Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    লেখক এক পাতা গল্প595 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চিলেকোঠার সেপাই – ৪৪

    বিছানায় দেওয়াল ঘেষে ঘুমাচ্ছে মন্টু। ওর পাশে বসে আনোয়ার খাম ছিঁড়ে চিঠি বের করে। ওসমানের হাতের লেখা বরাবরই খুব জড়ানো, কিন্তু এরকম দুর্বোধ্য তো কখনো ছিলো না। মনে হয় একটানে গোটা চিঠি লেখার চেষ্টা করেছে। হ্যারিকেনের সলতে উসকে দিয়ে ১টা ১টা করে অক্ষর ধরে ধরে অনেক কষ্টে আনোয়ার চিঠির পাঠোদ্ধার করে।

    প্রিয় আনোয়ার,
    তুমি মিছেমিছি গ্রামে গেলে। এখানে রাস্তায় রাস্তায় আগুন জ্বললো তুমি দেখতে পেলে না। বড়ো বড়ো দালান কোঠাও রেহাই পায়নি। আগুন নেভাতে মিলিটারি বুড়িগঙ্গা নদীর প্রবাহ ঘোরাতে গিয়েছিলো, তাতে ফল হয়েছে বিপরীত। রাস্তায় রাস্তায় নদী, নদীর পানির ওপর ভর করে জুলতে থাকে আগুন। খবরের কাগজ পাও? কাগজে এর নাম দিয়েছে নদী ও আগুনের যুগলপ্রবাহ। সেদিন রেসকোর্সে শেখ মুজিবুর রহমানের মস্ত বড়ো মিটিং হলে এই যুগলস্রোতোধারা চাপা পড়েছে। আমি এত ঘাবড়াই না! আমি তো খিজিরকে চিনি। খিজিরদের horizontal মিছিল দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। কপালে থাকলে তুমি দেখতে পাবে। না পারো তো আমি কি করবো? একটা পদ্য আছে জানো? ‘কেঁদে কেন মরো? আপনি ভাবিয়া দ্যাখো কার ঘর করে! এই পদ্যেই জবাব আছে। ইতি।
    ওসমান।

    চিঠির বাক্য স্পষ্ট। কিন্তু ওসমান এসব কি লিখেছে? ও কি ঠাট্টা করার লোক? ওসমানকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে, ওর শরীর বোধ হয় খারাপ, কিন্তু আনোয়ার এখন গ্রাম ছেড়ে যায় কি করে? এতো কিছুর পরেও শয়তানদের ফণা নিচে নামে না। চেংটুর পরিষ্কারকরা বৈরাগীর ভিটায় এরা চুটিয়ে মিটিং করে অথচ চেংটুর ওপর রাগ এদের প্রতিদিন কেবল বেড়েই চলে। চেংটুকে নিয়ে ঢাকায় গেলে হতো। কিন্তু ও ঢাকায় যাবে কেন? ওসমানকে এর কথা লিখেছিলো, ওসমানের চিঠিতে কৈ তার কোনো উল্লেখ নাই তো! ওসমানের হলোটা কি? শরীর বোধ হয় খারাপ হয়ে গেছে। নোভালজিন ছাড়া ছেলেটা একটা দিনও স্বাভাবিক থাকতে পারে না। কতোবার বলা হয়েছে, এ্যাঁসিডিটির রোগীর এভাবে এ্যানালজেসিক খাওয়ার পরিণতি সাঙ্ঘাতিক হতে পারে। পেটে হয়তো আলসার বাধিয়ে বসেছে; এই রোগের জন্যেও চিঠি এলোমেলো হতে পারে। রোগে কষ্টে ওসমানের পাশে থাকার মতো কেউ নাই। ওসমানের প্রতি কর্তব্যবোধ আনোয়ারের মাথায় ১টি কাটা বেধায়: ওর কাছে থাকার জন্যেই একবার ঢাকায় যাওয়া উচিত। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই এই খোঁচাটা চুলকানোর আরাম দেয়, ঢাকায় যাওয়ার কথা ভাবতে ভাবতে চোখ জড়িয়ে আসে। ঘুম ভালো করে চেপে আসতেই জিন্না এ্যাঁভিনু্যর ফুটপাথ ধরে আনোয়ার হাটতে শুরু করে। হ্যাঁ, আউটার স্টেডিয়ামের দেওয়াল ঘেঁষে ফুটপাথ ধরে তাড়াতাড়ি হাঁটছে। সঙ্গে চেংটু। আনোয়ার খুব খুশি, চেংটুকে নিয়ে সে নানান জায়গায় যাবে। সবাইকে বলবে, এরকম কর্মী কেউ চোখে দেখেছে? ঢাকায় বসে তোমরা বিপ্লবের অবজেকটিভ কন্ডিশন দেখতে পাও, কিন্তু বিপ্লবের হাতিয়ার দেখতে চাও তো চেংটুকে দ্যাখো! কিন্তু চেংটুর হাতে ১টা হাতিয়ার থাকায় আনোয়ার উসখুস করে। ছোকরা তার পাশে ছিলো, এখন চলে গেলো ঠিক পেছনে। সামনে ট্রাফিকের লাল সংকেত জ্বলে উঠেছে, আনোয়ার সামনে এগোতে পারে না। দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে সে আড়চোখে চেংটুর দিকে তাকায়। চেংটুর দা হাত বদল করে। আনোয়ার দেওয়ালের দিকে আরেকটু সরে। দেওয়ালের ঘষাটায় তার ডান হাতে ব্যথা করছে। হাতের ব্যথায় আনোয়ারের ঘুম ভাঙে।
    কোথেকে মেয়েলি গলায় কান্নার আওয়াজ আসে হঠাৎ করে মনে হয়, মন্টু কোথায়? মন্টু না থাকায় ঘুমের মধ্যে আনোয়ার চলে এসেছে দেওয়ালের দিকে। ডান হাত তার চাপা পড়েছে নিজের শরীর ও দেওয়ালের মাঝখানে। তখন স্বপ্নের কথাটা মনে পড়ে। চেংটুকে সে ভয় পেলো কেন? চেংটুকে ভয় পাওয়ার গ্লানিতে আনোয়ার প্রায় মিনিটখানেক চুপচাপ শুয়ে থাকে। কিন্তু বাড়ির ভেতরের কান্নার আওয়াজ উথলে উথলে উঠছে। হঠাৎ ভয় হয় ঢাকা থেকে কোনো খারাপ খবর এলো না তো? আম্মার ব্লাড প্রেশার আজকাল খুব উঠানামা করে, যে কোনো সময় একটা স্ট্রোক হতে পারে। আনোয়ার প্রায় লাফিয়ে উঠে ভেজানো দরজা খুলে ভেতরের বারান্দায় দাঁড়ায়। উঠানের মাঝামাঝি গোল হয়ে বসে কাঁদছে কয়েকজন চাষী বৌ। না, তার মায়ের দুঃসংবাদে এদের ভেঙে পড়ার কথা নয়। আনোয়ার একটু আশ্বস্ত হলে জমিরের মা এসে তাড়া দেয়, ভাইজান, মুখ ধুয়্যা নেন। নাশতা ঠাণ্ডা হয়্যা গেলো। উঠানে কারা? জমিরের মার কাছে জানা যায় এদের ১জন হলো চেংটুর মা, ১জন তার চাচী, ১জন তার ভাবী এবং আরেকজন চেংটুর স্বামী-পরিত্যক্তা বোন।
    চন্দনদহ বাজার থেকে এদিকে আসার রাস্তায় গ্রামের শুরুতেই বুড়ো গাব গাছ। গাব গাছের পাশে ধান-কাটা জমিতে নামবার ঢালে আজ ভোরবেলা চেংটুর লাশ পাওয়া গেছে। আনোয়ারদের বাড়ির বাইরে কাঁঠালতলায় ভিড়। পরিচিত ভঙ্গিতে হাঁটু ভেঙে মাটিতে বসে রয়েছে নাদু। তার সামনে হাতলওয়ালা চেয়ারে বড়োচাচা। নাদু মাঝে মাঝে মাটিতে হাতের চাপড় মারে এবং আল্লা ও নিহত চেংটুকে নানাভাবে আহবান করে। পোড়া পা টেনে টেনে ঘুরে বেড়ায় করমালি। উঁচু দাত দিতে তার নিচেকার পুরু ঠোঁট চেপে-ধরা। আনোয়ারকে দেখে তার দাঁতের চাপ শিথিল হয়, ‘ভাইজান, এটা কেমন হলো?
    ধরা গলায় বান্দু শেখ বলে, কপাল।
    ও চেংটু চেংটু। হারামজাদা তোর নাফ-পাড়া কেটে গেলো? বেন্ন্যামানষের ব্যাটা, চাষাভূষার ব্যাটা, তুই যাস বড়োনোকের সাথে তাল দিব্যার? বিলাপ করতে করতে নাদ
    পরামাণিক মাথা রাখে বড়োচাচার পায়ে। বড়োচাচা তারা বিরলকেশ মাথায় আঙুল ছুয়ে ছলছল চোখে তাকায় সামনে।
    আনোয়ারকে একটু আড়ালে ডাকে করমালি, ‘ভাইজান বোঝেন তো! আফসার গাজী কালও নাফ পাড়ছে, কয়, কোনো শালাক কিছুঁতেই ছাড়া হবো না। এখন বোঝেন।’
    ‘আলিবক্স কোথায়? আনোয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আলিবক্স ঠিক বুঝতে পারবে এ সময় কি করা দরকার।
    তাই গেছে পুবে, চরের মধ্যে। নদীর ঐ পারে গোরুচোরেরা আবার দল পাকায়! এদিকে পাও দিলে তো এ্যাঁরা আলিবক্স ভাইজানোক সাফ কর্যা দিবো।
    ‘লাশ কোথায়?
    লাশ আছে গাবতলাত। পুলিস না আসলে বলে লাশ ধরা যাবো না।
    আনোয়ার বলে, পুলিসে কেস দেওয়া দরকার।
    পুলিস করমালির উঁচু দাঁতের চাপে কথাটি এমনভাবে বেরোয় যে মাথা নিচু করে আনোয়ারকে একটু সরে দাঁড়াতে হয়।
    গাবগাছতলায় ভিড় আরো বেশি। শহরের ছাত্রকর্মীরা এসেছে মেলা, আজ কর্ণিবাড়ি স্কুলের মাঠে জনসভা, তারই প্রচার করে বেড়াচ্ছে। কাঁদের হাতে চেংটু মারা পড়লো, এ নিয়ে কারো স্পষ্ট বা অস্পষ্ট ধারণা নাই, কিন্তু তার মৃতদেহ নিয়ে তারাই মিছিল করতে চায়। এই মৃতদেহ তারা পুলিসকে ছুঁতে দেবে না। খোড়াতে খোঁড়াতে করমালি এখানে এসে পড়েছে। আনোয়ারকে ডেকে বলে, ‘ভাইজান, আপনে কন না কিসক? এতোগুলা শিক্ষিত মানুষ আসছে, চেংটুকে কারা মারবার পারে, কি সমাচার কয়া দেন না!
    কিন্তু প্রমাণ ছাড়া আনোয়ার আন্দাজে কথা বলে কিভাবে? এর ওপর চেংটুর বড়োভাই সোটকা পরামাণিক তেড়ে আসে করমালির দিকে, ‘হামার ভায়েক খায়াও তোরগোরে খিদা মেটে নাই? তোর কি? তোর পাওখানই পুড়ছে, পাও পুড়া তোর শালা এখন ভিক্ষা করার জুত হবো! তোরা বাপব্যাটা এখন একসাথে বাজারেত বস্যা থালি ধরলেই পয়সা।
    ছাত্রদের মধ্যে যারা নেতৃস্থানীয় তারাও এই মৃতদেহ নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চায় না। এসব করা মানে আজকের মিটিঙের বারোটা বাজানো। তাদের কাছে চেংটুর বাবার করুণ বাসনাটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য জালালউদ্দিন তৎপর। চেংটুর মৃতদেহ বৈরাগীর ভিটার পুরনো বাসিন্দাকে আরো উত্যক্ত করে তুলতে পারে। তাড়াতাড়ি ছেলের দাফন হলে তার রুহের আরাম হয়, জীন এবং পুলিসের ঝামেলা থেকে জীবিত লোকজনও রেহাই পায়। আনোয়ারের বড়োচাচারও ইচ্ছা তাই। ২পুরুষের চাকর নাদু পরামাণিকের ইচ্ছাটা পূরণ করার জন্য বড়োচাচা বড়ো উদগ্রীব।
    আনোয়ার তাকিয়ে থাকে চেংটুর মুখের দিকে। ঠোঁটজোড়া তার দারুণভাবে চেড়ে-ধরা। কানের নিচে ছুরির গভীর দাগ। খোঁচা খোঁচা গোঁফদাড়ি সজারুর কাটার মতো খাড়া হয়ে চেংটুর মুখটাকে সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে দিয়েছে।
    ৪দিন পর আনোয়ার আরেকটা চিঠি পায়। শওকত ভাই ঠিকানা পেলো কোথায়? আনোয়ার ঠিক এতোটা ভাবেনি, ওসমানের অবস্থা যে রকম হয়েছে সে কল্পনাও করেনি। ওসমানকে প্রায়ই নাকি দ্যাখা যায় ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। স্টেডিয়ামের বারান্দায় ১দিন চিৎকার করে দৌড়াতে দ্যাখা গেছে। কাপড়চোপড় পরে খুব নোংরা। কথাবার্তার ব্যালান্স নাই। আনোয়ারের কথা খুব বলে, আনোয়ারের বড়ো ভাইয়ের সঙ্গে দ্যাখা করে ওর খবর নিয়েছে কয়েকবার। আনোয়ার কি কয়েকদিনের জন্যে ঢাকায় আসতে পারে? ওসমানকে দ্যাখাশোনা করা দরকার। কয়েকদিনের জন্যে বিপ্লব স্থগিত রেখেও আনোয়ার যেন একবার ঢাকায় আসে।-চিঠি পড়তে পড়তে আনোয়ার উদ্বিগ্ন হয়। আবার চিঠি পড়া শেষ হলে বুঝতে পারে যে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত আরো বেশি। ঢাকায় যাওয়া খুব দরকার। মাথার ভেতর তার নতুন হাওয়া খেলে এবং হাতপাগুলোর আড়ষ্টতা কাটে। শওকত ভাইয়ের ওপর এতোটা কৃতজ্ঞতা বোধ করে যে তার ছোটো শ্লেষটুকুওমিষ্টি লাগে।

    গাবগাছতলায় পৌঁছবার আগে ঢেকুর উঠলে মুরগির কোর্মার স্বাদ বোঝা যায়। ভোরবেলা উঠে বড়োচাচী এর মধ্যে এতো আয়োজন করেছে। বড়োচাচী বাড়ি ফিরেছে পরশু সকালে, ২টো দিন গেছে বাড়ি ঝাড়পোছ করতে। আর আজ সকাল ৯টার বাসে আনোয়ার চলে যাবে শুনে সূর্য ওঠার আগে থেকেই রান্নাবান্নার প্রস্ততি নিতে শুরু করেছে। অতো সকালে আনোয়ার ভাত খেতে পারে না বলে এক গাদা পরোটা ভাজে, রাত্রে জ্বাল-দেওয়া মুরগির কোর্মা রাধে, এর ওপর ডিম ভাজা। চাচী নিজে বসে থেকে পাতে ১টা ১টা পদ তুলে দেয় আর বলে, ‘আবার কোনদিন আসো ঠিক আছে? খাও বাবা।
    আমি তো বিশ পঁচিশ দিনের মধ্যে আবার আসছি চাটী!
    আনোয়ারের এই কথায় আমল না দিয়ে বড়োচাচী তার প্লেটে তরকারি ঢালে, বারান্দার দিকে তাকিয়ে বলে, তোমার বাপ বছরে দুই বছরে তাও এক আধবার আসছে। ঐ বারান্দার উপরে বস্যা রোদ পোয়াছে আর কছে, ভাবী, পাটিসাপটা করল্যা না? আবার চরের মধ্যে থাকা পাখি ম্যারা নিয়ো আসছে, ভাবী ভালো করা রোস্ট করে তো! —দেখতে দেখতে কতোদিন হয়া গেলো!’ ঐ বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে বড়োচাচা চুপচাপ উঠান দ্যাখে।
    এর মধ্যে এসে পড়ে জালালউদ্দিন, তাড়াতাড়ি করো। বাসের টাইম হলো।
    সেই থেকে জালালউদ্দিন বকবক করেই চলেছে। আনোয়ার বগুড়া নেমেই যেন তার মামার সঙ্গে ভালো করে কথা বলে। ইয়াসিন সাহেবের এখন ঘন ঘন এলাকায় আসা উচিত। ফিল্ড এখন ভালো, এইসময় এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দরকার।
    গাবগাছতলায় পৌঁছবার পর জালালউদ্দিন চুপ করে। কি হলো? কোর্মার ঢেকুরের গন্ধ চাপা পড়ে মৃতদেহের আবছা গন্ধে। গাবতলায় জবুথবু হয়ে বসে রয়েছে নাদু পরামাণিক। জালাল মাস্টার আস্তে আস্তে বলে, আহা! প্রত্যেক দিন এই জায়গায় অ্যাসা বস্যা থাকে। বার্ধক্যে পুত্রবিয়োগ!
    ‘ঢাকাত যাও?’ নাদু পরামাণিক উঠে দাঁড়ায়।
    হ্যাঁ। এখন বাসে যাবো বগুরা। কাল সকালে ঢাকার ট্রেন ধরবো। আনোয়ার কৈফিয়ৎ দেয়, আমার এক বন্ধুর খুব অসুখ। একটু সেরে উঠলেই আমি ফিরবো।
    নাদু ওদের সঙ্গে হাঁটে। ১টা ময়লা চাদরে তার গা জড়ানো। একটু একটু বাতাসে রোগা শরীর কাপে। তার দাড়ি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় মুখের অভিব্যক্তি সংগঠিত হতে পারে না। আনোয়ার তাই বারবার দেখেও নাদুর চোখেমুখে শোক কি হতাশা সনাক্ত করতে পারে না।
    চন্দনদহ বাজারের শুরুতে খয়বার গাজীর ধানকলের টিনের ছাদ সকালবেলার রোদে ঝকঝক করে। আজ হটবার নয়, তবু এদিক ওদিক লোকজন দেখে জালালউদ্দিন অবাক হয়, এতো মানুষ?
    ধানকলের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আফসার গাজী। তার সঙ্গে শহর থেকে আসা কয়েকজন ছাত্রকর্মী। আফসার এগিয়ে আসে আনোয়ারের দিকে, নাদুকে জানায়, কি গো, পরশুদিন বড়ো মিটিং হলো বাজারের মধ্যে, তোমার ব্যাটার নাম করা প্রস্তাব পাস করলাম। তুমি আসলা না? তারপর সে তাকায় জালালউদিনের দিকে, আপনেও তো ভাষণ দিলেন। নাদুক কন নাই?
    জালালউদ্দিন অপরাধীর মতো হাসে।
    মাস্টার মানুষ বারো বছর মাস্টারি করলে কি জানি হয়?’ জালালউদ্দিনকে ঠাট্টা করার পর আফসার গাজী আফসোস করে চেংটুকে নিয়ে, চ্যাংড়া মানুষ। মাথা গরম করা কোপ মারলো বৈরাগীর ভিটাত। আগুনের জীব বাপু কোরান হাদিসে কি মিছা কথা কইছে? জিনের গাওত হাত পড়ছে। নাদুকে সে সান্তনা দেয়, মন খারাপ করা কি করব্যা? জুম্মার ঘরত ভালো করা শিরনি দিও। ট্যাকাপয়সা না হয় কিছু নিও।’
    চেন্টুর মৃত্যুর পেছনে জিনের সক্রিয় ভূমিকা সম্বন্ধে জালালউদ্দিনও নিশ্চিত, মসজিদে শিরনি দেওয়ার জন্যে সে নিজেও কিছু চাঁদা দেওয়ার প্রস্তাব করে।
    আফসার গাজীর প্রভাবে আনোয়ারের জায়গা হলো বাসে ড্রাইভারের সিটের পাশেই, বাসের ভেতরটা প্রায় ভরে গেছে, তবে বাস ছাড়তে এখনো অনেক দেরি, ছাদের ওপর লোক এখনো ওঠেনি। আনোয়ারের কাছে বিদায় নিয়ে আফসার গাজী একটু দূরে দাঁড়িয়ে জালালউদিনের সঙ্গে গল্প করে।
    বাবা নাদু এগিয়ে আসে আনোয়ারের দিকে। আনোয়ার বাসে উঠতে গিয়েও ওঠে না, সেও একটু এগিয়ে যায় নাদুর কাছে।
    বাবা’ নাদু দুই সিলেবলের শব্দের পুনরাবৃত্তি করে। তার ডান হাত হঠাৎ খুব কাপে। সেই হাত তার নোংরা চাদরের ভেতর ঢুকে পড়লে আনোয়ার ভয় পায় এবং সতর্ক হয়ে একটু সরে দাঁড়ায়। নাদুর হাত দিয়ে বের হয়ে আসে কালচে ন্যাকড়া জড়ানো পুটলি। নাদুর মুঠি এমন কাপছিলো যে আনোয়ার হাত বাড়িয়ে জিনিসটা না ধরলে ওটা পড়েই যেতো। পুটলি হাতে নিয়ে আনোয়ার জিগ্যেস করে, কি?
    নাদু কাচুমাচু মুখ করে তার দিকে তাকায়, চেংটুর মা বেনবেলা করছে। খায়ো বাবা!
    কি?
    নাদুর চোখ এবার নিচের দিকে। অপরাধী স্ত্রীর পক্ষ থেকে সে কৈফিয়ৎ দিচ্ছে, চেংটুর মাও কয়টা পিঠা করছিলো। তোমাক খাবার দিচ্ছে!’
    আনোয়ারের নাকমুখ হঠাৎ নোনা পানিতে বন্ধ হবার উপক্রম হয়। কালচে নোংরা ন্যাকড়া কিংবা তার ভেতরকার পিঠার গন্ধ কিছুই পাওয়া যায় না। তার নীরবতায় ঘাবড়ে গিয়ে নাদু উসখুস করে, আপন মনে প্রলাপ বকে, চেংটু এই পিঠা খুব পছন্দ করছে। হারামজাদা মাথাগরম আছিলো তো দাখো নাই কোটে কোটে ঘুরছে একদিন বাড়িতে যায়া কয়, ও মা, আলো-চাল কোটো তো! ভাপা পিঠা করো, আনোয়ার ভায়েক পিঠা খাওয়ামু-চেংটুর মা, বুঝলা না?–মেয়ামানুষ, মনমেজাজ ভালো থাকে না। অভাবের সংসার বাপু, ঘরত ভাতের চাউলেরই অনটন, পিঠা আর বানাবার পারে না। হারামজাদা অর মায়ের কাছে খালি তোমার গপ্পো করছে বাবা! তুমি আজ ঢাকাত যাবা শুন্যা ফজরের আগে আত থাকতে উঠছে, পিঠা বানায় আর কাব্দে মেয়ামানুষ তো খালি কাব্দে। মেয়েমানুষের স্বভাবের বিবরণ দিতে গিয়ে নাদু পরামাণিকের গলা ধরে আসে খায়ো বাবা মটোরের মদ্যে অনেকক্ষণ থাকবা, খিদা নাগবো। খায়ে।’ নাদুর কথা বারবার জড়িয়ে যাচ্ছে, মনে হয় বোবা যেন কথা বলার চেষ্টা করছে।
    স্টার্ট দেওয়ার পরও বাস নড়ে না। নাদু এবার হাঁটু ভেঙে বসে পড়েছে বিশাল ডুমুর গাছের নিচে। তার পেছনে মতিলাল আগরওয়ালার পাটের গুড়ামের সামনে থেকে জালালউদ্দিন ও আফসার গাজী এগিয়ে এসে আনোয়ারের সঙ্গে কথা বলে চলে যায়। নাদুর বসে-পড়া শরীর দেখে আনোয়ার ভয় পায়, লোকটা উঠে দাঁড়িয়ে হাটতে পারবে তো? বাস চলতে থাকে ছেচড়াতে ছেচড়াতে। কাচা রাস্তায় স্পিড দেওয়া সম্ভব নয়। তবু দেখতে দেখতে নাদু পরামাণিক ও জালালউদ্দিন ও আফসার গাজী ও চন্দনদহ বাজার আড়ালে পড়ে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াবনামা – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }