Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটগল্প – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প745 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মৃত্যুবাণ

    মৃত্যুবাণ

    (পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দুর্দান্ত অফিসার জ্ঞান লাহিড়ীর নাম সাধারণের কাছে ততটা না হলেও, সারা ভারতের পুলিশ বিভাগে আর অপরাধী জগতেও অতি-পরিচিত ছিল। পুলিশ বিভাগে সংক্ষেপে জেল (জে-এ) আর সমাজে বিরোধীদের কাছে GUN নামে তাঁর যে পরিচিতি ছিল, সেটাই তাঁর গোয়েন্দাজীবনের সাফল্য ও দুর্ধর্ষতা জানিয়ে দেয়।

    এহেন একজন ব্যক্তি জীবনের মাঝখানেই হঠাৎ যখন স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছিল। জ্ঞানবাবুর মৃত্যুর অনেক বছর পর তাঁর একটা ব্যক্তিগত ডায়েরি পাওয়া যায়। তাতে অবসরগ্রহণের যে কারণ লেখা ছিল, সেটা পুলিশ বিভাগকে আরও হতভম্ব করেছিল। সেই ডায়েরি থেকে তাঁরই ভাষায় উদ্ধৃত করছি। শুধুমাত্র বিশেষ কারণে জ্ঞানবাবুর বন্ধুর নামটি এখানে বদলে দেওয়া হয়েছে।)

    কাগজে খবরটা বেরিয়েছে বেশ ফলাও করে। কারণ লেখা হয়েছে, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় যান্ত্রিক বিস্ফোরণ এবং তাতে দুর্বল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু। এবার আমি একদিক থেকে নিশ্চিন্ত। কিন্তু অন্য এক পাপবোধ আমার বুকে যেন মৃত্যুবাণের চেয়েও তীব্রভাবে বিধে যাচ্ছে সবসময়ে। তাই এই গোয়েন্দাজীবনের কাজ থেকে অবসর নিয়ে অন্য কোনও শান্ত কর্মজীবন বেছে নেব।

    স্বাস্থ্যের কারণ অজুহাতটা উঁচু মহল থেকে আরম্ভ করে কেউই বিশ্বাস করবে না হয়তো। কিন্তু আসল কারণটা–সেটা লেখা থাক আমার এই ব্যক্তিগত ডায়েরিতেই।

    তা-ও লিখব না ভেবেছিলাম। এই ডায়েরিতে অনেক কথাই লেখা আছে। অনেক অভিযানের কথা। খুন, চুরি, ডাকাতির কথা। কিন্তু এর কাছে তাদের অপরাধ তো সাধারণ স্তরের, ধরাছোঁয়ার মধ্যে! তাই ভেবেছিলাম, এই লেখা একদিন প্রকাশ হয়ে পড়লে হয়তো আবার কোনও বিকৃতমস্তিষ্ক প্রতিভাধর সেই অস্ত্রের অধিকারী হয়ে সমাজে বিপর্যয় আনবে। কিন্তু পরে ভাবলাম, বৃথা দুশ্চিন্তা। প্রকৃতির নিয়মেই তো এইসব অপরাধীর পতন ঘটে, হোক-না সে যত শক্তিরই অধিকারী। রামায়ণ-মহাভারত থেকে ইতিহাসের পাতায় তো শুধু সেই দৃষ্টান্ত। নইলে কেনই বা দুলাল পাত্র এত লোক থাকতে আমার সঙ্গেই দেখা করতে এসেছিল?

    ঘটনাটা প্রথম থেকেই লিখে রাখি।

    .

    ১৫ মার্চ, শনিবার। সন্ধে প্রায় সাতটা।

    একটা বিখ্যাত খুনের কেসের প্রায় সুরাহা করে এসে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছি। কিছুক্ষণ। এমন সময় বেহারা এসে একটা স্লিপ দিয়ে গেল। জনৈক দুলাল পাত্র আমার দর্শনপ্রার্থী। সাধারণত আমার সঙ্গে অপরিচিত লোকের দেখা করার ব্যাপারে একটু কড়াকড়ি রক্ষা করা হয়। কার্যোপলক্ষ্যে শত্রু আমার অনেক। তাই ঘরে ঢোকার আগে যন্ত্রের সাহায্যে দেখে নেওয়া হয় তাদের কাছে কোনও অস্ত্র আছে কি না। তা ছাড়া ডিপার্টমেন্টের লোক ছাড়া সাধারণত কেউ ব্যক্তিগত ব্যাপারে আমার কাছে আসেও না। কারণ আমি প্রাইভেট ডিটেকটিভ নই।

    কিন্তু দুলাল পাত্র এসেছে এখানকার ধনী ব্যবসায়ী এবং এককালের খ্যাতনামা বৈজ্ঞানিক নির্মাল্য সিংহরায়ের কাছ থেকে। শুধু তা-ই নয়, নির্মাল্য আমার কৈশোরের বন্ধু ও সহপাঠী।

    মনে পড়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়ার দিনগুলোর কথা। আধময়লা ইস্তিরিবিহীন জামাকাপড় পরে নির্মাল্য কলেজে আসত। একমাথা চুল প্রায়ই আঁচড়াতে ভুলে যেত। পরীক্ষায় অঙ্কে যে ছেলে প্রায়ই পুরো নম্বর পেত, সে-ই আবার পয়সার হিসেব রাখতে না পেরে দোকান-বাজারে ঠকে বেড়াত। সেই নির্মাল্যই যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উজ্জ্বল রত্ন হয়ে বিলেতে পাড়ি দিল, তখন আমরা বলাবলি করতাম, ওখানে ভুল করে শুধু গেঞ্জি গায়ে কলেজে হাজির হলেই চিত্তির। আর্কিমিডিসের সময় ওসব চলত।

    এত আত্মভোলা লোক হলে কী হবে, কেউ তাকে ঠকিয়েছে জানলে নির্মাল্য খেপে লাল হয়ে যেত। চোর-ডাকাত-পকেটমার সবাইকেই সে অহরহ ফাঁসি দিত। আমরা বলতাম, ভাগ্যিস তুই জজ হবি না।

    একবার তাদের বাড়ির ছাদ থেকে রাস্তায় একটা মোটা লোককে দেখিয়ে আমাকে বলেছিল, চিনির ব্ল্যাক করে লোকটা লাল হয়েছে। একদিন ছাদের ওপর থেকে দেব ওর মাথায় কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক অ্যাসিড ঢেলে। আমি উত্তর দিলাম, দিয়েই দেখ-না। লোকে তোকেই ধরবে। লোকটার কালোবাজারি করার কোনও প্রমাণ দেখাতে পারবি? তোর প্রমাণ হাতেনাতে।

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে বলল, সেই তো হয়েছে মুশকিল। আড়াল থেকে মৃত্যুবাণ যদি মারা যেত।

    হেসে উত্তর দিলাম, ওসব বাচ্চাদের মনোভাব। গায়ের জোরে কারও সঙ্গে না পারলে তারা ভাবে, আহা, আমার যদি কোনও অলৌকিক শক্তি থাকত! ঠিক অরণ্যদেবের মতন।

    কর্মজীবনে আমার আর নির্মাল্যর পথ দু-দিকে চলে গেল। বৈজ্ঞানিক নির্মাল্যর সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকলেও ব্যবসায়ী নির্মাল্যর সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ অনেক কমে গেল। তার মতো আত্মভোলা লোক ব্যাবসার ক্ষেত্রে নাম করেছে, এতে বেশ অবাক হলেও তার ওপর রাগও হয়েছিল। আমার বিশ্বাস ছিল, বিজ্ঞানে সে বিশ্বজোড়া নাম পেত। আমার দেশের সম্মান বাড়ত। আজ হঠাৎ নির্মাল্য আমার কাছে লোক পাঠিয়েছে শুনে তখনই তার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হলাম।

    দুলাল পাত্র লোকটা–লোকটা না বলে ছেলেটা বললেই বোধহয় ঠিক হয়–তার নামের মতোই নিরীহ আর শান্ত। বয়স কুড়ির কমই হবে। ধুতির ওপর ফুলহাতা শার্ট। চুলের প্রচুর তেল কপালের কিছুটাও তৈলাক্ত করেছে। চোখের মধ্যে সারল্য আছে, একেবারে বুদ্ধিহীন সারল্যও নয়। তবে যাকে বলে স্মার্টনেস, সেটা স্বাভাবিকভাবেই অনুপস্থিত। দেখেই বোঝা যায়, শহরের জলে তার গ্রাম্যতা এখনও ধুয়ে যায়নি।

    ঘরে ঢুকেই তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কী ব্যাপার, নির্মাল্যর খবর কী?

    ছেলেটা যেন চমকে উঠল। তারপর ভীতভাবে এদিক-ওদিক চাইতে লাগল। আমি তার এই হাবভাবে একটু ঘাবড়ে গেলাম। তবে কি নির্মাল্যর কোনও বিপদ ঘটেছে?

    দরজার পাশে দাঁড়ানো প্রহরীকে সরে যেতে দেখে দুলাল বলল, আমাকে সে গোপনে কিছু কথা বলতে চায়। কিছুই বুঝতে পারলাম না, তবু বললাম, সে স্বচ্ছন্দে এখানেই সে কথা বলতে পারে। অভ্যাসবশত আমার আঙুলের চাপে টেবিলের তলায় ফিট-করা টেপরেকর্ডারটাও চলতে শুরু করল।

    দুলাল যা বলল, তা অবিশ্বাস্য আর হাস্যকর মনে হলেও সুদূর অতীত ছাত্রজীবনের একটা কথা মনে পড়ে যাওয়াতে সবই শুনে গেলাম।

    দুলাল বলল, সে নির্মাল্যর ইউরেকা ল্যাবরেটরি ইন্সট্রুমেন্টস-এর একজন কর্মচারী। নির্মাল্যর বাড়ির তলাতেই অফিস। সে সব সময়ের জন্যে ওই বাড়িতেই থাকে। তারা ওসব যন্ত্রপাতি তৈরি করে না। দেশ-বিদেশ থেকে এনে সাপ্লাই দেয়। এই কাজে লাভ আছে ঠিকই, কিন্তু নির্মাল্যবাবুর আসল টাকা তাতে আসেনি। তিনি তন্ত্রসাধনা করে বাণ মারতে পারেন।

    তাদের গ্রামে নাকি এরকম একজন লোক ছিল, ঠাকুমার কাছে শুনেছে। যার নামে মন্ত্র পড়ে বাণ মারবে, সে যেখানেই থাকুক-না কেন, রাত না পোয়াতেই মুখে রক্ত উঠে মরে যেত। দিল্লিতে এক বিখ্যাত নেতা হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা যায়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক নেতাকে তার আগে নির্মাল্যবাবুর সঙ্গে কথাবার্তা বলতে দেখা গিয়েছিল। কিছু দিন আগেও একজন বিখ্যাত অভিনেতা মারা যাওয়ার আগে আর-একজন মাঝারি অভিনেতাকে নির্মাল্যবাবুর কাছে আসা-যাওয়া করতে দেখা যায়। এখন সেই মেজো অভিনেতাই সেই বিখ্যাত অভিনেতার জায়গা দখল করে নিয়েছে। এরকম কতকগুলো ঘটনার কথা দুলাল বলল।

    দুলাল অনেকদিন ধরেই আঁচ করেছিল। কিন্তু তার বিশ্বাস হত না যে, তার মনিবের মতো অত অমায়িক সম্ভ্রান্ত লোক এ কাজ করতে পারেন। কিন্তু সে এবার নিশ্চিত। গতকালই একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলছিলেন, আরেকজন ব্যবসায়ীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে। নির্মাল্যবাবু বেশি টাকা দাবি করাতে ব্যবসায়ীটি জোরে চেঁচিয়ে উঠেছিল। সেই সময় দুলাল কী কাজে ঘরে ঢুকে পড়ে। তখন তার দিকে নির্মাল্যবাবু যেভাবে তাকিয়েছিলেন, তাতে তার ভেতরটা পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল। ব্যবসায়ীটি শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছিল। না হয়ে উপায় কী? নইলে তাকেই যে মরতে হবে।

    বলতে বলতে সরল গ্রাম্য তরুণ দুলাল পাত্রর ভিতু-ভিতু চোখ দুটো যেন উত্তেজনায় চকচক করে উঠল। দুলালের দৃঢ় বিশ্বাস, এবার তাকে মরতে হবে। আমিও তাকে রক্ষা করতে পারব না। মরার আগে তাই সে এই ছদ্মবেশী খুনির কথা আমাকে জানিয়ে যেতে চায়। আমার নাম সে শুনেছে। সে আশা করে, আমি যদি এ ব্যাপারে কিছু করতে পারি।

    দুলালকে বাড়ি ফিরতে বলে আমি টেপটা আরেকবার শুনলাম। সত্যিই কি নির্মাল্য অলৌকিক ক্ষমতা লাভ করেছে কোনও তন্ত্রসাধনা করে? কিন্তু সে তো এসব জিনিস একেবারে বিশ্বাস করত না। হয়তো সবই দুলালের গ্রাম্য কুসংস্কার।

    হয়তো অন্য কাজের মধ্যে এই অলৌকিক ব্যাপারের কথা ভুলে যেতাম, যদি না পরদিনই কাগজের প্রথম পৃষ্ঠাতেই বিখ্যাত ব্যবসায়ী প্রভুদয়াল পোদ্দারের আকস্মিক মৃত্যুর খবরের সঙ্গে সঙ্গে সেই কাগজেরই শেষ পৃষ্ঠায় ঘটনা দুর্ঘটনা শিরোনামে ছোট্ট একটা খবর দেখতাম। দুলাল পাত্র নামে এক তরুণের ট্রাম-রাস্তায় হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার খবরটাও অন্যান্য সংবাদের মধ্যে নগণ্য মনে হলেও আমার কাছে অসামান্য। একই নামের দু-জন লোক থাকা অসম্ভব নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে স্থানটি আমার বাড়ির কাছাকাছি, সময়টাও আমার সঙ্গে দেখা করে যাওয়ার কিছু পরেই।

    অফিসে ফোন করে মৃতের পরিচয় সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হলাম।

    এবারে আমার কর্মপন্থা স্থির করে ফেললাম। কিছু প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলাম নানা জায়গায়। তথ্য যা সংগ্রহ হল তা মোটামুটি সন্তোষজনক। দিল্লি আইবি-র মি, ভাটিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজনৈতিক নেতার কাছে যে ব্যক্তির আসা-যাওয়া ছিল, তার একটা বর্ণনা গেলাম। তবে মি. ভাটিয়া জানালেন, আমার সন্দেহভাজন ব্যক্তির একটা ফোটো পাঠালে তিনি এ ব্যাপারে সঠিক খবর জানাতে পারবেন। কয়েকদিনের মধ্যেই সাদা পোশাকে বন্ধুগৃহ অভিমুখে যাত্রা করলাম।

    মস্ত বাড়ি। গেটে দারোয়ান থেকে অন্য কাজের লোকজনে বাড়ি ভরতি। নির্মাল্য বাড়িতেই ছিল। আমাকে দেখে প্রথমে কেমন আড়ষ্ট হয়ে গেল। কিন্তু সে ক্ষণিকের। পরমুহূর্তেই মুখের ভাব বদলে ফেলে কণ্ঠস্বরে উল্লাস এনে বলল, আরে, গ্যানা যে! চিনতেই পারিনি প্রথমে। আয় আয়। তুই তো এখন পুলিশের বিরাট মাথা। তোর নাম প্রায়ই দেখি কাগজেটাগজে।

    আমাকে নিয়ে বৈঠকখানা ঘরে ঢুকে বোতাম টিপে বেয়ারাকে ডেকে কফির অর্ডার দিল। নির্মাল্য যে বৈজ্ঞানিক, তার নিদর্শন এই বৈঠকখানাতে সে রেখেছে। দেয়ালে গ্যালিলিও, আইনস্টাইন, কুরি থেকে জগদীশচন্দ্র সকলের ফোটো টাঙানো। দরজার ওপরে ফ্রেমে বাঁধানো লেখা–Cogito crgo sum–এই তিনটে শব্দ। মানে জিজ্ঞেস করলে নির্মাল্য হেসে বলল, ওটা একজন বৈজ্ঞানিকের উক্তি। অর্থ–আমি চিন্তা করছি, সুতরাং আমি আছি।

    সব দেখে-শুনে মনে হল, বৈজ্ঞানিক নির্মাল্যর চেয়ে ব্যবসায়ী নির্মাল্য অনেক স্মার্ট। টেবিলের ওপর একটা বড় অ্যালবাম। উলটিয়ে দেখতে লাগলাম। নির্মাল্যর জীবনের অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনার ছবি। হঠাৎ একটা মতলব মাথার মধ্যে খেলে গেল। কথাবার্তার ফাঁকে ওর একটা সিঙ্গল ফোটো নির্মাল্যর অজ্ঞাতসারেই খুলে নিলাম। মি. ভাটিয়াকে একটা ফোটো পাঠানো নিতান্তই দরকার। হঠাৎ নির্মাল্যর ফোটো চেয়ে এখুনি তার মনে কোনও সন্দেহের সৃষ্টি করার ইচ্ছে আমার ছিল না।

    নির্মাল্য বিয়ে-থা করেনি। দুলাল পাত্র বলেছিল, যারা বাণ মারে, সেইসব গুনিন বিয়ে থা করে না। করলে নিজের পরিবারে মৃত লোকদের অভিশাপ ফিরে আসে। এসব কথা ভাবছি, এমন সময় ঘরের কোণে টেলিফোনটা বেজে উঠতেই নির্মাল্য উঠে গিয়ে ধরল। কোনও এক প্রমথর সঙ্গে কথা বলল। কথা বলতে বলতে আড়চোখে আমার দিকে একবার তাকাল, তারপর পরে হবে বলে রিসিভার রেখে দিল। আমার কাছে এসে বলল, কী খবর বল।

    আমি কৌশলে কাজের দিকে এগোলাম। নির্মাল্যর মতো ব্যোমভোলা লোক রাতারাতি এরকম ব্যবসায়ী হয়ে উঠল কী করে, সে বিষয়ে কৌতূহল প্রকাশ করতেই সে গম্ভীর হয়ে বলল, তুই কি ইনকাম ট্যাক্সের ব্যাপারে গোয়েন্দাগিরি করছিস?

    আমার গোয়েন্দাগিরি আরও গভীর ব্যাপারে। সে কথা তাকে সোজাসুজি বুঝতে না দিয়ে বললাম, সেসব কথা মনে পড়ে তোর? চোর-ডাকাত-কালোবাজারিদের মৃত্যুবাণ মেরে শাস্তি দেবার কথা?

    আমার কথায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো চমকে উঠল নির্মাল্য। তার মুখটা যেন ফ্যাক্যাশে দেখাল।

    আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে চললাম, প্রভুদয়াল পোদ্দারের মতো যদি চোরছ্যাঁচড়গুলো হার্টফেল করে মরত, তবে দেশে কত শান্তি হত, তা-ই না?

    নির্মাল্য শক্ত হয়ে গেল। তারপর একটা একটা করে শব্দ উচ্চারণ করে বলল, তুই কী বলতে চাস?

    আমি পকেট থেকে ক্যাসেট বার করে বোতাম টিপতেই দুলালের কণ্ঠস্বর বেরিয়ে এল। নির্মাল্য হতভম্ব হয়ে শুনল। অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলল, দুলাল তবে তোর কাছেই গিয়েছিল। আমি আন্দাজ করেছিলাম ওরকম। কিন্তু এসব একেবারে আজগুবি কথা। সকলেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা গিয়েছে, সে তো ডাক্তাররাই বলেছে। ওর কথা কোনও সভ্যজগতের আদালতেই টিকবে না।

    আমি বললাম, এই টেপের কপি লালবাজারে আছে। তা ছাড়া এই ক-দিনে তোর বাড়িতে কয়েকটা টেলিফোন আসে, সেগুলোও ট্যাপ করে রেকর্ড করা হয়েছে। কোনও এক প্রমথ তোর জন্যে নানা অর্ডার নিয়ে আসে। যন্ত্রপাতির অর্ডার নয়, মানুষ মারার অর্ডার। নীলমাধব সেন নামে সম্পত্তির আরেক ভাগীদারকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার জন্যে একজন তোকে প্রচুর টাকা দেবে বলেছে। তার নাম, টাকার পরিমাণ সবই রেকর্ড করা হয়েছে।

    নির্মাল্য টলোমলোভাবে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, বাঃ, বেশ আটঘাট বেঁধে নেমেছিস তো বন্ধুর উপকারে। ঠিক আছে। আয়, তোকে দেখাচ্ছি আমার তন্ত্রসাধনা। এ ঘরে আয়।

    পাশের ঘরে ঢোকার সময় দেয়ালে লাল আলো জ্বলে উঠতেই নির্মাল্য বলল, তোর পকেটে কিছু ধাতব জিনিস আছে। ওগুলো ওই ড্রয়ারে রেখে আয়। ভয় নেই। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সব তোকে ফেরত দেওয়া হবে। ঘাবড়াসনে।

    মনে মনে হাসলাম। জ্ঞান লাহিড়ী ভয় কাকে বলে জানে না। তা ছাড়া আমি এক ঘণ্টার মধ্যে এ বাড়ি থেকে না বেরোলেই পুলিশে ঘিরে ফেলবে এ বাড়ি। নির্দ্বিধায় পকেট থেকে রিভলভার আর ছোট্ট টেপরেকর্ডার বার করে ড্রয়ারে রাখলাম। নির্মাল্যর পেছন পেছন একটা ছোট্ট ঘরে ঢুকলাম। আমি ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দরজায় ক্লিক করে শব্দ হল। ঠিক যেন কেউ ক্যামেরায় ছবি তুলল।

    টেবিলের ওপর একটা বাক্সের মতো যন্ত্র। সেটাকে দেখিয়ে নির্মাল্য বলল, এই আমার মৃত্যুবাণ। দুলাল ভুল বলেছিল। বৈজ্ঞানিক নির্মাল্য সিংহরায় ওসব তন্ত্রসাধনার তোয়াক্কা করে না, তার মাথার মধ্যে এই পদার্থ থাকতে। বলে সে নিজের মাথায় দু-বার টোকা দিল।

    তারপর সুইচ টিপে বাক্সটার গায়ে একটা আলো জ্বেলে বলল, এ জগতে একটা আশ্চর্য জিনিস হচ্ছে, কোনও দুটো মানুষের চেহারা, তাদের কণ্ঠস্বর, তাদের হাতের, পায়ের ছাপ কখনও হুবহু একরকম হয় না। অনেক সময় আশ্চর্যরকম মিল দেখা যায়– বিশেষ করে যমজ ভাই বা বোনের চেহারায়। কিন্তু অবিকল একরকম নয়। সে শুধু সিনেমার গল্পেই হয়। যে মানুষকে মৃত্যুবাণ মারব, তার একটা ফোটো জোগাড় করে খোপে ভরতে হবে। ফোটোতে মানুষের দেহের প্রতিফলিত আলো মুদ্রিত থাকে। পরপর ছ-টা ফোটো একসঙ্গে রাখা যায় অনেকটা রিভলভারের কার্তুজের মতন, তা-ই না?

    এই বলে নির্মাল্য আমার দিকে তাকিয়ে হাসল। তারপর বলল, যার ফোটো আগে পোরা হবে, সে আগে মরবে। এখন মাত্র একটা ফোটো ভরা আছে, সেটা নীলমাধব সেনের। আমার এজেন্ট প্রমথই এটা জোগাড় করে এনেছে শরিকের কাছ থেকে। এরপর কার ফোটো ভরব, সেটা… কথাটা অসম্পূর্ণ রেখেই নির্মাল্য স্থিরচোখে আমার দিকে চেয়ে থাকল।

    হঠাৎ যেন সংবিৎ পেয়ে আবার বলতে লাগল, এটা আমার এক আশ্চর্য আবিষ্কার। অথচ, এটার কথা প্রকাশ করলে লোকের কাছে আমার পরিচয় হবে অপরাধী। আবার দেখ, অ্যাটম বোমা, হাইড্রোজেন বোমার মতো অস্ত্র–যা একসঙ্গে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষকে মারে–সেগুলোর আবিষ্কর্তারা মহান বিজ্ঞানী।

    যন্ত্রটার ওপর হাত বুলিয়ে নির্মাল্য আবার বলতে লাগল, এই যন্ত্রটার প্রোগ্রাম করা আছে আমার মস্তিষ্কের চিন্তাকোশের সঙ্গে। যখন ভেতরের ফোটোতে এই লাল আলো পড়বে, সেই সময় আমি এই ছোট্ট আয়নাটার ওপর তাকিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে দিতে বলব। সঙ্গে সঙ্গে সেই চিন্তা, শক্তি লক্ষ্যস্থলে ছুটে গিয়ে সেই আদেশ পালন করবে। আর সেই অদৃশ্য মৃত্যুবাণে বিদ্ধ হয়ে গাছের পাকা ফলটির মতন শিকার যেখানে ছিল, সেখানেই টুপ করে লুটিয়ে পড়বে।

    এই আদেশ কত দ্রুত লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে যাবে, জানতে চাস? টেলিপ্যাথির গতি জানিস? না জানলে মহাভারত পড়িস। ছদ্মবেশী যম যুধিষ্ঠিরকে জিজ্ঞেস করলেন, জগতে সবচেয়ে দ্রুতগামী কী? যুধিষ্ঠির উত্তর দিলেন, মন। আমাদের জানা সবচেয়ে দ্রুতগতি হচ্ছে আলো বা বিদ্যুতের গতি। মনের গতি হয়তো তার চেয়েও বেশি। এই দেখ, নীলমাধব সেন কুপোকাত?

    বলেই একটা সুইচ টিপে লাল আলোটা জ্বালিয়েই নিবিয়ে দিল। একটু পরে নিজের পোষা কুকুরের দিকে লোকে যেমন মমতার দৃষ্টিতে তাকায়, সেইভাবে যন্ত্রটার দিকে তাকিয়ে বলল, কিন্তু ব্যাপারটা কী জানিস? এই যন্ত্র অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ আগেই বলেছি, এটাকে প্রোগ্রাম বা টিউন করেছি আমার চিন্তাতরঙ্গের সঙ্গে। আমার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এটার ভেতরে একটা স্পার্ক হয়ে কনট্রোল ইউনিট পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তাই আমি ঘুমিয়ে থাকার সময় মাঝে মাঝে গন্ডগোল করতে পারে ভেবে গার্ড ইউনিটটা চালু রেখে তবে শুতে যাই।

    কিছুক্ষণ পরে আমি হতবুদ্ধির মতো নির্মাল্যর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। আসার সময় ড্রয়ারে আমার রিভলভার আর টেপরেকর্ডার পেলাম না। নির্মাল্য বলল, ওগুলো তার চাকর বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়েছে। ওখানেই আমাকে ফেরত দেবে। সত্যিই, বাড়ির বাইরে আসতেই অটুট অবস্থায় সেগুলো ফেরত পেলাম।

    নির্মাল্যর চোখের দৃষ্টির অর্থ আমার অভিজ্ঞ চোখকে ফাঁকি দিতে পারেনি। তার কাছে বন্ধুত্বের চেয়ে লোভ বড় হয়ে উঠেছে। আমার কাছেও সেই ভুয়ো বন্ধুত্বের চেয়ে সমাজের মঙ্গল বড়।

    আমি জেনেছিলাম, নির্মাল্যর পরের শিকার আমিই। আমার অজ্ঞাতসারে আমার ফোটো তোলা হয়ে গিয়েছিল। সেটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। আমি বাড়ি ফেরার পরেই সেটাই যন্ত্রে ভরবে নির্মাল্য। কিন্তু তার আগেই আমি আমার কৌশল লাগিয়েছি। নির্মাল্য যত বড় বৈজ্ঞানিকই হোক, আমার নিখুঁত সাফাইয়ের কাজ সে-ও ধরতে পারবে না। আমার কাজের খাতিরেই এটা শিখতে হয়েছে আমাকে। তাই যন্ত্র দেখবার ছলে একসময়ে পকেট থেকে নির্মাল্যর ফোটোটা বার করে যন্ত্রে ভরে দিয়েছি। মি. ভাটিয়ার জন্যে যেটা সংগ্রহ করেছিলাম, সেটা যে এভাবে কাজে লেগে যাবে, সেটা আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ভাবতে পারিনি। আমায় মৃত্যুবাণ মারবার অনেক আগেই যন্ত্রটা ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের মতো নিজের সৃষ্টিকর্তাকে মেরে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

    [সন্দেশ, পৌষ ১৩৮৮]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    টেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }