Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প831 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তিস্তা

    প্ল্যাটফর্মের বাইরে এসে হু-হু হাওয়ায় সকালের রোদে দাঁড়িয়ে তিস্তার বানের মতো একসঙ্গে অনেক কথা মনে পড়ে গেল যোগেনের। গ্রাম তার কোনোদিনও ভালো লাগে না। ওর সত্যিই কি আবার এতদিন পর তিস্তার পারে ফিরে আসার দরকার ছিল? যা তার এখানে ছিল সবই তো ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সর্বগ্রাসী তিস্তা!

    থাকবার মধ্যে ছিল কয়েক বিঘা ধানি জমি–আর দাদা। যোগেনের দাদা নগেন। লেখাপড়া। করেনি, শহরে যায়নি কোনোদিন। সে শুধু চাষ বুঝত। রোদে-জলে মাঠেঘাটে বিবর্ণ ছাতা হাতে ঘুরে বেড়াত। দাদা নিজে লেখাপড়া শেখেনি, শহরে আসেনি, কিন্তু যোগেন যে বি এ পাশ করে শহরের একটা সওদাগরি অফিসে চাকরি করছে সে তার দাদারই জন্য। বুড়ো দাদাই তাকে। পড়াশোনা শিখিয়েছিল, বাবা-মার অবর্তমানে নিজের ছেলের মতো করে ভাইকে মানুষ করেছিল।

    মানুষ করেছিল কথাটা ভাবলে যোগেনের হাসি আসে। বাজারের ঝুলিয়ে রাখা মরা পাঁঠাদের গায়ে যে ছাপ থাকে সেই রকম একটা ছাপ মেরে দিয়েছে ইউনিভার্সিটি। আর সেই ছাপের জোরে দিনগত পাপক্ষয় করেছে ও।

    একথা মনে হচ্ছে যোগেনের, বোধহয় নগেন আজ নেই বলে। বন্যার বহুদিন পরে একটা বিবর্ণ পোস্টকার্ড এসেছিল মেসের ঠিকানায়, লেখা ছিল, কল্যাণবরেষু বাবা যোগেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাইতেছি যে, তোমার দাদা নগেন আর নাই। আমার মেজো ছেলে স্বপনও নাই। তাহারা দু-জনেই রাক্ষসী তিস্তার তোড়ে ভাসিয়া গিয়াছে। আমরা সকলে ভাসিলেই বোধকরি ভালো হইত। যে অবস্থায় আমরা এখন আছি তাহার চেয়ে মরিয়া যাওয়া ভালো ছিল। ইতি আং আশীর্বাদক হারু কাকা।

     

     

    পুঃ তোমাদের বাড়ি পড়িয়া গিয়াছে। জমি বালিতে ও পলিতে ভরাট। যত শীঘ্র পার একবার আসিবার চেষ্টা করিও।

    চেষ্টা করলেই কি আর তখন আসা গেছে? তা ছাড়া এক একবার মনে হয়েছে, গিয়ে হবেটাই বা কী? দাদা নেই, বাড়ি নেই, দেখতে গিয়ে লাভ কী? তবু জানে না, কেন, কীসের টানে, বাস্তুভিটের টানে ভিড়-ভারাক্কা কমলে ধার-ধুর করে টিকিটটি কেটে চলেই এসেছে যোগেন।

    বেলা পড়ে গিয়েছিল। হাওয়াতে এতদিন পরেও যেন একটা পচা দুর্গন্ধ বইছে, যে গন্ধ নোরা জলে হয়, কী শকুনির ডানায় ওড়ে। প্রায় পাঁচ মাইল পায়ে হেঁটে যখন গ্রামে এসে পৌঁছোল যোগেন তখন সত্যিই কিছু চিনতে পারল না। চারদিক ধু-ধু। ঘর বাড়ি বলতে কিছু নেই, এমনকী হারু কাকার অমন দোতলা লাল টিনের ছাদওলা বাড়িটারও কোনো চিহ্নমাত্র নেই। গোরুর গলার ঘন্টা নেই, গাছের ছায়া নেই, বাছুরের হাম্বা নেই, ঘুঘুর ডাক নেই, শেষ বিকেলের হাওয়াটা যেন নদীর পাশের একটা নিস্তব্ধ রুক্ষ শশ্মশানের উপর দিয়ে বইছে। ফিসফিস করে হাওয়াটা। প্রেতিনির মতো নদীর সঙ্গে কথা বলছে। ঝুর ঝুর করে বালি উড়ছে, বালি ঝরছে। সেই মরুভূমির মধ্যে অনেক দূরে পাতায় আর চটে ছাওয়া কতগুলি ঘরের মতো দেখল যেন যোগেন।

     

     

    বড়ো অশ্বত্থগাছটা পড়েনি। আরও বহু বড়ো বড়ো গাছও রয়ে গেছে। ছোটো গাছ, যেগুলো পড়েনি, সেগুলো কাদা মেখে কুৎসিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    আগে যেখানে খুরসেদ মিঞার বাড়ি ছিল সেখানে কে একজন একটা ন্যাড়া তালগাছের তলায় ঝুপড়ি বানিয়ে একটা দোকানমতো দিয়েছে। যাদুকরী বিড়ি দেশলাই, মুড়ি, কিছু শুকনো আলু আর চোপসানো বেগুন। দিশি বিস্কুটে, মাছি ভনভন করছে। লোকটা একটা চট, আলোয়ানের। মতো গায়ে দিয়ে বসে একমনে এক চোখ বন্ধ করে বাঁ কান পরিষ্কার করছিল।

    যোগেন কাছে যেতেই বলল, কই চলেন বাহে।

    তারপরই বলল, চিনতে পারল না?

    যোগেন অবাক হয়ে দেখল তারু কাকা। হারু কাকার দাদা। ভাবা যায় না! যে হারুকাকা আর নীরু কাকা দাওয়ায় বসে হুকো খেত আর মহাজনি কারবার করত, যাদের কাছে এই স্বল্প-বসতি গ্রামের সকলের মান সম্মান হাসি আনন্দ সব বাঁধা ছিল! যারা বিপদে আপদে হর্তাকর্তা ছিল তাদেরও আজ এই অবস্থা।

     

     

    যোগেন থতমতো খেয়ে ছোটোবেলায় অভ্যাসবশে জুতোটা খুলে ফেলে হাতে নিল।

    তারু কাকা খকখক করে কাসল, বলল, থো থো আর ভক্তি দেখাইয়া কাম নাই। ক্ষুধা লাগছে? খাবি কিছু?

    যোগেন বলল, না।

    তারুকাকা বলল, তবে যা গিয়া–

    যোগেন শুনল। তারপর ফিরে দাঁড়িয়ে একটু চুপ করে থাকল। বলল, যামু কই? যাওনের জায়গা নাই।

    তারু কাকা উঠে দাঁড়াল। কোমর টান করে দাঁড়াতে কষ্ট হয় আজকাল। ধরা গলায় বলল, ক্যান? নগেন নাই বইল্যা কী সবাই ভাইস্যা গেছে গিয়া? যা যা–সোজা অশ্বত্থাগাছ তলায় চইল্যা যা। হারুরে। পাবিআনে।

    কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে কী ভাবল যোগেন, তারপর বিষণ্ণ গোধূলিতে পায়ে পায়ে ধুলো উড়িয়ে গ্রামের মাঝের অশ্বত্থাগাছের দিকে এগিয়ে চলল।

     

     

    ওর মাথার উপর একটা চাতক পাখি ফটিক জল ফটিক জল ডাকতে ডাকতে চমকে বেড়াতে লাগল। যোগেন একবার উপরে তাকিয়ে জোরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, তিস্তায় তো অনেক জল .হালা ওইহ্যানে যাওনা ক্যান?

    অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছিল যোগেন। ঘুম ভাঙল, সূর্য উঠে যাবার বেশ পরে। কাল বিকেলে মনে হয়েছিল পাখিরাও বুঝি সব ভেসে গেছে। কিন্তু এই প্রথম সকালে মনে হল, সব পাখি মরেনি। সকালের রোদ বড়ো বড়ো অশ্বত্থাপাতায় ঝিলমিল করছে। কটা শালিক এসে বসেছে উপরের ডালে।

    কাল রাতে হারু কাকার সঙ্গে অনেক গল্প করেছে যোগেন। বেশ ঠান্ডা ছিল। গাছতলায় আগুন জ্বেলে বসে হারু কাকার কথা শুনছিল। বন্যার তাণ্ডবের কথা। হারুকাকার দাড়িওয়ালা মুখটাকে গাছের গুড়ির পটভূতিতে আগুনের আভায় কোনো সন্ন্যাসীর মুখ বলে মনে হচ্ছিল। হারুকাকা আস্তে আস্তে বলছিল, আমরা আবার নতুন কইর‍্যা উদবাস্তু হইলাম-বোঝলা যোগেন।

    যোগেন কথার উত্তর দেয়নি কোনো। শুনছিল। ভাতের গরম ফ্যানে নুন মিশিয়ে কাচের গেলাসে করে যোগেনকে দিয়ে গিয়েছিল। যোগেন বুনিকে শেষ দেখেছিল অনেকদিন আগে। তখন হারু। কাকার বাড়ির মেয়েদের সচরাচর চোখে দেখা যেত না। কৃচিৎ কদাচিৎ গ্রামের কোনো অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হত। তবে ওরা যখন ছোটো ছিল তখন দুপুরে দুপুরেটো-টো করে ঘুরে বেড়াত। চরের পাশে পাশে কাশফুলে আর নলবনে হাওয়ার ঢেউ উঠত। ঘুঘু ডাকত ঘুঘুর ঘু–আপালচাঁদের জঙ্গলের দিক থেকে ময়ূরের ডাক শোনা যেত। তিস্তার ওপারের সরস্বতী চা বাগানের পাশে নেপালি গোয়ালাদের দুধের বাথান বহুদূর থেকে দেখা যেত।

     

     

    বুনি বলত, চলেন যোগেনদা, আমরা একদিন সাঁতরাইয়া চইল্যা যাই। ওপারে। যাইবেন? আপনে যা ভিতু।

    যোগেন হাসত। বলত, তিস্তা সাঁতরানো তোমার মতো রোগা মেয়ের কম্ম নয় একটু গিয়ে ভয়েই মরে ভেসে যাবে।

    উত্তরে বুনিও হাসত। বলত, ভাই-বোন না যে আমি ভাইস্যা গেলে আপনারে ছাইড়া যামু। আপনারে এমন কইর‍্যা জড়াইয়া ধরুম যে আপনারেও আমার লগে ভাইস্যা যাইতে হইব।

    যোগেন কথা বলত না।

    মুড়ি আর বাতাসা দিয়ে সকালের খাওয়া শেষ করল যোগেন।

    গ্রামের ছেলে-বুড়োরা সকলেই যে যার জমি উদ্ধারে লেগেছে। সকাল আটটা নটা বাজতেই সমস্ত গ্রামে এমন একটা কাজের জোয়ার, চেঁচামেচি, উদ্দীপনা, পড়ে গেল যে, ছোটোবেলায় এমন কোনোদিন দেখেছে বলে যোগেনের মনে পড়ল না। সকলের চোখে মুখেই বাঁচার জন্যে একটা প্রচণ্ড জেদ দেখতে পাচ্ছে যোগেন। এই অলস, মন্থরগতি, ভাগ্যে-বিশ্বাসী, অল্পে-সন্তুষ্ট, হুঁকো-খাওয়া লোকগুলোর মধ্যে এতখানি আগুন লুকোনো ছিল ভাবতে পারেনি ও কোনোদিন।

     

     

    ধীরু দাস কোদাল কাঁধে ছুটে যাচ্ছিল। যোগেন বলল, কী কাকা?

    ধীরু দাস মুখ ফিরিয়ে বলল, আইছস। আর ক্যান? এবার লাইগ্যা পড়। হালার ব্যাটা হালার তিস্তা আমাগো হারাইবে, তা অইব না।

    যোগেন বলল, সরকার কিছু করবে না?

    হারু মণ্ডল বলল, কইরলে করব। তাগো লইগ্যা বইস্যা থাহনের কাম কী? আমাগো কি হাত-রথ নাই? না, তাও নদীতে নিছে? বলেই হারুকাকা দৌড়ে গেল।

    দুপুরে হারুকাকারা সকলে ফিরল। গাছতলায় সকলে বসে কলাইকরা থালায় ভাত আর বেগুনসিদ্ধ খেল, নুন, আর কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে। তাতেই কত তৃপ্তি। যোগেনও খেল। যোগেন কাল থেকে যত দেখছে তত যেন অবাক হয়ে যাচ্ছে। ভেবেছিল, কেঁদে কেঁদে চোখ-ফোলানো কতগুলি নারী পুরুষ দেখবে। কিন্তু এসে দেখল এদের কারো চোখেই জল নেই। যা আছে তা জ্বালা।

     

     

    খাওয়া-দাওয়ার পর হারুকাকা বুনিকে ডেকে বলল, খাওন-দাওনের পর যোগেনরে লইয়া যা। কোথায় নিয়ে যাবে, কী বৃত্তান্ত, হারুকাকা কিছুই বলল না। তারপর ষাট বছরের হারু দাস রোদের মধ্যে দলবল নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ল।

    যোগেন কিছুক্ষণ একা একা অশ্বত্থ গাছতলায় বসে রইল। ফুরফুরে হাওয়ায়। একসময়ে ঝুপড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বুনি বলল, চলেন যাই।

    যোগেন উঠল। বলল, কোথায়?

    কই আর? আপনাগো বাসায়। বলেই, ফিক করে হাসল। যেন যোগেনের বাড়ি ভেসে গেছে, ওদের বাড়ি ভেসে গেছে বলে ওর কোনো দুঃখই নেই। যেন খুব একটা মজার ব্যাপার হয়েছে।

    ওরা চুপচাপ দুপুরের ধুলো-ওড়া হাওয়ায় ভেসে ভেসে হাঁটতে লাগল রোদে।

    একটু পরে বুনি বলল, নগেনদায় আমারে বড়ো ভালোবাসত।

     

     

    যোগেন বলল, জানি। আর কিছু বলল না। বুকের মধ্যেটা একবার মুচড়ে উঠল শুধু।

    অনেকখানি হেঁটে যখন ওরা যোগেনদার বাড়ির কাছাকাছি এল তখন যোগেনের চেনা চেনা লাগল। তার পরই জায়গামতো পৌঁছে গেল।

    বুনি বলল, রোদের বড়ো তেজই আমি এইখানে বইলাম একটু।

    যোগেন বলল, বোসো।

    তাকিয়ে দেখল, উঠোন নেই, সন্ধ্যামালতির বেড়া নেই, তুলসীতলা নেই, দাওয়া নেই, পুবের ঘর নেই, কিছুই নেই। এমনকী বড়ো ঘরেও চিহ্নমাত্র নেই। রান্নাঘরের টিনের চালাটা কী করে যেন কাদায় আটকে অ্যারোপ্লেনের ডানার মত উঁচু হয়ে আছে। সজনে গাছটার কিছু হয়নি। পাতাগুলোও সবুজ আছে। যার তলায় বুনি বসে আছে। আশ্চর্য!

    যোগেনও গিয়ে বুনির পাশে বসল। বুনি বলল, ভাবেন কী?

     

     

    না।

    নাঃ আবার কী? সবাই কোদাল হাতে লাইম্যা গেছে আর আপনি কেমন মরদ? খালি খালি নিঃশ্বাস ছাড়েন।

    যোগেন হাসল। বলল, হে কথা না। কার লইগ্যা করুম আমি? আমার আছে কেডা?

    বুনি এবার বড়ো বড়ো চোখ করে যোগেনের মুখে তাকাল। তারপর বল, হ! কইছেন ঠিকেই। তবে পলাইয়াই যান। দেহি আমি কিছু করবার পারি কিনা। তারপরই বলল আমিই বা কার লইগ্যা করুম?

    যোগেন বলল, থাউক, থাউক, আপনের আর এই রৌদ্রে কোদাল কোপাইয়া কাম নাই।

    বুনি হাসল। বলল, ক্যান? গইল্যা যামু? ডরাইয়েন না। এহনে আমি সব পারি।

    তারপর আরো কিছুক্ষণ ওরা দুজনে চুপ করে বসে রইল।

    একজোড়া ঘুঘু কোথা থেকে উড়ে এসে আগে যোগেনদের যেখানে উঠোন ছিল সেখানে পাইচারি করে বেড়াতে লাগল।

     

     

    বুনি বলল, বাস্তু ঘুঘু।

    যোগেন বলল, অরা জোড়ায় থাকে ক্যান?

    বুনি বলল, তা ক্যামনে কমু? আপনে জানেন?

    নাঃ।

    ওরা উঠল।

    যোগেন ভাবল, তিস্তার ধারটা একবার ঘুরে যায়। কথাটা বুনিকে বলল।

    তিস্তার চরে কিন্তু সেই ছোটোবেলার মতো রোদ্দুর। তেমনি হাওয়া কাশফুলে, নলখাগড়ার বনে তেমনি ভালোলাগা। সরস্বতীপুরের চা বাগানের দিকে বহুদূরের, পাড়ে, নেপালি গোয়ালাদের দুধের বাথান তেমনি আছে। বালিতে তেমনি শী শী শিস বাজছে।

     

     

    জলের ঝরঝরানি শুনতে শুনতে ওরা দুজনে শীতের দুপুরের রোদে অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। যোগেনের এত দুঃখের মধ্যেও হঠাৎ যেন সেই ছোটোবেলার মতো ভালো লাগতে লাগল। অনেকক্ষণ পর যোগেন আস্তে আস্তে বলল, ওই পারে যাইবা বুনি? নদী পারাইবা?

    বুনি বার বার বাচ্চা মেয়ের মতো জোরে জোরে মাথা নাড়ল, অস্ফুটে বলল, নাঃ। দু-চোখে দু ফোঁটা জল চিকচিক করতে লাগল। তিস্তার তীব্র জলরাশির গর্জনে কান পেতে, যোগেন ওই পারের বৈকুণ্ঠপুরের গভীর জঙ্গলের দিকে চেয়ে রইল। যদিও এই তিস্তা ওদের সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তবু হঠাৎ এই নদীকে যোগেনের ভীষণ ভালো লাগতে লাগল। কৃতজ্ঞতায় নুয়ে, মনে মনে নমস্কার করল তিস্তাকে–।

    যোগেনের মুখে সামান্য হাসির আভাস ফুটে উঠল। যোগেন ভাবল, সবকিছুলন্ডভন্ড করে তছনছ করে তিস্তা ওদের আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ দিয়েছে।

    বুনি অবাক চোখে যোগেনের দিকে চেয়ে বলল, কি? ভাবেন কি নদীর পানে চায়? পাগল হইলেন না কি যোগেনদা?

    যোগেন বুনির দিকে না ফিরে জলের দিকে চেয়েই বলল, নাঃ। কিছুনা। কিছু ভাবি না। তারপর বলল, চল, ফির‍্যা যাই। অনেকদিন পরে দেশজ ভাষাতে কথা বলে খুব ভালো লাগল ওর।

    চলুন।

    ওরা দুজনে পাশাপাশি চরের পথ বেয়ে অশ্বত্থাগাছের দিকে ফিরতে লাগল। পেছনে তিস্তার গর্জন ক্রমশ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে লাগল। বুনির গায়ের গামছা-গামছা শাড়ি ছাপিয়ে মেহনতের ঘামের গন্ধ বেরুচ্ছিল। ঘামের গন্ধ এত ভালো লাগে জানত না যোগেন।

    হাঁটতে হাঁটতে যোগেনের শরীরের পেশিগুলো হঠাৎ টান টান হয়ে উঠল। কীসের অধীর আগ্রহে পেশিগুলো অশান্ত হয়ে উঠল। অনেকদিন একঘেয়ে ক্লান্ত হাতে ও কলম পিষেছে। ঘ্যানঘেনিয়ে নোট বই মুখস্থ করে বি এ পাশ করেছে, প্রকাণ্ড অফিসে দু-বেলা বসে লাল নীল ছাপা কাগজে বিল লিখেছে–অফিসের একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রতম মেসিনের মতো। ওর এই শিরা-বের করা দুটি হাতে, একা একা যে সত্যিকারের এত কিছু করা যায়, কোদাল চালানো যায়, লাঙল বওয়া যায়, বুনির মতো কোনো ঘামের গন্ধ মাখা নরম চোখের দুঃখী মেয়েকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে শিউরে ওঠা যায়, নিজের চেষ্টায়, নিজের উদ্যমে, নিজের ঘামে যে নিজের চোখের সামনে দেখতে দেখতে কিছু সৃষ্টি করা যায়, এত সব কথা হঠাৎই আবিষ্কার করে ফেলল যোগেন।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    সেই আদিগন্ত আকাশের নীচে, নদীর গর্জনের সঙ্গে হাততালি দিয়ে যোগেনের নাচতে ইচ্ছা করল। এমনকী আনন্দে যোগেন একটু দৌড়িয়েও গেল সামনে।

    বুনি বলল, করেন কি? খামোখা দৌড়াইয়েন না। ক্ষুদা লাগলে খাওনের কিছু নাই।

    যোগেন কথাটা শুনে, থেমে গেল।

    যতদূর চোখ যায়, মরুভূমির মতো সাদা উজ্জ্বল উত্তপ্ত মাঠ। যোগেনের চোখ জ্বালা করতে লাগল। ও মনে মনে বলল, এই সমস্ত মরুভূমিময় ও নতুন করে সবুজ ফসল বুনবে। ফুলে-ভরা গাছ বসাবে, ছায়া আনবে, বাছুর নাচাবে, ঘুঘু ডাকবে–সব-সব–ও কিছু করবে।

    বুনির ঘামে-ভেজা হাতের পাতাটা ওর হাতের পাতার মধ্যে হঠাৎ জোরে মুঠি করে ধরল যোগেন। বুনির হাত ধরে, ধীর পায়ে হাঁটতে লাগল। ওর নীলরঙা হাফশার্ট আর বুনির কালোশাড়ির পাড় তিস্তার হাওয়ায় একরাশ কাশফুলের মতো এলোমেলো হতে লাগল। এবং ঠিক তখুনি।

    ওদের মাথার উপর দিয়ে একজোড়া ঘুঘু ডানা ঝটপটিয়ে তিস্তার দিকে উড়ে গেল। সেদিকে চেয়ে রইল ওরা দু-জনে। নির্বাকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচম্পাঝরন – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article মহাভারত – বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }