Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটগল্প – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প745 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ব্যাধি

    ব্যাধি

    বাবুদের বাড়িতে জন্মাষ্টমীর মেলা, তারসঙ্গে উৎসবের আয়োজন তো আছেই। বাবুরা পরম বৈষ্ণব, এ উপলক্ষ্যে দীয়তাং ভূজ্যতাং-এর সমারোহ পড়ে যাবে তাঁদের বাড়িতে।

    মাঝখানে মন্দা পড়ে গিয়েছিল। কয়েকটা বড়ো বড়ো মামলার পাপচক্রে মালঞ্চের পালচৌধুরিরা একরকম ডুবে গিয়েছিল বললেই হয়। কোনোমতে নমো নমো করে পূর্বপুরুষের ক্রিয়াকর্মগুলো রক্ষা করা হত। শোনা যাচ্ছিল পৈতৃক ভিটেটাও দিন কয়েকের মধ্যেই নিলামে উঠবে।

    কিন্তু হাওয়া বদলে গেল। যুদ্ধ বাঁধল, দেখা দিল দুর্ভিক্ষ। আর আশ্চর্য, এই একান্ত দুর্বৎসরে যেন কোনো মন্ত্রবলে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল পালচৌধুরীরা। নোনাধরা দেওয়ালের কলি ফিরল, ভাঙা ঘরবাড়িগুলো নতুন করে গড়ে উঠল আবার। দশ বছর আগে হাতিটাও বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এবারে এল মোটর,-একখানা নয়, দুখানা। বাবুর বাড়ি আবার পূর্বমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হল। বাণিজ্যে লক্ষী বাস করেন। যুদ্ধের বাজারে বাবুরা নাকি জমিদারির আশা ছেড়ে ব্যাবসা ধরেছিলেন। সাধনায় সিদ্ধিলাভ হয়েছে, লক্ষী বর দিয়েছেন।

    কলকাতায় লোহার কারবার করেন মেজোকর্তা। তিন বছর পরে তিনি দেশে ফিরেছেন। এবারে জাঁকিয়ে জন্মাষ্টমীর উৎসব করতে হবে। টাকার জন্যে পরোয়া নেই। নীলমণিকে স্পষ্টই বললেন, পাঁচ লাখ সাত লাখ টাকার জন্যে তিনি একবিন্দু মাথা ঘামান না। তিনি আজ ধুলোমুঠো ধরলেই তা সোনা হয়ে যাবে।

    শুনে নীলমণি রোমাঞ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

    মেজোকর্তা গড়গড়ায় টান দিয়ে বললেন, বিশ হাজার টাকা খরচ করব এবার। তাক লাগিয়ে দেব আশপাশের বিশখানা গ্রামকে, সুন্দরগঞ্জের বাঁড়জ্যেদের। তোমার গাঁয়ের সব লোককে বলে দিয়ো নীলমণি, এখানে এবারে তাদের পাতা পড়বে। আর তুমি? তুমি তো ঘরের লোক, বাড়ির সবাইকে নিয়েই চলে এসো, কী বল?

    চরিতার্থ হয়ে নীলমণি বলেছিল, আজ্ঞে আনব বই কী, নিশ্চয়।

    ভাদ্রের ভরা বিল। ধানখেত আর ভুট্টার শিষের ভেতর দিয়ে নৌকো ঠেলে আসার সময় নীলমণির মনে হয়েছিল কপাল কি এমনি করেই ফেরে মানুষের! তিন বছর আগে এই মেজোকর্তাকেই আট হাত ধুতি পরে সুষ্ঠু কলমি শাক দিয়ে মোটা লাল বাগড়া ভাত খেতে দেখেছিল সে, এবং সেই রাঙা বাগড়া চালও যে কোথা থেকে আমদানি হয়েছিল সে-ইতিহাস নীলমণিই সব চাইতে ভালো করে জানে। সন্ধ্যার অন্ধকারে মেজোগিন্নির নাম লেখা রুপোর বাটিটাকে চাদর ঢাকা দিয়ে সে-ই বিক্রি করে এসেছিল হারান মুদির দোকানে, আর নিরানন্দ নিরালোক বাবুদের বাড়ির ভাঙা তুলসীমঞ্চটার পাশে দাঁড়িয়ে শুনতে পেয়েছিল ঘরের মধ্যে মেজোগিন্নি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন।

    বিলের জলে সন্ধ্যার বাতাস দোলা দিয়েছে। চারদিকে জল দুলে উঠছে, ফুলে উঠছে, ফেনায় ফেনায় ভেঙে পড়ছে সিন্ধুতরঙ্গের মতো। আর সমস্ত বিল জুড়ে পঞ্চমীর ম্লান অস্তোন্মুখ জ্যোৎস্নায় সেই ফেনা যেন গলিত পুঞ্জ পুঞ্জ রুপোর মতো ঝিলিক দিয়ে যাচ্ছে। অন্তহীন জল, সমুদ্রের মতো জল! মাঠ ডুবিয়েছে, পুকুর ডুবিয়েছে, ধানের খেত, ভুট্টা আর জোয়ারকে তলিয়ে দিয়েছে। ডুবিয়েছে মাঠের ছোটো-বড়ো গাছপালার কুঞ্জকে। এত জল কোথা থেকে এল হঠাৎ। শুকনো খটখটে মাঠ দিয়ে নৌকো যেত, পালকি যেত, পায়ে পায়ে লাগত ধারালো কুশের আচড়। কিন্তু তার পরেই দু-দিন দু-রাত টানা বর্ষাকালো মেঘ থেকে অবিরাম বৃষ্টি। দূরের নদী থেকে ঢালু মাঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে জল এল, জল এল কুন্ডলী-করা অসংখ্য কালো কালো অজগর সাপের মতো। দেখতে দেখতে মাঠ হল সমুদ্র। বারো হাত লগি আর থই পায় না, মাথাসুদ্ধ তলিয়ে যায় তার।

    মেজোকর্তার সঙ্গে এই বিলের কোথায় কী যেন মিল আছে একটা। হঠাৎ জল—হঠাৎ সমুদ্র। তরঙ্গে তরঙ্গে রুপোর ফেনা।

    জন্মাষ্টমীর মেলায় আসার জন্যে বাবু নিজে থেকে বার বার বলে দিয়েছেন। আসতেই হবে। পালচৌধুরিদের সঙ্গে সাত পুরুষের সম্পর্ক, বাবুদের ওঠা-পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নীলমণি নিজেও তার আন্দোলন অনুভব করেছে। কী আশ্চর্য লোক ছিলেন বড়োকর্তা! নীলমণিকে যেন ছেলের মতো ভালোবাসতেন। সুন্দরগঞ্জের বাঁড়জ্যেদের সঙ্গে বড়ো মামলাটায় হারার খবর পেয়ে আচমকা মারা গিয়েছিলেন তিনি। ডাক্তার বলেছিল, এত বড়ড়া একটা আঘাত হঠাৎ তিনি সহ্য করতে পারেননি।মাথার শিরা ছিঁড়ে গিয়ে প্রচুর রক্তপাতের ফলে মৃত্যু ঘটেছিল তাঁর। আর নীলমণি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছারি-পিছাড়ি খেয়েছিল, নিজের বাপ মরার পরেও অমন করে চোখের জল ফেলেনি সে।

    মেজোকর্তা অবশ্য একটু আলাদা জাতের মানুষ। কথা বলতেন কম, কিছুটা লেখাপড়া জানতেন বলেই হয়তো প্রজাদের সঙ্গে মেশামেশি বা মাখামাখি করতে তাঁর রুচিতে বাঁধত। কখনো কখনো পুকুরে বসে মাছ ধরতেন, কখনো কখনো কাটাতেন নিজের-হাতে-তৈরি তাঁর কলমের বাগানে। চোখে সোনার চশমা আর গায়ে গেঞ্জি, এই লোকটির সঙ্গে বডোকর্তার অমিলটা বড়ো বেশি করেই চোখে পড়ত। প্রকান্ড ভুড়ি নিয়ে কাঁধে লাল গামছা জড়িয়ে আসর জমিয়ে বসতেন বড়োকর্তা। মোটা মানুষ ছিলেন, জামা গায়ে রাখতে পারতেন না। হোহোহা করে হাসতেন, অকারণে চেঁচিয়ে কথা বলতেন। হাসির ধমকে ভাঁজে ভাঁজে ভুড়িটা দোল খেত।

    বড়োকর্তা যতদিন বেঁচেছিলেন, ততদিন মেজোকর্তা ছিলেন যেন পাহাড়ের আড়ালে। তারপর একদিন সে-আড়াল সরে গেল। এতদিন কী করে যে জোড়াতাড়া দিয়ে সংসার চলছিল, বজায় থাকছিল তার ঠাটঠমক, সে-রহস্য একমাত্র বডোকর্তারই জানা ছিল। কিন্তু চমক ভেঙে মেজোকর্তা দেখলেন অকুল পাথার। চারদিকে দেনা, বাস্তুভিটে যায় যায়। জমিদারি তো দূরের কথা, দু-মুঠো ভাতই এখন জোটানো শক্ত হয়ে উঠেছে।

    তারপরে দুঃখের ইতিহাস। মেজোগিন্নির গায়ের সোনাদানা গেল, গেল রুপোর বাসন কোসন। কলমি শাকের চচ্চড়ি আর রাঙা চালের ভাত সম্বল। কোথায় রইল কলমের বাগান, কোথায় রইল জার্মান হুইল আর সখের বঁড়শি। মেজোকর্তার পঞ্চাশ ইঞ্চি ধুতি উঠল হাঁটুর ওপরে।

    তারও পরে একদিন মেজোকর্তা কলকাতায় চলে গেলেন। ভাগ্যের চাকাটা ঘুরেছে, তিনি গ্রামে ফিরেছেন। এবারে জাঁকিয়ে জন্মাষ্টমীর উৎসব।

    নীলমণির মনটা খুশিতে ভরে উঠেছে। বাবুরা উঠুক, আবার দপদপা ফিরে আসুক মালঞ্চের পালচৌধুরিদের। নীলমণি প্রকান্ড একটা গর্ব অনুভব করছে নিজের মধ্যে। বাবুর বাড়ির সাত পুরুষের চাকর সে, বাবুরা উঠলে তারও উত্থান।

    তা ছাড়া আরও একটা আশ্চর্য জিনিসও নীলমণিকে চমৎকৃত করে দিয়েছে। দেশে দুর্ভিক্ষ গেছে, না খেয়ে মরে গেছে মানুষ, কিন্তু বাবুদের সঙ্গে ভাগ্যের একটা অলক্ষ সূত্রে যোগাযোগ থাকার জন্যেই হয়তো এই দুর্দিনে তারও কপাল ফিরেছে।

    সামান্য মহাজনির কারবার ছিল। সুদে আর বন্ধকিতে যা আসত তাতে দিন চলে যেত। কিন্তু রোজগারের সেই সংকীর্ণ খাতে হঠাৎ যেন জোয়ার নেমে এল তার। নিরুপায় মানুষ নামমাত্র মূল্যে ধানের জমি বিক্রি করতে শুরু করে দিলে। বিলের যেসব ডুবোজমিতে বর্ষার পরে সোনার মতো ফলন হয়, আট-দশ টাকা বিঘা দরে লোকে সেসব জমি ছেড়ে দিলে নীলমণিকে। বিক্রির প্রথম মরশুমে অতি লাভের আশায় যারা খুদকুঁড়ো অবধি বিক্রি করে দিয়েছিল, তাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হল শেষপর্যন্ত জমি বিক্রি করে। আগে ছিল কুড়ি বিঘা, এখন নীলমণি একশো বিঘা ধানিজমির একচ্ছত্র মালিক।

    দৈব, দৈব ছাড়া আর কী? মেজকর্তার ধুলোমুঠো সোনা হল, নীলমণির কুড়ি বিঘে হল একশো। হঠাৎ নীলমণির মনে হল বাবুদের সঙ্গে তার সম্পর্কটা শুধু সাতপুরুষের নয়, একেবারে জন্ম-জন্মান্তরের। অকারণেই মেজোকর্তার ওপরে তার শ্রদ্ধাটা বেড়ে গেল দ্বিগুণ। বাবুদের যত বাড়বে, তারও যেন সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলবে, সম্পর্কটা অঙ্গাঙ্গী।

    সুতরাং জন্মাষ্টমীর উৎসবে যাওয়ার আহ্বানে নীলমণি উৎসাহিত হয়ে উঠল।

    বউ কিছুদিন থেকে নানা জাতের অসুখে ভুগছে, বিছানা ছেড়ে নড়তে পারে না। ছেলেটাও ভুগছে ম্যালেরিয়ায়। অথচ মেজোকর্তা বলেছেন, নীলমণি, সবাইকে নিয়ে এসো, এ তো তোমার ঘরেরই কাজ।

    নীলমণির রাগ হয়ে গেল। বউ কেন এভাবে পড়ে আছে বিছানায়, কেন অন্তত আজকের দিনটাতে সে মাথা তুলে উঠে বসতে পারে না, কেন খুশিতে ঝলমলে হয়ে যোগ দিতে পারে

    বাবুর বাড়ির আনন্দোৎসবে? একটা প্রকান্ড ছন্দপতনের মতো বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে। সে। অসুখেরও কি দিনক্ষণ থাকতে নেই একটা?

    বিছানার মধ্যে শুয়ে শুয়েই বউ নীলমণির উত্মাটা অনুভব করতে পারে।

    অমন করে চেঁচিয়ে মরছ কেন?

    চ্যাঁচাব না? বাবু কত করে বলেছেন সবাইকে নিয়ে যেতে, অথচ তুই দিব্যি বিছানায় পড়ে রইলি।

    কী করব বলে। মরতে মরতে তো যেতে পারি না।

    দরকার হলে মরতে মরতেও যেতে হয়।

    গজগজ করতে করতে এল নীলমণি। ছোটোমেয়েটা সামনে এসে পড়েছে, নাকি সুরে বললে, বাবা, আমি বাবুদের বাড়িতে যাব কিন্তু।

    নীলমণি নিরুত্তরে তার গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলে।

    শেষপর্যন্ত ছোটোমেয়েটাকে নিয়েই নীলমণি রওনা হল বাবুর বাড়ির উদ্দেশে।

    দেখতে দেখতে খাল পেরিয়ে নৌকো বিলে এসে নামল। আদিগন্ত সাদায় এবং শ্যামলে একখানা বিরাট চিত্রপট। জল দুলছে, জল ফুলছে, রুপোর ফেনা ছড়িয়ে নেচে উঠছে খুশিতে খেয়ালে। তার মাঝে মাঝে ধানের খেত। সাদা জলের ওপর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠেছে শ্যামল শস্য। বিলের প্রাণরসে পরিপূর্ণ হচ্ছে বঙ্গলীর সোনার ঝাঁপি।

    আধোজাগা ধানের শিষ থেকে, ভুট্টার আগা থেকে উড়ে আসছে বড়ো বড়ো ফড়িং। ছোটো-মেয়েটা দু-হাতে ফড়িং ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।

    হঠাৎ লগিতে জোরে একটা খোঁচা দিলে নীলমণি।

    কেমন ধান হয়েছে রে পুঁটি?

    ভালো ধান বাবা! ফড়িংয়ের দিকে মনোযোগে রেখেই পুঁটি জবাব দিলে।

    আমার ধান, বুঝলি? আমার কথাটার ওপর অস্বাভাবিক একটা জোর পড়ল। কুড়ি বিঘে থেকে একশো বিঘেয় পদার্পণের আনন্দটা নীলমণির কণ্ঠ থেকে উছলে উঠল যেন। সব আমার ধান। ওই সামনে, ওই চকের ধারে, যত দেখতে পাচ্ছিস, সব আমার।

    সব তোমার? পুঁটি চোখ বড়ো বড়ো করলে।

    সব আমার। এবার ঘরে আমার লক্ষ্মী পা দেবেন। তোকে সোনার মাকড়ি গড়িয়ে দেব, কেমন?

    পুঁটি এতক্ষণে বড়ো একটা লাল ফড়িংকে ছোটো ছোটো হাতের মুঠোর মধ্যে ধরে ফেলেছে। ফরফর করে শব্দ করছে সেটা, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পুঁটি বললে, আর সোনার বালা?

    সোনার বালা!

    নীলমণি হো-হো করে হেসে উঠল। পুঁটি ছোটো হলেও বোকা নয়, বুদ্ধিসুদ্ধি তার আছে। মাকড়িতে কতটুকু সোনা থাকে আর! এক জোড়া সোনার বালার দাম যে অনেক বেশি সেটা সে এর মধ্যেই বুঝে নিয়েছে। শুধু দু-টুকরো মাকড়ি দিয়েই তাকে ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না।

    নীলমণি প্রসন্ন গলায় বললে, আচ্ছা আচ্ছা, সোনার বালাও দেব। কৃষ্ণের ইচ্ছায় এবারেও যদি ধানের দরটা চড়ে যায়…

    একশো বিঘে জমির ঘন শ্যামল ধানের দিকে নীলমণি তাকাল। হঠাৎ নিজেকে মনে হল সম্রাট, মনে হল কী বিরাট ঐশ্বর্যের অধিস্বামী। সামনে যতদূরে তাকাও—তার ধান, তার শস্য, তার রাজকর। এই তো সূত্রপাত। সামনে এখনও দিন পড়ে আছে—পড়ে আছে যুদ্ধ। শেষপর্যন্ত নীলমণি কোথায় গিয়ে যে পৌঁছোবে কে বলতে পারে? তারপর একদিন হয়তো পাঁচ বছর, হয়তো-বা সাত বছর পরে একদিন সেও মেজোকৰ্তার মতো বড়ো হয়ে উঠবে। সেও একদিন জন্মাষ্টমীর উৎসবে দশখানা গ্রামকে নিমন্ত্রণ করতে পারবে।

    শুধু একটা সমস্যা। সাত বছর ধরে যদি এমনি আকাল চলতে থাকে, তাহলে নিমন্ত্রণ খাওয়ার জন্যে মানুষ বেঁচে থাকবে তো? নইলে জন্মাষ্টমীর উৎসবটা জমে উঠবে কাদের নিয়ে? অথচ গত বছরের অভিজ্ঞতায় যা তার চোখে পড়েছে…

    ওই যা, ফড়িংটা উড়ে গেল বাবা।

    নীলমণি যেন আত্মস্থ হয়ে উঠল হঠাৎ। নৌকোটা ধানখেতের মাঝখানে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে, বাতাসে চারিদিকে শিরশির করছে সরস শিষ। এই খেত আগে ছিল কাশেম ফকিরের, মহাজনির প্যাঁচে নীলমণি এবারে আত্মসাৎ করেছে এটা। কোথা থেকে দমকা একটা বাতাস এল, ধানের বনের শিরশির শব্দটাকে ছাপিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেজে উঠল যেন। মনে হল কাশেম ফকির অভিশাপ দিচ্ছে। জমিটা তুমি নিলে সরকারমশাই, কিন্তু ছেলেপুলেগুলো না খেয়ে মরে যাবে!

    মনের প্রসন্নতাটা যেন মেঘের ছায়ায় কালো হয়ে গেছে। এমন জোরে লগিতে খোঁচা দিলে নীলমণি যে নৌকোটা প্রায় লাফিয়ে ছিটকে এল তিন হাত। অনেক দূরে কোথা থেকে বাজনার শব্দ, নিশ্চয় মেজোকর্তার বাড়িতে। ক্ষণিকের দ্বিধাগ্রস্ত মনটা হঠাৎ যেন আশ্রয় পেল, আশ্বাস পেল।

    বাবা, ফড়িংটা পালিয়ে গেল।

    পালাক। রূঢ়কণ্ঠে জবাব দিয়ে নীলমণি লগি উঠিয়ে বোঠে ধরলে। খেত ছাড়িয়ে এবার গভীর বিল। থইথই সাদা জল। বোঠের টানে নৌকো তরতরিয়ে এগিয়ে চলল। আর দূরে পিছনে বিকালের হাওয়ায় দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগল কাশেম ফকিরের ধানের খেত।

    বাবুর বাড়িতে পা দিয়েই নীলমণির তো চক্ষুস্থির।

    হ্যাঁ, আয়োজন যদি করতে হয়, তাহলে এমনি করেই। বাড়ির সামনেকার মাঠটায় প্রকান্ড মেলা বসে গিয়েছে। বেলুন উড়ছে, ভেঁপু বাজছে, নাগরদোলা ঘুরে চলেছে। পোড়া তেলের কড়া গন্ধ ছড়িয়ে প্রকান্ড কড়াতে ভাজা হচ্ছে বেগুনি, নিমকি, জিলিপি। মাটির পাখি, কাঠের ঘোড়া। পুঁতির মালা, কাচের চুড়ি, মেটেসাবান, তাঁতের শাড়ি, রঙিন তোয়ালে। টিনের বাক্সে জার্মান বায়োস্কোপ :

    দ্যাখো দ্যাখো যুদ্ধ হইল, কত মানুষ মরে গেল,
    সাহেব বিবি চলে আইল–তামাশা লেও এক পইয়া—
    পুঁটি আর চলতে চায় না।

    বাবা, পাখি কিনব।

    দু-পয়সার তেলেভাজা বাবা।

    নীলমণি বললে, চল চল। আগে বাবুর সঙ্গে দেখা করি, প্রসাদ পাই ঠাকুরের, তবে না?

    ঠাকুরবাড়িতে আরও বেশি ভিড়। আগে যখন নীলমণি দেখেছিল তখন রাধাশ্যামের আঙিনা জরাজীর্ণ। মন্দিরের দেওয়াল ফেটে গিয়েছে, ছাদ দিয়ে বর্ষার জল চুইয়ে পড়ে দেওয়ালের গায়ে গায়ে এঁকে দিয়েছে শ্যামল সরীসৃপ-চিহ্ন। কার্নিশে কার্নিশে আশ্রয় নিয়েছে। পারাবতের সংসার। কলকূজন আর আবর্জনায় তারা অত বড়ো মন্দিরটাকে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। ঠাকুরের শীতল হয় নামে মাত্র, শুধু এক-একটা ক্ষীণ শঙ্খধ্বনি মন্দিরের ফাটলে ফাটলে অতীতের গোঙানির মতো মূৰ্ছিত হয়ে পড়ে।

    কত বার দেবালয়ের এই শ্মশানে প্রণাম করে গেছে নীলমণি। চোখে জল এসেছে মন্দিরের এই অবস্থা দেখে। অথচ বডোকর্তার আমলে কত সমারোহ ছিল এর, কত প্রাণ ছিল। সেদিনের শঙ্খগুলো ধুলো হয়ে ঝরে-পড়া বালি আর কাঁকরের সঙ্গে মিশে গিয়েছে, বড়ো বড়ো ঘণ্টাগুলো ভেঙে মরচে ধরে ছড়িয়ে আছে আনাচেকানাচে, ইঁদুরে কেটে নিয়েছে চামর ছত্র, ঠাকুরের গায়ের সোনাদানা অবধি বিক্রি হয়ে গেছে দেনায়।

    কিন্তু আজ? আজ যেন চোখকে বিশ্বাস হয় না। বড়োকর্তা বেঁচে থাকলে তিনিও বিশ্বাস করতে পারতেন কি না বলা শক্ত। মন্দির আগে যা ছিল, তার শতগুণে উন্নতি লাভ করেছে। রাধাকৃষ্ণের গায়ে ঝলমল করছে জড়োয়ার গয়না। শুভ্র চামরের আন্দোলনে, ধূপ-ধুনো গুগগুলের গন্ধে, রাশি রাশি ফুলে আরতি হচ্ছে ঠাকুরের। থালায় থালায় বহুমূল্য ভোগ বেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্বৎসরে কোথা থেকে এত সব জোগাড় করলেন মেজোকর্তা!

    নাটমন্দিরে নামসংকীর্তন চলছে বৈষ্ণবদের। খোল আর করতালের সঙ্গে সঙ্গে উঠছে নামকীর্তন। পদাবলির মাধুর্য উচ্ছলিত হয়ে পড়ছে ভক্তের আবেশবিহ্বল কণ্ঠস্বরে।

    হেরিলাম নবদ্বীপে সোনার গৌরাঙ্গ,
    দেহ-মনে উছলিল প্রেমের তরঙ্গ—

    নীলমণি বললে, প্রণাম কর পুঁটি, প্রণাম কর। জয় রাধেকৃষ্ণ…

    বিচলিত হয়ে মন্দিরের মার্বেল-বাঁধানো রোয়াকে প্রণাম করলে পুঁটি। যতটা ভক্তিতে নয়, তার চাইতে অনেক বেশি বিস্ময়ে এবং ভয়ে। আর গলবস্ত্র হয়ে সেই জনতারণ্যের মাঝখানে মুদিত-চোখে দাঁড়িয়ে রইল নীলমণি।

    এসো হে গৌরাঙ্গ আমার সংকীর্তন মাঝে…

    ধূপ-ধুনো, বত্রিশটা ঝাড়লণ্ঠনের আলো। জড়োয়ার গহনা থেকে রাধাকৃষ্ণের শ্রীঅঙ্গ দিয়ে যেন দিব্যদ্যুতি ঠিকরে পড়ছে। আবেশবিহ্বল নীলমণি যেন স্বপ্নের চোখে দেখতে লাগল–বৃন্দাবনলীলায় আবার নতুন করে রাধাকৃষ্ণ ফিরে এসেছেন, আর ভাবে বিভোর সোনার গৌরাঙ্গ নাচতে নাচতে নবদ্বীপের কঠিন মাটিতে মূৰ্জিত হয়ে পড়েছেন।

    জয় রাধেকৃষ্ণ।

    হঠাৎ চমক ভেঙে গেল নীলমণির। চরণামৃতের পাত্র হাতে স্বয়ং মেজোকর্তা সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন।

    চরণামৃত?

    জনতা একের-পর-এক ব্যগ্র ব্যাকুল হাত বাড়াতে লাগল, আর নীলমণি আশ্চর্য মুগ্ধদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মেজোকর্তার দিকে। সর্বাঙ্গে চন্দন সেবা করেছেন তিনি, গরদের ধুতিতে কী চমৎকার মানিয়েছে তাঁকে। সত্যিকারের বৈষ্ণব মেজোকর্তা—সত্যিকারের ভক্ত।

    চরণামৃতের পাত্র এগিয়ে এল। আরও দশজনের সঙ্গে হাত বাড়াল নীলমণি, তুলে ধরলে পুঁটির ছোটো হাতখানা। ভিড়ের মধ্যে মেজোকর্তা নীলমণিকে চিনতে পারলেন না।

    কিন্তু সেই মূহুর্তেই বত্রিশ ডালের ঝাড়লণ্ঠনের আলো মেজোকর্তার হাতের ওপরে এসে পড়ল। নীলমণি যা দেখল তা যেন বিশ্বাস করার মতো নয়। মেজোকর্তার হাতের পিঠে একটা সাদা উজ্জ্বল দাগ, তার ভেতরে রক্তের আভা। নিঃসন্দেহে কুষ্ঠ। অথচ বড়োকর্তার হাত, সে-হাত ছিল অম্লান চাঁদের মতো নিষ্কলঙ্ক।

    মুখে-মাথায় দিতে গিয়ে চরণামৃত নীলমণির পায়ে পড়ে গেল। ঝাড়লণ্ঠনের আলোয় কুষ্ঠের অনিবার্য নিঃসন্দেহ দাগটা পাঁচটা সোনার আংটির চাইতে বেশি জ্বলজ্বল করছে। নীলমণি শুনেছিল, বেশি সোনা-রুপো ঘাঁটলে নাকি হাতে কুষ্ঠ হয় মানুষের।

    রাত্রের বিলের মধ্য দিয়ে নীলমণির নৌকো চলছিল।

    পুঁটি একপাশে ছোটো আর ঘন হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। চারপাশে ছড়ানো রয়েছে তার খেলনাগুলো। অন্ধকার ধানবনের ভেতর দিয়ে নৌকো চলেছে নীলমণির।

    নির্জন, নিস্তব্ধ পৃথিবী। চাঁদ-ডুবে-যাওয়া কালো আকাশ, শুধু তারার একটা তরল আলো জলের ভেতর থেকে প্রতিফলিত হয়ে পড়ছে। কোনোখানে জনমানবের সাড়াশব্দ নেই, শুধু নীলমণির নৌকোর লগি পড়ছে : ছপ—ছপ—ছপ–

    কাশেম ফকিরের ধানবন। শিরশিরে বাতাস—ধানের শিষে শিষে যেন অশরীরী কান্না। লগির ঘষায় নীলমণির বুড়ো আঙুলের নীচে খচখচ করে জ্বালা করছে।

    হঠাৎ নীলমণির যেন চমক লাগল। যে-জায়গাটার ছাল ছড়ে গিয়েছে সেখানে সাদামতো ওটা কীসের দাগ দেখা যাচ্ছে! চকচক করে উঠছে তারার আলোয়। ঝাড়লণ্ঠনের তীব্র শিখায় মেজোকর্তার হাতে সে যা দেখেছিল—এ কি তাই? কুষ্ঠ?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    টেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }