে এই গ্রামের একটা অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে করেছিল। একদিন জানতে পারলাম রান্নাঘরে আগুন লেগে আমেনা মারা গেছে। গ্রামের সবাই ছুটে গেলাম সিদ্দিকুরদের বাড়িতে। দেখলাম গোলপাতার রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কাউকে লাশও দেখতে দেয়া হয়নি। তড়িঘড়ি করে বাড়ির পিছনের কবরস্থানে আমেনাকে কবর দেয়া হয়। আমেনার মৃত্যু নিয়ে লোকজনের মধ্যে নানান কানাঘুষা আছে।’

    ‘কী কানাঘুষা?’

    এটা বলা ঠিক হবে না রে। মানুষ তো আজগুবি কথা বলতে পছন্দ করে। এগুলো বিশ্বাস না করাই ভাল।’

    ‘আমাকে বল, সেলিম। আমি অবুঝ মানুষ নই, কিছু শুনেই আমি হুট করে বিশ্বাস করে ফেলি না।’

    নিচু গলায় সেলিম বলল, ‘অনেকে বলে সিদ্দিক এবং তার বাবা-মা মিলে আমেনাকে মেরে ফেলেছে।

    ‘ওহ, আল্লাহ!’

    ‘হ্যাঁ, তাদের ভাষ্য মতে আমেনাকে অ্যাসিডে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এরপর রান্নাঘরে আগুন লাগার নাটক সাজানো হয়েছে।’

    রনি কী বলবে বুঝতে না পেরে সেলিমের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।

    সেলিম আবার বলল, ‘সিদ্দিক এবং তার বাবা শত্রুদের অ্যাসিডে ঝলসে দেয়। অতীতে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। তবে তারা এত ক্ষমতাশালী যে কেউ পুলিশের কাছে যেতে সাহস পায়নি। অনেক গুণ্ডা পোষে সিদ্দিকুর রহমান, পুলিশের সাথেও বেশ দহরম মহরম। বুঝতেই পারছিস।’

    ‘আচ্ছা, সিদ্দিকুর কি জমিলা নামে কোনও মেয়েকে বিয়ে করেছিল?’

    সেলিম শক খাওয়ার মত চমকে উঠল। তার কথায় জড়তা চলে এল। ‘তু- তুই তু-তুই জ-জমিলার কথা কীভাবে জানলি?’

    ‘সত্যি কি না বল?’

    ‘জমিলাকে আমি কোনওদিন দেখিনি। গ্রামের কিছু মানুষ জমিলার কথাও বলত একসময়। সিদ্দিকুর নাকি দূরের এক গ্রাম থেকে ওই মেয়েটাকে বিয়ে করে এনেছিল। বিয়ের তিন দিনের মাথায় সে নিখোঁজ হয়েছিল। তবে জমিলাকে গ্রামের কোনও মানুষ চোখে দেখেনি। হতে পারে এটা একটা গুজব।’

    ‘আমি এখন কী করব, রে?’

    ‘আমিও তাই ভাবছি। হীরাকে সিদ্দিকুরের বউ হিসাবে দেখব ভাবতেই পারছি না।’

    ‘আব্বা এই পরিবার সম্পর্কে ঠিকমত খোঁজখবর না নিয়ে কীভাবে বিয়ে ঠিক করলেন?’

    ‘চাচাজান হয়তো খোঁজখবর নিয়েছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে সিদ্দিকুরদের বিরুদ্ধে খারাপ কথা বলার সাহস কারও নেই।’

    ‘চল, শুয়ে পড়ি। ভাল লাগছে না।’

    ‘তোর মনটা খারাপ করে দিলাম!’

    ‘মনটা এমনিতেই খারাপ। তোর কথায় বরং আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তুই যে আমাদের কত বড় উপকার করলি…’ সেলিমের হাতটা শক্ত করে ধরে বলল রনি।

    সেলিম এদিক-ওদিক তাকিয়ে বলল, ‘একটা অনুরোধ, আমি যে তোকে এসব বলেছি, কাউকে বলবি না।’

    সেলিমের ভয়টা দেখে রনি বুঝতে পারল সিদ্দিকুর রহমান কতটা নিষ্ঠুর চরিত্রের।

    চার

    জীবনে প্রথমবারের মত আব্বার সঙ্গে কথা বলতে রনি কোনও ভয় পাচ্ছে না। বেশ স্পষ্ট স্বরেই বলল, ‘আব্বা, সিদ্দিকুর লোকটা ভাল না।’

    ২৩৮

    আব্দুর রশিদ কঠিন চোখে রনির দিকে তাকালেন। ‘কী বললে?’

    ‘আপনি জানেন, সিদ্দিকুরের আগে বিয়ে আছে?’

    ‘হ্যাঁ, জানি।’

    রনির মাথায় যেন বাজ পড়ল। ‘আপনি জানেন?!!’ উত্তেজনায় চেয়ার থেকে

    দাঁড়িয়ে পড়ল।

    ‘এত লাফাচ্ছ কেন? জানি তো আগে একবার বিয়ে করেছিল। বউটা আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিল।’

    ‘আব্বা, সিদ্দিকুর আর তার বাবা-মা মিলে ওই বউটাকে মেরেছিল।’

    ‘একদম চুপ। বাজে কথা বলবে না।’

    ‘শুধু তাই নয়। আরও একটা মেয়েকে বিয়ে করে সিদ্দিকুর মেরে ফেলেছিল। গ্রামের অনেক মানুষের উপরে নির্যাতনের ইতিহাসও আছে ওদের। সিদ্দিকুরের চরিত্রও তেমন সুবিধার না।’

    ‘বাহ! এতদিন গ্রামে থেকে আমি কিছু জানতে পারিনি, আর তুমি দেখি এক রাতের মধ্যে সব কিছু জেনে গেছ!’

    রনি আব্বার বিদ্রূপটা গায়ে না মেখে বলল, ‘কোনওভাবেই সিদ্দিকুরের সাথে হীরার বিয়ে দেবেন না, আব্বা।’

    ‘তুমি যা-যা বললে সব গ্রামের মানুষের রটনা। মানী লোক সম্পর্কে গ্রামের মানুষ খারাপ কথা ছড়াতে পছন্দ করে।’

    ‘আমি কোনওভাবেই এই বিয়ে হতে দেব না।’

    আব্দুর রশিদ শক্ত করে চেয়ারের হাতল ধরলেন। তিনি রাগে অস্থির হয়ে আছেন বোঝা যাচ্ছে। বললেন, ‘সিদ্দিকুর একটা বিয়ে করেছিল। তার বউটা রান্নাঘরের আগুনে মারা গিয়েছিল। এটুকুই সত্যি। আর কিছুই সত্যি নয়। আর তুমি বিয়ে বন্ধ করার কে? এখনও আমার হাতে জোর আছে, মনে রাখবে। বেয়াদবকে সোজা করার উপায় আমার জানা আছে। আমার সামনে থেকে যাও।’

    রনি উঠে দাঁড়াল।

    ‘তোমার শাস্তির ব্যবস্থা আমি অবশ্যই করব। আমি দুষ্ট গরু পুষতে চাই না।’

    রনি মনে-মনে বলল, ‘আপনার গোয়ালে আমি আগুন দেব, আব্বা। আপনার গোয়াল শুধু শূন্যই থাকবে না, ধ্বংসও হয়ে যাবে। আপনার অত্যাচার অনেক সহ্য করেছি, আর না।’

    পুরানো একটা দুঃখের স্মৃতি মনে পড়ে গেল রনির। রনির বয়স যখন আঠারো, তখন আব্বা তার বিয়ে দিয়েছিলেন। একরকম বাধ্যই করেছিলেন বিয়ে করতে। আব্দুর রশিদের যুক্তি ছিল অল্প বয়সে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিলে তাদের জীবন সুখের হবে। কিন্তু রনির জীবন সুখের হয়নি। রনির বারো বছর বয়সী বউ শাহানা আব্দুর রশিদের পরিবারের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি। তবে রনির কেন যেন মনে হয়, শাহানা তাকে একটু-একটু পছন্দ করত। বাসর রাতে সে অনেক গল্প করেছিল। তার জীবনের গল্প। তাদের বাসার গাভীটার একটা নতুন বাছুর হয়েছিল, বাছুরটা তার গলা শুনলেই দৌড়ে আসত। তার বান্ধবী সীমা নাকি মাছের মত সাঁতার কাটে, কোনও ছেলেও তাকে হারাতে পারবে না। রিয়াজ- শাবনূরের নতুন সিনেমাটা দেখে নাকি চোখে পানি এসে যায়। রনির সে-রাতে মনে হয়েছিল, আল্লাহ শুধু তার জন্য এই বিশেষ মেয়েটিকে তৈরি করেছেন। শাহানার মধ্যে রনি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিল।

    কিন্তু সুখ রনির ভাগ্যে ছিল না। বিয়ের পরদিন থেকে আব্দুর রশিদের কড়া শাসনের মধ্যে পড়ে গেল শাহানা। রনির আম্মা এমনিতে আব্দুর রশিদের কাছে কোনও কাজে পাত্তা পান না। তবে আব্দুর রশিদ যখন কারও প্রতি অন্যায় করেন, তখন রনির আম্মা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে যান। সে অর্থে তিনিও একজন নিষ্ঠুর মানুষ।

    রনির আব্বা, আম্মা দু’জনে মিলে শাহানার জীবনটা বিষিয়ে দিয়েছিলেন কিশোরী মেয়েটা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করত। কাজের পুরস্কার হিসাবে ছিল শ্বশুরের ধমক আর শাশুড়ির টিপ্পনী। তার খাওয়া-দাওয়ার দিকেও কারও নজর ছিল না। তার পোশাক-আশাক ছিল চাকরানির মত। অবাক ব্যাপার হচ্ছে শাহানা কখনও রনির কাছে এ বিষয়ে প্রতিবাদ করেনি। প্রতিবাদ করলেও অবশ্য রনির কিছু করার ছিল না।

    শাহানার পরিবারের সদস্যরা এই নির্যাতনের বিষয়ে সবই জেনেছিল। তারা ব্যাপারটা মেনে নিতে পারেনি। ফলে, দুই মাসের মধ্যেই তালাক সম্পন্ন হয়েছিল। রনি শুনেছে শাহানার আবার বিয়ে হয়েছে। একটা বাচ্চাও নাকি আছে। লজ্জার ব্যাপার হচ্ছে, এখনও রনি আনমনে সেই কিশোরী মেয়েটার কথা ভাবে। গোলগাল মুখ, মিষ্টি চেহারা, চোখে-মুখে কৌতূহল ভরা যে মেয়েটাকে দেখে রনি মুগ্ধ হয়েছিল।

    তালাক হয়ে যাওয়ার কয়েক বছর পর, আব্দুর রশিদ আবার রনির বিয়ের চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু রনি কোনওক্রমেই রাজি হয়নি। রনির নিজের জীবনে যে খারাপ বিষয়টা ঘটে গেছে, তা সে কোনওক্রমেই হীরার জীবনে ঘটতে দেবে না, কিছুতেই না।

    পাঁচ

    আনিস ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছে। হীরাই সংবাদটা রনিকে দিয়েছে। রনি দেরি না করে আনিসদের বাসায় গেল। আনিসদের বাসা কাছাকাছি। রনিকে দেখে আনিস কিছুটা ভড়কে গেল। কোনওকিছু নিয়ে শঙ্কায় ভুগছিল হয়তো। রনি তার সব শঙ্কা, দূর করে বলল, ‘তোমার আর হীরার বিষয়টি আমি জানি।’

    আনিসের মুখে ম্লান হাসি ফুটে উঠল।

    রনি বলল, ‘এখন কী করবে ভাবছ?’

    ‘ভাইয়া, আমার তো তেমন কিছু করার নেই। চাচা না চাইলে তো কেউই কিছু করতে পারবে না।’

    ‘কোনওকিছুতে জয়ী হতে চাইলে জেদ থাকা প্রয়োজন। আব্বা যতটা না রাগী, তার চেয়ে বেশি জেদি। তাঁর এই জেদের জন্যই জীবনে সব বিষয়ে তিনি সফল। আমার মনে হয় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মাথা তুলে দাঁড়ালে তিনি হতভম্ব হয়ে যাবেন।’

    ‘ভাইয়া, আমাকে কী করতে বলছেন?’

    ‘আগে নিজের মনকে প্রশ্ন করো, হীরাকে তুমি বিয়ে করতে চাও কি না?’

    ‘ভাইয়া, অবশ্যই চাই। হীরা আমার জীবনে না এলে হয়তো সবই হারিয়ে ফেলব।’

    ‘তা হলে নিজেই ভেবে বলো, তোমার কী করা উচিত।’

    ‘আমি সবকিছু করতে রাজি আছি। কিন্তু হীরা কি চাচার মুখোমুখি দাঁড়াতে পারবে?’

    ‘হীরা আর তুমি ঢাকায় চলে যাও। এরপর সেখানে বিয়ে সেরে নাও। যদিও আমি চেয়েছিলাম হীরার বিয়েটা আরও কয়েক বছর পর হোক। কিন্তু পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে তোমাদের বিয়ে করে নেয়াই ভাল। বিয়ের পর আমার বাসাতেই তোমরা থাকবে। তুমি চাকরির চেষ্টা করবে আর হীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে।’

    আনিস আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ল। ‘ভাইয়া, আপনি…’ আনিসের চোখে পানি দেখতে পেল রনি। পুরুষমানুষের চোখে পানি অনেক বড় ব্যাপার। রনির মনে হচ্ছে, এই ছেলেটার কাছে তার বোন সুখেই থাকবে।

    রনি বলল, ‘আনিস, মন নরম করলে চলবে না। অনেক বড় মানসিক শক্তি দরকার তোমাদের।’

    ‘ভাইয়া, আমি শক্তই আছি। আমার অনেক স্বপ্ন। সংসারের কথা চিন্তা করে আমি ছোটখাট সঞ্চয় করেছি। সে সঞ্চয় এখন তিন লাখ টাকা হয়েছে।’

    ‘খুবই ভাল। এত টাকা কীভাবে জমালে?’

    ‘আমি প্রচুর টিউশনি করি। টিউশনির টাকাই একটু-একটু করে জমিয়েছি।’

    ‘খুব ভাল। ওই টাকাটা এখন খরচ কোরো না। চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ওই টাকায় হাত দেবে না।’

    ‘জি, ভাইয়া।’

    ‘দু’দিনের মধ্যে তোমরা ঢাকা যাবে। আমার বাসার ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি। বাসার চাবিটাও মনে করে নিয়ে নিয়ো।’

    ‘আপনি আমাদের সাথে যাবেন না?’

    ‘নাহ, এখনই যাব না। আমি এদিকটা সামলাব। দেখব আব্বা কী করেন। ওনাকেও তো সামলাতে হবে।’

    ‘আচ্ছা, ভাইয়া।’

    ‘আমি হীরাকে সব বলব আজকে। তুমি তৈরি থেকো।’

    .

    পরিস্থিতি মানুষকে সাহসী করে দেয়। রনি ভেবেছিল হীরা আব্বার সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে ভয় পাবে, কিন্তু তাকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলতে সহজেই রাজি হয়ে গেল। আব্বার প্রতি তার ক্ষোভও দীর্ঘদিনের।

    রনি বলল, ‘কিছু জামা-কাপড় গুছিয়ে রাখিস। আর এই চার হাজার টাকা রাখ। সোজা আমার বাসায় যাবি। একটা বেডরুম খালি পড়ে আছে, তোদের থাকতে কোনও সমস্যা হবে না।’

    হীরার মুখটা শুকনো। মুখের সেই চিরাচরিত হাসিটা যেন নিভে গেছে।

    রনি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, ‘ভয় লাগছে?’

    ‘হ্যাঁ, ভাইয়া, লাগছে। যদি আব্বা জানতে পারেন, তা হলে…’

    ‘আমি নিজে তোদের ঢাকার বাসে উঠিয়ে দিয়ে আসব। রাত এগারোটার বাসে যাবি। এই সময় কেউ জেগে থাকবে না।’

    .

    সহজে হয়ে গেল সবকিছু। রাত এগারোটার বাসে হীরা আর আনিসকে উঠিয়ে দিয়েছে রনি। হীরা খুব কাঁদছিল। বেচারী খুব ভয় পাচ্ছিল। যদিও বড় ভাই ওর পাশে আছে, তবু এত বড় সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ নয়। যতই আশ্বস্ত করা হোক না কেন, বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া একটা মেয়ের জন্য অনিশ্চিত যাত্রার মত। রনি আনিসকে অনেকবার বলেছে যেন হীরাকে দেখেশুনে রাখে। এই মেয়েটা শহরের পরিবেশ সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না।

    ছয়

    রাতে বাসায় ফিরতে-ফিরতে প্রায় একটা বেজে গিয়েছিল রনির। সারারাত ঘুমাতে পারেনি। শুধু এপাশ-ওপাশ করেছে। শেষ রাতের দিকে নিজের অজান্তেই চোখটা একটু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তার।

    রনির ঘুম ভাঙল আব্বার চেঁচামেচি শুনে। আব্দুর রশিদ রনির ঘরের দরজায় সজোরে লাথি দিচ্ছিলেন। রনি ধড়মড়িয়ে উঠে বসল। আব্বা কি তবে সব জেনে গেছেন?

    আব্দুর রশিদ চিৎকার করছেন, ‘দরজা খোল, হারামজাদা।’

    রনি শান্তমুখে দরজা খুলে দিল।

    আব্দুর রশিদের মুখ ক্রোধে লাল হয়ে আছে। তাঁর চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে। হাতে একটা ধারাল দা চকচক করছে। রনির ভয় পাওয়া উচিত। কিন্তু ও অবাক হয়ে লক্ষ করল তার ভয় করছে না। আব্দুর রশিদ দা উঁচু করে বললেন, ‘শুয়োরের বাচ্চা, বল, হীরা কোথায়?’

    ‘ঢাকায় গেছে, আব্বা।’

    ‘ওর নাগরের সাথে গেছে? তুই ওদের পাঠিয়েছিস, না?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘ওই হারামজাদী চিঠি লিখে গেছে। কী সুন্দর সেই চিঠির ভাষা।’ দাঁতে-দাঁত চেপে আব্দুর রশিদ বললেন, ‘আজ তোকে টুকরো-টুকরো করে কুকুরকে খাওয়াব।’

    ‘আপনার সাহস থাকলে আমাকে কোপ দেন।

    ‘কী বললি?’

    ‘বলেছি আপনার সাহস নেই আমাকে কোপ দেয়ার। আছে শুধু হম্বিতম্বি।’ আব্দুর রশিদ অবাক দৃষ্টিতে রনির দিকে তাকিয়ে রইলেন। মনে হচ্ছে তিনি নিজের ছেলেকে চিনতে পারছেন না।

    রনি সোজাসুজি আব্বার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সিদ্দিকুর একটা খুনি। সে তার আগের দুই বউকে খুন করেছে। গ্রামের মানুষকে বহু বছর ধরে তারা নির্যাতন করে আসছে। এমন একটা পরিবারে আমি আমার বোনকে বিয়ে দিতে পারব না। আপনি বাবা হিসাবে ব্যর্থ হতে পারেন, আমি ভাই হিসাবে ব্যর্থ হতে পারব না।’

    আব্দুর রশিদ যেন সংবিৎ ফিরে পেলেন। রনি তাঁর চোখে অন্য দৃষ্টি দেখতে পেল। তিনি হারতে চান না। এবার বোঝা যাচ্ছে তিনি সত্যিই রনিকে কোপ দেবেন। আব্দুর রশিদ চিৎকার করতে-করতে রনির দিকে এগিয়ে আসছেন। ও অপেক্ষা করছে। ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যাওয়ার অপেক্ষা। ঠিক সেই মুহূর্তে রনির আম্মা এবং পাশের বাড়ির ইব্রাহিম কাকা ঘরে ঢুকলেন। আব্দুর রশিদকে চেপে ধরলেন তাঁরা। তিনি তখন পশুর মত শব্দ করছেন, মুখ দিয়ে লালা ঝরছে। বলছেন, ‘ছেড়ে দাও। আমাকে ছেড়ে দাও। এই শুয়োরকে মেরে আমি একটা পুণ্য করতে চাই।’

    আম্মা চিৎকার করে বললেন, ‘রনি, তুই চলে যা। তোর আল্লাহর দোহাই লাগে তুই চলে যা।’

    আম্মা আর ইব্রাহিম কাকা শক্ত করে ধরে রেখেছেন আব্দুর রশিদকে। তিনি ক্রমাগত চিৎকার করে যাচ্ছেন। রনি ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। না, আব্বার ভয়ে নয়। এমন ক্রমাগত চিৎকার করলে আব্বা অসুস্থ হয়ে পড়বেন, তখন নিজেকে বড্ড দায়ী মনে হবে।

    রনিদের বাসায় প্রচুর মানুষ জড় হয়েছে। সবাই মজা দেখতে এসেছে। আব্দুর রশিদ চিৎকার করে বললেন, ‘আজ থেকে আমার কোনও ছেলে-মেয়ে নেই। আমি দুই কুত্তাকেই ত্যাজ্য করলাম।’

    রনি মনে-মনে বলল, ‘আপনার এই দোজখে আর ফিরতে চাই না।’

    পরিশিষ্ট

    হীরা আর আনিসের বিয়ে পিছিয়ে দিয়েছে রনি। হীরা তার বাসায়ই আছে। ঢাকার একটা কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। প্রস্তুতি ভাল না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হয়নি।

    আনিস মাস্টার্স পাস করেছে। আগের মত মেসেই থাকছে। ঠিক করেছে একটা ভাল চাকরি পেয়েই হীরাকে বিয়ে করবে। আব্বা-আম্মা রনি এবং হীরার কোনও খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেননি। এমনকী একবার ফোনও করেননি। তবে গতকাল সেলিম রনিকে ফোন করেছিল। সে এমন একটা খবর দিল যে রনি হতবাক হয়ে পড়ল। তার ভাষাতেই বলা যাক:

    ‘তুই হীরাকে ঢাকা পাঠিয়ে দিয়েছিস আগেই জেনেছিলাম। এসব ব্যাপার নিয়ে দুই গ্রামে নানা কথাবার্তা চলছিল। তবে বেশিরভাগ মানুষই বলেছে, ‘যাক, ভালই হলো। মেয়েটা সিদ্দিকুরের হাত থেকে বেঁচে গেল।’ কেউ-কেউ অবশ্য পুরো ঘটনায় মজাও লুটছে। সিদ্দিকুর আর তার বাবা তোদের বাসায় এসে অনেক চেঁচামেচি করেছিল। তারা এর শেষ দেখে নেবে এ-ও বলেছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে কেউ সিদ্দিকুর এবং তার মা-বাবার উপর অ্যাসিড ঢেলে দিয়ে গিয়েছিল। সিদ্দিকুরের মা-বাবাকে বাঁচানো যায়নি। সিদ্দিকুর কোনওমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার চোখ, কান, শ্বাসনালীসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিদ্দিকুর আর কোনওদিন চোখে দেখবে না, কানেও শুনবে না। এমনকী এখনও সে ঠিকমত কথাও বলতে পারে না। হাসপাতালেই আছে এই সাত দিন। বারবার কী যেন বলার চেষ্টা করে। তার ভাঙা-ভাঙা কথা শুনে মনে হয় লাল শাড়ি পরা দুটো মেয়ে তাদের উপর অ্যাসিড ঢেলেছে। সেই মেয়েদের শরীরে নাকি অসুরের মত শক্তি। অনেক সময় নিয়ে তারা অ্যাসিড ঢেলেছে। গ্রামের মানুষ এ ঘটনায় খুবই খুশি। সবাই মেয়ে দুটোকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’

    রনি বিড়বিড় করে বলল, ‘ধন্যবাদ, আমেনা এবং জমিলা।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনদী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    Next Article সোনার তরী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Related Articles

    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }