Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জংলিমহল – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প202 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আবারও শিলিগুড়ির দুর্গা রায় এবং সারান্ডার বিষ্টু দত্ত

    শিলিগুড়ির দুর্গা রায়ের ব্যবসা ছিল উত্তরবঙ্গের ঘুম, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং পুরো ডুয়ার্সের যত চা—বাগান ছিল সব বাগানেই পেট্রল সরবরাহ করা। সম্ভবত বার্মা শেল কোম্পানির তেল। আজ আর মনে নেই। অনেকগুলি ছোট ছোট ট্যাঙ্কার ছিল ওঁর। তাতে করে নেপালি ড্রাইভারেরা তেল নিয়ে যেত। ট্যাঙ্কারের ফ্লিট ছিল। তখনও অনেক সাহেব কোম্পানি ছিল চা—বাগানের মালিক। ম্যাকনিল অ্যান্ড মেগর, ডানকান এবং আরও অনেক কোম্পানিই। বাঙালি মালিকদেরও কিছু বাগান ছিল যেমন সরস্বতীপুর, মোহরগাঁগুলম ইত্যাদি। চা—বাগানে তখনও মাড়োয়ারিদের প্রবেশ ঘটেনি। জ্যোতি বসুর বউদিরও দুটি বাগান ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠের বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের মধ্যে। শিকারপুর ও ভান্ডাগুড়ি।

    চা—বাগানের মালিকানা যদিও ছিল ইংরেজ সাহেবদের সে সব বাগানের ম্যানেজারেরা অধিকাংশই স্কটসম্যান ছিলেন। মালবাজারে দুর্গাকাকুর একটি পেট্রল পাম্পও ছিল। সেটি দেখতে সম্ভবত দুর্গাকাকুর বড় ছেলে।

    তাঁর আয়কর সংক্রান্ত কোনও ঝামেলার কারণে আমাদের পুরনো মক্কেল ক্লেব্যান বোট কোম্পানির শ্রীগোপেন্দ্রকৃষ্ণ বাগচী এক রবিবারের সকালে দুর্গাকাকুকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এলেন। বাবা আমাকে ডাকলেন, বললেন, উত্তরবঙ্গের খুব বড় একজন শিকারি এসেছেন, আয়, আলাপ করবি।

    বসবার ঘরে গিয়ে দেখি একজন বেশ বেঁটেখাটো অত্যন্ত সুগঠিত চেহারার ভদ্রলোক অলিভ—গ্রিন রঙা শিকারের পোশাক এবং বাটার লাল—রঙা রুপোলি চুল, আর্মির জেনারেলদের যেমন হয়ে থাকে। পরে জেনেছিলাম, স্কচ—হুইস্কি খেলে চুলের রঙ অমন ঝকঝকে সাদা হয় আর দেশি হুইস্কি বা বাংলা খেলে লালচে পাটের মতো ম্যাড়মেড়ে হয়। বাস ও ট্রাক ড্রাইভারদের চুল যেমন।

    দুর্গাকাকু তখন আমাদের বাড়ির কাছেই শরৎ ব্যানার্জি রোডের জলপাইগুড়ির রায়কত রাজের রানির বাড়ি ‘জলপাইগুড়ি ‘হাউস’—এ থাকতেন। জ্যোতিবাবুর দাদা ডঃ কিরণ বোস তাঁর বন্ধু হতেন এবং রায়কত রাজা প্রসন্নদের রায়কতের একমাত্র সন্তান রাজকুমারী প্রতিভাদেবী ছিলেন ডক বোসের স্ত্রী। কিরণকাকুরাও আমাদের মক্কেল হন পরে। দুর্গাকাকুই নিয়ে আসেন। এবং আমি রাজ এস্টেটের অনেক কাজ এবং রাজকুমারীর জামাইদেরও অনেক কাজ করেছি বহুদিন পর্যন্ত। অনেক ট্রাইব্যুনাল আপিল এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডায়রেক্ট ট্যাক্সেও এস্টেট—ডিউটির আপিল করেছি। রাজকুমারীর বড় জামাই ছিলেন দিলীপ রায়চৌধুরি, কলকাতার এককালীন শেরিফ। এবং ছোট জামাই আর এফ বি—র বিজন নাগ।

    পরে এক সময়ে দুর্গাকাকু আমাদের রাজা বসন্ত রায় রোডের ‘কনীনিকা’তেও থাকতেন। তারও পরে বেঙ্গল ল্যাম্পের গেস্ট হাউসে। একেবারে শেষজীবনে অশক্ত শরীরে মালবাজারেই থাকতেন।

    সুকনা রোডে, যেখান থেকে পাহাড় শুরু হয়েছে, বাঁদিকের শালমাড়াতে ওঁর একটি খামারও ছিল—পুকুর যেমন ছিল, যাতে এ দেশে নতুন আসা তেলাপিয়া মাছের চাষ হত আবার সিলভার কার্প—এর চাষও হত। তখন একটি হাতিও ছিল সেই খামারে। সেই হাতিতে চড়ে শিকার করতেন মাঝে মাঝে।

    সকাল থেকে রাত অবধি শহরেও তাঁর পোশাক ছিল শিকারির। আমাদের সঙ্গে বহু জায়গাতেই তিনি শিকারে গেছিলেন, সুন্দরবন, পালামৌ, ওড়িশার বিভিন্ন বনে, কালাহান্ডিসুদ্ধু। শুধু তিনিই নন, ওঁর চা—বাগানের একাধিক সাহেব বন্ধু, ডঃ কিরণ বোস এবং আরও অনেকে গেছিলেন।

    দুর্গাকাকুর প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা কী ছিল আমার জানা নেই কিন্তু সাহেবদের সঙ্গে মিশে মিশে ইংরেজিটা বলতেন এবং লিখতেনও চমৎকার। হিন্দি, উর্দু এবং নেপালিও বলতে ও লিখতে পারতেন। কংগ্রেসি আমলের সব মন্ত্রী ও রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সব সেক্রেটারির সঙ্গে তাঁর খুব দোস্তি ছিল এবং সেই সূত্রে প্রচুর ব্যবসায়ীর নানা সঙ্কটমোচনও করতেন।

    তাঁর ওই পোশাক নিয়ে একজন ইনকাম ট্যাক্স অফিসার ওঁকে খুব বেকায়দাতে ফেলেছিলেন। আমাদের বাড়িতে উনি যে সময়ে থাকতেন সেই সময়ে বাবার সঙ্গে ইনকাম ট্যাক্সের নানা বাড়িতেও যেতেন। তা আয়কর ভবনে একদিন ইনকাম ট্যাক্স অফিসার শিশির বোস তাঁকে বলেছিলেন, আচ্ছা দুর্গাবাবু, আপনি সব সময়ে শিকারের পোশাক কেন পরে থাকেন?

    দুর্গাকাকু দুটি হাত দু—দিকে তুলে এবং ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন ‘কে জানে! কখন ডাক আসে!’

    শিশিরবাবু বলেছিলেন, ‘কিছু মনে করবেন না দুর্গাবাবু, ডাক এলে কি প্যান্টুলুনটা ছাড়বার সময় পাবেন না?’

    খুবই অপ্রতিভ হয়েছিলেন দুর্গাকাকু।

    দুর্গা রায়ের মতো এমন প্রায়—সর্বজ্ঞ এবং সর্ববিদ্যা পারঙ্গম সঙ্গী সত্যিই দুর্লভ ছিল। এমন রসিক মানুষ এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সমানভাবে মেশার অবাক—করা ক্ষমতা খুব কম মানুষের মধ্যেই দেখেছি। তাঁর গুণেরও শেষ ছিল না। জঙ্গলে রান্না করাতে ওঁর জুড়ি ছিল না। গাড়ি বা জিপ খারাপ হলে ইঞ্জিনিয়ার না হয়েও তিনি পরিত্রাতা হতেন। প্রয়োজন হলে অত্যন্ত সমর্থ শরীরে জিপ ঠেলেও দিতেন বিনা—অহং—এ। তিনি সঙ্গে থাকলে একটি মুহূর্তও নিরস লাগত না। সব সময়েই হাসতে হত। মোসাহেবিতেও তিনি ক্লাস ওয়ান গ্রেড ওয়ান ছিলেন। তাই সাহেব—সুবো থেকে রাজা—মহারাজা, শিল্পপতি সকলেই তাঁকে ভালবাসতেন।

    তাঁর শিকারের নানা গল্প, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে এবং তিস্তার চরের বাঘ—শিকারের রোমহর্ষক সব গল্প অনেক শুনেছি তাঁর কাছে। কিন্তু এও ঠিক যে সারা জীবনে তাঁর রাইফেলের নল—নিঃসৃত গুলির সঙ্গে কোনও জানোয়ারের শরীরের যোগাযোগ ঘটতে আমি অন্তত কখনও দেখিনি।

    জঙ্গলের বন্ধু হিসেবে বাবার কাছের মানুষ হলেও একটা সময়ে বাবার সর্বক্ষণের সঙ্গীও ছিলেন। সকাল থেকে রাত অবধি বাবার সঙ্গেই থাকতেন। এবং মুখ্যত ওঁরই পরামর্শে ডায়মন্ডহারবার রোডে জোকার কাছে কোনচৌকি গ্রামে ধীরে ধীরে ধানজমির ছোট ছোট প্লট কিনে প্রায় পঁচাত্তর বিঘের খামারবাড়ি গড়ে তোলেন বাবা। আমি অফিসের ভার নেওয়ার পর থেকেই অবসর নিয়ে ওই খামারেই থাকতেন বেশি সময়। খামারে প্রায় পৌনে একমাইল লম্বা খাল কেটে মাটি তুলে তার ওপরে গাছগাছালি, খামারবাড়ি গড়ে তোলেন। রাশিয়ান ট্রাঙ্কর, জাপানিজ পাওয়ার টিলার, মাছের চাষ, নানারকম ধানের এক্সপেরিমেন্ট, কেরলের বেঁটে নারকেল গাছ, মুর্শিদাবাদ ও লক্ষ্নৌয়ের আম, শোনপুরের হাট থেকে জার্সি গরু এসবের পেছনেও দুর্গাকাকুর প্ররোচনা ছিল। লেগহর্ন ও রোড আইল্যান্ড মুরগি, খাকি ক্যাম্পবেল এবং পাতিহাঁসের আমদানিও তাঁরই মন্ত্রণায়। উনি বাবার এতই কাছের মানুষ ছিলেন যে এক পুলিশ অফিসারের বীরভূমের নলহাটির ত্রিশ বিঘা একটি পুকুর কিনে ফেললেন বাবা ওঁর বুদ্ধিতে মাছের চাষ করবেন বলে। কয়েক বছর পরে অনেক বেগ পেশাদারের পক্ষে বীরভূমের সুদূর নলহাটিতে মাছের চাষ করা যে অসম্ভব এ কথা আমার বাবার মতো বাস্তববোধসম্পন্ন মানুষের পক্ষে দুর্গাকাকুর দুর্বুদ্ধি ছাড়া সম্ভব হত না।

    দুর্গাকাকু নিজেই বলতেন, ছিলাম মক্কেল, হয়েছি বিক্কেল।

    দুর্গাকাকুর কাছ থেকে অল্পবয়সি আমি অনেক শিখেছি। বাংলাটাও উনি চমৎকার লিখতেন। সুন্দর হাতের লেখা ছিল। দুর্গাকাকু পরম কালীভক্ত ছিলেন। গরু খেতেন না এবং তাঁর চরিত্রের এই দাঢ্যর জন্যে চা—বাগানের সব সাহেব তাঁকে সত্যিই খুব সম্মান করতেন। নিজের চোখে দেখা। তাঁর সঙ্গেই সি এ পরীক্ষার ছাত্র আমি বহু চা—বাগানের সাহেবদের কাছাকাছি আসার সুযোগ পেয়েছি।

    তৎকালীন কলকাতার ক্যালকাটা ক্লাবের অন্য ঐতিহ্য ছিল। আমি নিজে মেম্বার হয়েছি অনেক বাদে। কিন্তু ক্যালকাটা ক্লাবেও তাঁর পরিচিতদের কারণে নিত্য যাতায়াত ছিল। কলকাতার ক্রিম অফ দ্যা সোসাইটিতে ওঁর একটি জায়গা ছিল। ওঁর বন্ধু ছিলেন আইভান স্যুরিটা, উত্তরবঙ্গের কমিশনার, পিয়ার্সন স্যুরিটার দাদা, রঞ্জিত গুপ্ত যখন উত্তরবঙ্গের ডি আই জি (তখন আজকের মতো গণ্ডা—গণ্ডা আই এ এস—আই পি এস দেখা যেত না) তখন তাঁর জলপাইগুড়ির বাংলোতে, করোলা নদীর পাশে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী মীনা গুপ্তর সঙ্গে প্রথম পরিচিত হই—পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকের কথা।

    ‘জংলি মহল’—এর কথা বলতে বসে শহর—মহলে চলে এলাম কিন্তু না বলেও উপায় নেই।

    বাবা চলে যাওয়ার পরেও দুর্গাকাকু কয়েক বছর বেঁচে ছিলেন। বাবাকে উনি গুহসাহেব বলে ডাকতেন। সকলকে বলতেন, ‘গুহসাহেব বিলিভস দ্যাট দ্যা ওনলি ওয়ে টু দ্যা হার্ট ইজ থ্রু দ্যা স্টম্যাক গুহসাহেবের বাড়ি এলেই দেখা যাবে যে, দ্যা হোল ফ্যামিলি ইজ অ্যাট দ্যা ডাইনিং টেবল। আর হরিদাস ভট্টাচার্যের (কাননদেবীর স্বামী) বাড়ি গেলেই দেখা যাবে তিনি একটি তাকিয়া ছড়ানো ফরাসে শুয়ে আছেন একটি তাকিয়া ছুড়ে দিয়ে বলবেন, দুর্গাবাবু, শুয়ে পড়ুন।’

    বাবা মদ খাওয়া একেবারেই পছন্দ করতেন না আর বলতেন শিকারের সব ভাল, শুধু মদ আর মেয়েমানুষ ছাড়া। দুর্গাকাকু মদ রোজই পান করতেন। বনবাংলোর রান্নাঘরে গিয়ে ‘খিচুড়িটা কেমন হচ্ছে?’ এই অছিলাতে উনি আর এ বি কাকুর দাদা প্রশান্তকাকু সেখানে সযতনে লুকিয়ে রাখা বোতল থেকে চুমুক দিয়ে আসতেন। বাবার সামনে খেতেন না।

    আমরা একবার ওড়িশার বামরাতে গেছিলাম পালামৌর মোহন বিশ্বাসের কাকা বীরেন বিশ্বাসের অতিথি হয়ে। বাবা তো ছিলেনই সঙ্গে দুর্গাকাকু ও এ বি কাকুর দাদা প্রশান্তকাকুও ছিলেন। জিপে করে কনসর নদী পেরিয়ে যখন আমরা কিলবগার দিকে যাচ্ছি তখন দুর্গাকাকু বললেন : একটা আফিং—খেকো লোক রোজ চিৎকার চেঁচামেচি করত। সেই বাড়িতেই আরেকজন ছিলেন যিনি নিত্য পান করতেন। আফিংখোরের চেঁচামেচিতে অতিষ্ঠ হয়ে আফিংখোরকে একদিন তিনি বললেন :

    ‘দারু পিয়া তো ক্যা বাফা?

    দিল খুশ ঔর পেট সাফা।

    আফিং পিয়া তো ক্যা বাফা?

    গাঁড় তংক ঔর দিল খাফা।’

    অর্থাৎ, মদ খাওয়ার সুফল কী? মনে খুশি আর পেট পরিষ্কার। আর আফিং খেলে কী হয়? পেট টাইট হয়ে যায় আর মনও চটিতং হয়ে থাকে। খাফা মানে খাপ্পা।

    এই চৌপদী শুনে বাবার মতো রক্ষণশীল মানুষও হাসি চাপতে পারেননি। এবং বলা বাহুল্য এই চৌপদী আবৃত্তি করার পেছনে টিটোটালার আমাদের বাবার মদ সম্বন্ধে মনোভাব কিঞ্চিৎ দ্রব করার বদ—মতলবও বিলক্ষণ ছিল।

    দুর্গাকাকু সঙ্গে থাকলে, সে বাংলোর বারান্দাতেই হোক, কী ট্রেনে, কী জিপে, মনের গুমোট সকলের কেটে যেতই সব সময়ে। এরকম মজাদার ও বহুজ্ঞানে জ্ঞানী চৌকস মানুষ আজকাল আর দেখতেই পাই না। এখন সকলেরই ওয়ান—ট্র্যাক্ট মাইন্ড। জীবিকার্জন করেই সকলে ফুরিয়ে যাচ্ছে নিঃশেষে।

    ওড়িশাতে গ্রেটার ইন্ডিয়ান হর্নবিল, মানে বড়কি ধনেশকে বলে ‘কুচিলা খাঁই’ আর লেসার ইন্ডিয়ান হর্নবিলকে বলে ‘ছোটকি ধনেশ’। এর কারণ, এদের কুচিলা (নাক্স ভমিকা) এবং ভালিয়া গাছে বেশি দেখা যায়। এই দুই গাছের ফল খেতে ওরা খুব ভালবাসে। একবার টুল্বকার প্রথম সকালে হাঁকা হচ্ছে প্রথম সকালবেলা। মাচাও বাঁধা হয়েছে প্রায় পাঁচ—ছটি। টুল্বকা এক সময়ে বড় বাঘ, গাউর আর হাতির জন্যে বিখ্যাত ছিল। বাঘের খবরও ছিল। ভিমধারায় একজোড়া বাঘ সেই মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের সন্ধেবেলা প্রতিদিন জল খেতে আসত। তাদের যাওয়ার দাগ দেখে নারাণ আর দুর্গা তাদের রাহান সাহানের খোঁজ করে গভীর জঙ্গলের ভেতরে মাচা বাঁধিয়েছিল। কিন্তু প্রায় আধঘণ্টা হাঁকা করার পরেও একদল মাই—শম্বর আর একদল গাউর ছাড়া কিছুই বেরোল না। দুর্গাকাকুর মাচা ছিল আমার মাচার ডানদিকে। হাঁকা যখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে দুর্গাকাকুর মাচার দিক থেকে কোনও জানোয়ার ঝোপঝাড় ভেঙে দৌড়ে গেল। তার শব্দ শোনা গেল আমার মাচা থেকে। ভাবছিলাম, কী জানোয়ার হতে পারে। বাঘা বা চিতা অবশ্যই নয়। প্রথমত অনেক সময়েই হাঁকা শেষ হওয়ার সময়েই হাঁকাওয়ালাদের পায়ে পায়ে, মানে সামনে তারা আত্মপ্রকাশ করে। দ্বিতীয়ত, তারা নিঃশব্দচারী প্রাণী। তারা এসে পৌঁছবার আগে পর্যন্ত বোঝা যায় না যে তারা এল।

    হাঁকা যখন শেষ হয়ে গেল, সশস্ত্র শিকারিরা সকলেই মাচা থেকে নামলেন, আমি দুর্গাকাকুকে শুধোলাম, কী গেল আপনার মাচার নিচ দিয়ে?

    দুর্গাকাকু বললেন, আর বলো না। একটা ভাল্লুক খাঁই।

    মানে?

    মানে, ভাল্লুকের বাচ্চচা।

    দুর্গাকাকুর সঙ্গে পশ্চিমবাংলার, সবিশেষ উত্তর বাংলার বনবিভাগের আদায়— কাঁচকলায় সম্পর্ক ছিল। জমিদার অ্যাবলিশান অ্যাক্টের পরে রায়কত রাজের এবং বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠের বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলও সরকারের হয়ে যাওয়াতে প্রচণ্ড গাত্রদাহ ছিল দুর্গাকাকুর কারণ এ জঙ্গল ছিল তাঁর অবাধ বিচরণক্ষেত্র। আমি যখন প্রথমবার ওঁর সঙ্গে যাই বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে, তখনও দেখেছি আদিম অরণ্য। দিনমানেও শীতের সকালে কাঁচা পথের দু’পাশের মহীরুহদের চন্দ্রাতপ ভেদ করে সূর্যের আলো পড়ত না পথে। ‘আনন্দমঠ’—এ উল্লিখিত সন্ন্যাসীকাটা হাটের পাশেই ছিল রাজকুমারী প্রতিভা দেবীর শিকারপুর চা—বাগান।

    তখন মুখ্য বনপাল ছিলেন কনকেন্দ্রনাথ লাহিড়ী। হলং—এর বনবাংলোটি ওঁরই বানানো। প্রতিটি ঘরই আলাদা আলাদা কাঠের। লাহিড়ী সাহেবের মতো সৎ এবং দক্ষ প্রশাসক খুব বেশি দেখা যেত না আর আইন অমান্য করে শিকার করতেন বলে দুর্গাকাকুর ওপরে তাঁর জাতক্রোধ ছিল। দুর্গাকাকুও দু’চোখে দেখতে পারতেন না তাঁকে।

    আমাকে নিয়ে সকালে ব্রেকফাস্ট করে শিলিগুড়ির ডেরা থেকে জিপে করে শিকারপুরের উদ্দেশে তিনি বেরোলেন। একটি প্রকাণ্ড আনারস এবং গোটা চারেক হাঁসের ডিমের ওমলেট এবং গোটা ছয়েক টোস্ট মার্মালেড এবং পুরু করে মাখন মাখিয়ে মকাইবাড়ির চা সহযোগে ব্রেকফাস্ট হল আমার, দুর্গাকাকুর নির্দেশে। ১৯৫৭ সালের কথা বলছি। আজ থেকে ঠিক পঞ্চাশ বছর আগের কথা। সেবক রোডে বৈকুণ্ঠপুরে ঢোকার যে কাঁচা পথ চলে গিয়েছিল ডানদিকে সেখানে একটি ফরেস্ট চেকপোস্ট ছিল। বাঁদিকে বন বিভাগের একটি গুমটি। তাতে ফরেস্ট—গার্ড আছেন দুজন। শাল কাঠের মোটা খুঁটির চেকপোস্ট। তাতে ইয়াব্বড় তালা মারা। জিপ থামিয়ে জিপ থেকে নেমে দুর্গাকাকু বললেন, খোল তালা।

    ফরেস্ট—গার্ডরা বলল, অর্ডার নেই। এই জঙ্গলে তো কোনও বন—বাংলোও নাই। আপনে যাবেন কই?

    দুর্গাকাকু জিপের পেছন থেকে তাঁর পয়েন্ট ফোর ফিফটি ফোর হান্ড্রেড রাইফেলটা বের করে বললেন, শালা। খোল তালা। না হলে গুলি কইর‌্যা তালা ভাইঙ্গা ফেলাইমু নয় তোদেরই গুলি কইর‌্যা মাইর‌্যা দিমু।

    ফরেস্ট গার্ডেরা কুখ্যাত দুর্গা রায়কে বিলক্ষণ চিনত।

    দুর্গাকাকু বললেন, তোগো লাহিড়ী সাহেবরে কইস যে দুর্গা রায় আইছিল।

    তারা দুজনে মুখ চাওয়া—চাওয়ি করে চাবি নিয়ে গিয়ে তালা খুলে দিল।

    এই সব হরকত, উনি শিকার করার জন্যে যতটা করতেন তার চেয়ে অনেক বেশি করতেন লাহিড়ী সাহেবকে অপদস্থ করতে। তবে লাহিড়ী সাহেবও একবার তাঁকে বাগে পেয়ে বদলা নিয়েছিলেন ইনকাম ট্যাক্সের চিফ কমিশনার (তখন ওই পদ ছিল না, বলত সি আই টি ডব্লু বি ওয়ান) কেনেথ জনসনকে চিঠি লিখে। জনসন সাহেবকে দিয়ে পারমিট ছাড়া বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে দুর্গাকাকু হাতির পিঠ থেকে শিঙাল হরিণ মারিয়েছিলেন, সঙ্গে ছিলেন জ্যোতিবাবুর বড় ভাই ডঃ কিরণ বোস। দুজনেই কলকাতা থেকে দুর্গাকাকুর অতিথি হয়ে দুর্গাকাকুর সঙ্গেই গেছিলেন। সে গল্প গত বছরের জংলি মহল—এ বলেছি বলে এখানে আর বললাম না।

    তার ত্রিশ বছর পরে ক্যালকাটা ক্লাবে পুরাতনী গানের একটি অনুষ্ঠানে আমার গান শুনতে আসেন কে এন লাহিড়ী সাহেব এবং শ্রীমতী লাহিড়ী। গানের পর আমার সঙ্গে যেচে আলাপ করেন এবং আমৃত্যু যোগাযোগ রাখেন। উনি সত্যিই আমার লেখা ও গানের মস্ত অনুরাগী ছিলেন। অল্প কদিন আগে সন্তাোষের রাজাদের বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাড়িতে একটা নারী সংগঠনের সভাতে বউদির সঙ্গে দেখা এবং কথা হল। শ্রীমতী লাহিড়ীকে বনবিভাগের বড় বড় আমলারা আজও অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মান্য করেন যদিও তিনি চলে গেছেন বেশ কয়েক বছর এবং লাহিড়ী সাহেবের জন্মদিনে তাঁর বাড়িতে যান। স্বামীর সততা ও দক্ষতার এই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পুরস্কার।

    বনবিভাগের সঙ্গে দুর্গাকাকুর মতো এই রকম অহি—নকুলের সম্পর্ক ছিল সারান্ডার বিষ্টু দত্তরও। ওই অঞ্চলে যাঁরাই গেছেন তাঁরাই তাঁর কথা জানেন। থাকতেন বড়জামদাতে। আমাদের এক মক্কেলের অতিথিশালা ছিল বড়জামদার কাছেই বড়বিল—এ। বড়জামদা ছিল বিহারে (এখন ঝাড়খণ্ড) আর বড়বিল ছিল ওড়িশাতে। সেখানে বছর পঁয়ত্রিশ আগে একবার গেছিলাম। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে। তখন ‘জঙ্গল মহল’ বইখানি প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছুদিন হল। সেই বই বিষ্টুদার ঠোঁটস্থ ছিল। তারপরে প্রকাশিত অন্যান্য বইও পড়েছিলেন এবং আমার অত্যন্ত ভক্ত পাঠক ছিলেন। আগমনবার্তা পেয়ে বড়বিলে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এবং জোর করেই আমাকে নিয়ে একরাতে সন্ধে থেকে ভোররাত জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরেছিলেন। তখনই নিজচোখে দেখেছিলাম তাঁর প্রতাপ। এবং লৌহ আকর ও ম্যাঙ্গানিজ আকরবাহী লাল—নীলরঙা পাহাড়ি নদী। তখন পর্যন্ত যত বই প্রকাশিত হয়েছিল সবই তিনি পড়েছিলেন। পরেও কারও—কোয়েল—কয়না ও সাতশ পাহাড়ে দেশ সারান্ডাতে বেশ কয়েকবার গেছি কিন্তু। বিষ্টুদার সঙ্গে নয়।

    সেদিক দিয়ে দুর্গাকাকুর কথাও বলতে হয়। সাহিত্য এবং সঙ্গীতের সঙ্গে ওঁর কোনও সম্পর্ক তো ছিলই না উল্টে আমি লিখতাম ও গান গাইতাম বলে আমাকে বিদ্রুপও করতেন। ঠোঁট বেঁকিয়ে বলতেন ‘শান্তিনিকেতনী’। ওঁর সাহিত্যচর্চা বঙ্কিমে এসেই থেমে গেছিল। প্রচণ্ড কালীভক্ত ছিলেন। গানও গাইতেন খারাপ নয়, তবে শুধুই শ্যামাসঙ্গীত। জঙ্গলের বাংলোর বারান্দাতে বসে অন্ধকার রাতে ঈশ্বরে পরম—অবিশ্বাসী আমার বাবাকে ‘শ্যামা মা যে আমার কালো, কালো রূপে দিগম্বরী হৃদি পদ্ম করে যে আলো’ গেয়ে শোনাতেন পরম ভক্তিভরে।

    তাঁর গান আজও কানে ভাসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিশোর গল্প – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article বুদ্ধদেব গুহর প্রেমের গল্প

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }