Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    লেখক এক পাতা গল্প595 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চিলেকোঠার সেপাই – ২৯

    ‘দ্যাখেন, লোকটা খুব গরিব। গোরু না পেলে একেবারে পথে বসবে। বেচারার গোরুগুলো’-আনোয়ারের অনুরোধ শেষ হতে না হতে হোসেন আলি রাজি হয়, ‘গোরু তো তাই পারেই। তা ধরেন আইন একটা আছে, জরিমানা দিয়া খোয়াড় থাকা গোরু খালাস করা লাগে।
    জরিমানা?
    সরকারী আইন। জরিমানার আট আনা গওরমেন্টের। আর আট আনার দুই আনা যাই গোরু নিয়া আসে তার। তারপরে ধরেন—।
    ‘জরিমানার ভাগ গভমেন্টকে দিতে হয়?
    ‘তো কি? আনোয়ারের অজ্ঞতা দেখে হোসেন আলি অবাক, মানুষ খাজনা দেয়, ট্যাকসো দেয়, জরিমানা দেয়, দণ্ড দেয়,—তবে না গওরমেন্ট চলে। শিক্ষিত মানুষ হয়া আপনে বোঝেন না?
    পচার বাপ, করমালি ও ফকিরের লোকজন আসছে ওদের পেছনে পেছনে। পচার বাপের ফোৎ ফোৎ কান্না কখনো বাড়ে, কখনো কমে। ওদের বাদিকে এবার মস্ত গমের জমি। গমগাছের বাড়ন দেখে পচার বাপ ও করমালি মুগ্ধ। অভিভূত পচার বাপের কান্নার স্বস্তিকর বিরতি ঘটে। রাত্রে ভালো করে বুঝতে পারেনি, আনোয়ার এখন চরটা ভালো করে দেখে নিচ্ছে। লোকবসতি খুব কম, বেশির ভাগ ফসলের জমি। কোথাও কোথাও ধান কাটা হয়ে গেছে, কিছু কিছু লোক ইদুরের গর্তে হাত দিয়ে ধান সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত, গর্তে হাত রেখে তারা আনোয়ারকে দ্যাখে। হাটতে হাটতে নদী হঠাৎ আড়ালে পড়ে যায়, নদী তখন হাজিরা জানান দেয় স্রোতের কলরবে। আরো কিছুক্ষণ হাটার পর জমি নেমে গেছে বেশ নিচুতে। এখানে ভেরেণ্ডা গাছ ও জিগাগাছের লম্বা সারি। নিচে নামবার সময় আনোয়ার প্রায় পড়ে যাচ্ছিলো, হোসেন আলি ওর হাত ধরে সামলে নেয়। নিচে কেবলি বালু, মাটি এখনো জমাট বাঁধেনি, বহুকাল মাটির নিচে ডুবে থাকার পর বছর দুয়েক হলো চরটা গতর তুলেছে। কোনো কোনো জায়গায় বালুর ওপর পানির ঢেউয়ের দাগ এখনো মুছে যায়নি। অনেক দূর পর্যন্ত গাছপালা নাই, ধুধু করে বালু দূরে দূরে কাটাওয়ালা ঝাউগাছ মানুষের কোমর পর্যন্ত মাথা তুলেছে। এখান থেকে ডাকাত-মারা চর দাখা যাচ্ছে, উঁচু জমির ওপর ফের ভেরেণ্ডা ও জিগাগাছের সারি দিয়ে শুরু হয়েছে ঐ চরের সীমানা। হোসেন আলির এক সঙ্গী বলে, *আর তিন চারটা বর্ষা গাও যদি টান্টিবাল্টি না করে তো ধারাবর্ষার সাথে ডাকাত-মারা চর একত্তর হয়া যাবো।’
    হোসেন আলি এই ভবিষ্যদ্বাণী অনুমোদন করে, এখনি তো একটা চরই ঠেকে। সাত আট বছর আগেও এই জায়গাত জাহাজের খাটাল আছিলো কেউ বুঝবার পারবো?
    পচার বাপ পা ফেলছে খুব জোরে জোরে। বালুর ওপর হাটা কঠিন, লোকটা তরু অনেকটা সামনে চলে গেছে। ডাকাত-মারা চরের বাথান দ্যাখা যাচ্ছে, খড়ের চালার নিচে সারি সারি গোরু, প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাধা পুরনো চরের শক্ত মাটিতে উঠলে আনোয়ার গোরু বাছুরের গায়ের গন্ধ পায়। হোসেন আলি পচার বাপকে ডাকে, এই বুড়ার ব্যাটা, এক কাম করো। তোমার গোরু আগে খুঁজা বাইর করো, না পারো তো ঐ যে খোয়াড়ের সরকার আছে তার কাছে পুছ করো। জরিমানা যা হয় দিয়া গোরু নিয়া যাও।
    পচার বাপ নতুন উদ্যমে কাঁদে, ট্যাকা তো দিব্যার পারমুনা বাপ! আপনাগোরে পায়ের তলাত পড়া আছি, দয়া হামাক করাই নাগবো কাদুক আর কথা বলুক, পচার বাপের পায়ের গতি কিন্তু অব্যাহত থাকে।
    আনোয়ার এবার একটু শক্ত করে বলে, টাকা নিলে এদের ওপর জুলুম করা হবে।
    আপনার তো গাঁওত বাস করেন নাই। ইগল্যান বেন্ন্যা জাতের স্বভাব জানেন না। মাথার উপরে লাঠির ডাং ন মারলে শালারা কোমরের গেরো খুলবো না। আপনার দাদা, আপনার বাপের দাদা হলে ঠিকই বুঝলোনি। না হলে তারা সম্পত্তি করবার পারে? ধারাবর্ষার অর্ধেক আছিলো আপনার দাদার জোত, আপনার লাকান ভালো মানুষ হলে তাই কিছু করবার পারলোনি?’
    সুযোগ পেয়ে হোসেন আলি তাকে ভালোই ল্যাং মারলো। গ্রামের এইসব নিমভদর লোকের বাঁকাচোরা কথার জবার দেওয়া আনোয়ারের পক্ষে অসম্ভব। আবার দ্যাখো, কথাটা বলেই হোসেন আলি লম্বা লম্বা পা ফেলে অনেকটা এগিয়ে গেলো। করমালি পাশে দাঁড়িয়ে আনোয়ারের কানে প্রায় ফিসফিস করে, ভাইজান, হামার জ্যাঠোর মাথা খারাপ হছে। একলা গোরু লিয়া গেলে জ্যাঠোক গায়ের মদ্যে ঢাকব্যার দিবো? ঘাটার উপরে গাবগাছতলাত চেন্টু খাড়া হয়া থাকবো না? গোরু জ্যাঠো একলাই নিবো? হামরা?
    বাথানের বাইরে নদীর ধারে বেঞ্চ পেতে আনোয়ারকে বসতে দিয়ে হোসেন আলি বেশ উদার হয়ে যায়, বুড়ো মানুষ, আবার আপনে সাথে আসছেন, এখন কি করি, কন তো? আপনের বাপ-দাদা হামাগোরে জন্যে কি না করছে? আপনাকে হামি না করি কেমন করা ? কিন্তু আইনের বরখেলাপ সে করতে পারে না, সেজন্যই তো এতো সমস্যা, এখন গওরমেন্টের খোয়াড়, জরিমানা না নিয়া গোরু দিলে হামার মুসিবত। দেখি, কিছু মাপসাপ করব্যার পারি নাকি!
    আনোয়ারকে বসিয়ে রেখে হোসেন আলি বাথানে ঢোকে, সঙ্গে পচার বাপ। আনোয়ারও সঙ্গে যাবার জন্যে উঠে দাঁড়িয়েছিলো, হোসেন আলি বাধা দেয়, আপনে বসেন। বাথানের মদ্যে খালি গোবর আর চোনা, হাটবার পারবেন না। তার লোকজন এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকে যে আনোয়ারের পক্ষে ভেতরে যাওয়া অসম্ভব। করমালি এর মধ্যে কোথেকে ঘুরে এসে বসে পড়ে আনোয়ারের পাশে। নিজেদের গ্রামে হলে তার পাশে করমালি কিন্তু কিছুঁতেই বসতে পারতো না। আনোয়ার আরো অন্তরঙ্গ হওয়ার চেষ্টা করে, কি মনে হচ্ছে?
    জ্যাঠার জরিমানা হবো মেলা। তিনটা গোরু-দ্যাড়শো টাকা, আবার শিকল দিয়া ব্যান্ধ্যা গুছিলো, তার জরিমানা পনরো ট্যাকা, তালা লাগছিলো, তার দশ টাকা। কতো হলো? দুইশো টাকার উপরে হলো না?
    না। পৌনে দুশো। শিকল-তালা লাগাবার জন্য আবার আলাদা জরিমানা?
    পচার বাপের সঙ্গে হোসেন আলি এসে পড়লে করমালি উঠে দাঁড়ায়। হোসেন আলি পাশে বসতে বসতে বলে, দণ্ড হছে পুরা একশো পঁচিশ টাকা।
    পচার বাপ এবার হামলে কাঁদছে, গোরু ওর পাওয়া গেছে ২টো, বকনাটার কোনো পাত্তা নাই। কি সুন্দর বকনাটা তার, আর কটা মাস গেলে গাভীন হতো। আল্লা! তার একি বিপদ! আল্লা! আল্লাগো!
    তা গোরু তুমি সামলাবার পারো না, কান্দো কিসক? তা একদিক থাকা ভালোই হছে, হোসেন আলি সাম্ভুনা দেয়, ঐ গোরুটা থাকলে তো পঞ্চাশ টাকা বেশি দণ্ড দেওয়া লাগতো।
    ‘দুটো গোরুর জন্য আপনার হিসাবে জরিমানা হয় একশো টাকা। আর পঁচিশ টাকা কিসের? আনোয়ার প্রায় চার্জ করার মতো করে বললে হোসেন আলি কৈফিয়ৎ দেয়, যার জমির ফসল গিলছে তাক ক্ষতিপূরণ দেওয়া লাগবো!
    জমির ফসল খেলো কার? এ তো আপনারা ওর তালা আর শিকলের জরিমানা ধরেছেন।
    আনোয়ার এই নিয়া ঝামেলা বাধাতে পারে ভেবে পচার বাপ এবার তার হাত চেপে ধরে, এটি বিবাদ করেন না বাবা! হামার গোরু বড়ো বজাত। কার ভিউয়েত মুখ দিয়ে, কার কতো লোকসান করছে আল্লাই জানো কোমরে বাধা লাল রঙের কাপড়ের থলি বার করে ১ টাকার ১৪টা নোট ও কিছু রেজকি হাতে ঢেলে সে হোসেন আলির হাতে দেওয়ার চেষ্টা করে, টাকা পনেরোটা নিয়া হামার গোরু নিয়া দেন বাবা।
    ঐ টাকা হোসেন আলি ছুয়েও দ্যাখে না, শোনো, পুরাপুরি একশো টাকা দিয়া গোরু নিয়া যাও। এই চ্যাংড়াক নিয়া আসছে। মানী মানষের ব্যাটা, মানী মানষের ভাইগ্না, পঁচিশ ট্যাকা মাপ কর‍্যা দিলাম।
    ১০০ টাকার কথায় পচার বাপ আর্তস্বরে কাঁদে, কাঁদতে কাঁদতেই সে জানায় যে তার সারা জীবনের সঞ্চয় সে নিয়ে এসেছে, ২০ টাকার বেশি ১টি পয়সাও তার কাছে নাই। হোসেন আলি পরামর্শ দেয়, তাহলে ঐ ২০ টাকা নিয়ে সে বাড়ি চলে যাক, ৮৫ টাকার কমে গোরু দেওয়া যাবে না। প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে নানারকম কান্নাকাটি, গালাগালি ও টানাহাচড়া চলে। আনোয়ার বিরক্ত হয়ে নিচে নতুন চরে এসে নদী দাখে। পচার বাপ শেষ পর্যন্ত ৬৭ টাকা দিয়ে তার বলদ ও গাইয়ের দড়ি হাতে পায়। আনোয়ারকে ডেকে হোসেন আলি বলে, আপনে সাথে আসছেন, লোকসান করা গোরু দিলাম। করমালিকে সে মাত্র ৪০ টাকার বিনিময়ে তার গোরু দেওয়ার প্রস্তাব করে। ‘তুইও গোরু নিয়া যা। না হয় ৩৫ টাকাই দে। বড়ো মানষের ব্যাটাক সাথ করা আসছস, কি করি? দেওয়াই লাগে। কিন্তু রশিদ দিবার পারমুনা। সরকারী আইন, কড়ায়গণ্ডায় টাকা পরিশোধ না করলে রশিদ দেওয়া হবে না। করমালির প্রতিক্রিয়া বড়ো উদ্ধত, টাকা কোটে সরকার? ট্যাকা নাই। তার রাগ ঝাড়ে সে পচার বাপের ওপর, যাও, গোরু লিয়া বাড়ি বিলা ঘাটা ধরে। ট্যাকালিয়া তুমি গোরু লিছো, হামাগোরে সাথে তোমার সাথ কি?
    গোরু ২টো পেয়ে পচার বাপ তার বকনা ও ৬৭ টাকার শোক ভুলে যায়, একবার সে হাত বুলায় তার বলদের গায়ে, মুখে ও মাথায়, একবার সে এটুলি বেছে দেয় তার গাইয়ের পিঠ থেকে। তার ধৈর্য ছিলো না। নদীর কিনার ধরে সে রওয়ানা হলো বাড়ির দিকে। হেটে হেঁটে একেকটা চর পাড়ি দেবে, মাঝে মাঝে নদী পার হবে খেয়ানৌকায়। বেলা থাকতে রওয়ানা হলো, আগামীকাল দুপুরবেলার আগেই গাইবলদ নিয়ে বাড়ি পৌঁছবে।
    আনোয়ার পড়ে গেছে মহা ফ্যাসাদে। নৌকায় আর কতোদিন? ৩দিন তো হয়েই গেলো। এখানে বাস করাটা কাজে লাগলেও না হয় কথা ছিলো। লাভটা হচ্ছে কি? করমালির মাথায় কি করে ঢুকেছে যে টাকা পয়সা না দিয়েই সে গোরু নিয়ে যেতে পারবে। তার গোরু তো বটেই, গ্রামের সকলের গোরু এই হোসেন ফকিরের নৌকায় ভরেই সে নিয়ে যাবে। সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে সে নোতুন খবর আনে, পুবের দিকে খালি এক কথা। -শালা হোসেন ফকিরেক জবো করো। বোঝেন না, শালাটাসকা ম্যারা গেছে। হামাক কিছু করার পারে না, আপনে আছেন তো উই মনে করছে, বিপদ এ্যাঁটা হলে আপনেক ধরা উই পার হবো শালা মানুষ চেনে নাই। আনোয়ার একটু আঁচ করে বৈ কি? সেদিন মূলবাড়ি খাট থেকে নৌকায় ধারাবর্ষা চরে আসার সময় কোনো কোনো চরে বা খেয়ানৌকায় গোরু নিয়ে অনেককে যেতে দাখা গেছে। জরিমান ট্যাক্স দিয়ে নিজের গোরু নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলো। পরদিন থেকে এদের সংখ্যা বেশ কম। পরশু তবু কয়েকজন গেলো, কাল গোরু নিয়ে কাউকেই যেতে দ্যাখা যায়নি। করমালি এর কারণ ব্যাখ্যা করে, ‘দুইটা দিন দ্যাখেন না। আলিবক্স ভাই ঢোল দিছে, হোসেন আলিক জরিমানা দিলে তার পরিণতি ভালো হবো না।
    সেদিন সন্ধ্যার আগে ঘাটে এলো হোসেন ফকির নিজেই। হাতে গামছা-বাধা বাটি। ইয়াসিন সায়েবের ভাগ্নে, আকবর সায়েবের ছেলে, সর্বোপরি তার এককালের মুরুব্বি বড়োমিয়ার মেজোনাতি এখানে এসে নৌকায় বাস করে, এই দুঃখে সে কাতর। পাঙাস মাছের ঝোল ও পাবদা মাছের চচ্চড়ি দিয়ে ভাত খেতে খেতে আনোয়ার তার আক্ষেপ শোনে। ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকা একটু একটু দোলে, আনোয়ার ভাত খায় আর হোসেন আলির মুখে তার বাবার গল্প শোনে। আজ থেকে ৩০ বছর আগে তার বাবা এখানে এসেছিলো রেডক্রসের সাহায্য বিলি করতে, আনোয়ারের তখন জন্মই হয়নি, তার বাবার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দুধ, কাপড়, দেশলাই—এইসব বিতরণ করেছিলো এই হোসেন আলি ফকির। বাবার এই ধরনের জনসেবামূলক তৎপরতার কথা আনোয়ার কোনোদিন শোনেনি। মনোযোগ দিয়ে এইসব শুনতে শুনতে হোসেন আলির ওপর বিরাগে একটু নরম প্রলেপ পড়ে। সেইসব দিন আর নাই, সেইসব মানুষই বা কোথায়?–হোসেন আলি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, এখন হলো চোর ডাকাতের রাজত্ব। আগের রাত্রে ডাকাত-মারা চরে বাথানের উত্তরপ্রান্তে কারা এসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ডাকাতদের অবশ্য হটানো গেছে। কিন্তু পালাবার মুহুর্তে বাথানের একদিকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় ৮/১০টা গোরু পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। তবে হোসেন বীরদৰ্পে জানায় যে, সে একটুও ঘাবড়ায়নি। খয়বার গাজীর কাছে লোক পাঠানো হয়েছে, এমএনএ সায়েবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গওরমেন্টের খোয়াড়-এর লাভের ভাগ মন্ত্রী গবর্নর পর্যন্ত ভোগ করে -এখানে আগুন লাগাবার পরিণতি যে কি ভয়াবহ হবে শালারা বুঝতে পাচ্ছে না। এমএনএ কি মন্ত্রী যদি মিলিটারি পাঠিয়ে দেয় তো পুবপাড়ের ঐসব ডাকাতদের লাশে যমুনায় স্রোত মন্থর হয়ে উঠবে -তবে তার দুঃখ ঐ গোরুগুলোর জন্য। আল্লার অবলা জীব, ঘরে আগুন লাগলে দড়ি কি শিকল ছিঁড়ে পালাবার উপায় নাই যাদের, তাদের যারা পুড়িয়ে মারে, আল্লার গজব থেকে তাদের রেহাই নাই।-এই আক্ষেপ শুনে আনোয়ারের মাথা দপ করে জ্বলে ওঠে। শালার ভণ্ডামির সীমা নাই। বদমাইসটার মুখের ওপর পাঙাস মাছের ঝোল-মাখা ভাত উগরে দিতে পারলে আনোয়ারের মাথার আগুনটা নেভে। তা আর হয়ে ওঠে না। কয়েক বেলা ধরে করমালির রান্না করা ছোটো মাছের প্রচণ্ড ঝাল চচ্চড়িতে-ঝলসানো জিভে পাঙাস মাছের ঝোল মোলায়েম প্রলেপ দিয়ে আরামে গলা দিয়ে নেমে যায়। খালি বাটি নিয়ে হোসেন আলি চলে গেলে করমালি বলে, শালা ফকিরের ব্যাটার জান সিটক্যা গেছে মনে করছে আলিবক্স ভায়ের সাথে আপনের সাট থাকবার পারে। তাই আপনেক এতো খাতির করব্যা নাগছে!
    আনোয়ার ভাবে আলিবক্সের সঙ্গে তার যোগাযোগের কথা কল্পনা করে বলে হোসেন আলি তাকে সমীহ করে কেন? হোসেন আলি ফকিরকে অনুরোধ করে এবং ভয় দেখিয়ে গ্রামের গোরুগুলো উদ্ধার করার জন্য তার উদ্যোগ কি সাহসের পরিচয় নাই?–লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে আনোয়ার নৌকার নিচে পানির ছলাৎ ছলাৎ স্রোত শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে। আবার স্রোতের আওয়াজেই তার ঘুম ভাঙে, নৌকা মনে হয় চলতে শুরু করেছে, নিচের ঢেউ সে বুঝতে পাচ্ছে সারা শরীর জুড়ে। আনোয়ার উঠে বসে, করমালি, কি ব্যাপার?
    ভাইজান, ভয় পায়েন না। ঘোড়ার ডাক শোনেন? ভাটি বিল্যামেলা করছি, বাথান পার হয়া জাহাজের খাটাল ধরা গেলে রাত এক পহর থাকতে পুবপাড় পৌছা যামু।
    তুমি যাচ্ছে কোথায়?
    পুব পাড়। নদীতে বান আলে সিন্দুরিয়া চরত ওঠা যাবো।
    বান আসবে কেন? নাকি হোসেন আলির লোক ধরতে আসছে?
    কোটে হোসেন আলি? ঘোড়ার ডাক শুন্যা ব্যামাক মানুষ ঘরের মদ্যে সান্দছে।
    ব্যাপারটা কি? গোরুর দুঃখে পাগল হয়ে করমালি কি ঘোড়ার ডাক শুনতে পাচ্ছে? করমালির ব্যাখ্যা আরো বিভ্রান্তিকর, নদীর অনেক ভেতর থেকে সমবেত ঘোড়ার ডাক শোনা যাচ্ছে। সে তার বাপদাদার কাছে শুনেছে যে, নদীতে ভয়ঙ্কর বান ডাকার আগে যমুনা নদীর ঘোড়ার পাল উচ্চরবে হেষার্ধ্বনি দিয়ে সবাইকে জানান দিয়ে যায়। করমালির কানের বিএম দেখে আনোয়ার কঠিন গলায় নির্দেশ দেয়, ‘পাগলামি করো না। নৌকা তীরে ভেড়াও।’
    দেখতে দেখতে নৌকা চলে এসেছে বাথানের ধারে। বাঁধান পেরিয়ে যাবার পর দাখা গেলো আরেকটি ছিপ নৌকা আসছে তাদের দিকে। ঐ নৌকা থেকে কে ডাকে, করমালি!’ করমালি সাড়া দিলে ফের শোনা যায়, ‘আনোয়ার ভাই আছে? ঘোড়ার ডাক শুনা ভয় পাবার মানা কর।
    করমালি আস্তে করে বলে, আলিবক্স ভাই আসছে। আপনের সাথে কথা কৰো। ছিপনৌকা কাছাকাছি আসতে আনোয়ারদের নৌকা প্রবলভাবে দুলে ওঠে। আনোয়ার আরে গেলো। গেলো।’ বলে চিৎকার করে ওঠে, ছিপনৌকা থেকে তাদের নৌকায় লাফিয়ে-পড়া লোকটি ২ পায়ের ভার এদিক ওদিক করে ব্যালান্স সামলে নিলো। লুঙি-পরা ও চাদরজড়ানো যুবকের কালো মুখে চাদের হলদে আলোর আভা, কিন্তু তার চেহারা অস্পষ্ট। আনোয়ারের সারা শরীর টলে ওঠে হোসেন আলির আতিথেয়তা গ্রহণের অপরাধে করমালি কি তাকে সমর্পণ করছে আলিবক্সের হাতে? আলিবক্স কি তাকে শ্রেণীশক্র হিসাবে চিহ্নিত করবে?
    ছইয়ের ভেতর ঢোকার আগেই আলিবক্স বলে, করমালি, নাও ফেরা, ধারাবর্ষ মুখে চল। নৌকা উল্টোদিকে চলতে শুরু করে, কিন্তু করমালি খুব উদ্বিগ্ন, ভাইজান, বান আসলে পরে নাও ভাসায়া নিবো। ধারাবর্ষাত গেলে তখন হোসেন ফকিরের বাড়িত ওঠা ছাড়া আর বুদ্ধি থাকবে না। ঐ বাড়িত গেলে আপনের জান থাকবে? –
    আরে বলদ, মাঘ মাসোত নদীত বান আসে? তুমিও কি টাউনের ভদ্রনোক হয়৷ গেলা?
    ঘোড়ার ডাক শোনেন নাই? নদীর মদ্যে কতো ঘোড়া ডাক পাড়ে শুনছেন? আমাক ঠগা ঠাওরাস? তামাম নদীর মদ্যে ঘোড়া খালি তড়পাতিছে। বিপদ দেখলে যমুনার ঘোড়া ডাকে। বিপদ কি যমুনা একলাই করে? মানুষ মানুষের মুসিবত করে না?
    আনোয়ারের পাশে বসে বিড়িতে শেষ টান দিয়ে বিড়ির গোড়াটা এগিয়ে ধরে করমালির দিকে। তারপর বলে, কালই আপনার সাথে কথাবার্তা কওয়ার নিয়ত করছিলাম। শালা হোসেন ফকিরের মানুষ এমন করা ধাওয়া করলো, আগে আমরা অগো বলটা বুঝবার পারি নাই। পরে এমন অবস্থা হলো কি বাথানেত আগুন দিবার না পারলে আমরা আর পলাবার পারি না। আনোয়ার একটা সিগ্রেট দিলে সেটা ধরিয়ে আলিবক্স তার আসার উদ্দেশ্য জানায়, ‘আজ আপনের সাথে নিরিবিলি কথা কওয়া যাবো। ঘোড়ার ডাক শুনছে, হোসেন ফকিরের বাপের ক্ষমতা হবে না যে বার হয় আমাক ধরবার আসে ব্যামাক মানুষ আজ ঘরের মদ্যো’
    আলিবক্সের মুখেও যমুনার গভীর ভেতর থেকে ঘোড়ার ডাক শোনার কথা শুনে আনোয়ার বিগড়ে যায়, হায়রে, এই আমাদের বাম রাজনৈতিক কর্মী। এর সঙ্গে নিরিবিলি কি পরামর্শ করবে? জিগ্যেস করে, আপনি মাদারগঞ্জ কলেজের ছাত্র?
    হ্যাঁ। তা শোনেন— ‘ বি এসসি পড়েন না? সায়েন্স পড়েন, লেফট পলিটিক্স করেন আর এইসব কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন?
    বিএ পড়ি। এইচ এছ ছি পাস করছিলাম সাইন্স নিয়া। মাদরগঞ্জ কলেজে বি এছছি নাই, তাই বিএ পড়তিছি?
    তার আসল প্রশ্ন এড়িয়ে গেলো বলে নয়, এইচ এস সি ও বিএসসি কথাগুলো আলিবক্স যথাক্রমে এইচ এছ ছি ও বি এছছি উচ্চারণ করায় আনোয়ারের কান শিরশির করে। তার মূল প্রশ্ন বা কান শিরশির করাকে আলিবক্স তোয়াক্কা করে না। আপনারা ঢাকাত বস্যা বড়ো বড়ো কথা কন আর পার্টি ভাঙেন। মতিন ভাই আমাগোরে এলাকায় আসলো, দল থাকা ভালো ভালো কয়েকটা কর্মী আলাদা হয়া গেলো। এরকম করলে কাম হয়? জনগণতান্ত্রিক কন আর স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক কন, উপনিবেশ কন আর আধা উপনিবেশ কন, গায়ের মদ্যেকার শয়তানগুলাক শাষ করবার না পারলে কোনো কাম হবো না।
    ‘সে তো বটেই। কিন্তু এইসব শয়তানের মুরুব্বিরা তো থাকে ঢাকা ইসলামাবাদ।’
    ‘গায়ের মানুষ তো অগোরে চেনে না। আর এই শয়তানগুলা শাষ হলে মুরুব্বির খাড়াবো কোন জমির উপরে? আমরা পুবের চর এলাকাত সব একসাথে শয়তান খতমের কামে নামছি!’
    ‘পাটি ভাগ হলো তো একসঙ্গে কাজ করছেন কি করে?
    একজোট না হয়া আমাগোরে পথ আছিলো না ভাইজান। সার্কেল অফিসার আর তশীলদার,—এই দুই শয়তান মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করা তুলছিলো। এটার মদ্যে খাজনা বসায়, এই মানষেক জমি থাকা ভিটা থাকা উচ্ছেদ করে, এ্যাঁক ধর্যা থানাত দেয়, অক ধরা বেগার খাটায়। তশীলদার চাকরি করতিছে ছয় বছর, এর মদ্যে জমি করছে একুশ বিঘা, পুকুর নিছে দুইটা। মানষে একজোট হয় এমন দাবাড় দিছে যে দোনো শয়তান পাছার কাপড় তুল্যা দৌড় মারছে ময়মনসিং মুখে।
    এরা তো আবার ফিরে আসবে। দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আসবে। পুলিশ ব্যাটালিয়ন নিয়ে আসবে। তখন?
    তা আসবো। মিলিটারিও আনবার পারে। তা এই সার্কেল অফিসার কন আর তশীলদার কন আর এমএনএ মন্ত্রী যাই কন না এদের ভরসা হলো আপনাগোরে ওটি খয়বার গাজী, আমাগোর এলাকাত হামিদ তালুকদার, মাদারী আখন্দ। আবার খয়বার গাজীর বারো আনা ভরসা হোসেন ফকিরের উপরে। এই শয়তানগুলাক শাষ করবার পারলে এমএনএ, মন্ত্রী কারো ক্ষমতা নাই যে এই এলাকায় যমুনার পুব পশ্চিম কন্ট্রোল করে।’
    তখন পুলিস মিলিটারি ক্যাম্প করবে আপনার পাশের এলাকায়, না হলে পাশের জেলায়!
    তা ঠিক। আলিবক্স আনোয়ারের সঙ্গে একমত হয়েও হতাশ হয় না, তাই তো কই কি সোগলি যার যার এলাকায় কাম করলে শয়তানগুলাক শাষ করা যায়, তখন পুলিস মিলিটারি পাত্তা পাবো কোটে?
    আলিবক্স বেশি সরলীকরণ করছে, আনোয়ার এ ব্যাপারে নিশ্চিত। কিন্তু ঠিক কিভাবে ওর যুক্তি খণ্ডন করবে তাও বুঝতে পারে না। শ্রেণীশক্ৰ খতম করার প্রোগ্রাম তো ওদেরও আছে, কিন্তু গ্রামে কিছু লোক মেরে ফেললেই কি রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়বে? এদের দাপট যতোদিন থাকবে এই রাষ্ট্র কাঠামোতে ততোদিন কোনো চিড় ধরানো অসম্ভব। কিম্ভআনোয়ার কিছু বলার আগেই আলিবক্স প্রস্তাব করে আনোয়ার ভাই, আপনে আজই বাড়িমুখে রওয়ানা হন। কাল সকালবেলা পৌঁছবেন তালপোতাত করমালির বাড়িত যারা চেংটু, বান্দু শেখ, করমালি—এদের সাথে কথাবার্তা কন। অন্তত পঞ্চাশ ষাটজন মানুষ সাথে করা চেংটুক আপনে কালই ধারাবর্ষ মুখে পাঠায় দেন। পশ্চিম থাকা আসবো অরা, পুব থাকা আসবো আমরা। হোসেন আলির বাথান পরশু রাতের মদ্যেই আমরা দখল কর‍্যা শালাক বক্তা কবর দেমো তার ওপর এতোটা আস্থা স্থাপন করায় কৃতজ্ঞতায় আনোয়ার অবিরাম কথা বলতে শুরু করে, আমাদের পশ্চিম পাড়ে মানুষ নিজেরাই স্পনটেনিয়াসলি এগিয়ে আসছে। দলের জন্য অপেক্ষা করেনি-।
    পার্টি না থাকলে মানুষের উৎসাহ শেষ পর্যন্ত থাকবে না। আপনে আজই মেলা করেন, রাতে রাতে নাও বায়া যাবো করমালি। যমুনার মদ্যে ঘোড়ার ডাক শুনা মানুষ খুব পাইছে। আসলে এটা বানের নিশানা নয়, শীতের সময় বান হবে কেন? বিপদ তো মানুষও করবার পার, এখন সকলের একজোট হওয়া দরকার। মানষেক এইভাবে কওয়া লাগবে।
    ‘ঘোড়ার ডাক আপনি শুনলেন কোথায়? আলিবক্সের আস্থাভাজন হওয়ায় আনোয়ার তাকে সরাসরি জিগ্যেস করে, মানুষ কি বলে, কি শোনে, আপনি পার্টির লোক হয়ে চট করে তা মেনে নেন কি করে? মানুষের কুসংস্কার বাড়তে সাহায্য করলে শেষ পর্যন্ত লাভ হয় কাঁদের? রিএ্যাকশনারিয়া তো এইসব ক্যাপিটাল করে এক্সপ্লয়েট করে।
    কি যে কন’ আনোয়ারের অবিশ্বাসে আলিবক্স ক্ষুব্ধ হলো, শোনেন যমুনার ভেতর অনেকদিন বাদে বাদে ঘোড়ার ডাক শোনা যায়। তাহলে বুঝবেন চর এলাকায় বড়ো কোনো বালা মুসিবত আছে।
    আমার বাপদাদারা আছিলো শঙ্করপুরের মানুষ –কায়েমি চর আছিলো গো! হাই ইসকুল, ইউনিয়ন বোর্ড অফিস, সাহাদের টিনের গুদাম, গাছগাছালিসব আছিলো। সেই চর যেদিন ভাঙা শুরু হলো তার দিন পনেরো ষোলো আগে নদীর মধ্যে কম করা হলেও দুইশো আড়াইশো ঘোড়া একসাথে উরুজোগার দিয়া ডাকছে।’ আপনি জানলেন কি করে? আপনি শুনেছেন? আমার বাপে কছে, দাদায় কছে। চাষা মানুষ হলে কি হয়, বাপ আমার পাঁচ ওকতো নামাজ পড়ছে! তাই মিছা কথা কওয়ার মানুষ আছিলো না! নামাজ পড়ার সঙ্গে সত্যনিষ্ঠ হওয়ার সম্পর্ক কি? নামাজ পড়তে পড়তে খয়বার গাজীর কপালে কড়া পড়ে গেছে, মিথ্যা কথা বলা তার স্বভাব। তাহলে?–কিন্তু তর্ক করার সময় পাওয়া যায় না। ভাইজান, বাথানের গোরুবাছুর ঘোড়ার ডাক শুনবার পাছে! করমালি ভয়ে চিৎকার করে উঠলে বিপুল সংখ্যক গোরুবাছুরের সমবেত ও এলোমেলো হাম্বা রব শুতে পায় সবাই। আনোয়ার পর্যন্ত ভয় পায়, কি ব্যাপার, বাথানে কি আগুন টাগুন লাগলো?
    আরে নাঃ। শোনেন না? হাজার ঘোড়া ডাক পাড়ে। গোরুবাছুর ভয় পাবো না? করমালিকে নৌকা ভেড়াতে বলে আলিবক্স লাফিয়ে ডাঙায় নামে, রওয়ানা হয় উল্টোদিকে, যেতে যেতে করমালিকে তাড়া দেয়, তরা করা যা। কাল ব্যায়না চেংটুর সাথে কথা কয়৷ পাছাবেলার মদ্যে মানুষজন নিয়া মেলা করবু।
    আরে আপনি এখানে নামছেন কেন? আনায়ার চিৎকার করে, এখানে নামছেন কেন? হোসেন ফকিরের মানুষ টের পেলে—।
    একটু এগিয়ে আলিবক্স তার ছিপনৌকায় উঠতে উঠতে চিৎকার করে, করমালি, কিনার দিয়া যাস। ভয় করিস না, কিছু হবো না। আলিবক্সের ছিপনৌকা মেঘের ছায়ার মতো নদীর আড়াআড়ি গিয়ে কোথায় হারিয়ে গেলো।
    ধারাবর্ষার চরও দেখতে দেখতে সরে যাচ্ছে। হোসেন আলির বাড়ির দিক থেকে কে যেন চিৎকার করে আজান দিচ্ছে। আবার কোথেকে ভেসে আসছে হাঁস-মুরগির আতঙ্কিত ডাক ব্যাপার কি? চরের সবাই কি ঘোড়ার ডাক শুনতে পাচ্ছে? নদীর পানির দিকে কান পেতে আনোয়ার ঘোড়ার ডাক শোনার জন্য একাগ্রচিত্ত হয়। না। শীতকালের যমুনা ছলাৎ ছলাৎ করে বয়ে চলে। এমনকি ডাঙার শঙ্কা ও আর্তরব নদীকে এতোটুকু স্পর্শ করতে পাচ্ছে না।
    করমালি দাঁড় বাইতেই থাকে। ডাঙা থেকে ভেসে আসা দূরের আওয়াজ, ক-র-মা-লি, নাও ভিড়াও চরের পশ্চিম মুড়াত নদীর মদ্যে ঘোড়ার ডাক শোনা যায়। হোসেন ফকির খবর দিছে, আকবর সায়েবের ব্যাটাক তার ঘরত যাবার কছে। বান আলে বিপদ হবো। ও ক-র-মা-লি!’
    আনোয়ার স্থির গলায় নির্দেশ দেয়, করমালি, তাড়াতাড়ি চলো। সকালের আগেই মূলবাড়ি ঘাটে পৌছা চাই।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াবনামা – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }