Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প831 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রান্তিক

    মিস্টার হোড় বললেন, ব্রিলিয়ান্ট, সত্যিই ব্রিলিয়ান্ট।

    আসলে একা মিস্টার হোড়ই নন, ইনকাম ট্যাক্সেও এমন লোক নেই যিনি সুকল্যাণ সেনকে প্রশংসা না করেন। পণ্ডিত অনেকে হতে পারেন, আছেনও হয়তো-বা, কিন্তু ভালো অ্যাডভোকেট সকলে হতে পারেন না। ইচ্ছে করলেই ভালো অ্যাডভোকেট হওয়া যায় বলে অশোক জানে না। মানে তো নাই-ই।

    নইলে, এত বড়ো একটা কুড়ি লাখ টাকার ক্যাশক্রেডিটের কেস কেমন সুন্দরভাবে গুছিয়ে আরগুমেন্ট করছেন। অ্যাপেলেট ট্রাইবুনালের বাঘা-বাঘা মেম্বাররা পর্যন্ত মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছেন। যেমন সুন্দর চেহারা, মিষ্টি করে কথা বলা, তেমন ক্ষুরধার বুদ্ধি। একেবারে রাজযোটক মিল হয়েছে একটি লোকের মধ্যে। সকলে ব্রিলিয়ান্ট এমনি এমনি বলে না।

    দ্বিতীয়দিনের শুনানি যখন শেষ হল, তখন মিস্টার হোড় বললেন, ব্রিলিয়ান্ট। অশোক বলল, মুখে ব্রিলিয়ান্ট বললে হবে না, কেসে যদি সত্যি জেতেন, তা হলে দশ হাজার টাকা ফি দিতে হবে সেন সাহেবকে।

    দশ হাজার? চমকে উঠল হোড়।

    অশোক কেটে কেটে বলল, হ্যাঁ। দশ হাজার। উনি তাই চেয়েছেন। কেন? কেস জিতলে আপনার মালিকের কত ট্যাক্স রিলিফ হবে? কত লাখ টাকা? তা তো জানেন।

     

     

    মিস্টার হোড় হেসে বললেন, আজ্ঞে না, সেকথা আর বলতে?

    তবে?

    অশোক শুধোল।

    না। তবে কিছুনা, মানে, দশ হাজার একটু বেশি মনে হচ্ছে, এই আর কী।

    তৃতীয় দিনের শুনানি আরম্ভ হল। অশোক জুনিয়র কাউন্সেল। টেবিলের উপর উপুড় করে বই সাজিয়ে রেখে একটি একটি করে অ্যান্টি-এয়ারক্র্যাফটের গোলার মতো সিনিয়ার সুকল্যাণ সেনকে জোগান দিচ্ছে। আর দেখতে দেখতে ডিপার্টমেন্টাল রিপ্রেজেন্টেটিভের যুক্তির জঙ্গি বিমানগুলি ভূতলশায়ী হয়ে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে। মিস্টার হোড়ের উত্তেজনা বাড়ছে, মাঝে মাঝেই কোর্ট রুম থেকে বাইরে গিয়ে সিগারেট খেয়ে আসছেন।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

    বহুমূল্য আংটি-পরা দু-হাতের তেলোয় সাঁতরাগাছির ওলের মতো মুখখানি রেখে, শ্মশানে রাজা হরিশচন্দ্র যেমন বিবাগির মতো মুখ করে বসেছিলেন, মুখে তেমনি একটি কৈবল্য ভাব ফুটিয়ে বসে আছেন। আর মাঝে মাঝে মুলতানি গোরুর মতো জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলছেন।

     

     

    লোকটাকে দেখে প্রথমদিন থেকেই মনে হয়েছে, লোকটা একটা ঘুঘু। অ্যাপেলেটের কর্মচারীই নয় হয়তো! হয়তো কনট্রাক্ট করেছে কেস জিতিয়ে দেবার জন্যে, তারপর পাকা রেসুড়ে যেমন। ঘোড়া বুঝে জান-লড়ায়, তেমন সুকল্যাণ সেনকে খুঁজে বের করে সেই ঘোড়ায় বাজি লাগিয়েছে। জিতলে বাজিমাত। হারলেই বা কী? ওর থোড়াই গ্যাঁট থেকে কিছু খরচ হচ্ছে। লোকটার অতি বিনয় দেখেই মনে হয়, হয় লোকটা দালাল, নয় খুনে।

    এদিকে আরগুমেন্ট প্রায় শেষ হয়ে এল। সেন সাহেব সামিং-আপ করছেন! মেম্বারেরা হাইলি ইমপ্রেসড। অ্যাপারেন্টলি। যেমন চমক্কার পেপারবুক করা হয়েছিল তেমনি খেটেছিলেন সেন সাহেব কেসটিতে। অশোকও কম খাটেনি। এতদিনের শ্রম এক্ষুনি পুরস্কৃত হবে। একটি বড়ো কেস তৈরি করা কি সোজা কাজ? কতবার অ্যাডজোর্নমেন্ট নেওয়া হল–কত কাগজ জোগাড় করতে হল, শয়ে শয়ে পাতা ডিকটেশান, শয়ে শয়ে পাতা টাইপ–তারপর তৈরি হল পেপারবুক। একটি বড়ো কেসের শুনানি শেষ হতে হয়তো দু-দিন তিনদিন লাগে কিন্তু সে কেস তৈরি করতে লাগে দু-তিন মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম। সেই সব রাতগুলোর কথা ভাবে অশোক। টেবিলে রাশিকৃত বই ছড়িয়ে বসে আছে। দেওয়াল ঘড়িটা একলা টিকটিক করছে। অফিসের সবাই যথাসময়ে চলে গেছে–। ও একা বসে বসে পাতা হাতড়াচ্ছে, নোট নিচ্ছে, ভাবছে।

     

     

    ও অনেকদিন ঠান্ডা মাথায় ভেবেছে, মানুষ কি কখনো টাকার জন্য এত পরিশ্রম করতে পারে? ওর দৃঢ় ধারণা, টাকার জন্যে বা নিজের জন্যে কোনও মানুষই কিছুই করতে পারে না। অশোক যা কিছু করে সবই জেদের জন্যে, মজার জন্যে। একটি ভালো ইনস্যুয়িং বল ফেলে কোনো দুদে ব্যাটসম্যানকে আউট করার মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি পেয়েছে ও, একটি কেস ভালোভাবে জিতে ও ঠিক তেমনি আনন্দই পেয়েছে। ওর ঠাসবুনোনি যুক্তি, সুন্দর ডেলিভারি এবং গুড হিউমারের। বিপক্ষে ওর প্রতিপক্ষ যখন উলটে দেওয়া তেলাপোকার মতো আইনের যুক্তির পিচ্ছিল মেঝেতে হাত-পা ছুড়ছে তখন ওর খুব ভালো লেগেছে কিংবা কোনো অভদ্র, কুজাত প্রতিপক্ষ ওর সওয়ালের মুখে যখন গুড়ের হাঁড়িতে পড়া নেংটি ইঁদুরের মতো যন্ত্রণায় জবজব করেছে তখনও ওর খুব ভালো লেগেছে। শুধু টাকার জন্যে ও অন্তত কিছু করতে পারত না জীবনে। না, এ পর্যন্ত পারেনি। অথচ মুশকিল হচ্ছে টাকারও প্রয়োজন। সে প্রয়োজনটা আবার বেশি করে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, যখনি চোখের সামনে দেখতে পায় ওর চেয়ে সর্ববিচারে নিকৃষ্ট অনেক লোক। যেনতেনপ্রকারেণ পকেট ভর্তি করে টাকা রোজগার করে হাজারিবাগি টেটন ষাঁড়ের মতো শিং উঁচিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই সব দুর্বিনীত, ঘেয়ো গুণহীন কুকুরগুলিকে দেখলে ওরও বড়োলোক হতে ইচ্ছে করে। টাকা রোজগারের ইচ্ছাকে ও সব সময়েই অবদমিত করে রাখে। অথচ ও বুঝতে পায় কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো টাকা দিয়েই কেবলমাত্র ওই শ্রেণির টাকাওয়ালা লোককে শায়েস্তা করা যায়। ও অনেক কিছু বোঝে, সেই বোঝা যে ভুল তাও বোঝে, তারপর সব কিছু ভুলে যেতে পেরে তৃপ্তি পায়।

    অনলাইনে বেস্টসেলিং বই কিনুন

     

     

    অবশ্য টাকা ছাড়াও অনেক কিছু দুশ্চিন্তার আছে। এসব চিন্তা ছাড়াও তার মনকে পীড়িত করার মতো অনেক চিন্তা মাথার মধ্যে দপদপ করে।

    নীরেন, অশোকের স্ত্রী জুলির সেই কলেজে পড়া বন্ধু। কালো ঘোড়ার মতো চকচকে চেহারা, উলটো-করে ফেরানো চুল, অশোক জানে যে, অশোক বাড়ি না থাকলে সে আসে, যায়। মাঝে মাঝে জুলি তার সঙ্গে বাইরেও দেখা করে। কোনো রেস্তোরাঁতে খায়। নীরেনদের একটি কটেজ আছে গঙ্গার ধারে। শ্রীরামপুরে। সেখানেও যায়। সব জানে অশোক। অথচ জুলির চোখে চেয়ে বিশ্বাস করতে পারে না যে, সে অসৎ। ওর চোখে চাইলে মনে হয়, ও বড়ো যন্ত্রণা পাচ্ছে। কিন্তু যন্ত্রণা ছাড়া বিশ্বাসঘাতকতার কোনো চিহ্ন জুলির চোখে দেখেনি কখনো। জুলি ওকে ভালোবাসে এবং অশোকের প্রতি সমস্ত ব্যাপারেই জুলি সৎ। কেবল যেদিন নীরেনের সঙ্গে জুলির দেখা হয়–সেদিন রাতে জুলির চোখের কালো মণি দুটি মৌটুসি পাখির মতো স্পন্দিত হতে থাকে ওর। বুকের যন্ত্রণাটা চোখে এসে বাসা বাঁধে। জুলির প্রতি সমবেদনাও হয় অথচ ওকে ক্ষমা করতেও ইচ্ছে করে না। কিন্তু ক্ষমা ও করে দেয়, কারণ ওর বিশ্বাসে এখনও ফাটল ধরায়নি জুলি। সুস্থ। মেলামেশার যে সীমা ও মনে মনে এঁকে রেখেছে, সেই প্রান্তসীমা জুলি কখনো লঙঘন করে গেছে বলে মনে হয়নি ওর।

     

     

    আরগুমেন্ট শেষ করে সেন সাহেব বসে পড়লেন। একটি ছাইরঙা স্যুট পরেছিলেন সেদিন। ওডিকোলোন মাখানো সাদা রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছলেন, তারপর ফিসফিস করে অশোককে বললেন, কেমন বুঝলে?

    বোঝবার তো কিছু নেই স্যার। জিত হয়ে গেছে।

    মিস্টার হোড়, একটু নড়ে চড়ে বসে রথের মেলার আহ্লাদি পুতুলের স্বামীর মতো মাথা নেড়ে বললেন।

    সেন সাহেব বললেন, না আঁচালে বিশ্বাস নেই। দেখো, কী হয়।

    ফ্যানটা চিড়িক চিড়িক করে ঘুরতে লাগল। কোর্ট রুমের জানলা দিয়ে অশোক দেখল, আমগাছের ডালে একটি কাক গদগদ গলায় একটি সাদা গলা মেয়ে-কাককে কী যেন বলছে।

    মেম্বাররা উঠে গেলেন।

    সেন সাহেব বললেন, আমি চলি অশোক। হাইকোর্টে একটা ম্যাটার আছে। হবে না বোধহয়, তবুও একবার যাওয়া দরকার। সেন সাহেব চলে গেলেন তরতরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে।

     

     

    মিস্টার হোড় অশোককে ডাকলেন।

    কেমন বুঝলেন স্যার?

    অশোক চটে উঠল, বলল দেখুন, আপনাকে রানিং কমেন্টারি দিতে পারব না। শুনলেন তো সবই।

    মিস্টার হোড় মুখে ক্ষমার হাসি এনে বললেন, আহা! চটবেন না স্যার।

    আসুন এদিকে একবার আসুন।

    বারান্দার কোণায় ডেকে নিয়ে মিস্টার হোড়, তাঁর ঢোলা, ঝলমলে টেরিলিনের প্যান্টের পকেট থেকে তাড়া তাড়া ঘামে ভেজা এক-শো টাকার নোট বের করে দিতে লাগলেন।

    অশোক তার স্যুটের এপকেট ওপকেটে নোটগুলি ভরে রাখতে রাখতে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, কী ব্যাপার?

    মিস্টার হোড় বললেন, সেন সাহেবের। আট আছে। মানে আট হাজার। ট্রাইবুনালের অর্ডার পেলে আর দু-হাজার দেব। ওঁকে বলবেন।

     

     

    অশোক নিজের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ক্যাপাসিটিতে এই কেস রিপ্রেজেন্ট করছে না। করছে, তার অফিসের হয়ে। এই কেসের জন্যে তার অফিসকে মিস্টার হোড় কত টাকা দিয়েছেন বা দেবেন তা অশোক জানে না। সে মাস গেলে মাইনে পায়। তা ছাড়া অন্য কিছুনা।

    অশোক ভাবল, মুখ ফুটে মিস্টার হোড়কেই বলেই ফেলে কথাটা বলে, যে সিনিয়রকে ফি দিলেন, জুনিয়রকে কিছু দেবেন না? বলি বলি করেও, বলতে পারল না কথাটা অশোক।

    অশোকও এ কেসে কম খাটেনি। ওর বাড়িতেই পিসতুতো বোনের বিয়ে হল। অথচ ও গত সাত দিন সকাল থেকে রাত এগারোটা অবধি এই কেশ নিয়েই ডুবে থেকেছে। অনেকেরই অনেক অন্যায় কথা শুনতে হয়েছে। বিদ্রুপাত্মক কথা। কিন্তু অশোক চিরদিনই এই কর্মবিমুখ, পরনিন্দামুখর, ঈর্ষা জরজর সমাজে বিশ্বাস করে এসেছে যে, ইন আ ম্যানস লাইফ, নাথিং কামস বিফোর ওয়ার্ক।

    কাজকে জীবনের ব্রত করেছে ও। পুজো।

     

     

    অশোকের খুব ইচ্ছা করল যে, বলে একবার বলে।

    এসব লোক মুখ ফুটে না বললে দেবে না, কোনোদিন দেয়নি।

    কিন্তু মিস্টার হোড় সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাচ্ছেন। পিছনে ফিরে তাকাচ্ছেনও না।

    অশোক সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে রইল, ভাবল, মুখ ফেরালেই বলবে। মিস্টার হোড় হঠাৎ মুখ ফেরালেন ও হাত নেড়ে বললেন, সেন সাহেবকে বলবেন, রসিদ চাই না।

    অশোক নিজের কথা কিছুই বলতে পারল না, মিস্টার হোড়ের কথার উত্তরে মাথা নোয়াল।

    তারপর, বেয়ারাদের বিস্ফারিত চোখের সামনে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গাড়ির দরজা খুলল। দরজা খুলে ভিতরে বসল। অফিসের গাড়ি। ও নিজেই চালায়। বড়ো গরম লাগতে লাগল অশোকের।

    গাড়িটা তেতে আগুন হয়ে গেছে। স্যুটটা ঘামে জবজব করছে। সকালে বাড়ি থেকে বেরোবার সময় গায়ে পাউডার দিয়েছিল। বুঝতে পারছে, গেঞ্জির ভিতর গলে গলে পিঠ চুইয়ে ঘামের সঙ্গে পড়ছে। মোজা জুতো মোড়া পায়ের পাতাদুটি জ্বালা করছে।

     

     

    গাড়িটা স্টার্ট করল। গিয়ার দিতে গিয়ে বাঁ-হাতটা বাঁ-পকেটে লাগল–অনেকগুলো টাকাতে পকেকটা ভারী হয়ে আছে।

    গুরুসদয় রোডের ট্রাইবুনাল অফিস থেকে ধর্মতলা স্ট্রিটে কল্যাণ সেনের এয়ারকন্ডিশন্ড চেম্বারে পৌঁছোতে সময় লাগবে অনেক বেশি। কিন্তু অশোককে পৌঁছোতেই হবে। কতক্ষণ পরের বোঝা হয়ে বেড়াবে এমন করে?

    রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন না? কী যে বলেছিলেন মনে পড়ল না অশোকের, শুধু মনে পড়ল, বলেছিলেন টাকা জিনিসটা আদৌ ভালো নয়।

    আস্তে আস্তে গাড়ি চালিয়ে পার্ক স্ট্রিটের কাছাকাছি এসে পৌঁছোল। লাল আলোতে দাঁড়াল। ডানদিকে একটি রেডিয়ো-রেফ্রিজারেটরের দোকান। অশোক একবার তাকাল।

    আজও অফিস বেরোবার সময় জুলি বলেছিল, হায়ার-পারচেজে একটা রেফ্রিজারেটর কেননা না। গো? একদিন বাজার করে কতদিন রাখা যায়। কোকাকোলা রেখে দেওয়া যায় কিনে। কেউ এলে দেওয়া যায়। আরও কত কী রাখা যায়। তুমি বেশ কিপটে আছ! যাই বল বাবা।

     

     

    অশোক মনে মনে হাসে। কিপটেই বটে। কিপটে নিশ্চয়ই! কিন্তু সে কেবল নিজের বেলায়–। অন্য কারো জন্যে কিছু করবার বেলায় কিপটে নয়, কোনোদিন ছিল না। যাক, টাকা হাতে না থাকলে কি কেউ মন দেখাতে পারে? আজকালকার মন তো অন্য কিছু দিয়ে দেখানোও যায় না।

    আসলে জুলির অনেক শখ আছে। অশোকেরও কি নেই। এটা করবে, সেটা করবে, পুজোর সময় দূরে কোথাও বেড়াতে যাবে। আরও কত কী, কত কী করবে…। কত কিছু ভাবে দু-জনে মিলে অনেক কিছু ভাবে।

    একটা ফ্রিজের দাম কত? আড়াই তিন হাজার?

    অশোকের পকেটে এখন নগদ আট হাজার টাকা। সুকল্যাণ সেন কখনো মিস্টার হোড়কে শুধোবেন না, উনি কত টাকা দিয়েছেন। মিস্টার হোড় কখনও সুকল্যাণ সেনের ঘরে ঢোকার সাহসই পাবেন না। ওসব লোকের একটা জন্মগত হীনম্মন্যতা থাকে। ওঁরা অনেক কিছু করতে পারেন হয়তো, আবার অনেক কিছু করতে পারেন না।

    অশোক ভাবল, যদি দু-হাজার টাকা রেখে দিয়ে, বাকি টাকা সেন সাহেবকে দিয়ে বলে, মিস্টার হোড় মাত্র ছ-হাজারই দিলেন। আর দু-হাজার অর্ডার পাবার পরে দেবেন। তবে সেন সাহেব। নিশ্চয়ই কিছু বুঝতে পারবেন না। তা ছাড়া সত্যি কথা বলতে কী, সেন সাহেব নিজেও কি সত্যি ভেবেছিলেন, যে হোড় সত্যি সত্যিই এককথায় এতগুলো টাকা দেবেন? তা ছাড়া অশোককে অবিশ্বাস করার প্রশ্নও ওঠে না।

     

     

    পার্ক স্ট্রিটের মোড়ে আবারও দাঁড়াতে হল। ভীষণ গরম লাগছে। গাড়ির আয়নাটা ঘুরিয়ে দিয়ে অশোক নিজের মুখটা দেখল। এমন করে কাছ থেকে ও নিজেকে অনেকদিন দেখেনি। ঘামে। চুলগুলো ভিজে গেছে, কপালে শুয়ে রয়েছে, নাকটা লালচে দেখাচ্ছে–দরদর করে ঘাম গড়াচ্ছে গলা বেয়ে। অশোক আয়নার দিকে চেয়ে বলল, এই যে, উনি মাত্র ছ-হাজার দিলেন। অশোক পুলকিত হয়ে দেখল, ওর মুখে কোনোরকম ভাবান্তর হল না। আর একবার মহড়া দিয়ে নিল। ছোটোবেলায় রবীন্দ্রনাথের ছোটোগল্পের নাট্যরূপ দিয়ে ওরা নাটক করত। অনেকে বলত, অশোক খুব ভালো অভিনেতা। ও নাকি খুব ন্যাচারাল অভিনয় করে। আজ অশোকের মনে হল, ওরা ঠিকই বলত।

    দুটি ড্রেনপাইপ-পরা ছেলে বইখাতা হাতে নিয়ে রাস্তা পেরুচ্ছিল। বোধহয় সেন্ট জেভিয়ার্সে পড়ে।

    একজন বলল, বল? তাই না?

    অন্যজন বলল, আরে, সব, সব। আজকাল চুরি না করে উপায় আছে? ইটস আ ভিসাস সার্কল।

    ট্রাফিক লাইটটা হলুদ হল। অশোকের মনে হল একটা হলুদ বৃত্ত ওর চোখের সামনে ঘুরছে। ভিসাস সার্কলের রং কি হলুদ হয়?

    কাকেই বা জিজ্ঞেস করবে? নিজের উপরই রাগ হল।

    জোরে গাড়ি চালিয়ে দিল। অ্যাকসিলারেটরে যত জোরে পারে চাপ দিল। মনে মনে বলল–শালা! এত দ্বিধা কীসের? আমি কি ফালতু নাকি? সিনিয়ার পাবে, আর জুনিয়ারকে কিছুই দেবে না? কেন না? না কেন?

    তারপরই অশোক মনস্থির করে ফেলল।

    ওর ভীষণ ঘাম হতে লাগল।

    দেখতে দেখতে কখন ধর্মতলা স্ট্রিটে পৌঁছে গেল।

    সোজাই লিফটে করে উপরে গেল। ডান পকেটে দু-হাজার টাকা, থার্ড-ফ্লোরে পৌঁছেই ল্যাভেটরিতে গিয়ে আলাদা করে ফেলবে ও। বাঁ পকেটে ছ-হাজার।

    বড়োবড়ো পা ফেলে বেশ সপ্রতিভভাবে সেন সাহেবের চেম্বারের স্যুয়িং-ডোর খুলে ঢুকল অশোক–। দরজাটা বলে উঠল, কিয়্যা কাঁও।

    চমকে এবং একটু ভয় পেয়ে মুখ তুলে চাইল অশোক।

    সেন সাহেব কোটটা খুলে ফেলেছেন কিন্তু একটি ফিকে হলদে রঙা হাফ-হাতা সোয়েটার পরে বসে আছেন। ঘরে এয়ার কন্ডিশনার চলছে বলে।

    অশোকের আবার সব গোলমাল হয়ে গেল। সেন সাহেবের সোয়েটারের সমস্ত হলুদ রং একটি হলদে বৃত্ত হয়ে ঘুরতে লাগল ওর চোখের সামনে।

    কী হল? বোসো?

    বেয়ারা দুটি কোকাকেলো নিয়ে ঘরে ঢুকল সঙ্গে সঙ্গে।

    এ কী? দুটি কেন? আপনি কি জানতেন আমি আসব?

    তোমার হাবভাব দেখেই কোর্টেবুঝেছিলাম, মক্কেল তোমায় আজ কিছু টাকা দেবে। আরে এতটুকুই না বুঝলাম তো কীসের ওকালতি করি?

    দাও। এনেছ নাকি কিছু?

    অশোক খুব তাড়াতাড়ি তোতলাবার মতো করে বলে উঠল–মানে, ওর মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, দিলেন, মানে সব নয়, আট হাজার। আট হাজার টাকা।

    সেন সাহেব বললেন, মোটে আট হাজার? অর্ডার পেলে আরও দু হাজার দেবেন। অশোক আবার বলল, হ্যাঁ।

    সেন সাহেব একটু চুপ করে থেকে বললেন, তোমাকে কিছু দিল?

    অশোক লজ্জার সঙ্গে মাথা নাড়ল, মুখ নামিয়ে। নেতিবাচক।

    হুঁ। সেন সাহেব স্বগতোক্তি করলেন।

    অশোক দু-পকেটে একসঙ্গে হাত গলিয়ে টাকাগুলো বের করে টেবিলে রাখল। বলল, গুনে নিন।

    ভারমুক্ত হল ও। একটি দীর্ঘশ্বাস পড়ল।

    সেন সাহেব টাকাগুলো একটি একটি করে গুনে নিলেন। অশোক ভাবল, উনি হয়তো বলবেন, নাও হে। এই পাঁচশো আমিই তোমাকে দিলাম। কিংবা নিদেনপক্ষে একখানি এক-শো টাকার নোট?

    না। সে রকম কিছুই ঘটল না। সেন সাহেব টাকাগুলো নিয়ে আয়রনসেফে তুলে রাখলেন। প্রত্যেকটি নোট।

    এক চুমুকে কোকাকোলা শেষ করে অশোক বলল, আমি তা হলে আসি?

    যাবে? আচ্ছা এসো।

    কেন জানে না, অশোকের খুব ভালো লাগতে লাগল। খুবই হালকা লাগতে লাগল ওর! খুব খুশি খুশি লাগতে লাগল। নীচের পানের দোকানে এসে দাঁড়াল অশোক বলল, এক প্যাকেট ভালো। ফিলটারটিপড সিগারেট দাও তো ভাই।

    দোকানে একটি বড়ো আয়না টাঙানো ছিল। প্রায় ফুলসাইজ। ভালো করে চোখ তুলে চাইল। দেখল ক্লান্তিমাখা ওর দিনান্তের মুখটি ফ্যাকাসে, রক্তশূন্য, পাংশু হয়ে আছে। মুখটি হতাশায় হিম হয়ে আছে।

    সিগারেটের প্যাকেটটা হাত বাড়িয়ে নিতে নিতে অশোক বুঝতে পারল, ও অভিনেতা নয়, কোনোদিন ছিলই না। যারা ওর অভিনয়ের প্রশংসা করে বেড়াত এতদিন, তারা অভিনয়ের কিছুই বোঝে না। আস্তে আস্তে হেঁটে, ভাবতে ভাবতে, ও পথটুকু পেরুল।

    অশোকের মনে হল, যেন সততার সুন্দর ঘর পার হয়ে এসে সততা ও অসততার দুই ঘরের মধ্যবর্তী চৌকাঠে পা রেখে ও দাঁড়িয়ে আছে। অজানিতে এতদিন দাঁড়িয়ে থেকেছে। কিন্তু কতদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে তা ও জানে না। অশোকের মতোই জুলি এবং ওদের চারপাশে–ওরা যাদের চেনে জানে, সকলেই বোধহয় অনুক্ষণ এই দু-ঘরের মধ্যবর্তী চৌকাঠে পা দিয়েই। দাঁড়িয়ে আছে। যে কোনো অসতর্ক মুহূর্তেই ওদের মধ্যে যে কেউই অসততার ঘরে পা ফেলতে পারে। আজকের জীবন বড়োই মার্জিনাল, ভঙ্গুর।একথা মনে হবার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়ে অশোকের শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচম্পাঝরন – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article মহাভারত – বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }