Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    লেখক এক পাতা গল্প595 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চিলেকোঠার সেপাই – ২৮

    ওসমানের ঐ চিঠি আনোয়ার পায়নি। এর ১টি কারণ এই হতে পারে যে চিঠিটা শেষ পর্যন্ত ডাকবাক্সে ফেলা হয়নি। ডাকে ফেললেও আনোয়ার ওটা সময়মতো পেতো কি-না সন্দেহ। আনোয়ার তখন ধারাবর্ষা চরে।
    হোসেন আলি ফকির বসেছিলো হাতলওয়ালা ১টা চেয়ারে, হাঁটু-গোটানো পাজোড়া তার চেয়ারের ওপর ওঠানো। আনোয়ার বসেছে তার সামনে ১টি টুলে। খালি বেঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে করমালি। লম্বা চওড়া দশাসই ১ জোয়ান চেয়ারের পেছনে দাঁড়িয়ে হোসেন আলির ঘাড় ও পিঠ দলাইমলাই করে। হোসেন আলির মুখ থেকে মাঝে মাঝে সুখের ধ্বনি বেরোয়, আঃ। আস্তে! শালার হাত কিবা! মোষের পাও এ্যাঁর চায়া নরম হয়।
    হোসেন আলির চোখের সামনে বিশাল চর। কালচে হলুদ জ্যোৎস্নায় নিকানো। আর আনোয়ারের পিঠ ফেরানো রয়েছে চরের দিকে, তার সামনে যমুনা। খুব উঁচু পাড় থেকে খাড়া মাটি লাফিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে নদীর স্রোতে। শীতকালের নিরীহ নদীর চলাচলও এই নির্জন জায়গায় ছলাৎ ছলাৎ করে প্রতিধ্বনিত হয়। নদীর ওপার দাখা যায় না। মনে হয় নদী হঠাৎ করে ঢুকে পড়েছে কুয়াশার খাপের মধ্যে।
    ওরা বসেছিলো ঘরের পাশে। চালের পুরু খড়ের প্রসারিত ভাগ ওদের মাথার ওপর। মানুষের হাতে ছাওয়া হলে কি হবে, চাঁদের আলোয় খড়ের চাল বড়ো নির্লিপ্ত ও আদিম। যমুনার পানিহাওয়ায় হোসেন আলি ফকিরের স্বর মোটা ও ভারি। সে একনাগাড়ে কথা বলায় যমুনার পাশাপাশি আরেকটি ধ্বনিস্রোত বয়ে চলেছে। আনোয়ারের আবেদন শোনার পর সে জানায় যে, খয়বার গাজীর ১টা চিরকুট নিয়ে এলে ভালো হতো। খোয়াড়ের আসল পরিচালক তো খয়বার গাজী, শুধু তদারক করার কাজটা দেওয়া হয়েছে তাকে।
    খোয়াড়? এখানে খোয়াড় আছে নাকি? আনোয়ার অবাক হলে হোসেন আলি জানায় যে খয়বার গাজীর মস্ত বাথানের সঙ্গে ডাকাত-মারা চরে একটা খোয়াড় করা হয়েছে। সরকারী আইন অনুসারে করা, সরকারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত খোয়াড়। খোয়াড় তো আসলে সরকারের সম্পত্তি, পয়সা দিয়ে খয়বার গাজী কয়েক বছরের জন্য ডেকে নিয়েছে।–তা খোয়াড় কেন?-অসাবধান, দায়িত্বহীন ও পরিশ্রীকাতর লোকজন নিজেদের গোরুবাছুর দিয়ে অন্যের জমির ফসল নষ্ট করে, জমির মালিক সেগুলো ধরে নিয়ে আসে এখানে। উপযুক্ত জরিমান দিয়ে প্রকৃত মালিক নিজেদের গোরুবাছুর খালাস করে নেয়। খয়বার গাজীর অনুরোধে তাকে খোয়াড়ের তদারক করতে হয়, নইলে এসব কাজ করতে তার ভালো লাগে না।
    ‘আমি নিজেই এসেছি, খয়বার গাজী সায়েব জানেন না যে আমি এখানে আসবো। আনোয়ার এই কথা বললে হোসেন আলি অন্য প্রসঙ্গ তোলে। খয়বার গাজীর কথা বাদ দিয়ে সে তখন বলে নিজের কথা। প্রথম কথা, বাঁচতে তার আর ভালো লাগে না। ৩ কুড়ির ওপর বয়স হলো, সংসার ও পৃথিবীতে অরুচি ধরে গেছে। যমুনা ১৭বার তার ঘর ভেঙেছে। এই শালার নদী, শালী বেশ্যার অধম। কারো প্রতি তার মায়ামোহাব্বত নাই। ঘর ভাঙতে ভাঙতে হোসেন আলির এমন অবস্থা যে জীবনের বিভিন্ন সময়ে বসবাস-করা চরসমূহের কালানুক্রমিক তালিকাও সে দিতে পারে না। বাপজানের কাছে শুনেছে, তার জন্ম হয় যে চরে সেটা ছিলো মাদারগঞ্জ থানায়। হ্যাঁ, পুব পাড়ে। মাদারগঞ্জ থানা, জামালপুর মহকুমা, ময়মনসিং জেলা। তার ছেলেবেলায় চর-দখল নিয়ে মারামারি হলে বাপজানকে পুলিশ ধরে নিয়ে আটকে রাখে সিরাজগঞ্জ জেল হাজতে, পাবনা জেলায়। যৌবনকালে মামলা করতে তাকে যেতে হতো গাইবান্ধা শহরে, জেলা রংপুর। তখন তারা চর হাসুয়ার বাসিন্দা। বছর সাতেক হলো বসবাস করছে এই ধারাবর্ষায়, ভেবেছিলো বাকি জীবনটা এখানেই কাটাবে। তা আর হলো কৈ?—কেন? এই চরে পলি পড়ছে পুবদিকে, ভাঙন শুরু হয়েছে পশ্চিমে। এই যে নদী, কয়েক বছর আগে ছিলো আরো পোয়া মাইল পশ্চিমে। গত বর্ষায় পোয়া মাইল ভেঙেছে, আরেকটা ছোবল দিলেই খড়ের এই চারচালা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এই ভাঙাগড়া আর মারামারি আর ভালো লাগে না। জীবনের শেষ কয়েকটা দিন শান্তিতে থাকবে বলে খোয়াড় তদারকির নিরিবিলি কাজটা সে নিয়েছিলো। তখন কি জানে যে এখানেও এতো ঝামেলা, এতো ঝঞ্চাট? হিংসুটে লোকের কি অভাব? কার কাছে কিসব উল্টাপাল্টা খবর পেয়ে পুলিশ এসেছিলো, ধকল সামলাতে হয়েছে হোসেন আলিকেই। পুলিশ তো পুলিশ, পুলিশের বাপ এসে কি করবে তার? খোদ এমএনএ সায়েবের শেয়ার আছে খোয়াড়ের ব্যবসায়, গতবার ইলেকশনে এই এলাকার বিডি মেম্বারের ভোট জোগাড় করে তাকে পাস করিয়ে দিলো কে?–হোসেন আলি ছাড়া আবার কে? এমএনএ সায়েবের ওঠাবসা মন্ত্রীগবর্নরের সঙ্গে, এবার কেউ গোলমাল করলে টাইট করার জন্যে দরকার হলে মিলিটারি নিয়ে আসবে। মিলিটারির ডাণ্ডা না পড়লে মানুষ ঠিক পথে চলে না। হোসেন আলি আক্ষেপ করে, মানুষ কি আর সেই আগের মানুষ আছে? আল্লারসুল মানে না, মানীকে সম্মান করে না, ভদ্রলোকের ইজ্জত দেয় না। এই যমুনা পার হলে পুবে মাদারগঞ্জ থানা, সেখানে মানুষ চরম বেয়াদব হয়ে উঠেছে, খাজনা বন্ধ করার পায়তারা করছে। কোন বিডি মেম্বারের ধানের গোলা লুট করেছে, তহশীলদারের অফিসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। চোর-ডাকাতের রাজস্ব শুরু হয়ে যাচ্ছে। আরে, সার্কেল অফিসার উচ্চশিক্ষিত ও সদ্বংশজাত ভদ্রলোক,-তার বাড়ি ঘেরাও করে চাষারা তার বৌ-ঝির হাত ধরে টানাটানি করে। এই জাতের ওপর গজব পড়বে না তো কি আল্লার রহমত নাজেল হবে?
    না সরকার, মেয়ামানুষের গাওত হাত তোলা হয় নাই! করমালির কথায় হোসেন ফকিরের দীর্ঘ ও একটানা বাক্যস্রোত বাধা পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে ফের উপচে ওঠে, মিছা কথা কল্যাম? একটা অফিসারের বাড়ির মদ্যে চাষাভুষারা ঢুকা পড়ে, এটা জুলুম হলো না? ফুসে উঠতে উঠতে হোসেন আলি হঠাৎ নিভে যায়। আনোয়ার কিন্তু একটু ভয়ই পেয়েছিলো, করমালির উদ্ধত বাক্যে হোসেন আলি চট করে ১টা কিছু করে না ফেলে। এর মধ্যেই হোসেন আলির জীবনের অনেক বীরত্বব্যঞ্জক কাহিনী শোনা হয়েছে। তার শতকরা ৫০ ভাগ সত্যি হলেও সে ভয়াবহ বিপজ্জনক চরিত্র। হাসিয়া, বর্শা ও বল্লা নিয়ে বাপজানের সঙ্গে সে যে কতো জায়গায় কাজিয়া করতে গেছে তার হিসাবনিকাস নাই। এই হাতে সে খুন করেছে অন্তত ১৪জন মানুষ। আবার কোটকাচারি করতেও তার জুড়ি মেলা ভার। ফৌজদারী আইনে তার দখল দেখে বাঘা বাঘা উকিল মোক্তার থ হয়ে গেছে। কামিনীবাবু, গাইবন্ধার বাঘা উকিল কামিনী চক্রবর্তী পর্যন্ত বলেছিলো, ‘হোসেন, ল্যাখাপড়া করলে বড়ো ব্যারিস্টার হইতে পারতিস’ এ কথা কেন বলেছিলো?—হোসেন আলি একটুখানি হেসে বয়ান করে উগল্যান কি আজকার কথা বাপুঃ –সেবার খুব মজা হয়। সদ্য জেগে-ওঠা বাঘুরিয়া চরে হোসেন তখন সবে ঘরদোর তুলে বাস করার আয়োজন করছিলো। শিমুলবাড়ির তালুকদাররা যায় সেই চর দখল করতে। তাদের লাঠিয়াল ছিলো কাগমারীর, কাগমারীর লাঠিয়ালদের তখন খুব নাম। তাদের সঙ্গে পারা কঠিন। অনিবার্য পরাজয় বুঝতে পেরে হোসেন আলি ছিপনৌকা করে চম্পট দিলো সোজা সিরাজগঞ্জের দিকে। তবে পালাবার ঠিক আগের মুহূর্তে নিজের দুজন কিষানকে তার গোয়ালঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেয়। সিরাজগঞ্জ কোর্টে মামলা ঠুকে দিলো, তালুকদারেরা তার বাড়িতে চড়াও হয়ে তার খাস ২জন কামলাকে পুড়িয়ে মেরেছে। এই ১ বুদ্ধির জোরে তালুকদারদের ৪ লাঠিয়ালের যাবজ্জীবন।-তো সেটা বৃটিশ আমল বাপু, তখন যে সে লোক হাকিম হতে পারতো না, চাষাভূষার বেটারা সব পায়ের তলায় পড়ে থাকতো। তা, এখন কি অবস্থার পরিবর্তন ঘটলো নাকি যে করমালির কথায় হোসেন আলি সেভাবে জ্বলে উঠলো না? করমালির কথার জবাবে সে কেবল বিড়বিড় করে, বেশি কথা কস না। কিন্তু তার এই আদেশ তেমন শোনা যায় না, তার গলায় ঘন শ্রেম্ম।
    সের দেড়েক মোষের দুধ দিয়ে প্রায় ঐ পরিমাণ ভাত খেয়ে করমালি চলে যায় ঘাটে, সে রাত্রিকাটাবে নৌকায়, পচার বাপের সঙ্গে। ভদ্রতাবোধ থেকে হতে পারে, আবার ভয়েও হতে পারে,-আনোয়ার হোসেন আলির আতিথ্য গ্রহণ করে। মোষের দুধ দিয়ে ভাত খেয়ে সে শুয়ে পড়ে হোসেন আলির অড়বিহীন লেপের নিচে। তার জন্য নিজের বিছানা ছেড়ে হোসেন আলি শুয়েছে মস্ত একটা কাঠের বাক্সের ওপর। শোবার পরও তার কথা শেষ হয় না: এই ভদ্রলোক-বিবর্জিত চরে আনোয়ারকে উপযুক্ত আদর যত্ন করতে না পেরে সে মরমে মরে যাচ্ছে। এখানে কি মানুষ থাকতে পারে? মেঘনা কি রমনা সিগ্রেট কিনতে হলেও ২ ঘন্টার পথ ধরে নৌকায় যেতে হয় চালুয়াবাড়ি। এদিকে চরের পশ্চিমে ভাঙন শুরু হওয়ায় হোসেন আলি তার ৩টে বৌয়ের সবকটাকে পাঠিয়ে দিয়েছে পুৰে। তাদের বাথান বলো, খোয়াড় বলো সব ঐদিকেই। ওদিকটায় চর পড়ছে, ডাকাত-মারা চরের সঙ্গে এই ধারাবর্ষা এক হয়ে গেলে সেখানে হোসেন আলি স্থায়ীভাবে বাস করবে। টিনের আটচালা ঘর তুলবে, আম কঁঠালের গাছ লাগাবে।
    এতো কথা বলে, কিন্তু কাজের কথা তুললেই বাক্য হয়ে আসে সংক্ষিপ্ত। যেমন, গোরু কার? আপনাগোরে তো নয়?
    করমালির গোরু, ওর জ্যাঠা পচার বাপের গোরু। ‘দ্যাখা যাক। হোসেন আলি সশব্দে হাই তোলে। আনোয়ারেরও চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসে।
    ঘণ্টা দুয়েক পর পেটে সাঙ্ঘাতিক ব্যথা শুরু হলে আনোয়ারের ঘুম ভাঙে। ঘর অন্ধকার। কিন্তু ভেজানো দরজার ফাক দিয়ে দেড় ইঞ্চি চওড়া আলোর রেখা ভেতরে এসেছে। আনোয়ার উঠে দরজা সম্পূর্ণ খুললে জ্যোৎস্নার আলো ঘর জুড়ে থইথই করে। হোসেন আলি ফকিরের বিছানা ফাকা। দরজার পাশে রাখা পানি ভরা বদনাটা হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তলপেটের বেগ তীব্র হয়ে ওঠে। বাইরে বেরিয়ে আনোয়ার এদিক ওদিক তাকাতেই লোহার শাবল লাগানো বাঁশ হাতে এগিয়ে আসে মস্ত এক জোয়ান। আঙুল দিয়ে লোকটা সামনের দিক নির্দেশ করে, ঐ জায়গাত বসেন।
    কোথায়? পায়খানা কোথায়?’
    ঐ সোতার ধারত বসেন।
    মোষের দুধ খাওয়ার ফল প্রায় হাতে হাতে পাওয়া গেলো। এর ওপর নদীর পানিতে এরা এক দানা ফিটকিরি পর্যন্ত দেয় না। আমাশার আর দোষ কি? পায়খানা করে হোসেন আলির ঘরে ফিরতে দরজার সামনে বল্লমধারী ঐ যুবককে দেখে আনোয়ার এবার ভয় পায়। পেটের ব্যথাটা তখন খুব মোচড় দিচ্ছিলো বলে ভয় পাওয়ার সুযোগ ঘটেনি। দশাসই চেহারার তরুণ মেয়েলি ভঙ্গিতে হাসে, যান, আপনে নিন্দ পাড়েন। আত এখনো মেলা আছে।’
    সে তো ঘড়ি দেখেই বোঝা যায়। কিন্তু হোসেন আলি কোথায়?
    লোকটা পায়চারি করে, হাটতে হাটতে জবাব দেয়, তাই গেছে বাথানের দিকে।
    কেন? হঠাৎ এতো রাত্রে?
    পুব পাড় থাকা মানুষ আসছে। গোরুবাছুর ডাকাতি করবার আসছে। লোকটির বিশাল শরীর আচঞ্চল, মুখের হাসি হাসি ভাব অবিকৃত। এমনকি বাথান আক্রমণের খবর দেওয়ার সময়ও তার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। পূর্ব দিক থেকে দুৰ্বত্তের দল এসেছে লাঠিসোটা নিয়ে। হোসেন আলির লোকজনও প্রস্তুত। ওখানে সুবিধা করতে না পেরে ডাকাতরা আবার নৌকা নিয়ে পশ্চিমদিকে এসে হোসেন আলির বাড়িতে হামলা চালাতে পারে, তাই বল্লম ও হাসুয়াধারী কয়েকজন লোককে এখানে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে গত বর্ষায় ভাঙন হয়েছে বলে এদিককার পাড় খুব খাড়া, নৌকা ভেড়ানো কঠিন। নৌকা থেকে অস্ত্র ছুড়ে মারলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বারো আনা। লোকটি অকারণে ফিসফিস করে কথা বলে, শুনল্যাম বাথানের একটা জ্বলঙ্গি শালারা নিয়া গেছে।
    গোরু বহন করার বড়ো বড়ো জলঙ্গি নৌকা না দেখলেও জিনিসটা সম্বন্ধে আনোয়ার মেলা কথা শুনেছে। ৫০/৬০ হাত লম্বা এইসব নৌকায় কাঠের ঘের দেওয়া ঘর থাকে, ঘরের ভেতর চোখে খুলি-আঁটা গেরুবাছুর থাকার ব্যবস্থা। সংগঠিত লোকজন না হলে হোসেন আলির বাথান থেকে জলঙ্গি নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। এতো সাহস কাঁদের?
    কিন্তু এতো সব কথা এই লোকটি হয়তো জানে না। এদিকে আনোয়ারের তলপেটে ফের প্রবল বেগ শুরু হয়। আরো ২বার পায়খানা করলে ব্যথা থিতিয়ে আসে, তখন ঘুম পায়।
    সকালবেলা দলবল নিয়ে হোসেন আলি ঘরে ফেরে এবং সকলের কোলাহলে আনোয়ার ঘুম থেকে উঠে পড়ে। সকলেই দাবী করে যে আক্রমণকারীদের সফলভাবে হটানো গেছে এবং ১টি জলঙ্গি নৌকা নিয়ে গেলেও দুৰ্বত্তরা ১৫/২০ টির বেশি গোরু তুলতে পারেনি। তাদের সর্দার আলিবক্সের ডান হাতে বর্শা বেঁধানো হয়েছে, এ সম্মন্ধে এরা সবাই নিশ্চিত। এছাড়া আরো কয়েকজন জখম হয়েছে। এদের পক্ষে আহতের সংখ্যা মাত্র ৪, এবং এদের আঘাত তেমন মারাত্বক নয়। ২ জনের ১টা করে চোখ নষ্ট হয়েছে, ১ জনের উরু বোধহয় আর কোনো কাজে লাগবে না।
    চুপ কর শালা মাগীমানষের দল দুটা চারটা জান নিবার পারলা না তো কিসের বাল ছেড়ো হে? পারে খালি আড়াই সের তিন সের চালের ভাত খাবার আর নিন্দ পাড়বার, না? আলিবঙ্গ শালার লাশ আনবার পারলু না তো কিসের মর্দানি দ্যাখাস?’ হোসেন আলি তার লোকজনের তৎপরতায় সম্ভষ্ট নয়, এই চরুয়াগুলা, বুঝলেন? আনোয়ারের মনোযোগ আকর্ষণ করে সে, শালারা একোটা বেজন্মর পয়দা বেজন্ম। শালারা খালি ভাত খাবো আর মাগীর ঠ্যাঙোতে ঠ্যাং থুয়া নিন্দ পাডুবো হামার বলে গোয়ার মদ্যে নোয়ার কাটি ঘোরে, শালারা দিশ পায় না।’ আলিবক্সকে হাতের ভেতর না পেয়ে লোকটা ঘর তোলপাড় করে, শালা বলে রাজা হবার চায়! শালা বেন্নার ব্যাটা, কলেঞ্জেত পড়া হালুয়া চাষার ব্যাটা আজ ধরাক সরা জ্ঞান করে। এটা কোন আলিবক্স? চেষ্ট্র যার কথা বলেছিলো এ কি সেই লোক? **মালিকে জিগ্যেস করলেই জানতে পারবে। এই সময় পচার বাপকে সঙ্গে নিয়ে এসে হাজির হয় করমালি। এদের দেখে হোসেন আলির লাফালাফি আরো বাড়ে, গোরু নিৰ্যা তো হামার কাছে আসছে কিসক? যাও, আলিবক্সের সাথে জোট পাকাও
    পচার বাপ হাত জোড় করে দাঁড়ায়, উগল্যান কথা কয়েন না সরকার ইবলিসের নেভূড় ধরমু হামরা? হামাগোরে আখেরাত নাই?
    আলিবক্সকে সরাসরি শয়তানের সঙ্গে তুলনা করায় হোসেন আলির ছটফটানি কমে। কাঠের লম্বা সিন্দুকে স্থির হয়ে বসে আস্তে আস্তে পা নাচায়। তোমাগোরে গোরু নিবা তো বাথানে যাও। ওটি মানুষজন আছে, হিসাব নিকাশ করা নাগবো না?
    ধপ করে মেঝেতে বসে পচার বাপ হোসেন আলির পা চেপে ধরে। হুজুর, আপনে হামার ধর্মের বাপ। হামি বেন্ন্যা মানুষ আট শতাংশ জমিও নাই বাবা। আর বছর খরার সময় দশ শতাংশ জমি বেচ্যা খালাম। গোরু না থাকলে হামাক জমি বর্গা দিবো কেটা? উপাস কর‍্যা মরমু বাপ, পরিবার ছেলেপোল নিয়া উপাস করা লাগবো হামার গোরুবাছুর, বলদট না পালে হামি মর‍্যা যামু বাপ!’
    জ্যাঠার এইসব কাকুতি মিনতি করমালি চুপচাপ দেখছিলো। হঠাৎ সে করলো কি, ২হাত জ্যাঠার ২ বগলের নিচে রেখে হ্যাঁচক টানে তাকে দাঁড় করিয়ে দিলো। পায়ের ওপর থেকে পচার বাপের জোড়াহাত সরে যাওয়ায় হোসেন আলির শরীরের ওজন একটু কমে এবং ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বসে বসেই সে একটু টাল খায়। অপেক্ষাকৃত হাল্কা শরীরে পচার বাপকে সে বকে, তোমরা কোটে কোটে গোরু ছাড়া দিয়া রাখো, কারভিউ খিলাও, মানষে ত্যক্ত হয়৷ গোরু নিয়া এটি দিয়া গেছে। সরকারী খোয়াড়, সরকারেক ট্যাকসো দিয়া তোমরা গোরু নিয়া যাও, কান্দাকাটি করো কিসক? পচার বাপ এখন ফ্যাচফাচ করে কাঁদে, না সরকার। গোরু বাছুর হামার গোলের মদ্যে বান্দা আছিলো। ধুনট হাটোত থাকা হামিলিজে শিকল কিন্যালিয়া আসছিলাম বাপো, আতোত শিকল খুল্যা গোরু নিয়া আসছে। হামার গোরু-‘
    রাগে হোসেন আলি উঠে দাঁড়ায়, জমিত মুখ না দিলে মানষে খালি খালি তোমার গোরু নিয়া খোঁয়াড়ত দিবো? হামি মানুষ পাঠায়া তোর গোরু চুরি কর‍্যা নিয়া আসছি? কথা কস, শালা শয়তান বুড়ো!’
    না হুজুর। হামি ঐ কথা কই নাই। দ্বিগুণ বেগে ফ্যাচফাচ করতে করতে পচার বাপ তার বিবৃতি সংশোধন করে, না হুজুর হামি বুড়া মানুষ, মুখ্য জাহেল মানুষ, বেন্ন্যা মানুষকথা কবার পারি না হুজুর! হামাক মাপ করেন!
    শিথিল কথাবার্তা বলার পক্ষে তার বার্ধক্য বা মূর্খতা বা অন্ত্যজ শ্রেণীতে তার অবস্থানের কৈফিয়ৎ হোসেন আলি গ্রাহ্য করে না। এই অবিশ্বাস জানাবার উদ্দেশ্যে সে বিকটভাবে চ্যাচায়, বুড়া, এক পাও তোর কবরের মদ্যে, তাও তুই মিছা কথা কস! তোর আল্লা-রসুলের ভয় নাই? তোর আখেরাত নাই? আল্লা, রসুল ও আখেরাতের প্রসঙ্গ এনে হোসেন আলি নিজেই একটু নরম হয় এবং হঠাৎ করে বলে, চলো বাথান মুখে চলো। দাখা যাবো কার গোরু এটি কিসক আসে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াবনামা – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }