Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটগল্প – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প745 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চক্রব্যুহ

    চক্রব্যুহ

    সরকার সেলাম–

    বন্দিরা উঠে দাঁড়াল সঙ্গে সঙ্গে। এটা নিয়ম, শান্তি আর শৃঙ্খলার অপরিহার্য অনুশাসন। অবহেলা করলেই ওজনমাফিক পদাঘাত। উঠে দাঁড়াতে এতটুকু দেরি হলে মুখ-থুবড়ানো একটা আছাড় খেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে তার।

    সরকার সেলাম—

    হাতের পর হাত উঠে যাচ্ছে কপালে। যত বিদ্রোহীই হও, যত বাঁকাই হোক ঘাড়, এখানে এলে সব সিধে হয়ে যাবে। নৈতিক আরোগ্যশালায় মানুষের যাবতীয় ব্যাধির চিকিৎসা করা হয়। কেউ বাদ নেই রোগীর দলে। চোর, পকেটমার, লম্পট, আত্মহত্যাকামী, হত্যাকারী, বিনা টিকিটের যাত্রী, ভারত রক্ষা বিধান অমান্যে অপরাধী এবং দেশপ্রেমিক। ব্যাধিগুলি মানসিক হলেও শলাকা প্রয়োগটাই একটু বেশি। পুন্নাম, রৌরব এবং কুম্ভীপাকের ইহলৌকিক সংস্করণ। ইংরেজের জেলখানা থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীটা কেন যে স্বর্গপুরী হয়ে যায় না এইটেই আশ্চর্য!

    এক দুই তিন চার…

    গুনতি করে চলেছে ওয়ার্ডার। পাঁচ ছয় সাত…

    কিন্তু আঠারো নম্বর? আঠারো নম্বর?

    আঠারো নম্বর নেই, কোথাও নেই! চক্ষে বিশ্বাস করা যায় না, ব্যাপারটা স্বপ্ন হলেই ভালো হত। কিন্তু বিশ্বাস না করে উপায় নেই এবং এমন একটা ভয়ানক দুঃস্বপ্ন স্বপ্নই হতে পারে না কখনো। ওয়ার্ডারের মাথায় নীল আকাশ ফুড়ে বাজ নেমে এল কড়াকড় শব্দে।

    ঢন ঢন ঢন…

    আর্ত চিৎকার করে পাগলাঘণ্টি বেজে উঠল। সমস্ত জেলখানা সমুদ্রের মতো মথিত হয়ে উঠল মুহূর্তে। সসাগরা পৃথিবী অর্থাৎ এসডিও থেকে টাউন দারোগা পর্যন্ত এক সুরে আর্তনাদ করে উঠল, আঠারো নম্বর?

    কিন্তু কোথায় কে!

    আঠারো নম্বর তখন একটা মরা নদীর পাশে পাশে গা-ঢাকা দিয়ে হেঁটে চলেছে। দু-পাশে ঘন বাঁশ আর আমের ছায়া। আসন্ন সন্ধ্যায় অমাবস্যা রাত্রির মতো সে-ছায়া কালো হয়ে গেছে। অন্ধকারে অন্য মানুষ তো দূরের কথা, নিজেকেই সে দেখতে পাচ্ছে না। তবু থেকে থেকে শঙ্কিত সংশয়ে সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠছে তার, থমকে দাঁড়িয়ে পড়ছে।

    কেউ কি আসছে? কেউ কি দেখতে পাচ্ছে?

    চমকে থেমে দাঁড়ায় আঠারো নম্বর। হৃৎপিন্ডে রক্ত যেন উছলে ওঠে, মনে হয় বুকের স্পন্দনটা এত জোরে বাজছে যে দু-মাইল দূর থেকেও লোকে তা শুনতে পাবে! পায়ের তলায় শুকনো পাতাগুলো এমনভাবে মচ মচ শব্দ করে কেন? নিজেই কি সে নিজের শত্রু হয়ে দাঁড়াল?

    দপ দপ দপ…

    নদীর ওপারে অত বড়ো কীসের আলো ওটা? জলটা মুহূর্তে ঝলসে উঠল খানিকটা তীব্র আগুনের আকস্মিক দীপ্তিসম্পাতে। নাঃ, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নিতান্তই আলেয়া।

    একটা আম গাছের গুঁড়িতে ঠেসান দিয়ে পলাতক বসে পড়ল। আর চলতে পারছে না সে। সমস্ত দিন পেটে কিছুই পড়েনি, নাড়িভুড়িগুলো খিদেয় একসঙ্গে জড়াজড়ি করছে জ্বলে যাচ্ছে। তা ছাড়া একেবার অক্ষতদেহও সে নয়। অত বড়ো পাঁচিলের উপর থেকে লাফ দিয়ে নীচের মোটা ডালটা ধরবার সময় পাঁজরে একটা চোট লেগেছিল, তীব্র যন্ত্রণা সেখানে টনটন করে উঠছে। জঙ্গলের পথ দিয়ে ছুটে আসবার সময় লাটা গাছের আঁচড়ে দু-পায়ের চামড়া ছিঁড়ে গেছে একেবারে। এখান-ওখান থেকে রক্ত চুইয়ে পড়ছে ধুলোভরা পায়ের পাতার ওপর। পায়ের তলায় অনবরত খচ খচ করে বিধছে, অন্তত ডজন খানেক কাঁটা যে মাংসের ভেতরে ঢুকে নিশ্চিন্তে বিশ্রাম করছে তাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই।

    অহস্য ক্লান্তিতে পা ভেঙে সে বসে পড়ল মাটিতে। পিপাসায় বুকের ভিতরটা পুড়ে যাচ্ছে আর সামনে তারার আলোয় দীপ্তি পাচ্ছে রুদ্ধস্রোতা নদীর কালো জল। সে-জল থেকে দুর্গন্ধ আসছে পচা পাতার, জমাট শ্যাওলার, রাশীকৃত পাঁকের। তবু ওই জলটা তাকে হাত বাড়িয়ে আকর্ষণ করতে লাগল। সমস্ত তৃষ্ণার্ত শিরা-স্নায়ুগুলো যেন একসঙ্গে কোলাহল করে বলতে লাগল–চলো, চলো জুড়িয়ে দাও আমাদের। জ্বলে যাচ্ছি, পুড়ে যাচ্ছি আমরা। চলো, চলো…

    কিন্তু উঠতে গিয়েও আঠারো নম্বর উঠতে পারল না। অত্যন্ত গভীর অবসাদ। জল সে খাবে, তার আগে এক বার বুক ভরে অনুভব করে নেবে তার মুক্তিকে। দীর্ঘ দেড় বছর পরে ফিরে-পাওয়া তার স্বাধীন জীবনানন্দকে।

    তারায় ভরা আকাশটার দিকে সে এক বার তাকাল। অপরিসীম–অপর্যাপ্ত। কোনোখানে এতটুকু ছেদ পড়েনি, কোনোখানে নিষেধের প্রাকার তুলে সেই নীলিমাকে কেউ খন্ডিত করে দেয়নি। জেলখানার প্রাচীরের ভেতর দিয়ে যে-আকাশ সে দেখত—তা যেন তারই মতো বন্দি। সেখানে এক টুকরো মেঘ দেখা দিয়েই পালিয়ে যেত, ফটিক জল পাখি নতুন বর্ষার আনন্দে নেচে যেত শুধু একটি মাত্র মুহূর্তের জন্য। ষাঁড়ের কুঁজের মতো ঢেউ-খেলানো পাঁচিলের ওপারে মর্মরিত ছোটো একটি নারিকেল কুঞ্জের এক ছোপ সবুজ ছাড়া বিশাল পৃথিবীর মহারণ্যের কোনো সংবাদই পাওয়া যেত না।

    আর এই তো দিগন্ত। বন্দি চোখকে মুক্তি দাও—পাঠিয়ে দাও দূরেদূরান্তে। বৃত্তাকার চক্ৰবালে, মাঠের শেষে, বহুদূরের নাম-না-জানা গ্রামের সীমানায়। উড়ে চলে যাও শরতের আকাশের সোনা-ঝরানো আলো পাখায় মেখে নেওয়া নীলকণ্ঠ পাখির সঙ্গে সঙ্গে। নদীর চর পেরিয়ে কাশের বনে, কাশের বনের ওপারে তাল আর খেজুরের বীথিতে, তারপরে আরও দূরে। আকাশের শেষ নেই, অরণ্যের শেষ নেই, দিক প্রান্তরের শেষ নেই, জনপদের ইয়ত্তা নেই এবং মহাপৃথিবীর সীমানা নেই।

    আর মানুষ। শাসন আর ভয়। প্রতি মুহূর্তে শৃঙ্খলের পেষণ। দুর্বাক। পায়ের বেড়িতে ঝনঝন শব্দ তুলে সরকার সেলাম।

    কিন্তু এখানে বহুধা আর বহুব্যাপ্ত জীবন। হাটে বাজারে, খেয়ানৌকোয়, যাত্রা আর জারি গানের আসরে। এখানে বিয়েতে সানাইয়ের সুর লাগে; এখানের বোধনের ঢাক বাজে-বাঁশি বাজে। এখানে মানুষ হাসে, মানুষ কাঁদে। মানুষ ভালোবাসে, মানুষ অপমান করে। কত বিরাট—কত বন্ধনহীন। ঘর এখানে ডাকে, আবার দিগন্ত এসে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    বুক ভরে প্রকান্ড একটা নিশ্বাস নিলে সে। ফাযন এসেছে, আমের বনে ধরেছে মুকুল। বাতাসে ভাসছে মধুর আর মদির গন্ধ। শুকনো পাতার ওপর ঝিরঝির করে চুইয়ে পড়ছে মধু—শব্দ হচ্ছে টুপ-টুপ-টুপ। আঠায় পায়ের তলাটা চটচট করছে।

    মরা নদীর ওপর থেকে বাতাস আসছে। হোক দুর্গন্ধ—তবু মুক্ত বাতাস, তবুও মুক্তির বার্তা। মনে হল যেন এতদিন পরে ওর ফাঁকা আর ফাঁপা ফুসফুসটা পরিপূর্ণ হয়ে গেল। যেন শিরার মধ্যে অচল হয়ে থেমে যাওয়া রক্ত আবার পূর্ণ তেজে বইতে শুরু করেছে।

    আঠারো নম্বর উঠে দাঁড়াল। নিঝুম নিঃশব্দ পৃথিবী, শুধু টুপ-টুপ করে মৌঝরানির শব্দ। এখানে কেউ আর তাকে খুঁজে পাবে না, তার পেছনে পেছনে এতদূরে অন্তত ছুটে আসেনি কেউ। কিন্তু সরকারের শাসন-লোহার বেড়ি এখনও পায়ের গিঁটে খট খট করে বাজছে। সরকারি ডোরাকাটা ফতুয়া আর জাঙিয়া এখনও লজ্জানিবারণ করছে তার। এই রাজকীয় দাক্ষিণ্য থেকে আগে তাকে মুক্তি পেতে হবে।

    কিন্তু উঠে দাঁড়াতেই পায়ে ঠক করে কী-একটা ঠেকল তার। শুধু ঠেকল না, খানিকটা গড়িয়েও গেল যেন। কৌতূহলভরে সেটাকে তুলে নিতে গিয়েই সে আর্তনাদ করে সভয়ে পিছিয়ে গেল। একটা নরমুন্ড। বেশিদিনের পুরোনো নয়, এখনও তার সঙ্গে শুকনো ক্লেদ আর কয়েকগুচ্ছ চুল জড়িয়ে রয়েছে!

    একী ব্যাপার! অন্ধকারের মধ্যে ঝাপসা দৃষ্টিতেও যেন সে স্পষ্ট দেখতে পেল শুধু একটা নয়, পাঁচটা-ছয়টা-সাতটা-আটটা… অগুনতি মানুষের মাথা তার সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। দেড় বছরের মধ্যে এই বহুপরিচিত আমবাগানটা এমনভাবে শ্মশান হয়ে গেল কী করে?

    মুহূর্তে মিথ্যে হয়ে গেল সব। আমের মুকুলের গন্ধ, তারায় ভরা আকাশ, মরা নদীর ঠাণ্ডা জল। মনে হল এখানে যেন থমথম করছে মৃত্যুর বিভীষিকা। ঊর্ধ্বশ্বাসে আমবাগান থেকে ছুটে পালাল আঠারো নম্বর। জীবিতেরা নয়, এখানে মৃতের দল তার পিছনে পিছনে তাড়া করে আসছে।

    নিস্তারণ লোহারের কামারশালা গ্রামের একান্তে।

    ছোটো চালাঘর। সামনের দরজাটা এত ছোটো যে প্রায় হাঁটু ভেঙে ঢুকতে হয় তার ভেতরে। পয়সার অভাবেও বটে, আর খানিকটা ইচ্ছে করেও বটে—ঘরের দরজাটা নিস্তারণ ছোটোই রেখেছে। ঢোকবার সময় শত্রু অর্থাৎ পুলিশকে যাতে অনেকক্ষণ দ্বিধা করতে হয় এবং সেই ফাঁকে দরকারি দু-চারটে জিনিস সে নিরাপদে হাতসাফাই করে ফেলতে পারে। পুলিশের গভীর সন্দেহ তার ওপরে। সে নাকি লোহার ছাঁচ তৈরি করে দিয়ে স্বদেশি টাকা প্রসারের ব্যাপারে সহায়তা করে থাকে।

    নিস্তারণ অবশ্য সেজন্যে গর্বিত। এদিক থেকে স্বদেশি বাবুদের সঙ্গে এক-জাতীয় একাত্মতা অনুভব করে সে। তোমরা দিশি খদ্দর পর, তোমরা বিলিতিকে বাদ দিতে চাও, তোমরা বোমা তৈরি করে রাতারাতি স্বাধীনতা আনতে চাও। সেদিক থেকে আমিই-বা কম কী। আমিও স্বদেশি জিনিস তৈরি করছি; বিদেশিকে প্রাণে না মেরে তার পকেট মারছি, হরে দরে দুটোই এককথা। তা ছাড়া রোমাঞ্চ এবং উত্তেজনা আমার ক্ষেত্রেও একেবারেই কম নয়।

    আর নিস্তারণ নিজেও ছোটোখাটো মানুষ। ভেতরে ঢুকতে এর চাইতে বড়ো দরজা তার দরকার হয় না। কৈফিয়ত হিসেবে এইটুকু বললেই তার যথেষ্ট।

    সেই ছোটো দরজাটার ঝাঁপ খোলা। আর তাই থেকে এক টুকরো লাল আলো বাইরে দপ করে ঝলকে পড়ছে আবার নিবে যাচ্ছে। দশ-বারোটা মহিষের নিশ্বাস টানবার মতো শব্দ উঠছে একসঙ্গে—হাপর। ঝনঝন করে ভেতরে হাতুড়ির ঘা পড়ছে আর খোলা দরজার পাশে আগুনের ফুলকি উড়ে উড়ে এসে বাইরের জোনাকির ঝাঁকের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

    নিস্তার দা, নিস্তার দা!

    হাপরের দীর্ঘশ্বাসে নিস্তারণ শুনতে পেল না। আবার দরজায় টোকা দিয়ে তীব্র চাপা স্বরে সে ডাক দিলে, নিস্তারণ দা আছ?

    বাইরে লাল আগুনের যে আভা পড়ছিল, এক বার দপ করে উঠেই নিবে গেল সেটা। ঝনাৎ করে একটা প্রচন্ড শব্দ করেই বন্ধ হল হাতুড়ি। শেষ ঝাঁক জ্বলন্ত লৌহকণার জোনাকি এসে অন্ধকারের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সদাসন্দিগ্ধ নিস্তারণের ঘর স্তব্ধ হয়ে গেল একটা রহস্যময় নীরবতায়।

    নিস্তার দা, ঘরে আছ কি?

    কে? লোহার হাতুড়িটা শক্ত করে বাগিয়ে ধরে মিশকালো রঙের প্রৌঢ় বেঁটে জোয়ানটা তীক্ষ্ণ গলায় জিজ্ঞাসা করলে, এত রাত্রে কে ডাকছে?

    আমি বাঞ্ছা।

    বা–ঞ্ছা?

    যেন ঘরের মধ্যে বোমা ফেটেছে একটা, নিস্তারণ থ মেরে রইল এক মুহূর্ত। গলার স্বরটা চিনেছে, তবু শেষপর্যন্ত না আঁচালে বিশ্বাস নেই।

    বাঞ্ছা! কোন বাঞ্ছা?

    আমাকে চিনতে পারছ না গো? সোনাডাঙার বাঞ্ছা হাড়ি?

    দরজার পথে নিস্তারণ লোহার এসে দাঁড়াল। সাড়ে তিন হাত মিশকালো মানুষ, হাত দুটো প্রায় হাঁটুতে গিয়ে ঠেকে। গায়ে জামা নেই—হাপরের আবছা আলোয় দেখা যায় সাপের পাকের মতো যেন তার সারা গায়ে মাংসপেশি আবর্তিত হয়ে খাচ্ছে। মুখের ওপর ধবধবে সাদা এক জোড়া গোঁফ গায়ের ঘোর কালো রঙের সঙ্গে আশ্চর্যভাবে ছন্দ মিলিয়েছে।

    তুই কোত্থেকে এলি এ সময়ে?

    আস্তে, চেঁচিয়ো না। আমার দিকে তাকিয়ে দ্যাখো-না এক বার।

    তাই তো। পায়ে বেড়ি, গায়ে সরকারি জাঙিয়া। পলাতকের ক্লান্ত দুর্গম পথ তার শরীরের সর্বত্র প্রত্যক্ষ প্রকট চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

    কী সর্বনাশ, তুই ফাটক থেকে পালিয়েছিস নাকি?

    পালালাম তো। কদ্দিন আর ভালো লাগে বলো। তিন বছর মেয়াদ হয়েছিল। দেড় বছর খেটেছি, আর থাকতে ইচ্ছে করল না।

    পালিয়ে এলি কী করে?

    বাঞ্ছা দু-তিনটে পোকাধরা দাঁত বের করে আপ্যায়নের হাসি হাসল এইবারে। বললে, যেমন করে পালাতে হয় তেমনি করেই। পাঁচিল টপকে, মাঠ-ঘাট বন-জঙ্গল দিয়ে।

    আয় আয়, ভেতরে আয়। কেউ আবার টপ করে দেখে ফেলবে। নিস্তারণ হাত ধরে তাকে কামারশালার ভেতরে টেনে নিয়ে এল। পেছনে ছোটো ঝাপটা ধড়াস করে দিলে আটকে।

    ঘরের মধ্যে পোড়া কাঠকয়লার গন্ধ, পোড়া লোহার গন্ধ, হাপরের পুরোনো চামড়ার গন্ধ। একপাশে একটা লণ্ঠন মিটমিট করছে। আগুনের মধ্যে পুড়ে গনগন করছে লোহা। ছোটো ঘর, কোনোখানে একটি জানলা নেই, কোথাও এতটুকু আলো আসবার অনাবশ্যক পথ রাখেনি নিস্তারণ। একটা গুমোট গরমে হঠাৎ যেন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে এল বাঞ্ছার।

    নাও আগে বেড়িটার একটা ব্যবস্থা করে দেখি নিস্তার দা। ভদ্দরলোক না হতে পারলে আর ভালো লাগছে না।

    ছেনি দিয়ে বেড়ি কাটতে কাটতে নিস্তারণ বললে, পালিয়ে তো এলি, এখন থাকবি কী করে।

    সে ভাবতে হবে না, একটা ব্যবস্থা করে নেবই।

    কট। বেড়িটা দু-খানা হয়ে নীচে পড়ে গেল। শৃঙ্খলের অবসান। বাঞ্ছা নিজের পায়েই এক বার হাত বুলিয়ে নিলে।

    নাঃ, কোনোখানে কিছু বাজছে না। দু-পা হেঁটে দেখল সারাক্ষণের সে গুরুভারটা দূর হয়ে গেছে। আঃ! কী আশ্চর্য একটা মুক্তির অনুভূতি।

    নিস্তারণের ঘরে বসে যে ছোটো ছেলেটা হাপর টানছিল, সে-ই একটা গাঁজার কলকে এগিয়ে দিলে। হলদে রঙের ন্যাকড়াটা জড়াতে জড়াতে নিস্তারণ বললে, দিবি নাকি একটান।

    নাঃ। বাঞ্ছা হাসল, এবার ওসব ছেড়েই দেব ভাবছি।

    উঁঃ? নিস্তারণ সাদা-কালো জ্বর নীচে চোখ দুটোকে বার কয়েক নাচিয়ে নিলে। দেখছি এবারে জেল খেটে তুই সত্যিই মানুষ হয়ে এলি।

    বাঞ্ছা এবারেও নিরুত্তরে হাসল।

    তাহলে সিঁদকাঠির আর দরকার হবে না?

    বোধ হয় না।

    যাক বাঁচলি তাহলে। একমুখ ধোঁয়া ছড়িয়ে নিস্তারণ বলল, কিন্তু এখন কী করবি? পুলিশ তো ফেউয়ের মতো পিছনে লেগেছে, ধরলে পাক্কা পাঁচটি বছর ঠুকে দেবে।

    বাঞ্ছা বললে, তাই ভাবছি। এখন যাচ্ছি বউয়ের কাছে—শ্বশুরবাড়িতে। রাতারাতি ওকে তুলে নিয়ে অসমের দিকে চলে যাব। ওদিকে তো শুনেছি যুদ্ধ হচ্ছে, ঢের কুলি খাটছে, তাদের সঙ্গেই…

    কুঞ্চিত মুখে নিস্তারণ চুপ করে রইল খানিকক্ষণ। থেকে থেকে হাপরের আগুনের এক একটা লাল আভা তার মুখের ওপর এসে পড়তে লাগল।

    জেলেই বোধ হয় ভালো ছিলি বাঞ্ছা!

    কেন? বাঞ্ছা বিস্মিত দৃষ্টিতে নিস্তারণের রহস্যমন্ডিত মুখের দিকে তাকাল।

    না, সে থাক।

    বাঞ্ছা উদবেগ বোধ করতে লাগল। নিস্তারণের কথার মধ্যে কেমন একটা সুর আছে, নিহিত আছে এমন একটা ইঙ্গিত যাতে সমস্ত মন সংশয়ে আচ্ছন্ন করে তোলে। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে নিস্তারণের মুখের দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে বললে, নিস্তার দা।

    কী বলছিলি?

    শেখ বাড়ির আমবাগানে অত মড়ার হাড় কেন?

    নিস্তারণ মুখের পাশে গাঁজার ধোঁয়ার কুন্ডলী রচনা করতে লাগল–মানুষ মরেছে।

    অত মানুষ! কী হয়ে মরল?

    কী হবে আবার, মরতে হয় তাই মরেছে। সে যাক। তুই রাত্তিরটা এখানেই থাকবি না। চলে যাবি বউয়ের কাছে?

    চলেই যাই। বাঞ্ছার মুখে একসঙ্গে উৎকণ্ঠা আর অস্বস্তি প্রকাশ পাচ্ছে। আমার যেন কীরকম লাগছে নিস্তার দা। এই দেড় বছরে দেশটা এত বেশি বদলে গেল নাকি?

    সবই তো বদলায়। পৃথিবী যে বদলাল তাতে আর আশ্চর্য কী।

    আবার খানিকটা নীরবতা। হাপরের হাওয়ায় আগুন চমকে উঠছে। নিস্তারণের মুখের ওপর খেলা করে যাচ্ছে হিংস্র একটা আরক্ত আভা।

    নিস্তারণ বললে, থাক, ওসব কথা থাক। যাবি তো সরকারি কাপড়চোপড় বদলে যা। একটা ছেঁড়া ধুতি দিয়ে দিই বরং। ও-বেশে রাস্তায় বেরুলে তো রক্ষা থাকবে না।

    রাত বাড়ছে। অন্ধকার মেঠোপথ দিয়ে এগিয়ে চলল বাঞ্ছা। তারায়-ভরা মুক্ত আকাশের আশীর্বাদ, তমসাবিকীর্ণ বিস্তীর্ণ পৃথিবীর আহ্বান। রাত্রির পাখি ডাকছে, শিরশির করে বয়ে যাচ্ছে হাওয়া। কারণে অকারণে কুকুর ডেকে উঠছে, দূরদূরান্ত থেকে তার উত্তর আসছে।

    মুক্তি। পায়ে বেড়ি নেই, আঁটোসাঁটো জাঙিয়া নেই। ষাঁড়ের কুঁজের মতো ঢেউ-খেলানো প্রাচীরের আড়ালে অবরুদ্ধ জগৎ। সেলের ভিতর থেকে খুনি আসামিট থেকে থেকে পাগলের মতো চিৎকার করে ওঠে। পাথর ভাঙতে ভাঙতে শিস দিয়ে একটা অশ্লীল গান গেয়ে ওঠে একজন। হঠাৎ আসে ভোজপুরি ওয়ার্ডারটা। যমদূতের মতো চেহারা, সিদ্ধির নেশায় দুটো টকটকে রাঙা চোখ। বাপবাপান্ত ছাড়া আর কোনো সম্ভাষণই জানে না সে।

    অ্যাও শালা-ক্যা হোতা হ্যায়?

    ক্যা হোতা হ্যায় জমাদারজি?

    আর জমাদারজি। লাথিটা ঠিক জুতমাফিক এসে পড়েছে। পাথরের ওপর পড়েছে মুখটা, ঠোঁটটা ঘেঁচে গেছে খানিক। দাঁতের গোড়া দিয়ে রক্ত পড়ছে।

    তবু সে-অবস্থায়ও হাসতে হয়।

    সমস্ত মুখটা রক্তে রাঙা হয়ে গেছে। দুই কষে রক্ত, তবু একটা বিগলিত চরিতার্থ হাসি। যেন জমাদার লাথি মারেনি, পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করে দিয়েছে মাত্র।

    কসুর মাপ করো জমাদারজি।

    সরকার সেলাম…

    নকিবের হুঙ্কার। এ প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত—আর্যাবর্ত-দাক্ষিণাত্য নিনাদিত রাজকীয় ঘোষণা। যে যে-অবস্থায় আছ উঠে দাঁড়াও, সেলাম ঠোকো।

    বীভৎস জীবন। নরক। অমানুষিক দুঃস্বপ্ন। তারায় ভরা আকাশের নীচে আর মেঠো আলোর পথ দিয়ে চলতে চলতে সেটাকে অবিশ্বাস্য আর অসম্ভব ঘটনা বলে মনে হয়।

    মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে আছে গ্রামগুলো। নীড় স্বপ্ন দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে গড়া মানুষের ঘর। এখানে দুঃখ নিজের, ব্যথাও নিজের। প্রতি মুহূর্তে দুঃসহ অপমানের পীড়ন নেই। বাঞ্ছা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে ক্লান্ত পায়ে হাঁটতে লাগল। অত্যন্ত খিদে পেয়েছে—মাথা ঘুরছে। ইচ্ছে করছে প্রতি মুহূর্তে পথের ওপর লুটিয়ে পড়তে, বুকের মধ্যে খানিকটা অবাধ বাতাস টেনে নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়তে।

    কিন্তু না, থামলে চলবে না। এখনও সামনে অনেক পথ বাকি—অনেক গ্রাম, অনেক মাঠ, দু-খানা হাটখোলা। একদিন এক রাত্রির রাস্তা। আর নিস্তারণ লোক ভালো, আসবার সময় আট গন্ডা পয়সা দিয়ে দিয়েছে সঙ্গে; ওই দিয়েই যা হয় খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে।

    বাঞ্ছা জোর করে শক্তি সংহত করে নিলে শরীরে, দৃঢ় আর দ্রুতপায়ে চলতে শুরু করে দিলে। মাঠের হাওয়ায় পাঁজরের টনটনে ব্যথাটা জুড়িয়ে আসছে, পায়ের তলায় কাঁটার তীক্ষ্ণখোঁচাগুলো তেমন করে আর বিঁধছে না। কিন্তু গ্রামগুলো এমন ঘুমন্ত কেন! একটা গানের কলি, জারি গানের একটি সুরও কোনোখান থেকে ভেসে আসছে না কেন! শুধু শেয়াল-কুকুর ছাড়া দেশে আর মানুষ নেই নাকি! দূরে দূরে আলেয়া ছাড়া লণ্ঠন হাতে একটা লোকও চলছে না। দেড় বছরে বাংলাদেশ কি এতই ঘুমকাতুরে হয়ে গেল!

    এক দিন, এক রাত। সন্ধ্যা ঘোর হয়ে আসছে। বাঞ্ছা এসে দাঁড়াল মঙ্গলবাড়ির মাঠের ধারে।

    ওই তো গ্রাম। ঝাঁকড়া তেঁতুল গাছটা পার হলেই বদন চৌকিদারের ঘর। তার শালা। কিন্তু এতক্ষণে বাঞ্ছার মনটা ভরে উঠল সংশয়ে। যাবে কি যাবে না।

    পথে আসতে আসতে অনেক জিনিসই তার নজরে পড়েছে। নতুন রাস্তা হয়েছে যেখানে সেখানে, ঝকঝকে তকতকে পাথর-ফেলা রাস্তা। মাঝে মাঝে নতুন নতুন গ্রাম বসেছে। বড়ো বড়ো আটচালা, এক ইটের কোঠাঘর, টিউবওয়েল। প্রকান্ড প্রকান্ড মোটর সেইসব নতুন রাস্তা ধরে নতুন গ্রামের দিকে এগিয়ে চলেছে। মিলিটারি কলোনি।

    এই কি তার চেনা দেশ? দেড় বছর আগেকার দেশ? এখানকার মানুষগুলো কেমন করে কথা বলে! দু-পয়সা দামের জিনিস বারো পয়সা। তার দিকে ফিরেও কেউ তাকায় না। সকলের চোখ মাটির দিকে আর হলদে রঙের কুর্তিপরা সাদা-কালো মিলিটারিদের দিকে। সে যেন এখানে অনাবশ্যক, যেন বিদেশে এসে পড়েছে কোথাও।

    চেহারা বদলেছে পৃথিবীর, চেহারা বদলেছে মঙ্গলবাড়ির। এখানেও মাঠের মধ্যে নতুন মিলিটারি উপনিবেশ। বিকৃত কণ্ঠের গান ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। দৈত্যের মতো বড়ো বড়ো চোখের আগুন ছড়িয়ে পেট্রোলের গন্ধে চারদিক ভরিয়ে দিয়ে ছুটছে মোটর, যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ওই গ্রামে, ওই তেঁতুল গাছের ছায়ার নীচে বদন চৌকিদারের ঘরটা এখনও কি টিকে আছে? মল্লী কি বেঁচে আছে এখনও?

    একটা অনিশ্চিত সন্দেহে বাঞ্ছার হাত-পা কাঁপতে লাগল, বুকের ভেতরটা শুকিয়ে আসতে লাগল। যদি মল্লী মরে গিয়ে থাকে? যদি পথে-ঘাটে ছড়ানো অসংখ্য নরমুন্ড আর শুকনো পাঁজরের মধ্যে মিলিয়ে থাকে সেও? এই দেড় বছরের মধ্যে যে বাংলাদেশে মন্বন্তর বয়ে গেছে সে-খবর জানতে পেরেছে বাঞ্ছা। কে আছে আর কে যে নেই আজ তা অনুমান করাও শক্ত।

    বাঞ্ছা অন্ধকারময় মঙ্গলবাড়ির দিকে তাকিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। কী করবে সে, যাবে ওখানে? এতক্ষণে নিস্তারণের কথার অর্থটা তার কাছে যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল। এমনভাবে না পালিয়ে জেলে থাকলেই ভালো করতিস বাঞ্ছা।

    কিন্তু কতদিন মল্লীকে দেখেনি সে। তার মল্লী–সপ্তদশী সুন্দরী মল্লী। হালকা, চটুল। বুকের মধ্যে আঁকড়ে ধরলে সাপের মতো পিছলে যায়। মল্লীকে বিয়ে করে নেশা ধরে গিয়েছিল তার, বাইরে বেরোনোর বদ অভ্যাসগুলো একরকম ভুলেই গিয়েছিল। প্রদীপের আলোয় নির্জন ঘরে মল্লীর সেই চোখ, সেই খিলখিল করে হাসি!

    বাঞ্ছার রক্ত চঞ্চল হয়ে উঠল। না না, মরতেই পারে না মল্লী। এমন সুন্দর! এমন অপরূপ! আত্মবিস্মৃতের মতো সে এগিয়ে চলল।

    বদনের ঘর তেঁতুল গাছের ছায়ায় ঠিক আছে। কোথাও এতটুকু রূপান্তর নেই তার। বরং বাড়িটার শ্রী ফিরেছে আগেকার চাইতে। বাইরে নতুন দাওয়া, তাতে শালের খুঁটি, কয়েকটা ছোটো-বড়ো কাঠ আর বেতের বসবার আসন। বোঝা যাচ্ছে আগের চাইতে সামাজিক হয়েছে বদন।

    কী বলে ডাক দেবে ভাবতে ভাবতে সামনের দরজাটা খুলে গেল আর সামনে এসে দাঁড়াল একটি মেয়ে। হাতে তার প্রদীপ। মুহূর্তে বাঞ্ছা বিমূঢ় আর আচ্ছন্ন হয়ে গেল। সুন্দরী তরুণী মেয়ে। রঙিন শাড়িপরা—মুখে প্রসাধনের চিহ্ন, যেন রূপকথার রাজকন্যার মতো

    সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। বাঞ্ছা কী বলবে ভেবে পেল না, শুধু গলা দিয়ে একটা অব্যক্ত অস্ফুট শব্দ বেরিয়ে এল।

    মেয়েটি চমকে গেল। হাতের প্রদীপটা তুলে ধরে বললে, কে?

    আ—আমি। বাঞ্ছার স্বর জড়িয়ে আসতে লাগল।

    আমি কে? মেয়েটির গলার সুর কঠিন।

    আমি, আমি বাঞ্ছা। আমাকে চিনতে পারছিস না মল্লী?

    অ্যাঃ!

    মল্লী পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল, তার হাত কাঁপতে লাগল, কাঁপতে লাগল তার হাতের প্রদীপের শিখাটা। যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেছে দুজনে। বিমূঢ় বিহ্বল বাঞ্ছা ভাবতে লাগল–মল্লী কি জানতে পেরেছিল আজ সে আসবে। তারই জন্যে প্রতীক্ষা করছিল এমনভাবে, তাকে বুকের ভিতরে টেনে নেবে বলে? কিন্তু মল্লীর চোখ-মুখ দেখে তা তো মনে হওয়ার উপায় নেই।

    আর মল্লীর যেন বাকরোধ হয়ে গেছে। স্বামীকে দেখছে না—দেখছে একটা প্রেতমূর্তি। মুখের ওপর ভয় আর সংকোচের ছায়া নিবিড় হয়ে নেমে এল তার।

    মল্লীর ঠোঁটই আগে নড়ে উঠল।

    ভিতরে এসো।

    ঘরে ঢুকে মল্লীও দরজা বন্ধ করে দিলে। কিন্তু বাঞ্ছার আর বাকস্ফুর্তি নেই। এ কার ঘর! খাটের ওপরে পুরু করে বিছানা পাতা, তাতে ধবধবে চাদর। একটা ছোটো টেবিলে এক টিন সিগারেট, দেশলাই। পেটমোটা রুপোর সিল-করা বোতল, গেলাস। বাঞ্ছা স্বপ্ন দেখছে না কি?

    এ ঘর তোমার?

    হ্যাঁ আমার।

    কিন্তু এসব পেলে কোথায়? কী এ-সমস্ত?

    সেকথার কোনো জবাব দিলে না মল্লী। বললে, পরশু রাতে তুমি পালিয়েছ শহরের জেল থেকে?

    হুঁ।

    এখানে খবর এসেছে। দাদার মতিগতি খারাপ, তোমাকে দেখলেই ধরিয়ে দেবে। এখনি পালাও।

    ধরিয়ে দেবে! পালাব? কেন?

    কেন? মল্লী হাসল, হাসিটা কান্না না একটা বীভৎস মুখভঙ্গি! বুঝতে পারছ না এখনও? দেখে আসনি মিলিটারিদের আস্তানা? ঘরের চেহারা দেখছ না? বুঝতে পার না এত বড়ো আকালে আমরা বেঁচে আছি কী করে—রাজার হালে আছি?

    রূপকথার গল্পে ডাইনির চুলের ছোঁয়ায় পাথর হয়ে গিয়েছিল রাজপুত্র। বাঞ্ছার গায়েও যেন সেই ডাইনির সাপের মতো চুলের ছোবল লেগেছে এসে। পায়ের থেকে মাথা পর্যন্ত যেন হিম হয়ে আসছে তার—যেন জমে যাচ্ছে। শুধু বিহ্বল দৃষ্টিতে সে দেখছে কী চমৎকার সাজানো ঘরখানা। রাজবাড়ির মতো বিছানা, রাজকন্যার মতো সেজেছে মল্লী। তার গায়ের থেকে আসছে পাউডারের গন্ধ। টেবিলে দেশলাই, সিগারেট, মদের বোতল, গ্লাস। যুদ্ধার্থী বীরের জন্য প্রেমমাল্য নিয়ে প্রতীক্ষা করছে বীরভোগ্যা সুন্দরী নারী।

    বাইরে নাগরা জুতোর শব্দ। মল্লীর মুখ পাংশু হয়ে গেল।

    হাঁক দিলে বদন চৌকিদার, মল্লী!

    পান্ডুর মুখে মল্লী জবাব দিলে, উ?

    ঘরে লোক আছে?

    হুঁ। এক মুহূর্ত বাঞ্ছার বলির পশুর মতো চেহারাটার দিকে তাকাল সে। তারপর জবাব দিলে, সায়েব এসেছে।

    আচ্ছা।

    পায়ের নাগরা জুতো মচমচিয়ে বদন বেরিয়ে গেল।

    আজ আর মল্লীর পরিচয় বাঞ্ছার স্ত্রী হিসেবে নয়। মিলিটারিদের গণিকা সে-বদনের উপজীবিকা, স্বাচ্ছন্দ্য, সচ্ছলতা। এত বড়ো পৃথিবী— মুক্ত পৃথিবী—তারায় ভরা আকাশ, নিঃসীম দিগদিগন্ত, কিন্তু বাঞ্ছার স্থান কোথায়? আশ্রয় কোথায়? চারদিক থেকে কঠিন ফাঁসির দড়ি তার গলায় আটকে পড়বার জন্য এগিয়ে আসছে। চারদিকের পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে আসছে, জেলখানার ষাঁড়ের কুঁজতোলা পাঁচিলের চাইতেও আরও—আরও—আরও সংকীর্ণ।

    অন্ধকারের মধ্যে মাঠ ভেঙে ছুটেছে বাঞ্ছা। কে যেন তাকে পেছনে পেছনে তাড়া করে আসছে। পুলিশ নয়, চৌকিদার নয়। তারায় ভরা আকাশ, সীমাহীন পৃথিবী, অসীম মুক্তিই আজ তাকে গ্রাস করতে চায়—হত্যা করতে চায়।

    থানায় গিয়ে ধরা দেবে সে। বলবে দয়া করো, দয়া করো আমাকে। জেলে পাঠিয়ে দাও। পাঁচ বছর নয়, দশ বছর নয়—যাবজ্জীবন। দ্বীপান্তর। কালাপানির ওপারে যেখানে সমুদ্র, যেখানে এত বড়ড়া পৃথিবীটা কারও শক্ত হাতের মুঠির মতো ছোটো হয়ে গেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    টেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }