Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটগল্প – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প745 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উন্মেষ

    উন্মেষ

    বড়ো রাস্তার মোড়ের কাছে একটা শোরগোল উঠল। দু-চার জন পথে নেমে এল, কিছু লোক সার দিয়ে দাঁড়িয়ে গেল দু-ধারে—যেমন করে দাঁড়ায় প্রসেশন যাওয়ার সময়। যারা নামল না, তারা বকের মতো গলা বাড়িয়ে দিলে বারান্দা থেকে।

    ব্যাপার আর কিছু নয় নৃপেন রায় আসছেন।

    কে এই নৃপেন রায়? দেশনেতা নন, রাজা মহারাজা নন, সিনেমার অভিনেতাও নন। কোনো আশ্রমে-টাশ্রমে মোটা টাকাও দান করে বসেননি। তবু তাঁর সম্পর্কে লোকের সীমাহীন কৌতূহল।

    কেন যে কৌতূহল, তার জবাব পাওয়া গেল যখন তিনি বাঁক ঘুরে সামনে এসে পোঁছালেন।

    ছ-হাতের মতো লম্বা। মাথায় একরাশ কোঁকড়ানো বাবরি চুল—সম্প্রতি বিপর্যস্ত। লম্বাটে মুখের কৌণিক হাড়গুলোতে অনেক ডাম্বেল-কষা মুগুর ভাঁজার কাঠিন্য। ঢালের মতো চওড়া বুক, আজানুলম্বিত পেশল হাত দুখানিকে মহাবাহু ছাড়া আর কোনো সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। পদ্মপলাশ বিস্তৃত চোখ এবং সে-চোখ পলাশ ফুলের মতোই আরক্তিম।

    পরনে ব্রিচেস, কাঁধে ঝোলানো দু-দুটো বন্দুক, ভয়ংকর মানুষটাকে তা আরও বীভৎস করে তুলেছে। কিন্তু তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে একটা মেয়েও আছে—তাঁরই মেয়ে। তার আকর্ষণও কম নয়।

    বছর বারোর মেয়ে। ববছাঁটা ধূলিরুক্ষ চুল। খাকিরঙা সালোয়ারের ওপর একটি খাকি শার্ট পরা। মেয়েটির গলায় টোটার মালা। শুধু টোটা নয়, আর এক ছড়া মালাও আছে। তাতে ঝুলছে রক্তমাখা গোটা পাঁচেক স্নাইপ এবং এক জোড়া চায়না ডাক। মেয়েটির জামার এখানে-ওখানে সে-রক্তের ছোপ লেগেছে—যেন ভৈরবীর মূর্তি।

    সব মিলিয়ে দৃশ্যটাকে ভয়ানক বললেও কম বলা হয়। পৈশাচিক।

    ভিড়ের মধ্য থেকে কে একজন মন্তব্য ছুড়ে দিলে একটা।

    দেখেছ কান্ড! মেয়েটাকেসুদ্ধ কী বানিয়ে তুলছে।

    আর একজন বললে, লোকটা একেবারে অমানুষ!

    যা বলেছ। কেউ সরস করে ব্যাখ্যা করে দিলে—জিনিসটা মানুষ নিশ্চয় নয়, রাক্ষস।

    বাপ-মেয়ে কথাগুলো কেউ শুনতে পেলেন কি না বোঝা গেল না। শুনলেও ভ্রূক্ষেপ করলেন না নৃপেন রায়। জীবনে করেনওনি কোনোদিন।

    মাথার ওপর উঠে আসা দুপুরের সূর্যের কড়া রোদে দুজনে সোজা চলে গেলেন। দুজনেই বুটপরা, শুধু বহুদূর থেকেও সেই দু-জোড়া বুটের অস্পষ্ট হয়ে আসা মচমচানি শোনা যেতে লাগল।

    শহরের একটেরেয় নৃপেন রায়ের বাড়ি। সামনে একখানা মাঝারি ধরনের বাগান। তাতে একটি গন্ধরাজ, একটি ম্যাগনোলিয়া এবং দুটি শিউলি। একপাশে বহু পুরোনো একটি আম গাছ, তাতে আজকাল আর ফল ধরে না। বসন্তের হাওয়ায় কয়েকটি শীর্ণ মুকুল দেখা দিয়েই ঝরে যায় বিবর্ণ জীর্ণতায়। একদিকে বেশ পুরু একটি কেয়াঝোপ। বাড়ির গায়ে কেয়াবন কোনো গৃহস্থের ভালো লাগার কথা নয়, বর্ষায় ফুল ফুটলে তার পাগল-করা-গন্ধে নাকি আনাগোনা শুরু হয় গোখরো সাপের। কিন্তু ওসব কোনো কুসংস্কার নেই নৃপেন রায়ের। আর এ ছাড়া বাগানের সবচেয়ে বিশেষত্ব হল, সযত্নরোপিত নানা জাতের ক্যাকটাস। ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গা থেকে এদের সংগ্রহ করা হয়েছে। বেশিরভাগই তীক্ষ্ণকাঁটায় আকীর্ণ, নানা বিচিত্র ধরনের ফুল ফোটে তাতে। শিকার আর ক্যাকটাসের পরিচর্যা—এই হল নৃপেন রায়ের প্রধান ব্যসন।

    বাড়িটা বড়ো কিন্তু এখন শ্রীহীন। প্রায় হাজার পঞ্চাশেক টাকা আর চা-বাগানের মোটা রকমের শেয়ার রেখে বাপ চোখ বুজেছিলেন। আন্তরিক নিষ্ঠার সঙ্গে ওই পঞ্চাশ হাজার টাকা কয়েকটি বছরের মধ্যেই উড়িয়েছেন নৃপেন রায়। এখন সংসার চলে বাঁধা মাইনের মতো শেয়ারের একটা নিয়মিত আয়ে। তারও পরিমাণ উপেক্ষার নয়। খুশিমতো আর অপচয় করা চলে না বটে, কিন্তু রুচিমাফিক অপব্যয়ে বাধা নেই এখনও। সে-অপব্যয়টা চলে শিকার আর বিলাতি মদের রন্ধ্রপথে।

    নৃপেন আর তাঁর মেয়ে গৌরী, এই দুজনকে নিয়েই সংসার। একটা বুড়ো চাকর আছে বাপের আমলের; চোখে অল্প অল্প ছানি পড়েছে, কানেও কম শোনে। সংসারের ঝক্কিটা পোয়াতে হয় তাকেই। গৌরীর বছর দুই বয়েসের সময় নৃপেন রায়ের স্ত্রী স্বামীর আটত্রিশ বোরের রিভলবারটা দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। সেই থেকে ওদিকটাতে নিশ্চিন্ত হয়েছেন নৃপেন রায়। তারপরে আর বিয়ে করেননি। মেয়েদের তিনি সহ্য করতে পারেন না।

    বাইরের ঘরে ঢুকে একটা সোফার ওপর বন্দুক দুটোকে নামিয়ে রাখলেন। তারপর বুটসুদ্ধ পা দুটোকে তুলেই এলিয়ে পড়লেন একটা কাউচে।

    পাখি আর টোটার মালা গলায় নিয়ে গৌরী তখনও সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যেন কী করতে হবে জানে না—বাপের আদেশের অপেক্ষা করছে সে।

    পাখাটা খুলে দে তো গৌরী। আর ওগুলো নামিয়ে রাখ মেঝেতে।

    গৌরী তাই করল।

    আয়, বোস আমার কাছে। নৃপেন রায় ডাকলেন। গলার স্বরে মেশাতে চাইলেন স্নেহের নমনীয় আমেজ। সে-স্বরে স্নেহ ফুটল কি না বোঝা গেল না, কিন্তু গৌরী যেন আশ্বস্ত বোধ করল একটু। একটা টুল টেনে নিয়ে নীরবে বাপের পাশে এসে বসল।

    আজ খুব কষ্ট হয়েছে, না রে? আবার সস্নেহ স্বরে জানতে চাইলেন নৃপেন রায়।

    হ্যাঁ বাবা। আস্তে আস্তে জবাব দিলে গৌরী।

    মিষ্টি, ক্লান্ত গলার আওয়াজ। এতক্ষণ পরে মেয়েটিকে যেন দেখতে পাওয়া গেল ভালো করে। অলঞ্জীর মতো বব-করা রুক্ষ চুলের পটভূমিতেও শান্ত কমনীয় একখানা মুখ। গভীর কালো চোখের তারায় ব্যথিত শঙ্কা। বাইরের পোশাকের সঙ্গে যেন কোনো মিল নেই তার মনের চেহারার।

    আরও একটু লক্ষ করলে চোখে পড়ে—তার মুখে কোথাও যেন ভাবের স্পষ্ট আভাস নেই কিছু, কেমন প্রাণহীন। একটা জন্তুর মতো প্রাকৃতিক ভয়, প্রাকৃতিক দুঃখানুভূতি। কোনো ডাক্তার দেখলে প্রথম দৃষ্টিতেই বলে দেবে মেয়েটা হাবা। তার শিশুর মতো অপরিণত চেতনা চিরকাল নীহারিকায় বাষ্পচ্ছন্ন হয়ে থাকবে, কোনোদিন অভিজ্ঞতার কঠিন আকৃতি-বন্ধনে পূর্ণ হয়ে উঠবে না।

    প্রথমদিকে একবার ডাক্তার দেখানো হয়েছিল অবশ্য। পরীক্ষা করে ডাক্তার শুধু মাথা নেড়েছিলেন বার কয়েক। তারপর ধিক্কারভরা চোখে নৃপেন রায়ের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, আপনার পাপেরই ও প্রায়শ্চিত্ত করছে, এর কোনো ওষুধ নেই।

    তার মানে?

    মানে এখনও জানতে চান? ডাক্তারের মুখে ঘৃণার চিহ্ন ফুটে উঠেছিল, জন্মের আগেই ওর সমস্ত জীবনকে আপনি নষ্ট করে রেখেছেন। আজ আর ওর ভালো করবার চেষ্টা বৃথা।

    চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন নৃপেন রায়। নিস্পন্দ হয়ে থেমে গিয়েছিল মুখের সমুদ্যত কঠিন হাড়ের সঙ্গে জড়ানো মাংসপেশিগুলো। শক্ত থাবায় চেয়ারের হাতলটাকে ধরেছিলেন মুঠো করে।

    জানেন, কী বলছেন আপনি?

    ডাক্তার ভয় পাননি। স্থিতপ্রজ্ঞের গাম্ভীর্য নিয়ে চশমাটা রুমালে মুছতে মুছতে বলেছিলেন, জানি। যদি বিশ্বাস না করেন, আপনার আর আপনার মেয়ের ব্লাড দিয়ে যান। কাল কান টেস্টের রিপোর্ট পাঠিয়ে দেব, তা থেকেই আশা করি সব বুঝতে পারবেন।

    জীবনে এই প্রথম থমকে গিয়েছিলেন নৃপেন রায়, যেন কুঁকড়ে গিয়েছিলেন। শিথিল হয়ে গিয়েছিল মুখের পেশিগুলো, মুঠিটা ঢিলে হয়ে এসেছিল চেয়ারের গায়ে। আর দাঁড়াননি তারপর।

    ডাক্তারের টেবিলের ওপর প্রায় ছুড়ে দিয়েছিলেন ফি-এর টাকাগুলো। মেয়ের হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে বলেছিলেন, চল।

    কিন্তু আর চিকিৎসা হয়নি গৌরীর।

    চিকিৎসা করেও কোনো লাভ হবে না, একথা বুঝতে পেরেছিলেন নৃপেন রায়। কিছুদিন একটা গভীর অপরাধবোধ তাঁকে আচ্ছন্ন করে রাখল। তারপর ক্রমশ নিজের মধ্যেই একটা জোর খুঁজে পেলেন তিনি। অন্যায় যদি তাঁর হয়ে থাকে, তবে তার প্রতিকারের দায়িত্বও তাঁরই হাতে। গৌরীকে তিনি জাগিয়ে তুলবেন, চেতনার আলো ছড়িয়ে দেবেন তার অন্ধকার মনের প্রান্তে প্রান্তে।

    প্রাণ যদি নাই পায়, অন্তত অন্য দিক থেকে সজাগ করে তুলবেন একটার পর একটা নিষ্ঠুর হিংসার খোঁচা দিয়ে।

    হিংসা! তাই বটে। কী বিরাট, কী প্রচন্ড শক্তি! রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার যখন তাঁকে সামনাসামনি চার্জ করেছে, তখন সে-শক্তির বিদ্যুঝলক টের পেয়েছেন রক্তের মধ্যে। শালবনের ভেতরে মাতলা হাতি শিকার করতে গিয়ে সেই শক্তির উৎক্ষেপে দুলে উঠেছে তাঁর হৃৎপিন্ড। সেই শক্তি, সেই হিংসা। জীবনে নৃপেন রায় তার চেয়ে কোনো বড়ো জিনিসের কথা ভাবতেও পারেননি।

    গৌরী জাগুক, কেটে যাক তার চৈতন্যের ওপর থেকে এই কুয়াশার আবরণ। তারপর ডাক্তারকে তিনি দেখে নেবেন।

    আজও অস্পষ্টভাবে তাঁর মাথার মধ্যে যেন ঘুরে যাচ্ছিল এই চিন্তাটাই। আধবোজা চোখে গৌরীর দিকে তিনি চেয়ে রইলেন আবিষ্টের মতো।

    হাঁস দুটো আজ বড়ো ভুগিয়েছে, না?

    তেমনি প্রাণহীন গলায় গৌরী বললে, হ্যাঁ বাবা।

    শিকারে যেতে পোর ভালো লাগে না?

    লাগে।

    কষ্ট হয় না?

    হয়। গৌরী জানলার বাইরে আম গাছটার দিকে দৃষ্টি মেলে দিলে। অনেক কাঁটা আর বড্ড রোদ, হাঁটতে পারা যায় না।

    ওটুকু কষ্ট না করলে শিকারি হতে পারে কেউ? উৎসাহে নৃপেন রায় দৃষ্টিটা সম্পূর্ণ মুক্ত করে ধরলেন।

    শিকার কি আর ধরা দেয় অত সহজে? অনেক পরিশ্রম করতে হয়, অনেক রোদ কাঁটা সইতে হয়। একবার নেশা ধরলে দেখবি দুনিয়ার আর সব একেবারেই ভুলিয়ে দেবে।

    কিন্তু পাখি মেরে কী হয় বাবা? গৌরীর নিষ্প্রাণ চোখে একটা জান্তব বেদনা পরিস্ফুট হয়ে উঠল, কেমন সুন্দর দেখতে! আর কী মিষ্টি করে ডাকে!

    হঠাৎ একটা খোঁচা খেলেন নৃপেন রায়, চমকে উঠলেন কীসের অশুভ সংকেতে। উলটো সুর বলছে গৌরীর গলা; এমন কথা ছিল না, এমন হওয়া উচিত নয়।

    কাউচের উপর উঠে বসলেন তিনি। মানসিক অধৈর্যে বুটপরা পা দুটোকে সশব্দে নামিয়ে আনলেন মেঝের ওপর। স্বগতোক্তির মতো পুনরাবৃত্তি করলেন গৌরীর কথা দুটোর, খুব সুন্দর দেখতে, না? খুব মিষ্টি করে ডাকে কেমন?

    হকচকিয়ে গেল গৌরী। নীহারিকার মতো অস্বচ্ছ মনের ধোঁয়াটে পর্দায় জান্তব ভীতির পূর্বাভাস পড়েছে। চাপা উৎকণ্ঠায় গৌরী বললে, হ্যাঁ বাবা!

    হ্যাঁ বাবা! নৃপেন রায় বিশ্রীভাবে ভেংচে উঠলেন একটা। ইচ্ছে করল থাবার মতো তাঁর প্রচন্ড মুঠিটা সজোরে বসিয়ে দেন মেয়েটার মাথার ওপর।

    আর খেতে কেমন লাগে? কেমন লাগে নরম তুলতুলে মাংসগুলো? বিকৃত গলায় তিনি একটা তিক্ত প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, চাবুকের আওয়াজের মতো যেন বাতাসে কেটে গেল কথাটা।

    সভয়ে গৌরী চুপ করে রইল কিছুক্ষণ।

    কী, কথা কইছিস না যে? পায়ের নীচে একটা কিছু থেঁতলে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন এমনই ভঙ্গিতে বুটজোড়া মেঝেতে ঠুকলেন নৃপেন রায়।

    প্রায় নিঃশব্দে জবাব এল গৌরীর, খেতে ভালোই লাগে বাবা।

    খেতে যা ভালো লাগে, তা মারতেও মন্দ লাগা উচিত নয়। হিপনটাইজ করবার মতো একটা নির্নিমেষ খরতা জ্বলতে লাগল নৃপেন রায়ের চোখে। যা, পাখিগুলোর পালক ছাড়িয়ে কেটেকুটে তৈরি করে রাখ গো

    আমি? ব্যথিত বিস্ময়ে গৌরী বললে, আমি তো কখনো করি না বাবা। ওসব তো বৃন্দাবন করে।

    না, আজ থেকে বৃন্দাবন আর করবে না, তোকেই করতে হবে। নৃপেন রায়ের সমস্ত মুখোনা মুছে গিয়ে গৌরীর দৃষ্টির সামনে প্রত্যক্ষ হয়ে রইল শুধু দুটো আগ্নেয় চোখ। তুই-ই করবি এর পর থেকে। যা।

    কলের পুতুলের মতো উঠে পড়ল গৌরী। তারপর পিঠের ওপর বাপের প্রখর দৃষ্টির উত্তাপ অনুভব করতে করতে তাড়া-খাওয়া একটা জানোয়ারের মতো পাখিগুলোকে তুলে নিয়ে ছুটে পালাল।

    লাল হয়ে আসা শেষ রোদে বাগানের মধ্যে পায়চারি করছিলেন নৃপেন রায়। অদ্ভুত কৌতুকের সঙ্গে লক্ষ করছিলেন সূর্য ডোবার আগেই কোথা থেকে বেরিয়ে পড়েছে একটা পাহাড়ি মথ। বেশ বড়ো আকারের, প্রায় পাঁচ ইঞ্চি করে ফিকে নীলের ওপর সাদা ডোরাকাটা ডানা। মথটা ঘুরে ঘুরে কেয়াপাতার ওপর বসবার চেষ্টা করছে, কিন্তু তারপরেই তীক্ষ্ণধার কাঁটার ঘায়ে উড়ে যাচ্ছে সেখান থেকে।

    সুন্দর পাখা, খাসা রং। কিন্তু নির্বোধটা জানে না, এই কেয়াকাঁটার ঝাড়ে রঙিন পাখনা নিয়ে বসবার মতো জায়গা নেই কোথাও। হঠাৎ একটা অমানুষিক আনন্দে নৃপেন রায় থাবা দিয়ে ধরলে মথটাকে। মুঠির মধ্যে পড়তে-না-পড়তে সেটা পিষ্ট হয়ে গেল, হাতের তালুতে পরাগের মতো জড়িয়ে রইল একরাশ সাদা গুঁড়ো।

    ফুলের পাঁপড়ি ছেড়ার মতো করে, ভোরের আকাশে নীলিমার বুকের ওপর প্রথম সূর্যের আলো পড়ার মতো শুভ্রতায় রেখায়িত পাখা দুটোকে তিনি নখের ডগায় টুকরো টুকরো করতে লাগলেন। বেশ লাগে ছিড়তে। অদ্ভুত সূক্ষ, আশ্চর্য নরম! কিন্তু কেয়া গাছের একটি পাতাও অমন করে ছেঁড়া যাবে না, সে-চেষ্টা করতে গেলে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে হাতের চামড়া, ভেসে যাবে রক্তের ধারায়।

    বাগানের মধ্যে চলতে চলতে হঠাৎ এক জায়গায় থমকে দাঁড়ালেন তিনি। সমস্ত মুখোনা খুশির আলোয় তাঁর ঝলমল করে উঠেছে।

    এই তো! এতদিন পরে তবে ফুল ফুটেছে!

    রাজপুতানা থেকে আনা, মরুভূমির বালিতে বেঁচে থাকা এই ক্যাকটাস। কেয়ার চাইতেও বড়ো বড়ো খরমুখ কাঁটা। এদের ভীষণতার এইটুকুই মাত্র পরিচয় নয়। এই ক্যাকটাসগুলোর আশেপাশে থাকে এক জাতের ছোটো ছোটো বেলে সাপ; যেমন দ্রুত, তেমনি অব্যর্থ তাদের বিষ। এই বিষকন্যার আজ যৌবন এসেছে, ফুল ফুটেছে এর গায়ে!

    একটি মাত্র ফুল, মাঝারি ধরনের আনারসের মতো চেহারা। হরিদ্রাভ বর্ণে হালকা হালকা লালের ছোপ। কৌতূহলী হয়ে তার গায়ে হাত দিতে গিয়েই চমকে সরে এলেন নৃপেন রায়। হাতে লাগল কাঁটার তীক্ষ্ণ খোঁচা, জ্বালা করতে লাগল। তাকিয়ে দেখলেন মধ্যমার উপরে এসে জমেছে একবিন্দু রক্ত।

    নিজের রক্ত কত বার দেখেছেন, তবু এই একটি বিন্দুকে কেমন বিস্ময়কর বলে মনে হল তাঁর। আশ্চর্য স্বচ্ছ আর নির্মল দেখাল তাঁর রং। নৃপেন রায় কুঞ্চিত করে তাকিয়ে রইলেন। এই রক্তে বিষ আছে, বিষ আছে তাঁদের নিজের অপরাধের। অসম্ভব।

    হঠাৎ কান দুটো সতর্ক করে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। গানের সুর। গৌরী গান গাইছে। আঙুলে ক্যাকটাসের বিষাক্ত জ্বালা নিয়ে অস্থির পায়ে ঘরের দিকে এগোলেন নৃপেন রায়। বাইরের ঘরে একটা জানলার পাশে বসে বুড়ো আম গাছটার দিকে তন্ময় হয়ে তাকিয়ে আছে গৌরী। কোলের ওপর তার দুটি সদ্যফোঁটা গন্ধরাজ। নিজের মনেই কী-একটা গানের সুর সে গুঞ্জন করে চলেছে।

    গৌরী?

    তীক্ষ্ণগলায় তিনি ডাকলেন। বিদ্যুদবেগে গৌরী দাঁড়িয়ে পড়ল, মাটিতে পড়ল কোলের ওপরে রাখা গন্ধরাজ দুটো।

    কী দেখছিলি?

    দুটো ঘুঘু বাবা, কী সুন্দর ডাকছে! গৌরীর গলায় একটা আনন্দিত কৌতূহলের আমেজ। কিন্তু তাতে কোনো চেতন-সত্তার বোধের চিহ্ন নেই। একটা প্রাকৃতিক অনুভূতি। নদীর নীল জলের আয়নায় নিজের ছায়া দেখে অর্থহীন আনন্দে ডেকে ওঠা কোনো হরিণের মতো।

    কোথায় ঘুঘু? নৃপেন রায়ের চোখ দুটো চকচক করে উঠল।

    ওই যে। গৌরী আঙুল বাড়িয়ে দেখিয়ে দিলে, কেমন গায়ে গায়ে লাগিয়ে বসে আছে। এখুনি ঘু ঘু করে ডাকছিল।

    ওঃ!

    নৃপেন রায় সরে এলেন। তুলে আনলেন দেওয়ালের কোনায় ঠেসান দেওয়া বন্দুকটা। লোড করাই ছিল। আনলোডেড বন্দুক কখনো তিনি ঘরে রাখেন না।

    গৌরীর হাতে বন্দুকটা তুলে দিয়ে বললেন, মার।

    হরিণের চোখে যেন বাঘের ছায়া পড়ল।

    বাবা।

    মার। পাথরের মতো শক্ত শোনাল নৃপেন রায়ের গলা। জ্বলে উঠল সম্মোহকের দৃষ্টি। তারপর গৌরীর সামনে থেকে তাঁর সমস্ত মুখোনা মিলিয়ে গেল, জেগে রইল শুধু দুটো আগ্নেয় চোখ। সে-দুটো যেন ক্রমশ বড়ো—আরও বড়ো হয়ে কোনো চলন্ত ট্রেনের দুটো আলোর মতো এগিয়ে আসতে লাগল গৌরীর দিকে।

    ঘামে ভেজা হাতে ঠাণ্ডা বন্দুকটা আঁকড়ে ধরল গৌরী। আস্তে আস্তে তুলে নিয়ে লক্ষ ঠিক করল। তারপরেই একটা তীব্র শব্দের সঙ্গে সঙ্গে দুটো তুলোর বলের মতো ঘুঘুজোড়া ছটফট করতে করতে পড়ল মাটিতে।

    ঘর-কাঁপানো একটা অট্টহাসিতে নৃপেন রায় ফেটে পড়লেন।

    খাসা টিপ হয়েছে তোর! বন্দুক ধরেই জাতশিকারি! অসীম আনন্দে আর একবার তিনি হা-হা করে হেসে উঠলেন।

    কিন্তু গৌরী আর দাঁড়াল না। দু-হাতে মুখ ঢেকে পালিয়ে গেল সেখান থেকে।

    আর সঙ্গে সঙ্গেই নাকের ওপর প্রচন্ড একটা ঘুসি এসে পড়বার মতো হাসিটা থেমে গেল নৃপেন রায়ের। না, এখনও হয়নি। এখনও অনেক দেরি। পায়ের নীচে গন্ধরাজ দুটোকে নির্মমভাবে দলিত-মথিত করতে করতে তিনি ভাবতে লাগলেন, বাগানে একটাও ফুলের গাছ আর তিনি রাখবেন না। কালই কাটিয়ে নির্মূল করবেন সমস্ত। আর সেখানে পুঁতে দেবেন আরও গোটা কয়েক ক্যাকটাস—আরও নির্মম, আরও কণ্টকিত।

    দিন দশেক পরে বাড়িতে দুটো বড়ো বড়ো বাক্স এল। আর সেইসঙ্গে এল শক্ত তারের

    জাল-দেওয়া একটা মস্তবড়ো খাঁচা। খাঁচার মাঝখানে জালের আর একটা পার্টিশন—দুটো জানোয়ার পাশাপাশি রাখার ব্যবস্থা।

    গৌরী অবাকবিস্ময়ে বললে, এতে কী হবে বাবা?

    মজা হবে। নৃপেন রায় হাসলেন, হাতের তেলোয় একটা প্রজাপতি পিষে ফেলবার মতো হাসি। মজার চেহারাটাও একটু পরেই স্পষ্ট হয়ে উঠল। কাঠের একটা বাক্স খুলতেই খাঁচার এদিকের ঘরে লাফিয়ে ঢুকল মাঝারি ধরনের একটা লেপার্ড। পোষমানা নয়, বন্য এবং উদ্দাম।

    বাঃ, কী সুন্দর বাঘ! খুশিতে ছলছল করে উঠল গৌরী, এ বাঘটা আমাদের?

    আমাদের বই কী।

    আনন্দে গৌরী হাততালি দিলে, কী মজা। আর ওই বাক্সে?

    দ্বিতীয় বাক্স থেকে যে বেরিয়ে এল, তাকে দেখে সভয়ে গৌরী অব্যক্ত শব্দ করল একটা। খাঁচার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে বিদ্যুদবেগে ফিরে দাঁড়াল। তারপর তীক্ষ্ণশিস টানার মতো গর্জন করে হাত চারেকের মতো উঁচু হয়ে উঠল। বিশাল ফণা তুলে প্রচন্ড বেগে ছোবল মারল খাঁচার দরজায়।

    হাত আটেক লম্বা একটি শঙ্খচূড়। উজ্জ্বল, মসৃণ চিত্রিত দেহে আরণ্যক বিভীষিকা।

    গৌরী পিছিয়ে যাচ্ছিল, নৃপেন তার হাতটাকে আঁকড়ে ধরলেন। এত জোরে ধরলেন যে গৌরীর হাড়টা মড়মড় করে উঠল।

    পালাচ্ছিস কেন? দাঁড়া, এইবারেই তো মজা শুরু হবে!

    বাক্স যারা বয়ে এনেছিল, তারা একবার এ ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করে সরে পড়ল সেখান থেকে। শুধু আম গাছটার ছায়ার নীচে নিশ্চিন্ত মনে বসে বসে ঝিমুতে লাগল বৃন্দাবন—সে চোখে দেখতে পায় না, কানেও শুনতে পায় না।

    গৌরী বিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

    খাঁচায় ঢুকে বাঘটা সবে শ্রান্তভাবে বসে পড়েছিল, চাটতে শুরু করেছিল সামনের একটা থাবা। শঙ্খচূড়ের গর্জন শোনামাত্র বিদ্যুদবেগে সে উঠে দাঁড়াল।

    প্রতিদ্বন্দ্বী তার পাশে, মাত্র এক ইঞ্চি সরু একটা জালের ব্যবধানে। সেই জালের ওপারে সে লতিয়ে লতিয়ে উঠতে চাইছে, তার চোখ দুটো এই দিনের আলোতেও দু-টুকরো সিগারেটের আগুনের মতো জ্বলছে।

    বাঘটা পায়ে পায়ে একেবারে খাঁচার এপারে সরে এল। একটা অতিকায় বিড়ালের মতো ফুলে উঠল তার গায়ের রোঁয়াগুলো। হিংস্র হাসির ভঙ্গিতে দাঁতগুলো বের করে চাপা স্বরে সেও একটা গর্জন করল। কিন্তু সে গর্জনে বীরত্ব প্রকাশ পেল না। তার চোখ দুটোয় ফুটে উঠল মর্মান্তিক ভয়ের ছায়া।

    শিরদাঁড়া ধনুকের মতো বাঁকিয়ে নিয়ে সাপটা ফণা বিস্তার করল। তারপর আবার একটা তীব্র শিসের শব্দ করে প্রচন্ড বেগে ছোবল মারল পার্টিশনের গায়ে। সমস্ত খাঁচাটা ঝনঝন করে উঠল। দুর্বলভাবে একটা থাবা তুলে লেপার্ডটা অস্ফুট গর্জন করল—গররর…

    নৃপেন রায় মেয়ের দিকে তাকালেন। হ্যাঁ, প্রাণ জেগে উঠেছে, ভাষা জেগে উঠেছে। গৌরীর চোখে; ঝলমল করে উঠেছে কৌতূহলের আলোয়। শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠেছে। একটা অদ্ভুত প্রত্যাশায়।

    সাপটা এবার ফণা তুলে দাঁড়িয়ে রইল। উদ্ধত আহ্বানের মতো হেলতে লাগল ডাইনে বাঁয়ে। সিগারেটের আগুনের মত চোখে ফুটে উঠল একটা বিষাক্ত নীলিম দীপ্তি। লেপার্ডটা এক বার লেজ আছড়াল, নির্নিমেষভাবে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল শঙ্খচূড়ের দিকে, তারপর যেন মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল পার্টিশনের ওপরে।

    এইবার সাপটার পিছিয়ে যাওয়ার পালা। কিন্তু ভয়ের আভাস নেই, শুধু আত্মরক্ষার চেষ্টা। তারপরেই নিজেকে আবার দৃঢ় করে নিয়ে খাঁচা-ফাটানো ছোবল বসিয়ে দিলে।

    বিদ্যুদবেগে বাঘ সরে এল খাঁচার নিরাপদ কোণে। কান্নার মতো আওয়াজ তুলল, গর-র-র…

    গৌরী নেচে উঠল। হাততালি দিয়ে হেসে উঠল, বা-বা, কী চমৎকার!

    তারপর সারাটা দিন ধরে চলল সেই অমানুষিক স্নায়ুযুদ্ধ। সন্ধ্যার দিকে ক্লান্ত বাঘটা খাঁচার মাঝখানে এলিয়ে পড়ল। কিন্তু তাকে তো ছুটি দেবে না গৌরী। একটা ছটো লাঠি দিয়ে বাইরে থেকে খোঁচা দিতে লাগল বার বার। আর বাঁচবার শেষ আকুতিতে থেকে থেকে ক্ষুব্ধ কান্নায় খাঁচার এদিক-ওদিক ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল বাঘটা।

    সারাদিনের মধ্যে গৌরীকে নড়ানো গেল না খাঁচার সামনে থেকে। হিংস্র আনন্দে থেকে থেকে চেঁচিয়ে উঠতে লাগল, কী চমৎকার!

    অনেক রাতে ঘুমন্ত গৌরীকে খাঁচার সামনে থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে গেল বৃন্দাবন।

    রাত তখন প্রায় দুটো হবে। গৌরী উঠে বসল। রক্তের মধ্যে একটা অস্থির চঞ্চলতা। বিছানা থেকে সে নেমে পড়ল, সামনের টেবিলের ওপর থেকে তুলে নিলে নৃপেন রায়ের হান্টিং টর্চটা।

    পাশের ঘরে নাকের ডাকের শব্দ। পায়ে পায়ে বারান্দায় বেরিয়ে গেল সে। টর্চের আলোয় দেখা গেল কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে সাপটা। বাঘটা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে খাঁচার কোনায়। অধৈর্যভাবে খাঁচার গায়ে কয়েকটা টোকা মারতে শঙ্খচূড় এক বার নড়ে উঠল, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া গেল না লেপার্ডের তরফ থেকে।

    ছোটো লাঠিটা কুড়িয়ে এনে বাঘকে খোঁচা দিলে গৌরী। নড়ল না, গর্জে উঠল না অসহায় যন্ত্রণায়। টর্চের তীব্র আলোয় বুঝতে পারা গেল-সীমাহীন ভয়ের সঙ্গে লড়াই করতে করতে শিথিল স্নায়ু নিয়ে সে ঢলে পড়েছে।

    কিন্তু শঙ্খচূড় উঠে দাঁড়িয়েছে। উঠে দাঁড়িয়েছে শিরদাঁড়ায় ভর দিয়ে। প্রতিদ্বন্দ্বীপ্রতিদ্বন্দ্বী চাই তার। পার্টিশনের ওপর আবার একটা ভয়ংকর ছোবল পড়ল, কিন্তু তার শত্রু আর নড়ল না-নড়বেও না আর। হতাশায় ক্ষোভে গৌরী চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। সহ্য করতে পারছে না। তার সমস্ত জান্তব বোধকে আচ্ছন্ন করে দিয়েছে একটা প্রাগৈতিহাসিক হিংস্র আনন্দ। উপায় চাই, উপকরণ চাই। নেশা চাই তার। যেমন করে হোক, যে উপায়েই হোক।

    কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে থেকে গৌরী খাঁচাটায় সজোরে একটা ধাক্কা দিলে। সরল না। আর একটা ধাক্কা আরও জোরে। খাঁচার কাঠের চাকাগুলো গড়গড় করে এগিয়ে গেল কয়েক পা। আর একটু ঠেলে দিলেই নৃপেন রায়ের দরজা। অনেক রাত পর্যন্ত মদ খেয়ে নৃপেন রায় মেজের ওপরেই পড়ে আছেন, দরজা বন্ধ করে দেবার সুযোগ তাঁর হয়নি।

    …শঙ্খচূড়ের গর্জনে আতঙ্কবিহ্বল নৃপেন রায় উঠে দাঁড়ালেন। তখনও নেশায় টলছেন, তখনও চোখের দৃষ্টি আচ্ছন্ন। দেখলেন আট হাত লম্বা আরণ্যক বিভীষিকা তাঁর মুখের দিকে স্থির তাকিয়ে আছে—হেলছে দুলছে, চোখে নীল হিংসার খরদীপ্তি!

    এক লাফে দরজার দিকে সরে গেলেন। টানতে গেলেন প্রাণপণে, দরজা খুলল না। গৌরী বাইরে থেকে শিকল বন্ধ করে দিয়েছে।

    গৌরী! গৌরী!

    আর্তস্বরে নৃপেন রায় চেঁচিয়ে উঠলেন। গৌরীর জবাব এল না, এল হাসির শব্দ। কাচের জানলার মধ্যে দিয়ে সে ব্যাপারটা দেখছে। আর একটা নতুন খেলা, একটা নতুন আনন্দ! নেশা!

    প্রচন্ড বেগে ছোবল মারল সাপটা। আটত্রিশ বোরের রিভলবারটা ড্রয়ার থেকে বার করবার আর সময় নেই। শেষ চেষ্টায় সাপকে আঁকড়ে ধরতে গেলেন নৃপেন রায়, পারলেন না। মণিবন্ধনের ওপর দংশনের তীব্র জ্বালা অনুভব করতে করতে দেখলেন কাচের জানলার হাততালি দিয়ে দিয়ে হেসে উঠছে গৌরী। সে প্রাণ পেয়ে উঠেছে, কোথাও কিছু বাকি নেই তার; আর শঙ্খচূড় সাপের মতো তারও জান্তব চোখ আচ্ছন্ন হয়ে গেছে আদিম হিংসার নীল আলোয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    টেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }