Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প36 Mins Read0
    ⤶

    প্রাকৃতিক

    পঁচাত্তরে পড়তে আর তিনমাস; কিন্তু স্বপ্নেন্দুর মাথার  একটি চুলও সাদা হয়নি। দাড়ি কামাবার সময় আয়নার সামনে বসে নিজেকে লক্ষ্য করেন তিনি। দুদিন দাড়ি না কামালে (সেটা খুব কম হয়) গালে সাদা ছোপ লাগে। কিন্তু না জুলপি, না কানের ওপাশে একটি রুপোলি চুল দেখতে পান না। একদা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে ঠেস দেওয়া প্রশ্ন শোনেন, ‘কি হে, এই বয়সেও চুলে ব্রাশ করছ? তা করো, কিন্তু একটু-আধটু সাদা রাখলে ভালো করতে।’

    স্বপ্নেন্দু বোঝাবার চেষ্টা করেছেন তিনি চুলে কালো রং ব্যবহার করেন না। যাঁদের বলেছেন তাঁরা অবিশ্বাসী চোখ নিয়ে শুনেছেন। স্বপ্নেন্দু এও বলেছেন, তাঁর মা গত হয়েছিলেন সাতাশি বছর বয়সে এবং মৃত্যুকালে মায়ের চুল সম্পূর্ণ কালো ছিল।

    আজকাল আর এসব বলতে ইচ্ছে করে না। তাঁর সমসাময়িক তো বটেই, দশ-বারো বছরের যারা ছোট তাঁদের চুল সাদা হয়ে গেছে, কেউ রং দিয়ে দিয়ে আর না পেরে হাল ছেড়ে দেওয়ায় চুলের শরীর শেয়ালের লোম হয়ে গিয়েছে। কিন্তু স্বপ্নেন্দুর চুল এখনো নিবিড় কালো, সামান্য পাতলা হলেও টাক পড়েনি। শ্যাম্পু করলে বেশ ফুলে-ফেঁপে থাকে, পঁয়তাল্লিশ বছর আগে যেমন থাকত। ইদানীং চোখের নিচে একটু ভাঁজ পড়ব পড়ব করছে। মেয়ে সজনী একটা ক্রিম এনে দিয়েছে যা ঘষলে ভাঁজটা অনেকক্ষণ উধাও হয়ে যায়। কিন্তু গলার চামড়া এখনো টানটান কিন্তু বুকের লোমে পাক ধরেছে। কিন্তু গেঞ্জি এবং শার্টের আড়াল থাকায় তা জনসাধারণের জানার কথা নয়। স্বপ্নেন্দু প্রতি ছয়মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা করান। প্রতিবারেই দেখা যায় তাঁর সবকিছু স্বাভাবিক। এমনকি ইসিজি রিপোর্টেও বিপদের আভাস নেই।

    সজনী তার শ্বশুরবাড়ির সামনে প্রতি রবিবার দুপুরবেলা আসে, বিকেলে ওর স্বামী এসে ওকে নিয়ে বেড়াতে যায়। কিছুদিন আগে সজনী এসে বলল, ‘আজ সন্ধ্যে সন্ধ্যে খেয়ে শুয়ে পড়বে। কাল সকালে তোমার রক্ত নিতে আসবে নতুন জায়গা থেকে।’

    ‘কেন? এই তো মাসখানেক আগে সব করালাম – ।’ স্বপ্নেন্দু অবাক।

    ‘না। মা বলল, তুমি নিশ্চয়ই তোমার রিপোর্ট ঘুষ দিয়ে তৈরি করাও। তাই তোমার জানাশোনা নেই এমন জায়গায় পরীক্ষা করাতে বলল।’ সজনী বলে গেল।

    এই হলো সরমা। পঁচিশ বছরে বিয়ে হয়েছিল, বিয়ের পর পঁয়তাল্লিশ বছর কেটে গেছে, কিন্তু সন্দেহ করার স্বভাব মরে যায়নি। প্রতিবাদ না করে সহযোগিতা করলেন স্বপ্নেন্দু। পরের দিন রিপোর্ট দেখে চমকে গেলেন। ফাস্টিং ব্লাড সুগার নববুই, খুব ভালো। কিন্তু ভরপেট খাওয়ার দুঘণ্টা পরে যে-রক্ত নেওয়া হয়েছিল তাতে সুগারের পরিমাণ চুরাশি? হয় নাকি? এক ডাক্তার বন্ধুকে ফোন করে জানলেন, কখনো কখনো ওটা হয়।

    মেয়েকে ফোন করে রিপোর্টটা পড়ে শোনালেন। মেয়ে খুব খুশি হলো। বলল, ‘মাকে বলেছ?’ স্বপ্নেন্দু বললেন, ‘না। তিনি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তোমার কর্তব্য তাঁকে রিপোর্ট করা।’

    স্বপ্নেন্দুর জীবন এইরকম। ভোর সাড়ে পাঁচটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঠিক এক মাইল হেঁটে পার্কে দাঁড়িয়ে মানুষ দেখে আবার ওই পথে ফিরে এসে বাজারে ঢোকা। বাজার থেকে নির্বাচিত মাছ-সবজি কিনে রিকশায় চেপে বাড়ি ফেরা। তারপর চা খেয়ে তিনটি খবরের কাগজে ডুবে যাওয়া। সকাল সোয়া ছটায় খানিকটা ফল আর একটা ডিমের পোচ খেয়ে লিখতে বসা। ঠিক দুপুর দুটোয় গাড়ি নিয়ে বের হয়ে দুটো আড্ডা ঘুরে সন্ধ্যের মুখে ফান ক্লাবে ঢুকে দুই পেগ হুইস্কি পান করে নটায় বাড়ি ফিরে ডিনার শেষ করে শুতে যাওয়া। এর মধ্যে তিনি তিনবার সরমার ঘরে যান। প্রথমবার বাজার সেরে। দরজায় দাঁড়িয়ে দেখেন সরমা হাতজোড় করে বসে আছেন তাঁর পুজোর বেদির সামনে। এখন কোনো উত্তর পাওয়া যাবে না জেনেও বলেন, ‘বাজার নিয়ে এলাম।’ সরমা কোনো চোখ খোলেন না। দ্বিতীয়বার, দুপুরে বেরোবার আগে স্ত্রীর দরজায় পৌঁছে বলেন, ‘যাচ্ছি।  কোনো দরকার আছে?’

    সরমা তখন বিছানায় শুয়ে খবরের কাগজ পড়ছেন। কাগজের আড়ালে মুখ। কথা ভেসে আসে, ‘থাকলে জানাতাম।’

    সরমা এখন কেমন আছেন? মাথার নববুই ভাগ চুল এখন ক্যাটকেটে সাদা। বয়সের ছাপ মুখে, গলায়। হাঁটেন খুব ধীরে। পঁয়তাল্লিশ বছর আগের সরমা যেরকম তরতাজা ছিলেন, এখন তার কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না। সজনী অনেক চেষ্টা করেছে তাঁকে পার্লারে নিয়ে গিয়ে ফেসিয়াল, ডাই ইত্যাদি করাতে। সরমা বলেছেন, ‘তোমার ইচ্ছেটা আমার ওপর চাপিয়ে দিও না। আমি যেমন আছি তেমনই থাকতে চাই। রং মেখে বয়স কমানো পছন্দ করি না।’ তবু মেয়ে জেদাজেদি করছে দেখে শেষ কথা বলেন, ‘আচ্ছা, ওসব করে আবার কী লাভ হবে? দেখলে মনে হবে বয়স কম? কিন্তু আবার মনের বয়স কি তাতে কমবে? মন যে মানতে চাইবে না।’

    মেয়ে বলেছিল, ‘কিন্তু তোমার এই চেহারা বাবার পাশে মানাচ্ছে না।’ হেসেছিলেন সরমা, ‘ও। ওঁর পাশে মানায় এমন কাউকে জানা থাকলে যোগাযোগ করো, আমার একটুও আপত্তি নেই।’

    না। কোনো ঝগড়াঝাঁটি নয়, তৃতীয় পক্ষের কারণেও দূরত্ব তৈরি হয়। একসঙ্গে থাকতে থাকতে হয়তো সরমার মনে হয়েছিল, অনেক তো হলো, এবার নিজের মতো ভাবা যাক। তিনি সময় কাটাতে দীক্ষা নিলেন। ঈশ্বর এমন একটা অনুভব যার মধ্যে ডুবে গেলে অদ্ভুত স্বস্তি পাওয়া যায়। যাকে সময় এবং ভক্তি ছাড়া কিছুই দিতে হয় না। এবং যাঁর কাছ থেকে কোনো জাগতিক বস্ত্ত পাওয়ার সম্ভাবনাই নেই। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি হলেই একটা এক্সপেক্টেশন তৈরি হয়। আমি যেমন দেব তেমনি তার কাছ থেকেও আমি পাব। এটার ব্যতিক্রম ঘটলে সম্পর্ক ভাঙে, দুঃখ উথলে ওঠে। ঈশ্বরের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনাই নেই। সরমা কখন ধীরে ধীরে সেই জগতে ঢুকে গেল তা স্বপ্নেন্দু চোখের ওপর দেখলেন। পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে মেয়েদের অন্তত বেশিরভাগ মেয়েদের মন থেকে প্রেম, যৌনআকর্ষণ, বাইশের উন্মাদনা দুপ করে নিভে যায়। স্বামীকে ওই ভূমিকা নিতে দেখলে তারা বিরক্ত হন। মন এবং শরীরের সমর্থন পান না। এই সময় যদি কেউ ঈশ্বরচিন্তায় মুক্তির পথ পেয়ে যান, বাড়িতে থেকেও তাতেই ডুবে থাকতে খুশি হন তাহলে তাঁর প্রতিবন্ধক হওয়া উচিত নয়। স্বপ্নেন্দু সরমাকে তাঁর আপত্তির কথা জানাননি।

    রবিবারের দুপুরে বাড়িতে খাবেন না, কাজের মেয়েকে জানিয়ে দিয়েছিলেন স্বপ্নেন্দু। তাঁর পরিচিত এক ব্যবসায়ী কলকাতা রেসকোর্সের স্টুয়ার্ট হয়েছেন। তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আজ। খুব বড় বাজি ছাড়াও মোট আটটি রেসে ঘোড়ারা দৌড়াবে। ভারতবর্ষের সেরা জকিরা আসছে অংশ নিতে। ব্রিটিশ আমলে রেসকোর্সের স্টুয়ার্ট সাদা চামড়ার লোকই হতেন। তবে ভারতীয় রাজা-মহারাজাদেরও এই সম্মান দেওয়া হতো। এখন ব্রিটিশরা নেই, রাজা-মহারাজাদেরও দিন শেষ, কিন্তু সেই সময়ের তৈরি আইন, প্রোটোকল ঠিকঠাক চালু আছে। তাই স্বপ্নেন্দুকে স্যুট-টাই পরতে হয়েছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখলেন তিনি। এখনো বয়স থাবা বসানো দূরের কথা, অাঁচড় কাটতে পারেনি। চল্লিশেও যেমন ছিলেন এখনো তেমন। হাসলেন তিনি। পার্সে টাকা ভরতে ভরতে মনে পড়ল আমন্ত্রণ জানানোর সময় মিস্টার গোয়েঙ্কা বলেছিলেন, ‘মিসেসকে নিয়ে আসবেন, প্লিজ। কারণ ওখানে মিস্টার-মিসেসরাই আসছেন।’ তখন কিছু বলেননি, কিন্তু আজ সকালে গোয়েঙ্কাকে ফোন করেছিলেন তিনি, ‘সরি মিস্টার গোয়েঙ্কা। আমি যেতে পারছি না।’

    ‘সে কি! কেন?’

    ‘ব্যাড লাক। আমার স্ত্রী বাথরুমে পা স্লিপ করে -, তেমন উদ্বেগের কিছু নয়, কিন্তু ডাক্তার ওঁকে আজ হাঁটতে নিষেধ করেছেন।’ মিথ্যে বললেন স্বপ্নেন্দু।

    ‘ওহো! এখন কেমন আছেন?’

    ‘ভালো। আজ শুয়ে-বসে থাকতে হবে আর কি!’

    ‘তাহলে আপনার আসতে কি অসুবিধা হবে?’

    ‘না। কিন্তু আপনি যে বলেছিলেন সবাই মিসেসকে নিয়ে যাচ্ছেন -?’

    ‘হ্যাঁ। কিন্তু যাঁর মিসেস নেই তিনিও তো আসছেন। আপনি আসুন, প্লিজ।’

    অতএব স্বপ্নেন্দু যাচ্ছেন। কিন্তু কথাটা কানে বাজল। যিনি বিয়ে করেননি অথবা যাঁর স্ত্রী মারা গিয়েছেন, সরমা সঙ্গে না থাকলে তাঁকে ওই দলে ফেলবে সবাই। কিন্তু সরমাকে লক্ষ টাকা দিলেও রেসকোর্সে নিয়ে যাওয়া যাবে না। রেসকোর্স দূরের কথা, সজনী তার মাকে সিনেমা হলে নিয়ে যেতে পারে না। হঠাৎ সজনীর গলা পেলেন স্বপ্নেন্দু। বাড়িতে ঢুকে প্রথমে সে মায়ের ঘরে যায়। কিছুক্ষণ চেঁচামেচি করে। তার বিষয়ও স্বপ্নেন্দুর জানা। ‘এই রংচটা শাড়িটা তুমি আবার পরেছ? গলা খালি কেন? মা, তুমি পাহাড়ের গুহায় বসে সাধনা করছ না, বাড়িতে আছ। ওঠ, এখনই শাড়ি পাল্টাও।’ সরমার প্রতিবাদ শোনা গেল। মেয়েকে ধমকাচ্ছেন তিনি। তাঁর ওপর গলা উঠল সজনীর। ‘কোনো কথা শুনবো না, তুমি শাড়ি না পাল্টানো পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না।’

    মিনিট চারেক বাদে মেয়ের এই ঘরে প্রবেশ। তারপরেই তাঁর বিস্ময়, ‘উরে ববাবা। তোমাকে ফাটাফাটি দেখাচ্ছে। কী সেজেছ তুমি?’

    ‘কী এমন সাজলাম। একটা স্যুট পরেছি মাত্র।’ একটু লজ্জা পেলেন স্বপ্নেন্দু।

    ‘তাতেই উত্তমকুমারের মতো দেখাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছ গো?’

    ‘আর বলিস না – !’ স্বপ্নেন্দু মিস্টার গোয়েঙ্কার আমন্ত্রণের কথা বললেন।

    সজনীর চোখ বড় হলো, ‘তুমি ডার্বি দেখতে যাচ্ছ?’

    ‘ডার্বি?’

    ‘আঃ, জানো না যেন। আজ রেসকোর্সে ডার্বি দেখতে সবাই যাবে। তোমার জামাই তার বন্ধুদের সঙ্গে একটু আগে চলে গেল। আমাকে যেতে বলেছিল কিন্তু আমি গেলাম না।’

    ‘কেন?’

    ‘দূর! হাজার হাজার লোকের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বসার জায়গা পাওয়া যায় না। সাধারণ টিকিটে ঢুকলে তো ভিআইপি ট্রিটমেন্ট পাওয়া যায় না।’

    ‘তা অবশ্য। আমাকে স্টুয়ার্ট লাউঞ্জে যেতে হবে। সেখানেই লাঞ্চ।’ হঠাৎ কী মনে হলো স্বপ্নেন্দুর, ছোট্ট শব্দে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘যাবি?’

    সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে উঠল সজনী, ‘হ্যাঁ! পাঁচ মিনিট সময় দাও, আমি তৈরি হয়ে নিই।’

    পাঁচ নয়, দশ মিনিট পরে সজনী যখন সামনে এলো তখন স্বপ্নেন্দুর মনে হলো তাঁর মেয়ে সত্যি সুন্দরী। সরমার ঘরের দরজায় গিয়ে বললেন তিনি, ‘যাচ্ছি, কোনো দরকার আছে?’

    উত্তর এলো পেছন থেকে। সজনী বলল, ‘মা পুজো করছে।’

    ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছিল। সজনী বলল, ‘তুমি নিশ্চয়ই অনেকবার রেসে গিয়েছ, নেট রেজাল্ট কি? হার না জিত?’

    ‘হিসেব করিনি। ওখানে গিয়ে এক পয়সাও খেলে না এমন অনেক মানুষ আছে।’

    ‘তাই? তাহলে আমিও খেলব না। তাছাড়া আমি তো জানতাম না রেসকোর্সে যাব, তাই তৈরি হয়ে আসিনি। খেলতে চাইলে তোমার কাছ থেকে টাকা নিতে হবে।’

    ‘তাহলে না খেলাই ভালো। রেস খেলার একটা নিয়ম আছে। হিসেব আছে। কোন ঘোড়া জিততে পারে তা অনেকগুলো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। সেসব না জেনে বাজি ধরা নিছক বোকামি ছাড়া কিছু নয়। তারচেয়ে যে-ক্রাউডটা ওখানে জমায়েত হবে তাদের লক্ষ্য কর। অনেক ইন্টারেস্টিং ব্যাপার দেখবে যা বাইরে দেখতে পাবে না।’ স্বপ্নেন্দু বললেন।

    স্টুয়ার্টস এক্সক্লোজারের গেটে ভিড় নেই। পাঁচ পাবলিককে ওদিকে ঘেঁষতে দেওয়া হয় না। তাঁরা ভিড় জমিয়েছেন গ্র্যান্ড এবং মেম্বার্স এক্সক্লোজারে। গেটের প্রহরী হাত বাড়িয়ে কার্ড পরীক্ষা করে মাথা নাড়ল। অর্থাৎ যেতে পারেন। তাদের পেছনে আর একটি দল গাড়ি থেকে নেমে এলো। কিন্তু প্রহরী তাদের মধ্যে বারমুডা পরা লোকটিকে আটকে দিলো। মেয়েদের ক্ষেত্রে বাধা না হলেও ছেলেদের বারমুডা পরে ঢোকা চলবে না। সজনী হাসল, ‘ঠিক হয়েছে।’

    এই সময় সামনের জটলা থেকে মিস্টার গোয়েঙ্কা হাসিমুখে এগিয়ে এলেন, ‘ওয়েলকাম। আপনারা শেষ পর্যন্ত এসেছেন দেখে খুব খুশি হলাম। চলুন, আপনাদের দোতলায় বক্সে বসিয়ে আসি।’

    ‘রেস আরম্ভ হয়নি তো?’

    ‘জাস্ট দশ মিনিট বাকি। ওপরে উঠলেই দেখতে পাবেন হাজার হাজার মানুষ এদিকে এসে গেছে।’ তারপর গলা নামিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন মিস্টার গোয়েঙ্কা, ‘ম্যাডামের পা তো নর্মাল। ইনি নিশ্চয়ই আপনার মিসেস নন?’

    ‘ওহো। সজনী, তোমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিচ্ছি। ইনি মিস্টার গোয়েঙ্কা, আজ আমরা ওঁর গেস্ট। আর মিস্টার গোয়েঙ্কা, এর নাম সজনী, আমার একমাত্র মেয়ে।’

    সজনী মিস্টার গোয়েঙ্কার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি হাসল।

    দোতলার বক্সটি চারজনের। সেখানে ওঁদের বসিয়ে গোয়েঙ্কা বললেন, ‘আমি একটা পনেরোতে আপনাদের ডেকে নিয়ে যাব লাঞ্চের জন্যে।’

    স্বপ্নেন্দু মাথা নাড়লে ভদ্রলোক চলে গেলেন। দোতলার গ্যালারি যেন রঙিন সাজের মানুষদের জন্যে রঙিন হয়ে গেছে। সজনী অবাক হয়ে চারপাশে তাকাচ্ছিল। কত ফিল্মস্টার চারপাশে ছড়িয়ে আছেন। বাকিদের দেখলেই বোঝা যাচ্ছে তাঁরা অতি উচ্চবিত্ত সমাজের মানুষ। পুরুষরা দামি পোশাক পরেছেন, মহিলাদের সাজ দুচোখ ভরে দেখার মতো। স্বপ্নেন্দু মেয়েকে বলল, ‘সামনে তাকা, কী সবুজ মাঠ। এতবড় রেসকোর্স ভারতবর্ষে নেই। বিভিন্ন দূরত্বে আধঘণ্টা পরপর নতুন নতুন ঘোড়া দৌড়াবে। দৌড় শেষ হবে ঠিক আমাদের সামনে।’

    স্বপ্নেন্দুর কথা শেষ হওয়ামাত্র রেস শুরু হয়ে গেল। ভিক্টোরিয়ার দিক থেকে দশ-বারোটা ঘোড়া ছুটে আসছে। মাইকে রিলে হচ্ছে তার। সঙ্গে সঙ্গে জনতা চিৎকার শুরু করল পছন্দের ঘোড়ার নাম ধরে। সজনী মুগ্ধ হয়ে দেখল একটা ঘোড়া সবাইকে ছাড়িয়ে জিতে গেল রেসটা। এই সময় গোয়েঙ্কা এসে একটা বই তুলে দিলেন স্বপ্নেন্দুর হাতে, ‘পরের রেসগুলো দেখে ইচ্ছে হলে খেলুন।’ চিৎকার করে জনতার আওয়াজ ছাপিয়ে কথাগুলো বলে ভদ্রলোক ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলেন।

    ‘দেখি, দেখি আমাকে দাও।’ প্রায় ছোঁ মেরে বইটা নিয়ে পাতা উল্টাল সজনী। তারপর উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘এই তো সেকেন্ড রেস।’

    একজন কর্তাব্যক্তি দুজন মেমসুন্দরীকে এনে স্বপ্নেন্দু যে-বক্সে বসেছিলেন তার সামনের দুটি আসনে বসিয়ে গেলেন। দুজনেই চল্লিশের আশেপাশে। দুজনের মাথার ওপর কায়দা করে অনেকটা উঁচু খোঁপায় সুবিন্যস্ত। খোঁপার গায়ে রুপোলি চেন জড়ানো। কিন্তু স্বপ্নেন্দুর সামনে যিনি বসে আছেন তাঁর পিঠ সম্পূর্ণ নিরাবরণ।  টানটান সুডৌল পিঠে মাখনের স্নিগ্ধতা। চোখ সরিয়ে নিতে নিতে আবার তাকালেন স্বপ্নেন্দু। এই মহিলা অন্তর্বাস ছাড়া কীভাবে জামা পরেছেন।

    ‘বাবা!’ সজনীর চাপা গলা কানে আসতেই মেয়ের দিকে তাকালেন স্বপ্নেন্দু।

    ‘ওদিকে তাকিও না।’

    ‘না-না!’ লজ্জা এবং অস্বস্তিতে মাথা নাড়লেন স্বপ্নেন্দু।

    কিন্তু কতক্ষণ দূরের মাঠের দিকে তাকাবেন তিনি।

    ‘বাবা! কত টাকা খেলতে হয়? মিনিমাম?’ বইয়ে চোখ রেখে জিজ্ঞাসা করল সজনী। স্বপ্নেন্দু মাথা নাড়লেন, ‘আমি এখানে কখনো খেলিনি।’

    এবার পিঠখোলা সুন্দরীর পাশে যিনি বসেছিলেন তিনি ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন, ‘ডু ইউ ওয়ান্ট টু বেট?’

    ‘ইয়েস।’ সজনী মাথা নাড়ল।

    ‘মিনিমাম বেট ইজ টেন রুপিস। আই অ্যাম গোয়িং টু কাউন্টার। ইউ ক্যান কাম উইদ মি।’ মহিলা উঠে দাঁড়ালেন।

    পার্স খুলে একশ টাকার নোট বের করে মেয়ের হাতে দিলেন স্বপ্নেন্দু।

    ‘থ্যাংকু।’ উঠে দাঁড়াল সজনী। তারপর স্বপ্নেন্দুর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নিচু গলায় বলল, ‘আমি না ফেরা পর্যন্ত চোখ বন্ধ করে থাকো।’

    ওরা চলে যাওয়ার পরই গোয়েঙ্কা এসে হাজির, ‘মেয়ে কোথায়?’

    ‘টিকিট কাটতে গিয়েছে।’

    ‘আহা। তিন নম্বর ঘোড়া জিততে পারে, ওকে বলা হলো না।’

    ‘ঠিক আছে। মজা করতে এসেছে, জেতা-হারা কোনো ব্যাপার নয়।’

    এবার গোয়েঙ্কার নজর পড়ল পিঠখোলা সুন্দরীর দিকে, ‘হ্যালো!’

    ‘হাই।’ মহিলা হাসলেন।

    ‘ভালো আছেন তো?’ গোয়েঙ্কা গদগদ।

    উত্তর না দিয়ে কাঁধ নাচালেন মহিলা।

    ‘ওহো! আপনাদের আলাপ নেই, না? ইনি ইলিনা গুপ্তা। আর ইনি স্বপ্নেন্দু সেন।’ ভদ্রতার কারণে স্বপ্নেন্দু বললেন, ‘গ্ল্যাড টু মিট ইউ।’

    ইলিনা হাসলেন, ‘আপনি বেট করছেন না?’

    ‘না।’

    ‘শি ইজ – !’

    ‘হ্যাঁ, আমার মেয়ে। ও বেট করতে গেছে।’

    ‘মাই গড! শি ইজ ইওর ডটার। আই কান্ট বিলিভ!’

    গোয়েঙ্কা হাসলেন শব্দ করে, ‘আমি তো স্ত্রী বলে ভেবেছিলাম।’

    ইলিনা হেসে বললেন, ‘ক্রেডিট গোস টু ইউ।’

    ‘আচ্ছা – !’ গোয়েঙ্কা চলে গেলেন।

    উসখুস করে স্বপ্নেন্দু জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কি কলকাতায় থাকেন?’

    ‘ওঃ, নো। আই অ্যাম ফ্রম মুম্বাই।’

    ‘ও।’

    সোজা হয়ে বসলেন স্বপ্নেন্দু। এই সময় ওরা ফিরে এলো। সজনী বলল, ‘বাবা, ইনি ফ্যাশন ডিজাইনার। শোভা গুপ্তা।’

    স্বপ্নেন্দু কিছু বলার আগে শোভা বললেন, ‘আপনি যে সজনীর বাবা তা ভাবাই যাচ্ছে না। আমার বর তো পঞ্চাশেই বুড়ো হয়ে  গিয়েছে।’

    উত্তর না দিয়ে স্বপ্নেন্দু জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কত নাম্বার খেললেন?’

    শোভা বললেন, ‘আমি এক নাম্বার। সজনী তিন।’

    ‘তোর তিন নাম্বার খেলার কারণ কী?’

    ‘কোনো কারণ নেই। তিন আমার পছন্দের নাম্বার।’

    রেস শুরু হয়ে গেল। জিতলো দুই নম্বর ঘোড়া। দর্শকরা চেঁচাচ্ছে। ওটাই বেশিরভাগ মানুষের পছন্দের ঘোড়া ছিল।

    একটু পরে একজন যুবকের সঙ্গে যে বয়স্ক মহিলা পাশের বক্সে এসে বললেন, তাঁর বয়স অবশ্যই সত্তর পেরিয়েছে। সাদা সিল্কের শাড়ি, সাদা জামা, মাথায় সাদা চুল পরিপাটি করে বাঁধা। চশমায় বিশেষত্ব আছে যা তাঁর বয়সের সঙ্গে চমৎকার মানানসই। গম্ভীর মুখে ভদ্রমহিলা মাঠের দিকে তাকিয়ে আছেন।

    সজনী চাপা গলায় বলল, ‘কী দারুণ দেখতে, না বাবা?’

    এবার ভদ্রমহিলা বাঁ দিকে তাকালেন। ভাবলেশহীন মুখ। মুখে বলিরেখা জানান দিলেও তা সৌন্দর্যকে ম্লান করতে পারেনি। সজনী তাঁর দিকে তাকিয়েছিল। মহিলার মুখ একটু নরম হলো। বললেন, ‘এক্সকিউজ মি! কিছু বলবে?’

    ‘না, না। এমনি দেখছিলাম।’

    ‘নাম কী?’

    ‘সজনী।’

    ‘তোমার বাবার নাম স্বপ্নেন্দু?’

    ‘এ্যাঁ!’ চমকে উঠল সজনী, ‘আপনি জানলেন কী করে?’

    ‘কারণ আমরা একসঙ্গে পড়তাম। প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের কথা। ও আমাকে চিনতে পারছে না। এখনই ওকে কিছু বলো না।’

    ‘আপনার নাম জানতে পারি?’

    ‘স্বচ্ছন্দে। মালবিকা। বিয়ের আগে মিত্র ছিলাম। বিয়ের পর দত্ত। যার জন্যে দত্ত হয়েছিলাম তিনি আজ নেই। আর এ হচ্ছে আমার নাতি, শৌভিক।’

    পরের রেস শুরু হওয়ার তোড়জোড় চলছিল। গোয়েঙ্কা চলে এলেন, ‘চলুন লাঞ্চ করবেন। ম্যাডাম, আপনারা কি লাঞ্চে আসবেন?’

    দুই মহিলা পরস্পরের মধ্যে দৃষ্টি-বিনিময় করলেন। তারপর উঠে দাঁড়ালেন। সজনী মালবিকাকে বলল, ‘আমি আপনাকে কি বলে ডাকব জানি না। আন্টি বলতে ভালো লাগছে না। কিন্তু আপনি কি লাঞ্চে আমার সঙ্গে যাবেন?’

    ‘না মা। আমি খেয়ে এসেছি।’ বৃদ্ধা সুন্দর হাসলেন, ‘যাও খেয়ে এসো।’

    লাঞ্চ যে-ঘরে পরিবেশন করা হচ্ছে সেখানে বেশ ভিড়। সজনী একটু খোঁজার পর ওদের দেখতে পেল। পিঠখোলা মহিলা স্বপ্নেন্দুর সঙ্গে হেসে এমনভাবে চোখ ঘুরিয়ে কথা বললেন যে সজনীর গলা থেকে একটু জোরেই শব্দটা ছিটকে বের হলো, ‘বাবা!’

    স্বপ্নেন্দু তাকালেন, ‘হ্যাঁ। আয়। তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’

    খাবার প্লেটে নিয়ে দাঁড়িয়েই খাচ্ছিল সবাই। পিঠখোলা মহিলা বললেন, ‘এখানে আসার ইচ্ছে ছিল না। না এলে আপনার সঙ্গে আলাপ হতো না।’

    স্বপ্নেন্দু মাথাটা সামনে ঈষৎ ঝুঁকিয়ে বললেন, ‘ধন্যবাদ।’

    দ্বিতীয় মহিলা সজনীর দিকে তাকালেন, ‘আজ রাত্রে কী করছ? বাবাকে নিয়ে আমার বাড়িতে চলে এসো। নটার মধ্যে। আমরা একটা এক্সক্লুসিভ পার্টি করব।’

    ‘খুব ভালো লাগত যেতে পারলে। কিন্তু আমার মা অসুস্থ। আজ ওঁর সঙ্গে থাকব।’ সজনী হেসে বলল।

    দ্বিতীয়া অবাক হলেন, ‘কী হয়েছে ওঁর?’

    ‘খুব মারাত্মক অসুখ। মানুষ যখন নিজেকে একা মনে করে তখন অসুখটা হয়।’

    ‘আচ্ছা।’ মহিলা মাথা নাড়লেন, ‘আই অ্যাম সো সরি!’

    এরপর কথা এগোচ্ছিল না। ভিড়ের মধ্যে সবাই যেটুকু পারে খেয়ে প্লেট রেখে দিলো। স্বপ্নেন্দু একটা বেয়ারাকে বলে জল আনিয়ে নিলেন।

    দ্বিতীয়া ‘এক্সকিউজ আস’ বলে পিঠখোলাকে নিয়ে মেয়েদের টয়লেটের দিকে চলে গেলে স্বপ্নেন্দু জিজ্ঞাসা করল, ‘হঠাৎ মাকে অসুস্থ করলে কেন?’

    ‘অসুস্থ না হলে কোনো মানুষ নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখে?’

    তুমি জানো ওটা উনি করেন ইচ্ছে করেই। ঈশ্বরকে আঁকড়ে ধরতে চেয়ে নিজের প্রতি নজর দেননি। কেউ ওঁকে বলেছিল আমার পাশে থাকলে ওঁকে মাসি বলে মনে হয়। তারপর থেকেই উনি দূরত্ব রেখে চলেছেন। তাই ওঁর অসুস্থতা মনের।’ স্বপ্নেন্দু বললেন।

    সজনী বলল, ‘তুমি কি ওঁদের জন্যে অপেক্ষা করছ?’

    ‘না। তোর সঙ্গে কথা বলছি।’

    ‘তাহলে বক্সে চলো।’

    নিজের চেয়ারে বসে সজনী মালবিকার দিকে তাকিয়ে হাসল। মালবিকা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কিছু খেললে নাকি?’

    ‘না। আপনি?’

    ‘দূর! দেখতেই মজা।’

    সজনী স্বপ্নেন্দুর দিকে তাকাল, ‘বাবা, ওঁর সঙ্গে আলাপ হলো। কী সুন্দর দেখতে। তাই না?

    স্বপ্নেন্দু মালবিকাকে দেখলেন। বললেন, ‘নমস্কার।’

    মালবিকা হাত জোড় করলেন। তারপর হেসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘চিনতে পারছ?’

    ধন্দে পড়লেন স্বপ্নেন্দু। বললেন, ‘ঠিক প্লেস করতে পারছি না।’

    ‘সেটাই স্বাভাবিক। তুমি তো এখনো যুবক।’

    ‘আপনি আমাকে চেনেন?’

    ‘নইলে তুমি বলছি কী করে?’

    সজনী কথা বলল, ‘উনি মালবিকা দত্ত। বিয়ের আগে মিত্র ছিলেন। তোমরা সহপাঠী ছিলেন। মনে পড়ছে?’

    বিদ্যুৎ চলকে গেল মাথায়। স্বপ্নেন্দু চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘মালবিকা! তুমি?’

    ‘আমি।’

    ‘উঃ। কতদিন পরে দেখলাম। পঞ্চাশ বছর পরে তোমাকে দেখছি।’

    ‘হ্যাঁ। পঞ্চাশ বছর পরে যা হওয়া স্বাভাবিক আমি তাই হয়েছি। কিন্তু তুমি একটু বড়সড় হওয়া ছাড়া আগের মতো আছ। অসুবিধে হয় না?’

    ‘অসুবিধে? অবাক হলো স্বপ্নেন্দু।

    ‘এই স্রোতের উল্টোদিকে চলতে।’

    ঠিক তখনই হইহই শব্দ হলো। খাঁচায় ঢুকিয়ে দৌড় শুরু করার জন্য ঘোড়াগুলোকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল সহিসরা। হঠাৎ একটা ঘোড়া তীব্র আপত্তি করে লাফিয়ে উঠতেই সহিসের হাত থেকে লাগাম বেরিয়ে গেল। মুক্ত ঘোড়াটা অন্য ঘোড়াদের দিকে দৌড়ে গেলে তারাও বিদ্রোহী হলো। তারাও লাফাতে লাগল। সহিসরা ভয় পেয়ে দূরে সরে যেতেই বারোটা ঘোড়া ধাক্কা দিয়ে খাঁচা ভেঙে ফেলল। তারপর একসঙ্গে দৌড়ে চলে এলো গ্যালারির সামনে। ভয়ঙ্কর বেগে তারা রেসকোর্সের রেলিং ভেঙে ফেলল। সামনে যা পাচ্ছে তাই ওরা উড়িয়ে দিচ্ছে। পুরো রেসকোর্সের মাঠে বিশৃঙ্খল অবস্থা।

    দর্শকরা ভয় পেয়ে গেল। রেসকোর্সের ঘোড়াদের তিনমাস বয়স থেকে প্রতিদিন যা শেখানো হয় তার অন্যতম হলো ডিসিপ্লিন। একইভাবে তারা মাঠে আসে, খাঁচায় ঢোকে, দৌড়ায়। এই নিয়মের ব্যতিক্রম কখনোই হয় না। আজ হলো? কর্তারা ভেবেই পাচ্ছেন না, কেন হলো?

    সজনী বলল, ‘বাবা, চলো।’

    সবাই উঠে দাঁড়িয়েছিল। কেউ একজন চেঁচিয়ে বলল, ‘ঘোড়াগুলো পার্কিং প্লেসে ঢুকে একটার পর একটা গাড়ি ভাঙছে। ওদের থামাতে গুলি করে মারা উচিত।’ কিন্তু গুলি করা আইনে নিষিদ্ধ।

    সজনী দেখল এই গোলমাল শুরু হওয়ামাত্র পিঠখোলা এবং তাঁর সঙ্গিনী উধাও হয়ে গিয়েছেন। মালবিকা বললেন, ‘তাহলে স্বপ্নেন্দু। নিরীহ ঘোড়াগুলোও আচমকা বিদ্রোহ করতে পারে।’

    স্বপ্নেন্দু কথা বললেন না।

    মালবিকা তাঁর নাতিকে বলতেই সে সজনীকে একটা কার্ড এগিয়ে দিলো।

    সজনী হাসল, ‘আপনাকে ফোন করব।’

    প্রায় আধঘণ্টা পরে গাড়িতে চুপচাপ বসেছিল স্বপ্নেন্দু, পাশে সজনী। তাঁদের গাড়ি বেঁচে গেছে।

    দুদিন বাদে মায়ের ফোন পেল সজনী। ‘কী ব্যাপার বল তো।’

    ‘কেন? কী হয়েছে?’

    ‘তোর বাবা চায়ে চিনি খাচ্ছে, ব্রেকফাস্ট শুধু গমের বদলে লুচি তরকারি, লাঞ্চে ভাত আলুসেদ্ধ, তরকারি মাছ বা মাংস খাচ্ছে। এসব তো কখনো খেত না।’

    ‘তাই?’

    ‘হ্যাঁ রে। তার ওপর শুনলাম, এই দুদিন দাড়ি কামায়নি। গালে গলায় সাদা কদম ফুটে উঠেছে। ভাবতেই পারছি না।

    ‘কাজের লোকের মুখে না শুনে নিজেই যাও না দেখতে।’

    ‘আমার বয়ে গেছে। দরকার হলে সে নিজেই আসবে।’

    ফোন রেখে আবার ডায়াল করল সজনী, ‘বাবা, কনগ্র্যাচুলেশন!’

    স্বপ্নেন্দু হাসলেন, ‘ধন্যবাদ।

    সৌজন্যে: কালিকলম,

    ⤶
    1 2
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }