Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প831 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কিরণকাকুর শ্রাদ্ধ

    অফিস থেকে ফিরতেই বাবা বললেন, রতন এসেছিল কিরণবাবুর শ্রাদ্ধের নেমন্তন্ন করতে। তোর কথা বার বার বলে গেছে। যেতে ভুলে যাস না।

    কিরণকাকুর মৃত্যু সংবাদ কয়েকদিন আগে আমি অফিসেই শুনেছিলাম। ইচ্ছে করেই বাবাকে খবরটা দিইনি। বাবা এখন এমন এক বয়সে এসে পৌঁছেছেন যখন প্রতি সপ্তাহেই একজন না একজন প্রায় সমবয়সি না হলেও অতি পরিচিত আত্মীয় এবং অনাত্মীয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনতে হচ্ছে তাঁকে। তাই ভেবেছিলাম যে, খবরটা যত দেরি করে জানেন ততই ভালো।

    মানুষের জীবনে মৃত্যু ব্যাপারটা একটা বিশেষ বয়স পর্যন্ত তার অমোঘ ও অবিসংবাদী রূপ নিয়ে একেবারেই প্রতিভাত হয় না। মৃত্যু আছে তা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষমাত্রেই জানেন। কিন্তু মৃত্যুকে যে এমন করে অসহায় পৌনঃপুনিকতায় স্বীকার করতে হয় তা যতদিন না জানা যায় ততই মঙ্গলের।

    কারোই মা-বাবা চিরদিন থাকে না জানতাম কিন্তু ছেলেমানুষি এক বিশ্বাসে ভর করে পরম সুখে ছিলাম যে আমার মা-বাবার বেলায় সে নিয়ম খাটে না। আমার মা বা বাবা না থাকলে কী হতে। পারে সেকথা ভাবার মনের জোরটুকুও কখনো ছিল না। কিন্তু সব শিশুকেই একদিন বড়ো হতে হয়, বাবা হতে হয়। সব বাবাকেই হতে হয় মাতৃহারা, পিতৃহারা। এটাও সুর্যের অয়নের মতো। জীবনধারণের এক অনস্বীকার্য অঙ্গ। মানছি, মেনে নিচ্ছি। এক এক করে কত কিছু ভয়াবহ। সত্যকে জীবনের সঙ্গী করে নিয়ে তবুও বাঁচছি। এ বাঁচা বড়ো কষ্টার্জিত বাঁচা। সেই অনাবিল, শুধু-হাসির শুধু-সুখের দিনগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। অথচ এই টালমাটাল জীবনের মধ্যেই টুকরো টুকরো সুখ ছিনিয়ে নিয়ে দিন কাটছে। কাজ করছি, টাকা রোজগার করছি, কর্তব্য করছি। এবং করছি না।

    কিরণকাকুর সঙ্গে অফিসে প্রায়ই দেখা হত। কয়েকদিন আগেই কিরণকাকুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমাদের হেড অফিসেরই করিডরে।

    বললেন, তোমার একটা লেখা পড়ে সেদিন কেঁদেছি।

    আমি শুধিয়েছিলাম, কোন লেখা?

    উনি বললেন, দ্বীপান্তর। ট্যুরে গেছিলাম, কাজে, বিহারের ছোট্ট এক জায়গায়। ডাকবাংলোর বারান্দায় রবিবারের কাগজে তোমার লেখা পড়ে একা একাই কেঁদেছি।

    তারপর একটু থেমে বলেছিলেন, একটা চিঠি লিখব তোমাকে।

    আমি বলেছিলাম, লিখবেন। গল্পর কপিটা হারিয়ে গেছে। যেমন অনেক গল্পরই যায়। কিছুই গুছিয়ে রাখার সময় ও স্বভাব আমার নয়। তাই গল্পটা কিরণকাকুর মনে আছে। একথা ভেবে ভালো লাগল।

    তার আগে আমি কখনো জানি নি যে, কিরণকাকু এসব লেখা-টেখা পড়েন, পড়বার সময় পান।

    কাছের মানুষদের মধ্যে ক-জনকেই বা আমরা চিনি? চেনার সময় বা ইচ্ছাই বা কোথায়? ভাবিনি যে, তাঁর মধ্যেও এমন একজন সংবেদনশীল নরম দুঃখী মানুষ বাস করেন। নইলে একজন। যুবকের তীব্র দুঃখের গল্পে একজন সত্তরোর্ধ্ব মানুষ এমন একাত্মবোধ করেন কী করে?

    রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর একটা সিগারেট ধরিয়ে জানালার পাশে বসে অনেক পুরোনো কথা ভাবছিলাম। আমার তখন বয়স দশ-এগারো। ক্লাস সিক্স-এ পড়ি। বরিশালে তখন আমরা। কিরণকাকু মাঝে মাঝে কাজে যেতেন। আমার জন্যে রঙিন গেঞ্জি নিয়ে যেতেন। সেই তখনকার স্মৃতি থেকে আরম্ভ করে আজকের দিন অবধি প্রায় তিরিশ বছরের বেশিই হবে। কত টুকরো টুকরো ঘটনা, হাসি, ওঁর মিষ্টি মুখের মিষ্টি কথা। সব মনে আসছিল ভিড় করে।

    সিগারেটটা নিবিয়ে ফেলে মনে মনে বললাম, নিশ্চয়ই যাব। শ্রাদ্ধের দিন তো যেতেই হবে। তার আগেও একদিন যাব। কিছু ফলমূল, মিষ্টি আর আতপ চাল, ঘি এই সব নিয়ে।

    আসলে আমরা ভাবি না, হয়তো ভাবার সময়ই পাইনা, নইলে এ জীবনে দুঃখের ভারের বোঝা কত সহজে সুখের ভারে লাঘব করা যায়। কমই-বা কী পেলাম এ জীবনে? কত ভালোবাসা, স্নেহ, যত্ন আদর, কত স্মৃতি, প্রশংসা! এই সবেরও তো ওজন আছে! নাকি নিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, ঈর্ষা, নোরামি ইত্যাদিই সব? সব মিলিয়েই তো জীবনের নিক্তি সমানই হয় শেষে। আগে পরে। এইটে বুঝতে বুঝতেই যে মৃত্যু এসে দরজায় কড়া নাড়ে। জীবনের মানে বোঝার আগেই, জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করার আগেই জীবন ফুরিয়ে যায় আমাদের। মনে মনে বললাম, নিশ্চয়ই যাব। কিরণকাকুর শ্রাদ্ধে না গেলে বড়োই অন্যায় হবে।

    ২.

    অফিসের রিক্রিয়েশন রুমে গজেনদার সঙ্গে দেখা হল সেদিন। এই ভদ্রলোককে বুঝতে পারি না আমি। এঁর চরিত্র জাতকের গল্পের খলের চরিত্রের মতো। এই সব মানুষেরা যোগ্যতা এবং পরিশ্রম ব্যতিরেকেই, জীবনে তেমন কিছু না দিয়েই সব কিছুই পেতে চান। শুধু টাকার বা চাকরির বড়ো মাপের বিনিময়ে যে সব কিছু এ জীবনে পাওয়া যায় না একথা তিনি মানতে রাজি নন। একে খুঁচিয়ে, ওকে চটিয়ে, একের নামে আরেকজনকে দুটো কথা বলে মানুষের সম্পর্ক। নামক আপাতসুন্দর কিন্তু বড়োই কন্টকিত বস্তুটিকে তিনি নিরন্তর তাঁর চারিত্রিক জটিলতার পিন ফুটিয়ে ফাঁসিয়ে যান। এতেই ওঁর আনন্দ। কত মানুষ কত বিভিন্নভাবে আনন্দিত হন। সহজ জিনিসকে বক্র করতে, অনাবিল জিনিসকে আবিল করতে এঁর মতো দক্ষ লোক বড়ো বেশি দেখিনি।

    বললেন, যাচ্ছ না কি আজ?

    বললাম, নিশ্চয়ই!

    উনি বললেন, তুমি সকলকেই ভালো দেখ। তোমার চোখে সকলেই ভালো।

    আমি বললাম, মানে?

    মানে আর কী?

    কেন বলুন না?

    না, শুনে আর কী করবে? মানুষটাও নেই। মরা মানুষের নিন্দা করে কী হবে?

    ভাবলাম জ্যান্ত বা মরা কোনো মানুষরাই ওঁর হাত থেকে নিষ্কৃতি পান না। কিন্তু এঁরা সোজাসুজি নিন্দা কখনো করেন না। অদ্ভুত এঁদের মোডাসঅপারেন্ডি। এঁরা কোন কথা কী ভেবে বলেন, কেন বলেন তা যখন বোঝা যায়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। ক্ষতি হয়ে যায়।

    তাই অধৈর্য হয়ে বললাম, বলুনই না।

    উনি বললেন, তোমার চাকরিতে যে উন্নতি হয়েছে এটা ভদ্রলোক একেবারেই বরদাস্ত করতে পারতেন না। তোমাকে দু-চক্ষে দেখতে পারতেন না। বুড়ো মানুষের এমন স্বভাব দেখা যায় না। কী আর বলব!

    আমি বললাম, বলেন কী? উনি তো আমাকে খুবই স্নেহ করতেন, সেদিনও কত কথা হল। তা ছাড়া আমি কি ওঁর সমকক্ষ বা প্রতিযোগী? কোন দিক দিয়ে আমি ওঁর যোগ্য? উনি আমার পিতৃবন্ধু, ওঁর পক্ষে আমাকে খারাপ বলার বা খারাপ দেখার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

    গজেনদা মুখ-ভরা পানে একমুঠো জর্দা ফেলে বললেন, তুমি একটি ছাগল। তোমার ধারণা পৃথিবীর সবাই তোমাকে ভালোবাসে। তোমার উন্নতিতে সকলে আহ্লাদিত। তাইনা?

    আমি বললাম, তা যদিনা-ও হয় তাহলেও আমি সেকথা জানতে চাই না। এই মূখর স্বর্গও আমার ভালো। সবাই ভালোবাসে এই বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার আনন্দ আছে আলাদা। আমি ওসব শুনতে চাই না।

    গজেনদা বললেন, শুনতে চাও না, তা তোমাকে বলছেই বা কে? ওই তো তোমার স্বভাব। তোমার ভালো করতে গেলেও, তোমাকে ভালো কথা বললেও তুমি চটে যাও।

    আমি বললাম, আপনি যে কথা বললেন তার কি কোনো প্রমাণ আছে?

    জর্দার ঢোঁক গিলে গজেনদা বললেন, প্রমাণ সাক্ষী সবই আছে। চাও তো পাবে।

    আমি বললাম, চাই না।

    গজেনদা বললেন, আমারই অন্যায়। মাফ চাইছি তোমার কাছে।

    সেদিন অফিস থেকে ফিরে এবং ফেরবার পথে গজেনদার কথা ভাবছিলাম। কিরণকাকুর সম্বন্ধে আমার মনটা বিষিয়ে দিলেন ওই মানুষটা। এঁদের কাছে বোধহয় ডিজেলের ধোঁয়া, কলকাতার ধোঁয়াশা, ফুটপাথের দোকানদার, সি এম ডি এ ও এম টি পি-র খোঁড়াখুঁড়িও বর্তমান কলকাতার আবহাওয়াকে যথেষ্ট বিষাক্ত ও বিরক্তিকর করে তুলেছে বলে মনে হয় না। সেই বিষাক্ততাকে আরও নিচ্ছিদ্র করতে চান তাই ওঁরা।

    ৩.

    তারপর একটা একটা করে দিন কাটতে লাগল। কাজে, কর্তব্যে, আলস্যে, উদাসীনতায়, একঘেয়েমিতে। কিরণকাকুর বাড়িতে যে একদিন যাব তার সময়ই করে উঠতে পারলাম না। মন্দ্রিতার পিসিমা মারা গেলেন, একদিন মিনিবাসের স্ট্রাইক হল, আমার ভাগলপুরের বন্ধু বিজন। হুট করে চারদিনের জন্যে না-বলে-কয়ে কলকাতায় এসে পড়ল। আরো অনেক কিছু ঘটল ইতিমধ্যে।

    ক্যালেন্ডারের তারিখগুলো যে কারো জন্যেই বসে থাকে না তা একদিন হঠাৎ আবিষ্কার করলাম। যেদিন, ঠিক তার পরদিনই কিরণকাকুর শ্রাদ্ধ।

    সেদিন খুব ভোরে বাবা ট্যাক্সি নিয়ে চলে গেলেন। আমি তখন বাথরুমে। যাওয়ার সময় বাবা খোঁজও করে গেলেন আমাকে। মন্দ্রিতা এসে বাথরুমের দরজা ধাক্কাল। আমি ওকে বললাম, বাবাকে চলে যেতে বল, আমি অফিস যাওয়ার পথে ঘুরে যাব।

    তাড়াতাড়ি তৈরি হলাম। তারপর স্ট্যান্ডে এসে মিনিবাস ধরলাম।

    মিনিবাসে উঠতে গিয়েই ধাক্কা লেগে চশমাটার এমন অবস্থা হল যে চশমার দোকানে তখনই একবার যাওয়া দরকার পড়ল। চশমাটার একদিক ভেঙে গেছে। পাওয়ারও কম নয়। যখন তখন পড়ে যেতে পারে।

    ঠিক কিরণকাকুর বাড়ির এক স্টপেজ আগে নেমে পড়লাম চশমা মেরামত করবার জন্যে। চশমা মেরামত করিয়ে এক খিলি পান খেলাম জর্দা দিয়ে। পানের দোকানের আয়নায় চেহারা দেখে বিনা কারণে একবার চুল আঁচড়ালাম। তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে কিরণকাকুর বাড়ির দিকে এগোতে লাগলাম পায়ে হেঁটে।

    ওঁদের বাড়ির গলির মোড়ে এসেছি ঠিক এমন সময় কে যেন পিছন থেকে হঠাৎ ডাকল আমায়, আমার নাম ধরে।

    চমকে তাকিয়ে দেখি অনিমেষ। আমার অফিসের সহকর্মী। এখন কোম্পানি ন্যাশনালাইজড হয়ে গেছে। অনেকদিন একসঙ্গে কাজ করেছি আমরা। ও একাজ ছেড়ে দিয়ে একটা অন্য কোম্পানিতে বেশি মাইনেতে ঢুকেছিল।

    ও বলল, কীরে! চিনতেই যে পারছিস না।

    আমি বললাম, তুই কিন্তু একরকমই আছিস।

    ও বলল, তুই এত বুড়ো মেরে যাচ্ছিস কেন?

    বললাম, এমনিই…। জ্ঞান বেড়েছে তো!

    আমি শুধোলাম, এখানে দাঁড়িয়ে? এখন?

    বাঃ, থাকি তো এখানেই। ভুলেই গেলি? তারপর বলল, তুই তো পাঁচ নম্বরে উঠবি। তারপর বলল, কোন ব্রাঞ্চে আছিস এখন?

    এমন সময় একটা ফাঁকা ট্যাক্সি পেয়ে অনিমেষ আমাকে হাত ধরে আচমকা টেনে নিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে পড়ল।

    বলল, গাড়িটা রিপেয়ার করতে দিয়েছি। পুরোনো অফিস আর নতুন অফিস কাছাকাছি। চল আমার অফিস দেখে যাবি।

    আমি একটা শ্রাদ্ধ বাড়িতে যাচ্ছিলাম।

    আপত্তির গলায় বললাম, আমি।

    আমাদের পাড়ায়? কোন বাড়ি?

    সান্যালদের বাড়ি। ও কিরণ সান্যাল? ভারি ভালো লোক ছিলেন।

    বললাম, নেবে যাই আমি এখানে। আমার যাওয়া উচিত ছিল।

    ছাড় তো! এসব রিচুয়ালে এখনও বিশ্বাস করিস? কী রে? তুই না নবেল লিখিস। আঁতেল?

    বলেই আমার হাত চেপে ধরল। বলল, আমার অফিসে চল। এক কাপ চা খেয়ে যাবি, তারপর তুই তোর অফিসে যাস। কত্ত দিন পরে দেখা হল!

    অনিমেষ এখন আমার চেয়ে অনেক বড়ো চাকরি করে। ওর আলাদা চেম্বার। উর্দিপরা বেয়ারা বসে আছে বাইরে। ও বেল বাজিয়ে চা আনতে বলল। তারপর বলল, এমন দায়িত্বের কাজ, বুঝলি, সর্বক্ষণ নিজের শ্রাদ্ধ নিজে করছি.তোর মতো পরের শ্রাদ্ধে নাম প্রেজেন্ট করে বেড়ানোর মতো ফালতু সময় আমার নেই।

    চা খেতে খেতে আমার কেন যেন মনে হল যে, ওর অফিসে ও যে একজন কেওকেটা, পদমর্য্যাদাতে ও যে আমার চেয়ে অনেকই বড়ো, এটা দেখাবার জন্যেই ও প্রায় জোর করেই এত বছর পর প্রথম দর্শনেই আমাকে পথ থেকে পাকড়ে নিয়ে এল। পুরোনো অফিসের কোনো। কথাই হল না। পুরোনো বন্ধুদের কথা জিগগেসও করল না ও।

    চা খাওয়া হয়ে গেলে ড্রয়ার খুলে দামি বিলিতি সিগারেট বের করে খাওয়াল। নিজে ধুয়ো ছেড়ে বলল, পারচেজ ডিপার্টমেন্টে আছি বুঝেছিস। সাপ্লায়াররা অনেক কিছুই দিয়ে যায় মাঝে মাঝে। খাতির-যত্ন একটু আছে এই চাকরিতে।

    বাঃ, বেশ।

    অনিমেষের অফিস থেকে যখন বেরুলাম, তখন এগারোটা বেজে গেছে। উলটোদিকের বাসে চড়ে কিরণকাকুর বাড়ি যেতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যায়। আর গেলাম না। অফিসেই চলে গেলাম।

    অফিসে ঢুকতেই বড়ো সাহেব ডেকে গালাগালি করলেন। ইরেসপনসিবল কোথাকার! তোমাদের কবে আক্কেল হবে বলতে পার? তোমাকে বারবার বললাম, সাড়ে নটার মধ্যে আসবে। বোম্বে থেকে মালহোত্রা এসে বসে আছে দশটা থেকে। বলছিল, কলকাতার মানুষ কাজ ছাড়া আর সব কিছুই করে।

    আমি চুপ করে রইলাম। দেরি হল। কিন্তু বিনা কারণেই। শ্রাদ্ধে যেতে পারলেও না হয় বকুনিটা হজম হত।

    পরদিন রতনদার সঙ্গে দেখা হল। খুব দুঃখিত হয়েছেন, বোঝা গেল।

    বললেন, বাবা তোমাকে এত ভালোবাসতেন, তুমিই এলে না!

    আমি কী যেন একটা কারণ দেখালাম। কারণটা সত্যি নয়। কী বলেছিলাম, এখন আর তা মনেপড়ছে না। কিছু একটা মিথ্যা কথা বানিয়ে বলেছিলাম।

    রতনদা বললেন, তোমার বাবা শচীনকাকা কিন্তু এসেছিলেন।

    আমি বললাম, জানি।

    মনে মনে বললাম, ওঁরা অন্য প্রজন্মের লোক। ওঁদের মনের জোর, কর্তব্যের জোর অন্তত এখনও আছে। আমাদের মতো শ্যাওলার মতো ভারহীন ভেসে বেড়ানোতে ওঁরা বিশ্বাস করেন না।

    রতনদার খুব অভিমান হয়েছিল বলে আর বেশি কথা বললেন না।

    আমার এমন খারাপ লাগতে লাগল যে কী বলব। অথচ কেন। কোন তুচ্ছ ও অনির্ধারিত কারণে যে যেতে পারলাম না তা আমিই জানি। আমি জানি যে, কারণটা বা কারণগুলো সত্যি কিন্তু সেগুলো বুক ফুলিয়ে বলা যায় এমন বিশ্বাসযোগ্য কারণ নয়।

    সত্যি কথা সব সময় ইচ্ছা থাকলেও বলা যায় না। কারণ তা কেউই বিশ্বাস করে না। তাই। অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমরা রোজ মিথ্যা বলি। যেটা করব বলে ভাবি, যেটা কর্তব্য বলে জানি, ঠিক সেটাই সময়মতো করে হওয়া ওঠে না। না-করতে পারার গ্লানিটা বুকে জমেই থাকে, নিজের কাছে নিজেকে ছোটো মনে হয়, অথচ অন্যর কাছে এই তুচ্ছ কারণের অপারগতাকে প্রকাশ করাও যায় না।

    আমরা যা মনে মনে করতে চাই তা করতে পারি না প্রায়ই। ইচ্ছা থাকলেও পারি না। আমরা কতগুলো দিগভ্রষ্ট পশু হয়ে গেছি। সারাদিন ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্যে অথবা বিনা কারণেই এদিক ওদিকে চরে বেড়াই, যা করার নয়, তাই-ই করি আর যা করার তা করতে ভুলে যাই।

    কিরণকাকুর শ্রাদ্ধ দু-বার হবে না। অথচ আমার বুকে চিরকাল সেই শ্রাদ্ধে অনুপস্থিত থাকার লজ্জা ও গ্লানি জমা থাকবে। আমি জানি যে, আমার শ্রাদ্ধে অথবা সুদূর ভবিষ্যতে আমার মেয়ের বিয়েতে আমার অনেক প্রিয়জন আসার ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকলেও এসে উঠতে পারবেন না। সেদিনকার আমারই মতো কোনো কাজে অথচ অকাজে অথবা আলস্যে বা উদাসীনতায় আটকে যাবেন। ব্যস্ত মানুষ হলে হয়তো ভুলেও যেতে পারেন।

    আমি এও জানি যে, আমার আত্মা অথবা আমি কেউই সেই সব অপারগদের ক্ষমা করবে না বা করব না।

    মনে হল, আমাদের আজকের জীবনের অনেকানেক কর্তব্য কিরণকাকুর শ্রাদ্ধে না-যাওয়ার। মতোই অবহেলিত হচ্ছে। এই ছোট্ট ছোট্ট স্তুপীকৃত পৌনঃপুনিক অপরাধের চেয়ে একটা বড়ো রকমের অপরাধ, খুন, রাহাজানি, ডাকাতি, এমনকী ধর্ষণ করাও বোধহয় শ্রেয় ছিল। অপরাধেও আমি বড়ো হতে পারলাম না।

    শহুরে, ছা-পোষা, সাধারণ একজন মানুষ আমি।

    এই উদাসীন সামান্যতার ভারে, না-ভালোনা-মন্দর মলিন মানসিকতার ক্লান্তিতে ক্লান্ত আমি কিরণকাকুর শ্রাদ্ধে না যেতে পেরে লক্ষ লক্ষ নিরুপায় মধ্যবিত্তদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেলাম। মধ্যবিত্তদের নানারকম কষ্ট থাকে। তার মধ্যে কিছু কষ্টর কথা বলা যায়, অন্যর সঙ্গে আলোচনা। করা যায়, সেই সব কষ্ট নিরসনের পথও বের করা যায়। কিন্তু এই সব সামান্য…কী…কাকে…।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচম্পাঝরন – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article মহাভারত – বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }