Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প831 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শারদপ্রাতে

    পুজো তো আসছে, এসেই গেল, এবার পুজোয় কী করবি রে তুই বুলবুলি?

    বুলবুলি বসেছিল একটা মস্ত কদমগাছের শোয়ানো ডালে দুটি পা একদিকে ঝুলিয়ে। কদম ফোঁটা শেষ হয়ে গেছে অনেকদিন। তবু গাছতলা থেকে প্রায়-পচে-যাওয়া ক-টি কদম কুড়িয়ে নিয়ে ঘাস দিয়ে গেঁথে মুকুটের মতো মাথায় পরেছে বুলবুলি পাগলি।

    ও ঋভুকে বলল, দ্যাখ, দ্যাখ, আমি রাধা হয়েছি। তুই কৃষ্ণ হবি? এই রিভে?

    ঋভু উত্তর না দিয়ে বুলবুলির দুটি উজ্জ্বল কালো চোখের দিকে চেয়ে রইল।

    পাগলির কথা! পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়!

    কদমের দিন শেষ, এখন শিউলির দিন। শিউলি বনের নীচে তাকালেই চোখ আটকে যায়। চাপ চাপ সবুজ ঘাসে শরতের শিশিরের শারদ গন্ধ ভাসে। সেই ঘাস ঠেলে ঠেলে নীলচে-বাদামি শামুক হেঁটে যায় নিজের চালে। তার কোনোই তাড়া নেই। সময়ের পায়ে জুতো পরিয়ে সে হাত ধরে তার পাশে-পাশেই নিয়ে চলে সময়কে।

    শিউলির দুধ-সাদা গা আর গা-শিউরানো কমলা-রঙা বোঁটাগুলি সবুজ বনতলিকে সাদা আর কমলা শিশির-ভেজা আভায় বিয়ে দিয়েছে। পুকুরের মধ্যে থেকে একটা হাঁস উঠে এল। গ্রীবা ঘুরিয়ে পিঠের পালক মুছল ঠোঁট দিয়ে। নিজের মনে শিস দিল হিস হিস করে। তার পেছনে পেছনে তিনটি হাঁসি। তাদের ঠোঁটের রঙ পচা পাতার মতো হলুদ। আর পায়ের রং ঠিক শিউলিফুলের বোঁটারই মতো। কমলা। সাদা হাঁস আর হাঁসিরা যখন পেট দুলিয়ে দুলিয়ে থপথপিয়ে চলে গেল, ঋভুর মনে হল যেন শিউলিফুলেই তৈরি ওরা। যেন শোলার হাঁস সব। সরস্বতীর।

     

     

    জলঢোঁড়া সাপটা, ধোপার পাটের উপর তার মস্ত হলুদ-কালো শরীরটা নিয়ে আস্তে-আস্তে একটু একটু করে উঠে এল। তারপর কুণ্ডলী পাকিয়ে মড়ার মতো শুয়ে রইল তার উপরে। তার বড়ো। শীত। জলের গভীরেও শরতের পরশ লেগেছে। রোদ পোয়াবে এখন ও সারাটা দিন। ওর গায়ের উপরে হলুদ আর ঘন নীল জলফড়িংরা এক্কা-দোক্কা খেলবে এবারে। এক্কা-দোক্কা নয়, অ্যাই কুমির, তোর জলে নেমেছি। সাপটাকে ছুঁই-ছুঁই করেও ছোঁবে না ওরা। সাপটা কুমিরেরই মতো নির্বিকার শুয়ে থাকবে। সাপ আর কুমির কুম্ভকর্ণর জাত-ভাই।

    সোনালি মৌমাছিরা ঘুরে-ঘুরে উড়ে-উড়ে পুকুরপাড়ের কিসিনা-ঝোপের সাদা-সাদা ফুলের মধু খেয়ে বেড়াচ্ছে। সাদা-সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘে ভরা ঘন নীল আকাশেদু-টি ডানা

    সটান মেলে দিয়ে, একটুও না নাড়িয়ে ভেসে যাচ্ছে সোনালি ডানার চিল। নিষ্কম্প। তিস্তার জলের আর পচা পাটের আর কলমি শাক আর মিরগেল মাছের রুপোলি বাচ্চার গন্ধ তার নাকে সুড়সুড়ি দিচ্ছে।

    শরৎ যে এসেছে, তা জানতে আর কারো বাকি নেই। এমনকী জেনে গেছে মাছরাঙাটাও। কী দারুণ খুশিতে সে একবার জলে ছোঁ মারছে, আরেকবার মরে-যাওয়া শিরীষ গাছটার ডালে তেকোনা কোটরে এসে বসে জল ছিটোচ্ছে মাথা ঝেড়ে ঝেড়ে। হাজার হিরে ছিটকে যাচ্ছে শরতের মাঝ-সকালের রোদে। মাছ কিন্তু পাচ্ছে না ও একটিও। তবু খুশি। খুশি বড়ো ছোঁয়াচে রোগ। পুজো-পুজো গন্ধ লেগেছে আকাশে। কোরা শাড়ির গন্ধ উড়ছে রোদে। কুমোরপাড়ায় প্রতিমা গড়া শেষ। ঢাকিরা সকাল-বিকেল ঢাকে চাঁটি দিয়ে দেখে নিচ্ছে ঢাক-টিক-ঢাক! সব ঠিকঠাক আছে কি নেই!

     

     

    জমিদারবাবুর বাড়ির সামনে হাড়িকাঠ বসেছে দুটি। একটি মোষবলির। অন্যটি পাঁঠা। এক-শো আটটি পাঁঠা বলি হবে নাকি এবারে। জমিদারবাড়ির আলসের হাজার পায়রা ছটফট করে উঠে। ফটফট শব্দে উঠোনময় উড়ে বেড়াচ্ছে। রক্তের আগাম গন্ধ অনেক আগে পায় ওরা। ওদের ত্রস্ত চোখের মণি একবার এদিক, আরবার ওদিক হচ্ছে ভয়ে।

    জমিদারবাবু এবার পুজোয় সিমলে পাহাড়ে না গিয়ে গ্রামে এসে সক্কলকে কৃতার্থ করবেন। বলেছেন। ছুঁচোয়-কাটা মস্ত মস্ত শামিয়ানা রোজ রোদে পড়ছে। ঝাড়াই-পেটাই হচ্ছে। অষ্টমী পুজোর দিন নেমন্তন্ন হয়েছে সকলেরই। গরিবগুৰ্বোরাও বাদ যায়নি।

    ওই হাড়িকাঠগুলোর কাছে গেলেই রক্তের গন্ধ পায় ঋভু। বড়ো বিচ্ছিরি সেই গন্ধ। জল থেকে সদ্য-ওঠা হাঁসের গায়ের গন্ধ ঋভুর ভালো লাগে, ভালো লাগে শিউলির গন্ধ শেষ রাতের। তারাদের গায়ের নীল-কুচি গন্ধ আর ওর মায়ের গায়ের গন্ধও। রক্তের গন্ধ ভালো লাগে না।

    বুলবুলি শুনে হাসে। হিঃহিঃহিঃ। ওর খালি গা থেকে ছিঁড়ে যাওয়া ফলসা-রঙা পাড়ের খড়কে ডুরে শাড়ির আঁচল খসে পড়ে। বলে, রক্ত ভালো লাগে না? বলিস কী তুই রিভে? রক্তই তো জীবন রে। রক্তই তো মরণ। তুই না এখনও বড়োই ছেলেমানুষ আছিস।

     

     

    বললি না তুই, পুজো আসছে, এবার কী করবি তুই পুজোয়?  ঋভু আবার বলল।

    আমি? আমি আবার কী করব?

    কেন? মজা করবি না?

    কীসের মজা? আমি কি তোর মতো বড়োলোকের পুঃ?

    বা রে! বোকা-বোকা কথা বলিস না। পুজো আবার বড়োলোক-গরিবলোকের আলাদা হয়। নাকি?

    এক-শোবার হয়।

    জানি না।

    তুই কতটুকু জানিস?

     

     

    অঞ্জলি দিবি না? বুলবুলি?

    দেব তো।

    কী বললি?

    ন্যাকা! সবাই যা বলে। যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তত্যৈ নমো নমঃ।

    সে তো মন্ত্র হল। অঞ্জলি দেবার সময় কিছু চাইবি না? মায়ের কাছে?

    এ মাঃ। দেখেছিস। আসল কথাটাই তো ভুলে গেছিলাম। এবার তো একটা স্পেশ্যাল জিনিস চাইব মায়ের কাছ থেকে। একটা নয়, বেশ কয়েকটা বরই চাইব এবারে। নইলে চলছে না। আমার না খুবই দরকার,কদমগাছে বসে জোড়া-পা দুলিয়ে বুলবুলি বলল।

    ঋভু বলল, অতগুলোবর নিয়ে কী করবি? বিয়ে করতে তো একটা বরই লাগে।

     

     

    আঃ তুই না! ওই বর নয় রে, গাধা। বর রে। মানে, আশীর্বাদ?

    ওঃ। ওই বর!

    হ্যাঁরে। ওই বর।

    তা কী কী বর চাইবি?

    সবচেয়ে প্রথমে যে বরটা চাইব, তা হচ্ছে আমি যেন সোনামুখ করে মিথ্যে কথা বলতে পারি।

    মিথ্যে কথা?

    হ্যাঁ রে। মিথ্যে বলতে পারি না, মানুষের মন রাখতে পারি না, পাজিকে পাজি বলি, বদমাশকে বদমাশ, ধূর্তকে ধূর্তঞ্জ, তাইই তো আমার এত কষ্ট। এত হেনস্থা।

    তাইই?

     

     

    না তো কী?

    আর?

    তাপ্পর বর চাইব, আমি যেন ঘন ঘন সেলাম করতে পারি। কাঠের পুতুলেরই মতো আমার হাত যেন কেবলই কপালে ওঠে আর নামে। যেন প্রশ্বাস না নিয়েই বলতে পারি, জি হুজুর। যেন পায়ে হাত দিতে পারি যার তার, এক থালা ভাতের জন্যে, ঘৃণাভরে ছুঁড়ে-দেওয়া দুটি পয়সার জন্যে। যেন হামলে পড়তে পারি পায়ে। বর চাইব মায়ের কাছে, মা যেন আমার মান-অপমান-জ্ঞান এ। বছর বিসর্জনের দিনের ধুয়ে-মুছে দেন একেবারে। নিজেকে আমি যেন মানুষ বলেই আর কখনো মনে না করি।

    সে কী রে বুলবুলি?  কী বলছিস তুই!

    ঠিকই বলেছি রে। মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা বড়ো কষ্টের রে ঋভু।

    সাধে কী আর লোকে তোকে পাগলি বলে? মানুষ না তো আমরা কী? তুই মানুষ নোস? আমি মানুষ নই?

     

     

    তুই হাসালি রিভে। এই নইলে বলি তোকে, বড়োলোকের পুঃ তোর মুক্কে মারি ঝুঃ?

    বাজে কথা বলিস না। বল না। আমার কথার উত্তর দে তুই। ফালতু কথা বললেই মানব কেন?

    বুলবুলি ঝরে-যাওয়া শিউলিফুলের মতো নিঃশব্দে হাসল একবার। বলল, গাধা রে, মানুষের

    চেহারা নিয়ে জন্মালেই কি আর মানুষ মানুষ হয়! চারধারে যে কত-শত বেঁটে-লম্বা, রোগা-মোটা মানুষের চেহারার প্রাণী দেখিস অহরহ, তোর কি ধারণা এরা সকলেই মানুষ? মানুষের মতো মানুষ কটা আছে হাতের কড় গুনে বলা যায়। যাদের দেখিস, তারা ভিড় বাড়াবার জন্যেই এখানে আসে। সাইলেন্ট পিকচারের মিছিলের জন্যে ভাড়া-করা অ্যাকটরদের মতো। মা-জগদম্বা পিকচার-এর শুটিং হল না চাঁপার মাঠে সেদিন? দেখিসনি তুই? সেইরকম অ্যাকটর। মানুষ আসলে আর ক-জন?

    তুই নিজে যদি মানুষের মতো মানুষই হোস, তা হলে আবার ইচ্ছে করে অমানুষ হতেই-বা চাস কেন?

    আরামে থাকব বলে। বললাম না তোকে! মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা বড়ো কষ্টের। কোনো মানে হয় না। অমানুষদের দলেই ভিড়িয়ে দেন যেন মা, এই বরই চাইব এবারে। তাপ্পর শহরে যাব। তোদের কলকাত্তা, ফেলাট কিনব, গাড়ি চড়ব। হিঃ হিঃ।

     

     

    আর কী বর চাইবি?

    আর? আর বর চাইব, মা যেন আমাকে একটা অসুখ দেন।

    অসুখ চাইবি কী রে!

    হ্যা রে রিভে, বুলবুলি বলল।

    ওর গলার স্বর ভারী হয়ে এল। ঝুপ করে গাছ থেকে নেমে পড়ে আঁচলটা গাছকোমর করে বেঁধে নিয়েই ও বলল, চলি রে, ঠাকমার জন্যে শাক আর কচু তুলে নিয়ে যেতে হবে। ঠান্ডা পড়তে আরম্ভ করল। সাপ ধরে যে ঠাকমাকে বেঁধে খাওয়াব, সেই সাপেরও আকাল হবে শীত পড়লে। কারো পৌষ মাস, কারো সবেবানাশ। কোন গর্তের কোন গভীরে গিয়ে পাকিয়ে থাকবে তারা। তকন, কে তা জানে? বড়োই দুদ্দিন এল। তোদের পুজো, আমাদের হুজো। যাই রে। বলেই বুলবুলি পা বাড়াল ঝুমকি বিলের দিকে।

    ঋভুও বাড়ির দিকে এগোল।

     

     

    বুলবুলি মা-দুগগার কাছে যে অসুখ চাইবে, একথা শোনার পর থেকে ওর কিছুই ভালো লাগছিল না।

    বড়ো সুন্দর হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। ঝুমকির বিলে শাপলা ফুটেছে। পদ্ম। কত ভ্রমর। কত-রঙা প্রজাপতি। আকাশ-বাতাসে এখন সব সময় স্নো-পাউডার আর কোরা তাঁতের শাড়ির গন্ধ ভাসে। সমস্ত পৃথিবীটাই যেন মায়ের কোল হয়ে গেছে। মিষ্টি-মিষ্টি স্নিগ্ধ গন্ধে নাক ভরে যায়।

    হাঁসেরা ঝুমকি বিলের পাশে গোল হয়ে জটলা করছে। অনেক দূরের উঁচু ডাঙার বাড়িতে এক কিশোরী। তার কমলা-রঙা আদুড় পা দেখা যাচ্ছে লটকাগাছের ছায়ায়। কুলোতে ধান নিয়ে সে দু-হাতে কুলো ধরে হাত উঁচু করে অবেলায় ডাকছে হাঁসেদের, চই-ই-চই-চই…। তার স্বর বাঁশবনের মধ্যে চরকি খেয়ে ভেসে যাচ্ছে ঝুমকির বিলে।

    হাঁসেরা যাবে কী যাবে না, ঠিক করতে পারছে না। এখন অনেক গুগলি, ঘাস, ফাঙ্গি, জলের নীচে। শরতের রোদ পড়ে জলের নীচের সবুজ অন্ধকার ফিকে বোতল-সবুজ আর হলুদের ডোরাকাটা শতরঞ্জি হয়ে গেছে। এই জলের তলার আলো-ছায়ার ডুব-সাঁতার দিয়ে মজা করতে হাঁসেরা খুব ভালোবাসে।

     

     

    ওই হাঁসেদেরই মতো খুবই ভালো লাগছিল ঋভুর। বাবা কলকাতা থেকে আসবেন পঞ্চমীর দিন। অনেক জামা-প্যান্ট, নতুন নটিবয় জুতো নিয়ে। বড়োকাকা, মেজোকাকা, সেজোকাকারাও অনেক প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন। ছোটোকাকা আর জ্যাঠাবাবুও। খুব মজা হবে ঋভুর এবার পুজোয়।

    ঝুমকির বিলের বাঁকটা ঘুরেই হঠাৎ ওর খুশি মনটা খারাপ হয়ে গেল বুলবুলির জন্যে। শুধু গায়ে জড়ানো ওর ওই ছেঁড়া শাড়িটা ছাড়া আর একটিমাত্রই শাড়ি আছে বুলবুলির। সেটিও ওইরকমই ছেঁড়া। ঋভুদের অত আছে অথচ বুলবুলিদের প্রায় কিছুই নেই। কারা এইসব থাকাথাকি ঠিক করে দেয়? কারো খুব বেশি না-থাকে আর কারোই খুব কম নয়, এমনটি কি ঠিক করে দিতে পারে না কেউ? মা দুর্গা বা অন্য কেউই?

    বুলবুলি কোন অসুখের বর চাইবে এবারে পুজোয় মায়ের কাছ থেকে তা জানে না ঋভু। একদিন বুলবুলি চাঁপার মাঠে মূল খুঁড়তে খুঁড়তে ফিসফিস করে ঋভুকে বলেছিল কথাটা। আকাশ ঘন। মেঘে ঢাকা ছিল। ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। মাদল বাজছিল শ্রাবণের মেঘেমেঘে। বুলবুলি বলেছিল, জানিস রিভে, ওই খিদেটা যদি না থাকত আমার, আমার ঠাকমাবুড়িঞ্জ, তাহলে পিথিবীটা কী ফাস্টো কেলাস জায়গা হত বল তো? শুনেছি তোদের মতো বড়োলোকদের নাকি একটা অসুখ হয়, সেই অসুখের নাম খিদে না-পাওয়ার অসুখ। কত হাজার টাকা খরচ করে বড়োলোকেরা সব খিদে হওয়ার জন্যে চেঞ্জে যায় পশ্চিমে। আর এই খিদেয় আমাদের কুটুরে ব্যাঙের মতোই কাটে সর্বক্ষণ। কুটুরকুটুর। খালি পেটে থেকে থেকে চোঁয়া ঢেকুর ওঠে সব সময়। তোদের বড়োলোকদের অসুখটা যদি আমরা পেতাম না, তা হলে কী মজাই যে না হতঞ্জ, কী বলব রে তোকে রিভে।

     

     

    বাড়ির দিকে হাঁটতে-হাঁটতে ঋভু দেখতে পেল ঝুমকির বিলের অন্য পাশে শাড়িটাকে হাঁটু অবধি তুলে পাঁকে-জলে উবু হয়ে শাক তুলছে বুলবুলি, গুগলি খুঁজছে।

    থমকে দাঁড়িয়ে গেল ঋভু। হঠাৎ বড়ো মন খারাপ হয়ে গেল ওর। এবারে পুজোতে ও কোনো আনন্দই করবে না ঠিক করল। মাকে বলে বুলবুলি আর ঠাকুমার জন্যে অনেক কিছু কিনে দেবে ঋভু। পুজোর মধ্যে লুচি, মাংস, পাকা রুই, ক্ষীর–এইসব খাওয়াবে। যে-আনন্দ, যে-সুখ সকলের সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে না-নেওয়া যায়, তা সুখই নয়। আনন্দই নয় তা। এই কথাটা মনে হতেই খুব ভালো লাগল। দু-হাতের পাতা মুখের কাছে এনে মুখ আকাশের দিকে তুলে। চেঁচিয়ে ডাকল, ও-বু-ল-বু-ল-ই-ই-ই-ই…

    বুলবুলি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঋভুকে দেখতে পেয়ে বলল, কী-ই-ই-ই-ই?

    ঝুমকির বিলের ওপর দিয়ে শাপলা আর পদ্মর গা পিছলে প্রশ্নটা দৌড়ে এল ছিলিক ছিলিক দারাজ সাপেরই মতো ঋভুর দিকে।

    ঋভু বলল, বুলবুলি তোর খিদে আমি নিলাম। আমি-ই-ই-ই-ই। আমি কথাটা বিশ্বচরাচর ভরে দিল। সামান্য ঋভুর আমিত্বটা যে এত বড়ো, তা জেনে অবাক হল ও।

    ঋভু আবারও বলল, আমাতে, আমাতে-তোতে আর…। আমরা সববাই মিলে শিউলিফুলের মতো সুখকে ভাগ করে নেব। বুলবুলি-ই-ই-ই-ই।

    কথাগুলি বোধহয় পৌঁছোল না দূরে। শহরের ছেলে, হাওয়ার মধ্যে, মাঠের মধ্যে কথা কইতে জানে না। তবু শরতের আলোয় শেষ-সকালের পদ্মবন হাসতে লাগল। জলছড়া দিয়ে ব্যাঙাচি দৌড়ে গেল পদ্মপাতার গভীরে। মাদারগাছে-বসা বুড়ো তক্ষক সব শুনে-টুনে বলে উঠল, ঠিক, ঠিক, ঠিক।

    বুলবুলি বড়োলোকের পুঃর কথা অতদূর থেকে বুঝতে পারল না। আবারও উবু হয়ে গুগলি। খুঁজতে লাগল। তার পেট আর পিঠের মধ্যিখানে নাভিটা জ্বলতে লাগল খিদেয়। ঝপাঝপ পদ্ম তুলল ক-টা। পদ্মের পরাগ আর বীজ খেতে খুব ভালো। রক্তর মতো লাল পদ্মগুলি, রোদে দাঁড়ানো তার উত্তপ্ত মাথাময় যেন লাল রং ছড়িয়ে দিল। রক্তের মতো লাল রং।

    রক্তই জীবন। এবং রক্তই মরণ। মনে মনে বলল বুলবুলি।

    দূরে মিলিয়ে-যেতে-থাকা ঋভুর দিকে একবার আড়চোখে চেয়ে মনে-মনে বলল, ছেলে তুই খুবই ভালো রে রিভে, কিন্তু বাঁচার মানেই জানলি না জীবনে। যার পেটে খিদে নেই, জীবন যার কাছে ঝুমকির বিলে ভেসে-বেড়ানো হাঁসা-হাঁসিরই মতো সহজ সুখেরঞ্জ, বাঁচা অথবা মরার। তফাত তারা কী জানে রে! ছেলেটা ভালো। কিন্তু একেবারেই ভ্যাবা গঙ্গারাম। খিদে আর পিপাসাই যে জীবন, তা কি ওই ছেলেটা জানবে কোনোদিনও? কত্তরকমের খিদে, কত্তরকমের পিপাসা…ওই ছেলেটা ভেলভেলেটা?

    বুলবুলি-পাগলি গলা ছেড়ে গান ধরল। লালন ফকির যাত্রাতে শুনেছিল চৈত্র মাসে। লালন ফকিরের গান,

    ও তোর ঠিকরে ঘরে ভুল পড়েছে মন।
    কিসে চিনবি রে মানুষ রতন লল
    আপনি খবর নাই আপনারে
    বেড়াও পরের খবর করে
    মন রে, আপনারে চিনিলে পরে
    পরকে চেনা যায় তখন লল

    বুলবুলির খোলা গলার গান ঝুমকির বিল সাঁতরে বাড়ির-পথ-ধরা ঋভুর কানে গিয়ে ভেসে উঠল।

    ঋভু ভাবল, সুখে যদি সকলেরই ভাগ না থাকে, তবে সেই সুখ সুখই নয়, তার দামই নেই। সেই সুখে মজা নেই কোনো। আনন্দের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পেরে খুশিতে ডগমগ হয়ে উড়ে চলল ঋভু বাড়ির দিকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচম্পাঝরন – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article মহাভারত – বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }