Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চেনা অচেনার ভিড়ে – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প312 Mins Read0
    ⤶

    সহযাত্রী – ১০

    ।। ১০।।

    হাতের চেটোতে অসম্ভব ব্যথা হয়েছে দেবলীনার। হাঁটুটাও বোধহয় একটু ছড়েছে। তবুও হার স্বীকার করেনি ও। দিগন্তর পিছন পিছন একবারও আঃ উঃ না করেই উঠেছে ওদের লক্ষ্য পর্যন্ত। তবে নামার সময় ওর ক্লান্ত মুখটা দেখেই বোধহয় বারবার নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিচ্ছিল দিগন্ত। না, জেদ করেই দেবলীনা ধরেনি ওর হাত। হেসে বলেছে, আপনার রাই সুন্দরী রাগ করবে। আমি ম্যানেজ করে নেব। নামার সময়েই একবার পা হড়কেছিল দেবলীনার, দিগন্ত প্রায় চিৎকার করে বলেছিল, হাতটা ধরো, বলেছিলাম না, অবাধ্য হবে না। কথা শোনো দেবলীনা প্লিজ। এটা ছেলেমানুষি করার জায়গা নয়। দেবলীনা পাহাড়ের দুর্গম রাস্তা, কাছের আকাশ আর এবড়োখেবড়ো পাথরকে সাক্ষী রেখে চেপে ধরেছিল দিগন্তকে। মনে মনে বলেছিল, আর কেউ আসবে না আমার জীবনে। আজকের এই মুহূর্তটুকুকে নিয়েই বাঁচবো আমি। এটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া হয়ে থাকবে। এক হেঁচকা টানে দিগন্তর বুকের কাছে মুখ রেখেছিলো ও। ওর উষ্ণ নিঃশ্বাসের উত্তাপে নিজেকে শান্ত করেছিল দেবলীনা। মনে মনে বলেছিল, সব পাওয়ার নামই শুধু ভালোবাসা নয়, হারিয়েও পূর্ণ হওয়ার নাম ভালোবাসা। যেমন দিগন্তকে কোনোদিন নিজের করে পাবে না জেনেও ভালোবাসতে আর বাধা নেই দেবলীনার। রাই আর দিগন্ত ভালো থাক, কিন্তু ওর একতরফা ভালোবাসার অধিকার তো দিগন্ত কখনো কেড়ে নিতে পারবে না, তাই আজ থেকে দিগন্ত ওরও।

    কানের কাছে ফিসফিস করে দিগন্ত বললো, প্লিজ বি কেয়ারফুল। এখুনি একটা বিপদ ঘটে যেত। আমার হাত ধরে নামো তুমি। দেবলীনা আদুরে গলায় বলল, আমার তৃতীয় শর্তটাও তুমি মেনে নিলে তাহলে। সব প্রাপ্তির আনন্দে আত্মহারা আমি। আরেকটু থাকি এই পাথরের খাঁজে, এই সবজে ধূসর পাথরটা আমাকে অনেক কিছু দিলো যে। মৃত্যুর মুখে দাঁড় করিয়ে জীবনের মন্ত্র শেখালো, ভালোবাসা শব্দের মানে বোঝালো। আরেকটু থাকি দিগন্ত প্লিজ।

    দিগন্ত আরক্ত মুখে বললো, দেবলীনা এভাবে আমায় দুর্বল করে দিও না। আমি রাইয়ের কাছে কথা দিয়েছিলাম, ওকে ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসবো না। দেবলীনা বললো, কে বলেছে তোমায় প্রতিশ্রুতি ভাঙতে? কিন্তু তোমার আর তোমার রাইয়ের কোনো ক্ষমতাই নেই আমার কাছ থেকে এই অধিকারটাও ছিনিয়ে নেবে!

    দিগন্ত খুব সাবধানে হাতটা ধরে ধরে ওকে নামিয়েছিল। দেবলীনা বুঝেছিলো, এই অনুভূতিকেই বলে সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েও পরিপূর্ণ হওয়া। দেবলীনা আজ পরিপূর্ণ। সৃজনের সাথে ব্রেকআপের দুঃখ নেই, দিগন্তকে নিজের করে পাওয়ার আগ্রাসী বাসনা নেই, তবুও ওর সব আছে। ভালোবাসা শব্দের ম্যাজিক্যাল উপলব্ধি আছে ওর মনের গোপন কুঠুরিতে। নীল আকাশ আর অহংকারী পাহাড়কে সাক্ষী রেখেই ও প্রতিজ্ঞা করলো, তুমি ছাড়া এই হাত আর কেউ ছোঁবে না দিগন্ত। এই মনের দরজায় আর কাউকে প্রবেশ করতে দেব না আমি। নিজের ঘরে বসে সকালের অভিজ্ঞতার কথা ভাবছিলো দেবলীনা। শরীরে অসহ্য ব্যথা সত্ত্বেও ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা। দরজায় নক করছে কেউ। উঠে দরজাটা খুলতেই একটা ওষুধ হাতে দিয়ে দিগন্ত বললো, খেয়ে নিও, ব্যথা থাকলে কমে যাবে। তোমার ফেরার টিকিট যেন কবে?

    দেবলীনা জোরে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বললো, তোমার একদিন আগেই। আর মাত্র কালকের দিনটা জ্বালাবো তোমায়। তারপর হারিয়ে যাব তিলোত্তমার জন সমুদ্রে। তবে তুমি নিমন্ত্রণ না করলেও, তোমার আর রাইয়ের সাথে দেখা করতে আমি ঠিক একদিন পৌঁছে যাবো তোমাদের বাড়ি। এই দিগন্ত, তোমাদের বাড়ির অ্যাড্রেসটা দিলে না তো? আর রাইয়ের নম্বরটাও দাও, তার কাছেও আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ, অন্তত একবার ফোন করে থ্যাংকস জানাতে চাই।

    দিগন্ত দীর্ঘশ্বাসটা গোপন না করেই বললো, আমাদের পরিচয়টা বোধহয় এখানেই শেষ হলে ভালো হয়।

    দেবলীনা আবার আদুরে ঢঙে বললো, বিশ্বাস করতে পারছো না আমায়, তাই তো? ভাবছো নিজের স্বার্থের জন্য ভেঙে দেব তোমাদের জন্মমুহূর্ত থেকে তৈরি হওয়া সম্পর্কটাকে! আরে না দিগন্ত, আমি বেঁচে থাকতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না।

    দিগন্ত বললো, বেশ নোট করে নাও তবে। কিন্তু ফোন না করলেই আমি খুশি হবো। রাই বড্ড অবুঝ, শেষে ভুল না বুঝে বসে। তবে তোমাকে অবিশ্বাস করিনা বোঝাতেই দিলাম নম্বরটা। আমার বাড়ির অ্যাড্রেস তো আগেই বলেছি, সুযোগ হলে এসো একদিন।

    দেবলীনা বললো, দেখো জানালা দিয়ে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, পাহাড়ের গায়ে গায়ে কেউ খেলনা বাড়ি দিয়ে ঝুলন সাজিয়ে রেখেছে। আর ঝুলনের বাড়িগুলোতে এখন একটা করে প্রদীপ জ্বলছে। আচ্ছা দিগন্ত, ঝুলন শেষ হলে আমরাও তো যে যার নিজের নিজের খেলনা গুছিয়ে বাড়ি ফিরতাম। ভেঙে যেত সাজানো শহরটা। পড়ে থাকতো কাঠের গুঁড়ো, বালি, ঘাসের চাঁই। কিন্তু কতটা জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছিল ঝুলনের শহর সেটা বেশ বোঝা যেত। একটা দাগ থেকেই যেত তাই না!

    যতদিন না বৃষ্টি হতো ততদিন রয়ে যেত ঝুলন সাজানোর চিহ্ন। ধরো কোনোদিনও নামলো না বৃষ্টি, তাহলে তো ওই দাগ রয়েই যাবে, তাই না? আমি যদি রাবাংলার এই স্মৃতিটুকুকে আঁকড়ে ধরে রাখি, যদি ধুয়ে যেতে না দিই চোখের নোনতা জলে, তাহলেও কি তোমার আপত্তি থাকবে? থাকলেও আমি অপারগ দিগন্ত। বিশ্বাস করো, আমি নিরুপায়।

    দিগন্ত চলে যেতে যেতে থমকে দাঁড়িয়ে বললো, ভালো থেকো দেবলীনা। হয়তো দেখা হবে না আর কোনোদিন, তবু তুমিও থাকবে ঝুলন শেষ হওয়া ভাঙা চিহ্নের মধ্যে।

    দিগন্তর চোখ দুটো ছলছল করছে, সেদিকে অপলক তাকিয়ে আছে লীনা। প্রাপ্তি, এই তো ওর প্রাপ্তি। দিগন্তর চোখের কোণে জমে থাকা ওই বিন্দুমাত্র বাষ্পটা অন্তত রাইয়ের জন্য নয়, ও নিশ্চিত ওই বাষ্পটুকু শুধুই ওর, একান্তভাবেই ওর।

    পরের দিন ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই দিগন্তকে আর দেখতে পেল না দেবলীনা। রিসেপশনে বললো, খুব ভোরে উঠে গাড়ি চেয়েছিলেন উনি। তারপর বেরিয়ে গেছেন বোরং-এর দিকেই। দেবলীনা নিজের মনেই হেসে বললো, সেকি দিগন্ত, শেষ পর্যন্ত পালাতে হলো তোমাকে আমার কাছ থেকে! পাছে দুর্বলতা প্রকাশ করে ফেল, পাছে অপমান করে ফেল তোমার রাইয়ের ভালোবাসাকে। মনে মনে শ্রদ্ধায় মাথা নত করলো দেবলীনা। রাইয়ের প্রতি এতটা গভীর ভালোবাসা দেখে সত্যিই দিগন্তর প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে গেলো ওর। যাক এতদিন পরে অন্তত এমন একটা মানুষের সান্নিধ্য পেল, যাকে সর্বস্ব উজাড় করে ভালোবাসা যায়, অন্তত অপাত্রে দান করা হবে না। দুহাত ভরে ওর অনুভূতিদের আপন করে না নিক দিগন্ত, ওর তো দিতে কোনো বাধা নেই। বন্ধ থাকুক দিগন্তর মুঠো, পড়ে যাক অনামি রাস্তার ধারে, তবুও দেবলীনার দিয়েই শান্তি।

    বেশ সন্ধে করে হোটেলে ফিরল দিগন্ত। এসেই হালকা গলায় বলল, তোমার প্যাকিং কমপ্লিট?

    দেবলীনা একটা শ্বেত পাথরের বুদ্ধমূর্তি ওর হাতে দিয়ে বললো, একটা ছোট্ট গিফট তোমাদের দুজনের জন্য। আমি কাল ভোরেই বেরোবো দিগন্ত, হয়তো তোমার সাথে দেখা হবে না। একটাই অনুরোধ করবো, আমায় মনে রেখো না। গুড নাইট দিগন্ত।

    বুদ্ধ মূর্তিটা হাতে নিয়ে চলে গেল দিগন্ত। দেবলীনা ঝাপসা চোখে তাকিয়ে ওর চলে যাওয়ার মুহূর্তটুকুকে দেখছিলো। মনে হচ্ছিল, একটা দ্রুতগামী ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলে গেল। দেবলীনার ধরার কথা ছিল ট্রেনটা, কিন্তু অনেক দৌড়েও ধরতে পারলো না। চুপচাপ কাঠের চেয়ারে বসে ট্রেনের ঝমঝম আওয়াজটা শুনলো, আর চলে যাওয়া দেখলো।

    ।। ১১।।

    দিগন্ত আশা করেছিল, দেবলীনা যাওয়ার সময় দেখা করে যাবে। কিন্তু রিসেপশনের মেয়েটি জানালো, ম্যাডাম তো ঘন্টাখানেক আগেই বেরিয়ে গেছেন। আপনাদের দুজনের খাওয়া-দাওয়ার সব বিল পেমেন্ট করলেন, তারপর গেলেন। ওহ, আপনার জন্য এই মেসেজটা রেখে গেছেন উনি। দিগন্ত হাত বাড়িয়ে নিলো ছোট্ট চিরকুটটা। আজ আকাশ একেবারে ঝকঝক করছে, ব্যালকনি থেকেই দেখা যাচ্ছে সকলের থেকে নিজেকে স্বতন্ত্র করে রাখা বরফ ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। দেবলীনা বলেছিল, যেদিন আকাশ খুব ক্লিয়ার থাকবে, সেদিন তুমি আর আমি সামনে ধোঁয়া ওঠা কফি নিয়ে বসে দেখবো মহারানী কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। দেবলীনার ইচ্ছেপূরণ করতে পারলো না দিগন্ত। গতকালও আকাশ ক্লিয়ার ছিল। কিন্তু ওর থেকে পালাতে হবে ভেবেই ভোর ভোর গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল বোরং-এর পথে। দিগন্ত বুঝেছিলো, চোখের আড়াল হলেও মনের আড়াল করা অনেক সময় সম্ভব হয়না। তাই ওই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামের সীমান্তে বসে বসেও ও ভাবছিলো দেবলীনারই কথা। নিজের দৃষ্টিপথকে স্বচ্ছ করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও দেবলীনার চোখের গভীর চাউনিটা বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো দিগন্তর সামনে। অনেক চেষ্টা করেও রাইকে বসাতে পারছিল না চোখের সামনে। কেন যে সব এলোমেলো হয়ে যায়! কেন যে আবার ভালোবাসা নামক মোহময়ী শব্দ জালে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে ও কে জানে! নিজের মনকে শক্ত করে ভেবেছিল দিগন্ত, কথাতেই আছে আউট অফ সাইড আউট অফ মাইন্ড। দেবলীনা তো কালকেই ফিরে যাবে কলকাতা, তারপর আর কোনো যোগাযোগই থাকবে না ওর সাথে। তখন তো ওর জীবনে চাকরি, ক্লাবের বন্ধুরা আর ওর রাই। এই কয়েক ঘন্টার দুর্বলতাকে জয় করতে পারলেই জিতে যাবে দিগন্ত। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হবে না রাইয়ের কাছে। অবশেষে চারদিনের ট্রিপ কাটিয়ে ফিরে গেছে দেবলীনা। ও এখন সম্পূর্ণ মুক্ত। ভয়ে ভয়ে তাকালো দেবলীনার রুমটার দিকে, মনে হলো যেন এখুনি ঘুম চোখে বেরিয়ে এসে বলবে, দিগন্ত, তুমি একা একা কফি খেয়ে নিলে? কি হিংসুটে তুমি! দাঁড়াও নালিশ করবো তোমার পুচু সোনার কাছে। নয়তো আব্দারের গলায় বলে বসবে, আজ ভেবেছি মাথায় পাহাড়ি ফুল গুঁজে ছবি তুলবো। তুলে দেবে ছবিটা?

    কতরকমের বায়না যে করছিল এই কটা দিনে তার হিসেব নেই। ভীষণ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে দিগন্তর। দেবলীনার রেখে যাওয়া ছোট্ট চিরকুটটা খুললো দিগন্ত।

    দিগন্ত,

    চললাম, খুব ইচ্ছে করছিল যাওয়ার সময় তোমার ঘুমন্ত মুখটা একবার অন্তত দেখে যাই। আর হয়তো দেখা হবে না আমাদের কোনোদিন। না হলেও ক্ষতি নেই, নিরস, কঠোর পাহাড় আমায় যা দিয়েছে তার ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবো না। কখনো কখনো আমরা মোহ, ভালোলাগা এগুলোর সমার্থক শব্দ হিসাবে ভালোবাসা শব্দটাকে বসিয়ে ফেলি। বহুদিন পরে আবিষ্কার করি, ওটা আসলে ভালোবাসা ছিলই না। তুমিই একমাত্র মানুষ যে আমাকে ভালোবাসা শব্দের সঠিক অর্থ বুঝতে সাহায্য করেছ। আমি কৃতজ্ঞ তোমার কাছে। ভালো থেকো দিগন্ত তোমার রাই সুন্দরীকে নিয়ে। না, তোমাদের বিয়েতে আমায় নিমন্ত্রণ করো না। আমি জানি ভালোবাসা বড্ড হিংসুটে হয়। তোমাকে স্বচক্ষে অন্যের হতে দেখার থেকে মৃত্যু শ্রেয়। আমার পরিচয় তোমার কাছে শুধুই সহযাত্রী হয়ে থাকুক।

    স্যার, এনি প্রবলেম? আপনার গাড়ি রেডি, বেরোবেন বলেছিলেন।

    দিগন্ত অপ্রস্তুত হাতে নিজের ভিজে যাওয়া গাল দুটো মুছে নিলো। ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলল, আজ আর বেরোবো না। কাল একেবারে ট্রেন ধরতে যাবো।

    ছেলেটি কি বুঝলো কে জানে, তবে চুপচাপ চলে গেল। দেবলীনার ঘরটাতে বোধহয় নতুন বোর্ডার আসবে। ঘরটা ওয়াশ করার জন্য দুটো ছেলে মেয়ে ঢুকতে যাচ্ছিল ঘরটাতে, ওদের দরজার কাছে থামিয়ে দিয়ে দিগন্ত বললো, তোমরা মিনিট দশেক পরে এস।

    ঘরে ঢুকে বিছানার দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারলো দিগন্ত দেবলীনা কাল সারারাত ঘুমায় নি। নিভাঁজ বিছানা, বালিশই তার প্রমাণ বহন করছে। জানালার ধারে একটা চেয়ার রাখা। বোধহয় রাতটা ওই চেয়ারে বসেই কাটিয়েছে মেয়েটা। হয়তো নির্ঘুম রাতের প্রতিটা প্রহর গুণছে বসে বসে। অপেক্ষা করছিল কি অন্ধকার কেটে গিয়ে সূর্য ওঠার! এই পাঁচদিনে কোথা দিয়ে যে কি হয়ে গেল ওরা নিজেরাও বুঝতে পারলো না। তবে দিগন্ত যত চেষ্টাই করুক দেবলীনার চোখে ওর দুর্বলতা ধরা পড়ে গেছেই। দেবলীনার বসা চেয়ারেটাতে মিনিট দুয়েক বসলো দিগন্ত। বেতের চেয়ারে আটকে আছে দেবলীনার মাথার লম্বা একটা চুল। টুকরো স্মৃতির মতই ওটাও রয়ে গেছে দিগন্তর জন্যই। ড্রেসিং টেবিলে দুটো সেফটিপিন, একটা কালো টিপের পাতা। ওই পাতাটা থেকেই দুই ভ্রূর মাঝে টিপ পরছিল দেবলীনা। তিনটে টিপ ব্যবহার হয়েছে দেখা যাচ্ছে। নেহাতই অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আনমনে নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নিলো ও। বেরিয়ে এলো হালকা পায়ে। আজ আর ঘুরতে বেরোতে ইচ্ছে করছে না। একা একা ঠিক করে পৌঁছাতে পারবে তো মেয়েটা। একটা ফোন করে জানবে কি ট্রেন ছাড়ল কিনা!

    ধুর, ও কেন এত চিন্তা করছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক, শিক্ষিতা, চাকুরীরতা মেয়ে এন জি পি থেকে কলকাতা যাবে বাই ট্রেন, তাতে এত ভাবার কি আছে? ফোন করলেই দেবলীনা বুঝতে পারবে দিগন্ত মিস করছে ওকে। কিছুতেই না, এটা ওকে বুঝতে দেওয়া যাবে না।

    সারাটা দিন দূরের পাহাড়ের হাতছানির দিকে তাকিয়ে আর গান শুনে কাটিয়ে দিলো দিগন্ত। আনমনে মাঝে মাঝে হেসে উঠছিল ও। দেবলীনার কিছু ছেলেমানুষি মনে পড়ে যাচ্ছিল। দিগন্ত বলেছিল, আপনাকে স্টুডেন্টরা ভয় পায় বলছেন? আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে। বরং মনে হচ্ছে ইলেভেন টুয়েলভের ছেলেরা আপনাকে প্রোপোজ করে বসবে কোনোদিন। যা দিনকাল আসছে!

    দেবলীনা রাগী রাগী গলায় বলেছিল, মোটেই না, আমি আপনার সাথে যেমন ফাজলামি করছি, স্কুলেতে সেটা কখনই করি না। তাই ছাত্ররা আমায় ভীষণ ভয় করে। এই দেখুন, আমি এরকম করে চোখ বড় বড় করলেই ওরা ভয় পেয়ে যায়। দিগন্ত দেখেছিলো, দেবলীনা সত্যিই চোখগুলোকে গোল গোল করে বড় করে রয়েছে। মুচকি হেসে ও বলেছিল, ওরে বাবা, আমিও ভয় পেয়ে গেলাম। দেখি একটু ওয়াশরুম থেকে ঘুরে আসি।

    মেয়েটার পাগলামিতে সাথ দিতে মন্দ লাগছিলো না দিগন্তর। একাকীত্ব শব্দটা যে ভয়ঙ্কর একা সেটা দিগন্তও বোঝে। এই কদিন দেবলীনা সঙ্গে থাকায় একাকীত্বের উৎপাত সহ্য করতে হয়নি ওকে।

    যত সময় যাচ্ছিল দিগন্তর টেনশন তত বাড়ছিল। ওর হোয়াটসআপ চেক করে দেখলো, লাস্ট সিন দেখাচ্ছে গতকাল রাত দুটো। তারপর আর অন হয়নি মেয়েটা। ফোন নিয়ে খুটখাট করার অভ্যাস তো ভালোই আছে দেবলীনার। দিগন্তর অবশ্য এসব ফেসবুক টেসবুক মোটেই ভালোলাগে না। তবে দেবলীনা ছবি তুলেই পোস্ট করছিল ফেসবুকে। ওর অ্যাকাউন্টে এই প্রথম উঁকি দিলো দিগন্ত। রঙ্গীত নদীর তীরে সেদিন দিগন্তকে দিয়ে একটা ছবি তুলিয়েছিলো ও। সেটাই প্রোফাইল পিকচার করেছে। নীচে ছবি তোলার সৌজন্যে বলে লিখেছে—”আমায় আবার হাসতে শেখাল যে”। সৃজন চৌধুরীর কমেন্টও চোখে পড়লো দিগন্তর। ”লুকিং নাইস” বলে কমেন্ট করেছে। দেখেই অসহ্য রাগে ফেটে পড়তে ইচ্ছে হলো ওর। ব্রেকআপ হয়ে গেছে দেবলীনার সাথে, তারপরেও আবার ন্যাকামি কিসের? দেবলীনাই বা ছেলেটাকে এখনো ব্লক করে নি কেন? বিরক্ত লাগছিল ওর। মাথার মধ্যে জমা রাগটাকে নিয়েই কল করে বসলো দেবলীনাকে।

    বার দুয়েক রিং হওয়ার পরে রিসিভও করলো ফোনটা। দেবলীনাকে হ্যালো বলার সুযোগটুকু না দিয়েই দিগন্ত বললো, মিনিমাম ভদ্রতাটুকু আশা করা বোধহয় অন্যায় হয়েছে আপনার কাছ থেকে। চারদিন পাশাপাশি থাকার পরেও যাওয়ার আগে সৌজন্যবোধেও বাঁধলো না, দেখা না করেই চলে গেলেন। ট্রেনে উঠেও একটা কল করার প্রয়োজন অনুভব করলেন না। অদ্ভুত মানুষ বটে! কলকাতা ফিরে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়োটা একটু বেশিই মনে হচ্ছে আপনার! সৃজন চৌধুরীর কমেন্ট দেখেই বোধহয় উতলা হয়ে উঠেছেন। খুব ভালো, ব্রেকআপের পর প্রাক্তন ফিরে এলে ভালোবাসা দ্বিগুণ হয় শুনেছি। যাইহোক, সহযাত্রী হিসাবে একটু বেশিই চেয়ে ফেলেছিলাম বোধহয়। ফোন না করে আমার জায়গাটা বুঝিয়ে দিলেন। হ্যাপি এন্ড সেফ জার্নি। একবারও দম না নিয়েই ঝড়ের গতিতে কথাগুলো বলে দিল দিগন্ত। তবুও মাথার ডান দিকে দেবলীনার ছবিতে সৃজন চৌধুরীর কমেন্ট করার রাগটা এখনো দপদপ করছিল।

    দেবলীনা শান্ত নিরুদ্বেগ গলায় বলল, হ্যাঁ ফোন করেছিল সৃজন। সে নাকি আমাকে মিস করছে, তবে এই মুহূর্তে রাকার সাথে এতটা জড়িয়ে গেছে, যে রাকার কাছ থেকে নিজেকে বের করতে নাকি একটু সময় দিতে হবে ওকে।

    আমার বেশ মজা লাগছিল ওর সাথে কথা বলতে। যখনই বুঝলো আমি সৃজন চৌধুরীকে ছাড়াও হাসছি, তখনই মিস করার পরিমাণ বেড়ে গেলো। তবে কি বলতো দিগন্ত, এখন সৃজন কেন, স্বয়ং ভগবানও যদি নেমে এসে বলেন, দেবলীনা আমি তোমায় ভালোবাসতে চাই, তাহলে আমি তার প্রোপোজালও ফিরিয়ে দেব। বললাম না, ভালোবাসা শব্দের অর্থ আমার কাছে এখন রঙ্গীত নদীর জলের মতো স্বচ্ছ। তাই বারবার মোহকে ভালোবাসার প্রতিশব্দ ভেবে ভুল করবো না।

    দিগন্ত আমি তোমাকে এই কদিনে সত্যিই ভীষণ বিরক্ত করেছি, অস্বস্তিতে ফেলেছি, রাই তোমার জীবনে আছে জেনেও তোমার দিকে হাত বাড়িয়েছি। জানি, তুমি বারবার পালাতে চেয়েছ আমার কাছে থেকে। তবুও আমি উত্যক্ত করে গেছি, তাই ভাবলাম আজ তোমায় ফ্রি ভাবে এনজয় করার সুযোগটুকু অন্তত দিই।

    দিগন্ত কি বলবে খুঁজে না পেয়ে আচমকা বলে বসলো, সবই যে আপনি বুঝে বসে থাকবেন এমন তো নয়। ওই উত্যক্ত করাটাকেই যে আজ মিস করছি আমি, সেটা তো আর কাউকে বলার নেই। যাকগে সাবধানে পৌঁছাবেন। কেউ কিছু ট্রেনে দিলে খেয়ে নেবেন না।

    দেবলীনা হেসে বললো, প্যারাসিটামল দিলেও খাবো না তাই তো?

    একটু উদ্বিগ্ন হয়ে দিগন্ত বললো, আজও কি জ্বরটা এসেছে নাকি?

    দেবলীনা বলল, না আর জ্বর আসেনি। এনজয় ইয়োর লাস্ট ডে ইন রা-বাংলা। আরেকটা কথা, এই যে আবার আপনিতে ফিরে গেলে এটাতেই বুঝিয়ে দিলে, কিছু দূরত্ব কোনোদিন ঘোঁচে না।

    ফোনটা কেটে দিলো দেবলীনা। ও নিজেও বুঝছে দিগন্ত হয়তো একটু হলেও দুর্বল হয়ে পড়েছে ওর প্রতি। কিন্তু এই সুযোগটা দেবলীনা কিছুতেই নিতে পারবে না। সারাজীবন রাইয়ের চোখে ছোট হয়ে যাবে ও। হয়তো দিগন্তও কিছুদিন পরে আফসোস করবে নিজের এই সাময়িক ভুলের জন্য। কারণ দেবলীনা বেশ বুঝেছে, দিগন্ত শুধুই রাইকে ভালোবাসে। দেবলীনার খুব ইচ্ছে একবার অন্তত রাইয়ের গলাটা শোনার। দিগন্ত বারবার রাইকে কল করার জন্য আড়ালে সরে যাচ্ছিল, তখন থেকেই ইচ্ছেটা দানা বেঁধেছে ওর। কলকাতা ফিরে একবার অন্তত মিস কলেও শুনবে ওর গলাটা।

    ।। ১২।।

    অফিস জয়েন করেছে দিগন্ত। দু একজন কলিগ এসে বলে গেল, কি ব্যাপার, ঘুরে বেরিয়ে এলে, চাঙ্গা লাগার কথা তো, এত মনমরা কেন লাগছে? কাল রাতে মাও একই কথা বললো, দিগন্ত, তোর কি হয়েছে রে? মনখারাপ? আয়নায় সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেছে দিগন্ত। কিসের মনখারাপ? কার জন্য মনখারাপ? সহযাত্রী বৈ তো নয়। তাহলে কেন বারবার দেবলীনা উঁকি দিচ্ছে ওর মনের গোপন কোণে। জোর করে হাসার চেষ্টা করে বললো, কি যে বলো সাগ্নিকদা, বিন্দাস আছি।

    গলার স্বরটাই নিজের কাছে অপরিচিত ঠেকলো যেন। ওর গলার স্বরে আনন্দের রেশ মাত্র নেই, যেন এক মুঠো কান্না ঝরে পড়লো। ধুর, রা-বাংলা থেকে ফিরেছে দিন তিনেক হলো, এখনো মনখারাপি বাতাসটা ওর চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেবলীনা আর কল করেনি, জানায়নি পৌঁছানোর খবরটাও। ও নিজেও আর কল করেনি। ভুলে যাওয়াই ভাল। রাইকে বুদ্ধ মূর্তিটা দিয়ে বলেছে, আমার এক সহযাত্রী গিফট করেছে তোমায়।

    নামটা কেন বলতে পারল না রাইয়ের কাছে! তবে কি চোরা পাপবোধই দেবলীনা নামটা উচ্চারণ করতে বাধা দিল ওকে! কাজকর্ম গুছিয়ে একরাশ মনখারাপ নিয়ে সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরল দিগন্ত। ক্লাবে যেতে ইচ্ছে করছিল না। বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে নয় বরং একা থাকতে বড্ড ইচ্ছে করছে ওর। বাড়িতে ঢুকতেই মা বললো, তোর বন্ধু এসেছে, তোর ঘরে ওয়েট করছে।

    বন্ধু বলতে সুজয় হবে বোধহয়। ক্লাবে দুদিন না দেখে খোঁজ নিতে এসেছে হয়তো। কিন্তু ঘরে ঢুকেই চমকে গেল দিগন্ত। দেবলীনা দাঁড়িয়ে আছে ওর কাঁচের শো কেসের সামনে। ঘন অন্ধকার রঙের একটা শাড়ি পরেছে, সঙ্গে লালচে ব্লাউজ। ঘাড়ের কাছে একটা ব্যাক ক্লিপ ধরে রেখেছে ওর অবাধ্য চুলের গোছা। একমনে তাকিয়ে আছে ছবিটার দিকে। ওর আর রাইয়ের একই দিনে জন্মদিনের ছবি ওটা। একটাই কেক কেটেছিল সেবার।

    দিগন্তর পায়ের শব্দ শুনে ঘুরে দাঁড়ালো দেবলীনা। চোখের দৃষ্টিতে তীক্ষ্নতা। যেন এক্সরে মেশিন দিয়ে পড়ে নেবে ওর মনের ভিতরে অলিগলির গোপন কথা।

    দিগন্ত নিজেকে সামলে নিয়ে হালকা গলায় বলল, কি ব্যাপার, খবরাখবর না দিয়ে একেবারে বেডরুমে দিদিমণিকে দেখলে একটুও ভয় করবে না এমন বিচ্চু ছেলে আমি কোনোদিনই ছিলাম না। দেবলীনা ওর কথায় না হেসে সোজাসুজি প্রশ্ন করলো, রাই কোথায়? একবার তাকে এ বাড়িতে ডাকা যাবে? তার সাথে আলাপ করার বড্ড ইচ্ছে হলো। তাই বিনানোটিশে হানা দিলাম। একটু থতমত খেয়ে দিগন্ত বললো, কি মুশকিল রাই কি এ বাড়িতে সব সময় থাকে নাকি! সে এখন গানের ক্লাসে গেছে না অন্য কোথাও, আমি তো জানি না। দেবলীনা নিজের ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বললো, এই যে রাইয়ের নম্বর, একটা কল করুন না প্লিজ।

    দিগন্ত থমকে গিয়ে বলল, কেন হঠাৎ ওকে কেন ডাকতে চাইছেন?

    দেবলীনা কাটা কাটা তীক্ষ্ন স্বরে বললো, কারণ আপনি তাকে চব্বিশ ঘন্টা ডেকে চলেছেন তো তাই! আরেকবার ডাকুন আমার অনুরোধে প্লিজ।

    সামনের চেয়ারে ধপ করে বসে পড়লো দিগন্ত। দুটো হাত দিয়ে নিজের মুখটা ঢেকে কেঁদে ফেললো ফুঁপিয়ে।

    দেবলীনা থামানোর চেষ্টা করলো না। সুযোগ দিলো বুকের মধ্যে পাথরের মত জমে থাকা বরফগুলোকে গলে যেতে। কষ্টগুলো একটু নরম হোক, বড্ড কঠিন হয়ে বসে আছে দিগন্তর হৃদয়ে। একটা ভ্রান্ত স্বপ্নের মধ্যে বাস করে দিগন্ত, এখনো বেঁচে আছে একটা ঘোরের মধ্যে। এর থেকে ওকে বের করতেই হবে দেবলীনাকে। এভাবে শেষ হয়ে যেতে দিতে পারে না ও দিগন্তকে।

    ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতেই দিগন্ত বললো, আমি বিশ্বাস করি রাই আছে। না ও মারা যায়নি। ওর অস্তিত্ব আজও আছে। দেখো ওই ছবিটা, রাই হাসছে। দেখো, ওটাতে ও বায়না করছে বেলুন কিনে দিতে হবে বলে। রাই আমার সাথেই আছে।

    দেবলীনা বললো, রাই মারা গেছে দিগন্ত। অ্যাকসিডেন্টটা তো অস্বীকার করতে পারো না! গত দুবছর ধরে রাইয়ের নম্বরে তুমি রিচার্জ করে চলেছ। ওই নম্বরে অকারণে ফোন করে ভুলভাল বকো তুমি। ওই তো ফোনটা পড়ে আছে তোমার ডেস্কে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছ তুমি দিগন্ত। তোমার মা বললেন, রাই নাকি সেবার ওর বন্ধুদের সাথে পাহাড়ে যাচ্ছিল, গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে তিনজন স্পট ডেড হয়েছিল, তার মধ্যে রাই বিশ্বাস একজন। তুমিই তো ডুয়ার্সএ গিয়ে ওর বডি সনাক্ত করেছিলে। ওর ফোনটাও বোধহয় তুমিই এনেছিলে ওখান থেকে। দিনে অন্তত বার চারেক বাজে ওই নম্বরটা। সেটা তোমার নম্বর নিশ্চিত জানে বলে কেউ রিসিভও করে না। আমি গতকাল ফোন করেছিলাম রাইয়ের সাথে কথা বলবো বলে। ফোন বেজেই গেল। বার চারেক ফুল রিং হবার পরে একজন মহিলা কন্ঠ ধরে বললেন, কে বলছেন? আমি বললাম, রাই আছে? তিনি একটু থমকে গিয়ে বললেন, রাই? আপনি কে?

    আমি বলেছিলাম, ওর বান্ধবী। সেই শুনে তিনি বললেন, আপনি কেমন বান্ধবী, যে দুবছর আগে রাই মারা গেছে জেনেও তার নম্বরে কল করছেন? তারপর আমি স্তব্ধ হয়ে ফোনটা কেটে দিয়েছিলাম। আজ তোমাদের বাড়িতে এসে সবটা শুনলাম। তুমি না আমায় বাঁচার কথা বললে, স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে নয়, মুহূর্তকে ভালোবেসে বাঁচতে শেখালে। সেই তুমিই আজ দুবছর ধরে রাইয়ের স্মৃতি অঁকড়ে এভাবে ধূসর অতীতের পিছনে ছুটছ!

    দিগন্ত ঘাড় নেড়ে বললো, আমি রাইকে কথা দিয়েছিলাম, ওকে ছাড়া আর কাউকে আসতে দেব না জীবনে। প্রতিদিন নিয়ম করে চারবার ওকে ফোন করতেই হতো। তাই সেই নিয়ম আজও বজায় রেখেছি। দেবলীনা বললো, দিগন্ত তুমি ফোন কানে নিয়ে কেন ওসব মিথ্যে বলে চলছিলে আমার সামনে? দিগন্ত ফুঁপিয়ে উঠে বললো, কারণ তোমায় দেখেই আমার ভাল লেগে গিয়েছিল। তাই নিজেকে সতর্ক করার জন্য রাইকে ভুয়ো ফোন করছিলাম। আমি যে কথা দিয়েছিলাম রাইকে।

    দেবলীনা দিগন্তর পিঠে একটা হাত রেখে বললো, কিন্তু রাই যে আর নেই। এটা তোমাকে মেনে নিতে হবে দিগন্ত।

    তুমি তো ধীরে ধীরে মানসিক রোগী হয়ে যাবে। যে নেই তাকে শ্রদ্ধা করা যায়, কিন্তু তাকে নিয়ে জীবন কাটানো যায় না দিগন্ত।

    চোখের জলটা মুছে দিগন্ত বললো, চলে যাও তুমি। চলে যাও দেবলীনা। যেদিন থেকে তোমাকে দেখেছি, আমার সব হিসেব নিকেশ এলোমেলো হয়ে গেছে। কি জানতে এসেছো তুমি, তোমায় আমি ভালোবাসি কিনা? না বাসি না ভালো। এই কদিনে একবারও মনে পড়েনি তোমায়। প্লিজ লিভ মি। চলে যাও এখান থেকে।

    দেবলীনা দিগন্তর মাথার ঘন চুলে আঙুল ডুবিয়ে বললো, আমি তোমার সহযাত্রী হিসাবে এসেছিলাম আজ। ভালোবাসা ভিক্ষে করতে নয় দিগন্ত। আমি চললাম, নিজেকে ভালোবেসে ভালো থাকার চেষ্টা করো তুমি। অতীতটাকে একটু একটু করে দূরে সরানোর চেষ্টা করো।

    দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে দেবলীনা। ওর ঘন অন্ধকার শাড়ির আঁচলটা পার হয়ে চলে যাচ্ছে দিগন্তর ঘরের চৌকাঠ। আর স্থির থাকতে পারলো না দিগন্ত, উঠে গিয়ে চেপে ধরলো দেবলীনার একটা হাত। আমাকে আর একা করে দিও না দেবলীনা। একাকীত্বের যন্ত্রণা সহ্য করার সব ক্ষমতা আমি হারিয়ে ফেলেছি।

    দেবলীনা বললো, আমার দুটো শর্ত আছে। আমাকেও দিনে চারবার ফোন করতে হবে। আর রেগে গেলেই আচমকা আপনি বলে সম্বোধন করতে হবে, ফেরার দিনে ট্রেনের ফোনটার মত। দিগন্ত লজ্জা পেয়ে বললো, সরি, তোমার ছবিতে সৃজনের কমেন্ট দেখে রেগে গিয়েছিলাম। দেবলীনা দুহাত দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে বলল, বারবার অমন রেগে যাবে প্লিজ। রাইয়ের মত আমিও কিন্তু খুব হিংসুটে। দিগন্ত, আমার আরেকটা শর্ত আছে। রাইয়ের ছবিগুলো ওখানেই থাক। ও আমাদের দুজনেরই বন্ধু আজ থেকে। দিগন্ত দেবলীনার কানের কাছে মুখটা নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বললো,

    ‘আমি যে নিজেই মত্ত
    জানি না তোমার শর্ত
    যদি বা ঘটে অনর্থ
    তবুও তোমারে চাই।’

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার
    Next Article খেলাঘরের ডাকে – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }