Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প119 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. সবুজ মাঠে গোষ্ঠের বুকখানা জুড়াইয়া যায়

    সবুজ মাঠে গোষ্ঠের বুকখানা জুড়াইয়া যায়; সে ভাবে, আশা বোধহয় সবুজবরনী। হালে পোঁতা তরকারির বীজের চারার কাছে বসিয়া আঙুলের ডগা দিয়া সন্তৰ্পণে মাটি সরায়, একটি প্যাঙাশে নরম অঙ্কুরের প্রত্যাশায়।

    তরুণী নারী যেমন ভাবী সন্তানের স্বপ্ন দেখে।

    অঙ্কুর ওঠে নাই, মরা মন লইয়া বেচারি উঠিয়া দাঁড়ায়, একটা দীর্ঘশ্বাসও পড়ে; আপন মনেই বলে, মোটে তো আজ তিন দিন, আর দু-তিন দিনে বেরুতেই হবে। আর ও কটা যদি নাই হয়, তাই বা কি, ধানেই এবার ছয়লাপ।

    আল-পথের পরে দাঁড়াইয়া ধানী জমির পানে তাকায়, চোখ যেন জুড়াইয়া যায়, সে বলে, বলিহারি, কি রং মাইরি, কালো, আঁধার, যেন আষিঢ়ে মেঘ নেমেছে জমিতে।

    সে মনের আনন্দে গান ধরে, ও কালো কালিন্দী-কূলে দেখ সখি কালো মেঘ নেমেছে। ওদিকের রাস্তা হইতে কে হকে, গোষ্ঠ! গোষ্ঠ।

    ও গায়ের সতীশ সরকার, জেলার সদরে থাকে, পাঁচজনের মামলার তদ্বির করে; বেঁটেখাটো চেহারা, পেটটা মোটা, কবিরাজ বলে—সঁচসের পিলে ওটা। সতীশ তবু ওষুধ খায় না। বলে, কচু জান তুমি, ও আমার বুদ্ধির গেঁড়ো, ওরই জোরে করে খাই বাবা।

    লোকে বলে, ও একরকম পুঁড়ি, বদহজমের কুঁড়ি, বেটার টাকা হজম হয় না, তাই খুঁড়িটা। অমনই।

    গোষ্ঠ অগ্রসর হইয়া প্ৰণাম করিয়া কহে, সরকার মশায়, তা সব কুশল তো?

    সরকার কুশলের ধার দিয়া যায় না, সোজাসুজি কাজের কথা পাড়ে, মামলাকে এত ভয় করলে চলবে কেন গোষ্ঠী

    গোঁফ তাহার ঘন ঘন এপাশে ওপাশে নাচে; ওইটা তাহার মুদ্রাদোষ। গোষ্ঠ কথাটার মাঝে গুরুত্ব খুঁজিয়া পায় না, সে হাসিয়া কহে, মামলাকে কি আর ডরাই সরকার মশায়, ডরাই যত। আমলাকে, খাই আর মেটে না।

    কথাটা সরকারের গায়ে বাজে, সেও ওই শ্ৰেণীভুক্ত যে; সে তীব্ৰকণ্ঠে কহে, শুধু পয়সা কেউ চায় না রে, শুধু পয়সা কেউ চায় না, তারা তো ভিখিরি নয়। এই তো বাবা, নিলে বেটা দত্ত নিলেম করে তোর জোতকে জোত। সে মামলা করলে, ডিক্রি করলে, নিলেম করলে, জানতে পারলি? আমলারা পয়সা খেয়ে নেমখারামি করে না, যার পয়সা খায় তার কাজ বজায় দেয়, বুঝলি?

    গোষ্ঠর মাথায় যেন কে মুগুরের ঘা মারে, সব যেন গোলমাল হইয়া যায়। তাহার জমি, তাহার অন্নদাত্রী মা ভূমিলক্ষ্মী। তবু সে স্বস্তির আশায় কথাটা অবিশ্বাস করিতে চায়, কহে, আজ্ঞে না, তাই কি হয়, আজই যে দু টাকা সুদ নিয়ে গেল।

    সরকার হাসিয়া ওই সরল বিশ্বাসের জন্য গোষ্ঠকে গালি দেয়, চাষা কি সাধে বলে রে, বুদ্ধিগুণেই চাষা বলে; হুঁ, তোমার দোষ কি, বল? ন চাষা সজ্জনায়তে—এ যে শাস্ত্ৰবাণী। বলি নাই আমি একবার, ওরে গোষ্ঠ, দত্ত নালিশ করেছে, একটা জবাব দে। তুই বললি, টাকা না। নিয়ে আর জবাব কি দোব সরকার মশাই? তবে ধরে পেড়ে দেখি, দত্তকে এখন থামাই; তুই ধরলি পাড়লি, দত্তকে মুখে রাজিও করলি, কিন্তু আদালত তো হাঁটলি না, মামলাটা তুলে নিলে, কি না নিলে, তা দেখলি না। ভয় হল আমলার হা দেখে। নে, এখন তার ফল দেখু।

    গোষ্ঠ স্তম্ভিত হইয়া গেল। চোখে তাহার দৃষ্টি জাগ্রত ছিল, কিন্তু দৃশ্য সমস্ত যেন অর্থশূন্য বোধ হয়।

    সরকার কহে, তুই নিলেম রদের মামলা কর্। দেখ, বেটা চামারকে কেমন ফাসাই, তদ্বিরের ভার আমার, সে তোকে ভাবতে হবে না। ও বেটা বেনে, আমিও কায়েত।

    কথা গোষ্ঠর কানে যায় না, তাহার বুকের মাঝে ক্ষোভে দুঃখে ক্ৰোধে একটা ঘূর্ণি জাগিয়া ওঠে।

    একটি বিধিবদ্ধ সজ্ঞাবদ্ধ অত্যাচারে নিঃশেষিতপ্রায় মানবাত্মার যেটুকু অবশেষ এই নিরীহের বুকে ছিল, সে বুঝি বিদ্রোহ করিয়া ওঠে; বাহিরের দেহেও তাহার বিকাশ হয়, দীর্ঘ মোটা মোটা হাড় বাহির করা দেহখানার শিথিল পেশিগুলার মাঝে একটা চাঞ্চল্য বহিয়া যায়, কাঠিন্য ফুটিয়া ওঠে, শিরাগুলা মোটা হয়, বোঝা যায়, রক্তের স্রোতে জোর ধরিয়াছে।

    মানুষকে সে আর বিশ্বাস করিতে চায় না, তাহার ঘূণা-ভরা সন্দিগ্ধ চোখে সরকারের মতলব আজ ধরা পড়ে, সে হাসিয়া কয়, মামলার খরচ কে দেবে সরকার, বুদ্ধি তো তোমার কায়েতের বটে, কিন্তু যাতে রস, ওই জমি আমার লক্ষ্মী মা, ও গেলে খরচ যোগাবে কে? তুমি দেবে?

    সরকার কহে, ওরে, কায়েতের বুদ্ধিতে সব আছে, জমিতে তুই দখল দিবি না; জমি তো তোর দখলে, বাঁশগাড়ি করতে যায়, তুলে ফেলে দিবি।

    কথাটা ক্ৰোধতপ্ত কানে লাগে ভাল, গোষ্ঠ কহে, দখল আমি ছাড়ব না সরকার। যা হয় হবে, আমার জমিতে গেলে ওকে আমি গোটা রাখব না। মামলা-ফামলা যা করতে হয় ও করুক।

    সরকার শিহরিয়া কয়, সৰ্ব্বনাশ, সৰ্ব্বনাশ, জেল হয়ে যাবে; মামলার বল না নিয়ে কি ফৌজদারি করা হয়; অৰ্থ না হলে শুধু সামথ্যে কি হয়?

    গোষ্ঠ কহে, তা অৰ্থ নাই যখন, তখন সামথ্য ছাড়া উপায় কি?

    সরকার চোখ দুইটি বড় করিয়া কহে, বেটা ডাকাত রে! বলে কি? খবরদার, মরবি, মরবি। ওরও লাঠি আছে, ও শালা কি কম ধুতু, শালা ধুতু শেয়াল, টাকায় জমিদারকে বশ করেছে; দেখেছি তো, জমিদারের চাপরাসীর পেতলে বাধা লাঠি?

    যুগ-যুগান্তের, পিতৃ-পিতামহের পুষিয়া-রাখা জমিদার-ভীতির সংস্কার বুকের মাঝে চাড়া দিয়া ওঠে। বুকের ঘূর্ণিটার বল, বেগ ক্ষীণ হইয়া পড়ে।

    এই সেদিনই সে যে কথাটা বলিয়াছিল, সেই কথাটা তাহার মনে পড়ে, বাঘে ধান খায় তো তাড়ায় কে?

    সরকার বলিয়াই যায়, তার চেয়ে শোন, খরচ বেশি হবে না, পপরের মকদ্দমা করে দেবি, হাকিমকে এক দরখাস্ত দোব, হুজুরের অধীন গরিব, মামলা-খরচের সামথ্য নাই—

    গোষ্ঠ যেন কূল পায়, সে ব্যর্থ হইয়া বলিয়া ওঠে, তা হয় সরকার মশায়, হয়, আঁ?

    সরকারের গোঁফ-নাচানো মুদ্রাদোষটা প্রবল হইয়া ওঠে, সে হাসিয়া কহে, হয়, না হয় সে আমার ভার, তার ভাবনা তোর না; আসছে সোমবার করে তুই গোটা দশেক টাকা নিয়ে সদরে যাস। আমার বাসা জানিস তো—বাসা? আচ্ছা, না জানিস, নাই, ওই হোটেলে নেমে তুই আগে খেয়ে নিবি, তারপর ওইখানেই থাকবি, আমি খুঁজে নেব, বুঝলি?

    গোষ্ঠ হতাশ হইয়া পড়ে, দশ টাকা যে তাহার পক্ষে দুই শো, দুই হাজার বলিলেও ক্ষতি নাই; সে স্লানকণ্ঠে কহে, দশ টাকা যে আমাকে কাটলে বেরুবে না সরকার মশায়; ধারও মিলবে না।

    সরকার এবার খিঁচাইয়া ওঠে, তবে কি মামলা তোমার অমনই হবে, তোমার চাদ-বদন। দেখে নাকি?

    ওই যে বললেন, পরের দরখাস্ত দিলেই হবে?

    খরচ হবে না বলে কি একেবারে তিন শূন্যতে চলে বাবা? দরখাস্ত দিতে খরচ নাই? এই ধৰ্ব না, হিসেব তোর মুখে মুখেই হবে উকিল পাঁচ টাকা, মুহুরী সেও পাঁচ সিকের কম ছাড়বে না, কোট-ফী এক টাকা, ডেমি দু পয়সা, ম্যাদ আট আনা, বিত্তি চার আনা, আর এদিক ওদিক বাজে খরচ সেও তোর দু টাকার কমে তো হয় না, এই তো তোর দশ টাকা দু পয়সা, তা ডেমির দু পয়সা তোকে লাগবে না, ডেমি আমি দোব।

    গোষ্ঠর চোখ দিয়া জল পড়ে, সে ঘাড় ফিরাইয়া জমিগুলার পানে চায়, দূর হইতে ঘন সবুজ ধানগুলি সত্য সত্যই কালো মেঘের মত দেখায়।

    সরকার কহে, আচ্ছা, এক কাজ কর, তোর ওই নাখারাজ গড়েটাওইটা বাঁধা দে, টাকার বন্দোবস্ত আমি করে দেব। যাস সোমবারে, বুঝলি? সবই হবে সেইদিন, বন্ধকী দলিলও হবে, দরখাস্তও দেওয়া হবে, কি ব?

    তখনও গোষ্ঠর চোখ ফেরে নাই, মমতায় সারা বুক টনটন করিয়া ওঠে, সে কহে, তাই। যাব সরকার মশায়, কিন্তু দেখবেন যেন ফিরতে না হয়; এ বিপদে আপনাকে রাখতেই হবে।

    সরকারের পা দুইটা সে চাপিয়া ধরে।

    মন বিশ্বাস করতে চায় না, ভরসা হয় না।

    কিন্তু মাটির পরে চাষীর মমতার মোহ কহে, তবু যদি।

    সরকার ভরসা দিয়া আপন পথ ধরে, গোষ্ঠ ফিরিয়া আপন জমির আঙুলের উপর মাথায়। হাত দিয়া বসিয়া ধানের পাতা নাড়েচাড়ে, কচি কচি সতেজ ধানগুলি হাওয়ায় লুটোপুটি খেলে, গোষ্ঠর গায়ে পড়ে, পায়ে পড়ে। যেন দুরন্ত চঞ্চল শিশুর দল।

    সহসা গোষ্ঠ নারীর মত ফুঁপাইয়া কাঁদিয়া ওঠে।

    পথে যোগী মোড়লের বৈঠক; সেথায় গোষ্ঠ আসিয়া বসে।

    মাইনার-পাস যোকরা রমাপতি মাস্টার সেখানে পাঠশালা করে। মোড়ল-কর্তার সাপ্তাহিক খবরের কাগজ পড়ে, আগে পড়ে নারী-হরণের কলম-দিবাদ্বিপ্রহরে নারী হরণ, পাশবিক অত্যাচার, বাড়িতে পুরুষ কেহ ছিল না, চারি জন বদমাইশ ঘরে প্রবেশ করিয়া–

    মোড়ল-কর্তা চেঁচাইয়া ওঠে, ওরে মদনা, ওরে শালা ডোম।

    মদনা বাড়ির রাখাল, সে উত্তর দেয়, কিন্তু মোড়ল-কর্তার কানে যায় না।

    মদনা আসিয়া সমুখে দাঁড়ায়।

    মোড়ল-কর্তা খিঁচাইয়া ওঠে, বলি, লবাব, ছিলেন কোথা, রা দাও না যে?

    মদনা বলে, বলি, রা মানুষে কবার কাড়ে, রা তো দিলাম।

    আবার মুখের উপর মুখ! কর্তা ঠেঙাগাছাটা হাতড়ায়, হাতে ঠেকিতেই সে গাছটা ফাবড়াইয়া দেয়। মদনার লাগে না, তবু সে বলে, মেলে তুমি আমাকে?

    কর্তা কহে, বেশ করেছি। বলিয়া হ্রকা টানে, ক্ষণেক পরে আবার কহে, বুড়ো মানুষের রাগ তো জানিস, তুই সরে গেলি না কেন? তা বিকেলে এক সের চাল নিস, মদ খেলেই গায়ের বেথা সেরে যাবে। যা দেখি, রতে ছুতোরকে ডেকে আনু, বল, খিল আঁটতে হবে দুয়োরের। আর হরিশ, বলে দাও চব্বিশ ঘণ্টা দুয়োরে খিল–শালারা, দিবা দ্বিপ্রহরে, আয় শালারা

    আবার লড়াইয়ের সময় মাস্টার লড়াইয়ের খবর পড়ে, ম্যাপ আঁকিয়া লাইন বুঝায়, বলে, এই দেখ কর্তা, এই হল ফ্রান্স, এই তোমার জার্মানি, আর এই রুশ।

    বুড়া বলে, এ তো শুধু দাগ হে মাস্টার, নকশা এঁকে লড়াই বোঝা যায়? এখন কে হারল তাই বল, এ সায়েবরা, না উ সাহেবরা?

    মাস্টারের বয়সী বাগাল রায় বলে, বুঝতে কেনে নারবে খুড়ো, এই দেখ, এই হল ফেরান্স।

    বুড়া বিরক্ত হইয়া কহে রাখ বাপু তোর ফেরাঙ-টেরাঙ, ওসব তোরা বোঝা গিয়ে। এখন কাপড় সস্তা কখন হবে তাই বল হে মাস্টার?

    মাস্টার বলে, তবে ড়ুবোজাহাজের ঠেলা কত্তা, মাল নিয়ে ভাসা জাহাজের কি পার আছে? মাল নিয়ে জলে ভেসেছেন কি দুই, তিন কোশ দূর থেকে তাল মেরে, চোল—চোল-মারা যুঁ, আর এক উঁতেই বাস্ চিচিং ফক, জলের তলায় ভরতর–ফস।

    বাগাল বলে, তবে ড়ুবোজাহাজের টিরিক-ফিরিক মল এইবার, আকাশে ফরফর উড়বে। আর কলকাতায় এসে নামবে তোমার; কাটুক শালা ড়ুবোজাহাজ জলের তলে বুটবুটি।

    বিস্ময়ে বুড়ার চোখ দুইটা ভাটার মত পাকাইয়া ওঠে, সে কহে, উড়বে কি করে বাপু গরুড়পাখির বাচ্চা ধরেছে নাকি, আঁ?

    মাস্টার হাসিয়া বলে, না কত্তা, কল কল কলে উড়বে—অ্যারোপ্ল্যান।

    কাগজে অ্যারোপ্লেনের ছবি আঁকে, ছবিটা দাগে দাগে হয় একটা বৃত্ত।

    বুড়ো বলে, দূর, এ কি হল, রসগোল্লা আবার ওড়ে?

    মাস্টার বলে, কেন কত্তা, রাহুর ছবি, চাঁদের চেহারা দেখ নি? ওই সব থেকেই ওরা এই সব করলে; সব আমাদের নিয়ে, আমাদের পুষ্পক রথ–

    বুড়া চটিয়া কহে, সবই তো শুনি তোদের, ও ছিল-ফিল বুঝি না, করতে পারিস তো বুঝি, পারিস বানাতে ওই কি বলছিস এলাং-পেলাং না কি?

    বর্তমানের নগ্ন রিক্ততায়, দারিদ্র্যে, মরণ-দ্বারের বৃদ্ধের পর্যন্ত অতীতের পানে চাহিবার অবকাশ নাই।

    তরুণ চাহে ভবিষ্যতের পানে, সে স্বপ্ন হয়।

    বাগাল কহে, হবে বৈকি খুড়ো, আমাদেরও হবে।

    সে সব পুরনো কথা।

    আজ মাস্টার পড়িতেছিল, অসহযোগ আন্দোলন, বক্তৃতার সুরে সে পড়িতেছিল, মহাত্মার বাণী, স্বরাজ আসিবে, স্বরাজে আমাদের জন্মগত অধিকার, শুধু বাণী পালন কর। বুঝলে কত্তা, স্বরাজ হলেই আর চাই কি!

    স্বরাজ মানেটা আমায় বুঝিয়ে দিতে পার, তবে তো বুঝি ব্যাপারটা কি?

    মানে, বুঝলে না কত্তা? আমরাই আমাদের মালিক রাজা, ওই ওতেই আমাদের দুঃখ ঘুচবে কত্তা।

    তাই কি হয় মাস্টার? রাজা থাকবে না—

    বহুযুগ নিরক্ষরের কানে কথাটা বিস্ময়ের মত ঠেকে।

    তরুণ রক্ত, যুগে হাওয়ায় উষ্ণ চঞ্চল; বাগাল কহে, কেন হবে না খুড়ো, এই তো ফেরান্স অ্যামেরিকা–

    কর্তা চটিয়া যায়, তুই থাম বাপু, তুই আর পাকামি করিস না, মাস্টার বলছে তাই বলুক, না খালি ফেরা ফেরান্‌! হলি কিরে বাপু, বাপখুড়োর খাতিরও করবি না।

    ও পাড়ার গণেশ দেবাংশী কহে, যা বলেছ ভাই, আমাদের আমল পালটিয়ে গেল; সেসব আর কিছু রইল না।

    মাস্টার বলে, তফাত তো হবেই কত্তা, তোমরা হলে পুরনো, আমরা নতুন।

    গোষ্ঠর দুঃখার্ত মন দুঃখ দূরের কথাটা ভোলে না, কহে, জমিদার-মহাজন উঠবে বলতে পার?

    অন্তর-ফাটা বাণী, আন্তরিকতার গাম্ভীর্যে এত গম্ভীর যে, মজলিসের চটুল ভাবটুকু উবিয়া গেল। মরুর বুক-চেরা ঝঞা বায়ুস্তরের রস পর্যন্ত যেমন শুষিয়া লয়।

    সবার বুক চিরিয়াই দীর্ঘশ্বাস বহে।

    যোগী বলে, ওই যা বলেছে গোষ্ঠ, স্বরাজ-ফরাজ বুঝি না আমরা, যমের হাত হতে বাঁচি কিসে তাই মহাত্মা বলুক। হ্যাঁ, চাচা আপন জান বাঁচা।

    অতকালের অত্যাচারে, অনাহারে অতীতের সব দেশ, ধর্ম, সমাজ সমস্ত ইহাদের কাছে বুঝি তুচ্ছ হইয়া উঠিতেছে। শুধু জীব-জগতের একমাত্র জন্মগত প্রেরণা, বাঁচিবার চেষ্টায় কঙ্কালগুলা পাগল।

    কিন্তু ক্লান্ত মস্তিষ্কে উপায় আসে না; শ্ৰান্ত দেহ এলাইয়া পড়ে।

    কে যে ইহাদের জীবন অদৃশ্যভাবে যুগ-যুগান্তর ধরিয়া শোষণ করিয়া লইতেছে, তাহাও ইহারা জানে না; বিধাতা, না মানুষ?

    আর সে জীবন ফিরিয়া চাহিতে চিৎকার করিতেও বুঝি ক্লান্তি আসে। তবে তাহা চায়। তাহারা; মাটির তলের অঙ্কুর যে সুরে যে ভাষায় আলো বাতাস চায়, সেই সুরে সেই ভাষায় ইহাদের সে চাওয়ার বাণী বুকের মাঝে অহরহ বাজে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    নাগিনী কন্যার কাহিনী – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }