Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প1110 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শুনঃশেফ

    আমার নাম যতি। জ্যোতি নয়। যতি। বর্গীয় জ আর অন্তঃস্থ য-এর মধ্যেকার এই তফাতটা আমার জীবনে খুব গুরত্বপূর্ণ। কেন যে এই তফাত তা নিয়ে খুব অল্প বয়সেই আমার মধ্যে একটা আবছা কৌতূহলের জন্ম হয়েছিল। আমার সঙ্গে আমাদের ক্লাসে আরেক জ্যোতি পড়ত। সে বর্গীয় জয়ের জ্যোতি। মাস্টারমশাইরা দুজনকে তফাত করবার জন্যে আমাকে ডাকতেন ওয়াইতি। অবিকৃত জ্যোতি নামের সম্মান আমার সহপাঠীই পেত। এবং তাই নিয়ে একটু বড়ো হতে না হতেই সে কলার তুলতে শুরু করে। আরেক দল মাস্টারমশাই ছিলেন, তাঁরা আবার বলতেন, জ্যোতি দা ব্রাইট আর যতি দা ডার্ক। স্কুলে পড়ার ওই বয়সে যখন ঠ্যাং সবে বেখাপ্পা রকমের লম্বা হতে শুরু করেছে, গাল খসখস করছে, কপালে গালে দু চারটে ব্রণ উঁকিঝুঁকি মারছে, সেই লজ্জাকর, মুখচোরা সময়ে যতি দা ডার্ক কিংবা ওয়াইতি ডাক আমাকে যে কী ভয়ানক আত্মগ্লানির কটাহে নিক্ষেপ করত তা একমাত্র আমিই জানি। মাস্টারমশাইরা একজনও আমায় পছন্দ করতেন না। প্রাণপণে পড়া মুখস্থ করলেও না। অঙ্ক সব মিলে গেলেও না। হাতের লেখা ভালো করেছিলুম অনেক অভ্যেস করে করে, কিন্তু তাতেও তাঁদের অপছন্দের নিরেট দেয়াল ভেদ করতে পারিনি। কিন্তু অভয়পদ স্যারের যেন আমার ওপর একটা বিজাতীয় ঘৃণা ছিল। কেমন একটা আক্রোশ কাজ করত ওঁর আমার প্রতি সব ব্যবহারের পেছনে। উনি পড়া জিজ্ঞেস করবেন বলে বিশেষ করে ওঁর ক্লাসের পড়া ভালো করে তৈরি করে যেতুম। ভেতরের সমস্ত কাঁপুনি সংযত করে সঠিক, সুন্দর উত্তর দিচ্ছি, উনি মাঝপথে থামিয়ে দিতে ছড়া কেটে উঠতেন, আতা গাছে তোতা পাখি, ডালিম ডাছে মৌ। ক্লাসে ইতস্তত হাসি শুরু হত। আমি লজ্জায়, ক্ষোভে বেগনি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতুম।

    এই অভয়পদবাবু একদিন সু-মেজাজে থাকায় এবং বাইরে তুমুল বৃষ্টি হওয়ায় ক্লাসে গল্পগুজব হচ্ছিল, হঠাৎ উনি বললেন, একটা থট-রিডিং-এর ম্যাজিক দেখবি? যতি দা ডার্ক, ওঠো বাবা! আমি উঠে দাঁড়াতে কিছুক্ষণ শ্যেন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে ডান হাতের দুটো আঙুল মুখের সামনে ঘোরাতে লাগলেন, তারপরে বললেন, যতি দা ডার্কের তো দেখছি তিন তিনটে দিদি আছে! সত্যি? সত্যি? আশেপাশে সবাই আমায় জিজ্ঞেস করতে লাগল। আমি কথা বলতে পারছিলুম না, ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলে বসে পড়েছিলুম। আমি থাকি শিকদার বাগান লেনে। অভয়পদবাবু আসতেন বরানগর থেকে, আমাদের বাড়ির কারও সঙ্গেই কোনো সম্পর্ক ছিল না। থাকবার কথা নয়। তবু অভয়পদবাবু কী করে আমার তিন দিদির কথা জানলেন? ধূর্ত চোখে আমার দিকে চেয়ে ছিলেন অভয়পদবাবু। যেন আমার তিন দিদি থাকা ব্যাপারটা খুব দূষণীয়। প্রায় অশ্লীল। ব্রণ ওঠার মতোই অশ্লীল। তখন অভয়পদবাবু প্রত্যেকটি শব্দ চেটেপুটে খেতে খেতে বলছেন, এই যতেটা না জন্মালেও কোনো ক্ষেতি ছিল না। এই ধরনের ছেলেপুলেরাই বাপ-মায়ের চক্ষুশূল হয়ে থাকে। অভয়পদবাবু এই চূড়ান্ত ঘোষণাটি করবার পর টিফিনের ঘন্টা পড়ে গেল। মনে হল সহপাঠীরা ঘৃণা এবং ভয়ের দৃষ্টিতে আমার দিকে চাইতে চাইতে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমায় শিরদাঁড়া দিয়ে হিমের স্রোত, গলা শুকিয়ে কাঠ, হাত পা কাঁপছে, কোনোক্রমে নিজের বইখাতা ব্যাগে ভরে সবার শেষে ঘর থেকে বেরোতে বেরোতে অনুভব করলুম—আমার শুধু বাবা-মা কেন, একজন বন্ধুও নেই। এই বিশাল জগতে আমি একদম একা।

    টিফিনের পয়সায় সেদিন কিছু খেলুম না। আইসক্রিম কেনবার ছল করে স্কুলগেটের বাইরে বেরিয়ে এলুম। তারপর এদিক ওদিক দেখে বড়ো রাস্তা পার হয়ে দেশবন্ধু পার্কের দিকে হাঁটা দিলুম।

    দুপুরবেলাটায় দেশবন্ধু পার্ক ফাঁকা-ফাঁকা থাকে। আমায় একটা প্রিয় কলকে ফুলের গাছ ছিল, গাছটার তলায় বসে হাঁটুর ওপর মাথা রেখে প্রথমটায় খানিকটা গরম চোখের জল বেরিয়ে যেতে দিলুম। তারপর প্রতিজ্ঞা করলুম আর স্কুলে যাব না। বাড়ির থেকেও নিজেকে আস্তে আস্তে মুক্ত করে নেব। সত্যিই তো, আমি যে বাবা-মার চক্ষুশূল এ বিষয়ে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিরই সন্দেহ থাকতে পারে না। বাবা অত্যন্ত রাশভারী, কড়া প্রকৃতির মানুষ। এতদিন ভাবতুম অনেক বড়ো, প্রায় বুড়ো বলেই বাবা আমায় সঙ্গে কথা বলেন না, এখন বুঝতে পারছি তা নয়, আসলে চক্ষুশূল, আমি চক্ষুশূল। চোখ বুজে মনে করবার চেষ্টা করলেই দেখতে পাচ্ছি ওই তো বাবা দাদাকে ডেকে কি বললেন, ওই তো দিদির সঙ্গে, মেজদির সঙ্গে, ওই তো এমন–কি ছোড়দির সঙ্গেও বাবা কথা বলছেন।

    কই দিনের পর দিন যায়, বাবা সোজাসুজি, মুখোমুখি আমার সঙ্গে তো কথা বলেন না। বড়ো জোর—পড়াশোনা কেমন হচ্ছে? কিংবা কোথায় চললে? আর মা? মা আমাকে দিনের মধ্যে সাতবার দোকানে পাঠায়। এই হারুর দোকান থেকে একটু গরম মশলা নিয়ে আয় এই আবার দৌড়ে যা তো যতি, তোর বাবার দই আনাতে ভুলে গেছি। এক ঘন্টাও যাবে না, লান্ট্রি থেকে দাদার শার্ট প্যান্ট আনতে হবে। অমনি একপাতা সেফটিপিন, ভুলুর জন্যে একটা পেনসিল, ফরমাশের আর শেষ নেই। যে অনুপাতে মা আমাকে খাটায় সেই অনুপাতে আবদার রাখে কি? রাখে না। বিশ্বকর্মার সময়ে ঘুড়ির লাটাই-মাঞ্জার পয়সা মাপা মাপা। দোলের সময়ে পেতলের পিচকিরি আজও হল না। একটা ভালো ক্রিকেটব্যাট মা আজও দিচ্ছে, কালও দিচ্ছে। নেমন্তন্ন বাড়িতে যাবার সময়ে সর্বদা সঙ্গে যাবে ভুলু, মায়ের কোলপোঁছা। আমার অবশ্য নেমন্তন্ন যেতে একটুও ভালো লাগে না। কিন্তু ভোজের দিকটাও তো আছে! মাকে কোনোদিন বলতে শুনিনি, যতি আজ আমার সঙ্গে চল।

    সেইদিন থেকে আমি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলুম। ঠিক সময়মতো খেয়ে দেয়ে, স্কুলব্যাগ পিঠে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। তারপরে কোনোদিন দেশবন্ধু পার্ক, কোনোদিন গড়ের মাঠ। কোনোদিন গঙ্গার ধার চলে যাই। কিন্তু ভীষণ দীর্ঘ সময়। কাটতে চায় না। লোকেরা কীরকম সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে চায়। আমার মনে হয় যে যেখানে আছে সবাই বুঝতে পারছে আমি স্কুল পালিয়েছি। সবচেয়ে মুশকিল হয় বইয়ের ব্যাগটা নিয়ে, ওইটা দেখলেই লোকে ধরে ফেলে আমি স্কুলের ছেলে। সেই জন্যে কোথাও বসার চেয়ে আমায় মনে হয় হাঁটাই ভালো। হাঁটতে হাঁটতে বহুদূর চলে যাই। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়্যাল, রেস কোর্স, খিদিরপুর, চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানার ভেতরে ঢুকে সময়টা বেশ কেটে যায়। বাঘের গায়ে কটা ভোরা, সিংহী কটা হাই তুলল, ভালুক কতবার দাঁড়াল, কতবার পড়ে গেল, ভোঁদড় যখন মাছ ধরে ডাঙায় ওঠে, মাছটা কীভাবে মুখের মধ্যে ঝটপট করে এইসব দেখতুম কেমন অন্যমনস্ক হয়ে।

    একাধিকবার মুশকিলেও পড়লুম। চিড়িয়াখানায় মন দিয়ে শিম্পাঞ্জির খিচুনি দেখছি, পিঠের ওপর একটা ভারী হাত পড়ল, যতি না? মুখ ফিরিয়ে অস্পষ্টভাবে চিনতে পারলুম ভদ্রলোককে। বাবার কেমন ভাই হন। বিজয়ার পর সপরিবারে আসেন বছরে একবার।—স্কুল থেকে এসেছ? নিজেই সমাধান করে দিলেন সমস্যার। আমি তাড়াতাড়ি বললুম হ্যাঁ। কোথায় আর সব ছেলেরা? টিচার? আমি বললুম ওইদিকে আছে। দেখো আবার, হারিয়ে যেয়ো না। বাবার ভাই এগিয়ে যান। আরেক দিন পাঁচ নম্বর বাসে চড়েছি, লেকের দিকে যাব। লেডিজ সিট থেকে এক ভদ্রমহিলা ডেকে বললেন, এই যতি, যতি, জায়গা খালি হচ্ছে এইখানে বোসো। আমি দূর থেকেই যথাসম্ভব হাত নেড়ে বোঝালুম আমি বেশ আছি। ভদ্রমহিলা আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। আমি ওঁকে চিনতে পারছি না, কিন্তু উনি আমাকে ঠিকই চিনেছেন। দূর থেকে বিশেষ কিছু বলতে পারছেন না, কিন্তু ওঁর খুব সন্দেহ হয়েছে। এখন দুপুর একটা, আমার পিঠে স্কুল ব্যাগ। এই ব্যাগটাই হয়েছে আমার কাল। যতটা পারি ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে বাবার চেষ্টা করি, তারপর স্টপ আসতেই নেমে পড়ি। সামনে যে গলি পাই, তারই মধ্যে ঢুকে পড়ি, ইশ ভুল হয়ে গেছে, ভদ্রমহিলা প্যাঁট প্যাঁট করে দেখছেন। রাস্তা পার হয়ে উলটো দিকের গলিতে ঢোকা উচিত ছিল। অনেকটা সময় গলিটার মধ্যে ঘোরাঘুরি করে যেই বেরিয়েছি, দেখি ভদ্রমহিলা রাস্তার ওদিক থেকে আসছেন হনহন করে। আমার চোখে চোখ পড়ে গেল। চোখ পাকিয়ে বললেন, একদম নড়বে না, পালাবে না। কাছে এসে একটা হাত পাকড়ে ধরে বললেন, তুমি রমলাদির ছেলে যতি না? আমাকে চিনতে পারছ না? সুপ্রভাত কাকা … রথীন … আমি বললুম, আপনাকে আমি চিনি না। আপনি কে আমি জানি না। আমার নাম যতি নয়।

    যতি নয়? তাহলে তখন যতি বলে ডাকতেই বাসের মধ্যে সাড়া দিলে যে!

    আমার নাম ব্ৰতী। আমি শুনেছি ব্রতী।

    তাহলে আমাকে দেখে বাস থেকে নেমে পড়লে কেন? এই গলির মধ্যে ঢুকেছিলে কেন? লুকোবার জন্যে নয়?

    আমি বললুম, আমি একটা ঠিকানা খুঁজছি। খুব দরকার। আমার বাবার খুব অসুখ, মা পাঠিয়েছে, এক জ্যাঠামশাইয়ের বাড়ি। তাই …।

    মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে? বাবার অসুখ? মা পাঠিয়েছে? কী নাম তোমার বাবার?

    গা-ভরতি ঘৃণা নিয়ে আমি উচ্চারণ করলুম, অভয়পদ মজুমদার। এত চট করে বললুম যে ভদ্রমহিলা থতিয়ে গেলেন। বললেন, কী ঠিকানা খুঁজছ? তোমাকে একেবারে রমলাদির ছেলে যতির মতো দেখতে। না, যতি এতটা কালো নয়, এত রোগাও নয়।

    যাক কী ঠিকানা যেন খুঁজছিলে?

    আমি বললুম, পঁচিশের এক বকুলবাগান রো না রোড গুলিয়ে ফেলেছি, বাড়িটা দেখলেই আমি চিনতে পারব।

    ভদ্রমহিলা বললেন, কিছু মনে কোরো না। আমায় এক আত্মীয়ার ছেলের সঙ্গে তোমার খুব মিল। যাও তোমার দেরি করিয়ে দিলুম। আমারও দেরি হয়ে গেল।

    হাতঘড়ির দিকে একবার চেয়ে উনি আবার বাস স্টপে গিয়ে দাঁড়ালেন, আমি বকুলবাগানের মধ্যে সেঁধিয়ে যেতে থাকলুম।

    সারা কলকাতা, দক্ষিণেশ্বর থেকে লেক কালীবাড়ি পর্যন্ত ঘুরে বেড়াতুম। কিন্তু পথও আমায় টানত না। কোনো কিছুকেই আমার বিন্দুমাত্র আকর্ষণীয় বলে মনে হত না। এই সমস্ত বাড়ি ঘর ইট-কাঠের দৈত্য সব, গলি রাস্তা, মোড় অজানা এক জনহীন গ্রহের। জনহীন। এত মানুষ বাসে ঝুলতে ঝুলতে যাচ্ছে, ফুটপাতে ভিড় করে যাচ্ছে, দোকানবাজার গমগম করছে কিন্তু আমায় মনে হত কেউ নেই। কেউ কোথাও নেই। যেন সিনেমা দেখছি। টিকিটের পয়সা জমিয়ে জমিয়ে এক এক দিন কোনো হলে ঢুকে পড়তুম। সারাদিন ঘোরা, খাওয়াদাওয়া নেই, পর্দার হট্টগোল কান ফাটিয়ে দিত, তুমুল নাচ-গানের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমার কোমর, উরু সব ব্যথা করত, রক্ত অস্বস্তিকর রকমের গরম হয়ে উঠত, সস্তার সিট, চারপাশ থেকে অশ্রাব্য খিস্তি, সিটি বেজে উঠছে, পর্দার নাচিয়ে মেয়েটির পেটের দিকে আঙুল দেখিয়ে পাশের সিটের লোক বলত, কী খোকা পছন্দ হয়? জবাব না দিলে ছাড়ত না। ইস্কুল পালিয়ে তো দেখতে এসেছ, পছন্দটা বলতে দোষ কী, আমার সঙ্গে মেলে কিনা দেখতুম। বলে লোকটা খা খা করে হাসত। পান গুণ্ডি খাওয়া কালো মাড়ি কালো দাঁত দেখা যেত। আমার ভেতরটা গুলিয়ে উঠত। ইনটারভ্যালের সময়ে উঠে পড়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিতুম। হেঁটে হেঁটে সময় ভরানো। কোনো কোনো দিন সময়ের ঠিক রাখতে পারতুম না। হা-ক্লান্ত হয়ে আগে আগেই বাড়ি ফিরতুম। মা বলত—কী রে! আজ সকাল-সকাল ছুটি হয়ে গেল?

    বললুম, হ্যাঁ, একজন টিচার মারা গেছেন।

    কোন টিচার রে! আহা! ছেলে মেয়ে আছে!

    গম্ভীরভাবে বলতুম, পুরোনো টিচার। আমি ঠিক চিনি না।

    একদিন খুব দেরি হয়ে গেছে, পা টিপে টিপে বাড়ি ঢুকছি, নীচের দালানে মৃদু আলো জ্বলছে। সিঁড়ির ওপর থেকে একটা খুব জোরালো নারীকণ্ঠ ভেসে এলো। কেমন চেনা-চেনা।

    না রমলাদি, তোমার যতিকে আজ আর দেখা হল না। বড্ড দেরি হয়ে যাচ্ছে। আসলে কী জানো, পাঁচ নম্বর বাসে ক মাস আগে একটা যতির মতো ছেলেকে দেখলুম। পিঠে ব্যাগ। আমি যতি, যতি কোথায় যাচ্ছ বলে ডাকতে নেমে বকুলবাগানের মধ্যে ঢুকে গেল। তো আমিও নেমে ছেলেটাকে পাকড়েছি। কী ভুল দেখো। ছেলেটার নাম ব্রতী। বাবার হঠাৎ স্ট্রোক হয়েছে। জ্যাঠার বাড়িতে খবর দিতে এসেছে। বরানগরে থাকে, স্কুলের টাইমে এসেছে বকুলবাগান। তা ছেলেটাকে ছেড়ে দিলুম। কিন্তু তারপর মনে হল স্কুলের ব্যাগ কেন পিঠে? আর ধরতে পারলুম না। সেই থেকে মনটা খচখচ করছে।

    ভদ্রমহিলা সিঁড়ি দিয়ে নামছেন। আমি তৎক্ষণাৎ দালানের অপর প্রান্তে, সিঁড়ি দিয়ে নেমে উঠোন, উঠোনের ওদিকে কলতলা, তার মধ্যে।

    মিনিট দশেক পরে আস্তে আস্তে বেরিয়ে ওপরে উঠছি, মা রান্নাঘরের থেকে বেরিয়ে বলল, কী রে যতি, আজ এত দেরি যে? উঃ আমি আর বানাতে পারি না, পারি না।

    ড্রিল সার ডিটেন রেখেছিলেন, যা মুখে আসে তাই বললুম।

    ডিটেন রেখেছিলেন? কেন? মার ভুরু কুঁচকে উঠল।

    ড্রিল পারিনি, তাই।

    ড্রিল কি মুখস্থ করা যায় যে না পারলে ডিটেন করবে? আস্পদ্দা তো কম নয়! মা বিরক্ত মুখে গজগজ করতে করতে ভেতরে ঢুকে গেল। দোতলায় উঠতে মেজদি বলল, হ্যাঁরে যতি, স্কুল থেকে ফিরেই কলঘরে ঢুকেছিলি কেন রে?

    বাথরুম পেয়ে গিয়েছিল।

    মেজদি বলল, দিদি দেখেছিস যতিটা কী ভীষণ কালো আর রোগা হয়ে গেছে?

    দিদি বলল, তাই তো বুলু, ঠিক বলেছিস তো! হ্যাঁরে যতি, আজকাল তো আমার কাছে সংস্কৃত দেখাতে আসিস না! দাদার কাছে অঙ্ক-ইংরিজি দেখাতে তো দেখি না?

    আমি উত্তর দিচ্ছি না দেখে দিদি এগিয়ে এসে আমাকে ঝাঁকানি দিল কী রে, কথা বলছিস না যে? এ কী? তোর হাতগুলো কী ময়লা রে? কী নোংরা তুই, ছি। ছি।

    মা নীচে থেকে ডাকল, যতি, জলখাবার খেয়ে যা! লুচি ভাজার গন্ধ আসছিল। আমি সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতেই দিদি বলল, সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে খেতে বসবি যতি। খেতে বসে কিন্তু আমায় বমি পেতে লাগল। কোনোক্রমে একটা লুচি গলাধঃকরণ করে আমি উঠে পড়লুম। মা অবাক হয়ে বলল, তোর জন্যে টাটকা ভেজে তুললুম, না খেয়ে উঠছিস যে! আমারই ঝকমারি হয়েছিল দেখছি …

    ভালো লাগছে না—কোনোমতে বলে আবার সিঁড়ি দিয়ে উঠছি, দেখি দুই দিদি তখনও সিঁড়ির মাথায় গুলতানি করছে। আমাকে উঠতে দেখে দিদি কী যেন বলতে বলতে আমার দিকে এগিয়ে এল। আর আমার ভেতর থেকে কতদিনের ঘেন্না, কষ্ট, রাগ, দুঃখ, খালি পেটে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরার অনিয়ম, সমস্ত হড়হড় করে বমি হয়ে বেরিয়ে আসতে লাগল। ভীষণ কষ্টে আমি সিঁড়ি টপকে নীচে পড়তে থাকলুম। প্রচণ্ড লাগল মাথায়, তারপর সব কালো।

    মাথাটা পরিষ্কার হতে চোখ মেলে দেখি অনেক জোড়া চোখ আমার ওপর। মাথার যেখানটায় লাগছে সেখানে ঠান্ডা কিছু চেপে ধরেছে কেউ। চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিচ্ছে কেউ। চোখ মেলতে দেখে মা আতঙ্কিত গলায় বলল, যতি, যতি, ও যতি, বমি করে অমন অজ্ঞান হয়ে গেলি কেন? খুব লেগেছে মাথায়? গা টা গরম গরম লাগছে। কখন থেকে শরীর খারাপ হল?

    মা একটানা বকেই যাচ্ছে, বকেই যাচ্ছে। দিদি বলল, মা, ওকে এখন কথা বলিয়ো না। দাঁড়াও ওর জামা-টামাগুলো পালটে দিই। কী বিশ্রী গন্ধ বেরচ্ছে। বুলু বালতি করে জল নিয়ে আয় তো? আমার নড়াচড়া করার ক্ষমতা নেই। কথা বলবার চেষ্টা করলেও বলতে পারছি না। শরীরটা যেন কাঠের মতো শক্ত। আমি দেখতে পাচ্ছি বমিতে মাখামাখি কাঠের মতো আমার শরীরটা মেঝেতে পড়ে আছে। সেটাকে ঘিরে মা আর দুই দিদি। মেজদি জল নিয়ে এল, খোসা ছাড়াবার মতো করে জামাকাপড় ছাড়িয়ে নিচ্ছে দিদিরা, মুখটা কাত করে ভালো করে গামছা ভিজিয়ে ধুয়ে দিচ্ছে মুখ। আমার চোখ দুটো কড়িকাঠের দিকে চেয়ে আছে। গায়ে পাউডার দিয়ে দিল মেজদি। কোমরের ওপর চাদর চাপা দিয়ে দিদি আমার প্যান্ট খুলে নিল। পাজামা পরিয়ে দিল। পায়ের পাতাগুলো ঘষে ঘষে মুছিয়ে দিচ্ছে। কী বিশ্রী দেখতে আমাকে। ঠিক একটা পোড়া কাঠের টুকরোর মতো। কানগুলো মস্ত বড়ো বড়ো, লতপত করছে। মাথার পেছনের চুল খাড়া খাড়া। ঠোঁটের ওপর মুখের কালি যেন গাঢ় হয়েছে। এমন স্পষ্টভাবে নিজেকে আমি কী করে দেখতে পাচ্ছি? চোখের ওপর একটা আয়না ধরা আছে নাকি? তারপর দেখলুম মা ভয়ার্ত গলায় বলছে, বুলু, ডাক্তার ডাক, ও ওরকম কড়িকাঠের দিকে চেয়ে রয়েছে কেন? ও সাড়া দিচ্ছে না কেন? যতি, ও যতি। আমি তখন বললুম, মা যতি মানে কী, আমার নাম যতি কেন? তোমরা সবাই কেন আমার ওপর এত বিরূপ? কেন, আমি কী করেছি মা? দেখতে পেলুম মা আমাকে ঝাঁকাচ্ছে আর কাঁদছে, যতি, যতি রে, অমন করে চেয়ে আছিস কেন? আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস না? বুঝতে পারলুম মা আমার কথা আদৌ শুনতে পায়নি। তখন আমার খেয়াল হল আমি মাকে কথাগুলো বললুম রাস্তার দিকের জানলার কাছ থেকে, যদিও আমার কাঠের মতো শরীরটা পড়ে আছে দরজার কাছে মেঝেয়। দুই দিদি আর মা শরীরটাকে অনেক কষ্টে তুলে তক্তাপোশে শোয়ালে। দিদি বলল, মা কেঁদো না, পড়ে গিয়ে এরকম হয়েছে। কী যে মুশকিল, দাদার এখনও পাত্তা নেই। বাবা কখন আসবে কে জানে, বুলু তুই ও বাড়ি থেকে টুলটুলকে ডেকে নিয়ে ডাক্তারবাবুর কাছে যা। মেজদি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, টুলটুলকে আর ডাকবার সময় নেই, আমি যাচ্ছি। মেজদি এক ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। জানলার কাছ থেকে আমি আমার চোখ দুটোকে প্রাণপণে বুজিয়ে চেষ্টা করতে লাগলুম, মা ভীষণ ভয় পাচ্ছে। ক্রমাগত কাঁদছে আর দুর্বল গলায় বলে যাচ্ছে, যতি, যতি রে। আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস না! কী হবে এখন, শীলা, কী হবে? দিদি ক্রমাগত আমার শক্ত হাতে পায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর বলছে, মা চুপ করো, কাঁদছ কেন, অসুখবিসুখ মানুষের হয় না?

    আস্তে আস্তে জানলার কাছেই আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। হঠাৎ খেয়াল হল ঘরে বাবা, ভুলু, দাদা, ডাক্তারবাবু, পেছনে ছোড়দি, মেজদি। ডাক্তারবাবু আমায় নাড়ি দেখছেন, বাবার পরনে এখনও কোর্টের পোশাক। বাবা আমার পায়ের কাছে বসেছেন। পা দুটো নিজের কোলে তুলে নিয়েছেন। আমি শুনতে পাচ্ছি—বাবা তারস্বরে বলে চলেছেন, নারায়ণ নারায়ণ, দুর্গে দুর্গতিনাশিনী, এ কী বিপদ মা! বাবার ঠোঁট নড়ছে কি নড়ছে না। জানলার ধার থেকে এখন আমি ঘরের মাঝখান অবধি সরে এসেছি।

    কী রকম দেখলেন অবিনাশদা?

    আরে প্রেশার ভীষণ লো। একটা ফিটের মতো হয়েছে মনে হচ্ছে। ইঞ্জেকশন দিচ্ছি একটা।

    খাটের পাশে দাঁড়িয়ে আছি আমি। একটু হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারব কান্নায় ভিজে মুখ মাকে। চোখ ছলছল করছে দিদির এতক্ষণ একলা একলা সমস্ত দায়িত্ব বহন করে। মেজদি উদ্বেগে বুকে আছে, ভুলু ভয়ের চোটে মুখে একটা আঙুল পুরে দাঁড়িয়ে রয়েছে খাটের মাথার দিকে। বাবা। অনেক দূরের মানুষ এখনও, যতির পা কোলে করে জপ করে চলেছেন? দাদা কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, মুখ শুকনো। আমি প্রত্যেককে ছুঁয়ে ছুঁয়ে জিজ্ঞেস করলুম, আমার নাম যতি কেন? যতি মানে বিরতি, ক্ষান্তি। বড়ো বিরক্ত হলে মানুষ তবে ক্ষান্তি চায়। বাবা মা আমি তোমাদের ভীষণ বিরক্ত করেছি, উত্ত্যক্ত করেছি, আমার হাত থেকে তোমরা মুক্তি চাও আমি জানি। এই তো তোমাদের কত আদরের বড়ো ছেলে রয়েছে গোপাল। শান্ত, সৌম্য মুখ চোখে সোনালি চশমা। তোমাদের সাধ পূর্ণ করতে কত জলপানি পায়, কত বড়ো বড়ো বই পড়ে, কত জানে। ওই তো তোমাদের বড্ড আদরের বড়ো মেয়ে শীলা, কী সুন্দর ফর্সা। ঠিক মায়ের চেহারা পেয়েছে বলে সবাই। বি. এ পাশ করে গেল গত বছর। যতি কোনোদিনও পারবে না। তোমাদের মেজ মেয়ে বুলু, বাড়ির আরেক ছেলের মতো, সব দিকে নজর আছে, সে-ও কত যত্নের। বিকেলবেলা মা যখন তিন মেয়ের চুল বেঁধে দেয়, তখন বোঝা যায় কত যত্নের, কত ভালোবাসার মেয়ে সব। চমৎকার গান করে, বড়ো বড়ো বই পড়ে, ভালো ভালো পাস করে। আর সব থেকে ছোটো ভুলু, ও তো আদরের দুলাল। সব সময়ে মায়ের পায়ে পায়ে, মায়ের কোলপোঁছা, কোলেরটি। এই চাঁদের হাটে যতি? ক্ষ্যামা দাও মা, বড়ো ঘেন্না, মুখে ব্রণ, বারো বছরেই গোঁফ উঠছে। কাঠি কাঠি পা, কোনো কিছু মাথায় যেতে চায় না, ভালো লাগে না কিছু, আমি আর স্কুলে যাব না। শরীরের যন্ত্রগুলোর মধ্যে দিয়ে শিরশিরে হাওয়ার মতো শব্দগুলো ফিসফিস করে বেরোল।

    বাবা বললেন, অবিনাশদা, ও কিছু বলল?

    ডাক্তারবাবু ঝুঁকে পড়ে জিজ্ঞেস করলেন, যতি, কিছু বলছ?

    আমি পাঠাচ্ছি আমার বার্তা, আমার শরীর সেটা কিছুতেই ধরতে পারছে না।

    ডাক্তারবাবু বললেন, ও শুধু গোঙাচ্ছে। তিনি ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ বার করলেন।

    দিদিরা বলে আমি নাকি বুভুক্ষুর মতো ঘুমিয়েছিলুম, একটা হা-ঘুম, যো-ঘুম মানুষের মতো। একবারও নড়িনি, একবারও পাশ ফিরিনি। কী করে নড়বো? আসলে আমি তো কড়িকাঠের কাছে। ঘরে মৃদু সবুজ আলো জ্বলছে। মা আমাকে ছুঁয়ে শুয়েছিল। বাবা অন্য ঘর থেকে মাঝে মাঝে এসে দাঁড়াচ্ছিলেন। বেশ খানিকক্ষণ ধরে আমার বুকের ওঠা-পড়া দেখে মাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, কী গো? কী বুঝছ? ও ঘুমোচ্ছে না অজ্ঞান হয়ে আছে!

    মা বলছিল কাঁদো-কাঁদো গলায়, আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না। শীলু, তোর কী মনে হচ্ছে?

    ও ঘুমোচ্ছে মা, ডাক্তারবাবু ইনজেকশন দিয়ে গেলেন না?

    তারই এফেক্ট বলছিস? বাবা যেন হাঁফ ছেড়ে বললে।

    তা ছাড়া কী? তুমি শুতে যাও।

    পরদিন সকালে ঘুম ভাঙল না। দুপুরেও না। বিকেলে যখন পশ্চিমের জানলা দিয়ে রাঙা রাঙা রোদ ঘরের মেঝেয় এসে পড়েছে তখন আমার ঘুম ভাঙল। ঠিক সেই সময়টায় ঘরে কেউ ছিল না। আমি জেগে উঠে বুঝতে পারিনি ওটা বিকেল। ওপর থেকে দেখলুম একটা শূন্য ঘরে তক্তাপোশের বিছানার ওপর যতি শুয়ে আছে। গায়ের চাদরটা কোমরের কাছে। ঘরে রোদ। আমি ভাবলুম ভোর হয়েছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে যে সকালবেলার রোদ আসতে পারে না অতসব আমার খেয়াল ছিল না। বিশেষত আমি। আসল আমি রয়েছি কড়িকাঠে, উপুড় হয়ে দেখছি ঘরটা। কিন্তু পাশের বাড়িতে ঝাঁটার শব্দ জানলার ঠিক বাইরে টিউবওয়েলে, সকালে একটা মস্ত লাইন পড়ে যায়। তার হট্টগোল, চেঁচামেচি এইসব মেশানো থাকে সকালের হাওয়ায়। সেগুলো পাচ্ছিলুম না, তাই কেমন গা ছমছম করছিল। এ যেন অন্য কোথাওকার সকাল। একা, আমি একা। পাশ ফেরবার চেষ্টা করলুম, যেন একটা পাথরকে নাড়াচ্ছি এমনি শক্ত, ঠান্ডা হয়ে আছে শরীরটা। ছোড়দি ঘরে এল। ছোড়দির মাথায় কষে আঁট করে বাঁধা দুটো মোটা মোটা বিনুনি। একটা খয়েরি রঙের ডুরে শাড়ি, খয়েরির ওপর হলুদ ডুরে, ছোড়দির মুখে আলতো পাউডার, কপালে টিপ। এখন অর্থাৎ সকালে ছোড়দির চুল ভিজে এলো থাকার কথা, মুখ তেলতেলে, স্নিগ্ধ। আমার বিভ্রম আরও বেড়ে গেল। কীরকম মনে হল আমাকে ফেলে রেখে ওরা সবাই কোথায় চলে যাচ্ছে। ছোড়দি বোধহয় নিজের কিছু জিনিস ভুলে গিয়েছিল তাই একবারটির জন্য ফিরে এসেছে। যাক, তাই যাক। আমি এখন সব শেষের জন্য প্রস্তুত। যা ঘটার তো তা ঘটবেই। হঠাৎ মাথার মধ্যে মায়ের অর্ধেক কান্না অর্ধেক মমতামাখানো ডাক শুনতে পেলুম, যতি। যতি রে! ঘাড় সামান্য বেঁকিয়ে ছোড়দির দিকে চাইলুম। ছোড়দি আমার পাশে বসে পড়ে ঝলক ঝলক হেসে বলল, উঠেছিস? একখানা ঘুম দেখালি বাবা! কটা বাজে জানিস? সাড়ে তিনটে। বিকেল সাড়ে তিনটে। প্রায় চব্বিশ ঘন্টা ঘুমোলি। দাঁড়া দিদি মেজদিকে ডাকি। এইবারে, এই ছুতোয় ও চলে যাবে, প্রাণপণ চেষ্টায় আমি ছোড়দির আঁচলে একটাই দুর্বল টান দিলুম, বোস না ছোড়দি। বাঃ তোকে মুখ ধুতে জামাকাপড় ছাড়তে হবে না? খেতে হবে না? আগে মুখ ধুয়েই খেতে হবে। কীরকম চিঁচি করছিস দেখছিস না?

    ছোড়দি ছুট্টে চলে গেল। আমার দিদি খুব গম্ভীর প্রকৃতির, দায়িত্বশীল, মায়ের চেয়েও যেন বড়ো, মেজদিও কতকটা তাই। কিন্তু ছোড়দি টুলটুল কথায় কথায় হাসে। হাসলে ছোড়দির ঝকঝকে দাঁত দেখা যায়, সামনে পেছনে বাতাস লাগা গাছের মতন ছোড়দি দোলে। ছোড়দির অদ্ভুত অদ্ভুত কথা আছে, আদরের ডাক আছে, সিঁড়ি দিয়ে লাফ দিয়ে দিয়ে নামতে নামতে বলে, মাং, দিদিং খিদিং পেয়েছেং। কখনং হবেং? ক্রিপস-মিশনং ব্যর্থং ব্যর্থং। অর্থাৎ ও ইতিহাস পড়ছিল। ক্রিপসমিশনের ব্যর্থতার কথা পর্যন্ত পড়েছে। আর পারছে না, এবার ওকে খেতে দিতে হবে। ভুলুকে ও কখনও বলে ভুলিওকাস দা সেকেন্ড। কখনও ভুল ভুলাইয়া, কখনও সাদাসিধে ভুল-মহারাজ। শুধু বলে না, চটকে চটকে উৎখাত করে দেয় একেবারে, যতক্ষণ না ভুলু ওঁমা। ওঁ দিদি দেখোঁ না বলে নাকি সুর ধরছে। অমন যে গম্ভীর দাদা এম, এসসি কয়ে রিসার্চ করছে, চোখে সোনালি চশমা, তাকেও ছোড়দি ছেড়ে কথা কয় না। কখনও বলবে গোপাল গোবিন্দ মুকুন্দ শৌরে কখনও বলবে, এই যে গ্যাপেলিও গ্যালিলিও আঁকটা কষে দিন তো { দাদার একটা অদ্ভুত শাসন আছে। বাঁ হাত দিয়ে, দাদা ন্যাটা তো! বাঁ হাতের শুধু তর্জনী দিয়ে গালের ওপর চড়াৎ করে মারে। ভীষণ লাগে। আমি অনেকবার খেয়েছি ছোড়দিও খেয়েছে। যে দাদার কাছে পড়তে যাবে সে-ই একবার না একবার খাবে। ওইরকম এক আঙুলের চড় খেয়েও ছোড়দি এক হাতে গাল চেপে বলবে, উফফ এ কী চড়কোভস্কি রে বাবা, মাথাটা যে গোগোল গোগোলোভিচ হয়ে গেল। আঁকগুলো প্যাঁক প্যাঁক করে পালিয়ে যাচ্ছে! ছোড়দি সবে শাড়ি ধরেছে। তাই ছোড়দিকে আমার কেমন অচেনা লাগে। বড্ড বেশি মেয়ে মেয়ে! আর মেয়ে দেখলেই আমি কুঁকড়ে যাই। মেয়েরা আমাকে দেখলে হাসে, নিজেদের মধ্যে কীসব চুপিচুপি বলাবলি করে, মেয়েদের ছায়া আমি পারতপক্ষে মাড়াই না। ছোড়দিটা ইদানীং ফ্রক-স্কার্ট ছেড়ে সেই ভয়ংকর মেয়েদের দলে ভরতি হয়েছে।

    দরজা দিয়ে গামলা-মগ-গামছা-তোয়ালে আরও কী কী নিয়ে মেজদি-ছোড়দি ঢুকল। মেজদি বলল, যতি, নিজে নিজে দাঁত-টাত মাজতে পারবি তো?

    আমি দেখলুম কনুইয়ে ভর দিয়ে আস্তে আস্তে উঠতে পারছি। মুখ-টুখ ধুয়ে ছোড়দির কাঁধে ভর দিয়ে কলঘরে যাচ্ছি, ছোড়দি বলল, জটিয়াবাবা কথা বলছিস কেন রে? রাগ করেছিস আমার ওপর? আমার চোখ জ্বালা করছে। কলঘরে ঢুকে চোখের জল লুকোই। দোতলায় ধরা জল। কল থেকে যদি জল পড়ত তো কলটা খুলে রেখে আমি খানিকটা শব্দ করে কেঁদে নিতে পারতুম। নিজের এইসব প্রবৃত্তিতে আমার নিজের ওপর ঘেন্না আরও বেড়ে যায়। ছেলেরা, আমার বয়সের ছেলেরা কাঁদে না। দাদাকে দেখেছি, ফার্স্ট ক্লাস ফসকাতে ভীষণ মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু দিদিদের মতো কান্নাকাটি করেনি। কেমন গুম হয়ে ছিল অনেকদিন। যখন জ্যাঠামশাই মারা গেলেন, বাবা জ্যাঠামশাইকে ভীষণ ভালোবাসতেন, শ্মশান থেকে এসে দাঁড়ালেন—মুখটা যেন ঝলসে গেছে। সেই কালচে ভাব বাবার মুখে এখনও আছে। কিন্তু কাঁদতে দেখিনি। আমি যে কোনোমতেই আমার বাবার মতো, দাদার মতো নই হতে পারছি না—এটাই প্রমাণ করে মানুষ হিসেবে আমি কত নিকৃষ্ট। ভালোবাসবার মতো, পছন্দ করবার মতো আমার মধ্যে কিছু নেই। মেজদি দরজায় টোকা দিচ্ছে যতি, হল? সাড়া দে একটা। অনেক কষ্টে গলা পরিষ্কার করে বললুম, যাচ্ছি। নিজের গলাটা নিজের কানেই হতকুচ্ছিত লাগল। তিন চারটে স্বর বেরোচ্ছে যেন। কী করে আমি তাড়াতাড়ি করব। জুতোর মধ্যে পা-গলানোর মতো আমার নিজেকে যে শরীরের মধ্যে গলাতে হয়।

    বাবা, বাবা আমার সঙ্গে কথা বলছেন! বা বা। কী ভীষণ ভয় পাই বাবাকে, সম্রম করি। আমার মতো একটা অবাঞ্ছিত উৎপাত, কুরূপ, নির্গণের সঙ্গে বাবা আলাদা করে কী কথা বলতে চেয়েছেন? ভয়ানক ভয়ে প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

    বোসো যতি—বাবার চেম্বার এটা। রাত নটা। সবেমাত্র শেষ মক্কল, সেইসঙ্গে মুহুরি কাকা চলে গেলেন। অতবড়ো গদিওলা চেয়ারে আমার হালকা শরীরটা রাখতে আমার ভয় করছিল। এত হালকা আমি … যদি আবার …।

    শরীরটা এখন কেমন বোধ করছ?

    মুখ নীচু করে বলি, ভালো।

    সত্যিই মাসখানেকের ওপর আমি বাড়িতেই আছি। অহরহ ফলের রস, দুধ, ছানা, ডিম খাচ্ছি। তাকিয়ে দেখি আমার বাইরের চেহারাটা একটু একটু চকচকে হয়েছে বটে। চোখের সেই গর্তে-বসা ভাবটা নেই আর। গাল-টালগুলো অত কালো নেই। চুল কাটা হয়নি অনেকদিন। মাথার পেছনের কতকগুলো চুল কীরকম খাড়া থাকত। এখন সেগুলো বসে গেছে। চুলগুলো বড়ো হয়ে ঘাড়ের কাছে কেমন একটু পাকিয়ে গেছে। কিন্তু এ সবই তো বাইরের ভেতরে আমি প্রায় সেই একইরকম কৃষ্ণকায়, কাষ্ঠকঠিন, নির্বান্ধব, যতি দা ডার্ক। রাতের আঁধার, সবুজ বাতির লক্ষ্মণের গণ্ডির প্রান্ত থেকে রোজ উঁকিঝুঁকি মারে। আমার আসল জায়গা, আমি জানি, সবুজ আলোর বৃত্তের ওপারে, ওই অন্ধকারে, অজানায়। যা পাচ্ছি, আমার প্রাপ্য বলে পাচ্ছি না, নারীজাতির চরিত্রে অসীম করুণা, তাই তার থেকে আমার মতো অভাজনও কিছু পায়। নিজস্ব কোনো গুণে নয়।

    বাবা গলাটা একটু পরিষ্কার করে নিয়ে বললেন, খোঁজ নিয়ে জানলাম গত তিন চার মাস তুমি স্কুলে যাওনি, কোয়ার্টারলি পরীক্ষাটাও মিস করেছ, কেন? কেনটা বাবা খুব ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করলেন যেন বাবাকে আমি যতটা লজ্জা পাচ্ছি, ভয় করছি, বাবা তার চেয়েও ভয় লজ্জা আমাকে পাচ্ছেন। আমি কিছুই বলতে পারছি না। যে চেয়ারে আমি বসে আছি, তারই পাশে আমি দাঁড়িয়ে আছি অসহায়, উদাসীন।

    পড়াশোনা করতে ভালো লাগছে না যতি? তোমার প্রোগ্রেস তো খারাপ নয়?

    এই সময়ে দাদা বাড়ি ফিরল। সে টেবিলের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে গেল। বাবার দিকে একবার, আমার দিকে একবার চাইছে। চোখে খুব দুশ্চিন্তা। সুইং-ডোরটা খুলে আস্তে আস্তে ঘরে ঢুকে এল বড়দি। পেছনে মেজদি, ছোড়দি, মা-ও। ওরা কি আড়ালে কোথাও অপেক্ষা করছিল? দিদি বলল, যতি, আজ তোকে বলতেই হবে স্কুলে তোকে কে এমন কী বলেছে যে স্কুলে যাবার নাম করে … মেজদি বলল, যতি, তোকে যদি বদমাশ লোকে ধরত। তুই যদি হারিয়ে যেতিস …ও কি রে তুই কাঁদছিস? আমার চোখ দিয়ে নিঃশব্দে জল পড়ছিল ভীষণ জ্বালা করে। আমি দেখতে পেলুম মা আমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে, ছোড়দি কাঁদছে। বাবা বললেন, ঠিক আছে। শরীরটা ঠিক কয়ে নাও। দেখি কী করা যায়।

    আমি তখন উঠে দাঁড়াচ্ছিলুম। পাতালের দেবতা আমাকে দু-হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। তাই আমার হাতে হাত, পারে পা, চোখে চোখ, কানে কান সব খাপে খাপে বসে যাচ্ছিল। কাটা দরজাটা দিয়ে ভেতরবাড়িতে যেতে যেতে শুনতে পাচ্ছিলুম বাবা আস্তে করে বলছেন, আর মনটা যতি, মনটাকেও ঠিক করো। বাবা হয়তো আর বলেননি, কিন্তু গুনগুন করছিল আমার কানের সন্নিকটে বাবার গলা, মন, মন, মনটা যতি মন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅন্তর্ঘাত – বাণী বসু
    Next Article নূহর নৌকা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }